আদ্ দুরারুল মুখতারাহ্ - ফী নিসবাতি সুলত্বানিন নাছীর (১ম খণ্ড) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী না’লাইন শরীফ উনার বর্ণনা মুবারক-পর্ব-৪৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী না’লাইন শরীফ উনার বর্ণনা মুবারক-পর্ব-৪৬

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১৪৪১ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ০৬ই যিলহজ্জ শরীফ লাইলাতুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “সুন্নাত মুবারক ছাড়া তো কোনো দিন তাকমীলে পৌঁছা যাবে না। কোনো আমল পূর্ণতায় পৌঁছবে না। একখানা সুনড়বাতী সেন্ডেল মুবারক কি রকম তারা বলতে পারবে? কোনো দিন বলতে পারবে না। এখন মেশকাত শরীফ-এ একখানা সুনড়বাতী সেন্ডেলের, না’লাইন শরীফের একটি নক্বশা আছে। কিন্তু এটা তো এরকম না। এরা কিন্তু জানে না। যেটা আমি বলেছিলাম, প্রথমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি একটি সেন্ডেল মুবারক পড়েছিলেন- এভাবে দুইটা, সোজাসুজি। এরকমভাবে সোজাসুজি দুইটা। আমি প্রথমে এই সেন্ডেলটা বানিয়েছিলাম। এরা কেউ বানাতে জানে না। অনেক জায়গা ঘুরেছি। অনেক জুতার কারিগরদের কাছে গিয়েছি। অনেক ফ্যাক্টরি ঘুরেছি। তারা বলে, আমরা এগুলো বানাতে পারবো না। আমি বললাম, আরে বানাতে পারবা। আমি দেখিয়ে দেই। বলতে বলতে এক সময় এক জাগায় বানালাম। প্রথম যে লোকটা বানিয়েছিলো, সে ছিলো বিধর্মী। বানানো হলো- পরলাম। পরার পরে ঐ রাত্রে আমি দেখতেছি- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আমাকে বলতেছেন, না; এটা হবে না। এটা মানসূখ হয়ে গেছে। কোনটা হবে? উনি আমাকে দেখালেন- এরকমভাবে একদম পুরা একটা সেন্ডেল দেখিয়ে তার রংটা কিরকম সব দেখিয়ে বললেন, এরকম হতে হবে। পরে আমি আবার এটা নিয়ে ঘুরতে থাকলাম। কোথায় বানানো যায়? পরে ঘুরতে ঘুরতে বাসাবোর ওখানে যেয়ে একজন লোককে বললাম। বড় দোকান ছিলো। সে এগুলো বুঝে না। আমি তাকে বললাম, এটা এরকম। ভালোভাবে এঁকে বুঝালাম যে, কিভাবে করতে হবে। অনেক দিন গেলাম। বুঝে-সুঝে না। সে বলে, কিভাবে বানাবো? এই-সেই নানা রকম ছুতানাতা। এটা সেটা। যাহোক, অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বানালাম। রংটা এরকম হতে হবে। এরপর বানানো হলো। তারপর খিলগাঁও থেকে বানিয়েছি। তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে এখন বানানো হচ্ছে। এই যে বিষয়গুলো তারা জানবে কোথায় থেকে? এগুলো জানবে না। এগুলো নিসবত ছাড়া কিভাবে হবে? এরকম অনেকগুলো বিষয় আছে। আমি আগে এক রকম করেছি, পরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বলেছেন যে, না; এটা এরকম হবে না। বাদ, আবার আরেকটা করলাম। এগুলো নিসবত ছাড়া জানবে কোথায় থেকে?” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!)

তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কত বেমেছাল মহাসম্মানিত তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানা মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বী ছহীহ সমঝ, এবং সর্বোত্তম বিশুদ্ধ আক্বীদাহ ও সর্বোচ্চ হুসনে যন মুবারক দান করুন। আমীন!


0 Comments: