হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক । (পর্ব- ১৪০৪-১৬৭৬) (ঝ)


সম্মনিত উহুদ জিহাদে হযরত মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনাদের অবদান:
 সম্মানিত উহুদ জিহাদে পুরুষ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পাশাপাশি হযরত মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহুন্না উনারাও বেমেছাল অবদান মুবারক রেখেছেন। উনারা সম্মানিত এই জিহাদ মুবারকে হযরত পুরুষ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উনারা পানি পান করাতেন। আবার কোন হযরত মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সশরীরে সম্মানিত জিহাদ মুবারকও অংশগ্রহণও করেছেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
 এই সমস্ত হযরত মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন, হযরত নাসিয়া বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি। সম্মানিত জিহাদের ময়দানে তিনি ছিলেন, ক্ষিপ্রগতিসম্পন্না, তেজোদ্দীপ্তা ও অপ্রতিরোধ্যা। সরাসরি তিনি সম্মানিত সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারকে সম্মানিত জিহাদ মুবারক করেছেন। তিনি পাশে ছিলেন, উনার আহাল হযরত যায়িদ ইবনে আসিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার এবং উনার দু’ ছেলে হযরত আম্মারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের। তিনি বলেন, আমি সম্মানিত উহুদ জিহাদের দিন মশক ভর্তি করে পানি নিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কাছে পৌঁছতাম। একসময় সম্মানিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা যখন অনেকে শাহাদতী শা’ন মুবারক প্রকাশ করলেন তখন আমি সরাসরি কাফির মুশরিকদের সাথে সম্মানিত জিহাদ মুবারক শুরু করলাম।
এই সম্মানিত জিহাদ মুবারকে আমার উপর তেরটি আঘাত লেগেছিল। এগুলোর মধ্যে একটি আঘাতের ক্ষত ভালো হতে লেগেছিলো পুরো একটি বৎসর। একবার উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এ আঘাত আপনাকে কে দিয়েছে? হযরত নাসিয়া বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, মালাউন ইবনে কামিয়া। তিনি আরো বললেন, তাকে আমি ছেড়ে দেইনি। বিভিন্নভাবে তাকে আমি আঘাত করেছি। কিন্তু এই কাট্টা কাফির ইবনে কামিয়া সে দু’টি বর্ম পরিহিত ছিলো বিধায় আমার আঘাত তাকে কাবু করতে পারিনি।
 স্মরণীয় যে, যখন আমাকে কাফির মুশরিকরা আঘাত করে জখম করে, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার ছেলে হযরত আম্মারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ডেকে বললেন, তাড়াতাড়ি আপনি আপনার মায়ের কাছে চলে যান। উনার ক্ষতস্থানে পট্টি লাগান। হযরত নাসিয়া বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, সম্মানিত উহুদ জিহাদের দিন আমি ও আমার দুই ছেলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মুখে থেকে সম্মানিত জিহাদ মুবারক করেছি। হযরত নাসিয়া বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি আরো বলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে যখন সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক গ্রহণ করছিলেন তখন আমি সামনে ছিলাম। আমার হাতে কোন ঢাল ছিলো না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাত মুবারকে ঢাল দেখে উনাকে বললেন, হে ঢালধারী ব্যক্তি! আপনার ঢালটি এমন একজনকে দিন যিনি সম্মানিত জিহাদ মুবারকে রত। তিনি উনার ঢাল মুবারকটি আমাকে দিলেন। আমি সেই ঢাল মুবারক হাতে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মুখে যে সমস্ত কাফির মুশরিকরা এগিয়ে এসেছিলো তাদেরকে প্রতিহত করতে লাগলাম। এক পর্যায়ে এক কাফির তালোয়ার দিয়ে আমাকে আঘাত করলো। আমি আঘাতও ফিরিয়ে দিলাম। অতঃপর আমার তরবারি মুবারক দিয়ে তার ঘোড়ার উপর আঘাত করলাম। তার ঘোড়াটি পড়ে গেলো।
 সেই কাফির ছিটকে পড়ে গেল তার বাহন থেকে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবকিছুই তখন দেখছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি আমার ছেলেকে ডাক দিয়ে ইরশাদ মুবারক করলেন, হে হযরত আম্মারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! তারাতারি আপনার মায়ের কাছে চলে আসুন। তারপর আমার ছেলে ও আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারকে সম্মিলিত ভাবে ওই কাফিরকে আক্রমণ করলাম এবং তাকে জাহান্নামের যাত্রী বানিয়ে দিলাম। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
 সম্মানিতা মহিলা ছাহাবী হযরত নাসিয়া বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সম্মানিত উহুদ জিহাদের দিন কাফির মুশরিকরা আমাকে জখম করলো। ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বন্ধ হচ্ছিল না। আমার মা ক্ষতস্থানে পট্রি বেঁধে দিলেন এবং বললেন, আপনি উঠুন। সম্মানিত জিহাদের ময়দানে যান। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে হযরত আম্মার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মা! আপনার মতো শক্তি ও সাহস আর কার আছে? তখন ওই কাফির লোকটি আমাদের সামন দিয়ে যাচ্ছিল, যে আমাকে জখম করেছিলো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হে উম্মু আম্মারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা! ওই লোকটি আপনার ছেলেকে জখম করেছে। হযরত নাসিয়া বিনতে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি লোকটির পায়ের গোছায় তরবারী দ্বারা আঘাত করলেন। সঙ্গে সঙ্গে সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুদ দারাজাত তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারকে লুটিয়ে পড়লো। তা দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরুর তাক্বরীর তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাবাস্সুম মুবারক (মুচকী হাসি) মুবারক দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল্লাহ তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দাঁত মুবারক দৃষ্টিগোচর হলেন।
 নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হে হযরত উম্মে আম্মারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা! আপনিতো আপনার ছেলের আঘাতের ক্বিছাছ খুব ভালো ভাবেই গ্রহণ করলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া, যিনি আপনাকে শক্রর উপর প্রাবল্য দান করলেন এবং আপনার সামনেই তাকে হালাক করে দিয়ে আপনার চোখকে প্রশান্ত করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত নাসিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আমার জন্য দোয়া মুবারক করবেন আমি যেনো আপনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের গোলামীতে সম্মানিত জান্নাতে অবস্থান মুবারক করতে পারি। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার জন্য, উনার আহাল ও সন্তান উনাদের জন্য দোয়া মুবারক করলেন।
"اللَّهُمَّ اجْعَلْهُمْ رِفَاقِي في الْجَنَّةِ"
 অর্থ: “ইয়া বারী ইলাহী মহান আল্লাহ পাক! আপনি উনাদেরকে সম্মানিত জান্নাতে আমার গোলাম বানিয়ে নিন।” হযরত উম্মু আম্মারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই সম্মানিত দোয়া মুবারক আমার সম্বল। এখন আমার উপর যত মুছিবত আসুক না কেনো, তাতে আমার আর কোন অসুবিধা নেই। সুবহানাল্লাহ! পরবর্তীতে হযরত নাসিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি অনেক সম্মানিত জিহাদ মুবারকে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। (দিরাসাতু ফিস্ সীরাত, মিরয়াতুয যামান, মাদারিজুন নুবুওওয়াত)
 সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারকে কিছু মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনারা অংশ গ্রহণ করেন। উনারা সম্মানিত জিহাদের ময়দানে পুরুষ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারকে পানি পান করাতেন এবং যে সমস্ত হযরত ছাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করতেন উনাদেরকে পবিত্র মদীনা শরীফে পাঠাতেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
 এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
 عَنِ حَضْرَتْ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ رَضِى اللهُ تَعَالَى عَنْها قَالَتْ كُنَّا مَعَ النَّبِىِّ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ نَسْقِى، وَنُدَاوِى الْجَرْحَى، وَنَرُدُّ الْقَتْلَى إِلَى الْمَدِينَةِ.
 অর্থ: “হযরত রুবাই’ বিনতে মুয়াওয়িয রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সম্মানিত জিহাদের ময়দানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে থেকে পুরুষ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পানি পান করাতাম, আহতদের পরিচর্যা করতাম এবং শহীদদেরকে পবিত্র মদীনা শরীফে পাঠাতাম।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবল আলাইহিস সালাম!
 মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
 عَنِ حَضْرَتْ الرَّبِيعِ رَضِى اللهُ تَعَالَى عَنْها قَالَتْ كُنَّا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَسْقِي الْقَوْمَ، وَنَخْدُمُهُمْ، وَنَرُدُّ الْجَرْحَى، وَالْقَتْلَى إِلَى الْمَدِينَةِ.
অর্থ: “হযরত রুবাই’ বিনতে মুয়াওয়িয রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সম্মানিত জিহাদ মুবারকে অংশ গ্রহণ করে সম্মানিত জিহাদের ময়দানে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পানি পান করাতাম ও উনাদের পরিচর্যা করতাম ও আহত ও সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ কারীদেরকে পবিত্র মদীনা শরীফে ফেরত পাঠাতাম।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! (বুখারী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং- ২৮৮৩, সুনানে নাসায়ী, উমদাতুল ক্বরী, শরহুস সুন্নাহ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنِ حَضْرَتْ ثَعْلَبَةُ بْنُ أَبِي مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ إِنَّ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَاَمِ قَسَمَ مُرُوطًا بَيْنَ نِسَاءٍ مِنْ نِسَاءِ الْمَدِينَةِ فَبَقِيَ مِرْطٌ جَيِّدٌ فَقَالَ لَهُ بَعْضُ مَنْ عِنْدَهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَعْطِ هَذَا ابْنَةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّتِي عِنْدَكَ يُرِيدُونَ حَضْرَتْ أُمَّ كُلْثُومٍ بِنْتَ عَلِيٍّ عَلَيْهَا السَّلَاَمِ فَقَالَ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَاَمِ حَضْرَتْ أُمُّ سَلِيطٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا أَحَقُّ و حَضْرَتْ َأُمُّ سَلِيطٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا مِنْ نِسَاءِ الْأَنْصَارِ مِمَّنْ بَايَعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَاَمِ فَإِنَّهَا كَانَتْ تَزْفِرُ لَنَا الْقِرَبَ يَوْمَ أُحُدٍ.
 অর্থ: “হযরত ছা’লাবা ইবনে আবূ মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার কিছু সংখ্যক মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনাদের মধ্যে কয়েকখানা রেশমী চোদর মুবারক বন্টন করেছিলেন। তারপর একটি ভালো চাদর মুবারক অবশিষ্ট রয়ে গেছে। উনার কাছে উপস্থিত একজন উনাকে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন আলাইহিস সালাম! এ চাদর মুবারকটি আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই মহাসম্মানিত নাতিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে কুলসুম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজাহাহু আলাইহাস সালাম যিনি আপনার নিকট অবস্থান মুবারক করছেন উনাকে হাদিয়া মুবারক করুন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হযরত উম্মে ছালীত এই চাদর মুবারকের অধিক হক্বদার। হযরত উম্মে ছালীত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাহ তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারকে বাইয়াত গ্রহণ কারী আনসার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে একজন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কেননা, হযরত উম্মে ছালীত রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহা তিনি সম্মানিত উহুদ জিহাদে আমাদের কাছে মশক ভর্তি পানি বহন করে নিয়ে আসতেন (এবং আমাদেরকে পানি মুবারক পান করাতেন)। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! (বুখারী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং- ২৮৮১, উমদাতুল ক্বরী, ফায়দ্বুল বারী, মাছাবীহুল জামি’)

বানূ দীনারের জনৈক মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নজিরবিহীন মুহব্বত মুবারক প্রসঙ্গে:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
 عَنْ حَضْرَتْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقّاصٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ مَرّ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِامْرَأَةِ مِنْ بَنِي دِينَارٍ، وَقَدْ أُصِيبَ زَوْجُهَا وَأَخُوهَا وَأَبُوهَا مَعَ رَسُولِ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِأُحُدِ فَلَمّا نُعُوا لَهَا، قَالَتْ فَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ؟ قَالُوا خَيْرًا يَا أُمّ فُلَانٍ هُوَ بِحَمْدِ اللّهِ كَمَا تُحِبّينَ قَالَتْ أَرُونِيهِ حَتّى أَنْظُرَ إلَيْهِ قَالَ فَأُشِيرَ لَهَا إلَيْهِ حَتّى إذَا. رَأَتْهُ قَالَتْ كُلّ مُصِيبَةٍ بَعْدَك جَلَلٌ.
 অর্থ: “হযরত সা’দ ইবনে আবূ ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারকের দিন বানূ দীনারের জনৈক মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহা উনার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সম্মানিত আহাল, ভাই ও পিতা সবাই সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারকে সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন। যখন উনাকে উনার আহাল, ভাই ও পিতা উনাদের শাহাদতী শান মুবারকের সংবাদ শুনানো হলো তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন শান মুবারকে অবস্থান মুবারক করছেন? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, হে অমুকের মা! তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতে খুবই উত্তম শান মুবারকে অবস্থান মুবারক করছেন, যেমন আপনি পছন্দ মুবারক করেন। সেই মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন, আমাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখিয়ে দিন, আমি স্বচক্ষে উনাকে দেখতে চাই। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখিয়ে দেয়া হলো তখন সেই মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি খুশি মুবারক হয়ে, পাঠ করলেন,
كُلّ مُصِيبَةٍ بَعْدَك جَلَلٌ
 (ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনাকে দেখার পর আমার সমস্ত দুঃখ কষ্ট দুর হয়ে হয়ে গেছে।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ, ইমতাউল আসমা’,সীরতে হালাবিয়্যাহ, সীরাতুন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, হায়াতুছ ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম)

সম্মানিত উহুদ ময়দানে সাইয়্যিদুনা ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সাথে হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এবং কাফির মুশরিকদের কথোপকথন:

 সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারকে কুরাইশ কাফির মুশরিকরা যখন পবিত্র মক্কা শরীফের দিকে পলায়নের উদ্যেগ নিল, তখন হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহু তিনি কাফির মুশরিকদের দলবল নিয়ে পাহাড়ে উঠার চেষ্টা করে ব্যার্থ হলেন (হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তখনও সম্মানিত ঈমান প্রকাশ করেননি) এবং জোর গলায় প্রশ্ন করলেন, আপনাদের মধ্যে যিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি শাহিদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি মুত্ত্বলা’ আলাল গইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সেই মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হায়াত মুবারকে আছেন? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কথার জবাব দিতে নিষেধ করলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়ল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কেউ কোন জবাব দিলেন না। হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহু তিনি এভাবে তিনবার ঘোষণা দিলেন। এরপর আবার ঘোষণা দিলেন, হযরত আবূ কুহাফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পুত্র সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবার আলাইহিস সালাম তিনি জিবিত আছেন কি? এবারও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জবাব দিতে নিষেধ করলেন। হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এবারও তিনবার বললেন, কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিষেধের প্রেক্ষিতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কোন জবাব দিলেন না। পুনরায় আবার জিজ্ঞাসা করলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি কি জীবিত রয়েছেন? এবারও তিনি তিনবার জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কোন জবাব দিলেন না। কাফির মুশরিকরা ধারণা করলো, নিশ্চয়ই উনারা সবাই সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। নাউযূবিল্লাহ! যদি উনারা জীবিত থাকতেন তাহলে অবশ্যই জবাব দিতেন। এবার সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি আর ঠিক থাকতে পারলেন না, তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত অনুমতি মুবারক নিয়ে উচ্চস্বরে বলে উঠলেন, ‘হে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুশমনরা, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তোমরা ভুল বলছো, তোমাদের ধ্বংস করতে উনারা সবাই যমীনে অবস্থান মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
 উল্লেখ্য যে, কাফির মুশরিকরা ধারণা করেছিল এবং বলাবলি করেছিল যে, তাদের সাথে রয়েছে হুবল, উজ্জা দেবতা। নাউযূবিল্লাহ! অপরদিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাফির মুশরিকরা যে প্রশ্ন ও বক্তব্য দিচ্ছিল তার জবাব সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে শিখিয়ে দিচ্ছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি তাদের জিজ্ঞাসার জবাবে বললেন,
اللَّهُ أَعَلَى وَأَجَلُّ
 অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি সবচেয়ে বড় সর্বাধিক মর্যাদা মুবারক উনার অধিকারী (এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও সবচেয়ে বড় ও সর্বাধিক মর্যাদা মুবারক উনার অধিকারী)।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
 সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি আরো বললেন,
اللَّهُ مَوْلاَنَا وَلاَ مَوْلَى لَكُمْ
 অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের মাওলা বা অভিভাবক, মুনিব, ও সহায়ক, আর কাফির মুশরিকদের কোন মাওলা বা অভিভাবক নেই।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
فَنِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ
 অর্থ: “তিনি কতই না উত্তম মাওলা বা অভিভাবক এবং তিনি কতই না উত্তম সাহায্যকারী বা সহায়ক।” (পবিত্র সূরা তওবাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৬৩)
 স্মরণীয় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি খ¦লিক্ব মালিক রব হিসেবে সমস্ত মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, শান-মান মুবারকের অধিকারী আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাখলুক হিসাবে একক। তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক নন, এছাড়া যত মর্যাদা-মর্তবা রয়েছে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদীয়া মুবারক করেছেন। অনুরূপ ভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, ইমামুল আইম্মা, মুহহউস সুন্নাত, মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদে রসূল, আহলে বাইতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকেও মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল- ফযীলত মুবারক হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কাজেই সমস্ত সম্মান ও ইজ্জত মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ সাইয়্যিদুনা ইমামুল উমাম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার জন্য। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! (বুখারী শরীফ, মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, নাসায়ী শরীফ, দালায়িলুন নুবুওওয়াহ)
 হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে নির্দেশ মুবারক দিলেন, যেন তিনি কাফির মুশরিকদের কথার জবাবে বলেন,
 اللَّهُ أَعَلَى وَأَجَلُّ لا سَوَاءَ، قَتْلانَا فِي الْجَنَّةِ، وَقَتْلاكُمْ فِي النَّارِ
 অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সুমহান মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার অধিকারী। আমরা আর তোমরা সমান নই। আমাদের মধ্যে যারা সম্মানিত শাহাদতী শা’ন মুবারক গ্রহণ করেছেন উনারা জান্নাতী। আর তোমাদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছে তারা জাহান্নামী।”
 অতঃপর হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহি সালাম! আপনি দয়া করে কি এদিকে আসবেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, আপনি উনার কাছে যান এবং দেখুন উনার কি হয়েছে। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার কাছে গেলেন, হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম! আপনি বলুনতো কাফির মুশরিকরা কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করতে পেরেছে? তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন,
 اللّهُمّ لَا، وَإِنّهُ لَيَسْمَعَ كَلَامَك الْآنَ قَالَ أَنْتَ أَصْدَقُ عِنْدِي مِنْ ابْنِ قَمِئَةَ وَأَبَرّ لِقَوْلِ ابْنِ قَمِئَةَ لَهُمْ إنّي قَدْ قَتَلْت حَضْرَتْ مُحَمّدًا صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ.
 অর্থ: মোটেই নয়। নিশ্চয়ই তিনিতো এখনও আপনার কথা সব শুনতে পাচ্ছেন। হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আপনাকে আমি কাট্টা কাফির ইবনে কামিয়া থেকে অধিক সত্যবাদি, বিশ্বস্ত মনে করি। সে তো বলেছিল, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করেছি। নাউযূবিল্লাহ! নাউযূবিল্লাহ! নাউযূবিল্লাহ! (সীরাতুন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, সীরতে হালাবিয়্যাহ, উয়ূনুল আছার, উসদুল গাবা)
হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এরপর হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, হে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আপনাদের মধ্যে যারা সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন উনাদের অনেককে মুছলা করা হয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমি এতে সন্তুষ্ট নই এবং অসন্তুষ্টও নই। আমি এ ব্যাপারে নির্দেশ দেইনি, এ ব্যাপারে নিষেধও ছিলনা।
 কাফির মুশরিকরা পবিত্র মক্কা শরীফের দিকে পলায়ন করে যাওয়ার সময় বলল, আগামী বছর সম্মানিত বদর প্রান্তরে আবার আপনাদের সাথে আমাদের জিহাদ হবে। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জনৈক হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহু উনাকে বললেন, আপনি বলে দিন ঠিক আছে। ইনশায়াল্লাহ! আমাদের মাঝে ও তোমাদের মাঝে ইহা ফয়সালার নিদৃষ্ট স্থান।
 উল্লেখ্য যে, কাফির মুশরিকরা সম্মানিত উহুদ জিহাদের ময়দানে আর টিকে থাকতে পারলো না তারা ভীত হয়ে তাদের মাল-সামানা একত্রিত করে পালাতে লাগলো। তারা চিন্তা করলো, আবার যদি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আমাদের উপর হামলা করেন তবে নিশ্চিত আমরা স্বমূলে ধ্বংস হয়ে যাবো। তাই তারা চিন্তুা ফিকির করে খুব দ্রুত গতিতে পবিত্র মক্কা শরীফের দিকে প্রত্যাবর্তন করলো। যখন তারা পবিত্র মক্কা শরীফে গিয়ে পৌঁছলো তখন তাদের পিতা, চাচা, ভাই তথা প্রতিবেশীরা বললো, তোমাদের হাপাতে হাপাতে এতো দ্রুত গতিতে ফিরে আসার কারণ কি? নিশ্চয়ই তোমরা পরাজয় বরণ করেছো। তখন কাফির মুশরিকদের অনেকেই তা স্বীকার করে নিল। কিন্তু বিপরীতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, ¦তামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে ৩ দিন সম্মানিত উহুদ প্রান্তরে অবস্থান মুবারক করে পবিত্র মদীনা শরীফে ফিরলেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
 কাজেই নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, সম্মানিত উহুদ জিহাদে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা পরিপূর্ণ বিজয় মুবারক লাভ করেছেন। এই সম্মানিত জিহাদ মুবারকে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অনেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা দোয়া মুবারক করেছিলেন যাতে উনারা সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনাদের দোয়া মুবারক কবুল হয়েছিল, দেখা গেল ৭০ জন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এই সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারকে সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে পবিত্র মক্কা শরীফের দিকে পলায়নকারী কাফির মুশরিকদের অনুসরণ ও দৃষ্টি রাখার নির্দেশ মুবারক:
 যখন কাফির মুশরিকরা সম্মানিত জিহাদের ময়দান থেকে দলবলে পলায়ন করতে লাগলো তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে নির্দেশ মুবারক দিলেন,
 فَانْظُرْ مَاذَا يَصْنَعُونَ وَمَا يُرِيدُونَ فَإِنْ كَانُوا قَدْ جَنّبُوا الْخَيْلَ وَامْتَطَوْا الْإِبِلَ فَإِنّهُمْ يُرِيدُونَ مَكّةَ، وَإِنْ رَكِبُوا الْخَيْلَ وَسَاقُوا الْإِبِلَ فَإِنّهُمْ يُرِيدُونَ الْمَدِينَةَ، وَاَلّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَئِنْ أَرَادُوهَا لَأَسِيرَنّ إلَيْهِمْ فِيهَا، ثُمّ لَأُنَاجِزَنّهُمْ. قَالَ حَضْرَتْ عَلِيّ عَلَيْهِ السَّلَامِ فَخَرَجْت فِي آثَارِهِمْ أَنْظُرُ مَاذَا يَصْنَعُونَ فَجَنّبُوا الْخَيْلَ وَامْتَطَوْا الْإِبِلَ وَوَجّهُوا إلَى مَكّةَ.
 অর্থ: “তাদের পিছু পিছু গিয়ে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করুন, দেখুন তারা কি করে। যদি আপনি দেখেন তারা অশ্বপাল এক পাশে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আর নিজেরা উটে আরোহণ করেছে, তবে নিশ্চিত মনে করবেন, তারা পবিত্র মক্কা শরীফের দিকে পলায়ন করছে। আর যদি তারা ঘোড়ার উপর আরোহণ করে, উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যায়, তবে মনে করবেন তারা পবিত্র মদীনা শরীফের দিকে রওয়ানা হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যার কুদরতী হাত মুবারকে আমার জীবন, যদি তারা পবিত্র মদীনা শরীফের উপর আক্রমণ করার ইচ্ছা করে, আমি নিজেই তাদের দিকে অগ্রসর হবো এবং তাদের সাথে অবশ্যই সম্মানিত জিহাদ মুবারক করবো। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি তাদের অনুসরণ করতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম যে, তারা তাদের ঘোড়াগুলো একপাশে রেখে, নিজেরা উটের উপর আরোহণ করেছে এবং পবিত্র মক্কা শরীফের দিকে দ্রুত গতিতে পলায়ন করছে। (সীরাতুন নাবী ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, সীরতে ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি, সীরাতে হালাবিয়্যাহ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, সীরতে ইবনে হাব্বান, আল কামিলু ফিত তারিখ)
সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারকে সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পবিত্র জানাযা নামায ও কাফন-দাফন মুবারক:
 সম্মানিত উহুদ জিহাদে ৭০ জন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনাদের মধ্যে হযরত মুহাজির ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ছিলেন ৪ জন। উনারা হলেন: ১. সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত হামযা আলাইহিস সালাম, ২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ৩. হযরত মুসয়াব ইবনে উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং ৪. হযরত শাম্মাস ইবনে উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। আর বাকি যারা সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন উনারা ছিলেন, হযরত আনসার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম। উনাদের অনেকেরই কাফন মুবারকের জন্য সামান্য কাপড় মুবারক দেয়া হয়েছিল। কারণ সম্মানিত জিহাদের ময়দানে কাফনের কাপড় না পাওয়াটাই স্বাভাবিক। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ছিলেন বেমেছাল গণী তথা ধনী। কারণ উনারা ছিলেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অন্তর্ভূক্ত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন মহান আল্লাহ পাক উনার পর সবচেয়ে গণী তথা ধনী আর উনার সম্মানিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও ছিলেন বেমেছাল গণী তথা ধনী, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা টাকার অভাবে পূর্ণ কাফন মুবারক দিতে পারেননি বিশ্বাস করলে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হতে হবে। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণকারীরা জান্নাতী। সুবহানাল্লাহ!
 মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
 وَالسَّابِقُوْنَ الْاَوَّلُوْنَ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ وَ الْأنْصَارِ وَالَّذِيْنَ اتَّبَعُوْهُمْ بِإحْسَانٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوْا عَنْهُ وَ اَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِىْ تَحْتَهَا الْأنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا اَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ .
 অর্থ: “হযরত মুহাজির ও আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা তায়ালা আনহুম, উনাদের মধ্যে যাঁরা পূর্ববর্তীদের মধ্যে অগ্রগণ্য উনারা এবং উনাদেরকে যাঁরা (ক্বিয়ামত পর্যন্ত) উত্তমভাবে অনুসরণ করবেন, উনাদের উপর মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্টি এবং উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্ট মুবারক লাভ করতে পেরেছেন। উনাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি এরূপ সম্মানিত জান্নাত মুবারক নির্ধারণ করে রেখেছেন, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণা প্রবাহিত হতে থাকবে, উনারা সর্বদা সেই সম্মানিত জান্নাতে অবস্থান মুবারক করবেন। ইহা উনাদের বিরাট সফলতা তথা হাক্বীক্বি কামিয়াবী।” (পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০০)
 অর্থাৎ যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উত্তম ভাবে অনুসরণ অনুকরণ করবে, উনাদেরকে মুহব্বত মুবারক করবে এবং উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করবে উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও সন্তুষ্ট। আর মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক কামিয়াবীর মূল। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
 উল্লেখ্য যে, হযরত মুসয়াব ইবনে উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাফন মুবারক দিতে গিয়ে দেখা গেল, উনার মাথা মুবারক ঢাকলে পা মুবারক বের হয়ে যায় আবার পা মুবারক ঢাকলে মাথা মুবারক বের হয়ে যায়। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘চাদর মুবারক দিয়ে উনার মাথা মুবারক ঢেকে দিন আর মুবারক পায়ে ইযখির নামক ঘাষ বিছিয়ে দিন।’ সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, সীরতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
 হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
 أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَمْزَةَ عَلَيْهِ السَّلَامِ فَسُجِّيَ بِبُرْدَةٍ ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهِ.
 অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারকে সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনাকে একটি চাদর বা কাফন মুবারক দিয়ে কাফন মুবারক দেয়া হয়েছিল। তারপর স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার জন্য জানাযার নামায আদায় করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
 অতঃপর অন্যান্য শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে একে একে সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনার পাশে রাখা হয়, আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের সম্মানিত জানাযার ছলাত মুবারক আদায় করতে থাকলেন এভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একের পর এক সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনার জন্য বাহাত্তর বার পবিত্র জানাযার নামায মুবারক আদায় করেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! (তুহফাতুল আহওয়াযী. শরহে আবূ দাউদ শরীফ, সীরাতুন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, উয়ুনুল আছার, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
 কোন কোন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সামান্য কাফন মুবারক দিয়েই দাফন মুবারক সম্পন্ন করা হয়। আরো উল্লেখ রয়েছে, দু’জন করে একই চাদর মুবারকে একত্রে রেখে উনাদেরকে কবর মুবারকে রাখা হয়। এরপর কোন কোন কবর মুবারকে তিন জন করেও শোয়ানো হয়। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
 হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার লোকজন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।
 أَنّ رَسُولَ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ دَفَنَهُ مَعَ حَضْرَتْ حَمْزَةَ عَلَيْهِ السَّلَامِ فِي قَبْرِهِ.
 অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গে একই কবরে দাফন মুবারক করেন।” হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন উমাইমা বিনতে আব্দুল মুত্তালিব আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ছেলে। আর হযরত উমাইমা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনার বোন, এই হিসাবে সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন উনার মামা। কাফির মুশরিকরা সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম উনার মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকেও মুছলাহ করা করেছিল। তবে উনার পেট মুবারক ফেড়ে কলিজা মুবারক বের করেনি। (সীরাতুন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, আর রওদ্বুল উনূফ,তারিখুল উমাম ওয়াল মুলূক)
 হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অনেক শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পবিত্র মদীনা শরীফে বহন করে নিয়ে দাফন মুবারক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,
ادْفِنُوهُمْ حَيْثُ صُرِعُوا.
 অর্থ: “উনারা যেখানে সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, সেখানেই উনাদের দাফন মুবারক সম্পন্ন করুন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ, সীরাতুন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, দিরাসাতু ফিস সীরাত, উসদুল গবা, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
 প্রসিদ্ধ সীরাত ও তারিখ গ্রন্থ সমূহে উল্লেখ রয়েছে,
 قَالَ وَحَدّثَنِي عَمّي حَضْرَتْ مُوسَى بْنُ يَسَارٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ أَنّهُ سَمِعَ حَضْرَتْ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ يَقُولُ قَالَ حَضْرَتْ أَبُو الْقَاسِمِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ مَا مِنْ جَرِيحٍ يُجْرَحُ فِي اللّهِ إلّا وَاَللّهُ يَبْعَثُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجُرْحُهُ يَدْمَى ، اللّوْنُ لَوْنُ دَمٍ وَالرّيحُ رِيحُ مِسْكٍ.
 অর্থ: “হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার চাচা হযরত মূসা ইবনে ইয়াসার রহমতুল্লাহি আলাইহি। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণ করেছেন, হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত উহুদ জিহাদে সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক যে সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা প্রকাশ করেছেন উনাদের প্রতি লক্ষ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, আমি উনাদের সকলের ব্যাপারে সাক্ষী। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার পথে যে আহত হন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে ক্বিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, উনার জখম মুবারক থেকে রক্ত মুবারক ঝরতে থাকবে, যার রং হবে রক্তের মতো কিন্তু সুঘ্রাণ হবে মিশকের মতো।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! (সীরাতুন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, আর রওদ্বুল উনূফ)
 নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম নির্দেশ মুবারক করেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করুন, উনাদের মধ্যে কে অধিক কুরআন শরীফ হিফযকারী তথা আয়ত্তকারী। উনাকে সকলের আগে কবর মুবারকে রাখুন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা একই কবরে দু’জন, তিনজন করে দাফন মুবারক করতে লাগলেন।’
 عَنْ أَشْيَاخٍ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ أَنّ رَسُولَ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ قَالَ يَوْمئِذٍ حِينَ أَمَرَ بِدَفْنِ الْقَتْلَى اُنْظُرُوا إلَى حَضْرَتْ عَمْرِو بْنِ الْجَمُوحِ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ وَ حَضْرَتْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَرَامٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ فَإِنّهُمَا كَانَا مُتَصَافِيَيْنِ فِي الدّنْيَا، فَاجْعَلُوهُمَا فِي قَبْرٍ وَاحِدٍ.
 অর্থ: “বানূ সালামার কতক শায়েখ উনাদের থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেদিন সম্মানিত শহীদদেরকে দাফন মুবারক করার নির্দেশ মুবারক দেয়ার সময় ইরশাদ মুবারক করছিলেন, আমর ইবনে জামূহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের প্রতি লক্ষ্য রাখুন। দুনিয়াতে উনাদের পরস্পরের সম্পর্ক ছিলো আন্তরকিতাপূর্ণ। সুতরাং উনাদের একই কবরে দাফন মুবারক করুন।” (রওদ্বুল উনূফ, সীরাতুন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, তারিখুল খমীস, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলূক)
 নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
أَنَا شَهِيدٌ عَلَى هَؤُلاَءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
 অর্থ: “ক্বিয়ামতের বিচারের দিনে আমি উনাদের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবো।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
 নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শহীদদের গোসল মুবারক করানো ব্যতীত এমনি রক্তমাখা অবস্থাতেই দাফন করার নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বিজয় বেশে পবিত্র মদীনা শরীফে প্রত্যাবর্তন:

 প্রসিদ্ধ তারিখ ও সীরত গ্রন্থ সমূহে উল্লেখ রয়েছে,
 হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত হুযরা শরীফে ফিরে উনার সম্মানিত বানাত সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত আন নূরুর রবী’য়া সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে স্বীয় তরবারি মুবারক দিয়ে ইরশাদ মুবারক করলেন,
 يَا بُنَيَّةُ اغْسِلِي عَنْ هَذَا الدَّمِ، فَوَاللَّهِ لَقَدْ صَدَقَنِي الْيَوْمَ الْقِتَالَ،
 আপনি এটি ধরুন, এর রক্ত ধুয়ে ফেলুন। মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আজ এই সম্মানিত তরবারি মুবারক সম্মানিত জিহাদ মুবারকে আমার সাথে বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!
 সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনিও উনার সম্মানিত তরবারি মুবারক সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রবি’য়া আলাইহাস সালাম উনার কাছে পেশ করলেন এবং বললেন, এই তরবারি মুবারক ধুয়ে ফেলুন। মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আজ এই তরবারি মুবারক আমার সাথে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছেন। একথা মুবারক শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,
 لَئِنْ كُنْتَ صَدَقْتَ الْقِتَالَ الْيَوْمَ لَقَدْ صَدَقَ مَعَكَ الْقِتَالُ الْيَوْمَ حَضْرَتْ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ وَ حَضْرَتْ سِمَاكُ بْنُ خَرَشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ حَضْرَتْ أَبُو دُجَانَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ.
 অর্থ: আজ আপনি সম্মানিত জিহাদ মুবারকের যথাযথ হক্ব আদায় করেছেন এবং আপনার সাথে হযরত সাহল ইবনে হুনাইফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত সিমাক ইবনে খারাশাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারাও যথাযথ ভাবে সম্মানিত জিহাদ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসুলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! (মুসতাদরিকে হাকীম, সীরাতুল হালাবিয়্যাহ, সীরাতুন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, উয়ূনুল আছার, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
 হযরত মূসা ইবনে উকবা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত রক্ত মাখা তরবারি মুবারক দেখে ইরশাদ মুবারক করেন,
إنْ كُنْت أَحْسَنْت الْقِتَالَ فَقَدْ أَحْسَنَ حَضْرَتْ عَاصِمُ بْنُ ثَابِتٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَ حَضْرَتْ الْحَارِثُ بْنُ الصّمّةِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَ حَضْرَتْ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ،
 অর্থ: “আজ আপনি সম্মানিত জিহাদ মুবারক যথাযথ ভাবে করেছেন তবে হযরত আসিম ইবনে ছাবিত ইবনে আবুল আফলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত হারিছ ইবনে ছাম্মাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত সাহল ইবনে হুনাইফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারাও খুব ভালোভাবে সম্মানিত জিহাদ মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ, উয়ূনুল আছার, সীরাতুল হালাবিয়্যাহ, মাগাযিউল ওয়াক্বিদী, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
অর্থাৎ উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার থেকে স্পষ্ট যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারক থেকে বিজয়ী শান মুবারকে হযরত ছাহাবাযে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফে প্রত্যাবর্তন করেছেন। উনাদের পবিত্র তরবারি মুবারকও বিশ্বস্থতার পরিচয় দিয়েছেন। আর সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সম্মানিত জিহাদ মুবারকে বেমেছাল ভাবে ঈমানদীপ্তের পরিচয় মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
 সম্মানিত তরবারি মুবারক উনার ছিফত মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে জনৈক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন,
عَنِ حَضْرَتْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ نَادَى مُنَادٍ يَوْمَ أُحُدٍ لَا سَيْفَ إِلَّا ذُو الْفَقَارِ، وَلَا فَتَى إِلَّا حَضْرَتْ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلَامِ.
 অর্থ: “হযরত ইবনে আবূ নাজীহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারকে জনৈক ব্যক্তি ঘোষণা দিলেন যে, কোন তরবারি নেই সম্মানিত যুলফিকার তরবারি মুবারক ব্যতীত অর্থাৎ সম্মানিত যুলফিকার তরবারি মুবারকই একমাত্র তরবারি মুবারক। আর কোন যুবক নেই সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনিই একমাত্র সম্মানিত যুবক।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! (ফতহুল বারী, শরহুয যুরকানী, ফায়দ্বুল ক্বদীর, উলূমুল হাদীছ, তারিখুল খ¦মীস, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
 হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারক থেকে পবিত্র মদীনা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন তখন তিনি দেখতে পেলেন আহলিয়াগণ নিজ নিজ আহালদের শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশের সংবাদ শুনে কান্নাকাটি করছেন এবং শোক প্রকাশ করছেন। সুবহানাল্লাহ!
 অন্যত্র উল্লেখ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফের সম্মানিত গলিপথে প্রবেশের পর শুনতে পেলেন যে, ঘরে ঘরে, মহল্লায় মহল্লায় কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞেস করলেন, উনারা কারা? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, উনারা হযরত আনসার মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না। উনাদের ঘনিষ্ঠজন সম্মানিত শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার কারণে উনারা কান্না মুবারক করছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, কিন্তু সাইয়্যিদুশ শুহাদ হযরত হামযা আলাইহিস সালাম উনার জন্য কান্নাকারী কেউ নেই? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং সাইয়্যিদুশ শুহাদ আলাইহিস সালাম উনার জন্য সম্মানিত নূরুল মুহব্বত তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কান্না মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
 প্রসিদ্ধ তারিখ ও সীরত গ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছে,
 হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারক থেকে ফিরে পবিত্র মদীনা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন। এ দিকে পবিত্র মদীনা শরীফে অবস্থান রত কাট্টা মুনাফিক উবাই বিন সুলূল সে একটি নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে মানুষদেরকে ওয়াসওয়াসা দিত। তার দলের লোকেরা তাকে মর্যাদাবান মনে করতো। নাউযূবিল্লাহ! পবিত্র জুমায়ার দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত খুতবা মুবারক প্রদানের জন্য সম্মানিত প্রস্তুতি মুবারক নিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় কাট্টা মুনাফিক উবাই বিন সুলূল সে তার নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলো,
أَيُّهَا النَّاسُ، هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ، أَكْرَمَكُمُ اللَّهُ بِهِ، وَأَعَزَّكُمْ بِهِ، فَانْصُرُوهُ وَعَزِّرُوهُ وَاسْمَعُوا لَهُ وَأَطِيعُوا.
 হে লোকসকল! এই যে আপনাদের সম্মুখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উপস্থিত। উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে সম্মানিত করেছেন এবং মর্যাদা মুবারক দান করেছেন। আপনারা উনাকে সম্মান ইজ্জত করবেন, উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দিবেন এবং উনার সম্মানিত আদেশ নির্দেশ মুবারক পালন করবেন।’
 সম্মানিত উহুদ জিহাদে তার মুনাফিক্বী, অপকর্ম হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কাছে প্রকাশিত হয়েছিল। সে যখন এভাবে দাঁড়িয়ে কথা-বার্তা বলা শুরু করল তখন কিছু হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তার কোর্তা ধরে টেনে তাকে বসিয়ে দিলেন। উনারা বললেন,
اجْلِسْ أَيْ عَدُوَّ اللَّهِ، وَاللَّهِ لَسْتَ لِذَلِكَ بِأَهْلٍ، وَقَدْ صَنَعْتَ مَا صَنَعْتَ.
 হে মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমন! (হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুশমন!) মুনাফিক্ব! মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তুমি বসে পড়, তুমি এই কাজের যোগ্য নও! তুমি যে মুনাফিক্বী, অপকর্ম করেছ তাতো সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।’
 অতঃপর এই কাট্টা মুনাফিক সে পবিত্র মসজিদ মুবারকের মধ্যেই উপস্থিত লোকজন উনাদেরকে ঘাড় টপকিয়ে চরম বেয়াদবের মতো বেরিয়ে যেতে লাগল এবং বলতে লাগলো, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমিতো কোন খারাপ কথা বলিনি, আমি উনাদের কাজ-কর্মের সমর্থন করতে এবং উনাদেরকে শক্তিশালী করতে দাঁড়িয়েছি। নাউযূবিল্লাহ! নাউযূবিল্লাহ! নাউযূবিল্লাহ! এরপর কিছু সংখ্যক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে তার দরজা মুবারকে সাক্ষাত হলে উনারা বললেন, হে উবাই বিন সুলূল (মুনাফিক্ব)! কি হয়েছে তোর? সে অনেক এলোমেলো কথা বলতে লাগলো। তখন উনারা বললেন, সর্বনাশ করেছ! তুমি এখনই ফিরে গিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট ক্ষমা ভিক্ষা চাও, দোয়া মুবারক চাও। তিনি তোমাকে ক্ষমা মুবারক করে দিবেন, তোমার জন্য দোয়া করবেন। তখন এই কাট্টা মুনাফিক বলল, তিনি আমাকে ক্ষমা করুন ও আমার জন্য দোয়া করুন আমি তা চাই না। নাউযূবিল্লাহ! নাউযূবিল্লাহ! নাউযূবিল্লাহ! (সীরাতে হালাবিয়্যাহ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, সীরতে ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি)
 উল্লেখ্য যে, মুনাফিক সরদার উবাই বিন সুলূল- এর ছেলে ছিলেন বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারক থেকে সম্মানিত মদীনা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলে হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়ল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দয়া করে আপনি আমাকে অনুমতি মুবারক দান করুন। এই কাট্টা মুনাফিক উবাই বিন সুলূলের গর্দান ফেলে দেই। কারণ সে আপনার সাথে মুনাফিক্বী ও চরম বেয়াদবী করেছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে অনুমতি মুবারক দান করেন নি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “তাকে হত্যা করলে মানুষ বলবে আমরা নিজেরা নিজেদের লোককে হত্যা করি।”


0 Comments: