হযরত ইমাম গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, মাহবুবে সুবহানী হযরত বড়পীর ছাহেব শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক


হযরত ইমাম গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, মাহবুবে সুবহানী হযরত বড়পীর ছাহেব শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস।

উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী মুবারক
বিলাদত শরীফঃ

সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউসুল আ’যম হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি ৪৭১ হিজরীতে তৎকালীন ইরানের পবিত্র জিলান নগরে বিলাদত শরীফ লাভ করেন। উনার পিতার নাম মুবারক হযরত সাইয়্যিদ আবু সালিহ মুসা জঙ্গি দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি। (যেহেতু তিনি যুদ্ধ প্রিয় ছিলেন সেহেতু উনাকে জঙ্গি দোস্ত বলা হয়) উনার মাতার নাম মুবারক হযরত সাইয়্যিদাহ উম্মুল খায়ের আমাতুল জাব্বার ফাতিমা রহমতুল্লাহি আলাইহা। তিনি পিতার দিক থেকে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং মাতার দিক থেকে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, উনাদের বংশধর।
সাওয়ানেহ উমরী মুবারক-
হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার বিলাদত শরীফ থেকে বিছাল শরীফ পর্যন্ত আমরা যে ওয়াকিয়া বা ইতিহাস দেখতে পাই; তার মধ্যে হাজারো নছীহত বা ইবরত রয়ে গেছে।
মূলত হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার সম্পর্কে পূর্ববর্তী আউলিয়ায়ে কিরামগণ ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। আওলাদে রসূল এবং আহলে বাইত, উনাদের অন্তর্ভুক্ত হযরত ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি (যিনি হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার পীর সাহেব ছিলেন) তিনি উনার ‘কাশফুল গুয়ূব’ নামক কিতাবে বড়পীর হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ১৪৮ হিজরী সনের ১১ই রজব জুমুয়ার রাত্রে আমি যথারীতি কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও যিকির আযকার করে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখতে পাই, আমি আলমে নাসুত থেকে (পৃথিবী হতে) ঊর্ধ্বারোহণ করে আলমে মালাকুত এবং আলমে মালাকুত থেকে আলমে জাবারুতে গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে এক বিশাল ময়দান দেখতে পেলাম। সেই ময়দানের এক পার্শ্বে মারোয়ারীদ পাথরের একটা তাঁবু টাঙানো। সেখান থেকে আল্লাহ পাক, উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আমার কাছে এসে বললেন, “হে হযরত ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি! আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনি আপনাকে ডেকেছেন। আমি সাথে সাথে নূরে মুজাসসাম, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার নিকট গেলাম। দেখলাম সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের পবিত্র রূহ মুবারক সেখানে উপসি'ত আছেন। এবং সমস্ত ফেরেশতা কাতারবন্দি হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা খুব সুন্দর আসনের মধ্যে আল্লাহ পাক, উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসা অবস্থায় আছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনি আমাকে দেখামাত্র বসার জন্য ইশারা করলেনন। আমি বসলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার পার্শ্বে এসে বসলেন। ইত্যবসরে দেখা গেল দুটি রূহ মুবারক এসে নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার ডান জানু মুবারক ও বাম জানু মুবারক-এ বসলেন। বসার পর সারওয়ারে কায়িনাত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন: “হে হযরত ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি! আজ থেকে তিনদিন পর আপনি আমার কাছে চলে আসবেন। আমি চাই আপনি আলমে জাবারুতের অবস্থা দর্শন করে তা আলমে নাসুতের মধ্যে লিপিবদ্ধ করে আসেন। একথা বলার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনি বললেন: আপনি কি জানেন এ রূহ দু’টি কার? আমার ডান জানু মুবারক-এ যাঁর রূহ মুবারক দেখতে পেলেন তিনি আমার থেকে পাঁচশত বৎসর পর পৃথিবীতে আগমন করেনবেনন। তিনি হলেন গাউসুল আ’যম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং আমার বাম জানু মুবারক-এ যে রূহটি আছে তিনি হলেন- হযরত আলী আহমদ সাবের কালিয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। আল্লাহ পাক, উনার এ দুই খাছ মকবুল বান্দা দ্বারা ইসলামের অনেক খিদমত নিবেন। তারপর পার্শ্বে বসে থাকা অবস্থায় হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুদ্বয়কে বললেন: আপনাদের শাহাদাতের পর আমি আমার উম্মতের কথা ভেবে চিন্তিত হই। তখন আল্লাহ পাক, উনার এই দুই মাহবুব বান্দা দ্বারা আমাকে সুসংবাদ দান করেন। হযরত ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি উক্ত স্বপ্ন দেখার পর ঘুম থেকে জেগে উঠলাম এবং সকালে উঠে ‘কাশফুল গুয়ূব’ কিতাবে তা লিপিবদ্ধ করেনলাম। এই ‘কাশফুল গুয়ূব’ কিতাব তিনি বিছাল শরীফ লাভের পূর্বেই লিখেছিলেন এবং সত্যিই তিনি তিনদিন পরেই বিছাল শরীফ লাভ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি তিনি বলেন, ১৪৮ হিজরী সনের ১১ই রজব জুমুয়ার রাত্রে আমি যথারীতি কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও যিকির আযকার করে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখতে পাই, আমি আলমে নাসুত থেকে (পৃথিবী হতে) ঊর্ধ্বারোহণ করে আলমে মালাকুত এবং আলমে মালাকুত থেকে আলমে জাবারুতে গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে এক বিশাল ময়দান দেখতে পেলাম। সেই ময়দানের এক পার্শ্বে মারোয়ারীদ পাথরের একটা তাঁবু টাঙানো। সেখান থেকে আল্লাহ পাক, উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আমার কাছে এসে বললেন, “হে হযরত ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি! আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনি আপনাকে ডেকেছেন। আমি সাথে সাথে নূরে মুজাসসাম, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার নিকট গেলাম। দেখলাম সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের পবিত্র রূহ মুবারক সেখানে উপসি'ত আছেন। এবং সমস্ত ফেরেশতা কাতারবন্দি হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা খুব সুন্দর আসনের মধ্যে আল্লাহ পাক, উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসা অবস্থায় আছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনি আমাকে দেখামাত্র বসার জন্য ইশারা করলেনন। আমি বসলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার পার্শ্বে এসে বসলেন। ইত্যবসরে দেখা গেল দুটি রূহ মুবারক এসে নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার ডান জানু মুবারক ও বাম জানু মুবারক-এ বসলেন। বসার পর সারওয়ারে কায়িনাত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন: “হে হযরত ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি! আজ থেকে তিনদিন পর আপনি আমার কাছে চলে আসবেন। আমি চাই আপনি আলমে জাবারুতের অবস্থা দর্শন করে তা আলমে নাসুতের মধ্যে লিপিবদ্ধ করে আসেন। একথা বলার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনি বললেন: আপনি কি জানেন এ রূহ দু’টি কার? আমার ডান জানু মুবারক-এ যাঁর রূহ মুবারক দেখতে পেলেন তিনি আমার থেকে পাঁচশত বৎসর পর পৃথিবীতে আগমন করেনবেনন। তিনি হলেন গাউসুল আ’যম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং আমার বাম জানু মুবারক-এ যে রূহটি আছে তিনি হলেন- হযরত আলী আহমদ সাবের কালিয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। আল্লাহ পাক, উনার এ দুই খাছ মকবুল বান্দা দ্বারা ইসলামের অনেক খিদমত নিবেন। তারপর পার্শ্বে বসে থাকা অবস্থায় হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুদ্বয়কে বললেন: আপনাদের শাহাদাতের পর আমি আমার উম্মতের কথা ভেবে চিন্তিত হই। তখন আল্লাহ পাক, উনার এই দুই মাহবুব বান্দা দ্বারা আমাকে সুসংবাদ দান করেন। হযরত ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি উক্ত স্বপ্ন দেখার পর ঘুম থেকে জেগে উঠলাম এবং সকালে উঠে ‘কাশফুল গুয়ূব’ কিতাবে তা লিপিবদ্ধ করেনলাম। এই ‘কাশফুল গুয়ূব’ কিতাব তিনি বিছাল শরীফ লাভের পূর্বেই লিখেছিলেন এবং সত্যিই তিনি তিনদিন পরেই বিছাল শরীফ লাভ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)
একবার এক লোক বড়পীর সাহেব গাউসুল আ’যম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, হুযূর! আপনি কি মুজাদ্দিদে যামান? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর বলা হল, আপনি কি সুলতানুল আরিফীন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবার বলা হল, আপনি কি কুতুবুল আলম? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবার বলা হলো আপনি কি গাউসুল আ’যম? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন সে নিশ্চুপ হয়ে গেল। তিনি বললেন, আপনার কি আর কোন লক্বব জানা নেই? লোকটি বললো: জ্বি-না, আমার আর কিছু জানা নেই। তখন তিনি বললেন- আমার মর্যাদা তারও উপরে, তারও উপরে, তারও উপরে। সুবহানাল্লাহ!
মোটকথা নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগণের পর একজন মানুষের পক্ষে যত মাকাম অর্জন করা সম্ভব আল্লাহ পাক গাউসুল আ’যম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনাকে তা দিয়েছেন। এটা সত্যিই উনার জন্য এক বিশেষ মর্যাদা। (বলা হয়ে থাকে আল্লাহ পাক, উনার এমন ওলী কমই অতিবাহিত হয়েছেন, যাঁরা গাউসুল আ’যম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার রূহানী তাওয়াজ্জুহ বা নিছবত হাসিল করেননি)
গাউসুল আ’যম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার বয়স মুবারক যখন প্রায় আঠার বছর ছিল, তখন একবার তিনি আরাফার দিবসে গরু নিয়ে নিজের জমি চাষ করেনতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় সেই গরুটি উনার দিকে ফিরে বললেন, হে হযরত আব্দুল কাদির রহমতুল্লাহি আলাইহি! এই কাজের জন্য আপনাকে সৃষ্টি করা হয়নি এবং এই কাজের জন্য আপনাকে আদেশ করা হয়নি।
এই ঘটনায় তিনি চিন্তিত হয়ে বাড়িতে ফিরে গেলেন। এতদিন পর্যন্ত স্থানীয় মক্তবে যা কিছু শিখেছিলেন তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু শিক্ষার জন্য তিনি বাগদাদ যেতে মনস্থ করলেনন। (তিনি মাতৃরেহেম শরীফ থেকে অধিকাংশ মতে আঠার পারার হাফিয হয়েই বিলাদত শরীফ লাভ করেন। অতঃপর অতি শৈশবেই পূর্ণ কুরআন শরীফ হিফয করেন)। সুবহানাল্লাহ!
হযরত গাউসুল আ’যম শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বাগদাদে পৌঁছেই তৎকালীন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মাদরাসা নিযামিয়াতে ভর্তি হন। দুনিয়ার বিশিষ্ট উলামায়ে কিরামগণ এই মাদরাসায় তালিম দান করেনতেন। এই শ্রেষ্ঠ উলামায়ে কিরামগণের নিকটেই হযরত গাউসুল আ’যম শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাফসীর, হাদীছ, ফিক্বাহ, দর্শন, সাহিত্য, ইতিহাস, তর্কবিদ্যা, ইলমে কালাম, ইলমে উরূজ ইত্যাদি প্রত্যেকটি বিষয়ে খোদা প্রদত্ত তীক্ষ্ণ মেধা শক্তি বলে মাত্র নয় বৎসরের মধ্যেই ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি বাগদাদে শুধু কিতাবী ইলমই অর্জন করেননি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তৎকালীন বাগদাদের শ্রেষ্ঠ ও বিখ্যাত আউলিয়ায়ে কিরামগণের ছোহবতও ইখতিয়ার করেন।
হযরত গাউসুল আ’যম শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ক্রমান্বয়ে চারটি বিবাহ করেছিলেন। উনাকে বিবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার নির্দেশে বিবাহ করেছেন। উনার মোট ৪৯ জন সন্তান-সন্ততি ছিলেন। উনাদের মধ্যে ২৭ জন পুত্র সন্তান এবং ২২ জন মেয়ে সন্তান ছিলেন। উনারা সকলেই অতি উঁচু দরজার ওলীআল্লাহ ছিলেন। উনাদের অনেক বড় বড় সম্মানিত উপাধি ছিল।
হযরত গাউসুল আ’যম শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রায় সারা বৎসরই রোযা থাকতেন। সাধারণ রুটি খেতেন। অনেক সময় খুব মূল্যবান কাপড় পরতেন। অনেক সময় অল্প দামের কাপড়ও পরতেন। অর্থাৎ হযরত গাউসুল আ’যম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার উঠা-বসা, চলা-ফিরা, কথা-বার্তা, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘর-সংসার ইত্যাদি প্রতিটি কাজই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার অনুসরণ করেনতেন। কেননা তিনি ছিলেন খাছ নায়েবে নবী-ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া।
মূলত আল্লাহ পাক আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণকে এমন ক্ষমতা দিয়েছেন যে, ইচ্ছে করলেন উনারা নিক্ষিপ্ত তীরকে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছার পূর্বেই আবার তা ফিরিয়ে আনতে পারেন। সুবহানাল্লমূলত আল্লাহ পাক আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণকে এমন ক্ষমতা দিয়েছেন যে, ইচ্ছে করলেন উনারা নিক্ষিপ্ত তীরকে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছার পূর্বেই আবার তা ফিরিয়ে আনতে পারেন। সুবহানাল্লাহ!
সেই কারণেই আমরা প্রত্যেক আল্লাহওয়ালাগণের জীবনী মুবারক-এ কমবেশি কারামত দেখতে পাই। তদ্রূপ হযরত গাউসুল আ’যম শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার জীবনেও আমরা উনার অসংখ্য আশ্চর্য ধরনের কারামত দেখতে পাই। উনার দোয়ার বরকতে অনেক নেক সন্তান জন্মগ্রহণ করেছেন। যাঁরা নাকি পরবর্তীতে অনেক উঁচু পর্যায়ের ওলীআল্লাহ হয়েছেন। উনাদের মধ্যে হযরত শায়খ শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের নাম মুবারক উল্লেখযোসেই কারণেই আমরা প্রত্যেক আল্লাহওয়ালাগণের জীবনী মুবারক-এ কমবেশি কারামত দেখতে পাই। তদ্রূপ হযরত গাউসুল আ’যম শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনার জীবনেও আমরা উনার অসংখ্য আশ্চর্য কারামত মুবারক দেখতে পাই ।
ছোটবেলা-
হযরত আব্দুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স মুবারক যখন মাত্র ৫ বৎসর তখনই তিনি পিতৃহীন হন। উনার লালন-পালন ও পড়াশোনার দায়িত্ব এসে পড়ে মায়ের উপর।মা চরকায় সুতা কেটে জিবীকা নির্বাহ করেনতে শুরু করেন। মাতা পুত্রকে কখনও কখনও অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। যেদিন ঘরে কিছু খাবার না থাকতো তখন মা বলতেন,”আজ আমরা আল্লাহপাকের মেহমান।”খুব অল্প বয়সেই হযরত আব্দুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি মকতবে যাওয়া শুরু করেন।বাল্যবয়সেই বিভিন্ন আলৌকিক ঘটনাও ঘটতে শুরু করে।একবার সমবয়সী বালকদের সাথে খেলায় যোগ দেয়ার ইচ্ছা করলেন গায়েবী আওয়াজ এলো,”হে বরকতময় সত্তা ,আমার কাছে এসো !”কথা শোনা গেলেও কন্ঠটি কার বা কোথা থেকে এলো কিছুই তিনি বুঝতে পারলেন না।তাছারা কোন লোকও তিনি সেখানে দেখতে পেলেন না।তাই ভয়ে দৌড়ে তিনি ময়ের কাছে চলে এলেন। এরকম আরো বহুবার হয়েছে। একবার নিদ্রাকাতর অবস্হায় সুখময় নিদ্রা যাচ্ছিলেন।
এমন সময় ঘুমের ঘরে তিনি স্বপ্নে দেখিলেন-একজন উজ্জল জ্যোতিবিশিষ্ট স্বর্গীয় ফিরেশতা তাহার শিয়রের নিকট এসে অত্যন্ত কোমল স্বরে বলিতেছেন- ”হে আল্লাহর মনোনিত আব্দুল কাদির! উঠুন ,আর নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে থেক না। সুখ শয্যার কোলে ঢলে পড়বার জন্য এই পৃথিবিতে আপনার আগমন ঘটেনি। আপনার কর্তব্য ও দায়িত্ব সুদুরপ্রসারী! মোহগ্রস্হ,নিদ্রাচ্ছন্ন জনগনকে নিদ্রার মোহ থেকে মুক্ত করিবার জন্যই আপানার আগমন ঘটেছে।
শিক্ষা জীবন ও ধর্ম প্রচার-
হযরত আব্দুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বাল্য শিক্ষার হাতে খড়ি হয়েছিল জ্ঞানবান পিতা ও গুনবতী মাতা উনাদের মাধ্যমে। তিনি স্বীয় পিতা -মাতার মাধ্যমেই প্রথমিক স্তরের শিক্ষনীয় বিষয়গুলি গৃহে বসেই সমাপ্ত করেছিলেন । সর্বপ্রথমেই তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করা শিক্ষা করেন ও সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ হিফজ করেন। গৃহশিক্ষার বাইরেও তিনি জিলান নগরের স্হানীয় মক্তবেও বিদ্যা শিক্ষা করেছিলেন।একবার তিনি মক্তবে উপস্হিত হলে সেখানে বসার জন্য কোন স্হান পাচ্ছিলেন না।এমন সময় অদৃশ্য হতে আওয়াজ হলো,”হে শিক্ষার্থীগন ! এই বালকের জন্য আপনারা একটু স্হান করে দিন,যাহাতে তিনি বসতে পারেন।” কেহই আওয়াজের দিকে তেমন লক্ষ্য দিল না।পরিশেষে আবার গম্ভীর কন্ঠে গায়েবী নেদা হলো, ”হে শিক্ষার্থীগন !আপনারা কি দেখিত এ পাইতেছ না যে,আল্লাহর প্রিয় অলী দাঁড়িয়ে আছেন ? উঠুন উনাকে বসিবার স্হান করে দিন। অযথা বিলম্ব করে সময় অপচয় করেনবেনন না।”এই অদৃশ্য বানী ছাত্র শিক্ষক সকলের কর্ণেই ভীষণ ভাবে আঘাত করলেন। সকলেই হতচকিত ও বিষ্ময়াপন্ন হয়ে গেলেন এবং বড় পীর আব্দুল কাদির রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বসিবার স্হান করে দিলেন। উনার প্রখর মেধাশক্তি, প্রত্যুতপন্নমতিত্ব ও আল্লাহ প্রদত্ত প্রজ্ঞার ফলে বাল্যকালেই তিনি অসাধারন পান্ডিত্য অর্জন করেনতে সক্ষম হন। কোন এক জিলহজ্ব মাসের ৯ম দিবসে শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে গেলেন। সেখানে এক গাভীর গায়ে হাত দিতেই গাভীটি উনার দিকে তাকালো এবং বলতে লাগলো,”হে হযরত আব্দুল কাদির রহমাতুল্লাহি আলাইহি ! আল্লাহ পাক আপনাকে কৃষিকাজের জন্য সৃষ্টি করেন নি বা জীবিকা অর্জনের হুকুমও আপনাকেদেননি” গাভীর মুখে কথা শুনতে পেয়ে ভীত সন্ত্রস্হ অবস্হায় বাড়ী ফিরে এলেন এবং মনের উদ্বেগে ঘরের ছাদে উঠে নানা কথা ভাবছিলেন। এমনসময় তিনি দেখতে পেলেন মক্কা শরীফ পর্যন্ত সমস্ত এলাকা উনার সামনে উন্মুক্ত । চোখের সামনে তিনি আল্লাহর ঘর দেখতে পেলেন।তিনি আরো দেখতে পেলেন আরাফাতে হাজ্বী সাহেবরা অবস্হান করছেনন। অতএব গায়বী ইঙ্গিতের মর্ম বোঝতে চেষ্টা করে তিনি মাকে দ্বীনী উচ্চশিক্ষার জন্য বাগদাদ গমনের ইচ্ছার কথা জানালেন। মা হৃষ্টচিত্তে অনুমতি দিয়ে তার পাথেয় প্রস্তুতিতে লেগে গেলেন। রওনার দিন জামার ভেতরে ৪০টি স্বর্নমুদ্রা সেলাই করে দিয়ে উনার মা বললেন,”আল্লাহর নাম নিয়ে রওয়ানা হোন । সততা ও বিশ্বস্ততাকে নিজের আদর্শরুপে শক্ত হাতে ধারন করেনবেনন।”
ঘটনাক্রমে রাস্তায় ডাকাত পড়লো।এক ডাকাত হযরত আব্দুল কাদির রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে কিছু আছে কিনা জিজ্ঞেস করলেনন। তিনি অকপটে স্বীকার করলেনন জামার ভিতর সেলাইকরা ৪০টি স্বর্নমুদ্রার কথা। বালকের সততায় ও সরলতায় ডাকাত মুগ্ধ হয়ে জিজ্ঞেস করেনলো,এবিপদের মুহুর্তে লোকেরা প্রকাশ্য সম্পদও গোপন ফেলে আর আপনি এ গোপন সম্পদের কথা কেন আমাকে দিলেন ? বালক হযরত আব্দুল কাদির জবাব দিলেন, ”আমার আম্মা আমাকে সর্বদা সত্য কথা বলার উপদেশ দিয়েছেন।”
আল্লাহওয়ালাদের কথায় এমন প্রভাব থাকে যা পাষাণ হৃদয়ও একমুহুর্তে গলিত হতে পারে। ডাকাত সর্দার কাঁদতে শুরু করেনলো এবং বললেন,”এ বালকটি উনার মায়ের নির্দেশ এত বিপদের মধ্যেও যেভাবে মানল ,আমি কি আমার সৃষ্টিকর্তা উনার হুকুম কি এভাবে মানছি ? আমিতো অর্থ-সম্পদের লোভে মহান মহান মালিকের অবাধ্য হয়ে শত শত মানুষের সর্বনাশ করেনছি”।কাফেলার লুন্ঠিত সম্পদ ফিরিয়ে দিয়ে ডাকাত তার গোটা দলশ তওবা করে ডাকাতি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলো । বলা হয়, এই ব্যক্তিটিই নাকি পরবর্তীতে আল্লাহর এক ওলীতে পরিনত হয়েছিলেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ৪৮৮ হিজরীতে যখন প্রথম তিনি বাগদাদ গমন করেন তখন উনার বয়স মুবারক হয়েছিল আঠার বৎসর। বাগদাদ এসে তিনি শায়েখ আবু সাইদ ইবনে মুবারক মাখযুমী হাম্বলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, আবুল ওয়াফা আলী ইবনে আকীল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং আবু মুহম্মদ ইবনে হোসাইন ইবনে মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট ইলমে ফিকহ শরীফ, শায়েখ আবু গালিব মুহম্মদ ইবনে হাসান বাকিল্লানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, শায়েখ আবু সাইদ ইবনে আব্দুল করীম রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও শায়েখ আবুল গানায়েম মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখের নিকট ইলমে হাদীস শরীফ এবং শায়েখ আবু যাকারিয়া তাবরেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি নিকট সাহিত্যের উচ্চতর পাঠ লাভ করেন।হযরত বড় পীর ছহিব উনার বাহ্যিক ও আধ্যাত্নিক জ্ঞান চর্চার উস্তাদ শায়খ আবু সাঈদ মাখযুমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মনে তরুণ এ শিষ্যের যোগ্যতা ও প্রতিভা সম্পর্কে এতই সুধারণা ও আস্হাশীলতার সৃষ্টি করলেন যে, নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা তত্ত্বাবধান ও পরিচালনার দায়িত্ব বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট অর্পণ করে তিনি নিজে অবসর গ্রহন করেন।
তখন তিনি এ মাদ্রাসার উন্নতি ও উৎকর্ষের কাজে আত্ননিয়োগ করেন। হাদীস শরীফ ,তাফসির শরীফ,ফিকহ ও অন্যান্য জ্ঞান বিজ্ঞানের শিক্ষাদান নিজেই শুরু করেন। পাশাপাশি ওয়াজ নসিহত ও চালু করেন । অল্প দিনের মধ্যেই এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম চারিদিকে ছরিয়ে পড়লো এবং দেশ বিদেশের বিদ্যার্থীরা ছুটে আসতে লাগলো। এ পর্যায়ে মাদরাসার নামকরেননও শায়খের সাথেই সম্পৃক্ত হয়ে ‘মাদরাসায়ে কাদেরিয়া” হয়ে গেল।
বিছাল শরীফ :
‘বাহজাতুল আসরার’ নামক কিতাবে হযরত শায়েখ শিহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আওলাদে রসূল হযরত গউছুল আ’যম বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ৫৬১ হিজরী সনের রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস হতে কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। ‘তাওয়ারিখে আউলিয়া’ নামক কিতাবে হযরত শায়েখ আব্দুল ফতেহ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইয়াওমুল আহাদ রোববারদিবাগত রাত্রে অর্থাৎ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম সোমবার শরীফ রাত্রে আওলাদে রসূল হযরত গউছুল আ’যম বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহিআলাইহি তিনি গোসল করেন। গোসল করার পর পবিত্র ইশা উনার নামায পড়ে তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার উম্মতগণের গুনাহখতা মাফের জন্য ও উনাদের উপর খাছ রহমত নাযিলের জন্য দোয়া করলেনন। এরপর গায়েব হতে আওয়াজ আসল, “হে প্রশান্ত নফ্স! আপনি প্রসন্ন ও সন্তুষ্ট চিত্তে এবং সন্তুষ্টি প্রাপ্ত হয়ে নিজ প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তন করুন। আপনি আমার নেককার বান্দা উনাদের মধ্যে শামিল হয়ে যান এবং সম্মানিত বেহেশতে প্রবেশ করুন।” এরপর তিনি পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করেতাআজ্জাজা (অর্থ বিজয়ী হওয়া) উচ্চারণ করেনতে লাগলেন এবং তিনি আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহ বললেন। এরপর জিহ্বা মুবারক তালুর সাথে লেগে গেল। এইভাবে ৫৬১ হিজরী সনের (১১১৬ ঈসায়ী) পবিত্র রবীউছ ছানী মাসের ১১ তারিখে মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, আওলাদে রসূলহযরত গউছুল আ’যম বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সুমহান আল্লাহ পাক উনার মহান দরবার শরীফ-এ প্রত্যাবর্তন করলেনন।(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)।
পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ উপলক্ষে সবাইকে ছাত্র আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত পক্ষ থেকে বিশেষ ইফতার মাহফিলের দাওয়াত

Image result for খলিফাতুল উমাম


আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,
আপনি যেনে খুশি হবেন যে, আসছে আগামী ৯ই রমাদ্বান শরীফ যামানার ইমাম ও লক্ষস্হল ওলীআল্লাহ ,মুজাদ্দিদে আযম  মামদুহ হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার  লখতে জিগার,মুজাদ্দিদে আযমে ছানী , বাহরুল উলুম আক্বা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক বিলাদত শরীফ উপলক্ষে ছাত্র আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত-এর উদ্যেগে আযীমুশ শান ইফতার  মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
উক্ত ইফতার মাহফিলে আপনার উপস্থিতি আমাদের একান্ত কাম্য।
ওয়াস সালাম

কেন্দ্রীয় যুব আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত , রাজারবাগ শরীফ , ঢাকা - ১২১৭
“ত্বলায়াল বাদরু আলাইনা” : ৯ই রমাদ্বান সোমবার শরীফ ‘পূর্ণিমার চাঁদ’ উঠল বাংলার আকাশে

Related image



আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক (উনার খাছ ওলী হিসেবে) যাঁকে ইচ্ছা তাঁকেই মনোনীত করেন।” (সূরা শুরা: ১৩)
আরবী পঞ্চদশ শতাব্দী। গাছে গাছে ফুল ফুটেছে। পাখিদের কণ্ঠে সুমধুর সুরের বন্যা ছড়াচ্ছে বসন্তের সমারোহ চারদিকে। ঐ জান্নাত থেকে ভেসে আসা মৃদু মৃদু হাওয়া বইছে। গোটা সৃষ্টির মাঝে ঈদের খুশির ঢেউ ছড়াচ্ছে। কি যেন এক খোদায়ী বেশুমার খুশির আমেজ।
আজ সারা কায়িনাতে রহমতের সর্বত্রই ছড়াছড়ি। সেই রহমতের হিস্সা সমস্ত মাখলুকাত উপভোগ করছে। মু’মিন মু’মিনাদের অন্তরে ঈমানী জজবার ফোয়ারা। (সুবহানাল্লাহ)
সেই যে এক শহর, বড় শহর। যার ইতিহাস অনেক বড়। যার নাম ঢাকা শহর। এই শহরের মধ্যে প্রসিদ্ধ মুবারকময় পবিত্র স্থান রাজারবাগ শরীফ। কে না জানে এই পবিত্র ভূমির কথা। সবারই অন্তরে গাঁথা মুখে মুখে রাজারবাগ দরবার শরীফ-এর কথা।
সূর্য তখনও হাঁসতে শুরু করেনি। রাতের অন্ধকার দূরীভূত হয়ে পূর্ণিমার চন্দ্রের আলোয় আলোকিত হচ্ছে সারা যমীন। জান্নাত থেকে হুর গেলেমানরা দলে দলে আসছে তাঁর খিদমতে। কত ওলী, আউলিয়া, কুতুব-আবদাল, আশিক-আশিকানের ভীড়। একটু স্থান ফাঁকা নেই। সবাই যেন দাঁড়িয়ে ছলাত ও সালাম পাঠ করছে। সকলের মুখে মুখে আনন্দচিত্তে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে উচ্চারিত হচ্ছে “ত্বলায়াল বাদরু আলাইনা……..”। সমস্ত মাখলুকের মুখে মুখে মুখভরা মুচকি হাঁসি আর হাঁসি।
একলক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনারা আলাপ-আলোচনা করছেন আজকে নবীদের নবী, রসূদের রসূল, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ‘সাইয়্যিদ’ বংশে উনার আওলাদ হিসেবে দুনিয়ায় তাশরীফ নিচ্ছেন পঞ্চদশ শতাব্দীর সুমহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস্ সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, সাইয়্যিদুল আউলিয়া,  রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রিয় লখ্তে জিগার, পূতঃপবিত্র  আওলাদ ,আল-মানসুর, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা  ইমাম হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম।
রাত্রি শুরু হয়েছে ছলাতুল মাগরিবের সময় প্রায় শেষ। এক্ষুনি আল্লাহু আকবার আযানের ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হবে। ওলীআল্লাহ, গাউছ-কুতুব, মু’মিন-মুত্তাক্বী ও আশিক-আশিকা, আসমানবাসী-যমীনবাসী সকলেই অধির আগ্রহে অপেক্ষিত। আকাশে-বাতাসে, জান্নাতের পাখ-পাখালির মুখে মুখে, পাহাড়-পর্বতে, সমস্ত সৃষ্টির মাঝে বইছে ঈদের খুশি। সবারই মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক। চাতক পাখির মত মাখলুক অপেক্ষিত, হা হা করছে সবারই অন্তর মাঝে। কখন উঠবেন পূর্ণিমার সেই চাঁদ। কখন প্রকাশ পাবেন, কবে নিয়ে আসবেন মুক্তির বার্তা। সেই সময়টি ছিল রহমতের মাস, বরকতের দিন। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ, যার মধ্যে রহমত, বরকত, বেশুমার বর্ষিত হয়ে থাকে। এই দিনে জান্নাতের সমস্ত দরজা মুবারক খুলে রাখা হয়েছে। রহমতের সমস্ত দরজা খুলে দেয়া হয়েছে। আকাশের দরজাগুলো খুলে রাখা হয়েছে। তার বিপরীতে জাহান্নামের সমস্ত দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মরদুদ শয়তানদের আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোন স্থান খালি নেই, সর্বত্রই অকাতরে রহমত বইছে।
এমনি এক সময় আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পছন্দনীয় সময়ে, পবিত্র মাসে বিলাদত শরীফ লাভ করেন আল্লাহ পাক উনার খাছ মাহবুব, প্রিয় বান্দা এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদরের দুলাল, চোখের মণি, লখতে জিগার, প্রিয়তম আওলাদ এবং যামানার ইমাম, আল্লাহ পাক-এর খাছ লক্ষ্যস্থল ওলী মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হুজ্জাতুল ইসলাম, কুতুবুল আলম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সবচেয়ে প্রিয়পাত্র, কলিজার টুকরা, চোখের মণি, লখতে জিগার, প্রিয়তম সন্তান, আল-মানসুর, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা  ইমাম হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। (সুবহানাল্লাহ) সেই রাতটি ছিল সোমবার শরীফ, ৯ই রমাদ্বান ইশার ওয়াক্ত।
স্মরণীয় যে, নূরে মুকাররম, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, আল-মানসুর, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা  ইমাম হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত। যিনি পাক পাঞ্জাতনের একজন, পবিত্র আহলে বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। যিনি আল্লাহ পাক উনার মনোনীত ও প্রেরিত।
এ সম্পর্কে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, আল্লাহ পাক-এর ফযল ও রহমত লাভ করার কারণে তারা যেন আনন্দ, খুশি প্রকাশ করে।” (সূরা ইউনূছ: ৫৮)
কাজেই আওলাদে রসূল, আল-মানসুর, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা  ইমাম হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে এক বিশেষ রহমত। তাই উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করা, উনার তা’যীম-তাকরীম, ছানা-ছিফত ও খিদমত করা মূলতঃ আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত কায়িনাতবাসীকে এই মুবারক দিনে খুশি প্রকাশ করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)
৯ই রমাদ্বান, ৯ই রমাদ্বান

Related image৯ই রমাদ্বান, ৯ই রমাদ্বান
আজ ঈদের দোলা, দোলছে নিরালা
আসমান আর যমীন, খুশিতে বিলীন
পেয়ে নূরী চাঁন।
নিয়ে নূরী মাক্বাম, খলীফাতুল উমাম
যুগের সেরা ওলী, হয়ে ফুলকলি
সূরভী ছড়ান।
ফুটে হাসনাহেনা, বলে ছিফত ছানা
তিনি আউলিয়া তাজ, হলেন খোদায়ী নাজ
সবার তরে ইহসান।
পিতা ইমামুল উমাম, মাতা উম্মুল উমাম
দুনিয়ার তামাম, উনাদের গোলাম
উনারা আল্লাহতে কুরবান।
বিদয়াত আর বেশরা, করতে দুনিয়া ছাড়া
শয়তানী ঐ রাজ, ভাঙ্গতে যে আজ
এলেন জান্নাতী রায়হান।
ওই উলামায়ে সূ’, ঈমান নিভু নিভু
ইবলিশের চেলা, দ্বীনে অবহেলা
উড়াতে ওদেরই গর্দান।
দেখো ! খিলাফতী নিশান, আজ জুড়েছে জাহান
জান্নাতের শান্তি, নেই কোন ক্লান্তি
দিবেন আক্বাজান।
উনার হাতে সমশীর, তিনি বিজয়ী বীর
বিজয়ী বেশে, তাশরীফ দেশে দেশে
খলীফা সুলতান।
৯ই রমাদ্বান শরীফ মারহাবা ইয়া শাহযাদা

Related image


মারহাবা, মারহাবা, মারহাবা ইয়া শাহযাদা।
মাহে রমাদ্বান, হলো আলোয়ান,
আপনার মুবারক ছোঁয়ায়
৯ই রমাদ্বান হলো মহীয়ান,
আক্বা আপনাকে পাওয়ায়।
আল মানছুর, মুবারক নূর,
মুবারক শান আপনার,
নূরী খিলাফত, আপনার মতে মত,
চাইলেই হবে ইজহার।
যুলুম নির্যাতন, করবেন পতন,
নূরী মুবারক আদর্শে,
ক্লান্তি মিটাবেন, শান্তি দানিবেন,
রইবেন সবার শীর্ষে।
হক্ব নাহক্বের করবেন ফারাক্ব,
সুন্নী সীরতের আলোকে
সত্য মিথ্যা সব বুঝাবেন,
একটি চোখের পলকে।
হইবে বায়াত জিন ইনসানে
আপনার মুবারক হাতে
দলে দলে আসবে মিলে,
আপনার নূরী খিদমতে।
নয়তো দূরে, আসবে ঘুরে,
কায়িনাত আপনার হাতে
ধরা চালাবেন, পথ দেখাবেন,
থাকবেন দায়িম সুন্নতে।
মহান, বরকতময় পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ- হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস

Related image

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাদের (বান্দা-বান্দী ও উম্মতদের)কে মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ দিন ও রাতগুলো স্মরণ করিয়ে দিন।’
সুমহান, বরকতময় পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ-
আওলাদে রসূল হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস।
যা মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ দিন অর্থাৎ রহমত, বরকত ও খুশি প্রকাশ তথা ঈদের দিন।
তাই সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- আওলাদে রসূল হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস অত্যন্ত জওক্ব-শওক্ব ও শান-শওক্বত উনার সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
যা উদযাপনকারী সকলের জন্যই রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত ও নাযাত লাভের অন্যতম কারণ হবে।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ বেমেছাল রহমত, বরকত ও খুশি প্রকাশের কারণ। তাই সকলের উচিত- উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ উপলক্ষে অত্যন্ত জওক-শওক ও শান-শওকতের সাথে খুশি প্রকাশ করে রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত ও নাযাতের হিসসা লাভ করা।
ক্বায়িম-মক্বামে মুজাদ্দিদে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, আওলাদে রসূল রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ সুমহান ৯ই রমাদ্বান শরীফ উপলক্ষে কুল-কায়িনাতের করণীয় সম্পর্কে আলোচনাকালে এক ক্বওল শরীফ-এ তিনি এসব কথা বলেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমত মুবারক উনার হিসসা লাভ করে রহমত মুবারক উনার অধিকারী হয়েছেন অন্যান্য সমস্ত হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা একইভাবে পবিত্র রিসালত উনার যুগ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তথা আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পর উনার যাঁরা ক্বায়িম-মক্বাম ওলীআল্লাহ উনারা সেই রহমত মুবারক উনার হিসসা পেয়ে রহমত মুবারক উনার অধিকারী হয়েছেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মনোনীত ও মাহবুব বান্দা-বান্দী উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ ও পবিত্র বিছাল শরীফ উনাদের মাধ্যমে অনেক মাস, তারিখ ও বারকে মহাসম্মানিত করেন। যেমন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ ও পবিত্র বিছাল শরীফ উনাদের মাধ্যমে পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাস উনাকে, পবিত্র ১২ই শরীফ তারিখ উনাকে এবং পবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ বার উনাকে মহাসম্মানিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপ পবিত্র শা’বান মাসটিও অনেক সুমহান ব্যক্তিগণ উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার কারণে মহাসম্মানিত। কারণ পবিত্র শা’বান মাস উনার ৫ তারিখ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। ১৫ই শা’বান সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। পহেলা রমাদ্বান শরীফ গাউছুল আ’যম হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। ৩রা রমাদ্বান শরীফ উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
আর সুমহান ৯ই রমাদ্বান শরীফ হচ্ছে আওলাদে রসূল হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহা পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। যে দিবসগুলো কুল-কায়িনাতের সকলের জন্যই মহান ঈদের বা খুশির দিন। সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আওলাদে রসূল হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি আখাছ্ছুল খাছ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সম্মানিত পিতা এবং সম্মানিত মাতা উভয় দিক থেকেই তিনি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ বংশধর। অর্থাৎ হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিস সালাম। উনার বংশগত পরিচয় মুবারকই উনার সুমহান শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান বুঝার জন্য যথেষ্ট।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান মুবারক সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, “আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি, তিনি বিদায় হজ্জে আরাফার দিন উনার ‘কাসওয়া’ নামক উষ্ট্রীর উপর সাওয়ার অবস্থায় খুৎবা মুবারক প্রদান করেছেন।” আমি শুনেছি, তিনি খুৎবা মুবারকে বলেছেন, “হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন দু’টি মহান নিয়ামত মুবারক রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তা শক্তভাবে ধরে রাখ। অর্থাৎ মুহব্বত ও খিদমত করো, তবে তোমরা কখনও গুমরাহ বা ধ্বংস হবে না; তা হলো মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কিতাব ও আমার সম্মানিত ইতরত বা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম বা আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আওলাদে রসূল হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার হাক্বীক্বী মিছদাক। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা বুঝা যায়, আওলাদে রসূল হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি উম্মতগণের জন্য সুমহান নিয়ামত, বরকত, সাকীনা এবং মাগফিরাত, নাযাত লাভের উসীলা। তাই পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ জ্বিন-ইনসান সকলের জন্যই অত্যন্ত আনন্দের দিন তথা ঈদ বা খুশীর দিন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- সুমহান, বরকতময় পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ- আওলাদে রসূল হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। যা মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ দিন অর্থাৎ রহমত, বরকত ও খুশি প্রকাশ তথা ঈদের দিন। তাই সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- আওলাদে রসূল হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস অত্যন্ত জওক্ব-শওক্ব ও শান-শওক্বত উনার সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা। যা উদযাপনকারী সকলের জন্যই রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত ও নাযাত লাভের অন্যতম কারণ হবে।
সুমহান ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ

Related image 


সীমাহীন রহমত, রবকত, মাগফিরাত ও নাজাতে ভরপুর। নববী স্নিগ্ধধারা, কুল-কায়িনাতের মহান অভিভাবক, দুনিয়া ও আখিরাতের নাজাতের কাণ্ডরী, পবিত্র জান্নাতী নূরী ফুল, নকশায়ে নবী, আওলাদে রসূল, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম বিলাদত শরীফ। যা কুল কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ তথা খুশির দিন
জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত আবূ যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার দরজা মুবারক ধরে বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, “হে কায়িনাতবাসী, সাবধান! আমার পবিত্রতম হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা হলেন তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার নৌকার মতো। যে ব্যক্তি উনার মধ্যে আরোহণ করবে, সে নাজাত পাবে। সুবহানাল্লাহ! আর যে উনার থেকে দূরে থাকবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।” নাউযুবিল্লাহ!
এই পবিত্রতম হাদীছ শরীফ থেকে সুস্পষ্ট হচ্ছে যে, হযরত আওলাদুর রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্রতম বিলাদত শরীফই হচ্ছেন সকল জিন-ইনসানসহ সমগ্র কায়িনাতবাসীর জন্য নাজাতের একমাত্র উপায়-অবলম্বন তথা নাজাতের প্রধানতম উসীলা। সুবহানাল্লাহ!
এ কারণেই ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ সমস্ত মাখলুকাতের মধ্যে বিশেষ করে জিন-ইনসান উনাদের জন্য সীমাহীন রহমত বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত ও নাজাতে পরিপূর্ণ। সুবহানাল্লাহ! কেননা এই পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ-এ মুবারক তাশরীফ নিয়ে অফুরন্ত রহমত-বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত ও নাজাত দানে সমগ্র কায়িনাতবাসীকে যিনি ধন্য করেেেছন তিনিই হচ্ছেন খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীকাত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, রাহবারে আ’যম, আল গাউছুল আ’যম, নূরে আ’যম, নূরে মুকাররম, নূরে মদীনা, ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া, ইরাদাতুর রব্বি ওয়ার রসূল, ইমামুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরা, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, সমগ্র কায়িনাতের মহান অভিভাবক দুনিয়া ও আখিরাতের নাজাতের কা-ারী, জান্নাতী নূরী মেহমান, মাশুকে মাওলা, হাবীবুল্লাহ, জামিউন নিয়ামত, জামিউল আলক্বাব, নকশায়ে রসূল, পবিত্রতম লখতে জিগারে রসূল, নববী খুশবু ও স্নিগ্ধধারা, আখাছ্ছুল খাছ আওলাদুর রসূল, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা। উনার মুবারক তাশরীফে পবিত্র জান্নাতী সুশীতল সমীরণ শিরশির করে বইছে। পবিত্র জান্নাতী হুর গেলমান ঈদের আনন্দে আজ মাতোয়ারা। খোদ ইলাহী তায়ালা তিনি উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেসহ সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নিয়ে ঈদ তথা খুশি প্রকাশ করছেন। ঈদ তথা খুশি প্রকাশ করছেন খাতুনে জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালামসহ সকল হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। তাই সমস্ত কায়িনাতে উচ্চ আওয়াজে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক!!
লক্ষ-কোটি কারণে পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর তথা কুল-মাখলুকাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ বা খুশির দিন। সুবহানাল্লাহ! যা পালন করা পবিত্র ফরয উনার অন্তর্ভুক্ত। যেমন, এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, قل بفضل الله و برحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مما يجمعون- অর্থাৎ “আয় আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কুল-কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিন- হে কায়িনাতবাসী! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবচেয়ে বড় ফযল তথা মহান অনুগ্রহ ও রহমত তথা সবচেয়ে বড় নিয়ামত হিসেবে পাওয়ার কারণেই তোমরা সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ তথা খুশি প্রকাশ করো। আর এই ঈদ তথা খুশি প্রকাশ করাই হবে তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বত্তোম পাথেয়।” সুবহানাল্লাহ!
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম আগমন শরীফ উপলক্ষে সাইয়্যিদুল আইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ‘ফরযকরণের’ মাধ্যমেও পবিত্রতম আওলাদুর রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্রতম বিলাদত শরীফ উপলক্ষে ঈদ তথা খুশি প্রকাশ করা ফরয করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
এ হেতুতেও পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ মুসলিম উম্মাহ উনাদের ঈমান উনার সাথে ওতপ্রোতভাবে সংশ্লিষ্ট। কেননা এই পবিত্রতম দিনে এমন এক মহান অযুদ পাক তাশরীফ নিয়েছেন, যাঁর পবিত্রতম শিরা-উপশিরা ও ধমনী মুবারক-এ সঞ্চারিত ও সঞ্চিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম নূর মুবারক ও খুন মুবারক। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম নূর মুবারক উনার সাথেই উনার মহান সম্পৃক্ততা। উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, কুল-কায়িনাতের মহান ধারক-বাহক ও অভিভাবক, দুনিয়া ও আখিরাতের নাজাতের মূল উসীলা, যিনি যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম, আল গাউছুল আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, নকশায়ে নবী, নববী নূর, নূরে মদীনা, নূরে মুকাররাম, জামিউল আলক্বাব, হাবীবুল্লাহ, আখাছ্ছুল খাছ আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম কিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, উম্মুল খাইর, ত্বহিরা, ত্বইয়্যিবা, ছহিবাতুল কাশফ ওয়াল কারামাত, কুল-কায়িনাতের রহমত, বিশেষ করে নারী জাতির মুক্তির একমাত্র সোপান, নূরে মুকাররাম, নূরে মদীনা, গুলে মদীনা, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আখাচ্ছুল খাছ আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা। সুবহানাল্লাহ! কাজেই মহা সম্মানিত আব্বাজান ও আম্মাজান আলাইহিমাস সালাম উনাদের উভয় দিক থেকে আখাছ্ছুল খাছ আওলাদুর রসূল, অর্থাৎ তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুন মুবারক ও নূর মুবারক উনার সাথে মিশে একাকার হয়ে আছেন। সুবহানাল্লাহ!
তাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে গভীর থেকে গভীরতম তায়াল্লুক, নিসবত, মুহব্বত, মা’রিফাত, খাছ রেযামন্দি, সন্তুষ্টিসহ সীমাহীন রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত ও নাজাত লাভ করতে হলে উনার পবিত্রতম আখাছ্ছুল খাছ আওলাদ, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার প্রকৃত মুহব্বত মা’রিফাত, রেযামন্দি, সন্তুষ্টি, তায়াল্লুক, নিসবত, সাকীনা, মাগফিরাত, ইতায়াত লাভ করা সর্বপ্রথম ঈমানী দায়িত্ব-কর্তব্য তথা প্রধানতম ফরয কাজ। তাছাড়া কসি¥নকালেও খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, নাজাত ও তায়াল্লুক-নিসবত হাছিল করা সম্ভব নয়। কেননা তিনি মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পবিত্রতম ‘ইরাদা মুবারক’ উনার হাক্বীক্বী নকশা। তিনি ক্বায়িম-মাক্বামে রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম। তিনি পবিত্রতম সীরত মুবারক, ছূরত মুবারক, ইলম, আমল, আক্বীদা এবং সার্বিক আদর্শ মুবারক অনুসরণে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার হাক্বীক্বী নায়িব তথা ক্বায়িম-মাক্বাম ও পরিপূর্ণ মিছদাক হিসেবে ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম লক্বব মুবারকে ভূষিত হয়ে যমীনে মুবারক তাশরীফ নেন। যিনি বিশ্ব সংসারের মহান অভিভাবকত্বের মহা আসনে সমাসীন হয়ে আছেন! উনার নূরানী বদন মুবারকে পবিত্র নববী নূর চমকাচ্ছেন! উনার সুদর্শন মুবারক সমগ্র বিশ্ব সন্তানের দৃষ্টিকে হরণ করছেন! এমনকি পূর্ণচাঁদও উনার দিকে উঁকি দিচ্ছেন! উনি মহান আরবী, মদীনা মুনাওওয়ারার প্রতিচ্ছবি! উনার পবিত্রতম বাম হস্ত মুবারক-এ খিলাফতের ঝা-া আসন গ্রহণ করার জন্য পতপত করে উড়ছেন। উনার পবিত্রতম ডান হস্ত মুবারক-এ খিলাফতের চাবুক ঝিলমিল করছেন। পবিত্রতম দ্বীন ইসলাম, নির্যাতিত ও নিপিড়িত মুসলিম উম্মাহসহ সকল কায়িনাতবাসী উনাকে মহান ধারক-বাহক ও অভিভাবক হিসেবে পাওয়ার জন্য ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন। হাক্বীক্বী দ্বীন ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ উনাদেরকে হাক্বীক্বী নববী নকশায় গড়তেই কুল-কায়িনাতবাসীর মাঝে উনার মহান বিলাদত শরীফ। সুবহানাল্লাহ! তিনি সমস্ত তাগূতী অপশক্তিকে মূলোৎপাটন করার জন্য আসাদুল্লাহিল গালিব উনার পবিত্র রঙে রঙিন। অসীম উনার হিম্মত ও কুওওয়াত। তিনি শহীদে কারবালা উনাদের বদলা নিতে বদ্ধপরিকর। তিনি হিমাদ্রির চেয়েও মহান কঠিনতম। তিনি বাধা বন্ধনহীন মুক্ত স্বাধীন। উনাকে রুখবার নেই কেউই। অসীম উনার ইলম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি কুদরতে ইলাহী। তিনি মু’জিযায়ে রসূল। সুবহানাল্লাহ! সমস্ত পবিত্র কারামত উনার মুবারক ইচ্ছা ও ইরাদাধীন। উনার সীমাহীন শান-শুয়ূনাত, বুযুর্গী-কারামত ও মাকামাত। যার কারণে সমস্ত আনুগত্যশীল সৃষ্টিকুল উনার পাক ক্বদম মুবারকে ক্বদমবুছীতে মশগুল। সুবহানাল্লাহ! তিনি মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পবিত্রতম ছিফত মুবারকে মহান মাউছুফ। সুবহানাল্লাহ! উনার পবিত্রতম মুহব্বতই হচ্ছে পবিত্রতম ঈমান। এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, احبوا اهل بيتى لحبى অর্থাৎ: “হে কায়িনাতবাসী! তোমরা আমার পবিত্রতম মুহব্বতের জন্যে আমার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো।” সুবহানাল্লাহ! কাজেই উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোকেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছ্ছুল খাছ আওলাদ হচ্ছেন, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনিই।
তাই উনার খাছ মুহব্বত, মা’রিফত, তায়াল্লুক, নিসবত, রেযামন্দি, সন্তুষ্টি হাছিলের লক্ষ্যে উনার ‘পবিত্রতম বিলাদত শরীফ’ তথা ‘পবিত্রতম ৯ই রমাদ্বান শরীফ’ উনাকে যথাযথ ইজ্জত, সম্মান, তা’যীম-তাকরীম, ও বিশেষ শান-শওকতের সাথে স্মরণ ও পালন করা মুসলিম উম্মাহ উনাদের ঈমানী দায়িত্ব এবং কর্তব্য। যা আইয়্যামিল্লাহ উনার অন্তর্ভুক্ত। এই জন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, ذكرهم بايام الله অর্থাৎ “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কায়িনতবাসীকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ দিবস মুবারক তথা উনার মাহবুব বান্দা-বান্দী উনাদের পবিত্রতম বিলাদত শরীফ ও তৎসংশ্লিষ্ট দিবসগুলোতে শোকরগুজারী ও ধৈর্যশীল বান্দা-বান্দীদের জন্য রয়েছে  লক্ষ-কোটি নিদর্শন তথা রহমত-বরকত, মুহব্বত, মা’রিফাত, সাকীনা, নাজাত, খাছ রেযামন্দি-সন্তুষ্টি।’
অতএব, খালিক্ব মালিক রব তায়ালা উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে একইভাবে ক্বায়িম-মাক্বামে রহমাতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, আখাছ্ছুল খাছ আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম এবং জান্নাতী নূরী ফুল হযরত সাইয়্যিদাতাল উমাম আলাইহিমাস সালাম, অনুরূপভাবে ত্বাহিরা, ত্বাইয়্যিবা, নকশায়ে যাহরা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম ও ত্বাহিরা, ত্বাইয়্যিবা, নকশায়ে যাহরা সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম ঠিক অনুরূপভাবে ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আখাছ্ছুল খাছ আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম ও বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, সাইয়্যিদুনা হযরত হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের সকলেরই খাছ তাওয়াজ্জুহ-ফায়িয, খাছ মুহব্বত, মা’রিফাত, গভীর তায়াল্লুক-নিসবত লাভের লক্ষ্যে পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ অত্যন্ত ধ্যানে-খেয়ালে, চিন্তা-ফিকিরের সাথে জান-মাল উজাড় করে সর্বসেরা ঈদ হিসেবে খুশি প্রকাশ করা মুসলিম উম্মাহ উনাদের সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব উনার অন্তর্ভুক্ত।
আয় আল্লাহ পাক! আমাদের সবাইকে তা পালন করার তাওফীক দান করুন। আমীন
মুবারক হো মহামহিমান্বিত আযীমুশ শান ৯ই রমাদ্বান শরীফ

Related image


ঈদে বিলাদতে খলীফাতুল উমাম, ছাহিবে জামিউল মাক্বামত, জামিউল আলক্বাব, ওলীয়ে মাদারযাদ, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, আল মানছূর, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম মামদূহ হযরত শাহযাদা আক্বা ক্বিবলা কা’বা আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাইশী আলাইহিস সালাম আজ মহামহিমান্বিত আযীমুশ শান ৯ই রমাদ্বান শরীফ।
খলীফাতুল উমাম, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, কুতুবুল আলম, ওলীয়ে মাদারজাত, ছাহিবুল খাইর, মুত্বহিরুল আ’যীম, নূরে মুকাররম, শামসে ইলাহী, মাহবুবে ইলাহী, নূরে রহমানী, ছাহিবে জামিউল মাক্বামত, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল সম্মানিত বিলাদত শরীফ।
যা আমাদের জন্য তথা কুল-কায়িনাতের জন্য সব ঈদের সেরা ঈদ। তথা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ। মূলত সাইয়্যিদে ঈদে বিলাদতে মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহান ঈদ যথাযথ পালন ব্যতীত অন্য কোন ঈদ পালনই সম্ভব নয়। মহিমান্বিত ওই ঈদের বরকতেই অন্য সব ঈদ পালনের কুওওয়াত ও রহমত হাছিল হয়। তাই এ ঈদ সব ঈদের সরদার বা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ।
প্রসঙ্গত মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফযল ও রহমত মুবারক লাভ করার কারণে তারা যেন আনন্দ, খুশি প্রকাশ করে।” (পবিত্র সূরা ইউনূছ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)
বলাবাহুল্য, ক্বায়িম-মাক্বাম হিসেবে এ পবিত্র আয়াত শরীফ সাইয়্যিদে ঈদে বিলাদতে খলীফাতুল উমাম, মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার জন্য খাছ।
বলাবাহুল্য, মহিমান্বিত এ সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ সম্পর্কে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাও অবগত ছিলেন না। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন- “আপনি কী এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যারা মারামারি করবে, কাটাকাটি করবে।” মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছিলেন, “আমি যা জানি তোমরা তা জানো না।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি খলীফাতুল উমাম হযরত শাহযাদা আক্বা, ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাকে এমন ফযীলত ও বুযুর্গী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যে, খলীফাতুল উমাম হযরত শাহযাদা ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাকে দেখলে শয়তানের মাথা খারাপ হয়ে যাবে। সে পালানোর রাস্তা খুঁজে পাবে না।
শুধু তাই নয়, খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার উসীলায় লক্ষ-কোটি উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা শয়তানের ওয়াসওয়াসা প্রত্যাখ্যান করে খালিছ আল্লাহওয়ালা হবেন। সুবহানাল্লাহ!
পাশাপাশি মহান আল্লাহ পাক তিনি খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে এতো ফযীলত দিয়েছেন যে, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের যে মুহব্বত-মা’রিফত, কুরবত মুবারক হাসিল করবেন তার কাছে নিকটবর্তী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ উনারাও পৌঁছতে পারবেন না। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, উনাদের বক্তব্যের বিপরীতে খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ফখর।
অপরদিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তিনি কাওছার বা সর্বোত্তম বিষয় হাদিয়া করেছেন। খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম সেই সর্বোত্তম বিষয়ের অন্যতম এবং বর্তমান যামানার লক্ষ্যস্থল। অর্থাৎ খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম শুধু আখাচ্ছুল খাছ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই নন, তিনি অন্যতম কাওছারও বটে। সুবহানাল্লাহ!
পাশাপাশি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ঈমান আনাই, ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সব নেকী। খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি সে পবিত্র ঈমান উনারই মহিমান্বিত অংশ।
অপরদিকে ইমামুল হুমামাইন আলাইহিমুস সালাম উনাদের গোলাম হওয়াই হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার শান। খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ইমামুল হুমামাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরই মুবারক ধারাবাহিকতা। তিনি যিন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার দু’নূরের বর্তমান অধিকারী। খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার হুঙ্কার আজ হযরত আলী হায়দার কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারই বেমেছাল হুঁশিয়ারী।
স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যা পবিত্র ওহী মুবারক নাযিল হয়েছে উনার সবকিছুই খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার অন্তরে তিনি নিক্ষেপ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! স্বীয় ইলমের সবকিছুই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন।
তাই খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি সব শরীয়ত ও তরীক্বতের সব ইমাম ও মুজতাহিদ তথা আলিম, ফক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফতীই নয়, পাশাপাশি সব বিজ্ঞানী, কবি, বোদ্ধাদেরও বিস্ময়। সব বিজ্ঞানীদের গবেষণা পূর্ণতা পেতো এবং পাবে উনার মুবারক ছোহবতে। অতীতের বিজ্ঞানীরা নয় বর্তমান বিজ্ঞানীরাও বিস্মিত হচ্ছেন উনার জ্ঞানের গভীরতা দেখে। উনার বিবৃত সমকোণ যে লম্বাকোণ অথবা আত তাক্বউমুস শামসী এক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন উদাহরণ মাত্র।
হযরত শাহযাদা ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার তাশরীফে সব কবিদের সব আরজু পূরণ হয়েছে। নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার যে আবেদন ছিলো উনার উসীলায় তা পূরণ হয়েছে। ফররুখ আহমেদের পাঞ্জেরীর যে আহবান ছিলো তা দিশা পেয়েছে। কবি ইকবালের খুদী দর্শনের যে সমুন্নত করার কথা ছিলো তা পূর্ণতা পেয়েছে। কবি ফেরদৌসীর কবিতার প্রশস্ততা, কবি খৈয়ামের কবিতার প্রেমধারা, কবি সাদীর হেকমতী বচন সব খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান ইলমেরই ক্ষুদ্রতম বহিঃপ্রকাশ।
মূলত, খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল ওজুদ মুবারক, উনার মহিমান্বিত দেহাবয়ব, উনার অপূর্ব, চেহারা মুবারক উনার ধারালো- তীক্ষè চাহনি, উনার বিস্মিত বাকভঙ্গী, উনার সুমন্নত দেহভঙ্গী, উনার সাবলীল নির্দেশনা সবকিছু যেন মহান আল্লাহ পাক উনার সুমহান কুদরত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ মু’জিযা শরীফ এবং যামানার ইমাম ও মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার আযীমুশ শান কারামত। সুবহানাল্লাহ! উনার দর্শনে ও ছোহবতে ভক্ত হৃদয়ে এমন ফল্গুধারা বহে যাতে, হযরত ছাহাবাযে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেমন সিজদার আকুতি জানিয়েছিলেন সে জজবারই পুনরাবৃত্তি জাগে। জাহিরীভাবে তা জায়িয না হলেও বাতিনীভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে পুরোটাই মিটে।
মূলত খলীফাতুল উমাম হযরত শাহযাদা আক্বাজান আলাইহিস সালাম উনার সুমহান শান মুবারক সম্পর্কে যুগপৎভাবে সম্যক অবগত এবং উনাকে যথাযথ সম্মান দানের মর্যাদা কেবল তদীয় পিতাজান ইমামুল আইম্মাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনারই।
তিনি এমন ফযীলত হাদিয়া করেছেন যেন উভয়ে উভয়ের প্রতিবিম্ব, প্রতিচ্ছবি। পার্থক্য শুধু একজন পিতা। অপরজন পুত্র। একজন মুজাদ্দিদে আ’যম। অপরজন মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী। একজন বর্তমান যামানায়ই তাজদীদ ও খিলাফত জারি করছেন। অপরজন অনাগত কালে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যথাযোগ্যরূপে দিন দিন বিকশিত হচ্ছেন।
সঙ্গতকারণেই এই সুমহান বিলাদত শরীফ-এর তাৎপর্য, গুরুত্ব, মহত্ত্ব, শান-শওকত লিখিবার যেমন কোনো ভাষার শুরু এবং শেষ নেই তেমনি বিলাদত শরীফ পালনের ব্যাপকতার, ঘনঘটার, শান-শওকতেরও তথা সমন্বিত আয়োজনেরও কোনো পরিশেষ নেই। সবকিছুই এখানে ব্যর্থ। সস্পৃক্ত শুধুই অক্ষমতা প্রকাশ। অনিবার্য এখানে ক্ষমা প্রার্থনা।
বলার অপেক্ষা রাখে না, পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ উনার পরিসর কেবল রাজারবাগ শরীফ অথবা রাজারবাগ শরীফ উনার সিলসিলাভুক্ত পরিম-লেই পরিশেষ হবার জন্য নয়।
বরং অনিবার্য কারণেই তথা নিজস্ব প্রয়োজনেই পৃথিবীর প্রত্যেককেই খলীফাতুল উমাম, মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী উনার প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপূর্ণ ইলম পরিপূর্ণভাবে অর্জন করতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউছুল আ’যম, দস্তগীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার লখতে জিগার মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম আমাদের প্রাণের আক্বা মামদূহ হযরত শাহযাদা ক্বিবলাজান আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় সেটা খুলুছিয়াতের সাথে করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)
খোশ আমদেদ! পবিত্র ৯ রমাদ্বান ।। ঈদে বিলাদতে মুজাদ্দিদে আযমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ দিবস

Related image


ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক!! ঈদ মুবারক!!!
ঈদে বিলাদতে মুজাদ্দিদে আযমে ছানী, হাকিমুল হাদীছ, খলীফাতুল উমাম, মাদারজাদ ওলী, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম।
আজ পবিত্র ৯ রমাদ্বান শরীফ। খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, সুলত্বানুল আউলিয়া, মাখযানুল মারিফাত, খাযীনাতুর রহমাহ, মঈনুল মিল্লাত, লিসানুল উম্মাহ, তাজুল মুফাসসিরীন, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, ফখরুল ফুক্বাহা, হাকীমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল মুজতাহিদীন, মুহইস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, ছাহিবুল ইলহাম, রসূলে নোমা, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, সুলত্বানুল আরিফীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, মুসতাজাবুদ দাওয়াত, কুতুবুল আলম, আল গাউছুল আযম, আল জব্বারিউল আউয়াল, আল ক্বাবিউল আউয়াল, ক্বাইয়্যূমুয যামান, ইমামুল আইম্মাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আযম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুন নিসা, ইমামাতুছ ছিদ্দীক্বা, বাহরুল উলুম, নূরে মুবীনা, গুলে মুদীনা, উম্মুল উমাম, উম্মুল খায়ের, আফযালুন নিসা, ফক্বীহাতুন নিসা, ত্বাহিরাতুন নিসা, হামীদাতুন নিসা, মজীদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের একমাত্র পুত্র সন্তান।
মুজাদ্দিদে আযমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, মাদারজাদ ওলী, হাকিমুল হাদীছ, হাফিযে কুরআন মাহিউল বিদয়াত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ দিবস।
মুজাদ্দিদে আযমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, মাদারজাদ ওলী, হাকিমুল হাদীছ, হাফিযে কুরআন, মাহিউল বিদয়াত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মাতা এবং পিতা উভয় দিক থেকেই আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছ্ছুল খাছ আওলাদ বা বংশধর।
মুজাদ্দিদে আযমে ছানী, মাদারজাদ ওলী, খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি একজন মাহবুব শ্রেণীর ওলীআল্লাহ। মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি যেসব মহান ব্যক্তিদের ওলীআল্লাহ হিসেবে খাছভাবে মনোনীত করেছেন, উনাদের মধ্যে মুজাদ্দিদে আযমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, হাকিমুল হাদীছ, হাফিযুল কুরআন, মাহিউল বিদয়াত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি অন্যতম।
মুজাদ্দিদে আযমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, হাকিমুল হাদীছ, হাফিযে কুরআন, মাহিউল বিদয়াত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান বংশ পরিচয় মুবারক, উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মর্যাদা প্রকাশ করে
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কালাম পাক-এ ইরশাদ করেন, হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদেরকে হিদায়েত দানের প্রতিদানস্বরূপ কোনো বিনিময় চাই না, তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইতগণ উনাদের প্রতি তোমরা (উম্মতগণ) সদাচারণ করবে। (সূরা শূরা : আয়াত শরীফ ২৩)
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি, তিনি বিদায় হজ্জে আরাফার দিন উনার ‘কাসওয়া নামক উষ্ট্রির উপর সাওয়ার অবস্থায় খুতবা দান করেছেন। আমি শুনেছি, তিনি খুতবায় বলেছেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি তোমরা যদি তা শক্তভাবে ধরে রাখ তবে তোমরা কখনও গুমরাহ হবে না; আর তা হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও আমার ইতরত বা আহলে বাইত। (তিরমিযী শরীফ)
মুজাদ্দিদে আযমে ছানী, মাদারজাদ ওলী, হাকিমুল হাদীছ, হাফিযে কুরআন, মাহিউল বিদয়াত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আওলাদ তথা আহলে বাইত। তাই তিনি উপরোক্ত আয়াত শরীফ এবং হাদীছ শরীফ-এর হাক্বীক্বী মিছদাক। উক্ত আয়াত শরীফ এবং হাদীছ শরীফ অনুযায়ী সহজেই উপলব্ধ যে, মাদারজাদ ওলী, মুজাদ্দিদে আযমে ছানী, হাকিমুল হাদীছ, হাফিযে কুরআন, মাহিউল বিদয়াত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উম্মতদের মাঝে, নিয়ামত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, নাযাত রহমতস্বরূপ। উনার অনুসরণ-অনুকরণ, মুহব্বত-মারিফাতের মাঝেই রয়েছে উম্মতদের চিরকল্যাণ। তাই আজ পবিত্র ৯ রমাদ্বান উম্মতদের জন্য অবর্ননীয় খুশির দিন তথা ঈদের দিন।
মুজাদ্দিদে আযমে ছানী, মাহিউল বিদয়াত, মাদারজাদ ওলী হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করা সকলের জন্যই আবশ্যক। এছাড়াও এই সুমহান বিলাদত শরীফ উপলক্ষে মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ, ওয়াজ শরীফ-এর মাহফিলের আয়োজন করা সকলের জন্য আবশ্যক। মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন যেনো আমাদের সকল মুমিন-মুসলমানদেরকে মুজাদ্দিদে আযমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, মাদারজাদ ওলী, হাকিমুল হাদীছ, হাফিযে কুরআন, মাহিউল বিদয়াত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মর্যাদা-মর্তবা, হাক্বীক্বীভাবে উপলব্ধি করে উনার সুমহান বিলাদত শরীফ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার তাওফীক দান করেন। আমীন! সুম্মা আমীন!