প্রসঙ্গ ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ : মনের লিঙ্গের শেষ কোথায়?

প্রসঙ্গ ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ মনের লিঙ্গের শেষ কোথায়?

বাংলাদেশের স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে শরীফার গল্প নামক একটি অধ্যায় নিয়ে বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘ট্রান্সজেন্ডার’ ইস্যু নিয়ে হচ্ছে আলোচনা সমালোচনা। গল্পের ভেতর কয়েকটি বিষয় শিক্ষার্থীদের বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

 যেমন-

১. গল্পের ভেতর প্রশ্ন করা হয়েছে, “আমরা নিজেদের ছেলে এবং মেয়ে বলে আলাদা করে চিনি কিভাবে?” উত্তরে গল্পেই বলা হয়েছে, “আমরা যে মানুষকে শারীরিক গঠন দেখেই কাউকে ছেলে বা মেয়ে বলছি সেটা সবার ক্ষেত্রে সত্যি নয়। ”

 অর্থাৎ গল্পটি বাচ্চাদের যা শেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে- বর্তমানে শরীরের গঠন দেখে সমাজের চাপিয়ে দেয়া বিষয় হচ্ছে জেন্ডার। কিন্তু জেন্ডার চাপিয়ে দেয়ার কোন বিষয় নয়, বরং সে নিজেকে (মনে মনে) যা মনে করে সেটাই তার জেন্ডার হওয়া উচিত

 এখানে জানার বিষয় হচ্ছে, আসলে জেন্ডার কাকে বলে?

 জেন্ডার (Gender) শব্দের আবিধানিক অর্থ ‘লিঙ্গ’। বৈজ্ঞানিক ভাষায়, প্রজননের সময় কোন ব্যক্তির জৈবিক ভূমিকাকেই তার জেন্ডার বলে। অর্থাৎ সন্তান উৎপাদনের সময় একজন ব্যক্তি লিঙ্গ নির্ধারণী XXক্রোমোসোম দিবে নাকি XY ক্রোমোসোম দিবেতাই হচ্ছে ঐ ব্যক্তির জেন্ডার যদি কোন ব্যক্তি XY ক্রোমোসম দেয় তবে সে পুরুষআর যদি XX ক্রোমোসম দেয় তবে সে নারী যেহেতু একজন মানুষ প্রজননের সময় XX  XYসেক্স ক্রোমোসমের বাইরে অন্য কিছু দেয় নাতাই বৈজ্ঞানিকভাবে নারী-পুরুষের বাইরেও জেন্ডার বলে কিছু নেই তাই বর্তমানে পাঠ্যবইয়ে মনের লিঙ্গ বা সামাজিক লিঙ্গ বলে যা পড়ানো হচ্ছে, তার সাথে বিজ্ঞান বা বাস্তবতার বিন্দুমাত্র মিল বা সংযোগ নেই

 উল্লেখ্য, কোন ব্যক্তি যদি প্রজননে অসমর্থ হয়, তবে সে প্রজনন প্রতিবন্ধী হিসেবে গণ্য হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রতিবন্ধীরা হিজরা নামে পরিচিত। তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিবন্ধীরা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। এ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শিশু সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “সৃষ্টিকর্তা ছেলে এবং মেয়ের বাইরে অন্য কোনো লিঙ্গের কাউকে সৃষ্টি করেননি। হয়তো তাকে ছেলে হতে হবে অথবা মেয়ে। এর বাইরে কোথাও তৃতীয় লিঙ্গ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। বিজ্ঞান বা মেডিকেল সায়েন্সেও তৃতীয় লিঙ্গ বলতে কিছু নেই। তবে ডিফেকটিভ ডিজ অর্ডার অথবা ‘ডিজ অর্ডার অব সেক্সুয়াল ডেভেলপমেন্ট’ আছে। ফলে তাদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেওয়া হলে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব। ” (তথ্যসূত্র: দৈনিক সময়ের আলো৫ আগস্ট২০২২)

 ২. প্রশ্ন হতে পারেপাঠ্যবইয়ে তো ‘মনের লিঙ্গ’ পড়ানো হচ্ছেতো কেউ যদি মনে মনে নিজের লিঙ্গ ঠিক করা শুরু করে, তবে সেটা কত প্রকার ও কি কি হতে পারে?

