আরবী বাইয়াত মুবারক ( নতুন )


 নকসায়ে নবী, নকসায়ে রসূল, আওলাদে রসূল, আহলুবাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আযম,জামানার লক্ষ্যস্হল ওলী আল্লাহ,কুরআন হাদীছে বর্নিত কুরাইশ বংশীয় ১২ জন খলিফার বর্তমান ১০ম মুসলিম খলিফা, খলিফাতুল্লাহ, খলিফাতুরসূলুল্লাহ,খলিফাতুল মুসলিমিন,আবুল খুলাফা "হযরত আস ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম " উনার বাইয়াতে আকাবার শরীফ উনার অনুকরনে আরবী ভাষায় বাইয়াত মুবারক:-

بِسْمِ اللهِ الرَّحْـمٰنِ الرَّحِـيْمْ

 

اَللّٰهُمَّ اِنِّـىْ اَتُوْبُ اِلَيْهِ مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ اَلْـكَبَائِرْ وَالصَّغَائِرْ وَالْـكُفْرْ وَالشِّرْكْ وَالْبِدْعَةْ وَالظَّاهِرِىْ وَالْـبَاطِنِـىْ وَالْاِخْتِيَارِىْ وَبِغَيْـرِ الْاِخْتِيَارِىْ اَسْتَغْفِرُ اللهَ رَبِّ مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَّاَتُوْبُ اِلَيْهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ الْـعَلِىِّ الْـعَظِيْـمْ لَآ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُـحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهْ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) اَشْهَدُ اَنْ لَّآ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُـحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُوْلُهْ (صَلَّى الله

 عَلَيْهِ وَسَ

اَللّٰهُمَّ اِنِّـىْ اُبَايِـــعُ عَلـٰى يَدِ الشَّيْخْ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَمَا بَايعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَصْحَابَهُ عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فِـىْ النَّشَاطِ والْكَسَلِ والنَّفَقَةِ فِـىْ الْعُسْرِ وَالْيُسْرِ وَعَلَى الاَمْرِ بِالْـمَعْرُوْفِ والْنَهْىِ عَنِ الْـمُنْكَرِ وَعَلَى أَنْ نَقُوْلَ فِـىْ اللهِ لَا تَـاْخُذُنَا فِيْهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ.
اَلَّذِىْ هُوَ مُسْتَفِيْضٌ فِـىْ كُلِّ طَرِيْقَاتٍ اَلْقَادِرِيَّةْ وَالْچِشْتِـيَّةْ وَالنَّقْشَبَـنْدِيَّةْ وَالْـمُـجَدِّدِ الْعَالِيَةْ وَالْـمُحَـمَّدِيَّةْ.
বাংলা উচ্চারণ: “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহুম্মা ইন্নী আতূবু ইলাইহি মিন কুল্লি যাম্বিন, আল কাবাইর, ওয়াছ ছগাইর, ওয়াল কুফ্র, ওয়াশ্ র্শিক, ওয়াল বিদ্য়াত্, ওয়ায্ যাহিরী, ওয়াল বাত্বিনী, ওয়াল ইখতিয়ারী, বিগইরিল ইখতিয়ারী- আস্তাগফিরুল্লাহা রব্বী মিন কুল্লি যাম্বিও ওয়া আতূবু ইলাইহি ওয়ালা হাওলা ওয়ালা ক্বুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহম্মাদান আবদুহূ ওয়া রসূলুহ্ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
আল্লাহুম্মা ইন্নী উবায়িউ আলা ইয়াদি হযরত শায়েখ আলাইহিস সালাম, কামা বাইয়া রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছহাবাহূ, আলাস সামঈ ওয়াত ত্বয়াতি ফিন নাশাতি ওয়াল কাসালি, ওয়ান নাফাক্বতি ফিল উসরি ওয়াল ইউসরি, ওয়ালাল আমরি বিল মা’রূফী ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি, ওয়ালা আন নাক্বূলা ফিল্লাহি লা তা’খুযূনা ফীহি লাওমাতা লায়িমিন।
আল্লাযী হুওয়া মুস্তাফীদ্বুন ফী কুল্লি ত্বরীক্বাতি আল ক্বাদিরিয়্যাহ ওয়াল চিশতিয়্যাহ ওয়ান নাক্বশাবান্দিয়্যাহ ওয়াল মুজাদ্দিদিল আলিয়াহ্ ওয়াল মুহম্মদিয়্যাহ্।”
আল্লাহুম্মা আমীন ( মকবুল মুনাজাত শরীফ)
 পুরুষদের জন্য মহিলাদের বেশ ধারণ করা এবং মহিলাদের জন্য পুরুষদের বেশ ধারন করা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয

 

পুরুষদের জন্য মহিলাদের বেশ ধারণ করা এবং মহিলাদের জন্য
পুরুষদের বেশ ধারন করা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয

পবিত্র দ্বীন ইসলাম এমন একটি দ্বীন যার মাঝে রয়েছে ইহকাল পরকালের সকল বিষয়ের সঠিক সমাধান। মুসলমানরা কি খাবেন, কি খাবেন না, কি পরবেন, কি পরবেন না সবই বিশদভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মাঝে বর্ণনা করা হয়েছে।
সকলেরই জানা আছে প্যান্ট -শার্ট হচ্ছে কাফির পুরুষদের পোশাক। এগুলো কোন মুসলমান পুরুষ বা মহিলার পোশাক না।

মুসলমান পুরুষরা পরবেন সুন্নতী কোর্তা,ইযার বা লুঙ্গী, সেলোয়ার, মাথায় সুন্নতী টুপি, পাগড়ী, রুমাল ইত্যাদি।

আর মুসলমান মহিলারা পরবেন ক্বমীছ, সেলোয়ার বা পাজামা, মাথায় বড় ওড়না। আর ঘর থেকে বের হলে পরবেন সুন্নতী বোরকা।

আর পুরুষদের জন্য মহিলাদের বেশ ধারণ করা এবং মহিলাদের জন্য পুরুষদের বেশ ধারণ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয।

যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا قَالَ لَعَنَ رسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْـمُتَشَبِّهِيْنَ مِنْ الرِّجالِ بِالنِّسَاءِ وَالْـمُتَشَبِّهَاتِ مِنْ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই সব মহিলাদের উপর অভিশাপ করেছেন যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং সে সকল পুরুষদের উপর অভিশাপ করেছেন যারা মহিলাদের বেশ ধারণ করে। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ‏.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই সব পুরুষের উপর অভিশাপ করেছেন, যে মহিলার পোশাক পরিধান করে এবং সে মহিলার উপর অভিশাপ করেছেন যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে। নাউযুবিল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا قَالَ لَعَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُخَنَّثِيْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلَاتِ مِنَ النِّسَاءِ .
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজড়ার বেশ ধারণকারী পুরুষের উপর অভিশাপ করেছেন এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীর উপর অভিশাপ করেছেন। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَسَارٍ وَعَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاَثَةٌ لَايَدْخُلُوْنَ الْـجَنَّةَ اَلْعَاقُّ لِوَالِدَيْهِ وَالدَّيُّوْثُ وَرَجُلَةُ النِّسَاءِ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াসার এবং হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে যাবে না- (১) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান (২) বাড়ীতে বেহায়াপনার সুযোগ প্রদানকারী দাইয়্যুস (৩) পুরুষের বেশ ধারণকারী মহিলা । (নাসাঈ শরীফ)

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قِيْلَ لِعَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ إِنَّ امْرَأَةً تَلْبَسُ النَّعْلَ فَقَالَتْ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلرَّجُلَةَ مِنَ النِّسَاءِ
অর্থঃ হযরত আবূ মুলায়কা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, বলেন, একদা হযরত উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনাকে বলা হল- একটি মেয়ে পুরুষের জুতা পড়ে। তখন হযরত উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুরুষের বেশধারী নারীর প্রতি অভিশাপ করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

উপরোক্ত অকাট্য দলীল দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো- পুরুষদের জন্য মহিলাদের বেশ ধারণ করা এবং মহিলাদের জন্য পুরুষদের বেশ ধারণ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয।

মহান আল্লাহ্ পাক তিনি আমাদের সবাইকে এ জঘন্য কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং সবাইকে সঠিক ইসলামী জ্ঞান দান করুন আমীন!

 সর্বপ্রথম নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি তা সহীহ মুত্তাসিল সনদে প্রমাণিত

 সর্বপ্রথম নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি তা সহীহ মুত্তাসিল সনদে প্রমাণিত

শুধুমাত্র হাদীছে জাবির দ্বারাই সর্বপ্রথম

নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রমাণিত নয় বরং অন্য বর্ণনায় সহীহ মুত্তাসিল সনদে সর্বপ্রথম নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি প্রমাণিত। এক শ্রেনীর লোক সমাজে প্রচার করে ও বিভিন্ন বই পুস্তক লিখে প্রচার করে সর্বপ্রথম নুরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি সংক্রান্ত হাদীছ শরীফের কোন সনদ নাই। আপনাদের আজ এমন একটা হাদীছ শরীফ দেখাবো যে হাদীছ শরীফখানা আজ থেকে প্রায় ১১০০ বছর আগে লিখিত কিতাব থেকে সংগৃহীত।
এ কিতাবের পান্ডুলিপীর অনুলিপী ও কিতাব উভয়ই আমাদের কাছে মওজুদ আছে সেখানে নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবকিছুর কিছু পূর্বে সৃষ্টি এ বিষয়ে হাদীছ শরীফ পূর্ণ সনদ সহ বর্ণনা করা হয়েছে। নিম্নে সনদ সহ হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করা হলো,
حدثنا الحاكم احمد بن محمد بن عبد الرحمن المروزي، قال حدثنا ابو بكر محمد ابن ابراهيم الجر جاني ، قال حدثنا ابو بكر عبد الصمد بن يحيي الواسطي، قال حدثنا الجسن بن علي المدني، عن عبد الله بن المبارك، عن سفيات الثوري، عن جعفر بن محمد الصادق، عن ابيه، عن جد، عن ابيه، عن علي بن ابي طلب عليه السلم انه قال: ان الله تبرك وتعالي خلق نور محمد صلي الله عليه وسلم قبل ان يخلق السماوات و الارض و العرش و الكرسي و اللوح و القلم و الجنة و النار و قبل ان يخلق ادم نوحا و ابراهيم و اسماعيل و اسحاق و يعقوب وموسي و عيسي و داود و سليمان و كل
অর্থ: হযরত হাকাম আহমদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান মাওয়ারীজি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আবু বকর মুহম্মদ ইবনে ইব্রাহীম জুরজানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিন বর্নণা করেন হযরত আবু বকর আব্দুস সামাদ বিন ইয়াহিয়া ওয়াসীতি তিনি বর্ণনা করেন জিসান বিন আলী মাদীনি রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি বর্ণনা করেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি বর্ণনা করেন হযরত সুফিয়ান সাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি বর্ণণা করেন, হযরত জাফর সাদিক আলাইহিস সালাম থেকে, তিনি উনার সম্মানিত পিতা (সাইয়্যিদুনা হযরত বাকির আলাইহিস সালাম উনার) থেকে, তিনি উনার দাদা (সাইয়্যিদুনা হযরত যাইনুল আবেদীন আলাইহিস সালাম উনার) থেকে, তিনি উনার পিতা (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার) থেকে, তিনি খলীফাতুল মুসলিমিন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন আসমান, যমীন, আরশ, কুরসী, লওহ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম সৃষ্টির পূর্বে।” (মা'য়ানিল আখবার ৩০৬-৩০৭ পৃষ্ঠা, লেখক: আবূ জা’ফর মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে মূসা ইবনে বাবাওয়াইহ্ আল-কুম্মী, ওফাত: ৩৮১ হিজরী, প্রকাশনা: দারুল মা'রিফা, বাইরুত, লেবানন)
সূতরাং প্রমাণ হলো হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্ব প্রথম নূর হিসাবে সৃষ্টি হয়েছেন এবং উনার নূরে সমগ্র কায়িনাত সৃষ্টি এটা সনদসহ সহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত। অথচ বাতিল ফির্কার লোকেরা হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার বর্ণনা যা মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাকে রয়েছে তা অস্বীকার করার জন্য মিথ্যার জাল বুনে যাচ্ছে। হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার হাদীছ শরীফ ছাড়া যে আরো হাদীছ শরীফ আছে সে বিষয়ে তাদের কোন খবরই নেই।
এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করা জরুরী। এ হাদীছখানা দেখে বাতিল ফির্কা লাফ দিয়ে বলে উঠবে কিতাবের লেখক আবূ জা’ফর মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে মূসা ইবনে বাবাওয়াইহ্ আল-কুম্মী শিয়া ছিলেন। আর শিয়াদের বর্ণনা গ্রহনযোগ্য নয়। ইত্যাদি.... ইত্যাদি। জেনে রাখা প্রয়োজন বর্ননাকারী শিয়া হলেই হাদীছ জাল হয় না। কেননা সিয়াহ সিত্তাহ সহ দুনিয়ার সব হাদীছ শরীফের কিতাবেই শিয়া, খারেজী, মুতাজিলা, কদরিয়া, জাবারিয়া, মুরজিয়া সহ অনেক বাতিল ফির্কার বর্ণনাকারীই রয়েছে। তারপরও মুহাদ্দিছীনে কিরামগন উনাদের বর্ণনা কিতাবে এনেছেন উনাদের ইলমে হাদীছের অবদান দেখে, উনাদের বিশ্বস্ততা ও আমানতদারীতা দেখে। হাদীছ শরীফ জালিয়াতের অভিযোগ, হাদীছ শরীফ নিয়ে কোন খিয়ানতের অভিযোগ না থাকলে উনারা শিয়া বা যেকোন ফির্কার হলেও হাদীছ গ্রহন করতেন।
যেমন, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমরান ইবনে হিত্তান সূত্রে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। অথচ ইমরান ইবনে হিত্তান ছিলো খারিজী সম্প্রদায়ের লোক। শুধু তাই না, এ ব্যক্তি আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার শহীদকারী আব্দুর রহমান ইবনে মুলজিমের প্রশংসা করে বেড়াতো। নাঊযুবিল্লাহ (ইখতিসারু উলূমিল হাদীছ ৯৯ পৃষ্ঠা)
এছাড়াও ছহীহ বুখারী শরীফ ও ছহীহ মুসলিম শরীফ-এ ২০ জন মরজিয়া, ২৩ জন ক্বদরিয়া, ২৮ জন শিয়া, ৪ জন রাফিজী, ৯ জন খারেজী, ৭ জন নাসিবী ও ১ জন জহমিয়া কর্তৃক পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। (সায়িকাতুল মুসলিমীন, মিযানুল ইতিদাল, তাহযীবুত তাহযীব, জারাহ ওয়াত তা’দীল, তাহযীবুল কামাল)
সূতরাং প্রমাণ হলো এই ফির্কার লোকদের থেকেও বর্ণিত হাদীছ ইমামগন গ্রহন করতেন। একজন ছিক্বাহ রাবী হযরত ইমাম হিশাম দাস্তাওয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে বলা হয়েছে-
قال مـحمد بن سعد: كان ثقة حجة، اِلا انه يرى القدر
অর্থ : “পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি বিশ্বস্ত ও দলীল স্বরূপ হলেও তিনি ক্বাদরিয়া ফিরক্বার ছিলেন।” (তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/১২৪, তারিখুল ইসলাম লি ইমাম যাহাবী ৯/৬৫৬)
দেখা গেলো বাতিল ক্বাদরিয়া ফিরক্বার মানুষ হলেও হাদীছ বর্ণনায় যেহেতু তিনি বিশ্বস্ত তাই তার দলীলগ্রহনযোগ্য।
অপরদিকে হযরত আবূ দাউদ তায়লাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত হিশাম দাস্তাওয়ায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে বলেন-
هشام الدستوائي امير الـمؤمنين في الـحديث
অর্থ : “হযরত হিশাম দাস্তাওয়ায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র হাদীছ শাস্ত্রে আমীরুল মু’মিনীন ছিলেন।” (তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/১২৪)
ইয়াহিয়া ইবনে মঈন ও নাসায়ী উনারা উনাকে বিশ্বস্ত মনে করতেন।
হাফিয হযরত আবূ নুয়াইম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি আটশ মুহাদ্দিছ থেকে হাদীছ শরীফ অর্জন করেছি। কিন্তু হযরত হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইবনে ছালেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের চাইতে ভালো ও শ্রেষ্ঠ কাউকে পাইনি। অথচ যাহাবী রহমতুল্লাহি তিনি বলেন, তিনি আক্বীদার ক্ষেত্রে খারিজী ছিলেন (তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/১৯৫)
খারেজী হওয়ার পরও শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ হয়েছেন উনারা। কারন হাদীছ শাস্ত্রে বিশ্বস্ততা।
ইমাম আবূ সাহল ওয়াসিত্বী শিয়া ছিলো। এ অপরাধে খলীফা হযরত হারুনুর রশীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তাকে গ্রেফতারও করেন। উনার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ বর্ণনায় তিনি দলীল হওয়ার ক্ষেত্রে সবাই একমত। (তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/২৩৮)
খবীস প্রকৃতির রাফিজী হওয়ার পর হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্তও ছিলেন অনেকে। যেমন, হযরত আবী আব্দুল্লাহ নিশাবুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি একজন ইমাম সম্পর্কে বলেন-
ثقة غي الـحديث رافضي خبيث
অর্থ : “পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত কিন্তু খবীস রাফিজী।” (মা’রিফাতু উলুমিল হাদীছ ১/১০, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৩/১৬৫, সিয়ারু আলাম আন নুবালা ১৭/১৭৪)
আমরা সবাই জানি রাফিজী, শিয়া, খারিজী, ক্বদরিয়া, জহমিয়া, মুশাব্বিয়া এসব বাতিল ফিরক্বার লোকেরা বদ আক্বীদার এবং বিদয়াতি। তাহলে এসব বর্ণনাকারী কেন ছহীহ হাদীছ শরীফ এর কিতাবে? তদ্রুপ আবূ জা’ফর মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে মূসা ইবনে বাবাওয়াইহ্ আল-কুম্মী তিনি শিয়া হলেও উনার বিশ্বস্ততা, ইল্ম, ইলমে হাদীছের অবদান, গ্রহনযোগ্যতার মানদন্ডে উনার বর্ণনাও গ্রহনযোগ্য।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে আবূ জা’ফর মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে মূসা ইবনে বাবাওয়াইহ্ আল-কুম্মী তিনি যে বিশ্বস্ত ও গ্রহনযোগ্য ছিলেন তার প্রমাণ কি?
প্রমাণ আসমাউর রেজাল বিশারদদের দৃষ্টিতে আমার দেখবো ইনশাআল্লাহ। বিখ্যাত হাদীছ বিশারদ, আসমাউর রেজাল বিশারদ ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
رَأْسُ الإِمَامِيَّةِ، أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ ابْنُ العَلاَّمَةِ عَلِيِّ بنِ الحُسَيْنِ بنِ مُوْسَى بن بَابَوَيْه القُمِّيُّ، صَاحِبُ التَّصَانِيْفِ السَّائِرَةِ بَيْنَ الرَّافِضَةِ.
يُضْرَبُ بِحفظِهِ المَثَلُ.
يُقَال:لَهُ ثَلاَثُ مائَةِ مُصَنَّفٍ، مِنْهَا:كِتَابُ (دعَائِمِ الإِسلاَمِ)، كِتَابُ (الخواتيمِ)، كِتَابُ (الملاَهِي)، كِتَابُ (غريبِ حَدِيْثِ الأَئِمَّةِ)، كِتَابُ (التَّوحيدِ)، كِتَابُ (دينِ الإِمَامِيَّةِ)، وَلاَ...(1)
وَكَانَ أَبُوْهُ مِنْ كِبَارِهِمْ وَمُصَنِّفيهِمْ.
حَدَّثَ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ جَمَاعَةٌ مِنْهُم:ابْنُ النُّعْمَانِ المُفِيْدُ، وَالحُسَيْنُ بنُ عَبْدِ اللهِ بنِ الفَحَّامِ، وَجَعْفَرُ بنُ حسنكِيْه القُمِّيُّ.
অর্থ: শীরে ইমামিয়্যীন, আবূ জা’ফর মুহম্মদ ইবনে আল্লামা আলী ইবনে হুসাইন ইবনে মূসা ইবনে বাবাওয়াইহ্ আল-কুম্মী যিনি রাফেযীদের মধ্যে অগ্রগামী রচনাবলীর রচয়িতা। তার (প্রখর) স্বৃতিশক্তির দৃষ্টান্ত (বিভিন্ন স্থানে) প্রদান করা হয়। বলা হয় যে, তার (প্রায়) তিনশত রচনাবলী রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে দা‘আয়িমুল ইসলাম, খাওয়াতীম, আল-মালাহী, গরীবু হাদীছিল আইম্মাহ, তাওহীদ, দ্বীনুল ইমামিয়্যাহ (প্রভৃতি অন্যতম)। উনার পিতাও ছিলেন বড় মুছান্নিফদের (রচয়িতা) অন্তর্ভুক্ত। তিনি (ইবনে বাবাওয়াইহ্ আল-কুম্মী) হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন আবূ জা’ফর থেকে। এছাড়াও তাদের গোত্রভূক্ত ইবনে নু’মান আল মুফীদ, হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ফাহহাম, জা’ফর ইবনে হুসনাকীহ আল কুম্মী থেকেও তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। (সিয়ারু আ’লাম আন নুবালা, ১৬/৩০৩-৩০৪৩৫৪; প্রকাশনা: মুয়াসাসাতু রিসালা, বাইরুত, লেবানন)
হযরত ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কোন প্রকার সমালোচনা করেন নাই বরং উনাকে প্রখর স্মরন শক্তি অধিকারী ও অনেক কিতাবে লেখক আখ্যা দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয় হাফিজুল হাদীছ, রেজাল বিশারদ হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে বলেন,
( ز ) الحسين بن الحسن بن الحسين بن علي بن الحسين بن موسى بن بأبويه القمي ذكره بن بأبويه في الذيل وقال كان من بيت فضل وعلم وهو وجه الشيعة في وقته
অর্থ: হুসাইন ইবনে হুসাইন ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে মূসা ইবনে বাবাওয়াইহ আল-কুম্মী। উনাকে ইবনে বাবাওয়াইহ হিসেবেও টিকায় বর্ণনা করা হয়। গ্রন্থকার বলেন, তিনি (ইবনে বাবাওয়াইহ আল কুম্মী) শিয়াদের দৃষ্টিতে উনার যামানায় সম্মান ও ইলমের অধিকারী ছিলেন। (লিসানুল মীযান লি ইবনে হাজার, ৩/১৫৭ : রাবী ২৪৯৬ ; প্রকাশনা : মাকতাবাতুল মাতবুয়াতুল ইসলামীয়া, বাইরুত- লেবানন)
উক্ত লিসানুল মিযানের অন্য স্থানে আবারো উনার আলোচনা করা হয়েছে,
( ز ) الحسين بن علي بن الحسين بن موسى بن بأبويه القمي ذكره بن النجاشي فقال كان من فقهاء الامامية روى عنه الحسين الغضايري وصنف كتاب نفي التشبيه وقدمه للصاحب بن عباد وكان الصاحب يعظمه ويرفع مجلسه إذا حضر عنده
অর্থ: হুসাইন ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে মূসা ইবনে বাবাওয়াইহ আল-কুম্মী। উনার ব্যাপারে ইবনে নাজ্জাশী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি (ইবনে বাবাওয়াইহ আল-কুম্মী) ছিলেন ইমামী ফক্বীহগণের অন্তর্ভুক্ত। উনার থেকে হুসাইন আল-গ্বদ্বায়িরী হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। তিনি তাশবীহ অপনোদন বিষয়ক কিতাব রচনা করেছেন। ছহিব ইবনে ইবাদ উনাকে অগ্রগামী করেছেন এবং তিনি উনাকে (ইবনে বাবাওয়াইহকে) তা’যীম করতেন। আর ইবনে বাবাওয়াইহ তার মজলিসে উপস্থিত হলে তিনি (ছহিব ইবনে ইবাদ) উনার সম্মানে দাঁড়িয়ে যেতেন। (লিসানুল মীযান লি ইবনে হাজার, ৩/১৯৯: রাবী ২৫৮৮)
হাফিজুল হাদীছ, রেজাল বিশারদ হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাব থেকে প্রমাণ হলো সম্মানিত ব্যক্তি ও ফক্বীহদের অর্ন্তভূক্ত ছিলেন। হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও কোন সমালোচনা করেন নাই। এটাও বলেন নাই উনার হাদীছ গ্রহন করা যাবে না। বরং প্রশাংসাই করেছেন।
উনার সম্পর্কে কিতাবে আরো বর্ণিত আছে,
أبو جعفر محمد بن علي بن الحسين بن موسى بن بابويه القمي (306ـ-381هـ)، يعرف بالشيخ الصدوق، متكلم، محدِّث، حافظ، مفسر، من كبار فقهاء الشيعة الإمامية. نزل بالري، وارتفع شأنه في خراسان، وحدَّث ببغداد. له كتاب 'التوحيد'، وكتاب 'دين الإمامية'، و'التفسير'(2)
অর্থ: আবূ জা’ফর মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে মূসা ইবনে বাবাওয়াইহ্ আল-কুম্মী (৩০৬-৩৮১ হিজরী)। তিনি সত্যবাদী শায়খ, বক্তা, মুহাদ্দিছ, হাফিয, মুফাসসির, ইমামী শিয়াগণের ফক্বিহদের অন্যতম বড় ফক্বিহ হিসেবে পরিচিত। তিনি রয় নামক স্থানে আবির্ভূত হয়েছেন এবং উনার শান খোরাসানেও বুলন্দ ছিল, আর তিনি বাগদাদে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। আত-তাওহীদ, দ্বীনুল ইমামিয়্যাহ, আত-তাফসীর নামে তার কিতাব রয়েছে। (আল-ই’তিক্বাদ লি ছ‘য়িদ আন-নীসাপুরী, ১/২৭)
হযরত যারকালী রহমতুল্লাহি উনার কিতাবে বাবাওয়াইহ্ আল-কুম্মী সম্পর্কে বলেন,
مد بن علي بن الحسين بن موسى بابويه القمي، ويعرف بالشيخ الصدوق: محدث إمامي كبير، لم ير في القميين مثله. نزل بالري وارتفع شأنه في خراسان، وتوفي ودفن في الري. له نحو ثلاثمئة مصنف، منها (الاعتقادات - ط) و (معاني الاخبار - خ) و (الامالي - خ) ويعرف بالمجالس، ولعله (مجالس المواعظ في الحديث - خ) و (عيون أخبار الرضى - ط) و (الشعر) و (السلطان) و (التاريخ) و (المصابيح) في الحديث ورواته، و (إكمال الدين وإتمام النعمة - ط) جزء منه، و (الخصال - ط) في الاخلاق، و (علل الشرائع والاحكام - خ) و (التوحيد) و (المقنع - ط) فقه، و (الهداية - ط) و (من لا يحضره الفقيه - ط)
অর্থ:মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে মূসা ইবনে বাবাওয়াইহ আল-কুম্মী (৩০৬-৩৮১ হিজরী, ৯১৮-৯৯১ ঈসায়ী)। তিনি সত্যবাদী শায়খ, ইমামীদের বড় মুহাদ্দীছ হিসেবে পরিচিত। কুম্মিয়ীনদের মধ্যে উনার মতো কাউকে দেখা যায়নি। তিনি রায় নামক স্থানে বসবাস করেন আর তার শান-শওকাত খোরাসানেও বুলন্দ হয়েছিলো। তিনি রায় নামক স্থানে ইন্তিকাল করেন এবং সেখানেই উনাকে দাফন করা হয়। উনার প্রায় তিনশত রচনাবলী ছিলো। তার মধ্যে আল-ই’তিক্বাদাত, মা‘য়ানিল আখবার, আল-আমালী (যেটি মাজালিস নামে পরিচিত ছিলো, সম্ভবত: ঐটির নাম মাজালিসুল মাওয়া‘য়িয), উয়ূনু আখবারির রিদ্বা, আশ-শি’র, আস-সুলত্বন, আত-তারীখ, আল-মাছাবীহ (হাদীছ ও তার রিওয়ায়াত বিষয়ক), ইকমালুদ দ্বীন ওয়া ইতমামুন নি’মাহ, আল-খিছল (আখলাক্ব সংশ্লিষ্ট), আলালুশ শারায়ি’ ওয়াল আহকাম, আত-তাওহীদ, আল মুনক্বাহ (ফিক্বহ বিষয়ক), আল-হিদায়াহ, এবং মান লা ইয়াহদ্বুরুহুল ফাক্বীহ অন্যতম। (আল-আ’লাম লিয যুরকালী, ৬/২৭৪)
আসমাউর রেজাল থেকে প্রমাণ হলো তিনি অত্যান্ত বিজ্ঞ আলেম, সত্যবাদী শায়খ, হাফিজে হাদীছ, মর্যাদাবান, শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিছ, ফক্বীক ও অসংখ্য কিতাবেও মুছান্নিফ ছিলেন।
এখন শুধুমাত্র শিয়া হওয়ার কারনে যদি ইবনে বাবাওয়াইহ আল-কুম্মী উনার বর্ণনাকৃত নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীছ অস্বীকার করা হয় তাহলে সিয়া সিত্তার ঐসকল হাদীছের কি হবে যেখানে শিয়া, রাফেজী, খারেজী, মুতাজিলা, মুরজিয়াদের থেকে হাদীছ নেয়া হয়েছে? তাহলে বর্তমানে ওহাবী সম্প্রদায় কি বুখারী শরীফ এর হাদীছ শরীফ বাদ দিয়ে দিবে? তারাইতো জোর গলায় প্রচার করে থাকে-
اصح الكتات بعد كتاب الله الصحيح البخارى.
অর্থ : “পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পর সর্বাধিক ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য কিতাব হলো ছহীহ বুখারী।” (আল হিত্তাহ ফি যিকরিছ ছিহাহিস সিত্তাহ ১/২১৯)
এরপর যে বিষয়টা উল্লেখযোগ্য সেটা হচ্ছে এ হাদীছ শরীফখানা শুধু বাবাওয়াইহ আল-কুম্মী একাই বর্ণনা করেন নাই। বরং পরবর্তীতে অনেক বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ও আলেম এই হাদীছ শরীফখানা গ্রহন করে উনাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন।
হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৫০৫ হিজরী) উনার নাম শোনেন নাই এমন কেউ কি পৃথিবীতে আছে কি?
ইলমের এমন কোন শাখা নাই যেখানে উনার ব্যাপক বিচরন নেই। প্রতিটি স্থানেই উনার ইলমের বহিঃ প্রকাশ। আর হাফেজ আবুল হাসান আবদুল গাফফার আল ফারেসী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ইমাম গাযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য হুজ্জত ও আইয়িম্মায়ে দ্বীনের ইমাম। (তারীখে ইবনে আসাকির ৫৫/২০০)
এই মহান ইমামের অসংখ্য রচনাসমূহের মধ্যে উনার অন্যতম একটি কিতাবের নাম হচ্ছে "সুলওয়াতুল আরেফীন"। কিতাবখানা বিখ্যাত প্রকাশনা দারু কুতুব আল ইলমিয়া থেকে দুই খন্ডে প্রকাশিত। এ কিতাবের ১ম খন্ড ৬৪ পৃষ্ঠায় তিনি একটা বাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন باب في ذكر خلق نور النبي صلي الله عليه و سلم (বাবু ফি যিকরি খুলিকা নুরুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামে। উক্ত অধ্যায়ে সর্বপ্রথম যে নুরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি সে বিষয়ে একটা হাদীছ উল্লেখ করেছেন,
خلق الله تعالي نور محمد صلي الله عليه و سلم قبل ان يخلق الاشيا
অর্থ: "সর্ব প্রথম সকল কিছু সৃষ্টির পূর্বে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন।"
এরপর তিনি আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত ঐ হাদীছ শরীফ এনেছেন,
عن علي بن ابي طالب عليه السلم قال خلق الله نور محمد صلي الله عليه مسلم قبل ان يخلق السماوت والارض و العرش و الكرسي والجنة و النار
অর্থ: খলীফাতুল মুসলিমিন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি করেছেন আসমান, যমীন, আরশ, কুরসী, জান্নাত, জাহান্নাম সৃষ্টির পূর্বে।” সুবহানাল্লাহ! (সুলওয়াতুল আরেফীন ১ম খন্ড ৬৪ পৃষ্ঠা, লেখক : হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৫০৫ হিজরী), প্রকাশনা: দারু কুতুব আল ইলমিয়া)
সুতরাং দেখা যাচ্ছে এই সনদের হাদীছ শরীফখানা ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও গ্রহন করেছেন। আর ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহির আরো ১০০ বছর আগে (অর্থাৎ এখন থেকে ১০৩৬ বছর আগে) একজন বিখ্যাত আলেম, মুহাদ্দিছ, ফক্বীহ, ইমামুল হাফিয মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম খারকুশী আন নাইসাবুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব “শরফুল মুস্তফা” কিতাবে সনদ সহকারে বর্ণনা করেন,
رووي عبد الله بن مبارك عن سفيان الثوري عن جعفر بن مـحمد الصادق عن أبيه عن جدّه عن علي بن أبي طالب أن الله تبارك وتعالى خلق نور مـحمد صلى الله عليه واٰله قبل أن يـخلق السماوات والأرض والعرش والكرسي واللوح والقلم الـجنة والنار
অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত সুফিয়ান সাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি হযরত ইমাম জাফর ছদিক্ব আলাইহিস সালাম থেকে, তিনি উনার সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার থেকে, তিনি উনার সম্মানিত দাদা আলাইহিস সালাম উনার থেকে, তিনি খলীফাতুল মুসলিমিন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি করেছেন আসমান, যমীন, আরশ, কুরসী, লওহ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম সৃষ্টির পূর্বে।” সুবহানাল্লাহ (শরফুল মুস্তফা ১ম খন্ড ৩০৫-৩১১ পৃষ্ঠা, হাদীছ শরীফ নং ৭৯; লেখক: ইমামুল হাফিয মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম খারকুশী আন নাইসাবুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত: ৪০৬ হিজরী; প্রকাশনী: দারু বাশায়িরুল ইসলামিয়া, আল মক্কাতুল মুকররমা)
এই হাদীছ শরীফও ইবনে বাবাওয়াইহ আল-কুম্মী রহমতুল্লাহি আলাইহি যে সনদে বর্ণনা করেছেন সেই সহীহ সনদে বর্ণিত। এই সনদে রয়েছেন স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আহলে বাইত শরীফ এর ৪ জন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব । আর সনদের শেষে রয়েছেন আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শাস্ত্রের আমীরুল মু’মিনীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত সুফিয়ান সাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা। আর ইমাম খারেকুশী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি পর্যন্ত সনদে যে বিচ্ছিন্নতা আছে তা ইবনে বাবাওয়াইহ আল-কুম্মী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “মা’য়ানিল আখবারে” দূর করে দিয়েছেন। সেখানে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করা হয়েছে। সনদ খানা হচ্ছে,
حدثنا الحاكم احمد بن محمد بن عبد الرحمن المروزي، قال حدثنا ابو بكر محمد ابن ابراهيم الجر جاني ، قال حدثنا ابو بكر عبد الصمد بن يحيي الواسطي، قال حدثنا الجسن بن علي المدني، عن عبد الله بن المبارك، عن سفيات الثوري، عن جعفر بن محمد الصادق، عن ابيه، عن جد، عن ابيه، عن علي بن ابي طلب
আমরা এখানে মুত্তাসিল সনদখানা দেখতে পেলাম। সূতরাং শরফুল মুস্তফা কিতাবের সনদ নিয়েও আপত্তি করার সুযোগও থাকলো না।
এই হাদীছ শরীফখানা দারু কুতুব আল ইলমিয়া থেকে প্রকাশিত “আস সাফিনাতুল কাদরিয়া” কিতাবের অর্ন্তভূক্ত একটি রেসালা যা সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইবনে আহমদ আল মোল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার "ছলাতুল কুবরা ফি শরহে ছলাতু সুগরা" কিতাবের ৮৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
وعن علي بن ابي طالب رضي الله عنه اته قال: ان الله تبارك وتعالي خلق نور محمد صلي الله عليه و سلم قبل ان يخلق السموات والارض والعرش والكرسي واللوح والقلم والجنة والنار
অর্থ: হযরত আলী কাররামাল্লাহু আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি করেছেন আসমান, যমীন, আরশ, কুরসী, লওহ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম সৃষ্টির পূর্বে।”
অর্থাৎ এই হাদীছ শরীফখানা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত। এবং পরবর্তীও অনেক বরেন্য আলেম উক্ত হাদীছ শরীফখানা নিজ নিজ কিতাবে দলীল হিসাবে উল্লেখ করেছেন। আর এ হাদীছ শরীফ দ্বারাই দিবালোকের ন্যায় প্রমাণিত হচ্ছে সর্বপ্রথম সৃষ্টি হচ্ছেন নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুতরাং আজ যারা বিরোধীতা করছে তারা যে স্পষ্ট বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে সেটা প্রমাণিত হলো আবারো।
নূরের হাদীছ শরীফ সমূহের সবচাইতে বিরোধিতা করে যে কিতাবখানা লেখা হয়েছে সেটার নাম হচ্ছে “মজ'মু ফি কাশফিল হাকীকী আয যুযউল মাফকুদ মিন মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক” (প্রকাশনা: দার আল মুহাদ্দিছ , রিয়াদ; প্রকাশ সন ১৪২৮ হিজরী) উক্ত কিতাবের ২৩৭ পৃষ্ঠাতেও হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার এ হাদীছ শরীফ খানা উল্লেখ করে এর টীকায় বলা হয়েছে,
أقول : من يقارن هذه الراوية الشيعية بالرواية المزعومة المنسبة إلى جابر – رضي الله عنه – يجد بينهما تشابهاً كبيراً، وكأن الروايتين قد خرجت من مصدر واحد، ومن نفسي واحد
আমি বলি: “যারা শিয়া সম্প্রদায়ের এ বর্ণনাকে হাদিছে জাবিরের দিকে মিলিত করে তাদের উৎস সম্প্রদায়ের মধ্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে। এবং উভয় বর্ণনায় একই মাছদার ও একই নফস থেকে বের হয়েছে”।
দেখেন বিরোধিতাকারীদের কিতাবে খুব বেশি হলে শিয়াদের বর্ণনা বলা হয়েছে। কিন্তু এখানেও হযরত ইবনে বাবাওয়াইহ আল-কুম্মী রহমতুল্লাহি আলাইহির বিরুদ্ধে কিছু বলা হয়নি। উনার হাদীছ গ্রহন করা যাবে না, উনি হাদীছ জাল করতেন এসব কোন অভিযোগ নেই। কারন উনার ইলিম, আমানতদারীতা, বিশ্বস্ততা, হাদীছ শরীফের পারদর্শিতা নিয়ে আপত্তি করার মত কোন সুযোগই নেই। তাই বিরোধিতাকারীরাও বিরোধিতা করতে গিয়ে শুধুমাত্র শিয়াদের বর্ণনা বলেই ক্ষান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রমাণ হলো হাদীছখানা বিশুদ্ধ এবং অকাট্যভাবে প্রমাণিত।
সূতরাং প্রমাণ হলো সর্বপ্রথম নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি তা সহীহ মুত্তাসিল সনদে প্রমাণিত এবং হযরত ইবনে বাবাওয়াইহ আল-কুম্মী রহমতুল্লাহি আলাইহির বর্ণনাও শতভাগ গ্রহনযোগ্য। আর এই দলীল দ্বারা হাদীছে জাবিরের দলীল স্পষ্টভাবে সমর্থিত। এমন দলীল পাওয়ার পরও যারা মানবে না তাদের জন্য আফসোস। কারন তারা নিজের অজান্তেই সেই দলে যাদের চাঁদ দ্বিখন্ডিত করে দেখিয়েও বিশ্বাস করানো যায়নি।
 মূর্তি-ভাস্কর্য পক্ষের কথিত সাংবাদিকের যুক্তি খণ্ডন

