উনাদের মহাসম্মানতি নিসবত-কুরবত ছাড়া ১৬ আনা ইলিম পাওয়া সম্ভব না’-পর্ব-২৩
ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৩ই জুমাদাল উখরা শরীফ লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “অনেক বিষয় আছে। বলতে গেলে অনেক বিষয়। আমি জুমু‘আহ্তে আলোচনা করি- সোজা জিনিস তো আলোচনা করি। খুব কঠিন বিষয় তো আলোচনা করি না। অনেক সময় উনারাই আমাকে বলেন কি আলোচনা করতে হবে। সেভাবে আমি আলোচনা করি। আমি তো খুব কঠিন বিষয় বলি না, সহজ বিষয়গুলিই তো আমি বলি। এখন মানুষ যতটুকু বুঝে। মানুষ তো সব বুঝে না। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তো একটাই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ তো একটাই, দুইটা তো না। উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক করলে- উনাদের বিষয় তো একটাই। এখন সেটাই ‘মিল্লাদুনড়বা ইল্মা, ওয়ার রসিখূনা ফিল ইল্ম’ ইলিমে যারা রসিখ, গভীর ইলিমের অধিকারী। এখন উনাদের কাছে ছাড়া কোনো ইলিম নেই আসলে। আমাদের এখানে তো লক্ষ লক্ষ কিতাব আছে। এই কিতাবগুলি খুঁজে দেখো, অন্যগুলোও খুঁজে দেখো, কিতাবের মধ্যে কি আছে। খুঁজে তো সব পাবে না। জাহিরী ইলিম পাবে; বাতিনী বিষয় তো পাবে না। বাতিনী বিষয় তো নেই। বাতিনী ইলিম তো উনাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। তারপরে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা যাঁরা লিখে গেছেন, কিছু কিছু লিখেছেন। অনেক সময় দেখা যায় অনেক বড় বড় অনেকে অনেক কিছু লিখেছেন; কিন্তু দেখা যায় যে, উনাদের লিখার মধ্যেও পূর্ণতা নেই। লিখেছেন মোটামুটি কেউ হয়তো ২ আনা, ৪ আনা, ৮ আনা, ১০ আনা, ১২ আনা; কিন্তু ১৬ আনা নেই। উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবত-কুরবত ছাড়া ১৬ আনা ইলিম পাওয়া সম্ভব না। যদি সম্ভব হতো, তাহলে ইস্তাওয়া আর কুদরতের অর্থ মানুষ অনেক আগেই বুঝতে পারতো। বুঝতে পারেনি মানুষ। আর বাকিগুলি তো রইলই। সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যা-তাফসীর। সহজে সব কিছু বুঝার জন্য সহজ উছূল হলো‘যেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক রয়েছেন, সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক রয়েছেন।’ সোজা কথা। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এটা বুঝতে হবে। যেমন- আমরা একটা উছূল বললাম যে, ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিশুদ্ধতার উছূল হলো- উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খেলাফ হলে হাদীছটা শুদ্ধ না। এক কথায় শেষ। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খেলাফ হলে, এটা শুদ্ধ না; এটা অশুদ্ধ। এটা সে যেই বর্ণনা করুক। আর যে কিতাবেই থাকুক। আসলে উনারা বুঝতে পারেননি।’ যেমন- এই যে, হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনি হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম উনাকে বয়স দিয়ে দিলেন- এক জায়গায় বললেন, ৬০ বছর। এক জায়গায় বললেন, ৪০ বছর। তাহলে উনি কত বছর দিয়েছিলেন? উনি ভুলে গেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! এই সাধারণ বিষয়টাই তো মানুষ বুঝেনি। উনি তো রসূল। একজন হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনি আবার ভুলে যান নাকি? না‘ঊযুবিল্লাহ! হ্যাঁ? সম্মানিত ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাহলে তো মহান আল্লাহ পাক তিনি ভুলে গেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তাহলে এই হাদীছ শুদ্ধ হয় কি করে? এটাই তো মাদরাসায় পড়ায়। এটাই পড়ায়, এটাই পড়তেছে, এটা বিশ্বাস করতেছে। প্রথম মানুষ, প্রথম ভুল। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! এতটুকুই যারা বুঝলো না, তারা বাকিটা বুঝবে কোথা থেকে? বাকিটা কোনো দিন বুঝতে পারবে না। এটা হচ্ছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ يُّرِدِ اللهُ بِهٖ خَيْرًا يفَُّقِّهْهٗ فِى الدِّيْنِ
‘মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁর ভালাই চান, তাঁকে দ্বীনের ছহীহ সমঝ দেন।’
ছহীহ সমঝের স্তর মানুষ জানে না, কতোগুলি স্তর আছে। এই বিষয়ে আবার মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنْ تَتَّقُوا اللهَ يَجْعَلْ لَّكُمْ فُرْقَانً
‘মুত্তাক্বী হলে মহান আল্লাহ পাক তিনি ফুরক্বান দান করেন।’ ফুরক্বানটা কোন্ স্তরের? সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে ‘ফারূক্ব’ লক্বব দেওয়া হয়েছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি উনাকে ফুরক্বান দিয়েছেন। উনাকে ফারূক্ব লক্বব দেওয়া হয়েছে। এটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো- ‘উনাকে এই লক্বব মুবারক কে দিয়েছেন?’ উনি বলেছিলেন, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি দিয়েছেন।’
اَلْفَارُوْقُ بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ
‘সত্য মিথ্যার
পার্থক্যকারী।’
এই যে বিষয়টা- ছহীহ সমঝ তো উনার রয়েছেন। সেটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি তো ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, ‘আমার পরে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনি যা করবেন, তোমরা সবটা মেনে নিবে। উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করার ছহীহ সমঝ দান করেছেন। উনি কখনো নাহক্ব কাজ করবেন না।’
তাহলে ছহীহ সমঝের কতো স্তর রয়েছেন। এটা মানুষ বুঝবে কিভাবে? এটা তো বুঝতে পারবে না। এই জন্য যিকির-ফিকির করতে হবে বেশি বেশি। আর তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করো বেশি বেশি। এটা করলে উনি খুশি হন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আর উনি তো হাযির-নাযির। আমি তো সেটাই বলি। মানুষ তো এটাও বুঝলো না। তারা বলে, উনি হাযির হন! নাযির হন! আরে হাযির-নাযির কবে হবেন? হ্যাঁ? কবে হবেন? তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি হাযির-নাযির হন? মহান আল্লাহ পাক তিনি হাযির-নাযির আছেনই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি না; উনি হাযির-নাযির আছেনই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) শুধু পর্দার আড়ালে। দেখা যায়, দেখা যায় না। এতোটুকুই; আর কিছু না। এখন আমরা যা বলি, উনি শুনতেছেন না? সব শুনতেছেন। তাহলে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করলে উনি খুশি হবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করতেছেন। আমরাও যদি করি, তাহলে হয়ে গেলো।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি আমাদেরকে হাক্বীক্বী ছানা-ছিফত মুবারক করার তাওফীক্ব দান করুন।
আমীন!

0 Comments:
Post a Comment