অনাগত সন্তান ছেলে না মেয়ে জানুন শরীয়তসম্মত পন্থায়

অনাগত সন্তান ছেলে না মেয়ে জানুন শরীয়তসম্মত পন্থায়

****************************
ছেলে মেয়ে তথা সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এটার ক্ষেত্রে নারী পুরুষের কারো এখতিয়ার নেই। অনেকে অনাগত সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে সেটা পরীক্ষা করার জন্য আল্ট্রাস্নোগ্রাম, টেস্ট ও পরীক্ষা করে থাকে। 

কিন্তু এটা শরীয়ত পরীপন্থী না হলেও কাছাকাছি। কারন অনেকে ছেলে না চাইলে বা মেয়ে না চাইলে বীপরিত হলে দুনিয়ায় আসার আগেই মেরে ফেলে। এটা হারাম। 

তবে পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সময় বেপর্দা হতে হয়। এসব কারনে পরীক্ষা করার চেয়ে শরীয়তসম্বমত পদ্ধতি বুজুর্গগন বর্ণনা করেছেন।
তাফসীরে উল্লেখ রয়েছে


-قال الجاحظ :وإذا أردت أن تعلم هل المرأة حامل بذكر أو أنثى فخذ قملة واحلب عليها من لبنها في كف إنسان فإن خرجت من اللبن فهي جارية وإن لم تخرج فهو ذكر-বিশিষ্ট মুফাসসির হযরত জাহিয রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- আর তা হলো- যদি তোমাদের জানার ইচ্ছা জাগে যে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তাহলে নিন্মের কাজ করতে হবে-

কোন মহিলা হামেলা অবস্থায় তার স্তনের থেকে কয়েক ফোটা দুধ নিয়ে হাতের তালুতে নিয়ে সেই দুধের মধ্যে একটা উকুন ছেড়ে দিতে হবে। যদি উকুনটি বের হয়ে তাহলে কন্যা সন্তান হবে আর বের হতে না পারলে বুঝে নিতে হবে ছেলে সন্তান। বর্ননাটি রয়েছে- (তাফসীরে রুহুল বায়ান/সুরা আরাফ/২৩৪, তাফসীরে হাক্কী, হায়াতুল হাইওয়ান- ইবনে সিনা)


কাজেই বর্তমান শরীয়তবহির্ভুত নামে ডিজিটাল বেপর্দা পন্থায় পরীক্ষা না করে শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে পরীক্ষা করুন। আর ছেলে বা মেয়ে সন্তান হলে শুকরিয়া আদায় করুন।
ইমানদারদের পরীক্ষা
Image result for পরীক্ষাইমানদারদের পরীক্ষা

১. মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা বিশ্বাস করি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে। যারা মন্দ কাজ করে, তারা কি মনে করে যে, তারা আমার হাত থেকে বেঁচে যাবে? তাদের ফয়সালা খুবই মন্দ। যে আল্লাহর সাক্ষাত কামনা করে, আল্লাহর সেই নির্ধারিত কাল অবশ্যই আসবে। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।যে কষ্ট স্বীকার করে, সে তো নিজের জন্যেই কষ্ট স্বীকার করে। আল্লাহ বিশ্ববাসী থেকে বে-পরওয়া। আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদের মন্দ কাজ গুলো মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে কর্মের উৎকৃষ্টতর প্রতিদান দেব। [ সুরা আনকাবুত ২-৭ ]

২. আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব (কখনও) ভয়-ভীতি, (কখনও) ক্ষুধা দ্বারা এবং (কখনও) জানমাল ও ফলফসলের ক্ষয়-ক্ষতি দ্বারা, আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। -সূরা বাকারা (২) : ১৫৫ ৩. তোমরা তোমাদের জান-মালের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরীক্ষার মুখোমুখি হবে আর তোমরা আহলে কিতাব ও মুশরিকদের পক্ষ থেকে অনেক পীড়াদায়ক কথা শুনবে। তোমরা যদি সবর ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তাহলে অবশ্যই তা বড় হিম্মতের কাজ। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৮৬

৪. আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদে আক্রান্ত করেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৬৪৫

৫. আল্লাহ যখন তাঁর বান্দার কল্যাণ চান তখন দুনিয়াতে তার শাস্তি ত্বরান্বিত করেন, আর যখন কোনো বান্দার অকল্যাণ চান তখন তার পাপগুলো রেখে দিয়ে কিয়ামতের দিন তাঁর প্রাপ্য পূর্ণ করে দেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৩৯৬




কুলখানী করে মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো শরিয়ত সম্মত আমল
কুলখানী করে মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো শরিয়ত সম্মত আমল

কুলখানি ফারসি শব্দ। আভিধানিক অর্থ কুল পড়া—পবিত্র কুরআনের ত্রিশতম পারার যে সকল সূরার শুরুতে কুল শব্দ রয়েছে সেগুলো পাঠ করা। কিন্তু পরিভাষায় কুলখানির অর্থ একটু ভিন্ন: কোন ব্যক্তির ইন্তেকালের তিন দিনের মাথায় তার মাগফিরাত ও আত্মার শান্তি কামনা করে মীলাদ বা কুরআন খতম অথবা অন্য কিছু পাঠের মাধ্যমে দুআ-মুনাজাতের অনুষ্ঠান করা। অনুষ্ঠান শেষে অংশ গ্রহণকারীদের জন্য খাবার বা মিষ্টি মুখের ব্যবস্থা করা হয়, যাকে বলা হয় তাবারুক।
মৃত ব্যক্তির জন্য রুহের মাগফেরাতের জন্য কোন বিশেষ খাবার তৈরি করা ও মানুষকে খাওয়ানো শরীয়তসম্মত। যারা এটাকে বিদয়াত বা নাজায়িয বলে থাকে তাদের কথা মোটেও শরীয়তসম্মত ও গ্রহণযোগ্য নয়।

১. মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা আদ দাহর শরীফ’ ৮ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “উনারা মহান আল্লাহ তায়ালা মুহব্বতে আহার করান অভাবগ্রস্ত ইয়াতীম ও বন্দিদেরকে।”

২. মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা আদ দাহর শরীফ’ উনার ৯ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘(উনারা বলেন) নিশ্চয়ই আমরা কেবলমাত্র মহান আল্লাহ পাক সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্যেই তোমাদেরকে আহার দান করি এবং তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করিনা।’

৩. মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ’ উনার ২৮ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে মহান আল্লাহ তায়ালা নাম মুবারক স্মরণ করে দেয়া চতুষ্পদ জন্তু যবেহ করো। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুস্থ অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।”

৩. পবিত্র হাদীছ শরীফ মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে লোক সকল! তোমরা সালামের প্রচলন কর, মানুষকে খাদ্য খাওয়াও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা কর এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায পড় তাহলে শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” সুবহানাল্লাহ!(তিরমিযী ১৮৫৫, ইবনে মাযাহ্ ১৩৯৫, আদাবুল মুফাররাদ ৯৮১, আবদ ইবনে হুমাইদ ৩৫৫, দারিমী

৪. আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হ’তে বর্ণিত,"একদা এক ব্যক্তি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রশ্ন করলেন, ইসলামে কোন কাজটি শ্রেষ্ঠ? হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইসলামে সবচেয়ে ভাল কাজ হচ্ছে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাবার খাওয়ানো’।[বুখারী হা/১২; মুসলিম হা/৩৯; মিশকাত হা/৪৬২৯।]

৫. ঐ ব্যক্তি ক্বিয়ামতকে অস্বীকারকারী যে ব্যক্তি ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করে না এবং খাদ্য দান করতে উৎসাহিত করে না। কেননা মহান আল্লাহ বলেন,তুমি কি দেখেছ তাকে, যে বিচার দিবসে মিথ্যারোপ করে? সে হ’ল ঐ ব্যক্তি, যে ইয়াতীমকে গলাধাক্কা দেয় এবং অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দানে উৎসাহিত করে না’ (মাঊন ১০৭/১-৩)।

৬. মহান আল্লাহ বলেন, ‘ঐ ব্যক্তিকে ধর এবং গলায় রশি লাগিয়ে দাও অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে, সে তো ঈমান আনেনি মহান আল্লাহর উপরে আর সে অভাবী-ক্ষুধার্তদেরকে খাবার খাওয়ানোর ব্যাপারে মানুষকে উৎসাহিত করেনি’ (হাক্কাহ ৩০-৩৪)।


পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, মানুষকে খাওয়ানো অবশ্যই শরীয়তসম্মত ও ফযীলতের কাজ। শুধু তাই নয় বরং মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের মাধ্যম ও কারণ। এখন তা যখনই খাওয়ানো হোক বা যাই খাওয়ানো হোক না কেন। কারণ পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মানুষকে খাওয়ানোর জন্য কোনো সময় ও প্রকার নির্ধারণ করে দেননি। যদি তাই হয়ে থাকে তবে এটাকে কী করে বিদয়াত বা নাজায়িয বলা যেতে পারে? তাছাড়া পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে তো সুস্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে যে, “যে ব্যক্তি পবিত্র ইসলাম উনার মধ্যে কোন উত্তম (শরীয়তসম্মত) পদ্ধতি উদ্ভাবন করলো তার সে উদ্ভাবিত পন্থা যারা অনুসরণ বা আমল করবে তাদের সমপরিমাণ বদলা যে উদ্ভাবন করেছে সেও পাবে।” সুবহানাল্লাহ
মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো একটা ইবাদত। যারা এ বিষয়কে টিটকারী তুচ্ছ্য তাচ্ছিল্য করে তারা কুরআন শরীফ হাদীস শরীফ এহানতকারী।

অনুমতি চাওয়া ও তার আদবসমূহ
Image result for আদব
অনুমতি চাওয়া ও তার আদবসমূহ
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
﴿لَا تَدۡخُلُواْ بُيُوتًا غَيۡرَ بُيُوتِكُمۡ حَتَّىٰ تَسۡتَأۡنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَهۡلِهَاۚ ذَٰلِكُمۡ خَيۡرٞ لَّكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ ٢٧ ﴾ [النور: ٢٧]
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজদের গৃহ ছাড়া অন্য কারও গৃহে প্রশে করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নেবে এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম দেবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর”। [সূরা নূর, আয়াত: ২৭]
আল্লাহ্ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿وَإِذَا بَلَغَ ٱلۡأَطۡفَٰلُ مِنكُمُ ٱلۡحُلُمَ فَلۡيَسۡتَٔۡذِنُواْ كَمَا ٱسۡتَٔۡذَنَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡۚ ٥٩ ﴾ [النور: ٥٩]
“আর তোমাদের সন্তান-সন্ততি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমনিভাবে তাদের অগ্রজরা অনুমতি প্রার্থনা করত”। [সূরা নূর, আয়াত: ৫৯]
এক- আবু মুসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,
«الاستئذان ثلاث، فإن أذن لك وإلا فارجع» متفق عليه
“অনুমতি চাওয়া তিনবার। তারপর যদি তোমাকে অনুমতি দেয়, প্রবেশ কর, অন্যথায় ফেরত চলে আসবে”। [বুখারি মুসলিম ]
দুই- সাহাল ইবন সাআদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,
«إنما جعل الاستئذان من أجل البصر» متفق عليه.
“অনুমতি চাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে, চোখের কারণে”। [বুখারি ও মুসলিম ]
তিন: রিব‘য়ী ইবন হিরাশ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনী আমের গোত্রের এক লোক আমাকে হাদিস বর্ণনা করেন,
استأذن على النبي  وهو في بيت فقال: «أألج؟» فقال رسول الله  لخادمه: «اخرج إلى هذا فعلمه الاستئذان فقل له: قل: السلام عليكم أأدخل؟ فسمعه الرجل فقال: السلام عليكم أأدخل؟ فأذن له النبي  فدخل. رواه أبو داود بإسناد صحيح».
“একদিন সে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এর নিকট ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চায়, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ ঘরে অবস্থান করছিল। লোকটি বলল, আমি কি প্রবেশ করব? তার কথা শোনে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ খাদেমকে ডেকে বলল, তুমি যাও এবং লোকটিকে অনুমতি চাওয়ার পদ্ধতি শেখাও। তুমি তাকে বল, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি প্রবেশ করব? লোকটি এ কথা শোনে বলল, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি প্রবেশ করব? তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ তাকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দিল এবং সে ঘরে প্রবেশ করল”। ইমাম আবু-দাউদ হাদিসটিকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেন ।
চার- কালদা ইব্‌ন হাম্বল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أتيت النبي  فدخلت عليه ولم أسلم فقال النبي  «ارجع فقل السلام عليكم أأدخل؟» رواه أبو داود والترمذي وقال: حديث حسن.
“আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এর দরবারে এসে সালাম না দিয়ে তার নিকট প্রবেশ করলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ আমাকে বললেন, ফিরে যাও! এবং বল, আসসালামু আলাইকুম আমি কি প্রবেশ করব”? বর্ণনায় আবু-দাউদ ও তিরমিযী , ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদিসটি হাসান।
স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে উভয়ের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে
Image result for কর্তব্যস্বামী ও স্ত্রী উভয়ে উভয়ের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে-
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তারা (আহলিয়া) তোমাদের আবরণ (পোশাক) এবং তোমরা (আহাল)তাদের আবরণ (পোশাক)।”
হাদীছ শরীফ মধ্যে স্বামীদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, “যদি আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করা যেত, তাহলে আমি স্ত্রীদেরকে তাদের স্বামীদের সিজদা করার আদেশ দিতাম।” সুবহানাল্লাহ! আর অন্য হাদীছ শরীফ মধ্যে স্ত্রীদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে তার আহলিয়া তথা স্ত্রীর নিকট উত্তম।” সুবহানাল্লাহ! {কিমিয়ায়ে সাআদাত}
উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা সুস্পষ্ট যে আল্লাহ পাক তিনি এবং হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যেভাবে স্বামীদের মর্যাদা, অধিকার দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই স্ত্রীদের মর্যাদা ও অধিকার দিয়েছেন। যা সাধারণ মানুষ বুঝে না। যদিও স্বামীদের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে এবং স্বামীদের প্রতি স্ত্রীদের কি কর্তব্য সে সম্পর্কে বহু কিতাবাদিতে রয়েছে কিন্তু স্ত্রীদের মর্যাদা ও অধিকার ও স্ত্রীদের প্রতি স্বামীর কি কর্তব্য তা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই অজ্ঞ। তাই কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর মুবারক আলোকে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর এবং স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কিছু কর্তব্য নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১. স্ত্রীর সাথে কর্কশ ভাষায় কথা বলবে না, অনুরূপ স্ত্রীও স্বামীর সাথেও কর্কশ বা রুক্ষ ভাষায় কথা বলবে না। যদি উভয়ের মধ্যে একজন রাগবশত কর্কশ বা রুক্ষ ভাষায় কথা বলে অপরজন ধৈর্যধারণ করবে।
এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফ এর মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি স্ত্রীর কর্কশ ভাষা সহ্য করবে সে ব্যক্তি হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম উনার বিপদরাশি সহ্য করার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, অনুরূপভাবে কোনো স্ত্রী যদি স্বামীর কর্কশ ভাষা সহ্য করে, সে স্ত্রী ফেরআউনের স্ত্রী হযরত আছিয়া আলাইহাস সালাম উনার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।” সুবহানাল্লাহ!
২. স্ত্রীর ভালো ভালো গুণাবলী বলে স্ত্রীকে উৎসাহিত করা অনুরূপ স্বামীর প্রশংসনীয় দিকগুলো স্বামীর নিকট বর্ণনা করে অনুপ্রাণিত করা।
৩. স্ত্রীর প্রয়োজনীয় বিষয়াদির দিকে ভালোভাবে খেয়াল করা অনুরূপ স্বামীর প্রয়োজনীয় বিষয়াদির দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা।
৪. স্ত্রীর পোশাক, খাওয়া-দাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ রাখা ঠিক তদ্রপ স্বামীর উপরোক্ত বিষয়গুলোর উপর লক্ষ্য রাখা। মনে রাখতে হবে উভয় উভয়ের আবরণ এবং দুইজন দুইজনের পরিচয়।

৫. স্ত্রীর যা পছন্দ তা পূরণ করার চেষ্টা করা অনুরূপ স্বামীর যা পছন্দ তা পূরণ করার চেষ্টা করা।
৬. সন্তানের সামনে স্ত্রীর প্রশংসা করা, ভালো গুণাগুণ বলা অনুরূপ স্বামীর প্রশংসা করা, ভালো গুণাগুণ বর্ণনা করা। যাতে সন্তানরা বাবা-মায়ের ভালো গুণগুলো অর্জন করতে সক্ষম হয়। তাদের সামনে উভয় উভয়ের দোষ বর্ণনা করবে না।
৭. স্ত্রীর মাতা-পিতাকে সাধ্য অনুযায়ী হাদিয়া, তোহফা দেয়া অনুরূপ ভাবে স্বামীর পিতা-মাতাকে সাধ্য অনুযায়ী হাদিয়া তোহফা দেয়া।
৮. অভাব অনটন থাকুক বা না থাকুক উভয় অবস্থাতেই স্ত্রীর ভরণ পোষণ দিতে হবে এবং স্ত্রীরাও স্বামীদের অভাব অনটনের সময় সাধ্য অনুযায়ী স্বামীকে সহযোগিতা করবে। এই ক্ষেত্রে উভয় উভয়কেই অনুপ্রাণিত করা, উৎসাহিত করা।
৯. দান খয়রাত ও হাদিয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীকে সহযোগিতা করা অনুরূপ দান খয়রাত ও হাদিয়ার ক্ষেত্রে স্বামীকে সহযোগিতা করা। এই ক্ষেত্রে উভয় উভয়কেই অনুপ্রাণিত করা, উৎসাহিত করা।
১০. উভয় উভয়ের ভুল-ভ্রান্তি মেনে নেয়া এবং তা থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করা।
১১. উভয়কে তাদের নিজ অবস্থার উপর সন্তুষ্ট থাকা এবং নিয়ামত এর শুকরিয়া আদায় করা।
১২. পরষ্পর পরষ্পরকে নেক আমলে উৎসাহিত করা। শরিয়তসম্মত জীবন-যাপনে পরষ্পরকে সহযোগীতা করা



“অবশ্যই তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যু বরণ কোরনা।”
Image result for মৃত্যু“অবশ্যই তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যু বরণ কোরনা।”

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
অর্থাৎ;-হে ইমানদারগন, আল্লাহকে যেমন ভয়করা উচিৎ তেমনই ভাবে ভয় করতে থাক, এবং অবশ্যই মুসলমান নাহয়ে মৃত্যু বরণ কোরনা।

এ আয়াতে তাকওয়া শব্দের অর্থ ভয় বলা হয়েছে। ইসলামী পরিভাষায় কয়েকটি আচরণের সমাহারকেই তাকওয়া বলে, যেমন;-ধর্মানুরাগ, খোদাভীতি, সংযমশীলতা ইত্যাদি। এ সমস্ত গুনাবলীর শিখরে অবস্থানকারীকেই মুত্তাকী বলে। মুমিনগনকে মুসলীম না হয়ে মৃত্যু বরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হতে পারে, মুমিন অপেক্ষা মুসলীমের গুরুত্ব বেশী। শব্দদ্বয় একটির জায়গায় অন্যটি ব্যবহার হয়ে থাকে। ইমান অন্তরের বস্তু আর ইসলাম আচরণের বস্তু। ইমানকে আচরণে প্রকাশ করাতেই পূর্ণাঙ্গতা। সে কথাই বলা হয়েছে।


কলেমা নামাজ, রোজা প্রভৃতি যথাযত পালন করেই আমরা ভাবি ইসলাম পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে, কিন্তু আসলে কি তাই?আল্লাহ বলেন, তিনি জ্বীন ও ইনসানকে শুধুই তার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু সঙ্গে দিয়েছেন পার্থিব চাহিদা। শুধুমাত্র ইবাদত করতে গেলে এগুলোর কি হবে। অতএব আমাদের সেই ইবাদতের তাৎপর্য বুঝতে হবে। ফরজ ইবাদতের বাইরে প্রতিটা কাজই যদি আমরা আল্লার সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে তারই উপর ভরসা করে করি তবে তাও হবে ইবাদত। আর এখানেই হল সম্পূর্ণ আত্মসমর্পন, তখনই হব আমরা মুসলীম। মৃত্যু যখনই আসুক আমরা যেন এ অবস্থার বাইরে না থাকি।

وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللّهِ جَمِيعًا وَلاَ تَفَرَّقُواْ وَاذْكُرُواْ نِعْمَةَ اللّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىَ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
অর্থাৎ;-আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়হস্তে ধারণ কর, পরষ্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা, আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ করো যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরষ্পর শত্রু ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। অতএব তারই অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুণ্ডের কিনারায় অবস্থান করছিলে, অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদের মুক্তি দিয়েছেন। এ ভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শন সমুহ তোমাদের জন্য্য প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও।“

মুত্তাকী হওয়ার পরই একতাবদ্ধ হওয়ার পালা। মানুষকে একতাবদ্ধ করতে প্রয়োজন, সহমত, নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও মাধ্যম। এআয়াতে আল্লাহ সেই মাধ্যমের সন্ধান দিলেন। সুরা বাক্বারায় আমরা দেখেছি কোরআনকে মজবুত হাতল বলা হয়েছে, এখানে মজবুত রশি বলা হচ্ছে। যার এক প্রান্ত আল্লাহর কাছে, অপর প্রান্ত মানুষের কাছে, হাদীশে বলা হয়েছে।এই কোরআনের মাধ্যমেই আল্লাহ মদীনার আওফ ও খাজরাজ গোত্রের দীর্ঘ দিনের শত্রুতাকে সম্প্রীতিতে বদলে দিলেন। তারা আপোষে ভাই ভাই হয়ে গেল। এ যেন তারা ধ্বংসের প্রান্তসীমা থেকে ফিরে এল। শুধু তাই নয় মোহাজীর ও আনসারগনের ভ্রাতৃত্ব নজির বিহীন হয়ে আছে।

وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থাৎ;-“আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিৎ যারা সৎ কর্মের প্রতি আহবান জানাবে, ভাল কাজের নির্দেশ দেবে এবং অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখবে। আর তারাই হবে সফলকাম”।

মুত্তাকীগন কোরআনের এর মাধ্যমে জমাত বদ্ধ হওয়ার পর তাদের সামনে তিনটি কাজের দায়িত্ব এসে গেল;-
প্রথমটি সৎকর্মের প্রতি আহবান।
দ্বিতীয়টি ভাল কাজের নির্দেশ ও
তৃতীয়টি অন্যায় হতে অন্যকে বিরত রাখা বা বাধা দেওয়া।
অন্যায় হতে বিরত রাখার তিনটি স্তর আছে। প্রথমটি শক্তি প্রয়োগে বাধা দেওয়া। প্রথমটি সম্ভব নাহলে দ্বিতীয়টি, অর্থাৎ ভাল কথায় বুঝিয়ে অথবা প্রতিবাদী ভাষায় বাধা দেওয়া। যদি এটিও অসম্ভব হয় তবে, তৃতীয়টি, অন্তরে ঘৃণা পোষন করা। সাথে সাথে দ্বিতীয়টির জন্য তৈরী ও পরে প্রথমটির উপযুক্ত হয়ে শক্তি প্রয়োগে বাধা দেওয়া। তৃতীয় অবস্থাটিকে ইমানের দূর্বলতম অবস্থান বলা হয়েছে। আর যারা একাজ যথাযত পালন করবে তারাই হবে সার্থক বা সফলকাম। আর এভাবেই কোরআনের বানী বা ইসলামকে বিশ্বের দরবারে বিস্তৃত করতে হবে। ‘মিনকুম’ শব্দ দ্বারা ইসলামের বৃহত গোষ্টি হতে ক্ষুদ্র দলে আনা হয়েছে।

وَلاَ تَكُونُواْ كَالَّذِينَ تَفَرَّقُواْ وَاخْتَلَفُواْ مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُوْلَـئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
অর্থাৎ;-আর তাদের মত হয়োনা, যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিদর্শণ সমুহ আসার পরও বিরোধিতা করতে শুরু করেছে; তাদের জন্য রয়েছে ভয়ঙ্কর আজাব।
يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ فَأَمَّا الَّذِينَ اسْوَدَّتْ وُجُوهُهُمْ أَكْفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ فَذُوقُواْ الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ
অর্থাৎ;-সেদিন কোন মুখ উজ্জ্বল হবে, আর কোন মুখ হবে কালো।। বস্তুতঃ যাদের মুখ কালো হবে, তাদের বলা হবে, তোমরা কি ইমান আনার পর কাফের হয়ে গিয়েছিলে?এবার সে কুফরীর বিনিময়ে আজাবের স্বাদ গ্রহন করো।

যারা ইমান আনার পর ইসলাম ত্যাগ করবে বা কাফের হয়ে যাবে, কেয়ামতের দিন তাদের চেহারা কালো হয়ে যাবে। এখান থেকেই তাদের আজাব শুরু হবে। অপর পক্ষে ইমানদারদের চেহারা উজ্জ্বল হবে।
وَأَمَّا الَّذِينَ ابْيَضَّتْ وُجُوهُهُمْ فَفِي رَحْمَةِ اللّهِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অর্থাৎ;-আর যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা থাকবে রহমতের মাঝে, তাতে তারা অনন্তকাল অব্থান করবে।
تِلْكَ آيَاتُ اللّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ وَمَا اللّهُ يُرِيدُ ظُلْمًا لِّلْعَالَمِينَ
অর্থাৎ;-এ গুলো হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ, যা আপনাদের যথাযত পাঠ করে শোনানো হচ্ছে। আর আল্লাহ বিশ্ব জাহানের প্রতি উৎপীড়ন করতে চান না।।
وَلِلّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَإِلَى اللّهِ تُرْجَعُ الأُمُورُ

অর্থাৎ;-আর যা কিছু আসমান ও জমিনে রয়েছে, সে সবই আল্লাহর এবং আল্লাহর প্রতিই সব কিছু প্রত্যাবর্তনশীল।