 মূর্তি-ভাস্কর্য পক্ষের কথিত সাংবাদিকের যুক্তি খণ্ডন

মুহম্মদ আসাদুল্লাহ ইবনে সাইফুল্লাহ, ছাত্র-মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা-১২০৭

মুজতবা হেকিম প্লেটো তার বৃহৎ অর্বাচীন লেখার শেষের দিকে নিজস্ব একটি বক্তব্য ‘আমার মতো ইসলাম বিষয়ে অজ্ঞ ব্যক্তির বোঝায় ভুল থাকতেই পারে’ তাকে মনে করিয়ে দিয়ে মূর্খতা ও শিশুসুলভ লেখাটির বিষয়ে কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করছি।
মূলতঃ সে কেবল ইসলাম বিষয়েই নয় বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জেনিটিক্স সব বিষয়েই তার ব্যাপক অজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এমন একটি অপাংক্তেয় লেখা বিডি নিউজের সম্পাদক কিভাবে প্রকাশ করলো তা ভেবে অবাক হই! 
তার দাবীকৃত অখ্যাত মুসলিম রিফর্ম মুভমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাসান মাহমুদের হাস্যকর, অযৌক্তিক ও দলীলবিহীন ছবি, মূর্তির পক্ষের একটি লেখা, ২০১৭ সালেই মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফের ২৬৩ তম সংখ্যায় খণ্ডন করা হয়েছে। হাসান মাহমুদের লেখা আর মুজতবা হেকিম প্লেটোর লেখার মধ্যে কোনরূপ জ্ঞানগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়নি। পবিত্র হাদীছ শরীফ ও ইতিহাস বিষয়ে সে এতখানি অজ্ঞ যে, সে বলেছে, ‘কাবাতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাত, মানাত, উজ্জা, হুবল, ওয়াদ ইত্যাদির প্রতিমা ভেঙেছিলেন আরাধনা করা হতো বলে। ভাস্কর্য-মূর্তির বিপক্ষে কিছু হাদিস আছে, কিন্তু সাধারণত বিপক্ষের দলিলে আমরা ব্যক্তির নাম ও ঘটনার বিবরণ পাই না, যা পক্ষের হাদিসগুলোতে পাই।’ তার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়-
(১) আরাধনার উদ্দেশ্যে স্থাপিত প্রতিমা ভাঙার প্রমাণ পাওয়া যায়।
(২) আরাধনা ব্যতীত মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিমা ভাঙার ইতিহাস ও হাদীছ শরীফে পাওয়া না যাওয়া । 
১নং বিষয়টি সঠিক। কিন্তু ২নং বিষয়ে সে কুটকৌশলে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। 
কা’বা শরীফে আরাধনার উদ্দেশ্যে ব্যতীত মূর্তি-ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি বিনষ্ট করার দলীল-
عن حضرت اسامة رضى الله تعالى عنه قال دخلت مع النبى صلى الله عليه وسلم الكعبة فرايت فى البيت صورة فامرنى فاتيته بدلو من الـماء فجعل يضرب تلك الصورة ويقول قاتل الله قوما يصورون ما لايـخلقون.
অর্থ: “হযরত উসামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে পবিত্র কা’বা শরীফ ঘরে প্রবেশ করলাম। অতঃপর আমি কা’বা ঘরের ভিতরে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলাম। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুকুমে আমি পাত্রে করে পানি নিয়ে আসলাম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ প্রতিকৃতিগুলিতে পানি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ গোত্রের সাথে জিহাদ ঘোষণা করেছেন, যে গোত্র এরূপ প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরী করে। যা সে তৈরী করতে অক্ষম অর্থাৎ জীবন দিতে পারে না।” (মুছান্নাফ  ইবনে আবী শায়বা ৮ম খণ্ড পৃষ্ঠা ২৯৬, ত্বহাবী ২য় খণ্ড পৃষ্ঠা ৩৬৩)
উপরোক্ত হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণিত হয়, কা’বা শরীফে প্রতিমাগুলো ভাঙা হয়েছিল শুধুমাত্র আরাধনা করা হতো বলে নয় বরং প্রাণীর প্রতিকৃতি ছিল বলে।  
হাসান মাহমুদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সে আরো লিখেছে, কুরআন-হাদীছের ৩৪,৩৫০টি ইসলামী সূত্রের মাত্র একটিতে ভাস্কর্য অবৈধ করা আছে।’ ছহীহ মুসলিম বুক ২৪- ৫২৫০। যদিও তার কথার সাথে আমরা একমত নই। তার দাবী অনুযায়ী আমরা অনলাইনে মুসলিম শরীফের উক্ত অধ্যায়ে অনুসন্ধান করে statue এর আরবী “صُورَةٌ” শব্দটি পেয়েছি মোট ৯ স্থানে। যার মাত্র একটির ইংরেজীতে অনুবাদ করা হয়েছে statue আর বাকি ৮টিতে করা হয়েছে- picture । কতটুকু গণ্ডমূর্খ ও আরবী বিষয়ে চরম অজ্ঞ হলে শুধুমাত্র অনুবাদকৃত ইংরেজী শব্দের উপর ভিত্তি করে বলে যে, মুসলিম শরীফে ১ জায়গায় ভাস্কর্য নিষেধ করা হয়েছে। মূলতঃ “صُورَةٌ” শব্দটি প্রতিকৃতি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি সবই আওতাভুক্ত। যা আমরা গত ১৯ শে রবীউছ ছানী ১৪৪২ হিজরী তারিখে প্রকাশিত ফতওয়াতে আরবী বিভিন্ন শব্দের তাহকীক বা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছি, ভাস্কর্য বা প্রতিমার বিভিন্ন সমার্থক শব্দ রয়েছে, যা দ্বারা হাদীছ শরীফে ভাস্কর্য প্রতিমা নিষেধাজ্ঞা সূচক বক্তব্যই আলোচিত হয়েছে। তথাপি তর্কের খাতিরে তার কথামত একটি জায়গায় ভাস্কর্য অবৈধ করা আছে ধরে নিলেও ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সেটাই ভাস্কর্য নিষেধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। শরীয়ত বিষয়ে বিন্দুতম জ্ঞান না থাকার কারণে সে বিষয়টি বুঝতে পারেনি।
সে একটি গ্রাফ দিয়েছে যার মাধ্যমে সে দেখাতে চেয়েছে, ইসলামের মধ্যে মতধারার বিভাজন রয়েছে। মূলতঃ প্রত্যেক মতধারার সকলেই প্রাণীর প্রতিকৃতি (ছবি, মূতি, ভাস্কর্য) হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।  হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী, হাম্বলী প্রত্যেক মাযহাবের ফতওয়া হচ্ছে, প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরী করা হারাম। (উমদাতুল ক্বারী, ফতওয়ায়ে শামী, শরহুল মুহাযযাব, মুগনী লি ইবনে কুদামা, আল ইনসাফ, আল আসাবি আলা শরহিছ ছগীর ইত্যাদি চার মাযহাবের কিতাব দ্রষ্টব্য)
দেওবন্দীদের দলীল:
আধুনিক যে কোন পদ্ধতিতে প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরী করা বা তৈরী করানো, হাতে তৈরী করা বা তৈরী করানোর মতোই হারাম ও নাজায়িয এবং প্রাণীর প্রতিকৃতি রাখাও তদ্রুপ হারাম। উক্ত আমলকারী ব্যক্তি ফাসিক এবং তাকে ইমাম নিযুক্ত করা হারাম। এবং তার পিছনে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। (ফতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, ১ম খণ্ড পৃষ্ঠা ৭৪২)
বেরলভীদের দলীল :
تصویر بنانا یا بنوانابہر حال حرام ہےخواہ دستی ہو یا عکسی دنوں کا ایک حکم ہے
অর্থ: “প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরী করা বা তৈরী করানো প্রত্যেক অবস্থায় হারাম। চাই হাতে হোক অথবা ক্যামেরায় উভয়ের একই হুকুম অর্থাৎ হারাম।” (বাহারে শরীয়ত ৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা ১২৩)
সালাফীদের দলীল:
আহলে হাদীছদের অন্যতম উস্তাদ কাজী শাওকানী তার “নাইলুল আওতার” কিতাবের ২য় খণ্ড ১১৬ পৃষ্ঠায় প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরী করার কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করেছে। এছাড়া নাসিরুদ্দীন আলবানী তার ‘আদাবুল জিফাফ’ কিতাবে আধুনিক মনস্কদের কাছে হাতে আঁকা ও ক্যামেরায় তোলা ছবির পার্থক্যকারীদের খণ্ডন করতে গিয়ে বলেছে, আমার দৃষ্টিতে এদের উদাহরণ হলো ঐসব আহলে জাহিরের (যারা বাহ্যিক/শাব্দিক অর্থ গ্রহণ করে থাকে) মতো যারা পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত বদ্ধ পানিতে সরাসরি পেশাব করার হুকুমকে হারাম মনে করে, কিন্তু কোনো পাত্রে পেশাব করে তা বদ্ধ পানিতে ফেলাকে জায়িয মনে করে। কেননা তাদের ধারণা এ হাদীছ দ্বারা পাত্রে পেশাব করে তা বদ্ধ পানিতে ফেলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বোঝা যায় না। (হেকিম প্লেটোর জ্ঞানের দৌড় এরকমই)।
সে আরো লিখেছে, “সব ধর্মে প্রাণীর ছবি বা মূর্তি বানানো নিষিদ্ধ নয়।” তার বক্তব্য পড়ে বুঝা গেলো অন্য ধর্ম সম্পর্কেও সে খোঁজ রাখে না। কারণ ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থে কোন প্রাণীর প্রতিকৃতি, মূর্তি-ভাস্কর্য বানানো শক্তভাবে নিষেধ করা হয়েছে। সেখানে বর্ণিত রয়েছে-
“এমন যেন না হয়, তোমরা বিকৃত হয়ে নিজেদের খোদাই করা প্রতিমূর্তি বানিয়ে নিবে, যা কোন পুরুষ কিংবা নারী অথবা যমীনের কোন প্রাণী বা উড্ডয়নকারী কোন পাখি বা যমীনে বিচরণশীল কোন চতুষ্পদ জন্তু অথবা যমীনের নিচে পানিতে বিচরণশীল মাছের অনুরূপ হয়।” (কিতাবুল ইস্তিছনা, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৬-১৮) 
বাইবেলে (বিকৃতির পরও) এখনও পর্যন্ত প্রাণীর চিত্র প্রতিকৃতি তৈরির অবৈধতা বিদ্যমান রয়েছে। বলা হয়েছে- 
Do not make for yourselves images of anything in heaven or on earth or in the water under the earth.’ (BIBLE-Good news Bible, p. 80, The Bible society of India)
You shall not make for yourself an idol in the form of anything in the heavens above, on the earth below, or in the waters beneath. 
(https://biblehub.com/exodus/20-4.htm) 
হিন্দু ধর্মের একসময়ের পুরোহিতের ছেলে আবুল হোসেন ভট্টাচার্য (যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করেন) তার “মূর্তিপূজার গোড়ার কথা” বইয়ের ১৫৭ পৃষ্ঠায় হিন্দুধর্মে মূর্তিপূজার নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন-
“নতস্য প্রতিমা অস্তিযস্য নাম মহদষশঃ। অর্থাৎ যাহার নাম মহদষশঃ অর্থাৎ যিনি যাবতীয় গুণের অধিকারী সেই পরম প্রভূর কোন প্রতিমা হইতে পারে না। -যজূর্বেদ ৩২ অ:৩য় মন্ত্র।”
প্রতিভাত হলো, শুধুমাত্র দ্বীন ইসলামে নয়, অন্যান্য ধর্মেও প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করা নিষিদ্ধ। 
মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত ফতওয়ায় উল্লেখিত পবিত্র সূরা হাশর শরীফ উনার ২৪নং আয়াত শরীফ উল্লেখপূর্বক সে বলেছে, “তাদের বিবৃতিতে কোরানের আর রেফারেন্স চোখে পড়েনি; বাকি সব হাদিসসহ অন্যান্য উদ্ধৃতি দিয়েছেন তারা।”
তার কি জানা নেই! ভাত হয়েছে কি-না বুঝার জন্য একটা ভাত টিপে দেখাই যথেষ্ট, পাতিলের সমস্ত ভাত টিপে দেখার প্রয়োজন নেই। কাজেই শরীয়তের কোনো বিধান প্রমাণ করার জন্য একটি আয়াত শরীফই যথেষ্ট, একাধিক আয়াতের প্রয়োজন হয় না। যদিও সূরা হাশর শরীফ উনার সমর্থিত আরো একাধিক আয়াত শরীফ রয়েছে। যেমন সূরা আলে ইমরান শরীফ উনার ৬নং আয়াত শরীফ, সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ১১নং আয়াত শরীফ, সূরা মু’মিন শরীফ উনার ৬৪নং আয়াত শরীফ, সূরা তাগাবুন শরীফ উনার ৩নং আয়াত শরীফ দ্রষ্টব্য। এছাড়া মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি মূর্তি নামক অপবিত্র হারাম জিনিস থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। যেমন পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
অর্থ: হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য-নির্ধারক তীরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাকো, অবশ্যই তোমরা কামিয়াবী হাছিল করবে। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, 
فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ
অর্থ: তোমরা মূর্তিসমূহের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো এবং মিথ্যা বলা থেকে দূরে থাকো। (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩০)
তার লেখায় আরো হাস্যকর দিক হচ্ছে- সে বলেছে, ‘আরবী না জেনেও তাদের উদ্ধৃতি বাংলা অনুবাদ যাচাই করতে গুগল ট্রান্সলেটর ও অনলাইন ডিকশনারীর সাহায্য নিলাম’ তার এ শিশুসূলভ কথাটি তার জন্য কতটুকু আত্মঘাতী সে নিজেও আঁচ করতে পারেনি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, রোযাদারের জন্য সাহরীর শেষ সময় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে পবিত্র সূরা বাক্বারার ১৮৭ নং আয়াত শরীফে বর্ণিত আছে-
كُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ
অর্থ : তোমরা পানাহার করো যে পর্যন্ত তোমাদের নিকট কালো সূতা হতে সাদা সূতা স্পষ্ট না হয়। 
এখানে الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ (আল খইতুল আবইয়াদ্বু) শব্দটির গুগল ট্রান্সলেট করে তার অর্থ আসে সাদা সূতা, الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ  (আল খাইতুল আসওয়াদু) এর অর্থ আসে কালো সূতা। যা দ্বারা আয়াত শরীফের মূল বা প্রকৃত অর্থ কোনভাবেই প্রকাশ পায় না। মূলতঃ সাদা সূতা দ্বারা ছুবহে ছাদিক এবং কালো সূতা দ্বারা রাতের আঁধারকে বুঝানো হয়েছে যা কখনোই গুগল ট্রান্সলেটরের জ্ঞান দিয়ে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
তারপরেও গুগল অনুবাদ করতে গিয়েও সে চরম ভুল করেছে। যেমন الاصنام (আল আছনাম) শব্দের গুগল অনুবাদের কথা উল্লেখ করে সে লিখেছে- বাংলায় ‘মূর্তিপূজা’ ইংরেজিতে ‘idolatry’ যা স্পষ্ট প্রতারণা। কারণ গুগলে ‘আছনাম’ শব্দের অর্থ বাংলায় আসে মূর্তি, আর ইংরেজিতে আসে idol যা একটি বিশেষ্যপদ। অথচ সে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এটিকে ক্রিয়াপদ হিসেবে উল্লেখ করেছে। 
সে আরো লিখেছে, ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফের আলেমরা গাছের প্রাণ আছে এর বিরোধিতা করেন কিনা?’ এটার দ্বারা সে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বুঝাতে চেয়েছে, গাছের প্রাণ থাকার কারণে প্রতিকৃতি যদি বৈধ হয় তাহলে অন্য প্রাণীর প্রতিকৃতি বৈধ নয় কেন? এ বিষয়ে সুস্পষ্ট জাওয়াব ১৯শে রবীউছ ছানী ১৪৪২ হিজরীর প্রকাশিত ফতওয়ায় ৩ ও ৪ পৃষ্ঠায় মুসলিম শরীফ ২য় খণ্ড ২০২ পৃষ্ঠার বরাতে দেয়া আছে। সে যেন আবারো ফতওয়াটি পড়ে নেয়। 
তার জেনেটিক্স বিষয়ে নূন্যতম জ্ঞান না থাকার কারণে সে লিখেছে, ‘শুধু হাইব্রিড নয় বিজ্ঞানিরা জেনেটিক্স প্রযুক্তি দিয়ে জিন বদলে নতুন নানা উদ্ভিদ ও প্রাণী সৃষ্টি করতে সক্ষম, করেছেনও’। জেনেটিক্যাল প্রযুক্তি দিয়ে বিজ্ঞানিরা মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য ব্যতীত নতুন কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী সৃষ্টি করেছে এমন একটা দৃষ্টান্ত সে দেখাতে পারবে কি? মূলতঃ জেনেটিক্যাল প্রযুক্তি দিয়ে জিন বদলের মাধ্যমে বিজ্ঞানিরা বিভিন্ন প্রাণী বা উদ্ভিদের কিছু কিছু কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়। যেমন জেনেটিক্যাল প্রযুক্তি দিয়ে মুরগীর গোশত উৎপাদনকারী জিন ও ডিম উৎপাদনকারী জিন বদলের মাধ্যমে বিজ্ঞানিরা যথাক্রমে অধিক গোশত উৎপাদনকারী ব্রয়লার মুরগী ও অধিক ডিম উৎপাদনকারী লেয়ার মুরগী উদ্ভাবন করেছে বটে, তবে মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্ট মুরগী মুরগীই রয়ে গেছে, তৃতীয় নতুন কোন সৃষ্টির উদ্ভব ঘটাতে পারেনি। অর্থাৎ জেনেটিক্যাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কিছু বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটানো যায় কিন্তু নতুন কিছু সৃষ্টি করা যায় না। 
