সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক 


পরিচিতি মুবারক:

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আযওয়াজুম মুত্বহহারাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে উলা বা প্রথমা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ও ঐশ্বর্যশালী ব্যক্তিত্বা। জাহিলি যুগে উনার লক্বব মুবারক বা উপাধী ছিল ‘ত্বাহিরা’ (পবিত্রা), কুবরাও উনার একখানা বিশেষ উপাধী এবং এই উপাধীতে তিনি প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি কুরাঈশ গোত্রের সম্মানিত শাখা-গোত্র বনু আসাদে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার পিতা উনার নাম হযরত খুওয়ায়লিদ ইবনে আসাদ আলাইহিস সালাম, মাতা উনার নাম হযরত ফাতিমা বিনতে যা’ইদা আলাইহাস সালাম। তিনি উনার সম্মানিত পিতা উনার দিক থেকে ৪র্থ পুরুষে গিয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। আবার তিনি উনার সম্মানিতা মাতা উনার দিক থেকে ১০ম পুরুষে গিয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। বনু আসাদ গোত্র কুরাঈশের সেই নয়টি বিশিষ্ট গোত্রের অন্যতম ছিল, যাদের মধ্যে দশটি জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় গৌরবজনক দায়িত্ব ছিল। “পরামর্শ” ছিল এই গোত্রের দায়িত্বে, আর এজন্যই “দারুন নাদওয়া”-এর ব্যবস্থাপনা ছিল উনাদের অধীনস্থ। কুরাঈশদের যখন কোন জাতীয় অথবা রাষ্ট্রীয় সমস্যা দেখা দিত এবং তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কোন কাজ করতে মনস্থ করত, তখন সুপরামর্শের জন্য এই গোত্রের নিকট আগমন করত।

 সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম-উনার পিতা হযরত খুয়ায়লিদ ইবনে আসাদ আলাইহিস সালাম উনার পাঁচ ছেলে-মেয়ে (দুই ছেলে ও তিন মেয়ে) উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন দ্বিতীয় সন্তান। উনার এক ভাই ‘আওয়াম’ হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পিতা ছিলেন। দুই ভাই (হিযাম ও আওয়াম) ও এক বোন (রাকীকা) ইসলামী যুগের পূর্বেই ইনতিকাল করেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার এক বোন, হযরত হালাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করেন। উনার সম্মানিত আওলাদ হযরত যুন নূর (আবুল আ’ছ ইবনুর রবী) আলাইহিস সালাম উনার সাথেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা মেয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল উলা আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র জুমাদাল উলা শরীফ মাসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সঙ্গত কারণেই এ বরকতময় মাসে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করা অতীব জরুরী। তাই, ধারাবাহিকভাবে উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করা হবে। ইনশায়াল্লাহ।

পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

 সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমুল ফীল অর্থাৎ আবরাহার হস্তী বাহিনীর বছরের ১৫ বছর পূর্বে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাস উনার ১৪ তারিখ ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বা’দ ফজর পবিত্র মক্কা শরীফে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সেই হিসাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ১৫ বছর পূর্বে উম্মুল মু’মিনীন আল উলা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

প্রাথমিক জীবন:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমতে আসার পূর্বে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দু’টি নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথম নিসবাতুল আযীম মুবারক হয় বনু তামীম গোত্রের আবু হালাহ ইবনে যুরারার উনার সঙ্গে। আবু হালার দাদা তার গোত্রের মধ্যে একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। উনার ঔরসে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুই পুত্র এবং এক মেয়ে বিলাদতি শান মুবারক প্রকাশ করেন।

এক পুত্রের নাম হযরত হিন্দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি প্রথম দিকেই দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং একজন বদরী ছাহাবী ছিলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুলিয়া মুবারকের অধিকাংশ হাদীছ শরীফ তিনিই বর্ণনা করেছেন। তিনি শুদ্ধ ভাষী এবং বিখ্যাত বাগ্নী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গে জঙ্গে জামালে যোগদান করে শাহাদতি শান মুবারক প্রকাশ করেন। 

দ্বিতীয় পুত্রের নাম হযরত হালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনিও একজন ছাহাবী ছিলেন। তিনি পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থান করতেন। একটি হাদীছ শরীফে উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম বর্ণনা করেন: একবার সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার হালাহ নামে এক ছেলে আগমন করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখন নাওমী শান মুবারকে বা ঘুমন্ত ছিলেন। তিনি জাগ্রত হয়ে উনাকে নিজ নূরুল ইলম বা বক্ষ মুবারকে জড়িয়ে ধরে তিনবার বললেন: হালাহ, হালাহ, হালাহ। সুবহানাল্লাহ! (যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব)। 

আর যিনি মেয়ে ছিলেন উনার নাম মুবারক ছিলেন যায়নাব। তিনি শিশুকালেই বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। 

অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে প্রথম জওজ মুকাররম আবু হালা জাহেলী যুগেই মৃত্যুবরণ করেন। 

 সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দ্বিতীয় নিসবাতুল আযীম মুবারক হয় বনু মাখযুম গোত্রের ‘আতীক বিন ‘আবিদের সঙ্গে। এই জওজ মুকাররমের ঔরসে উম্মুল মু’মিনীন আল উলা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র রেহেম শরীফে এক পুত্র ও এক মেয়ে বিলাদতি শান মুবারক প্রকাশ করেন। যিনি পুত্র ছিলেন, উনার নাম মুবারক ছিলেন আবদুল্লাহ। তিনি শিশুকালেই বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর যিনি মেয়ে ছিলেন উনার নাম মুবারক ছিলেন হযরত হিন্দাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে ছাহাবিয়া হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন। তিনি ছিলেন তাবেয়ী হযরত মুহম্মদ বিন ছায়ফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত মাতা। (যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব)

ব্যবসা-বাণিজ্য:

কুরাঈশ গোত্রের মত সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আয়ের উৎস ছিল ব্যবসা বাণিজ্য। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ব্যবসা বাণিজ্য সম্পর্কে আল্লামা ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি একজন অত্যন্ত সম্মানিত, সম্পদশালী এবং ব্যবসায়ী ছিলেন। উনার মালের চালান সিরিয়ায় যেত এবং উনার একার ব্যবসায়িক মালামাল সমগ্র কুরাঈশ গোত্রের সম্মিলিত মালামালের সমান হত। ব্যবসায়ের এ বিশালতা থেকে উনার সম্পদের প্রাচূর্য কিরূপ ছিল এ সম্পর্কে ধারণা করা যায়। তিনি বেতনভোগী লোকের দ্বারা ব্যবসা চালাতেন এবং অধিকাংশ সময় উনার গোলাম হযরত মাইসারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার তত্ত্বাবধানে ব্যবসা চলত। মুদারাবা (কমিশন) ভিত্তিতেও তিনি ব্যবসা চালাতেন।”

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে মুদ্বারাবা ব্যবসা:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন দুনিয়াবী হায়াত মুবারক উনার পঁচিশ বছরে পদার্পণ করেন, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে পাঠানোর জন্য বিশ্বস্ত লোকের খোঁজ করছিলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতার ইনতিকালের পরে উনার চাচা আমর বিন আসাদ উনার ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করতেন। উনার সাথে খাজা আবু তালিব উনার সম্পর্ক ছিল। খাজা আবু তালিব বিষয়টি নিয়ে উনার সাথে আলোচনা করেন।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুছুছিয়ত মুবারক সম্পর্কে ইতিপূর্বেই শুনেছিলেন। তিনি উনার নিকট প্রস্তাব পাঠালেন: আপনি ইচ্ছা মুবারক করলে আমার ব্যবসায়ীক পণ্য সিরিয়া নিয়ে অংশীদার ভিত্তিক মুদ্বারাবা ব্যবসা করতে পারেন। আমার গোলাম হযরত মাইসারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আপনার সঙ্গে থাকবে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ প্রস্তাবে রাজী হন। অতঃপর পণ্যদ্রব্য নিয়ে রওয়ানা হলেন। (তাবাক্বাত, সীরতে ইবনে হিশাম)

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিরিয়া পৌঁছে নাস্তুরা নামে এক ঈসায়ী পাদ্রীর গীর্জার নিকটবর্তী একটি গাছের ছায়ায় বসলেন। পাদ্রী হযরত মাইসারার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন: এই গাছের ছায়ায় যে মহান ব্যক্তি বসেছেন তিনি কে? হযরত মাইসারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন: ইনি পবিত্র হারাম শরীফ উনার কুরাইশ খান্দানের সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তখন পাদ্রী উনাকে বললেন: একজন নবী ব্যতীত অন্য কেউ এই গাছের ছায়ায় বসেননি। পাদ্রী আরো জানতে চান: উনার চোখ মুবারক দু’টি কি লালচে? হযরত মাইয়সারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন: হাঁ। এই লাল আভা কখনও দূর হয় না। তখন পাদ্রী বললেন: ইনি নবী। ইনিই হচ্ছেন আখিরুল আম্বিয়া তথা শেষ নবী। সুবহানাল্লাহ (ইছাবা ৪/২৮১)।

অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মায়সারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে সঙ্গে নিয়ে যে পণ্য সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন তা বিক্রয় করে অন্য পণ্য ক্রয় করে নিলেন। এক বর্ণনামতে এই পণ্য নিয়ে তিনি সিরিয়ার বুছ্রা বাজারে গিয়েছিলেন। (তাবাক্বাত, আল-ইছাবা)

অতপর কাফিলা নিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার পথে রওয়ানা হলেন। পথে হযরত মায়সারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু লক্ষ্য করলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উটের উপর সওয়ার হয়ে চলেছেন, আর দু’জন ফেরেশতা দুপুরের প্রচন্ড রোদে উনার নূরুল হুদা বা মাথা মুবারক উনার উপর ছায়া বিস্তার করে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফে ফিরে এসে নতুন যে পণ্য নিয়ে এসেছিলেন তাও বিক্রয় করলেন। এতে প্রচুর লাভ হল। সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম এই উপার্জনে সন্তুষ্ট হয়ে উনাকে মুদারাবা ভিত্তিতে যে মুনাফা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার দ্বিগুণ প্রদান করলেন। (তাবাক্বাত, উসুদুল গাবা)

এই সফরে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত মায়সারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার অন্তরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রগাঢ় ভালবাসা সৃষ্টি করে দেন। তিনি যেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামে পরিণত হন। (তাবাকাত)। সুবহানাল্লাহ!

হযরত মায়সারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অত্যন্ত সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে সিরিয়া সফরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাবতীয় কর্মকান্ড, পাদ্রীর মন্তব্য, ফেরেশতাগণ উনাদের ছায়াদান, ব্যবসায় দ্বিগুণ মুনাফা ইত্যাদি বিষয় বিস্তারিতভাবে উনার মনিব সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট পেশ করেন। হযরত মায়সারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এ কথাও বলেন: আমি যখন উনার সাথে খেতে বসতাম, আমাদের পেট ভরে যেত, অথচ অধিকাংশ খাবার রয়ে যেত (আনসাবুল আশরাফ)। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে নিসবাতুল আযীম শরীফ:

 সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন তৎকালীন পবিত্র মক্কা শরীফ উনার একজন বিচক্ষণ বুদ্ধিমতী এবং পূতঃপবিত্র চরিত্রের দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্বা। উনার ধন-সম্পদ, ভদ্রতা ও লৌকিকতায় পবিত্র মক্কা শরীফ উনার সর্বস্তরের মানুষ মুগ্ধ ছিল। বংশগত কৌলিন্যে দিক দিয়ে তিনি ছিলেন কুরাইশদের মধ্যমণি। অনেক অভিজাত কুরাইশ যুবকই উনাকে সহধর্মিনী হিসাবে পাওয়ার প্রত্যাশী ছিল। তাদের অনেকে প্রস্তাবও পাঠিয়েছিল এবং সেজন্য প্রচূর অর্থও ব্যয় করেছিল (আল-ইসাবা, তাবাক্বাত)। তিনি তাদের সকলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। সুবহানাল্লাহ! (সীরতে ইবনে হিশাম)।

 সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বিশ্বস্ত গোলাম হযরত মায়সারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মুখে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নৈতিক গুণাবলী ও অলৌকিক ঘটনাবলীর কথা শুনে মুগ্ধ হন এবং নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার সিদ্ধান্ত নেন। এটাই মূল কারণ হতে পারে। তবে এর পশ্চাতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কতিপয় প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাও কাজ করতে পারে। যেমন ঐতিহাসিক ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন: সিরিয়া থেকে ফেরার সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলতে চলতে এক সময় যখন পবিত্র মক্কা শরীফে প্রবেশ করেন, তখন ছিল দুপুর বেলা। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তখন ঘরের ছাদে ছিলেন। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে দেখলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উটের উপর বসে আছেন এবং দু’জন ফেরেশতা উনাকে ছায়া দান করে আছেন। তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে সঙ্গের অন্যান্য মহিলাদেরকে এ এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখান (তাবাকাত)। 

তাছাড়া আরো একটি ঘটনার কথা ঐতিহাসিক মাদায়েনী হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সূত্রে বর্ণনা করেন: একবার পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মহিলাগণ কোন এক ঈদ অনুষ্ঠানে একত্র হন। এ সময় একজন অপরিচিত লোক এসে উচ্চস্বরে ঘোষণা করেন: আপনাদের শহরে অচিরেই “আহমদ” নামে একজন নবী আবির্ভূত হবেন। আপনাদের মধ্যে কেউ যদি উনার আহলিয়া হতে সক্ষম হন, তবে হয়ে যাবেন। এ ঘোষণা শুনে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত সকল মহিলাই সেই লোকটিকে পাথর নিক্ষেপ করে। কিন্তুসাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি লোকটির কথার প্রতি আস্থা স্থাপন করেন, তিনি অন্যান্যদের মত আচরণ করেননি। (শরহে আল্লামা যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব) সুবহানাল্লাহ!

বাণিজ্য হতে প্রত্যাবর্তনের প্রায় তিন মাস পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হযরত নাফিসাহ বিনতু মুনিয়াহ নামে উনার এক বান্ধবীর মাধ্যমে নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব পাঠান। উল্লেখযোগ্য যে, উম্মুল মু’মিনীন আল উলা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতার ইনতিকালের পর উনার চাচা আমর ইবনে আসাদ জীবিত ছিলেন। নির্ধারিত দিনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচা খাজা আবু তালিব উনার গোত্রের সকল নেতৃবর্গকে সঙ্গে নিয়ে, যাঁদের মধ্যে সাইয়্যিদুশ শুহাদা সাইয়্যিদুনা হযরত হামযা আলাইহিস সালামও ছিলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার গৃহে গমন করেন। খাজা আবু তালিব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার খুত্বা পাঠ করেন। সুবহানাল্লাহ!

যখন খাজা আবু তালিব উনার খুতবা শেষ হলো, তখন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চাচাত ভাই হযরত ওয়ারাকা ইবনে নওফল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খুতবা দেন। সুবহানাল্লাহ! (কিতাবুল আমালী)।

অতঃপর খাজা আবু তালিব বলেন: হে ওয়ারাকা ইবনে নওফল! আমর ইবনে আসাদ (হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চাচা) এখানে উপস্থিত আছেন। আমি ভাল মনে করি যে, তিনিও আপনার খুতবায় শরীক হোন। তখন আমর ইবনে আসাদ বলে উঠেন: “আমিও হযরত খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনাকে হযরত মুহম্মদ ইবনে আবদিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফে সোপর্দ করলাম”। এ কথার উপর উভয় পক্ষ ইজাব কবুল করেন। সুবহানাল্লাহ! (আসাহহুস সিয়ার, আল্লামা আবদুর রউফ দানাপুরী ক্বাদেরী)। 

বর্ণিত আছে এই নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠানে তশরীফ আনয়নের সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে উম্মুল মু’মিনীন আল উলা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম এত অর্থ ব্যয় করেছিলেন যে, যেখানে নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয় সেখান থেকে উনার সম্মানিত হুযরা শরীফে তাশরীফ আনয়ন পর্যন্ত প্রতি কদমে একটি সোনার থালা মুবারক বিছিয়ে দিয়েছিলেন, যার উপর কদম মুবারক রেখে পবিত্র হুযরা শরীফে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তশরীফ মুবারক আনয়ন করেন। সুবহানাল্লাহ! যদি ১০০টি সোনার প্লেট বসানো হয়ে থাকে এবং প্রতি প্লেট ৫ থেকে ৭ কেজি ওজন ধরা হয়, তা হলে দেখা যায় ৫০০ থেকে ৭০০ কেজি স্বর্ণ, বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ৩৫০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি টাকা। সুবহানাল্লাহ! এ থেকে অনুমান করা যায় যে, উম্মুল মু’মিনীন আল উলা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি কত বেশী সম্পদশালিনী ছিলেন এবং কত বেশী তা’যীম তাকরীমের সাথে তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আপ্যায়ন করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক ছিলেন ২৫ বছর এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক হয়েছিলেন ৪০ বছর। এই মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয় ২২শে জুমাদাল উলা শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার)। সুবহানাল্লাহ! (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম-১ম খন্ড)

নবুওওয়াত প্রকাশের সূচনায়:

নবুওওয়াত প্রকাশের পূর্বে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হেরা পর্বতের গুহায় খালিক, মালিক, রব্ব, মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত বন্দেগী ও মোশাহাদায় নিমগ্ন থাকতেন। সেখানে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খাবার মুবারক নিয়ে যেতেন। সুবহানাল্লাহ! সঙ্গে উনার খাদিমাহ হযরত উম্মে আয়মান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনিও থাকতেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ওহী মুবারক নাযিল হওয়ার পর বিষয়টি আরববাসীদের অবগতির জন্য সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত ওয়ারাকা ইবনে নওফল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট নিয়ে গেলেন। তিনি জাহেলী যুগে ঈসায়ী ধর্ম অনুসরণ করতেন। তিনি অতিশয় বৃদ্ধ ছিলেন, উনার দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল। তিনি আরবী লিখতে জানতেন এবং ইনজিল কিতাব আরবীতে লিপিবদ্ধ করতেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন: হে চাচাতো ভাই! আপনার ভ্রাতুষ্পুত্র উনার কথা শুনুন। হযরত ওয়ারাকা ইবনে নওফল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন: আপনি কি দেখতে পান? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা দেখেছিলেন তা সবিস্তারে উনাকে বললেন। হযরত ওয়ারাকা ইবনে নওফল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন: ইনি সেই ফেরেশ্তা, যাঁকে আল্লাহ পাক হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট পাঠিয়েছিলেন। আপনার জাতি যখন আপনার সাথে শত্রুতা করে আপনাকে আপনার শহরে থাকতে বাধা দিবে। আহ্, ততদিন যদি আমি জীবিত থাকতাম, যদি আমার শক্তি থাকত! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রশ্ন করলেন:

أوَ مُخْرِجِىْ هُمْ ؟

অর্থ: তারা কি আমাকে থাকতে বাধা দিবে?

হযরত ওয়ারাকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন:

 نَعَمْ، لَمْ يَأتِ رَجُلٌ قَطٌّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إلَّا عُوْدِىْ، وَ إنْ يُدْرِكْنِىْ يَوْمُكَ أنْصُرُكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا – 

অর্থ: হাঁ, আপনি যা নিয়ে আগমন করেছেন, দুনিয়াতে যখনই কেউ উহা নিয়ে আগমন করেছেন, তখনই বিশ্ববাসী উনার শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি যদি তখন জীবিত থাকি, তবে আপনাকে পূর্ণ সহযোগিতা করব।

এর অল্প কয়েক দিন পরেই হযরত ওয়ারাকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইনতিকাল করেন। এই রিওয়ায়াত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে শ্রবণ করে বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ ও সমুদয় সম্মদ দান:

আল্লামা ইবনুল আছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণনামতে, সকল মুসলমান এ ব্যাপারে একমত যে, উম্মুল মু’মিনীন আল উলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম সর্বপ্রথম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ঈমান আনয়ন করেন (সিয়ারু আলামিন নুবালা)। দ্বীন ইসলাম গ্রহণের সময় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন ৫৫ বছর।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার সমুদয় ধন-সম্পদ দ্বীন ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্য ওয়াক্ফ করে দেন। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে দেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক ইবাদতে ও দ্বীন ইসলাম প্রচারে নিমগ্ন হন।

 হযরত আল-আওলাদ আলাইহিমুস সালাম:

হযরত ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণনা অনুযায়ী, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার উছীলায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত তিনজন আবনা বা ছেলে সন্তান আলাইহিমুস সালাম ও চারজন বানাত বা মেয়ে সন্তান আলাইহিন্নাস সালাম পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

একমাত্র সাইয়্যিদুনা হযরত আন নুরুর রবী’ (হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম) ব্যতীত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সব আওলাদ আলাইহিমুস সালামই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উছীলায় পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! (সীরাতুন্নবী, ইবনুল আছীর)।

কাফিরদের অসৎ আচরণে সান্তনা মুবারক:

যতই দিন যেতে লাগল, কাফির মুশরিকদের বিরোধিতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং সেজন্য সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি চিন্তিত হয়ে পড়ছিলেন। তিনি ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতির মুকাবিলা করতেন। কাফিরদের বিরোধিতা ও অসৎ আচরণের জন্য নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মনে যে আঘাত পেতেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সান্ত¡না বাক্য দ্বারা তা দুরীভূত হতো। সুবহানাল্লাহ!

শি‘বে আবু তালিবে অবরূদ্ধ জীবন:

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা হাবশায় হিজরত শুরু করার পর থেকে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি কাফিরদের অসৎ আচরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। নবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৭ম বছর মুহররম মাস হতে উনাকে شعب أبى طالب (শি‘বে আবী ত্বালিব) নামক উপত্যকায় অবস্থান মুবারক গ্রহণ করেন। সীরতে ইবনে হিশামে উল্লেখ আছে: কুরাঈশগণ যখন দেখল যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ হাবশায় পূর্ণ নিরাপত্তা লাভ করেছেন এবং সম্রাট নাজ্জাশী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে আশ্রয় প্রদান করেছেন এবং সকল গোত্রে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চর্চা শুরু হয়ে গেছে, তখন তারা পরামর্শ করে বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব সম্পর্কে এক অঙ্গীকার নামা প্রদান করে যার মৌলিক বিষয়বস্তু ছিল এইরূপ: বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব যতক্ষণ পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার জন্য তাদের নিকট সোপর্দ না করবে। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে কেউ আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন করবে না, ক্রয় বিক্রয় করবে না, তাদের সাথে মেলামেশা ও কথাবার্তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখবে এবং তাদের নিকট কোন খাদ্য সামগ্রী পৌঁছতে দিবে না। (নাউযুবিল্লাহ) উপায়ান্তর না দেখে বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব “শি‘বে আবী তালিব” নামক এক পার্বত্য উপত্যকায় অবস্থান গ্রহণ করলেন। এই উপত্যকাটির অবস্থানস্থল হচ্ছে আবু কুবাইশ পাহাড় ও হেরা পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে। ইহা ছিল বনু হাশিম গোত্রের মিরাছী সুত্রে প্রাপ্ত। খাজা আবু তালিব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে ছিলেন। আবু লাহাব তার পরিবারবর্গ নিয়ে পৃথক হয়ে যায় এবং কুরাঈশদের সাথে যোগ দেয়। নূরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালামও এই উপত্যকায় ছিলেন। দীর্ঘ তিন বছর পর্যন্ত উনারা এই উপত্যকায় অবস্থান মুবারক করেন। প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে অতি সন্তর্পনে সেখানে খাদ্য পৌঁছান হতো। কতিপয় হƒদয়বান ব্যক্তি কোন কোন সময় উটে করে খাদ্য সরবরাহ করে যেতেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার তিন ভাতিজা হযরত হাকীম ইবনে হিযাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আবুল বুখতারী এবং যুম‘আ ইবনে আসওয়াদ সকলই ছিলেন কুরাইশ নেতৃবর্গের অন্যতম। অমুসলিম হওয়া সত্বেও উনারা বিভিন্ন ভাবে একঘরে করা মুসলমানদের কাছে খাদ্যশস্য পাঠানোর ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। 

একদিন হযরত হাকীম বিন হিযাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু চাকরের মাথায় কিছু গম উঠিয়ে নিয়ে চলেছেন উনার ফুফু হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট। পথে নরাধম আবু জেহেলের সাথে দেখা। সে রাগতভাবে বলে উঠল: খাদ্য নিয়ে তুমি বনু হাশিমের কাছে যাচ্ছ? আল্লাহ পাক উনার কসম! এই খাদ্য সহ তুমি সেখানে যেতে পারবে না। যদি যাও, তোমাকে আমি মক্কা শরীফে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করব। এমন সময় আবুল বুখতারী সেখানে উপস্থিত হলো। সে বললো: তোমরা ঝগড়া করছ কেন? আবু জেহেল বলল: সে বনু হাশিমের কাছে খাদ্য নিয়ে যাচ্ছে। আবুল বুখতারী বললো: এ খাদ্য তো তার ফুফুর, হাকীমের কাছে ছিল। ফুফুর সে খাদ্য সে দিতে যাচ্ছে, আর তুমি তাতে বাধা দিচ্ছ কেন? পথ ছেড়ে দাও। কিন্তু আবু জেহেল তার কথায় কান দিল না। তখন দু’জনের মধ্যে মারপিট হলো। এতদসত্বেও হযরত হাকীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খাদ্য পৌঁছাতে সক্ষম হলেন। এভাবে হযরত হাকীম বিন হিযাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মাঝে মাঝে খাদ্য পাঠাতেন (সীরতে ইবনে হিশাম)। 

তবে প্রয়োজনের তুলনায় সে খাদ্য খুবই সামান্য ছিল। অনেক সময় খাদ্য না পৌঁছার কারণে উনাদেরকে না খেয়ে থাকতে হতো। খাদ্য পৌঁছতে না দেয়ার কারণে কোন কোন সময় উনাদেরকে গাছের পাতাও খেতে হয়েছিল। এভাবে পঞ্চাশের অধিক ব্যক্তিত্ব অতি দুঃখ কষ্টের মধ্য দিয়ে সেই পার্বত্য উপত্যকায় সময় অতিবাহিত করতে থাকেন। অবশেষে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক জাহির হলেন। দুশমনের মধ্যেই তাদের পক্ষ হতেই লিখিত অঙ্গীকার ভঙ্গ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো। পবিত্র নবুওওয়াত ও রিছালত মুবারক প্রকাশের ১০ম বছরে উনারা শিবে আবী তালেব থেকে বের হয়ে আসেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:

শি‘বে আবু তালিব থেকে বের হওয়ার পরপরই খাজা আবু তালিব ও সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের মারিদ্বী শান মুবারক জাহির হন। অবশেষে একই বছরে উনারা উভয়ই বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এজন্য এ বছরকে عَامُ الْحُزْن (‘আমুল হুযন অর্থাৎ দুঃখের বছর) বলা হয়ে থাকে। প্রথমে খাজা আবু তালিব ২২শে রজব ওফাত প্রাপ্ত হন। অতঃপর উনার ওফাতের পর সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। 

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত একটি হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে যখন তিনি মারিদ্বী শান মুবারকে ছিলেন, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জান্নাতের আঙ্গুর দ্বারা আপ্যায়ন করেন। সুবহানাল্লাহ! (শরহে আল্লামা যারক্কানী আলাল মাওয়াহিব)। 

শি‘বে আবু তালিব থেকে বের হওয়ার পর পরই (অর্থাৎ নামায ফরয হওয়ার পূর্বে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে মিরাজ শরীফ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে) নবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ১০ম বছরে ১৭ই পবিত্র মাহে রমাদ্বান শরীফ, ইয়াওমুস সাবত শরীফ, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তখন উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক হয়েছিলেন ৬৪ বছর ৬ মাস ৩ দিন। 

হযরত উম্মে আইমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ও হযরত উম্মুল ফদ্বল রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে গোসল মুবারক প্রদান করেন। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার হাজুন নামক স্থানে যেখানে জাদ্দে রসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওযা শরীফ উনার সামান্য দূরে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার রওযা শরীফ স্থাপন করা হয়। এই রওযা শরীফ উনার দূরত্ব বায়তুল্লাহ শরীফ থেকে ১ মাইল উত্তর দিকে অবস্থিত। বর্তমানে ইহাকে জান্নাতুল মু‘য়াল্লা (جنة المعلى) বলা হয়। জান্নাতুল মু‘য়াল্লায় উম্মুল মু’মিনীন আল উলা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার রওযা শরীফ উনার স্থান লোক মুখে শনাক্ত করা আছে। তবে কোন নির্দিষ্ট স্থান উনার রওযা শরীফ হিসাবে পৃথক করে রাখা হয় নি (উসুদুল গাবা, ইছাবা)।

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশিত হলে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নুরুর রাবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ফরিয়াদ করতে থাকেন। তিনি বার বার বলতে থাকেন أين أمى، أين أمى (আমার আম্মাজান কোথায় গেলেন, আমার আম্মাজান কোথায় গেলেন)। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে সান্ত¡না দেন এবং আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়ার সুসংবাদ দেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: সেদিন উম্মতের উপর এমন দু’টি মুছিবত (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম ও খাজা আবু তালিব-উনাদের ওফাত শরীফ) আপতিত হয় যে, আমি বুঝে উঠতে পারছি না যে, আমি কোন্টির উপর বেশী দুঃখ করব। এই দুঃখ ও চিন্তার কারণেই উক্ত বছরের নাম রাখা হয় عام الحزن (‘আমুল হুযন অর্থাৎ দুঃখের বছর)।

পরম শ্রদ্ধেয় চাচা খাজা আবু তালিব এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের বিছালী শান মুবারক প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে কুরাইশ পাষন্ডরা একেবারে বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা অতি নির্দয়ভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার প্রতি অসৎ আচরণ করতে থাকে। (নাউযুবিল্লাহ) এই সময়েই তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ হতে তায়েফ গমন করেন।

 সার্বিকভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফযিলত:

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে সামগ্রিকভাবে সকল হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অনন্য সাধারণ ফাযায়েল-ফযীলত রয়েছেন। খালিক, মালিক, রব্ব মহান আল্লাহ পাক তিনিই উনাদেরকে এইরূপ ফাযায়েল-ফযীলত দিয়েছেন। খালিক, মালিক, রব্ব মহান আল্লাহ পাক তিনি পূর্ব থেকেই উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য উনাদেরকে মনোনীত করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা একদিক দিক দিয়ে সম্মানিত মহিলা ছাহাবী, অন্যদিকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার পূতঃপবিত্র জাওযাহ মুকাররামাহ, পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম সম্মানিত সদস্য। আর পবিত্র আহলু বায়ত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্রতা এবং সুউচ্চ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক সম্পর্কে খালিক, মালিক, রব্ব মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন-

إنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أهْلَ الْبَيْتِ وَ يُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيْرًا -

অর্থ: হে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! খালিক, মালিক, রব্ব মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং আপনাদেরকে পরিপূর্ণরূপে পবিত্র করতে অর্থাৎ আপনাদেরকে পরিপূর্ণরূপে পবিত্র করেই তিনি সৃষ্টি করেছেন। উনারা নিজেরা শুধু পবিত্রই নন, বরং উনারা পবিত্রতা দানকারী। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র আহলু বাইত শরীফ উনাদের মর্যাদা-মর্তবার দিক থেকে সর্বপ্রথম হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম তিনি এবং মহাসম্মানিতা ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম তিনি, উনারা হচ্ছেন সম্মানিত পবিত্র আহলু বাইত শরীফ উনাদের মূল। অতঃপর হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মর্যাদা-মর্তবা মুবারক, অতঃপর হযরত আবনাউ রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনাদের এবং হযরত বানাতু রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মর্যাদা-মর্তবা মুবারক এবং অতঃপর অন্যান্য হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা-মর্তবা মুবারক। কারণ উনারা সকলেই মহাসম্মানিত পবিত্র আহলু বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভূক্ত। সুবহানাল্লাহ!

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অপরিসীম মর্যাদা-মর্তবার বিষয়ে খালিক, মালিক, রব্ব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালাম মজীদে ইরশাদ মুবারকে করেছেন,

لستن كاحد من النساء -

 (অর্থাৎ আপনাদের ফযীলত এত উর্দ্ধে যে, আপনারা অন্য কোন মহিলাদের মত নন)। অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মান-মর্যাদা পৃথিবীর সকলের উর্দ্ধে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,

اَلنَّبِـىُّ اَوْلـٰى بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُه اُمَّهٰتُهُمْ.

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মু’মিনদের নিকট নিজেদের জানের চেয়েও অধিক প্রিয় এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত মাতা আলাইহিন্নাস সালাম। (সুরা আহযাব শরীফ, আয়াত শরীফ ৬)। 

তাহলে উম্মাহাতুল মু’মিনীন উনার অর্থ হচ্ছেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিতা মাতাগণ। সুবহানাল্লাহ! এই সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনিই হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সৃষ্টির শুরু থেকে এ পর্যন্ত যত মু’মিন দুনিয়াতে এসেছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত মু’মিন দুনিয়ার যমিনে আসবেন, (শুধু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যতীত) উনাদের প্রত্যেকেরই মহাসম্মানিতা মাতা হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

الجَنّةُ تَحْتَ أقْدَامِ الْأُمُّهَاتِ - 

অর্থাৎ সম্মানিত জান্নাত সম্মানিতা মাতা উনাদের পায়ের নিচে। সুবহানাল্লাহ! 

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকল নবী-রসুল, ওলী-আবদাল, গাউছ-কুতুব উনাদের বহুগুণ উর্দ্ধে সর্বোচ্চ জান্নাতে অবস্থান মুবারক করবেন। আবার হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সকলই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একই সম্মানিত জান্নাত মুবারকে একসাথে অবস্থান মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে দেখা যাচ্ছে একমাত্র নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যতীত সকল নবী-রসুল, ওলী-আবদাল, গাউছ-কুতুব সকলেরই জান্নাত হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের কদম পাকের নীচে হবে। সুবহানাল্লাহ! এ থেকে বুঝা যায়, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়েল ফযীলত, বুযুর্গী সম্মান কত বে-মেছাল, যা তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও ফিকিরের উর্দ্ধে!

এককভাবে উনার ফযীলত ও মর্যাদা মুবারক:

সার্বিকভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী সম্মান তো রয়েছেই, উপরস্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার এককভাবে উনার অনেক অনন্য-সাধারণ বৈশিষ্ট-গুণাবলী ও ফাযায়েল-ফযিলত মুবারক ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রথম ঈমান আনয়নকারী। সেই হিসাবে হাদীছ শরীফ অনুযায়ী-

 فَلَهَا أَجْرُهَا وَ أجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ- 

অর্থাৎ উনার নেক আমলের ছওয়াব তো উনি পাবেনই, উপরন্তু ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত লোক ইসলাম উনার উপর থেকে নেক আমল করবেন সকলের অনুরূপ নেক আমলের ছওয়াবও তিনি পাবেন (শরহে আল্লামা যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব)।

দ্বীন ইসলাম উনার সূচনা পর্বে ওহী নাযিলের প্রারম্ভে অনেক ঘটনার কথা জানা যায়, যাতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অনুপম ধৈর্য, বিচক্ষণতা এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি প্রবল আবেগ ও বিশ্বাস এবং সর্বাবস্থায় উনার পাশে দাঁড়ানোর দৃশ্য ফুটে উঠে। এ সকল ঘটনা পর্যালোচনা করলে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে তা হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আগমনের পূর্বেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং তিনি নবী হিসেবেই প্রকাশিত হবেন। সেজন্যই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন উনার নিকট এসে বললেন, উনার নিকট হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এসেছেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ওহী মুবারক লাভ করেছেন, তখন ক্ষণিকের জন্যও সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মনে কোন দ্বিধা-সংশয় দেখা দেয় নি। তিনি যেন আগে থেকেই এমন একটি সুসংবাদ পাওয়ার প্রতীক্ষায় ছিলেন এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। তাই তিনি সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম কবুল করলেন।

দ্বীন ইসলাম গ্রহণের পর সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সমুদয় ধন-সম্পদ মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রচার ও প্রসারের জন্য ওয়াক্ফ করে দেন। উনার বিশাল ধন সম্পদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থানকালীন সময়ে দীন ইসলাম উনার বিরাট খিদমতে কাজে লাগে। 

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার উল্লেখযোগ্য মুবারক বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি এই ছিল যে, তিনি পঁচিশ বছর পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে কাটান এবং একমাত্র হযরত আন নুরুর রাবী (হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম) আলাইহিস সালাম ব্যতীত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সকল আওলাদই উনার পবিত্র হুজরা শরীফে বিলাদতি শান মুবারক প্রকাশ করেন। (ইবনে সা’দ)। এতদ্ব্যতীত এই সৌভাগ্যও তিনি লাভ করেন যে, তিনি হায়াত মুবারকে থাকতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আর দ্বিতীয় কোন নিসবাতুল আযীম শরীফ করেন নি। 

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আভিজাত্য, সম্মান ও মর্যাদা মুবারক সর্বজন স্বীকৃত। হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে উনার জন্য সালাম মুবারক নিয়ে আসতেন। এক হাদীছ শরীফে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, একবার হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন -

هذه حضرت جديجة عليها السلام، قد اتتك بإناء فيه طعام أو إدام أو شراب، فإذا هى أتتك فاقرأ عليها السلام من ربها و منى و بشرها ببيت فى الجنة من قصب لا صخب فيه ولا نصب -

অর্থ: এই যে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি একটি পাত্র মুবারক নিয়ে আসছেন, উহাতে খাওয়ার দ্রব্য, তরকারী অথবা পানীয় রয়েছে। তিনি যখন আপনার নিকট আসবেন, তখন আপনি উনাকে উনার মহান রব তায়ালা উনার পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম বলবেন এবং উনাকে জান্নাতের মধ্যে মুক্তা খচিত এমন একটি ঘরের সুসংবাদ প্রদান করবেন, যেখানে না কোন শোরগোল রয়েছে, আর না কোন কষ্ট রয়েছে (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)। 

তাবারানী শরীফে উল্লেখ আছে, এই খাদ্য বা পানীয় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম হেরা পাহাড়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট নিয়ে যাচ্ছিলেন (শরহে যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব)। 

সীরত গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার খাদিমাকে সঙ্গে নিয়ে খাদ্য ও পানিয় হেরা পাহাড়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমতে দিয়ে আসতেন। হেরা পাহাড় মক্কা শরীফ থেকে তিন মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে একটি উঁচু পাহাড়। ইহার সর্বোচ্চ চূড়া যেখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবস্থান মুবারক করছিলেন তা একেবারে সোজা, ঢালু ও পিচ্ছিল। সেখানে উঠা কোন পুরুষের পক্ষেও খুব কষ্টকর ছিল। ১৯৮৩/৮৪ সনে দেখা গিয়েছে, এই পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে প্রায় দুই ঘন্টার বেশী সময় লাগত এবং তা অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। এটা ভাবতেও আশ্চর্য লাগে যে, যখন এই পাহাড়ে উঠার কোন ব্যবস্থাই ছিল না, তখন কিভাবে এবং কত কষ্ট করে এই পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খেদমতে খাদ্য ও পানীয় দিয়ে আসতেন? ইহা শুধু উনার সম্মানার্থে তিনি করতেন, নতুবা খাদ্য পৌঁছানোর জন্য উনার খাদিমের তো কোন অভাবই ছিল না। 

তাবারানী শরীফে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে-

سئل رسول الله صلى الله عليه و سلم عن حضرت خديجة عليها السلام فقال أبصرتها على نهر من أنهار الجنة فى بيت من قصب لا لغو فيه و لا نصب -

অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে সুওয়াল করা হলে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: জান্নাতের নদীসমূহের একটি নদীর নিকট একটি মুক্তা খচিত ঘরে আমি উনাকে দেখেছি, যেখানে নেই কোন শোরগোল, নেই কোন কষ্ট। 

উপরোক্ত দু’টি হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় হযরত সুহায়লি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন যে, এখানে بيت (বাইত বা গৃহ) উল্লেখ করার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম অর্থ রয়েছে, তা এই যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন দ্বীন ইসলাম উনার প্রারম্ভে এমন একটি গৃহের মালিক, যেখানে সর্বপ্রথম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নবুওওয়াত মুবারক প্রকাশিত হয়। নবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের প্রথমে সেই একটি গৃহ ব্যতীত পৃথিবীতে ইসলামের অন্য কোন গৃহ ছিল না। এই বিষয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার গৃহটি একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। সেজন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে قصر (ক্বাছ্র অর্থাৎ প্রাসাদ) উল্লেখ না করে بيت (বাইত বা গৃহ) উল্লেখ করা হয়েছে, যা উনাকে জান্নাতে হাদিয়া করা হয়েছে। এখানে আরো একটি কারণ রয়েছে, বাইত শব্দ দ্বারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত শরীফের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে, যা কালামুল্লাহ শরীফে এই আয়াত শরীফে উল্লেখ রয়েছে

 اِنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَ يُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيْرًا 

(আল্লাহ পাক তিনি ইচ্ছা করেন যেন, হে রসুলের আহলে বায়ত, আপনাদের নিকট থেকে নাপাকী দূর করে দেন এবং আপনাদেরকে অতিশয় পাক-পবিত্র করে নেন অর্থাৎ আপনাদেরকে পাক-পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন)। 

এখানে উল্লেখিত আহলে বাইত শরীফের মূল নিসবত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা সাইয়্যিদাতুনা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দিকে রয়েছে। এই গৃহটি পবিত্র কা’বা শরীফের সন্নিকটে উত্তর দিকে কা’বা শরীফ ও জান্নাতুল মু’য়াল্লা কবরস্তানের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। কয়েক বছর পূর্বে সউদী ওহাবী সরকার এই বরকতময় গৃহটি ভেঙ্গে ইহার শেষ চিহ্ন মুছে ফেলেছে। নাউযুবিল্লাহ।

হযরত সুহায়লি রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন যে, এই গৃহে কোন শোরগোল নেই এবং কোন কষ্ট নেই এই দু’টি গুণ পবিত্র হাদীছ শরীফদ্বয়ে উল্লেখ করা হয়েছে এজন্য যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মানিত নবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশিত হওয়ার পর যখন সর্বপ্রথম ঈমানের দিকে আহ্বান করেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিই এই ডাকে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব না করে সর্ব-প্রথম সাড়া দেন। পাশাপাশি তিনি সান্ত¡না দিয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সকল প্রকার কষ্ট দূরীভূত করার প্রচেষ্টা করেছেন। কাজেই মহান আল্লাহ পাক উনার কাজের অনুরূপ পুরষ্কার উনাকে জান্নাতে হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ (শরহে ‘আল্লামা যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব)।

একটি হাদীছ শরীফের বর্ণনায় জানা যায়, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন: হে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম! স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-উনার মাধ্যমে আপনাকে সালাম দিয়েছেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উক্ত সালামের জওয়াব দিলেন এভাবে- 

وَ السَّلَامُ عَلَيْكَ، وَ عَلَى جِبْرَائِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَإنَّ اللهَ هُوَ السَّلَامُ - 

 অর্থ: ইয়া রসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার প্রতি এবং হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উনার প্রতিও আমার সালাম। আর আল্লাহ পাক তিনি তো নিজেই সালাম অর্থাৎ শান্তি দাতা। তিনি অন্য কোন সালামের মুখাপেক্ষী নন।

এই জওয়াব মুবারক থেকে উনার বেমেছাল বুদ্ধিমত্তা ও সুক্ষ্ম জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়। 

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সারা জীবন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি যখন ছাগল জবাই করতেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম-উনার খাদেমাদের নিকট গোশ্ত হাদীয়া পাঠাতেন। উনার সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেছেন, 

وَ اللهِ مَا أبدلنى اللهُ خَيْرًا مِنْهَا: آمَنَتْ بِىْ حِيْنَ كَفَرَ النَّاسُ، وَ صَدَقَتْنِىْ إذْ كَذَّبَنِىَ النَّاسُ، وَاسَطْنِىْ بِمَالِهَا إذْ حَرَّمَنِىَ النَّاسُ، وَ رَزَقَنِىَ اللهُ مِنْهَا الْوَلَدُ دُوْنَ غَيْرِهَا مِنَ النِّسَاءِ - 

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! মহান আল্লাহ পাক আমাকে যেসব নিয়ামত দান করেছেন, তম্মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বোত্তম। মানুষ যখন কুফরী করেছে, তখন তিনি আমার উপর ঈমান এনেছেন, মানুষ যখন আমার উপর মিথ্যারোপ করেছে, তিনি তখন আমাকে সত্য বলে সাক্ষ্য দান করেছেন, মানুষ যখন আমাকে মাহরুম করতে চেয়েছে, তিনি আমাকে উনার ধন সম্পদ দিয়ে খিদমত করেছেন। আর উনার মাধ্যমেই মহান আল্লাহ পাক আমাকে আওলাদ হাদিয়া মুবারক করেছেন, যা তিনি আমাকে অন্য কারো মাধ্যমে দেননি। (মুসনদে ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি)। 

মুসলিম শরীফের একটি হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন,

إنى قد رُزقتُ حبها

অর্থ মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার অন্তরে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার জন্য মহব্বত মুবারক সৃষ্টি করে দিয়েছেন (মুসলিম শরীফ)। 

মহান আল্লাহ পাক সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে এমন এক বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন, যা অন্য কাউকে দেন নি। তা হচ্ছে এই যে, তিনিই হচ্ছেন উম্মু আ’লে বায়তিন নাবীয়ে ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ আওলাদে রসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রথম মূল। সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নুরুর রাবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনারই সম্মানিত সন্তান; উনার নছব শরীফ থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলে বাইতে রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতে রসুলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মাধ্যমে সম্মানিত আওলাদে রসুলগণ ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারী আছেন এবং থাকবেন এবং দুনিয়াবাসীদের মধ্যে হিদায়েতের নূর দ্বারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম ক্বায়েম রাখবেন। সুবহানাল্লাহ!

(সূত্রসমূহ: উসুদুল গাবা, ইছাবা, তাবাকাত, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, ইসলামী বিশ্বকোষ, আসহহুস সিয়ার, আল্লামা আবদুর রউফ দানাপুরী কাদেরী, শরহে যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব)


 এক নজরে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, মালিকুল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক

এক নজরে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, মালিকুল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক

 সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সিব্তুন (নাতী) আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! 

এখানে এক নজরে উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো-

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহ্সিন আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক: সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিব্তু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইত্যাদি ইত্যাদি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম: সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান আলাইহিস সালাম: ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানীজান আলাইহাস সালাম: আফযালুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহ্লিল জান্নাহ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মামাজান আলাইহিমুস সালাম: ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুছ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি এবং ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খালাজান আলাইহিন্নাস সালাম: বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফযালু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দাদীজান আলাইহাস সালাম: সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ বিনতে আসাদ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: ৯ম হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৯ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার)। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ভাই আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বোন আলাইহিন্নাস সালাম: 

১. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, 

২. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, ৩. সাইয়্যিদাতুনা হযরত যয়নাব বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম তিনি, 

৪. সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়্যাহ্ বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম তিনি, 

৫. সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম তিনি। 

অর্থাৎ তিনিসহ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ভাই আলাইহিমুস সালাম উনারা ৩ জন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বোন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ৩ জন অর্থাৎ তিনিসহ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ভাই আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বোন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মোট ৬ জন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ভাই-বোন আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক: ষষ্ঠ। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ভাই আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক: তৃতীয়। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: ৯ম হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২০শে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুস সাব্ত শরীফ (শনিবার)। সুবহানাল্লাহ!

দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক: মাত্র ১১ দিন। সুবহানাল্লাহ!

 হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সিবতুন (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিত সিবত্বাতুন (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক

 হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সিবতুন (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিত সিবত্বাতুন (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক

 নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা মোট ৮ জন। উনাদের মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনা’ (ছেলে) আলাইহিমুস সালাম উনারা ৪ জন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ৪ জন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনা’ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই দুনিয়াবী দৃষ্টিতে অল্প বয়স মুবারক-এ তথা সম্মানিত দুধ মুবারক পানরত অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার যুগ পেয়েছেন, সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করেছেন এবং উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফও হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মধ্যে একমাত্র বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্যান্য যাঁরা রয়েছেন অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং আন নূরুর রাবি‘য়াহ সাইয়্যদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের প্রত্যেকেরই মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর উনারাই হচ্ছেন হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সিবতুন (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিতা সিবত্বাতুন (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! 

হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সিবতুন (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিতা সিবত্বাতুন (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কত জন এই নিয়ে অনেক ইখতিলাফ রয়েছে। মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ্, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত ইখতিলাফকে মিটিয়ে দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন যে, “হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সিবতুন (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিতা সিবত্বাতুন (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সর্বমোট ১০ জন। সুবহানাল্লাহ! উনারা হচ্ছেন,

১. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতে যিন নূর আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম) অনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হওয়ার পরের দিন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৮শে রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বয়স মুবারক ৫০তম বছর মুবারক পার হয়ে ৫১তম বছর মুবারক চলাকালীন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৪৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৭শে ছফর শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইওয়ামুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ তথা সোমবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ৪৫ বছর ৬ মাস ২৯ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

২. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী ইবনে আবুল আছ ইবনে রবী’ আলাইহিস সালাম) তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করার ১৩ মাস ১৬ দিন পূর্বে তথা ১ বছর ১ মাস ১৬ দিন পূর্বে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৬শে মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফ (বৃহস্পতিবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ১৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১০ই রজব শরীফ ইয়াওমুল আহাদ শরীফ  (রোববার) সম্মানিত ইয়ারমূক জিহাদ মুবারক উনার ময়দানে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ১৫ বছর ৫ মাস ১৪ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

৩. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আছ ছানী আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে আবুল আছ ইবনে রবী’ আলাইহিস সালাম) তিনি ২য় হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৮ই শাওওয়াল শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ তথা সোমবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! 

এই ৩ জন উনারা খইরু ওয়া আফযালু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলইহাস সালাম উনার মাধ্যমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

৪. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ১১ তম বছর মুবারক পার হয়ে ১২ তম বছর মুবারক উনার শুরুতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৫ই রবী‘ঊছ ছানী শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ তথা সোমবার) সম্মানিত ও পবিত্র হাবশায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বয়স মুবারক ৫১তম বছর মুবারক পার হয়ে ৫২তম বছর মুবারক চলাকালীন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৪র্থ হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত ও পবিত্র ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ ইয়াওমুল আরবিয়া’ শরীফ (বুধবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ৬ বছর ১ মাস ১৭ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

৫. সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম) তিনি ৩য় হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৫ই রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল আরবিয়া শরীফ (বুধবার) বা’দ আছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৪৯ হিজরী শরীফ উনার ২৮শে সফর শরীফ জুমুয়াবার ভোর রাত্রে ফজরের আগে তাহাজ্জুদের শেষ সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ৪৫ বছর ৫ মাস ১৩ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

৬. সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম) তিনি ৪র্থ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৫ই শা’বান শরীফ ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ শরীফ বা’দ আছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৬১ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১০ই মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ শরীফ যোহরের সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ৫৬ বছর ৫ মাস ৫ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

৭. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে যুন নূর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম। তিনি ৫ম হিজরী শরীফ উনার ৫ই জুমাদাল ঊলা শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ্ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৬৫ হিজরী শরীফ উনার ১৫ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুস সাব্ত শরীফ (শনিবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

৮. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বইয়্যাহ বিনতে যুন নূর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম। তিনি ৬ষ্ঠ হিজরী শরীফ উনার ২০শে জুমাদাল উখরা শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ্ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৬ষ্ঠ হিজরী শরীফ উনার ২৯শে জুমাদাল উখরা শরীফ ইয়াওমুল আহাদ শরীফ (রোববার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে মাত্র ৯ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

৯. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে যুন নূর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম। তিনি ৭ম হিজরী শরীফ উনার ১০ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইছনাইনিল আযীম শরীফ তথা সোমবার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৭৩ হিজরী শরীফ উনার ১৪ই শাওওয়াল শরীফ ইয়াওমুল আরবিয়া শরীফ (বুধবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

১০. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহসিন আলাইহিস সালাম। তিনি ৯ম হিজরী শরীফ উনার ৯ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৯ম হিজরী শরীফ উনার ২০ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুস সাব্ত শরীফ (শনিবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে মাত্র ১১ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

উনারা ৬ জন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

 সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক

 
সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক

 সম্মানিত পরিচিতি মুবারক:

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সিব্তুন (নাতী) আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! 

মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম:

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান হচ্ছেন উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার শান মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَن حَضْرَتْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِضْعَةٌ مِنّـِىْ يُؤْذِينِىْ مَا اٰذَاهَا.

অর্থ: “হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিঃসন্দেহে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, উম্মু আবীহা আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক) উনার একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র টুকরো মুবারক। সুবহানাল্লাহ! উনাকে যে সকল বিষয়গুলো কষ্ট দেয়, সেগুলো আমাকেও কষ্ট দেয়।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ ইত্যাদি)

অন্য বর্ণনায় এসেছেন,

مَنْ اَحَبَّهَا فَقَدْ اَحَبَّنِىْ وَمَنْ اَبْغَضَهَا فَقَدْ اَبْغَضَنِىْ.

অর্থ: “যে ব্যক্তি উনাকে মুহব্বত করলেন, তিনি মূলত আমাকেই মুহব্বত করলেন। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি উনাকে অসন্তুষ্ট করলো, সে মূলত আমাকেই অসন্তুষ্ট করলো।” না‘ঊযুবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান আলাইহিস সালাম:

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান আলাইহিস সালাম হচ্ছেন ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! যিনি হচ্ছেন- ইমামুল আউওয়াল মিন আহিল বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম ইমাম এবং হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,

عن حضرت الليث بن سعد رحمة الله عليه قال تزوج حَضْرَتْ عَلِىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَه عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فولدت له حَضْرَتْ حسناً عَلَيْهِ السَّلَامُ وحَضْرَتْ حسيناً عَلَيْهِ السَّلَامُ وحَضْرَتْ محسناً عَلَيْهِ السَّلَامُ وحَضْرَتْ زينب عَلَيْهَا السَّلَامُ وحَضْرَتْ أم كلثوم عَلَيْهَا السَّلَامُ وحَضْرَتْ رقيّة عَلَيْهَا السَّلَامُ فماتت حَضْرَتْ رقيّة عَلَيْهَا السَّلَامُ ولم تبلغ وقال غيره ولدت حَضْرَتْ حسناً عَلَيْهِ السَّلَامُ وحَضْرَتْ حسيناً عَلَيْهِ السَّلَامُ وحَضْرَتْ محسناً عَلَيْهِ السَّلَامُ فهلك حَضْرَتْ محسن عَلَيْهِ السَّلَامُ صغيرا

অর্থ: “হযরত লাইছ ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেন। উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহ্সিন আলাইহিস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কলছূম আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বাইয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বাইয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি দুনিয়াবী দৃষ্টিতে অল্প বয়স মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর কেউ কেউ বলেন, আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহসিন আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহসিন আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়াবী দৃষ্টিতে অল্প বয়স মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (যাখাইরুল ‘উক্ববা)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা, মুত্বহ্হার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ্, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সবাইকে এ বিষয়ে ছহীহ ইলিম মুবারক হাদিয়া মুবারক করে ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি ৯ম হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৯ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!

মূলত, এই তারীখ মুবারকখানা পৃথিবীর কোনো কিতাবে উল্লেখ নেই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ্, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রয়েছে বেমেছাল মহাসম্মানিত তা‘য়াল্লুক-নিসবত, মুহব্বত-ক্বুরবত মুবারক, যা কায়িনাতের কারো পক্ষে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে একমাত্র মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ্, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ শত বছর পর দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নিয়ে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ মুবারক প্রকাশ করা। সুবহানাল্লাহ! 

সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখা:

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৭ম দিন সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ তথা সোমবার) উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া হয় এবং স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত মুহ্সিন আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!

এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,

عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ بْنِ اَبِىْ طَالِبٍ قَالَ لَمَّا وَلَدَتْ    سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ الزَّهْرَاءِ عَلَيْهَا السَّلَامُ الْحَسَنَ عَلَيْهِ السَّلَامُ جَاءَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ اَرُوْنِيْ اِبْنِيْ مَا سَـمَّـيْتُمُوْهُ قَالَ قُلْتُ سَمَّيْتُهُ حَرْبًا قَالَ بَلْ هُوَ حَسَنٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَلَمَّا ولدت الْحُسَيْنَ عَلَيْهِ السَّلَامُ جَاءَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ اَرُوْنِيْ اِبْنِيْ مَا سَمَّيْتُمُوْهُ قَالَ قُلْتُ سَمّيْتُه حَرْبًا فَقَالَ بَلْ هُوَ حُسَيْنٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ ثم لما ولدت الثالث جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أروني ابني ما سميتموه قلت سميته حربا قال بل هو محسن عَلَيْهِ السَّلَامُ ثم قال إنما سميتهم باسم ولد حضرت هارون عليه السلام شَبَر وشُبَير ومُشْبِر

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে আমার মহাসম্মানিত নাতী উনাকে দেখান। আপনারা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক কি রেখেছেন? সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক রেখেছি ‘র্হাব’। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, না; বরং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নাম মুবারক রাখুন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত হাসান আলাইহিস সালাম’। এভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে আমার মহাসম্মানিত নাতী উনাকে দেখান। আপনারা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক কি রেখেছেন? সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নাম মুবারক রেখেছি ‘র্হাব’। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, না; বরং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নাম মুবারক রাখুন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম’। একইভাবে তৃতীয় মহাসম্মানিত আওলাদ তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে আমার মহাসম্মানিত নাতী উনাকে দেখান। আপনারা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক কি রেখেছেন? ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক রেখেছি ‘র্হাব’। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, না; বরং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক রাখুন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত মুহসিন আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আমি উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রেখেছি হযরত হারুন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ হযরত শাবার আলাইহিস সালাম, হযরত শুবাইর আলাইহিস সালাম এবং হযরত মুশ্বির আলাইহিস সালাম উনাদের নাম মুবারক অনুযায়ী।” সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারু আলামিন নুবালা, তাহযীবুল কামাল, যখায়িরুল ‘উক্ববা ফি মানাক্বিবি যাবিল কুবরা, আয যুরি‌্যয়াতুত ত্বহিরাহ, মুস্তাদরাকে হাকিম, মুসনাদে আহমদ, ছহীহ ইবনে হিব্বান, আল মু’জামুল কবির, মাজমা‘উয যাওয়াইদ, আল ইছাবাহ, আল আদাবুল মুফরাদ ইত্যাদি( 

 বেমেছাল শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَلِلّٰهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُوْلِهٖ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ وَلٰكِنَّ الْمُنٰفِقِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ

অর্থ: “সমস্ত ইয্যত তথা শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক একমাত্র যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার (এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের) জন্য এবং (উনাদের সাথে নিসবত স্থাপন করার কারণে) মু’মিনীন উনাদের জন্য। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু মুনাফিক্বরা তা জানে না, বুঝে না।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুনাফিকূন শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮)

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ্, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত ইয্যত-সম্মান, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের একক মালিক। উনার পর উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সমস্ত ইয্যত-সম্মান, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের মালিক। সুবহানাল্লাহ! আর উনাদের সাথে নিসবত স্থাপন করার কারণে মু’মিনগণ উনারাও সম্মানিত।” সুবহানাল্লাহ!

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মু’মিন বলতে একমাত্র যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ তামাম কায়িনাতবাসী সকলেই উদ্দেশ্য। সুবহানাল্লাহ! উনারা সকলেই মু’মিন। উনারা প্রত্যেকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! কোনো হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক দেয়া হয়নি, কোনো হযরত রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত রিসালাত মুবারক দেয়া হয়নি; যতক্ষণ পর্যন্ত না উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনার পরেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে স্বয়ং যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَاِذْ اَخَذَ اللهُ مِيْثَاقَ النَّبِـيّٖنَ لَمَاۤ اٰتَيْتُكُمْ مِّنْ كِتٰبٍ وَّحِكْمَةٍ ثُـمَّ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدِّقٌ لِّـمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهٖ وَلَتَنْصُرُنَّهٗ قَالَ ءَاَقْرَرْتُـمْ وَاَخَذْتُـمْ عَلـٰى ذٰلِكُمْ اِصْرِىْ قَالُوْاۤ اَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوْا وَاَنَا مَعَكُمْ مِّنَ الشّٰهِدِيْنَ. فَمَنْ تَوَلّٰى بَعْدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓـئِكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ.

অর্থ: “আর (আমার মহাসম্মানতি ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি স্মরণ করুন ঐ সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে অঙ্গীকার মুবারক গ্রহণ করলেন যে, আপনাদেরকে সম্মানিত কিতাব মুবারক ও হিকমত মুবারক দেয়া হবে। অতঃপর আপনাদের নিকট একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল তথা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করবেন এবং তিনি আপনাদেরকে ও আপনাদের কাছে যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুর তাছদীক্ব বা সত্যায়ন করবেন। আপনারা অবশ্যই অবশ্যই উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনবেন এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনারা কি তা স্বীকার করে নিলেন এবং এ মর্মে আমার সম্মানিত ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করলেন? উনারা বললেন, আমরা স্বীকার করে নিলাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, তাহলে আপনারা সকলে সাক্ষী থাকুন এবং আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী রইলাম। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর যে এই সম্মানিত ওয়াদা মুবারক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে অর্থাৎ ওয়াদা মুবারক উনার খিলাফ করবে, তারাই হচ্ছে ফাসিক্ব তথা চরম নাফরমান, কাট্টা কাফির।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১-৮২) 

সেটাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, 

اِنَّا مِنَ اللهِ بِـمَكَانٍ وَّمَنْزِلَةٍ رَّفِيْعَةٍ فَلَوْ لَا نَـحْنُ مَا خَلَقَ اللهُ تَعَالـٰى سَـمَاءً وَّلَا اَرْضًا وَّلَا جَنَّةً وَّلَا نَارًا وَّلَا شَـمْسًا وَّلَا قَمَرًا وَّلَا جِنِّيًّا وَّلَا اِنْسِيًّا.

অর্থ: “ নিশ্চয়ই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আমাদের এমন সুউচ্চ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাকান ও মাক্বাম মুবারক রয়েছেন যে, আমরা যদি না হতাম, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি আসমান-যমীন, জান্নাত-জাহান্নাম, সূর্য-চন্দ্র এবং জিন-ইনসান কোনো কিছুই সৃষ্টি করতেন না।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বলেন, 

اِنَّ لَنَا عِنْدَ اللهِ مَنْزِلَةً وَّمَكَانًا رَّفِيْعًا وَلَوْلَا نَـحْنُ لَـمْ يـَخْلُقِ اللهُ اَرْضًا وَلَا سَـمَاءً وَلَا جَنَّةً وَلَا نَارًا وَلَا شَـمْسًا وَلَا قَمَرًا وَّلَا جِنِّيًّا وَّلَا اِنْسِيًّا وَلَا بَرًّا وَلَا بـَحْرًا وَلَا سَهْلًا وَلَا جَبَلًا وَلَا رَطْبًا وَلَا يَابِسًا وَلَا حُلْوًا وَلَا مُرًّا وَلَا مَاءً وَلَا نَبَاتًا وَلَا شَجَرًا وَاخْتَرَعْنَا اللهُ مِنْ نُّوْرِهٖ وَلَا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.

অর্থ: “নিশ্চয়ই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আমাদের এমন সুউচ্চ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাক্বাম মুবারক রয়েছেন যে, আমরা যদি সৃষ্টি না হতাম, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি যমীন-আসমান, জান্নাত-জাহান্নাম, সূর্য-চন্দ্র, জিন-ইনসান, স্থল-সমুদ্র, সমভূমি-পাহাড়, ভিজা-শুকনা, মিষ্ট-তিক্ত, পানি, গাছপালা-তরুলতা কোনো কিছুই সৃষ্টি করতেন না। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ নূর মুবরাক থেকে সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আমাদের সাথে কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ!

 এজন্যই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اِنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)

মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ্, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বলেছেন যে, আলোচ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে- 

اَهْلُ بَيْتٍ نَـحْنُ

(আমরা আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম) বলেÑ আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে আমার নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!

সেটাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা ইরশাদ মুবারক করেন, 

لِـىْ وَلَنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقْتٌ لَّا يَسْعٰنِىْ فِيْهِ مَلَكٌ مُّقَرَّبٌ وَلَا نَبِىٌّ مُّرْسَلٌ

অর্থ: ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার এবং আমাদের এমন একটি সময় রয়েছে, অর্থাৎ দায়েমীভাবে এমন নিছবত মুবারক রয়েছেন যেখানে কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের স্থান সঙ্কুলান হয় না।’ সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ওয়া আহলি বাইতি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দায়েমীভাবে এমন নিছবত মুবারক রয়েছেন যেখানে কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের স্থান সঙ্কুলান হয় না। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংযুক্ত এবং সম্পৃক্ত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরেই উনাদের মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, একমাত্র খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত সৃষ্টি জগতের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি ঈমান আনা, উনাদেরক মুহব্বত করা তা’যীম-তাকরীম করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া। সুবহানাল্লাহ! উনারাই হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে হাছিল করার একমাত্র উসীলা বা মাধ্যম। উনারা ব্যতীত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে হাছিল করার দ্বিতীয় কোনো উসীলা বা মাধ্যম নেই। সুবহানা সুলত্বানিন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

 সেটাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

نَحْنُ اٰلُ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ )نَحْنُ اَهْلُ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ( ونحن اَلْوَسِيْلَةُ اِلَى اللهِ وَلَا وَسِيْلَةَ اِلَى اللهِ اِلَّا عَنْ غَيْرِ طَرِيْقِنَا اَوْ مِنْ سِوَانَا.

অর্থ: “আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাওয়ার একমাত্র উসীলা। আমাদের পথ বা আমাদের ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে পাওয়ার দ্বিতীয় কোনো উসীলা বা মাধ্যম নেই।” সুবহানাল্লাহ! (শরহে আক্বাইদে ত্বহাবী)

এ কারণেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-

عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ شَجَرَةُ النُّبُوَّةِ وَمَعْدِنُ الرِّسَالَـةِ لَيْسَ اَحَدٌ مِّـنَ الْـخَلَائِقِ يَفْضُلُ اَهْلَ بَيْـتِـىْ غَيْرِىْ.

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমরা সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক এবং সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার সম্মানিত খনি মুবারক। সুবহানাল্লাহ! সমগ্র সৃষ্টি জগতে একমাত্র আমি ব্যতীত দ্বিতীয় আর কেউ নেই, যে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমকক্ষতা দাবী করে। অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টি জগতে আমার পরেই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, ফযীলত মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানযুল উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭)

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খ¦মিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,

 اِنَّا نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ مَنْ قَاسَ بِنَا اَحَدًا فَقَدْ كَفَرَ

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না। সুবহানাল্লাহ! যে ব্যক্তি আমাদের সাথে অন্য কাউকে তুলনা করবে, সে কুফরী করবে।” সুব্হানা মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

সুতরাং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পরেই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ তামাম সৃষ্টি জগতের সম্মানিত মাক্বাম মুবারক। কাজেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সৃষ্টি জগতের কারো তুলনা দেয়া যাবে না। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সাথে সৃষ্টি জগতের কারো তুলনা দেয়া, সুস্পষ্ট কুফরী। সুবহানাল্লাহ! যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, মালিকুল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত পবিত্রতা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। যা কস্মিনকালেও ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,

عن حَضْرَتْ أبي هريرة رضى الله تعالى عنه قال: ثقل حَضْرَتْ ابن حَضْرَتْ فاطمة عليها السلام فبعث إلى النبي-صلى الله عليه وسلم

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার একজন মহাসম্মানিত ছেলে আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি কঠিন মারীদ্বী শান মুবারক গ্রহণ করেন। তখন উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট প্রেরণ করা হয়।” সুবহানাল্লাহ! (জাম‘উল ওয়াছাইল ফী শরহিশ শামাইল, শরহু কিতাবিত তাওহীদ)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

حَضْرَتْ محسن بن علي بن أبي طالب عليه السلام وقد اتفق أهل العلم بالأخبار أنه مات صغيرا في حياة النبي صلى الله عليه وسلم

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম। অবশ্যই হযরত ‘উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা অনেক সংবাদের ভিত্তিতে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (যাহিরীভাবে) দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করাকালীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়াবী দৃষ্টিতে অল্প বয়স মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল বারী লি ইবনে হাজার ৩/১৫৬)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

وأما حَضْرَتْ محسن بن علي عليه السلام فهلك وهو صغير.

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়াবী দৃষ্টিতে অল্প বয়স মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মা‘আরিফ)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,

حَضْرَتْ محسن بن علي بن ابى طالب بن عبد المطلب الهاشمي عليه السلام: سبط النبي صلى الله عليه وسلم وشقيق حَضْرَتْ الحسين عليه السلام أمهم حَضْرَتْ فاطمة الزهراء عليها السلام مات بالمدينة وهو صغير

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহসিন আলাইহিস সালাম ইবনে ‘আলী ইবনে আবী ত্বালিব ইবনে ‘আব্দিল মুত্ত্বালিব আল হাশিমী আলাইহিস সালাম তিনি সিবত্বুন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাতী আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আপন ভাই। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মহাসম্মানিত মাতা হচ্ছেন- আন নূরুর রবি‘য়াহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহ্রা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়াবী দৃষ্টিতে অল্প বয়স মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আত্ তুহফাতুল লাত্বীফাহ্ ফী তারীখিল মাদীনাতিশ শারীফাহ্)

মুত্বহ্হার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ্, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, মালিকুল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি ৯ম হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২০শে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুস সাব্ত শরীফ (শনিবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!

 তিনি দুনিয়ার যমীনে মাত্র ১১ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!


 সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতিপয় বেমেছাল খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক

 

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতিপয় বেমেছাল খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক

 হযরত শায়েখ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত ‘মাদারিজুন নুবুওয়াত শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র জিসম মুবারক থেকে সবসময় মেশক ও আম্বরের সুগন্ধি বের হতো।” সুবহানাল্লাহ!

‘মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, 

وكان عبد المطلب يفوح منه رائحة المسك الاذفر،

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র জিসম মুবারক থেকে মেশকের প্রবল সুগন্ধি মুবারক বিচ্ছুরিত হতো।” সুবহানাল্লাহ!

‘শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,

وكانت قريش إذا أصابها قحط شديد تأخذ بيد عبد المطلب فتخرج به إلى جبل ثبير فيتقربون به إلى الله، ويسألونه أن يسقيهم الغيث، فكان يغيثهم ويسقيهم ببركة نور رسول الله صلى الله عليه وسلم غيثًا عظيمًا.

অর্থ: “কুরাইশরা যখন কঠিন দুর্ভিক্ষে পড়তো, তখন তারা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার সম্মানিত হাত মুবারক ধরে (অত্যন্ত সম্মানের সাথে) ছাবীর পাহাড়ে নিয়ে যেতো এবং উনার সম্মানিত উসীলা মুবারক দিয়ে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য কামনা করতো এবং বৃষ্টি প্রার্থনা করতো। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার বরকত মুবারক-এ তাদেরকে প্রচুর বৃষ্টি দান করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব শরীফ)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

ويقول الشهرستاني: "ظهر نور النبي صلى الله عليه وسلم في أسارير عبد المطلب بعض الظهور، وببركة ذلك النور ألهم النذر في ذبح ولده، وببركته كان يأمر ولده بترك الظلم والبغي، ويحثهم على مكارم الأخلاق، وينهاهم عن دنيات الأمور، وببركة ذلك النور كان يقول في وصاياه: إنه لن يخرج من الدنيا ظلوم حتى ينتقم منه، وتصيبه عقوبة، إلى أن هلك رجل ظلوم لم تصبه عقوبة، فقيل لعبد المطلب في ذلك

 অর্থ: “হযরত ইমাম শাহরাস্তানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র কপাল মুবারক-এ ‘নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বিশেষভাবে প্রকাশিত হতেন। সুবহানাল্লাহ! এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকত মুবারক-এ সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী করার মান্নত করার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর এই সম্মানিত ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার বরকত মুবারকেই সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যুলুম, অন্যায় ও অত্যাচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ মুবারক দিতেন এবং উত্তম চরিত্র মুবারক গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন, উনাদেরকে নি¤œ ও নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত রাখতেন। এই ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার বরকতেই তিনি উনার সম্মানিত নছীহত বা উপদেশ মুবারক-এ বলতেন, দুনিয়ার যমীন থেকে কখনও যুলুম-নির্যাতন, অত্যাচার-অবিচার দূর হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এর জন্য শাস্তি দেয়া না হবে।” (আস সীরাতুন নুবুওওয়াহ)

‘শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব শরীফ’ উনার মধ্যে এসেছে,

ولما جعله الله فيه من مخالفة ما كان عليه الجاهلية بإلهام من الله، وكان يأمر أولاده بترك الظلم والبغي، ويحثهم على مكارم الأخلاق وينهاهم عن دنيات الأمور، ويؤثر عنه سنن جاء بها القرآن والسنة كالوفاء بالنذر، والمنع من نكاح المحارم، وقطع يد السارق، والنهي عن قتل الموءودة وتحريم الخمر والزنا، وأن لا يطوف بالبيت عريان،.

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত ইলহাম মুবারক দ্বারা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জাহিলিয়াতের যুগে আলাদাভাবে বেশিষ্ট্য ম-িত করেছেন। তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যুলুম, অন্যায় ও অত্যাচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ মুবারক দিতেন এবং উত্তম চরিত্র মুবারক গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন, উনাদেরকে নি¤œ ও নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত রাখতেন। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বারা যেই সকল সুন্নত বা বিধানসমূহ শুরু হয়েছে, তার অধিকাংশগুলো সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ এবং সম্মানিত ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে এসেছে। তারমধ্যে কতিপয় হচ্ছেন, ১.মান্নত পূর্ণ করা, ২. মাহরামদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ, ৩. চোরের হাত কাটা, ৪. কন্যা সন্তান হত্যা নিষিদ্ধ, ৫. মদ ও ব্যভিচার হারাম করণ, ৬. বিবস্ত্র হয়ে বাইতুল্লাহ শরীফ (সম্মানিত ও পবিত্র কা’বা শরীফ) তাওয়াফ না করা ইত্যাদি।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

وتؤثر عنه سنن جاء القرآن بأكثرها، وجاءت السنة بها: منها الوفاء بالنذر، والمنع من نكاح المحارم، وقطع يد السارق، والنهي عن قتل الموؤدة، وتحريم الخمر والزنا، وأن لا يطوف بالبيت عريان كذا في كلام سبط ابن الجوزي

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বারা যেই সকল সুন্নত বা বিধানসমূহ শুরু হয়েছে, তার অধিকাংশগুলোই (পরবর্তীতে) সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ এবং সম্মানিত ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে এসেছে তথা সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে সেগুলো জারী রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা সাইয়্যিদুনা জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জারীকৃত সুন্নত বা বিধানসমূহ অত্যন্ত বেমেছালভাবে কবুল করেছেন। সুবহানাল্লাহ!) তারমধ্যে কতিপয় হচ্ছেন, ১.মান্নত পূর্ণ করা, ২. মাহরামদের (যেমন- বোন, ফুফু, খালা) সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ, ৩. চোরের হাত কাটা, ৪. কন্যা সন্তান হত্যা নিষিদ্ধ, ৫. মদ ও ব্যভিচার হারাম করণ, ৬. বিবস্ত্র হয়ে সম্মানিত ও পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ (সম্মানিত ও পবিত্র কা’বা শরীফ) তাওয়াফ না করা।” (আস সীরতুল হালবিয়্যাহ শরীফ ১/৭)

‘আস সীরতুল হালবিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে,

  وكان عبد المطلب يأمر أولاده بترك الظلم والبغي، ويحثهم على مكارم الأخلاق وينهاهم عن دنيئات الأمور.

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যুলুম, অন্যায় ও অত্যাচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ মুবারক দিতেন এবং উত্তম চরিত্র মুবারক গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন, উনাদেরকে নি¤œ ও নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত রাখতেন।” (আস সীরাতুল হালবিয়্যাহ শরীফ ১/৭) 

‘আস সীরতুল হালবিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে,

وكان يقول لن يخرج من الدنيا ظلوم حتى ينتقم منه.

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলতেন, দুনিয়ার যমীন থেকে কখনও যুলুম-নির্যাতন, অত্যাচার-অবিচার দূর হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এর জন্য শাস্তি দেয়া না হবে।” (আস সীরতুল হালবিয়্যাহ শরীফ ১/৭)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

وهو أول من طلى الكعبة بالذهب

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যিনি সর্বপ্রথম সম্মানিত ও পবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে স্বর্ণ দ্বারা প্রলেপ দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

أنه كان أول من سن دية النفس مائة من الإبل،

অর্থ: “তিনিই সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যিনি সর্বপ্রথম একজন মানুষের ‘রক্তপণ একশত উট’ এ বিষয়টি প্রবর্তণ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

وممن حرم الخمر على نفسه، وهو أول من تحنث بغار حراء,. 

অর্থ: “তিনি সেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের মধ্যে অন্যতম যিনি নিজের উপর মদ হারাম করেছিলেন এবং তিনিই সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যিনি সর্বপ্রথম সম্মানিত হেরা গুহা মুবারক-এ নির্জনে ইবাদাত মুবারক করতেন।” সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

أول من تحنث بحراء كان إذا دخل شهر رمضان صعده وأطعم المساكين،

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই সম্মানিত হেরা গুহায় নির্জনে ইবাদাত-বন্দেগী করার সূচনা করেন। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসলে তিনি সম্মানিত হেরা গুহায় আরোহণ মুবারক করতেন এবং মিসকীনদেরকে (বিশেষভাবে) খাদ্য খাওয়াতেন।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব শরীফ)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

وكان إذا دخل شهر رمضان، صعده وأطعم المساكين، وكان صعوده للتخلي من الناس؛ ليتفكر في جلال الله وعظمته. 

অর্থ: “যখন সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস আসতো, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত হেরা গুহা মুবারক-এ আরোহণ মুবারক করতেন এবং মিসকীনদেরকে (বিশেষভাবে) খাদ্য খাওয়াতেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি সেখানে আরোহণ মুবারক করতেন লোকজন থেকে আলাদা হয়ে নির্জনে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত জালাল ও ‘আযমত মুবারক তথা মহিমা, মহত্ত্ব, সম্মান, মর্যাদা-মর্তবা ও বড়ত্ব মুবারক সম্পর্কে ফিকির করার জন্য।” সুবহানাল্লাহ! 

অপর বর্ণনায় এসেছে,

وكان إذا دخل شهر رمضان صعد حراء وأطعم المساكين جميع الشهر وكان صعوده للتخلي عن الناس يتفكر في جلال الله وعظمته

অর্থ: “যখন সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস আসতো, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত হেরা গুহা মুবারক-এ আরোহণ মুবারক করতেন এবং সারা মাসব্যাপী মিসকীনদেরকে (বিশেষভাবে) খাদ্য খাওয়াতেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি সেখানে আরোহণ মুবারক করতেন লোকজন থেকে আলাদা হয়ে নির্জনে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত জালাল ও আযমত মুবারক তথা মহিমা, মহত্ত্ব, সম্মান, মর্যাদা-মর্তবা ও বড়ত্ব মুবারক সম্পর্কে ফিকির করার জন্য।” সুবহানাল্লাহ!