গাউসুল আজম হযরত বড় পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রিয়াজত
তিনি হযরত শায়খ আবুল খায়ের হামদান বিন মোছলেম দাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবারে আসা-যাওয়া করতে লাগলেন এবং কঠোর রিয়াজতের মাধ্যমে তাসাউফ শিক্ষায় নিমগ্ন হলেন। হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘ পচিঁশ বৎসরকাল ইরাকের নির্জন বন-জঙ্গলে, মাঠে-প্রান্তরে এবং ভগ্ন প্রায় বাড়ী-ঘরে কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি যখন ইরাকের জঙ্গলে সাধনা বা রিয়াজত করতাম তখন একদা আমার খুব পানির তৃষ্ণা পেলো, এমন সময় আল্লাহ পাক উনার কুদরতে আকাশে ঘন কালো মেঘের ছায়া নেমে এলো এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই বৃষ্টি আরম্ভ হল। আমি তৃপ্তিভরে পানি পান করলাম। এরপর আকাশে একটা আলোকপাত দেখা দিলো, যা সমস্ত আকাশকে আলোকিত করে ফেললো। অতঃপর ঐ আলোকপিন্ড হতে আওয়াজ এলো- হে আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, আমি আপনার আল্লাহ। আমি আপনার ইবাদত বন্দিগীতে সন্তুষ্ট হইয়া সমস্ত হারাম গুলিকে আপনার জন্য হালাল করিয়া দিলাম। ইহা ইবলিশের ধোকাবাজি বা প্রতারনা বুঝতে পেরে সাথে সাথে পড়লেন, “হে বিতাড়িত শয়তান! দূর হয়ে যা এখান থেকে”। এই অকেয়া দ্বারা বুঝা যায়, হযরত গাউসুল আজম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি কত বড় সুক্ষ্মদর্শী ছিলেন। কারন যাহা হারাম হওয়ার তাহা হারাম হিসাবে সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে। আর যাহা হালাল হওয়ার তাহা হালাল হিসাবেই সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে।
রবিউস সানী-১৪১২, কার্তিক-১৩৯৮, অক্টোবর-নভেম্বর-১৯৯১ ঈসায়ী

0 Comments:
Post a Comment