সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ফখরুল আশিকীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু ওয়া সালাম উনার মুবারক  উসীলায় নিয়ামতে পরিপূর্ণ হয়েছে মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, মুহিউদ্দিন, আওলাদে রসূল,  সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি  উনার মক্ববূল মাশহূর ক্বাদিরিয়া তরীক্বা

 সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ফখরুল আশিকীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু ওয়া সালাম উনার মুবারক  উসীলায় নিয়ামতে পরিপূর্ণ হয়েছে মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, মুহিউদ্দিন, আওলাদে রসূল,  সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি  উনার মক্ববূল মাশহূর ক্বাদিরিয়া তরীক্বা 

 একথা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিকট ইলমসহ সমস্ত নিয়ামতরাজি পুঞ্জীভূত। যা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়েছে। হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উসীলা ব্যতিত কোনো কিছুই পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে না। যার বাস্তব নমুনা ইলমে তাছাউফ উনার তরীক্বাসমূহ।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার অসীম রহমত বরকত সাকীনা মুবারক উনার বদৌলতে এবং সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ইহসান উনার উসীলায় আজো বিশ্বব্যাপী জারি রয়েছে মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গউছুল আ’যম, দস্তগীর, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মক্ববূল মাশহূর পবিত্র ক্বাদিরিয়া তরীক্বা। সুবহানাল্লাহ! ইনশাআল্লাহ ক্বিয়ামত পর্যন্ত তা ছহীহ তরতীবে জারি থাকবে সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে এ তরীক্বা নিয়ামতে পরিপূর্ণ হয়েছে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক উসীলায়। যা এ মহান ত্বরীক্বা উনার পবিত্র শাজরা শরীফ পর্যালোচনা করলেই দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হবে। বিশ্বব্যাপী সুমহান শান মুবারক-এ জারি থাকা মুবারক ক্বাদিরিয়া তরীক্বা উনার সুমহান শাজরা শরীফ এখানে উল্লেখ করা হলো:-

১। ইলাহী বহুরমতে কুল-মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল, হায়াতুন নবী, ছাহিবে ইলমে গইব, ছাহিবে মুত্তালা’ ‘আলাল গইব, জামিউল ইলম, ছাহিবে মাফাতীহুল ইলম, আল্হাদ্বির, আন্নাযির, ছাহিবে লাওলাক, ছাহিবে ক্বাবা ক্বওসাইনি আও আদনা, ছাহিবে কাওছার, ছাহিবে মাক্বামে মাহমূদ, ছাহিবে লিওয়ায়িল হামদ্, ছাহিবে শাফা‘আতে কুবরা, ছাহিবে লাসতু কাআহাদিকুম, ছাহিবে মি’রাজ, ছাহিবে কুন ফাইয়াকুন, ছাহিবে ওয়াহ্য়ি, ছাহিবে শারীআহ, আলগনিইয়্যূ, রঊফুর রহীম, আত্ত্বাহির, আত্তইয়িব, শাফিউল উম্মাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছাহিবে জামিউল আসমা ওয়াছ ছিফাত, ফাদ্বলুল্লাহ, আকরামুল আওওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, ফখরুল আম্বিয়া, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

২। ইলাহী বহুরমতে সাইয়্যিদুল আরব, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকমাহ, আমীনু আহলি আরদ্ব, কুদওয়াতুল মুত্তাক্বীনা, যীনাতুল আরিফীন, নূরুল মুত্বীয়ীন, ইমামুল আদিলীন, আহলু বাইতিন নাবিইয়ি, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, আসাদুল্লাহিল গালিব, আল ইমামুল আউওয়াল মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম।

৩। ইলাহী বহুরমতে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ, আলু রসূলিল্লাহ, আল ইমামুস সাইয়্যিদ, আল ইমামুল হুমাম, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, আল ইমামুছ ছানী মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৪। ইলাহী বহুরমতে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ, আলু রসূলিল্লাহ, আল ইমামুস সাইয়্যিদ, আল ইমামুল হুমাম, কাবীরুশ শা’ন, শহীদে কারবালা, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, আল ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৫। ইলাহী বহুরমতে ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, আওলাদু রসূলিল্লাহ, ইয়াদগারে নুবুওওয়াহ, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আস সাজ্জাদ, আল ইমামুর রাবি’ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৬। ইলাহী বহুরমতে ইমামুল হুদা, ইমামু আহলিল ইয়াক্বীন, সুলালাতুন নুবুওওয়াহ, সিরাজুল মিল্লাহ, আল ইমামুল খামিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৭। ইলাহী বহুরমতে ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, আওলাদু রসূলিল্লাহ, ইয়াদগারে নুবুওওয়াহ, ইমামুস সাদিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৮। ইলাহী বহুরমতে ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, আওলাদু রসূলিল্লাহ, ইয়াদগারে নুবুওওয়াহ, ইমামুস সাবি’ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৯। ইলাহী বহুরমতে ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, আওলাদু রসূলিল্লাহ, ইয়াদগারে নুবুওওয়াহ, ইমামুছ ছামিন মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

১০। ইলাহী বহুরমতে ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত শায়েখ মা’রূফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১১। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আবূল হাসান সাররী সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১২। ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা সাইয়্যিদুত ত্বায়িফা জুনায়িদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৩। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৪। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আব্দুল আযীয বিন হারিছ তামিমী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৫। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৬। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আবূল ফাররাহ মুহম্মদ তারতুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৭। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আবূল হাসান হাককারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৮। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আবূ সাঈদ মুবারক মখদুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৯। ইলাহী বহুরমতে ইমামে রব্বানী, মাহবূবে সুবহানী, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, গাউছে সামদানী, মাশায়েখে আকবর মাশরিক ওয়াল মাগরিব, কুতুবুল আলম, ফরদুল আহবাব, গউছুল আ’যম, শায়খে শুইয়খিল আলম, গাউসে সাক্বালাইন, শাইখুল ইসলাম, ইমামুল আইম্মা, সাইয়্যিদুনা হযরত মুহিউদ্দীন বড়পীর ছাহিব আল হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

* তিনিই পবিত্র ক্বাদিরিয়া তরীক্বা উনার সম্মানিত ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি। সকলের নিকট তিনি বড়পীর ছাহিব গাউছুল আ’যম, দস্তগীর লক্বব মুবারক-এ মশহূর।

২০। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আব্দুর রাযযাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২১। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ শরফুদ্দীন কাত্তাল রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২২। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আব্দুল ওয়াহহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৩। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ বাহাউদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৪। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আক্বীল রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৫। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ শামসুদ্দীন সাহরায়ি রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৬। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ গাদায়ে রহমান আউয়াল রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৭। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ শামসুদ্দীন আরিফ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৮। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ গাদায়ে রহমান ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৯। ইলাহী বহুরমতে হযরত শাহ ফাযিল রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩০। ইলাহী বহুরমতে হযরত শাহ কামাল কায়থালী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩১। ইলাহী বহুরমতে হযরত শাহ সিকান্দার কায়থালী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩২। ইলাহী বহুরমতে আফযালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, কাইয়্যুমে আউওয়াল, আজিমুল বারাকাত, গউছুছ ছাক্বালাইন, খাযীনাতুর রহমাহ, মাখদূমে যামান, আল মুনাওওয়ার, খাজায়ে খাঁজেগা, আবূল বারাকাত বদরুদ্দীন হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী সিরহিন্দী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি। 

* তিনি একাদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ।

* তিনি মহান মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা উনার ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনিই হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খেরকা মুবারক হযরত শাহ সিকান্দার কায়থালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুবারক মারফত প্রাপ্ত হয়েছেন।

৩৩। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আদম বিন নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩৪। ইলাহী বহুরমতে হযরত সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ আকবরাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩৫। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আব্দুর রহীম মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩৬। ইলাহী বহুরমতে রঈসুল মুহাদ্দিছীন, মুজাদ্দিদে যামান ও মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

* তিনি দ্বাদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ।

৩৭। ইলাহী বহুরমতে হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩৮। ইলাহী বহুরমতে আমীরুল মু’মিনীন, মুজাদ্দিদে যামান, হযরত শাহ সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী আলাইহিস সালাম।

* তিনিই ত্রয়োদশ হিজরী শতাব্দীর মহান মুজাদ্দিদ এবং সুপ্রসিদ্ধ ‘মুহম্মদিয়া তরীক্বা’ উনার সম্মানিত ইমাম।

৩৯। ইলাহী বহুরমতে কুতুবুল আকতাব হযরত মাওলানা শাহ ছূফী নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৪০। ইলাহী বহুরমতে ওয়াসিল বিল্লাহ, আশিক্বে রসূলিল্লাহ, কুতুবুল ইরশাদ হযরত মাওলানা শাহ ছূফী ফতেহ আলী বর্ধমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

* উনাকে রসূলে নোমা বলা হয়। কারণ তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত করিয়ে দিতে পারতেন।

৪১। ইলাহী বহুরমতে আমীরুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুজাদ্দিদে যামান, কুতুবুল আলম শাহ ছূফী আলহাজ্জ হযরত মাওলানা আব্দুল্লাহিল মা’রূফ মুহম্মদ আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

* তিনি চতুর্দশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ।

৪২। (ক) ইলাহী বহুরমতে ওলীয়ে মাদারযাদ, কুতুবুল আলম, সুলত্বানুল আরিফীন, হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবূ নজম মুহম্মদ নাজমুস সায়াদাত ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

(খ) ইলাহী বহুরমতে, কুতুবুল আলম, কাইয়্যুমে যামান, শায়েখুল মাশায়িখ, হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবূ নছর মুহম্মদ আব্দুল হাই ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৪৩। ইলাহী বহুরমতে কুতুবুল আলম, আমীরুশ শরীয়ত, মাহতাবে তরীক্বত, সুলত্বানুল আরিফীন, মাহিয়ে বিদয়াত, মুহইয়ে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে যামান, হুজ্জাতুল ইসলাম, তাজুল মুফাসসিরীন, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, ফখরুল ফুক্বাহা আলহাজ্জ হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবূল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

তিনি উপরোক্ত উনাদের দু’জন থেকেই খিলাফত প্রাপ্ত হন। তবে উনার প্রধান শায়েখ হচ্ছেন হযরত নাজমুস সায়াদাত ছিদ্দীক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৪৪। ইলাহী বহুরমতে, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, হুজ্জাতুল ইসলাম, সুলত্বানুল আরিফীন, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম।

* তিনিই সারা বিশ্বে সমাদৃত, প্রশংসিত, গ্রহণযোগ্য ও হক্ব সিলসিলা “রাজারবাগ শরীফ”-উনার মহা সম্মানিত হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। তিনিই হিজরী পঞ্চদশ শতাব্দীর ‘মহান মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম।’

 এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, উনার সুমহান তরীক্বা শরীফ উনার সুযোগ্য আকাবির খলীফা আজমাঈন উনাদের মাধ্যমে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে সম্প্রসারিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! তবে বর্তমানে খুব কম খানকায়, কম সিলসিলায়, কম দরবারে গদ্দীনশীন ব্যক্তিবর্গ মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গউছুল আ’যম, দস্তগীর, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তর্জ-তরীক্বা মুতাবিক আমল-আক্বীদা ইত্যাদি হুবহু নকশায় জারি রেখেছেন। বরং প্রায় সকলেই বিভিন্নভাবে উনার তরীক্বা মুবারক উনার সবক, আমল-আখলাক আদর্শ ইত্যাদিকে বিকৃত করেছে, অনেক কিছু ছেড়ে দিয়েছে কেউবা কমবেশি করেছে। নাউযুবিল্লাহ!

কিন্তু বর্তমান যামানায় একমাত্র ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ কিবলা কা’বা মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমেই বর্তমান যামানা পর্যন্ত জারি রয়েছে মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গউছুল আ’যম, দস্তগীর, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মক্ববূল মাশহূর পবিত্র ক্বাদিরিয়া তরীক্বা। সুবহানাল্লাহ! 

আয় বারে ইলাহী! উনাদের উসীলায় আমাদের উপর আপনার খাছ রহমত, মুহব্বত ও মা’রিফাত এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ তাওয়াজ্জুহ, ফায়িয, যিয়ারত, মুহব্বত ও মা’রিফাত দান করুন। সুন্নতের পূর্ণ পায়রবী করার তাওফীক দিন। যাহিরী ও বাতিনী দৃঢ়তা আর ইহকাল ও পরকালের সুস্থতা দান করুন। এই সকল বুযুর্গানে দ্বীন উনাদের ফুয়ূজাত, বারাকাত ও কামালাতের পূর্ণ হিসসা নছীব করুন। আমীন!

 সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার একটি মুবারক কারামত

 

সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার একটি মুবারক কারামত

 হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ৬ষ্ঠ ইমাম হচ্ছেন, সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ইমামুস ছিদ্দীক্বীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম। উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল, ফযীলত ও বুযুর্গী মুবরক রয়েছে। যা আমরা নিম্ন বর্ণিত উনার মুবারক কারামত উনার দ্বারা উপলব্ধি করতে পারবো। 

একবার খলীফা মানছূর সে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার পরিকল্পনা করেছিলো। নাউযুবিল্লাহ! কারণ খলীফা মনছুর ছিলো দুষ্ট প্রকৃতির। সে দেখলো সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার প্রভাব প্রতিপত্তি অনেক বেশি। কারণ সে সময়কার মাশহুর তথা প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গ সবাই উনার মুরীদ। যেমন- হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি, সুলত্বানুল আরিফীন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, রসায়নবিদ হযরত জাবির বিন হাইয়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ আম-খাছ, আলিম-উলামা, ছূফী-দরবেশ সবাই উনার মুরীদের অন্তর্ভুক্ত। তাই একদিন আব্বাসীয় খলীফা মানছুর তার সভাসদসহ খাদিম-খুদ্দামদেরকে নিয়ে পরামর্শ করলো কিভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করা যায়। না‘ঊযুবিল্লাহ! 

সকলে বললো এ কাজটা করা তার ঠিক হবে না। তারপরও হিংসাবশতঃ সে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার পরিকল্পনা করলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! 

সে বললো- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে দাওয়াত করা হবে। উনি যখন দাওয়াতে আসবেন তখন মনছুর তার মাথার পাগড়িটি খুলে ফেললে বুঝতে হবে উনাকে শহীদ করতে হবে। নাউযুবিল্লাহ!

কথা অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে দাওয়াত করা হলো- উনিও দাওয়াতে আসলেন। উজীর, নাজির, খাদীম, খুদ্দাম, সকলেইতো গভীর চিন্তিত, পেরেশান। ব্যাপারটা কি থেকে কি হয়ে যায়। দেখা গেলো উনি যখন তাশরীফ নিলেন তখন খলীফা মনছুর কাচুমাচু হয়ে, অত্যন্ত বিনীতভাবে, ভক্তিভরে উনাকে তার আসনে বসিয়ে বলতে লাগলো, ‘হুযূর! বেয়াদবী মাফ করবেন আমি আপনার কি খিদমত করতে পারি? আপনি কি চান?’ তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহি সালাম তিনি বললেন, ‘আমাকে সংবাদ দিবে না, তুমি আমার ইবাদত-বন্দেগীতে ব্যাঘাত ঘটাবে না। এটাই আমি চাই।’ 

এরপর অত্যন্ত তা’যীম, তাকরীম উনার সাথে খলীফা মনছুর সে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে উনার বাড়িতে পৌঁছে দিলো। পৌঁছে দিয়ে রাজপ্রাসাদে এসে সে বেহুঁশ হয়ে পড়লো। 

 বেহুঁশ হওয়ার কারণে তার তিন ওয়াক্ত নামায কাযাও হলো। অতঃপর তার যখন হুঁশ ফিরে আসলো তখন তাকে উজীর, নাজির, খাদিম, খুদ্দামরা বললো ব্যাপারটা কি? তখন খলীফা মনছুর বললো- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি যখন তাশরীফ নিয়েছিলেন তখন সে উনার সাথে একটা বড় অজগর সাপও দেখতে পেয়েছিলো। সাপটি বলতেছিলো, হে মনছুর! তুমি যদি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার সাথে বেয়াদবী করো, তাহলে তোমার কোনো রক্ষা নেই। তোমাকে আমি ধ্বংস করে ফেলবো। 

এটা দেখে সে উনাকে তা’যীম, তাকরীম করেছে, খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছে এবং পরে ভয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়েছে। 

 ‘মা’দের প্রতি সাইয়্যিদুনা ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার উপদেশ-  ‘শিশুদের যেন মায়ের বামপাশে শোয়ানো হয়’

 ‘মা’দের প্রতি সাইয়্যিদুনা ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার উপদেশ-  ‘শিশুদের যেন মায়ের বামপাশে শোয়ানো হয়’

 পবিত্র ইলমে লাদুন্নীর মাধ্যমে প্রাপ্ত উনার এই উপদেশ মুবারক উনার অন্তর্নিহিত কারণ যথাযথভাবে কেউ সে সময় উপলব্ধি করতে পারেনি। এমনকি ইউরোপের তথাকথিত রেনেসাঁর সময়কালীন সময়েও উনার এই উপদেশ মুবারক উনার মর্মার্থ উপলব্ধির অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু উনার এই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব মুবারক উনার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করতে তারা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে আবার নিউইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবজাতকের উপর গবেষণা পরিচালিত হয়। তারা পৃথিবীর বিভিন্নস্থানে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পায় যে, যে সকল শিশু মায়ের বাম পার্শ্বে ঘুমায় সে সব শিশু সন্তানরা শান্তিপূর্ণভাবে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে। কিন্তু যে সব শিশু সন্তানরা তাদের মায়ের ডান পার্শ্বে ঘুমায় সে সব শিশু সন্তানরা যখন তখন ঘুম থেকে জেগে যায় এবং কান্নাকাটি করে।

হোলোগ্রাফী আবিষ্কারের পর জানা যায় যে, মাতৃগর্ভস্থ শিশুরা তাদের মায়ের হৃদস্পন্দন শুনতে পায়। মায়ের হৃদস্পন্দন শিশুর অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য। মাতৃগর্ভস্থ শিশুদের কাছে মায়ের হৃদস্পন্দন মানে হলো তার জন্য অবিরত খাদ্যের যোগান আর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো মৃত্যু। একজন নবজাতক যখন তার মায়ের বাম পার্শ্বে ঘুমায় যেখান থেকে সে তার মায়ের হৃদস্পন্দন স্পষ্টভাবে শুনতে পায়। ফলে সে শান্তিপূর্ণভাবে আরামদায়ক ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি অবলীলায় বলে দিলেন। অথচ মুসলমানদের তথ্য-উপাত্ত চোর, জালিয়াত, মিথ্যা বিজ্ঞানী দাবিদাররা উনার বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব মুবারক উনার মর্মার্থ উপলব্ধি করতে সময় লেগেছে প্রায় ১১০০ বছর। তাহলে এটি সুস্পষ্ট যে ওই সকল বিজ্ঞানী দাবিদারদের আসলে বিজ্ঞানের কোনো বিষয়েই দখল নেই। বরং এই জালিয়াতগুলো মুসলমানদের তথ্য-উপাত্ত চুরি করে কিছু সরাসরি নিজেদের নামে চালিয়ে দিয়েছে নতুবা মুসলমান বিজ্ঞানীদের আসল নাম বিকৃত করে প্রচার করেছে।

 সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার মুবারক একটি স্বপ্ন

 সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার মুবারক একটি স্বপ্ন

 আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি বলেন- ১৪৮ হিজরী সনের পবিত্র ১১ই রজবুল হারাম শরীফ পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ উনার রাত্রে আমি যথারীতি পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও যিকির আযকার করে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখতে পাই, আমি আলমে নাসুত থেকে (পৃথিবী হতে) ঊর্ধ্বারোহন করে আলমে মালাকুত এবং আলমে মালাকুত থেকে জাবারুতে গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে এক বিশাল ময়দান দেখতে পেলাম। সেই ময়দানের এক পাশে মারওয়ারিদ পাথরের একটা তাবু টানানো। সেখান থেকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালেক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমার কাছে এসে বললেন, “হে হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম! আপনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ডাকছেন। আমি সাথে সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গেলাম। দেখলাম সমস্ত হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র রূহ মুবারক সেখানে উপস্থিত আছেন। সুবহানাল্লাহ! এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা কাতারবন্দী হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা খুব সুন্দর আসনের মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বসা অবস্থায় আছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে দেখামাত্র বসার জন্য ইশারা করলেন। আমি বসলাম।

কিছুক্ষণের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাশে এসে বসলেন। ইত্যবসরে দেখা গেল দুটি পবিত্র রূহ মুবারক এসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ডান জানু মুবারক ও বাম জানু মুবারকে বসলেন। বসার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম! আপনি আজ থেকে তিনদিন পর আমার কাছে চলে আসবেন। আমি চাই আপনি জাবারুতের অবস্থা দর্শন করে তা আলমে নাসূতের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন।’ 

একথা বলার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি কি জানেন এ মুবারক রূহ দুটি কার? আমার ডান জানু মুবারকে যার রূহ মুবারক দেখতে পেলেন তিনি আমার থেকে পাঁচশত বৎসর পর পৃথিবীতে আগমন করবেন। তিনি হলেন গাউসুল আ’যম হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং আমার বাম জানু মুবারকে যে রূহটি আছেন তিনি হলেন, হযরত আলী আহমদ ছাবের কালিয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার এ দুই খাছ মকবুল বান্দা দ্বারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনেক খিদমত নিবেন। 

তারপর পাশে বসে থাকা অবস্থায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি উনাদের বললেন, “আপনাদের পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ হওয়ার পর আমি আমার উম্মতের কথা ভাবি। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার এই দুই মাহ্বুব বান্দা দ্বারা আমাকে সুসংবাদ দান করেন। 

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি উক্ত স্বপ¦ দেখার পর ঘুম থেকে জেগে উঠলাম এবং সকালে উঠে ‘কাশফুল গুয়ুব’ কিতাবে তা লিপিবদ্ধ করলাম। এই ‘কাশফুল গুয়ুব’ কিতাব তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বেই লিখেছিলেন এবং সত্যিই তিনি তিনদিন পরে পবিত্র ১৪ই রজবুল হারাম শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। 

 সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন,  আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক-

 সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন,  আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক- 

সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ৬ষ্ঠ ইমাম। উনার মুবারক নাম জা’ফর। জা’ফর অর্থ সাগর। সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন ইলম, আক্বল-সমঝে, মা’রিফাত-মুহব্বত প্রাপ্তিতে সাগরতুল্য। কুনিয়াত- আবু আবদিল্লাহ ও আবু ইসমাঈল। ‘ছাদিক্ব¡’ হচ্ছে উনার বিশেষ লক্বব মুবারক। এই লক্বব মুবারক ছাড়াও উনার আরো অনেক লক্বব মুবারক রয়েছে যেগুলো উনার মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। তিনি ৯৬ হিজরী সনে ১৭ই রবীউল আউওয়াল শরীফ পবিত্র মদীনা শরীফ-এ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর ১৪৮ হিজরী সনের পবিত্র ১৪ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার সম্মানিত পিতা উনার নাম মুবারক হচ্ছেন ইমামুল খামীস সাইয়্যিদুনা ইমাম আবু জা’ফর মুহম্মদ বাকির আলাইহিস সালাম। যিনি ইমামুর রবি’ সাইয়্যিদুনা ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ অর্থাৎ ছেলে। উনার সম্মানিতা মাতা উনার মুবারক নাম হযরত উম্মে ফারওয়া বিনতে ইমাম কাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি। যিনি হযরত আসমা বিনতে আব্দুর রহমান ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম উনার মেয়ে। 

তরীক্বত উনার নিসবত:

সুলত্বানুল মাশায়িখ, ইমামুল মুহসিনীন, ইমামুল মুত্তাক্বীন, ফখরুল আরিফীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি তরীক্বত উনার দু’দিক থেকে নিসবত পেয়েছিলেন। দু’দিক থেকেই তিনি খাছ ফয়েজ হাছিল করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

প্রথমতঃ স্বীয় সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামুল মুত্তাক্বীন, সুলত্বানুল আরিফীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খামীস আলাইহিস সালাম উনার নিকট থেকে খাছ ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক হাছিল করেছিলেন। তিনি উনাকে স্বীয় ইমাম পদে সমাসীন করেন। তিনিই হচ্ছেন উনার গদ্দিনশীন। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে প্রাপ্ত খাছ নিয়ামত সীনা-ব-সীনা উনার মাধ্যমেই পেয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

 দ্বিতীয়তঃ পেশওয়ায়ে দ্বীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বিন, ইমামুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম কাশিম ইবনে মুহম্মদ ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবার আলাইহিস সালাম উনার থেকেও খাছ ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক হাছিল করেন। যিনি ছিলেন উনার সম্মানিত নানাজান।

 পেশওয়ায়ে দ্বীন, ইমামুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম কাসিম ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছহিবে রসূলিল্লাহ, ছহিবুল আসরার হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র হাত মুবারকে বাইয়াত গ্রহণ করেন। উনার থেকে খাছ ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক হাছিল করেন। মূলত, তিনিই ছিলেন উনার প্রধান খলীফা। সুবহানাল্লাহ!

আর ছহিবে রসূলিল্লাহ, ছাহিবুল আসরার হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছোহবতে থেকে খাছ ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক হাছিল করেন। উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার পর খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আমিরুল মু’মিনীন, আফজালুন্ নাছ বাদাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারকে বাইয়াত গ্রহণ করতঃ খাছ ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! (ইকতিবাসূল আনওয়ার/১৩৭)

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার মুবারক নছীহত মুবারক

 (১) নিজেকে হারাম বস্তু থেকে বাঁচাও, যা কিসমতে আছে তার উপর সন্তুষ্ট থাক; তবে ছুফী হতে পারবে।

(২) মনে রেখ মিথ্যাবাদী ভদ্র হয় না, হিংসুক আরাম পায় না, চরিত্রহীন নেতৃত্ব করতে পারে না।

(৩) দুশ্চরিত্রের সাথে চলাফেরা করিও না। তাহলে তোমার চরিত্র নষ্ট হতে সময় লাগবে না।

(৪) কারো গুণ দেখলে প্রশংসা করিও। দোষ দেখলে গোপন রাখিও এবং কেউ অন্যায় করিলে ক্ষমা করিও; তবেই তুমি নেককার মানুষ।

(৫) ক্রোধ-এর উৎপত্তি আগুন থেকে আর আগুন দ্বারাই দোযখ তৈরি করা হয়েছে। অতএব, সর্বদা ক্রোধ বর্জন কর।

(৬) পাঁচ প্রকার লোকের সাথে সংশ্রব রাখিও না। এক. মিথ্যাবাদী, কারণ মিথ্যাবাদীর কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুই. কৃপণ, কারণ কৃপণ নিজ লাভের জন্য তোমার ক্ষতি করে বসবে। তিন. নির্দয়, কারণ নির্দয় বিপদের সময় তোমার প্রতি দয়া দেখাবে না। চার. কাপুরুষ, কারণ কাপুরুষ বিপদের সময় নিজ নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। পাঁচ. ফাসিক, কারণ ফাসিকের নির্দিষ্ট কোনো চরিত্র নেই। সে নিজ স্বার্থে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সবসময় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুল্যবান নছীহত মুবারক পালনের তাওফীক দান করুন। আমীন

 সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত-বুযূর্গী-সম্মান মুবারক

 সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত-বুযূর্গী-সম্মান মুবারক

 সম্মানিত ও পবিত্র নাম মুবারক: সাইয়্যিদুনা  হযরত জা’ফর আলাইহিস সালাম; এর অর্থ- নদী, খাল, সাগর ইত্যাদি। মূল অর্থ হলো- জামিউন নিয়ামত তথা সমস্ত নিয়ামত মুবারক উনাদের অধিকারী এবং জামিউন নিসবত অর্থাৎ সমস্ত নিসবত মুবারক উনার অধিকারী। যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম হিসেবে বিশেষ নিয়ামত ও নিসবত মুবারক উনার অধিকারী, উম্মত হিসেবে মূল নিয়ামত ও নিসবত মুবারক উনার অধিকারী এবং যাহিরী, বাতিনী সমস্ত নিয়ামত ও নিসবত মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন, তাই তিনি হচ্ছে জামিউন নিয়ামত বা সমস্ত নিয়ামত রাজির অধিকারী এবং জামিউন নিসবত অর্থাৎ সমস্ত নিসবতের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত লক্বব মুবারক: ‘ছাদিক্ব’ হচ্ছেন, উনার একটি বিশেষ লক্বব মুবারক। তিনি হচ্ছেন সমস্ত ছাদিক্বীন উনাদের ইমাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ছাদিক্বীন উনাদের সঙ্গী হয়ে যাও।”

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন- এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক। এছাড়াও ফাদ্বিল, ত্বাহির উনার বিশেষ লক্বব মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। মূলত, তিনি সমস্ত উত্তম ছিফত মুবারক উনারই অধিকারী ছিলেন। তাই সেই দিক থেকে তিনি হচ্ছেন, জামিউল আলক্বাব বা সমস্ত লক্বব মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ও পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ষষ্ঠ ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি ৯৬ হিজরী সনের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৭ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইছনানিল আযীম শরীফ (সোমবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ সম্মানিত ও পবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর উনার সম্মানিত ও পবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ হচ্ছেন- ১৪৮ হিজরী শরীফ উনার পবিত্র ১৪ই রজবুল হারাম শরীফ ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) বাদ-ইশা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ৫২ বছর ৩ মাস ২৭ দিন অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

মুবারক পরিচিত: তিনি হচ্ছেন সম্মানিত পিতা উনার দিক থেকে- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম ইবনে মুহম্মদ বাকির আলাইহিস সালাম ইবনে যাইনুল আবেদীন আলী আওসাত আলাইহিস সালাম ইবনে সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম ইবনে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! আর নসবনামা হিসেবে তিনি হচ্ছেন যিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বংশধর তথা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। উনার ধমনী মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুন নাজাত মুবারক প্রবাহিত। সুবহানাল্লাহ!

তিনি সম্মানিত মাতা উনার দিক থেকে আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত। সুবহানাল্লাহ! 

উনার সম্মানিত মাতা উনার নাম মুবারক হচ্ছেন- হযরত উম্মে ফারওয়া আলাইহাস সালাম। উনার সম্মানিতা মাতা উনার নসবনামা মুবারক হচ্ছেন হযরত উম্মে ফারওয়া বিনতে হযরত ক্বাসিম ইবনে হযরত মুহম্মদ ইবনে সাইয়্যদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিমুস সালাম। সম্মানিত মাতা উনার দিক থেকে হযরত উম্মে ফারওয়া বিনতে হযরত আসমা বিনতে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে সাইয়্যদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিমুস সালাম। তিনি হচ্ছেন ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বারো (১২) ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে সাদিস বা ষষ্ঠ ইমাম। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত বারো ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের নাম মুবারক উনাদের তালিকা মুবারক নিম্নরূপ:

১. ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম।

২. ইমামুছ ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম। 

৩. ইমামুছ ছালিছ সাইয়্যিদুশ শুহাদা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম।

৪. ইমামুর রাবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আওসাত্ব জয়নুল আবেদীন আলাইহিস সালাম।

৫. ইমামুল খামিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ বাকির আলাইহিস সালাম। 

৬. ইমামুস সাদিস সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম।

৭. ইমামুস সাবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মূসা কাযিম আলাইহিস সালাম।

৮. ইমামুছ ছামিন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী রেযা আলাইহিস সালাম।

৯. ইমামুত তাসি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ ত্বক্বী আলাইহিস সালাম,

১০. ইমামুল আ’শির সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী নক্বী আলাইহিস সালাম।

১১. ইমামুল হাদি আ’শার সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসাকারী আলাইহিস সালাম, এবং

১২. ইমামুছ ছানি আ’শার সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ মাহদী আলাইহিস সালাম। (যিনি শেষ যামানায় আসবেন এবং হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাদের সঙ্গী হয়ে দাজ্জালারের বিরুদ্ধে জিহাদ করবেন।) সুবহানাল্লাহ!

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের যেমন আলাদা মাক্বাম তেমনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বারো (১২) ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাক্বামও আলাদা। সুবহানাল্লাহ!

সেই হিসেবে ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি কতটুকু বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার অধিকারী সেটা বলার অপেক্ষাই রাখে না। সুবহানাল্লাহ!

জামিউন নিয়ামত: ক্বাদেরীয়া তরীক্বার সিলসিলা অনুযায়ী ইমামুস সাদিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক সাত নম্বরে। আর নকশবন্দিয়া মুজাদ্দিদীয়া তরীক্বার সিলসিলা অনুযায়ী উনার নাম মুবারক পঞ্চম নম্বরে। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম হিসেবে মূল নিয়ামত মুবারকপ্রাপ্ত হয়েছিলেনই, তথাপি তিনি উম্মত হিসেবে মূল নিয়ামত হাছিল করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একজন উম্মত হিসেবে যতটুকু নিয়ামত ধারণ করা সম্ভব আমি আমার সমস্ত নিয়ামতটুকুই সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম উনার বক্ষ মুবারক-এ ঢেলে দিয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!

আর সেই নিয়ামতটুকুই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি উনার নানা হযরত ক্বাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাধ্যম দিয়ে হযরত সালমান ফার্সী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম উনার থেকে হাছিল করেন। সুবহানাল্লাহ!

সেই দিক থেকে তিনি হচ্ছেন জামিউন নিয়ামত ও নিসবত তথা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম হিসেবে মূল নিয়ামত ও নিসবত এবং উম্মত হিসেবে যে বিশেষ নিয়ামত ও নিসবত রয়েছে, সেই দুই নিয়ামত ও নিসবতকে একত্রকারী। সুবহানাল্লাহ!

এছাড়াও তিনি যাহিরী-বাতিনী সমস্ত নিয়ামত ও নিসবত মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন। মূলত, তিনি হচ্ছেন, সেই সম্মানিত ও  পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মিছদাক। যেই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, “আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে কাউছার তথা সমস্ত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১)

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। এক কথায় তিনি শুধু নবী-রসূল নন; এছাড়া সমস্ত মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান ও নিয়ামতের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!

আ’লামুন নাস: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন সমস্ত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত ও পবিত্র ইলিম মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!

একবার উনার যামানায় এক ব্যক্তি দাবি করলো যে, সে সমস্ত কিছু জানে, সে সমস্ত জ্ঞানের অধিকারী। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। তাকে উনার কাছে নিয়ে আসা হলো। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি নাকি সমস্ত কিছু জানো, বলে দাবি করো? সে বললো, হ্যাঁ। না‘ঊযুবিল্লাহ!

তখন তিনি যমীন থেকে একটা দুর্বাঘাস তুলে তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে তুমি বলো তো দেখি, পৃথিবীতে এই দুর্বাঘাসের সংখ্যা জোড় না বেজোড়? সে বললো, আমি জানি না। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমার তো জানা রয়েছে, পৃথিবীতে যতো দুর্বাঘাস রয়েছে, তার সংখ্যা জোড়। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি।”

তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি সমস্ত কিছুই জোড় সংখ্যক সৃষ্টি করেছি।” তখন উক্ত ব্যক্তি লা-জাওয়াব হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!

মুরীদ এবং খলীফা: সেই যামানার প্রায় সমস্ত লোকই উনার মুরীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। হানাফী মাযহাবের ইমাম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং সুলত্বানুল আরেফীন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার খলীফা ছিলেন। এছাড়া হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম দাঊদ তায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা উনার মুরীদ ছিলেন। অন্যদিকে রসায়ন বিজ্ঞানের জনক হযরত জা’বির ইবনে হাইয়্যান তিনিও উনার মুরীদ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! 

এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনি কিরূপ বেমেছাল ইলিম ও মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনাদের অধিকারী ছিলেন। যেটা সমস্ত মাখলুকাতের চিন্তা, কল্পনা ও ইলিমের বাইরে। সুবহানাল্লাহ!

মূলত, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করা হচ্ছে ঈমান এবং উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে কুফরী। তাই উনাকে মুহব্বত করা এবং উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে জানা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা উনাদের জন্য ফরয।

আর উনাকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করতে হলে, উনার হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান সম্পর্কে জানতে হলে, মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ্, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক-এ) জমায়েত হওয়া এবং উনার মুবারক হাতে বাইয়াত গ্রহণ করা, উনার ইতায়াত তথা অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, জ্বিন-ইনসান সকলের জন্য ফরয। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন!