মহিলাদের চুল রাখার সুন্নতী তরতীব
মহিলাদের চুল রাখার সুন্নতী পদ্ধতি-

Published from Blogger Prime Android App
 ৭ মাহে শাবান শরীফ, ১৪৪৩

মেয়েদের চুল মুন্ডন করা বা কেটে ছেলেদের মতো করে ফেলা নিষেধ। আবার এতো বড় রাখা উচিত নয় যে, গোছলের সময় পানি পৌঁছানো কষ্টকর হয়। বরং পিঠ বা কোমর পর্যন্ত রাখা ভালো। সেমতে কোমরের নিচের অংশ কেটে ফেলা জায়েয হবে। অবশ্য না কাটলেও কোনো সমস্যা নেই। (তিরমিজি শরিফ ১/১৮২, মুসলিম শরিফ ১/১৪৮) 

নারীর মাথার চুল কাটার বিধান-

যদি এমন স্টাইলে চুল কাটা হয় যা অবিকল পুরুষদের মত বুঝা যায়। যদি কাফির-ফাসিক নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা উদ্দেশ্য হয়। যদি পর পুরুষের মাধ্যমে চুল কাটা হয় (যেমনটি বর্তমান যুগে কিছু কিছু সেলুনে ঘটে থাকে।) যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া তাহলে তা হারাম। হারাম হওয়ার কারণও স্পষ্ট।
কিন্তু যদি কোন স্ত্রী তার স্বামীকে খুশি করার জন্য তার চুল কাটে এবং এতে তার স্বামী তাকে আরও বেশি ভালবাসে তাহলে তার জন্য চুল কাটা জায়েয হবে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এমনভাবে উনাদের মাথার চুল কাটতেন যে, তা কাঁধ থেকে একটু নিচে যেত বা কান বরাবর হত।” (মুসলিম শরীফ)
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়- “এতে প্রমাণিত হয় যে, নারীদের চুল কেটে হালকা করা জায়েয।” (শরহে মুসলিম)

উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা একথা সুস্পষ্ট যে, চুল রাখার মধ্যেও সম্মানিত সুন্নতী তর্জ তরীক্বা রয়েছে। আর এজন্য সকলেই যেন সম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী চুল রাখতে পারেন এবং কাটতে পারেন সেই লক্ষেই এই রেছালা পাঠ করে সেই মুতাবিক আমল করে হাক্বীক্বী আল্লাহওয়ালা হওয়ার জন্য কোশেষ করতে হবে।

খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আহলে বাইতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার সাথে সাথে সমস্ত মহিলাকূলকে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত যাওজাতুল মুকাররমাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার থেকে তা’লীম নিয়ে ও মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করে সমস্ত পুরুষ মহিলা জিন ইনসানকে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে যিকির ফিকির করে অন্তর ইছলাহ করে ফায়িজ তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করার খাছ তাওয়ীক্ব নছীব করুন। আমীন!
 পুরুষদের জন্য মহিলাদের বেশ ধারণ করা এবং মহিলাদের জন্য পুরুষদের বেশ ধারন করা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয

 

পুরুষদের জন্য মহিলাদের বেশ ধারণ করা এবং মহিলাদের জন্য
পুরুষদের বেশ ধারন করা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয

পবিত্র দ্বীন ইসলাম এমন একটি দ্বীন যার মাঝে রয়েছে ইহকাল পরকালের সকল বিষয়ের সঠিক সমাধান। মুসলমানরা কি খাবেন, কি খাবেন না, কি পরবেন, কি পরবেন না সবই বিশদভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মাঝে বর্ণনা করা হয়েছে।
সকলেরই জানা আছে প্যান্ট -শার্ট হচ্ছে কাফির পুরুষদের পোশাক। এগুলো কোন মুসলমান পুরুষ বা মহিলার পোশাক না।

মুসলমান পুরুষরা পরবেন সুন্নতী কোর্তা,ইযার বা লুঙ্গী, সেলোয়ার, মাথায় সুন্নতী টুপি, পাগড়ী, রুমাল ইত্যাদি।

আর মুসলমান মহিলারা পরবেন ক্বমীছ, সেলোয়ার বা পাজামা, মাথায় বড় ওড়না। আর ঘর থেকে বের হলে পরবেন সুন্নতী বোরকা।

আর পুরুষদের জন্য মহিলাদের বেশ ধারণ করা এবং মহিলাদের জন্য পুরুষদের বেশ ধারণ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয।

যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا قَالَ لَعَنَ رسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْـمُتَشَبِّهِيْنَ مِنْ الرِّجالِ بِالنِّسَاءِ وَالْـمُتَشَبِّهَاتِ مِنْ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই সব মহিলাদের উপর অভিশাপ করেছেন যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং সে সকল পুরুষদের উপর অভিশাপ করেছেন যারা মহিলাদের বেশ ধারণ করে। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ‏.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই সব পুরুষের উপর অভিশাপ করেছেন, যে মহিলার পোশাক পরিধান করে এবং সে মহিলার উপর অভিশাপ করেছেন যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে। নাউযুবিল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا قَالَ لَعَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُخَنَّثِيْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلَاتِ مِنَ النِّسَاءِ .
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজড়ার বেশ ধারণকারী পুরুষের উপর অভিশাপ করেছেন এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীর উপর অভিশাপ করেছেন। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَسَارٍ وَعَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاَثَةٌ لَايَدْخُلُوْنَ الْـجَنَّةَ اَلْعَاقُّ لِوَالِدَيْهِ وَالدَّيُّوْثُ وَرَجُلَةُ النِّسَاءِ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াসার এবং হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে যাবে না- (১) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান (২) বাড়ীতে বেহায়াপনার সুযোগ প্রদানকারী দাইয়্যুস (৩) পুরুষের বেশ ধারণকারী মহিলা । (নাসাঈ শরীফ)

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قِيْلَ لِعَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ إِنَّ امْرَأَةً تَلْبَسُ النَّعْلَ فَقَالَتْ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلرَّجُلَةَ مِنَ النِّسَاءِ
অর্থঃ হযরত আবূ মুলায়কা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, বলেন, একদা হযরত উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনাকে বলা হল- একটি মেয়ে পুরুষের জুতা পড়ে। তখন হযরত উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুরুষের বেশধারী নারীর প্রতি অভিশাপ করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

উপরোক্ত অকাট্য দলীল দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো- পুরুষদের জন্য মহিলাদের বেশ ধারণ করা এবং মহিলাদের জন্য পুরুষদের বেশ ধারণ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয।

মহান আল্লাহ্ পাক তিনি আমাদের সবাইকে এ জঘন্য কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং সবাইকে সঠিক ইসলামী জ্ঞান দান করুন আমীন!

মহিলাদের কতিপয় সুন্নতী পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রীর বর্ণনা

মহিলাদের কতিপয় সুন্নতী পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রীর বর্ণনা

لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة
অর্থ: আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ২১)
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ করেন-
من تمسك بسنتى عند فساد امتى فله اجر مأة شهيد
অর্থ: যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ফিতনা-ফাসাদের যুগে একটিমাত্র সুন্নতকে আঁকড়ে ধরবে সে একশত শহীদের ছওয়াব পাবে।” (মিশকাত)
উম্মতের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- সর্বাবস্থায় হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইতায়াত বা অনুসরণ ও অনুকরণ করা তথা সুন্নত মুতাবিক চলা।
আলোচ্য প্রবন্ধে মহিলাদের ব্যবহৃত কতিপয় সুন্নতী পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রীর বর্ণনা দেয়া হলো- স্যালোয়ার, কামীছ, ওড়না: মেয়েদের জন্য স্যালোয়ার, কামীছ, ওড়না পরিধান করা খাছ সুন্নত।
স্যালোয়ার হচ্ছে- কল্লিদার, যা নিচের দিকে পাজামার মতো ঢোলা নয় বরং বর্ডারযুক্ত চিপা, যা চোস্তও নয়। কামীছ হচ্ছে- পুরুষের কোর্তারই অনুরূপ। অর্থা গুটলীযুক্ত কল্লিদার, নিছফুস সাক, গোল বা কোণাবন্দ সুতি কাপড়ের তৈরি। তবে পার্থক্য হচ্ছে- পুরুষের গুটলী থাকবে সামনের দিকে আর মেয়েদের গুটলী থাকবে কাঁধের উপরে তবে প্রয়োজনে সামনে বা পিছনেও থাকতে পারে এবং কামীছ পূর্ণ হাতা বিশিষ্ট নিছফুস সাক হবে।
ওড়না হচ্ছে- চাদর জাতীয়, যার মাপ হচ্ছে- দুহাত ও সাড়ে চার হাত, আড়াই হাত ও সাড়ে চার হাত, আড়াই হাত ও চার হাত। (মিরকাত শরীফ, সীরাতে আয়িশা আলাইহিস সালাম)
উল্লেখ্য, মহিলাদের স্যালোয়ার, কামীছ ও ওড়না ইত্যাদি ঘরে পরতে হবে। কিন্তু ঘর থেকে বের হতে হলে এর উপর অবশ্যই বোরকা পরতে হবে নচে পর্দা রক্ষা হবেনা।
বোরকার বর্ণনা: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
وقرن فى بوتكن ولا تبرجن تبرج الجاهلية الاولى
অর্থ: তোমরা তোমাদের ঘরের মধ্যে অবস্থান করবে। আইয়্যামে জাহিলিয়াতের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করে ঘরের বাইরে বের হয়োনা।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩৩)
মহিলাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া জায়িয নেই। যদি বের হতেই হয় তাহলে বোরকা পরে খাছ পর্দার সাথে বের হতে হবে।
বোরকা কালো রঙয়ের হওয়া এবং ঢোলা হওয়া উত্তম। একমাত্র কালো ও ঢোলা বোরকাতেই খাছভাবে ছতর, সৌন্দর্য ও শরীরের বর্ণনা ঢেকে রাখা সম্ভব। চাদর:  মেয়েদের জন্য চাদর ব্যবহার করা খাছ সুন্নত। চাদরের মাপ হচ্ছে- ছোট চাদর: যার দৈর্ঘ্য চার হাত, প্রস্থ আড়াই হাত। বড় চাদর: দৈর্ঘ্য ছয় হাত এবং প্রস্থ সাড়ে তিন হাত। (ছিফরুস সায়াদাত, জামউল ওসায়েল) চিরনীর বর্ণনা: হাতির দাঁতের ও হাতির হাড়ের চিরনী ব্যবহার করা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের খাছ সুন্নত।
মাথার চুলে তেল দেয়া, আঁচড়ানো এবং সিঁথি করা প্রত্যেকটিই সুন্নত। তেলের মধ্যে জয়তুনের তেল ব্যবহার করা খাছ সুন্নত। আর পুরুষ হোক, মহিলা হোক প্রত্যেকের জন্যই মাথার মধ্য দিয়ে এবং ডান দিক দিয়ে মাথা আঁচড়ানো সুন্নত।
যেমন, উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্ব¡¡া আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন-
كان النبى صلى الله عليه وسلم يحب التيمن طهوره وترحله وتنعله
অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্রতা অর্জন করতে, মাথা আঁচড়াতে ও নালাইন বা স্যান্ডেল পায়ে দিতে ডান দিক থেকে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। (বুখারী শরীফ)
আর মেয়েদের চুল পুরুষদের বিপরীত তথা লম্বা রাখা সুন্নত। কাঁধের চেয়ে ছোট রাখা  জায়িয নেই। যেমন হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, “ওই মহিলাদের উপর লানত যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে।” (বুখারী শরীফ)
উল্লেখ্য, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় যেহেতু আয়না ছিলোনা তাই পানির পাত্রে তিনি চেহারা মুবারক দেখে পাগড়ি, টুপি, রুমাল ইত্যাদি গোছগাছ করতেন এবং মাথার চুল মুবারক ও দাড়ি মুবারক আঁচড়াতেন। সে মতে আয়না ব্যবহার করাও সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। (সিরাত গ্রন্থ)
স্যান্ডেল ও মোজা:  মেয়েদের জন্য চামড়ার স্যান্ডেল ও মোজা পরিধান করা খাছ সুন্নত।
স্যান্ডেল- ক্রস দুই ফিতা বিশিষ্ট এবং প্রতিটি ফিতা হবে ডবল। অর্থা একটার উপর আরেকটা লাগানো।” (শামায়েলে তিরমিযী)
আর বর্তমান বাজারে পেন্সিল হিল বা হাই হিল ইত্যাদি ধরনের যে স্যান্ডেল পাওয়া যায়, তা পরিধান করা জায়িয নেই। ইহা বিজাতীয় তাহযীব-তামুদ্দুনের অন্তর্ভুক্ত।  তবে সামনে-পিছনে সমান (ফ্লাট বা স্বাভাবিক হিল) উচু স্যান্ডেল ব্যবহার করা যাবে।  মোজা- চামড়ার ও খয়েরী রঙ হওয়া খাছ সুন্নত। (মিশকাত শরীফ, হিদায়া, ফতহুল ক্বাদীর)
মেহেদী ব্যবহার: মহিলাদের জন্য হাতে ও পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।  এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
عن ام المؤمنين حضرت عائشة عليها السلام قالت اومت امراة من وراء ستر بيدها كتاب الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقبض النبى صلى الله عليه وسلم يده فقال ما ادرى ايد رجل ام يد امراة قالت بل يد امراة قال لو كنت امراة لغيرت اظفارك يعنى بالحناء.
অর্থ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্ব¡¡া আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, একদা এক মহিলা হাতে চিঠি নিয়ে পর্দার আড়াল হতে হাত বের করে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে ইশারা করলো। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের হাতখানা গুটিয়ে ফেললেন এবং বললেন, ইহা কি কোনো পুরুষের হাত না কোনো মহিলার? মহিলাটি বললো, মহিলার হাত। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, তুমি যখন নারী তখন মেহেদীর দ্বারা তোমার হাতের নখগুলো পরিবর্তন করে নিতে পারো।” (আবু দাঊদ)
আর মেহেদী ব্যবহারে শিফাও রয়েছে। যেমন হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কেউ মাথা ব্যথার অভিযোগ করলে তিনি তাকে শিঙ্গা লাগানোর নির্দেশ দিতেন। আর পায়ে ব্যাথার অভিযোগ করলে তিনি অভিযোগকারীর পায়ে মেহেদী ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন।” (আবু দাউদ) মাসয়ালা: পুরুষদের জন্য হাতে ও পায়ে মেহেদী ও রঙ ব্যবহার করা জায়িয নেই।
অলঙ্কার ব্যবহার: মহিলাদের জন্য অলঙ্কার ব্যবহার করা সুন্নত। স্বয়ং উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার যেমন, গলার হার, কানের দুল, আংটি ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন। যেমন হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে-
خرج النبى صلى الله عليه وسلم يوم عيد فصلى ركعتين لم يصل قبل ولابعد ثم اتى النساء فامرهن بالصدقة فجعلت المراة تصدق بخرصها وسخابها.
অর্থ: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঈদের দিন বের হলেন এবং দুই রাকায়াত (ঈদের) নামায আদায় করলেন এর আগে এবং পরে আর কোনো নফল নামায পড়েননি। অতঃপর মহিলাদের কাছে আসলেন এবং তাদেরকে ছদকা করতে আদেশ করলেন মহিলারা তাদের গলার হার ও মালার ছদকা আদায় করলেন।” (বুখারী শরীফ) হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে-
قال حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنهما امرهن النبى بالصدقة فرايتهن الى اذانهن وحلوقهن
অর্থ: হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহিলাদেরকে ছদকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলারা তাদের নিজ নিজ কানের ও গলার অলঙ্কারে হাত বাড়ালেন তথা ছদকা আদায় করলেন। (বুখারী শরীফ)
মাসয়ালা: পুরুষদের জন্য স্বর্ণ এক  রতিও ব্যবহার করা জায়িয নেই। পুরুষের জন্য সাড়ে চার মাসা অর্থা ৬ আনা পরিমাণ রৌপ্য ব্যবহার করা জায়িয আছে। এর চাইতে বেশি ব্যবহার করা জায়িয নেই। তা হারাম ও কবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত হবে। (হিদায়া, আলমগীরী)
উল্লেখ্য, সুন্নত সম্পর্কে সঠিক ইলম অর্জন এবং তা আমলে বাস্তবায়ন সাধারণ লোক তো দূরের কথা যারা মাদরাসায় পড়েন ও পড়ান তাদের পক্ষেও সম্ভব হয়ে উঠেনা। এ কারণে আল্লাহ পাক তিনি যুগে যুগে মুজাদ্দিদগণ উনাদের পাঠিয়ে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় আল্লাহ পাক বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আযম, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনাকে পাঠিয়েছেন।
অতএব, কেউ যদি পরিপূর্ণরূপে সুন্নতের অনুসরণ-অনুকরণ করতে চায় তাহলে অবশ্যই যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আযম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষ করে মহিলাদের জন্য আরো শুকরিয়ার বিষয় হচ্ছে, তাদের সব বিষয়ে জানার জন্য হযরত মুজাদ্দিদে আযম উনার যিনি আহলিয়া, সাইয়্যিদাতুন নিসা, হাবীবাতুল্লাহ, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতুল মুমিনীন হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহাল আলী উনার ছোহবত ও তালীম গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।
আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সুন্নত সম্পর্কে জেনে সে মুতাবিক আমল করে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম উনাদের ইত্তেবা করার তৌফিক দান করুন ।