আর নকল পা ও অন্যান্য কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি রূপে প্রকাশ না পাওয়ায় প্রাণীর প্রতিকৃতির হুকুমের আওতাধীন নয়। আর রোবট! সেটা যদি প্রাণীর প্রতিকৃতিবিহীন হয় তবে সেটা ব্যবহারেও কোনো সমস্যা নেই।
সে লিখেছে, ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফের আলেমদের ইসলামী মতটি হচ্ছে, প্রতিরূপ তৈরী করলে মহান আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দিবেন অথচ তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে একমাত্র শাস্তি হলো মৃত্যুদ- অর্থাৎ মানুষ এ সাজা দেবে।’ তার কাছে এ বিষয়টি সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে। মূলতঃ সে যদি মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ফতওয়ার বিষয়ে প্রতারণার আশ্রয় না নিতো তবে তার কাছে সাংঘর্ষিক মনে হতো না। উক্ত ফতওয়াতে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে, মূর্তি-ভাস্কর্য যদি পূজা ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তৈরী করা হয় তাহলে তা সুস্পষ্ট শিরক ও কুফরী। ইসলামী বিধান অনুযায়ী কোন মুসলমান যদি শিরক ও কুফরী করে সে মুরতাদ হয়ে যায়। আর মুরতাদের শরয়ী শাস্তি হচ্ছে তিনদিনের মধ্যে তওবা করতে হবে অন্যথায় মুরতাদের শরঈ শাস্তি হলো মৃত্যুদ-। অথচ সে “পূজা ও সম্মানের উদ্দেশ্যে মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি”র বিষয়টি গোপন করে ফতওয়াটি ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। 
সে দাবী করেছে, খোলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের শাসনামলে মুদ্রায় প্রাণীর ছবি ছিলো এবং এসব ছবি সঠিক কিনা তা যাচাই করে নিতে বলেছে। আমরা যাচাই করে দেখেছি, উক্ত মুদ্রা খোলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রবর্তিত মুদ্রা নয়। বরং পারস্য অগ্নি উপাসক শাসক খসরুর মুদ্রা।
তার প্রমাণ হচ্ছে-
After crushing a Persian army at Qadisiyyah in November of 636, the Muslim Arabs quickly overran Mesopotamia. At Nahavand in 642 the last Sasanian ruler, Yazdegerd III (r. 632-651), was decisively defeated, although it would take many years to incorporate all the Iranian territories into the Muslim Empire.
For decades, governors ruling a population that was still largely Zoroastrian (with Christian and Jewish minorities) were content to let local mints (34, by one estimate) continue to issue silver coins with the portraits and Pahlavi inscriptions of long-dead Khusrau II (r. 591-628) and the reverse image of a fire altar and attendants. Some local authorities added a simple Arabic phrase in the obverse margin, Bismillah – “In the name of Allah”.
Later, the names of Arab governors were added, along with Islamic texts, such as the shahada (“There is no god but Allah, Muhammad is the messenger of Allah”).
Gradually, Arabic inscriptions replaced Pahlevi, and dating based on the regnal year of the shah was replaced by the Islamic calendar, which takes Muhammad’s June 622 CE migration from Mecca to Medina (the Hijra) as a starting point. For example, 661 CE is 41 AH (Anno Hegirae – “year of the Hijra” in Latin). (https://coinweek.com/ancient-coins/coinage-first-caliphate)
সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, মুজতবা হেকিম প্লেটো উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পারস্যের অগ্নি উপাসক শাসক খসরুর মুদ্রাকে খোলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রবর্তিত মুদ্রা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করেছে।
মুজতবা হেকিম প্লেটোর উপস্থাপিত মুদ্রার ছবিটি পারস্যের অগ্নি উপাসক শাসক খসরুর মুখাবয়ব, যা এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটেনিকায় চিত্র সহকারে দেয়া আছে।
https://www.britannica.com/biography/Khosrow-II/images-videos
উক্ত মুদ্রা বিষয়ে উইকিপিডিয়ার Khosrow_II -এর আলোচনায় ডানপাশের সাইডবারে প্রদর্শিত চিত্রে Gold coin of Khosrow II, minted in 611 হিসেবে উল্লেখ আছে। https://en.wikipedia.org/wiki/Khosrow_II
উইকিপিডিয়া বাংলা ভার্সনে দ্বিতীয় খসরুর আলোচনায় ডানপাশের সাইডবারে প্রদর্শিত চিত্রে দ্বিতীয় খসরু এর স্বর্ণ মুদ্রা হিসেবে দেয়া আছে (https://bit.ly/3molPHM)
পরবর্তীতে ইসলামী শাসকদের সময়কালের প্রাণীর প্রতিকৃতিবিহীন মুদ্রার ছবি-
১. খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি (682-720) উনার সময় মুদ্রা- https://en.wikipedia.org/wiki/Umar_II
২. খলীফা হারুনুর রশীদের (763-809) সময় মুদ্রা- https://en.wikipedia.org/wiki/Harun_al-Rashid
৩. খলীফা মামুনের (786-833) সময় মুদ্রা- https://en.wikipedia.org/wiki/Al-Ma%27mun
আর হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পানির পাত্রে ছোট্ট প্রাণীর ভাস্কর্য থাকার যে দাবীটি করেছে সেটি একটি ডাহা মিথ্যা। মূলতঃ উক্ত পাত্রটি ইসলাম বহিঃর্ভূত আমলকারী চরম যালিম শাসক মারওয়ানের পানির পাত্র। যার সাথে একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নাম মুবারক সংশ্লিষ্ট করা চরম গর্হিত অপরাধ।
(https://rawi-magazine.com/articles/mia/; https://www.metmuseum.org/art/collection/search/450386)  
সে আরো বলেছে, ‘বিজ্ঞানের কারণে বর্তমান বিশ্বে পশ্চিমা জ্ঞান অনুসরণ না করার উপায় নেই। নতুন করে ইসলামকে যারা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন তারা পশ্চিমা জ্ঞান ভান্ডারের কাছেই ঋণী।’ আলোচনার ধারাবাহিকতায় আমরা দেখতে পেয়েছি, মুজতবা হেকিম প্লেটো জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় চরম দৈন্যতা প্রকাশ করেছে। তাই এ বিষয়ে কলেবর না বাড়িয়ে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র থেকে এ যাবৎ ১৩ খণ্ডে প্রকাশিত ‘বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান’ গ্রন্থসমূহ তাকে পাঠ করার পরামর্শ দেয়া হলো। সেখানে উল্লেখ করা আছে, জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় বিধর্মীদের কোনই অবদান নেই বরং সমস্ত বিধর্মীরাই বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় মুসলমানদের থেকেই উপকৃত হয়েছে। 
ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য বিষয়ে প্রকাশিত ফতওয়াটির সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা হলো: 

