ফয়েয মুবারক লাভ করে সক্রিয় হলেন ৪ মাযহাবের ইমামগণ- পর্ব-২৭
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৮ই ছফর শরীফ মুতাবিক ৭ই রবি’ ১৩৯০ শামসী লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম অর্থাৎ সোমবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন- “এতোদিন ধরে থাকো তোমরা আমাদের আক্বীদাহ্টা বুঝো না। কবে বুঝবে? এতো বলা হয়। প্রতিদিন বলা হয়- আমাদের আক্বীদাহ্টা কি। তাহলে কিভাবে, কবে বুঝবে তোমরা? ছহীহ সমঝ না থাকলেও (ছোহবত মুবারক উনার তাছীরে) কমপক্ষে কিছুটা ছহীহ সমঝ তো হওয়ার কথা। (ছোহবত মুবারক উনার) একটা তাছীর আছে না। তোমাদের উপর তো (ছোহবত মুবারক উনার) তাছীর পড়ে না। তাহলে কিভাবে হবে? তোমাদের উপর তাছীর পড়বে কিভাবে? তোমাদের দিলের মধ্যে গণ্ড-গোল আছে। হ্যাঁ? তাহলে তাছীর হয় না কেন?
আমি যে একটা ঘটনা মুবারক বলেছিলাম। তোমরা এগুলি একটারও উপযুক্ত না। বলা হয়-
مال موفتےقدر نيست
‘মুফতে মাল পাওয়া গেলে তার কোনো ক্বদর থাকে না।’
অবস্থা হয়েছে এরকম। আমি যে একখানা ঘটনা মুবারক বলেছিলাম- হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনি একবার আমার কাছে আসলেন। উনি এসে আমাকে বললেন, ‘চলুন এক জায়গায় যেতে হবে।’ আমি বললাম, ‘কোথায় যেতে হবে?’ উনি বললেন, ‘ঐ যে চার মাযহাবের চার ইমাম আলাইহিমুস সালাম- আপনি গিয়েছিলেন একবার। চার ইমাম আলাইহিমুস সালাম। ঐখানে যেতে হবে।’ এর আগে আমি একবার গিয়েছিলাম। এর আগের ঘটনা হলো- একদিন আমি হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে গেলাম চার মাযহাবের চার ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনারা যেখানে আছেন ওখানে। আমি দেখলাম লম্বা একটা বাড়ি। ঐ বাড়িতে উনারা চারজনই শোয়া আছেন চারটা চকির মধ্যে। সবাইতো মনে হয় মৃতপ্রায়। সেখানে গেলাম। যাওয়ার পর দেখলাম- প্রম হচ্ছেন হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি। উনি বাচ্চা শিশুর মতো। বাচ্চারা যেমন অনেক সময় কাপড়-চোপড় নষ্ট করে, উনার গুলিও মনে হয় একটু নষ্ট হয়ে গেছে। পরে আমি ও হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ আমরা উনার কাপড়গুলি বদলিয়ে ঠিকঠাক করে দিলাম। ঠিকঠাক করে দেয়ার পরে উনি যুবক হয়ে গেলেন। আচ্ছা; ঠিক আছে। এরপরে দেখলাম হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপরে বাকি দুই জন। ঐদিন স্পষ্ট বুঝা যায়নি। পরে দেখেছি- পর্যায়μমে তারপর হযরত আহমদ বিন হাম্বাল রহমতুল্লাহি আলাইহি অতঃপর হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি। যাই হোক; ঐদিন এতোটুকু করেই আমরা চলে এসেছি। এটাই হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনি বললেন যে, ‘ঐ যে আপনি গিয়েছিলেন, ওখানে যেতে হবে।’ আমি বললাম- ‘যেতে হবে! গিয়ে কি করতে হবে?’ উনি বললেন, ‘ফয়েয দিতে হবে।’ আমি বললাম, ‘ফয়েয দিতে হবে! কিভাবে ফায়েজ দিতে হবে?’ উনি বললেন, ‘কিছু করতে হবে না, আপনি গেলেই চলবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) ঠিক আছে। তখন আমি হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে উনার সাথে ওখানে গেলাম। তখন দেখলাম- উনি একটা রংয়ের বালতি এবং সাথে কিছু ব্রাশ নিয়ে গেছেন। উনি বললেন যে, ‘এক কাজ করেন আমরা এটা রং করে দেই।’ যেখানে গেলাম ওখানে উনারা ৪ জন। ঐদিন স্পষ্ট দেখলাম- প্রমে হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি শুয়ে আছেন। এরপর হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপর হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপর হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি। রং করে নতুন করা হলো। এরপর গেলাম যাওয়ার পরই দেখা গেল উনারা ৪ জনই জিন্দা হয়ে গেলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) জিন্দা হয়ে সবাই খুব শক্তিশালী হয়ে গেলেন, একদম সμিয় হয়ে গেলেন এবং উনারা বসে লেখালেখি শুরু করলেন। অর্থাৎ উনাদের সবার সামনে ডেস্ক আছে, ডেস্কে বসে সকলেই লেখালেখি শুরু করলেন। তখন হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনি বললেন যে, ‘বাছ; হয়ে গেছে।’ এমতাবস্থায় দেখা গেলো ইবলিস বিকট ছুরতে সেখানে উড়ে আসতেছে। তখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বলা হলো ইবলিসকে হাজার মাইল দূরে নিক্ষেপ করুন। তখন সাথে সাথে চোখের পলকে ইবলিসকে হাজার মাইল দূরে নিক্ষেপ করা হলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এরপর আমাদেরকে নিয়ে একখানে বসালেন। বললেন যে, ‘এখানে বসেন।’ এরপর বললেন, ‘আপনার যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহাল-ইয়াল আলাইহিমুস সালাম-আলাইহিন্নাস সালাম উনারা আছেন, উনাদের সবাইকে এখানে নিয়ে আসেন।’ ঠিক আছে। আমি সবাইকে নিয়ে গেলাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি এসেছেন। কি করবেন? উনি ফয়েয মুবারক দিবেন। উনি ফয়েয মুবারক দিলেন। মহান আল্লাহ পাক উনিও ফয়েয মুবারক দিলেন। আমরা ওখানে কিছুক্ষণ থাকলাম। এরপর আমরা চলে আসলাম। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমার মূল কথা হচ্ছে- তোমরা যিকির করো, জারী হয় না! তোমরা যিকির করো না আসলে। এখন গেলেই যদি হযরত ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের এই অবস্থা হয়, উনারা জিন্দা হয়ে যান! তাহলে তোমরা জিন্দা হওনা কেন্? হ্যাঁ? আমি তো প্রত্যেক দিন এখানে আসি। তাহলে তোমরা জিন্দা হওনা কেন্? হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনি তো সাধারণ ব্যক্তি না! উনি জামি‘উন নিসবত। সমস্ত সিলসিলার মূল নিয়ামতগুলি উনার কাছে। সমস্ত সিলসিলার নিয়ামতগুলি উনি এক সাথে করেছেন। উনার মত ব্যক্তিত্ব মুবারক উনি আসলেন। বললেন- ‘গেলেই চলবে।’ তখন আমি গেলাম। ঠিকই যাওয়াতেই হয়ে গেল। উনারা চার জনই জিন্দা হয়ে গেলেন। জিন্দা হয়ে একদম খুব শক্তিশালী হয়ে উনারা আবার লেখালেখি শুরু করলেন। তাহলে গেলেই যদি উনারা শক্তিশালী হয়ে যান! ফয়েয না দিতেই ফয়েয পাওয়া যায়! সূর্য উঠলেই তো আলো হয়, সূর্যের তো আলো দিতে হয় না। সূর্যের আলো দিতে হয় কি? উঠলেই আলো পাওয়া যায়। এটা যদি হয়, হযরত ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনারাও যদি এভাবে হতে পারেন, তাহলে তোমরা হওনা কেনো? তোমাদের তাহলে গ-গোল আছে। যিকির-ফিকির করো বেশি বেশি। যিকির জারী হবে না কেনো? জারী হতে বাধ্য, ফরয। অবশ্যই জারী হবে। তোমরা যিকিরই করো না। কেউ কেউ বলে, পাছ আনফাছ জারী হয় না! পাছ আনফাছ জারী হবে না কেনো? হবে, জারী হতেই হবে। বলা হয়-
مال موفتےقدر نيست
‘মুফতে মাল পাওয়া গেলে, তার কোনো ক্বদর থাকে না। এরকম তো অনেক বলেছি। এটাতো একটা বিরাট নছীহতের বিষয়। এটা যদি সাধারণ কোনো লোক বলতো, তাহলে এক কথা ছিলো। ফয়েয তো উনিই দিতে পারেন। তাহলে আমাকে নিলেন কেন? হ্যাঁ? ফয়েয উনি দিতে পারেন না? এটাতো বুঝার, ফিকিরের একটা বিষয় আছে। এখন তোমাদের আক্বল-বুদ্ধির ত্রুটি থাকার কারণে সব বুঝো না। আমি তো বলি, সব বলে দেই। হ্যাঁ; সব ব্যাখ্যা না করলেও। ব্যাখ্যা তো সব করার প্রয়োজন নেই। আর ব্যাখ্যা করলে আবার অনেকে ভুল বুঝবে। ঈমান নষ্ট করে ফেলবে। এজন্যই মকতূবাত শরীফে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি লিখেছেন, আরো আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও অনেকেই লিখেছেন, হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনিও বলেছেন, ‘অনেক কথা আছে, যেগুলি বললে কাছের লোক দূরে সরে যাবে, দূরের লোক অস্বীকার করবে।’ সব কিছু তো আর ভাষা দিয়ে বলা যায় না। এতোটুকুই শুধু বুঝার জন্য। বলা হয়- ‘সব বললে কাছের লোক দূরে সরে যাবে, দূরের লোক অস্বীকার করবে।’এখন তোমাদের যিকির-ফিকির করা উচিত। যিকির-ফিকির করলে জারী হবে। জারী হতেই হবে। পাছ আনফাছ জারী করে, এরপর পরবর্তীতে কমপক্ষে সুলত্বানুল আযকার পর্যন্ত জারী করতে হয়। আর বাকীগুলি হলো মুরাকাবা। তাহলেই তো হয়ে যায়। এখন সবাইকে ইশা-ফজর পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করতে হবে। ফরযে আইন। এক নাম্বার। দুই নম্বর ফরযে আইন হচ্ছে, পাছ আনফাছ জারী করতে হবে। তিন নম্বর ফরযে আইন- যিকিরটা এক ঘন্টা করতে হবে, করে সুলত্বানুল আযকার জারী করতে হবে। এটা ফরয। অন্যথায় সে আমাদের কথা কিছুই বুঝবে না। এজন্য ঐযে সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফখানা আমি বলি বার বার-
وَمَثَلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا كَمَثَلِ الَّذِىْ يَنْعِقُ بِمَا لَ يَسْمَعُ اِلَّ دُعَاءً وَنِدَاءً صُمٌّ كْمٌ عُمْىٌ فَهُمْ لَ يعَْقِلُوْنَ ۢبُ
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলতেছেন যে, ‘কাফিরদের মেছাল হচ্ছে ঐ পশুর মতো- يَ نعْقِ তাকে ডাকলে لَ يَسْمَعُ সে আওয়াজ আর ডাকশব্দ ব্যতীত কিছু শুনে না। কারণ সে বোবা, বধির, অন্ধ, তার আক্বল নেই।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭১)
অবস্থা তো এরকম হয়ে গেছে। তাহলে কিভাবে হবে? যিকির-ফিকির নাস করলে তো এরকম হয়ে যাবে। এরকমই তো হয়ে যাচ্ছে। তাহলে বিষয়টা তো ফিকির করতে হবে। এখন যিকির-আযকার ফরযে আইন। আর অন্য কিছু যাই করো; আগে এটা করতে হবে, তারপর বাকী কথা। বুঝতে পারলে? যিকির-ফিকির ফরযে আইন। তোমরা যতো কিছু করো, কিছু উল্টাতে পারবে না। যিকির-আযকার করো। যিকির-আযকার করলে, নিসবত হবে, কুরবত হবে, তখন যদি কিছু করতে পারো; আর না হলে কিছু হবে না। এতো কিছু বলা হয়, এরপরেও তোমরা কোনো নড়া-চড়া করো না দেখি। তাহলে কিভাবে হবে? হ্যাঁ? অনুভূতি নেই।
بِمَا لَ يَسْمَعُ শুনে না اِلَّ دُعَاءً শুধু আমার আওয়াজগুলি শুনো তোমরা। তোমরা তো আমার কথাগুলি বুঝো না। তাহলে কিভাবে হবে?
مال موفتےقدر نيست
‘মুফতে মাল পাওয়া গেলে তার কোনো ক্বদর থাকে না।’ হযরত ইমামুস ছাদিস আলাইহিস সালাম উনিই যথেষ্ট। তাহলে আবার আমার প্রয়োজন কী? উনি কি কম নাকি? হ্যাঁ? উনি তো কম না! উনি তো সমস্ত ত্বরীকার মূল, জামে’ উনি। তাহলে আমাকে নিয়ে যাওয়ার কী প্রয়োজন? উনি গেলেই তো হয়? উনি বললেন, ‘গিয়ে ফয়েয দিতে হবে।’ আমি বললাম, ‘কিভাবে ফয়েয দিতে হবে?’ উনি বললেন, ‘না; কিছু করতে হবে না। গেলেই চলবে।’ তখন আমি গেলাম। হয়ে গেল। ঐখানে গেলে চলে, তাহলে এখানে আসলে হয় না? তাহলে হয় না কেনো? তোমরা তো অনুভূতিহীন। এখন ৪ জন একদম পুরা জিন্দা হয়ে গেলেন। উনারা ওখানে বসে গেলেন। বসে উনারা খুব শক্তিশালী হয়ে লেখালেখি শুরু করলেন। এটা যদি হয়, তাহলে অন্যটা হবে না কেনো? আসলে তোমরা তো অনুভূতিহীন। শুধু আমার আওয়াজ শুনো, আমার কথা তো বুঝনা। না বুঝলে যা হয়, তাই হচ্ছে। বিষয়টা তো ফিকিরের বিষয়। এগুলি তোমাদেরকে বলা হয়- তোমরা যদি কিছু বুঝো, শিখো, অনুভূতি হয়। অনুভূতি না হলে কিভাবে হবে? যেকোনো একটা ব্যতিক্রম কিছু হলে মানুষের উপর তার একটা তাছীর পড়ে। তাছীর তো সব জাগায় পড়বে না। রূহ থাকলে হবে। মুর্দার উপর কি তাছীর পড়বে? তাছীর তো পড়বে না। অবস্থা তো এরকম হয়েছে। জিন্দা হতে হবে।”
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৫ই ছফর শরীফ মুতাবিক ১৪ই রবি’ ১৩৯০ শামসী লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন,
مال موفتےقدر نيست
‘মুফতে পাইলে কোনো ক্বদর থাকে না।’
মুফতে পাওয়া যায় তো; আসলে অন্তরে যে চূ-চেরা আছে, ক্বীল-ক্বাল আছে, এই জন্য ফয়েয তো প্রবেশ করে না। তাহলে হেদায়েত হবে কোথা থেকে? কিভাবে হেদায়েত হবে? কিভাবে যিকির জারী হবে? যিকির তো জারী হবে না। অন্তরে তো চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল আছে। এটা তো ফিকির করতে হবে। এটা বুঝার বিষয়, ফিকিরের বিষয়। এই যে আমি বললাম, ‘হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার ঘটনা মুবারক।’ ঘটনা মুবারক তো লম্বা। সংক্ষিপ্তই বলি- উনি আমাকে বললেন, ‘একখানে যেতে হবে, চলুন।’ আমি বললাম, ‘কোথায় যেতে হবে?’ উনি বললেন, ‘ঐযে আপনি যে গিয়েছিলেন।’ আমি বললাম, ‘কোথায়?’ উনি বললেন, ‘ঐ চার ইমাম সাহেব উনাদের কাছে! ওখানে যেতে হবে।’ আমি বললাম, ‘আচ্ছা; কি করতে হবে?’ উনি বললেন, ‘গিয়ে ফয়েয দিতে হবে।’ তখন আমি বললাম- ‘কিভাবে ফয়েয দিতে হবে?’ উনি বললেন, ‘কিছু করতে হবে না, শুধু গেলেই চলবে।’ তখন আমি গেলাম। আমি হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে উনার সাথে ওখানে গেলাম। তখন দেখলাম- উনি একটা রংয়ের বালতি এবং সাথে কিছু ব্রাশ নিয়ে গেছেন। উনারা ৪ জন যেখানে আছেন, ঐ জায়গাটা একটু অপরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে। ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে, ‘আমরা এটাকে রং করে দেই।’ আমরা তিনজন মিলে রং করে দিলাম। ঐখানে যাওয়ার পর ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ আর দিতে হয়নি। বললে শুনতেস খারাপ শুনা যায়- উনারা সবাই মৃত ছিলেন। আমি যাওয়ার পরে সবাই জিন্দা হয়ে গেলেন। উঠে বসলেন। সবার সামনে ডেস্ক আছে ডেস্কে বসে উনারা লেখালেখি শুরু করলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনি বললেন, ‘এখন জিন্দা হয়ে গেছে। এখন উনাদের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। মানে ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ হয়ে গেছে।’ আমি বললাম, ‘আচ্ছা; ঠিক আছে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
এরপর ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনি আমাকে একখানে বসায়ে বললেন, ‘বসেন।’ আচ্ছা; বসলাম। তখন উনি বললেন যে, ‘আপনার সবাইকে এখানে নিয়ে আসেন।’ আমাদের সবাইকে ওখানে নিয়ে গেলাম। উনি বললেন, ‘এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ফয়েয মুবারক দিবেন।’ আমি বললাম, ‘আচ্ছা; আলহামদুলিল্লাহ।’ ফয়েয মুবারক দিলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনিও ফয়েয মুবারক দিলেন। বাছ; এই পর্যন্তই।
আমি সেটাই বললাম যে, আমি গেলাম। গেলেই হয়। উনি বললেন, ‘ফয়েয দিতে হবে না; গেলেই হবে।’ তাহলে আমি গেলে যদি এত বড় ইমামরা জিন্দা হয়ে যায়, তাহলে তোমরা মূর্খ লোকরা জিন্দা হওনা কেন? তোমাদের ভিতরে তো গালিজ আছে। হ্যাঁ? তাহলে তোমরা জিন্দা হওনা কেন? উনারা তো জিন্দা হয়ে কাজ শুরু করলেন। চার ইমাম তরতীব অনুযায়ী দেখলাম- ইমামে আ’যম আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপর ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারপর ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি। ৪ জন সিরিয়ালে। অনেক লম্বা বড় রুম। ৪ জনের চারটা আসন। ‘গেলেই হবে। ফয়েয দিতে হবে না।’ গেলেই ইমামরা জিন্দা হয়ে গেলেন, কাজ শুরু করলেন। আমি তো এখানে প্রত্যেক দিনই আসি। তাহলে তোমরা জিন্দা হওনা কেন? তাহলে তোমাদের অন্তরে গালিজ আছে। এই জন্য ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ প্রবেশ করে না। হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনিই তো যথেষ্ট ফয়েযের জন্য। উনি আবার আমাকে নিবেন কেন? উনি তো সমস্ত কিছুর জামে’, সমষ্টি। উনি বললেন যে, ‘গেলেই হবে।’ আমি বললাম, ‘কি করতে হবে গিয়ে?’ উনি বললেন, ‘ফয়েয দিতে হবে।’ আমি বললাম, ‘কিভাবে ফয়েয দিতে হবে?’ উনি বললেন, ‘দিতে হবে না, গেলেই চলবে।’ তখন আমি গেলাম। সব রং করা হয়ে গেলো। বাছ; উনারা জিন্দা হয়ে গেলেন। উনারা প্রত্যেকে সুনড়বতী চকিতে শোয়া ছিলেন। প্রমবারও গিয়ে দেখেছিলাম এরকমই। প্রমবার সবাইকে দেখেছি সিটে শোয়া আছেন; কিন্তু পরের বার গিয়ে বিস্তারিত দেখলাম। তাহলে পাছ আনফাছ জারী হবে না কেনো? ক্বলব জারী হবে না কেনো? হ্যাঁ? তাহলে নিশ্চয়ই অন্তরের মধ্যে গালিজ আছে, চূ-চেরা, ক্বিল-ক্বাল আছে। এরকম ঘটনা মুবারক তো অনেক আছে। কম বলা হয়েছে? অনেক বলা হয়েছে। এখন আক্বীদাহ্ তো শুদ্ধ না। এখন এইগুলো শুনেও আবার অনেকে মনে মনে চূ-চেরা করে। এটা আবার কেমন! (না‘ঊযুবিল্লাহ!) বুঝতে পারলে? এটা আবার কেমন? আপনি কি তাহলে চার ইমামের থেকে বড় হয়ে গেলেন নাকি! বড় হলে দোষ আছে কোনো? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
এখন আক্বীদাহ্ শুদ্ধ করতে হবে। আক্বীদায় ত্রুটি আছে। এখন যিকির-ফিকির যদি করে, বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও হুসনে যন যদি পোষণ করে, তখন বরকত পাবে; অন্যথায় বরকত পাবে না।” আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি আমাদেরকে সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ এবং সর্বোচ্চ হুসনে যন মুবারক পোষণ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

0 Comments:
Post a Comment