এক নজরে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরা আলাইহাস সালাম

এক নজরে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরা আলাইহাস সালাম

সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক এবং সম্মানিত পরিচিতি মুবারক :
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার প্রকৃত সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যয়নব আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তবে তিনি ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছফিয়্যাহ আলাইহাস সালাম’ এই সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক-এ মশহূর হন। সুবহানাল্লাহ! আরবের প্রথা অনুযায়ী যুদ্ধলব্ধ মাল বন্টনের সময় যে উৎকৃষ্ট বা উত্তম মাল দলপতির জন্য রাখা হত তাকেই ‘ছফিয়্যাহ’ বলা হতো। সম্মানিত খায়বার জিহাদ মুবারক-এ প্রাপ্ত সকল কিছুর মধ্যে যেহেতু উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শেষ পর্যন্ত তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক আনেন, এজন্য উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নামকরণ মুবারক করা হয়েছিল সাইয়্যিদাতুনা হযরত সফিয়্যাহ আলাইহাস সালাম। আর এই সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারকেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার পিতার নাম ছিলো হুইয়াই ইবনে আখতাব। তিনি ছিলেন হযরত হারূন ইবনে ‘ইমরান আলাইহিমাস সালাম উনাদের অধস্তন পুরুষ।

পারিবারিক অবস্থান মুবারক: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনার পিতা ও মহাসম্মনিত দাদা আলাইহিস সালাম উভয়েই ছিলেন তৎকালীন ইয়াহূদী জাতির সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। যে কারণে বনী ইসরাঈলের সমস্ত আরবীয় গোত্রের মধ্যে উনাদেরকে আলাদা সম্মান করা হতো। বিশেষ করে উনার বাবা হুইয়াই ইবনে আখ্ত্ববকে মর্যাদার শীর্ষে স্থান দেয়া হয়েছিল। ইয়াহূদীরা বিনা বাক্য তার নেতৃত্ব মেনে চলতো। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মনিত নানা সাইয়্যিদুনা হযরত সামওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি শান-মান, মর্যাদা, গৌরব, শ্রেষ্ঠত্ব ও বীরত্বের জন্য গোটা জাযিরাতুল আরবে বিখ্যাত ছিলেন। মূল কথা হলো, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বংশধারা  মুবারক এক বিশেষ খুছূছিয়াত মুবারক অধিকারী ছিল। সুবহানাল্লাহ!

প্রথম শাদী মুবারক: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার প্রথম শাদী মুবারক হয় আরবের বিখ্যাত কবি ও সর্দার সালাম ইবনে মিশকাম  কুরাইযীর সাথে। প্রথম দিকে উনার দাম্পত্য জীবন সুখের হলেও পরবর্তীতে মনোমালিন্য ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ফলে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম পিতৃগৃহে ফিরে আসেন। 
এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وكانت صفية تزوجها سلام بن مشكم القرظي ثم فارقها 
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার প্রথম শাদী মুবারক হয়েছিলো বনী কুরাইযার সালাম ইবনে মিশকামের সাথে। তারপর তিনি সেখান থেকে পিতৃগৃহে চলে আসেন।” (ইবনে সা’দ ৮/৯৫) 
দ্বিতীয় শাদী মুবারক: এরপর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার দ্বিতীয় শাদী মুবারক হয় কিনানাহ্ ইবনে রবী ইবনে আবুল হাক্বীক্ব ইহুদীর সাথে।
এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
فتزوجها كنانة بن الربيع بن أبي الْـحُقَيْقِ النضري
অর্থ: “তারপর বনী নাযীর গোত্রের কিনানাহ্ ইবনে রবী’ ইবনে আবুল হুক্বাইক্বের সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার দ্বিতীয় শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয়।” (ইবনে সা’দ ৮/৯৫)
অপর বর্ণনায় রয়েছে, 
وكانت عند كنانة بن الربيع بن أبي الْـحُقَيْقِ
 অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসার পূর্বে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন কিনানাহ্ ইবনে রবী’ ইবনে আবুল হুক্বাইক্বের নিকট।” (ইবনে হিশাম, আর রওদ্বুল উনফ, ্অল বিদায়া ওয়ান নিহায়াহ) 

এ সময় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ১৭ বছর। 
পিতা ও চাচার মৃত্যু: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার পিতা ও চাচা আবূ ইয়াসির নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলিাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরম শত্রু ছিলো। তারা সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে বিতারিত হয়ে চতুর্থ হিজরী শরীফ-এ খায়বারে যেয়ে কিনানার সাথে বসবাস করতে থাকে। এখানে বসেই হুইয়াই ইবনে আখ্ত্বব সম্মানিত মুসলমান উনাদের ক্ষতি করার সর্বপ্রকার চেষ্টা করতে থাকে। পরবর্তীতে ৭ম হিজরী সনের মুহররমুল হারাম শরীফ মাসে যখন নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খায়বার অভিযান পরিচালনা করেন, তখন মুসলমান উনাদের হাতে আল কামূস দুর্গের পতন ঘটে। যুদ্ধে ইয়াহূদীদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে। বহু নেতৃস্থানীয় ইয়াহূদী নিহত হয়। কিনানাহ ইবনে রবী’ ইবনে আবুল হুক্বাইক্ব দুর্গের অভ্যন্তরে নিহত হয়। এমন কি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার পিতা হুইয়াই ইবনে আখ্ত্ববও নিহত হয়। 

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ:
খায়বার বিজয়ের পর যখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হন, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যা পছন্দ করেন, তা বেছে নিন। যদি আপনি সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে পছন্দ করেন, তাহলে আমি আপনাকে আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ কবূল করবো। আর যদি আপনি ইয়াহূদী ধর্ম পছন্দ করেন, তাহলে আমি আপনাকে মুক্ত করে দিবো, যাতে আপনি আপনার কাওমের সাথে মিলিত হতে পারেন। জবাবে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,
يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ هَوَيْتُ الإِسْلامَ وَصَدَّقْتُ بِكَ قَبْلَ أَنْ تَدْعُوَنِي.
অর্থ: “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে মুহব্বত করি। আপনি আমাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি আহ্বান করার পূর্বেই আমি আপনাকে সত্য হিসেবে তথা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!
 ইহুদী ধর্মের প্রতি আমার কোন টান নেই। উম্মুল মু‘মিনী সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম তিনি আরো বলেন,
وَخَيَّرْتَنِي الْكُفْرَ وَالإِسْلامَ فَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الْعِتْقِ وَأَنْ أَرْجِعَ إِلَى قَوْمِي. 
অর্থ: “ আর আপনি আমাকে কুফরী বা সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম যে কোন একটি গ্রহণের ইখতিয়ার মুবারক দিয়েছেন। স্বাধীন হওয়ার চেয়ে এবং আমার কওমের নিকট ফিরে যাওয়ার চেয়ে যিনি খালিক্ব মালিক রব আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মাহবূব হাবীব, মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারাই আমার নিকট অধিক প্রিয়।” সুবহানাল্লাহ! 
ইয়া রাসূলল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারকেই থাকতে চাই। দয়া করে আপনি আমাকে গ্রহণ করুন। সুবহানাল্লাহ! তারপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আরজী মুবারক কবূল করেন। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وجمع السبي فجاءه دحية فقال: يا رسول الله أعطني جارية من السبي فقال: "اذهب فخذ جارية" فأخذ صفية بنت حيي فجاء رجل إلى نبي الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا نبي الله أعطيت دحية صفية بنت حيي سيدة قريظة والنضير؟ ما تصلح إلا لك قال: "ادعوه بها" فجاء بها فلما نظر إليها النبي صلى الله عليه وسلم قال: "خذ جارية من السبي غيرها" وأعتقها وتزوجها 
অর্থ: “আর (খায়বর বিজয়ের পর) বন্ধিদেরকে একত্রিত করা হলে হযরত দাহ্ইয়তুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আরজী পেশ করেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দয়া করে আমাকে একজন দাসী দান করুন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি গিয়ে একজনকে গ্রহণ করুন। তারপর তিনি উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনাকে গ্রহণ করলেন। অত:পর একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মুল মু‘মিনী সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনাকে হযরত দাহ্ইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার দিয়েছেন। উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম তিনি বনূ ক্বুরাইযাহ্ এবং বনূ নযীর গোত্রের সাইয়্যিদাহ। তিনি একমাত্র আপনার জন্যই উপযুক্ত। সুবহানাল্লাহ! তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকেসহ হযরত দাহ্ইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে আসতে বলুন। অত:পর উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনাকেসহ হযরত দাহ্ইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আসলেন। যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত মর্যাদা মুবারক উনার বিষয় লক্ষ্য করলেন, তখন হযরত দাহ্ইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে বললেন, উনাকে ব্যতীত অন্য কাউকে আপনি গ্রহণ করুন। তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনাকে মুক্ত করে দিয়ে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (‘আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘য়াহ)

অপর বর্ণনায় রয়েছে,
وقد قتل زوجها وكانت عروساً فاصطفاها النبي صلى الله عليه وسلم لنفسه 
অর্থ: “উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ্ আলাইহাস সালাম উনার দ্বিতীয় আহাল কিনানাহ্ খায়বরের জিহাদে নিহত হয়, তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন নববধু। অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার দ্বিতীয় শাদী মুবারক হওয়ার পর পরই উনার দ্বিতীয় আহাল কিননাহ্ খায়বার জিহাদে নিহত হয়। তারপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরাহ্ আলইহাস সালাম উনাকে নিজের জন্য কবূল করেন।” সুবহানাল্লাহ! আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৪/২২৩)

খায়বার থেকে রওয়ানা হওয়ার পর ছহ্বা’ নামক স্থানে আযীমুশ শান মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এখানে সম্মানিত ওয়ালিমা মুবারক উনার মেহমানদারী মুবারক সম্পন্ন করা হয়। ছহ্বা আগমনকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে নিজ উটের পিঠে বসান আর নিজর সম্মানিত জুব্বা মুবারক দিয়ে উনাকে ছায়া মুবারক দেন, যাতে লোকেরা জানতে পারে যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ পৌঁছে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত হারেস ইবনে নু’মান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত বাড়ী মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন। তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন অত্যন্ত প্রিয় ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনাকে অনেক সম্পদ মুবারক দিয়েছিলেন। তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার ব্যাপারে অগ্রগামী উনাদের অন্তুর্ভুক্ত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম তিনি যখন হযরত হারেস ইবনে নু’মান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিত বাড়ী মুবারক-এ সম্মানিত অবস্থান করছিলেন, তখন উনার সম্মানিত খুব ছূরত মুবারক উনার কথা শুনে উনাকে দেখার জন্য হযরত আনসার মহীলা ছাহাবীয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুন্না উনারা সেখানে গমন করেন।” সুবহানাল্লাহ!
ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার সীরাত মুবারক
ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার সীরাত মুবারক-
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ উনার ৬ নং সম্মানিত আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
النَّبِيُّ أَوْلَىٰ بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ
অর্থ : নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিনগণ উনাদের নিকট উনাদের জীবনের চেয়ে সর্বাধিক প্রিয়। (তিনি মু’মিনগণ উনাদের অভিভাবক এবং পিতৃতুল্য) আর উনার মহাসম্মানিতা হযরত আযওয়াজুম মুত্বহহারাহ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন মু’মিনগণ উনাদের মাতা তথা উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ।

পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ الْـجَنَّةَ تَـحْتَ أقْدَامِ الأُمَّهَاتِ
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সন্তানের জান্নাত মায়ের ক্বদম তলে। (জামিউল আহাদিছ, মসনদে শিহাব)

অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সমস্ত মু’মিনের মহাসম্মানিত মাতা। আর উনাদের সন্তুষ্টি রেযামন্দি মুবারক এবং তায়াল্লুক নিসবত মুবারক উনার উপর মু’মিনদের নাজাত নির্ভরশীল। উনারা যাদেরকে রেযামন্দিপ্রাপ্ত হিসেবে সত্যায়ন করবেন, উনারাই মক্ববূল হিসেবে পরিগণিত হবেন। অন্য কথায়, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রতি যারা সর্বোচ্চ হুসনে যন বা সুধারণা পোষণ করেন, উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক করেন, উনাদের সাওয়ানেহ উমরী মুবারক বা জীবনী মুবারক বেশি বেশি আলোচনা-পর্যালোচনা করেন, যে বা যারা উনাদের খালিছ সন্তুষ্টি রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে পারবেন, উনারাই উত্তম বা শ্রেষ্ঠ হিসেবে মনোনীত হবেন। আর এ জন্যই উনাদের সাওয়ানেহ উমরী মুবারক বা জীবনী মুবারক জানা প্রত্যেকের জন্য অতীব জরুরী।

সর্বাধিক প্রাধান্যপ্রাপ্ত, বিশুদ্ধ এবং দলীলসমৃদ্ধ মতে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা তেরজন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে তাশরীফ মুবারক গ্রহণের ধারাবাহিকতায় অষ্টম হচ্ছেন ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মুমিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ। আর চলমান পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মুমিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত মাস। সঙ্গত কারণেই এ সম্মানিত মাসে উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক বা উনার পবিত্র সীরাত মুবারক বেশি বেশি আলোচনা করা প্রয়োজন। তাই, ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মুমিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সীরাত মুবারক ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে। ইনশায়াল্লাহ।

পবিত্র নাম মুবারক-

একথা দিবালোকের ন্যায় সত্য যে, ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মূল নাম মুবারক হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত জুওয়াইরিয়া আলাইহাস সালাম।  
বলাবাহুল্য যে, সম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনাদেরকে উনাদের নাম মুবারকে বারবার সম্বোধন করা আদবের খিলাফ। উনাদেরকে উনাদের লক্বব মুবারকে সম্বোধন করতে হয়। এটাই আদব এবং রেযামন্দি লাভের কারণ। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক,
لَّا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُم بَعْضًا
অর্থ: “তোমরা পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করো, সেভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করো না।” (পবিত্র সুরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৩)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সাধারণ মানুষের ন্যায় আহবান করা তথা বারবার উনার পবিত্র নাম মুবারকে উনাকে সম্বোধন করা যাবে না। এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বলা হয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ নিসবতপ্রাপ্ত উনাদেরকেও উনাদের পবিত্র নাম মুবারকে বারবার সম্বোধন করা নিষিদ্ধ। উনাদেরকে উনাদের লক্বব মুবারকে সম্বোধন করতে হবে। 
তাই, ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মুমিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মূল নাম মুবারক উল্লেখ না করে সর্বত্র ‘উম্মুল মুমিনীন হযরত আল আশিরাহ আলাইহাস সালাম’ উল্লেখ করা হবে।

সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম-

ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মুমিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
أبوها الصحابي الجليل وسيد بني المصطلق واسمه حضرت الـحارث بن أبي ضرار رضى الله تعالى عنه
অর্থ: ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মুমিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম তিনি বিশিষ্ট ছাহাবী এবং বণী মুস্তালিকের সাইয়্যিদ হযরত হারিস ইবনে আবী দ্বরার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।

পবিত্র নসব মুবারক:

তেরজন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে দুইজন হযরত হারূন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বংশধর। অর্থাৎ, মহাসম্মানিত দুইজন  হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিমাস সালাম উনারা ইহুদী সম্প্রদায় হতে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। আর দুইজন তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন নাছারা সম্প্রদায় হতে। উনাদেরই একজন হলেন ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ।
ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মুমিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নসব মুবারক সম্পর্কে বলা হয়,
هي جويرية عليها السلام بنت الحارث بن أبي ضرار بن حبيب بن عائذ بن مالك من خزاعة ،
অর্থ: সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মুমিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম বিনতে হারিছ ইবনে আবী দ্বরার ইবনে হাবীব ইবনে আয়িদ ইবনে মালিক আলাইহিমুস সালাম।
মূলত, ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মুমিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত নসব মুবারক উনার ১২তম ধারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ১৭তম পূর্বপুরুষ হযরত ইলইয়াস আলাইহিস সালাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।

পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

অত্যন্ত আফসুস এবং পরিতাপের বিষয় হলো, প্রচলিত কিতাবাদিসমূহে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক সম্পর্কে কোন আলোচনাই নেই। কারো কারো পবিত্র বিছালী শান মুবারক সম্পর্কে সামান্য আলোচনা থাকলেও অধিকাংশই বিভ্রান্তিকর এবং ভূল।
সাইয়্যিদুল আউলিয়া, সুলত্বানুল ‘আরিফীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, ইমামুল আইম্মাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামি‘উল আলক্বাব, আহলে বাইতে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক শানে বেমেছাল বেনযীর তাজদীদ মুবারক করেছেন। তিনি উনার বেমেছাল তায়াল্লুক-নিসবত মুবারকের উম্মেষ ঘটিয়ে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক ও পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সন, তারিখ ও বারসহ প্রতিটি বিষয় সূক্ষ¥াতি সূক্ষ¥ ভাবে প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামি‘উল আলক্বাব, আহলে বাইতে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম বলেন, ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে  সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ২ বছর পূর্বে ১৩ যিলক্বদ শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত শৈশবকাল মুবারক-

ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি বনু মুস্তালিক গোত্রে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সঙ্গত কারণেই উনার সম্মানিত শৈশবকাল মুবারক এ গোত্রেই অতিবাহিত হয়েছেন। বলা হয়, এ গোত্র পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অধিবাসী না হলেও পবিত্র মক্কা শরীফ উনার নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এ গোত্রের অধিবাসীগণ কুরাঈশদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার পিতা ছিলেন নাছারা ধর্ম অনুসরনকারী গোত্রের সাইয়্যিদ। সঙ্গত কারণেই ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার পরিবার হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দ্বীন এবং ইনজিল শরীফ উনাদের উপর পূর্ণাঙ্গ দায়িম-কায়িম ছিলেন। এ বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।
মূলত, ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার অনন্য খুছুছিয়াত মুবারক উনাদের কারণে উনার পিতাসহ সকলেই উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করতেন। উনাকে তা’যীম-তাকরীম করতেন। আর এরুপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা পূর্ব হতেই মনোনীত। 

শাদী মুবারক-

অল্প বয়সে কন্যা সন্তানদেরকে পাত্রস্থ করা তথা বিবাহ দেয়ার রীতি ছিল আহলে কিতাব ও সম্ভ্রান্ত আরব উনাদের প্রতীক স্বরূপ। বর্তমান সময়ে নিকৃষ্ট শ্রেণীর কিছু লোক রয়েছে, যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধীতা করতে বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। প্রকৃতপক্ষে বাল্য বিবাহের বিরোধীতাকারীরা একদিকে ইসলাম বিদ্বেষী, অপর দিকে এরা চারিত্রিক দোষে চরমভাবে দোষী। এদের সর্ব প্রকার কার্যক্রম হতে সাবধান থাকা সকল মুসলমানের জন্য অত্যাবশকীয়।
ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার প্রথম শাদী মুবারক সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
كان زوجها قبل أن يسلم ابن عمها مسافع بن صفوان. 
অর্থ: ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রকাশ করার পূর্বে উনাকে উনার চাচাতো ভাই মাসাফিহ ইবনে ছফওয়ান ইবনে আবী শাফর শাদী করে। (ত্ববাক্বাত)
মূলত, ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক অল্প থাকা অবস্থাতেই উনার প্রথম শাদী সম্পন্ন হয়। উনার চাচাতো ভাইয়ের সাথে উনার প্রথম শাদী সম্পন্ন  হয়েছিল। কিন্তু বনু মুস্তালিকের জিহাদে সে নিহত হয়।

সুসংবাদ মুবারক-

ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে পূর্ব হতেই মনোনীত। যার কারণে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তিনি সুসংবাদ মুবারক লাভ করেন। আর সে সুসংবাদ সমূহের মধ্যে উনার কয়েকখানা স্বপ্ন মুবারক অন্যতম। এ সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
عن هشام بن عروة، عن أبيه قال: قالت جويرية بنت الحارث: رأيت قبل قدوم النبي صلى الله عليه وسلم بثلاث ليال كأن القمر يسير من يثرب حتى وقع في حجري، فكرهت أن أخبر به أحداً من الناس، حتى قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما سبينا رجوت الرؤيا.
অর্থ: হযরত হিশাম ইবনে উরওয়াহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি উনার পিতা হতে বর্ণনা করে বলেন, ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বনু মুস্তালিক জিহাদে আসার পূর্বে) আমি তিন রাত স্বপ্ন মুবারকে দেখলাম, মদীনা শরীফ হতে চাঁদ এসেছে এবং তা আমার মুবারক কোলে এসে পৌছেছে। আমি আমার এ স্বপ্ন মুবারক সম্পর্কে কাউকে বলতে অপছন্দ করলাম। এমনকি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (বনু মুস্তালিক জিহাদে) তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। অতপর, আমাদেরকে যখন মুসলমানদের জিম্মায় নেয়া হলো, তখন আমি আমার স্বপ্ন মুবারক বাস্তবায়নের আকাঙ্খা করতে লাগলাম। (বাইহাক্বী, শরহুয যারক্বানী)
অর্থাৎ, কখনো চাঁদ দেখিয়ে, কখনো সূর্য দেখিয়ে এমনকি কখনো সরাসরি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখিয়ে বারবার ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সুসংবাদ মুবারক প্রদান করা হয়। সুবহানাল্লাহ। ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি নিসবাত মুবারক লাভ করবেন, তা উনাকে আগেই জানানো হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ!

মুবারক খিদমতে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ-

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার তাশরীফ মুবারক গ্রহণের প্রেক্ষাপট বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতে, পবিত্র মক্কা শরীফ হতে প্রায় ১২০ কিলো এবং পবিত্র মদীনা শরীফ হতে প্রায় ৩০০ কিলো দূরে বসবাসকারী বনু মুস্তালিক গোত্র পবিত্র মদীনা শরীফ আক্রমণের প্রস্তুতি নেয়। তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পঞ্চম হিজরীর শেষের দিকে বনু মুস্তালিকে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। জিহাদ সম্পন্ন হয়। জিহাদের তারতীব অনুযায়ী বিজিত অঞ্চলের পুরুষদেরকে একত্রিত করা হয় আবার মহিলাদেরকেও আলাদাভাবে একত্রিত করা হতো। সে অনুযায়ী বনু মুস্তালিক জিহাদের পর সে এলাকার মহিলাদেরকে শরয়ী নির্দেশনা অনুযায়ী একত্রিত করা হয়। সঙ্গতকারণেই ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনিও সেখানে তাশরীফ মুবারক রাখেন। আর তিনি যেহেতু মহাসম্মানিত উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে পূর্ব হতেই আখাছছুল খাছভাবে মনোনীত এবং এ বিষয়ে তিনি পূর্ব হতেই অবগত, সেহেতু তিনি মুসলমানদের প্রতিটি বিষয় স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন। 

পরবর্তীতে মুসলমানদের জিম্মায় আসা মহিলাদেরকে জিহাদের তারতীব অনুযায়ী জিহাদে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বন্টন করে দেয়া হয়। অন্যান্যদের সাথে ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনাকেও একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জিম্মায় দেয়া হয়। কিন্তু তিনি তো জানেন উনার বিষয়টি এমন হওয়ার কথা নয়, কারণ তিনি তো উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে মনোনীত। তাই, তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে এ বিষয়ে আরজী পেশ করেন। 

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রকাশ-

ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করে শুরুতেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার বিষয়টি প্রকাশ করেন।

আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম শরীফ-

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুরোপুরিভাবে ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। উনার যাবতীয় কার্যক্রম মুবারক ওহী মুবারক দ্বারা সম্পাদিত হয়। আর তারই ধারাবাহিকতায় ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে নিসবাতুল আযীম শরীফ বা নিকাহ মুবারক উনার বিষয়টিও ওহী মুবারক দ্বারা সম্পাদিত।
ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি নিজেকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের জিম্মা মুক্ত করার ব্যাপারে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে আরজী করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আরজী মুবারক কবুল করেন এবং উনাকে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অন্তর্ভূক্ত করার ঘোষণা মুবারক দেন। আর এ ভাবেই ৫ম হিজরীর পবিত্র ২৮শে যিলহজ্ব শরীফ ইয়াওমুল জুময়াহ শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ সম্পন্ন হয়। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ সম্পন্ন হওয়ায় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এবং বনু মুস্তালিক গোত্রের সবাই অত্যধিক খুশি প্রকাশ করেন।

পবিত্র মোহর মুবারক-

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র নিসবতে আযীম মুবারক উনার সময় উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনাকে কি পরিমাণ মোহর প্রদান করেছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতে, প্রথমত উনার জিম্মি অবস্থার অবসান করা হয়। যা উনার বিশেষ খুছুছিয়ত মুবারক। দ্বিতীয়ত উনাকে আলাদাভাবে মোহর প্রদান করা হয়। কেননা, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রত্যেকের জন্য মোহর নির্ধারিত ছিলো। আর মোহর মুবারকের বিষয়টি একখানা হাদীছ শরীফ দ্বারা সহজেই স্পষ্ট করা যায়। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে,
عن حضرت ابـى سلمة رضى الله تعالى عنه انه قال سالت عائشة عليها السلام كم كان صداق رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت كان صدافه لـازواجه عليهن السلام نتـى عشرة اوقتة ونشا قالت اندرى ما النش قال قلت لا قالت نصف اوقية فتلك خـمس ماة درهم.
অর্থ: হযরত আবু সালামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক প্রদত্ত মুবারক মহর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মোহর মুবারক ছিলো বার উকিয়া ও এক নাশ। তিনি বললেন, আপনি কি এক নাশের পরিমাণ সম্পর্কে জানেন। আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন, এক নাশ এর পরিমাণ হলো অর্ধ উকিয়া। যা ছিলো মোট পাঁচশত দিরহাম। (মুসলিম শরীফ)
অর্থাৎ সমস্ত হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক মোহর ছিলো পাঁচশত দিরহাম। তবে কারো কারো মতে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু হাবীবাহ আলাইহাস সালাম উনার মুবারক মোহর আরো বেশি ছিলো। যা বাদশাহ নাজ্জাসী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে পরিশোধ করেছিলেন।
পাঁচশত দিরহাম হলো একশত সোয়া একত্রিশ তোলা রৌপ্যের সমান। যা মোহরে যাহরী শরীফ নামে বিখ্যাত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিবাহের ক্ষেত্রে আমভাবে এরূপ মোহর নির্ধারণ করতেন। বর্তমান সময়ে মুহইস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এই মুবারক সুন্নত জারী করেছেন। উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় যত বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, সবই মোহরে যাহরী শরীফ উনার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। 

কতিপয় জরুরী বিষয়-

নিসবাতুল আযীম শরীফ উপলক্ষে অলীমার আয়োজন করা খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভূক্ত। ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ সম্পন্ন হওয়ার পরও অলীমার আয়োজন করা। 
বনু মুস্তালিক জিহাদের সার্বিক কার্যক্রম শেষ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ষষ্ঠ হিজরীর শুরুতে পবিত্র মদীনা শরীফে ফিরে আসেন। অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ন্যায় ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার জন্য বিশেষ হুজরা শরীফ নির্ধারণ করা হয়।

পবিত্র হজ্ব মুবারক আদায়-

কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী, বিদায় হজ্বের সময় এগারো জন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা দুনিয়ার জমীনে অবস্থান মুবারক করছিলেন এবং উনারা প্রত্যেকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হজ্ব মুবারক সম্পন্ন করেন।

 খুলাফায়ে রাশিদীন উনাদের আমলে:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণের পর হতে ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রচার-প্রসারে নিবেদিত থাকেন।  অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ সম্পর্কে তা’লীম-তালকীনে তিনি ছিলেন সদা ব্যস্ত। তাছাড়া জটিল অনেক বিষয়ের ফায়ছালা তিনি দিতেন।

 কতিপয় বিশেষ শান মুবারক-

ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার পুরো জিন্দেগী মুবারকই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত। তথাপি মুহাদ্দিসগণ উনার থেকে মাত্র ৭ খানা পবিত্র হাদীছ শরীফ সঙ্কলনের অবকাশ পেয়েছেন। 
ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি বেমেছাল তাক্বওয়া প্রকাশ করেছেন। তিনি অধিকাংশ সময় রোজা রাখতেন। সারাদিন তাসবীহ-তাহলীলে ব্যস্ত থাকতেন। প্রায়ই উম্মাহর জন্য সুদীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত করুণভাবে দুআ-মুনাজাত মুবারক করতেন।

 পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ-

সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামি‘উল আলক্বাব, আহলে বাইতে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম বলেন, ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম তিনি ৫০ হিজরী সনের মহাসম্মানিত ১৭ রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা প্রায় ৬৫ বছর বয়স মুবারকে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিলাফতকালে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার জানাযা নামায পবিত্র মদীনা শরীফ উনার গভর্ণর মারওয়ান পড়ায়। উনার রওযা শরীফ সম্মানিত জান্নাতুল বাক্বী উনার মধ্যে স্থাপন করা হয়।

ক্বায়িম-মাক্বাম ও নকশা-

ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম হলেন সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। যা বিভিন্নজন স্বপ্ন, কাশফ এবং রিয়াজত-মাশাক্কাতের মাধ্যমে সরাসরি দেখতে সক্ষম হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, ত্বহিরা, ত্বইয়িবাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছামিনাহ আলাইহাস সালাম উনার আলোচনা মুবারক শুরু হবে কিন্তু শেষ করার সীমানা কারোরই জানা নেই। তথাপি উনার শান মুবারকে হুসনে যন বিশুদ্ধ করতে, উনার সম্পর্কে জানতে, উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক হতে ইবরত-নসীহত হাসিল করতে, সর্বপোরি উনার মুবারক ফায়িয-তাওয়াজ্জুহ এবং নেক দৃষ্টি ও নিসবত মুবারক হাসিলে বর্তমান সময়ে মহিলাদের জন্য উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার কোনো বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলিম উম্মাকে এ ব্যাপারে তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।
এক নজরে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক
এক নজরে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! 

নিম্নে এক নজরে উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো-
সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক: সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছফিয়্যাহ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র লক্বব মুবারক: উম্মুল মু’মিনীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আত্ব ত্বাহিরাহ, আত্ব ত্বইয়্যিবাহ্, মালিকাতুল জান্নাহ, মালিকাতুল কায়িনাত এছাড়াও আরো অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ! 

যেই সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ সম্মানিত পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
পিতা: হুইয়াই ইবনে আখ্ত্বব। 
মাতা: র্বারাহ বিনতে সামাওয়াল।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: আনুষ্ঠানিকভাবে  সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক প্রকাশের ৩য় বৎসর ২৫শে রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল আহাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! 
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত স্থান মুবারক: সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত অবস্থান মুবারক: সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র বংশ মুবারক: বনূ নাযীর
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ: সম্মানিত খায়বর বিজয়ের পর ৭ম হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত মুহররমুল হারাম শরীফ মাসে। সুবহানাল্লাহ! 
আযীমুশ শান সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ: সম্মানিত খায়বর বিজয়ের পর ৭ম হিজরী শরীফ উনার ২৫শে মুহররমুল হারাম শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত যাওজুম মুর্কারম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
আযীমুশ শান সম্মানিত ও পবিত্র নিসবতে আ’যীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার সম্মানিত বয়স মুবারক: ১৬ বছর ৪মাস। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া: ৪ বছর ১ মাস ১৭ দিন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক: ৪৯ বছর ৬ মাস ১১ দিন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: ৫০ হিজরী সনের ২৩শে রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত স্থান মুবারক: সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম এবং আলাইহিন্নাস সালাম: নেই।
দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক: ৫৯ বছর ১১ মাস ২৮ দিন অর্থাৎ প্রায় ৬০ বছর। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ : সম্মানিত জান্নাতুল বাক্বী’ শরীফ। সুবহানাল্লাহ!