ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে
কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা
আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে-
একজন কুতুবুয্
যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-
বন্য পশুরাও উনার তাঁবেদার
সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা
কা’বা আলাইহিস
সালাম তিনি এই মুবারক স্বপ্ন বৃত্তান্ত ঢাকা রাজারবাগ পাক দরবার শরীফস্থ মুহম্মদিয়া
জামিয়া শরীফ মাদরাসা উনার শিক্ষক মুহম্মদ আব্দুল মালেক ভাই উনাকে বলেছেন। অপরদিকে সাইয়্যিদুনা
হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক মনোনীত ও ক্ববুলকৃত, সে মুবারক বিষয়টি আদিষ্ট হয়ে ইমামুল উমাম,
সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে
অবহিত করেন। সুবহানাল্লাহ! যদিও জাহির ও বাতিন উভয় দিকে কামিয়াবী দানের মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা
দাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে
কবুল করার বিষয়টি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তিনি অনেক পূর্বেই উনাকে অবহিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু
ওয়া তায়ালা এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সঙ্গে নিগূঢ়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে যাবার কারণে বনের পশুরা, এমনকি
সকলেই-সবকিছুই যে উনার আজ্ঞাবহ হয়ে পড়েছে, তা বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়। সুবহানাল্লাহ!
বিশুদ্ধ ঈমান, আক্বীদা, ইয়াক্বীন,
মুহব্বত-মা’রিফাত, তায়াল্লুক-নিসবত
উনাদের সমন্বয়ে সৃষ্ট মাহবূব ওলীআল্লাহ উনাদের যে কারামত, তা অবশ্যই সত্য। এ বিষয়ে
সঠিক ফতওয়া রয়েছে যে, সমষ্টিগতভাবে মহান ওলীআল্লাহ উনাদের কারামত অস্বীকার করা, কারামত
সম্পর্কে অনীহা প্রকাশ করা, অবজ্ঞা প্রদর্শন করা কুফরী। আর ছিদ্দীক্ব, মুজাদ্দিদে আ’যম উনাদের এবং উনাদের পর্যায়ের
নৈকট্যধন্য ওলীআল্লাহ উনাদের একজনেরও কারামত অস্বীকার করা, কারামত সম্পর্কে অনীহা প্রকাশ
করা, অবজ্ঞা প্রদর্শন করা, কুফরীর নামান্তর। এটিই হলো আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের
ফতওয়া।
কোনো বিচক্ষণ মানুষ অনেক সময় বাহ্যিক
আলামত দেখে অসাধারণ কোনো বিষয় অনুধাবন করে থাকেন। উনাদের অনুধাবন কোনো কোনো সময় সঠিকও
হয়ে থাকে। কিন্তু উনাদের সকল বিষয়ই সকল সময় সঠিক হতে দেখা যায় না। তার কারণ হলো উনাদের
অনুমান ও প্রমাণ বাহ্যিক উপলব্ধি ও বাহ্যিক উপাত্তভিত্তিক। হাক্বীক্বী ফিরাসত (অন্তর্দৃষ্টি)
উনার সংযোগহীনতায় অথবা পরিমিত পরিমাণ অন্তর্দৃষ্টি না থাকায় সাধারণ বিচক্ষণ মানুষের
অনুমান ও আন্দাজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুল সাব্যস্ত হয়। পক্ষান্তরে বিশুদ্ধ ঈমান, আক্বীদা,
ইয়াক্বীন, মুহব্বত, মা’রিফাত, তায়াল্লুক, নিসবত উনাদের সংযোগে মাহবূব ওলীআল্লাহ উনাদের যে মুবারক কারামত,
তা প্রকাশের জন্য বাহ্যিক কোনো তথ্য-প্রমাণের আদৌ প্রয়োজন পড়ে না। এ সূক্ষ্ম বিষয়টি
হলো মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা উনার সদয় দানকৃত এবং উনার প্রিয়তম রসূল,
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় বণ্টনকৃত
মুবারক নিয়ামতরাজির পরিমিত হিস্যা। সুবহানাল্লাহ!
কাশফযোগে যে ইলম, প্রজ্ঞা ও অনুভব
হাছিল হয়, তা’ সম্মানিত
শরীয়ত উনার দলীল হিসেবে সাব্যস্ত নয়। কাজেই কেবল কাশফের মাধ্যমে লব্ধ তথ্য ও তত্ত্বের
ভিত্তিতে আমল সম্পাদনের ক্ষেত্রে সম্মানিত শরীয়ত উনার বাধা আসলে সে আমল নিষিদ্ধ। সম্মানিত
শরীয়ত উনার আলোকে বাহ্যিক ও স্বাভাবিক নিয়মে যে দলীল-প্রমাণ বেরিয়ে আসে তদনুযায়ী আমল
করাই বিধেয়।
কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তির অনুমান, অনুভব,
ধারণা ও লব্ধ কাশফ সম্মানিত শরীয়ত সমর্থিত না হলে তা সর্বোতভাবে পরিত্যাজ্য। তবে মুরীদের
জন্য উনাদের মহা সম্মানিত নৈকট্যধন্য শায়েখ উনার ইলহাম, ইলকা ও কাশফ-সংবলিত যাবতীয়
মুবারক নির্দেশনা মান্য করা ও পালন করা ফরয-ওয়াজিব। কারণ মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ
ওয়া তায়ালা এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত-মা’রিফাত, তায়াল্লুক-নিসবত হাছিলের ক্ষেত্রে সালিকের জন্য তিনি
অনিবার্য মুবারক সেতু বন্ধন। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত শায়েখ তিনি উনার মুবারক ইলহাম,
ইলকা, অনুমান, অনুভব, ধারণা, কাশফ ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে বিবেচনা
করেই মুরীদকে সেসব পালনের মুবারক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। (চলবে)
আবা-২২৯
0 Comments:
Post a Comment