১১ হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারের সঠিক তারিখ প্রসঙ্গে

 


১১ হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারের সঠিক তারিখ প্রসঙ্গে

 ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ আমাদের কাছে অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ এবং বরকত, রহমত, সাকীনা হাছিলের দিন। হাদিয়া মুবারক দেয়া এবং দান-ছদক্বা করার দিন। ‘আখির’ অর্থ শেষ এবং ‘চাহার শোম্বাহ’ অর্থ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)। 

হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)কে পবিত্র ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ শরীফ বলা হয়। কারণ এগারো হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) দিন আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বেশ কিছু দিন মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করার পর এই দিনে ছিহহাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। ফলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এই দিনে খুশি মুবারক হয়ে সাধ্যমতো হাদিয়া মুবারক দিয়েছিলেন। কিন্তু চাঁদের গণনা অনুযায়ী ‘শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার ২৯ তারিখে ছিলো, নাকি ৩০ তারিখে ছিলো’ তা আমাদের আলোচ্য বিষয়।

এখানে প্রথমেই যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে, তা হচ্ছে- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিশেষ দিনগুলোর ক্ষেত্রে যে তারিখ পাওয়া যায়, তার সাথে সঙ্গতি রেখেই তারিখ বিশ্লেষণ করতে হবে। যেমন, ১০ম হিজরী সনের পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার আরাফার পবিত্র দিন (৯ তারিখ) ছিলো জুমুয়াবার। 

আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার তারিখ পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার। আবার পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ বার ছিলো আরবিয়া (বুধবার)। আরবিয়া বা বুধবারে পবিত্র ছফর শরীফ মাস শেষ না হলে পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার হবে না। অবশ্যই পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস, খামীস বা বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছিলো। 

এখন প্রশ্ন, সেই ১১ হিজরী সন উনার পবিত্র ছফর শরীফ মাস ২৯ দিনে, নাকি ৩০ দিনে হয়েছিলো- তা নির্ণয় করতে হলে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে প্রাপ্ত তারিখগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে গণনা করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ১০ হিজরী সনের পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস থেকে গণনা করলে আমাদের হিসাব মিলাতে সুবিধা হবে। ১০ হিজরী সনের পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার আমাবস্যা সংঘটিত হয়েছিলো ২৫শে ফেব্রুয়ারি ৬৩২ ঈসায়ী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা বা মঙ্গলবার।

চাঁদ তালাশ করা হয়েছিলো আরবিয়া (বুধবার)। সেদিন চাঁদের বয়স ছিলো ১৮ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট, উচ্চতা ৭ ডিগ্রি ২৬ মিনিট, কৌণিক দূরত্ব ৯ ডিগ্রি ৪৭ মিনিট। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে চাঁদ দৃশ্যমান হয়েছিলো কিন্তু পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে চাঁদ দৃশ্যমান হয়নি। 

পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে আরবিয়া (বুধবার) চাঁদ দেখা গিয়েছিলো বলেই খামীস বা বৃহস্পতিবার দিন ছিলো পবিত্র পহেলা যিলহজ্জ শরীফ এবং জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার ছিলো পবিত্র ৯ই যিলহজ্জ শরীফ (আরাফার দিন)। 

কিন্তু পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে চাঁদ দেখা যায়নি; তার প্রমাণ হচ্ছে- খামীস বা বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস গণনা করলে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার বার ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার মিলানো অসম্ভব। সুতরাং আমরা এবার পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মাস গণনা নিয়েই আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস খামীস বা বৃহস্পতিবার ৩০ দিনে পূর্ণ করে পবিত্র পহেলা যিলহজ্জ শরীফ মাস শুরু হয়েছিলো জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার। পবিত্র ২৯শে যিলহজ্জ শরীফও ছিলো জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার। পবিত্র ২৯শে যিলহজ্জ শরীফ, জুমুয়াবার পবিত্র মুহররম শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও চাঁদ দেখা যায়নি। তাই পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হয়েছিলো। ফলে ৩০শে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ ছিলো সাবত বা শনিবার। অতঃপর পবিত্র পহেলা মুহররম শরীফ ছিলো আহাদ বা রবিবার। আর পবিত্র ২৯শে মুহররম শরীফও ছিলো আহাদ বা রবিবার। 

পবিত্র ২৯শে মুহররম শরীফ, আহাদ বা রবিবার পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যাবার সম্ভাবনা থাকলেও চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে পবিত্র মুহররম শরীফ মাসও ত্রিশ দিনে পূর্ণ হয়।

পবিত্র ৩০শে মুহররম শরীফ ছিলো ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার। আর পবিত্র পহেলা ছফর শরীফ ছিলো ছুলাছা বা মঙ্গলবার। সেদিন পবিত্র ছফর মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনারও ৩০ দিন গণনা করা হয়। আর সে বছর পবিত্র ২৯শে ছফর শরীফও ছুলাছা বা মঙ্গলবার। পবিত্র ৩০শে ছফর শরীফ ছিলো ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)।

সুতরাং প্রতিভাত ও প্রমাণিত হচ্ছে যে, ১১ হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ আরবিয়া (বুধবার) ছিলো ৩০শে ছফর শরীফ। 

সে সময় পরপর কয়েকটি মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবার কয়েকটি কারণ বর্ণনা করা হলো-

(১) এখন আধুনিক প্রযুক্তির তথা মোবাইলের যুগে আমরা বিভিন্ন অঞ্চলের খবর সহজেই পেয়ে যাই; তখন তা সম্ভব ছিলো না। ফলে প্রতিটি শহর আলাদাভাবে চাঁদ দেখতো।

(২) সে সময় ঘনবসতি ছিলো না। ফলে কোনো কারণে কোনো অঞ্চলের আকাশ মেঘলা থাকলে লোকজন চাঁদ দেখতে না পেলে তারিখ পরিবর্তিত হয়ে যেত।

(৩) ১০ হিজরী সনের পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস এবং ১১ হিজরী সনের পবিত্র মুহররম শরীফ মাস এবং পবিত্র ছফর মাস শুরু হয়েছিলো গ্রীষ্মকালে (মার্চ-এপ্রিল)। অর্থাৎ সে সময় পবিত্র মদীনা শরীফ উনার আকাশ মেঘলা থাকাই ছিলো স্বাভাবিক।

(৪) মরুঝড় অনেক সময় চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রকৃত কারণ মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভালো জানেন। 

১১ হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারের সঠিক তারিখ প্রসঙ্গে

 

‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ আমাদের কাছে অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ এবং বরকত, রহমত, সাকীনা হাছিলের দিন। হাদিয়া মুবারক দেয়া এবং দান-ছদক্বা করার দিন। ‘আখির’ অর্থ শেষ এবং ‘চাহার শোম্বাহ’ অর্থ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)। 

হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)কে পবিত্র ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ শরীফ বলা হয়। কারণ এগারো হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) দিন আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বেশ কিছু দিন মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করার পর এই দিনে ছিহহাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। ফলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এই দিনে খুশি মুবারক হয়ে সাধ্যমতো হাদিয়া মুবারক দিয়েছিলেন। কিন্তু চাঁদের গণনা অনুযায়ী ‘শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার ২৯ তারিখে ছিলো, নাকি ৩০ তারিখে ছিলো’ তা আমাদের আলোচ্য বিষয়।

এখানে প্রথমেই যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে, তা হচ্ছে- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিশেষ দিনগুলোর ক্ষেত্রে যে তারিখ পাওয়া যায়, তার সাথে সঙ্গতি রেখেই তারিখ বিশ্লেষণ করতে হবে। যেমন, ১০ম হিজরী সনের পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার আরাফার পবিত্র দিন (৯ তারিখ) ছিলো জুমুয়াবার। 

আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার তারিখ পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার। আবার পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ বার ছিলো আরবিয়া (বুধবার)। আরবিয়া বা বুধবারে পবিত্র ছফর শরীফ মাস শেষ না হলে পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার হবে না। অবশ্যই পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস, খামীস বা বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছিলো। 

এখন প্রশ্ন, সেই ১১ হিজরী সন উনার পবিত্র ছফর শরীফ মাস ২৯ দিনে, নাকি ৩০ দিনে হয়েছিলো- তা নির্ণয় করতে হলে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে প্রাপ্ত তারিখগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে গণনা করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ১০ হিজরী সনের পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস থেকে গণনা করলে আমাদের হিসাব মিলাতে সুবিধা হবে। ১০ হিজরী সনের পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার আমাবস্যা সংঘটিত হয়েছিলো ২৫শে ফেব্রুয়ারি ৬৩২ ঈসায়ী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা বা মঙ্গলবার।

চাঁদ তালাশ করা হয়েছিলো আরবিয়া (বুধবার)। সেদিন চাঁদের বয়স ছিলো ১৮ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট, উচ্চতা ৭ ডিগ্রি ২৬ মিনিট, কৌণিক দূরত্ব ৯ ডিগ্রি ৪৭ মিনিট। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে চাঁদ দৃশ্যমান হয়েছিলো কিন্তু পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে চাঁদ দৃশ্যমান হয়নি। 

পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে আরবিয়া (বুধবার) চাঁদ দেখা গিয়েছিলো বলেই খামীস বা বৃহস্পতিবার দিন ছিলো পবিত্র পহেলা যিলহজ্জ শরীফ এবং জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার ছিলো পবিত্র ৯ই যিলহজ্জ শরীফ (আরাফার দিন)। 

কিন্তু পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে চাঁদ দেখা যায়নি; তার প্রমাণ হচ্ছে- খামীস বা বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস গণনা করলে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার বার ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার মিলানো অসম্ভব। সুতরাং আমরা এবার পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মাস গণনা নিয়েই আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস খামীস বা বৃহস্পতিবার ৩০ দিনে পূর্ণ করে পবিত্র পহেলা যিলহজ্জ শরীফ মাস শুরু হয়েছিলো জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার। পবিত্র ২৯শে যিলহজ্জ শরীফও ছিলো জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার। পবিত্র ২৯শে যিলহজ্জ শরীফ, জুমুয়াবার পবিত্র মুহররম শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও চাঁদ দেখা যায়নি। তাই পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হয়েছিলো। ফলে ৩০শে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ ছিলো সাবত বা শনিবার। অতঃপর পবিত্র পহেলা মুহররম শরীফ ছিলো আহাদ বা রবিবার। আর পবিত্র ২৯শে মুহররম শরীফও ছিলো আহাদ বা রবিবার। 

পবিত্র ২৯শে মুহররম শরীফ, আহাদ বা রবিবার পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যাবার সম্ভাবনা থাকলেও চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে পবিত্র মুহররম শরীফ মাসও ত্রিশ দিনে পূর্ণ হয়।

পবিত্র ৩০শে মুহররম শরীফ ছিলো ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার। আর পবিত্র পহেলা ছফর শরীফ ছিলো ছুলাছা বা মঙ্গলবার। সেদিন পবিত্র ছফর মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনারও ৩০ দিন গণনা করা হয়। আর সে বছর পবিত্র ২৯শে ছফর শরীফও ছুলাছা বা মঙ্গলবার। পবিত্র ৩০শে ছফর শরীফ ছিলো ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)।

সুতরাং প্রতিভাত ও প্রমাণিত হচ্ছে যে, ১১ হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ আরবিয়া (বুধবার) ছিলো ৩০শে ছফর শরীফ। 

সে সময় পরপর কয়েকটি মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবার কয়েকটি কারণ বর্ণনা করা হলো-

(১) এখন আধুনিক প্রযুক্তির তথা মোবাইলের যুগে আমরা বিভিন্ন অঞ্চলের খবর সহজেই পেয়ে যাই; তখন তা সম্ভব ছিলো না। ফলে প্রতিটি শহর আলাদাভাবে চাঁদ দেখতো।

(২) সে সময় ঘনবসতি ছিলো না। ফলে কোনো কারণে কোনো অঞ্চলের আকাশ মেঘলা থাকলে লোকজন চাঁদ দেখতে না পেলে তারিখ পরিবর্তিত হয়ে যেত।

(৩) ১০ হিজরী সনের পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস এবং ১১ হিজরী সনের পবিত্র মুহররম শরীফ মাস এবং পবিত্র ছফর মাস শুরু হয়েছিলো গ্রীষ্মকালে (মার্চ-এপ্রিল)। অর্থাৎ সে সময় পবিত্র মদীনা শরীফ উনার আকাশ মেঘলা থাকাই ছিলো স্বাভাবিক।

(৪) মরুঝড় অনেক সময় চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রকৃত কারণ মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভালো জানেন। 


ইয়াওমুল আরবিয়ায়ীল আখির (পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বা) শরীফ

ইয়াওমুল আরবিয়ায়ীল আখির (পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বা) শরীফ


১০ হিজরী শরীফ উনার যিলক্বদ শরীফ মাস, যিলহজ্ব শরীফ মাস, মুহররম শরীফ মাস এবং সফর শরীফ মাস পর পর ৪টি মাস ৩০ দিনে হয়।
 
মহাসম্মানীত হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হজ্ব সম্পাদন এবং উম্মদেরকে তা’লীম দেয়ার জন্য ১০ হিজরীর যিলক্বদ শরীফ মাসের ২৫ তারিখ পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে পবিত্র মক্কা শরীফ রওয়ানা মুবারক করেন।

১০ দিনে তিনি (৫ ই যিলহ্জ শরীফ) পবিত্র মক্কা শরীফ পৌছেন। সেখানে ১০ দিন থাকেন অর্থাৎ ১৫ই যিলহজ্ব শরীফ পর্যন্ত পবিত্র হজ্ব সম্পাদন এবং উম্মত, হযরত সাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের হজ্ব পালনের যে তরতীব সেই তালীম, শিক্ষা দেন। ১৫ই যিলহ্জ্ব শরীফ তিনি রওয়ানা দেন এবং ২৫ ই যিলহজ্ব শরীফ তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ পৌছেন। সেই বৎসর যিলহ্জ শরীফ মাসও ৩০ দিনে হয়।

মুহররমুল হারাম শরীফ উনার ১৬ তারিখ উম্মুল মু’মীনিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ ‘আশার আলাইহাস সালাম আলাইহিস সালাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

১১ হিজরী মুহররমুল হারাম শরীফ উনার ৩য় সপ্তাহ ১৮-২০ এই তারিখের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ওহী মুবারক করেন, হে আমার হাবীব! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি দয়া করে যারা জান্নাতুল বাকী মুবারকে আছেন উনাদেরকে আপনার জিয়ারত মুবারক দান করুন। তিনি সম্মানীত জিয়ারত মুবারক দান করলেন। যখন পত্যাবর্তন মুবারক করতেছিলেন তখন মারীদ্বী শান মুবারক অর্থাৎ নুরুল হুদা মুবারকে ব্যাথা মুবারক অনুভব করেন। এর  কিছু দিন পর তিনি সেহাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

একইভাবে সফর শরীফ মাস উনার ৩য় সপ্তাহ ১৮-২০ এই তারিখের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি পূনরায় ওহী মুবারক করেন, হে আমার হাবীব! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি দয়া করে যারা জান্নাতুল বাকী মুবারকে আছেন উনাদেরকে আপনার জিয়ারত মুবারক দান করুন। তিনি এবারো ঠিক সেভাবে সম্মানীত জিয়ারত মুবারক দান করলেন। যখন পত্যাবর্তন মুবারক করতেছিলেন তখন মারীদ্বী শান মুবারক অর্থাৎ নুরুল হুদা মুবারকে ব্যাথা মুবারক অনুভব করেন।

১ম বার মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশের অল্প কিছুদিন পরেই সেহাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। কিন্তু এবার দীর্ঘ সময়। মনে হচ্ছে গাঢ় হয়ে গেলো। বিষয়টিতে হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা চিন্তিত হলেন। হযতর উম্মাহাতুল মুমীনি আলাইহিহিন্নাস সালাম উনারও চিন্তিত হলেন। হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা- মনে হচ্ছে বিষয়টি ব্যতীক্রম। অর্থাৎ সকলেই চিন্তিত হলেন। অনেক দিন থাকার পরে সফর শরীফ মাসের ৩০ তারিখে শেষ আরবিয়া সকাল বেলা তিনি সম্মানীত সেহাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ‘হে উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! ঘরে কোনো খাবার আছে কি?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘জী-হ্যাঁ।’ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘আমার জন্য তা নিয়ে আসুন আর আমার হযরত আওলাদ শরীফ অর্থাৎ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকেসহ অন্যান্য আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে খবর দিন। আর হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকেও নিয়ে আসতে বলুন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সকলকে সংবাদ দিলেন। অতঃপর হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিসহ অন্যান্য আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সবাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে এসে হাযির হলেন।

অতঃপর রুটি-গোশত ও সিরকা মুবারক তা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক-এ পরিবেশন করা হলো। তিনি সকলকে নিয়ে খাদ্য গ্রহণ করে খুশী প্রকাশ করলেন। সংবাদ শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও বাইরে এসে হাযির হন। কিছুক্ষণ পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাইরে এসে উনাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আমার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পর আপনাদের অবস্থা কিরূপ হবে?’ এ কথা শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা ব্যাকুলচিত্তে কান্না শুরু করলেন। উনাদের এ অবস্থা দেখে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে সান্তনা দান করলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করলেন। সুবহানাল্লাহ!

সুন্নত: ফরয
১. গোসল করা,
২. ভালো খাওয়া এবং খাওয়ানো
৩. খুশী প্রকাশ করে সাধ্যমতো হাদিয়া পেশ করা,
৪. দান-ছদক্বা করা,
৫. অধিক পরিমাণে মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও দুরূদ শরীফ পাঠ করা।
৬. আর বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম ও অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক দিনটি পালনের সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণসহ এ মুবারক দিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

খরচ: ১.আফদ্বালুন নাছ বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ৭,০০০ দিনার, 
২. হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ৫,০০০ দিনার, 
৩. খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি ১০,০০০ দিনার, 
৪. আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ৩,০০০ দিনার
৫. মুবাশশারুল জান্নাহ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ১০০ উট ও ১০০ ঘোড়া
এবং অন্যরা সাধ্য সামর্থ অনুযায়ী খরচ করেছেন।

অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১১ হিজরী শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ) চাশতের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যুহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে সকাল ১১:৩০-১২:০০ টার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দিদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেন। সুবহানাল্লাহ! দুনিয়াবী দৃষ্টিতে তখন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন পূর্ণ ৬৩ বছর মুবারক। সুবহানাল্লাহ।


১০ হিজরী শরীফ উনার যিলক্বদ শরীফ মাস, যিলহজ্ব শরীফ মাস, মুহররম শরীফ মাস এবং সফর শরীফ মাস পর পর ৪টি মাস ৩০ দিনে হয়।

উদ্দেশ্য
রওয়ানা তারিখ
রওনার স্থান
পৌছাতে সময়
পৌছানোর স্থান
অবস্থান ও কার্যক্রম

পবিত্র হজ্ব সম্পাদন এবং উম্মদেরকে তা’লীম দেয়ার জন্য
১০ হিজরীর ২৫ যিলক্বদ শরীফ
পবিত্র মদীনা শরীফ
১০ দিন (৫ ই যিলহ্জ শরীফ)
পবিত্র মক্কা শরীফ
১০ দিন (১৫ই যিলহজ্ব শরীফ পর্যন্ত)
পবিত্র হজ্ব সম্পাদন এবং উম্মত, হযরত সাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের হজ্ব পালনের যে তরতীব সেই তালীম, শিক্ষা দেন।

পত্যাবর্তন
১৫ই যিলহ্জ্ব শরীফ
পবিত্র মক্কা শরীফ
২৫ ই যিলহজ্ব শরীফ
পবিত্র মদীনা শরীফ 


মুহররমুল হারাম শরীফ উনার ১৬ তারিখ উম্মুল মু’মীনিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ ‘আশার আলাইহাস সালাম আলাইহিস সালাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ওহী মুবারক করেন, হে আমার হাবীব! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি দয়া করে যারা জান্নাতুল বাকী মুবারকে আছেন উনাদেরকে আপনার জিয়ারত মুবারক দান করুন। তিনি সম্মানীত জিয়ারত মুবারক দান করলেন। যখন পত্যাবর্তন মুবারক করতেছিলেন তখন মারীদ্বী শান মুবারক অর্থাৎ নুরুল হুদা মুবারকে ব্যাথা মুবারক অনুভব করেন। এর  কিছু দিন পর তিনি সেহাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
১১ হিজরী মুহররমুল হারাম শরীফ উনার ৩য় সপ্তাহ ১৮-২০ এই তারিখের মধ্যে 


মহান আল্লাহ পাক তিনি পূনরায় ওহী মুবারক করেন, হে আমার হাবীব! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি দয়া করে যারা জান্নাতুল বাকী মুবারকে আছেন উনাদেরকে আপনার জিয়ারত মুবারক দান করুন। তিনি এবারো ঠিক সেভাবে সম্মানীত জিয়ারত মুবারক দান করলেন। যখন পত্যাবর্তন মুবারক করতেছিলেন তখন মারীদ্বী শান মুবারক অর্থাৎ নুরুল হুদা মুবারকে ব্যাথা মুবারক অনুভব করেন।

সফর শরীফ মাস উনার ৩য় সপ্তাহ ১৮-২০ এই তারিখের মধ্যে ১ম বার মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশের অল্প কিছুদিন পরেই সেহাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। কিন্তু এবার দীর্ঘ সময়। মনে হচ্ছে গাঢ় হয়ে গেলো। বিষয়টিতে হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা চিন্তিত হলেন। হযতর উম্মাহাতুল মুমীনি আলাইহিহিন্নাস সালাম উনারও চিন্তিত হলেন। হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা- মনে হচ্ছে বিষয়টি ব্যতীক্রম। অর্থাৎ সকলেই চিন্তিত হলেন। অনেক দিন থাকার পরে..
৩০ সফর শরীফ
আরবিয়া সকাল বেলা
তিনি সম্মানীত সেহাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।


আখিরী চাহার শোম্বা উপলক্ষে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

আখিরী চাহার শোম্বা উপলক্ষে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

কোন আমলই পবিত্র সুন্নত ব্যতীত পূর্ণতায় পৌঁছেনা। পবিত্র সুন্নতের মধ্যেই রয়েছেন শতভাগ রহমত বরকত ও সাক্বীনা। আর এই অবারিত রহমত নিয়ে এলেন পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ। যে দিনটিতে কিছু সুন্নতী আমল তথা সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম আমল রয়েছে যা পালনের মধ্যে রয়েছে হাকীকী কামিয়াবী। সুবহানাল্লাহ!

বর্ণিত রয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ তথা ছফর শরীফ মাসের শেষ আরবিয়া- বুধবার সকালে ছিহহাতি (সুস্থতা) শান মুবারক প্রকাশ করেন। অতঃপর ভিজা কাপড় মুবারক দিয়ে সমস্ত জিসিম মুবারক মুছে দেন। অতঃপর হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিয়ে রুটি, গোশত ও সিরকা দিয়ে নাস্তা মুবারক করেন। অতঃপর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের খোঁজ-খবর নেন এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করে মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। এতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা অত্যন্ত আনন্দিত হন। উনারা অফুরন্ত শুকরিয়া আদায় করেন এবং এ উপলক্ষে উনাদের সাধ্যমতো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাদিয়া মুবারক পেশ করেন। এছাড়া গরিব-মিসকিনদেরকেও দান সদকা করেন।

কিতাবের বর্ণনা মুতাবিক পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার সুন্নতী আমলসমূহ হলো-
🌱পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ তালাশ করা তথা এ মাসের শেষ আরবিয়া কবে তার ফিকিরে থাকা।
🌿এ দিন সকালে গোসল করা।
☘পরিবারের সকলকে একত্রিত করে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা।
🪴পরিবারের সকলের খোজ খবর নেয়া।
🌾রুটি, গোশত ও সিরকা দিয়ে নাস্তা করা।
💐ফাল ইয়াফরহূ শরীফ তথা খুশি মুবারক প্রকাশ করা।
🍂হাক্বীক্বী শুকরিয়া আদায় করা।

⚱সাধ্যমতো হাদিয়া মুবারক পেশ করা।

🌴গরিব-মিসকিনদেরকেও দান ছদ্বকা করা।

🌙এ মাসে চিকিৎসা করা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ইত্যাদি।

🌹🌹🌹কাজেই সমস্ত মুসলমানদের উচিত পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বা শরীফ উনার সুন্নতী আমলগুলো সাধ্যসামর্থ্য অনুযায়ী পালন করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক ও হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি রেযামন্দি হাছিলের কোশেশ করা।

🌎 মাহফিলে যোগদান করতে যোগাযোগ করুন -01727752543
#90DaysMahfil 
Sm40.com

আপনি কি জানেন, আখেরি চাহার শোম্বা শরীফ কোন কোন খাবার খাওয়া সুন্নত?


আপনি কি জানেন, আখেরি চাহার শোম্বা  শরীফ কোন কোন খাবার খাওয়া সুন্নত? তাহলে জেনে নিন এবং পবিত্র সুন্নত উনার অনুসরনে মুহব্বতের সহিত আপনিও আগামি বুধবার আখেরি চাহার শোম্বা এই সুন্নতি খাবারসমূহ খান-
এই দিবসে হায়াতুন নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রুটি গোশত খেয়েছেন। সাথে সিরকা, খেজুরও খেয়েছেন।
এছাড়া অন্যান্য সুন্নতি খাবার, মিষ্টি, হালুয়া খাওয়াও সুন্নত।
এই দিনে সকালে গোসল করা সুন্নত অর্থাৎ সুন্নত আমলের নিয়তে সকালে গোসল করলে বেমেসাল ফযীলত লাভ করা যাবে। সুবহানাল্লাহ!
আখিরী চাহার শোম্বা কি?
http://al-ihsan.net/…/পবিত্র-আখিরী-চাহার-শোম্বাহ-শরীফ…/59699
ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-
http://al-ihsan.net/…/পবিত্র-আখিরী-চাহার-শোম্বাহ-শরীফ…/28401