যারা চূ-চেরা করে , এরা ধ্বংস হয়ে যাবে ’- পর্ব-২৪


যারা চূ-চেরা করে , এরা ধ্বংস হয়ে যাবে ’- পর্ব-২৪

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২০শে জুমাদাল ঊলা শরীফ লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাতে) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “এই যে,

مَلْعُوْنِيْنَ اَيْنَمَا ثُقِفُوْآ اُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَقْتِيْلً

সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ মুবারক উনার বিষয়ে আমি আলাইহাস সালাম উনাকে বললাম, তিনি বললেন, ‘ঠিকই আছে; কোনো সমস্যা নেই। যারা চূ-চেরা করে, এরা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) কি উল্টালো এরা? উল্টিয়েছে কিছু? পারবে না। সাময়িক একটা ফেতনা সৃষ্টি করতে পারবে; কিন্তু কামিয়াবী হাছিল করতে পারবে না। সাধারণভাবে মহান আল্লাহ পাক উনি বলেছেন,

وَلَ تَهِنُوْا وَلَ تَحْزَنوُْا وَاَنْتُمُ الَْعْلَوْنَ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ

অর্থ: “চিন্তিত হয়ো না, পেরেশান হয়ো না, তোমরাই কামিয়াবী হাছিল করবে, যদি মু’মিন হতে পারো।”

মু’মিন হলে কামিয়াবী হবে। তাহলে এর উপরে গেলে কি হবে? অনেক ফিকিরের বিষয় আছে। যাহিরী বিষয়গুলি মানুষ প্রকাশ করেছে। বাতিনী যে বিষয়গুলি- অনেকে অনেকটা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খুছূছিয়াত মুবারক, বৈশিষ্ট্য মুবারকগুলো তো কেউ প্রকাশ করেননি। উনাদের খুছূছিয়াত মুবারক কী? মশহূর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানাতে তো বলা হয়-

اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نحَْنُ اَهْلُ بيَْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَةِ وَمُخْتَلِفِ الْمَلَئِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ

এটাতো মুখস্থ। অর্থ বুঝে কয়জনে? অর্থ তো বুঝে না। হাক্বীক্বতটা মানুষ বুঝেনি। জাহিরী অর্থ বুঝে, বাতিনী অর্থটা মানুষ বুঝে না। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনি এতো বড় জলীলুল ক্বদর ছাহাবী। আবার একজন মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিতা উনি। কতো ফযীলত। তারপরও উনি কী করলেন? সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে কী ব্যবহার করলেন? আবার এদিকে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আওলাদ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করার জন্য কতো ব্যাকুল! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ করার পর সবাইকে উদ্দেশ্যে করে বললেন, ‘আমাকে সম্মান করেন।’ উনি তো বুঝেছেন। বিষয়গুলো তো অনেক সূক্ষ্ম বিষয়। অনেক ফিকিরের বিষয়। মানুষ উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান-মান মুবারক উপলদ্ধি করতে পারেনি। যেটা আমরা বলি-

ايك زمانه صحبت با اولياء + بهتر ازصد سال طاعت بے ريا

‘কিছুক্ষণ সময় একজন কামিল ওলীআল্লাহ উনার ছোহবত ইখতিয়ার করা ১০০ বছর ক্ববূল ইবাদত থেকে উত্তম।’ সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা যদি এরকম হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিনড়বাস সালাম উনাদের ছোহবত মুবারক উনার ফযীলত মুবারক কতো? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) কতো কোটি বছর তাহলে? এটা ১০০ বছর, তাহলে ওটা কোটি বছরের চেয়ে বেশি হবে। সেটা করতে হলে তো যিকির করতে হবে বেশি বেশি। সেটাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিসবত মুবারকটা- উনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক) আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আযহার মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোল মুবারক) উনার মধ্যে তুলে দিয়েছেন, দিয়ে উনার নিসবত মুবারকটা দিয়েছেন। এটা হচ্ছে দায়িমী নিসবত মুবারক। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) তাহলে এটার ফযীলত কতো? মানুষ তো তাছাউফের কিতাব পড়ে না, বুঝবে কিভাবে? একজনওলীআল্লাহ উনার ছোহবত ইখতিয়ার করলে এতো ফযীলত! তাহলে উনাদের ছোহবত মুবারক উনার ফযীলত কতো?” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

0 Comments: