সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৬২

 

পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের-

হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম

উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-

মুবারক শৈশব ও কৈশোর থেকেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সুন্নত মুবারক এবং শরয়ী পর্দা পালনের একনিষ্ঠ অভ্যস্ততা:

 

এমন সম্মানিত সুন্নতপালনের সীমাহীন ফাযায়িল-ফযীলত সম্পর্কে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন:

مَنْ اَحَبَّ سُنَّتِـيْ فَقَدْ أَحَبَّنِـيْ وَمَنْ أَحَبَّنِـيْ كَانَ مَعِىَ فِي الْـجَنَّةِ

অর্থ: “যিনি আমার সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করলেন, তিনি যেনো স্বয়ং আমাকে মুহব্বত করলেন। আর যিনি আমাকে মুহব্বত করলেন, তিনি আমার সাথেই সম্মানিত জান্নাতে অবস্থান মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি উনার হায়াতে তইয়্যিবা মুবারকে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে সম্মানিত সকল সুন্নত মুবারক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পালন করছেন। এ কারণে তিনি পবিত্রতম বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দায়িমী দীদারে মশগুল রয়েছেন এবং সম্মানিত জান্নাতেও একই শান মুবারকে অবস্থান মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ!

প্রত্যেক পিতা-মাতারই একান্ত আরজু থাকে যে, উনাদের সন্তান উনাদের চেয়ে বড় হোক, অতুলনীয় গুণাবলী বিশিষ্ট কর্ম অবদানে জগৎ-সংসার আলোকিত ও আন্দোলিত করুক। একথা স্বতঃসিদ্ধ যে, দ্বীনদার আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী বুযুর্গ পিতা-মাতার ঘরেই নেকে সন্তানের আগমন ঘটে থাকে। সুবহানাল্লাহ!

যেমন গাউসুল আ’যম, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, মুহিউদ্দীন, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে পাওয়ার জন্য চরম ও পরমভাবে হালাল-হারাম যাচাইকারী হযরত আবূ ছালেহ মূসা জঙ্গীদোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং পরিপূর্ণরূপে সম্মানিত শরীয়ত ও পর্দাপালনকারিণী একজন বুযূর্গ আম্মা আলাইহাস সালাম উনার প্রয়োজন হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ!

একইভাবে আফদ্বালুল আউলিয়া ক্বইয়্যূমে আউওয়াল, আবুল বারাকাত, ছিলাহে উম্মত, শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে পাওয়ার জন্য বিশ্বখ্যাত ওলীআল্লাহ হযরত শায়েখ আবদুল আহাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং পরিপুর্ণরূপে সম্মানিত শরীয়ত ও পর্দাপালনকারিণী একজন বুযুর্গ আম্মা আলাইহাস সালাম উনার প্রয়োজন হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ!

অনুরূপ সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, ইমামুল আইম্মাহ, খাজায়ে খাজেগা, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে পাওয়ার জন্যও সম্মানিত শরীয়ত ও পর্দাপালনকারী উনার বুযুর্গ পিতা আলাইহিস সালাম এবং বুযুর্গ আম্মা আলাইহাস সালাম উনাদের প্রয়োজন হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)

আবা-২৭২

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৬১

 

 পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের-

হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম

উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত

মুবারক শৈশব ও কৈশোর থেকেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সুন্নত মুবারক এবং শরয়ী পর্দা পালনের

একনিষ্ঠ অভ্যস্ততা:

অধিক বয়স মুবারকেও সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি সর্বক্ষণ পাক-পবিত্র থাকতেন। এক ওয়াক্তের নামায আদায়ের পর তিনি পরবর্তী ওয়াক্তের নামাযের জন্য অধিক আগ্রহে ইন্তিজার করতেন। তিনি খাদিমাদের কাছে জানতে চাইতেন: “নামাযের সময় কী হয়েছে? আযান কী দেয়া হয়েছে? তিন সারাক্ষণ যিকির ফিকিরে এবং পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠে মশগুল থাকতেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে:

عَنْ حَضْرَتْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهِ تَعَالٰـى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِسْبَاغُ الْوُضُوْءِ عِنْدَ الْمَكَارِه مِنَ الْكَفَّارَاتِ وَكَثْرَةُ الْـخُطَا اِلَـى الْمَسَاجِدِ مِنَ الْكَفَّارَاتِ وَاِنْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ مِنَ الْكَفَّارَاتِ.

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, মাশুকে মাওলা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: “কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও অযুর সাথে থাকা বা অযু করা, মসজিদের প্রতি ঝুঁকে থাকা, এক নামাযের পরে আরেক নামাযের অপেক্ষায় থাকা গুনাহ মাফ বা মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ।” (মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ)। সুবহানাল্লাহ!

ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

তিনি প্রতি ইয়াওমুল জুমুয়াহ, অর্থাৎ জুমুয়াবার শরীফ নখ মুবারক কাটতেন। গোসল মুবারক করতেন। পবিত্র ইছনাইনিল আযীম শরীফ, অর্থাৎ সোমবারেও তিনি গোসল মুবারক করতেন। তিনি প্রতিক্ষণ কুল কায়িনাবাসীর জন্য দুআ’ মুবারক করতেন। ২৪ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৩২ হিজরী ইয়াওমুল জুমুয়াবার তিনি যথারীতি নখ মুবারক কেটেছেন। পবিত্র যুহর, আসর ও মাগরিব নামায আদায় করেছেন। সবার জন্য দুআ’ করেছেন। আবার কিছুক্ষণ ঘুমিয়েছেন। ঘুম থেকে জেগে তিনি অযু করে পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ অবস্থায় পূর্ণ প্রস্তুতিসহ মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার পবিত্রতম দীদারে গমন করেন। সুবহানাল্লাহ!

প্রাণের আক্বা ক্বিবলা কা’বা, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম, আন নি’মাতুল উজমা আলাল আলাম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মুবারক মাহফিল শেষে, পবিত্র ছোহবতদান শেষে, আরশ কাঁপানো মক্ববুল দুআ মুনাযাত শেষে যখন ভেতরে যেতেন, তখনই ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি বলতেন: “আমার মুজাদ্দিদে আ’যম বাবা এসেছেন। তোমরা উনাকে ঠাণ্ডা পানি দাও, শরবত দাও, উনি ক্লান্ত।” সুবহানাল্লাহ!

তিনি আরো বলতেন: “হে মুজাদ্দিদে আ’যম বাবা আপনি এসেছেন? আমাকে আপনার মুবারক ফুঁক দিন।” সুবহানাল্লাহ!

ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি সর্বক্ষেত্রেই সর্বক্ষণ নামায, কালাম, যিকির, ফিকির, তাসবীহ-তাহলিল, অর্থাৎ ইবাদত-বন্দেগীর সকল স্তরে সম্মানিত শরীয়ত এবং সম্মানিত সুন্নত পরিপূর্ণরূপে পালন করতেন। চলবে

আবা-২৭১

 

 

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৬০

 

পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের-

হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম

উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম

সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-

মুবারক শৈশব ও কৈশোর থেকেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার

সুন্নত মুবারক এবং শরয়ী পর্দা পালনের একনিষ্ঠ অভ্যস্ততা:

উনাদের মুবারক উসীলায় সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মাধ্যমে উল্লিখিত মুবারক আয়োজন চূড়ান্ত রূপলাভ করে। সুবহানাল্লাহ!

ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্রতম বিছালী শান মুবারক প্রকাশ অবধি মুবারক জীবনব্যাপী সর্বক্ষেত্রেই সম্মানিত সুন্নতপালনে তৎপর থাকতেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে:

اَحَبُّ الأَعْمَالِ اِلَى اللهِ تَعَالٰـى اَدْوَمُهَا وَاِنْ قَلَّ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার কাছে ওই আমলই অধিক প্রিয়, যা দায়িমীভাবে করা হয়, যদিও তা আল্প হোক না কেন”। সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

যাবতীয় ইবাদত বন্দেগী সম্পাদন, শরয়ী পর্দাপালন, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাওয়া-দাওয়া, যিকির-ফিকির, পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ তিলাওয়াত এবং মর্ম অনুধাবন, মুরাকাবা-মুশাহাদা, সম্মানিত আওলাদ-ফরজন্দ উনাদের প্রতিপালন ও শিক্ষাদান, পারিবারিক যাবতীয় দায়িত্বপালন, আতিথেয়তা, বড়দের প্রতি সম্মান এবং ছোটদের প্রতি হে বাৎসল্য, অর্থাৎ সম্মানিত পুরো যিন্দেগী মুবারকের প্রতিক্ষেত্রেই সম্মানিত সুন্নত ও শরয়ী পর্দাপালনে সাইয়্যিদাতুনা দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার একনিষ্ঠতা ছিলো সীমাহীন। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)

আবা-২৭০

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৫৯

 

পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের-

হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম

উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-

মুবারক শৈশব ও কৈশোর থেকেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সুন্নত মুবারক এবং শরয়ী পর্দা পালনের

একনিষ্ঠ অভ্যস্ততা:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি ওলীয়ে মাদারযাদ, তিনি আখাছছুল খাছ আওলাদে রসূল এবং তিনি মহা-সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহাস সালাম হওয়ার কারণে পরকালেও পুলসিরাত অতিক্রম করাসহ সর্বক্ষেত্রে তিনি অনুরূপ সীমাহীন মর্যাদা ও মাক্বামের অধিকারী হবেন। সুবহানাল্লাহ!

ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদে যামান, কুতুবে রব্বানী, মাহবূবে সুবহানী, গাউছুল আ’যম, মুহীউদ্দীন, গাউসে সামদানী হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে পবিত্র রেহেম শরীফে ধারণকালে উনার সম্মানিত আম্মাজান রহমতুল্লাহি আলাইহা তিনি নিয়মিতভাবে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ তিলাওয়াত করতেন। এ কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ১৮ পারা পবিত্র কুরআন শরীফ হিফয অবস্থায় পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

তা হলে মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, হুজ্জাতুল ইসলাম, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ, ইমামুল উমাম, জামিউন নিসবত, জামিউন নি’মাত, জামিউল আলক্বাব, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার যিনি মহা সম্মানিতা আম্মাজান, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শরীয়ত পালন, সম্মানিত সুন্নত পালন এবং সম্মানিত পর্দাপালনের দায়িমী অভ্যস্ততা কতো গভীর ও সীমাহীন ছিলো, তা বর্ণনার ভাষা সৃষ্টি হয়নি। সুবহানাল্লাহ!

প্রাণের আক্বা, ক্বিবলা কা’বা, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যে সব কারণে সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, ইমামুল উমাম, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, হুজ্জাতুল ইসলাম, সুলত্বানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল হয়েছেন, সেসব কারণের মধ্যে উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার মহা-সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনাদের শান-মান, মর্যাদা-মাক্বাম মূল। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার পবিত্রতম অভিপ্রায় অনুযায়ী উনার মনোনীত সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে যমীনে প্রেরণের মুবারক আয়োজন শুরু হয়েছে সৃষ্টির আদিকালে। বিশেষভাবে এই পবিত্র আয়োজন সার্বিকভাবে শুরু হয়েছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, মাশুকে মাওলা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক সময় থেকে। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ, ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মহা-সম্মানিত আব্বাজান, উনার এবং উনার মহা-সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার, অর্থাৎ উনাদের পবিত্রতম নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার মাধ্যমে উনার যমীনে পবিত্রতম তাশরীফ মুবারক গ্রহণের সূত্রপাত ঘটে। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)

আবা-২৬৯

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৫৮

 

পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের-

হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম

উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-

মুবারক শৈশব ও কৈশোর থেকেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সুন্নত মুবারক এবং শরয়ী পর্দা পালনের একনিষ্ঠ অভ্যস্ততা:

তিনি উনার পবিত্রতম হায়াতে ত্বইয়্যিবায় যে সম্মানিত শরয়ী পর্দাপালন করেছেন, আবাদুল আবাদ পর্যন্ত তার নযীর খুঁজে পাওয়া যাবে না। সুবহানাল্লাহ! পবিত্রতম বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পরও কুদরতীভাবে উনার পর্দাপালনের পরিধি ও পরিমাণ আখাছছুল খাছভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উনার সীমাহীন শান, মান, মর্যাদা ও মাক্বাম প্রকাশিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, পরিপূর্ণরূপে সম্মানিত পর্দাপালনের লক্ষ্যে উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্রতম আরজু অনুযায়ী রাতের অন্ধকারে উনার পবিত্রতম কাফন-দাফন মুবারক সুসম্পন্ন করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি উনার পবিত্রতম আরজু কবুল করে কুদরতীভাবে পাশাপাশি পবিত্রতম সাতটি রওযা মুবারক তৈরী করে দিয়েছেন, যাতে কায়িনাতের কেউই উনার পবিত্রতম জিসিম মুবারক উনার মুবারক আকার আকৃতি জানতে ও উপলব্ধি করতে না পারে। সুবহানাল্লাহ!

একইভাবে পুলসিরাত পার হওয়ার প্রাক্কালেও মহান আল্লাহ পাক কুল কায়িনাতবাসীকে মস্তক অবনত অবস্থায় তাদের চোখ (দৃষ্টি) বন্ধ রাখার জন্য মুবারক নির্দেশনাদান করবেন। মুবারক নির্দেশের প্রেক্ষিতে সকলের চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবিয়া, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি অসংখ্য-অগণিত জান্নাতী হূর উনাদের মুবারক বেষ্টনীতে পুলসিরাত পার হয়ে নিমিষে নির্ধারিত পবিত্র জান্নাতে পৌঁছে জান্নাত উনাকে সীমাহীন মর্যাদায় অভিষিক্ত করবেন। সুবহানাল্লাহ!

ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনিও উনাদের অনুসরণে উনার পবিত্র হায়াতে ত্বইয়্যিবায় অনুরূপ শরয়ী পর্দাপালন করেছেন। একইভাবে পবিত্রতম বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পরও কুদরতীভাবে বেমেছাল মাত্রায় উনার পর্দা পালিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)

আবা-২৬৮

 

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৫৭

 

 পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের-

হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম

উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-

মুবারক শৈশব ও কৈশোর থেকেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সুন্নত মুবারক এবং শরয়ী পর্দা পালনের একনিষ্ঠ অভ্যস্ততা:

এই মর্মে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন:

وَمَا اٰتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا  وَاتَّقُوا اللهَ اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ

অর্থ: “আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা এনেছেন, তোমরা তা আকড়ে ধরো এবং তিনি যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, তা থেকে তোমরা বিরত থাকো। এ বিষয়ে তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।” (পবিত্র সূরা হাশর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)

ইবাদত-বন্দেগীসহ জীবন নির্বাহের সকল আমলের ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ মাশুকে মাওলা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ-অনুকরণের ব্যত্যয় হলো গইরুল্লাহ’র অনুসরণ ও অনুকরণ করা। নাউযুবিল্লাহ!

সম্মানিত সুন্নতবিহীন ইবাদত-বন্দেগী ও আমলের মাধ্যমে কামিয়াবী হাছিল তো দূরের কথা, ইহকাল ও পরকালের সর্বাত্মক ধ্বংস ডেকে আনা। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের চরম অসন্তুষ্টিজনিত গযবে ইহকালে বরবাদ হওয়া এবং পরকালে জাহান্নামের স্থায়ী ইন্ধন হওয়া। নাউযুবিল্লাহ!

ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ অবধি, অর্থাৎ সমগ্র জীবন মুবারকব্যাপী ইবাদত-বন্দেগী ও আমলসহ মুবারক জীবন নির্বাহের সকল ক্ষেত্রেই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে সম্মানিত সুন্নত উনার পাবন্দ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা সাইয়্যিদাহ হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত সুন্নত এবং সম্মানিত পর্দাপালনের দায়িমী অভ্যস্ততা ছিলো পরিপূর্ণরূপে মহা-সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস উনাদের অনুরূপ। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, ত্বহিরা, ত্বইয়্যিবা, উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবিয়াহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ক্বায়িনাতবাসীর হাক্বীক্বী শরয়ী পর্দাপালণের অনন্য নযীর স্থাপন করে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)

আবা-২৬৭