মদীনা শরীফ-এর সেই ছেলেটি...
এক ঈদের দিনে মদীনার ঘরে ঘরে আনন্দ, আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের জমায়াত শেষে সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গণকে নিয়ে যার যার বাড়ী ফিরার পথে। তখনই আমাদের মহানবী হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চোখ পড়লো মাঠের দিকে। তিনি দেখেন মলিন কাপড় পরিহিত, নিরানন্দ মুখে একটি ছেলে মাঠে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। রহমতের সাগর, মহানবী ছুটে গেলেন ছেলেটির কাছে। জিজ্ঞেস করলেন, “বাবা, তুমি কাঁদছ কেন?” উত্তরে ছেলেটি বলল, হুযূর আমি মাতৃকোলে আসার অনেক আগেই আমার পিতার মৃত্যু হয়েছে। শৈশবেই মাকেও হারিয়ে এতিম। আজ এ ঈদের দিনে কে দেবে আমাকে নতুন জামা কাপড়? কে কোলে তুলে নিয়ে আনন্দ করবে? কে আমাকে সান্ত¡না দেবে?
অনাথ এতিম ছেলের কথাগুলি শুনে সৃষ্টিকূলের রহমতের ভান্ডার দয়াল নবী অশ্রুসিক্ত নয়নে ছেলেটিকে কোলে তুলে নিলেন এবং বললেন- “বাবা, আমি তোমার মত মা-বাবাকে হারিয়ে ছোটকালেই এতিম। আজ থেকে আমি তোমার পিতা, আয়শা তোমার মা, ফাতেমা তোমার বোন বলে মনে করো।” এই বলে নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছেলের কপালে চুমো দিয়ে আদর করলেন এবং হুজরা মুবারকে পৌঁছুলেন। উম্মুল মো’মেনিন হযরত আয়শা সিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে ডেকে বললেন, “দেখ হে আয়শা! তোমার জন্য একটি ছেলে নিয়ে এসেছি, তুমি তাকে আপন ছেলের মতো মনে করে লালন-পালন কর।”
হযরত আয়শা সিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ছেলেটিকে আদরে কোলে তুলে নিলেন। নিজের হাতে গোসল করিয়ে দিলেন, নতুন জামা-কাপড় পরালেন এবং খেতে দিলেন, নিজের ছেলের মত ছেলেটিকে লালন-পালন করতে লাগলেন।
জিলক্বদ-জিলহজ্জ-১৪১১, জৈষ্ঠ-আষাঢ়-১৩৯৮, জুন-১৯৯১ ঈসায়ী

0 Comments:
Post a Comment