ছলাত (নামায) আদায় করলে যেমন রিযিকে বরকত হয়; ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা- ছিফত মুবারক করলে ও রিযিকে বরকত হয়, হায়াত ও বৃদ্ধি হয়। পর্ব- ২৫

ছলাত (নামায) আদায় করলে যেমন রিযিকে  বরকত হয়; ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা- ছিফত মুবারক  করলে ও রিযিকে  বরকত হয়, হায়াত ও বৃদ্ধি হয়। পর্ব- ২৫

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৪ঠা জুমাদাল ঊলা শরীফ মুতাবিক ৩০শে সাদিস ১৩৯০ শামসী লাইলাতুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার রাতে) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা-

اَتَنِىْ حَضْرَتْ جِبْريِْلُ عَلَيْهِ السَّلَمُ فَقَالَ اِنَّ رَبِىّْ وَرَبَّكَ يقَُوْلُ كَيْفَ رَفَعْتُ لَكَ ذِكْرَكَ

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রব তা‘য়ালা এবং আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, ‘আমি কিভাবে আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক, শানমান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বুলন্দ করবো?’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বললেন-

اَللهُ اَعْلَمُ

‘মহান আল্লাহ পাক তিনি ভালো জানেন।’ মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন-

ذَا ذكُِرْتُ ذكُِرْتَ مَعِىْ اِ

‘ঠিক আছে; যেখানে আমার স্মরণ হবে, সেখানে আপনারও স্মরণ হবে।’ সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে তো হয়েই গেলো। ‘যেখানে আমার স্মরণ হবে, সেখানে আপনার স্মরণ হবে।’ এই যে আমি বলি- ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে যতো ছলাত শব্দ এসেছেন, দুইটি অর্থ করতে হবে। (১) একটা হলো ‘নামায’, (২) আরেকটা হলো ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানাছিফত মুবারক’।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

ذَا ذكُِرْتُ ذكُِرْتَ مَعِىْ اِ

‘যেখানে আমার স্মরণ হবে, সেখানে আপনার স্মরণ হবে।’ সবজায়গায়। ঠিকই তো আছে। কোনো জায়গায় বাদ আছে? না; কোনো জায়গায় বাদ নেই। যেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ হবে, সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মরণ হবে। যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মরণ হবে, সেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ হবে। আলাদা হবেন না। এজন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি এক করে দিয়েছেন। সেটাই আমরা বললাম যে,‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ যদি শিরিক না হয়, তাহলে উনার আলোচনা করলে শিরিক হবে কেনো?’ কাফেররা তো কুফরী করে। নূরেমুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যতো আলোচনা মুবারক করবে, সব করুক (বলুক)। শুধু ‘মহান আল্লাহ পাক’ না বললেই হলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) ‘মহান আল্লাহ পাক’ বলা ছাড়া সব বলুক, কোনো অসুবিধা নেই। কোনো দিন শিরিক হবে না। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) মহান আল্লাহ পাক তিনিই তো বলে দিলেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ দিয়ে দিলেন না? আর আপনার যেটা আলোচনা, সেটাই আমার আলোচনা। আসল আলোচনা তো আছেই-

يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِىِّ )صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ(

মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই তো করতেছেন। এখন ফিকির করলে তো এগুলো অনেক কিছু। তারা যেমন বলে যে,

اَللهُ وَلِىُّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا يخُْرِجُهُمْ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَى النُّوْرِ

‘মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমানদারদের ওলী বা অভিভাবক।’ যাই বলুক। তাদেরকে

مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَى النُّوْرِ

‘গোমরাহী থেকে নূরের দিকে নিয়ে যান।’ আসল ‘নূর’ কী? আসল ‘নূর মুবারক’ তো হচ্ছেন ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি’। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা

আলাইহিস সালাম!) মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে নিয়ে যান। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ‘তুমি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু হও, তাহলে আমার দিকে এসে পড়বে।’

فَاتَّبِعُونِىْ يحُْبِبْكُمُ اللهُ

‘তোমরা আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তেবা করলে, আমার মুহব্বত পাবে।’ উনার দিকে রুজু করেন। মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাবে কোথা থেকে? মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাওয়া যাবে কি? মহান আল্লাহ পাক উনাকে কেউ কোনো দিন দেখেছে? মহান আল্লাহ পাক উনাকে আমরা জানি? চিনি? ‘মহান আল্লাহ পাক’ উনার সম্পর্কে আমরা জানি না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আমাদেরকে বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনি একজন আছেন।’ আমরা বিশ্বাস করেছি। আগে তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশ্বাস করেছি। আগে উনাকে বিশ্বাস করতে হবে, তারপর মহান আল্লাহ পাক উনাকে বিশ্বাস করতে হবে। উনিই তো ‘মূল নূর মুবারক’। উনার দিকে নিয়ে যান, মানে হিদায়েতের দিকে নিয়ে যান। উনার কাছে গেলেই হিদায়েত পাওয়া যাবে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) অন্যথায় হিদায়েত আসবে কোথা থেকে? হিদায়েত আবার কোথায় আছে? হিদায়েত তো উনার কাছে। উনার কাছে গেলেই হিদায়েত পাওয়া যাবে।

هُوَ الَّذِىْٓ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِلْهُدٰى وَدِيْنِ الْحَقِّ

‘মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে পাঠিয়েছেন সত্য দ্বীন, হিদায়েতসহ।’ উনি তো হিদায়েত এবং সত্য দ্বীন উনাদের মালিক। দ্বীন ইসলাম তো বাতাসে পাওয়া যাবে না, হিদায়েত তো বাতাসে পাওয়া যাবে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে গেলে হিদায়েতও পাওয়া যাবে, দ্বীন ইসলামও পাওয়া যাবে। উনার দিকেই মহান আল্লাহ পাক তিনি রুজু করেন।

وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْآ اَوْلِيٰؤُهُمُ الطَّاغُوْتُ يخُْرِجُوْنَهُمْ مِّنَ النُّوْرِ اِلَى الظُّلُمٰتِ

‘আর যারা কাফির তাদের ওলী বা অভিভাবক হচ্ছে শয়তান। শয়তান তাদেরকে (মানুষদেরকে) নূর থেকে জুলমতের দিকে নিয়ে যায়।’ ‘নূর মুবারক’ কী? নূর মুবারক হচ্ছেন- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি’। উনার থেকে ছুটিয়ে গোমরাহীর দিকে নিয়ে যায়।

এগুলো এরকম অর্থ করতে হবে। ছলাত হলে, দুইটি অর্থ হবে। ‘নূর’ হলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। মূল উনি। উনি তো ‘নূর মুবারক’। এখন অর্থ যে যেদিকে করুক। যার যারটা তার তার। আমাদের অর্থ হলো এরকম। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমি আগেও বলেছিলাম, জুমু‘আহ্ শরীফেও বলেছি যে, ছলাত শব্দের একটা অর্থ হলো- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করা।’ ছলাত আদায় করলে যেমন রিযিকে বরকত হয়; ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করলেও রিযিকে বরকত হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করে সিরিয়ার যুবকটা বরকত পেলো না? এক হাজার দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) পেলো না? এক হাজার দীনার তো পেয়েছে। বরকত পেয়েছে, হায়াত তো বৃদ্ধি পেয়েছে। তার তো মৃত্যুদ- দেওয়ার কথা ছিলো। সে হায়াতও পেলো, এক হাজার দীনারও পেলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

এটা আমি খেয়াল করেছিলাম। এটা কি আমি বলবো? তখন আমাকে বলা হলো যে, হ্যাঁ; এটা বলতে হবে। ছলাত শব্দের অর্থ এটা একটা। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) ছলাত শব্দের অর্থ এটাও একটা যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করা। করলে রিযিক পাবে, তার হায়াতও বৃদ্ধি হবে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) রিযিকও পেলো সে, তার হায়াতও বৃদ্ধি হলো। বৃদ্ধি হয়েছে না?

আরজী: কে বলেছেন এটা? জওয়াব মুবারক: মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের তরফ থেকে বলা হয়েছে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। আমি রুজু হলাম, তখন উনারা বলেছেন। উনারাই বলতে বলেছেন। সমষ্টিগতভাবেই বলেছেন যে, ‘ছলাত পাঠ করলে যেমন বরকত হয়; ঠিক তেমনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করলেও বরকত হয়।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِىِّ )صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ(ز

এটাও তো ছলাত। এটা ছলাত না? ওই যে সিরিয়ার যুবকটা- তার হায়াত বৃদ্ধি পেলো না? তার মৃত্যুদ- ওয়াজিব হয়ে গিয়েছিলো। সে হায়াতও পেলো, আবার সে ১ হাজার স্বর্ণ মুদ্রাও পেলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) ফিকির করলে অনেক কিছু। ফিকির না করলে কিছুই না।” আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি আমাদেরকে হাক্বীক্বীভাবে বুঝার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

0 Comments: