হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু: উটের গোশত-
কোন কোন তফসীরকারক এ আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার ক্ষেত্রে একটি ঘটনার উল্লেখ করেন-
একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবারে বসা ছিলেন। এমন সময় উটের গোশতসহ কিছু খাদ্য হাজির করা হল। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন যে, তিনি পূর্বে ইহুদী পন্ডিত ছিলেন এবং সেই ধর্মে উটের গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ বিধায় তিনি তা গ্রহণ করতেন না। কাজেই এখনও তিনি উটের গোশত গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অনুমতি চাইলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ করে থাকলেন এবং আল্লাহ পাক উনার বিধানের অপেক্ষায় রইলেন। কেননা
وما ينطق عن الهوى. ان هو الا وحى يوحى.
অর্থঃ “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহী ব্যতীত নিজের থেকে কোন কথা বলেন না। তখন আল্লাহ পাক এ আয়াত শরীফ নাযিল করলেন।
বিশ্লেষণ - ফাওয়ায়েদে ওসমানী কিতাবে এ আয়াত শরীফের তফসীরে বলা হয়েছে, “এ আয়াতের উদ্দেশ্য হলো বিদআতের দুর্গকে বিনষ্ট করা। কেননা বিদআত হলো কোন কাজকে উত্তম ভেবে ধর্মের অঙ্গস্বরূপ গ্রহণ করা। এমন কাজকে পূণ্য কাজ বা ধর্মীয় কাজ মনে করে তার প্রচলন করা।”
পরিপূর্ণভাবে ঈমান অর্জন এবং বিদআতকে বর্জনেরই নির্দেশ রয়েছে এ আয়াত শরীফে। তাই এরশাদ হয়েছে- “হে মুমিনগণ, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো।”
বয়ানুল কোরআন কিতাবে এ আয়াত শরীফের তফসীরে বলা হয়েছে, “এ আয়াত শরীফে সতর্কবাণী রয়েছে একদিকে সেসব লোকদের জন্য যারা মূর্খ বিদআত কাজে লিপ্ত আর অন্যদিকে যারা নিজেদেরকে আধুনিক মনে করে এবং আকিদা বিশ্বাসে কথায় ও কাজে ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবন বিধানরূপে মেনে নেয়না। কেননা শয়তান তাদেরকে ইসলাম বিরোধী কাজে মুগ্ধ করে রাখে।
জিলক্বদ-জিলহজ্জ-১৪১১, জৈষ্ঠ-আষাঢ়-১৩৯৮, জুন-১৯৯১ ঈসায়ী

0 Comments:
Post a Comment