মানুষ ও বাঘের মাঝে জিহাদ এবং কামিয়াবী হাছিল। পর্ব-৩০

মানুষ ও বাঘের মাঝে জিহাদ এবং কামিয়াবী হাছিল। পর্ব-৩০

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৯ ও ১১ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ লাইলাতুল আহাদ (রোববার রাত) ও লাইলাতুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার রাত) এবং ১৪৪৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৫শে রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল আরবিয়া (বুধবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি একখানা অনেক বড় স্বপ্ন মুবারক দেখেছি। দেখলাম- সারা পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে আর বাঘের মধ্যে খুব মারামারি হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ বাঘ আসতেছে। আমরাই মূল কেন্দ্র। আমাদের সাথেই জিহাদ। অনেক বন্দুক-পিস্তল। বাঘ গুলো সব রয়েল বেঙ্গল টাইগার। অনেক বড় বড় বাঘ। আমরা যাচ্ছি। আমার ডানে-বামে যারা আছে তাদের অনেককে বাঘ কামড়াচ্ছে, মারতেছে। আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স এরা সবাই আছে। এদেরকেও খেয়ে ফেলতেছে। ক্যান্টনমেন্টগুলো খালি হয়ে যাচ্ছে। এদের কামড়িয়ে মেরে ফেলতেছে। ঘুরতে ঘুরতে প্রমে বাংলাদেশ থেকে দিল্লী, দিল্লী থেকে পাকিস্তান, পাকিস্তান থেকে আরব সাগর ও এডেন উপসাগরের উপর দিয়ে গিয়ে ইয়ামেন, ইয়ামেন থেকে লোহিত সাগর হয়ে মিশর হয়ে ভূমধ্যসাগরের উপর দিয়ে গিয়ে গ্রীস, গ্রীস থেকে মেসিতোনিয়া হয়ে কসোভো হয়ে সার্বিয়া হয়ে হাঙ্গেরী, হাঙ্গেরী থেকে স্লোভাকিয়া হয়ে পোল্যান্ড হয়ে লিথুনিয়া হয়ে লাটভিয়া হয়ে এস্তোনিয়া হয়ে রাশিয়া। তারপর রাশিয়ার উপরের দিকে রাশিয়ার পুরো অংশ হয়ে সোজা পৃথিবীর পূর্ব দিকে এসে বরাবর নীচের দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে জাপানের ডান পাশ হয়ে ফিলিপাইন সাগরের উপর দিয়ে গিয়ে দক্ষিণ চীন সাগর হয়ে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনাম থেকে থাইল্যান্ড উপসাগর হয়ে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের উপর দিয়ে যেয়ে ভারত মহাসাগর হয়ে শ্রীলঙ্কার উত্তর পাশ দিয়ে গিয়ে ভারতের তামিলনাড়– হয়ে আরব সাগরের উপর দিয়ে গিয়ে ইয়ামেন হয়ে ঘুরে আবার আগের জায়গায় এসেছি। সব বিরাণ। এক জায়গায় আসলাম। এসে দেখলাম বিরাট একটি বিল্ডিং। অনেক বন-জঙ্গল। লোকজন নেই। আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্সের অনেক লোক মৃত পড়ে রয়েছে। আমি খুঁজতেছি যে, বন্দুক-পিস্তল আছে কিনা। কতগুলো পিস্তল পাওয়া গেলো বন্দুকের মত। একেকটার মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার গুলি। আমি বললাম, ‘এগুলোই তো দরকার।’ এগুলো সংগ্রহ করলাম। অনেক লোক মৃত। বাঘও মরে পড়ে রয়েছে। বিদেশী লোক। আমি আমাদের লোক খুঁজে বের করলাম। বাঘগুলো এসেছে আমার চার দিকে; কিন্তু আমাকে দেখেনি। আমাকে কিছু করতে পারেনি। আমি পুরাটা চক্কর দিয়ে এসে কিছু লোক জোগাড় করে পরে আবার এলাকাগুলি জিন্দা করলাম। আর আমি বললাম, ‘তোমরা তাহলে আগে চার দিকে নিরাপত্তা ঠিক করো। যতটুকু আমি চক্কর দিয়ে আসলাম, এই জায়গাগুলো ঠিক করো।’ দেখা গেলো লাখ লাখ বাঘ। বিরাট বড় বড় বাঘ। একেকটা বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ হাত লম্বা। মানুষ অনেক। আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স, পুলিশ, যত ফোর্সের লোক ছিলো সব সাফ হয়ে গেছে। কেউ নেই। ক্যান্টনমেন্টগুলো খালি। আমি যতদূর ঘুরে আসলাম বড় বড় ক্যান্টনমেন্ট- এই আমাদের বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া দিল্লি, পাকিস্তান পর্যন্ত। আরব সাগর ও এডেন উপসাগরের উপর দিয়ে গিয়ে ইয়ামেন, ইয়ামেন থেকে লোহিত সাগর হয়ে মিশর হয়ে ভূমধ্যসাগরের উপর দিয়ে গিয়ে গ্রীস। ওখান দিয়ে পুরা চক্কর দিয়ে এসে এদিক দিয়ে এখানে যতগুলি দেশ, সবগুলি। তারপরে রাশিয়া পার হয়ে পৃথিবীর পূর্ব দিকে এসে বরাবর নীচের দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে জাপানের ডান পাশ দিয়ে থাইল্যান্ড হয়ে আরব সাগর হয়ে ইয়ামেন হয়ে চক্কর দিয়ে এসে আবার দিল্লী পর্যন্ত। সব বিরান। হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ বাঘ। বাঘগুলোও মরে পড়ে রয়েছে। মানুষও মরে পড়ে রয়েছে। কোটি কোটি মানুষ। পরে দেখা গেলো এই এলাকাগুলো আবাদ হলো, নিরাপত্তা দিয়ে মোটামুটি একটা অবস্থা দাঁড় করানো হলো। কিন্তু লোক সংখ্যা অনেক কম। বাঘ তো প্রায় সব মরেছে। এখন কিছু থাকতেও পারে পালিয়ে। আমি বললাম- ‘ওগুলি দেখো, খুঁজে বের করো।’ কিছু বাঘ পাওয়া গেছে, ওগুলি মেরে ফেলা হয়েছে। এরা মানুষের শত্রু। অনেক বড় বড় বাঘ। এতো গুলি করা হচ্ছে; কিন্তু বাঘগুলো গুলি পরওয়া করে না। একটা বাঘ আসে (লোকজন) সামনাসামনি গুলি করে, বাঘ গুলির পরওয়া না করে লাফ দিয়ে এসে ধরে লোকটাকে খেয়ে ফেলে। কামড়িয়ে মেরে ফেলে। আর থাবা দেয়। বাঘের থাবা তো কঠিন থাবা। বাঘ শেষ হয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ বাঘ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মত। আবার অনেক বড় বড়ও আছে অর্থাৎ ছোট, বড় সর্বপ্রকার আছে। সমস্ত ক্যান্টনমেন্টগুলো খালি। সবগুলি ঘুরে দেখলাম যে, আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্সের লোক সব গায়েব। খেয়ে ফেলেছে কিছু, আর কিছু অর্ধ খাওয়া, মৃত। এমন থাবা দিয়েছে যে, মাথা গুড়া হয়ে গেছে। বাঘ তো মাথার মধ্যে থাবা দেয়। অনেক বিরাট মারামারি, কাটাকাটি, খুনাখুনি। পরে একটা অবস্থা দাঁড়ালো, এই এলাকাগুলো আবাদ হলো। লোক সংখ্যা নেই বললেই চলে। পরে আমরা কতগুলি বন্দুক পেলাম- একেকটার মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার গুলি আছে। একটা বাঘকে সাড়ে ৫ হাজার গুলি করলে দমন করা যায়। দশ-বিশটা গুলি করলে দমন করা যায় না। বাঘ দশ-বিশটা গুলি পাত্তা দেয় না। গুলি ক্রিয়া করে মরতে তো সময় লাগে। এর মধ্যে সে মানুষটিকে মেরে ফেলে। শক্তিশালী তো এগুলো। আর বাঘগুলি বিরাট বড় বড়। অনেক বড়। গরুর মত উঁচু, লম্বা। কতোগুলি হাতির মত বিরাট। বিশ-পঞ্চাশটা গুলিতে কিছুই হয় না। হাজার হাজার গুলি করলে, পরে মারা যায়। আর বাঘগুলো আসে খুব ক্ষিপ্ত হয়ে। একদম পুরো এই চক্করটা- দিল্লী থেকে শুরু করে পাকিস্তান হয়ে মিশর হয়ে হাঙ্গেরী হয়ে পোল্যান্ড হয়ে পুরা এই অংশে যতগুলো দেশ আছে, সব ঘুরে এসে তারপরে রাশিয়া পার হয়ে পৃথিবীর পূর্ব দিকে এসে বরারব নীচের দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে জাপানের ডান পাশ দিয়ে থাইল্যান্ড হয়ে আরব সাগর হয়ে ইয়ামেন হয়ে চক্কর দিয়ে এসে আবার দিল্লী পর্যন্ত। পুরা সার্কেলটা। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) কত বড় সার্কেল এটা? হ্যাঁ? অনেক বাঘ। অন্য কোনো প্রাণী না, শুধু বাঘ। ভয়ঙ্কর। এগুলোকে আমি দেখি, এরা কিন্তু আমাকে দেখে না। আমি যাচ্ছি। লোকজন ঠিকই আমার ডানে বামে যাচ্ছে। বাঘগুলো মারতেছে। ডানে বামে যাচ্ছে। আমার সাথে কিছু লোক যাচ্ছে। পরে দেখি আমি একাই। পরে এসে লোক জোগাড় করেছি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

আরজী: মানুষ যারা ছিলো, তারা কার পক্ষে?

জওয়াব মুবারক: বাঘগুলো কোনোটা আমাদের পক্ষে না। মানুষ আমাদের পক্ষে। এখন মানুষ মানুষের ছুরতে। বাঘগুলি শত্রু হতে পারে, কাফের হতে পারে। মানুষ ঈমানদার। অনেক বাঘ! অসংখ্য, লক্ষ লক্ষ, এখন কোটি হতে পারে। আর মানুষও কোটি কোটি। বাঘ আর মানুষের জিহাদ। এরিয়াটা বা এলাকাটা আমার খেয়াল আছে, কতটুকু ঘুরলাম। আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স তারা তাদের কামান, বন্দুক, পিস্তল দিয়ে অনেক গোলাগুলি করেছে। কিন্তু বাঘগুলি কোনো পরওয়া করেনি। ট্যাঙ্কের উপর লাফ দিয়ে একটা বাঘ উঠে গেলে, কি করবে? আর যেই বিরাট বড় বাঘ! ট্যাঙ্ক তো এটার তলে পড়ে থাকে। ছোট বড় অনেক বাঘ আছে। ছোট, মাঝারি, বড়। বড়গুলো তো অনেক বড়। বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ হাত লম্বা। অনেক লম্বা, উঁচু। গরুর মত, মহিষের মত, হাতির মত উঁচু। মাঝারি সাইজের বেশি। ছোট, বড় কম। মাঝারিগুলো গরু-মহিষের মত উঁচু। আর লম্বায় এই রুমের সমান হবে না, একটু কম হবে। ১০-১৫ ফুট তো স্বাভাবিক, ২০ ফুট। এতো লম্বা মাঝারি যেগুলো। এই সাইজের বাঘ বেশী। আর ছোট-বড় আছে। তবে দেখতে দেখা গেলো সব রয়েলবেঙ্গল টাইগার অর্থাৎ ডোরাকাটা সব। হিংস্র বেশি। অন্য কোনো প্রাণী নেই। শুধু বাঘ। সিংহ বা অন্য কিছু আমি দেখিনি।

শুধু বাঘ দেখলাম। এক চেটিয়া বাঘ। দলে দলে বের হয়ে আসতেছে এগুলি। অনেক হিংস্র। আর বন-জঙ্গল দেখলাম অনেক। এখন শয়তান হোক আর শত্রু হোক, যাই হোক, কাফের-মুশরিক হোক, এগুলি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আর মানুষও মারা গেছে; কিন্তু এরা সব শেষ। মরে পরিষ্কার হয়ে গেছে। পরিশেষে আমার একটা কথা মনে হলো- ঐ যে আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনি যে খলীফা হলেন, কিছুই নেই, এরকম। সব ফাঁকা, কিছুই নেই। আমি শেষে যেখানে আসলাম- কয়েকটা অনেক বড় বিল্ডিং দেখলাম। অনেক বড় বিল্ডিং। অনেক বড়, উঁচু, লম্বা, চওড়া। আর চার দিকে জঙ্গল, গাছপালা। এখানে এসে আমি থামলাম। থেমে দেখলাম কিছুই নেই। অনেক লোক মৃত পড়ে রয়েছে। আমি দেখলাম- অনেকের সাথে পিস্তল, বন্দুক অন্যান্য অস্ত্র আছে। এক জায়গায় একজনের কাছে একটা বন্দুক খুঁজে পেলাম। মারা গেছে লোকটা। আর্মির লোক হবে সে। এখানে লেখা আছে- সাড়ে ৫ হাজার গুলি এটার ভিতরে। আমি বললাম- ‘এরকমই তো দরকার আমার। সাড়ে ৫ হাজার গুলি, তাহলে বাঘ মারতে সহজ।’ আমি কিছু জোগাড় করলাম। কয়েকটা লোক আসলো আমাদের। তখন আমি বললাম যে, ‘ঢাল-তলোয়ার না, বাঘ আসলে দৌড়িয়ে আসে, ঢাল-তলোয়ার দিয়ে পারা যাবে না।’ গুলি করলে কতগুলো মরে পরে যায়। আবার কতগুলি আক্রমণ করে। এরকমই।

আমি বলেছিলাম যে, ‘বেশি পাওয়ার ফুল আছে কিনা?’ তারা দিতে পারেনি, পরে পেয়েছি। এখন বাস্তবে আছে কিনা। সাড়ে ৫ হাজার গুলি একটার মধ্যে। তখন আমি বললাম, ‘এটাইতো দরকার। এগুলি দিয়ে গুলি করলে যত বড় বাঘ হোক, মারা যাবে।’ যেগুলি বড় বড় অনেক বিরাট, হিংস্র। বাঘ যদি গরুর সমান লম্বা ও মোটা হয়, ওটাকে গুলি করলে কি কাজ হবে? দশ, বিশটা গুলিতে কি হবে? একবারে হাজার হাজার গুলি করতে হয়। ৫ হাজার গুলি একবারে করতে পারলে পড়ে যাবে। বিরাট বড় বাঘ। ছোটও আছে। ছোটগুলিতো ঘায়েল করা গেছে, বিরাট বড়গুলিতো কঠিন। বাঘের তো অনেক শক্তি আছে। সহজে পড়ে না। হিংস্র, অনেক হিংস্র। লক্ষ লক্ষ বাঘ। কোটিও হতে পারে।

এখন শত্রুতো আমাদের থাকবেই। কাফের-মুশরিকরা তো বিরোধিতা করবেই। তবে আমরা ইস্তিক্বামত থাকলে, অবশ্যই কামিয়াবী লাভ করবো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

জিন-ইনসান অনেক ছিলো। ক্ষতি হয়েছে। শেষে আমরাই কামিয়াবী হাছিল করেছি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এখন বড় জিহাদ হলে কী রকম হবে? মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে- বড় জিহাদ হলে ১০০ জনে ১ জন জিন্দা থাকবে। অবস্থা অনেকটা এরকমই। এই পুরোটা মনে হয় বিরান হয়ে গেছে। এশিয়া পুরো, ইউরোপের কিছু। বড় বড় দুব্বা ঘাস। আর এমন গাছপালা যা বড় বড় গাছপালা। বড় বড় গাছপালা আছে। দুব্বা ঘাসগুলি বড় বড়। বাঘ তো একটা দুইটা না। একটা দুইটা হলে এক কথা। একশ দুইশও না। লক্ষ লক্ষ। এখন এগুলি শত্রু হোক বা আর যাই হোক, শয়তান। ইনসানের থেকে জিন বেশি। শয়তানের দল অনেক বড় না? এগুলি বাঘের ছুরতে আসতে পারে, অসুবিধার কি আছে? কারণ কাফেররা তো কাফের। ঐ শয়তান তো থাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য। এখন মূল বিষয় ইস্তিক্বামত থাকলে কামিয়াব, আর কিছু না। এখন জিহাদ করলে কিছু লোক তো শহীদ হবেই। যারা শহীদ হবে, তারা কামিয়াব। আর কিছু লোক থাকবেই, তারা গাজী। এটা স্বাভাবিক। এখানে ভয়ের তো কিছু নেই। এখন আমাদের লোকদের দায়িত্ব হলো- তাদের কাজগুলো ঠিকমত করা। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এর আগে আরেকবার দেখেছিলাম। বলছিলাম না? ‘একটা বিরাট জিহাদ। অনেক বড় জিহাদ। সেই জিহাদ মুবারক-এ আমরা তাশরীফ মুবারক নিয়েছি।

আমি সামনে আছি। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের তরফ থেকে চারজন প্রধান ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে উনারা ৪ জন ও অন্যান্য হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিয়ে বদরের জিহাদে যেভাবে কামিয়াবী হাদিয়া করা হয়েছে, তদ্রুপ যেন আমাদেরকেও কামিয়াবী হাদিয়া করা হয় এবং ঐ জিহাদে আমরা কামিয়াবী লাভ করলাম।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

এখন কোনটা গাজওয়াতুল হিন্দ, ঐটা পরে ফায়ছালা হবে। মূল বিষয়টা হচ্ছে- জিহাদ হয়েছে, আমরা কামিয়াবী হাছিল করেছি। এটা হলো- বাঘের সাথে মানুষের জেহাদ। কামিয়াবী তো হাছিল হয়েছে। গায়েবী মদদ ছাড়া তো কামিয়াবী হাছিল করা যায় না। এটাও গায়েবী মদদ; অন্যথায় পারার কথা ছিলো না। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিসসালাম!)

আর যতগুলি বাঘ আছে আমার ডানে বামে গেছে। কিন্তু এরা আমাকে দেখেনি। যত বড় বাঘ আছে, গেছে। বিরাট বড় বড় আকৃতির। এখন আমাদের লোকজনদেরকে ঈমানী কুওয়াত হাছিল করতে হবে। বুঝতে পারলে? জিসমানী কুওওয়াত দিয়ে পারা যাবে না। যাহিরী কুওওয়াত দিয়ে এটা সম্ভব না। এটা হলো রূহানী কুওওয়াত। রূহানী কুওওয়াত হাছিল করতে হবে, তাহলে কামিয়াব। আর ইবলীস শয়তান ২৪ ঘন্টাই এই জায়গায় ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আর দেশি বিদেশি শত্রু তো আছেই। সব তো একই। এগুলি আলাদা নয়। তাহলে চিন্তার কি আছে। এরা চোখের পলকে উড়ে যাবে। এখন শেষ পর্যন্ত কামিয়াবী হাছিল হওয়াই মূল বিষয়। কামিয়াবী হাছিল আমাদের হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় হচ্ছে ঈমানী কুওওয়াত আর নিসবত। নিসবত ঠিক থাকলে, ঈমানী কুওওয়াত ঠিক থাকবে। আর নিসবত না থাকলে, ঈমানী কুওওয়াত থাকবে না।”

মওযূ ও ছহীহ হাদীছ শরীফ নির্ণয়ের প্রকৃত মানদণ্ড সম্পর্কে বর্ণনা- পর্ব-২৯

মওযূ ও ছহীহ হাদীছ শরীফ নির্ণয়ের প্রকৃত মানদণ্ড সম্পর্কে বর্ণনা- পর্ব-২৯

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবূব, মুরাদ ও সমগ্র কায়িনাতের মালিক হিসেবে সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছু দিয়ে সৃষ্টি মুবারক করে উনাকে উনার সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং উনার কুদরত মুবারক অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন অর্থাৎ উনার হাক্বীক্বী যিয়ারত, ছোহবত, দীদার মুবারক-এ উনি ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! এর মধ্যে কোনো জুদায়ী নেই। সুবহানাল্লাহ! আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংযুক্ত এবং সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে উনারাও একই সম্মানে সম্মানিত এবং একই ফযীলত মুবারক, উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ! এই কারণে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّ يقَُاسُ بِنَا اَحَدٌ

অর্থ: ‘হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না।’ সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববা ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি) কিন্তু মরদূদ শয়তান এবং তার শাগরিদ ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিক, মুনাফিক্ব ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা শুরু থেকেই সবসময় কোশেশ করেছে, কিভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান মুবারক খাটো করা যায়, উনাদেরকে নিয়ে চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করা যায়, উনাদেরকে হেয় প্রতিপনড়ব করা যায়। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তাই তারা বিভিনড়ব কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে তারা তাহরীফ বা পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতে পারেনি, আর কস্মিনকালে পারবেও না। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اِنَّ نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَاِنَّ لَهٗ لَحٰفِظُوْنَ

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ আমিই নাযিল করেছি এবং নিশ্চয়ই আমিই উনাকে হেফাযত করবো।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা হিজ্ব শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৯) কিন্তু তারা অত্যন্ত কূটকৌশলে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে তাদের অনেক মনগড়া, মওযূ, বানোয়াট, বাতিল এবং ইসরাঈলী বর্ণনা প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেগুলো যাচাই-বাছাই করার কোশেশ করেছেন এবং উনাদের সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করেছেনও। এজন্য উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রহণ করার ব্যাপারে অনেক শর্ত- শারায়েত নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু উনাদের অজান্তে একটা শর্ত বাদ পড়ে গেছে। আর সেটা হচ্ছেন- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো বর্ণনা গ্রহণ করা যাবে না। সেটা যত বড় ছিকাহ্ রাবীই বর্ণনা করুন না কেন, তা মওযূ ও বাতিল হিসেবে পরিগণিত হবে। আর উনাদের শান মুবারক সম্মত কোনো বর্ণনা, সেটা যত দূর্বল রাবীই বর্ণনা করুক না কেন, তা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবেন এবং ছহীহ হিসেবে পরিগণিত হবেন।’ সুবহানাল্লাহ! আর এই শর্ত সংযুক্ত না থাকার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শান মুবারক উনার খিলাফ অনেক মনগড়া, মওযূ, বানোয়াট, বাতিল এবং ইসরাঈলী বর্ণনা বিভিন্ন হাদীছ, তাফসীর, ফিক্বাহ্-ফতওয়া, আক্বাইদ, উছূল, সীরাত, ইতিহাস ও অন্যান্য গ্রন্থে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর অসংখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ কিতাবে লিপিবদ্ধ হওয়া থেকে বাদ পড়ে গেছেন। আর যে সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ লিপিবদ্ধ হয়েছেন, এই শর্ত সংযুক্ত না থাকার কারণে উনাদের অনেকগুলোকে আবার বিভিন্ন কিতাবে বানোয়াট ও মওযূ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! যার কারণে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মুসলিম উম্মাহ্ উনাদের হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িলফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক অনুধাবনে এবং উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও হুসনে যন মুবারক পোষণে ব্যর্থ হয়েছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর এ সকল কারণে ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিক, মুনাফিক্ব, বাতিল ৭২ ফেরক্বার লোকেরা ও নাস্তিকরা মুসলিম উম্মাহর মাঝে ফেতনার আগুন ছড়াতে সমর্থ হয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! বর্তমানে সেই ফেতনার আগুন লেলিহান শিখার ন্যায় দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং গোটা মুসলিম উম্মাহ্কে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে। তাই এ সকল মওযূ হাদীছগুলো নির্ণয় করা এবং তার খণ্ডনমূলক জবাব দেয়া পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরযে আইন ছিলো। কাজেই বর্তমানে যারা আছে তাদের সকলের ঈমানী দায়িত্ব এবং ফরযে আইন হচ্ছে এই সুমহান কাজের আনজাম দেয়া।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো বর্ণনা, কোনো ক্বওল (কথা) বা লিখা গ্রহণ করা যাবে না। সেটা যত বড় ইমাম-মুজতাহিদ, ওলীআল্লাহ ও ছিকাহ্ রাবীই বর্ণনা করুন না কেন, বলুন না কেন বা লিখুন না কেন এবং তা হাদীছ, তাফসীর, ফিক্বাহ্, ফতওয়া, আক্বাইদ, উছূল, শরাহ্, বালাগাত-মানতেক ও ইতিহাসের যত বড় নির্ভরযোগ্য কিতাবেই থাকুক না কেন, অবশ্যই অবশ্যই তা মওযূ ও বাতিল হিসেবে পরিগণিত হবে। আর উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক সম্মত কোনো বর্ণনা, সেটা যত দূর্বল রাবীই বর্ণনা করুক না কেন এবং যেই ব্যক্তিই বলুক না কেন বা লিখুক না কেন, তা অবশ্যই অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবেন এবং ছহীহ হিসেবে পরিগণিত হবেন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা- আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবীরসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো কথা বা লিখা, সেটা যত বড় ইমাম-মুজতাহিদ, ওলীআল্লাহ বলুন না কেন বা লিখুন না কেন, তা কস্মিনাকালেও গ্রহণ করা যাবে না। এগুলো বলা, লিখা, গ্রহণ করা এবং সমর্থন করা প্রত্যেকটাই কুফরী ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।” না‘ঊযুবিল্লাহ!

এটাই চূড়ান্ত ফায়ছালা মুবারক। কেননা ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের মালিক এবং তিনি একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা দুজন ব্যতীত সকলের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শায়েখ আলাইহিস সালাম। আর সকলে উনার মুরীদের অন্তর্ভুক্ত। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের পরে সবচেয়ে বড় ওলীউল্লাহ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ পৃথিবীর ইতিহাসে এই পর্যন্ত যত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম অতীত হয়েছেন, উনারা প্রত্যেকেই ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক-এ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে এসে মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে মহাসম্মানিত বিশেষ নিয়ামত মুবারক হাছিল করেছেন এবং হাছিল করে যাচ্ছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! সেটাই হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বলেছেন, “আপনি যেই ফতওয়া দিয়েছেন এটাই সঠিক। আপনার ফতওয়ার উপরে কারো ফতওয়া দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহি সালাম!)

কাজেই ছহীহ হাদীছ শরীফ নির্ণয়ের প্রকৃত মানদণ্ড- হচ্ছেন-

 * নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া,

* উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া,

* মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া,

* মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া,

* মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া,

* হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া,

* হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া এবং

* মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া।

আর এর বিপরীত যত বর্ণনা রয়েছে, প্রত্যেকাটাই মওযূ।

যেমন- হাদীছ, তফসীর, শরাহ, উছূল, আক্বাইদ, তাছাউফ ইত্যাদি কিতাবে বলা হয়েছে যে, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইজতিহাদ করেছেন এবং উনার ইজতিহাদে ভুলও হয়েছে।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়; আরো বলা হয়েছে যে, ‘এজন্য নাকি মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে তিরস্কারও করেছেন।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! কিতাবাদিতে এই কুফরী আক্বীদাকে ছাবিত করতে যেয়ে বর্ণনাগত কিছুটা পার্থক্য করে কয়েকটা মওযূ হাদীছ দিয়ে দলীল দেয়া হয়েছে। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে- তাদের ভাষ্যমতে

‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বদরের জিহাদের সময় গণীমতের মাল বন্টন সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরশাদ মুবারক করেছেন,

لَوْ نَزَلَ الْعَذَابُ مَا نَجٰى اَحَدٌ مِّنَّا اِلَّ حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَمُ وحَضْرَتْ مُعَاذَ بْنَ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَفِىْ لَفْظٍ اٰخَرَ لَوْ نَزَلَ الْعَذَابُ لَمَا رَضِىَ نجََا مِنْهُ غَيْرُ حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَمُ وحَضْرَتْ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ

অর্থ: “যদি আযাব নাযিল হতো, তাহলে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এবং হযরত মুয়ায ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা দুজন ব্যতীত আমাদের মধ্য থেকে একজনও নাজাত পেতাম না।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! শব্দগত কিছুটা পার্থক্য করে অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘যদি আযাব নাযিল হতো, তাহলে অবশ্যই হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এবং হযরত সা’দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা দু’জন ব্যতীত এই আযাব থেকে একজনও নাজাত পেতো না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (নূরুল আনওয়ার, তাফসীরে জীলানী, রদ্দুর রওয়াফিদ্ব লি ইমামে রব্বানী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তাফসীরে বায়যাভী, শিফা, শারহুয যারক্বানী, তাফসীরে দুররে মানছূর ইত্যাদি)

তারপর উছূলের কিতাবে বলা হয়েছে,

فَظَهَرَ اَنَّ الْحَقَّ هُوَ رَأْىُ حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَمُ وَاَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ  عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَخْطَاَ حِيْنَ عَمِلَ بِرَأْىِ حَضْرَتْ اَبِىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَمُ

অর্থ: “কাজেই এটা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার অভিমতই সঠিক ছিলো। আর নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার অভিমত অনুযায়ী আমল করার কারণে ভুল করেছেন।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! (নূরুল আনওয়ার)

আর ‘ফিক্বহুল আকবারসহ’ আরো অনেক কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,

وَقَدْ كَانَتْ مِنْهُمْ زَلَّتٍ وَّخَطَايَ

অর্থ: “হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কখনও কখনও পদস্খলন ও ভুল হতো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! (আল ফিক্বহুল আকবার লি ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি, আক্বাইদ, উছূল, শরাহ ও তাফসীর গ্রন্থাবলী)

ফলে শত শত বছর ধরে মানুষ এই কুফরী আক্বীদাকে তাদের অন্তরে লালন করে আসছে এবং লেখালেখি ও বলাবলির মাধ্যমে প্রচার-প্রসার করে আসছে যে, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইজতিহাদ করতেন এবং উনার ইজতিহাদে কখনও কখনও ভুল হতো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! আর তারই প্রমাণ বহন করছে- হাদীছ, তফসীর, ফিক্বাহ্-ফতওয়া, শরাহ, উছূল, আক্বাইদ, তাছাউফ ও ইতিহাসের মু’তাবার কিতাবগুলো। সেখানে শুধু এই কুফরী আক্বীদাহ্লি পিবদ্ধই হয়নি; বরং কোনো কোনো লেখক উনাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে এই কুফরী আক্বীদাকে ছাবিত করতে আপ্রাণ ব্যর্থ চেষ্টাও করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “উপরোক্ত বর্ণনাগুলোসহ অনুরূপ আরো যত বর্ণনা রয়েছে, প্রত্যেকটিই মওযূ, বাতিল, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত কোনো কথা মুবারক বলেননি, কোনো কাজ মুবারক করেননি এবং কোনো কিছু সমর্থন মুবারকও করেননি। উনার হাটা-চলা মুবারক, নড়া-চড়া মুবারক, খাওয়া-দাওয়া মুবারক, শ্বাস প্রশ্বাস মুবারক, চোখ মুবারক উনার পলক মুবারক, দৃষ্টি মুবারক, ঘুম মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্বপ্ন মুবারক ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوٰى. اِنْ هُوَ اِلَّ وَحْىٌ يوُّْحٰى

‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত নিজ থেকে কোনো কথা মুবারক বলেন না, কোনো আমল মুবারক করেন না, কোনো সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেন না।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩-৪)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بعَْضَ الَْقَاوِيْلِ. لََخَذْنَ مِنْهُ بِلْيَمِيْنِ. ثمَُّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِيْنَ. فَمَا مِنْكُمْ مِّنْ اَحَدٍ عَنْهُ حٰجِزِيْنَ

‘যদি তিনি আমার নাম মুবারক-এ বানিয়ে বানিয়ে কোনো কথা বলতেন, তাহলে আমি আমার কুদরতী ডান হাত মুবারক দ্বারা অর্থাৎ কুদরতীভাবে উনাকে পাকড়াও করে উনার প্রাণ রগ কেটে দিতাম অর্থাৎ উনাকে কঠিন শাস্তি দিয়ে মৃত্যুদ- দিতাম। তোমাদের কেউ উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে রক্ষা করতে পারতে না।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হাক্কাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৪-৪৭)

কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজ থেকে কিছু বলেছেন, করেছেন বা সমর্থন করেছেন এরূপ আক্বীদাহ্পো ষণ করা কুফরী। একইভাবে ‘তিনি ইজতিহাদ করেছেন এবং উনার ইজতিহাদে ভুল হয়েছে।’ এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করাও কাট্টা কুফরী ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।” না‘ঊযুবিল্লাহ! আবার বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, ত্ববারনী শরীফ, মিশকাত শরীফ,তাফসীরে মাযহারীসহ আরো অনেক কিতাবে রয়েছে,

اِنَّ نِسَاءَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُنَّ حِزْبَيْنِ

অর্থ: “নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা দুই দলে বিভক্ত ছিলেন।” না‘ঊযুবিল্লাহ!

বুখারী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদে আহমাদ, দারেমী,রাওদুন নাদীর ইত্যাদি কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,

كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ اِحْدٰى اُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ عَلَيْهِنَّ السَّلَمُ فَاَرْسَلَتْ اُخْرٰى بِقَصْعَةٍ فِيْهَا طَعَامٌ فَضَرَبَتْ يَدَ الرَّسُوْلِ فَسَقَطَتِ الْقَصْعَةُ فَانْكَسَرَتْ فَاَخَذَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكِسْرَتَيْنِ فَضَمَّ اِحْدَاهُمَا اِلَى الُْخْرٰى فَجَعَلَ يجَْمَعُ فِيْهَا الطَّعَامَ وَيَقُوْلُ غَارَتْ اُمُّكُمْ كُلُوْا

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের একজনের পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করছিলেন। অন্য একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম তিনি (একজন খাদিমের মাধ্যমে) একটি পাত্রভর্তি খাবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পাঠান। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করছিলেন তিনি খাবারের পাত্র বহনকারীর হাতে আঘাত করেন। (না‘ঊযুবিল্লাহ!) সাথে সাথে পাত্র মুবারকটি নীচে পড়ে ভেঙ্গে যায়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পাত্রের টুকরা দু’টি তুলে নিয়ে একটির সাথে অপরটি জোড়া লাগিয়ে তার মধ্যে পড়ে যাওয়া খাবারগুলি একত্রিত করেন এবং ইরশাদ মুবারক করেন- ‘আপনাদের মাতা আলাইহাস সালাম উনার আতড়বসম্মানে আঘাত লেগেছে। আপনারা (এটা) আহার করুন।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “উপরোক্ত বর্ণনাগুলোসহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ আরো যত বর্ণনা রয়েছে, প্রত্যেকটি বর্ণনাই বাতিল, মওযূ, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!

কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন,

وَلَوْلَٓ اِذْ سَمِعْتُمُوْهُ قُلْتُمْ مَّا يَكُوْنُ لَنَآ اَنْ نَّتَكَلَّمَ بِهٰذَا سُبْحٰنَكَ هٰذَا بهُْتَانٌ عَظِيْمٌ

অর্থ: “তোমরা যখন (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ এলোমেলো) এই কথা শুনলে, তখন কেন বললে না যে, এই বিষয়ে আমাদের কোনো কথা বলার অধিকার নেই। তিনি (অর্থাৎ উনারা) অত্যন্ত পবিত্রতম। মহান আল্লাহ পাক তিনিও পবিত্র থেকে পবিত্রতম। এটা একটা কঠিন অপবাদ।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬)

মহান আল্লাহ পাক তিনি এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টির উপর এটা ফরয করে দিয়েছেন যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো কথা যখনই তারা শুনবে বা পড়বে, তখনই সাথে সাথে তাদেরকে বলতে হবে, ‘এই বিষয়ে আমাদের কথা বলার কোনো অধিকার নেই। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা অত্যন্ত পবিত্রতম। এগুলো সব কঠিন অপবাদ। যারাই বলেছে, লিখেছে বা বর্ণনা করেছে, তারা মিথ্যা বলেছে, মিথ্যা লিখেছে, মিথ্যা বর্ণনা করেছে। সৃষ্টির কারো উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ কথা বলার বা লিখার কোনো অধিকার নেই।’

কাজেই এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে সমস্ত বান্দা-বান্দী, উম্মত সকলের জন্য এটা বলা ফরযে আইন সাব্যস্ত হয়েছে যে, ‘বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ, মুসনাদে আহমদ, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে জীলানী, তাফসীরে মাতুরীদী, মকতূবাত শরীফ, রদ্দুর রওয়াফিদ্বসহ হাদীছ-তাফসীর, ফিক্বাহ্-ফতওয়া, আক্বাইদ-উছূল, শরাহ্, তাছাউফ ও ইতিহাসের বড় বড় নির্ভরযোগ্য কিতাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিনড়বাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ যত হাদীছ ও বক্তব্য রয়েছে, প্রত্যেকটাই বাতিল, মওযূ, বানোয়াট, মিথ্যা, মনগড়া এবং ভিত্তিহীন।’

 সেটাই ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্ব-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালাআনহুম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো কথা বা লিখা, সেটা যত বড় ইমাম-মুজতাহিদ, ওলীআল্লাহ-বুযূর্গ যে কোনো ব্যক্তিই বলুন না কেন বা লিখুন না কেন, তা কস্মিনকালেও গ্রহণ করা যাবে না। এগুলো বলা, লিখা, গ্রহণ করা এবং সমর্থন করা প্রত্যেকটাই কুফরী এবং জাহান্নামী হওয়ার কারণ।” না‘ঊযুবিল্লাহ!

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে হক্বীক্বী ছহীহ্ সমঝ দান করুন। আমীন!

আপনার ফতওয়ার উপরে কারো ফতওয়া দেওয়ার কোন  অধিকার নেই’- পর্ব-২৮

‘আপনার ফতওয়ার উপরে কারো ফতওয়া দেওয়ার কোন  অধিকার নেই’- পর্ব-২৮

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৭শে রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল জুমু‘আহ্ শরীফ (খমীস দিবাগত জুমুয়াবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “ইদানিং কালে দেখা গেছে অতীতের অনেক আওলিয়ায়ে কিরাম, চেনা-অচেনা, জানা-অজানা উনারা অনেকে আসেন, ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করেন। কয়েকদিন আগে হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এসেছিলেন। উনি কয়েক দিন ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করেছেন। উনি তো অনেক বড় ওলীআল্লাহ, বুযূর্গ, আলেম। ক্বাদরিয়াহ্ খান্দানের খলীফা আবার হযরত মুজাদ্দীদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারও খলীফা। উনি প্রতিদিন পবিত্র ছলাতুল ইশা উনার নামায পড়ে মুরাকাবায় বসে চোখের পলকে হিন্দুস্থান থেকে সুদূর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক-এ চলে যেতেন এবং ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতেন। উনি কয়েকদিন এখানে থাকলেন, ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করলেন। একদিন আমি উনাকে ডাকলাম, ‘এদিকে আসেন।’ উনি কাছে আসলেন। আমি উনাকে একটা মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করলাম। উনি তো বড় মুফতী, মুহাদ্দিছ, অনেক কিছু, আলেম, ফক্বীহ্, ওলীআল্লাহ। আমি বললাম যে,‘দেখেন- আমরা ফতওয়া দেই। কি ফতওয়া দেই? আমরা ফতওয়া দেই বর্তমানে  হজ্জ করা নাজায়িয। আপনি তো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ ছিলেন। তখন তো আর ক্যামেরা ছিলো না।’ বললেন- ‘হ্যাঁ।’ স্বীকার করলেন উনি চুপ করে। অত্যন্ত আদবের সাথেই উনি সম্মতি প্রকাশ করেছেন। যাই হোক। আমি বললাম যে, ‘এই ব্যাপারে আপনি কী বলেন? আমারা তো ফতওয়া দেই যে, হজ্জ করা এখন জায়েয নেই, হারাম। কারণ হাজার হাজার ছবি তুলতে হয়। ওখানে কুফরী কাজ করতে হয়। বেপর্দা হতে হয়।’ তখন উনি চুপ থাকলেন। এরপর অত্যন্ত আদবের সাথে উনি এটা সম্মতি প্রকাশ করলেন। উনি বললেন যে, ‘হ্যাঁ; এই ফতওয়াটাই সঠিক এবং আপনার ফতওয়ার উপরে কারো ফতওয়া দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহি সালাম!) আপনি যেই ফতওয়া দিয়েছেন এটাই সঠিক। এর উপরে কারো ফতওয়া দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহি সালাম!) বুঝতে পারলে? যা শুনবে, সে অনুযায়ী আমল করবে। এটা মনে রাখবে। তোমরা বুঝতে পারো না; কিন্তু অনেকে নফসের কারণে অনেক কিছু করে। এটা কিন্তু মূল বিষয় না। নফসকে নিয়ন্ত্রণ করাই হচ্ছে মূল বিষয়। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

اَلْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهٗ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ. وَالْعَاجِزُ مَنْ اَتْبَعَ نَفْسَهٗ هَوَاهَا وَتَمَنّٰى عَلَى اللهِ

‘জ্ঞানী ওই ব্যক্তি যে নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরকালের আমল করে। আর নির্বোধ, মূর্খ, নাদান ঐ ব্যক্তি যে নফসের পায়রবী করে আর মনে করে অনেক কিছু হাছিল করবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

ফয়েয মুবারক লাভ করে সক্রিয় হলেন ৪ মাযহাবের ইমামগণ- পর্ব-২৭

ফয়েয মুবারক লাভ করে সক্রিয় হলেন ৪ মাযহাবের ইমামগণ- পর্ব-২৭

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৮ই ছফর শরীফ মুতাবিক ৭ই রবি’ ১৩৯০ শামসী লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম অর্থাৎ সোমবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন- “এতোদিন ধরে থাকো তোমরা আমাদের আক্বীদাহ্টা বুঝো না। কবে বুঝবে? এতো বলা হয়। প্রতিদিন বলা হয়- আমাদের আক্বীদাহ্টা কি। তাহলে কিভাবে, কবে বুঝবে তোমরা? ছহীহ সমঝ না থাকলেও (ছোহবত মুবারক উনার তাছীরে) কমপক্ষে কিছুটা ছহীহ সমঝ তো হওয়ার কথা। (ছোহবত মুবারক উনার) একটা তাছীর আছে না। তোমাদের উপর তো (ছোহবত মুবারক উনার) তাছীর পড়ে না। তাহলে কিভাবে হবে? তোমাদের উপর তাছীর পড়বে কিভাবে? তোমাদের দিলের মধ্যে গণ্ড-গোল আছে। হ্যাঁ? তাহলে তাছীর হয় না কেন?

আমি যে একটা ঘটনা মুবারক বলেছিলাম। তোমরা এগুলি একটারও উপযুক্ত না। বলা হয়-

مال موفتےقدر نيست

‘মুফতে মাল পাওয়া গেলে তার কোনো ক্বদর থাকে না।’

অবস্থা হয়েছে এরকম। আমি যে একখানা ঘটনা মুবারক বলেছিলাম- হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনি একবার আমার কাছে আসলেন। উনি এসে আমাকে বললেন, ‘চলুন এক জায়গায় যেতে হবে।’ আমি বললাম, ‘কোথায় যেতে হবে?’ উনি বললেন, ‘ঐ যে চার মাযহাবের চার ইমাম আলাইহিমুস সালাম- আপনি গিয়েছিলেন একবার। চার ইমাম আলাইহিমুস সালাম। ঐখানে যেতে হবে।’ এর আগে আমি একবার গিয়েছিলাম। এর আগের ঘটনা হলো- একদিন আমি হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে গেলাম চার মাযহাবের চার ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনারা যেখানে আছেন ওখানে। আমি দেখলাম লম্বা একটা বাড়ি। ঐ বাড়িতে উনারা চারজনই শোয়া আছেন চারটা চকির মধ্যে। সবাইতো মনে হয় মৃতপ্রায়। সেখানে গেলাম। যাওয়ার পর দেখলাম- প্রম হচ্ছেন হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি। উনি বাচ্চা শিশুর মতো। বাচ্চারা যেমন অনেক সময় কাপড়-চোপড় নষ্ট করে, উনার গুলিও মনে হয় একটু নষ্ট হয়ে গেছে। পরে আমি ও হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ আমরা উনার কাপড়গুলি বদলিয়ে ঠিকঠাক করে দিলাম। ঠিকঠাক করে দেয়ার পরে উনি যুবক হয়ে গেলেন। আচ্ছা; ঠিক আছে। এরপরে দেখলাম হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপরে বাকি দুই জন। ঐদিন স্পষ্ট বুঝা যায়নি। পরে দেখেছি- পর্যায়μমে তারপর হযরত আহমদ বিন হাম্বাল রহমতুল্লাহি আলাইহি অতঃপর হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি। যাই হোক; ঐদিন এতোটুকু করেই আমরা চলে এসেছি। এটাই হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনি বললেন যে, ‘ঐ যে আপনি গিয়েছিলেন, ওখানে যেতে হবে।’ আমি বললাম- ‘যেতে হবে! গিয়ে কি করতে হবে?’ উনি বললেন, ‘ফয়েয দিতে হবে।’ আমি বললাম, ‘ফয়েয দিতে হবে! কিভাবে ফায়েজ দিতে হবে?’ উনি বললেন, ‘কিছু করতে হবে না, আপনি গেলেই চলবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) ঠিক আছে। তখন আমি হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে উনার সাথে ওখানে গেলাম। তখন দেখলাম- উনি একটা রংয়ের বালতি এবং সাথে কিছু ব্রাশ নিয়ে গেছেন। উনি বললেন যে, ‘এক কাজ করেন আমরা এটা রং করে দেই।’ যেখানে গেলাম ওখানে উনারা ৪ জন। ঐদিন স্পষ্ট দেখলাম- প্রমে হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি শুয়ে আছেন। এরপর হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপর হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপর হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি। রং করে নতুন করা হলো। এরপর গেলাম যাওয়ার পরই দেখা গেল উনারা ৪ জনই জিন্দা হয়ে গেলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) জিন্দা হয়ে সবাই খুব শক্তিশালী হয়ে গেলেন, একদম সμিয় হয়ে গেলেন এবং উনারা বসে লেখালেখি শুরু করলেন। অর্থাৎ উনাদের সবার সামনে ডেস্ক আছে, ডেস্কে বসে সকলেই লেখালেখি শুরু করলেন। তখন হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনি বললেন যে, ‘বাছ; হয়ে গেছে।’ এমতাবস্থায় দেখা গেলো ইবলিস বিকট ছুরতে সেখানে উড়ে আসতেছে। তখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বলা হলো ইবলিসকে হাজার মাইল দূরে নিক্ষেপ করুন। তখন সাথে সাথে চোখের পলকে ইবলিসকে হাজার মাইল দূরে নিক্ষেপ করা হলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এরপর আমাদেরকে নিয়ে একখানে বসালেন। বললেন যে, ‘এখানে বসেন।’ এরপর বললেন, ‘আপনার যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহাল-ইয়াল আলাইহিমুস সালাম-আলাইহিন্নাস সালাম উনারা আছেন, উনাদের সবাইকে এখানে নিয়ে আসেন।’ ঠিক আছে। আমি সবাইকে নিয়ে গেলাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি এসেছেন। কি করবেন? উনি ফয়েয মুবারক দিবেন। উনি ফয়েয মুবারক দিলেন। মহান আল্লাহ পাক উনিও ফয়েয মুবারক দিলেন। আমরা ওখানে কিছুক্ষণ থাকলাম। এরপর আমরা চলে আসলাম। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমার মূল কথা হচ্ছে- তোমরা যিকির করো, জারী হয় না! তোমরা যিকির করো না আসলে। এখন গেলেই যদি হযরত ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের এই অবস্থা হয়, উনারা জিন্দা হয়ে যান! তাহলে তোমরা জিন্দা হওনা কেন্? হ্যাঁ? আমি তো প্রত্যেক দিন এখানে আসি। তাহলে তোমরা জিন্দা হওনা কেন্? হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনি তো সাধারণ ব্যক্তি না! উনি জামি‘উন নিসবত। সমস্ত সিলসিলার মূল নিয়ামতগুলি উনার কাছে। সমস্ত সিলসিলার নিয়ামতগুলি উনি এক সাথে করেছেন। উনার মত ব্যক্তিত্ব মুবারক উনি আসলেন। বললেন- ‘গেলেই চলবে।’ তখন আমি গেলাম। ঠিকই যাওয়াতেই হয়ে গেল। উনারা চার জনই জিন্দা হয়ে গেলেন। জিন্দা হয়ে একদম খুব শক্তিশালী হয়ে উনারা আবার লেখালেখি শুরু করলেন। তাহলে গেলেই যদি উনারা শক্তিশালী হয়ে যান! ফয়েয না দিতেই ফয়েয পাওয়া যায়! সূর্য উঠলেই তো আলো হয়, সূর্যের তো আলো দিতে হয় না। সূর্যের আলো দিতে হয় কি? উঠলেই আলো পাওয়া যায়। এটা যদি হয়, হযরত ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনারাও যদি এভাবে হতে পারেন, তাহলে তোমরা হওনা কেনো? তোমাদের তাহলে গ-গোল আছে। যিকির-ফিকির করো বেশি বেশি। যিকির জারী হবে না কেনো? জারী হতে বাধ্য, ফরয। অবশ্যই জারী হবে। তোমরা যিকিরই করো না। কেউ কেউ বলে, পাছ আনফাছ জারী হয় না! পাছ আনফাছ জারী হবে না কেনো? হবে, জারী হতেই হবে। বলা হয়-

مال موفتےقدر نيست

‘মুফতে মাল পাওয়া গেলে, তার কোনো ক্বদর থাকে না। এরকম তো অনেক বলেছি। এটাতো একটা বিরাট নছীহতের বিষয়। এটা যদি সাধারণ কোনো লোক বলতো, তাহলে এক কথা ছিলো। ফয়েয তো উনিই দিতে পারেন। তাহলে আমাকে নিলেন কেন? হ্যাঁ? ফয়েয উনি দিতে পারেন না? এটাতো বুঝার, ফিকিরের একটা বিষয় আছে। এখন তোমাদের আক্বল-বুদ্ধির ত্রুটি থাকার কারণে সব বুঝো না। আমি তো বলি, সব বলে দেই। হ্যাঁ; সব ব্যাখ্যা না করলেও। ব্যাখ্যা তো সব করার প্রয়োজন নেই। আর ব্যাখ্যা করলে আবার অনেকে ভুল বুঝবে। ঈমান নষ্ট করে ফেলবে। এজন্যই মকতূবাত শরীফে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি লিখেছেন, আরো আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও অনেকেই লিখেছেন, হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনিও বলেছেন, ‘অনেক কথা আছে, যেগুলি বললে কাছের লোক দূরে সরে যাবে, দূরের লোক অস্বীকার করবে।’ সব কিছু তো আর ভাষা দিয়ে বলা যায় না। এতোটুকুই শুধু বুঝার জন্য। বলা হয়- ‘সব বললে কাছের লোক দূরে সরে যাবে, দূরের লোক অস্বীকার করবে।’এখন তোমাদের যিকির-ফিকির করা উচিত। যিকির-ফিকির করলে জারী হবে। জারী হতেই হবে। পাছ আনফাছ জারী করে, এরপর পরবর্তীতে কমপক্ষে সুলত্বানুল আযকার পর্যন্ত জারী করতে হয়। আর বাকীগুলি হলো মুরাকাবা। তাহলেই তো হয়ে যায়। এখন সবাইকে ইশা-ফজর পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করতে হবে। ফরযে আইন। এক নাম্বার। দুই নম্বর ফরযে আইন হচ্ছে, পাছ আনফাছ জারী করতে হবে। তিন নম্বর ফরযে আইন- যিকিরটা এক ঘন্টা করতে হবে, করে সুলত্বানুল আযকার জারী করতে হবে। এটা ফরয। অন্যথায় সে আমাদের কথা কিছুই বুঝবে না। এজন্য ঐযে সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফখানা আমি বলি বার বার-

وَمَثَلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا كَمَثَلِ الَّذِىْ يَنْعِقُ بِمَا لَ يَسْمَعُ اِلَّ دُعَاءً وَنِدَاءً صُمٌّ كْمٌ عُمْىٌ فَهُمْ لَ يعَْقِلُوْنَ ۢبُ

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলতেছেন যে, ‘কাফিরদের মেছাল হচ্ছে ঐ পশুর মতো- يَ نعْقِ তাকে ডাকলে لَ يَسْمَعُ সে আওয়াজ আর ডাকশব্দ ব্যতীত কিছু শুনে না। কারণ সে বোবা, বধির, অন্ধ, তার আক্বল নেই।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭১)

অবস্থা তো এরকম হয়ে গেছে। তাহলে কিভাবে হবে? যিকির-ফিকির নাস করলে তো এরকম হয়ে যাবে। এরকমই তো হয়ে যাচ্ছে। তাহলে বিষয়টা তো ফিকির করতে হবে। এখন যিকির-আযকার ফরযে আইন। আর অন্য কিছু যাই করো; আগে এটা করতে হবে, তারপর বাকী কথা। বুঝতে পারলে? যিকির-ফিকির ফরযে আইন। তোমরা যতো কিছু করো, কিছু উল্টাতে পারবে না। যিকির-আযকার করো। যিকির-আযকার করলে, নিসবত হবে, কুরবত হবে, তখন যদি কিছু করতে পারো; আর না হলে কিছু হবে না। এতো কিছু বলা হয়, এরপরেও তোমরা কোনো নড়া-চড়া করো না দেখি। তাহলে কিভাবে হবে? হ্যাঁ? অনুভূতি নেই।

بِمَا لَ يَسْمَعُ শুনে না اِلَّ دُعَاءً শুধু আমার আওয়াজগুলি শুনো তোমরা। তোমরা তো আমার কথাগুলি বুঝো না। তাহলে কিভাবে হবে?

مال موفتےقدر نيست

‘মুফতে মাল পাওয়া গেলে তার কোনো ক্বদর থাকে না।’ হযরত ইমামুস ছাদিস আলাইহিস সালাম উনিই যথেষ্ট। তাহলে আবার আমার প্রয়োজন কী? উনি কি কম নাকি? হ্যাঁ? উনি তো কম না! উনি তো সমস্ত ত্বরীকার মূল, জামে’ উনি। তাহলে আমাকে নিয়ে যাওয়ার কী প্রয়োজন? উনি গেলেই তো হয়? উনি বললেন, ‘গিয়ে ফয়েয দিতে হবে।’ আমি বললাম, ‘কিভাবে ফয়েয দিতে হবে?’ উনি বললেন, ‘না; কিছু করতে হবে না। গেলেই চলবে।’ তখন আমি গেলাম। হয়ে গেল। ঐখানে গেলে চলে, তাহলে এখানে আসলে হয় না? তাহলে হয় না কেনো? তোমরা তো অনুভূতিহীন। এখন ৪ জন একদম পুরা জিন্দা হয়ে গেলেন। উনারা ওখানে বসে গেলেন। বসে উনারা খুব শক্তিশালী হয়ে লেখালেখি শুরু করলেন। এটা যদি হয়, তাহলে অন্যটা হবে না কেনো? আসলে তোমরা তো অনুভূতিহীন। শুধু আমার আওয়াজ শুনো, আমার কথা তো বুঝনা। না বুঝলে যা হয়, তাই হচ্ছে। বিষয়টা তো ফিকিরের বিষয়। এগুলি তোমাদেরকে বলা হয়- তোমরা যদি কিছু বুঝো, শিখো, অনুভূতি হয়। অনুভূতি না হলে কিভাবে হবে? যেকোনো একটা ব্যতিক্রম কিছু হলে মানুষের উপর তার একটা তাছীর পড়ে। তাছীর তো সব জাগায় পড়বে না। রূহ থাকলে হবে। মুর্দার উপর কি তাছীর পড়বে? তাছীর তো পড়বে না। অবস্থা তো এরকম হয়েছে। জিন্দা হতে হবে।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৫ই ছফর শরীফ মুতাবিক ১৪ই রবি’ ১৩৯০ শামসী লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন,

مال موفتےقدر نيست

‘মুফতে পাইলে কোনো ক্বদর থাকে না।’

মুফতে পাওয়া যায় তো; আসলে অন্তরে যে চূ-চেরা আছে, ক্বীল-ক্বাল আছে, এই জন্য ফয়েয তো প্রবেশ করে না। তাহলে হেদায়েত হবে কোথা থেকে? কিভাবে হেদায়েত হবে? কিভাবে যিকির জারী হবে? যিকির তো জারী হবে না। অন্তরে তো চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল আছে। এটা তো ফিকির করতে হবে। এটা বুঝার বিষয়, ফিকিরের বিষয়। এই যে আমি বললাম, ‘হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার ঘটনা মুবারক।’ ঘটনা মুবারক তো লম্বা। সংক্ষিপ্তই বলি- উনি আমাকে বললেন, ‘একখানে যেতে হবে, চলুন।’ আমি বললাম, ‘কোথায় যেতে হবে?’ উনি বললেন, ‘ঐযে আপনি যে গিয়েছিলেন।’ আমি বললাম, ‘কোথায়?’ উনি বললেন, ‘ঐ চার ইমাম সাহেব উনাদের কাছে! ওখানে যেতে হবে।’ আমি বললাম, ‘আচ্ছা; কি করতে হবে?’ উনি বললেন, ‘গিয়ে ফয়েয দিতে হবে।’ তখন আমি বললাম- ‘কিভাবে ফয়েয দিতে হবে?’ উনি বললেন, ‘কিছু করতে হবে না, শুধু গেলেই চলবে।’ তখন আমি গেলাম। আমি হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে উনার সাথে ওখানে গেলাম। তখন দেখলাম- উনি একটা রংয়ের বালতি এবং সাথে কিছু ব্রাশ নিয়ে গেছেন। উনারা ৪ জন যেখানে আছেন, ঐ জায়গাটা একটু অপরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে। ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে, ‘আমরা এটাকে রং করে দেই।’ আমরা তিনজন মিলে রং করে দিলাম। ঐখানে যাওয়ার পর ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ আর দিতে হয়নি। বললে শুনতেস খারাপ শুনা যায়- উনারা সবাই মৃত ছিলেন। আমি যাওয়ার পরে সবাই জিন্দা হয়ে গেলেন। উঠে বসলেন। সবার সামনে ডেস্ক আছে ডেস্কে বসে উনারা লেখালেখি শুরু করলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনি বললেন, ‘এখন জিন্দা হয়ে গেছে। এখন উনাদের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। মানে ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ হয়ে গেছে।’ আমি বললাম, ‘আচ্ছা; ঠিক আছে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

এরপর ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনি আমাকে একখানে বসায়ে বললেন, ‘বসেন।’ আচ্ছা; বসলাম। তখন উনি বললেন যে, ‘আপনার সবাইকে এখানে নিয়ে আসেন।’ আমাদের সবাইকে ওখানে নিয়ে গেলাম। উনি বললেন, ‘এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ফয়েয মুবারক দিবেন।’ আমি বললাম, ‘আচ্ছা; আলহামদুলিল্লাহ।’ ফয়েয মুবারক দিলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনিও ফয়েয মুবারক দিলেন। বাছ; এই পর্যন্তই।

আমি সেটাই বললাম যে, আমি গেলাম। গেলেই হয়। উনি বললেন, ‘ফয়েয দিতে হবে না; গেলেই হবে।’ তাহলে আমি গেলে যদি এত বড় ইমামরা জিন্দা হয়ে যায়, তাহলে তোমরা মূর্খ লোকরা জিন্দা হওনা কেন? তোমাদের ভিতরে তো গালিজ আছে। হ্যাঁ? তাহলে তোমরা জিন্দা হওনা কেন? উনারা তো জিন্দা হয়ে কাজ শুরু করলেন। চার ইমাম তরতীব অনুযায়ী দেখলাম- ইমামে আ’যম আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপর ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপর ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৪ জন সিরিয়ালে। অনেক লম্বা বড় রুম। ৪ জনের চারটা আসন। ‘গেলেই হবে। ফয়েয দিতে হবে না।’ গেলেই ইমামরা জিন্দা হয়ে গেলেন, কাজ শুরু করলেন। আমি তো এখানে প্রত্যেক দিনই আসি। তাহলে তোমরা জিন্দা হওনা কেন? তাহলে তোমাদের অন্তরে গালিজ আছে। এই জন্য ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ প্রবেশ করে না। হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনিই তো যথেষ্ট ফয়েযের জন্য। উনি আবার আমাকে নিবেন কেন? উনি তো সমস্ত কিছুর জামে’, সমষ্টি। উনি বললেন যে, ‘গেলেই হবে।’ আমি বললাম, ‘কি করতে হবে গিয়ে?’ উনি বললেন, ‘ফয়েয দিতে হবে।’ আমি বললাম, ‘কিভাবে ফয়েয দিতে হবে?’ উনি বললেন, ‘দিতে হবে না, গেলেই চলবে।’ তখন আমি গেলাম। সব রং করা হয়ে গেলো। বাছ; উনারা জিন্দা হয়ে গেলেন। উনারা প্রত্যেকে সুনড়বতী চকিতে শোয়া ছিলেন। প্রমবারও গিয়ে দেখেছিলাম এরকমই। প্রমবার সবাইকে দেখেছি সিটে শোয়া আছেন; কিন্তু পরের বার গিয়ে বিস্তারিত দেখলাম। তাহলে পাছ আনফাছ জারী হবে না কেনো? ক্বলব জারী হবে না কেনো? হ্যাঁ? তাহলে নিশ্চয়ই অন্তরের মধ্যে গালিজ আছে, চূ-চেরা, ক্বিল-ক্বাল আছে। এরকম ঘটনা মুবারক তো অনেক আছে। কম বলা হয়েছে? অনেক বলা হয়েছে। এখন আক্বীদাহ্ তো শুদ্ধ না। এখন এইগুলো শুনেও আবার অনেকে মনে মনে চূ-চেরা করে। এটা আবার কেমন! (না‘ঊযুবিল্লাহ!) বুঝতে পারলে? এটা আবার কেমন? আপনি কি তাহলে চার ইমামের থেকে বড় হয়ে গেলেন নাকি! বড় হলে দোষ আছে কোনো? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

এখন আক্বীদাহ্ শুদ্ধ করতে হবে। আক্বীদায় ত্রুটি আছে। এখন যিকির-ফিকির  যদি করে, বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও হুসনে যন যদি পোষণ করে, তখন বরকত পাবে; অন্যথায় বরকত পাবে না।” আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি আমাদেরকে সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ এবং সর্বোচ্চ হুসনে যন মুবারক পোষণ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

সর্বাবস্থায় সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে দায়িমীভাবে রুজু... পর্ব-২৬

সর্বাবস্থায় সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে দায়িমীভাবে রুজু... পর্ব-২৬

আহলু আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১১ই ছফর শরীফ মুতাবিক ২৮শে ছালিছ ১৩৯১ শামসী লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “মানুষের আসলে ক্বিবলা ঠিক নেই। ক্বিবলা ঠিক নেই অর্থ হলো- এদের তো উচিত ছিলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু থাকা। এই দিকে তো এরা রুজু নেই। এরা একেক দিকে রুজু হয়েছে। ডানে বামে গিয়েছে। উচিত ছিলো ঐ দিকে রুজু হওয়া। সেই দিকে তো রুজু হয়নি। আগে দেখা উচিত ছিলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি আছেন; ঠিক আছে। এরপরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি কি বলেন, কি করেন ইত্যাদি ইত্যাদি এটা দেখা উচিত। এরপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিষয়গুলি বুঝা উচিত। এরপর হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিষয়গুলি। এরপরে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের বিষয়গুলি পর্যায়μমে। কিন্তু মানুষ তো সেটা করেনি। এরা উল্টো গিয়েছে। এরা কে কি ফতওয়া দিলো, কোথায় ফতওয়া দিলো, ঐ ফতওয়ার পিছনে পড়েছে। যার জন্য তারা মনযিলে মক্বছূদে পৌঁছতে পারেনি। তাসাউফের কিতাবে কতোগুলি বিষয় আছে। যেমন- একটা লোক যখন যিকির-ফিকির, রিয়াযত-মাশাক্কাত করে, তখন তার উরুয হতে থাকে। উরুয মানে তরক্কী হতে থাকে। তখন তাকে অনেক কিছু প্রলোভন দেখানো হয়। এই নেয়ামত, ওই নেয়ামত, অনেক কিছু। তখন সে কোন দিকে যায়, সেটা দেখা হয়। যখন সে মূল দিকে রুজু না হয়ে ডানে-বামে অন্য কোনো দিকে রুজু হয়ে গেলো, সে কিন্তু তাকমীলে কোনো দিন আর পৌঁছাতে পারবে না। একটা স্তর পর্যন্ত সে থেমে থাকবে। যেমন- একটা গাছের ডালা অনেক উপরে সোজা। এটার ডানে-বামে অনেকগুলি ডালা আছে। সে যখন ডানে বামে কোনো ডালার মধ্যে যাবে, তখন কিন্তু উপরে উঠতে পারবে না। ঠিক তাসাউফের মধ্যে এরকম বিষয় রয়েছে। ঈমানের ব্যাপারটা এরকম। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের বিষয় মুবারকগুলো এরকমই। উনারা বান্দাকে অনেক কিছু দেখান। সে কোন দিকে রুজু হয়। কিন্তু তার তো উচিত ছিলো ক্বিবলা একদম সোজাসুজি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু থাকা। সে কিন্তু রুজু থাকতে পারেনি। বুঝতে পারো কি আমার কথা মুবারকগুলি? সে ডানে-বামে গেছে। সে ওমুক ইমাম কি ফতওয়া দিলো, তমুক মুজতাহিদ কি ফতওয়া দিলো? ওমুক ইমাম-মুজতাহিদ কি করলো? এরকম নানানটা দেখে। যার জন্য সে মূলের থেকে সরে গেছে। এই জন্য তার ছহীহ সমঝটা হয়নি। এটা কিন্তু কঠিন একটা বিষয়। এখন এটা আসলে মানুষ কতোটুকু বুঝে জানি না। মানুষ কতোটুকু বুঝবে? কিন্তু এটা তো কঠিন বিষয়। এখন মূল বিষয়টা আমি বললাম বুঝার জন্য। তবে একটা ঘটনা মুবারক আমি বলতে পারি। আমি ঘটনা মুবারকখানা বলিনি কোনো সময়। এটা হলো কমপক্ষে ৫০ বছর আগে। আমি ত্বরীকার সবক্বগুলি শেষ করেছি। সুলূক শেষ হয়েছে। যাই হোক। তখন রিয়াযত-মাশাক্কাত চলছে। কয়েকদিনই হযরত খিযির আলাইহিস সালাম তিনি আমার কাছে আসলেন। এসে আমাকে বলেছেন যে, ‘উনার কাছে তো অনেক ইলিম আছে এটা নেওয়ার জন্য।’ আমি বললাম- ‘আমি তো আপনার থেকে ইলিম নিবো না। আপনার থেকে নিবো কেন? আমি যদি ইলিম সংগ্রহ করি, তাহলে আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে সংগ্রহ করবো।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনি চলে গেছেন। কয়েকদিন এসে আর আসেননি। তারপরে আমি স্বপ্নে দেখতেছি- আমাকে উপস্থিত করা হোক বা আমি উপস্থিত হয়েছি সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি কয়েকজন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে তা’লীম মুবারক দিচ্ছেন। আমি ওখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছি সামনে। উনি বসা আছেন। আমি উনার কোনাকোনি বাম পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি কিছু বলিনি; দাঁড়িয়ে রয়েছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি তো সব জানেনই। বলার তো আর প্রয়োজন নেই। তখন উনি বললেন যে, ‘ঠিক আছে; ইলিম তো দিতে হবে।’ আমার কোনো কথা নেই। আমি চুপ করে রয়েছি। শুনতেছি। তখনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাকে ডাকলেন। ডেকে বললেন- ‘আচ্ছা ঠিক আছে; ইলিম দিতে হবে।’ তিনি প্রমে আমাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত শিখালেন। আচ্ছা। কিভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতে হবে শিখলাম। এরপরে আমাকে বললেন যে, ‘তাহলে এক কাজ করতে হবে- তাহলে ইলিম তো দিতে হবে।’ উনি খুব ফয়েজ দিতে থাকলেন।

সুওয়াল: হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনি?

জওয়াব মুবারক: হ্যাঁ; উনি দিতে থাকলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি তো আছেনই। উনার মাধ্যম দিয়ে দিচ্ছেন বিষয়টা। দিচ্ছেন- প্রমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তেলাওয়াত শিখিয়েছেন আমাকে। শিখেছি আমি। এরপরে বললেন যে, ‘ইলিম দিতে হবে।’ উনি খুব ফয়েয দিচ্ছেন। আমার নাক, কান, চোখ, মুখ এবং সমস্ত শরীর উনার কাতরায় কাতরায় ইলিম প্রবেশ করতেছে। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের যতো ইলিম আছে, সব প্রবেশ করতেছে। প্রবেশ করতে করতে এক সময় প্রবেশ হয়ে গেলো। বাছ; শেষ হয়ে গেলো।

আমার বলার উদ্দেশ্য হলো- এটা একটা পরীক্ষা। হযরত খিযির আলাইহিস সালাম উনি আসলেন- আমি উনার দিকে রুজু হই কি না? আমি বললাম যে, ‘না; আমি তো আপনার কাছ থেকে শিখবো না।’ তিনি কয়েকদিন এসে আমার কাছে অনেক কিছু বললেন। অনেক কিছু দেখালেন। আমি বলেছি‘না; আমি নিবো না।’ উনি চলে গেলেন। তখন আমাকে সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে পেশ করা হলো, উনি আমাকে এই ইলিম-কালাম দিলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

এটা একটা বিষয়। যদি ঐ দিকে আমি রুজু হতাম, তাহলে মূল থেকে ফওত হয়ে যেতাম। আমি বুঝেছি এটা। আমি ঐ দিকে রুজু হইনি। ইলিম- কালামসহ সবকিছুর মালিক হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। অন্য কেউ মালিক না। এরকম অনেক ঘটনা আছে। এগুলি দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। যদি সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তাহলে তো হয়ে গেলো। আর না হলে তো বাদ হয়ে গেলো। ডানে-বামে ঘুরলো, বাছ; চলে গেলো। আর ইলিম অর্জন করা তো মকছূদ না। মকছূদ হচ্ছেন রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা। আর মূল ক্বিবলা ঠিক রাখা। কিন্তু মানুষের ক্বিবলাই ঘুরে গেছে। সেটাই আমি বলতেছি যে, আমার বলার উদ্দেশ্য হলো এটা- ক্বিবলা মানুষের ঘুরে গেছে। এরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখে না। তারা দেখে ঐ ইমাম কি বলেছে, মুজতাহিদ কি বলেছে। আরে ইমাম সাহেবের তো ভুলও থাকতে পারে। তারপর আরেকটা বিষয়। সেটা হলো- আমি বলেছিলাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি জীবনে কোনো দিন কারো কোনো মাজার শরীফ যিয়ারত করবো না। আমি যদি যিয়ারত করি, তাহলে আপনার এখানে আসবো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমি কারোরই যিয়ারত করবো না।’ যার কারণে হযরত খাজা সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি পাগড়ী মুবারকটা পাঠিয়ে দিয়েছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) বুঝতে পেরেছো? আমি বলেছি যে, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তো কারো যিয়ারত করবো না। আমার ক্বিবলা ঠিক আছে। আপনার থেকে আমি কোনো দিন সরবো না।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এখন বলা হয়- পাক ভারতে কেউ যদি বেলায়েত হাছিল করতে চায়, তাহলে খাজা সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে অনুমোদন নিতে হয়। অনুমোদন তো আমি নিতে পারবো না। তখন উনি সরাসরি এটা পাঠিয়ে দিলেন। এখন মূল হচ্ছে ক্বিবলা ঠিক রাখা। আর ছহীহ সমঝ, ইলিম-কালাম, আক্বল-বুদ্ধি সবকিছুর মালিক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। উনার সাথে যদি নিসবত মুবারক থাকে, কুদরতী ফায়ছালা। আর নিসবত না থাকলে, কোনো ফায়ছালা নেই। ডানে-বামে গেলে কোনো দিন তাকমীলে পৌঁছাতে পারবে না। এরকম অনেক বিষয় আছে। এখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমা শরীফ, ক্বিয়াস শরীফ- হ্যাঁ; অনেক আছে। সব কিছুর মালিক কে? মালিক উনার সাথে যদি সম্পর্ক থাকে, তাহলে গোলামরা পিছনে ঘুরবে সারা দিন। আর গোলামের সাথে সম্পর্ক থাকলে, মালিক উনার মুহব্বত পাওয়া যায় না। এখন কাশফে কাওনী, কাশফে ইলাহী, ইলমে লাদুন্নী কাওনী, ইলমে লাদুন্নী ইলাহী, অনেক কিছু আছে। ছহীহ সমঝের কোনো শেষ নেই।

সবকিছুর মূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। উনার সাথে নিসবত মুবারক রাখতে হবে। আসলে হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা ছাড়া কেউ সরাসরি পারবে না, করতে পারেননি। পরবর্তী উম্মতকে তো তার শায়েখ উনার মাধ্যম দিয়ে যেতে হবে। সরাসরি যেতে পারবে না। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের ইখতিয়ার মুবারক সেটা আলাদা বিষয়।

وَاللهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهٖ مَنْ يَّشَآءُ

“মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁকে ইচ্ছা রহমতে খাছ দান করেন।” সেটাই বললাম যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বুঝাটা এতো সোজা বিষয় না। উনারা যদি বুঝান, তাহলে বুঝা যাবে।

হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা যে বলেছেন-

سُبْحٰنَكَ لَ عِلْمَ لَنَآ اِلَّ مَا عَلَّمْتَنَآ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَلِيْمُ الْحَكِيْمُ

“আল্লাহ পাক! আপনি মহান। আমাদের কোনো ইলিম-কালাম নেই। আপনি যতোটুকু শিক্ষা দিয়েছেন, ততোটুকুই আমরা শিখেছি বা শিখবো। নিশ্চয়ই আপনি হচ্ছেন সমস্ত ইলিম ও হিকমত মুবারক উনাদের মালিক।”

এটা ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকেও। সব ইলিমের মালিক উনি। উনি পবিত্র। উনি যতোটুকু শিখান, এতোটুকুই। এর বাইরে মানুষ শিখবে কোথা থেকে? জানবে কোথা থেকে? জানবে না। এগুলো বুঝার বিষয়, ফিকিরের বিষয়, আক্বীদাহ্ শুদ্ধ করার বিষয়, সব শুদ্ধ করার বিষয়। এখন সব শুনা এবং সব মানাটাও কঠিন। শুনলেই সব মানা যায় না। আমরা তো অনেক কথা বলি। কতজনে মানে? কেউ প্রকাশ্যে মানে, অন্তরে চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করে। (তারা বলে-) ‘কি জানি; এটা কি বললো, জানি না।’ এগুলো বুঝাটা এতো সহজ বিষয় না।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি আমাদেরকে হাক্বীক্বীভাবে বুঝার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

ছলাত (নামায) আদায় করলে যেমন রিযিকে  বরকত হয়; ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা- ছিফত মুবারক  করলে ও রিযিকে  বরকত হয়, হায়াত ও বৃদ্ধি হয়। পর্ব- ২৫

ছলাত (নামায) আদায় করলে যেমন রিযিকে  বরকত হয়; ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা- ছিফত মুবারক  করলে ও রিযিকে  বরকত হয়, হায়াত ও বৃদ্ধি হয়। পর্ব- ২৫

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৪ঠা জুমাদাল ঊলা শরীফ মুতাবিক ৩০শে সাদিস ১৩৯০ শামসী লাইলাতুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার রাতে) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা-

اَتَنِىْ حَضْرَتْ جِبْريِْلُ عَلَيْهِ السَّلَمُ فَقَالَ اِنَّ رَبِىّْ وَرَبَّكَ يقَُوْلُ كَيْفَ رَفَعْتُ لَكَ ذِكْرَكَ

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রব তা‘য়ালা এবং আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, ‘আমি কিভাবে আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক, শানমান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বুলন্দ করবো?’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বললেন-

اَللهُ اَعْلَمُ

‘মহান আল্লাহ পাক তিনি ভালো জানেন।’ মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন-

ذَا ذكُِرْتُ ذكُِرْتَ مَعِىْ اِ

‘ঠিক আছে; যেখানে আমার স্মরণ হবে, সেখানে আপনারও স্মরণ হবে।’ সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে তো হয়েই গেলো। ‘যেখানে আমার স্মরণ হবে, সেখানে আপনার স্মরণ হবে।’ এই যে আমি বলি- ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে যতো ছলাত শব্দ এসেছেন, দুইটি অর্থ করতে হবে। (১) একটা হলো ‘নামায’, (২) আরেকটা হলো ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানাছিফত মুবারক’।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

ذَا ذكُِرْتُ ذكُِرْتَ مَعِىْ اِ

‘যেখানে আমার স্মরণ হবে, সেখানে আপনার স্মরণ হবে।’ সবজায়গায়। ঠিকই তো আছে। কোনো জায়গায় বাদ আছে? না; কোনো জায়গায় বাদ নেই। যেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ হবে, সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মরণ হবে। যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মরণ হবে, সেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ হবে। আলাদা হবেন না। এজন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি এক করে দিয়েছেন। সেটাই আমরা বললাম যে,‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ যদি শিরিক না হয়, তাহলে উনার আলোচনা করলে শিরিক হবে কেনো?’ কাফেররা তো কুফরী করে। নূরেমুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যতো আলোচনা মুবারক করবে, সব করুক (বলুক)। শুধু ‘মহান আল্লাহ পাক’ না বললেই হলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) ‘মহান আল্লাহ পাক’ বলা ছাড়া সব বলুক, কোনো অসুবিধা নেই। কোনো দিন শিরিক হবে না। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) মহান আল্লাহ পাক তিনিই তো বলে দিলেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ দিয়ে দিলেন না? আর আপনার যেটা আলোচনা, সেটাই আমার আলোচনা। আসল আলোচনা তো আছেই-

يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِىِّ )صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ(

মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই তো করতেছেন। এখন ফিকির করলে তো এগুলো অনেক কিছু। তারা যেমন বলে যে,

اَللهُ وَلِىُّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا يخُْرِجُهُمْ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَى النُّوْرِ

‘মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমানদারদের ওলী বা অভিভাবক।’ যাই বলুক। তাদেরকে

مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَى النُّوْرِ

‘গোমরাহী থেকে নূরের দিকে নিয়ে যান।’ আসল ‘নূর’ কী? আসল ‘নূর মুবারক’ তো হচ্ছেন ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি’। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা

আলাইহিস সালাম!) মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে নিয়ে যান। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ‘তুমি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু হও, তাহলে আমার দিকে এসে পড়বে।’

فَاتَّبِعُونِىْ يحُْبِبْكُمُ اللهُ

‘তোমরা আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তেবা করলে, আমার মুহব্বত পাবে।’ উনার দিকে রুজু করেন। মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাবে কোথা থেকে? মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাওয়া যাবে কি? মহান আল্লাহ পাক উনাকে কেউ কোনো দিন দেখেছে? মহান আল্লাহ পাক উনাকে আমরা জানি? চিনি? ‘মহান আল্লাহ পাক’ উনার সম্পর্কে আমরা জানি না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আমাদেরকে বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনি একজন আছেন।’ আমরা বিশ্বাস করেছি। আগে তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশ্বাস করেছি। আগে উনাকে বিশ্বাস করতে হবে, তারপর মহান আল্লাহ পাক উনাকে বিশ্বাস করতে হবে। উনিই তো ‘মূল নূর মুবারক’। উনার দিকে নিয়ে যান, মানে হিদায়েতের দিকে নিয়ে যান। উনার কাছে গেলেই হিদায়েত পাওয়া যাবে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) অন্যথায় হিদায়েত আসবে কোথা থেকে? হিদায়েত আবার কোথায় আছে? হিদায়েত তো উনার কাছে। উনার কাছে গেলেই হিদায়েত পাওয়া যাবে।

هُوَ الَّذِىْٓ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِلْهُدٰى وَدِيْنِ الْحَقِّ

‘মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে পাঠিয়েছেন সত্য দ্বীন, হিদায়েতসহ।’ উনি তো হিদায়েত এবং সত্য দ্বীন উনাদের মালিক। দ্বীন ইসলাম তো বাতাসে পাওয়া যাবে না, হিদায়েত তো বাতাসে পাওয়া যাবে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে গেলে হিদায়েতও পাওয়া যাবে, দ্বীন ইসলামও পাওয়া যাবে। উনার দিকেই মহান আল্লাহ পাক তিনি রুজু করেন।

وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْآ اَوْلِيٰؤُهُمُ الطَّاغُوْتُ يخُْرِجُوْنَهُمْ مِّنَ النُّوْرِ اِلَى الظُّلُمٰتِ

‘আর যারা কাফির তাদের ওলী বা অভিভাবক হচ্ছে শয়তান। শয়তান তাদেরকে (মানুষদেরকে) নূর থেকে জুলমতের দিকে নিয়ে যায়।’ ‘নূর মুবারক’ কী? নূর মুবারক হচ্ছেন- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি’। উনার থেকে ছুটিয়ে গোমরাহীর দিকে নিয়ে যায়।

এগুলো এরকম অর্থ করতে হবে। ছলাত হলে, দুইটি অর্থ হবে। ‘নূর’ হলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। মূল উনি। উনি তো ‘নূর মুবারক’। এখন অর্থ যে যেদিকে করুক। যার যারটা তার তার। আমাদের অর্থ হলো এরকম। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমি আগেও বলেছিলাম, জুমু‘আহ্ শরীফেও বলেছি যে, ছলাত শব্দের একটা অর্থ হলো- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করা।’ ছলাত আদায় করলে যেমন রিযিকে বরকত হয়; ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করলেও রিযিকে বরকত হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করে সিরিয়ার যুবকটা বরকত পেলো না? এক হাজার দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) পেলো না? এক হাজার দীনার তো পেয়েছে। বরকত পেয়েছে, হায়াত তো বৃদ্ধি পেয়েছে। তার তো মৃত্যুদ- দেওয়ার কথা ছিলো। সে হায়াতও পেলো, এক হাজার দীনারও পেলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

এটা আমি খেয়াল করেছিলাম। এটা কি আমি বলবো? তখন আমাকে বলা হলো যে, হ্যাঁ; এটা বলতে হবে। ছলাত শব্দের অর্থ এটা একটা। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) ছলাত শব্দের অর্থ এটাও একটা যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করা। করলে রিযিক পাবে, তার হায়াতও বৃদ্ধি হবে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) রিযিকও পেলো সে, তার হায়াতও বৃদ্ধি হলো। বৃদ্ধি হয়েছে না?

আরজী: কে বলেছেন এটা? জওয়াব মুবারক: মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের তরফ থেকে বলা হয়েছে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। আমি রুজু হলাম, তখন উনারা বলেছেন। উনারাই বলতে বলেছেন। সমষ্টিগতভাবেই বলেছেন যে, ‘ছলাত পাঠ করলে যেমন বরকত হয়; ঠিক তেমনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করলেও বরকত হয়।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِىِّ )صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ(ز

এটাও তো ছলাত। এটা ছলাত না? ওই যে সিরিয়ার যুবকটা- তার হায়াত বৃদ্ধি পেলো না? তার মৃত্যুদ- ওয়াজিব হয়ে গিয়েছিলো। সে হায়াতও পেলো, আবার সে ১ হাজার স্বর্ণ মুদ্রাও পেলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) ফিকির করলে অনেক কিছু। ফিকির না করলে কিছুই না।” আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি আমাদেরকে হাক্বীক্বীভাবে বুঝার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

যারা চূ-চেরা করে , এরা ধ্বংস হয়ে যাবে ’- পর্ব-২৪


যারা চূ-চেরা করে , এরা ধ্বংস হয়ে যাবে ’- পর্ব-২৪

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২০শে জুমাদাল ঊলা শরীফ লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাতে) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “এই যে,

مَلْعُوْنِيْنَ اَيْنَمَا ثُقِفُوْآ اُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَقْتِيْلً

সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ মুবারক উনার বিষয়ে আমি আলাইহাস সালাম উনাকে বললাম, তিনি বললেন, ‘ঠিকই আছে; কোনো সমস্যা নেই। যারা চূ-চেরা করে, এরা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) কি উল্টালো এরা? উল্টিয়েছে কিছু? পারবে না। সাময়িক একটা ফেতনা সৃষ্টি করতে পারবে; কিন্তু কামিয়াবী হাছিল করতে পারবে না। সাধারণভাবে মহান আল্লাহ পাক উনি বলেছেন,

وَلَ تَهِنُوْا وَلَ تَحْزَنوُْا وَاَنْتُمُ الَْعْلَوْنَ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ

অর্থ: “চিন্তিত হয়ো না, পেরেশান হয়ো না, তোমরাই কামিয়াবী হাছিল করবে, যদি মু’মিন হতে পারো।”

মু’মিন হলে কামিয়াবী হবে। তাহলে এর উপরে গেলে কি হবে? অনেক ফিকিরের বিষয় আছে। যাহিরী বিষয়গুলি মানুষ প্রকাশ করেছে। বাতিনী যে বিষয়গুলি- অনেকে অনেকটা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খুছূছিয়াত মুবারক, বৈশিষ্ট্য মুবারকগুলো তো কেউ প্রকাশ করেননি। উনাদের খুছূছিয়াত মুবারক কী? মশহূর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানাতে তো বলা হয়-

اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نحَْنُ اَهْلُ بيَْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَةِ وَمُخْتَلِفِ الْمَلَئِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ

এটাতো মুখস্থ। অর্থ বুঝে কয়জনে? অর্থ তো বুঝে না। হাক্বীক্বতটা মানুষ বুঝেনি। জাহিরী অর্থ বুঝে, বাতিনী অর্থটা মানুষ বুঝে না। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনি এতো বড় জলীলুল ক্বদর ছাহাবী। আবার একজন মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিতা উনি। কতো ফযীলত। তারপরও উনি কী করলেন? সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে কী ব্যবহার করলেন? আবার এদিকে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আওলাদ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করার জন্য কতো ব্যাকুল! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করার পর সবাইকে উদ্দেশ্যে করে বললেন, ‘আমাকে সম্মান করেন।’ উনি তো বুঝেছেন। বিষয়গুলো তো অনেক সূক্ষ্ম বিষয়। অনেক ফিকিরের বিষয়। মানুষ উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান-মান মুবারক উপলদ্ধি করতে পারেনি। যেটা আমরা বলি-

ايك زمانه صحبت با اولياء + بهتر ازصد سال طاعت بے ريا

‘কিছুক্ষণ সময় একজন কামিল ওলীআল্লাহ উনার ছোহবত ইখতিয়ার করা ১০০ বছর ক্ববূল ইবাদত থেকে উত্তম।’ সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা যদি এরকম হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিনড়বাস সালাম উনাদের ছোহবত মুবারক উনার ফযীলত মুবারক কতো? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) কতো কোটি বছর তাহলে? এটা ১০০ বছর, তাহলে ওটা কোটি বছরের চেয়ে বেশি হবে। সেটা করতে হলে তো যিকির করতে হবে বেশি বেশি। সেটাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিসবত মুবারকটা- উনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক) আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আযহার মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোল মুবারক) উনার মধ্যে তুলে দিয়েছেন, দিয়ে উনার নিসবত মুবারকটা দিয়েছেন। এটা হচ্ছে দায়িমী নিসবত মুবারক। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) তাহলে এটার ফযীলত কতো? মানুষ তো তাছাউফের কিতাব পড়ে না, বুঝবে কিভাবে? একজনওলীআল্লাহ উনার ছোহবত ইখতিয়ার করলে এতো ফযীলত! তাহলে উনাদের ছোহবত মুবারক উনার ফযীলত কতো?” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

উনাদের মহাসম্মানতি নিসবত-কুরবত ছাড়া ১৬ আনা ইলিম পাওয়া সম্ভব না’-পর্ব-২৩

 উনাদের মহাসম্মানতি নিসবত-কুরবত ছাড়া ১৬ আনা ইলিম পাওয়া সম্ভব না’-পর্ব-২৩

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৩ই জুমাদাল উখরা শরীফ লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, অনেক বিষয় আছে। বলতে গেলে অনেক বিষয়। আমি জুমুআহ্তে আলোচনা করি- সোজা জিনিস তো আলোচনা করি। খুব কঠিন বিষয় তো আলোচনা করি না। অনেক সময় উনারাই আমাকে বলেন কি আলোচনা করতে হবে। সেভাবে আমি আলোচনা করি। আমি তো খুব কঠিন বিষয় বলি নাসহজ বিষয়গুলিই তো আমি বলি। এখন মানুষ যতটুকু বুঝে। মানুষ তো সব বুঝে না। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তো একটাই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ তো একটাই, দুইটা তো না। উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক করলে- উনাদের বিষয় তো একটাই। এখন সেটাই মিল্লাদুনড়বা ইল্মা, ওয়ার রসিখূনা ফিল ইল্ম ইলিমে যারা রসিখ, গভীর ইলিমের অধিকারী। এখন উনাদের কাছে ছাড়া কোনো ইলিম নেই আসলে। আমাদের এখানে তো লক্ষ লক্ষ কিতাব আছে। এই কিতাবগুলি খুঁজে দেখোঅন্যগুলোও খুঁজে দেখো, কিতাবের মধ্যে কি আছে। খুঁজে তো সব পাবে না। জাহিরী ইলিম পাবে; বাতিনী বিষয় তো পাবে না। বাতিনী বিষয় তো নেই। বাতিনী ইলিম তো উনাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। তারপরে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা যাঁরা লিখে গেছেন, কিছু কিছু লিখেছেন। অনেক সময় দেখা যায় অনেক বড় বড় অনেকে অনেক কিছু লিখেছেন; কিন্তু দেখা যায় যে, উনাদের লিখার মধ্যেও পূর্ণতা নেই। লিখেছেন মোটামুটি কেউ হয়তো ২ আনা, ৪ আনা, ৮ আনা১০ আনা, ১২ আনা; কিন্তু ১৬ আনা নেই। উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবত-কুরবত ছাড়া ১৬ আনা ইলিম পাওয়া সম্ভব না। যদি সম্ভব হতোতাহলে ইস্তাওয়া আর কুদরতের অর্থ মানুষ অনেক আগেই বুঝতে পারতো। বুঝতে পারেনি মানুষ। আর বাকিগুলি তো রইলই। সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যা-তাফসীর। সহজে সব কিছু বুঝার জন্য সহজ উছূল হলো‘যেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক রয়েছেন, সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক রয়েছেন। সোজা কথা। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এটা বুঝতে হবে। যেমন- আমরা একটা উছূল বললাম যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিশুদ্ধতার উছূল হলো- উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খেলাফ হলে হাদীছটা শুদ্ধ না। এক কথায় শেষ। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খেলাফ হলে, এটা শুদ্ধ না; এটা অশুদ্ধ। এটা সে যেই বর্ণনা করুক। আর যে কিতাবেই থাকুক। আসলে উনারা বুঝতে পারেননি।’ যেমন- এই যে, হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনি হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম উনাকে বয়স দিয়ে দিলেন- এক জায়গায় বললেন, ৬০ বছর। এক জায়গায় বললেন, ৪০ বছর। তাহলে উনি কত বছর দিয়েছিলেন? উনি ভুলে গেছেন। নাঊযুবিল্লাহ! এই সাধারণ বিষয়টাই তো মানুষ বুঝেনি। উনি তো রসূল। একজন হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনি আবার ভুলে যান নাকি? নাঊযুবিল্লাহ! হ্যাঁ? সম্মানিত ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাহলে তো মহান আল্লাহ পাক তিনি ভুলে গেছেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! তাহলে এই হাদীছ শুদ্ধ হয় কি করে? এটাই তো মাদরাসায় পড়ায়। এটাই পড়ায়, এটাই পড়তেছে, এটা বিশ্বাস করতেছে। প্রথম মানুষ, প্রথম ভুল। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! এতটুকুই যারা বুঝলো না, তারা বাকিটা বুঝবে কোথা থেকে? বাকিটা কোনো দিন বুঝতে পারবে না। এটা হচ্ছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مَنْ يُّرِدِ اللهُ بِهٖ خَيْرًا يفَُّقِّهْهٗ فِى الدِّيْنِ

মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁর ভালাই চান, তাঁকে দ্বীনের ছহীহ সমঝ দেন।

ছহীহ সমঝের স্তর মানুষ জানে না, কতোগুলি স্তর আছে। এই বিষয়ে আবার মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنْ تَتَّقُوا اللهَ يَجْعَلْ لَّكُمْ فُرْقَانً

মুত্তাক্বী হলে মহান আল্লাহ পাক তিনি ফুরক্বান দান করেন।’ ফুরক্বানটা কোন্ স্তরের? সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম উনাকে ফারূক্ব লক্বব দেওয়া হয়েছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি উনাকে ফুরক্বান দিয়েছেন। উনাকে ফারূক্ব লক্বব দেওয়া হয়েছে। এটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো- উনাকে এই লক্বব মুবারক কে দিয়েছেন? উনি বলেছিলেননূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি দিয়েছেন।

اَلْفَارُوْقُ بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ

সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী।

এই যে বিষয়টা- ছহীহ সমঝ তো উনার রয়েছেন। সেটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি তো ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, আমার পরে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আযম আলাইহিস সালাম উনি যা করবেন, তোমরা সবটা মেনে নিবে। উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করার ছহীহ সমঝ দান করেছেন। উনি কখনো নাহক্ব কাজ করবেন না।

তাহলে ছহীহ সমঝের কতো স্তর রয়েছেন। এটা মানুষ বুঝবে কিভাবে? এটা তো বুঝতে পারবে না। এই জন্য যিকির-ফিকির করতে হবে বেশি বেশি। আর তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করো বেশি বেশি। এটা করলে উনি খুশি হন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আর উনি তো হাযির-নাযির। আমি তো সেটাই বলি। মানুষ তো এটাও বুঝলো না। তারা বলে, উনি হাযির হন! নাযির হন! আরে হাযির-নাযির কবে হবেনহ্যাঁ? কবে হবেন? তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি হাযির-নাযির হন? মহান আল্লাহ পাক তিনি হাযির-নাযির আছেনই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি না; উনি হাযির-নাযির আছেনই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) শুধু পর্দার আড়ালে। দেখা যায়, দেখা যায় না। এতোটুকুই; আর কিছু না। এখন আমরা যা বলি, উনি শুনতেছেন না? সব শুনতেছেন। তাহলে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করলে উনি খুশি হবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করতেছেন। আমরাও যদি করি, তাহলে হয়ে গেলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি আমাদেরকে হাক্বীক্বী ছানা-ছিফত মুবারক করার তাওফীক্ব দান করুন।

আমীন!