সুমহান ১৬ ই ‍যিলক্বদ শরীফ












১. সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার পূর্বে উনার সম্মানিত শাদী মুবারক
অধিকাংশের মতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার পূর্বে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার দুইটি শাদী মুবারক হয়। সর্বপ্রথম শাদী মুবারক হয় মাস‘ঊদ ইবনে ‘আমর ইবনে ‘উমায়ের ছাক্বাফীর সাথে। তার সাথে জুদায়ী হওয়ার পর উনার শাদী মুবারক হয় সম্মানিত কুরাইশ বংশ উনার ‘আমিরী শাখার হযরত আবূ রুহ্ম ইবনে আব্দিল উয্যা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে। উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وَكَانَتْ ام المؤمنين سيدتنا حضرت ميمونة عليها السلام فِي الْجَاهِلِيَّةِ عِنْدَ مَسْعُودِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُمَيْرٍ الثَّقَفِيِّ، فَفَارَقَهَا وَخَلَفَ عَلَيْهَا ام المؤمنين حضرت أَبُو رُهْمِ بْنُ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ أَبِي قَيْسِ بْنِ عَبْدِ وُدِّ بْنِ نَصْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ حِسْلِ بْنِ عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ رضى الله تعالى عنه فَتُوُفِّيَ عَنْهَا، فَتَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “জাহিলী যুগে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি মাস‘ঊদ ইবনে ‘আমর ইবনে ‘উমায়ের ছাক্বাফীর নিকট ছিলেন। তার থেকে জুদা হওয়ার পর উনার সম্মানিত শাদী মুবারক হয় হযরত আবূ রুহ্ম ইবনে আব্দুল উয্যা ইবনে আবূ ক্বইস ইবনে আবদে উদ্দ ইবনে নছ্র ইবনে মালিক ইবনে হিস্ল ইবনে ‘আমির ইবনে লুওয়াই ‘আমিরী কুরাইশী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে। তিনি সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (‘উয়ূনুল আছার ২/৩৭৫, জাম‘উল ওয়াসায়িল ফী শরহিস শামায়িল ২/৬৮, তালক্বীহ্ ইত্যাদী)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ:
খায়বারের জিহাদ অনুষ্ঠিত হয় ৭ম হিজরী সনের শুরুর দিকে মুহররমুল হারাম শরীফ মাসে। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ‘উমরাতুল কাযা আদায় করার জন্য যান ৭ম হিজরী সনের শেষের দিকে শাওওয়াল শরীফ মাসে। তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিত বোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল লুবাবাহ্ কুবরা বিনতে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার বিষয়ে আলাপ করার জন্য বলেন। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল লুবাবাহ্ কুবরা বিনতে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি উনার সম্মানিত আহাল সাইয়্যিদুনা হযরত খ¦াতিমুল মুহাজিরীন (হযরত ‘আব্বাস ইবনে ‘আব্দুল মুত্ত্বালিব) আলাইহিস সালাম উনাকে বিষয়টি জানান এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট বিষয়টি পেশ করার জন্য বলেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত খ¦াতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার পক্ষ থেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার বিষয়ে প্রস্তাব মুবারক পেশ করেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত ওহী মুবারক প্রাপ্ত হয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব মুবারক কবূল করেন। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَامْرَأَةً مُؤْمِنَةً إِنْ وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ إِنْ أَرَادَ النَّبِيُّ أَنْ يَسْتَنْكِحَهَا خَالِصَةً لَكَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: “যদি কোন মু’মিন মহিলা নিজেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ পেশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি ইচ্ছা মুবারক করলে উক্ত মু’মিন মহিলা উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ করতে পারেন। এটা বিশেষ করে আপনার জন্য তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খাছ। মু’মিন উনাদের জন্য নয়।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫০)
হযরত ইমাম মুহম্মদ ইবনে ইঊসুফ ছালিহী শামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ ১১তম খ-ের ২০৭ নং পৃষ্ঠায়’ উল্লেখ করেন,
عن حضرت قتادة رحمة الله عليه قال تزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم حين اعتمر بمكة ام المؤمنين سيدتنا حضرت ميمونة بنت الحارث عليها السلام وهبت نفسها للنبي صلى الله عليه وسلم وفيها نزلت وامرأة مؤمنة إن وهبت نفسها للنبي إن أراد النبي أن يستنكحها خالصة لك من دون المؤمنين
অর্থ: “হযরত কাতাদাহ্ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ ‘উমরাতুল কাযা আদায় করেন, তখন তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ পেশ করেন। এ প্রসঙ্গে নাযিল হয়-
وَامْرَأَةً مُؤْمِنَةً إِنْ وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ إِنْ أَرَادَ النَّبِيُّ أَنْ يَسْتَنْكِحَهَا خَالِصَةً لَكَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ
‘যদি কোন মু’মিন মহিলা নিজেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ পেশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি ইচ্ছা মুবারক করলে উক্ত মু’মিন মহিলা উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ করতে পারেন। এটা বিশেষ করে আপনার জন্য তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খাছ। মু’মিন উনাদের জন্য নয়।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫০)
৭ম হিজরী শরীফ উনার ১৬ই যিলক্বদ শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ রাত) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৫০ বছর ৪ মাস ১৩ দিন। সুবহানাল্লাহ!
এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ থেকে ১০ মাইল দূরে সারিফ নামক স্থানে। আর এই স্থানেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার অনুষ্ঠিত হওয়ার পর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে প্রথম রাত্র মুবারক অতিবাহিত করেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন যে, এই সারিফ নামক স্থানেই আপনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবেন এবং এই স্থানেই আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ হবে। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, বিশুদ্ধ মতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহরাম অবস্থায় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেন আর ইহরাম থেকে হালাল হয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার পর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে প্রথম রাত্র মুবারক অতিবাহিত করেন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَن حضرت ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكَحَ ام المؤمنين سيدتنا حضرت ميمونة عليها السلام وَهُوَ مُحْرِمٌ وَبَنَى بِهَا حَلَالًا بِسَرِفَ، وَمَاتَتْ بِسَرِفَ
অর্থ: “হযরত ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহরাম অবস্থায় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সম্পন্ন করেন আর ইহরাম থেকে হালাল হয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার পর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে সারিফ নামক স্থানে প্রথম রাত্র মুবারক অতিবাহিত করেন। সুবহানাল্লাহ! আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি সারিফ নামক স্থানেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ ১/৩৫৯)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে,
عَن حضرت ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه قَالَ تَزَوَّجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ام المؤمنين سيدتنا حضرت ميمونة عليها السلام وَهُوَ مُحْرِمٌ، وَبَنَى بِهَا وَهُوَ حَلاَلٌ، وَمَاتَتْ بِسَرِفَ
অর্থ: “হযরত ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহরাম অবস্থায় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সম্পন্ন করেন আর ইহরাম থেকে হালাল হয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার পর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে প্রথম রাত্র মুবারক অতিবাহিত করেন। সুবহানাল্লাহ! আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি সারিফ নামক স্থানেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
ইমাম ত্ববারানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার লিখিত বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল মু’জামুল কাবীর শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণনা করেন,
عَنْ حضرت أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضى الله تعالى عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزَوَّجَ اُمّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتنَا حَضْرَتْ مَيْمُوْنَة عَلَيْهَا  السَّلَامُ بِسَرِفٍ، وَبَنَى بِهَا بِسَرِفٍ، وَمَاتَتْ بِسَرِفٍ
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেন সারিফ নামক স্থানে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার পর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে প্রথম রাত্রি মুবারক অতিবাহিত করেন করেন এই সারিফ নামক স্থানে এবং এই সারিফ নামক স্থানেই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর শরীফ)
অপর বর্ণনায় রয়েছে,
وَمَاتَتْ بِسَرِفَ وَدَفَنَّاهَا فِي الظُّلَّةِ الَّتِي بَنَى بِهَا فِيهَا.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি সারিফ নামক স্থানে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে ছাঁয়ায় (যে স্থানে) উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সাথে প্রথম রাত্রি মুবারক অতিবাহিত করেন, সেখানেই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত দাফন মুবারক করা হয়। অর্থাৎ সেখানেই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ অবস্থিত।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)

সম্মানিত মোহরানা মুবারক:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার সম্মানিত মোহরানা মুবারক ছিলো ৫০০ দিরহাম। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
تَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مَهْرِ خَمْسِ مِائَةِ دِرْهَمٍ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে ৫০০ দিরহাম মোহরানা মুবারক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ, শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব)

সম্মানিত ওলীমা মুবারক:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
واولم على اُمّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتنَا حَضْرَتْ مَيْمُوْنَة عَلَيْهَا  السَّلَامُ وبنى بها بسرف
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘সারিফ’ নামক সম্মানিত স্থান মুবারক-এ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ওলীমাহ্ মুবারক করেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার পর প্রথম রাত্র মুবারক অতিবাহিত করেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে হাক্বা শরীফ ১/৪২১, তাফসীরে রূহুল বয়ান ১/২৫১, জামি‘উ লাত্বফিত তাফসীর ৪/২৬৫)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حضرت أَبِي عَبْدِ اللَّهِ رحمة الله عليه قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وآله حِينَ تَزَوَّجَ اُمّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتنَا حَضْرَتْ مَيْمُوْنَة بِنْت الْحَارِثِ عَلَيْهَا  السَّلَامُ أَوْلَمَ عَلَيْهَا وَ أَطْعَمَ النَّاسَ الْحَيْسَ .
অর্থ: “হযরত আবূ আব্দুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উম্মু মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেন তখন উনার সম্মানার্থে সম্মানিত ওলীমাহ্ মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! আর মানুষদেরকে ‘হাইস’ নামক খাবার মুবারক খাওয়ান। সুবহানাল্লাহ! (কিতাবুল কাফী ১২/১৯৪)
অপর বর্ণনা রয়েছে,
لما وقع من البركة في وليمتها حيث أشبع المسلمين خبزا ولحما
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ওলীমা মুবারক-এ এতো অধিক বরকত হয় যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা তৃপ্তিসহকারে রুটি এবং গোশত খান।” সুবহানাল্লাহ! (‘উমদাতুল ক্বারী শরহু ছহীহুল বুখারী ২৯/৩৮০)
*************
২. উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসবনামাহ্ মুবারক

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার উনার মহাসম্মানিত পিতা হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ ইবনে হারিছ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার মহাসম্মানিত পিতা উনার দিক থেকে ১৮তম মহাসম্মানিত পুরুষে যেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন-
اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ مَيْمُونَةُ بِنْتُ الْـحَارِثِ بْنِ حَزْنِ بْنِ بُـجَيْرِ بْنِ الْـهَزْمِ بْنِ رُوَيْبَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ هِلَالِ بْنِ عَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ بَكْرِ بْنِ هَوَازِنَ بْنِ مَنْصُوْرِ بْنِ عِكْرَمَةَ بْنِ خَصَفَةَ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَيْلَانَ بْنِ مُضَرَ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.
১. اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ مَيْمُوْنَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মাইমূনাহ্ আলাইহাস সালাম।
২. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ اَلْـحَارِثُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম।
৩. حَزْنٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত হায্ন আলাইহিস সালাম।
৪. بُـجَيْرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত বুজাইর আলাইহিস সালাম।
৫. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ اَلْـهَزْمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত হায্ম আলাইহিস সালাম।
৬. عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ رُوَيْبَةُ সাইয়্যিদুনা হযরত রুওয়াইবাহ্ আলাইহিস সালাম।
৭. عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ  সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম।
৮. هِلَالٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত হিলাল আলাইহিস সালাম।
৯. عَامِرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আমির আলাইহিস সালাম।
১০. صَعْصَعَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ছ’ছ‘আহ্ আলাইহিস সালাম।
১১. مُعَاوِيَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মু‘আবিয়াহ্ আলাইহিস সালাম।
১২. بَكْرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত বাক্র আলাইহিস সালাম।
১৩. هَوَازِنُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত হাওয়াযিন আলাইহিস সালাম।
১৪. مَنْصُوْرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মানছূর আলাইহিস সালাম।
১৫. عِكْرَمَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘ইক্রামাহ্ আলাইহিস সালাম।
১৬. خَصَفَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত খ¦ছাফাহ্ আলাইহিস সালাম।
১৭. عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ قَيْسٌ সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বইস্ আলাইহিস সালাম।
১৮. عَيْلَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আইলান আলাইহিস সালাম।
১৯. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ مُضَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্বর আলাইহিস সালাম।
সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্বর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার এবং উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ আশার আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসবনামাহ মুবারক হুবহু একই। সুবহানাল্লাহ! (মিরআতুল আনসাব ৫৭, ইমতা‘উল আসমা’ ৬/১৮৮,  সীরাতে ইবনে হিশাম ৬/৬৩, আর রওদ্বুল উন্ফ ৪/৪২৮, তাহ্যীবু সীরতি ইবনে হিশাম ১/৪৩৯, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/১৪৪, মুখতাছারু তারীখে দিমাশ্ক্ব ৪/২৩৫, ‘উয়ূনুল আছার ২/৩৭০, মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৩১, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৭/৭০, আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ১৭/২৩৬, আল আহাদ ওয়াল মাছানী ৫/৫৩০, আল মুন্তাখাব ১/১৮, আল মুখ্তাছারুল কাবীর ফী সীরতির রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১/১০৩, শারহুয যারক্বানী, বিদায়াহ্-নিহায়াহ্ ৫/৩১৬, তারীখুল উমাম ওয়াল মুল্ক ২/২১৪, আনসাবুল আশরাফ ১/১৯৬, আল আনসাব ১৩/৪১১, তারীখে বাগদাদ ৮/৩৪১, তারীখে ত্ববারী ১১/৬২২, ত্ববাক্বাতে খলীফাহ্ ১/৪০৪ ইত্যাদী)
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা মাতা হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন সম্মানিত বনী হিম্ইয়ার গোত্রের। সুবহানাল্লাহ!
তিনি হচ্ছেন-
اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ مَيْمُوْنَةُ بِنْتُ هِنْدِ بِنْتِ عَوْفِ بْنِ زُهَيْرِ بْنِ الْـحَارِثِ بْنِ حَمَاطَةَ بْنِ رَبِيْعَةَ بْنِ ذِىْ جَلِيْلِ بْنِ جُرَشِ بْنِ اَسْلَمَ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْغَوْثِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عَوْفِ بْنِ عَدِىِّ بْنِ مَالِكِ بْنِ زَيْدِ بْنِ سَهْلِ بْنِ عَمْرِو بْنِ قَيْسِ بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ جُشَمِ بْنِ عَبْدِ شَـمْسِ بْنِ وَائِلِ بْنِ الْغَوْثِ بْنِ قَطَنِ بْنِ غَرِيْبِ بْنِ زُهَيْرِ بْنِ اَيْـمَنَ بْنِ الْـهَمَيْسَعِ بْنِ حِمْيَرِ بْنِ سَبَاَ بْنِ يَشْجُبَ بْنِ يَعْرُبَ بْنِ قَحْطَانَ بْنِ هُوْدِ النَّبِــىِّ بْنِ شَالَـخِ بْنِ اَرْفَخْشَذَ بْنِ سَامِ بْنِ نُوْحِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.
১.  اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ مَيْمُوْنَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُউম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মাইমূনাহ্ আলাইহাস সালাম।
২. سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ هِنْدٌ عَلَيْهَا السَّلَامُ সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ আলাইহাস সালাম।
৩. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَوْفٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আউফ আলাইহিস সালাম।
৪. زُهَيْرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত যুহাইর আলাইহিস সালাম।
৫. اَلْـحَارِثُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম।
৬. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ حَمَاطَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত হামাত্বহ্ আলাইহিস সালাম।
৭. رَبِيْعَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত রবী‘আহ্ আলাইহিস সালাম।
৮. ذُوْ جَلِيْلٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত যূ জালীল আলাইহিস সালাম।
৯. جُرَشٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত জুরাশ আলাইহিস সালাম।
১০. اَسْلَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত আসলাম আলাইহিস সালাম।
১১. زَيْدٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত যায়েদ আলাইহিস সালাম।
১২. اَلْغَوْثُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত গ¦ওছ্ আলাইহিস সালাম।
১৩. سَعْدٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত সা’দ আলাইহিস সালাম।
১৪. عَوْفٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আউফ আলাইহিস সালাম।
১৫. عَدِىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আদী আলাইহিস সালাম।
১৬. مَالِكٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মালিক আলাইহিস সালাম।
১৭. عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ زَيْدٌ  সাইয়্যিদুনা হযরত যায়েদ আলাইহিস সালাম।
১৮. سَهْلٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত সাহ্ল আলাইহিস সালাম।
১৯. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَمْرٌو عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আমর আলাইহিস সালাম।
২০. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ قَيْسٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বইস্ আলাইহিস সালাম।
২১. مُعَاوِيَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মু‘আবিয়াহ্ আলাইহিস সালাম।
২২. جُشَمٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত জুশাম আলাইহিস সালাম।
২৩. عَبْدُ شَـمْسٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আবদু শাম্স আলাইহিস সালাম।
২৪. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ وَائِلٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ওয়াইল আলাইহিস সালাম।
২৫. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ اَلْغَوْثُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত গ¦ওছ্ আলাইহিস সালাম।
২৬. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ قَطَنٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বত্বন্ আলাইহিস সালাম।
২৭. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ غَرِيْبٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত গ¦রীব আলাইহিস সালাম।
২৮. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ زُهَيْرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত যুহাইর আলাইহিস সালাম।
২৯. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ اَيْـمَنُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত আইমান আলাইহিস সালাম।
৩০. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ اَلْـهَمَيْسَعُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত আল হামাইসা’ আলাইহিস সালাম।
৩১. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ حِمْيَرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত হিম্ইয়ার আলাইহিস সালাম।
৩২. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ سَبَاُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত সাবা’ আলাইহিস সালাম।
৩৩. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ يَشْجُبُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়াশ্জুব আলাইহিস সালাম।
৩৪. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ يَعْرُبُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’রুব আলাইহিস সালাম।
৩৫. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ قَحْطَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বহ্ত্বান আলাইহিস সালাম।
৩৬. هُوْدٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত হূদ আলাইহিস সালাম।
৩৭. شَالَـخٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত শালাখ আলাইহিস সালাম।
৩৮. اَرْفَخْشَذُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত আরফাখ্শায আলাইহিস সালাম।
৩৯. سَامٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত সাম আলাইহিস সালাম।
৪০. نُوْحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম।
(মাক্বাতিলুত্ব ত্বালিবিয়্যীন, মাস‘ঊদী, ত্ববারাী, শারহুয যারক্বানী, আল ইস্তী‘য়াব, ইবনে হিশাম, আর রওদ্বুল উন্ফ, ‘উয়ূনুল আছার, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, আল আনসাব, জমহুরাতুল আনসাব, আল মুন্তাখ¦ব ইত্যাদী)
কেউ কেউ বলেছেন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা মাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন বনূ কেনানাহ গোত্রের।
 ************

৩.এক নজরে
সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ!
নিম্নে এক নজরে উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো-
সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক: সাইয়্যিদাতুনা হযরত মাইমূনাহ্ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র লক্বব মুবারক: উম্মুল মু’মিনীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আত্ব ত্বাহিরাহ, আত্ব ত্বইয়্যিবাহ্, মালিকাতুল জান্নাহ, মালিকাতুল কায়িনাত এছাড়াও আরো অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ!
যেই সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ সম্মানিত পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম: সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম: সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত বংশ মুবারক: বনূ হিলাল। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ৩১ বছর পূর্বে ৩রা রজবুল হারাম শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ)। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত স্থান মুবারক: সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত অবস্থান মুবারক: সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ এবং সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ: সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সূচনালগ্নে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ‘আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ: ৭ম হিজরী শরীফ উনার ১৬ই যিলক্বদ শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ রাত)। সুবহানাল্লাহ!
‘আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আ’যীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার সম্মানিত বয়স মুবারক: ৫০ বছর ৪ মাস ১৩ দিন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া: ৩ বছর ৩ মাস ২৬ দিন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: ৫১ হিজরী শরীফ উনার ১৯শে যিলহজ্জ শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ)। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত স্থান মুবারক: সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে ১০ মাইল দূরে সম্মানিত ও পবিত্র সারিফ নামক স্থানে। সুবহানাল্লাহ! এখানেই উনার ‘আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আ’যীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ!
দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক: ৯৪ বছর ৫ মাস ১৬ দিন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে ১০ মাইল দূরে সম্মানিত ও পবিত্র সারিফ নামক স্থানে। সুবহানাল্লাহ!

*************************

৪. মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-১

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلنَّبِـىُّ اَوْلـٰى بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُهۤٗ اُمَّهٰتُهُمْ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মু’মিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়ে অধিক প্রিয়, উনাদের মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার মহাসম্মানিতা ‘আযওয়াজুম মুত্বহহারাত’ (হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম) উনারা হচ্ছেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
 হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট ১৩ জন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার মুবারক ধারাবাহিকক্রম অনুযায়ী উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আছ ছালিছাহ্ ‘আশার তথা ১৩তম’। এ জন্য উনাকে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। তিনি সকলের মাঝে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম’ হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার মূল মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসম বা নাম মুবারক হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত মাইমূনাহ্ আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মাহবূব  হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিনী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! উনাকে সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করা, উনার সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ! তাই উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক জানাও সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পিতা হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ ইবনে হায্ন আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ ইবনে হায্ন আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন বনূ হিলাল গোত্রের সবচেয়ে সম্মানিত ও অনুসরণীয় বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবাহনাল্লাহ! উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় মুবারক হচ্ছে তিনি হচ্ছেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার দিক থেকে ১৮তম পুরুষে যেয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার ৭ম পুরুষ হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত হিলাল ইবনে ‘আমির আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত হিলাল ইবনে ‘আমির আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন আরবের প্রসিদ্ধ গোত্র ‘বনূ হিলাল’ গোত্রের মহাসম্মানিত প্রথম পুরুষ। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক অনুযায়ী উনার সম্মানিত বংশ মুবারক উনার নামকরণ মুবারক করা হয় ‘বনূ হিলাল’ হিসেবে। সুবহানাল্লাহ! এজন্য উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে ‘আল হিলালিয়্যাহ’ বলা হয়। সুবাহনাল্লাহ! যেমন- কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
أم المؤمنين سيدتنا حَضْرَتْ ميمونة بنت الحارث الهلالية عليها السلام
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ ‘আশার সাইয়্যিদাতুনা হযরত মাইমূনাহ্ বিনতে হারিছ আল হিলালিয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/২০৮, দালাইলুন নুবুওওয়াহ্ লিল বাইহাক্বী ৭/২৮৯, সীরাতে ইবনে ইসহাক্ব ৫/২৪৭, মুসনাদে আহমদ ৬/৩২৯, আখ্বারু মাক্কাহ্ ২/২১৩, আর রওদ্বুল উন্ফ ১/৪৩১, আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ ২/৭৮১, ‘উয়ূনুল আছার ২/১৫৮, নিহায়াতুল ঈজায ১/৩৩৯, বাহ্জাতুল মাহাফিল ১/৩৭৯, তারীখুল খ¦মীস ২/২৯৪, মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ্ ১/৫০৩, শারহুয যারক্বানী ৭/১৬১, শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ ৩/৬১, বিদায়াহ্-নিহায়াহ্ ৫/৩০০, সিমতুন নুজূম ১/৪৭০ ইত্যাদী)
হযরত ইমাম আল্লামা যারক্বানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
"الهلالية"  عليها السلام نسبة إلى جدها هلال عليه السلام
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে ‘আল হিলালিয়্যাহ’ বলা হয় উনার মহাসম্মানিত পূর্বপুরুষ সাইয়্যিদুনা হযরত হিলাল আলাইহিস সালাম উনার সাথে নিসবত করে।” সুবহানাল্লাহ! (শরহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব ৪/৪১৮)
আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার ৮ম পুরুষ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আমির ইবনে ছ’ছ‘আহ্ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক অনুযায়ী উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনাকে ‘আল আমিরিয়্যাহ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! যেমন-
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
أم المؤمنين سيدتنا حَضْرَتْ ميمونة بنت الحارث بن حزن الهلالية العامريّة عليها السلام
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ ‘আশার সাইয়্যিদাতুনা হযরত মাইমূনাহ্ বিনতে হারিছ ইবনে হায্ন আল হিলালিয়্যাহ্ আল ‘আমিরিয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (জাম‘উল ওসায়িল ফী শরহিস শামায়িল ১/২৪৯, মুন্তাহাস সূল ‘আল ওয়াসায়িলিল উছূল ২/২৫০)

মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি কে, যদিও এ বিষয়ে অনেকে অনেক ইখতিলাফ করেছেন, তবে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে- উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম হচ্ছেন- ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন উনার সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে একমাত্র তিনিই সেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক যিনি দুইজন মহাসম্মানিতা উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিমাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ তিনি হচ্ছেন উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার এবং  উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! এদিক থেকে তিনি ছিলেন এক অনন্য বেমেছাল শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুর্যূগী-সম্মান মুবারক এবং বংশীয় পবিত্রতা মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ বর্ণিত রয়েছে,
التي توصف بأنها أكرم عجوز في الأرض أصهاراً. فسيدتنا  حَضْرَتْ هند بنت عوفٍ عليها السلام هذه أم كل من:
أم المؤمنين سيدتنا  حَضْرَتْ زينب بنت خزيمة الهلالية عليها السلام زوج النبى صلى الله عليه وسلم
أم المؤمنين سيدتنا  حَضْرَتْ ميمونة بنت الحارث زوج النبى صلى الله عليه وسلم
سيدتنا  حَضْرَتْ أسماء بنت عميس الخثعمية رضي الله تعالى عنها، تزوجت من حضرت جعفر بن أبي طالب رضي الله تعالى عنه  ، ثم تزوجها سيدنا حضرت أبي بكر الصديق  عليه السلام ثم تزوجها سيدنا حضرت علي بن أبي طالب كرم الله وجهه عليه السلام
سيدتنا حضرت سلمى بنت عميس الخثعمية رضي الله تعالي عنه، زوج سيدنا حضرت حمزة بن عبد المطلب. عليه السلام
أم الفضل سيدتنا  حَضْرَتْ لبابة الكبرى بنت الحارث الهلالية رضي الله تعالى عنها، زوج سيدنا حضرت العباس بن عبد المطلب عليه السلام 
 سيدتنا  حَضْرَتْ لبابة الصغرى بنت الحارث الهلالية رضي الله تعالى عنها ، سيدنا حضرت أم خالد بن الوليد رضي الله تعالى عنه
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আওফ আলাইহাস সালাম তিনি এমন সুমহান মহাসম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক যে, উনার সম্মানিত প্রশংসা মুবারক করা হয় এভাবে- ‘নিশ্চয়ই তিনি হচ্ছেন আত্মীয়তার দিক থেকে দুনিয়ার যমীনে সবচেয়ে সম্মানিতা মহিলা।’ সুবহানাল্লাহ! কেননা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আওফ আলাইহাস সালাম তিনি যেই সমস্ত মহাসম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক উনাদের মহাসম্মানিতা আম্মাজান ছিলেন উনারা হচ্ছেন,
১. উম্মুল মু‘মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি। যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা যাওজাতুম মুত্বহ্হারত (উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম) ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
২. উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি। যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা যাওজাতুম মুত্বহ্হারত (উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম) ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
৩. সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা’ বিনতে ‘উমায়েস আল খ¦ছ‘আমিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা। তিনি সর্বপ্রথম হযরত জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার আহলিয়াহ্ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর (উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার পর) সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর (উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর) ইমামুল আউওয়াল মিন আহ্লি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
৪. সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে ‘উমায়েস আল খ¦ছ‘আমিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। তিনি ছিলেন, সাইয়্যিদুশ শুহাদা’ সাইয়্যিদুনা হযরত হামযাহ্ ইবনে ‘আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আহলিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা। সুবহানাল্লাহ!
৫. সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল লুবাবাহ্ কুবরা বিনতে হারিছ আল হিলালিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। তিনি ছিলেন, খ¦াতিমুল মুহাজিরীন সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্বাস ইবনে ‘আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা। সুবহানাল্লাহ!
৬. সাইয়্যিদাতুনা হযরত লুবাবাহ্ ছুগরা বিনতে হারিছ আল হিলালিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। তিনি ছিলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত খ¦ালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিতা আম্মাজান। সুবহানাল্লাহ!
আল্লামা দিয়ার বাক্রী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ: ৯৬৬ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘তারীখুল খমীস শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
فكان يقال: أكرم عجوز في الأرض أصهارا: سيدتنا حضرت هند الجرشية عليهاالسلام، لأن أصهارها: رسول الله صلى الله عليه وسلم، و سيدنا حضرت حمزة عليه السلام ، وسيدنا حضرت علي عليه السلام ، وسيدنا حضرت جعفر رضي الله تعالي عنه، وسيدنا حضرت أبو بكرالصديق عليه السلام ، وسيدنا حضرت العباس عليه السلام ، و سيدنا حضرت شداد بن الهاد رضي الله تعالي عنه.
 অর্থ: “এ কথা প্রচলিত ছিলো যে, দুনিয়ার যমীনে আত্মীয়তার দিক থেকে সবচেয়ে সম্মানিতা মহিলা হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আওফ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! কেননা উনার মহাসম্মানিত আত্মীয় হচ্ছেন-
১. স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
২. সাইয়্যিদুশ শুহাদা’ সাইয়্যিদুনা হযরত হামযাহ্ ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৩. সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি। সুবহানাল্লাহ! 
৫. সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! 
৬. সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৭. সাইয়্যিদুনা হযরত শাদ্দাদ ইবনে হাদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা ‘আনহু তিনি।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস ১/২৬৭)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
سيدتنا حضرت هند بنت عوف بن زهير بن الحارث عليها السلام، التي قيل عنها إنها أكرم عجوز في الأرض أصهارا، حيث إن أصهارها: رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسيدنا حضرت أبو بكر الصديق عليه السلام، وسيدنا حضرت حمزةعليه السلام، و سيدنا حضرت العباس عليه السلام، و سيدنا حضرت جعفر رضي الله تعالي عنه، و سيدنا حضرت علي بن أبي طالب عليه السلام أجمعين. وكان لها أيضا أصهار آخرون من المبرزين وذوي المكانة والمنزلة بين أقوامهم.
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ ইবনে যুহাইর ইবনে হারিছ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ বলা হয় যে, ‘নিশ্চয়ই তিনি হচ্ছেন আত্মীয়তার দিক থেকে দুনিয়ার যমীনে সবচেয়ে সম্মানিতা মহিলা।’ সুবহানাল্লাহ! কেননা উনার মহাসম্মানিত আত্মীয় হচ্ছেন-
১. স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
২. সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৩. সাইয়্যিদুশ শুহাদা’ সাইয়্যিদুনা হযরত হামযাহ্ ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি।
৫. সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি। 
৬. সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
এছাড়াও উনার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিলো উনাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে যাঁরা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ, সম্মানিত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের সাথে।” সুবহানাল্লাহ! (নিসাউন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন বনূ হিম্ইয়ার গোত্রের। সুবহানাল্লাহ! উনার ২৯তম পূর্বপুরুষ সাইয়্যিদুনা হযরত হিম্ইয়ার ইবনে সাবা’ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত হূদ আলাইহিস সালাম উনার বংশধর। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুনা হযরত হূদ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত সাম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বংশধর। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত হিম্ইয়ার আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক অনুযায়ী পরবর্তীতে উনার বংশ মুবারক উনার নামকরণ মুবারক করা হয় ‘বনূ হিমইয়ার’ হিসেবে। সেই দিকে নিসবত মুবারক রেখে সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম উনাকে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আল হিম্ইয়ারিয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! আর উনার ৭ম পুরুষ সাইয়্যিদুনা হযরত জুরাশ ইবনে আসলাম আলাইহিস সালাম উনার দিকে নিসবত করে উনাকে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আল জুরাশিয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ!

*********************************************
৫ .মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-২

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিতা আখাওয়াত বা বোন আলাইহিন্নাস সালাম
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনারা ছিলেন মোট ১২ বোন। সুবহানাল্লাহ! উনারা হচ্ছেন-
১. উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
২. সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল লুবাবাহ্ কুবরা বিনতে হারিছ আল হিলালিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। তিনি ছিলেন খাতিমুল মুহাজিরীন সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্বাস ইবনে ‘আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ্। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ফযল ইবনে আব্বাস  রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত ‘উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত মা’বাদ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত কুছাম ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুর রহমান ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল লুবাবাহ্ কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার সম্মানিত আওলাদ। সুবহানাল্লাহ!
৩. সাইয়্যিদাতুনা হযরত লুবাবাহ্ ছুগরা বিনতে হারিছ আল হিলালিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিতা আম্মাজান। সুবহানাল্লাহ!
৪. সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আছমা বিনতে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা। কেউ কেউ বলেছেন, তিনিই হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত লুবাবাহ্ ছুগরা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা।
৫. উম্মু হুফাইদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত হুযাইলাহ্ বিনতে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা।
৬. উম্মু যিয়াদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আয্যাহ্ বিনতে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা। এবং
৭. সাইয়্যিদাতুনা হযরত র্বাযাহ্ বিনতে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা। উনার সম্মানিত আওলাদ হচ্ছেন হযরত ইয়াযীদ ইবনে আছাম্ম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি এবং উপরে বর্ণিত ৬ জন উনারা হচ্ছেন সহোদর বা আপন বোন। সুবহানাল্লাহ! এ হিসেবে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনিসহ উনারা মোট ৭ জন হচ্ছেন আপন বোন। সুবহানাল্লাহ! তবে কেউ কেউ এর ব্যতিক্রমও বলেছেন।
আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার বৈপিত্রেয় বোন হচ্ছেন-
১. উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে খুযাইমাহ্ আলাইহাস সালাম)। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, 
قَالَ اَبُو الحسن علي بْن عبد العزيز الجرجاني النسابة كانت ام المؤمنين سيدتنا حضرت زينب بنت خزيمة عليها السلام اخت ام المؤمنين سيدتنا حضرت ميمونة بنت الحارث عليها السلام لامها
অর্থ: “নসববীদ হযরত ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল আযীয জুরজানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা বৈপিত্রেয় বোন। অর্থাৎ মায়ের দিক থেকে বোন।” সুবহানাল্লাহ! (আল ইস্তি‘য়াব ৪/১৮৫৩, আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ্ ৪/১১০, তারীখুল খমীস ১/২৬৬, শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব ৪/২১৬ ইত্যাদী)
২. সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা বিনতে ‘উমায়েস আল খ¦ছ‘আমিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। তিনি সর্বপ্রথম হযরত জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার আহলিয়াহ্ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ইবনে জা’ফর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আওন ইবনে জা’ফর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা ৩ জন সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর (উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার পর) সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ইবনে আবূ বকর আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর (উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর) ইমামুল আউওয়াল মিন আহ্লি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়াহ্ইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আওন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
৩. সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে ‘উমায়েস আল খ¦ছ‘আমিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। তিনি সর্বপ্রথম সাইয়্যিদুশ শুহাদা’ সাইয়্যিদুনা হযরত হামযাহ্ ইবনে ‘আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আহলিয়াহ্ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমাতুল্লাহ বিনতে হামায্হ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা’ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের পর সাইয়্যিদুনা হযরত শাদ্দাদ ইবনে হাদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুর রহমান ইবনে শাদ্দাদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা ২ জন সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
৪. সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালামাহ্ বিনতে ‘উমাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা।
৫. কেউ কেউ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সুলাইমা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার নাম মুবারকও উল্লেখ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! সে হিসেবে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিতা বৈপিত্রেয় বোন উনারা ৫ জন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনিসহ উনারা ছিলেন মোট ১২ বোন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের প্রত্যেকেরই আম্মাজান ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ভাই:
স্বাভাবিকভাবে কিতাবে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার দুইজন সম্মানিত ভাই উনাদের বর্ণনা পাওয়া যায়। সুবহানাল্লাহ! উনারা হচ্ছেন-
১. সাইয়্যিদুনা হযরত সায়িব ইবনে হারিছ ইবনে হায্ন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি। সাইয়্যিদুনা হযরত খাতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম) তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফার‘আহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত সায়িব ইবনে হারিছ ইবনে হায্ন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট সম্মানিত শাদী মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ!
২. সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বত্বান ইবনে হারিছ ইবনে হায্ন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু।
উনারা দু’জন হচ্ছেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ভাই। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
পৃথিবীর কোনো কিতাবে উম্মুল মু’মিনীন আস সাবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারক উল্লেখ নেই। এটা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত আফসোসের বিষয় যে, মুসলমানরা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারক সংরক্ষণ করতে পারেনি। না‘ঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি হচ্ছেন একমাত্র যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে, আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে উনার রয়েছেন বেমেছাল হাক্বীক্বী দায়িমী তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক এবং যিয়ারত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে একমাত্র উনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তারীখ মুবারকসমূহ প্রকাশ করা। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ৩১ বছর পূর্বে ৩রা রজবুল হারাম শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ) বনূ হিলাল গোত্রে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত শৈশবকাল মুবারক
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত শৈশবকাল মুবারক উনার মহাসম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের এবং উনার সম্মানিত ভাই-বোন উনাদের সাথে বনূ হিলাল গোত্রে অতিবাহিত করেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সূচনালগ্নেই সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার পূর্বে উনার সম্মানিত শাদী মুবারক
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার পূর্বে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার কয়টি শাদী মুবারক হয় এবং কার কার সাথে হয়, এ বিষয়ে অনেক ইখতিলাফ রয়েছে। তবে অধিকাংশের মতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার পূর্বে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার দুইটি শাদী মুবারক হয়। সর্বপ্রথম শাদী মুবারক হয় মাস‘ঊদ ইবনে ‘আমর ইবনে ‘উমায়ের ছাক্বাফীর সাথে। তার সাথে জুদায়ী হওয়ার পর উনার শাদী মুবারক হয় কুরাইশ বংশের ‘আমিরী শাখার হযরত আবূ রুহ্ম ইবনে আব্দিল উয্যা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে। উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وَكَانَتْ مَيْمُونَةُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ عِنْدَ مَسْعُودِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُمَيْرٍ الثَّقَفِيِّ، فَفَارَقَهَا وَخَلَفَ عَلَيْهَا أَبُو رُهْمِ بْنُ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ أَبِي قَيْسِ بْنِ عَبْدِ وُدِّ بْنِ نَصْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ حِسْلِ بْنِ عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ، فَتُوُفِّيَ عَنْهَا، فَتَزَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “জাহিলী যুগে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি মাস‘ঊদ ইবনে ‘আমর ইবনে ‘উমায়ের ছাক্বাফীর নিকট ছিলেন। তার থেকে জুদা হওয়ার পর উনার সম্মানিত শাদী মুবারক হয় হযরত আবূ রুহ্ম ইবনে আব্দুল উয্যা ইবনে আবূ ক্বইস ইবনে আবদে উদ্দ ইবনে নছ্র ইবনে মালিক ইবনে হিস্ল ইবনে ‘আমির ইবনে লুওয়াই ‘আমিরী কুরাইশী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে। তিনি সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (‘উয়ূনুল আছার ২/৩৭৫, জাম‘উল ওয়াসায়িল ফী শরহিস শামায়িল ২/৬৮, তালক্বীহ্ ইত্যাদী)
*******************************************************************

৬.মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-৩

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ:
৭ম হিজরী শরীফ উনার ১৬ই যিলক্বদ শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ রাত) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন ৫০ বছর ৪ মাস ১৩ দিন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ৩ বছর ৩ মাস ২৬ দিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত তাক্বওয়া মুবারক
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল সম্মানিত তাক্বওয়া মুবারক উনার বিষয়ে উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,
إِنَّهَا كَانَتْ مِنْ أَتْقَانَا لِلَّهِ، وَأَوْصَلِنَا لِلرَّحِمِ
 অর্থ: “নিশ্চয়ই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি আমাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনাকে সবচেয়ে বেশী ভয় করতেন অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি মুত্তাক্বী ছিলেন এবং সবচেয়ে বেশী আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতেন (মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৩৪, মুসনাদে হারিছ ১/৫১৩, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৪/৯৪, ইছাবাহ্ ৮/২৪ ইত্যাদী)
হযরত ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘ইছাবাহ্’ উনার মধ্যে বলেন, ‘এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ খানা ছহীহ সনদে বর্ণিত।’ সুবহানাল্লাহ! (ইছাবাহ্ ৮/২৪)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একই পাত্র মুবারক থেকে পানি নিয়ে সম্মানিত গোসল মুবারক করা:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنِ حضرت ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه عَنْ ام الؤمنين سيدتنا حضرت الثالثة عشر عليها السلام (سيدتنا حضرت مَيْمُونَةَ عليها السلام) قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি (উনার সম্মানিত খালা) উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ আমরা একই সম্মানিত পাত্র মুবারক থেকে পানি নিয়ে সম্মানিত গোসল মুবারক করতাম।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ৪৪/৩৭৮)

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকেসহ সমস্ত কায়িনাতবাসীকে তা’লীম দান:
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘মুসনাদে আহমদ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
عَنْ حضرت نُدبَةَ رحمة الله عليها مَوْلَاةِ ام الؤمنين سيدتنا حضرت الثالثة عشر عليها السلام (سيدتنا حضرت مَيْمُونَة عليها السلام) زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: أَرْسَلَتْنِي ام الؤمنين سيدتنا حضرت الثالثة عشر عليها السلام (سيدتنا حضرت مَيْمُونَةُ بِنْتُ الْحَارِثِ عليها السلام) إِلَى امْرَأَةِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَكَانَتْ بَيْنَهُمَا قَرَابَةٌ، فَرَأَيْتُ فِرَاشَهَا مُعْتَزِلًا فِرَاشَهُ، فَظَنَنْتُ أَنَّ ذَلِكَ لِهِجْرَانٍ، فَسَأَلْتُهَا، فَقَالَتْ: لَا، وَلَكِنِّي حَائِضٌ، فَإِذَا حِضْتُ، لَمْ يَقْرَبْ فِرَاشِي، فَأَتَيْتُ ام الؤمنين سيدتنا حضرت الثالثة عشر عليها السلام (سيدتنا حضرت مَيْمُونَة عليها السلام) فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهَا، فَرَدَّتْنِي إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَتْ: أَرَغْبَة عَنْ سُنَّةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ لَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنَامُ مَعَ الْمَرْأَةِ مِنْ نِسَائِهِ الْحَائِضِ، وَمَا بَيْنَهُمَا إِلَّا ثَوْبٌ مَا يُجَاوِزُ الرُّكْبَتَيْنِ
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার দাসী হযরত নুদ্বাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে (উনার সম্মানিতা বোন উনার ছেলে তথা উনার সম্মানিত ভাগিনা) সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার নিকট পাঠালেন। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ্ উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের সম্পর্ক খুব গভীর ছিলো। কিন্তু আমি দেখলাম যে, উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার বিছনা মুবারক এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত বিছানা মুবারক থেকে পৃথক। অর্থাৎ উনারা উভয়ে পৃথক পৃথক বিছানায় শয়ন করেছেন। ফলে আমি ভাবলাম যে, নিশ্চয়ই এটা জুদায়ীর লক্ষণ। অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মাঝে জুদায়ী ঘটতে পারে। তখন আমি উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ রহমতুল্লাহি আলাইহা উনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি জবাবে বললেন যে, না। বরং আমি স্বাভাবিক মাজুরতার মধ্যে আছি। যখন আমি স্বাভাবিক মাজুরতার মধ্যে থাকি, তখন তিনি আমার বিছানার নিকটবর্তী হন না। (যার কারণে আমরা উভয়ে এখন আলাদা বিছানায় শয়ন করেছি।) তারপর আমি যখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার নিকট এসে এ বিষয়টা আলোচনা করলাম। অর্থাৎ উনাকে পুরো বিষয়টা খুলে বললাম, তখন তিনি আমাকে ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা উনার নিকট পাঠালেন। (উনাকে ডেকে আনার জন্য। যখন হযরত ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা তিনি উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক আসলেন, তখন) উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি (হযরত ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা উনাকে উদ্দেশ্য করে) বললেন, আপনি কি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সুন্নত মুবারক থেকে দূরে সড়ে গেছেন? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখনও হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে (একই সম্মানিত ও পবিত্র বিছানা মুবারক-এ)  ঘুমাতেন, যখন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এই বিশেষ শান মুবারক গ্রহণ করতেন। এই অবস্থায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মাঝে শুধু একটি সম্মানিত ও পবিত্র কাপড় মুবারক থাকতো, যা দুই হাটু মুবারক অতিক্রম করতো। সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ৪৪/৪০২, আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ২৪/১২)
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত ইমাম আব্দুর রাজ্জাক্ব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত ইমাম ত্ববারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারাসহ আরো অন্যান্য ইমাম মুজতাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উনাদের নিজ নিজ কিতাবে উল্লেখ করেছেন,
عَنْ حضرت مَنْبُوذٍ رحمة الله عليه عَنْ أُمِّهِ قَالَتْ كُنْتُ عِنْدَ ام الؤمنين سيدتنا حضرت الثالثة عشر عليها السلام (سيدتنا حضرت مَيْمُونَة عليها السلام) فَأَتَاهَا حضرت ابْنُ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه فَقَالَتْ: يَا بُنَيَّ، مَا لَكَ شَعِثًا رَأْسُكَ؟ قَالَ: حضرت أُمُّ عَمَّارٍ رحمة الله عليها مُرَجِّلَتِي حَائِضٌ. قَالَتْ: أَيْ بُنَيَّ، وَأَيْنَ الْحَيْضَةُ مِنَ الْيَدِ؟ " كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُ عَلَى إِحْدَانَا وَهِيَ حَائِضٌ، فَيَضَعُ رَأْسَهُ فِي حِجْرِهَا، فَيَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَهِيَ حَائِضٌ،
অর্থ: “হযরত মানবূয রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সম্মানিতা আম্মাজান উনার থেকে বর্ণনা করেন। উনার আম্মাজান বলেন, একদা আমি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার নিকট ছিলাম। তখন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার নিকট আসলেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি  হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে উদ্দেশ্যে করেন, হে বৎস! কি ব্যাপর, আপনার মাথার চুল মুবারক এলোমেলো কেন? তিনি বলেন, হযরত উম্মু ‘আম্মার রহমাতুল্লাহি আলাইহা (আমার সম্মানিত আহলিয়াহ্) তিনি আমার চুল মুবারক পরিপাটি করে থাকেন। তিনি এখন স্বাভাবিক মাজুরতায় আছেন। তিনি বলেন, হে বৎস! হাতে কি কিছু থাকে?  আমরা যখন এই বিশেষ শান মুবারক-এ থাকতাম, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের নিকট আসতেন এবং আমাদের সম্মানিত কোল মুবারক-এ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাথা মুবারক) রাখতেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত মুবারক করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ৪৪/৩৯২, মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক্ব ১/৩২৫, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব ত্বাবারানী ২৪/১৪৪, মুসনাদে হুমাইদী ১/৩১৬, মুছান্নাফে আবী শায়বাহ্ ১/১৮৪ ইত্যাদী)
 মুসলিম শরীফসহ আরো অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,
عَنِ حضرت ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ امْرَأَةً اشْتَكَتْ شَكْوَى، فَقَالَتْ: إِنْ شَفَانِي اللهُ لَأَخْرُجَنَّ فَلَأُصَلِّيَنَّ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَبَرَأَتْ، ثُمَّ تَجَهَّزَتْ تُرِيدُ الْخُرُوجَ، فَجَاءَتْ ام الؤمنين سيدتنا حضرت الثالثة عشر عليها السلام (سيدتنا حضرت مَيْمُونَة عليها السلام) زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُسَلِّمُ عَلَيْهَا، فَأَخْبَرَتْهَا ذَلِكَ، فَقَالَتْ: اجْلِسِي فَكُلِي مَا صَنَعْت، وَصَلِّي فِي مَسْجِدِ الرَّسُولِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: ্রصَلَاةٌ فِيهِ أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنَ الْمَسَاجِدِ، إِلَّا مَسْجِدَ الْكَعْبَةِ
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক মহিলা অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তিনি বলেন, যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সুস্থ করেন, তাহলে আবশ্যই আমি বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ যেয়ে নামায আদায় করবো। তারপর উক্ত মহিলা তিনি যখন আরোগ্য লাভ করেন, তখন তিনি বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ-এ যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার নিকট এসে উনাকে সালাম মুবারক দিয়ে এই বিষয়ে উনাকে অবহিত করেন। তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত মহিলাকে বলেন, আপনি বসুন এবং আমি যা তৈরী করেছি তা খান। আর আপনি (বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ না যেয়ে) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ-এ নামায আদায় করুন। সুবহানাল্লাহ! কেনানা, নিশ্চয়ই আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি, ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নবীব শরীফ উনার মধ্যে নামায আদায় করা অন্যান্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ নামায আদায় করার চেয়ে হাজার গুন শ্রেষ্ঠ এবং উত্তম। তবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে কা’বা শরীফ উনার বিষয়টি আলাদা।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ ৪৪/৪০৮, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ১০/১৪১, জামি‘উল উছূল ১১/৫৪০, তারীখে বাগদাদ ২/১৯৯ ইত্যাদী)

**********************************************************

মালিকাতুল কায়িনাত, ক্বায়িদাতুল্লাহ ওয়া ক্বায়িদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা’ বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় লক্বব মুবারক

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَلِلّٰهِ الْاَسْـمَاءُ الْـحُسْنٰـى فَادْعُوْهُ بِـهَا.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার অনেক সুন্দর সুন্দর সম্মানিত নাম মুবারক তথা সম্মানিত লক্বব মুবারক রয়েছেন, তোমরা সেই সম্মানিত নাম মুবারক তথা সম্মানিত লক্বব মুবারক দ্বারা উনাকে আহ্বান মুবারক করো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আ’রাফ শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৮০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন অসীম, ঠিক তেমনিভাবে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের সংখ্যাও অসীম। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম মাক্বাম হওয়ার কারণে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের সংখ্যাও অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এবং সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে তথা উম্মুল মু‘মিনীন আলাইহাস সালাম হওয়ার কারণে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার সংখ্যাও অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত সম্মানিত লক্বব মুবারক রয়েছেন, সমস্ত সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!
 এখানে উনার কতিপয় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বরকতময় লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হলো:
১. اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ عَلَيْهَا السَّلَامُ  (উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম) একমাত্র যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
২. اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ اَلثَّالِثَةُ عَشَرَ عَلَيْهَا السَّلَامُ  (উম্মুল মু‘মিনীন আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার মুবারক ধারাবাহিকক্রম অনুযায়ী উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আছ ছালিছাহ্ ‘আশার তথা ১৩তম’। এ জন্য উনাকে ‘উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ!
৩. اَهْلُ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ(আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
৪. سَيِّدَةُ النِّسَاءِ عَلَى الْعَالَمِيْنَ  (সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন) সারা কায়িনাতে যত মহিলা রয়েছেন উনাদের প্রত্যেকের সাইয়্যিদাহ্। সুবহানাল্লাহ!
৫. سَيِّدَةُ نِسَاءِ اَهْلِ الْجَنَّةِ  (সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ) জান্নাতবাসী সমস্ত মহিলাগণ উনাদের সাইয়্যিদাহ। সুবহানাল্লাহ!
৬. اٰيَةُ اللهِ  (আয়াতুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নিদর্শন মুবারক।
৭. اَلْبُشْرٰى  (আল বুশরা)- সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক, সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক দানকারিণী।
৮. جَامِعةُ النِّعْمَةِ وَالنِّسْبَةِ (জামি‘য়াতুন নি’মাতি ওয়ান নিসবাহ)- সমস্ত সম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক ও নিবসত মুবারক উনাদের মালিকাহ, সমস্ত সম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক ও নিবসত মুবারক দানকারিণী।
৯. اَلْـحَافِظَةُ (আল হাফিযাহ)- সর্বোত্তম হিফাযতকারিণী, সর্বশ্রেষ্ঠ সংরক্ষণকারিণী।
১০. اَلْـحَامِدَةُ  (আল হামিদাহ)- সর্বোত্তম প্রশংসাকারিণী।
১১. حَبِيْبَةُ اللهِ  (হাবীবাতুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীবাহ্।
১২. اَلْـحَلِيْمَةُ  (আল হালীমাহ)- পরম ধৈর্যশীলা, মহাসহনশীলা।
১৩. اَلْـخَالِصَةُ  (আল খ¦ালিছাহ)- খালিছাহ, পূত-পবিত্রা, পবিত্রতা দানকারিণী।
১৪. اَلْـخَبِيْرَةُ  (আল খ¦বীরাহ)- মহাবিচক্ষণা।
১৫. اَلْـخَلِيْلَةُ  (আল খ¦লীলাহ)- আখাছ্ছুল খাছ মাহবূবাহ।
১৬. خَلِيْلَةُ الرَّحْـمٰنِ  (খ¦লীলাতুর রহমান)- মহান আল্লাহ উনার আখাছ্ছুল খাছ মাহবূবাহ।
১৭. اَلذَّاكِرَةُ (আয যাকিরাহ)- সর্বোত্তম যিকিরকারিণী।
১৮. ذِكْرُ اللهِ  (যিক্রুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত যিকির মুবারক। অর্থাৎ উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই যিকরুল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!
১৯. ذَاتُ الْـخلق العظيم  (যাতুল খুলুক্বিল আযীম)- সর্বোত্তম সুমহান চরিত্র মুবারক উনার অধিকারিণী।
২০. ذَاتُ السَّكِيْنَةِ  (যাতুস সাকীনাহ)- সাকীনাহ, শান্তি, প্রশান্তি, ইতমিনান মুবারক উনাদের মালিকাহ।
২১. ذَاتُ الْعِزَّةِ  (যাতুল ‘ইযযাহ)- সম্মানিত ইজ্জত মুবারক উনার মালিকাহ।
২২. ذَاتُ الْفَضْلِ  (যাতুল ফাদ্বল)- সম্মানিত ফযল মুবারক উনার মালিকাহ।
২৩. اَلرَّافِعَةُ (আর রাফি‘য়াহ)- সুউচ্চ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার অধিকারিণী এবং সুউচ্চ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক দানকারিণী।
২৪. رَحْـمَةُ الْاُمَّةِ (রহমাতুল উম্মাহ)- সমস্ত উম্মতের জন্য সম্মানিত রহমত মুবারক।
২৫. لِّـلْـعَـالَـمِيْنَ ٌ رَحْـمَة (রহমাতুল্লিল ‘আলামীন)- সমস্ত আলমের জন্য সম্মানিত রহমত মুবারক।
২৬. رَفِيْقَةُ اللهِ (রফীক্বতুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার রফীক্বাহ, হাবীবাহ।
২৭. رَفِيْعَةُ الدَّرَجَاتِ (রফী‘য়াতুদ দারাজাত)- সকল সুউচ্চ সুমহান মর্যাদা-মর্তাবা ও মাক্বামাত মুবারক উনাদের মালিকাহ।
২৮. اَلزَّاهِدَةُ (আয যাহিদাহ)- দুনিয়াবিরাগিণী, মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে দায়িমীভাবে রুজু, মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে দায়িমীভাবে রুজু করানে ওয়ালা।
২৯. اَلـزَّكِـيَّةُ (আঝ ঝাকিয়্যাহ)- পূত-পবিত্রা, মহাবিচক্ষণা।
৩০. اَلسَّابِقَةُ بِالْـخَيْرَاتِ (আস সাবিক্বাতু বিল খইরাত)- খইর, কল্যাণ, ভালাই ইত্যাদি সর্ববিষয়ে অগ্রগামিণী।
৩১. اَلسَّاجِدَةُ (আস সাজিদাহ)- সর্বোত্তম সিজদাকারিণী।
৩২. اَلسَّخِىَّةُ(আস সাখি¦য়্যাহ)- মহাদানশীলা।
৩৩. سَعِيْدَةُ  (আস সাঈদাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ সুখী, সর্বশ্রেষ্ঠ নেকবখ্ত, সৌভাগ্যবান।
৩৪. اَلسَّلَامُ (আস সালাম)- সর্বশ্রেষ্ঠ শান্তিদাতা।
৩৫. اَلسَيِّدَةُ (আস সাইয়্যিদাহ)- সাইয়্যিদাহ, সর্বশ্রেষ্ঠা।
৩৬. سَيِّدَةُ الثَّقَلَيْنِ (সাইয়্যিদাতুছ ছাক্বলাইন)- দুই প্রধান সৃষ্টিজীব- জিন ও ইনসানের সাইয়্যিদাহ।
৩৭. سَـيِّـدَةُ الْكَوْنَيْنِ (সাইয়্যিদাতুল কাওনাঈন)- দুই জগতের সাইয়্যিদাহ।
৩৮. اَلشَّافِعَةُ (আশ শাফি‘য়াহ)- সর্বোত্তম সুপারিশকারিণী, সর্বশ্রেষ্ঠ শাফা‘য়াতকারিণী।
৩৯. اَلشَّافِـيَةُ (আশ শাফিয়াহ)- শিফাদানকারিণী, আরোগ্যদানকারিণী, সমস্ত উম্মতের জন্য যাহিরী-বাতিনী আরোগ্যদানকারিণী।
৪০. اَلشَّاكِرَةُ (আশ শাকিরাহ)- যথার্থ পুরস্কারদানকারিণী, যথাযথ শুকরিয়া আদায়কারিণী।
৪১. اَلشَّاهِدَةُ (আশ শাহিদাহ)- উপস্থিত, হাযির-নাযির, সাক্ষ্যদানকারিণী।
৪২. اَلشَّرِيْفَةُ (আশ শারীফাহ)- সর্বোচ্চ শরীফ, সর্বোচ্চ মর্যাদাবান, সর্বোচ্চ সম্ভ্রান্তশীলা।
৪৩. اَلصَّابِرَةُ (আছ ছাবিরহ)- চরম ধৈর্যশীলা।
৪৪. اَلصَّاحِبَةُ (আছ ছাহিবাহ)- মালিকাহ, অধিকারিণী।
৪৫. صَاحِبَةُ الشَّفَاعَةِ (ছাহিবাতুশ শাফা‘আহ)- সম্মানিত শাফায়াত মুবারক উনার মালিকাহ।
৪৬. صَاحِبَةُ الْفَضِيْلَةِ (ছাহিবাতুল ফাদ্বীলাহ)- সম্মানিত ফযীলত মুবারক উনার মালিকাহ।
৪৭. صَاحِبَةُ الْـخَيْرِ (ছাহিবাতুল খইর)- সমস্ত কল্যাণ মুবারক উনাদের মালিকাহ।
৪৮. صَاحِبَةُ الْكَوْثَرِ (ছাহিবাতুল কাওছার)- সম্মানিত কাওছার মুবারক উনার মালিকাহ, সম্মানিত খাইরে কাছীর মুবারক তথা সমস্ত সম্মানিত ভালাই বা কল্যাণ মুবারক উনাদের মালিকাহ।
৪৯. صَاحِبَةُ الدَّرَجَةِ الْعَالِيَةِ الرَّفِيْعَةِ (ছাহিবাতুদ দারাজাতিল ‘আলিয়াতির রফী‘য়াহ) সুউচ্চ সুমহান সম্মানিত দারাজাত তথা সম্মান ও মাক্বামাত মুবারক উনার মালিকাহ।
৫০. اَلطَّاهِرَةُ (আত্ব ত্বাহিরাহ)- পূত-পবিত্রা, পূত-পবিত্রতাদানকারিণী।
৫১. اَلظَّاهِرَةُ (আয যাহিরাহ)- অত্যন্ত সুস্পষ্ট, উজ্জ্বল, সুউচ্চ মর্যাদাবান, সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়িনী।
৫২. اَلْعَادِلَةُ (আল ‘আদিলাহ)- চরম ন্যায়বিচারকারিণী, চরম ন্যায়পরায়ণা।
৫৩. اَلْعَارِفَةُ (আল ‘আরিফাহ)- পরিচিত, অবহিত, জ্ঞাত। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার হাক্বীক্বী সম্মানিত পরিচয় মুবারক লাভকারিণী, মহান আল্লাহ পাক উনার হাক্বীক্বী সম্মানিত পরিচয় মুবারক দানকারিণী।
৫৪. اَلْعَافِـيَةُ (আল ‘আফিয়াহ)- মাফকারিণী, ক্ষমাকারিণী।
৫৫. اَلْعَالِـمَةُ (আল ‘আলিমাহ)- ‘আলিমাহ, মহাজ্ঞানী।
৫৬. اَلْعَلِيْمَةُ (আল ‘আলীমাহ)- ‘আলীমাহ, সর্বজ্ঞাত।
৫৭. اَلْعَزِيْزَةُ (আল ‘আযীযাহ)- মাহবূবাহ, মহাসম্মানিতা, বেমেছাল মর্যাদা-মর্তবা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি মুবারক উনার অধিকারিণী, মালিকাহ।
৫৮. اَلْعَلِـيَّةُ (আল ‘আলিয়্যাহ)- সুউচ্চ, মহামর্যাদাবান, মহাসম্মানিতা।
৫৯. اَلْغَالِبَةُ (আল গ¦ালিবাহ)- গ¦ালিবাহ, মহাবিজয়িনী, সর্বাধিক প্রাধান্য বিস্তারকারিণী।
৬০. اَلْغَنِيَّةُ (আল গ¦নিয়্যাহ)- মহাসম্পদশালিনী, মহাধনী, অমুখাপেক্ষী, বেনিয়াজ।
৬১. اَلْفَاضِلَةُ (আল ফাদ্বিলাহ)- মহাসম্মানিতা, সুউচ্চ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার অধিকারিণী, সর্বশ্রেষ্ঠা, সর্বসেরা।
৬২. اَلْفَائِقَةُ (আল ফায়িক্বাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠা, অনন্যা।
৬৩. اَلْفَارِقَةُ (আল ফারিক্বাহ)- হক্ব ও নাহক্বের মাঝে পার্থক্যকারিণী।
৬৪. اَلْفَصِيْحَةُ (আল ফাছীহাহ)- সুভাষিণী, বিশুদ্ধভাষিণী।
৬৫. اَلْقَاسِمَةُ (আল ক্বাসিমাহ)- বণ্টনকারিণী।
৬৬. اَلْقَائِدَةُ  (আল ক্বায়িদাহ)- সাইয়্যিদাহ, মহানপরিচালিকা, সম্মানিত হিদায়াত উনার পথে পরিচালনাকারিণী।
৬৭. قَائِدَةُ الْـخَيْرِ (ক্বায়িদাতুল খইর)- কল্যাণের দিকে পরিচালনাকারিণী, যিনি সবাইকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যান।
৬৮. قَائِدَةُ اللهِ (ক্বায়িদাতু ইলাল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার  দিকে পরিচালনাকারিণী, যিনি সবাইকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে নিয়ে যান।
৬৯. قَائِدَةُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (ক্বায়িদাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে পরিচালনাকারিণী, যিনি সবাইকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে নিয়ে যান।
৭০. اَلْقَرِيْبَةُ (আল ক্বরীবাহ)- চিরনিকটবর্তী, অতি নিকটস্থ, অতি ঘনিষ্ঠ।
৭১. اَلْقَوِيَّةُ (আল ক্বওইয়াহ)- সর্বশক্তিমান, মহাশক্তিধর।
৭২. اَلْكَامِلَةُ (আল কামিলাহ)- পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণতাদানকারিণী।
৭৩. اَلْكَرِيْـمَةُ (আল কারীমাহ)- মহাসম্মানিতা, মহামর্যাদাবান, মহাদানশীলা।
৭৪. اَلْمُؤْتَـمَنَةُ (আল মু’তামানাহ)- চির বিশ্বস্ত, সর্বশ্রেষ্ঠা আমানাতদার, আমানতের যথাযথ হিফাযতকারিণী।
৭৫. اَلْمَأْمُوْنَةُ (আল মা’মূনাহ)- নিরাপদ, চির বিশ্বস্ত, আমানদানকারী, নিরাপত্তাদানকারী।
৭৬. اَلْـمُؤْمِنَةُ (আল মু’মিনাহ) সর্বশ্রেষ্ঠা ঈমানদার, সর্বশ্রেষ্ঠা মু’মিনাহ, সম্মানিত ঈমান মুবারক দানকারিণী।
৭৭. مَأْوَى الْجِنِّ وَالْاِنْسِ  (মা’ওয়াল জিন্নি ওয়াল ইন্স) জিন-ইনসানের আশ্রয়স্থল।
৭৮. اَلْمَاجِدَةُ (আল মাজিদাহ)- গৌরবময়ী, মহামর্যাদাবান, মহান, গৌরবান্বিত, মর্যাদাদানকারিণী।
৭৯. اَلْمُبَاركَةُ (আল মুবারিকাহ)- বরকতদানকারিণী, কল্যাণদানকারিণী।
৮০. اَلْمُبَارَكَةُ (আল মুবারকাহ)- বরকতময়, কল্যাণময়।
৮১. اَلْـمُبَشِّرَةُ  (আল মুবাশশিরাহ)- সুসংবাদদানকারিণী।
৮২. اَلْمُبَلِّغَةُ (আল মুবাল্লিগহ)- সম্মানিত দ্বীন উনার প্রতি আহ্বানকারিণী।
৮৩. اَلْمُتَبَسِّمَةُ (আল মুতাবাসসিমাহ)- হাস্যোজ্জ্বল, যিনি মুচকি হাসি মুবারক দেন।
৮৪. اَلْمُجَاهِدَةُ (আল মুজাহিদাহ)- মুজাহিদাহ, জেহাদকারিণী।
৮৫. اَلْمُجِيْبَةُ (আল মুজীবাহ)- জবাবদানকারিণী, সাড়াদানকারিণী, কবুলকারিণী।
৮৬. اَلْمَجِيْدَةُ  (আল মাজীদাহ)- মহামর্যাদাবান, মহীয়ান, গৌরবান্বিত, গৌরবময়ী।
৮৭. اَلْمَحْمُوْدَةُ (আল মাহমূদাহ)- চরম প্রশংসিত।
৮৮. اَلْمُخْتَارَةُ (আল মুখ¦তারহ)- মনোনীত, সর্বশ্রেষ্ঠা, শ্রেষ্ঠত্বদানকারিণী।
৮৯. اَلْمُخْتَصَّةُ  (আল মুখতাচ্ছাহ)- বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক, আখাছ্ছুল খাছ ব্যক্তিত্বা মুবারক।
৯০. اَلْـمَخْصُوْصَةُ بِالعِزَّةِ  (আল মাখ¦ছূছাতু বিল ‘ইজ্জাহ)- বিশেষ সম্মান-ইজ্জত মুবারক উনার অধিকারিণী, আখাছ্ছুল খাছ সম্মান-ইজ্জত, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনাদের মালিকাহ।
৯১. اَلْـمُرْشِدَةُ (আল মুরশিদাহ)- সৎ পথ প্রদর্শনকারিণী, হিদায়াতদানকারিণী।
৯২. اَلْـمُزَكِّيَةُ (আল মুযাক্কিয়াহ)- তাযকিয়াদানকারিণী, পবিত্রতাদানকারিণী।
৯৩. اَلْـمُسْتَجِيْبَةُ  (আল মুস্তাজীবাহ)- সাড়াদানকারিণী, জবাবদানকারিণী।
৯৪. اَلْمُسْتَفِيْضَةُ (আল মুস্তাফীযাহ)- ফয়েযদানকারিণী।
৯৫. اَلْمُسْتَقِيْمَةُ (আল মুস্তাক্বীমাহ)- সরল, সঠিক, ইস্তিকামত রাখনে ওয়ালা।
৯৬. اَلْمَسْعُوْدَةُ (আল মাস‘ঊদাহ)- সৌভাগ্যশীলা, সর্বশ্রেষ্ঠা ভাগ্যবান, সৌভাগ্যদানকারিণী।
৯৭. اَلْمَشْهُوْدَةُ  (আল মাশহূদাহ)- উপস্থিত, হাযির-নাযির।
৯৮. اَلْـمُشَفَّعَةُ  (আল মুশাফ্ফা‘আহ)- যেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক উনার সুপারিশ কবুল করা হয়।
৯৯. اَلْمُصْلِحَةُ (আল মুছলিহাহ)- ইছলাহদানকারিণী, সংশোধনকারিণী।
১০০. اَلْمُصَدِّقَةُ (আল মুছদ্দিক্বাহ)- সত্যায়নকারিণী।
১০১. مُطَهَّرٌ (আল মুত্বহ্হারহ)- পূত-পবিত্রা।
১০২. مُطَهِّرٌ (আল মুত্বহ্হিরহ্)- পূত-পবিত্রতাদানকারিণী।
১০৩. اَلْمَعْرُوْفَةُ (আল মা’রূফাহ)- পরিচিত, প্রসিদ্ধ, মশহূর।
১০৪. اَلْـمُعَزَّزَةُ (আল মু‘আয্যাযাহ)- মহাসম্মানিতা, মহামর্যাদাবান, সম্মান দানকারিণী, মর্যাদা দানকারিণী।
১০৫. اَلْمَعْشُوْقَةُ (আল মা’শূক্বাহ)- মা’শূক্বাহ, সকলের নিকট সর্বাধিক মাহবূবাহ।
১০৬. اَلْمُعَظَّمَةُ (আল মু’য়ায্যামাহ)- মহাসম্মানিতা, মহামর্যাদাবান, সম্মান দানকারিণী, মর্যাদা দানকারিণী।
১০৭. اَلْمُعَلِّمَةُ (আল মু‘য়াল্লিমাহ)- মু‘য়াল্লিমাহ, তা’লীমদানকারিণী।
১০৮. اَلْمُعِيْنَةُ (আল মু‘ঈনাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারিণী।
১০৯. اَلْـمُقَدِّسَةُ (আল মুক্বদ্দিসাহ)- উৎসর্গকারিণী, পবিত্রতাদানকারিণী।
১১০. اَلْـمُقَدَّسَةُ (আল মুক্বাদ্দাসাহ)- উৎসর্গকৃত, মহাপবিত্রা, পবিত্রতা দানকারিণী।
১১১. اَلْمُكَرَّمَةُ (আল মুর্কারমাহ)- মহাসম্মানিতা, সম্মান দানকারিণী।
১১২. اَلْمَالِكَةُ (আল মালিকাহ)- মালিকাহ, অধিকারিণী।
১১৩. مَالِكَةُ الْـجَنَّةِ (মালিকাতুল জান্নাহ)- সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মালিকাহ।
১১৪. مَالِكَةُ الْكَائِنَاتِ (মালিকাতুল কায়িনাত)- সমস্ত কায়িনাতের মালিকাহ।
১১৫. مَالِكَةُ جَامِعِ النِعَمِ(মালিকাতু জামিয়িন নি‘য়াম)- সমস্ত সম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক উনাদের মালিকাহ।
১১৬. اَلْـمُنْتَصِرَةُ (আল মুনতাছিরহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়িনী, মহাশক্তিধর।
১১৭. منّة الله (মিন্নাতুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পক উনার সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ মুবারক।
১১৮. اَلْـمُنْذِرَةُ (আল মুনযিরহ)- ভীতিপ্রদর্শনকারিণী, সতর্ককারিণী।
১১৯. اَلْـمُنِيْبَةُ (আল মুনীবাহ)- মালিকাহ, মুনীবাহ, সমস্ত কায়িনাত যেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক উনার গোলাম।
১২০. اَلْـمُغِيْثَةُ (আল মুগীছাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারিণী, ত্রাণকর্তা, উদ্ধারকারিণী।
১২১. اَلْـمُنِيْرَةُ (আল মুনীরহ)- আলোদানকারিণী, উজ্জ্বল, নূর দানকারিণী, হিদায়াত দানকারিণী, ফয়েযদানকারিণী, সম্মানিত রহমত মুবারক দানকারিণী।
১২২. اَلْمَوْعِظَةُ (আল মাও‘িয়য¦হ)- সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারিণী।
১২৩. اَلْمُهَذَّبَةُ (আল মুহায্যাবাহ)- পূত-পবিত্রা, মহাপবিত্রা, পবিত্রতা দানকারিণী।
১২৪. اَلنَّاصِحَةُ (আন নাছিহাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারিণী, উপদেশদানকারিণী।
১২৫. اَلنَّاهِـيَةُ (আন নাহিয়াহ)- (সম্মানিত শরী‘য়াত উনার খিলাফ সমস্ত কাজে) নিষেধকারিণী, বারণকারিণী।
১২৬. اَلنِّعْمَةُ (আল নি’মাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ নি‘য়ামত মুবারক।
১২৭. نِعْمَةُ اللهِ (নি’মাতুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নি‘য়ামত মুবারক।
১২৮. اَلنَّقِيْبَةُ (আন নাক্বীবাহ)- সাইয়্যিদাহ।
১২৯. اَلنُّوْرُ (আন নূর)- নূর মুবারক।
১৩০. اَلنُّوْرُ الْمُكَرَّمَةُ (আন নূরুল মুকাররমাহ)- মহাসম্মানিত নূর মুবারক।
১৩১. اَلنُّوْرُ الْمُطَهَّرَةُ (আন নূরুল মুত্বহ্হারহ)- মহাপবিত্র নূর মুবারক।
১৩২. نُوْرُ اللهِ (নূরুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নূর মুবারক।
১৩৩. نُوْرُ الْكَائِنَات (নূরুল কায়িনাত)- সমস্ত কায়িনাতের জন্য নূর মুবারক, আলোকবর্তিকা।
১৩৪. اَلْـهَادِيَةُ (আল হাদিয়াহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াতকারিণী।
১৩৫. هَدِيَّةُ اللهِ (হাদিয়্যাতুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত হাদিয়া মুবারক, তোহফা মুবারক।
১৩৬. اَلْوَاسِعَةُ (আল ওয়াসি‘আহ)- সীমাহীন ইলম মুবারক উনার অধিকারিণী, মহাদানশীলা।
১৩৭. اَلْوَاعِظَةُ (আল ওয়া‘য়িযহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ ওয়ায়েজ, নছীহতকারিণী, উপদেশদানকারিণী।
১৩৮. اَلْوَافِـيَةُ (আল ওয়াফীয়াহ)- পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণতাদানকারিণী।
১৩৯. اَلْوَسِيْلَةُ (আল ওয়াসীলাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ ওয়াসীলাহ মুবারক, সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম মুবারক।
১৪০. اَلْوَهَّابَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ (আল ওহ্হাবাহ আলাইহাস সালাম)- সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল, সীমাহীন দানকারিণী। সুবহানাল্লাহ!
এছাড়াও অসংখ্য-অগণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় লক্বব মুবারক উনাদের মালিকাহ হচ্ছেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

****************************************************************
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-


হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এক কথায় উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ! উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংযুক্ত এবং সম্পৃক্ত। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার সম্মানিত ফতওয়া মুবারক অনুযায়ী- উনাদের যারা মানহানী করবে, সেটা সরাসরি হোক বা ইশারা ইঙ্গিতেই হোক, স্বাভাবিক অবস্থায় হোক অথবা মাতাল বা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় হোক অর্থাৎ যেকোনো অবস্থায়ই হোক না কেন- অবশ্যই অবশ্যই তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ মৃত্যুদ- থেকে রেহাই পাওয়ার তাদের কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে কোনো প্রকার ওজর-আপত্তিও গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু তাই নয়, তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ দৃষ্টান্তমূলকভাবে মৃত্যুদ- দিতে হবে। তা শরীয়তের অন্যান্য বিধান অমান্য করার কারণে যেরূপ কঠিন শাস্তি দেয়া হয়, তার চেয়ে আরো লক্ষ কোটি গুণ বেশি কঠিনভাবে যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে মৃত্যুদ- দিতে হবে। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একই হুকুম। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاَعَدَّ لَـهُمْ عَذَابًا مُّهِيْنًا.
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত দুনিয়া ও আখিরাতে এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اٰذَانِـىْ فِـىْ عِتْـرَتِـىْ فَقَدْ اٰذَى اللهَ عَزَّ وَجَلَّ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দিলো, সে মূলত যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকেই কষ্ট দিলো।” নাঊযুবিল্লাহ! (দায়লামী, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৯)
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اٰذَانِـىْ وَعِتْرَتِـىْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমাকে এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে কষ্ট দিবে, তার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত। অর্থাৎ সে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে লা’নতগ্রস্থ।” নাঊযুবিল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৯)
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَلْعُوْنِيْنَ اَيْنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَقْتِيْلًا.
অর্থ: “লা’নতগ্রস্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই পাকড়াও করা হবে এবং অবশ্যই তাদেরকে ক্বতল করা হবে, মৃত্যুদ- দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ رَسُوْلَ اللهِ لَـهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ.
অর্থ: “আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَبَّ نَبِيًّا فَاقْتُلُوْهُ وَمَنْ سَبَّ اَصْحَابِـىْ فَاضْرِبُوْهُ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কোনো নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, আপনারা তাকে ক্বতল করুন, মৃত্যুদ- দিন। আর যে ব্যক্তি আমার হযরত ছাহাবায়ে রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদেরকে গাল-মন্দ করবে, উনাদের মানহানী করবে, আপনারা তাকে প্রহার করুন।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২২১, ফাতাওয়ায়ে বায্যাযিয়্যাহ ২/২৪২, আল মু’জামুছ ছগীর লিত ত্ববারনী ১/৩৯৩)
হযরত ইমাম আবূ ‘আব্দিল্লাহ মুহম্মদ ইবনে আব্দিস সালাম ইবনে সাহনূন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
اَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ اَنَّ شَاتِـمَ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْمُتَنَقِّصَ لَهٗ كَافِرٌ وَّالْوَعِيْدُ جَارٍ عَلَيْهِ بِعَذَابِ اللهِ لَهٗ وَحُكْمُهٗ عِنْدَ الْاُمَّةِ الْقَتْلُ وَمَنْ شَكَّ فِـىْ كُفْرِهٖ وَعَذَابِهٖ كَفَرَ.
অর্থ: “সমস্ত হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা এ বিষয়ে ইজমা’ করেছেন যে, নিঃসন্দেহে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী, উনার মর্যাদাহননকারী, মানহানীকারী ব্যক্তি কাফির এবং তার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তার ব্যাপারে সমস্ত উম্মত উনাদের ফায়ছালা হলো, তাকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করতে হবে, মৃত্যুদ- দিতে হবে। আর যে ব্যক্তি এ ধরণের লোকদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে এবং শাস্তিযোগ্য হওয়ার বিষয়ে অর্থাৎ তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ- হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করবে, সেও কাফির হবে (এবং তাকেও শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দিতে হবে)।” সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ ২/২১৫, আস সাইফুল মাসলূল ১২০ পৃ., নিহায়াতুস সুওয়াল ২৬১ পৃ.)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
يُقْتَلُ عَلـٰى كُلِّ حَالٍ اَسَرَّ ذٰلِكَ اَوْ اَظْهَرَهٗ وَلَا يُسْتَتَابُ.
অর্থ: “যে কোনো অবস্থায় হোক না কেন তাকে ক্বতল করতে হবে, মৃত্যুদ- দিতে হবে। চাই সে গোপনে গাল-মন্দ করুক বা প্রকাশ্যে গাল-মন্দ করুক। তার তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না।” (আশ শিফা ২/২১৬, আস সাইফুল মাসলূল ১২৭-১২৮ পৃ.)
আর সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنِ الْاِمَامِ الثَّالِثِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْـحُسَيْنِ بْنِ عَلِىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَبَّ اَهْلَ الْبَيْتِ فَاِنَّـمَا يَسُبُّ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন ইবনে হযরত আলী আলাইহিমাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে গাল-মন্দ করলো, মানহানী করলো, সে মূলত মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকেই গাল-মন্দ করলো, উনাদেরই মানহানী করলো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৮)
অতএব, সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ এবং সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত ফতওয়া মুবারক হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। কাজেই, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ মৃত্যুদ- থেকে রেহাই পাওয়ার তাদের কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে কোনো প্রকার ওজর-আপত্তিও গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু তাই নয়, তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ দৃষ্টান্তমূলকভাবে মৃত্যুদ- দিতে হবে। তা শরীয়তের অন্যান্য বিধান অমান্য করার কারণে যেরূপ কঠিন শাস্তি দেয়া হয়, তার চেয়ে আরো লক্ষ কোটি গুণ বেশি কঠিনভাবে যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে মৃত্যুদ- দিতে হবে। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একই হুকুম। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কে কিতাবে অনেক ওয়াক্বেয়া মুবারক বর্ণিত রয়েছে। যেমন-
ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যায়িদ ইবনে হাসান আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বংশধর, ছাহিবু জুরযান, অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফগার শাসক, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যদুনা হযরত ইমাম হাসান ইবনে যায়েদ আদ দায়ী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইসমা‘ঈল ইবনে হাসান ইবনে যায়েদ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবী ত্বালিব আলাইহিমুস সালাম (বিছাল শরীফ : ২৭০ হিজরী) উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক-এ উল্লেখ রয়েছে,
قَالَ اَبُو السَّائِبِ عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْـهَمْذَانِـىُّ قَاضِىُ الْقُضَاةِ كُنْتُ يَوْمًا بِـحَضْرَةِ الْـحَسَنِ بْنِ زَيْدِ ۣ الدَّاعِىِّ بِطَبَرِسْتَانَ وَكَانَ يَلْبَسُ الصُّوْفَ وَيَاْمُرُ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهٰى عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُوَجِّهٗ فِـىْ كُلِّ سَنَةٍ بِعِشْرِيْنَ اَلْفَ دِيْنَارٍ اِلـٰى مَدِيْنَةِ السَّلَامِ تُفَرَّقُ عَلـٰى صَغَائِرِ وَلَدِ الصَّحَابَةِ وَكَانَ بـِحَضْرَتِهٖ رَجُلٌ ذَكَرَ اُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِذِكْرٍ قَبِيْحٍ مِّنَ الْفَاحِشَةِ فَقَالَ يَا غُلَامُ اضْرِبْ عُنُقَهٗ فَقَالَ لَهُ الْعَلَوِيُّوْنَ هٰذَا رَجُلٌ مِّنْ شِيْعَتِنَا فَقَالَ مَعَاذَ اللهِ هٰذَا رَجُلٌ طَعَنَ عَلَى النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ اَلْـخَبِيْثٰتُ لِلْخَبِيْثِيْنَ وَالْـخَبِيْثُوْنَ لِلْخَبِيْثٰتِ وَالطَّيِّبٰتُ لِلطَّيِّبِيْنَ وَالطَّيِّبُوْنَ لِلطَّيِّبٰتِ اُولٰٓئِكَ مُبَرَّءُوْنَ مِـمَّا يَقُوْلُوْنَ لَـهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّرِزْقٌ كَرِيْـمٌ  فَاِنْ كَانَتْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةُ عَائِشَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ خَبِيْثَةً فَالنَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَبِيْثٌ فَهُوَ كَافِرٌ فَاضْرِبُوْا عُنُقَهٗ فَضَرَبُوْا عُنُقَهٗ وَاَنَا حَاضِرٌ
অর্থ: ইমামুল আলাম, কাযীউল কুয্যাত হযরত ইমাম আবুস সায়িব ‘উতবাহ ইবনে ‘উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা হামযানী শাফি‘য়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ৩৫০ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন, আমি একদা তাবারিস্তানে ছাহিবু জুরযান, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যদুনা ইমাম হযরত হাসান ইবনে যায়েদ আদ দায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত ছিলাম। তিনি সূফী উনাদের পোষাক পরিধান করতেন (অনেক উচ্চ পর্যায়ের মাশায়েখগণ উনাদের ইমাম ছিলেন) এবং সৎকাজের আদেশ করতেন ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন (অর্থাৎ অত্যন্ত ইনসাফগার ও ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন)। তিনি প্রতি বছর সালাম শহর তথা বাগদাদ শরীফে ২০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা প্রেরণ করতেন। যা শিশু ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বংশধরগণ উনাদের মাঝে বন্টন করা হতো। সুবহানাল্লাহ! এক দিনের কথা- ছাহিবু জুরযান, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যদুনা ইমাম হযরত হাসান ইবনে যায়েদ আদ দায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উপস্থিতীতে এক লোক উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সায়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীকাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ অপছন্দনীয় ফাহিশামূলক কিছু কথাবার্তা বললো। নাঊযুবিল্লাহ! তখন তিনি একজনকে বললেন, হে বৎস! তুমি তার গর্দান উড়িয়ে দাও। তখন আলবীগণ উনারা উনাকে বললেন, সে তো আমাদের অনুসারী! তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আশ্রয় দান করুন! এ নিকৃষ্ট লোকটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ অপবাদ দিয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اَلْـخَبِيْثٰتُ لِلْخَبِيْثِيْنَ وَالْـخَبِيْثُوْنَ لِلْخَبِيْثٰتِ وَالطَّيِّبٰتُ لِلطَّيِّبِيْنَ وَالطَّيِّبُوْنَ لِلطَّيِّبٰتِ اُولٰٓئِكَ مُبَرَّءُوْنَ مِـمَّا يَقُوْلُوْنَ لَـهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّرِزْقٌ كَرِيْـمٌ
‘দুশ্চরিত্রা মহিলারা দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষরা দুশ্চরিত্রা মহিলাদের জন্য। সচ্চরিত্রা মহিলা উনারা সচ্চরিত্র পুরুষ উনাদের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ উনারা সচ্চরিত্রা মহিলা উনাদের জন্য। উনাদের সম্পর্কে তারা যা বলে, উনারা সেটা থেকে পবিত্র। সুবহানাল্লাহ! উনাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক্ব।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)
উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীকাহ আলাইহাস সালাম তিনি যদি খবীছাহ তথা দুশ্চরিত্রা হন, নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! তাহলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও খবীছ। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! কাজেই, এই ব্যক্তি কাফির। আপনারা তার গর্দান উড়িয়ে দিন। তখন উনারা শস্তিস্বরূপ উক্ত ব্যক্তির গর্দান উড়িয়ে দিলেন, শাস্তিস্বরূপ তাকে মৃত্যুদ- দিলেন। সুবহানাল্লাহ! কাযীউল কুয্যাত ইমাম হযরত আবুস সায়িব ‘উতবাহ ইবনে ‘উবাইদুল্লাহ শাফি‘য়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি তখন উক্ত মজলিসে উপস্থিত ছিলাম।” সুবহানাল্লাহ! (শরহু উছূলি ই’তিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘য়াহ ৭/১৩৪৫, আস সাইফুল মাসলূল ‘আলা মান সাব্বার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪১৯পৃ.)
মাহবূবে এলাহী, আরিফ বিল্লাহ, আদীব, শা‘িয়র, ছাহিবুস শুজা‘য়াহ, ছাহিবু হুসনিস সীরাহ, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যদুনা ইমাম হযরত মুহম্মদ ইবনে যায়েদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইসমা‘ঈল ইবনে হাসান ইবনে যায়েদ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবী ত্বালিব আলাইহিমুস সালাম (শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ : ২৮৭ হিজরী শরীফ) তিনি ছিলেন ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যায়িদ ইবনে হাসান আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বংশধর। অর্থাৎ তিনি হচ্ছেন আখাছ্ছুল খাছ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফগার শাসক। তিনি উনার সম্মানিত আপন বড় ভাই ছাহিবু জুরযান, আল ইমামুল ‘আদিল, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যদুনা ইমাম হযরত হাসান ইবনে যায়েদ আদ দায়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার পর ২৭০ হিজরী শরীফ থেকে ২৮৭ হিজরী শরীফ পর্যন্ত অত্যন্ত ইনসাফ ও ন্যায়পরয়াণতার সাথে সম্মানিত শাসনকার্য মুবারক পরিচালনা করেন। উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক-এ উল্লেখ রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ جَعْفَرِ بْنِ الْفَضْلِ الطَّبَرِىِّ رَحْمَةُ اللهُ عَلَيْهِ قَالَ اِنَّ مُحَمَّدَ بْنَ زَيْدٍ اَخَا الْـحَسَنِ بْنِ زَيْدٍ رَحْمَةُ اللهُ عَلَيْهِ قَدِمَ عَلَيْهِ مِنَ الْعِرَاقِ رَجُلٌ يَّنُوْحُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَذَكَرَ اُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةَ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِسُوْءٍ فَقَامَ اِلَيْهِ بِعَمُوْدٍ وَّضَرَبَ بِهٖ دِمَاغَهٗ فَقَتَلَهٗ فَقِيْلَ لَهٗ هٰذَا مِنْ شِيْعَتِنَا وَمِـمَّنْ يَّتَوَلَّانَا فَقَالَ هٰذَا سَـمّٰى جَدِّىْ قَرْنَانَ وَمَنْ سَـمّٰى جَدِّىْ قَرْنَانَ اسْتَحَقَّ عَلَيْهِ الْقَتْلَ فَقَتَلْتُهٗ
অর্থ: “হযরত আবূ জা’ফর ইবনে ফযল ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যদুনা ইমাম হযরত হাসান ইবনে যায়েদ আদ দায়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত ভাই মাহবূবে এলাহী, আরিফ বিল্লাহ, আদীব, শা‘িয়র, ছাহিবুস শুজা‘য়াহ, ছাহিবু হুসনিস সীরাহ, অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফগার শাসক, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যদুনা ইমাম হযরত মুহম্মদ ইবনে যায়েদ ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট ইরাক থেকে এক ব্যক্তি আগমণ করলো। সে উনার সামনে এসে ইনিয়ে বিনিয়ে কান্নার স্বরে উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ এলোমেলো (কিছু খারাপ কথা) বললো। না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন সাথে সাথে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যদুনা ইমাম হযরত মুহম্মদ ইবনে যায়েদ ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একখানা লোহার খুঁটি নিয়ে তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে তার মস্তিষ্কের উপর (মাথার তালুর উপর) আঘাত করে তাকে হত্যা করে ফেললেন। সুবহানাল্লাহ! তখন উনাকে বলা হলো যে, সে তো আমাদের অনুসারী এবং যারা আমাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে তাদের অন্যতম। (জবাবে) তিনি বললেন, সে আমার মহাসম্মানিত নানাজান, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ অপবাদ দিয়েছে, উনার মানহানী করেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর যে আমার মহাসম্মানিত নানাজান, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ অপবাদ দেয়, উনার মানহানী করে, তাকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করা, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দেয়া অপরিহার্য হয়ে যায়। তাই আমি তাকে শাস্তিস্বরূপ হত্যা করেছি, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! (শরহু উছূলি ই’তিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘য়াহ ৭/১৩৪৩, আস সাইফুল মাসলূল ৪২০পৃ.)
উল্লেখ্য যে, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার যেই হুকুম মুবারক অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরও একই হুকুম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি যেমন মৃত্যুদ-, তেমনিভাবে অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরও যারা মানহানী করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ মৃত্যুদ- থেকে রেহাই পাওয়ার তাদের কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে কোনো প্রকার ওজর-আপত্তিও গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু তাই নয়, তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ দৃষ্টান্তমূলকভাবে মৃত্যুদ- দিতে হবে। তা শরীয়তের অন্যান্য বিধান অমান্য করার কারণে যেরূপ কঠিন শাস্তি দেয়া হয়, তার চেয়ে আরো লক্ষ কোটি গুণ বেশি কঠিনভাবে যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে মৃত্যুদ- দিতে হবে। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একই হুকুম। সুবহানাল্লাহ!

***********************************************************************
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত কায়িনাত থেকে বেনিয়ায, উনাদের সাথে কারো তুলনা করা যাবে না


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيْرًا.
অর্থ: “হে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
هُمْ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنَ السُّوْءِ وَاخْتَصَّهُمْ بِرَحْمَتِهٖ
অর্থ: “উনারা হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা ও পাপ থেকে পূত-পবিত্র রেখেছেন এবং উনার সম্মানিত রহমত মুবারক দ্বারা খাছ করে নিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
فَاَنَا وَاَهْلُ بَيْتِىْ مُطَهَّرُوْنَ مِنَ الذُّنُوْبِ.
অর্থ: “আমি এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম আমরা সকলেই যুনূব তথা সমস্ত প্রকার ছগীরা-কবীরা এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পূত-পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ! (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বায়হাক্বী, শিফা শরীফ ১/৩২৫, সীরাতে হালবিয়্যাহ ১/৪২, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ১/৪৯৮, খছাইছুল কুবরা ১/৬৬, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৩৫, দুররে মানছূর লিস সুয়ূত্বী ৬/৬০৬, ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩ ইত্যাদি)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.
অর্থ: “আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)
ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালিন ইলাল আখিরীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আলোচ্য সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে- اَهْلُ بَيْتٍ نَـحْنُ (আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম) বলেÑ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে উনার নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর طَهَّرَهُمُ اللهُ - মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থ হলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে ছমাদ তথা বেনিয়ায করেছেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুহতাজ ও উনাদের সম্মানার্থে উনারা সম্মানিত এবং উনাদের প্রতিই উনারা দায়েমীভাবে রুজু। সুবহানাল্লাহ! ফলে উনারা সমস্ত কিছু থেকেই বেনিয়াজ। সুবহানাল্লাহ! কাজেই সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক ইত্যাদি বরকতময় নিয়ামত মুবারক উনাদের প্রতি রুজু হওয়ার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন সুযোগ নেই। অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ তথা বেনিয়ায। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কারণেই সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, সমস্ত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اَللهُ الصَّمَدُ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি ছমাদ তথা  বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইখলাছ শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ২)
ইমামুল মুফাসসিরীন মিনাল আউওয়ালিন ইলাল আখিরীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন সমস্ত মাখলূকাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! ঠিক তেমনিভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একমাত্র যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত মাখলূকাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! আর ঠিক একইভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত কায়িনাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! উনারা সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম উনার খনি মুবারক ইত্যাদি সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ তথা বেনিয়ায। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক এক কথায় উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন। এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ! উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুহতাজ। এছাড়া কায়িনাতের অন্য কারো মুহতাজ নন; বরং কায়িনাতের সকলেই উনাদের মুহতাজ। সুবহানাল্লাহ! মূলত সমগ্র সৃষ্টি জগতের মাঝে একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরেই উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, ফযীলত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, তা এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! আর সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে আখাছ্ছুল খাছ বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারকই হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা-কল্পনার উর্ধ্বে। যা কস্মিনকালেও ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! কাজেই, উনাদের সাথে সৃষ্টি জগতের কারোই তুলনা করা যাবে না। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কে সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানযুল উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)

****************************************************************






সুমহান ১৪ ই যিলক্বদ শরীফ











মুবারক হো! সুমহান ১৪ই যিলক্বদ শরীফ;
মুবারক হো! ঈদে বিলাদতে হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম
ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক!! ঈদ মুবারক!!! ঈদে বিলাদতে হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উপলক্ষে কুল-কায়িনাতবাসীকে জানাই ঈদ মুবারক।
আজ সুমহান ১৪ই যিলক্বদ শরীফ। শাফিউল উমাম, কুতুবুল আলম, মাহিউল বিদয়াত, মুহইউস সুন্নাহ, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান পবিত্রতম বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আওলাদ। বর্তমান যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের প্রথমা আওলাদ ত্বাহিরাহ, ত্বইয়িবাহ, ফক্বিয়াহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার জাওযুল মুকাররম। সুবহান্নাল্লাহ!
জান্নাতী বাগানের তিন জন মালিকা, ত্বাহিরাহ, ত্বইয়িবাহ, রহীমাহ, মাশুকাহ, মাহবুবাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত ওয়ালিদ তথা আব্বাজান। সুবহান্নাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা ওয়ারাউল ওয়ারা হিসেবে কবুল করেছেন। উনাকে দিয়েছেন অসংখ্য-অগণিত নিয়ামত। তামাম দুনিয়ার কুতুব করে উনাকে যমীনে প্রেরণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসলীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আওলাদ হিসেবে কবুল করেছেন তথা আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম হিসেবে মনোনীত করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
মুবারক বংশ পরিচয় এবং মুবারক সহধর্মিনী এবং আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর দ্বারা শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান সুস্পষ্টত প্রকাশিত। কিন্তু বান্দা-বান্দী, জিন-ইনসানদের পক্ষে উনার হাক্বীক্বী মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উপলব্ধি করা তো কখনো সম্ভব হবে না। তথাপিও সীমিত জ্ঞানের দ্বারা উনাদের যতটুকু শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উপলব্ধি করা যায়, তার যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা সকলেরই কর্তব্য।
আর খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি তো বান্দাদের বলেছেন- বান্দারা যেন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে। নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলেই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিয়ামত আরো বাড়িয়ে দেন। কাজেই আমাদের উচিত হবে- সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে যে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের মাঝে রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন, এর জন্য শুকরিয়া আদায় করা, উনাকে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম এবং খিদমত মুবারক করা তথা নিয়ামতের যথাযথ হক্ব আদায় করার কোশেশ করা; যদিও বান্দাদের পক্ষে হাক্বীক্বী হক্ব আদায় করা কখনোই সম্ভব নয়।
সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আমাদের মাঝে নাজাতী তরীস্বরূপ। উনাকে যে অনুসরণ-অনুকরণ করবে, মুহব্বত করবে, তা’যীম-তাকরীম করবে, খিদমত করবে সে অবশ্যই নাজাত পেয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি, তিনি (বিদায়) পবিত্র হজ্জ উনার সময় পবিত্র আরাফাতের দিন উনার ‘কাসওয়া’ নামক উষ্ট্রীর উপর সওয়ার অবস্থায় খুতবা মুবারক দান করছেন। আমি শুনেছি, তিনি খুতবা মুবারক উনায় বলেছেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তাকে শক্তভাবে ধরে রাখো, তবে কখনো গুমরাহ হবে না। তা হলো খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও আমার ইতরাত বা আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম।”
অন্যত্র আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনারা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার যামানার কিসতীস্বরূপ। যারা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করবে তারা সকলেই নাজাত পেয়ে যাবে।”
এজন্য আমাদের সকলেরই উচিত হবে- আখাছছুল খাছ আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করা, খিদমত করা। আর উনারই সুমহান পবিত্রতম বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস ১৪ই যিলক্বদ শরীফ যথাযথভাবে পালন করা। আর এ লক্ষ্যে পবিত্র মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ, ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করা। উনার ছানা-ছিফতে মশগুল থাকা এবং হাক্বীকী মুহব্বত এবং খিদমতে নিয়োজিত থাকা।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকল মাখলুকাতকে যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার উসীলায় শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান পবিত্রতম বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস যথাযথভাবে পালন করে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করার তাওফীক দান করেন। আমীন।
******************
2.সুমহান ১৪ই যিলক্বদ শরীফ-
যেদিন তাশরীফ এনেছেন শেরে খোদা সাইয়্যিদুনা
হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম
পবিত্র ১৪ই যিলক্বদ শরীফ কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল শেরে খোদা শাহদামাদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি প্রতি যামানায় অসংখ্য-অগণিত ওলীআল্লাহ উনাদেরকে জিন ও বিশেষ করে ইনসানের (মানুষের) হিদায়েত দানের লক্ষ্যে প্রেরণ করেছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত প্রেরণ করতে থাকবেন।
যে সম্পর্কে স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আমি যমীনে খলীফা প্রেরণ করবো।”
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে হাক্বীক্বী মিছদাক্ব খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার আখাছছুল খাছ ওলী এবং বিশেষভাবে খলীফা হিসেবে মনোনীত শাফিউল উমাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সাথে বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার প্রথমা আওলাদ- যিনি আফযালুন নিসা, ফক্বিহাতুন নিসা, ত্বাহিরাহ, ত্বইয়িবাহ, আলিমা, আবিদাহ, হাফিযাহ, বিনতে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক আক্বদ সুসম্পন্ন হয় এবং উনাদের মাধ্যমেই দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ নিয়েছেন তিন নববী নূরী ফুল তথা সাইয়্যিদাতুল উমাম হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলা আলাইহিন্নাস সালাম উনারা।
কুতুবুল আলম, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদে আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হলেন খাছ আওলাদে রসূল; যাঁদের সম্পর্কে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক ফরমান, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। (আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়) তবে যেহেতু তোমাদের ইহকাল ও পরকালে নাজাত লাভ করতে হবে, মুহব্বত-মা’রিফাত, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে হবে; সেহেতু তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- আমার নিকটজন তথা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচারণ করবে।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
আওলাদে রসূল উনাদের শান, মান, ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, বুযূর্গী-সম্মান আলোচনা করে তো শেষ করা যাবে না। কাজেই বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কুতুবুল আলম, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদে আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী ও সম্মান কতটুকু তা চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদে আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস মুবারক ১৪ই যিলক্বদ শরীফ।
উনার মুহব্বত-মা’রিফত, নিসবত-তাওয়াল্লুক, সন্তুষ্টি ও রেযামন্দি পেতে সকল বান্দা-বান্দী অর্থাৎ সকল মু’মিন-মু’মিনা মুসলমানদের দায়িত্ব-কর্তব্য হবে- উনাকে অনুসরণ করা, মুহব্বত করা এবং উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার দিবসে পবিত্র মীলাদ শরীফ, ওয়াজ শরীফ ও সামা শরীফ মাহফিলের আয়োজন করা তথা ১৪ যিলক্বদ শরীফকে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি আমাদের সকলকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন!
*****************
3.
আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম
উনার পবিত্রতম হুলিয়া মুবারক
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার বেশুমার শুকরিয়া যিনি আমাকে আমাদেরকে ও বিশ্ববাসীকে এক মহান নিয়ামত মুবারক দান করেছেন। আল-হামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন।
সেই নিয়ামত মুবারক কি? সেই মহান নিয়ামত মুবারক হচ্ছেন যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ আল মুজাদ্দিদুল আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত ওয়াশ শিরক, মুস্তাজাবুদ দাওয়াত আওলাদুর রসূল সাইয়্যদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
এই মহান মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার শাহযাদীয়ে ঊলা আলাইহাস সালাম উনার জীবনসঙ্গী হিসেবে যিনি সম্পৃক্ত হন, তিনিই হচ্ছেন শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
উনারা উভয়েই পবিত্রা ও পবিত্র। এমনটি নয় যে, উনারা পরে পবিত্র হয়েছেন। বরং পূর্ব থেকেই পবিত্রা, পবিত্র। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র সূরা নূর শরীফ উনার ২৬ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র পুরুষগণ উনাদের জন্য পবিত্রা নারীগণ আর পবিত্রা নারীগণ উনাদের জন্য পবিত্র পুরুষগণ উনাদেরকে তৈরি করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র আয়াত শরীফ থেকে যা নিশ্চিত বুঝা যায় তা হচ্ছে, যিনি বা যাঁরা মুজাদ্দিদ আ’যম আওলাদুর রসূল আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ ও খাতান হবেন উনারা তো পূর্ব থেকে পবিত্রা, পবিত্র ও মনোনীত। যেমনটি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা উনার রহমত দ্বারা খাছ করে নেন।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনি মশহুর হয়েছেন ‘শাহদামাদ আউওয়াল’ হিসেবে। তিনি এই পৃথিবীতে আগমন করেন তথা উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন ১৪ই যিলক্বদ শরীফ-এ। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হজ্জ সম্পাদনের মাস হচ্ছে তিনটি- শাওওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ্জ। তিনি পবিত্র হজ্জ সম্পাদনের মাসসমূহের মধ্যে অন্যতম পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাসেই পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এছাড়াও এ মাসটি হচ্ছে বছরে চারটি হারাম বা পবিত্র মাসের একটি অন্যতম মাস। অর্থাৎ সাইয়্যদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম একদিক থেকে হারাম বা পবিত্র মাসে, অন্যদিক থেকে সম্মানিত পবিত্র হজ্জ সম্পাদনের মাসে দুনিয়ায় তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন।
বংশ মুবারক: তিনি সাইয়্যিদ বংশোদ্ভূত তথা আওলাদুর রসূল। অর্থাৎ কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ বংশোদ্ভূত তিনি। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ইলম মুবারক ও প্রজ্ঞা: তিনি ইলমুশ শরীয়ত ও ইলমুল মা’রিফত-এ পূর্ণ মুহাক্কিক। কারণ উনি তো সাইয়্যিদুনা মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার দামাদ এবং একই সাথে নাক্বীবাতুল উমাম, নূরে মুকাররমাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম উনার যাওজুল মুকাররম। সুবহানাল্লাহ!
উনার প্রজ্ঞা, মেধা, তীক্ষ্মতা, বিচক্ষণতা সীমানা ছাড়িয়ে এক সুউচ্চ আসনে সমাসীন। সর্বশ্রেষ্ঠতম ছুহবতে তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ, হিকমত ইত্যাদি যাবতীয় জ্ঞান বিজ্ঞানে মুহাক্কিক আলিম। সুবহানাল্লাহ!
চরিত্র মুবারক: তিনি উন্নত ও উত্তম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী। কথা-বার্তায়, কাজে-কর্মে, পারস্পরিক আচার আচরণে অত্যন্ত শরীফ স্বভাবের। কোমল, নরম ও দয়ার্দ্র ভাবাপন্ন উনার চিত্ত মুবারক।
জিসমী অবয়ব: তিনি জিসমী অবয়বে আওলাদুর রসূল মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার চেহারা মুবারক উনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উন্নত ও মানানসই দাড়ি মুবারক উনার নূরানী বদন মুবারকে শোভা পাচ্ছে। উনার হাসির মুহূর্তে মুক্তাসম দাঁত মুবারকগুলো যেন আকাশের তারকাকে মøান করে দেয়। ক্ষণে ক্ষণে উনার মুচকি হাসি মুবারককে মনে হয় এ যেন আকাশে রহমতী বৃষ্টির মেঘের ফাঁকে পড়েছি যে বছর যত বেশি আকাশে বিজলি চমকাবে, সে বছর ফসল তত ভালো হবে। এ হাসি নিশ্চিত আমাদের জন্য এমনই। আলহামদুলিল্লাহ!
পরহেযগারিতা: শাহদামাদ আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি আ’লা দরজার মুত্তাকী, ওলীউল্লাহ, তাহাজ্জুদ গুজারী, সাদাসর্বদায় যিকির-আযকার, দুরূদ-সালাম, শানে মুজাদ্দিদে আ’যম উনার ইশকে ও ইত্তিবায় ফানা ও বাক্বা। সুবহানাল্লাহ! উনার সবচে’ শ্রেষ্ঠ তাক্বওয়া উনার প্রতিফলন হচ্ছে তিনি নিজেই আওলাদুর রসূল এবং মুজাদ্দিদী আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কর্তৃক নূরানী প্রাচীরে পরিবেষ্টিত। সুবহানাল্লাহ!
উনি পবিত্র ১৪ যিলক্বদ শরীফ-এ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। এজন্য এ মহান দিন মুবারকে উনাকে লক্ষ-কোটি মুবারকবাদ ও আহলান সাহলান।
মুজাদ্দিদ আ’যম উনার শাহখাতান মশহুর শাহদামাদ নামে
শাহযাদী ঊলা উনার মহান যাওজ, শাহ নাওয়াসীগণ এ বাগের রায়হান।
**************
আহলান-সাহলান
ঈদে বিলাদতে সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম।
আরবী বারো মাস উনাদের মধ্যে এগারতম মাস হচ্ছেন পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস। চারটি হারাম মাস উনাদের একটি অন্যতম হারাম মাস হচ্ছেন পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস। সুবহানাল্লাহ!
সেই মহাপবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস উনার সুমহান ১৪ই শরীফ তারিখে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার লখতে জিগার, নাক্বীবাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার যাওযুল মুকাররম। অর্থাৎ তিনিই কুতুবুল আলম, শাফীউল উমাম, আওলাদে রসূল হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
তাই বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সুমহান ১৪ই যিলক্বদ শরীফ সকলের জন্যই একটি বরকত, রহমত ও নিয়ামতপূর্ণ দিন ও রাত।
অতএব, সকলের উচিত সেই মুবারক দিনটি উনার ছানা-ছিফত ও মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ উনার মাধ্যমে কাটানো, যা আমাদের সকলের জন্যই নাজাতের কারণ হবে। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عند ذكر الصالحين تنزل الرحمة
অর্থ: “নিশ্চয়ই আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের আলোচনা রহমত লাভের কারণ।”
*************
আসুন, সবাই মিলে পালন করি-
বিশেষ দিবস সুমহান ১৪ই যিলক্বদ শরীফ
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اذكروا نعمة الله علبكم .
অর্থ: “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে যে নিয়ামত দিয়েছেন তা স্মরণ করো।”
সুমহান পবিত্র ১৪ই যিলক্বদ শরীফ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নিয়ামত প্রাপ্তির একটি অন্যতম স্মরণীয় দিন। যেদিন এ ধরার বুকে তাশরীফ মুবারক নেন অর্থাৎ পবিত্র বিলাদতী শান মুবরক প্রকাশ করেন কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম, শাফিউল উমাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম।
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক মনোনীত এবং উনাদের থেকে সর্বপ্রকার নিয়ামত পেয়ে পূর্ণতাপ্রাপ্ত।
হবেন না-ই বা কেন? খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যে উনাকে মনোনীত করেছেন মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুন নিসা, নাক্বীবাতুল উমাম, আওলাদে রসূল, হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত যাওযুল মুকাররম হিসেবে। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার আহাল পাক উনাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে তিনি আরো বেমেছালভাবে পূর্ণতায় পৌঁছেছেন। সুবহানাল্লাহ!
তাই আসুন, আমরা সকলেই উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিনকে স্মরণ করে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করি, উনার ছানা-সিফত বর্ণনায় মশগুল থাকি। যা আমাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে বিশাল কামিয়াবীর কারণ হবে।
************
শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি একজন খাছ আওলাদে রসূল। উনাকে সম্মান, মুহব্বত ও অনুসরণ করা সকলের জন্য ফরয
আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
ان اولادى كسفينة نوح عليه السلام من دخلها نجا .
অর্থ: “আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা হচ্ছেন হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিস্তির ন্যায়। যারা তাতে প্রবেশ করেছে তারা নাজাত পেয়েছে।” (মিশকাত শরীফ)
অনুরূপ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকেও যারা সম্মান, মুহব্বত ও অনুসরণ করবে তারাও দুনিয়া ও আখিরাতে বালা-মুছীবত ও আযাব-গযব থেকে নাজাত পাবে।
কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম, শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি একজন খাছ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই উনাকে যারা সম্মান করবে, মুহব্বত করবে, অনুসরণ করবে তারা নিঃসন্দেহে হক্বের উপর থাকবে। সুবহানাল্লাহ!
******************************
শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার
সুমহান বিলাদত শরীফ অত্যন্ত জওক-শওকের সাথে পালন করা এবং
এ উসীলায় খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হাবীবে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা সবার জন্য ফরয
চন্দ্র মাসের এগারতম মাসটির নাম যিলক্বদ শরীফ। আর খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ঘোষণাকৃত চারটি হারাম বা সম্মানিত মাসের প্রথম মাসটিই হচ্ছে পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস। তাই এ মাসের ফযীলত-বুযূর্গীর কথা নতুন করে বর্ণনার অবকাশ নেই। এ ব্যাপারে স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা যিলক্বদ শরীফ মাসকে সম্মান করো। কেননা এটি হারাম বা সম্মানিত মাসসমূহের মধ্যে প্রথম মাস।” সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, এ মাসের ফযীলতসমূহের মধ্যে একটি বিশেষ ফযীলত হচ্ছে- আমাদের প্রাণের আক্বা, মাথার তাজ, কুতুবুল আলম, লখতে জিগারে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, শেরে খোদা, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এ পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাসের ১৪ তারিখ পৃথিবীর বুকে তাশরীফ মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সুমহান দিনটিকে যথাযথভাবে পালন করা পৃথিবীর প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি মুসলমানের জন্য ফরয। কারণ তিনি হচ্ছেন জাহির বাতিনের আলোক বর্তিকা, ক্বায়িম-মাক্বামে ইলমি দ্বার; সর্বোপরি মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার খাছ আহলু বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
অতএব, সবারই উচিত কুতুবুল আলম, লখতে জিগারে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, শেরে খোদা, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদে আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সুমহান বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস অত্যন্ত জওক ও শওকের সাথে পালন করা।
সর্বোপরি এ উসীলায় মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, সাইয়িদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সর্বোপরি সাইয়িদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছে খাছ দোয়া, দয়া ও ইহসান ভিক্ষা করছি।
************************************
সুমহান পবিত্র ১৪ই যিলক্বদ শরীফে:
এক মহান নূর মুবারক উনার তাশরীফ
১৪ই যিলক্বদ শরীফ সেই মহান নূরে মুবারক উনার তাশরীফ; যেই নূর মুবারক ছিলেন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে। যেই নূর মুবারক রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বংশ মুবারক থেকে প্রকাশিত। সেই নূর মুবারক হলেন, শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি। তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন চারটি হারাম বা সম্মানিত মাসের মধ্যে একটিতে। আর সেটা হলো পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস। আর এই সম্মানিত যিলক্বদ শরীফ মাসের ১৪ তারিখ শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার সেই সুমহান পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস উপলক্ষে সবাইকে জানাই- ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক!
শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা-মর্তবা অনেক, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি একদিক থেকে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং অন্যদিকে উনার মাধ্যমেই আমরা সাইয়্যিদাতাল উমাম হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলা আলাইহিন্নাস সালামগণ উনাদেরকে পেয়েছি। তাই শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার শুকরিয়া করে শেষ করা যাবে না। এজন্য আমাদের উচিত- উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং সকল জিন-ইনসানের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক দিবস উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করা।
*********************************************
নক্বশায়ে হায়দার, মিছদাক্বে বাবুল ইলম, ক্বায়িম-মাক্বামে ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত ইলমে লাদুন্নী মুবারক উনার সাক্ষাৎ উদাহরণ! সুবহানাল্লাহ!
হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ইলিম মুবারক উনার উৎস হচ্ছেন সম্মানিত ওহী মুবারক। আর হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের ইলম মুবারক উনার উৎস হচ্ছেন ইলহাম-ইলক্বা বা ইলমে লাদুন্নী মুবারক।
সম্মানিত ওহী বা ইলমে লাদুন্নী অর্জিত ইলম মুবারকের নাম নয়, বরং প্রদত্ত ইলিম মুবারকের নাম। মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে উনার মনোনীত হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারদেরকে প্রদত্ত সম্মানিত ইলম মুবারকের নাম ওহী। আর হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের নায়িব বা স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মনোনীত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদেরকে প্রদত্ত সম্মানিত ইলম মুবারকের নাম ইলমে লাদুন্নী। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, সম্মানিত ওহী মুবারক শুধুমাত্র যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে এসে থাকে বা প্রদত্ত হয়ে থাকে। আর সম্মানিত ইলমে লাদুন্নী মুবারক তিনভাবে এসে থাকে বা প্রদত্ত হয়ে থাকে। (এক). মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে; (দুই). নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে কিংবা হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের তরফ থেকে; (তিন). হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের তরফ থেকে। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নেন। অনুরূপভাবে বর্তমান যামানায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিনি পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম, সাইয়্যিদু আওলাদে রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুল আউলিয়া ওয়াল মুজাদ্দিদীন, সুলত্বানুন নাছীর, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, নূরে মুকাররম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে নিজ সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। সুবহানাল্লাহ!
বলার অপেক্ষা রাখে না, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যেরূপ মুহব্বত, তায়াল্লুক, নিসবত স্থাপিত হয়েছে। তদ্রƒপ নূরে মুকাররম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুহব্বত, তায়াল্লুক-নিসবত স্থাপিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
স্মরণীয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি সম্মানিত ইলিম মুবারক উনার শহর আর হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন উক্ত সম্মানিত শহর মুবারক উনার দরজা।
এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার বাস্তবতা আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি যিনি নক্বশায়ে হায়দার, মিছদাক্বে বাবুল ইলিম, ক্বায়িম-মাক্বামে ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ, শাহদামাদে আউওয়াল, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে। সুবহানাল্লাহ!
উনার মধ্যে অজস্র ধারায় যেমনিভাবে প্রবেশ করছে ইলমে লাদুন্নী মুবারক ঠিক তেমনিভাবে তা কায়িনাত মাঝে বিকশিত ও প্রকাশিত হচ্ছে। সুবহানাল্লাহ!
অতএব, কায়িনাতবাসীকে আহ্বান জানাবো, উক্ত ইলমে লাদুন্নী মুবারক উনার হিসসা মুবারক পেতে শিগগিরই চলে আসুন পবিত্র রাজারবাগ দরবার শরীফ। প্রতিনিয়ত সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি নছীহত মুবারক উনার মাধ্যমে উক্ত নিয়ামত মুবারক বিতরণ করে যাচ্ছেন।
*****************************************
কুতুবুল আলম, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার শান, মান, বুযূর্গী, সম্মান মুবারক
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّـهِ وَرِضْوَانًا وَيَنصُرُونَ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ ﴿٨﴾
অর্থ:- যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি, রেযামন্দি ও অনুগ্রহ তালাশ করেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়ার জন্য উনাদের বাড়ি-ঘর, ও ধন-সম্পদ হতে বের হয়ে এসেছেন বা ত্যাগ করে এসেছেন উনারাই হচ্ছেন- সদিকীন বা সত্যবাদীগণের অন্তর্ভুক্ত। (পবিত্র সূরা হাশর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ০৮)
মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّـهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ ﴿١١٩﴾
অর্থ:- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। আর সদিকীন তথা ওলীআল্লাহগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করো।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৯)
ছদিকীনগণের অন্তর বাড়ি-ঘর, দালান-কোঠা ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি মুক্ত। উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক, রেযামন্দি মুবারক, তাওয়াল্লুক মুবারক, নিসবত মুবারক হাছিলের জন্য সব কিছুই বিসর্জন দিয়ে থাকেন। কোনো কিছুর প্রতি উনাদের আকর্ষণ নেই। উপরোক্ত উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খিদমত মুবারকে সদাসর্বদা আঞ্জাম দানকারী। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের শান, মান, বুযূর্গী, সম্মান প্রভাব প্রতিপত্তির বর্ণনা দিয়েছেন। একইভাবে উনাদের অনুসরণের যারা অনুরূপ করবেন তারাও সেই ছদিকীন বা সত্যবাদীগণের মাক্বাম হাছিল করতে পারবেন। অতীতে যত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উক্ত মাক্বাম হাছিল করেছেন প্রত্যেকের হাল বা অবস্থা অনুরূপই ছিল।
কুতুবুল আলম, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম আওলাদের রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ঐ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিসদাক হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের কাউকে কাউকে বাড়ি-ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে মাহরুম বা বঞ্চিত করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা স্বেচ্ছায় সেগুলো ত্যাগ করেছেন। কুতুবুল আলম, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম, নকশায়ে হায়দার সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ও দুনিয়াবী প্রভাব প্রতিপত্তি, দুনিয়াবী মর্যাদা-মর্তবা, ধন-সম্পদ ইত্যাদিকে স্বেচ্ছায় ত্যাগকারীগণের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমাস সালাম উনাদের খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দেয়ার জন্য নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিলিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
ফলে তিনি সেই সকল মহান ব্যক্তিত্বগণের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি খাছ বা বিশেষ নিয়ামতরাজি হাদিয়া করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
أَنْعَمَ اللَّـهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ
অর্থ:- নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি খাছ (বিশেষ) নিয়ামত দিয়েছেন, হযরত নবী আলাইহিস সালামগণ উনাদেরকে। আরো দিয়েছেন ছিদ্দিক্ব, শহীদ ও ছলিহীন তথা ওলীআল্লাহগণ উনাদেরকে।”
কুতুবুল আলম বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন চূড়ান্ত মর্যাদা মুবারকের অধিকারী তথা ছিদ্দিক্ব তবকার ওলীআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা উনাকে খাছভাবে মনোনীত বা কবুল করেছেন। তিনি হচ্ছেন উনাদের মাহবুব।
উল্লেখ্য পবিত্র ১৪ই যিলক্বদ শরীফ উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন। আমরা কুল-কায়িনাতের সবাই খুশি প্রকাশ করছি। উনার
হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি-রেযামন্দি, তাওয়াল্লুক মুবারক, নিসবত মুবারক পাওয়ার আশা করছি। আবাদুল আবাদ গোলামীতে ইস্তিকামাত থাকার তাওফীক চাচ্ছি।
মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম, গাউসুল আ’যম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা তিনি কবুল করুন। আমীন! আমীন! আমীন!
******************************************************
সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল হিদায়েত, নছীহত ও দুর্বার তাজদীদ উনাদের নানাবিধ অনুষঙ্গে ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার অনন্য অবদান
মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা তিনি উনার পবিত্র কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন: “তোমরা সকলেই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হয়ে যাও।”
পবিত্র এ আয়াত শরীফ উনার অর্থে বুঝা যায়, সবারই আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। মুবারক স¦ভাব-সঞ্জাত গুণ-বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে অনাবিল কোশেশ যুক্ত করে আল্লাহওয়ালা হওয়া এবং কেবল আপেক্ষিক যোগ্যতায় আপন কোশেশে আল্লাহওয়ালা হওয়ার মধ্যে বিস্তর তফাৎ।
সম্মানিত শরীয়ত উনার বিধানে জীবনের শতমুখী কর্মধারায় মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণসাধনে যাঁরা কামিয়াব, উনারা উনাদের মুবারক বিলাদত শরীফ সূত্রেই তীক্ষè মেধা, অনন্য প্রতিভা, গভীর অন্তর্দৃষ্টি, অনুপম চরিত্র মাধুর্য, অতুলনীয় সাহসিকতা, দুর্বার স¦াধীনতা, বেমেছাল তাক্বওয়া ও পরহেযগারির ধারক ও বাহক। আপন স¦ভাবে প্রচ্ছন্নভাবে মিশে থাকা এসব বৈশিষ্ট্যের উন্মেষ ঘটে একজন শায়েখ উনার মুবারক সান্নিধ্যে। উনার শিক্ষা ও দীক্ষায় এবং উনার ফায়িজ ও তাওয়াজ্জুতে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টিলাভে কামিয়াবী অর্জনের ক্ষেত্রে পূর্বকাল থেকে চলে আসা এটিই সম্মানিত শরীয়ত সমর্থিত পদ্ধতি। এ পদ্ধতির ব্যত্যয়ে জীবনের যে তথাকথিত অগ্রগতি, তা মেকী এবং পরিণতিতে দুর্ভাগ্য ও দুর্ভোগের কারণ। দুনিয়ায় এমন সুমহান ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব বিরল। কামিয়াবীর বিজয় মুকুট মাথা মুবারকে নিয়ে এমন এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব তিনি দুনিয়ায় মুবারক তাশরীফ গ্রহণ করেন। খালিছ আল্লাহওয়ালা, অভিজাত, সম্ভ্রান্ত ও শরীফ বংশীয় সাইয়্যিদ পরিবারে উনার মুবারক বিলাদত শরীফ। তিনি হলেন নকশায়ে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, বাহরুল উলুম, কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
বুযুর্গ পরিবারের সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মুবারক আবহেই সযতœ লালন-পালন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং উনার বেড়ে উঠা। বুযুর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা উভয়েই সাইয়্যিদ, অর্থাৎ আওলাদে রসূল। মুবারক বংশ গৌরব, শরাফত, আচার-আচরণ ও কর্মে উনারা সর্বজন শ্রদ্ধেয়। উনারা খালিছ আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী। সুবহানাল্লাহ!
ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার ঊর্ধ্বতন বুযুর্গ পুরুষ উনারা আরব দেশের অধিবাসী। হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের পবিত্রতম মাধ্যম হয়ে ঊর্ধ্বতন বুযুর্গ পুরুষ উনাদের মুবারক সংযুক্তি ঘটেছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে। সুবহানাল্লাহ! হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ঊর্ধ্বতন বুযুর্গ পুরুষ উনাদের এক জামায়াত প্রায় তিনশত বছরেরও অধিককাল পূর্বে এদেশে আগমন করেন। বর্তমান গাজীপুর জেলাধীন কাপাসিয়া ও মনোহরদী থানার সংযোগস্থল ‘হাতিরদিয়া’তে সাময়িক অবস্থানের পর তরগাঁও ইউনিয়নের ‘উত্তর খামের’ গ্রামে উনারা স্থায়ী বসতি নির্মাণ করেন এবং সেখানেই হিদায়েত ও নছীহতের কাজে নিয়োজিত থাকেন। বাড়ির আঙ্গিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়, যা আজও বিদ্যমান। বাড়ির অদূরে উনাদের প্রতিষ্ঠিত একটি মাদরাসাও চালু ছিলো।
১৩৯৫ হিজরী সনের মুবারক ১৪ যিলক্বদ শরীফ মুতাবিক ১৯৭৫ ঈসায়ী সনের ১৯ নভেম্বর ঢাকায় শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ। বুযুর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা উনাদের লখতে জিগার আওলাদ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার মুবারক কৈশোরেই আদব, শরাফত, প্রশিক্ষণ ও পর্যায়ক্রমিক ইলম দানে সমৃদ্ধ করে তোলেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য যাবতীয় ইলম ও প্রজ্ঞায় ব্যুৎপত্তি হাছিল করেন শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি। মুবারক বিলাদত শরীফ সূত্রেই তীক্ষè মেধা ও মননের অধিকারী হওয়ায় শ্রেণী বিন্যাসকৃত পরীক্ষার সকল ধাপেই তিনি কৃতিত্বের সাক্ষর রাখেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বুয়েট থেকে ঈর্ষণীয় ফলাফলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হন। এ.আই.ইউ.বিতে তিনি ফ্যাকাল্টি মেম্বার নির্বাচিত হয়ে কিছুদিন সেখানে অবস্থান করেন। অতঃপর প্লানিং ডিপার্টমেন্টে টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সাত বছর কাজে নিয়োজিত থাকেন।
মাহবুব ওলীগণ উনারা আবাল্য স¦াধীন। পরাধীনতা ওলীত্বের অন্তরায়। মহান পারিবারিক ঐতিহ্য, অন্তরে লালিত স¦প্ন, অনুভবে মধুর যন্ত্রণা কাতরতা অনুক্ষণ একজন শায়েখ উনার ক্বদম মুবারকে ঠাঁই নিতে হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। প্রত্যাশা পূরণের মহান লক্ষ্যে ১৪২১ হিজরী সনের পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মুতাবিক ২০০০ ঈসায়ী সনে তিনি মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হয়ে গন্তব্য মঞ্জিলে পৌঁছার পথ অবারিত করেন। সুবহানাল্লাহ! নিয়মিত মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করে, যিকির ও ফিকিরে অভ্যস্ত হয়ে এবং মুরাক্বাবা, মুশাহাদা ও ইবাদত-বন্দেগীতে নিবিষ্ট হয়ে তিনি কামিয়াবীর চূড়ান্ত সোপানে উপনীত হন। তিনি অল্প সময়ে সকল সম্মানিত তরীক্বার ছবক সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ!
পাশাপাশি নিয়মিতভাবে তিনি মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, খলীফাতুল উমাম, আওলাদে রসূল, কুতুবুল আলম, খাজিনাতুর রহমাহ, মাখযানুল মারিফাহ, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, খলীফাতুল মুসলিমীন, নকশায়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, সুলত্বানুল আরিফীন, নূরে খাজীনা, নূরে মুকাররম, বাহরুল উলূম, গাউছূল আ’যম, মাহবূবে রব্বানী, আল মানছূর, ছানিয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, কুদরতে ইলাহী, মুজিযায়ে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবত হাছিলে ধন্য হন। এতে সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কামিয়াবীর অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং খলীফাতুল উমাম, ছানিয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাদের অবিরাম ধ্যান-খেয়াল, মুহব্বত, মা’রিফাত, তায়াল্লুক-নিসবতে মশগুল থাকায় টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং পদবির লোভনীয় চাকরিটি শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাকে ধরে রাখতে পারে না। ২০০৯ ঈসায়ী সনে চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে পরিপূর্ণরূপে তিনি দুনিয়া বিরাগী মানসিকতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। শুরু হয় ক্রমবর্ধিষ্ণুরূপে একের পর আরেক মাক্বাম উত্তরণে গন্তব্য অভিমুখে উনার অগ্রযাত্রা। সুবহানাল্লাহ! এখন আর কোনো পিছুটান নেই। কেবলই আপন মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে ও খিদমতে নিয়োজিত থেকে মুহব্বত ও মারিফাতের অথৈ পারাবারে অনুক্ষণ অবগাহন। সুবহানাল্লাহ!
মাহবুব ওলীআল্লাহ উনাদের নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার বিষয়টি আসমানী ফায়ছালার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে কোনো পক্ষেরই কালক্ষেপণ হয়না। সহজেই অনুমেয় যে, ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং উনার মহা-সম্মানিতা ছাহিবাতুল মুকাররামা, উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদের লখতে জিগার, নূরে চশম, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাকে পাত্রস্থ করার জন্য বেমেছাল মর্যাদা ও যোগ্যতাসম্পন্ন একজন সুমহান ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, ত্বহিরা ওয়াত ত্বইয়্যিবা, ফক্বীহা, নূরে হাবীবা, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, রাহনুমায়ে দ্বীন, ছিদ্দীক্বায়ে কুবরা, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, মাহবুবায়ে ইলাহী, উম্মু আবীহা, আহলুল বাইতি, মুহসানাতুল উম্মাহ, ফাদ্বীলাতুন নিসা, কামিলাতুন নিসা, খাইরে নিসায়িল আলামীন, ছাহিবাতুল হুসনা, ওয়ারিছাতুন নাবিয়্যী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদে রসূল, ওলীয়ে মাদারযাদ, হাবীবাতুল্লাহ, হাবীবাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নাক্বীবাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাকে পাত্রস্থ করতে যে সুমহান ব্যক্তিত্ব দরকার, সে বুযূর্গ ব্যক্তিত্ব উনার মান, শান, মর্যাদা, মর্তবা, মাক্বাম, বংশ কৌলীন্য, ইজ্জত-ঐতিহ্য প্রয়োজন, তা আমাদের আক্বল, সমঝ, উপলব্ধি ও অনুভূতির সীমাহীন ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
সে পাত্র তিনিই হলেন নকশায়ে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, বাহরুল উলুম, কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, মাহবুবে ইলাহী, মাহিউল বিদয়াত, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদ শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি। উনার মান, শান, মর্যাদা ও মাক্বামাত বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না। তবে একথা সত্য যে, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম হযরত শাহযাদী উলা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক সান্নিধ্যে আসার কারণেই শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মান, শান, মর্যাদা, মহিমা ও মাক্বাম উনাদের পরিবৃদ্ধি ঘটেছে সীমাহীন মাত্রায়। সুবহানাল্লাহ!
১৪৩০ হিজরী সনের সুমহান ২২ শাওওয়াল শরীফ উনার পবিত্রতম নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার মুবারক নির্দেশে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় উপস্থিতিতে মূলত এ পবিত্রতম নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয় জান্নাতে। মুবারক ওই অনুষ্ঠানের একই আদলে রাজারবাগ পাক দরবার শরীফস্থ সুন্নতী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার মাহফিল। সুবহানাল্লাহ! ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উসীলায় কায়িনাতবাসী পেলো একজন শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাকে। তিনি হলেন উনার যাওজুল মুহতারাম। সুবহানাল্লাহ!
ক্বিয়ামতব্যাপী হক্ব মত ও পথ প্রদর্শন ও বাস্তবায়নের অমিয় ধারা অনুক্ষণ অক্ষুণœ রাখার মহান লক্ষ্যে নাক্বীবাতুল উমাম, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার যাওজুল মুহতারাম শাফিউল উমাম, হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনারা কায়িনাতবাসীকে হাদিয়া করেন সাইয়্যিদাতুল উমাম আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে। সুবহানাল্লাহ!
হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার ইলম, প্রজ্ঞা, তাক্বওয়া, পরহেযগারী, তা’য়াল্লুক, নিসবত, মুহব্বত ও মারিফাতের পরিধি বেমেছাল। মান, শান, ইজ্জত ও ঐতিহ্যে তিনি অতুলনীয়। প্রত্যয়ী ব্যক্তিত্ব, শৌর্য, কৌলীন্য, গাম্ভীর্য, সূক্ষ্ম মনন, তীক্ষè মেধা, ধৈর্য, স্থৈর্য, আদব, শরাফত, আন্তরিকতা, অমায়িকতা, সময়ানুবর্তিতা এবং যিকির-ফিকির ও ইবাদত-বন্দিগীর নিবিষ্টতায় তিনি অনন্য। সুবহানাল্লাহ! সর্বোপরি তিনি আওলাদে রসূল, ওলীয়ে মাদারযাদ, নাক্বীবাতুল উমাম, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার যাওজুল মুহতারাম। এটি উনার সীমাহীন মর্যাদা ও মাক্বাম। উনার যতো লক্বব মুবারক, সে সবের মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম মর্যাদার লক্বব মুবারক হলো ‘হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম কর্তৃক কুল-কায়িনাতব্যাপী খিলাফত আলা মিন হাজিন নুবুওওয়াহ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার মজবুত ভিত রচনা এবং উনার অপ্রতিরোধ্য তাজদীদ বাস্তবায়নের আঞ্জামদানে শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি নিরন্তর নিয়োজিত। এছাড়া দরবার শরীফ উনার যাবতীয় জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ সুন্নতী তর্জ-তরীক্বায় পরিচালনা ও সমাধানে উনার সর্বক্ষণের সম্পৃক্তি। বিশাল কর্মকা- তত্ত্বাবধান ও নির্বাহে উনার সার্বক্ষণিক ব্যস্ততা। শত ব্যবস্ততার মাঝেও প্রার্থীর প্রার্থনা পূরণে, বিভিন্ন অভিযোগ শ্রবণ ও সমাধানে, বিপন্ন মানুষের দুঃখ মোচনে এবং প্রজ্ঞাময় উপদেশদানের আন্তরিকতায় তিনি ক্লান্তিহীন ও অনন্য। সুবহানাল্লাহ!
উনার মুবারক অবয়বে মাদানী নূর। মুবারক মন ও মননে খিলাফত প্রতিষ্ঠার স¦প্ন। অনুপম ব্যক্তিত্বে, মুবারক আচার-আচরণ ও বাক্যালাপে, গাম্ভীর্যপূর্ণ অমায়িকতায়, সুন্নত পালনের দায়িমী অভ্যস্ততায় এবং তুলনাহীন চরিত্র মাধুর্যে তিনি সুমহান। খাছ আওলাদে রসূল হিসেবে তিনি পূত-পবিত্র। তিনি মহা-সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার সীমাহীন ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী, সম্মান ও মাক্বাম সম্পর্কে আমরা একান্তই অজ্ঞ। সুমহান ১৪ যিলক্বদ শরীফ উনার মুবারক ঈদে বিলাদত শরীফ। পবিত্রতম ও সীমাহীন নিয়ামতপূর্ণ এ উপলক্ষে কেবল ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম, মহা-সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি হাছিলই আমাদের বিনীত লক্ষ্য।
*****************************************
সুমহান ১৪ই যিলক্বদ শরীফ:
পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে
মুহব্বত করা, খিদমত করা ফরয ঘোষণা করা হয়েছে।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قل لا اسئلكم عليه اجرا الا الـمودة فى القربى
অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মতদেরকে বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান বা বিনিময় চাই না, আর তোমরা তা দিতেও পারবে না, তবে তোমাদের নিজেদের ফায়দা হাছিলের জন্যে আমার যাঁরা আপনজন অর্থাৎ আমার আহলু বাইত ও আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত ও সম্মান করবে।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার পর রঈসুল মুফাসসিরীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে আরজ করলেন-
يا رسول الله صلى الله عليه و سلم من قرابتك هؤلاء الذين وحبت علينا مودتهم قال على عليه السلام وفاطمة عليها السلام وولدهما عليها السلام.
অর্থ: “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার আপনজন কারা, যাঁদের ভালোবাসা আমাদের উপর ওয়াজিব করা হয়েছে? জাওয়াবে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম এবং উনাদের দু’সন্তান সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস।” (তাফসীরে মাযহারী, তবরানী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, রঈসুল মুফাসসিরীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
احبوا اهل بيتى
অর্থ : “তোমরা আমার আহলু বাইত অর্থাৎ আল-আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো।” (মিশকাত শরীফ)
আর তেমনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম হচ্ছেন কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম। যিনি সুমহান পবিত্র ১৪ই যিলক্বদ শরীফ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
অতএব, সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস অত্যন্ত জওক্ব-শওক্ব ও শান-শওক্বত উনার সাথে উদযাপন করা। পাশাপাশি উনার মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করা, উনাদেরকে মুহব্বত করা, অনুসরণ-অনুকরণ করা ও উনাদের যথাযথ খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া। যা সকলের জন্যই রহমত, বরকত, নিয়ামত, সাকীনা ও নাজাত লাভের কারণ হবে।
************************************************************
সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনার মুহব্বতকারীগণ জান্নাতী এবং বিদ্বেষকারীরা জাহান্নামী
কুল-মাখলুক্বাতের নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম, সম্মানিত, নূরানী আহাল-ইয়াল, পরিবার-পরিজন উনারাই হচ্ছেন ‘আহলু বাইত’ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম সারির অন্তর্ভুক্ত হলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহা সম্মানিত হযরত আব্বাও হযরত আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা আর তৃতীয় সাবির অন্তর্ভুক্ত হলেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম এবং দ্বিতীয় সারির অন্তর্ভুক্ত হলেন আওলাদু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা।
স্মরণীয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন শারি’ বা শরীয়ত উনার প্রবর্তক অর্থাৎ তিনি যা বলেন তাই শরীয়ত। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
الشريعة اقوالى
অর্থ: “আমার কথা মুবারকই শরীয়ত।”
উল্লেখ্য, সাধারণত মানুষের বংশ সাব্যস্ত ও জারি হয় ছেলে সন্তানের মাধ্যমে। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরানী বংশ মুবারক সাব্যস্ত ও জারি হয়েছেন উনার চতুর্থ বানাত সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত দুই ছাহিবযাদাহ হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মাধ্যমে।
যেমন এ প্রসঙ্গে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لكل بنى اب عصبة الا ابنى حضرت فاطمة عليها السلام فانا وليهما و عصبتهما
অর্থ: “প্রত্যেক সন্তানের বংশীয় নিসবত পিতার দিক দিয়ে হয়। তবে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার দুই ছাহিবযাদাহ উনারা ব্যতীত। কেননা আমি উনাদের অভিভাবক এবং উনাদের বংশীয় নিসবত হবে আমার মাধ্যমেই।” (কাওছারুল খইরাত শরীফ, তবারানী শরীফ)
অর্থাৎ জান্নাতের যুবকগণ উনাদের সাইয়্যিদ হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনাদের বংশদ্ভূত সন্তানগণ উনারাই আওলাদে রসূল নামে পরিচিত। হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার তৃতীয় ছেলে হযরত ইমাম মুহসিন আলাইহিস সালাম তিনি অল্প বয়স মুবারকেই পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন। আর উনার বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের দ্বারা যে বংশ মুবারক জারি রয়েছে, উনারা ফাতিমী নামে পরিচিত। আর সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার অন্যান্য আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সন্তানগণ উনাদের মাধ্যমে যে বংশ জারি রয়েছে, উনারা আলূবী নামে পরিচিত।
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে এবং অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে। পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ উনার ৩৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
اِنَّـمَا يُرِ‌يْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الر‌جْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهّرَ‌كُمْ تَطْهِيْرً‌ا
অর্থ: “হে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা হলো যে, আপনাদের থেকে সকল অপবিত্রতা দূরীভূত করবেন এবং আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করবেন।” অর্থাৎ পবিত্র আয়াত শরীফখানা উনার প্রকৃত অর্থ হলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পূত-পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
انا واهل بيتى مطهرون من الذنوب
অর্থ: “আমি এবং আমার আহলু বাইত আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই পাপ থেকে পবিত্র।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
قُل لَّا اَسْاَلُكُمْ عَلَيْهِ اَجْرً‌ا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْ‌بٰى ۗ
অর্থ: “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।” (পবিত্র সূরা শুরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قل قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احبوا الله لـما يعذوكم من نعمة واحبونى لـحب الله واحبوا اهل بيتى لـحبى.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনাকে তোমরা মুহব্বত করো; কেননা তিনি খাওয়া-পরার মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর আমাকে তোমরা মুহব্বত করো, মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হাছিলের জন্য। আর আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে তোমরা মুহব্বত করো আমার মুহব্বত হাছিলের জন্য।” (তিরমিযী শরীফ)
এ পবিত্র হাদীছ শরীফ হতে প্রতিভাত যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করতে হলে মহান আল্লাহ পাক উনার যিনি হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করতে হবে। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করতে হলে উনার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করতে হবে ও সন্তুষ্ট করতে হবে।
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের একটি মর্যাদা মুবারক হলো উনাদের উপর ছলাত ও সালাম পাঠ করা ওয়াজিব। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
اِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِيّ ۚ يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلّمُوْا تَسْلِيْمًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার প্রতি ছলাত পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! আপনারাও উনার প্রতি ছলাত পাঠ করুন এবং সালাম পেশ করুন যথাযথ সম্মানের সাথে।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)
ছাহাবী হযরত কা’বা ইবনে উজরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, উদ্ধৃত পবিত্র আয়াত শরীফখানা নাযিল হওয়ার পর আমরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমীপে আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি আমরা কিভাবে ছলাত পাঠ করবো তা আমাদেরকে শিক্ষা দিন, তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
اللهم صل على سيدنا مـحمد وعلى ال سيدنا مـحمد كما صليت على سيدنا ابراهيم وعلى ال سيدنا ابرا هيم انك حـميد مـجيد. اللهم بارك على سيدنا مـحمد وعلى ال سيذنا مـحمد كما باركت على سيدنا ابراهم وعلى ال سيدنا ابراهيم انك حـميد مـجيد.
অর্থ: “হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এবং উনার সম্মানিত পরিবার-পরিজন উনাদের প্রতি রহমত মুবারক নাযিল করুন, যেভাবে রহমত নাযিল করেছেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার প্রতি এবং উনার পরিবার-পরিজন উনাদের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি পরম প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি বরকত নাযিল করুন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এবং উনার সম্মানিত পরিবার-পরিজন উনাদের প্রতি, যেভাবে আপনি বরকত নাযিল করেছেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার প্রতি এবং উনার সম্মানিত পরিবার-পরিজন উনাদের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি পরম প্রশংসিত ও সম্মানিত।”
স্মরণীয় যে, এ পবিত্র দুরূদ শরীফখানা নামাযে তাশাহ্হুদের পর পড়ার জন্য সাব্যস্ত হয়েছে। তাশাহ্হুদের সালামের কারণে এ পবিত্র দুরূদ শরীফখানা উনার মধ্যে সালামের বিষয়টি উল্লেখ নেই। তাই নামাযের বাইরে এ দুরূদখানা পড়া মাকরূহ। মূল কথা হলো, বর্ণিত পবিত্র দুরূদ শরীফখানা উনার মধ্যে ال سيدنا مـحمد দ্বারা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা হযরত আযওয়াজ- আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম এবং সম্মানিত আল-আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ না করা পর্যন্ত নামাযও পরিপূর্ণরূপে আদায় হবে না।
প্রতীয়মান হলো যে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে এত উর্ধ্বে যে, উনাদের উপর দুরূদ শরীফ পাঠই বান্দার ইবাদত পরিপূর্ণ ও কবুল হওয়ার জন্য একমাত্র উসীলা।
ছাহাবী হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের মধ্যবর্তী খোম নামক পানির নালার নিকট দাঁড়িয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করলেন। প্রথমে মহান আল্লাহ পাক উনার হামদ ও ছানা বর্ণনা করলেন, এরপর ওয়াজ ও নছীহত মুবারক করলেন অতঃপর বললেন, সাবধান! হে মানুষেরা! নিশ্চয়ই আমি হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতিসত্বর আমার নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার দূত (হযরত মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম) আসবেন, তখন আমি আমার রব তায়ালা উনার আহ্বানে সাড়া দিব। আমি তোমাদের মাঝে দু’টি মূল্যবান নিয়ামত রেখে যাচ্ছি। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো, মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব, উনার মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর। অতএব তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব মুবারক উনাকে মুজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং দৃঢ়তার সাথে উনার বিধি-বিধান মেনে চলো। (বর্ণনাকারী বলেন,) মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব মুবাকর উনার নির্দেশাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য তিনি খুব বেশি উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করলেন। অতঃপর বললেন, দ্বিতীয়টি হলো, আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমি তোমাদেরকে আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বিশেষভাবে নছীহত মুবারক করছি। আমি তোমাদেরকে আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে বিশেষভাবে নছীহত মুবারক করছি। (মুসলিম শরীফ)
ছাহাবী হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি, তিনি (বিদায়) হজ্জে সম্মানিত আরাফার দিন উনার কাছওয়া নামক উষ্ট্রীর উপর সাওয়ার অবস্থায় খুতবা মুবারক প্রদান করছেন। তিনি খুতবায় বলছেন, হে মানুষেরা! আমি তোমাদের মাঝে এমন নিয়ামত রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি উহাকে মজবুতভাবে ধরে রাখ তাহলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তাহলো কিতাবুল্লাহ বা পবিত্র কুরআন শরীফ এবং আমার ইতরাত, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। (তিরমিযী শরীফ)
হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কা’বা শরীফ উনার দরজা মুবারক ধরে বলতে শুনেছি যে, সাবধান! আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হলেন তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতীর ন্যায়। যে তাতে আরোহন করবে, সে রক্ষা পাবে আর যে তা হতে পশ্চাতে থাকবে, সেই ধ্বংস হয়ে যাবে। (আহমদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতকারীগণ সকলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীরা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
******************************************************
নকশায় হায়দার, শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘যুন নূরীল মুজাদ্দিদীল আযীম’। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি যাঁকে ইচ্ছ উনাকেই উনার জন্য মনোনীত করেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত করার বিষয় সম্পর্কে তিনিই সর্বাধিক জ্ঞাত। আমরা আমাদের যাহিরী দৃষ্টিতে দেখতে পাই- আমাদের সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনারা হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছছুল খাছ আওলাদ তথা আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই উনাদের সম্মান, মর্যাদা, মর্তবা ফাযায়িল, ফযীলত মুবারক কতটা উচ্চ পর্যায়ে- সেটা চিন্তা-ফিকিরেরও ঊর্ধ্বে। আর তাই একথাও উপলব্ধি করতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় যে, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা তনয়া আলাইহাস সালাম উনাদেরকে যাঁরা ধারণ করবেন অর্থাৎ উনাদের সাথে যাঁরা সম্পৃক্ত হবেন উনাদের শান-শওকতও কতটা সমুন্নত ও বুলন্দকৃত! সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ব্যক্তি যেমন মর্যাদার অধিকারী সেই ব্যক্তির সাথে উনার সমপর্যায়ের মাক্বামে উপনীত ব্যক্তিকেই সম্পৃক্ত করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! নকশায়ে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, নাক্বীবাতুল উমাম সাইয়্যদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে ধারণ করার কারণে হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ‘যুন নূরীল মুজাদ্দিদীল আযীম’ লক্বব মুবারকে ভূষিত হন। সুবহানাল্লাহ!
*************************************************
পবিত্র ১৪ই যিলক্বদ শরীফ উনার সুমহান সম্মানার্থে-
সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার তোহফায় মামদূহজী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করা সম্ভব
দুর্বল, অযোগ্য, অথর্ব, নির্জীব ও বারবার হোঁচট খাওয়া সালিকের প্রতি সীমাহীন রহমতী নজর মুবারক দিয়ে যিনি অনায়াসে মামদূহজী ক্বিবলা ও সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছে সুপারিশ করে দুর্বল থেকে সবল, অযোগ্য থেকে যোগ্য, অথর্ব থেকে সচল, নির্জীব থেকে সজীব বানিয়ে দেন; তিনি তো আমাদের প্রাণপ্রিয় হায়দারী নকশা, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, ফকরে মামদূহ, ফকরে আম্মাজী, সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম। সুবাহানাল্লাহ!
তিনি এমন এক অযুদ পাক, যিনি মামদূহজী ও সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করে আছেন। শুধু তাই নয়, উনার অভিপ্রায় এমন যে- আমরা সকলে যেন মামদূহজী ক্বিবলা ও সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করি। সুবাহানাল্লাহ! শয়তানী কব্জা থেকে বের করে তিনি মুর্শিদী কব্জায় টেনে নিয়ে আসেন। মালাউন ইবলিস ও তার দোসর কাফির, মুশরিক, মুনাফিক, উলামায়ে সূ’রা আমাদেরকে বিভ্রান্ত করে মামদূহজী ক্বিবলা উনাকে কষ্ট দিবে; আবার শান-মানের খিলাফ করে কষ্ট দিবে- এটা তিনি বরদাশত করতে পারেন না। তাই তো তিনি আমাদের পরিশুদ্ধ করে দিবেনই দিবেন- এটাই উনার পণ। সেই লক্ষ্যেই উনার রাত দিন পরিশ্রম।
একদিকে উনার মুর্দা জিন্দা হওয়ার ন্যায় শক্ত তালীম-তালক্বীন, অন্যদিকে আমাদের জন্য মামদূহজী ক্বিবলা ও আহলু সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছে সুপারিশ করে দোয়া করা। আমাদের দুঃখ-কষ্টগুলো উনার কাছে বেদনাদায়ক। তিনি আমাদের চরম পরম হিতাকাঙ্খী।
হে প্রাণের আক্বা ক্বিবলা কা’বা! সুলত্বানিন নাছির, আহলু বাইতে আকবর, আস সাফফাহ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! আমরা সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার শুকরিয়া আদায় করতে অক্ষম। আমরা উনার ক্বদর করতে পারতেছি না! সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে তওবা করে শুকরিয়া আদায় করার তাওফীক দান করুন এবং আপনাদেরকে পরিপূর্ণ ধারণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
******************************************
ইমামুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জান্নাতী বাগান মুবারক উনার অন্যতম সুবাসিত ফুল হচ্ছেন শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اطيعوا الله و اطيعوا الرسول و اولى الامر منكم-
অর্থ: তোমরা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং তোমাদের মধ্যে যাঁরা উলিল আমর তথা ‘নায়িবে নবী’ ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অনুসরণ করো। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ক্রমানুযায়ী পবিত্রতম মুরাদ হচ্ছেন তিন উজুদ পাক (১) প্রথম উজুদ পাক হচ্ছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি (২) দ্বিতীয় উজুদ পাক হচ্ছেন, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (৩) তৃতীয় উজুদ পাক হচ্ছেন, উলিল আমর তথা হাকীকী নায়েবে নবী, ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা, অর্থাৎ হক্কানী-রব্বানী শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনারা। এই আলোকে উলিল আমর দ্বারা খাছভাবে মুরাদ বা উদ্দেশ্য হচ্ছেন- সর্বকালের, সর্বযুগের, সর্বশ্রেষ্ঠ মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম, গাউছুল আ’যম, ইমামে আযম, মুজতাহিদে আযম, খলীফায়ে আ’যম,ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, আন নিমাতুল উযমা আলাল আলাম, কুদরতে ইলাহী, মু’জিযায়ে রসূল, রসূলে নোমা, জামিউন নি’য়ামত, জামিউন নিসবত, জামিউল আলক্বাব, হাবীবুল্লাহ, আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, আল মুত্বহিহর, আল মুতাহহার, আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদুনা ইমাম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম রাজারবাগ শরীফ ঢাকা তিনিই। সুবহানাল্লাহ! আর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার প্রকৃত ইতায়াতকারী তথা হাকীকী মুরীদ হচ্ছেন অর্থাৎ বর্তমানে যে মহান উজুদ পাক উনাকে আমরা হাক্বীক্বীভাবে লক্ষ্য করতে পারছি, তিনি হচ্ছেন- বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম, আল মুতীউল খাইর, আতায়ে রাসূল, আশিকে ইলাহী, যুর রহমাহ ওয়াল কারাম, ছাহিবুল হাসানাহ, ছাহিবু হুসনিল খুলুক, ছহিবু মাকারিমিল আখলাক, ছাহিবুল কাশফ ওয়াল কারামাত, ছাহিবু উসওয়াতিল হাসানাহ, আশিদ্দাউ আলাল কুফ্ফার, ছাহিবুশ শুজায়াত, নকশায়ে আসাদিল্লাহিল গালিব, রেযায়ে মুর্শিদ, আওলাদুর রাসূল, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনিই। সুবহানাল্লাহ! তিনি একদিক থেকে আওলাদুর রসূল আর অপর দিক থেকে বর্তমান যামানার যিনি পবিত্র হিদায়াত উনার একমাত্র ঠিকানা, মানব মুক্তির একমাত্র নাজাতী তরী, কুল-কায়িনাতের মহান ধারক-বাহক ও অভিভাবক, দুনিয়া ও আখিরাতের নাজাতের একমাত্র মূল উসীলা, যিনি যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম, আল গাউছুল আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আ’লাম, নকশায়ে নবী, নববী নূর, নূরে মদীনা, নূরে মুকাররাম, জামিউল আলক্বাব, হাবীবুল্লাহ, আখাছ্ছুল খাছ আওলাদুর রসূল, আহলু বাইতি রসূল্লিাহ,আল মুত্বাহিহর,আল মুতাহহার, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার এবং আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আ’লাম, উম্মুল খাইর, তহিরা, তইয়িবা, ছহিবাতুল কাশফ ওয়াল কারামাত কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত, বিশেষ করে নারী জাতির মুক্তির একমাত্র সোপান, নূরে মুকাররাম, নূরে মদীনা, গুলে মদীনা, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আখাচ্ছুল খাছ আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম (রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা) উনাদের হযরত “শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম”। সুবহানাল্লাহ!
এই পবিত্রতম লকব মুবারকই উনাকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ মাক্বামে অধিষ্ঠিত ও সমাসীন করেছেন। যার পবিত্রতম পরিধি ও পরিসীমা অনন্ত অসীম খালিক্ব, মালিক রব উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অসীম কুদরত মুবারক উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুবহানাল্লাহ!
সমগ্র কায়িনাতবাসীর কাছে এই পবিত্রতম লক্বব মুবারক-ই সর্বশ্রেষ্ঠ- সুপ্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত। যা কেবলমাত্র সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, ছাহিবাতুল ইলম ওয়াল হিকাম, ছাহিবাতুল কাশফ ওয়াল কারামাত, ছাহিবাতুত তাকওয়া, ছাহিবাতুল উসওয়াতিল হাসানহ, ছাহিবাতুল হুসনিল খুলুক, খাযিনাতুর রহমাহ, মাহবুবায়ে ইলাহী, আশিকায়ে রাসূল, নূরে মদীনা, মেছালে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, ছাহিবাতু মাকারিমিল আখলাক, তহিরা, তইয়িবা, ছাহিবাতু জামিয়িল আলক্বাব, পবিত্রতম লখতে যিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং পবিত্রতম লখতে জিগারে হযরত উম্মুল উমাম ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম, আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ আল মতাহিহর, আল মুতাহহার,আওলাদুর রাসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার যাওজুল মুকাররম-এ সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এমন সীমাহীন শান-মান, বুযুর্গী, মর্যাদা-মর্তবা ও ফাযায়িল-ফযীলত উনার অধিকারী হেেয়ছেন, তা সমস্ত জিন-ইনসানসহ সমগ্র সৃষ্টি জগতের- সাধারণ -চিন্তা-ফিকির, ধ্যান-ধারণার সব কিছুরই সীমাহীন ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই তিনি পবিত্র আয়াত শরীফ نور على نور (নূরুন আলা নূর) উনার হাক্বীক্বী মিছদাক্ব। সুবহানাল্লাহ!
আমার জীবনে যেদিন থেকে উনাকে দেখেছি, মুবারক ছুহবত উনার পরশ মুবারক পেয়েছি সেদিন থেকে লক্ষ্য করেছি, উনার পবিত্রতম আচার-ব্যবহার মুবারক, চাল-চলন মুবারক, কথা-বার্তা মুবারক, বিনয়-নম্রতা মুবারক, উদারতা-নিপুণতা মুবারক, সহিষ্ণুতা মুবারক, কর্মদক্ষতা মুবারক, দয়ার্দ্রতা মুবারক, ধর্মপরায়ণতা মুবারক, খোদাভীরুতা মুবারক, লজ্জাশীলতা মুবারক, শালীনতা মুবারক, সহযোগিতা-সহমর্মিতা মুবারক, মহত্ত্বতা-মমত্বতা মুবারক, পরোপকারিতা মুবারক, জ্ঞান-গরীমা মুবারক, দূরদর্শিতা মুবারক, সূক্ষ্মদর্শিতা মুবারক, বিচক্ষণতা মুবারক, জ্ঞান পিপাসা মুবারক, চিন্তাশীলতা মুবারক, আদর্শতা মুবারক এক কথায় উনার পবিত্রতম সার্বিক আদব-আখলাক-শরাফত ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য মুবারকে ছিলেন সকলের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও স্বতন্ত্র, যা আমাকে বিমুগ্ধ ও বিভোরে আচ্ছন্ন করে রেখেছেন এবং এখনো রাখছেন। যা ভাষায় প্রকাশ বা বর্ণনা করা কস্মিনকালেও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সকল কিছুর অবসান ঘটল যখন উনি প্রাণের আক্বা সাইয়্যিদুনা মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার এবং প্রাণের আক্বা সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম হযরত আম্মাজী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্রতম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ!
মিশে গেলেন গভীর তায়াল্লুক-নিসবতের সীমাহীন খাযিনায়-পবিত্রতম আহলু বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্রতম জান্নাতী পরিবেশে। গভীর তায়াল্লুক-নিসবতে আরো একাকার হয়ে গেলেন খালিক্ব, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একই ধারায় সংযুক্ত হয়েছেন আওলাদুর রসূল, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, মেছালে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, হাবীবুল্লাহ হাদিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনিও। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, মহান আল্লাহ পাক উনার সবচেয়ে বড় কুদরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যে কুদরতী নূরানী, জান্নাতী বাগান মুবারক সাজিয়েছেন সেই জান্নাতী বাগানোর সুবাসিত ফুল হিসেবে অতি আদর ও মুহব্বতে সৃষ্টি করেছেন হযরত শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কাবা আলাইহিস সালাম উনাকে। সুবহানাল্লাহ! কাজেই উনার পবিত্রতম বিলাদত শরীফ এই ১৪ই যিলক্বদ শরীফ আমাদের কয়িনাতবাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ তথা সাইয়িদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত। কেননা তিনি আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَ‌حْمَتِهِ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَ‌حُوْا هُوَ خَيْرٌ‌ مّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ.
অর্থ : “হে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ফযল ও রহমত অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে ঈদ উদযাপন অর্থাৎ খুশি প্রকাশ করো। উনার মুবারক শানে এ খুশী প্রকাশ করাটাই হচ্ছে তোমাদের জীবনের সমস্ত আমল থেকে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম।।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ইউনূস শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)
উনার পবিত্র জীবন মুবারক-এ সবচেয়ে বড় কারামত মুবারক হল, তিনি নিজের জান-মাল সব কিছু কুরবান করে নিজের অস্তিত্ব মুবারক বিলীন করে অতি অল্প সময়ে পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্রতম রঙে-রঙ্গীন হয়ে হাক্বীক্বীভাবে ফানা থেকে পবিত্রতম বাক্বার সর্বোচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
একজন শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার হাক্বীক্বী মুরীদ বা গোলাম হওয়ার এবং হাক্বীক্বী রেযামন্দি, সন্তুষ্টি পরিপূর্ণভাবে লাভ করার পরিপূর্ণ আদর্শ মুবারক উনার আদর্শ মাপকাঠি ও নিজেকে বিলীন করার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হচ্ছেন- সাইয়্যিদুনা শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! একজন মুরীদ বা গোলাম কিভাবে সাইয়িদুনা ইমাম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার গোলামী করবেন, কিভাবে নিজেকে বিলীন করবেন, কিভাবে জান-মাল কুরবান করে পবিত্রতম খিদমত মুবারক করবেন, কিভাবে হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি হাছিল করবেন, কিভাবে মুহব্বত-মা’রিফাত হাছিল করবেন, কিভাবে গভীর থেকে গভীরতম তায়াল্লুক-নিছবত হাছিল করবেন, কিভাবে পবিত্র ইলমে শরীয়ত ও মা’রিফত হাছিল করবেন, কিভাবে পবিত্র তাছাউফ উনার নিগূঢ় তথ্য, তত্ত্ব ও হাক্বীক্বী স্বাদ উপভোগ করে মাক্বামের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হবেন, কিভাবে হযরত শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম ইশারা মুবারক অক্ষরে অক্ষরে অনুধাবন করে তা অতি সূক্ষèাতী-সূক্ষèরূপে অতি মুহব্বত ও যতœ সহকারে প্রতিপালন করবেন তার পবিত্রতম অনুপম এক উজ্জল দৃষ্টান্ত ও আদর্শ মুবারক হচ্ছেন সাইয়িদুনা শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি। এককথায় সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার এবং পবিত্রতম আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী রঙে রঙ্গীন হওয়ার একমাত্র সুমহান পবিত্রতম আদর্শ হচ্ছেন সাইয়িদুনা শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম। অর্থাৎ তিনি ঐ পবিত্রতম আয়াত শরীফ-
و اتبع سبيل من اناب الى-
উনার হাক্বীক্বী মিছদাক্ব। সুবহানাল্লাহ!
অর্থ: যিনি আমার দিকে রুজু হয়েছেন, তোমরা উনাকে অনুসরন করো।
প্রাণের আক্বা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম তাজদীদী কাজ মুবারক-এ আঞ্জাম দেয়ার ক্ষেত্রে যে অনবদ্য অবদান রেখে যাচ্ছেন, যা সীমাহীন ও কল্পনাতীত। যেমন- সারা বিশ্বব্যাপী পবিত্র খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াত উনার প্রচার-প্রসার কাজে ব্যাপকভাবে আঞ্জাম, পবিত্র যাকাত-উশর, মসিজদ-মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, লঙ্গরখানা প্রতিষ্ঠায় আঞ্জাম, তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ, দৈনিক আল ইহসান শরীফ বিশ্বব্যাপী প্রচার-প্রসারে আঞ্জাম, সারা বিশ্বব্যাপী আনজুমানে আলবাইয়্যিনাত গঠনে আঞ্জাম, ইয়াহুদী-নাছারা, বেদীন-বদদীন, হিন্দু-বৌদ্ধ, কাফির-মুশরিক এদের বিরুদ্ধে এদের কুষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে জাগিয়ে তোলার কাজে আঞ্জাম এক কথায় সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার পবিতত্রম আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের গভীর তায়াল্লুক-নিসবত, মুহব্বত, মা’রিফত, রেযামন্দি, সন্তুষ্টি হাছিলের সর্বোত্তম আদর্শের উজ্জল প্রতীক হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
আয় আল্লাহ পাক! উনার পবিত্রতম বিলাদত শরীফ উনার উসীলায় সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার এবং পবিত্রতম নূরানী আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাছ দয়া-দান, ইহসান, গভীর তায়াল্লুক, নিসবত, মুহব্বত, মা’রিফত, রেযামন্দি, সন্তুষ্টি আবাদুল আবাদের জন্য নছীব করুন। আমীন!