নওরোজ তথা বাংলা, ইংরেজী, আরবী বা যে কোনো বর্ষপুঞ্জির প্রথম দিন বা নববর্ষ পালন করা হারাম এবং কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত
আরবের ইহুদী মহিলার জান্নাত যাওয়ার ঘটনা.....
এই প্রসঙ্গে অনেক আগের একটি ঘটনা যাহা কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরব দেশের এক এলাকায় একজন ইহুদী মহিলা বসবাস করত। সে মারা যাবার পর এক বুজুর্গ ব্যক্তি স্বপে¦ দেখেন যে মহিলাটি বেহেশতে বিচরণ করছে। সে ঈমান এনেছিল কিনা সেটা কেউ জানত না। এটা দেখে সেই বুজুর্গ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “হে মহিলা! তুমি কি করে জান্নাতে স্থান পেলে? কারণ জান্নাত তো কাফিরদের জন্য হারাম। তুমিতো জাহান্নামে যাওয়ার কথা।” সে বলল, হুযূর ! একটা ঘটনা ঘটে গেছে, সেটা হয়ত আপনার জানা নেই। কি ঘটনা? সে বলল, আমার মৃত্যুর পূর্বে যে রমজান মাস অতিবাহিত হয়েছিল, সেই রমজান মাসে আমি একবার বাজারে গেলাম কিছু খরিদ করার জন্য। সাথে একটা বাচ্চা ছিল, তার বয়স ৩ থেকে ৪ বছর। তাকে কোলে করে নিয়ে কিছু রুটি বিস্কুট খরিদ করে সে বাচ্চার কাছে রাখতে দিলাম। বাচ্চাটা রাস্তার মধ্যে প্রকাশ্যে খাওয়া শুরু করল। আমি তাকে একটা আঘাত বা থাপ্পড় দিয়ে বললাম হে ছেলে, তুমি যদিও বাচ্চা, আর যদিও আমরা মুসলমান নই তবুও এটা মুসলমানদের রমজান মাস, এটাকে সন্মান করতে হবে, তুমি খেওনা। আমি রুটি বিস্কুটগুলো কেড়ে নিলাম তার কাছ থেকে। আল্লাহ পাক এর বদৌলতে পরবর্তী সময়ে আমাকে মৃত্যুর পূর্বেই ইমান নসিব করেছিলেন। যার বদৌলতে আজকে আমি জাহান্নামে না গিয়ে জান্নাতে গিয়েছি (সুবহানাল্লাহ)। এখন চিন্তা করেন। আদনা দরজা হলো যদি কেউ তার মোটামুটি ঈমানের হক আদায় করে নেয়, তাহলে অবশ্যই সে চিরস্থায়ী আজাব থেকে বেঁচে যাবে।
রমাদ্বান-১৪১২, চৈত্র-১৩৯৮, এপ্রিল-১৯৯২ ঈসায়ী
হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাক্ওয়া
এ প্রসঙ্গে হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর একটা ওয়াকেয়া উল্লেখ করা হয়। ওয়াজের মধ্যে কতটুকু তাক্ওয়ার সাথে বলতে হবে এবং কতটুকু তাক্ওয়ার সাথে শুনতে হবে। হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর দর্সে উনার ছাত্র ও বাইরের হাজার হাজার লোক উপস্থিত থাকত। একবার তিনি তা’লীম বা দর্স দিচ্ছিলেন। ছাত্র ও অন্যান্য শ্রোতারা তা’লীম বা দর্স শুনছিল, এমতাবস্থায় দেখা গেল একটা সাপ সেই দর্সের মাহফিলে প্রবেশ করল। সাপটা পর্যায়ক্রমে হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর দিকে আসতে লাগল, কিন্তু হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তা’লীম দিতেই থাকলেন। সাপের কোন পরওয়া করলেন না। সাপটা এসে পর্যায়ক্রমে হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর পা মোবারকে কামড় দেয়া শুরু করল। একে একে সাতবার কামড় দিল। সপ্তমবার কামড় দেয়ার পর সাপটা নিজেই মরে পড়ে গেল। তিনি উনার দর্স দিতেই থাকলেন। দর্স যখন শেষ হলো তখন হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর এক মহব্বতের ছাত্র এসে বলল হুযূর, একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করব যদি বেয়াদবি মনে না করেন। হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, বেশ জিজ্ঞেস কর কি মাসআলা। সে ছাত্র বলল, হুযূর আমরা সাধারণতঃ জানি সাপ যদি মানুষকে কামড় দেয় তাহলে মানুষ মারা যায়। কিন্তু আজকে আমরা যা দেখলাম তা বিপরীত। আপনি যখন দর্স দিচ্ছিলেন, তখন সাপটা আপনাকে একে একে সাতবার কামড় দিল। আপনার কিছুই হ’ল না, শেষ পর্যন্ত সাপটা নিজেই মরে গেল। তার কি কারণ? হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “দেখ! তুমি যা বলছ তা সত্যই। সাপটা এসেছিল আমাকে কামড় দিয়ে তার বিষ আমার শরীরে প্রবেশ করাতে কিন্তু একে একে সে ছয়বার আমাকে কামড় দিয়ে তার বিষ আমার শরীরে প্রবেশ করাতে পারলনা, অবশেষে সপ্তমবার সে গোস্যা হয়ে খুব জোরে আমাকে কামড় দেয় কিন্তু তার বিষ আমার শরীরে প্রবেশ না করে বরং আমার শরীরের মধ্যে যে আল্লাহ পাক এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মহব্বতের জযবার বিষ ছিল, সেই বিষটা তার শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে, যার ফলে সাপটা নিজেই মরে যায়। (সুবহানাল্লাহ)
রমাদ্বান-১৪১২, চৈত্র-১৩৯৮, এপ্রিল-১৯৯২ ঈসায়ী
হযরত মা আমিনা আলাইহাস সালাম উনার রওজা শরীফ মুবারক জিয়ারত
হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে, একবার হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আম্মার কবর জিয়ারত করতে গেলেন, তখন তিনি নিজে কাঁদলেন আর উনার চতুর্দিকের লোকদেরকে কাঁদালেন, অতঃপর বললেন, আমি আমার প্রতিপালকের নিকট উনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু তিনি (আল্লাহ পাক) আমাকে উহার অনুমতি দিলেন না। অতঃপর আমি উনার কবর জিয়ারত করার অনুমতি চাইলাম আর আমাকে উহার অনুুমতি দেওয়া হল। সুতরাং তোমরা কবর সমূহ জিয়ারত করবে। কেননা উহা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়। (মুসলিম শরীফ)
“হে প্রশান্ত নফ্স, আপনি প্রসন্ন ও সন্তুষ্টচিত্তে নিজ প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন”
প্রত্যেক চন্দ্রমাস, একজন আরব মেহমানের ছুরতে হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট দেখা করত এবং মাসের মধ্যে ভাল-মন্দ কি ঘটনা ঘটবে তা উনাকে জানাত। হিজরী ৫৬০ সালের রমজান মাসে এসে উনাকে বিদায় সম্ভাষন জানিয়ে গেল। অর্থ্যাৎ পরবর্তী রমজান মাস পর্যন্ত তিনি এই নশ্বর দুনিয়ায় থাকবেন না।
বেহেজাতুল আসরার নামক কিতাবে হযরত শায়খ শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়াদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৫৬০ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাস হতে কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। তাশারেখে আওলিয়া নামক কিতাবে শায়খ আব্দুল ফতেহ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, রবিবার দিবাগত রাত্রে অর্থ্যাৎ সোমবার রাত্রে হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি গোসল করেন। গোসলান্তে এশার নামাজ পড়ে তিনি উম্মতে মুহম্মদীগণের গুনাহখাতা মাফের জন্য ও তাদের উপর খাছ রহমতের জন্য দোয়া করলেন। এরপর গায়েব হতে আওয়াজ আসল, “হে প্রশান্ত নফ্স, আপনি প্রসন্ন ও সন্তুষ্টচিত্তে নিজ প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। আপনি আমার নেক্কার বান্দার মধ্যে শামিল হয়ে যান এবং বেহেশ্তে প্রবেশ করেন”। এরপর তিনি কালিমা পাঠ করিয়া তাআজ্জাজা (অর্থ বিজয়ী হওয়া) উচ্চারণ করতে লাগলেন। এবং তিনি আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহ বললেন। ইহার পর জিহ¡া তালুর সাথে লেগে গেল। এই ভাবে ৫৬১ হিজরীর (১১১৬ খৃঃ) ১১ই রবিউস্সানী মাসে মাহবুবে সোবহানী, কুতুবে রব্বানী হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহ পাক উনার মহান দরবারে প্রত্যাবর্তন করলেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।
হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ক্রমান্বয়ে চারটি বিবাহ করেছিলেন। উনাকে বিবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশে বিবাহ করেছেন। উনার মোট ৪৯ জন সন্তান সন্ততি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৭ জন পুত্র সন্তান এবং ২২ জন মেয়ে সস্তান ছিলেন। উনারা সকলেই অতি উঁচু দরজার অলি আল্লাহ ছিলেন। তাঁদের অনেক বড় বড় সন্মানিত উপাধি ছিল।
রবিউস সানী-১৪১২, কার্তিক-১৩৯৮, অক্টোবর-নভেম্বর-১৯৯১ ঈসায়ী
গাউসুল আজম হযরত বড় পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রিয়াজত
তিনি হযরত শায়খ আবুল খায়ের হামদান বিন মোছলেম দাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবারে আসা-যাওয়া করতে লাগলেন এবং কঠোর রিয়াজতের মাধ্যমে তাসাউফ শিক্ষায় নিমগ্ন হলেন। হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘ পচিঁশ বৎসরকাল ইরাকের নির্জন বন-জঙ্গলে, মাঠে-প্রান্তরে এবং ভগ্ন প্রায় বাড়ী-ঘরে কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি যখন ইরাকের জঙ্গলে সাধনা বা রিয়াজত করতাম তখন একদা আমার খুব পানির তৃষ্ণা পেলো, এমন সময় আল্লাহ পাক উনার কুদরতে আকাশে ঘন কালো মেঘের ছায়া নেমে এলো এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই বৃষ্টি আরম্ভ হল। আমি তৃপ্তিভরে পানি পান করলাম। এরপর আকাশে একটা আলোকপাত দেখা দিলো, যা সমস্ত আকাশকে আলোকিত করে ফেললো। অতঃপর ঐ আলোকপিন্ড হতে আওয়াজ এলো- হে আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, আমি আপনার আল্লাহ। আমি আপনার ইবাদত বন্দিগীতে সন্তুষ্ট হইয়া সমস্ত হারাম গুলিকে আপনার জন্য হালাল করিয়া দিলাম। ইহা ইবলিশের ধোকাবাজি বা প্রতারনা বুঝতে পেরে সাথে সাথে পড়লেন, “হে বিতাড়িত শয়তান! দূর হয়ে যা এখান থেকে”। এই অকেয়া দ্বারা বুঝা যায়, হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি কত বড় সুক্ষ্মদর্শী ছিলেন। কারন যাহা হারাম হওয়ার তাহা হারাম হিসাবে সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে। আর যাহা হালাল হওয়ার তাহা হালাল হিসাবেই সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে।
রবিউস সানী-১৪১২, কার্তিক-১৩৯৮, অক্টোবর-নভেম্বর-১৯৯১ ঈসায়ী
গাউসুল আজম হযরত বড় পীড় সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স মোবারক যখন প্রায় আঠার বৎসর ছিল
একবার লোকেরা বড়পীর গাউসুল আজম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি কে জিজ্ঞেস করল, হুযূর আপনি কি মোজাদ্দেদে জামান? তিনি বললেন, হ্যাঁ । তারপর বলা হল, আপনি কি সুলতানুল আরেফীন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবার বলা হল, আপনি কি কুতুবুল আলম? তিনি বললেন হ্যাঁ। তখন সবাই নিশ্চুপ হয়ে গেল। তিনি বললেন, আরও প্রশ্ন কর। তোমরা যা বলবে আমি তারও উপরে, তারও উপরে, তারও উপরে। তোমাদের মধ্যে অনেক লোক আছে, আমি যে মাকামে অবস্থান করি, তারা তার কোন খবরই রাখেনা। যে সমস্ত মাকামগুলির বর্ণনা পরবর্তীতে হযরত মোজাদ্দিদে আলফেসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মকতুবাত শরীফে উল্লেখ করেছেন।
মোটকথা নবী রসুল আলাইহিমুস সালাম গণের পর একজন মানুষের পক্ষে যত মাকাম অর্জন করা সম্ভব আল্লাহ পাক গাউসুল আজম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি কে তা দিয়েছেন। এটা সুত্যিই উনার জন্য এক বিশেষ মর্যাদা (বলা হয়ে থাকে আল্লাহ পাক উনার এমন অলি কমই অতিবাহিত হয়েছেন, যাঁরা গাউসুল আজম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহানী তাওয়াজ্জুহ বা নেছবত হাসিল করেন নাই)
গাউসুল আজম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স মোবারক যখন প্রায় আঠার বৎসর ছিল, তখন একবার তিনি আরাফার দিবসে গরু নিয়া নিজের জমি চাষ করতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় সেই গরুটি উনার দিকে ফিরে বলল-
يا عبد القادر- ما بهاذا خلقت وما بهاذا امرت
অর্থঃ হে আব্দুল কাদির রহমতুল্লাহি আলাইহি, এই কাজের জন্য আপনাকে সৃষ্টি করা হয় নাই। এবং এই কাজের জন্য আপনাকে আদেশ করা হয় নাই। এই ঘটনায় তিনি ভয় পেয়ে বাড়িতে ফিরে গেলেন। এতদিন পর্যন্ত স্থানীয় মক্তবে যা কিছু শিখেছিলেন তার চেয়েও অনেক বেশী কিছু শিক্ষার জন্য তিনি বাগদাদ যেতে মনস্থ করলেন। (তিনি মাতৃগর্ভ থেকে অধিকাংশ মতে আঠার পারার হাফিজ হয়েই জন্ম গ্রহণ করেন। অতঃপর অতি শৈষবেই পূর্ণ কুরআন শরীফ হিফজ্ করেন)
রবিউস সানী-১৪১২, কার্তিক-১৩৯৮, অক্টোবর-নভেম্বর-১৯৯১ ঈসায়ী
হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আপেল ফল খাওয়া
প্রত্যেক হিজরী শতকের প্রথমে আল্লাহ পাক এই উম্মতের জন্য এমন লোক প্রেরণ করবেন, যিনি দ্বীনের সংস্কার করবেন, বেদাত বেশরা এবং শরীয়ত বিগর্হীত কাজগুলোর সংশোধন করবেন। সেই রকম একজন খাস ও বিশিষ্ট অলী উল্লাহ হলেন গাউসুল আযম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি ৪৭০ কিংবা ৪৭১ হিজরীতে পবিত্র জ্জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন। জ্জিলান নগরীটি তৎকালে ইরানে অবস্থিত ছিল। বিখ্যাত অলী আল্লাহ হযরত জোনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্বন্ধে জানা যায় যে, তিনি একদিন মোরাকাবার হালতে ছিলেন, হঠাৎ বলে উঠলেন, “উনার কদম আমার গর্দানের উপর”। এই বলে তিনি ঘাড় নত করলেন। লোকেরা কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ৫০০ হিজরীতে হযরত আব্দুল কাদির নামে একজন বিখ্যাত ওলী আল্লাহ জন্ম গ্রহণ করবেন। উনার উপাদি হবে মুহিউদ্দীন। আল্লাহ পাক উনার হুকুমে তিনি বলবেন, “সকল অলীগণের গর্দানের উপর আমার কদম”।
মূলতঃ বড়পীর গাউসুল আযম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মর্যাদা মর্তবা এত বেশী যে, এই বিষয়ে আমরা যদি একটু চিন্তা করি তবে দেখতে পাবো তিনি পিতার দিক থেকে হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং মাতার দিক থেকে হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর বংশধর। উনার বুযুর্গ পিতা এবং মাতা সাহেবানীর আমল আখলাক ও জীবন সম্পর্কে পর্যালোচনা করলে দেখতে পাবো যে, সত্যিই উনারা গাউসুল আযম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাতাপিতা হবার উপযোগী। উনার পিতার পবিত্র নাম সৈয়দ আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি। (যেহেতু তিনি যুদ্ধ প্রিয় ছিলেন সেহেতু উনাকে জঙ্গী দোস্ত বলা হয়) এবং তার মাতার পবিত্র নাম উম্মুল খায়ের আমাতুল জাব্বার ফাতিমা রহমতুল্লাহি আলাইহি। হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন যুবক ছিলেন, তখন একদিন তিনি ক্ষুধার্ত অবস্থায় দজলা নদীর তীর দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন দজলা নদীর মধ্যে একটি ছেব ফল ভাসমান অবস্থায় দেখে ক্ষুধার তাড়নায় খেয়ে ফেললেন। তিনি রাত্রে বিছানায় শুয়ে চিন্তা করতে লাগলেন ছেব ফল খাওয়া কতটুকু জায়েজ হল। (যদিও শরীয়তের মাসয়ালা হল কোন ব্যক্তি যদি ৩ দিন না খেয়ে থাকে তাহার জন্য জরুরত আন্দাজ হারাম খাওয়া জায়েজ) এথেকেই বুঝা যায় যে উনারা হালাল খাদ্যের প্রতি কতটা দৃঢ় ও মজবুত ছিলেন। কেননা এক পয়সা হারাম খেলে চল্লিশ দিন ইবাদত কবুল হয়না। কুরআন শরীফে আল্লাহ পাক বলেন,
يا يها الناس كلوا مما فى الاض حلالاطيبا ولا تتبعوا خطوات الشيطان ط انه لكم عدو مبين (১৭৮ البقره)
অর্থঃ “হে ইনসানেরা তোমরা জমিনে হালাল খাদ্য খাও আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করোনা। নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু”।
অতঃপর হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি পরদিন সকালে দজলা নদীর তীর দিয়ে হাটতে লাগলেন, যেদিক থেকে ছেব ফলটি ভেসে আসছিল। কিছুদূর যাবার পর তিনি দেখলেন, নদীর কিনারায় একটি ছেব ফলের বাগান। বাগানের একটি গাছের একটি ডালা ফলসহ নদীর উপর ঝুলন্ত অবস্থায়। আর তার কিছুফল পানিতে ভেসে আছে। তখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে, নিশ্চই আমি এই গাছেরই ফল খেয়েছি। অতঃপর তিনি বাগানের মালিকের বাড়ীতে গেলেন। বাড়ীতে গিয়ে উনার সাথে বাগানের মালীর সহিত দেখা হয়। মালী উনাকে অপেক্ষা করার জন্য বলে বাগানের মালিককে সংবাদ দেয়। কিছুক্ষণ পর বাগানের মালিক হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি সেখানে এসে উপস্থিত হলে হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, হুযূর আমি না বলে আপনার বাগানের একটি ছেব ফল ক্ষুধার তাড়নায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় পেয়ে খেয়ে ফেলেছি। এখন আমি তার মূল্য পরিশোধ করতে এসেছি। একথা শুনার পর হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি আশ্চার্য্য হলেন এবং মনে মনে ভাবলেন, কত লোকইতো আমার বাগানের কত ফল খেয়েছে কিন্তু কেউই এ পর্যন্ত দাম দিতে আসেনি। নিশ্চয়ই এ যুবক একজন আল্লাহ পাক উনার অলি হবেন। বাগানের মালিক জিজ্ঞেস করলেন, আপনার নিকট কত দেরহাম আছে। উত্তরে হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, দেরহাম থাকলেতো আপনার ফলই খেতাম না। পুণরায় জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে কি দিয়ে মূল্য পরিশোধ করবেন? হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আপনার বাগানে কাজ করে ফলের মূল্য পরিশোধ করতে চাই। বাগানের মালিক হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, বেশ কাজ করতে থাকুন।
অনেকদিন কাজ করার পর হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি কে বললেন, হুযূর আমার ফলের মূল্য কি এখনও পরিশোধ হয় নাই? হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, হ্যাঁ হয়েছে। তবে আর একটি শর্তে তোমাকে মুক্তি দিতে পারি। হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, কি আপনার শর্ত? হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আমার একটি মেয়ে আছে তাকে বিয়ে করতে হবে। মেয়েটি অন্ধ, বোবা, বধির, খঞ্জ, লুলা, কালো ও কুৎসিত। শুনে হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি ভাবলেন, এ ধরনের একটি মেয়েকে বিয়ে করবো! যার কাছ থেকে খেদমত পাওয়ার পরিবর্তে উল্টো তাকেই খেদমত করতে হবে। কিন্তু পরক্ষণেই চিন্তা করলেন, দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, কাজেই এখন যদি তিনি ক্ষমা না করেন (বিবাহ করা ব্যতিত) তবে আল্লাহ পাক উনার কাছে কি জবাব দিব ইত্যাদি চিন্তা করে রাজী হয়ে গেলেন। বিয়ে হয়ে গেল। হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি বাসর ঘরে প্রবেশ করেই (হযরত আব্দুল্লাহ সাওমায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি যা বলেছেন তার বিপরীত দেখতে পেয়েই) তাড়াহুড়া করে ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন। ঘর থেকে বের হয়েই দেখলেন, সন্মুখের রাস্তায় (ঘরের সামনে একটি ছোট রাস্তা ছিল) হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি কে। বললেন, হুযূর আপনি যা বলছিলেন এখন দেখি তার বিপরীত। হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন (যা তিনি পূর্বেই বুঝতে পেরেছিলেন এমন কিছু ঘটবে) বাবা এই তোমার স্ত্রী। রাত কাটাও। সকালে তোমার প্রশ্নের জবাব দেব।
পরদিন হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি কে বললেন, বাবা- আমার মেয়েকে আমি অন্ধ বলেছি এই জন্যে, আমার মেয়ে কখনও কোন পর পুরুষকে দেখেনি; বোবা বলেছি এজন্যে- সে কখনও কোন পাপের কথা মুখে আনেনি; বধির বলেছি এজন্যে- সে কখনও পাপের কথা কানে শুনেনি; খঞ্জ ও লুলা বলেছি এজন্যে- সে কখনও কোন পাপের পথে পা বাড়ায়নি এবং কোন পাপ কাজ স্পর্ষ করেনি; কালো ও কুৎসিত এজন্যে বলেছি- তাকে কখনও কোন পর পুরুষ দেখেনি। এই কথা শুনে হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহ পাক উনার শোকরগুজার করলেন। এখানে ফিকিরের বিষয়, কেমন নেককার ও পরহেজগার মোত্তাকী পিতা ও মাতার ঘরে অলিয়ে মাদারজাত গাউসুল আজম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি জন্ম গ্রহন করেন।
রবিউস সানী-১৪১২, কার্তিক-১৩৯৮, অক্টোবর-নভেম্বর-১৯৯১ ঈসায়ী
কাশফূল গুয়ুব নামক কিতাবে হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী
নিশ্চয় যারা আল্লাহ পাক উনার ওলী উনারা চিন্তা, পেরেশানী এবং ভয়ভীতি থেকে মুক্ত। বড়পীর হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে পূর্ববর্তী আওলিয়া-ই-কিরামগণ ভবিষ্যতবানী করে গেছেন। আওলাদে রসুল এবং আহলে বাইতের অন্তর্ভূক্ত হযরত ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি (যিনি হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর সাহেব ছিলেন) তিনি উনার কাশফূল গুয়ুব নামক কিতাবে বড়পীর হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন ১৪৮ হিজরীর ১১ই রজব জুম্মার রাত্রে আমি যথারীতি কুরআন শরীফ তিলওয়াত ও যিকির আযকার করে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমের মধ্যে স্বপে¦ দেখতে পাই, আমি আলমে নাসুথ থেকে (পৃথিবী হতে) উর্ধারোহন করে আলমে মালাকুত এবং আলমে মালাকুত থেকে আলমে জাবারুতে গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে এক বিশাল ময়দান দেখতে পেলাম। সেই ময়দানের এক পার্শ্বে মারোয়ারী পাথরের একটা তাবু টাঙানো। সেখান থেকে আল্লাহ পাক উনার রসুল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালেক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আমার কাছে এসে বললেন, “হে ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি, আল্লাহ পাক উনার রসুল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে ডাকছেন। আমি সাথে সাথে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গেলাম। দেখলাম সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ও আওলিয়া-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গণের পবিত্র রূহ মোবারক সেখানে উপস্থিত আছেন। এবং সমস্ত ফিরিশতা কাতারবন্দী হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা খুব সুন্দর আসনের মধ্যে আল্লাহ পাক উনার রসুল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম বসা অবস্থায় আছেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখা মাত্র বসার জন্য ইশারা করলেন। আমি বসলাম। বিছুক্ষনের মধ্যে হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার পার্শ্বে এসে বসলেন। ইত্যবসরে দেখা গেল দু’টি রূহ মোবারক এসে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার ডান জানু মোবারক ও বাম জানু মোবারকে বসলেন। বসার পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, “হে ইমাম জাফর সাদেক রহমতুল্লাহি আলাইহি আজ থেকে তিনদিন পর তুমি আমার কাছে চলে আসবে। আমি চাই তুমি আলমে জাবারুতের অবস্থা দর্শন করে তা আলমে নাসূতের মধ্যে লিপিবদ্ধ করে আস। একথা বলার পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তুমি কি জান এ রূহ দু’টি কার? আমার ডান জানু মোবারকে যার রূহ মোবারক দেখতে পেলে তিনি আমার থেকে পাঁচশত বৎসর পর পৃথিবীতে আগমন করবেন। তিনি হলেন গাউসুল আযম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং আমার বাম জানু মোবারকে যে রূহটি আছেন তিনি হলেন, হযরত আলী আহম্মদ সাবের কালিয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। আল্লাহ পাক উনার এ দুই খাস মকবুল বান্দা দ্বারা ইসলামের অনেক খিদমত নিবেন। তারপর পার্শ্বে বসে থাকা অবস্থায় হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দ্বয়কে বললেন, “তোমাদের শাহাদাতের পর আমি আমার উম্মতের কথা ভেবে চিন্তিত হই। তখন আল্লাহ পাক উনার এই দুই মাহবুব বান্দা দ্বারা আমাকে সুসংবাদ দান করেন। হযরত ইমাম জাফর সাদেক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি উক্ত স্বপ¦ দেখার পর ঘুম থেকে জেগে উঠলাম এবং সকালে উঠে কাশফুল গুয়ুব কিতাবে তা লিপিবদ্ধ করলাম।” এই কাশফুল গয়ুব কিতাব তিনি ইন্তিকালের পূর্বেই লিখেছিলেন এবং সত্যিই তিনি তিনদিন পরেই ইন্তিকাল করেন।
রবিউস সানী-১৪১২, কার্তিক-১৩৯৮, অক্টোবর-নভেম্বর-১৯৯১ ঈসায়ী
“ওহে মালেক! তুমি কেন তওবা করছ না?”
হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি দামেশ্ক নগরীর একজন ধনী অধিবাসী ছিলেন। তিনি হযরত মোয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুউনার নির্মিত দামেশ্ক জামে মসজিদে এক বৎসরকাল এ উদ্দেশ্যে এতেকাফ করেছিলেন যে, যদি তিনি সেখানে ইবাদতে মশগুল থাকেন তবে সকলে বিশ্বাস করে উনাকে সে মসজিদ সংলগ্ন সম্পত্তির মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত করবেন। এ আশায় বশীভূত হয়ে তিনি সর্বক্ষণ নামাজে ও ইবাদতে মশগুল থাকতেন। অথচ মনে মনে নিজকে মোনাফেক এবং কপট বলেই জানতেন। এরূপে এক বৎসরকাল অতিবাহিত হয়। একদা রাত্রে তিনি মসজিদ হতে বের হয়ে শুনতে পেলেন, যেন কেহ বলছেন- “ওহে মালেক! তুমি কেন তওবা করছ না?” হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি ইহা শুনে বিচলিত হলেন ও ভাবতে লাগলেন এক বৎসরকাল কপটভাবে ইবাদত করেছি। ভক্তি ও ইখলাছের সাথে কিছুই করলাম না, এ অনুতাপ করতে করতে সে রাত্রি হতে পবিত্র ও সরল অন্তকরণে আল্লাহ পাক উনার ইবাদতে মশগুল হলেন। পরদিন প্রাতে মুসল্লিগণ মসজিদে এসে পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, মসজিদে বড়ই বিশৃঙ্খলা ঘটছে। একজন উপযুক্ত মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত করা হলে মসজিদের কাজ সুচারূপে সম্পন্ন হবে। মালেক ব্যতীত আমরা অন্য কাকেও এ কাজের উপযুক্ত পাত্র মনে করি না। অতঃপর সকলে একমত হয়ে হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খেদমতে উপস্থিত হলো এবং মোতাওয়াল্লীর পদ গ্রহণ করতে উনাকে অনুরোধ করলো। হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি মনে মনে বলতে লাগলেন- হে খোদা তাআলা! এক বৎসরকাল মোনাফেকের মত ইবাদত করেছি, কিন্তু কাকেও আমার প্রতি একবার দৃষ্টিপাত পর্যন্ত করতে দেখিনি। আর একটি মাত্র রাত্র সরল মনে (ইখলাছের সাথে) ইবাদতে মশগুল ছিলাম বলে তুমি মোতাওয়াল্লীর পদ প্রদানের জন্য কতিপয় ব্যক্তিকে আমার নিকট পাঠিয়েছ। আমি তোমার রহমতের কসম (শপথ) করে বলছি, এখন আমার সে আকাঙ্খা আর নেই। এ বলে তৎক্ষনাৎ তিনি মসজিদ হতে বের হয়ে পড়লেন এবং মোতাওয়াল্লীর পদ গ্রহণে অসম্মত হয়ে আল্লাহ তায়ালার ইবাদতে নিজেকে বিলিয়ে দিলেন।
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে দুই ব্যক্তির ঝগড়া
একদিন দুই ব্যক্তি নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে ঝগড়া করছিল। আমরা উনার খিদমতে উপবিষ্ট ছিলাম। তাদের একজন ক্রোধান্বিত হয়ে অন্যজনকে গালি দিচ্ছিল। তার মুখমন্ডল রক্তিম হয়ে উঠল। হুযূর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- আমি একটি বাক্য জানি। এ ব্যক্তি ওটা পাঠ করলে যা দ্বারা সে আক্রান্ত হয়েছে নিশ্চয়ই তা দূর হয়ে যাবে। সে শুধু বলিবে:
আল্লামা ইবনে কাসীর লিখিয়াছেন- অধিকাংশ ফকীহর মতে “আউজু” পাঠ করা ফরজ বা অপরিহার্য নহে বরং ইহা মুস্তাহাব। ইমাম রাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন- আতা ইবনে আবু রিবাহর মতে নামাজের ভিতরে ও বাহিরে কোরআন মজীদ তিলাওয়াতের পূর্বে আউজু ওয়াজিব। ইবনে সীরিন বলিয়াছেন- জীবনে একবার “আউজু” পাঠ করলেই ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। আতা ইবনে আবু রিবাহর পক্ষে ইমাম রাজী নিম্নোক্ত দলীল পেশ করেন-
فاذا فرات قران فاستعذبالله من الشيطان الرجيم
উক্ত আয়াত শরীফে আল্লাহ পাক কোরআন শরীফ পাঠের সময় আউজু পাঠ করার জন্য আদেশ করছেন। আদিষ্ট কাজ স্পষ্টতই ওয়াজিব। ইহার সপক্ষে তিনি হুযূর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কার্যধারাও প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন। হুযূর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিলাওয়াতের পূর্বে সর্বদা আউজু পড়তেন। অধিকন্তু উহা দ্বারা শয়তানের কুমন্ত্রনা ও প্ররোচনা প্রতিহত হয়। মূলতঃ যে কাজের সহায়তা ব্যতীত ওয়াজিব সম্পন্ন হতে পারে না তাও ওয়াজিব। সুতরাং আউজু পাঠ করা ওয়াজিব। উহা ওয়াজিব হবার আরও একটি কারণ এই যে, উহা শয়তানের প্ররোচনা হতে রক্ষা করে। কোন বিষয় ওয়াজিব হবার ইহাও একটি পূর্বশর্ত।
কেহ কেহ বলেন ‘আউজু’ পাঠ শুধু হুযূর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য ওয়াজিব ছিল। উনার উম্মতের উপর ওয়াজিব নহে। ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি ফরজ নামাজে তা আউজু পড়তেন না। তিনি শুধু রমজানের প্রথম রজনীতে সুন্নত (তারাবী) নামাজে তা আউজ পড়তেন। ইমাম শাফেঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে লিখেছেন মুসল্লীরা সরবে তাআউজ পড়বে তবে নীরবে পড়লে ক্ষতি নেই। তিনি উনার কিতাবে বলেন, উহা উচ্চ কি অনুচ্চ যে কোন স্বরে পড়লেই চলবে কারণ হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অনুচ্চ স্বরে ও হযরত আবু বকর সিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উচ্চ স্বরে পড়তেন।
ইমাম শাফেঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রথম রাকাআত ভিন্ন অন্যান্য রাকাআতে তাআউজ পাঠ করাকে মুস্তাহাব বলেন কিনা তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একদলের মতে তিনি মুস্তাহাব বলেন। অন্যদলের মতে তিনি মুস্তাহাব বলেন না। শেষোক্ত মতই সবল।
ইমাম শাফেঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তাআউজ পাঠে-
اعوذ بالله من الشيطان الرجيم
বললেই চলবে।
ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, নামাজে যে তাআউজ পড়ার বিধান রয়েছে, উহা কোরআন শরীফের তিলাওয়াতের কারণে প্রদত্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে ইমাম আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন- উক্ত বিধান নামাজের কারণে প্রদত্ত হয়েছে। তাই ইমাম আবু ইউসুফ বলেন, মোক্তাদী নামাজে কিরাআত পড়বেনা বটে, তাআউজ পড়বে। তেমনি ঈদের নামাজে তাকবীরে তাহরীমার পরও অতিরিক্ত তাকবীরের পূর্বে তাআউজ পড়বে। পক্ষান্তরে তাকবীরের পর তাআউজ পড়তে হবে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১ম খন্ড)
হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার শাহাদত মুবারক
অনেকে হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার শাহাদত উপলক্ষে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও অন্য অনেক সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগনকে দোষারোপ করে থাকে যা আদৌ সঠিক নয় বরং এটা কুফরী। এ প্রসঙ্গে একটা ঘটনা উল্লেখ করা হয়- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত মোয়াফা ইবনে ইমরান রহমতুল্লাহি আলাইহি তারা দু’জন বিশ্ব বিখ্যাত বুজুর্গ ছিলেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন আমিরুল মোমেনীন ফিল হাদীস। অর্থাৎ হাদীস শাস্ত্রে যিনি আমিরুল মোমেনীন, উনাকে জিজ্ঞেস করা হল, “হুযূর, হযরত মুয়বিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুউনার মর্যাদা বেশী না হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহমতুল্লাহি আলাইহিউনার মর্যাদা বেশী। তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং উনার সঙ্গী যিনি ছিলেন তিনি বললেন যে, দেখ হযরত মুয়বিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে জেহাদে যেতেন তখন উনার ঘোড়ার পায়ের দাপটের জন্য যে ধুলাগুলি ঘোড়ার নাকে প্রবেশ করতো সে ধুলাগুলিও হযরত ওমর বিন আব্দুল আজিজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (সুবহানাল্লাহ) তিনি আরও বললেন যে, হযরত আলাইহিস সালাম মর্যাদা বেশী না হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মর্যাদা বেশী? জবাবে বলা হল- হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তো নবী, তার সাথে কোন তুলনাই হয়না।
তদ্রুপ সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের সাথে পরবর্তী উম্মতদের কোন তুলনাই হয়না। উনাদের সাথে কোন তুলনা করা আদবের খেলাপ। তাই আল্লাহ পাক কোরআন কারীমায় এরশাদ ফরমান- “নিশ্চয়ই যারা আমাকে এবং আমার রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয়, তাদের ইহকাল এবং পরকালে লানত এবং তাদের জন্য লাঞ্চিত শাস্তি রয়ে গেছে। বুখারী শরীফের একটা হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে- আল্লাহ পাককে ভয় কর আল্লাহ পাককে ভয় কর আমার সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের ব্যাপারে। আমার পরে তাঁদেরকে তিরস্কারের লক্ষ্যস্থল করোনা। তাঁদেরকে যারা মহব্বত করল তারা আমাকে মহব্বত করার কারণেই করল। তাঁদেরকে যারা কষ্ট দিল তারা আমাকেই কষ্ট দিল। আর যারা আমাকে কষ্ট দিল তারা আল্লাহ পাককেই কষ্ট দিল। আর যারা আল্লাহ পাককে কষ্ট দিল তাদেরকে আল্লাহ পাক পাকড়াও করবেন। মেশকাত শরীফের একটা হদীসে উল্লেখ করা হয় “যে আমার (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার) সাহাব-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগনের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে সে কাফির। আল্লাহ পাক বলেন, একমাত্র কাফিররাই সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ সম্পর্কে বিদ্বেষ করে।
উপরোক্ত কোরআন শরীফ ও হাদীস শরীফ দ্বারা বুঝা যায় যে, সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ সম্পর্কে বিদ্বেষ পোষন করা কুফরী।
আশুরাকে সম্মান করলে যে কি ফজিলত হয়
আশুরাকে সম্মান করলে যে কি ফজিলত হয় তার একটা ওয়াকিয়া বর্ণনা করা হয়- এক ব্যক্তি ছিল গরীব, দিনমজুর। একবার অসুস্থতার কারণে তিনি তিন দিন যাবত কাজ করতে পারলেন না। চতুর্থ দিন ছিল আশুরার দিন। তিনি আশুরার দিনে ভাল খাওয়ার ফজিলত সম্পর্কে জানতেন। তখন ছিল কাজীদের (বিচারক) যুগ। কাজী সাহেব ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তার কাছে আশুরায় ফজিলতের কথা বলে এবং নিজের অসুস্থ্যতা ও পরিবারের তিনদিন যাবত অভুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে ১০ সের আাঁ, ১০ সের গোস্ত ও দুই দিরহাম চাইলেন। কাজী সাহেব তাকে যোহরের সময় আসতে বললেন। যোহরের সময় কাজী সাহেব বললেন আছরে আসতে। কিন্তু এর পরে আসরের সময় মাগরেব এবং মাগরেবের সময় সরাসরি না করে দিলেন। দুঃখে অধীর হয়ে লোকটি তখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ীর দিকে রওয়ানা হল। পথে ছিল এক খৃষ্টানের বাড়ী। লোকটিকে কাঁদতে দেখে উক্ত খৃষ্টান উনাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করল। কিন্তু তিনি বিধর্মী বিধায় খৃষ্টানকে প্রথমে কিছু বলতে চাইলেন না। অতঃপর খৃষ্টানের অধীর আগ্রহের কারণে তিনি আশুরার ফজীলত ও তার বর্তমান দুরবস্থার কথা ব্যক্ত করলেন। খৃষ্টান ব্যক্তি তখন উৎসাহী হয়ে তাকে আশুরার সম্মানার্থে ১০সের আাঁ, ১০সের গোস্ত, ২ দিরহাম এবং অতিরিক্ত আরও ২০ দিরহাম দিল এবং বললো যে তোমাকে আমি আশুরার সম্মানার্থে প্রতিমাসে এ পরিমাণ হাদিয়া দিব।
ঐ ব্যক্তি তখন তা নিয়ে বাড়ীতে গেল এবং খাবার তৈরী করে ছেলে-মেয়েসহ আহার করল। অতঃপর দোয়া করলো, “হে আল্লাহ পাক যে ব্যক্তি আমাকে সন্তষ্ট করলো আমার ছেলে-মেয়েদের মুখে হাসি ফোটালো আল্লাহ পাক আপনি তার দিল খুশি করে দেন, তাকে সন্তষ্ট করে দিন”।
ঐ রাত্রে কাজী সাহেবকে স্বপে¦ দেখানো হলো যে, কাজী সাহেবকে বলা হচ্ছে, হে কাজী তুমি মাথা উত্তোলন করো। মাথা তুলে কাজী দেখতে পেলেন যে তার সামনে দুটি বেহেস্তের বালাখানা একটি স্বর্ণের আরেকটি রৌপ্যের। কাজী সাহেব বললেন হে আল্লাহ পাক এটা কি? গায়েবী আওয়াজ হলো এ বালাখানা দুটি তোমার ছিল। কিন্তু কিন্তু এখন আর তোমার নেই। কারণ তোমার কাছে যে গরীব লোকটা এসেছিল তাকে তুমি সাহায্য করার ওয়াদা করে ওয়াদা ভঙ্গ করেছ। এজন্য এ বালাখানা দুটি এখন একজন খৃষ্টান লোকের। কাজী সাহেব বললেন আল্লাহ পাক কোন সে খৃষ্টান। কাজী সাহেব
অতঃপর ঘুম থেকে উঠে ওজু ও নামাজ আদায় করে সেই স্বপে¦র খৃষ্টানের বাড়ীতে গেল। খৃষ্টান কাজী সাহেবকে দেখে বিস্ময়াভুত হলো কাজী সাহেবকে খৃষ্টান বললো, আপনি এত সকালে কি জন্য এলেন? কাজী সাহেব বললো- হে খৃষ্টান ব্যক্তি তুমি গতরাত্রে কি কোন নেককাজ করেছ? খৃষ্টান ব্যক্তি বলতে নারাজ। তিনি বললেন কি ব্যাপার হয়েছে আগে বলেন তারপর বলবো। তখন কাজী সাহেব বললেন যে এই ঘটনা ঘটেছে এবং তুমি নিশ্চয়ই গরীব লোকটাকে সাহায্য করেছ। তখন খৃষ্টান ব্যক্তি তা স্বীকার করল। কাজী সাহেব বললো যে তুমি তো খৃষ্টান তুমি মরলে জাহান্নামে যাবে। তুমি তো এই বালাখানা পাবেনা। তোমার এটা নিয়ে কি ফায়দা হবে? তুমি তোমার এই নেক কাজ এক লক্ষ দেরহামের বিনিময়ে আমার নিকট বিক্রি করে দাও এবং তুমি তার কাছে প্রত্যেক মাসে যে ওয়াদা করেছ আমি তাকে তা দিয়ে দিব। খৃষ্টান ব্যক্তি বললো এটা কখনও সম্ভব নয়। হে কাজী তুমি সাক্ষী থাক আমি কলেমা শরীফ পড়ে মুসলমান হয়ে গেলাম। অতএব এটা ফিকির করার কথা যে আশুরাকে সম্মান করার কারনে আল্লাহ পাক উক্ত খৃষ্টানকে ঈমান দিয়ে দিলেন এমনকি জান্নাত নসিব করলেন। এই জন্য আলাহর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “যে ব্যক্তি আশুরাকে সম্মান করবে আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতের দ্বারা সম্মানিত করবেন।” সুতরাং এটা ফিকিরের বিষয়।
আশুরা দিবসের আমল সম্পর্কে আরও উল্লেখ করা হয়েছে আশুরার সম্মানার্থে কেউ যদি গোসল করে তাহলে আল্লাহ পাক তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন এবং এক বৎসরের মধ্যে মৃত্যু ব্যতীততার আর কোন কঠিন রোগ হবেনা।
জিলক্বদ-জিলহজ্জ-১৪১১, জৈষ্ঠ-আষাঢ়-১৩৯৮, জুন-১৯৯১ ঈসায়ী
আইয়ামে জাহিলিয়াহ বিরাজমান অবস্থায় মেয়ে সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া
আরব অন্ধকার যুগে তথা আইয়ামে জাহিলিয়াহ বিরাজমান অবস্থায় মেয়ে সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া নিয়ম ছিল। সে জীবন্ত মেয়ে সন্তানের কবর দেওয়া দলের প্রধান ছিলেন হযরত দাহিয়াতুল কালবি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহন করে আইয়ামে জাহেলিয়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তিনি যখন হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসলেন। ইসলামের দীক্ষায় দীক্ষিত হতে হাত দু’টি বাড়িয়ে দিলেন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে। আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাত ধরবেন এমন সময় তিনি আবার হাত দু’টি গুটিয়ে নিলেন এবং বললেন- হুযূর আমি আরবের বুকে মেয়ে সন্তানকে জীবিত কবর দেওয়া দলের প্রধান। তাছাড়া আমার স্ত্রী আমার অজান্তে একটি মেয়ে সন্তানকে লালন পালন করছিল, ১০/১২ বৎসর বয়সে তা আমার চোখে ধরা পড়ে। মেয়েটির রূপ চেহারায় আমিও পিতৃস্নেহে অভিভূত হয়ে গেলাম। জাহেলিয়ার নীতি আমাকে বার বার তাড়া করতে লাগলো, তুমি আরবের বুকে মেয়ে সন্তান জীবন্ত কবর দেওয়া দলের সর্দার হয়ে পিতৃস্নেহের কাছে হেরে গেলে? পরিশেষে বাধ্য হয়ে মিথ্যে ছলনায় স্ত্রীকে বললাম, মেয়েকে সুন্দর ও পরিপাটি করে সাজিয়ে দাও। তাকে নিয়ে বেড়াতে যাব। মেয়েটিকে নিয়ে মরুময় পথ ধরে অনেক দূরে চলছি। মরুময়পথে আমি ও আমার সন্তানই যাত্রী। মেয়েটির রূপ, লাবণ্যময়ী চেহারা আমাকে উন্মাদ করে তুলছিল। কিন্তু কি করব? জাহিলিয়ার নীতির কাছে হেরে গেলাম। মেয়েটি বললো, আব্বা আমাকে একটু পানি দেন। বললাম, মা একটু অপেক্ষা কর, এ সুযোগেই আমার কবর দেওয়ার লুকাইত যন্ত্রপাতি বের করে মাটি খুঁড়তে শুরু করলাম। অনেক গভীর করে উপরে উঠে এলাম। মেয়েটি তৃষ্ণার্ত নয়নে আমার পানে তাকিয়ে দেখছিল। মেয়েকে বললাম, দেখতো মা, পানি উঠছে কিনা? মেয়েটি অধীর আগ্রহে তাকাতেই দু’চোখ বন্ধ করে মেয়েকে কুপের মধ্যে ফেলে দিয়ে মাটি দিতে শুরু করি। হুযূর! মেয়েটির সে কান্না আর আমাকে আব্বা আব্বা বলে ডাকার শব্দ আমার কানে আজও ভেসে উঠে। বলুন হুযূর, এমন পাপাত্মা পিতা, মেয়ে সন্তানদের জীবিত কবর দেওয়ার যে পাপ আমি করেছি, এমন পাপ নিয়ে ইসলাম কি আমাকে গ্রহন করবে?
হযরত দাহিয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুউনার কথা শুনে দয়াল নবীর দু’চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো। তাকিয়ে থাকলেন তার মুখ পানে। ওহি না আসা পর্যন্ত আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কথা বলেন না। তিনি চুপ করে থাকলেন, এমন সময় হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম আগমন করেন এবং বলেন, হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি দীপ্ত কক্তে ঘোষণা করুন, “আল ইসলামু ইয়াহদিমু মাক্বানা ক্বাবলাহু” অর্থঃ “ইসলাম বিগত জীবনের সমস্ত পাপরাশিকে ক্ষমা করে দেয়। এ ঘোষণার পর হযরত দাহিয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলামে দাখিল হলেন। তিনি এমন সুন্দর ও সুদর্শন ছিলেন যে, মানব সুরতের অধিকাংশ সময়ই জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম উনার আকৃতিতে ওহী নিয়ে আসতেন। এমন সুমহান ধর্মে আছি বলে সত্যিই স্বার্থক আমাদের জীবন। তবে এ ইসলামের বিধিনিষেধ বা রোকনগুলি সম্বন্ধে আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন, সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ যে সত্য পথ অবলম্বনে আমাদের জন্য আদর্শ রেখে গেছেন, সে আদর্শেই শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজমান। আমরা আজ সে পথ ও মত হতে অনেক দূরে সরে এসেছি বলেই আমরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত।
জিলক্বদ-জিলহজ্জ-১৪১১, জৈষ্ঠ-আষাঢ়-১৩৯৮, জুন-১৯৯১ ঈসায়ী
মদীনা শরীফ-এর সেই ছেলেটি...
এক ঈদের দিনে মদীনার ঘরে ঘরে আনন্দ, আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের জমায়াত শেষে সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু গণকে নিয়ে যার যার বাড়ী ফিরার পথে। তখনই আমাদের মহানবী হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চোখ পড়লো মাঠের দিকে। তিনি দেখেন মলিন কাপড় পরিহিত, নিরানন্দ মুখে একটি ছেলে মাঠে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। রহমতের সাগর, মহানবী ছুটে গেলেন ছেলেটির কাছে। জিজ্ঞেস করলেন, “বাবা, তুমি কাঁদছ কেন?” উত্তরে ছেলেটি বলল, হুযূর আমি মাতৃকোলে আসার অনেক আগেই আমার পিতার মৃত্যু হয়েছে। শৈশবেই মাকেও হারিয়ে এতিম। আজ এ ঈদের দিনে কে দেবে আমাকে নতুন জামা কাপড়? কে কোলে তুলে নিয়ে আনন্দ করবে? কে আমাকে সান্ত¡না দেবে?
অনাথ এতিম ছেলের কথাগুলি শুনে সৃষ্টিকূলের রহমতের ভান্ডার দয়াল নবী অশ্রুসিক্ত নয়নে ছেলেটিকে কোলে তুলে নিলেন এবং বললেন- “বাবা, আমি তোমার মত মা-বাবাকে হারিয়ে ছোটকালেই এতিম। আজ থেকে আমি তোমার পিতা, আয়শা তোমার মা, ফাতেমা তোমার বোন বলে মনে করো।” এই বলে নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছেলের কপালে চুমো দিয়ে আদর করলেন এবং হুজরা মুবারকে পৌঁছুলেন। উম্মুল মো’মেনিন হযরত আয়শা সিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে ডেকে বললেন, “দেখ হে আয়শা! তোমার জন্য একটি ছেলে নিয়ে এসেছি, তুমি তাকে আপন ছেলের মতো মনে করে লালন-পালন কর।”
হযরত আয়শা সিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ছেলেটিকে আদরে কোলে তুলে নিলেন। নিজের হাতে গোসল করিয়ে দিলেন, নতুন জামা-কাপড় পরালেন এবং খেতে দিলেন, নিজের ছেলের মত ছেলেটিকে লালন-পালন করতে লাগলেন।
জিলক্বদ-জিলহজ্জ-১৪১১, জৈষ্ঠ-আষাঢ়-১৩৯৮, জুন-১৯৯১ ঈসায়ী
হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলাইহি এখলাছের আর একটি উজ্জল নমুনা
যখন হযরত ওমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অছিয়ত মোতাবেক উনার পবিত্র জুব্বা মোবারক হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে প্রদানপূর্বক ফেরার পথে হযরত ওমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কিছু নছিহত করতে অনুরোধ করায় তিনি বললেন, “হযরত ওমর! আপনি কি খোদাকে চিনেছেন?” হযরত ওমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, “হাঁ নিশ্চয়ই চিনেছি।” হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “যদি উনাকে ব্যতীত অন্য কাউকেও না জানেন (চিনেন) তবে উহা আপনার জন্য উত্তম।” হযরত ওমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, “আরও কিছু নছিহত করুন।” হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “খোদা তা’য়ালা কি আপনাকে জানেন?” তিনি বললেন, “হাঁ জানেন।” হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “তিনি ব্যতীত অন্য কেউ আপনাকে না চিনলেও কোন ক্ষতি নেই।” ইহাই ইখলাস। (অসমাপ্ত)
জিলক্বদ-জিলহজ্জ-১৪১১, জৈষ্ঠ-আষাঢ়-১৩৯৮, জুন-১৯৯১ ঈসায়ী
হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা: ইবাদত কেন করেন !
একদা একদল লোক হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট হাজির হন। তন্মধ্যে একজনকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আচ্ছা ! আপনি আল্লাহ পাক উনার ইবাদত কেন করেন?” তিনি বললেন- “দোযখের সপ্ত স্তর বড়ই ভীষণ এবং সকলকে একদিন উহার উপর দিয়ে গমন করতে হবে। সেই দোযখের শাস্তির ভয়ে ইবাদত করি।” অপর একজন বললেন- “বেহেস্তেতে সৌন্দর্য্যময় অট্টালিকারাজি এবং নানাবিধ আরামের এবং নিয়ামতের জন্য খোদা প্রদত্ত ওয়াদা বিদ্যমান আছে, তজ্জন্যই আমি এই ইবাদত করছি।” ইহা শুনে হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন- “যে ব্যক্তি দোযখের ভয়ে ও বেহেস্তের লোভে স্বীয় প্রভূর ইবাদত করে, সে বড়ই হেয় ও হতভাগ্য।” তারা বললেন, “আচ্ছা ! বলুনতো, আপনি কেন উনার ইবাদত করছেন? আপনার কি কোন বাসনা নেই?” তিনি বললেন, “আমার পক্ষে বেহেস্ত এবং দোযখ উভয়ই সমান। তিনি ইবাদত করার জন্য আদেশ করেছেন, আমার জন্য কি ইহাই যথেষ্ট নয়? কোন শাস্তির ভয় বা লোভণীয় কিছু না থাকলে উনার ইবাদত করা মানুষ মাত্রেরই কর্তব্য নয় কি?”
হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মোনাজাতে বলতেন, “হে খোদা! যদি আমি দোযখের ভয়ে তোমার উপাসনা করি, তবে তুমি আমাকে দোযখে নিক্ষেপ করো, আর যদি বেহেস্তের আশায় তোমার উপাসনা করি, তবে বেহেস্ত হতে তুমি আমাকে বঞ্ছিত করো। আর যদি কেবল তোমার সন্তুষ্টি বিধানের জন্যই আমি উপাসনা করি তবে তোমার স্থায়ী সৌন্দর্য্য হতে আমাকে বঞ্ছিত করো না।”
ইমাম জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ওয়াকেয়া মুবারক- কুল্লা ইয়াওমিন হুয়া ফী শান
এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনু জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। তিনি একবারসূরা আর-রহমান শরীফ উনার ছোট্ট একখানা পবিত্র আয়াত শরীফ - كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِىْ شَأْنٍ
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু: উটের গোশত-
কোন কোন তফসীরকারক এ আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার ক্ষেত্রে একটি ঘটনার উল্লেখ করেন-
একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবারে বসা ছিলেন। এমন সময় উটের গোশতসহ কিছু খাদ্য হাজির করা হল। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন যে, তিনি পূর্বে ইহুদী পন্ডিত ছিলেন এবং সেই ধর্মে উটের গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ বিধায় তিনি তা গ্রহণ করতেন না। কাজেই এখনও তিনি উটের গোশত গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অনুমতি চাইলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ করে থাকলেন এবং আল্লাহ পাক উনার বিধানের অপেক্ষায় রইলেন। কেননা
وما ينطق عن الهوى. ان هو الا وحى يوحى.
অর্থঃ “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহী ব্যতীত নিজের থেকে কোন কথা বলেন না। তখন আল্লাহ পাক এ আয়াত শরীফ নাযিল করলেন।
বিশ্লেষণ - ফাওয়ায়েদে ওসমানী কিতাবে এ আয়াত শরীফের তফসীরে বলা হয়েছে, “এ আয়াতের উদ্দেশ্য হলো বিদআতের দুর্গকে বিনষ্ট করা। কেননা বিদআত হলো কোন কাজকে উত্তম ভেবে ধর্মের অঙ্গস্বরূপ গ্রহণ করা। এমন কাজকে পূণ্য কাজ বা ধর্মীয় কাজ মনে করে তার প্রচলন করা।”
পরিপূর্ণভাবে ঈমান অর্জন এবং বিদআতকে বর্জনেরই নির্দেশ রয়েছে এ আয়াত শরীফে। তাই এরশাদ হয়েছে- “হে মুমিনগণ, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো।”
বয়ানুল কোরআন কিতাবে এ আয়াত শরীফের তফসীরে বলা হয়েছে, “এ আয়াত শরীফে সতর্কবাণী রয়েছে একদিকে সেসব লোকদের জন্য যারা মূর্খ বিদআত কাজে লিপ্ত আর অন্যদিকে যারা নিজেদেরকে আধুনিক মনে করে এবং আকিদা বিশ্বাসে কথায় ও কাজে ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবন বিধানরূপে মেনে নেয়না। কেননা শয়তান তাদেরকে ইসলাম বিরোধী কাজে মুগ্ধ করে রাখে।
জিলক্বদ-জিলহজ্জ-১৪১১, জৈষ্ঠ-আষাঢ়-১৩৯৮, জুন-১৯৯১ ঈসায়ী
মানুষ ও বাঘের মাঝে জিহাদ এবং কামিয়াবী হাছিল। পর্ব-৩০
ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৯ ও ১১ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ লাইলাতুল আহাদ (রোববার রাত) ও লাইলাতুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার রাত) এবং ১৪৪৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৫শে রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল আরবিয়া (বুধবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি একখানা অনেক বড় স্বপ্ন মুবারক দেখেছি। দেখলাম- সারা পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে আর বাঘের মধ্যে খুব মারামারি হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ বাঘ আসতেছে। আমরাই মূল কেন্দ্র। আমাদের সাথেই জিহাদ। অনেক বন্দুক-পিস্তল। বাঘ গুলো সব রয়েল বেঙ্গল টাইগার। অনেক বড় বড় বাঘ। আমরা যাচ্ছি। আমার ডানে-বামে যারা আছে তাদের অনেককে বাঘ কামড়াচ্ছে, মারতেছে। আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স এরা সবাই আছে। এদেরকেও খেয়ে ফেলতেছে। ক্যান্টনমেন্টগুলো খালি হয়ে যাচ্ছে। এদের কামড়িয়ে মেরে ফেলতেছে। ঘুরতে ঘুরতে প্রমে বাংলাদেশ থেকে দিল্লী, দিল্লী থেকে পাকিস্তান, পাকিস্তান থেকে আরব সাগর ও এডেন উপসাগরের উপর দিয়ে গিয়ে ইয়ামেন, ইয়ামেন থেকে লোহিত সাগর হয়ে মিশর হয়ে ভূমধ্যসাগরের উপর দিয়ে গিয়ে গ্রীস, গ্রীস থেকে মেসিতোনিয়া হয়ে কসোভো হয়ে সার্বিয়া হয়ে হাঙ্গেরী, হাঙ্গেরী থেকে স্লোভাকিয়া হয়ে পোল্যান্ড হয়ে লিথুনিয়া হয়ে লাটভিয়া হয়ে এস্তোনিয়া হয়ে রাশিয়া। তারপর রাশিয়ার উপরের দিকে রাশিয়ার পুরো অংশ হয়ে সোজা পৃথিবীর পূর্ব দিকে এসে বরাবর নীচের দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে জাপানের ডান পাশ হয়ে ফিলিপাইন সাগরের উপর দিয়ে গিয়ে দক্ষিণ চীন সাগর হয়ে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনাম থেকে থাইল্যান্ড উপসাগর হয়ে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের উপর দিয়ে যেয়ে ভারত মহাসাগর হয়ে শ্রীলঙ্কার উত্তর পাশ দিয়ে গিয়ে ভারতের তামিলনাড়– হয়ে আরব সাগরের উপর দিয়ে গিয়ে ইয়ামেন হয়ে ঘুরে আবার আগের জায়গায় এসেছি। সব বিরাণ। এক জায়গায় আসলাম। এসে দেখলাম বিরাট একটি বিল্ডিং। অনেক বন-জঙ্গল। লোকজন নেই। আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্সের অনেক লোক মৃত পড়ে রয়েছে। আমি খুঁজতেছি যে, বন্দুক-পিস্তল আছে কিনা। কতগুলো পিস্তল পাওয়া গেলো বন্দুকের মত। একেকটার মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার গুলি। আমি বললাম, ‘এগুলোই তো দরকার।’ এগুলো সংগ্রহ করলাম। অনেক লোক মৃত। বাঘও মরে পড়ে রয়েছে। বিদেশী লোক। আমি আমাদের লোক খুঁজে বের করলাম। বাঘগুলো এসেছে আমার চার দিকে; কিন্তু আমাকে দেখেনি। আমাকে কিছু করতে পারেনি। আমি পুরাটা চক্কর দিয়ে এসে কিছু লোক জোগাড় করে পরে আবার এলাকাগুলি জিন্দা করলাম। আর আমি বললাম, ‘তোমরা তাহলে আগে চার দিকে নিরাপত্তা ঠিক করো। যতটুকু আমি চক্কর দিয়ে আসলাম, এই জায়গাগুলো ঠিক করো।’ দেখা গেলো লাখ লাখ বাঘ। বিরাট বড় বড় বাঘ। একেকটা বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ হাত লম্বা। মানুষ অনেক। আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স, পুলিশ, যত ফোর্সের লোক ছিলো সব সাফ হয়ে গেছে। কেউ নেই। ক্যান্টনমেন্টগুলো খালি। আমি যতদূর ঘুরে আসলাম বড় বড় ক্যান্টনমেন্ট- এই আমাদের বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া দিল্লি, পাকিস্তান পর্যন্ত। আরব সাগর ও এডেন উপসাগরের উপর দিয়ে গিয়ে ইয়ামেন, ইয়ামেন থেকে লোহিত সাগর হয়ে মিশর হয়ে ভূমধ্যসাগরের উপর দিয়ে গিয়ে গ্রীস। ওখান দিয়ে পুরা চক্কর দিয়ে এসে এদিক দিয়ে এখানে যতগুলি দেশ, সবগুলি। তারপরে রাশিয়া পার হয়ে পৃথিবীর পূর্ব দিকে এসে বরাবর নীচের দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে জাপানের ডান পাশ দিয়ে থাইল্যান্ড হয়ে আরব সাগর হয়ে ইয়ামেন হয়ে চক্কর দিয়ে এসে আবার দিল্লী পর্যন্ত। সব বিরান। হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ বাঘ। বাঘগুলোও মরে পড়ে রয়েছে। মানুষও মরে পড়ে রয়েছে। কোটি কোটি মানুষ। পরে দেখা গেলো এই এলাকাগুলো আবাদ হলো, নিরাপত্তা দিয়ে মোটামুটি একটা অবস্থা দাঁড় করানো হলো। কিন্তু লোক সংখ্যা অনেক কম। বাঘ তো প্রায় সব মরেছে। এখন কিছু থাকতেও পারে পালিয়ে। আমি বললাম- ‘ওগুলি দেখো, খুঁজে বের করো।’ কিছু বাঘ পাওয়া গেছে, ওগুলি মেরে ফেলা হয়েছে। এরা মানুষের শত্রু। অনেক বড় বড় বাঘ। এতো গুলি করা হচ্ছে; কিন্তু বাঘগুলো গুলি পরওয়া করে না। একটা বাঘ আসে (লোকজন) সামনাসামনি গুলি করে, বাঘ গুলির পরওয়া না করে লাফ দিয়ে এসে ধরে লোকটাকে খেয়ে ফেলে। কামড়িয়ে মেরে ফেলে। আর থাবা দেয়। বাঘের থাবা তো কঠিন থাবা। বাঘ শেষ হয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ বাঘ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মত। আবার অনেক বড় বড়ও আছে অর্থাৎ ছোট, বড় সর্বপ্রকার আছে। সমস্ত ক্যান্টনমেন্টগুলো খালি। সবগুলি ঘুরে দেখলাম যে, আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্সের লোক সব গায়েব। খেয়ে ফেলেছে কিছু, আর কিছু অর্ধ খাওয়া, মৃত। এমন থাবা দিয়েছে যে, মাথা গুড়া হয়ে গেছে। বাঘ তো মাথার মধ্যে থাবা দেয়। অনেক বিরাট মারামারি, কাটাকাটি, খুনাখুনি। পরে একটা অবস্থা দাঁড়ালো, এই এলাকাগুলো আবাদ হলো। লোক সংখ্যা নেই বললেই চলে। পরে আমরা কতগুলি বন্দুক পেলাম- একেকটার মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার গুলি আছে। একটা বাঘকে সাড়ে ৫ হাজার গুলি করলে দমন করা যায়। দশ-বিশটা গুলি করলে দমন করা যায় না। বাঘ দশ-বিশটা গুলি পাত্তা দেয় না। গুলি ক্রিয়া করে মরতে তো সময় লাগে। এর মধ্যে সে মানুষটিকে মেরে ফেলে। শক্তিশালী তো এগুলো। আর বাঘগুলি বিরাট বড় বড়। অনেক বড়। গরুর মত উঁচু, লম্বা। কতোগুলি হাতির মত বিরাট। বিশ-পঞ্চাশটা গুলিতে কিছুই হয় না। হাজার হাজার গুলি করলে, পরে মারা যায়। আর বাঘগুলো আসে খুব ক্ষিপ্ত হয়ে। একদম পুরো এই চক্করটা- দিল্লী থেকে শুরু করে পাকিস্তান হয়ে মিশর হয়ে হাঙ্গেরী হয়ে পোল্যান্ড হয়ে পুরা এই অংশে যতগুলো দেশ আছে, সব ঘুরে এসে তারপরে রাশিয়া পার হয়ে পৃথিবীর পূর্ব দিকে এসে বরারব নীচের দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে জাপানের ডান পাশ দিয়ে থাইল্যান্ড হয়ে আরব সাগর হয়ে ইয়ামেন হয়ে চক্কর দিয়ে এসে আবার দিল্লী পর্যন্ত। পুরা সার্কেলটা। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) কত বড় সার্কেল এটা? হ্যাঁ? অনেক বাঘ। অন্য কোনো প্রাণী না, শুধু বাঘ। ভয়ঙ্কর। এগুলোকে আমি দেখি, এরা কিন্তু আমাকে দেখে না। আমি যাচ্ছি। লোকজন ঠিকই আমার ডানে বামে যাচ্ছে। বাঘগুলো মারতেছে। ডানে বামে যাচ্ছে। আমার সাথে কিছু লোক যাচ্ছে। পরে দেখি আমি একাই। পরে এসে লোক জোগাড় করেছি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
আরজী: মানুষ যারা ছিলো, তারা কার পক্ষে?
জওয়াব মুবারক: বাঘগুলো কোনোটা আমাদের পক্ষে না। মানুষ আমাদের পক্ষে। এখন মানুষ মানুষের ছুরতে। বাঘগুলি শত্রু হতে পারে, কাফের হতে পারে। মানুষ ঈমানদার। অনেক বাঘ! অসংখ্য, লক্ষ লক্ষ, এখন কোটি হতে পারে। আর মানুষও কোটি কোটি। বাঘ আর মানুষের জিহাদ। এরিয়াটা বা এলাকাটা আমার খেয়াল আছে, কতটুকু ঘুরলাম। আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স তারা তাদের কামান, বন্দুক, পিস্তল দিয়ে অনেক গোলাগুলি করেছে। কিন্তু বাঘগুলি কোনো পরওয়া করেনি। ট্যাঙ্কের উপর লাফ দিয়ে একটা বাঘ উঠে গেলে, কি করবে? আর যেই বিরাট বড় বাঘ! ট্যাঙ্ক তো এটার তলে পড়ে থাকে। ছোট বড় অনেক বাঘ আছে। ছোট, মাঝারি, বড়। বড়গুলো তো অনেক বড়। বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ হাত লম্বা। অনেক লম্বা, উঁচু। গরুর মত, মহিষের মত, হাতির মত উঁচু। মাঝারি সাইজের বেশি। ছোট, বড় কম। মাঝারিগুলো গরু-মহিষের মত উঁচু। আর লম্বায় এই রুমের সমান হবে না, একটু কম হবে। ১০-১৫ ফুট তো স্বাভাবিক, ২০ ফুট। এতো লম্বা মাঝারি যেগুলো। এই সাইজের বাঘ বেশী। আর ছোট-বড় আছে। তবে দেখতে দেখা গেলো সব রয়েলবেঙ্গল টাইগার অর্থাৎ ডোরাকাটা সব। হিংস্র বেশি। অন্য কোনো প্রাণী নেই। শুধু বাঘ। সিংহ বা অন্য কিছু আমি দেখিনি।
শুধু বাঘ দেখলাম। এক চেটিয়া বাঘ। দলে দলে বের হয়ে আসতেছে এগুলি। অনেক হিংস্র। আর বন-জঙ্গল দেখলাম অনেক। এখন শয়তান হোক আর শত্রু হোক, যাই হোক, কাফের-মুশরিক হোক, এগুলি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আর মানুষও মারা গেছে; কিন্তু এরা সব শেষ। মরে পরিষ্কার হয়ে গেছে। পরিশেষে আমার একটা কথা মনে হলো- ঐ যে আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনি যে খলীফা হলেন, কিছুই নেই, এরকম। সব ফাঁকা, কিছুই নেই। আমি শেষে যেখানে আসলাম- কয়েকটা অনেক বড় বিল্ডিং দেখলাম। অনেক বড় বিল্ডিং। অনেক বড়, উঁচু, লম্বা, চওড়া। আর চার দিকে জঙ্গল, গাছপালা। এখানে এসে আমি থামলাম। থেমে দেখলাম কিছুই নেই। অনেক লোক মৃত পড়ে রয়েছে। আমি দেখলাম- অনেকের সাথে পিস্তল, বন্দুক অন্যান্য অস্ত্র আছে। এক জায়গায় একজনের কাছে একটা বন্দুক খুঁজে পেলাম। মারা গেছে লোকটা। আর্মির লোক হবে সে। এখানে লেখা আছে- সাড়ে ৫ হাজার গুলি এটার ভিতরে। আমি বললাম- ‘এরকমই তো দরকার আমার। সাড়ে ৫ হাজার গুলি, তাহলে বাঘ মারতে সহজ।’ আমি কিছু জোগাড় করলাম। কয়েকটা লোক আসলো আমাদের। তখন আমি বললাম যে, ‘ঢাল-তলোয়ার না, বাঘ আসলে দৌড়িয়ে আসে, ঢাল-তলোয়ার দিয়ে পারা যাবে না।’ গুলি করলে কতগুলো মরে পরে যায়। আবার কতগুলি আক্রমণ করে। এরকমই।
আমি বলেছিলাম যে, ‘বেশি পাওয়ার ফুল আছে কিনা?’ তারা দিতে পারেনি, পরে পেয়েছি। এখন বাস্তবে আছে কিনা। সাড়ে ৫ হাজার গুলি একটার মধ্যে। তখন আমি বললাম, ‘এটাইতো দরকার। এগুলি দিয়ে গুলি করলে যত বড় বাঘ হোক, মারা যাবে।’ যেগুলি বড় বড় অনেক বিরাট, হিংস্র। বাঘ যদি গরুর সমান লম্বা ও মোটা হয়, ওটাকে গুলি করলে কি কাজ হবে? দশ, বিশটা গুলিতে কি হবে? একবারে হাজার হাজার গুলি করতে হয়। ৫ হাজার গুলি একবারে করতে পারলে পড়ে যাবে। বিরাট বড় বাঘ। ছোটও আছে। ছোটগুলিতো ঘায়েল করা গেছে, বিরাট বড়গুলিতো কঠিন। বাঘের তো অনেক শক্তি আছে। সহজে পড়ে না। হিংস্র, অনেক হিংস্র। লক্ষ লক্ষ বাঘ। কোটিও হতে পারে।
এখন শত্রুতো আমাদের থাকবেই। কাফের-মুশরিকরা তো বিরোধিতা করবেই। তবে আমরা ইস্তিক্বামত থাকলে, অবশ্যই কামিয়াবী লাভ করবো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
জিন-ইনসান অনেক ছিলো। ক্ষতি হয়েছে। শেষে আমরাই কামিয়াবী হাছিল করেছি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এখন বড় জিহাদ হলে কী রকম হবে? মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে- বড় জিহাদ হলে ১০০ জনে ১ জন জিন্দা থাকবে। অবস্থা অনেকটা এরকমই। এই পুরোটা মনে হয় বিরান হয়ে গেছে। এশিয়া পুরো, ইউরোপের কিছু। বড় বড় দুব্বা ঘাস। আর এমন গাছপালা যা বড় বড় গাছপালা। বড় বড় গাছপালা আছে। দুব্বা ঘাসগুলি বড় বড়। বাঘ তো একটা দুইটা না। একটা দুইটা হলে এক কথা। একশ দুইশও না। লক্ষ লক্ষ। এখন এগুলি শত্রু হোক বা আর যাই হোক, শয়তান। ইনসানের থেকে জিন বেশি। শয়তানের দল অনেক বড় না? এগুলি বাঘের ছুরতে আসতে পারে, অসুবিধার কি আছে? কারণ কাফেররা তো কাফের। ঐ শয়তান তো থাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য। এখন মূল বিষয় ইস্তিক্বামত থাকলে কামিয়াব, আর কিছু না। এখন জিহাদ করলে কিছু লোক তো শহীদ হবেই। যারা শহীদ হবে, তারা কামিয়াব। আর কিছু লোক থাকবেই, তারা গাজী। এটা স্বাভাবিক। এখানে ভয়ের তো কিছু নেই। এখন আমাদের লোকদের দায়িত্ব হলো- তাদের কাজগুলো ঠিকমত করা। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এর আগে আরেকবার দেখেছিলাম। বলছিলাম না? ‘একটা বিরাট জিহাদ। অনেক বড় জিহাদ। সেই জিহাদ মুবারক-এ আমরা তাশরীফ মুবারক নিয়েছি।
আমি সামনে আছি। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের তরফ থেকে চারজন প্রধান ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে উনারা ৪ জন ও অন্যান্য হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিয়ে বদরের জিহাদে যেভাবে কামিয়াবী হাদিয়া করা হয়েছে, তদ্রুপ যেন আমাদেরকেও কামিয়াবী হাদিয়া করা হয় এবং ঐ জিহাদে আমরা কামিয়াবী লাভ করলাম।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
এখন কোনটা গাজওয়াতুল হিন্দ, ঐটা পরে ফায়ছালা হবে। মূল বিষয়টা হচ্ছে- জিহাদ হয়েছে, আমরা কামিয়াবী হাছিল করেছি। এটা হলো- বাঘের সাথে মানুষের জেহাদ। কামিয়াবী তো হাছিল হয়েছে। গায়েবী মদদ ছাড়া তো কামিয়াবী হাছিল করা যায় না। এটাও গায়েবী মদদ; অন্যথায় পারার কথা ছিলো না। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিসসালাম!)
আর যতগুলি বাঘ আছে আমার ডানে বামে গেছে। কিন্তু এরা আমাকে দেখেনি। যত বড় বাঘ আছে, গেছে। বিরাট বড় বড় আকৃতির। এখন আমাদের লোকজনদেরকে ঈমানী কুওয়াত হাছিল করতে হবে। বুঝতে পারলে? জিসমানী কুওওয়াত দিয়ে পারা যাবে না। যাহিরী কুওওয়াত দিয়ে এটা সম্ভব না। এটা হলো রূহানী কুওওয়াত। রূহানী কুওওয়াত হাছিল করতে হবে, তাহলে কামিয়াব। আর ইবলীস শয়তান ২৪ ঘন্টাই এই জায়গায় ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আর দেশি বিদেশি শত্রু তো আছেই। সব তো একই। এগুলি আলাদা নয়। তাহলে চিন্তার কি আছে। এরা চোখের পলকে উড়ে যাবে। এখন শেষ পর্যন্ত কামিয়াবী হাছিল হওয়াই মূল বিষয়। কামিয়াবী হাছিল আমাদের হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় হচ্ছে ঈমানী কুওওয়াত আর নিসবত। নিসবত ঠিক থাকলে, ঈমানী কুওওয়াত ঠিক থাকবে। আর নিসবত না থাকলে, ঈমানী কুওওয়াত থাকবে না।”
মওযূ ও ছহীহ হাদীছ শরীফ নির্ণয়ের প্রকৃত মানদণ্ড সম্পর্কে বর্ণনা- পর্ব-২৯
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবূব, মুরাদ ও সমগ্র কায়িনাতের মালিক হিসেবে সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছু দিয়ে সৃষ্টি মুবারক করে উনাকে উনার সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং উনার কুদরত মুবারক অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন অর্থাৎ উনার হাক্বীক্বী যিয়ারত, ছোহবত, দীদার মুবারক-এ উনি ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! এর মধ্যে কোনো জুদায়ী নেই। সুবহানাল্লাহ! আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংযুক্ত এবং সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে উনারাও একই সম্মানে সম্মানিত এবং একই ফযীলত মুবারক, উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ! এই কারণে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّ يقَُاسُ بِنَا اَحَدٌ
অর্থ: ‘হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না।’ সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববা ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি) কিন্তু মরদূদ শয়তান এবং তার শাগরিদ ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিক, মুনাফিক্ব ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা শুরু থেকেই সবসময় কোশেশ করেছে, কিভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান মুবারক খাটো করা যায়, উনাদেরকে নিয়ে চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করা যায়, উনাদেরকে হেয় প্রতিপনড়ব করা যায়। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তাই তারা বিভিনড়ব কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে তারা তাহরীফ বা পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতে পারেনি, আর কস্মিনকালে পারবেও না। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَاِنَّ لَهٗ لَحٰفِظُوْنَ
অর্থ: ‘নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ আমিই নাযিল করেছি এবং নিশ্চয়ই আমিই উনাকে হেফাযত করবো।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা হিজ্ব শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৯) কিন্তু তারা অত্যন্ত কূটকৌশলে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে তাদের অনেক মনগড়া, মওযূ, বানোয়াট, বাতিল এবং ইসরাঈলী বর্ণনা প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেগুলো যাচাই-বাছাই করার কোশেশ করেছেন এবং উনাদের সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করেছেনও। এজন্য উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রহণ করার ব্যাপারে অনেক শর্ত- শারায়েত নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু উনাদের অজান্তে একটা শর্ত বাদ পড়ে গেছে। আর সেটা হচ্ছেন- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো বর্ণনা গ্রহণ করা যাবে না। সেটা যত বড় ছিকাহ্ রাবীই বর্ণনা করুন না কেন, তা মওযূ ও বাতিল হিসেবে পরিগণিত হবে। আর উনাদের শান মুবারক সম্মত কোনো বর্ণনা, সেটা যত দূর্বল রাবীই বর্ণনা করুক না কেন, তা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবেন এবং ছহীহ হিসেবে পরিগণিত হবেন।’ সুবহানাল্লাহ! আর এই শর্ত সংযুক্ত না থাকার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শান মুবারক উনার খিলাফ অনেক মনগড়া, মওযূ, বানোয়াট, বাতিল এবং ইসরাঈলী বর্ণনা বিভিন্ন হাদীছ, তাফসীর, ফিক্বাহ্-ফতওয়া, আক্বাইদ, উছূল, সীরাত, ইতিহাস ও অন্যান্য গ্রন্থে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর অসংখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ কিতাবে লিপিবদ্ধ হওয়া থেকে বাদ পড়ে গেছেন। আর যে সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ লিপিবদ্ধ হয়েছেন, এই শর্ত সংযুক্ত না থাকার কারণে উনাদের অনেকগুলোকে আবার বিভিন্ন কিতাবে বানোয়াট ও মওযূ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! যার কারণে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মুসলিম উম্মাহ্ উনাদের হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িলফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক অনুধাবনে এবং উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও হুসনে যন মুবারক পোষণে ব্যর্থ হয়েছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর এ সকল কারণে ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিক, মুনাফিক্ব, বাতিল ৭২ ফেরক্বার লোকেরা ও নাস্তিকরা মুসলিম উম্মাহর মাঝে ফেতনার আগুন ছড়াতে সমর্থ হয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! বর্তমানে সেই ফেতনার আগুন লেলিহান শিখার ন্যায় দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং গোটা মুসলিম উম্মাহ্কে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে। তাই এ সকল মওযূ হাদীছগুলো নির্ণয় করা এবং তার খণ্ডনমূলক জবাব দেয়া পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরযে আইন ছিলো। কাজেই বর্তমানে যারা আছে তাদের সকলের ঈমানী দায়িত্ব এবং ফরযে আইন হচ্ছে এই সুমহান কাজের আনজাম দেয়া।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো বর্ণনা, কোনো ক্বওল (কথা) বা লিখা গ্রহণ করা যাবে না। সেটা যত বড় ইমাম-মুজতাহিদ, ওলীআল্লাহ ও ছিকাহ্ রাবীই বর্ণনা করুন না কেন, বলুন না কেন বা লিখুন না কেন এবং তা হাদীছ, তাফসীর, ফিক্বাহ্, ফতওয়া, আক্বাইদ, উছূল, শরাহ্, বালাগাত-মানতেক ও ইতিহাসের যত বড় নির্ভরযোগ্য কিতাবেই থাকুক না কেন, অবশ্যই অবশ্যই তা মওযূ ও বাতিল হিসেবে পরিগণিত হবে। আর উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক সম্মত কোনো বর্ণনা, সেটা যত দূর্বল রাবীই বর্ণনা করুক না কেন এবং যেই ব্যক্তিই বলুক না কেন বা লিখুক না কেন, তা অবশ্যই অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবেন এবং ছহীহ হিসেবে পরিগণিত হবেন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা- আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবীরসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো কথা বা লিখা, সেটা যত বড় ইমাম-মুজতাহিদ, ওলীআল্লাহ বলুন না কেন বা লিখুন না কেন, তা কস্মিনাকালেও গ্রহণ করা যাবে না। এগুলো বলা, লিখা, গ্রহণ করা এবং সমর্থন করা প্রত্যেকটাই কুফরী ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।” না‘ঊযুবিল্লাহ!
এটাই চূড়ান্ত ফায়ছালা মুবারক। কেননা ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের মালিক এবং তিনি একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা দুজন ব্যতীত সকলের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শায়েখ আলাইহিস সালাম। আর সকলে উনার মুরীদের অন্তর্ভুক্ত। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের পরে সবচেয়ে বড় ওলীউল্লাহ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ পৃথিবীর ইতিহাসে এই পর্যন্ত যত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম অতীত হয়েছেন, উনারা প্রত্যেকেই ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক-এ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে এসে মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে মহাসম্মানিত বিশেষ নিয়ামত মুবারক হাছিল করেছেন এবং হাছিল করে যাচ্ছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! সেটাই হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বলেছেন, “আপনি যেই ফতওয়া দিয়েছেন এটাই সঠিক। আপনার ফতওয়ার উপরে কারো ফতওয়া দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহি সালাম!)
* উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া,
* মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া,
* মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া,
* মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া,
* হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া,
* হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া এবং
* মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ না হওয়া।
আর এর বিপরীত যত বর্ণনা রয়েছে, প্রত্যেকাটাই মওযূ।
যেমন- হাদীছ, তফসীর, শরাহ, উছূল, আক্বাইদ, তাছাউফ ইত্যাদি কিতাবে বলা হয়েছে যে, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইজতিহাদ করেছেন এবং উনার ইজতিহাদে ভুলও হয়েছে।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়; আরো বলা হয়েছে যে, ‘এজন্য নাকি মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে তিরস্কারও করেছেন।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! কিতাবাদিতে এই কুফরী আক্বীদাকে ছাবিত করতে যেয়ে বর্ণনাগত কিছুটা পার্থক্য করে কয়েকটা মওযূ হাদীছ দিয়ে দলীল দেয়া হয়েছে। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে- তাদের ভাষ্যমতে
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বদরের জিহাদের সময় গণীমতের মাল বন্টন সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরশাদ মুবারক করেছেন,
لَوْ نَزَلَ الْعَذَابُ مَا نَجٰى اَحَدٌ مِّنَّا اِلَّ حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَمُ وحَضْرَتْ مُعَاذَ بْنَ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَفِىْ لَفْظٍ اٰخَرَ لَوْ نَزَلَ الْعَذَابُ لَمَا رَضِىَ نجََا مِنْهُ غَيْرُ حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَمُ وحَضْرَتْ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ
অর্থ: “যদি আযাব নাযিল হতো, তাহলে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এবং হযরত মুয়ায ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা দুজন ব্যতীত আমাদের মধ্য থেকে একজনও নাজাত পেতাম না।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! শব্দগত কিছুটা পার্থক্য করে অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘যদি আযাব নাযিল হতো, তাহলে অবশ্যই হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এবং হযরত সা’দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা দু’জন ব্যতীত এই আযাব থেকে একজনও নাজাত পেতো না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (নূরুল আনওয়ার, তাফসীরে জীলানী, রদ্দুর রওয়াফিদ্ব লি ইমামে রব্বানী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তাফসীরে বায়যাভী, শিফা, শারহুয যারক্বানী, তাফসীরে দুররে মানছূর ইত্যাদি)
তারপর উছূলের কিতাবে বলা হয়েছে,
فَظَهَرَ اَنَّ الْحَقَّ هُوَ رَأْىُ حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَمُ وَاَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَخْطَاَ حِيْنَ عَمِلَ بِرَأْىِ حَضْرَتْ اَبِىْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَمُ
অর্থ: “কাজেই এটা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার অভিমতই সঠিক ছিলো। আর নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার অভিমত অনুযায়ী আমল করার কারণে ভুল করেছেন।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! (নূরুল আনওয়ার)
আর ‘ফিক্বহুল আকবারসহ’ আরো অনেক কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,
وَقَدْ كَانَتْ مِنْهُمْ زَلَّتٍ وَّخَطَايَ
অর্থ: “হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কখনও কখনও পদস্খলন ও ভুল হতো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! (আল ফিক্বহুল আকবার লি ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি, আক্বাইদ, উছূল, শরাহ ও তাফসীর গ্রন্থাবলী)
ফলে শত শত বছর ধরে মানুষ এই কুফরী আক্বীদাকে তাদের অন্তরে লালন করে আসছে এবং লেখালেখি ও বলাবলির মাধ্যমে প্রচার-প্রসার করে আসছে যে, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইজতিহাদ করতেন এবং উনার ইজতিহাদে কখনও কখনও ভুল হতো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! আর তারই প্রমাণ বহন করছে- হাদীছ, তফসীর, ফিক্বাহ্-ফতওয়া, শরাহ, উছূল, আক্বাইদ, তাছাউফ ও ইতিহাসের মু’তাবার কিতাবগুলো। সেখানে শুধু এই কুফরী আক্বীদাহ্লি পিবদ্ধই হয়নি; বরং কোনো কোনো লেখক উনাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে এই কুফরী আক্বীদাকে ছাবিত করতে আপ্রাণ ব্যর্থ চেষ্টাও করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “উপরোক্ত বর্ণনাগুলোসহ অনুরূপ আরো যত বর্ণনা রয়েছে, প্রত্যেকটিই মওযূ, বাতিল, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত কোনো কথা মুবারক বলেননি, কোনো কাজ মুবারক করেননি এবং কোনো কিছু সমর্থন মুবারকও করেননি। উনার হাটা-চলা মুবারক, নড়া-চড়া মুবারক, খাওয়া-দাওয়া মুবারক, শ্বাস প্রশ্বাস মুবারক, চোখ মুবারক উনার পলক মুবারক, দৃষ্টি মুবারক, ঘুম মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্বপ্ন মুবারক ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوٰى. اِنْ هُوَ اِلَّ وَحْىٌ يوُّْحٰى
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত নিজ থেকে কোনো কথা মুবারক বলেন না, কোনো আমল মুবারক করেন না, কোনো সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেন না।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩-৪)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بعَْضَ الَْقَاوِيْلِ. لََخَذْنَ مِنْهُ بِلْيَمِيْنِ. ثمَُّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِيْنَ. فَمَا مِنْكُمْ مِّنْ اَحَدٍ عَنْهُ حٰجِزِيْنَ
‘যদি তিনি আমার নাম মুবারক-এ বানিয়ে বানিয়ে কোনো কথা বলতেন, তাহলে আমি আমার কুদরতী ডান হাত মুবারক দ্বারা অর্থাৎ কুদরতীভাবে উনাকে পাকড়াও করে উনার প্রাণ রগ কেটে দিতাম অর্থাৎ উনাকে কঠিন শাস্তি দিয়ে মৃত্যুদ- দিতাম। তোমাদের কেউ উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে রক্ষা করতে পারতে না।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হাক্কাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৪-৪৭)
কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজ থেকে কিছু বলেছেন, করেছেন বা সমর্থন করেছেন এরূপ আক্বীদাহ্পো ষণ করা কুফরী। একইভাবে ‘তিনি ইজতিহাদ করেছেন এবং উনার ইজতিহাদে ভুল হয়েছে।’ এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করাও কাট্টা কুফরী ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।” না‘ঊযুবিল্লাহ! আবার বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, ত্ববারনী শরীফ, মিশকাত শরীফ,তাফসীরে মাযহারীসহ আরো অনেক কিতাবে রয়েছে,
اِنَّ نِسَاءَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُنَّ حِزْبَيْنِ
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা দুই দলে বিভক্ত ছিলেন।” না‘ঊযুবিল্লাহ!
বুখারী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদে আহমাদ, দারেমী,রাওদুন নাদীর ইত্যাদি কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ اِحْدٰى اُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ عَلَيْهِنَّ السَّلَمُ فَاَرْسَلَتْ اُخْرٰى بِقَصْعَةٍ فِيْهَا طَعَامٌ فَضَرَبَتْ يَدَ الرَّسُوْلِ فَسَقَطَتِ الْقَصْعَةُ فَانْكَسَرَتْ فَاَخَذَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكِسْرَتَيْنِ فَضَمَّ اِحْدَاهُمَا اِلَى الُْخْرٰى فَجَعَلَ يجَْمَعُ فِيْهَا الطَّعَامَ وَيَقُوْلُ غَارَتْ اُمُّكُمْ كُلُوْا
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের একজনের পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করছিলেন। অন্য একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম তিনি (একজন খাদিমের মাধ্যমে) একটি পাত্রভর্তি খাবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পাঠান। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করছিলেন তিনি খাবারের পাত্র বহনকারীর হাতে আঘাত করেন। (না‘ঊযুবিল্লাহ!) সাথে সাথে পাত্র মুবারকটি নীচে পড়ে ভেঙ্গে যায়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পাত্রের টুকরা দু’টি তুলে নিয়ে একটির সাথে অপরটি জোড়া লাগিয়ে তার মধ্যে পড়ে যাওয়া খাবারগুলি একত্রিত করেন এবং ইরশাদ মুবারক করেন- ‘আপনাদের মাতা আলাইহাস সালাম উনার আতড়বসম্মানে আঘাত লেগেছে। আপনারা (এটা) আহার করুন।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “উপরোক্ত বর্ণনাগুলোসহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ আরো যত বর্ণনা রয়েছে, প্রত্যেকটি বর্ণনাই বাতিল, মওযূ, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন,
وَلَوْلَٓ اِذْ سَمِعْتُمُوْهُ قُلْتُمْ مَّا يَكُوْنُ لَنَآ اَنْ نَّتَكَلَّمَ بِهٰذَا سُبْحٰنَكَ هٰذَا بهُْتَانٌ عَظِيْمٌ
অর্থ: “তোমরা যখন (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ এলোমেলো) এই কথা শুনলে, তখন কেন বললে না যে, এই বিষয়ে আমাদের কোনো কথা বলার অধিকার নেই। তিনি (অর্থাৎ উনারা) অত্যন্ত পবিত্রতম। মহান আল্লাহ পাক তিনিও পবিত্র থেকে পবিত্রতম। এটা একটা কঠিন অপবাদ।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬)
মহান আল্লাহ পাক তিনি এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টির উপর এটা ফরয করে দিয়েছেন যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো কথা যখনই তারা শুনবে বা পড়বে, তখনই সাথে সাথে তাদেরকে বলতে হবে, ‘এই বিষয়ে আমাদের কথা বলার কোনো অধিকার নেই। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা অত্যন্ত পবিত্রতম। এগুলো সব কঠিন অপবাদ। যারাই বলেছে, লিখেছে বা বর্ণনা করেছে, তারা মিথ্যা বলেছে, মিথ্যা লিখেছে, মিথ্যা বর্ণনা করেছে। সৃষ্টির কারো উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ কথা বলার বা লিখার কোনো অধিকার নেই।’
কাজেই এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে সমস্ত বান্দা-বান্দী, উম্মত সকলের জন্য এটা বলা ফরযে আইন সাব্যস্ত হয়েছে যে, ‘বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ, মুসনাদে আহমদ, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে জীলানী, তাফসীরে মাতুরীদী, মকতূবাত শরীফ, রদ্দুর রওয়াফিদ্বসহ হাদীছ-তাফসীর, ফিক্বাহ্-ফতওয়া, আক্বাইদ-উছূল, শরাহ্, তাছাউফ ও ইতিহাসের বড় বড় নির্ভরযোগ্য কিতাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিনড়বাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ যত হাদীছ ও বক্তব্য রয়েছে, প্রত্যেকটাই বাতিল, মওযূ, বানোয়াট, মিথ্যা, মনগড়া এবং ভিত্তিহীন।’
সেটাই ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্ব-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালাআনহুম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো কথা বা লিখা, সেটা যত বড় ইমাম-মুজতাহিদ, ওলীআল্লাহ-বুযূর্গ যে কোনো ব্যক্তিই বলুন না কেন বা লিখুন না কেন, তা কস্মিনকালেও গ্রহণ করা যাবে না। এগুলো বলা, লিখা, গ্রহণ করা এবং সমর্থন করা প্রত্যেকটাই কুফরী এবং জাহান্নামী হওয়ার কারণ।” না‘ঊযুবিল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে হক্বীক্বী ছহীহ্ সমঝ দান করুন। আমীন!