হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাক্ওয়া
এ প্রসঙ্গে হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর একটা ওয়াকেয়া উল্লেখ করা হয়। ওয়াজের মধ্যে কতটুকু তাক্ওয়ার সাথে বলতে হবে এবং কতটুকু তাক্ওয়ার সাথে শুনতে হবে। হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর দর্সে উনার ছাত্র ও বাইরের হাজার হাজার লোক উপস্থিত থাকত। একবার তিনি তা’লীম বা দর্স দিচ্ছিলেন। ছাত্র ও অন্যান্য শ্রোতারা তা’লীম বা দর্স শুনছিল, এমতাবস্থায় দেখা গেল একটা সাপ সেই দর্সের মাহফিলে প্রবেশ করল। সাপটা পর্যায়ক্রমে হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর দিকে আসতে লাগল, কিন্তু হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তা’লীম দিতেই থাকলেন। সাপের কোন পরওয়া করলেন না। সাপটা এসে পর্যায়ক্রমে হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর পা মোবারকে কামড় দেয়া শুরু করল। একে একে সাতবার কামড় দিল। সপ্তমবার কামড় দেয়ার পর সাপটা নিজেই মরে পড়ে গেল। তিনি উনার দর্স দিতেই থাকলেন। দর্স যখন শেষ হলো তখন হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর এক মহব্বতের ছাত্র এসে বলল হুযূর, একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করব যদি বেয়াদবি মনে না করেন। হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, বেশ জিজ্ঞেস কর কি মাসআলা। সে ছাত্র বলল, হুযূর আমরা সাধারণতঃ জানি সাপ যদি মানুষকে কামড় দেয় তাহলে মানুষ মারা যায়। কিন্তু আজকে আমরা যা দেখলাম তা বিপরীত। আপনি যখন দর্স দিচ্ছিলেন, তখন সাপটা আপনাকে একে একে সাতবার কামড় দিল। আপনার কিছুই হ’ল না, শেষ পর্যন্ত সাপটা নিজেই মরে গেল। তার কি কারণ? হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “দেখ! তুমি যা বলছ তা সত্যই। সাপটা এসেছিল আমাকে কামড় দিয়ে তার বিষ আমার শরীরে প্রবেশ করাতে কিন্তু একে একে সে ছয়বার আমাকে কামড় দিয়ে তার বিষ আমার শরীরে প্রবেশ করাতে পারলনা, অবশেষে সপ্তমবার সে গোস্যা হয়ে খুব জোরে আমাকে কামড় দেয় কিন্তু তার বিষ আমার শরীরে প্রবেশ না করে বরং আমার শরীরের মধ্যে যে আল্লাহ পাক এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মহব্বতের জযবার বিষ ছিল, সেই বিষটা তার শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে, যার ফলে সাপটা নিজেই মরে যায়। (সুবহানাল্লাহ)
রমাদ্বান-১৪১২, চৈত্র-১৩৯৮, এপ্রিল-১৯৯২ ঈসায়ী

0 Comments:
Post a Comment