ঈদ মুবারক ! ঈদ মুবারক !! ঈদ
মুবারক !!!
সুমহান পুত ও পবিত্র ২২ শে জুমাদাল উলা
শরীফ
ঈদে নিসবাতুল আযীম শরীফ ,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম
উনাদের নুরুদ দরাজাত মুবারকে
জানাই লক্ষ কোটি বেশুমার ছলাত ও সালাম ।
সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু
বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা
হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সম্মানিত জীবনী মুবারক
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
ইসম বা নাম মুবারক: সাইয়্যিদাতুনা
হযরত খাদীজাহ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক: উম্মুল হিন্দ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত লক্বব মুবারকআইয়্যামে
জাহিলিয়াতের যুগে: তখন তিনি সকলের
মাঝে আত ত্বাহিরাহ, আত ত্বইয়্যিবাহ
অর্থাৎ পূত-পবিত্রতা, পবিত্রতাদানকারিণী
সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ সারা আরবে, সারা পৃথিবীতে সুপরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
পরবর্তীতে উনার সম্মানিত লক্বব
মুবারক: আল কুবরা, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মু আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম, আস সাইয়্যিদাহ, হাবীবাতুল্লাহ, মালিকাতুল
কায়িনাত ইত্যাদি অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ!
যেই সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ
সম্মানিত পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন: উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস
সালাম
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা
হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতা হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত খুওয়াইলিদ
ইবনে আসাদ আলাইহিস সালাম। তিনি উনার সম্মানিত পিতা উনার দিক থেকে চতুর্থ পুরুষে
যেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে
মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন-
سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدِ بْنِ اَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قُصَىٍّ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাহ বিনতে
খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দিল ‘উয্যা ইবনে কুছাই আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত কুছাই আলাইহিস
সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার সম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক যখন ৩০ বছর, তখন উনার সম্মানিত পিতা হযরত খুওয়াইলিদ আলাইহিস সালাম তিনি
হরবুল ফিজারের যুদ্ধের সময় ইন্তেকাল করেন।
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিতা মাতা হচ্ছেন ফাত্বিমাহ বিনতে যায়িদাহ আলাইহাস সালাম।
তিনি উনার সম্মানিতা মাতা উনার দিক থেকে ১০ম পুরুষে যেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন,
سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةُ بِنْتُ فَاطِمَةَ بِنْتِ زَائِدَةَ بْنِ جُنْدُبٍ وَّهُوَ الْاَصَمُّ بْنِ هَرِمِ بْنِ رَوَاحَةَ بْنِ حَجَرِ بْنِ عَبْدِ بْنِ مَعِيْصِ بْنِ عَامِرِ بْنِ لُؤَىٍّ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল
কুবরা আলাইহাস সালাম বিনতে ফাতিমাহ বিনতে যায়িদাহ ইবনে জুনদুব (তিনি হচ্ছেন আছম) ইবনে
হারম ইবনে রওয়াহাহ ইবনে হাজার ইবনে আবদ ইবনে মা‘ঈছ ইবনে ‘আমির ইবনে লুয়াই আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত লুয়াই আলাইহিস
সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার সম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: আমুল ফীলের ১৫ বছর পূর্বে ১৪ই সাইয়্যিদু সায়্যিদিশ
শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুল
আহাদ বা’দ ফজর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ভাই-বোন
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনারা ভাই-বোন ছিলেন মোট ৫ জন। ২ জন ভাই এবং ৩ জন বোন। উনার দুই
ভাই হিযাম ও আওয়াম এবং এক বোন রক্বীক্বাহ উনারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রকাশের পূর্বে
ইন্তেকাল করেন। তিনি হচ্ছেন ভাই-বোন উনাদের মধ্যে দ্বিতীয়। উনার আরেক বোন সাইয়্যিদাতুনা
হযরত হালাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। উনার মহাসম্মানিত
আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম (আবুল আছ ইবনে রবী’ আলাইহিস সালাম) উনার সাথেই নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার
মহাসম্মানিত আওলাদ, খইরু বানাতি
রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা
আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার পূর্বে
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ২টি
সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ হয়েছিলো। প্রথম নিসবতে আযীম শরীফ হয়েছিলো আবূ হালাহ হিন্দ
উনার সাথে। তিনি হচ্ছেন-
اَبُوْ هَالَةَ هِنْدُ بْنُ زُرَارَةَ بْنِ النَّــبَّاشِ التَّمِيْمِىُّ.
অর্থ: “আবূ হালাহ হিন্দ ইবনে যুরারহ
ইবনে নাব্বাশ তামীমী।”
তিনি বেশি দিন দুনিয়ার যমীনে
অবস্থান মুবারক করেননি। তখন উনার দুই জন আবনা’ (ছেলে) আলাইহিমাস সালাম এবং
একজন বানাত (মেয়ে) আলাইহাস সালাম উনারা দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক আনেন। যিনি মেয়ে
হিসেবে ছিলেন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসম বা নাম মুবারক ছিলেন যাইনাব।
তিনি শিশুকালেই বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর ছেলে দুইজন উনারা হচ্ছেন হযরত হিন্দ
রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং হযরত হালাহ রদ্বিয়াল্লাহ তা‘য়ালা আনহু তিনি। সুবহানাল্লাহ!
উনারা দুইজনই সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন এবং ছাহাবীয়াতের সম্মানিত মাক্বাম
মুবারক অর্জন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! বিশেষ করে যিনি হিন্দ রদ্বিয়াল্লাহ তা‘য়ালা আনহু তিনি শুরুতেই সম্মানিত
ঈমান মুবারক এনেছেন। তিনি বদরী ছাহাবী ছিলেন। সুবহনাল্লাহ! তিনি উহুদের জিহাদেও ছিলেন।
সুবহানাল্লাহ! তিনি পরবর্তীতে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম
উনার সাথে জিন্দেগী মুবারক যাপন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! শেষে তিনি জঙ্গে জামাল জিহাদে
সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হুলিয়া মুবারক, সম্মানিত সীরত মুবারক, সম্মানিত ছূরত মুবারক অত্যন্ত সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যেটা
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ এবং সম্মানিত সীরাত গ্রন্থসমূহ উনাদের মাঝে
দেখা যায়। বিশেষ করে ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি এবং ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা প্রায় সময় হযরত হিন্দ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার কাছে যেয়ে এই
বর্ণনাগুলো শুনতেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি অত্যন্ত বিশুদ্ধভাষী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার
সম্মানিত দ্বিতীয় আওলাদ হযরত হালাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনিও ছাহাবিয়াতের
সম্মানিত মাক্বাম মুবারক অর্জন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি অনেক দিন দুনিয়ার যমীনে
অবস্থান মুবারক করেছেন। তিনি সবসময়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত নিসবত মুবারক রাখতেন।
সুবহানাল্লাহ! তিনি মক্কা শরীফ-এ অবস্থান করা সত্ত্বেও প্রায় সময় সম্মানিত ও
পবিত্র মদীনা শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক আনতেন। সুবহানাল্লাহ!
আর দ্বিতীয় নিসবতে আযীম শরীফ
হয়েছিলো আতীক্ব ইবনে আবিদ উনার সাথে। তিনি হচ্ছেন-
عَتِيْقُ بْنُ عَابِدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ الْـمَخْزُوْمِىُّ.
অর্থ: “আতীক্ব ইবনে ‘আবিদ ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে ‘উমর মাখযূমী।”
উনার একজন আবনা ছেলে আলাইহিস
সালাম এবং একজন বানাত (মেয়ে) আলাইহাস সালাম দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক আনেন।
ছেলে যিনি ছিলেন, উনার
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসম বা নাম মুবারক ছিলেন আব্দুল্লাহ। তিনি অল্প
বয়স মুবারকেই সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর যিনি
মেয়ে ছিলেন উনার নাম মুবারক ছিলেন হিন্দাহ রদ্বিয়াল্লাহ তা‘য়ালা আনহা। তিনি ছাহাবীয়াতের
মাক্বাম মুবারক অর্জন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা উনার সাথেই ছিলেন।
পরবর্তীতে উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে অবস্থান মুবারক
করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ব্যবসা মুবারক
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অনেক বড় সম্পদশালিনী ছিলেন। কুরাইশ গোত্র অনেক বড় গোত্র।
সমস্ত কুরাইশ গোত্রের একত্রে যত সম্পদ ছিলো, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার এককভাবে
ততো সম্পদ মুবারক ছিলো। সুবহানাল্লাহ! উনার অনেক বড় ব্যবসা ছিলো। সুবহানাল্লাহ! ব্যবসার
বিষয়টি নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। উনার বিশিষ্ট গোলাম, খাদিম ছিলেন হযরত মাইসারাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি। সুবহানাল্লাহ!
তিনি ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। লোক দিয়ে ব্যবসা করানো হতো। উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যবসার জন্য একজন বিশ্বস্ত ব্যবসা পরিচালক খুঁজছিলেন, যিনি উনার ব্যবসার পার্টনার হিসাবে ব্যবসার আনজাম দিবেন।
সুবহানাল্লাহ! যেহেতু আত্মীয়তার সম্পর্কে এবং অন্যান্য দিক থেকে খাজা আবূ ত্বালিব
উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্ক
ছিলো। উনার সম্মানিত পিতা ইন্তেকালের পর উনার চাচা আমর বিন আসাদ তিনি উনাকে মোটামোটি
দেখাশোনা করতেন। আর উনার সাথে খাজা আবূ ত্বালিব উনার সম্পর্ক ছিলো। ফলে তিনি বিষয়টি
নিয়ে উনার সাথে আলোচনা করেছিলেন। তখন খাজা আবূ ত্বালিব তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ব্যবসা করার জন্য বলেছিলেন।
উনারা রাজী হলেন। যেহেতু তিনি ‘আল আমীন’ হিসেবে মশহূর ছিলেন। উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আগ্রহ প্রকাশ করলেন। তখনো উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ
অনুষ্ঠিত হয়নি। কিভাবে ব্যবসা হবে। মুদারাবা যেটা বলা হয়। অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাল-সম্পদ মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যবসা করার জন্য নিয়ে যাবেন। অতঃপর ব্যবসা শেষে যেটা লাভ
হবে তার একটা অংশ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি গ্রহণ করবেন এবং আরেকটা অংশ উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি গ্রহণ করবেন। সুবহানাল্লাহ!
ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায়
সম্মানিত তাশরীফ মুবারক
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়াতে
সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিলেন। উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক
দেয়ার জন্য উনার সাথে হযরত মাইসারাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দেয়া হলো।
যাওয়ার পথে ব্যতিক্রম অনেক কিছু সংঘটিত হলো এবং আসার সময়ও অনুরূপ অনেক কিছু সংঘটিত
হলো। তবে সেখানে ব্যবসা করতে যেয়ে, একটা গির্জার পাশে একটা গাছের নিচে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রেখেছিলেন। সেখানে
একজন পাদ্রী ছিলো। তার নাম ছিলো নশতুরা রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি সেখানে অনেক বছর
যাবৎ অপেক্ষমান ছিলেন। সেখানে একটি গাছ ছিলো, এমন একটি গাছ, যেখানে একমাত্র
নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত আর কেউ বসতে পারেন না। কোনো মতে বসার সুযোগ
হয় না। সেই নশতুরা পাদ্রী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জানা ছিলো, যিনি আখেরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন
নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
এক সময় এখানে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক আনবেন এবং এই গাছের নিচে বসবেন।
সুবহানাল্লাহ! সে এই জন্য অনেক বছর যাবৎ অপেক্ষমান ছিলো। সে গির্জায় বসে বসে
লক্ষ্য করতো, গাছের কাছে কেউ যায় কিনা।
একদিন সেই পাদ্রী তিনি দেখতে পেলেন যে, সেই গাছের নিচে একজন মহাসম্মানিত বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি সম্মানিত
তাশরীফ মুবারক রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! সেটা দেখে সেই পাদ্রী বের হয়ে আসলেন এবং
উনার যে খাদিম হযরত মাইসারাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, উনি কে? হযরত
মাইসারাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি স্বাভাবিকভাবে পরিচয় দিলেন, তিনি কুরাইশ বংশের, হাশিমী গোত্রের। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসম বা নাম মুবারক বলে পরিচয় দেয়া
হলো। সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ। পাদ্রী এতে সন্তুষ্ট
হলেন না। বললেন যে, আরো কিছু রয়েছে, এর মধ্যে। অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করলেন এবং পাদ্রী বললেন, হে হযরত মাইসারাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! আপনি ব্যাপারটা বুঝতে
পারেননি, আপনারা উনাকে চিনতে পারেননি। আমি কিন্তু উনাকে চিনতে
পেরেছি। উনি হচ্ছেন হাক্বীক্বীভাবেই যিনি আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন
নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তিনি। সুবহানাল্লাহ! পরবর্তীতে সেই পাদ্রী সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ যেয়ে উনার
সম্মানিত কপাল মুবারক-এ বুছা দিয়ে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি। আমাদের আসমানী কিতাবে
আপনার বর্ণনা মুবারক রয়েছে। আপনি হচ্ছেন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন
নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
সুবহানাল্লাহ! তবে আর কিছু দিন পর আপনার সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও সম্মানিত
রিসালাত মুবারক প্রকাশ পাবে। আমি কিন্তু আপনার প্রতি সম্মানিত ঈমান আনলাম।
সুবহানাল্লাহ! এরপর সেই পাদ্রী নশতুরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত মাইসারাহ
রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার কাছে অনেক কিছু বলে, তিনি বললেন, আপনি লক্ষণ দেখবেন। আপনি বুঝতে পারবেন। সেটাই হযরত মাইসারাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেছেন, যেকোনো জায়গায় ব্যবসা করতে গেলে, মাল মনে হচ্ছে সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে এবং বেশি দামে বিক্রি
করা সহজ হচ্ছে। অনেক লাভ হচ্ছে। এবং তিনি লক্ষ্য করলেন, খাদ্য খেতে গেলে অনেক বরকত। অল্প খাদ্য দিয়েই মনে হচ্ছে পেট
ভরে যাচ্ছে। হযরত মাইসারাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আরো লক্ষ্য করলেন, যত প্রখর রৌদ্রই হোক না কেন। এই রৌদ্রের আলো নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জিসম
মুবারক-এ পড়ে না। সুবহানাল্লাহ! তিনি লক্ষ্য করলেন, আকাশে মনে হচ্ছে দুই জন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা ছায়া দিয়ে
যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! এরূপ অসংখ্য ঘটনা সংঘটিত হলো। ব্যবসা করে অনেক লাভ হলো।
সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা
শরীফ প্রত্যাবর্তন এবং সম্মানিতনিসবতে আযীম শরীফ উনার পূর্বাভাস মুবারক
একদিন দুপুর বেলার কথা। উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বাড়িটা ছিলো দোতলা। অনেক বড় বাড়ি ছিলো। তিনি দোতলায় দাঁড়িয়ে
ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি দেখতে পেলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ প্রবেশ করছেন আর বিশেষ দুই জন সম্মানিত হযরত ফেরেশতা
আলাইহিমাস সালাম উনারা উনাকে ছায়া মুবারক দিচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উপলব্ধি করতে পারলেন, বুঝতে পারলেন যে, এখানে একটা
বিশেষ কোনো বিষয় রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
ঠিক এরমধ্যে উনার আরেকটি ঘটনা
সংঘটিত হয়েছিলো। মহিলাদের একটি মজলিস ছিলো। উনাকে দাওয়াত দেয়া হয়েছিলো। সেখানে
তিনি সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ একটা লোক মজলিসের বাইরে দূর
থেকে ঘোষণা দিতে থাকলো, হে মহিলারা
আপনারা জেনে রাখুন, অতিশীঘ্রই এখানে
একজন মহাসম্মানিত বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক সাইয়্যিদুনা ‘আহমদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার বহি:প্রকাশ মুবারক ঘটবে। আপনাদের কারো পক্ষে যদি সম্ভব হয়, তাহলে আপনারা উনার মহাসম্মানিতা যাওজাতুম মুকাররমাহ
(আহলিয়াহ) হওয়ার জন্য কোশেশ করুন। সুবহানাল্লাহ! আপনারা কামিয়াবী হাছিল করবেন।
সুবহানাল্লাহ! এটা যখন সেই ব্যক্তি বললো, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি শুনলেন, ফিকির করলেন। কিন্তু অন্যান্য মহিলারা উত্তেজিত হয়ে লোকটাকে
পাগল মনে করে কিছু ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি বিষয়টি লক্ষ্য
করলেন, ফিকির করলেন। এই সমস্ত অনেক ঘটনা ঘটে গেলো। আর এই দিকে
ব্যবসা শেষে এসে হযরত মাইসারাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে যা সংঘটিত হয়েছে সবকিছু খুলে বললেন। তিনি এই বিষয়টিও সরাসরি
বললেন যে, অমুক একজন পাদ্রী হযরত নশতুরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি
বলেছেন, তিনি হচ্ছেন আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন
নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! তবে সম্মানিত নুবুওওয়াত
ও রিসালাত মুবারক উনার বিষয়টি প্রকাশ হতে এখনো কিছু সময় বাকি আছে। এটা শুনে উম্মুল
মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত চিন্তিত হলেন।
এই হিসেবে যেহেতু উনার নিকট বিভিন্ন দিক থেকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব
আসতেছিলো।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব মুবারক-
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ‘হযরত নাফিসাহ বিনতু মুনীয়াহ বা মানিয়াহ’ নামে একজন বান্ধবী ছিলেন। তিনি
উনার বান্ধবীর মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনাকে সরাসরি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার বিষয়ে প্রস্তাব
মুবারক পেশ করলেন। আবার এই দিকে উনার চাচা আমর বিন আসাদ তিনিও এই বিষয়টা মধ্যস্থতা
করলেন। তিনি খাজা আবূ ত্বালিব উনার কাছে সংবাদ মুবারক পৌঁছালেন। অতঃপর সংবাদ মুবারক
যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ পৌঁছানো হয়, তখন তিনি চুপ থাকেন। কোনো সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেননি। কিন্তু পরবর্তীতে খাজা
আবূ ত্বালিব তিনি বললেন, অসুবিধা নেই।
তিনি তো সম্মানিতা এবং তিনি সারা আরবে ত্বাহিরাহ, ত্বইয়্যিবাহ হিসেবে, পূত-পবিত্রা
ব্যক্তিত্বা হিসেবে মশহূর হয়ে গেছেন। সবদিক থেকেই তিনি যোগ্যতাসম্পন্না। কাজেই
উনাকে গ্রহণ করতে তো কোনো অসুবিধা থাকার কথা না। খাজা আবূ ত্বালিব তিনি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পক্ষ থেকে সুপারিশ করলেন। তখন শেষ পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (মহান আল্লাহ পাক উনার
মুবারক ইচ্ছানুযায়ী) সম্মতি মুবারক প্রকাশ করলেন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত রিসালাত
মুবারক প্রকাশের ১৫ বছর পূর্বে ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। তখন দুনিয়াবী
দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ২৫ বছর এবং উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৪০ বছর। সুবহানাল্লাহ! এই মহাসম্মানিত
ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ-এ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর
আলাইহিস সালাম তিনি উপস্থিত ছিলেন। আরো উপস্থিত ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা দুধ মাতা সাইয়্যিদাতুনা
হযরত হালীমা সা’দিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনিও। তিনি এই সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ-এ
৪০টি ছাগল বা খাসি মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত মোহরানা মুবারক উনার
পরিমাণ সম্পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে। কেউ বলেছেন, ২০টি উট, কেউ বলেছেন, ৫০০ দিরহাম, আবার কেউ বলেছেন, ৫০০ দীনার।
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৭জন মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও মহাসম্মানিতা আওলাদ
আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ
করেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ইসলাম ও সম্মানিত ঈমান
মুবারক প্রকাশ: মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি জগতে পুরুষ-মহিলা সকলের পূর্বে
সর্বপ্রথম তিনি সম্মানিত ইসলাম ও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক: একাধারে ২৪ বছর ৩
মাস ২৫ দিন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও সম্মানিত
রিসালাত মুবারক প্রকাশের ১০ম বৎসর ১৭ রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুস সাবত শরীফ। তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক
ছিলেন প্রায় ৫০ বছর। হাজুন নামক স্থানে উনার সম্মানিত ও পবিত্র রওযা শরীফ অবস্থিত।
সবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশে, উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক-এ, উনার সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক প্রকাশে এবং উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত
মুবারক বর্ণনায় সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহিস সালাম
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যেই সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন, অন্য কারো পক্ষে এটা সম্ভব হয়নি আর হবেও না। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ
মুবারক করেন,
اِنَّـــاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْرًا لِّــتُؤْمِنُوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَتُعَزِّرُوْهُ وَتُوَقِّرُوْهُ وَتُسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّاَصِيْلًا.
অর্থ: “(হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি, সৃষ্টি মুবারক করেছি শাহিদ তথা সাক্ষ্যদাতা, উপস্থিত, হাযির-নাযির হিসেবে, সুসংবাদদানকারী এবং সতর্ককারীরূপে। যাতে করে তোমরা মহান
আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
অর্থাৎ উনাদের প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনতে পারো। তোমরা উনার সম্মানিত খিদমত
মুবারক উনার আনজাম মুবারক দাও, উনাকে তা’যীম-তাকরীম মুবারক করো এবং উনার
সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করো সকাল-সন্ধ্যা তথা অনন্তকালব্যাপী দায়িমীভাবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র
সূরা ফাত্হ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮-৯)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ
উনার পরিপূর্ণ হাক্বীক্বী মিছদাক্ব ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ!
ইনশাআল্লাহ এখন উপরোক্ত
বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হবে।
সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিই সেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার
সৃষ্টি জগতে সর্বপ্রথম সম্মানিত ইসলাম ও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
اَوَّلُ مَنْ اَسْلَمَ وَاٰمَنَ فِـىْ خَلْقِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ لَـمْ يَتَقَدَّمْهَا رَجُلٌ وَّلَا امْرَاَةٌ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةُ الْكُبْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিই মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি জগতে সর্বপ্রথম সম্মানিত ইসলাম
ও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার পূর্বে কোন পুরুষ-মহিলা
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেনি এবং সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেনি।” সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ رَبِيْعَةَ السَّعْدِىِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ اَتَيْتُ حَضْرَتْ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَهُوَ فِـىْ مَسْجِدِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعْتُهٗ يَقُوْلُ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةُ الْكُبْرٰى بِنْتُ خُوَيْلِدٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ سَابِقَةُ نِسَاءِ الْعَالَمِيْنَ اِلَـى الْاِيْـمَانِ بِاللهِ وَبِـمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “হযরত রবী‘আহ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা
করেন। আমি হযরত হুযায়ফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট আসলাম। তখন তিনি সম্মানিত
ও পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করতেছিলেন। আমি উনাকে বলতে শুনেছি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহান
আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ
উনাদের প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ পাক উনার
কায়িনাতে যত মহিলা রয়েছেন সকলের অগ্রগামী। অর্থাৎ তিনি সকলের পূর্বে সম্মানিত ঈমান
মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৩/২০৩, আল ফাতহুল কাবীর ২/৮০ ইত্যাদি)
সেটাই নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো সুস্পষ্টভাবে
ইরশাদ মুবারক করেছেন,
قَدْ اٰمَنَتْ بِـىْ اِذْ كَفَرَ بِـىَ النَّاسُ
অর্থ: “মানুষ যখন আমাকে অস্বীকার করেছে, সম্মানিত ঈমান মুবারক আনেনি, তখন তিনি সর্বপ্রথম আমার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ
শরীফ)
তিনি সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান
মুবারক প্রকাশ করেছেন এবং কায়িনাতের মাঝে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম
মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক ও সম্মানিত
খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন আরবের মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্পদশালিনী। উনার মত সম্পদশালিনী
আরবে আর কেউ ছিলো না। সমস্ত কুরাইশদের যত সম্পদ ছিলো উনার এককভাবে তার চেয়ে বেশি সম্পদ
মুবারক ছিলো। সেই যামানায় উনার লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য মুবারক ছিলো।
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, যেখানে
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখান থেকে সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক
নেয়ার জন্য প্রতি সম্মানিত ক্বদম মুবারক-এ একটি করে সম্মানিত স্বর্ণের প্লেট
মুবারক দেয়া হয়েছিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি স্বর্ণের প্লেট মুবারক-এ এক এক ক্বদম মুবারক রেখে সম্মানিত হুজরা
শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
এখন যদি ১০০টা প্লেট ধরা হয়, আর প্রতিটি প্লেট যদি ৫ থেকে ৭ কেজি করে ধরা হয়। তাহলে দেখা
যাচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ কেজি স্বর্ণ, যা
বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী কমপক্ষে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা। সুবহানাল্লাহ! এই ২৫০
থেকে ৩০০ কোটি টাকা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার সময়
শুধু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত
ক্বদম মুবারক উনার নীচে তিনি বিছিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনার কতো সম্পদ
মুবারক ছিলো এবং কতো বেমেছালভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক
দিয়েছেন, সেটা সকলের চিন্তা-কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
যেই সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সেই
সম্মানিত হুজরা শরীফ রেখে উনার ভাতিজা হাকীম ইবনে হিজাম উনার থেকে একটা বাড়ী কিনে সেখানে
চলে আসেন। সুবহানাল্লাহ! সেখানে সম¥ানিত তাশরীফ মুবারক নিয়ে সম্মানিত অবস্থান করেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত হিজরত মুবারক
করা পর্যন্ত সেই সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেছেন।
সুবহানাল্লাহ! আর পূর্বের যেই বাড়ী মুবারক ছিলো, সেটা বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন
নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার সময়
উনাকে সম্মানিত হাদিয়া মুবারক করা হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! সেই সম্মানিত বাড়ী
মুবারক-এ সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম (হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম)
তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা
সম্মানিত অবস্থান মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মত সম্পদশালিনী আরবে আর কেউ ছিলো না। সুবহানাল্লাহ! তিনি
উনার সেই সমস্ত সম্পদ মুবারকগুলো সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রকাশের পূর্বে এবং পরে সাইয়্যিদুল
মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বিলিয়ে
দিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে তিনি সম্মানিত ধন-সম্পদ মুবারক দিয়ে নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতটুকু সম্মানিত খিদমত
মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছিলেন, সেটা মানুষ কখনও চিন্তা-ফিকির করে মিলাতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ!
সেটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
وَوَاسَتْنِـىْ بـِمَالِـهَا اِذْ حَرَمَنِـىَ النَّاسُ
অর্থ: “মানুষ যখন আমার কোনো সম্মানিত
খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়নি, তখন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার
সমস্ত মাল-সম্পদ দিয়ে আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন এবং আমাকে
সান্তনা মুবারক দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ)
সম্মানিত ওহী মুবারক নাযিল হওয়ার
পূর্বে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
সম্মানিত হেরা গুহা মুবারক-এ সম্মানিত অবস্থান মুবারক করতেন। তখন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য সম্মানিত খাবার মুবারক নিয়ে যেতেন। সুবহানাল্লাহ! ১৯৮৫
সালের কথা তখন এমনিতে স্বাভাবিকভাবে একজন সুস্থ-সবল ও যুবক লোকের জন্য সম্মানিত হেরা
গুহা মুবারক-এ উঠতে প্রায় ২:৩০ থেকে ৩:০০ ঘন্টা সময় লাগতো এবং অনেক কষ্ট হতো।
তাহলে ১৪০০ বৎসর আগে কি অবস্থা
ছিলো? আর দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক তো তখন অনেক ছিলেন, তখন তিনি এই অবস্থায় কিভাবে, কতোটুকু ত্যাগ ও কষ্ট সহ্য করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত খাবার
মুবারক নিয়ে গেছেন এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন, সেটা চিন্তা ফিকিরের বিষয়। সুবহানাল্লাহ! তিনি আরবের মধ্যে
সবচেয়ে সম্পদশালিনী ছিলেন। ইচ্ছা করলে অসংখ্য খাদিম নিয়োগ করে নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য সম্মানিত হেরা
গুহা মুবারক-এ সম্মানিত খাবার মুবারক পাঠিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা
করেননি। তিনি উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম হওয়া সত্ত্বেও, দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার এতো অধিক সম্মানিত বয়স মুবারক হওয়া
সত্ত্বেও, তিনি সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে সেই সুউচ্চ সম্মানিত হেরা গুহা
মুবারক-এ উঠে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার জন্য সম্মানিত খাবার মুবারক নিয়ে গেছেন এবং সেখানে গিয়ে উনার সম্মানিত খিদমত
মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে তিনি নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কতো সীমাহীন মুহব্বত
মুবারক করেছেন এবং কতো বেমেছালভাবে উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক
দিয়েছেন, তা সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! মূলত, তা কায়িনাতের বুকে এক নযীরবিহীন দৃষ্টান্ত মুবারক।
সুবহানাল্লাহ! তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম
মুবারক দেয়নি। এবং অন্য কারো পক্ষে এটা সম্ভবও হয়নি। সুবহানাল্লাহ! এক দিনের কথা
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য সম্মানিত
হেরা গুহা মুবারক-এ সম্মানিত খাবার মুবারক নিয়ে আসছিলেন, তখন স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজে উনার জন্য সুসংবাদ
মুবারক প্রেরণ করেন। যেটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ اَتٰى حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هٰذِه اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةُ الْكُبْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ قَدْ اَتَتْ مَعَهَا اِنَاءٌ فِيْهِ اِدَامٌ وَّطَعَامٌ فَاِذَا اَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ مِنْ رَّبّـِهَا وَمِنِّـىْ وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِـى الْـجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لَّا صَخَبَ فِيْهِ وَلَا نَصَبَ.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত
মুবারক-এ এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই যে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি একটি পাত্র মুবারক নিয়ে আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত
তাশরীফ মুবারক নিচ্ছেন। এই সম্মানিত পাত্র মুবারক-এ তরকারি মুবারক এবং খাদ্য মুবারক
রয়েছেন। তিনি যখন আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিবেন, তখন আপনি উনাকে উনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এবং
আমার (অর্থাৎ আমি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার) পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন। আর
উনাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে মুক্তাখচিত এমন একটি সম্মানিত প্রাসাদ
তথা সম্মানিত বালাখানা মুবারক সম্পর্কে সুসংবাদ মুবারক প্রদান করবেন, যেখানে কোনো শোরগোল নেই, কোনো ক্লান্তি তথা কষ্ট-ক্লেশ নেই।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
তাহলে এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়
যে, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি কতো
বেমেছালভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন যে, উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ খুশি হয়ে স্বয়ং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনাকে সম্মানিত
সালাম মুবারক জানিয়েছেন এবং উনাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার সম্মানিত সুসংবাদ
মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
শি‘আবে আবী ত্বালিবের কথা। যখন উম্মুল
মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সেখানে সম্মানিত তাশরীফ
মুবারক নেন, তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার
সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ৬১ বছর। শি‘আবে আবী ত্বালিবে কাফির-মুশরিকরা
খাবার পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে। তাদের বাধার কারণে সেখানে সাধারণত খাবার পৌঁছতো না
বিধায় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এরূপ অবস্থা
হয়েছিলো যে, উনারা খাদ্য হিসেবে গাছের
লতা-পাতা, ছাল-বাকল পর্যন্ত খেয়েছিলেন। এমনকি উনারা চামড়ার না’লাঈন শরীফ (জুতা মুবারক) পানিতে
সিদ্ধ করে চিবিয়েছেন। গাছের লতা-পাতা, ছাল-বাকল খাবার হিসেবে গ্রহণ করার ফলে উনাদের ইস্তিঞ্জা মুবারক বকরীর লেদের মত
হয়ে গিয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! ক্ষুধার্ত শিশু উনাদের কান্না মুবারক-এ আশে-পাশের
লোকেরা রাতে ঘুমাতে পারতো না। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি শি‘আবে আবী ত্বালিবে ৩ বছর সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি তখন কখনও কখনও সম্মানিত মারীদ্বী শান মুবারক (অসুস্থতা মুবারক) প্রকাশ করতেন এবং
কখনও কখনও সম্মানিত ছিহ্হাতী শান মুবারক (সুস্থতা মুবারক) প্রকাশ করতেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি কিন্তু অনেক সম্পদশালিনী ছিলেন, তিনি ইচ্ছা করলে পারতেন, শি‘আবে আবী ত্বালিবে না যেয়ে সুখ-শান্তিতে
সম্মানিত অবস্থান মুবারক করতে। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার এতো
অধিক সম্মানিত বয়স মুবারক হওয়া সত্ত্বেও তিনি শি‘আবে আবী ত্বালিবে দীর্ঘ ৩ বছর
সম্মানিত অবস্থান মুবারক করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে
কতটুকু সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করেছেন, উনার কতটুকু সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করেছেন, উনার কতটুকু সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার
উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নবী-রসূল হিসেবে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হিসেবে এবং হাবীবুল্লাহ হিসেবে সৃষ্টি মুবারক হয়েছেন।
সুবহানাল্লাহ! দুনিয়াবী দৃষ্টিতে যখন উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ৪০ বছর, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক
প্রকাশ পায়। উনার উপর আনুষ্ঠানিভাবে সম্মানিত ওহী মুবারক নাযিল হয়। মহান আল্লাহ
পাক উনার পক্ষ থেকে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি (সম্মানিত হেরা গুহা
মুবারক-এ) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক নিয়ে আসেন। সুবহানাল্লাহ! এখন এই বিষয়টা উম্মতকে
বুঝানোর জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তিনি সম্মানিত হেরা গুহা মুবারক থেকে সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ এসে বিষয়টা উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! এখন বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন
একটি বিষয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন
এবং উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি একজন
উম্মত। এখন বিষয়টা মানুষের জন্য বিশ্বাস করার বিষয় এবং ইস্তিক্বামত থাকার বিষয়। কিন্তু
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বিষয়টা
শুনার পর কোন চিন্তিত হননি, বিচলিত হননি, কোন প্রকার ঘাবড়াননি। তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই বলে
সান্তনা মুবারক দিলেন যে, চিন্তার কোন
কারণ নেই ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই বিষয়টা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক
উনার পক্ষ থেকে আপনার উপর নাযিল করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! কারণ আপনার জন্য কোন দিন
কোন খারাপী হবে না। আপনি তো সব সময় মানুষের উপকার করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! ইত্যাদি
ইত্যাদি নিজ থেকে বলে উল্টো তিনি সান্তনা মুবারক দিলেন। সুবহানাল্লাহ! এবং তিনি
বিষয়টি তাছদীক্ব করার জন্য উনার সম্মানিত চাচাতো ভাই হযরত ওরাক্বাহ ইবনে নাওফিল
রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু যিনি পূর্ববর্তী সম্মানিত আসমানী কিতাবের উপর অত্যন্ত
দক্ষ ছিলেন উনার কাছে যাওয়ার প্রস্তাব মুবারক দিলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বললেন, চলুন, আমরা
সেখানে যাই। মূলত, এটা হচ্ছে
উম্মতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ! উনারা সেখানে গেলেন। হযরত ওরাক্বাহ বিন
নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জবান মুবারক-এ বিষয়টি শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, “যিনি আপনার নিকট এসেছেন তিনি হচ্ছেন হযরত জিবরীল আলাইহিস
সালাম এবং আপনি হচ্ছেন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন
নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! কাজেই এটা সম্মানিত ওহী
মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটেছে। সুবহানাল্লাহ! আপনার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে
সম্মানিত ওহী মুবারক নাযিল হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বিষয়টা তাছদীক্ব করলেন। তিনি কিন্তু বিচলিত হতে পারতেন, চিন্তিত হতে পারতেন, ভয় পেতে পারতেন, অনেক কিছু করতে
পারতেন। কিন্তু তিনি উল্টা বিষয়গুলো এতো স্বাভাবিকতার সাথে, ইতমিনানের সাথে গ্রহণ করলেন এবং জবাব দিলেন, যেটা ঠিক যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার যেন সরাসরি ক্বায়িম-মাক্বাম।
সুবহানাল্লাহ! এটা অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়, ফিকিরের বিষয়। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার কতো বেমেছালভাবে সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করেছেন, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করেছেন, উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম-কায়িনাবাসীর চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ
শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ بَيْنَا رَأْسُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـىْ حِجْرِىْ فِـىْ لَيْلَةٍ ضَاحِيَةٍ اِذْ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ يَكُوْنُ لِاَحَدٍ مِّنَ الْـحَسَنَاتِ عَدَدُ نُـجُوْمِ السَّمَاءِ قَالَنَعَمْ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قُلْتُ فَاَيْنَ حَسَنَاتُ حَضْرَتْ اَبِـىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اِنَّـمَا جَمِيْعُ حَسَنَاتِ حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَحَسَنَةٍ وَّاحِدَةٍ مِّنْ حَسَنَاتِ حَضْرَتْ اَبِـىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা
হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জ্যো¯œার রাতে নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
আমার সম্মানিত কোল মুবারক-এ সম্মানিত মাথা মুবারক রেখে শুয়ে ছিলেন। আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কারো কি আকাশের তারকার
সমপরিমাণ নেকী মুবারক রয়েছে? তিনি
ইরশাদ মুবারক করলেন, হ্যা, ফারূক্বে আ’যম হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার আকাশের তারকার
সমপরিমাণ নেকী মুবারক রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি বললাম, তাহলে ছিদ্দীক্বে আকবর সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব
আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নেকী মুবারক উনার পরিমাণ কত? জবাবে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক
করলেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জিন্দেগীর
সমস্ত নেকী মুবারক হচ্ছে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার একখানা
সম্মানিত নেকী মুবারক উনার সমান।” সুবহানাল্লাহ! (রযীন শরীফ, জামিউল উছূল শরীফ লিইবনে আছীর, মিশকাত শরীফ)
আর তাহচ্ছে আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, ছিদ্দীক্বে আকবর সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব
আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার সময় সম্মানিত সাওর গুহা মুবারক-এ
চার দিন তিন রাত্রি মুবারক নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত
মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে যেই নেকী মুবারক অর্জন করেছিলেন, সেই সম্মানিত নেকী মুবারক। সেই সম্মানিত খেদমত মুবারকখানা
হচ্ছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জিন্দেগীর
সমস্ত নেকী মুবারক উনার সমান। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র ১লা রবী‘উল আউওয়াল শরীফ লাইলাতুল খমীস শরীফ ফজরের পূর্বে সম্মানিত হেরা
গুহা মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৫ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ লাইলাতুল ইছনাইনিল
‘আযীম শরীফ অন্ধকার হওয়ার সাথে
সাথে সেখান থেকে বের হন। সুবহানাল্লাহ!
এখন বলার বিষয় হচ্ছে যে, যদি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি
সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার সময় সম্মানিত সাওর গুহা মুবারক-এ চার দিন তিন রাত্রি
মুবারক নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম
মুবারক দিয়ে এতো বেমেছাল নেকী মুবারক অর্জন করেন যে, সেই সম্মানিত নেকী মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জিন্দেগীর
সমস্ত নেকী মুবারক উনার সমান হয়। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি যে, একাধারে
২৪ বছর ৪ মাস ২৫ দিন বেমেছালভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিলেন, যার কোন মেছাল নেই, পৃথিবীর ইতিহাসে কারো পক্ষে এরূপ বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম
মুবারক দেয়া সম্ভব হয়নি, আর হবেও না। তাহলে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নেকী মুবারক উনার পরিমাণ কতো সীমাহীন হবেন, সেটা জিন-ইনসানের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক কতো বেমেছাল, তা কেউ ভাষা
দিয়ে প্রকাশ করতে পারবে? কস্মিনকালেও নয়।
সুবহানাল্লাহ! সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ
শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اِنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا اُسْرِىَ بِهٖ لَيْلَةَ الْمِعْرَاجِ اِلَى السَّمٰوَاتِ الْعُلـٰى وَوَصَلَ اِلَى الْعَرْشِ الْمُعَلّٰى اَرَادَ خَلْعَ نَعْلَيْهِ اَخْذًا مِّـنْ قَوْلِهٖ تَعَالـٰى لِسَيِّدِنَا حَضْرَتْ مُوْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ حِيْنَ كَلَّمَهٗ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ اِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى. فَنُوْدِىَ مِنَ الْعَـلِـىِّ الْاَعْلـٰى يَا حَضْرَتْ مُـحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَـخْلَعْ نَعْلَيْكَ فَاِنَّ الْعَرْشَ يَتَشَرَّفُ بِقُدُوْمِكَ مُتَنَعِّـلًا وَّيَفْتَخِرُ عَلـٰى غَيْرِهٖ مُتَـبَـرِّكًـا فَصَعِدَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلَى الْعَرْشِ وَفِىْ قَدَمَيْهِ النَّعْلَانِ وَحَصَلَ لَهٗ بِذٰلِكَ عِزٌّ وَّشَأْنٌ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রাতে সুউচ্চ সপ্ত
আসমান অতিক্রম করে সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি উনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ খুলে সম্মানিত আরশে
আযীম মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার চিন্তা মুবারক করলেন। মহান আল্লাহ পাক
উনার ওই সম্মানিত ও পবিত্র কালাম মুবারক ফিকির মুবারক করে, যেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি (যখন সাইয়্যিদুনা হযরত
কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি তূর পাহাড়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথা বলার
জন্য তাশরীফ মুবারক রাখবেন, তখন) হযরত
কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেছিলেন-
فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ اِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى.
‘আপনি আপনার
সম্মানিত না’লাইন শরীফ খুলুন। কেননা আপনি সম্মানিত (তূর পাহাড়ের) পবিত্র
তুয়া উপত্যকায় তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। (সেখানে আমার সম্মানিত আরশে আযীম
মুবারক উনার ৭০ হাজার ভাগের এক ভাগ সম্মানিত নূর মুবারক বর্ষিত হয়েছেন। যার কারণে সেই
স্থানটি সম্মানিত ও পবিত্র হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই আপনি সম্মানিত না’লাইন শরীফ খুলে আসুন। নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই বিষয়টি ফিকির করে উনার
সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ খুলার চিন্তা মুবারক করেছিলেন মাত্র।) তখন মহান আল্লাহ
পাক তিনি সম্মানিত ওহী মুবারক করলেন, হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দয়া করে আপনি আপনার
সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ খুলবেন না। অর্থাৎ আপনি আপনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফসহ আমার সম্মানিত আরশে
আযীম মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করুন। সুবহানাল্লাহ! কেননা আমার সম্মানিত
আরশে আযীম মুবারক আপনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের পরশ মুবারক-এ, আপনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও
পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক উনাদের স্পর্শ মুবারক-এ ধন্য হবেন, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাছিল করবেন। সুবহানাল্লাহ! (শুধু
তাই নয়,) আমার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক আপনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত স্পর্শ
মুবারক পাওয়ার কারণে, আপনার সম্মানিত
ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক লাভ করে
বরকতময় হয়ে আরো পবিত্রতা হাছিল করবেন এবং অন্য সবার উপর ফখর করবেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত
ও পবিত্র না’লাইন শরীফ পরিধান মুবারক করা অবস্থাতেই সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক-এ
সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন। আর সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত
স্পর্শ মুবারক লাভ করে, সম্মানিত ও
পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক পেয়ে ইজ্জত-সম্মান, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাছিল করলেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল মুত‘য়াল ফী মাদহি খইরিন নি‘য়াল শরীফ)
অনুরূপ বর্ণনা দশম হিজরী শতকের
মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার
বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘ই’জাযুল কুরআন শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন একজন
জলীলুল ক্বদর নবী এবং রসূল। সুবহানাল্লাহ! যদি কিতাব হিসেবে ধরা হয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়টি আলাদা। এছাড়া অন্যান্য সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস
সালাম উনাদের মধ্যে হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন প্রথম।
সুবহানাল্লাহ! আর উনাকেই তূর পাহাড়ে যেতে হয়েছিলো উনার সম্মানিত না’লাইন শরীফ খুলে। কেননা সেখানে
সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার সত্তর হাজার ভাগের এক ভাগ নূর মুবারক যাহির হয়েছিলো।
অন্যদিকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি স্পর্শ মুবারক পেয়েছেন উনার
সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ। আর সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের স্পর্শ মুবারক
পেয়েছে ধূলি-বালি। ফলে ধূলি-বালি এতো পবিত্রতা, ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক
হাছিল করলেন যে, সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রজনীতে স্বয়ং মহান
আল্লাহ পাক উনার মূল সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক সেই সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক
লাভ করার জন্য বেক্বারার-পেরেশান হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও
পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক পেয়ে স্বয়ং সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক ধন্য হলেন, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক হাছিল করলেন, সম্মানিত হলেন, বরকতময় হলেন এবং আরো পবিত্রতা হাছিল করলেন; এমনকি এই কারণে অন্য সকলের উপর ফখর করলেন। সুবহানাল্লাহ! যদি এই বিষয়টি এরূপ
হয়, তাহলে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস
সালাম তিনি যে একাধারে ২৪ বছর ৩ মাস ২৫ দিন সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক-এ থাকলেন, উনার সাথে অবস্থান মুবারক করলেন এবং বেমেছালভাবে নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত
খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিলেন, আর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সরাসরি
স্পর্শ মুবারক-এ যে ধূলি-বালি এসেছেন, সেই সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক উনাদের ফযীলত, মর্যাদা, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক ও পবিত্রতা মুবারক উনার হুকুম কী? অবশ্যই অবশ্যই সেই সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক উনাদের ফযীলত, মর্যাদা, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক ও পবিত্রতা মুবারকও আসমান-যমীন, সম্মানিত কা’বা শরীফ, সম্মানিত
কুরসী শরীফ এবং মহান আল্লাহ পাক উনার আরশে আযীম মুবারক থেকেও লক্ষ-কোটিগুণ বেশি
হবে। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের ধূলি-বালি মুবারক পেয়ে সম্মানিত আরশে আযীম
মুবারক যেরূপ ধন্য হয়েছিলেন, মর্যাদা-মর্তবা
হাছিল করেছিলেন, সম্মানিত হয়েছিলেন, বরকতময় হয়েছিলেন এবং আরো পবিত্রতা হাছিল করেছিলেন, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সরাসরি
স্পর্শ মুবারক পেয়েছেন যে ‘সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক’ সেই সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি
মুবারক পেলেও মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক আরো লক্ষ-কোটি গুণ বেশি
ধন্য হবেন, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক হাছিল
করবেন, সম্মানিত হবেন, বরকতময় হবেন এবং পবিত্রতা হাছিল করবেন। সুবহানাল্লাহ! আরো স্পষ্টভাবে বলতে
গেলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি
মুবারক পেয়ে সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক যেমনিভাবে আরো পবিত্রতা হাছিল করেছেন, সম্মানিত ও বরকতময় হয়েছেন এবং সকলের উপর ফখর করেছেন, তেমনিভাবে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস
সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র না’লাইন শরীফ উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র ধূলি-বালি মুবারক পেলেও
সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক আরো পবিত্রতা হাছিল করবেন, সম্মানিত ও বরকতময় হয়ে যাবেন এবং সকলের উপর ফখর করবেন।
সুবহানাল্লাহ! যদি তাই হয়, তাহলে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত
জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও
কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত কিছুর অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!
এই বিষয়গুলো কিন্তু শুধু যাঁরা
হাক্বীক্বী ঈমানদার একমাত্র উনারাই বুঝবেন, উপলব্ধি করবেন এবং বীনা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বালে মেনে নিবেন। কিন্তু যারা মুনাফিক্ব তারা এই বিষয়গুলো কস্মিনকালেও
বুঝবে না, উপলব্ধি করার তো প্রশ্নোই উঠে না; বরং নানা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে। না‘ঊযুবিল্লাহ!
এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি
ইরশাদ মুবারক করেন,
وَلِلّٰهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُوْلِهٖ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ وَلٰكِنَّ الْمُنٰفِقِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ
অর্থ: “সমস্ত ইজ্জত তথা শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক একমাত্র যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
(এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিতা হযরত আম্মা
আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের, মহাসম্মানিতা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের) জন্য এবং (উনাদের সাথে নিসবত স্থাপন করার
কারণে) মু’মিনীন উনাদের জন্য। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু মুনাফিক্বরা তা জানে
না, বুঝে না।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুনাফিকূন শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র
আয়াত শরীফ ৮)
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা
আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক বর্ণনা আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত
আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার মহাসম্মানিত পূত-পবিত্র জবান মুবারক-এ
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَضَّرَ اللهُ امْرَءًا سَـمِعَ مِنَّا حَدِيْثًا فَبَلَّغَهٗ كَمَا سَـمِعَهٗ فَرُبَّ مُبَلَّغٍ اَوْعٰـى مِنْ سَامِعٍ.
অর্থ: “ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ
ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই ব্যক্তির সম্মানিত চেহারা মুবারক সম্মুজ্জ্বল করুন, (উনাকে সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক, মা’রিফাত-মুহব্বত মুবারক দান করুন,) যিনি আমার থেকে যেরূপ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ
শুনবেন ঠিক হুবহু এরূপ বর্ণনা করবেন। কেননা (পরবর্তীতে) যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব
মুবারক উনাদের কাছে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ মুবারক পৌঁছানো হবে, উনারা যাঁদের থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ
মুবারক শুনবেন, উনাদের থেকে অধিক বেশি
বুঝবেন, উপলব্ধি করবেন, হিফাযত করবেন, অনেক বেশি
সম্মানিত ইলম মুবারক উনার অধিকারী হবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, ছহীহ ইবনে হিব্বান শরীফ, মুসনাদে বাযযার শরীফ, ত্ববারনী শরীফ
ইত্যাদি)
এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ
শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন আহলু বাইতি রসূলিল্লাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা
ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনাকে
মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা সৃষ্টির শুরু থেকে
শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন।
সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার সম্মানিত
ইলম মুবারক উনার মালিক। সুবহানাল্লাহ! তাই উনার একখানা সম্মানিত লক্বব মুবারক
হচ্ছেন ‘ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি’ তথা সৃষ্টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত
সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার মালিক। সুবহানাল্লাহ! তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ
ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার
প্রতিটি বিষয়ে যে বেমেছাল সম্মানিত তাজদীদ মুবারক করে যাচ্ছেন, তা অতুলনীয়, অকল্পনীয়, অভাবনীয় এবং অতি বিস্ময়কর।
সুবহানাল্লাহ! বিশেষ করে তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এতো বেমেছালভাবে প্রকাশ করছেন যে, যার দৃষ্টান্ত কায়িনাতের বুকে আর নেই। আরো বিশেষ করে তিনি
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত
জীবনী মুবারক এবং উনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক অত্যন্ত বেমেছালভাবে আলোচনা করেছেন, প্রকাশ করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম, কোনো মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এরূপ সর্বোত্তমভাবে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা
আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক এবং উনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা মুবারক করেননি। সুবহানাল্লাহ! কেউ কোনো কিতাবে
দেখাতেও পারবে না। এটা উনার এক অনন্য বেমেছাল খুছূছিয়াত মুবারক, এক বেমেছাল বিস্ময়কর মহাসম্মানিত তাজদীদ মুবারক।
সুবহানাল্লাহ! যা উনার বেমেছাল শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ। সুবহানাল্লাহ!
এর মাধ্যম দিয়েই প্রতিভাত হয়ে যে, আহলু
বাইতি রসূলিল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা
ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে যত
মুজাদ্দিদ, ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এসেছেন এবং
ক্বিয়ামত যত মুজাদ্দিদ, ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা আসবেন উনাদের
প্রত্যেকের সাইয়্যিদ। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক রয়েছে, সমস্ত কিছুর অধিকারী হচ্ছেন
তিনি। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত
আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে উনার
শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা মুবারক করার জন্য বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমি যেন, উনার
শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে আলোচনা করি। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি বললাম, (বিনয় প্রকাশার্থে মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম
তিনি বললেন,) আমার তো আপনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা নেই। তখন তিনি আমাকে বললেন, যতটুকু জানা রয়েছে, ততটুকুই যেন আমি আলোচনা মুবারক করি। সুবহানাল্লাহ! তারপর থেকে আমি একধারে ৫টি
জুমুয়াহ শরীফ-এ উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান সম্পর্কে আলোচনা মুবারক করি।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত
আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামতিনি যে বেমেছালভাবে সম্মানিত আলোচনা মুবারক করেছেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে নজীরবিহীন। পৃথিবীর ইতিহাসে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা
আলাইহাস সালাম উনার শানে এরূপ আলোচনা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর আর কেউ করেননি। সুবহানাল্লাহ! মূলত, এটা সৃষ্টি জগতে এক অন্য বেমেছাল ও বিস্ময়কর মহাসম্মানিত
তাজদীদ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদে
আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ
ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক, ছহীহ সমঝ, ইলম-আমল, ইখলাছ মুবারক দান করুন। আমীন!
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের
মধ্যে ঊলা বা প্রথমা, কুবরা বা মূল, বড়, মহান, শ্রেষ্ঠা, মহাসম্মানিত
ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল এবং সম্মানিত দ্বীন
ইসলাম উনারও মূল মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত
আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ঊলা বা প্রথমা, কুবরা বা মূল, বড়, মহান, শ্রেষ্ঠা।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা
ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক
করেন,
“সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রত্যেকের মূল। সুবহানাল্লাহ! আমার নিকট
মনে হয়, যেন তিনি সম্পূর্ণ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে পরিপূর্ণরূপে
আঁকড়িয়ে ধরে রেখেছেন। উনার সম্মানার্থেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম টিকে রয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা
ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে
উনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা মুবারক করার জন্য বলেছেন।
তিনি বলেছেন, আমি যেন, উনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক সম্পর্কে আলোচনা করি। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি বললাম, (বিনয় প্রকাশার্থে মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম
খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি বললেন,) আমার তো আপনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা নেই। তখন তিনি আমাকে বললেন, যতটুকু জানা রয়েছে, ততটুকুই যেন আমি আলোচনা মুবারক করি। সুবহানাল্লাহ! তারপর থেকে আমি একধারে ৫টি
জুমুয়াহ শরীফ-এ উনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
সম্পর্কে আলোচনা মুবারক করি।” সুবহানাল্লাহ!
মূলত, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের পর
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত
আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সর্বোত্তম ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেছেন, উনার হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের
মধ্যে ঊলা বা প্রথমা
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের
মধ্যে ‘ঊলা বা প্রথমা’। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের
মধ্যে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকেই
সর্বপ্রথম উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বেমেছালভাবে একাধারে ২৪ বছর ৪ মাস ২৫ দিন নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত
খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি যতদিন দুনিয়ার যমীনে
সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেছেন, ততদিন
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্য
কোনো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে গ্রহণ করেননি। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا ذَكَرَ اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةَ الْكُبْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ اَثْنٰـى عَلَيْهَا فَاَحْسَنَ الثَّنَاءَ قَالَتْ فَغِرْتُ يَوْمًا فَقُلْتُ مَا اَكْثَرَ مَا تَذْكُرُهَا حَـمْرَاءَ الشِّدْقِ قَدْ اَبْدَلَكَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِـهَا خَيْرًا مِّنْهَا قَالَ مَا اَبْدَلَنِـىَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ خَيْرًا مِّنْهَا قَدْ اٰمَنَتْ بِـىْ اِذْ كَفَرَ بِـىَ النَّاسُ وَصَدَّقَتْنِـىْ اِذْ كَذَّبَنِـىَ النَّاسُ وَوَاسَتْنِـىْ بـِمَالـِهَا اِذْ حَرَمَنِـىَ النَّاسُ وَرَزَقَنِـىَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ وَلَدَهَا اِذْ حَرَمَنِـىْ اَوْلَادَ النِّسَاءِ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা
হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত
আলোচনা মুবারক করতেন, উনার সম্মানিত
ছানা-ছিফত মুবারক করতেন, তখন উনার
সর্বোত্তম ছানা-ছিফত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! (এতো অধিক এবং সর্বোত্তম
ছানা-ছিফত মুবারক করতেন, যেটা অন্য কোনো
উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ বা অন্য
কারো সম্মানিত শান মুবারক-এ করতেন না। সুবহানাল্লাহ!) তিনি বলেন, একদিন আমি বিস্ময় প্রকাশ করলাম, (উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য) আমি বললাম, উনার এতো সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক, এতো সম্মানিত প্রশংসা মুবারক। তিনি তো অতীত হয়ে গেছেন এবং তিনি তো অনেক বয়স্কা
ছিলেন, উনার সম্মানিত বয়স মুবারক তো অনেক হয়েছিলেন। মহান আল্লাহ
পাক তিনি তো এখন আপনাকে উনার চেয়ে উত্তম অনেক উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে
হাদিয়া মুবারক করেছেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, উনার থেকে উত্তম কোনো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে
হাদিয়া মুবারক করেননি। সুবহানাল্লাহ! মানুষ যখন আমাকে অস্বীকার করেছে, সম্মানিত ঈমান আনেনি, তখন তিনি সর্বপ্রথম আমার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ!
মানুষ যখন আমার বিষয় মুবারকগুলো সত্যারোপ করতে পারেনি, তিনি কিন্তু আমাকে সত্যারোপ করেছেন, আমাকে তাছদীক্ব করেছেন, আমার বিষয় মুবারকগুলো বিশ্বাস করেছেন, সত্য বলে গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মানুষ যখন আমার কোনো সম্মানিত খিদমত
মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়নি, তখন তিনি
উনার সমস্ত মাল-সম্পদ মুবারক দিয়ে আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক
দিয়েছেন, আমাকে সান্তনা মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর মহান
আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত
অন্য কোনো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মাধ্যম দিয়ে আমার মহাসম্মানিত
ও মহাপবিত্র বরকতময় নসব মুবারক জারি করেননি, আমাকে মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে হাদিয়া
মুবারক করেননি। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি একমাত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যম দিয়েই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসব মুবারক
জারি করেছেন, আমাকে মহাসম্মানিত আওলাদ
আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত হাদিয়া মুবারক
করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ
শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ مَا غِرْتُ عَلـٰى اَحَدٍ مِّنْ نِّسَاءِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا غِرْتُ عَلـٰى اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةَ الْكُبْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ وَمَا رَاَيْتُهَا وَلٰكِنْ كَانَ يُكْثِرُ ذِكْرَهَا وَرُبـَّمَا ذَبَحَ الشَّاةَ ثُـمَّ يُقَطِّعُهَا اَعْضَاءً ثُـمَّ يَبْعَثُهَا فِـىْ صَدَائِقِ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةَ الْكُبْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ فَرُبـَّمَا قُلْتُ لَهٗ كَاَنَّهٗ لَـمْ يَكُنْ فِى الدُّنْيَا امْرَاَةٌ اِلَّا اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةَ الْكُبْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ فَيَقُوْلُ اِنَّهَا كَانَتْ وَكَانَتْ وَكَانَ لِـىْ مِنْهَا وَلَدٌ
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা
হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে
আমার যতটা বিস্ময় হয়, আমি যতটা বিস্ময়
প্রকাশ করতাম, ততটা বিস্ময় প্রকাশ নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপর কোনো
উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রতি আমি করতাম না। অথচ উনাকে
আমি দেখিনি। কিন্তু (বিস্ময় প্রকাশ করার কারণ ছিলো এই যে, সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক
নেয়ার পরেও) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল
মুরসালীন, খ¦াতামুন
নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
সবসময় দায়িমীভাবে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কথা
তথা উনার খুছূছিয়াত-বৈশিষ্ট্য মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে আলোচনা মুবারক করতেন।
সুবহানাল্লাহ! প্রায় সময় যখন খাসী যবাই করতেন, তখন সেই খাসীর কিছু অংশ মুবারক কেটে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার যারা মুহব্বতের পাত্রী ছিলেন, উনার যারা খিদমতের আনজাম দিতেন উনাদের কাছে (হাদিয়াস্বরূপ)
পাঠিয়ে দিতেন। সুবহানাল্লাহ! আমি কখনও কখনও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতাম, ‘মনে হয় যেন যমীনে একমাত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা
নেই।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
জবাবে ইরশাদ মুবারক করতেন, “নিশ্চয়ই তিনি এরূপ, এরূপই ছিলেন।
সুবহানাল্লাহ! আর উনার থেকেই আমার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও
মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক এনেছেন এবং
উনার মাধ্যম দিয়েই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসব মুবারক দুনিয়ার যমীনে
জারি থাকবেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
উপরোক্ত দুইখানা মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্য থেকে প্রথমোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ
শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি স্পষ্টভাবে ইরশাদ মুবারক করেছেন,
مَا اَبْدَلَنِـىَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ خَيْرًا مِّنْهَا
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল
মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে উত্তম কোনো উম্মুল
মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে আমাকে হাদিয়া মুবারক করেননি।” সুবহানাল্লাহ!
দ্বিতীয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
فَرُبـَّمَا قُلْتُ لَهٗ كَاَنَّهٗ لَـمْ يَكُنْ فِى الدُّنْيَا امْرَاَةٌ اِلَّا اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةَ الْكُبْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ فَيَقُوْلُ اِنَّهَا كَانَتْ وَكَانَتْ وَكَانَ لِـىْ مِنْهَا وَلَدٌ
অর্থ: “(উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা
আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,) আমি কখনও কখনও
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতাম, ‘মনে হয় যেন যমীনে একমাত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা
নেই।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
জবাবে ইরশাদ মুবারক করতেন, নিশ্চয়ই তিনি
এরূপ, এরূপই ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর উনার থেকেই আমার মহাসম্মানিত
আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সম্মানিত
তাশরীফ মুবারক এনেছেন এবং উনার মাধ্যম দিয়েই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
নসব মুবারক দুনিয়ার যমীনে জারি থাকবেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
সুতরাং উপরোক্ত মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের থেকে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে কুবরা তথা মূল, বড়, মহান, শ্রেষ্ঠা। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সকলের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
আমভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের
ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক
সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اَلنَّبِـىُّ اَوْلـٰى بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُهۤٗ اُمَّهٰتُهُمْ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মু’মিন উনাদের নিকট তাদের জানের
চেয়ে অধিক প্রিয় এবং উনার মহাসম্মানিতা ‘আযওয়াজুম মুত্বহহারাত’ (হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা)
হচ্ছেন সমস্ত মু’মিনীনদের মাতা।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ: ৬)
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, মু’মিন কারা? মূলত, একমাত্র যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম
উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম
কায়িনাতবাসী প্রত্যেকেই মু’মিন। উনারা প্রত্যেকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ!
কোনো হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক দেয়া হয়নি, কোনো হযরত রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত রিসালাত
মুবারক দেয়া হয়নি; যতক্ষণ পর্যন্ত
উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক না এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান
আনার পরেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে
সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও সম্মানিত রিসালাত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। তাহলে
এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, হযরত
উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন একমাত্র যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা
ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলেরই মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস
সালাম। সুবহানাল্লাহ!
আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ
শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন
اِنَّ الْـجَنَّةَ تَـحْتَ اَقْدَامِ اُمَّهَاتِكُمْ
অর্থ: “নিশ্চয়ই তোমাদের সম্মানিত জন্নাত
মুবারক হচ্ছে তোমাদের মায়ের পায়ের নিচে।” সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র কালামুল্লাহ
শরীফ অনুযায়ী হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা একমাত্র যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা
ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলেরই মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস
সালাম। সুবহানাল্লাহ! আর বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ অনুযায়ী যিনি
খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা
ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলেরই সম্মানিত জান্নাত মুবারক হযরত
উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম
মুবারক উনাদের নিচে। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা
হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিকট সন্তানতুল্য। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এক কথায়, উনারা শুধু যিনি খ¦ালিক মালিক রব
মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক রয়েছেন, সমস্ত কিছুর অধিকারিণী
হচ্ছেন উনারা। সুবাহানাল্লাহ! উনারা সমস্ত কিছুর মূল এবং মালিক। সুবহানাল্লাহ!
উনারা হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস
সালাম অর্থাৎ উনারা উনাদেরও মূল এবং মালিক। সুবহানাল্লাহ! উনারা কারো মুহতাজ নন; বরং সম্মানিত নুবুওওয়াত-রিসালাত মুবারকসহ সমস্ত হযরত নবী ও
রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের মুহতাজ। সুবহানাল্লাহ! উনাদের কারণে সম্মানিত
নুবুওওয়াত-রিসালাত মুবারকসহ সমস্ত মাক্বামই সম্মানিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ
আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত
মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত
রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা
আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা
সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত
মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত
কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা
বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে
মানছূর ৬/৬০৬, ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত
আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক
ইত্যাদি সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ তথা
বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! উনাদের কারণেই
সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত
রিসালাত মুবারক, সমস্ত ফেরেশতা আলাইহিমুস
সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং
সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!
তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত বেমেছাল, তা এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত
আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক হচ্ছেন
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! আবার উনাদের মধ্যে
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন
ঊলা তথা প্রথমা, কুবরা তথা মূল, বড়, মহান, শ্রেষ্ঠা। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত
জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের
চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম
উনাদেরও মূল:
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের
মূল এবং তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও
মূল সুবহানাল্লাহ! সেটাই আমরা দেখতে পাই ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্য সকল মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম
এবং মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক এনেছেন এবং একমাত্র উনার
মাধ্যম দিয়েই ক্বিয়ামত পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসব মুবারক জারি থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!
সেটাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,
وَرَزَقَنِـىَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ وَلَدَهَا اِذْ حَرَمَنِـىْ اَوْلَادَ النِّسَاءِ
অর্থ: “আর মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল
মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উম্মুল
মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মাধ্যম দিয়ে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
নসব মুবারক জারি করেননি, আমাকে
মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে হাদিয়া
মুবারক করেননি। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি একমাত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যম দিয়েই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসব মুবারক
জারি করেছেন, আমাকে মহাসম্মানিত আওলাদ
আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত হাদিয়া মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ
শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ
শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
وَكَانَ لِـىْ مِنْهَا وَلَدٌ.
অর্থ: “আর উনার থেকেই আমার মহাসম্মানিত
আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক এনেছেন এবং
উনার মাধ্যমেই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসব মুবারক দুনিয়ার যমীনে জারি
থাকবেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আওলাদ হচ্ছেন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রবি‘য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম
তিনি। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রাবি‘য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম
উনার দুই জন মহাসম্মানিত আওলাদ হচ্ছেন ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি এবং ইমামুছ ছালিছ
মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম
হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! আর উনাদের মাধ্যম দিয়েই নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র বরকতময় নসব মুবারক ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের
মাধ্যম দিয়েই ক্বিয়ামত পর্যন্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ
আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা
দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিবেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরও
মূল এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও মূল।
সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বেমেছাল, যা জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী
কখনো ভাষায় প্রকাশ করতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পুরো সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে পরিপূর্ণরূপে আঁকড়িয়ে ধরে
রেখেছেন। উনার সম্মানার্থেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম টিকে রয়েছেন
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিই মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি জগতে সর্বপ্রথম সম্মানিত ইসলাম
ও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
اَوَّلُ مَنْ اَسْلَمَ وَاٰمَنَ فِـىْ خَلْقِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ لَـمْ يَتَقَدَّمْهَا رَجُلٌ وَّلَا امْرَاَةٌ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةُ الْكُبْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিই মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি জগতে সর্বপ্রথম সম্মানিত ইসলাম
ও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার পূর্বে কোনো পুরুষ মহিলা
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেনি এবং সম্মানিত ঈমান প্রকাশ করেনি।” সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ رَبِيْعَةَ السَّعْدِىِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ اَتَيْتُ حَضْرَتْ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَهُوَ فِـىْ مَسْجِدِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعْتُهٗ يَقُوْلُ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةُ الْكُبْرٰى بِنْتُ خُوَيْلِدٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ سَابِقَةُ نِسَاءِ الْعَالَمِيْنَ اِلَـى الْاِيْـمَانِ بِاللهِ وَبِـمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “হযরত রবী‘আহ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা
করেন। আমি হযরত হুযায়ফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট আসলাম। তখন তিনি সম্মানিত
ও পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করতেছিলেন। আমি উনাকে বলতে শুনেছি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহান
আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
অর্থাৎ উনাদের প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ পাক
উনার কায়িনাতে যত মহিলা রয়েছেন সকলের অগ্রগামী। অথাৎ তিনি সকলের পূর্বে সম্মানিত
ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৩/২০৩, আল ফাতহুল কাবীর ২/৮০ ইত্যাদি)
কাজেই উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিই সর্বপ্রথম সম্মানিত ইসলাম ও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ
করেছেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে বেমেছাল অবদান
মুবারক রেখেছেন। যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানার্থেই
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম টিকে রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম
উনার প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে যে অঢেল ধন-সম্পদ মুবারক ব্যয় করেছেন, সেটা বেমেছাল, তুলনাহীন। কুরাইশ গোত্র অনেক বড় গোত্র। সমস্ত কুরাইশদের যত সম্পদ ছিলো, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার এককভাবে
তার চেয়ে বেশি সম্পদ মুবারক ছিলো। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার সমস্ত সম্পদ মুবারক নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য ব্যয় করেছেন।
সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
مَا اَبْدَلَنِـىَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ خَيْرًا مِّنْهَا قَدْ اٰمَنَتْ بِـىْ اِذْ كَفَرَ بِـىَ النَّاسُ وَصَدَّقَتْنِـىْ اِذْ كَذَّبَنِـىَ النَّاسُ وَوَاسَتْنِـىْ بـِمَالـِهَا اِذْ حَرَمَنِـىَ النَّاسُ وَرَزَقَنِـىَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ وَلَدَهَا اِذْ حَرَمَنِـىْ اَوْلَادَ النِّسَاءِ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে উত্তম কোনো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে হাদিয়া মুবারক করেননি। সুবহানাল্লাহ! মানুষ যখন আমাকে অস্বীকার
করেছে, সম্মানিত ঈমান আনেনি, তখন তিনি সর্বপ্রথম আমার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ!
মানুষ যখন আমার বিষয় মুবারকগুলো সত্যারোপ করতে পারেনি, তিনি কিন্তু আমাকে সত্যারোপ করেছেন, আমাকে তাছদীক্ব করেছেন, আমার বিষয় মুবারকগুলো বিশ্বাস করেছেন, সত্য বলে গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মানুষ যখন আমার কোনো সম্মানিত খিদমত
মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়নি, তখন তিনি
উনার সমস্ত মাল-সম্পদ মুবারক দিয়ে আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক
দিয়েছেন, আমাকে সান্তনা মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর মহান
আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত
অন্য কোনো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মাধ্যম দিয়ে আমার মহাসম্মানিত
ও মহাপবিত্র বরকতময় নসব মুবারক জারি করেননি, আমাকে মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে হাদিয়া
মুবারক করেননি। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি একমাত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যম দিয়েই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসব মুবারক
জারি করেছেন, আমাকে মহাসম্মানিত আওলাদ
আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত হাদিয়া মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ
শরীফ)
সুতরাং উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যম দিয়েই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসব মুবারক ক্বিয়ামত পর্যন্ত
জারি থাকবেন, ক্বিয়ামত পর্যন্ত
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং আওলাদে
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিবেন।
সুবহানাল্লাহ!
আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ
শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَـلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلنُّجُوْمُ اَمَانٌ لِّاَهْلِ السَّمَاءِ اِذَا ذَهَبَتِ النُّجُوْمُ ذَهَبَ اَهْلُ السَّمَاءِ وَاَهْلُ بَيْتِـىْ اَمَانٌ لِّاَهْلِ الْاَرْضِ فَاِذَا ذَهَبَ اَهْلُ بَيْـتِـىْ ذَهَبَ اَهْلُ الْاَرْضِ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু
ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তারকারাজি আসমানবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। যখন তারকারাজি বিদায় নিবে, তখন আসমানবাসীরাও ধ্বংস হয়ে যাবে। আর আমার মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন যমীনবাসীর জন্য, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। যখন আমার
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বিদায় নিবেন, তখন সমস্ত যমীনবাসী, সমস্ত কায়িনাতবাসী ধ্বংস হয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবাহ ২/৬৭১, আছ ছওয়ায়িকুল মুহরিক্বহ ২/৬৭৫, আল মু’জাম ১/৪০৪, মিরক্বাত
শরীফ ৯/৩৯৮৮, যাখায়িরুল ‘উক্ববাহ ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭)
অপর বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ حَضْرَتْ سَلَمَةَ بْنِ الْاَكْوَعِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلنُّجُوْمُ اَمَانٌ لِّاَهْلِ السَّمَاءِ وَاَهْلُ بَيْتِـىْ اَمَانٌ لِّاُمَّتِـىْ.
অর্থ: “হযরত সালামাহ ইবনে আকওয়া’ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তারকারাজি হচ্ছে আসমানবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। আর আমার
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন আমার
সমস্ত উম্মতের জন্য নিরাপত্তাদানকারী।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, মুসাদ্দাদ, আবূ ইয়া’লা, হাকিম, তিরমিযী, ত্ববারনী, ইবনে ‘আসাকির, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৬, যাখায়িরুল ‘উক্ববাহ ১/১৭)
কাজেই এখান থেকে দিবালোকের ন্যায়
অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উসীলায়, উনাদের মাধ্যমে, উনাদের সম্মানার্থে ক্বিয়ামত অবধি সারা পৃথিবী, সারা কায়িনাত, সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী, সমস্ত উম্মত ধ্বংস হওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে, নিরাপত্তা লাভ করবে এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম দুনিয়ার যমীনে ক্বিয়ামত পর্যন্ত
টিকে থাকবে। সুবহানাল্লাহ! আর সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ
আলাইহিমুস সালাম উনাদেরই মূল হচ্ছেন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিই সম্পূর্ণ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে পরিপূর্ণভাবে আঁকড়িয়ে
ধরে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানার্থেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম টিকে রয়েছেন এবং
ক্বিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!
যেমন বর্তমানে সম্মানিত দ্বীন
ইসলাম টিকে রয়েছেন মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি
রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার এবং
উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের
সম্মানার্থে। সুবহানাল্লাহ! আর উনারা হচ্ছেন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বংশধর। সুবহানাল্লাহ! এভাবেই উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে ক্বিয়ামত
পর্যন্ত সম্মানিত দ্বীন ইসলাম টিকে থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত
জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও
কল্পনার উর্ধ্বে। যা ভাষায় প্রকাশ করা আদৌ সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! তবে এক কথায়
তিনি শুধু যিনি খ¦ালিক মালিক রব
মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত
শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি।
সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক
আইয়্যামে জাহিলিয়াতের যুগেও
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সারা
আরবে, সারা পৃথিবীতে ত্বাহিরাহ, ত্বইয়িবাহ সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ পরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
আত ত্বাহিরা সম্মানিত লক্বব
মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন পূত-পবিত্রা, মহাপবিত্রা, পূত-পবিত্রতা দানকারিনী।
সুবহানাল্লাহ!
আর আত ত্বইয়িবাহ সম্মানিত লক্বব
মুবারক উনারও প্রায় কাছাকাছি অর্থ মুবারকÑ পূত-পবিত্রা, মহাপবিত্রা, পূত-পবিত্রতাদানকারিনী, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক উনাদের অধিকারিণী, মালিকাহ।
সুবহানাল্লাহ!
আইয়্যামে জাহিলিয়াতের যুগে যখন
মানুষ হারাম-নাজায়িয ও কুফরী-শিরকীমূলক কার্যকলাপে পরিপূর্ণরূপে নিমজ্জিত ছিলো, তখন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সারা
আরবে, সারা পৃথিবীতে পূত-পবিত্রা, মহাপবিত্রা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে তিনি কতো বেমেছাল
পবিত্রতা মুবারক উনার মালিকাহ তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! আর
তিনি এতো বেমেছাল পবিত্রতা মুবারক উনার মালিকাহ হবেন, এটাইতো স্বাভাবিক। কেননা তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল। সুবহানাল্লাহ! আর
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্রতা
মুবারক সম্পর্কে স্বয়ং যিনি খ¦ালিক মালিক রব
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيْرًا.
অর্থ: “হে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত
আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! নিশ্চয়ইমহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত
প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে
পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র
সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ
উনার তাফসীরে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
هُمْ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنَ السُّوْءِ وَاخْتَصَّهُمْ بِرَحْمَتِهٖ
অর্থ: “উনারা হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সমস্ত প্রকার
অপবিত্রতা ও পাপ থেকে পূত-পবিত্র রেখেছেন এবং উনার সম্মানিত রহমত মুবারক দ্বারা খাছ
করে নিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
فَاَنَا وَاَهْلُ بَيْتِـىْ مُطَهَّرُوْنَ مِنَ الذُّنُوْبِ.
অর্থ: “আমি এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম আমরা সকলেই যুনূব তথা সমস্ত প্রকার ছগীরা-কবীরা
এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পূত-পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ! (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বায়হাক্বী, শিফা ১/৩২৫, সীরাতে হালাবিয়্যাহ ১/৪২, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ১/৪৯৮, খছাইছুল কুবরা ১/৬৬, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৩৫, তাফসীরে দুররে মানছূর লিস সুয়ূত্বী ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ
শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ
আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত
মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত
রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা
আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা
সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত
মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত
কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা
বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে
মানছূর ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম
৯/৩১৩৩)
ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল
আউওয়ালীন ইলাল আখিরীন, আহলু বাইতি
রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত
আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আলোচ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে- اَهْلُ بَيْتٍ نَـحْنُ (আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ
আলাইহিমুস সালাম) বলেÑ নূরে মুজাসসাম
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে উনার নিজের অন্তর্ভুক্ত
করে নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর طَهَّرَهُمُ اللهُ -
মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু
বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থ হলো- মহান
আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম
উনাদেরকে ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস
সালাম উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুহতাজ ও উনাদের সম্মানার্থে উনারা সম্মানিত এবং
উনাদের প্রতিই উনারা দায়েমীভাবে রুজু। সুবহানাল্লাহ! ফলে উনারা সমস্ত কিছু থেকেই
বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! কাজেই সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক
ইত্যাদি বরকতময় নিয়ামত মুবারক উনাদের প্রতি রুজু হওয়ার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন সুযোগ নেই। অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ!
সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ
আলাইহিমুস সালাম উনাদের কারণেই সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত
হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ
মুবারক করেন,
اَللهُ الصَّمَدُ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি ছমাদ তথা
বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইখলাছ শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২)
ইমামুল মুফাসসিরীন মিনাল আউওয়ালীন
ইলাল আখিরীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে
আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ
ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন সমস্ত মাখলূকাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! ঠিক তেমনিভাবে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একমাত্র
যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত
মাখলূকাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে ছমাদ তথা
বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! আর ঠিক একইভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাও যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা
ব্যতীত সমস্ত কায়িনাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে
ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! উনারা সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, বিভিন্ন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম উনার খনি মুবারক
ইত্যাদি সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ তথা
বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক এক কথায় উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার
হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন। এছাড়া যত
শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা।
সুবহানাল্লাহ! উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের
মুহতাজ। এছাড়া কায়িনাতের অন্য কারো মুহতাজ নন; বরং কায়িনাতের সকলেই উনাদের মুহতাজ। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত বেমেছাল, তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! যদি তাই হয়ে
থাকে, তাহলে যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ
আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল, সেই
সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত
পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম
কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। যা কস্মিনকালেও ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব
নয়। সুবহানাল্লাহ! তবে এক কথায় তিনি শুধু যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত কিছুর অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ مَا غِرْتُ عَلـٰى اَحَدٍ مِّنْ نِّسَاءِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا غِرْتُ عَلـٰى اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةَ الْكُبْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ وَمَا رَاَيْتُهَا وَلٰكِنْ كَانَ يُكْثِرُ ذِكْرَهَا وَرُبـَّمَا ذَبَحَ الشَّاةَ ثُـمَّ يُقَطِّعُهَا اَعْضَاءً ثُـمَّ يَبْعَثُهَا فِـىْ صَدَائِقِ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةَ الْكُبْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ فَرُبـَّمَا قُلْتُ لَهٗ كَاَنَّهٗ لَـمْ يَكُنْ فِى الدُّنْيَا امْرَاَةٌ اِلَّا اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الْاُوْلـٰى سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ خَدِيـْجَةَ الْكُبْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ فَيَقُوْلُ اِنَّهَا كَانَتْ وَكَانَتْ وَكَانَ لِـىْ مِنْهَا وَلَدٌ
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা
হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে
আমার যতটা বিস্ময় হয়, আমি যতটা বিস্ময়
প্রকাশ করতাম, ততটা বিস্ময় প্রকাশ নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপর কোনো
উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রতি আমি করতাম না। অথচ উনাকে
আমি দেখিনি। কিন্তু (বিস্ময় প্রকাশ করার কারণ ছিলো এই যে, সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক
নেয়ার পরেও) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল
মুরসালীন, খ¦াতামুন
নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
সবসময় দায়িমীভাবে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কথা
তথা উনার খুছূছিয়াত-বৈশিষ্ট্য মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে আলোচনা মুবারক করতেন।
সুবহানাল্লাহ! প্রায় সময় যখন খাসী যবাই করতেন, তখন সেই খাসীর কিছু অংশ মুবারক কেটে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার যারা মুহব্বতের পাত্রী ছিলেন, উনার যারা খিদমতের আনজাম দিতেন উনাদের কাছে (হাদিয়াস্বরূপ)
পাঠিয়ে দিতেন। সুবহানাল্লাহ! আমি কখনও কখনও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতাম, ‘মনে হয় যেন যমীনে একমাত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা
নেই।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
জবাবে ইরশাদ মুবারক করতেন, “নিশ্চয়ই তিনি এরূপ, এরূপই ছিলেন।
সুবহানাল্লাহ! আর উনার থেকেই আমার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও
মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক এনেছেন এবং
উনার মাধ্যম দিয়েই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসব মুবারক দুনিয়ার যমীনে
জারি থাকবেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম
ও মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট আট (৮) জন। উনাদের মধ্যে
৪ জন আবনা তথা ছেলে আওলাদ আলাইহিমুস সালাম এবং ৪ জন বানাত তথা মেয়ে আওলাদ
আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মধ্যে ৭ জনই উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক
প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ
করার ধারাবাহিকক্রম মুবারক অনুযায়ী উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসম বা
নাম মুবারক হচ্ছেন-
১. ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুল আউওয়াল (হযরত ক্বাসিম) আলাইহিস
সালাম,
২. বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা (হযরত যাইনাব) আলাইহাস সালাম,
৩. ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছানী (হযরত ত্বইয়্যিব) আলাইহিস
সালাম,
৪. ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছ (হযরত ত্বাহির) আলাইহিস সালাম,
৫. বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ (হযরত রুক্বইয়্যাহ)
আলাইহাস সালাম,
৬. বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ (হযরত উম্মু কুলছূম)
আলাইহাস সালাম এবং
৭. বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রাবি‘য়াহ হযরত যাহরা (হযরত ফাত্বিমা)
আলাইহাস সালাম । সুবহানাল্লাহ!
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুল আউওয়াল
আলাইহিস সালাম
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত
২রা রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা’ শরীফ সকালে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক
প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় সাড়ে ২৭
বছর। আর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত
বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় সাড়ে ৪২ বছর। তিনি দুনিয়ার যমীনে ২২মাস সম্মানিত অবস্থান
মুবারক করেন। অতঃপর সম্মানিত ২রা রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ভোর
রাতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক প্রায় ২৯ বছর ৪ মাস।
সুবহানাল্লাহ! আর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত
বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ৪৪ বছর ৪ মাস। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে তিনিই সর্বাধিক সময় দুনিয়ার যমীনে
সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি ইবনু
রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুল আউওয়াল
আলাইহিস সালাম উনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের
প্রায় ১১ বছর পূর্বে সম্মানিত ২১শে জুমাদাল উখরা শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ বা’দ ফজর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স
মুবারক ২৯ বৎসর পার হয়ে ৩০ বৎসর চলতে ছিলেন। আর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত
কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ৪৪ বৎসর পার হয়ে ৪৫ বৎসর চলতে ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ৮ম হিজরী সনের সম্মানিত ৮ই মুহাররমুল হারাম
শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ ইশরাকের ওয়াক্তে সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ-এ
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি ৩০ বছর ৬ মাস ১৭ দিন দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। হযরত আবনাউ
রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সকলের মধ্যে তিনিই সর্বাধিক সময় দুনিয়ার
যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছানী
আলাইহিস সালাম
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত
২রা সাইয়্যিদু সায়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) লাইলাতুল
খমীস শরীফ শেষ রাতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে মাত্র ৭ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। অতঃপর
৮ই সাইয়্যিদু সায়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুল
আরবিয়া’ শরীফ বা’দ আছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক
প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন প্রায়
৩১ বছর। সুবহানাল্লাহ! আর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত
বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ৪৬ বছর। হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনাদের এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সকলের মধ্যে
তিনিই সবচেয়ে কম সময় দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছ
আলাইহিস সালাম
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত
৪ঠা সাইয়্যিদু সায়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুল
আরবিয়া’ শরীফ সকালে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি দুনিয়ার যমীনে মাত্র ৮ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। অতঃপর তিনি সম্মানিত
১২ই সাইয়্যিদু সায়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুল
খমীস শরীফ চাশতের সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ
করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ৩২ বছর। সুবহানাল্লাহ!
আর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত
বয়স মুবারক প্রায় ৪৭ বছর।
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ
ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার প্রায় ৭ বছর
পূর্বে সম্মানিত ৩রা রবী‘উছ ছানী শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ সকালে মহাসম্মানিত
ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহনাল্লাহ! দুনিয়াবী দৃষ্টিতে
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত
বয়স মুবারক ছিলেন ৩৩ বছর। আর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস
সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৪৮ বছর। তিনি ২য় হিজরী সনের ১৮ই রমাদ্বান
শরীফ লাইলাতুস সাব্ত শরীফ, রাতের শেষার্ধে
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি ২১ বছর ৫ মাস ১৫ দিন দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন।
সুবহানাল্লাহ!
বিনতু রসূলিল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ
ছালিছাহ আলাইহাস সালাম
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের প্রায় ৫ বছর পূর্বে
সম্মানিত ১১ই জুমাদাল ঊলা শরীফ লাইলাতুস সাবত শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স
মুবারক ছিলেন ৩৫ বছর। আর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত
বয়স মুবারক ছিলেন ৫০ বছর। সুবহানাল্লাহ! তিনি ৯ম হিজরী সনের ৬ই রমাদ্বান শরীফ
ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা’দ ফজর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ
করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ২৬ বছর ৩ মাস ২৫ দিন দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক
করেন। সুবহানাল্লাহ!
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রবি‘য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম
বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রবি‘য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম
তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের প্রায় ৩ বছর পূর্বে
২০শে জুমাদাল উখরা শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ সুবহে ছাদিক্ব উনার সময় মহাসম্মানিত ও
মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে
মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স
মুবারক ৩৭ বছর। আর উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত
বয়স মুবারক ৫২ বছর। তিনি সম্মানিত ১১ হিজরী সনের সম্মানিত ৩রা রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল
ইছনাইনিল আ’যীম শরীফ বা’দ আছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ
করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ২৬ বছর ২ মাস ১৩ দিন দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক
করেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত জামালী ত্ববী‘য়ত মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত
বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত জামালী
ত্ববী‘য়ত মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম
তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার প্রায় অনুরূপ সম্মানিত জামালী ত্ববী‘য়ত মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন
সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা
আন নূরুর রবি‘য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ত্ববীয়ত মুবারক
উনার মধ্যে সম্মানিত জামালী ও সম্মানিত জালালী উভয় প্রকার শান মুবারক মিশ্রিত
ছিলেন, তবে সম্মানিত জালালী শান মুবারক উনার কিছুটা প্রাধান্য
ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার
সম্মানিত ত্ববীয়ত মুবারক উনার মধ্যে সম্মানিত জামালী ও সম্মানিত জালালী উভয় প্রকার
শান মুবারক মিশ্রিত ছিলেন, তবে সম্মানিত
জালালী ত্ববীয়ত মুবারক উনার শান মুবারক বেশি প্রকাশ পেতেন।” সুবহানাল্লাহ!
উপরে যা বর্ণিত হলো, তা আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত
আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার এক অভূতপূর্ব, বেমেছাল এবং বিস্ময়কর মহাসম্মানিত তাজদীদ মুবারক।
সুবহানাল্লাহ! এগুলো পৃথিবীর কোন কিতাবে বর্ণিত নেই। সুবহানাল্লাহ! এখান থেকেই
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত
আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান
মুবারক এবং শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! তিনি
হচ্ছেন পৃথিবীর ইতিহাসে যত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এসেছেন এবং
ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা আসবেন, উনাদের প্রত্যেকের সাইয়্যিদ। সুবহানাল্লাহ! এক কথায়, তিনি শুধু যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত
শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত কিছুর অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!

0 Comments:
Post a Comment