পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখের আমল ও রোজার বিষয়ে সহীহ হাদীছ সনদ সহকারে।

পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখের আমল ও রোজার বিষয়ে সহীহ হাদীছ সনদ সহকারে।

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنِي أَبُو نَصْرٍ رَشِيقُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرُّومِيُّ إِمْلَاءً مِنْ كِتَابِهِ بالطَّابِرانِ، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْهَيَّاجِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فِي رَجَبٍ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ مَنْ صَامَ ذَلِكَ الْيَوْمَ، وَقَامَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ كَانَ كَمَنْ صَامَ مِنَ الدَّهْرِ مِائَةَ سَنَةٍ، وَقَامَ مِائَةَ سَنَةٍ وَهُوَ ثَلَاثٌ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، وَفِيهِ بَعَثَ اللهُ مُحَمَّدًا "، " وَرُوِيَ ذَلِكَ بِإِسْنَادٍ آخَرَ أَضْعَفُ مِنْ هَذَا كَمَا "
যেমন- হজরত সায়্যিদুনা সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত- প্রিয় নবী, হুজুর পুরনুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, "রজবে এমন একটি দিন ও একটি রাত রয়েছে, যে এদিন রোজা রাখবে, আর রাত জেগে ইবাদত করবে, তবে সে যেন ১০০ বছরের রোজা রাখল এবং ১০০ বছরের রাত জেগে ইবাদত করলো, আর তা হচ্ছে রজবের ২৭ তারিখ।" (শোয়ায়বুল ঈমান- তাকছিছু শাহরী রজব বিল যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৫পৃ, হাদিস-৩৫৩০, ফাদ্বায়িলুল আওকাত ১/৯৬, জামিউল আহাদীস ১৪/৪৯৬ : হাদীস ১৪৮১২, কানযুল উম্মাল ১২/৩১২: হাদীস ৩৫১৬৯, জামেউ জাওয়ামে ১ খন্ড, নেদায়ে রাইয়ান ফি ফিক্বহিস সওমে ওয়া ফদলী রমাদ্বান ১/৪২১)
3531 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو صَالِحٍ خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ بِبُخَارَى، أَخْبَرَنَا مَكِّيُّ بْنُ خَلَفٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَا: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْحُسَيْنِ، أَخْبَرَنَا عِيسَى وَهُوَ الْغُنْجَارُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ أَبَانَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: " فِي رَجَبٍ لَيْلَةٌ يُكْتَبُ لِلْعَامِلِ فِيهَا حَسَنَاتُ مِائَةِ سَنَةٍ، وَذَلِكَ لِثَلَاثٍ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، فَمَنْ صَلَّى فِيهَا اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ يَتَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ، وَيُسَلِّمُ فِي آخِرِهِنَّ، ثُمَّ يَقُولُ: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَسْتَغْفِرُ اللهَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَدْعُو لِنَفْسِهِ مَا شَاءَ مِنْ أَمْرِ دُنْيَاهُ وَآخِرَتِهِ، وَيُصْبِحُ صَائِمًا فَإِنَّ اللهَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءَهُ كُلَّهُ إِلَّا أَنْ يَدْعُو فِي مَعْصِيَةٍ "
রজব মাসে একটি রাত আছে ওই রাতের আমলকারীর সমস্ত আমলের ছওয়াব ১০০ গুণ করে লিপিবদ্ধ করা হয় সে রাতটি হলো ২৭শে রজব। যে ব্যক্তি ওই রাতে ১২ রাকায়াত নামায আদায় করবে যাতে সূরা ফাতিহা সহ অন্য কোন আয়াত শরীফ পাঠ করবে প্রতি দু’রাকায়াতে তাশাহুদ (দুরুদ শরীফ ও দুয়ায়ে মাছুরাসহ) পাঠ শেষে সালাম ফিরাবে। এবং নিম্নক্তো দুআ ১০০ বার পাঠ করবে-
سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ
অতপর ১০০ বার ইস্তিগফার পাঠ করবে অতপর ১০০ বার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে। ওই ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যানকর যত দু‘আই করবে এবং সকালে রোযাদার অবস্থায় অবস্থান করবে তার সকল দু‘আই কবুল করা হবে, শুধুমাত্র গুণাহের কাজে জন্য দু‘আ ব্যতীত। (শোয়াবুল ঈমান- তাকছিছু শাহরী রজব বিল যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৬পৃ, হাদিস-৩৫৩১, ফাদ্বায়িলুল আওকাত ১/৯৭ : হাদীস ১২, তাবয়িনুল আযাব বিমা উরিদা ফি ফাদলি রজব ১/৩১, জামিউল আহাদীস ১৪/৪৯৬ : হাদীস ১৪৮১২, কানযুল উম্মাল ১২/৩১২: হাদীস ৩৫১৭০, জামেউ জাওয়ামে ১ খন্ড বাবু হারফূ ফা, আসারুল মারফুয়া ১/৬১ , তানযিয়াতু শরীয়াতিল মারফুয়া ২/৮৯)
সূতরাং সবাই এই রাতে ইবাদত করে দিনে রোজা রেখে সহীহ হাদীসের উপর আমল করুন।
 পবিত্র মি’রাজ শরীফ এর তারিখ নিয়ে ধর্মব্যবসায়ী বাতিল ফির্কা বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়। তারা বলে মি’রাজ শরীফ ২৭ রজবে হয়নি। মিরাজ শরীফের সঠিক তারিখও নাকি জানা যায় না। নাউযুবিল্লাহ।

 

পবিত্র মি’রাজ শরীফ এর তারিখ নিয়ে ধর্মব্যবসায়ী বাতিল ফির্কা বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়। তারা বলে মি’রাজ শরীফ ২৭ রজবে হয়নি। মিরাজ শরীফের সঠিক তারিখও নাকি জানা যায় না। নাউযুবিল্লাহ।

এর জবাবে আমরা বলবো, মি’রাজ শরীফ রজব মাসের ২৭ তারিখ সোমবার শরীফ রাতেই হয়েছে। এটাই মশহূর বা প্রসিদ্ধ, গ্রহণযোগ্য ও দলীলভিত্তিক মত। এর বিপরীত মতগুলো গ্রহণযোগ্য নয়।
মি’রাজ শরীফ সম্পর্কে মশহূর, গ্রহণযোগ্য ও দলীলভিত্তিক মত নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় তারা উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী। তাদের কোন কথাই শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।
যেমন এ প্রসঙ্গে তাফসীরে রুহুল বয়ান ৫ম জিলদ ১০৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
وهى ليلة سبع وعشرين من رجب ليلة الاثنين وعليه عمل الناس قالوا انه عليه السلام ولد يوم الاثنين بعث يوم الاثنين واسرى به ليلة الاثنين وخرج من مكة يوم الاثنين ودخل الـمدينة يوم الاثنين ومات يوم الاثنين
অর্থ: “রাতটি ছিলো রজব মাসের ২৭ তারিখ, সোমবার শরীফ।” এর উপরই বিশ্বের সকল ইমাম, মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের আমল। উনারা বলেন, “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছেন ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)-এ, আনুষ্ঠানিকভাবে উনার নুবুওওয়াত প্রকাশ পেয়েছে ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)-এ, ইসরা ও মি’রাজ শরীফ হয়েছে ইছনাইনিল আযীম (সোমবার ফ)-এ, হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা শরীফ থেকে বের হয়েছেন ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)-এ, মদীনা শরীফ-এ প্রবেশ করেছেন ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)-এ এবং তিনি বিছাল শরীফও গ্রহণ করেছেন ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)-এ।”
পাক ভারত উপমহাদেশে হাদীছ শরীফ-এর প্রচার-প্রসারকারী হযরত শায়েখ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত ‘মা ছাবাতা বিস সুন্নাহ’ কিতাবের ৭৩ পৃষ্ঠায় লিখেন-
اعلم انه قد اشتهر فيما بين الناس بديار العرب ان معراجه صلى الله عليه وسلم كان لسبع وعشرين من رجب
অর্থ: “জেনে রাখুন! নিশ্চয়ই আরব জাহানের দেশগুলোর লোকদের মধ্যে মাশহূর বা প্রসিদ্ধ ছিলো যে, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হয়েছিলো রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতেই।” সুবহানাল্লাহ!
অনুরূপভাবে হানাফী মাযহাবের সুপ্রসিদ্ধ ফতওয়ার কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার আলা দুররিল মুখতার’ কিতাবুছ ছলাত অধ্যায়ে উল্লেখ রয়েছে-
وجزم الحافظ عبد الغنى الـمقدسى فى سيرته بانه ليلة السابع والعشرين من رجب وعليه عمل اهل الامصار.
অর্থ: হযরত ইমাম হাফিয আব্দুল গণী মাক্বদিসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সীরাতগ্রন্থে চূড়ান্ত মতামত প্রকাশ করেন যে, মি’রাজ শরীফ হয়েছে রজব মাসের ২৭ তারিখ এবং এর উপরই সমগ্র দেশবাসী উনাদের আমল।”
এছাড়াও আরো নির্ভরযোগ্য অনেক কিতাবেই উল্লেখ আছে যে, মি’রাজ শরীফ রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে হয়েছে।
কাজেই, যারা টিভিসহ নানা চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকায় ও বই-পুস্তকের মাধ্যমে মি’রাজ শরীফ তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় তারা উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী। আর ২৭শে রজব তারিখ মি’রাজ শরীফ এটা সঠিক নয় বলে তারা যে বক্তব্য প্রচার করছে তাদের সে প্রচারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও দলীলবিহীন।
 ২৪ ঘন্টাই একরকম একটা অবস্থা চলছে । সবটা তো আর প্রকাশ করা সম্ভব না।’পর্ব-২২

 

 ২৪ ঘন্টাই একরকম একটা অবস্থা চলছে । সবটা তো আর প্রকাশ করা সম্ভব না।’পর্ব-২২

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৩ই জুমাদাল উখরা শরীফ লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, উনাদের তরফ থেকে নিসবত থাকলে, কুরবত থাকলে, উনারা যদি দেন, বুঝান তাহলেই সম্ভব; আর না হলে কিভাবে সম্ভব? এটা তো বুঝা সম্ভব না। এই যে,

اُمَّهٰتُهُمْ هۤ اَلنَّبِىُّ اَوْلٰى بِلْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُ

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনি প্রম বলেছেন যে, মানুষ এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ করে থাকে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মুমিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়ে অধিক প্রিয় এবং হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিনড়বাস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত মুমিন উনাদের মহাসম্মানিত মাতা আলাইহিনড়বাস সালাম। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, এই অর্থটা সঠিক না। এই অর্থটা ভুল। সঠিক অর্থ হবে,

اُمَّهٰتُهُمْ هۤاَلنَّبِىُّ اَوْلٰى بِلْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُ

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মুমিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়েও অধিক প্রিয় এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিনড়বাস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা আলাইহিন্নাস সালাম। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, এভাবে অর্থ করতে হবে। এখানে যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, তখন সাথে সাথে আমি দেখলাম- প্রমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সমর্থন করে বললেনএই অর্থটাই সঠিক। এই অর্থই করতে হবে। উনার পরে সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিনড়বাস সালাম উনারা সমর্থন করে বললেন, এই অর্থটাই সঠিক। এই অর্থই করতে হবে। উনাদের পরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সকলে এটা সম্মতি মুবারক প্রকাশ করলেন। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হ্যাঁ; এটাই সঠিক। এটাই অর্থ করতে হবে।’ এবং দেখলাম- যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিও এই কথাই বললেন, হ্যাঁ; এটাই সঠিক। এটাই অর্থ করতে হবে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

তাহলে এখন এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ মানুষ জানবে কিভাবে? উনারা না জানালে? জানার তো কোনো সুযোগ নেই। এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ তো সমস্ত হাদীছ, তাফসীর, ফিক্বাহ্সহ সমস্ত কিতাবে এই ভুল অর্থটাই লেখা আছে। এই বিষয়গুলি তো সব এভাবেই উনাদের তরফ থেকে জানতে হবে। কোনোটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সরাসরি। কোনোটা সরাসরি উনি বলেন। আর নাহলে অন্যগুলি উনারা বলেন। অনেক সময় অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি জবাব দেন না, চুপ থাকেন। দেখা যায় উনারা জবাব দেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ্ হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আল ঊলা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা জবাব দেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এখন ২৪ ঘন্টাই একরকম একটা অবস্থা চলছে। সবটা তো আর প্রকাশ করা সম্ভব না। এখন যতো করা যায়, ততো উনারা খুশি হন, সন্তুষ্ট হন। যমীনে তো আর এসব বুঝা যাবে না, পরে বুঝা যাবে। দায়িমী হুযূরী যেটাএটা তো অনেক সূক্ষ্ম বিষয়। নামাযের হুযূরী তো আছেই; দায়িমী হুযূরী ২৪ ঘন্টা। আর আসলে ইলিম-কালাম মুবারক হোক, যেটাই হোক- হাদীছ হোকতাফসীর হোক, ফিক্বাহ্ হোক, ফতোয়া হোক, এই বিষয়গুলো আমভাবে এক প্রকার আছে; কিন্তু ঐ সমস্ত সূক্ষ্ম বিষয়গুলি তো এভাবে পাওয়া যাবে না। এটা উনাদের ছাড়া কিভাবে হবে? উনারাই এই বিষয়গুলি ফয়ছালা করেন। এখন এতোদিন ফয়ছালা হয়নি কেনো? এই যেমন- ইস্তাওয়ার অর্থ, কুদরতের অর্থ। এগুলি তো স্বাভাবিক না। মানুষ তো বুঝতে পারেনি। সব তো মূর্খ লোক। ইমাম-মুজতাহিদগণের জীবনী খুঁজে দেখো ইস্তাওয়া আর কুদরতের অর্থ কিভাবে করেছেন। উনারা তো বলেছেন যে, ইস্তাওয়ার অর্থ যারা করেতারা বিদায়াতী, তারা গোমরাহ্। এটার অর্থ মানুষ জানে না। ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন যে, আমরা জানি না মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে ইস্তাওয়া হয়েছেন। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি তো বলেছেনউনারা তো ইস্তাওয়া হননি। তাহলে কেমন হলো এখন? এগুলি তো আলাদা বিষয়। উনারা যদি ইলিম মুবারক না দান করেন, তাহলে কোনো দিন ইলিম পাওয়া সম্ভব না। ইলিম মুবারক তো আসেন মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের তরফ থেকে। উনারাই সব কিছুর মালিক। মানুষ এটা জানে না। উনারা যতোটুকু দেন, ততোটুকু। এর বাইরে কিভাবে ইলিম হবে? এর বাইরে তো ইলিম নেই। ইস্তাওয়া আর কুদরতের অর্থ- এটা মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না। ১৫শ বছরে যাঁরা বড় বড় অতীত হয়ে গেছেন উনারা তো পারেননি। এখন নতুন বড় বড় আর আসবে কোথা থেকে? এখন তো বড় নেই। যাঁরা বড় সব অতীত হয়ে গেছেন। ইমাম-মুজতাহিদ বলো অথবা অন্য যা কিছু বলো, কেউই তো ব্যাখ্যা করেনি। এখন উনারা আমাকে জানালেন, আমি জানালাম। উনারা না জানালে, জানবে কোথা থেকে? উনারা আমাকে জানিয়েছেন। উনারা আমাকে দেখিয়ে দিয়েছেন, বুঝিয়ে দিয়েছেন। এটা সোজা জিনিস না। এটা সরাসরি মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা দুজন আমাকে এটা বুঝিয়েছেন। এই দুইটা বিষয়। এটা অন্য কেউ না। তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যে প্রম সৃষ্টি- এখন এটা বললে মানুষের পক্ষে ঈমান রক্ষা করা কঠিন হবে। এটা মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি আমাকে দেখিয়েছেন। এরকম অনেক আছে। এগুলি সব তো এখন বলা মুশকিল। এগুলি আরো অনেক লম্বা কথা রয়েছে। এতো লম্বা কথা বলা যাবে না। এতোটুকুই যথেষ্ট। ঈমান রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে মানুষের। সেটাই আমরা বললাম যে, কেউ যদি না বুঝে, আমাদের করার কি আছেএখন আমরা যেটা বুঝলাম, সেটা বললাম। তাহলে দেখো, তাহক্বীক্ব করোএটা শুদ্ধ না অশুদ্ধ। তাহলে তোমরা ব্যাখ্যা করো। ব্যাখ্যা তো করতে পারবে না।

লিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত জিন-ইনসানসহ আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বীভাবে বুঝার এবং মানার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ইলিম মুবারক উনার মালিক-পর্ব-২১

 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ইলিম মুবারক উনার মালিক-পর্ব-২১

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামরহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৩ই জুমাদাল উখরা শরীফ মুতাবিক ১০ই ছামিন ১৩৯০ শামসী লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, ইলিমের মালিক তো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। উনারা ইলিম না দিলে কিভাবে হবেউনাদের তরফ থেকে তো ইলিম মুবারক আসে। যেমন- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আল ঊলা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনি সর্বপ্রম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন। উনার পর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ৩ জন সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন। এটা একদিন আমাকে দেখানো হলো। দেখানো হলো- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফ। ওখানে একটা রুম, অনেক বড়। এর মধ্যে একটা চকি মুবারক আছে, সুন্নতি চকি মুবারক। একটা দরজা। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনি তো আছেন ওখানে। প্রথম প্রবেশ করলেন হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনি। দ্বিতীয় আসলেন হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ্ আলাইহাস সালাম উনি। এরপরে তৃতীয় আসলেন আন নূরুর রবিআহ্ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনি। উনারা সবাই ছোট ছিলেন। একটু বড় আকারেই দেখেছি। উনারা এসেছেনবসেছেন। তারপর উনারা সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করলেন। এর কিছুক্ষণ পর আসলেন হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনি। উনি যখন আসলেন, তখন উনারা ৩ জন সবাই দাঁড়িয়ে উনাকে সম্মান করলেন। যেহেতু উনি বড় উনাদের। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চকি মুবারক উনার সামনে রুমটা অনেক বড়। সামনে বসার অনেক জায়গা আছে। একটা কিছু বিছানো আছে। কি বিছানো আছে এটা আমি খেয়াল করিনি। ওখানে উনি বসলেন। উনাদের চারজনকে সামনে বসালেন। উনি উনাদেরকে বসিয়ে ঐ বিষয়টা তালীম মুবারক দিচ্ছেন, বিষয়টা বুঝাচ্ছেন। উনারা তালীম মুবারক নিচ্ছেন, বুঝতেছেন। আসলে উনি তো ইলিম মুবারক দান করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইলিম মুবারক উনারা দান করেন। আবার এদিক দিয়ে হচ্ছেন- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ্ হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনি। উনি তো সরাসরি আমাকে বলেছেনই যে, আমার কাছে আসতে হবে না? আমি বলেছি, হ্যাঁ; অবশ্যই আসতে হবে। তিনি বললেন, আমি তো ইলিম মুবারক উনার মালিক। কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো বলেছেন, আমার কাছ থেকে ইলিম মুবারক শিখতে। আমি বললাম, হ্যাঁআপনার কাছ থেকে ইলিম মুবারক শিখতে হবে। উনারাই এগুলি আমাকে শিখান। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনিও আছেন। তবে এখানে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্য থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আল ঊলা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ্ হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনি অর্থাৎ উনারা দুজন মূল। উনাদের তরফ থেকে ইলিম মুবারক আসেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ্ হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনি তো বলেছেন যে, কোন্ সম্মানিত আয়াত শরীফ কখন, কিভাবে, কি প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছেন, সেটা আমার সব মুখস্থ আছে। এখন উনারা যতোটুকু দেন আস্তে আস্তে। তাহরীম, ঈলা, তাখীর সম্পর্কে তো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ্ হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনি আমাকে জানিয়েছেন। এছাড়া জানার তো কোনো সুযোগ নেই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) একদম পুরো ঘটনা আমাকে দেখিয়েছেন। এটাও দেখালেন। আর ইলিম মুবারক তো উনারাই দান করেন। এখন ইলিম কোথায় পাওয়া যাবে? বাজারে তো নেই। বই-পুস্তকে তো নেই। আর আমি তো বলেছি অনেক বার, আসলে উনারা কিন্তু ২৪ ঘন্টাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করেন। এটা মানুষ জানে না। এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক-এ উনারা মশগূল আছেন ২৪ ঘন্টা। কাফিরগুলি ভুল ব্যাখ্যা করে। উনাদের তো অনেক খুছূছিয়াতবৈশিষ্ট, ফযীলত মুবারক। সব তো আর ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা যায় না। এখন যতোটুকু উনারা আস্তে আস্তে প্রকাশ করেন, ততটুকুই। এছাড়া আর কিভাবে হবে? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) শুনো, মনে রাখো, মানুষকে বলো। উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানাছিফত মুবারক করেন সব সময়। উনি যে তালীম দিলেন, উনি উনাদেরকে এগুলিই তালীম দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে খুছূছিয়াত মুবারক, এই খুছূছিয়াত মুবারক তো মানুষ জানে না। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

 উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কবুরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে বেমেছাল নিসবত মুবারক-পর্ব-২০

 
উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কবুরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে বেমেছাল নিসবত মুবারক-পর্ব-২০

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১লা সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আযম শরীফ লাইলাতুস সাবত্ শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, এই কথাগুলি বলি তোমাদের ঈমানী কুওয়াতটা বাড়ানোর জন্য। বুঝতে পাড়লে? যেমন- অনেক সময় আমি নামায পড়তে গেলে দেখা যায় দাঁড়িয়ে না পড়ে বসে পড়তে হয়। অনেক সময় ইশারা দিয়ে পড়ি। নামায বসে পরলে একরকম, ইশারায় পড়তে গেলে অনেক সময় রুকু সিজদাগুলো ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একদিন হযরত উম্মুল মুমিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনি আমাকে বললেনআরে আমাকে বললেই তো আমি ঠিক করে দেই। এটার ফয়ছালা মানুষ কী করবে? বললাম যে, ইশারায় নামায পড়তে গেলে আমার নামায তো ভুল হয়ে যেতে চায়। উনি বললেন যে, আমাকে বললেই তো আমি ঠিক করে দেই। উনি বললেন, উনাকে স্মরণ করলে, উনি পড়ায় দিবেন। এটা মানুষ কি ব্যাখ্যা করবে? অনেকগুলো আছে ব্যাখ্যা করার তো বিষয় না। নিসবতের ব্যাপার, কুরবতের ব্যাপার, মুহব্বতের ব্যাপার। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) দুনিয়াবী দৃষ্টিতে একজন লোকের বাদশার সাথে সম্পর্ক থাকলে সে সব সুবিধা পায়। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এবং হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে সম্পর্ক থাকলে, তাহলে এটার ফয়ছালাটা কী? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

 কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদ দো‘আ করলে উনারা খুব খুশি মুবারক প্রকাশ করেন- পর্ব-১৯

কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদ দোআ করলে উনারা খুব খুশি মুবারক প্রকাশ করেন- পর্ব-১৯

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২রা রবীউছ ছানী শরীফ লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেনআমরা মুনাজাত করি সবসময়। অনেক কিছু বলি। কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে যখন আমি বদদোআ করি, প্রতিদিন আমি দেখতে পাই যে, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি তো আছেনই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও খুব খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনারা বলেন যে, এদের বিরুদ্ধে ধ্বংসের জন্য আরো দোআ করা হোক। বেয়াদবগুলি উনাদের শান-মান মুবারক উনার বিরুদ্ধে বলে যাচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে আরো বেশি বদদোআ করা হোক। এটা প্রতিদিন আমি দেখি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনারা যেমন খুশি প্রকাশ করেন এবং উনারা আমাকে বলতে থাকেন, যেন আরো বেশী করে এদের বিরুদ্ধে বদদোআ করি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) বুঝতে পারলে? কাজেই উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক যতো বেশি করা যাবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ততো বেশী খুশি হবেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

 সম্মানিত আরশে আযীমে গিয়ে কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে-পর্ব-১৮

সম্মানিত আরশে আযীমে গিয়ে কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে-পর্ব-১৮

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৭শে মুহররমুল হারাম শরীফ মুতাবিক ২৬শে ছালিছ ১৩৯০ শামসী লাইলাতুল জুমু‘আহ্  শরীফ (জুমু‘আহ্ শরীফ উনার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন- “আমি ফয়েযের তাছীরের বিষয়ে অনেকগুলি ঘটনা মুবারক বলেছিলাম। যেমন- একদিনের একটা ঘটনা মুবারক- সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে আমার সাক্ষাৎ মুবারক হলো। ঘটনা মুবারক লম্বা। সংক্ষিপ্ত হলো- উনি তো কথা সহজে বলেন না। চুপ-চাপ থাকেন। গম্ভীর। উনি হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রক্ত মাখা জামা মুবারক নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে বিচার চাবেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেও এটা ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-

عَنْ اِمَامِ الَْوَّلِ سَيِّدِنَ حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَمُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُحْشَرُ ابْنَتِىْ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَمُ وَمَعَهَا ثِيَابٌ مَّصْبُوْغَةٌ بِدَمٍ فَتَتَعَلَّقُ بِقَائِمَةٍ مِّنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ فَتَقُوْلُ يَ عَدْلُ احْكُمْ بَيْنِىْ وَبَيْنَ قَاتِلِ وَلَدِىْ فَيُحْكَمُ لِبْنَتِىْ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হাশরের ময়দানে নূরুন নাজাত মুবারক রঞ্জিত (রক্ত রঞ্জিত) সম্মানিত পোশাক মুবারক নিয়ে উপস্থিত হবেন। অতঃপর তিনি সম্মানিত আরশ উনার স্তম্ভসমূহের একখানা সম্মানিত স্তম্ভ মুবারক উনার নিকটবর্তী হবেন। তারপর তিনি বলবেন, হে ন্যায়বিচারক (মহান আল্লাহ পাক)! আপনি আমার এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শহীদকারীর মাঝে ফায়ছালা মুবারক করুন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে এই বিষয়ে সর্বোত্তম ফায়ছালা মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ ৫/৪৭৬, শরফুল মুস্তফা শরীফ ৫/৩১৪)

আরশে আযীমের খুঁটির কাছে যেয়ে উনি বিচার চাবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পক্ষ হয়ে বিচার করবেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা শহীদ করেছে তাদের কঠিন শাস্তি হবে। আমি আন নূরুর রবি‘আহ্ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে বললাম যে, ‘হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের যারা শত্রু তাদেরকে শাস্তি দিলে আপনি খুশি হবেন?’ তখন তিনি তাবাস্সুমী শান মুবারক প্রকাশ করলেন, অত্যন্ত খুশি হয়ে গেলেন। আমি বললাম, ‘আমি একটা কাজ করতে চাই। আপনি হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার জন্য বিচার চাবেন, তাহলে আমিও একটা বিচার চাবো।’ কি বিচার? আমি বললাম, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক-এ যে চূ-চেরা করে, ‘আনলাকি থার্টিন’ বলে বা এই ধরনের অনেক কিছু। এটার আমি বিচার চাবো।’ উনি বললেন, ‘ওখানে তো সবাই যেতে পারবে না। কঠিন একটা জায়গা। আরশে আযীমের দায়িত্বে যে সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আছেন, উনাদেরকে প্রলেপ দিয়ে রাখা হয়েছে। ওখানে সবসময় যে নূর মুবরক ঝরতেছে, এটা তো সবাই বরদাশত করতে পারবে না। আমরা ছাড়া কেউ বরদাশত করতে পারবে না। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ যাঁরা উনারা ছাড়া কেউ বরদাশত করতে পারবে না।’ আমি বললাম, ‘তাহলে কী করা যেতে পারে?’ উনি বললেন, ‘আমি একটা ফয়েয মুবারক দিবো, যদি এই ফয়েয মুবারক আপনি বরদাশত করতে পারেন, তাহলে আপনি যেতে পারবেন।’ বলা মাত্রই আমি আর কিছু বলিনি- উনি এমন একটা ফয়েয দিলেন আমাকে, আমি অনেক দূরে গিয়ে পড়ে গেলাম। তারপর প্রায় ৭/৮ ঘন্টা পর সুস্থ হলাম। উনি বললেন, ‘এটা বরদাশ করতে পারলে, পারা যাবে।’ আস্তে আস্তে আমার বরদাশ হলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) তখন আমি বললাম, ‘তাহলে এখন পারা যাবে?’ উনি বললেন, ‘হ্যাঁ; এখন পারা যাবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনি বললেন, ‘আমি একটা ফয়েয দিবো।’ আমার তো আর কোনো প্রস্তুতি নেই। ফয়েয দিবো বলা মাত্র চোখের পলকে উনার থেকে একটা নূর মুবারক বের হয়ে গেলো। নূর মুবারক বের হয়ে এসে আমার ভিতর প্রবেশ করলো। প্রবেশ করার সাথে সাথে মনে হয়, আমি অনেক দূর গিয়ে পড়লাম। তারপর বেহুঁশের মতো হাল থাকলো প্রায় ৭/৮ ঘন্টা। এরপর স্বাভাবিক হলাম। তখন আমি বললাম, ‘এখন কি তাহলে আমি যেতে পারবো?’ উনি বললেন, ‘হ্যাঁ; এখন পারা যাবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এই যে ফয়েযের তাছীরটা। কঠিন বিষয়। এটা নূরের মতো প্রবেশ করে। এটা বরদাশত করতে পারলে আরশে আযীমের সামনে যেয়ে বিচার চাওয়া যাবে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) সেটাই দেখলাম যে, আমি ফিকির করার আগেই উনি বললেন, ‘আমি একটা ফয়েয যদি দেই, এটা বরদাশত করতে পারলে আরশে আযীমে যেয়ে বিচার চাওয়া যাবে।’ বলা মাত্রই- এটা আমি চিন্তা-ফিকির করিনি যে, উনি আমাকে এখনই ফয়েয দিয়ে দিবেন। বলার সাথে সাথে চোখের পলকে এমন একটা নূরের ঝলক এসে আমার ভিতরে প্রবেশ করলো, যার ফলে আমি অনেক দূরে গিয়ে পড়লাম। প্রায় ৭/৮ ঘন্টা পর স্বাভাবিক হলাম। স্বাভাবিক হওয়ার পর আমি জানতে চাইলাম যে, ‘তাহলে এখন কি পারা যাবে?’ উনি বললেন, ‘হ্যাঁ; এখন পারা যাবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) ফয়েযটা কি জিনিস? এটা মানুষ বুঝে না। একজন ওলীআল্লাহ উনার ফয়েযে মানুষ মারা যায়। তাহলে উনাদের ফয়েযে মানুষ জিন্দা থাকে কিভাবে? এটা কঠিন বিষয়। উনি বললেন যে, ‘আমরা- উনারা মানে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে খাছ যাঁরা- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা, আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এই ২৩ জনের কথা বলেছেন। বলেছেন, আমরা তো খাছ। আমরা ছাড়া এখানে কেউ তো আসতে পারবে না। আরশের যারা অধিবাসী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা যাঁরা আছেন উনারা আবৃত অবস্থায় আছেন। কারণ যদি সরাসরি এই নূর মুবারক লাগে উনাদের শরীর মুবারকে, তাহলে উনারা বরদাশত করতে পারবেন না। মারা যাবেন সবাই। সবাই মারা যাবেন। উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি আলাদাভাবে হেফাযত করেন। সবসময় আবৃত অবস্থায় থাকেন। সেখানে এতো নূর মুবারক বর্ষণ করা হয়, সেই নূর মুবারক বরদাস্ত করা কারো পক্ষে সম্ভব না।’ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি কিন্তু সিদরাতুল মুনতাহা পার হতে পারেননি। কারণ তিনি যদি সিদরাতুল মুনতাহা থেকে এক চুল পরিমাণ অগ্রসর হন, তাহলে তিনি চোখের পলকে জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন। হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম তিনি হলেন সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল। উনি যদি বরদাশত করতে না পারেন, তাহলে অন্য হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা কী করে বরদাশত করবেন? এজন্য আরশের যাঁরা অধিবাসী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রলেপ দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে ঐ নূর মুবারক সরাসরি উনাদের শরীর মুবারকে না লাগে। সরাসরি লাগলে উনারা বরদাশত করতে পারবেন না, মারা যাবেন। তাহলে ফায়েয-তাওয়াজ্জুহ্টা কি জিনিস? বুঝতে পারলে এবার? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এটা বরদাশত করাও তো কঠিন। ওলীআল্লাহ উনাদের ফায়েয বরদাশত করতে পারে না মানুষ, মারা যায়! তাহলে উনাদের ফায়েয বরদাশত করবে কিভাবে? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) উনাদের ফায়েয অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাছীর মুবারক।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৬ই ছফর শরীফ মুতাবিক ৫ই রবি’ ১৩৯০ শামসী লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন- “আমি একটা ঘটনা মুবারক বলেছিলাম। একদিন আমি সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জানড়বাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে আরশে আযীমের কাছে দেখলাম। উনি সেখানে বসা আছেন। এটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেও আছে যে,

عَنْ اِمَامِ الَْوَّلِ سَيِّدِنَ حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَمُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُحْشَرُ ابْنَتِىْ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَمُ وَمَعَهَا ثِيَابٌ مَّصْبُوْغَةٌ بِدَمٍ فَتَتَعَلَّقُ بِقَائِمَةٍ مِّنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ فَتَقُوْلُ يَ عَدْلُ احْكُمْ بَيْنِىْ وَبَيْنَ قَاتِلِ وَلَدِىْ فَيُحْكَمُ لِبْنَتِىْ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হাশরের ময়দানে নূরুন নাজাত মুবারক রঞ্জিত (রক্ত রঞ্জিত) সম্মানিত পোশাক মুবারক নিয়ে উপস্থিত হবেন। অতঃপর তিনি সম্মানিত আরশ উনার স্তম্ভসমূহের একখানা সম্মানিত স্তম্ভ মুবারক উনার নিকটবর্তী হবেন। তারপর তিনি বলবেন, হে ন্যায়বিচারক (মহান আল্লাহ পাক)! আপনি আমার এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম উনার শহীদকারীর মাঝে ফায়ছালা মুবারক করুন।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে এই বিষয়ে সর্বোত্তম ফায়ছালা মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ ৫/৪৭৬, শরফুল মুস্তফা শরীফ ৫/৩১৪)

সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জানড়বাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনি হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার নূরুন নাজাত মুবারক রঞ্জিত (রক্ত রঞ্জিত) সম্মানিত পোশাক মুবারক নিয়ে উনার ব্যাপারে মহান আল্লাহপাক উনার কাছে বিচার চাবেন। আরশে আযীমে গিয়ে বিচার চাবেন। মহান

আল্লাহ পাক তিনি বিচার করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পক্ষে রায় দিবেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা শহীদ করেছে তাদের শাস্তি তো হচ্ছে; আরো কঠিন শাস্তি হবে। উনারা তো সব সময় খুব গম্ভীর থাকেন। উনারা সাধারণত কারো সাথে কথা বলেন না, কারো কোনো পাত্তা দেন না।আমি যখন সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জানড়বাহ হযরত যাহরা আলাইহাস  সালাম উনাকে দেখলাম, তখন দেখলাম যে, উনি খুব চিন্তিত। আমি বললাম যে, ‘আচ্ছা; যদি হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের যারা শত্রু এদেরকে শাস্তি দেই তাহলে আপনি খুশি হবেন?’ তিনি অত্যন্ত খুশি হলেন। মুচকি হাসলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমি তখন বললাম, ‘আপনি তো হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার পক্ষে বিচার চাবেন, তাহলে আমি নূরে মুজাসসাম হবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষে বিচার চাবো। উনার শান-মান মুবারক সম্পর্কে যে তারা চূ-চেরা করতেছে, তারপর তারা এই যে ‘আনলাকি থার্টিন’ বা এই ধরনের অনেক কিছু বলে। এটার আমি বিচার চাবো।’ তখন উনি আমাকে বললেন, ‘আমরা ছাড়া আরশে আযীমে আসার তো কারো কোনো ক্ষমতা নেই। আমরা তো নূরের তৈরী। আমরা নূর। আমরাই শুধু বরদাশত করতে পারি। অন্য কেউ এখানে আসতে পারবে না।’ আমি তখন বলেছিলাম যে, ‘আরশে আযীমের দায়িত্বে যে সকল ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আছেন?’ উনি বললেন, ‘উনাদেরকে প্রলেপ দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে এই নূরের তাজাল্লার তাছিরটা না পড়ে। পড়লে উনারাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। এখানে যাঁরা আছেন সবাইকে প্রলেপ দেওয়া। আমরা হচ্ছি সরাসরি নূর মুবারক, আমরা আসতে পারবো। আমরা ছাড়া অন্য কেউ এখানে আসতে  পারবে না।’ তখন আমি বললাম, ‘তাহলে আমি কি আসতে পারবো?’ উনি বললেন, ‘আসতে পারবেন; তবে একটা শর্ত আছে।’ কি শর্ত? উনি বললেন, ‘আমি ফয়েয দিবো, আমার ফয়েযটা বরদাশত করতে পারলে, আসতে পারবেন।’ উনি এটা বললেন। আমি আর এতো চিন্তা-ফিকির করিনি। বলা মাত্র উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইলিম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিনা মুবারক) থেকে চোখের পলকে খুব দ্রুতগতিতে একটা নূর বিজলীর মত বের হয়ে আসলো। এসে আমার ভিতর প্রবেশ করল। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এটার এতো শক্তি যে, এটার ধাক্কার চোটে আমি প্রায় ৭/৮ হাত দূরে গিয়ে পড়লাম। ওখানে প্রায় ৭/৮ ঘন্টার মত আমি বেহুঁশের মত ছিলাম অনেকটা। এরপর হুঁশ মুবারক হলো। হুঁশ মুবারক হওয়ার পরে আমি আবার উনার কাছে আসলাম। এসে উনাকে বললাম যে, ‘এখন কি তাহলে যাওয়া যাবে?’ উনি বলেছিলেন যে, ‘আমার ফয়েযটা যদি বরদাশত করা যায়, যে করতে পারবে, সে আসতে পারবে।’ আমি বললাম, ‘আমি তো বরদাশত করলাম। তাহলে আমি কি এখন আসতে পারবো?’ উনি বললেন যে, ‘হ্যাঁ; এখন আসা যাবে এবং বিচার চাওয়া যাবে।’(সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এই যে উনার ফয়েযটা- আমি দেখলাম, উনি বলার সাথে সাথে ফয়েয দিয়ে দিলেন। চোখের পলকে বিজলীর মত নূর মুবারক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইলিম মুবারক থেকে এসে আমার ভিতরে ঢুকলো। এটার এতো শক্তি! ধাক্কার চোটে আমি অনেক দূরে গিয়ে পড়লাম। পরে বেহুঁশের মত থাকলাম কিছুক্ষণ। যখন হুঁশ মুবারক আসলো, তখন আমি আবার আসলাম। এসে বললাম যে, ‘এরকম- ফয়েয-তাওয়াজ্জুর কারণে মারা যাওয়ার কথা ছিলো। তাহলে আমি তো এখন জিন্দা আছি। তাহলে আমি কি বিচার চাইতে পারবো?’ উনি বললেন যে, ‘হ্যাঁ; এখন বিচার চাওয়া যাবে।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) সেটাই বললাম, উনাদের ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ্ তো ব্যতিক্রম। একজন ওলীআল্লাহর ফয়েয বরদাশত করতে পারে না মানুষ, মারা যায়। তাহলে উনাদের ফয়েয বরদাশত করবে কিভাবে? তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফয়েয বরদাশত করবে ?

কিভাবে? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)




 আজ ১৫ই রজবুল হারাম শরীফ !   ক্বিবলা পরিবর্তন দিবস।


 আজ ১৫ই রজবুল হারাম শরীফ

ক্বিবলা পরিবর্তন দিবস।
সুবহানাল্লাহ!

إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِّلْعَالَمِينَ

অর্থ : “নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছেন এ ঘর, যা পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত এবং সারা জাহানের মানুষের জন্য হিদায়েত ও বরকতময়।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৯৬)
قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ۗ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ
অর্থ : “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে ক্বিবলা উনার দিকেই ঘুরিয়ে দিব যাঁকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি পবিত্র মসজিদুল-হারাম শরীফ উনার দিকে মুখ করুন এবং আপনারা যেখানেই থাকুন, সেদিকে মুখ করুন। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক মহান রব তায়ালা উনার পক্ষ থেকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিফহাল, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৪)
سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا ۚ قُل لِّلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ يَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
অর্থ : “এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমান উনাদের ফিরিয়ে দিল উনাদের ওই ক্বিবলা থেকে, যাঁর উপর উনারা ছিলেন? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম মহান আল্লাহ পাক উনারই। তিনি যাঁকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪২)

বিষ্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, যে সম্মানিত মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে এই ওয়াকিয়া সংঘটিত হয়েছে উক্ত সম্মানিত মসজিদ মুবারক উনার নামকরণ করা হয়েছে “মাসজিদু যুল ক্বিবলাতাইন” বা “মাসজিদুল ক্বিবলাতাইন”, যার অর্থ দাঁড়ায় দুই ক্বিবলা মসজিদ। এই মসজিদখানা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে একটি প্রাচীন ও সুবিখ্যাত মসজিদ। উক্ত সম্মানিত মসজিদ মুবারক বর্তমানে সম্মানিত মদীনা্ শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত। পবিত্র মাসজিদু নববী শরীফ থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার ব্যবধানে রয়েছে। উক্ত সম্মানিত মসজিদ মুবারক উনার মধ্যে বিদ্যমান দুটি মিহরাব শরীফ উনাদের একটি “বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ” মুখী এবং অন্য মিহরাব শরীফটি “মাসজিদুল হারাম শরীফ” মুখী।

সাম্প্রতিককালে বিখ্যাত বিজ্ঞানী সরদার কাবুলী প্রমাণ করেছেন যে, আধুনিক হিসাব অনুযায়ী, পবিত্র মদীনা শরীফ ২৪ ডিগ্রি ৭৫ মিনিট অক্ষাংশে এবং ৩৯ ডিগ্রি ৫৯ মিনিট দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।

এই হিসাবের এমন ফলাফল পাওয়া গেছে যে, পবিত্র মদীনা শরীফ উনার ক্বিবলা দক্ষিণ দিক থেকে ৪৫ ডিগ্রি ঢলে পড়েছে এবং এই বিন্যাসটিই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্ধারিত অবস্থানের সাথে হুবহু মিলে গিয়েছে।

এটি নিজেই একটি বৈজ্ঞানিক বিষ্ময়। কেননা সেসময় কোন বৈজ্ঞানিক উপকরণ সহজলভ্য ছিল না এবং কোন গণনা করারও কিছু ছিল না
সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাইয়্যিদাতুল উমাম আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন- ৩ রজবুল হারাম শরীফ

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাইয়্যিদাতুল উমাম আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৩রা রজবুল হারাম শরীফ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইছনাইনিল আযীম শরীফ) সকালে। সুবহানাল্লাহ!
গুল হাসান
একি উপহার! (আজ) হাসান গুলে (আজ) নাওয়াসী র’বীয়া, আহালী নয়ন দূরাকাশ হতে জোঁছনার ঢল উজাড় দিলে জানাই সম্ভাষণ উজাড় দিলে সাদর সম্ভাষণ ॥ লাখো অধর ছানায় মশগুল ঈদের সমাচার দেখ বিলকুল আপন সুষমা দিয়ে ছড়িয়ে পুরো কায়িনাহ হয় সঞ্চারণ ॥ আহালী অধ্যায় নব সূচনায় সমাগত জনস্রোত সিক্ত ছঁটায় অপরিমেয় নাজে সব সাজে সম্মিলিত ধ্বনী আহলান-সাহলান ॥ মাদানী আফতাব সাহারায় আযান করেন সজীব তালকিনে সুশোভন মহিমা নির্ঝরন আপন ভূষণ আনন্দে মাতোয়ারা হয় ত্রিভূবন ॥ কবিতার অক্ষর প্রতিটি বর্ণমালা আজ খুশি, বানিয়ে উছিলা মুক্তির অভিলাষী আপনি স্বয়ং পেয়ে মামদূহয়ী অভ্যর্থনা ॥ পেতে উমিদ, আবির আপন অসার হৃদয় হোক বিকিরণ আপনি রূহামা, মুরিদী মুঈন 
শ্রেষ্ঠ ইনাম, নহর বুনন ॥