ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম !
রাজা চেরামান পেরুমল (তাজউদ্দীন) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু -
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম !
============================
চেরামান পেরুমল (তাজউদ্দীন) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন এবং শেষ নবী হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র সাহচর্য লাভ করে সাহাবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। চেরামান পেরুমল কথাটির অর্থ হল “the Great One of the Chera People” অর্থাৎ চেরাদের মধ্যে সেরা ব্যক্তি। কেরালায় একসময় “চেরা” রাজবংশ রাজত্ব করত।
.
তাঁর নিবাস ছিল ভারতের বর্তমান কেরালা প্রদেশের মালাবার অঞ্চলের কোডুনগাল্লুর এলাকায়। উনি উক্ত অঞ্চলের সম্রাট ছিলেন। একাধারে ২৬টি বৎসর তিনি রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন। পুরো দক্ষিণ ভারতের ২৫০০ মাইলেরও বেশী এলাকা জুড়ে উপকুলীয় এ রাজ্যের সীমানা ছিল বিশাল। অনেক বিখ্যাত ঐতিহাসিক তাঁর ইসলাম ধর্ম গ্রহনের কাহিনী লিপিবদ্ধ করেছেন।
.
চেরামান পেরুমল (তাজউদ্দীন) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নিজ অঞ্চলে থেকে শেষনবী হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চন্দ্র দ্বিখন্দিত করার মুজি'জা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেন। পবিত্র কুর’আন শরীফের সূরা-ক্বমার-এ এই চন্দ্রদ্বিখন্ডনের মুজি'জার কথা উল্লেখ আছে। তাফসিরে মা’আরিফুল কুর’আনে উক্ত সূরার ব্যাখ্যায় এই ভারতীয় সাহাবীর ইসলাম ধর্ম গ্রহনের কথা উল্লেখ আছে। ওখানে আরো বলা আছে যে, মালাবারের এই মহারাজা ডায়েরী লিখতেন। যেদিন এই চন্দ্রদ্বিখন্ডনের মু’জেজা সংগঠিত হয়, উনি সেইদিনের ঘটনা সবিস্তারে তারিখ সহ লিখে গেছেন। তাঁর রচিত সেই ডায়েরী এখনও সংরক্ষিত আছে।
.
সেদিন রাতে রাজা চেরামান পেরুমল (তাজউদ্দীন) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রাজপ্রসাদের ছাদে বসে ছিলেন অন্যান্যদের সাথে। হঠাৎ চাঁদকে দ্বিখন্ডিত হতে দেখে তিনি, রাণী সহ ও তাঁর সভাসদরা যারপরনাই বিস্মিত হন। মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই মালাবার উপকুলে আগত আরব বনিকদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে আরবে একজন মহান নবী ও রসূল আত্বপ্রকাশ করেছেন, তিনি একত্ববাদ প্রচার করেন, তিনিই নিজ হাতের ইশারায় চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করেছিলেন। এ কথা শুনে অভিভূত রাজা চেরামান পেরুমল আরবের সেই মহান রসূল উনার সাথে স্বাক্ষাতের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন, শেষ পর্যন্ত তিনি পবিত্র মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন একদল আরব বনিকদের সাথে।
হিজরতের পূর্বে সম্ভবত ৬১৯-৬২০ খৃষ্টাব্দে, ২৭ শে শাওয়াল সকাল ৯টার দিকে প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। সেখানেই তিনি স্বয়ং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন।
.
প্রখ্যাত সাহাবী সিদ্দীকে আকবর হযরত আবু বক্কর সিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ আরও কয়েকজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর উপস্থিতিতে স্বয়ং আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নাম রাখেন তাজউদ্দীন। রাজা চেরামান পেরুমল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য উপঢৌকন হিসাবে দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত আচার নিয়ে গিয়েছিলেন। ভারতীয় এক বাদশাহ কর্তৃক আদার সংমিশ্রণে তৈরী সেই আচার সংক্রান্ত একটা হাদিস শরীফও আমরা দেখতে পাই, প্রখ্যাত সাহাবী আবু সাইদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে হাদিসটিতে!
হাদীস সঙ্কলনকারী হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘মুস্তাদরাক’ নামক কিতাবে হাদীসটি সঙ্কলন করেছেন। হাদীস শরীফের বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু সাঈদ আল খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, ভারতীয় সাহাবী তাজউদ্দীন রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ‘মালিকুল হিন্দ’ তথা ‘ভারতীয় মহারাজ’ বলে সম্বোধন করেন।
عن ابى سعيد الخدرى (رضى لله عنه) قال اهدى ملك الهند الى النبى (صلى الله عليه وسلم) جرة فيها زنجبيل فاطعم اصحابه قطعة قطعة واطعمنى منها قطعة
[رواه المستدرك حاكم]
হযরত আবু সাঈদ সা’দ বিন মালিক বিন সিনান আল খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ “ভারতীয় মহারাজ রসূলপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য এক বয়াম আচার নিয়ে আসলেন যার মধ্যে আদার টুকরা ছিল। রসূলপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই টুকরাগুলা উনার সাহাবীদের ভাগ করে দিলেন। আমিও খাবার জন্য একটি টুকরা ভাগে পেয়েছিলাম।“
.
প্রখ্যাত সাহাবী হযরত মালিক ইবনে দীনার রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বোন হযরত রাজিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর সাথে রাজা পেরুমল তথা সাহাবী তাজউদ্দীন রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার বিয়ে হয়। তিনি সেখানে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ বৎসর অবস্থান করে রসূলপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুবারক নির্দেশ অনুযায়ী ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তাঁর সাথে হযরত মালিক ইবনে দীনার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ আরও কয়েকজন সাহাবী ছিলেন।
কিন্তু পথিমধ্যে দক্ষিণপূর্ব আরবের এক বন্দরে (বর্তমান ওমানের সালালা শহর) অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। আজও তাঁর রওজা শরীফ ওমানের সালালা শহরে কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে। মর্যাদাবান এক সাহাবী হিসেবে বিশ্বের মুসলমানদের কাছে সেটি এক অনবদ্য আকর্ষণ।
সাহাবী হযরত মালিক ইবনে দিনার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও তাঁর বোন রাজিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দলবলসহ কেরালায় আসেন এবং এখানেই তাঁরা বসতি স্থাপন করেন। এর আগে থেকেই সেখানে এক বিরাট আরব বনিকদের বসতী গড়ে উঠেছিল। সাহাবী হযরত মালিক ইবনে দিনার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সেখানে ভারতের প্রথম মসজিদ স্থাপন করেন। সেখানেই এই মহান সাহাবী ও তাঁর বোন হযরত রাজিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহা ওনাদের রওজা শরীফ আজও বিদ্যমান রয়েছে।
এই মসজিদ পৃথিবীতে, মসজিদ-এ নববীর পর দ্বিতীয় জুমা মসজিদ হিসাবে আখ্যায়িত, যেখানে প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর ধরে জুমার নামাজ আদায় করা হচ্ছে।
( ছবিতে সেই অনন্যসুন্দর চেরামান পেরুমল মসজিদ)
ঝেঙ হে' - চীনের সর্বশ্রেষ্ঠ নৌ-সেনাপতি ও একজন বীর মুসলিম
ঝেঙ হে' - চীনের সর্বশ্রেষ্ঠ নৌ-সেনাপতি ও একজন বীর মুসলিম

ইবনে বতুতা বা আলবেরুনী ছাড়াও দুনিয়া পরিভ্রমণ করে বিখ্যাত আরেকজন মুসলিম পরিব্রাজক; তিনি চীনা এডমিরাল ‘ঝেঙ হে’। প্রকৃত নাম “মা হে”। চীনা ভাষায় ‘মা’ অর্থ মুহাম্মদ। চীনের রাজা তাঁকে “ঝেঙ” উপাধি দেন।
তাঁর সর্ম্পকে ঐতিহাসিক দলিলে লেখা হয়েছে ঝেঙ হে ছিলেন দীর্ঘদেহী, প্রায় ৭ ফুট লম্বা, বলিষ্ঠ গড়ন, স্পস্ট অবয়ব, বাঘের মত চলন, পরিস্কার জোরালো কন্ঠস্বর।
জন্ম - ১৩৭১ খ্রিস্টাব্দ ও মৃত্যু - ১৪৩৩/১৪৩৫ খ্রিস্টাব্দ
তিনি চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ নৌ-সেনাপতি ও মহান পরিব্রাজক। ১৪০৫ থেকে ১৪৩৩ সাল পর্যন্ত তিনি মোট ৭ বার সমুদ্র অভিযানে বের হন। তিনি ভ্রমণ করেন ব্রুনেই, জাভা, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত, ইরান, মক্কা-মদীনা থেকে পূর্ব-আফ্রিকার সোমালিয়া-কেনিয়া; এমনকি বাংলাদেশও।
তিনিই সমুদ্রপথে চীনা সিল্ক রোড সৃষ্টি করেন। ১৪০৫ থেকে ১৪৩৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অ্যাডমিরাল ঝেঙ হে শতাধিক জাহাজের বিশাল বহর নিয়ে সাতটি সমুদ্র অভিযান পরিচালনা করেন এবং এশিয়া ও আফ্রিকার ৩০টি দেশ ও অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন। অ্যাডমিরাল ঝেঙ হের নৌবহর দুবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল। বাংলার শাসক সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ তাঁর রাজধানী সোনারগাঁয়ে সাদর অভ্যর্থনা জানান চীন থেকে আসা অ্যাডমিরালকে।
সেইসময় ভারত মহাসাগরে দলদস্যুদের বড় উৎপাত ছিল। ঝেঙ হে সেই সব নির্মম জলদস্যুদের কঠোরভাবে দমন করেছিলেন।
ইতিহাস অনুযায়ী ‘ঝেঙ হে’ কলম্বাসের ৮৭ বছর আগে, ভাস্কো ডা গামা এর ৯৩ বছর আগে এবং ম্যাজেলান এর ১১৬ বছর আগে এই সমস্ত সমুদ্রযাত্রা করেন। [ সূত্র - ChinaCulture.org এবং লিঙ্কঃ http://bit.ly/ZhengHeHistory ]
তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন ইরানী, হানাফি মাজহাবের অনুসারী। ‘ঝেঙ হে’ এর পূর্বপুরুষ সৈয়দ আজজল শামস আল দ্বীন ওমর ছিলেন মোগল আমলে মোগল রাজবংশের একজন শাসনকর্তা এবং চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নর। ইতিহাস অনুযায়ী ‘ঝেঙ হে’ এর পিতামহ ও পিতা দুজনেই সেই সময়ে হজ্বব্রত পালন করেন এবং হাজী লক্বব ব্যবহার করতেন। ঐতিহাসিক পিটারসেন এর তথ্য অনুযায়ী ‘ঝেঙ হে’ আরবী ভাষাতে কথা বলতে পারতেন।
সম্রাটের আদেশে তিনি ১৪০৫ সালে প্রথম সমুদ্রযাত্রার জন্য বের হন। এই সমুদ্র যাত্রায় তাঁর নৌবহরে ছিল ৩১৭ টি জাহাজ আর প্রায় ৩০,০০০ সৈন্য ও নাবিক। তাঁর জাহাজগুলো ছিল সে সময়ের সবচেয়ে বড় জাহাজ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কলম্বাসের জাহাজ যখন ছিল ২৬ মিটার দীর্ঘ তখন তাঁর জাহাজের দৈর্ঘ্য ছিল ১২০ মিটার।
তিনি যখন বাংলায় আসেন সে সময় বাংলার সুলতান ছিলেন গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ। সুলতান তাঁর পোষা জেব্রাকে চীনা সম্রাটের জন্য উপহার হিসেবে তাঁর হাত দিয়ে পাঠিয়ে দেন।
ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে ইসলাম প্রচারেও ‘‘ঝেঙ হে’ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সেই সাথে বিভিন্ন স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হয় তাঁর আদেশে।
বিস্তারিত পড়তে -
কলম্বাসের কয়েকশত বছর আগে আমেরিকা আবিষ্কার করেন মুসলিমরা
কলম্বাসের কয়েকশত বছর আগে আমেরিকা আবিষ্কার করেন মুসলিমরা !
পশ্চিমা সভ্যতা বিজয়ী হওয়ার পর তারা নিজেদের মত করে ইতিহাসকে সাজিয়েছে। লুপ্ত করে দিয়েছে মুসলিম সভ্যতার গৌরব ও মাহাত্মের অসংখ্য নিদর্শন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবলুপ্তির শিকার হয়েছে কলম্বাসের আগে আমেরিকায় মুসলিম সভ্যতার গৌরবময় অধ্যায়।
আমেরিকা ও কানাডার টেক্সট বইয়ে কলম্বাস-পূর্ব যুগ সম্পর্কে কিছুই পড়ানো হয় না। এমন ভাব করা হয় যেন এর আগে আমেরিকার কোনো ইতিহাস নেই। এ নিয়ে না আছে তেমন কোনো চর্চা, না আছে বিশেষ কোনো গবেষণা। বরং এ সময়টাকে ধামাচাপা দিতে পারলেই যেন আমেরিকান ঐতিহাসিকদের সুবিধা হয়।
প্রফেসর ড: ব্যারি ফিল এর বিখ্যাত গ্রন্থ “Saga America” (১৯৮০ সালে প্রকাশিত) উন্মোচন করেছে প্রাচীন আমেরিকায় মুসলিমদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ। প্রফেসর ড: ব্যারি ফিল (১৯১৭-১৯৯৪) হলেন হার্ভার্ড মিউজিয়াম অফ কম্প্যারেটিভ জুলজি এর অধ্যাপক। বইটি প্রকাশিত হওয়ার পরে আমেরিকার বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে তৈরি হয় ভিন্নরকম বিতর্ক।
ড:ফিল বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যুক্তি, প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখান যে, প্রি-কলম্বিয়ান আমেরিকায় অন্তত দশটি স্থানে মাদ্রাসার অস্তিত্ব ছিলো। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মাদ্রাসা ছিলো নেভাদা, নিউ মেক্সিকো, কলোরোডা ও ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে। এ সব মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার অনুমিত সময়কাল ৭০০ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। ড: ব্যারি ফিল প্রাচীন দস্তাবেজ নকশা দ্বারা এটাও প্রমান করেন যে প্রাচীন আমেরিকায় মাদ্রাসা শিক্ষা লাভ করেছিলো প্রভূত প্রসার ও উন্নতি।
বিখ্যাত “World Bulletin” পত্রিকায় ২০১৪ সালে ৪ জানুয়ারি "Muslim scholar discovered America 500 years before Columbus" শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ কলম্বাসের ৫০০ বছর আগে মুসলিমরা আমেরিকা আবিষ্কার করেন। [ লিঙ্ক - http://bit.ly/2oWKhob ]
এছাড়া আমেরিকার বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও লেখক এস ফ্রেডরিক স্টার (S. Frederick Starr) মুসলিম বিজ্ঞানী আবু রাইহান আলবেরুনীকে কলম্বাসের ৫০০ বছর আগে আমেরিকার আবিষ্কারক হিসাবে তুলে ধরেন। সেইসাথে তিনি এটাও জানান যে গ্যালিলিওর ৬০০ বছর আগে এই মুসলিম বিজ্ঞানী আবু রাইহান আলবেরুনী আবিষ্কার করেন যে পৃথিবী হল গোল। [ লিঙ্ক - http://bit.ly/AlBeruni ]
এই বিষয়ের উপর ‘মুসা আল হাফিজ’ সাহেব “আমেরিকা মুসলিমদের আবিষ্কার” নামক একটি বই লিখেছেন, যেটি কালান্তর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত। তিনি এই গ্রন্থে বহু ঐতিহাসিক সূত্র ও প্রমানপঞ্জীর মাধ্যমে অনেক গভীরে গিয়ে নৌ-ক্রুসেড এর খোলস উন্মোচন করেছেন এবং কলম্বাসের ক্রুসেডীয় চেতনাকে প্রমাণ করেছেন। আমেরিকায় প্রাচীন মুসলিম জনগোষ্ঠির উপর পরিচালিত এথনিক ক্লিনজিংকে সামনে নিয়ে এসেছেন। যার ফলে আন্দালুসিয়ার মত মুসলিম সভ্যতার দু:খজনক আরেকটি ট্রাজেডি আমাদের উন্মোচিত হল।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক আল মাসুদীর (৮৯৬ - ৯৫৬) রচনা, বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম আকরগ্রন্থ "Meadows of Gold and Mines of Gems" থেকে এই নৌ-ক্রুসেড এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এই বই থেকে জানা যায় যে কর্ডোভার মুসলিম নাবিক খাসসাস ইবনে সাইদ ইবনে আসওয়াদ ৮৮৯ সালে স্পেনের ডেলভা বা বর্তমান প্যালস থেকে জাহাজে পাল তুলে আটলান্টিক পার হয়ে ‘আরদ্বে মজহুল’ অজানা জগত বা আজকের আমেরিকায় গিয়ে পৌঁছেন আর ফিরে যান চমকপ্রদ ধনরত্ন নিয়ে। দশম শতকে আবদুর রহমান দ্বিতীয় এর আমলে আরেকদল আফ্রিকান মুসলিম কুয়াশাভরা অন্ধকার মহাসাগরে পাল তুলে, ডেলভা বন্দর থেকেই। তারা ফিরে আসে অদ্ভুদ ও রহস্যময় দুনিয়া আবিষ্কারের অজানা কাহিনী নিয়ে।
স্পেন থেকে মুসলিমদের নির্মূল করার পর মুসলিমদের সমুদ্রযাত্রার প্রতিটি অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে থাকে খ্রিষ্ট্রিয় শক্তি। স্পেনের সেই ডেলভা থেকেই রাজা ফার্ডিনান্ড ও রানী ইসাবেলার সহযোগিতায় ১৪৮২ সালের ৩ আগস্ট সমুদ্র যাত্রা করে কলম্বাস।তার অবলম্বন ছিলো মুসলিমদের অঙ্কিত মানচিত্র ও সমুদ্রবৃত্তান্ত। ইতোপূর্বে যে জগতের সাথে পরিচিত হয়েছে মুসলিম স্পেন, সেই জগতের দিকে এগুতে লাগলো কলম্বাসের জাহাজ।
বিখ্যাত আমেরিকান ঐতিহাসিক লিও উইনার (Leo Wiener) তার ১৯২০ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত গ্রন্থ "Africa and the discovery of America"তে লিখেছেন যে - কলম্বাস ভালো করেই জানত নতুন দুনিয়ায় (আমেরিকায়) রয়েছে মানডিনকানদের (মুসলিম) বসবাসের কথা। কলম্বাস এও জানত যে এই ভূখণ্ডে বহু আগ থেকেই পশ্চিম আফ্রিকান মুসলিমরা ব্যবসা বাণিজ্য করে আসছিলেন।
গবেষকদের লেখায় স্পষ্ট প্রমাণিত যে, কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের থিওরী একটা গাল-গল্প ছাড়া কিছুই নয়। প্রাথমিক যুগের মুসলিম বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও অনুসন্ধানকে মানুষের সামনে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবী এবং আমাদের জন্য অবশ্যকর্তব্য।