“হে প্রশান্ত নফ্স, আপনি প্রসন্ন ও সন্তুষ্টচিত্তে নিজ প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন”

 “হে প্রশান্ত নফ্স, আপনি প্রসন্ন ও সন্তুষ্টচিত্তে নিজ প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন” 

প্রত্যেক চন্দ্রমাস, একজন আরব মেহমানের ছুরতে হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট দেখা করত এবং মাসের মধ্যে ভাল-মন্দ কি ঘটনা ঘটবে তা উনাকে জানাত। হিজরী ৫৬০ সালের রমজান মাসে এসে উনাকে বিদায় সম্ভাষন জানিয়ে গেল। অর্থ্যাৎ পরবর্তী রমজান মাস পর্যন্ত তিনি এই নশ্বর দুনিয়ায় থাকবেন না। 

বেহেজাতুল আসরার নামক কিতাবে হযরত শায়খ শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়াদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ৫৬০ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাস হতে  কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। তাশারেখে আওলিয়া নামক কিতাবে শায়খ আব্দুল ফতেহ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, রবিবার দিবাগত রাত্রে অর্থ্যাৎ সোমবার রাত্রে হযরত গাউসুল আজম  শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি গোসল করেন। গোসলান্তে এশার নামাজ পড়ে তিনি উম্মতে মুহম্মদীগণের গুনাহখাতা মাফের জন্য ও তাদের উপর খাছ রহমতের জন্য দোয়া করলেন। এরপর গায়েব হতে আওয়াজ আসল, “হে প্রশান্ত নফ্স, আপনি প্রসন্ন ও সন্তুষ্টচিত্তে নিজ প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। আপনি আমার নেক্কার বান্দার মধ্যে শামিল হয়ে যান এবং বেহেশ্তে প্রবেশ করেন”। এরপর তিনি কালিমা পাঠ করিয়া তাআজ্জাজা (অর্থ বিজয়ী হওয়া) উচ্চারণ করতে লাগলেন। এবং তিনি আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহ বললেন। ইহার পর জিহ¡া তালুর সাথে লেগে গেল। এই ভাবে ৫৬১ হিজরীর (১১১৬ খৃঃ) ১১ই রবিউস্সানী মাসে মাহবুবে সোবহানী, কুতুবে রব্বানী হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহ পাক উনার মহান দরবারে প্রত্যাবর্তন করলেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।

হযরত গাউসুল আজম  শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ক্রমান্বয়ে চারটি বিবাহ করেছিলেন। উনাকে বিবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশে বিবাহ করেছেন। উনার মোট ৪৯ জন সন্তান সন্ততি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৭ জন পুত্র সন্তান এবং ২২ জন মেয়ে সস্তান ছিলেন। উনারা সকলেই অতি উঁচু দরজার অলি আল্লাহ ছিলেন। তাঁদের  অনেক বড় বড় সন্মানিত উপাধি ছিল।

রবিউস সানী-১৪১২, কার্তিক-১৩৯৮, অক্টোবর-নভেম্বর-১৯৯১ ঈসায়ী


0 Comments: