সম্মানিত আরশে আযীমে গিয়ে কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে-পর্ব-১৮

সম্মানিত আরশে আযীমে গিয়ে কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে-পর্ব-১৮

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৭শে মুহররমুল হারাম শরীফ মুতাবিক ২৬শে ছালিছ ১৩৯০ শামসী লাইলাতুল জুমু‘আহ্  শরীফ (জুমু‘আহ্ শরীফ উনার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন- “আমি ফয়েযের তাছীরের বিষয়ে অনেকগুলি ঘটনা মুবারক বলেছিলাম। যেমন- একদিনের একটা ঘটনা মুবারক- সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে আমার সাক্ষাৎ মুবারক হলো। ঘটনা মুবারক লম্বা। সংক্ষিপ্ত হলো- উনি তো কথা সহজে বলেন না। চুপ-চাপ থাকেন। গম্ভীর। উনি হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রক্ত মাখা জামা মুবারক নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে বিচার চাবেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেও এটা ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-

عَنْ اِمَامِ الَْوَّلِ سَيِّدِنَ حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَمُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُحْشَرُ ابْنَتِىْ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَمُ وَمَعَهَا ثِيَابٌ مَّصْبُوْغَةٌ بِدَمٍ فَتَتَعَلَّقُ بِقَائِمَةٍ مِّنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ فَتَقُوْلُ يَ عَدْلُ احْكُمْ بَيْنِىْ وَبَيْنَ قَاتِلِ وَلَدِىْ فَيُحْكَمُ لِبْنَتِىْ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হাশরের ময়দানে নূরুন নাজাত মুবারক রঞ্জিত (রক্ত রঞ্জিত) সম্মানিত পোশাক মুবারক নিয়ে উপস্থিত হবেন। অতঃপর তিনি সম্মানিত আরশ উনার স্তম্ভসমূহের একখানা সম্মানিত স্তম্ভ মুবারক উনার নিকটবর্তী হবেন। তারপর তিনি বলবেন, হে ন্যায়বিচারক (মহান আল্লাহ পাক)! আপনি আমার এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শহীদকারীর মাঝে ফায়ছালা মুবারক করুন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে এই বিষয়ে সর্বোত্তম ফায়ছালা মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ ৫/৪৭৬, শরফুল মুস্তফা শরীফ ৫/৩১৪)

আরশে আযীমের খুঁটির কাছে যেয়ে উনি বিচার চাবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পক্ষ হয়ে বিচার করবেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা শহীদ করেছে তাদের কঠিন শাস্তি হবে। আমি আন নূরুর রবি‘আহ্ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে বললাম যে, ‘হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের যারা শত্রু তাদেরকে শাস্তি দিলে আপনি খুশি হবেন?’ তখন তিনি তাবাস্সুমী শান মুবারক প্রকাশ করলেন, অত্যন্ত খুশি হয়ে গেলেন। আমি বললাম, ‘আমি একটা কাজ করতে চাই। আপনি হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার জন্য বিচার চাবেন, তাহলে আমিও একটা বিচার চাবো।’ কি বিচার? আমি বললাম, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক-এ যে চূ-চেরা করে, ‘আনলাকি থার্টিন’ বলে বা এই ধরনের অনেক কিছু। এটার আমি বিচার চাবো।’ উনি বললেন, ‘ওখানে তো সবাই যেতে পারবে না। কঠিন একটা জায়গা। আরশে আযীমের দায়িত্বে যে সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আছেন, উনাদেরকে প্রলেপ দিয়ে রাখা হয়েছে। ওখানে সবসময় যে নূর মুবরক ঝরতেছে, এটা তো সবাই বরদাশত করতে পারবে না। আমরা ছাড়া কেউ বরদাশত করতে পারবে না। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ যাঁরা উনারা ছাড়া কেউ বরদাশত করতে পারবে না।’ আমি বললাম, ‘তাহলে কী করা যেতে পারে?’ উনি বললেন, ‘আমি একটা ফয়েয মুবারক দিবো, যদি এই ফয়েয মুবারক আপনি বরদাশত করতে পারেন, তাহলে আপনি যেতে পারবেন।’ বলা মাত্রই আমি আর কিছু বলিনি- উনি এমন একটা ফয়েয দিলেন আমাকে, আমি অনেক দূরে গিয়ে পড়ে গেলাম। তারপর প্রায় ৭/৮ ঘন্টা পর সুস্থ হলাম। উনি বললেন, ‘এটা বরদাশ করতে পারলে, পারা যাবে।’ আস্তে আস্তে আমার বরদাশ হলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) তখন আমি বললাম, ‘তাহলে এখন পারা যাবে?’ উনি বললেন, ‘হ্যাঁ; এখন পারা যাবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনি বললেন, ‘আমি একটা ফয়েয দিবো।’ আমার তো আর কোনো প্রস্তুতি নেই। ফয়েয দিবো বলা মাত্র চোখের পলকে উনার থেকে একটা নূর মুবারক বের হয়ে গেলো। নূর মুবারক বের হয়ে এসে আমার ভিতর প্রবেশ করলো। প্রবেশ করার সাথে সাথে মনে হয়, আমি অনেক দূর গিয়ে পড়লাম। তারপর বেহুঁশের মতো হাল থাকলো প্রায় ৭/৮ ঘন্টা। এরপর স্বাভাবিক হলাম। তখন আমি বললাম, ‘এখন কি তাহলে আমি যেতে পারবো?’ উনি বললেন, ‘হ্যাঁ; এখন পারা যাবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এই যে ফয়েযের তাছীরটা। কঠিন বিষয়। এটা নূরের মতো প্রবেশ করে। এটা বরদাশত করতে পারলে আরশে আযীমের সামনে যেয়ে বিচার চাওয়া যাবে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) সেটাই দেখলাম যে, আমি ফিকির করার আগেই উনি বললেন, ‘আমি একটা ফয়েয যদি দেই, এটা বরদাশত করতে পারলে আরশে আযীমে যেয়ে বিচার চাওয়া যাবে।’ বলা মাত্রই- এটা আমি চিন্তা-ফিকির করিনি যে, উনি আমাকে এখনই ফয়েয দিয়ে দিবেন। বলার সাথে সাথে চোখের পলকে এমন একটা নূরের ঝলক এসে আমার ভিতরে প্রবেশ করলো, যার ফলে আমি অনেক দূরে গিয়ে পড়লাম। প্রায় ৭/৮ ঘন্টা পর স্বাভাবিক হলাম। স্বাভাবিক হওয়ার পর আমি জানতে চাইলাম যে, ‘তাহলে এখন কি পারা যাবে?’ উনি বললেন, ‘হ্যাঁ; এখন পারা যাবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) ফয়েযটা কি জিনিস? এটা মানুষ বুঝে না। একজন ওলীআল্লাহ উনার ফয়েযে মানুষ মারা যায়। তাহলে উনাদের ফয়েযে মানুষ জিন্দা থাকে কিভাবে? এটা কঠিন বিষয়। উনি বললেন যে, ‘আমরা- উনারা মানে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে খাছ যাঁরা- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা, আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এই ২৩ জনের কথা বলেছেন। বলেছেন, আমরা তো খাছ। আমরা ছাড়া এখানে কেউ তো আসতে পারবে না। আরশের যারা অধিবাসী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা যাঁরা আছেন উনারা আবৃত অবস্থায় আছেন। কারণ যদি সরাসরি এই নূর মুবারক লাগে উনাদের শরীর মুবারকে, তাহলে উনারা বরদাশত করতে পারবেন না। মারা যাবেন সবাই। সবাই মারা যাবেন। উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি আলাদাভাবে হেফাযত করেন। সবসময় আবৃত অবস্থায় থাকেন। সেখানে এতো নূর মুবারক বর্ষণ করা হয়, সেই নূর মুবারক বরদাস্ত করা কারো পক্ষে সম্ভব না।’ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি কিন্তু সিদরাতুল মুনতাহা পার হতে পারেননি। কারণ তিনি যদি সিদরাতুল মুনতাহা থেকে এক চুল পরিমাণ অগ্রসর হন, তাহলে তিনি চোখের পলকে জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন। হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম তিনি হলেন সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল। উনি যদি বরদাশত করতে না পারেন, তাহলে অন্য হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা কী করে বরদাশত করবেন? এজন্য আরশের যাঁরা অধিবাসী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রলেপ দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে ঐ নূর মুবারক সরাসরি উনাদের শরীর মুবারকে না লাগে। সরাসরি লাগলে উনারা বরদাশত করতে পারবেন না, মারা যাবেন। তাহলে ফায়েয-তাওয়াজ্জুহ্টা কি জিনিস? বুঝতে পারলে এবার? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এটা বরদাশত করাও তো কঠিন। ওলীআল্লাহ উনাদের ফায়েয বরদাশত করতে পারে না মানুষ, মারা যায়! তাহলে উনাদের ফায়েয বরদাশত করবে কিভাবে? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনাদের ফায়েয অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাছীর মুবারক।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৬ই ছফর শরীফ মুতাবিক ৫ই রবি’ ১৩৯০ শামসী লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন- “আমি একটা ঘটনা মুবারক বলেছিলাম। একদিন আমি সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জানড়বাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে আরশে আযীমের কাছে দেখলাম। উনি সেখানে বসা আছেন। এটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেও আছে যে,

عَنْ اِمَامِ الَْوَّلِ سَيِّدِنَ حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَمُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُحْشَرُ ابْنَتِىْ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَمُ وَمَعَهَا ثِيَابٌ مَّصْبُوْغَةٌ بِدَمٍ فَتَتَعَلَّقُ بِقَائِمَةٍ مِّنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ فَتَقُوْلُ يَ عَدْلُ احْكُمْ بَيْنِىْ وَبَيْنَ قَاتِلِ وَلَدِىْ فَيُحْكَمُ لِبْنَتِىْ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হাশরের ময়দানে নূরুন নাজাত মুবারক রঞ্জিত (রক্ত রঞ্জিত) সম্মানিত পোশাক মুবারক নিয়ে উপস্থিত হবেন। অতঃপর তিনি সম্মানিত আরশ উনার স্তম্ভসমূহের একখানা সম্মানিত স্তম্ভ মুবারক উনার নিকটবর্তী হবেন। তারপর তিনি বলবেন, হে ন্যায়বিচারক (মহান আল্লাহ পাক)! আপনি আমার এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম উনার শহীদকারীর মাঝে ফায়ছালা মুবারক করুন।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে এই বিষয়ে সর্বোত্তম ফায়ছালা মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ ৫/৪৭৬, শরফুল মুস্তফা শরীফ ৫/৩১৪)

সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জানড়বাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনি হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার নূরুন নাজাত মুবারক রঞ্জিত (রক্ত রঞ্জিত) সম্মানিত পোশাক মুবারক নিয়ে উনার ব্যাপারে মহান আল্লাহপাক উনার কাছে বিচার চাবেন। আরশে আযীমে গিয়ে বিচার চাবেন। মহান

আল্লাহ পাক তিনি বিচার করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পক্ষে রায় দিবেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা শহীদ করেছে তাদের শাস্তি তো হচ্ছে; আরো কঠিন শাস্তি হবে। উনারা তো সব সময় খুব গম্ভীর থাকেন। উনারা সাধারণত কারো সাথে কথা বলেন না, কারো কোনো পাত্তা দেন না।আমি যখন সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জানড়বাহ হযরত যাহরা আলাইহাস  সালাম উনাকে দেখলাম, তখন দেখলাম যে, উনি খুব চিন্তিত। আমি বললাম যে, ‘আচ্ছা; যদি হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের যারা শত্রু এদেরকে শাস্তি দেই তাহলে আপনি খুশি হবেন?’ তিনি অত্যন্ত খুশি হলেন। মুচকি হাসলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমি তখন বললাম, ‘আপনি তো হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার পক্ষে বিচার চাবেন, তাহলে আমি নূরে মুজাসসাম হবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষে বিচার চাবো। উনার শান-মান মুবারক সম্পর্কে যে তারা চূ-চেরা করতেছে, তারপর তারা এই যে ‘আনলাকি থার্টিন’ বা এই ধরনের অনেক কিছু বলে। এটার আমি বিচার চাবো।’ তখন উনি আমাকে বললেন, ‘আমরা ছাড়া আরশে আযীমে আসার তো কারো কোনো ক্ষমতা নেই। আমরা তো নূরের তৈরী। আমরা নূর। আমরাই শুধু বরদাশত করতে পারি। অন্য কেউ এখানে আসতে পারবে না।’ আমি তখন বলেছিলাম যে, ‘আরশে আযীমের দায়িত্বে যে সকল ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আছেন?’ উনি বললেন, ‘উনাদেরকে প্রলেপ দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে এই নূরের তাজাল্লার তাছিরটা না পড়ে। পড়লে উনারাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। এখানে যাঁরা আছেন সবাইকে প্রলেপ দেওয়া। আমরা হচ্ছি সরাসরি নূর মুবারক, আমরা আসতে পারবো। আমরা ছাড়া অন্য কেউ এখানে আসতে  পারবে না।’ তখন আমি বললাম, ‘তাহলে আমি কি আসতে পারবো?’ উনি বললেন, ‘আসতে পারবেন; তবে একটা শর্ত আছে।’ কি শর্ত? উনি বললেন, ‘আমি ফয়েয দিবো, আমার ফয়েযটা বরদাশত করতে পারলে, আসতে পারবেন।’ উনি এটা বললেন। আমি আর এতো চিন্তা-ফিকির করিনি। বলা মাত্র উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইলিম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিনা মুবারক) থেকে চোখের পলকে খুব দ্রুতগতিতে একটা নূর বিজলীর মত বের হয়ে আসলো। এসে আমার ভিতর প্রবেশ করল। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এটার এতো শক্তি যে, এটার ধাক্কার চোটে আমি প্রায় ৭/৮ হাত দূরে গিয়ে পড়লাম। ওখানে প্রায় ৭/৮ ঘন্টার মত আমি বেহুঁশের মত ছিলাম অনেকটা। এরপর হুঁশ মুবারক হলো। হুঁশ মুবারক হওয়ার পরে আমি আবার উনার কাছে আসলাম। এসে উনাকে বললাম যে, ‘এখন কি তাহলে যাওয়া যাবে?’ উনি বলেছিলেন যে, ‘আমার ফয়েযটা যদি বরদাশত করা যায়, যে করতে পারবে, সে আসতে পারবে।’ আমি বললাম, ‘আমি তো বরদাশত করলাম। তাহলে আমি কি এখন আসতে পারবো?’ উনি বললেন যে, ‘হ্যাঁ; এখন আসা যাবে এবং বিচার চাওয়া যাবে।’(সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এই যে উনার ফয়েযটা- আমি দেখলাম, উনি বলার সাথে সাথে ফয়েয দিয়ে দিলেন। চোখের পলকে বিজলীর মত নূর মুবারক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইলিম মুবারক থেকে এসে আমার ভিতরে ঢুকলো। এটার এতো শক্তি! ধাক্কার চোটে আমি অনেক দূরে গিয়ে পড়লাম। পরে বেহুঁশের মত থাকলাম কিছুক্ষণ। যখন হুঁশ মুবারক আসলো, তখন আমি আবার আসলাম। এসে বললাম যে, ‘এরকম- ফয়েয-তাওয়াজ্জুর কারণে মারা যাওয়ার কথা ছিলো। তাহলে আমি তো এখন জিন্দা আছি। তাহলে আমি কি বিচার চাইতে পারবো?’ উনি বললেন যে, ‘হ্যাঁ; এখন বিচার চাওয়া যাবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) সেটাই বললাম, উনাদের ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ তো ব্যতিক্রম। একজন ওলীআল্লাহর ফয়েয বরদাশত করতে পারে না মানুষ, মারা যায়। তাহলে উনাদের ফয়েয বরদাশত করবে কিভাবে? তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফয়েয বরদাশত করবে ?

কিভাবে? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)




0 Comments: