হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে দুই ব্যক্তির ঝগড়া
একদিন দুই ব্যক্তি নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে ঝগড়া করছিল। আমরা উনার খিদমতে উপবিষ্ট ছিলাম। তাদের একজন ক্রোধান্বিত হয়ে অন্যজনকে গালি দিচ্ছিল। তার মুখমন্ডল রক্তিম হয়ে উঠল। হুযূর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- আমি একটি বাক্য জানি। এ ব্যক্তি ওটা পাঠ করলে যা দ্বারা সে আক্রান্ত হয়েছে নিশ্চয়ই তা দূর হয়ে যাবে। সে শুধু বলিবে:
আল্লামা ইবনে কাসীর লিখিয়াছেন- অধিকাংশ ফকীহর মতে “আউজু” পাঠ করা ফরজ বা অপরিহার্য নহে বরং ইহা মুস্তাহাব। ইমাম রাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন- আতা ইবনে আবু রিবাহর মতে নামাজের ভিতরে ও বাহিরে কোরআন মজীদ তিলাওয়াতের পূর্বে আউজু ওয়াজিব। ইবনে সীরিন বলিয়াছেন- জীবনে একবার “আউজু” পাঠ করলেই ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। আতা ইবনে আবু রিবাহর পক্ষে ইমাম রাজী নিম্নোক্ত দলীল পেশ করেন-
فاذا فرات قران فاستعذبالله من الشيطان الرجيم
উক্ত আয়াত শরীফে আল্লাহ পাক কোরআন শরীফ পাঠের সময় আউজু পাঠ করার জন্য আদেশ করছেন। আদিষ্ট কাজ স্পষ্টতই ওয়াজিব। ইহার সপক্ষে তিনি হুযূর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কার্যধারাও প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন। হুযূর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিলাওয়াতের পূর্বে সর্বদা আউজু পড়তেন। অধিকন্তু উহা দ্বারা শয়তানের কুমন্ত্রনা ও প্ররোচনা প্রতিহত হয়। মূলতঃ যে কাজের সহায়তা ব্যতীত ওয়াজিব সম্পন্ন হতে পারে না তাও ওয়াজিব। সুতরাং আউজু পাঠ করা ওয়াজিব। উহা ওয়াজিব হবার আরও একটি কারণ এই যে, উহা শয়তানের প্ররোচনা হতে রক্ষা করে। কোন বিষয় ওয়াজিব হবার ইহাও একটি পূর্বশর্ত।
কেহ কেহ বলেন ‘আউজু’ পাঠ শুধু হুযূর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য ওয়াজিব ছিল। উনার উম্মতের উপর ওয়াজিব নহে। ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি ফরজ নামাজে তা আউজু পড়তেন না। তিনি শুধু রমজানের প্রথম রজনীতে সুন্নত (তারাবী) নামাজে তা আউজ পড়তেন। ইমাম শাফেঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে লিখেছেন মুসল্লীরা সরবে তাআউজ পড়বে তবে নীরবে পড়লে ক্ষতি নেই। তিনি উনার কিতাবে বলেন, উহা উচ্চ কি অনুচ্চ যে কোন স্বরে পড়লেই চলবে কারণ হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অনুচ্চ স্বরে ও হযরত আবু বকর সিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উচ্চ স্বরে পড়তেন।
ইমাম শাফেঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রথম রাকাআত ভিন্ন অন্যান্য রাকাআতে তাআউজ পাঠ করাকে মুস্তাহাব বলেন কিনা তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একদলের মতে তিনি মুস্তাহাব বলেন। অন্যদলের মতে তিনি মুস্তাহাব বলেন না। শেষোক্ত মতই সবল।
ইমাম শাফেঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তাআউজ পাঠে-
اعوذ بالله من الشيطان الرجيم
বললেই চলবে।
ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, নামাজে যে তাআউজ পড়ার বিধান রয়েছে, উহা কোরআন শরীফের তিলাওয়াতের কারণে প্রদত্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে ইমাম আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন- উক্ত বিধান নামাজের কারণে প্রদত্ত হয়েছে। তাই ইমাম আবু ইউসুফ বলেন, মোক্তাদী নামাজে কিরাআত পড়বেনা বটে, তাআউজ পড়বে। তেমনি ঈদের নামাজে তাকবীরে তাহরীমার পরও অতিরিক্ত তাকবীরের পূর্বে তাআউজ পড়বে। পক্ষান্তরে তাকবীরের পর তাআউজ পড়তে হবে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১ম খন্ড)

0 Comments:
Post a Comment