বানানোর মাধ্যম ও উদ্দেশ্য যেটাই হোক প্রাণীর প্রতিকৃতি (ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য) তৈরি করা হারাম
মূর্তি হোক বা ভাস্কর্য, খোদাই হোক বা কাঠ কেটে বানানো হোক, লোহার হোক বা প্লাষ্টিকের, মাটির হোক বা পাথরের, ক্যামেরার ছবি হোক বা হাতে আঁকা হোক, পূজার উদ্দেশ্যে হোক বা সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য হোক, যেটাই হোক যদি কোন প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরী করা হয় সেটাই পবিত্র ইসলাম উনার ফতওয়া অনুযায়ী হারাম। পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফে এটাই উল্লেখ আছে এবং এ বিষয়ে পৃথিবীর সকল ইমাম মুজতাহিদগণ একমত। 
বর্তমান আলেম নামধারীরা এ কথাটা কেন দৃঢ়তার সাথে বলছে না?  শুধু মূর্তি ভাস্কর্য শব্দ ব্যবহার করছে। অথচ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে,  
كُلُّ مُصَوِّرٍ فِى النَّارِ
অর্থ: প্রত্যেক প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরীকারীই জাহান্নামী। (মুসলিম শরীফ ৫৬৬২, মুসনাদে আহমদ ২৮১১)
প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরী করা হারাম এসকল হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,
قال النووى قال العلماء: تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم وهو من الكبائر لانه متوعد عليه بهذا الوعيد الشديد، وسواء صنعه لما يمتهن ام لغيره فصنعه حرام بكل حال وسواء كان فى ثوب او بساط او درهم او دينار او فلس او اناء او حائط او غيرها، فاما تصوير ما ليس فيه صورة حيوان فليس بحرام. قلت: ويؤيد التعميم فيما له ظل و فيما لا ظل له 
অর্থ: হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন: প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করা হারাম, এমনকি কঠিন হারাম। এটা কবীরা গুনাহ। কেননা প্রাণীর প্রতিকৃতি অঙ্কনকারীদের ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ কঠিন আযাব-গযবের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তিরস্কার করার জন্য তৈরি করুক অথবা তিরস্কার না করার জন্য তৈরি করুক, তা তৈরি করা সর্বাবস্থায় হারাম। অনুরূপ কাপড়ে, বিছানায়, রৌপ্য মুদ্রায়, স্বর্ণ মুদ্রায়, টাকা-পয়সায়, পাত্রে, দেয়ালে অথবা এছাড়া অন্যান্য কিছুতে প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করা হারাম। কিন্তু প্রাণহীন বস্তুর প্রতিকৃতি তৈরি করা হারাম নয়। আমি (হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলি, প্রাণীর প্রতিকৃতি যে হারাম এ ফতওয়া আমভাবে মূর্তি-ভাস্কর্য ও ছবির ব্যাপারে সমানভাবে প্রযোজ্য। (ফতহুল বারী- অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ: ক্বিয়ামতের দিন প্রাণীর ছবি অঙ্কনকারীদের শাস্তি প্রদান সম্পর্কে ১০ম খণ্ড  ৩৮৪ পৃষ্ঠা)
সুতরাং মাধ্যম যেটাই হোক বা উদ্দেশ্য যেটাই হোক প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করাই হারাম। যারা হালাল বলবে তারা নিশ্চিত ঈমানহারা হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে দ্বীনী সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন!
আমরা আশা করবো মুজতবা হেকিম প্লেটোর যে বিষয়ে জ্ঞান নাই সে বিষয়ে সে যেন কথা বলা থেকে বিরত থাকে। নচেৎ সে যে গণ্ডমূর্খ তা সমাজে পুনরায় প্রকাশ পাবে, যার ফলে তার অপমান ও লাঞ্ছনার শেষ থাকবে না। আর তার মানসিক বিকাশ ও পরিপক্ক বুদ্ধিমত্তা অর্জনের জন্য তাকে ব্রয়লার মুরগীর গোশত ও লেয়ার মুরগীর ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলো। 

সাংবাদিকের এই লেখার ভিত্তিতে জবাব - বিডি নিউজে মূর্তি ভাস্কর্যের পক্ষে Mujtaba Hakim Plato এর লেখা (https://bit.ly/3agpRPX) খন্ডন করলো মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসার একটা ছাত্র। ওস্তাদরা না জানি কি করতো। মারহাবা !!!

লিংক- http://www.al-ihsan.net/view-post/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95/2/%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%96%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%A8/134692?fbclid=IwAR2PMMGGLL25Ne8-UGGn0yrxZX68Fwrn_x66QAqAtJUWniwsZrfhOkP3new