 আসলে মনে তো কত কিছুই চাইতে পারে। “কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা, মনে মনে গানের সুরে মেলে দিলেম এই ডানা, মনে মনে”, অর্থাৎ বাস্তবে কারো ডানা নেই, কিন্তু মনে সে মনে ডানা উড়িয়ে পাখির মত উড়তে পারে। তারমানে মনের কিন্তু কোন ধরা-বাধা সীমা নেই, সে যা ইচ্ছা তাই চিন্তা পারে। এখন আমরা যদি মনের লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিতে চাই, তবে আসলে কতগুলো লিঙ্গ তৈরী হতে পারে সেটা চিন্তার বিষয়।

 যারা মনের লিঙ্গকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবী তুলেছে, তারাই বলছে, মনের লিঙ্গের কোন সীমা নেই। জেন্ডার উইকি নামক একটি ওয়েবসাইট এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫ এর মত মনের লিঙ্গ চিহ্নিত করতে পেরেছে। ‘মেডিসিন নেট ডট’ নামক একটি ওয়েবসাইট ৭২টি মনের লিঙ্গকে অন্তর্ভূক্ত করতে পেরেছে এবং এই তালিকা সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

অর্থাৎ মনের লিঙ্গ বলতে যারা শুধু ট্র্যান্সজেন্ডার মনে করছেনএটা মোটেও শুদ্ধ নয় ট্রান্সজেন্ডার হচ্ছে কিছু মনের লিঙ্গের সমষ্টিগত নামএর বাইরে আরো বহু মনের লিঙ্গ তালিকাভূক্ত হচ্ছে ও হয়েছে

 

৩. মনের লিঙ্গকে বৈধকে করতে পাঠ্যবইয়ে শেখানো হচ্ছে, “প্রত্যেকের নিজের মতঅনুভূতিপছন্দ-অপছন্দ প্রকাশ করার স্বাধীনতা আছে

 এখানে আসলে বুঝার বিষয় আছে আমাদের সমাজ কতগুলো মৌলিক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে দাড়িয়ে আছে এর মধ্যে একটি অন্যতম বিষয় হচ্ছেজেন্ডার বা লিঙ্গ পরিচয় সমাজে ছেলে-মেয়ে পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে অনেক কিছুই হয় যেমনছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে হাসপাতালে এমন অনেক চিকিৎসা স্থান আছে যেখানে মেয়ে ডাক্তাররা প্রবেশ করে, পুরুষ প্রবেশ নিষেধ। মেয়েদের জন্য ট্রেনের আলাদা বগি আছে ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট আছে এখানে সবটাই নির্ধারিত হয় জেন্ডারের বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞার উপর ভিত্তি করে লিঙ্গ পরিচয় দিয়ে কিন্তু যখনই কেউ বিজ্ঞান বাদ দিয়ে কল্পনার লিঙ্গকে হিসেব করা শুরু করবেতখন নানান সমস্যা তৈরী হবে এবং আমাদের সমাজ কাঠামোতে সমস্যা হবে এর কারণ হলোবৈজ্ঞানিক জেন্ডার হচ্ছে নির্দ্দিষ্ট ও প্রমাণ সাপেক্ষ অপরদিকে মনের লিঙ্গ নির্দ্দিষ্ট নয় এবং প্রমাণ সাপেক্ষও নয় মানে কারো এখন মনে হচ্ছে সে মনে মনে ছেলেকয়দিন পর তার নিজেকে মনে মনে মেয়েও মনে হওয়া শুরু হতে পারে। এমন আরো ৭০টা ধরনের লিঙ্গ পরিচয় তার মনের ভেতর উদ্ভব হতে পারে আর তার মনের ভেতর কখন কোন লিঙ্গের উদ্ভব হচ্ছেতার খবর রাখবে কে বলুন? সুতরাং নিজের মত বা চিন্তা বা পছন্দ উদয় হলেই হবে না, সেটা বাস্তবতার সাথে মিল থাকলেই কেবল সেটা প্রকাশযোগ্য হবে।

 ৪. পাঠ্যবইয়ে যে অধ্যায়ে ‘শরীফার গল্প’ আছেসেই অধ্যায়ের নাম- ‘মানুষে মানুষে সাদৃশ্য ও ভিন্নতা’ অধ্যায় শুরু হয়েছে বেদে সম্প্রদায় দিয়ে এ দ্বারা একটি যুক্তি বুঝানো হয়েছে, ‘সমাজে বেদে সম্প্রদায় থাকতে পারলে নারী-পুরুষ বাদে অন্য লিঙ্গরা থাকতে পারবে না কেন?

 আসলে বিজ্ঞানে নারী ও পুরুষ ভিন্ন অন্য কোন জেন্ডার বা লিঙ্গেরই অস্তিত্ব-ই নেই। সুতরাং অন্য লিঙ্গ থাকতে পারবে, কি পারবে না সেই প্রশ্ন বাহুল্য। আর জেন্ডার বা লিঙ্গ শব্দের উদ্ভব কোথা থেকে এটা আগে আমাদের বুঝতে হবে। যেমন- চোখের কাজ হচ্ছে দেখা, হাতের কাজ হচ্ছে ধরা, পায়ের কাজ হচ্ছে হাটা। তেমনি জেন্ডার বা লিঙ্গের কাজ হচ্ছে প্রজনন। কিন্তু মনের লিঙ্গ প্রজনন করতে পারে না, সুতরাং মনের লিঙ্গ বা জেন্ডারের কোন গ্রহণযোগ্যতাই নেই। আর বেদে সম্প্রদায়ের কথা যদি বলতে হয়, তবে বলতে হবে- বেদে সম্প্রদায় অন্যদের থেকে পৃথক হয়েছেতাদের পেশা ও সংস্কৃতির কারণে তারা কিন্তু জেন্ডারের কারণে পৃথক হয়নি বরং তাদের সমাজেও পুরুষ-মহিলা দুটি জেন্ডারই বিদ্যামান পেশা বা সংস্কৃতি নির্ভর সম্প্রদায়কে প্রজনন বা জেন্ডারের সাথে মিলিয়ে ফেলা এক ধরনের লজিক্যাল ফ্যালাসি বা কুযুক্তি

 আসলে মনের লিঙ্গকে যদি স্বীকৃতি দিতে হয়মনের যে কোন দাবীকেই তো স্বীকৃতি দিতে হবে। মানে কেউ যদি মনে মনে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী মনে করে তবে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে কেউ যদি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজেকে মনে করেতবে তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে কেউ যদি নিজেকে পুলিশের আইজি বা প্রধান বিচারপতি কিংবা সেনাপ্রধান হিসেবে দাবী করেতবে তাকে প্রতিটার স্বীকৃতি দিতে হবে কিন্তু সমাজ তা দিবে না কারণ সমাজ কল্পনা নির্ভর চলে না সমাজের প্রতিটা স্তর বাস্তবতা ও দলিল-প্রমাণ নির্ভর কেউ নিজেকে মনে মনে কী দাবী করলো সেটা সমাজের কাছে কোন দাম নেই যে যদি তার দাবীর সাপেক্ষে দলিল ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেতাকেই সমাজ সে হিসেবে মেনে নিবে

 এ সম্পর্কে একটা গল্প আছেভারতের একটা পাগলা গারদ নিয়ে ভারতের রাঁচির পাগলা গারদ, নাম- ‘সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি’। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওয়াহরলাল নেহরু। সে সময়ে পাগলা গারদ মানেই রাঁচি। একবার জওয়াহরলাল নেহরু রাঁচির পাগলাগারদ পরিদর্শনে গেছে। নেহেরু তাঁর দেহরক্ষী ও পার্শ্বচরদের বললোতোমরা বাইরেই দাঁড়াও, এটা সেনসিটিভ এরিয়া। এত লোকজন দেখে তাঁরা ভয় পেয়ে যেতে পারে। আমি একাই যাব। নেহেরু ভিতরে ঢুকে খানিক এগোতেই এক সুদর্শন মধ্যবয়স্ক লোক তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে এগিয়ে এলো। প্রধানমন্ত্রী ভাবলো এ সুপার হয়ত। লোকটি এবার নেহরুকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব দেখাচ্ছেএই যেপ্রথমে এইখানে ট্রীটমেন্ট শুরু হয়এখানে কাউন্সেলিং রুমএক্সট্রীম কেসে আবার শক দিতে হয়সেটা এখানে। আর এই যেখানে আপনি এখন এলেনসেখানে যাঁরা কিছুটা ভাল হয়ে গেছেনতাঁরা বাধাহীনভাবে ঘুরতে পারে। তা মহাশয়ের পরিচয়?

জওয়াহরলাল অবাক হলোভারতের প্রধানমন্ত্রীকে এ লোক চেনে নাখবরের কাগজও কি পড়ে না সে?

নেহরু স্মিত হাসি মুখে এনে বললোআমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওয়াহরলাল নেহরু। লোকটি আস্তে আস্তে তাঁর পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললো, “একদম ভাববেন নাসেরে যাবে। পুরো সুস্থ হয়ে যাবেন আপনি। আমিও যখন প্রথম এসেছিলামনিজেকে মোতিলাল নেহরু (নেহরুর বাবা) বলে পরিচয় দিতাম।”

 অর্থাৎ মানুষ যদি মনে মনে নিজেকে যা খুশি তাই দাবী করা শুরু করে, তবে সে মানসিক অসুস্থ, তার চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু আপনি সমাজে সেই পাগলের পাগলামীর স্বীকৃতি চান,তবে সমাজটাকেই আপনি পাগলা গারদ বানিয়ে ফেলবেন। সমাজকে তো আর পাগলা গারদ বানানো যাবে না, মানসিক অসুস্থদের মানসিক চিকিৎসা দিতে হবে। আর মনের লিঙ্গওয়ালারা যে এক ধরনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত এটা তো সবাই জানে। তাদের মানসিক অসুস্থতার নাম জেন্ডার ডিসফোরিয়া। যার জেন্ডার ডিসফোরিয়া হয়েছে তাকে চিকিৎসাকেন্দ্র নিয়ে চিকিৎসা দিন, সুস্থ করুন। কিন্তু আপনি যদি সমস্ত সমাজকে জেন্ডার ডিসফোরিয়া আক্রান্ত করতে চান, তবে তো বিরাট সমস্যা।

 শরীফার গল্পে কথাপোকথনের ছলে বলা হচ্ছেমনের লিঙ্গওয়ালারা তো কারো কোন ক্ষতি করছে না, তাহলে সমস্যা কোথায়?

 কথা হচ্ছেমনের লিঙ্গওয়ালারা যে অন্যদের ক্ষতি করবে নাতার নিশ্চয়তা কে দিবে?

 ধরেন একজন ছেলে নিজেকে মনে মনে মেয়ে মনে করে এখন সে তাকে একটি মহিলা হল বা হোস্টেলে থাকতে দেয়া হলো এখন সে যে হঠাৎ করে মনে মনে ছেলে হয়ে উঠে কোন নারীকে যে নিপীড়ন করবে না তার নিশ্চয়তা কি? ইউরোপ-আমেরিকাতে এমন বহু ঘটনা ঘটেছে।

 এরপর ধরুন মেয়েদের দৌড় প্রতিযোগীতা হচ্ছে এরমধ্যে একজন ছেলে হঠাৎ করে মনে মনে মেয়ে হয়ে মেয়েদের দৌড় প্রতিযোগীতায় অংশ নিলো স্বাভাবিকভাবে পুরুষের শারিরীক স্বক্ষমতা বেশি হওযায়  মনে মনে মেয়েটি প্রতিযোগীতায় প্রথম হয়ে যাবে এটা তো অন্য মেয়েদের জন্য বৈষম্য। এজন্য দেখবেনক্রিকেট খেলায় ট্রান্সজেন্ডার নিষিদ্ধ ঘোষণা করছে আইসিসি (তথ্যসূত্রটিবিএস রিপোর্ট, ২১ নভেম্বর, ২০২৩)

 এরপর ধরুণ পুরুষ-নারীর ভিন্ন টয়লেটের কথা। এখন যে ছেলেটি মনে মনে মেয়ে দাবী করেসে কোন টয়লেটে যাবেসে কি মেয়েদের টয়লেট ব্যবহার করবেসে কি মেয়েদের গোপন অপরেশন রুমে যেতে পারবেসে কি গালর্স স্কুল-কলেজে পড়ালেখা করবেএরকম অনেক সমস্যা কিন্তু আছে

 আবার মনে মনে লিঙ্গওয়ালারা কিন্তু মনে মনে বয়সও নির্ধারণ করে যেমনপশ্চিমে এমনও ঘটনা ঘটেছেএক বয়স্ক লোক একজনকে রেপ করেছে কিন্তু কোর্টে দাড়িয়ে বলেছেআমি মনে মনে নিজেকে অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক মনে করি। তাই অপ্রাপ্ত বয়স্কের কোন শাস্তি হবে না

 অর্থাৎ মনে মনে লিঙ্গওয়ালারা সমাজের জন্য বড় ভয়ঙ্কর এবং সমাজের ক্ষতিকর যারা দাবী করেমনে মনে লিঙ্গওয়ালারা কারো কোন ক্ষতি করে নাতাদের সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই। সমাজ একটি নিয়ম-শৃঙ্খলা ও দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে চলে। এসব মনের লিঙ্গওয়ালারা পুরো সমাজ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলতা তৈরী করে, পুরো সমাজের ক্ষতি করবে।

 এখন কথা হচ্ছেমনের লিঙ্গওয়ালাদের আপনি কি করবেন?

সুস্থ সমাজে তাদের স্বীকৃতি দিয়ে পুরো সমাজকে পাগলা গারদ বানাবেননাকি তাদের মানসিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে সুস্থ সমাজে প্রবেশ করাবেনএই সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে 

 শবে মিরাজের ছুটি বাধ্যতামূলক করা হোক

 শবে মিরাজের ছুটি বাধ্যতামূলক করা হোক

 আর কয়েকদিন পর শবে মেরাজ বাংলাদেশে অনেক উপলক্ষে বাধ্যতামূলক ছুটি থাকলেও শবে মিরাজ উপলক্ষে ছুটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং ঐচ্ছিক। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশ বাংলাদেশে এটা সত্যিই একটি আশ্চর্যজনক বিষয়।

 উল্লেখ্য বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি দেয়া হয় শবে বরাতশবে ক্বদরআশুরা শরীফে। কিন্তু দিবস গুরুত্বের বিবেচনায় শবে মেরাজের গুরুত্ব শবে বরাতশবে ক্বদর ও আশুরা শরীফ থেকে অনেক অনেক উপরে। শবে বরাতে দুয়া কবুল হয়মানুষের ১ বছরের ভাগ্য গঠিত হয়। শবে ক্বদরে পবিত্র কুরআন শরীফ নাজিল হয়।

আশুরা শরীফে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে এবং কেয়ামত সংগঠিত হবে। কিন্তু শবে মেরাজ এমন একটি উপলক্ষ,

যখন স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব সমস্ত সৃষ্টির মূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ মুবারক হয়। সুবহানাল্লাহ। সৃষ্টিকর্তা ও উনার হাবীবের সাক্ষাতের সাথে কি অন্য বিষয়ের তুলনা চলে?

 আবার অন্যভাবে যদি চিন্তা করিবাংলাদেশের মানুষ আর যাই করুক ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার চেষ্টা করে। অফিস-আদালতে গেলে দেখবেনসবাই নামাজের সময় ঠিকই নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন। সব কাজ ফেলে সর্বত্র নামাজ আদায়ের জন্য সময় নেন। কিন্তু সেই নামাজ যে উপলক্ষে আসলোমানে শবে মেরাজ,

সেই দিবস পালনে কেন এত অনিহা? কেন সেটা ঐচ্ছিক হবে? নামাজকে যদি আপনি গুরুত্ব দেনতবে যে উপলক্ষে সেই নামাজ আসলোসেই উপলক্ষেও অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। একটা বিষয়কে গুরুত্ব না দিলেই তো সেটাকে ঐচ্ছিক করা হয়তাই নয় কি?

 এ ব্যাপারে মুসলমানদের মধ্যে শক্ত দাবী তোলা উচিত, শবে মিরাজ শরীফের ছুটি বাধ্যতামূলক করার জন্য। ঐচ্ছিক ছুটি দিয়ে এ পবিত্র দিবসটির অবজ্ঞা বা মানহানী করা হচ্ছে- এটা কখনই মেনে নেয়া যায় না। উল্লেখ্যগত বছর থেকে কুয়েত ও ওমান শবে মিরাজ উপলক্ষে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছে কিন্তু বাংলাদেশে এখনও এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেয়নি।

 একটি বিষয় আমাদের সব সময় মাথায় রাখতে হবে। ইসলামী দিবসগুলোকে আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং সকলকে সঠিকভাবে তা পালনের সুযোগ করে দিতে হবে। কারণ ইসলামী দিবসগুলো পালনের মধ্য দিয়ে ইসলামী সংস্কৃতি বা তাহজীব তামাদ্দুনের প্রচার-প্রসার ঘটে, নতুন প্রজন্ম বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারে। আজকে মুসলমানরা ইসলামী দিবসগুলো পালনকে গুরুত্ব দেয় না, প্রায় অনিহা দেখায়। এতে ইসলামী সংস্কৃতি বা তাহজীব-তামাদ্দুনের প্রচারও নেই বললেই চলে। ইসলামী দিবস না থাকায় তরুণ প্রজন্ম বিজাতীয় দিবস পালনের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে এবং সেগুলো পালন করে বিজাতীয় সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হচ্ছে। থার্টি ফাস্ট নাইট, সাকরাইন, ভ্যালেন্টাইন ডে, কিস ডে, হ্যাগ ডে, হ্যালোইন, টেডি ডে অমুক তমুক বিজাতীয় ও নোংরা দিবসকে কেন্দ্র করে তারা একত্রিত হচ্ছে এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি নাচ-গান-ডিজে, মদ খাওয়া ইয়াবা খাওয়াতে অভ্যস্ত হচ্ছে। এসব বিজাতীয় কালচারে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম আদৌ মুসলমান থাকবে কি না, সেটা নিয়ে আমরা উৎকণ্ঠায় পড়ে গেছি। এর মূল কারণ হলো ইসলামী দিবস ও সংস্কৃতিকে আমরা পালন করি নাই, প্রচার করি নাই। আর সেই শূণ্যস্থানের সুযোগে প্রবেশ করেছে বিজাতীয় দিবস ও সংস্কৃতি।

 তাই আসুন প্রতিটি ইসলামী দিবস আর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও শান-শওকতের সাথে পালন করি।

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৭৯


 
উম্মু মুর্শিদিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-

মুবারক শৈশব ও কৈশোর থেকেই ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সুন্নত মুবারক এবং সম্মানিত শরয়ী পর্দা পালনের একনিষ্ঠ অভ্যস্ততা

যাঁরা এই যোগ্যতার অধিকারী হন উনাদের শান-মান, মর্যাদা-মাক্বাম এমন সীমাহীন অবিচ্ছেদ্য নৈকট্য-সান্নিধ্যে উপনীত হয় যে, উনারা ছগীরা, কবীরা, কুফরী, শিরকি, এমনকি সকল প্রকার অপছন্দনীয় কাজ থেকে দায়িমীভাবে পবিত্র থাকেন। এই সীমাহীন শান-মান, মর্যাদা-মাক্বাম হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের। হাক্বীক্বী নায়েবে রসূল, ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া উনারাও এই খুছূছিয়ত মুবারকের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! তবে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা এই মাক্বামের সীমাহীন উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে:

حَسَنَةُ الْاَبْـرَارِ سَيِّئَةُ الْمُقَرَّبِيْنَ

অর্থ: “সর্বসাধারণের জন্য যে কাজ বৈধ, খাছ মানুষের জন্য তা গুনাহ-এর  সমতুল্য।” যেমন: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শান মুবারকে ইরশাদ মুবারক করেন:

خُذُوْا نِصْفَ دِيْنِكُمْ مِنْ هٰذِهِ الْحُمَيْـرَاءَ

অর্থ: “তোমরা (কায়িনাতবাসী) উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিকট থেকে পরিপূর্ণ ইলিম হাছিল করো।” (দাইলামী শরীফ, ইবনুল আছীর শরীফ) অর্থাৎ, উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে সমগ্র  কায়িনাতবাসীর জন্য খাছ হিদায়েত- নছীহতদানকারিণী। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)

আবা-২৮৯



সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৭৮


 
উম্মু মুর্শিদিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-

মুবারক শৈশব ও কৈশোর থেকেই ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সুন্নত মুবারক এবং সম্মানিত শরয়ী পর্দা পালনের একনিষ্ঠ অভ্যস্ততা

প্রেক্ষিত কারণে উনাদের মুবারক শানে পবিত্র এই হাদীছ শরীফখানা হাক্বীক্বীভাবে দৃষ্টান্তযোগ্য:

اِنَّـمَا اَنَا قَاسِمٌ وَاللهُ يُعْطِيْ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি  হলেন দাতা। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হলেন কুল-কায়িনাতবাসীকে আবাদুল-আবাদ পর্যন্ত সমস্ত নিয়ামত মুবারক বণ্টনের নিরঙ্কুশ মালিক।” সুবহানাল্লাহ!

উম্মু মুর্শিদিনা আলাইহাস সালাম, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সালাম, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মাখদুমুল কায়িনাত, আওলাদে রসূল, মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আখাছছুলখাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম এবং উনার জাওযুম মুকাররাম, ক্বায়িম-মাক্বামে আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাখদুমুল কায়িনাত, মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, ছাহিবে নিয়ামত, মাখদুমুল কায়িনাত, আবূ মুর্শিদিনা আলাইহিস সালাম, আওলাদে রসূল, আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনারাসহ উনাদের মহাসম্মানিত আহলু পাক আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম হওয়ার কারণেই উনাদের মুবারক খিদমতের আঞ্জামদানের জন্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমসহ সকলেই বেকারার এবং দায়িমী খিদমতে মশগুল। সুবহানাল্লাহ!

ছাহিবে নিয়ামত, ছাহিবে সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আছছমাদ, রহমতুল্লিল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুলত্বানুন নাছীর সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান ক্বায়িম-মাক্বামে আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাখদূমুল কায়িনাত, মুত্বহহার, মুত্বহহির আছছমাদ, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মালিকুল কায়িনাত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মালিকুল কায়িনাত, মাখদুমুল কায়িনাত, মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনারা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদকৃত পবিত্র বর্ণনানুযায়ী সম্মানিত দ্বীন-ইসলাম উনার মধ্যে বিশুদ্ধতা, নির্ভরযোগ্যতা ও পরিপূর্ণতার পূর্ণতম অধিকারী এবং মালিক। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)

আবা-২৮৮

 

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৭৭

 

 উম্মু মুর্শিদিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-

মুবারক শৈশব ও কৈশোর থেকেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক এবং শরয়ী পর্দা পালনের একনিষ্ঠ অভ্যস্ততা

প্রাণের আক্বা, ক্বিবলা কা’বা, ছহিবে নিয়ামত, ছহিবু সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, আলক্বাসিম, মালিকু আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, আছ ছমাদ, মাখদুমুল কায়িনাত, সুলত্বানুন নাছীর, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আখছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমামুল উমাম, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, মাওলানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান-আম্মাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহিমাস সালাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, আখছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আছছমাদ, মাখদূমুল কায়িনাত, মুত্বহহার, মুত্বহহির, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম এবং উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহলু পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিম ওয়া সাল্লাম উনারা সকলেই হলেন উপরে বর্ণিত দু’টি গুণ-বৈশিষ্ট্যসহ সকল মর্যাদা- মাক্বামাতের সীমাহীন উর্ধ্বে। বরং এই সম্মানিত মর্যাদা ও মাক্বামাতগুলো উনারাই ব্যক্তির যোগ্যতা অনুসারে বণ্টন করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)

আবা-২৮৭

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৭৬

 উম্মু মুর্শিদিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত

মুবারক শৈশব ও কৈশোর থেকেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক এবং শরয়ী পর্দা পালনের একনিষ্ঠ অভ্যস্ততা

সম্মানিত শরয়ী পর্দাপালনের কারণে আমাদের পক্ষে এবং কায়িনাতবাসী কারো পক্ষেই আখাছছুল খাছ আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মু মুর্শিদীনা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জাওযুম মুকাররাম, আখাছছুল খাছ আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাখদূমুল কায়িনাত, আছ ছমাদ, মুত্বহহার, মুত্বহহির, আবূ মুর্শিদীনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছোহবত মুবারক হাছিল করে আমরা যে বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছি তা হলো, উনারা (সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা ছল্লাল্লাহু আলাইহা ওয়া সাল্লাম) উভয়েই নূরে মুজাসসাম, মাশুকে মাওলা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ইরশাদকৃত পবিত্র নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব:

قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, মাশুকে মাওলা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন: আমাকে রোব, অর্থাৎ ভীতিপ্রদ সম্মান মুবারক দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! আলোচ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার তৃতীয় অংশ হলো:

وَالثِّقَةُ فِي الدِّيْنِ

অর্থ: “সম্মানিত দ্বীন-ইসলাম উনার মধ্যে উনারা (সম্মানিত সুন্নত পালনকারী) বিশুদ্ধতা, নির্ভরযোগ্যতা/ গ্রহণযোগ্যতায় পরিপূূর্ণতালাভ করবেন। অর্থাৎ উনারা সকলেরই আস্থাভাজন হবেন এবং সকলেরই অনুসরণকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন।” বিশুদ্ধরূপে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনার ক্ষেত্রে ‘ছিক্বাহ রাবী’ হওয়া আবশ্যক। আর ‘ছিক্বাহ রাবী’ হওয়ার অপরিহার্য যোগ্যতা ও শর্ত হলো মূল দু’টি: ১. আদালত (ন্যায়পরায়ণতা) ২. দ্বব্ত্ (চূড়ান্ত পর্যায়ের স্মরণশক্তি) সুবহানাল্লাহ! (চলবে)

আবা-২৮৬

 

 মুরগির গোশ্ত খাওয়া মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক

 মুরগির গোশ্ত খাওয়া মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক 

 আমরা কম বেশি সবাই প্রতিনিয়ত মুরগির গোশ্ত খেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা হয়তো ৯৯% মানুষ-ই জানিনা, মুরগির গোশ্ত যে মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার। যা স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গ্রহণ করেছেন অর্থাৎ মহাসম্মানিত আহার মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! 
 
 মুরগির গোশ্ত খাওয়া যে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- 
 
عَنْ حَضْرَةْ زَهْدَمٍ الْجَرْمِيِّ رَضِيَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ دَخَلْتُ عَلٰى حَضْرَةْ أَبِيْ مُوسٰى رَضِيَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَهُوَ يَأْكُلُ دَجَاجًا فَقَالَ ادْنُ فَكُلْ فَإِنِّيْ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُهٗ. 
 
 অর্থ: হযরত যাহদাম আল-জারমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আবূ মূসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট গেলাম। তিনি তখন মুরগির গোশ্ত খাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমার সামনে এগিয়ে আসুন এবং খাবারে অংশগ্রহণ করুন। কারণ আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুরগির গোশ্ত খেতে দেখেছি। 
 
 মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে- 
 
عَن حَضْرَةْ اَبِيْ مُوسٰى رَضِيَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ لَحْمَ الدَّجَاجِ. 
 
 অর্থ: হযরত আবূ মূসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুরগির গোশ্ত খেতে দেখেছি। 
 
উপরোক্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ দ্বারা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে মুরগির গোশ্ত গ্রহণ করেছেন অর্থাৎ মহাসম্মানিত আহার মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! 
 
 (দলীল সমূহঃ বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 
 
 মুরগির গোস্তের উপকারিতাঃ- 
 
 মুরগির গোস্তের উপকারিতা প্রচুর। আমরা প্রতিনিয়ত মুরগির গোশ্ত খাচ্ছি। কিন্তু এর উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই জানি না। সকলের সুবিধার্থে নিম্নে বর্ণনা করা হলো। 
 
  মুরগির গোশ্ত হার্টের জন্য ভালো এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। 
 
 মুরগির গোস্তে চর্বির পরিমাণ কম থাকায় এটি খাওয়া নিরাপদ। 
 
 মুরগির গোস্তে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। যা আমাদের পেশীকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
 
 কম চর্বিযুক্ত প্রোটিন হওয়ায় এটি ওজন কমানোর ভালো উৎস হিসাবে কাজ করে। আর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এটির কম। 
 
 মুরগির গোস্তে উচ্চ মাত্রায় ট্রাইফটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। 
 
 মুরগির গোস্তে হোমোকিস্টাইনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্টের বিভিন্ন ধরনের কার্ডিওভাস্কুলার রোগের প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করে থাকে। 
 
 মুরগির গোশ্ত ফসফরাস সমৃদ্ধ হওয়ায় দাঁত ও হাড়ের জন্য ভালো। তাছাড়া ফসফরাস আমাদের কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। 
 
 মুরগির গোস্তে ভিটামিন (বি)-ই ৬ শরীরে বিপাকের মাত্রা উন্নত করে। 
 
=========================== 
 
তথ্যসূত্রঃ দৈনিক আল ইহসান শরীফ  
 
০৪ জুমাদাল উলা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী