২৪ ঘন্টাই একরকম একটা অবস্থা চলছে । সবটা তো আর প্রকাশ করা সম্ভব না।’পর্ব-২২
ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৩ই জুমাদাল উখরা শরীফ লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “উনাদের তরফ থেকে নিসবত থাকলে, কুরবত থাকলে, উনারা যদি দেন, বুঝান তাহলেই সম্ভব; আর না হলে কিভাবে সম্ভব? এটা তো বুঝা সম্ভব না। এই যে,
اُمَّهٰتُهُمْ هۤ اَلنَّبِىُّ اَوْلٰى بِلْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُ
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনি প্রম বলেছেন যে, মানুষ এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ করে থাকে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মু’মিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়ে অধিক প্রিয় এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিনড়বাস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিত মাতা আলাইহিনড়বাস সালাম।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, এই অর্থটা সঠিক না। এই অর্থটা ভুল। সঠিক অর্থ হবে,
اُمَّهٰتُهُمْ هۤاَلنَّبِىُّ اَوْلٰى بِلْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মু’মিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়েও অধিক প্রিয় এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিনড়বাস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা আলাইহিন্নাস সালাম।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, ‘এভাবে অর্থ করতে হবে।’ এখানে যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, তখন সাথে সাথে আমি দেখলাম- প্রমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সমর্থন করে বললেন, ‘এই অর্থটাই সঠিক। এই অর্থই করতে হবে।’ উনার পরে সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিনড়বাস সালাম উনারা সমর্থন করে বললেন, ‘এই অর্থটাই সঠিক। এই অর্থই করতে হবে।’ উনাদের পরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সকলে এটা সম্মতি মুবারক প্রকাশ করলেন। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ; এটাই সঠিক। এটাই অর্থ করতে হবে।’ এবং দেখলাম- যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিও এই কথাই বললেন, ‘হ্যাঁ; এটাই সঠিক। এটাই অর্থ করতে হবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
তাহলে এখন এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ মানুষ জানবে কিভাবে? উনারা না জানালে? জানার তো কোনো সুযোগ নেই। এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ তো সমস্ত হাদীছ, তাফসীর, ফিক্বাহ্সহ সমস্ত কিতাবে এই ভুল অর্থটাই লেখা আছে। এই বিষয়গুলি তো সব এভাবেই উনাদের তরফ থেকে জানতে হবে। কোনোটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সরাসরি। কোনোটা সরাসরি উনি বলেন। আর নাহলে অন্যগুলি উনারা বলেন। অনেক সময় অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি জবাব দেন না, চুপ থাকেন। দেখা যায় উনারা জবাব দেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা জবাব দেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এখন ২৪ ঘন্টাই একরকম একটা অবস্থা চলছে। সবটা তো আর প্রকাশ করা সম্ভব না। এখন যতো করা যায়, ততো উনারা খুশি হন, সন্তুষ্ট হন। যমীনে তো আর এসব বুঝা যাবে না, পরে বুঝা যাবে। দায়িমী হুযূরী যেটা, এটা তো অনেক সূক্ষ্ম বিষয়। নামাযের হুযূরী তো আছেই; দায়িমী হুযূরী ২৪ ঘন্টা। আর আসলে ইলিম-কালাম মুবারক হোক, যেটাই হোক- হাদীছ হোক, তাফসীর হোক, ফিক্বাহ্ হোক, ফতোয়া হোক, এই বিষয়গুলো আমভাবে এক প্রকার আছে; কিন্তু ঐ সমস্ত সূক্ষ্ম বিষয়গুলি তো এভাবে পাওয়া যাবে না। এটা উনাদের ছাড়া কিভাবে হবে? উনারাই এই বিষয়গুলি ফয়ছালা করেন। এখন এতোদিন ফয়ছালা হয়নি কেনো? এই যেমন- ইস্তাওয়ার অর্থ, কুদরতের অর্থ। এগুলি তো স্বাভাবিক না। মানুষ তো বুঝতে পারেনি। সব তো মূর্খ লোক। ইমাম-মুজতাহিদগণের জীবনী খুঁজে দেখো ইস্তাওয়া আর কুদরতের অর্থ কিভাবে করেছেন। উনারা তো বলেছেন যে, ‘ইস্তাওয়ার অর্থ যারা করে, তারা বিদায়াতী, তারা গোমরাহ্। এটার অর্থ মানুষ জানে না।’ ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন যে, ‘আমরা জানি না মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে ইস্তাওয়া হয়েছেন।’ কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি তো বলেছেন, উনারা তো ইস্তাওয়া হননি। তাহলে কেমন হলো এখন? এগুলি তো আলাদা বিষয়। উনারা যদি ইলিম মুবারক না দান করেন, তাহলে কোনো দিন ইলিম পাওয়া সম্ভব না। ইলিম মুবারক তো আসেন মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের তরফ থেকে। উনারাই সব কিছুর মালিক। মানুষ এটা জানে না। উনারা যতোটুকু দেন, ততোটুকু। এর বাইরে কিভাবে ইলিম হবে? এর বাইরে তো ইলিম নেই। ইস্তাওয়া আর কুদরতের অর্থ- এটা মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না। ১৫শ বছরে যাঁরা বড় বড় অতীত হয়ে গেছেন উনারা তো পারেননি। এখন নতুন বড় বড় আর আসবে কোথা থেকে? এখন তো বড় নেই। যাঁরা বড় সব অতীত হয়ে গেছেন। ইমাম-মুজতাহিদ বলো অথবা অন্য যা কিছু বলো, কেউই তো ব্যাখ্যা করেনি। এখন উনারা আমাকে জানালেন, আমি জানালাম। উনারা না জানালে, জানবে কোথা থেকে? উনারা আমাকে জানিয়েছেন। উনারা আমাকে দেখিয়ে দিয়েছেন, বুঝিয়ে দিয়েছেন। এটা সোজা জিনিস না। এটা সরাসরি মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা দুজন আমাকে এটা বুঝিয়েছেন। এই দুইটা বিষয়। এটা অন্য কেউ না। তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যে প্রম সৃষ্টি- এখন এটা বললে মানুষের পক্ষে ঈমান রক্ষা করা কঠিন হবে। এটা মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি আমাকে দেখিয়েছেন। এরকম অনেক আছে। এগুলি সব তো এখন বলা মুশকিল। এগুলি আরো অনেক লম্বা কথা রয়েছে। এতো লম্বা কথা বলা যাবে না। এতোটুকুই যথেষ্ট। ঈমান রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে মানুষের। সেটাই আমরা বললাম যে, কেউ যদি না বুঝে, আমাদের করার কি আছে? এখন আমরা যেটা বুঝলাম, সেটা বললাম। তাহলে দেখো, তাহক্বীক্ব করো, এটা শুদ্ধ না অশুদ্ধ। তাহলে তোমরা ব্যাখ্যা করো। ব্যাখ্যা তো করতে পারবে না।”
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত জিন-ইনসানসহ আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বীভাবে বুঝার এবং মানার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

0 Comments:
Post a Comment