গাউসুল আজম হযরত বড় পীড় সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স মোবারক যখন প্রায় আঠার বৎসর ছিল
একবার লোকেরা বড়পীর গাউসুল আজম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি কে জিজ্ঞেস করল, হুযূর আপনি কি মোজাদ্দেদে জামান? তিনি বললেন, হ্যাঁ । তারপর বলা হল, আপনি কি সুলতানুল আরেফীন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবার বলা হল, আপনি কি কুতুবুল আলম? তিনি বললেন হ্যাঁ। তখন সবাই নিশ্চুপ হয়ে গেল। তিনি বললেন, আরও প্রশ্ন কর। তোমরা যা বলবে আমি তারও উপরে, তারও উপরে, তারও উপরে। তোমাদের মধ্যে অনেক লোক আছে, আমি যে মাকামে অবস্থান করি, তারা তার কোন খবরই রাখেনা। যে সমস্ত মাকামগুলির বর্ণনা পরবর্তীতে হযরত মোজাদ্দিদে আলফেসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মকতুবাত শরীফে উল্লেখ করেছেন।
মোটকথা নবী রসুল আলাইহিমুস সালাম গণের পর একজন মানুষের পক্ষে যত মাকাম অর্জন করা সম্ভব আল্লাহ পাক গাউসুল আজম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি কে তা দিয়েছেন। এটা সুত্যিই উনার জন্য এক বিশেষ মর্যাদা (বলা হয়ে থাকে আল্লাহ পাক উনার এমন অলি কমই অতিবাহিত হয়েছেন, যাঁরা গাউসুল আজম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহানী তাওয়াজ্জুহ বা নেছবত হাসিল করেন নাই)
গাউসুল আজম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স মোবারক যখন প্রায় আঠার বৎসর ছিল, তখন একবার তিনি আরাফার দিবসে গরু নিয়া নিজের জমি চাষ করতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় সেই গরুটি উনার দিকে ফিরে বলল-
يا عبد القادر- ما بهاذا خلقت وما بهاذا امرت
অর্থঃ হে আব্দুল কাদির রহমতুল্লাহি আলাইহি, এই কাজের জন্য আপনাকে সৃষ্টি করা হয় নাই। এবং এই কাজের জন্য আপনাকে আদেশ করা হয় নাই। এই ঘটনায় তিনি ভয় পেয়ে বাড়িতে ফিরে গেলেন। এতদিন পর্যন্ত স্থানীয় মক্তবে যা কিছু শিখেছিলেন তার চেয়েও অনেক বেশী কিছু শিক্ষার জন্য তিনি বাগদাদ যেতে মনস্থ করলেন। (তিনি মাতৃগর্ভ থেকে অধিকাংশ মতে আঠার পারার হাফিজ হয়েই জন্ম গ্রহণ করেন। অতঃপর অতি শৈষবেই পূর্ণ কুরআন শরীফ হিফজ্ করেন)
রবিউস সানী-১৪১২, কার্তিক-১৩৯৮, অক্টোবর-নভেম্বর-১৯৯১ ঈসায়ী

0 Comments:
Post a Comment