সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার জন্য  “১২টি বিষয়” লাগবে-সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম।

 


সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,

“সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার জন্য

“১২টি বিষয়” লাগবে

যেমন- 

১. اَنْفَقَ دِيْنَارًا و دِرْهَامًا = টাকা-পয়সার ব্যবস্থা করা, টাকা-পয়সা খরচ করা

২.اِقْرَارَ زَمَانًا وَيَوْمًا وَسَاعَةً  = দিন এবং সময় নিশ্চিত করা

৩. أَخْلَاَ مَكَانًا = স্থান খালি করা অর্থাৎ মাহফিল উনার স্থান প্রস্তুত করা

৪. اَوْقَدَ سِرَاجًا = আলোর ব্যবস্থা করা

৫. تَبَخَّرَ = সুঘ্রানময় ধুপ জ্বালানো

৬.  تَعَطَّرَ = আতর-গোলাপ মাখা

৭. ذَبَحَ حَيَوَاناً  = পশু যবেহ করা, আক্বীক্বা মুবারক দেয়া

৮. هَيَّأَ طَعَامًا = খাদ্য প্রস্তুত করা

৯. لَبِسَ جَدِيْدًا = নতুন পোশাক পরিধান করা, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জামা-কাপড় পরিধান করতে হবে।

১০. جَـمَعَ اِخْوَانًا = লোকজন জমায়েত করা

১১. عَمِلَ اِحْسَانًا = ছানা-ছিফত মুবারক করা অর্থাৎ সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ পালন করা

১২. اَطْعَمَ طَعَامًا = খাদ্য খাওয়ানো

১ দিরহাম

مَنْ اَنْفَقَ دِرْهَـمًا فِـىْ مَوْلِدِىْ اِكْرَامًا فَكَاَنَّـمَا اَنْفَقَ جَبَلًا مِّنْ ذَهَبٍ اَحْـمَرَ فِـى الْيَتَامٰى فِـىْ سَبِيْلِ اللهِ.

অর্থ: যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে এক দিরহাম (চার আনা রূপা অথবা সমপরিমাণ অর্থ) খরচ করবেন, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় ইয়াতীমদেরকে এক পাহাড় পরিমাণ লাল স্বর্ণ দান করার ফযীলত মুবারক লাভ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (নি’য়মতুল কুবরা মাখতুত ১ম পৃষ্ঠা)

 

জান্নাতে থাকবে:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ كَانَ مَعِىَ فِـى الْـجَنَّةِ.

অর্থ: যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে সম্মান করবেন, তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে আমার সাথে অবস্থান মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

বন্ধু হবেন

مَنْ اَنْفَقَ دِرْهَـمًا فِـىْ مَوْلِدِىْ كَانَ رَفِيْقِىْ فِـى الْـجَنَّةِ.

অর্থ: “যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস উপলক্ষে এক দিরহাম খরচ করবেন, তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে আমার বন্ধু হবেন তথা আমার আখাছ্ছুল খাছ বিশেষ নিসবত মুবারক-এ থাকবেন।” সুবহানাল্লাহ!

ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম ১’শ উট জবাই,

يَوْمَ مَوْلِدِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَبَحَ حَضْرَتْ اَبُوْ بَكْرٍ الصّـِدّيْقُ عَلَيْهِ السَّلَامَ مِائَةَ نَاقَةٍ وَتَصَدَّقَ بِـهَا

অর্থ : “পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক দিনে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ১০০ উট যবেহ করতেন এবং তা বিলিয়ে দিতেন।” (হুকমু ইত্বয়ামিত ত্বয়াম ফী মুনাযিরাতিল ফারহি আও আতত তারহি; আন্ নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফি মাওলিদি সাইয়্যিদি ওয়ালাদি আ’যম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা ছালিছ উর্দূ তরজমাতি মা’য়া ইতেরাযাত কে তাহক্বিক্বী জওয়াবাত আওর তাফছিলী হালাতে মছান্নিফ কে সাত বা’নামে নে’য়মাতে কুবরা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম : পৃষ্ঠা ৫৪)

খাদ্য খাওয়ানো

مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ وَهُوَ لَيْلَةُ اثْنَـىْ عَشَرَ مِنْ رَّبِيْعِۣ الْاَوَّلِ بِاتِّـخَاذِهٖ فِيْهَا طَعَامًا كُنْتُ لَهٗ شَفِيْعًا يَّوْمَ الْقِيَامَةِ.

অর্থ: যে ব্যক্তি খাদ্য খাওয়ানোর মাধ্যমে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত তারিখ মুবারক মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ তথা সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ উনার মহাসম্মানিত রাত্র মুবারক (এবং দিবস মুবারক) উনাকে সম্মান করবেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন উনার জন্য শাফায়াতকারী হবো।” সুবহানাল্লাহ! (নি’য়মতুল কুবরা মাখতুত ১ম পৃষ্ঠা)

২৪ ঘন্টা সদা সর্বদা নবীজীর ধ্যানে খেয়ালে স্মরনে থাকতে হবে।


২৪ ঘন্টা নবীজীর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করলেই সকল নেক মকছুদ পূর্ণ হবে, এবং জীবনের সকল গুনাহ খতা ক্ষমা হবে। অর্থাৎ সদা সর্বদা নবীজীর ধ্যানে খেয়ালে স্মরনে থাকতে হবে।

সহীহ হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে,
قَالَ أُبَىٌّ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُكْثِرُ الصَّلاَةَ عَلَيْكَ فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلاَتِي فَقَالَ ‏"‏ مَا شِئْتَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ الرُّبُعَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ النِّصْفَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ فَالثُّلُثَيْنِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ أَجْعَلُ لَكَ صَلاَتِي كُلَّهَا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏
হযরত উবাই ইবনু কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তো খুব অধিক হারে আপনার প্রতি দরুদ শরীফ পাঠ করি। আপনার প্রতি দরুদ পাঠের জন্য আমি আমার সময়ের কতটুকু খরচ করবো? তিনি বললেন, আপনি যতক্ষণ ইছা করুন। আমি বললাম, এক-চতুর্থাংশ সময়? তিনি বললেন, আপনি যতটুকু ইচ্ছা করুন, তবে এর চেয়ে অধিক পরিমাণে পাঠ করতে পারলে এতে আপনারই ভালো হবে। আমি বললাম, তাহলে আমি কি অর্ধেক সময় দরুদ পাঠ করবো? তিনি বললেন, আপনি যতক্ষণ চান, যদি এর চেয়েও বাড়াতে পারেন সেটা আপনার জন্যই কল্যাণকর। আমি বললাম, তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ সময় দরুদ শরীফ পাঠ করবো? তিনি বললেন, আপনি যতক্ষণ ইচ্ছা করুন, তবে এর চেয়েও বাড়াতে পারলে আপনারই ভাল। আমি বললাম, তাহলে আমার পুরো সময়টাই (২৪ ঘন্টা) আপনার দরুদ পাঠে কাটিয়ে দিব? তিনি বললেন, যদি আপনি এরূপ করতে পারেন, তাহলে আপনার সমস্ত নেক মাক্বছূদগুলো পূর্ণ করে দেয়া হবে এবং আপনার সমস্ত গুনাহখতাগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে।"

(দলীল- মিন হাদীছু ইমাম ছুফিয়ান ইবনে সাঈদ আছছাওরী ২৪, মসুনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদ ১৭০, তিরমিযী শরীফ ২৪৫৮, মুসতাদরাক আলাছ ছহীহাইন ৩৫৭৮, শুয়াবুল ঈমান বায়হাকী ১৪১৮, মিছবাহুছ সুন্নাহ লিল বাগবী ৬৬১, তারীখে মাদীনাতু দিমাষ্ক ৭/৩৩১)

হাদীছ শরীফ বর্ণনা করে ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ এই হাদীছ শরীফখানা হাসান। (তিরমিযী ৪/২১৮)

ইমাম হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ وَلَمْ يُخْرِجَاهُ এই পবিত্র হাদীছ শরীফের সনদ সহীহ, যদিও ইমাম বুখারী মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেনি। (মুসতাদরাক আলাছ ছহীহাইন ২/৪৫৭)

ইমাম যাহাবী মুসতাদরাকের তাহকীক করতে গিয়ে হাদীছ শরীফ সম্পর্কে বলেন, صحيح হাদীছ শরীফখানা সহীহ। (মুসতাদরাক আলাছ ছহীহাইন ২/৪৫৭)

ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি হাদীছ শরীফ উল্লেখ করে «حديث حسن» হাদীছ শরীফখানা হাসান বলেছেন (রিয়াদুছ ছলেহীন ১৯৫ পৃষ্ঠা)

এছাড়া নাসিরুদ্দীন আলবানীও হাদীছ শরীফখানা হাসান ছহীহ হিসাবে তার তাহকীকে উল্লেখ করেছে।

সূতরাং এই পবিত্র হাদীছ শরীফখানা থেকে প্রমাণিত হলো, সদা সর্বদা নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিকিরে, উনার স্মরনে মশগুল থাকাই হচ্ছে নিয়ামত লাভের অন্যতম মাধ্যম। অথচ আজকাল খারেজী আক্বীদার মানুষ বলে উনার আলোচনা বেশি করা নাকি বিদয়াত।
আল্লাহ পাক ফিতনাবাজ খারেজী সম্প্রদায় থেকে আমাদের হিফাজত করুন। আমাদের সবাইকে আপনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যিকিরে মশগুল থাকার তৌফিক দান করুন।

সবচেয়ে বড় নাফরমান সর্বোচ্চ জান্নাতী
 
সবচেয়ে বড় নাফরমান সর্বোচ্চ জান্নাতী

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন

إن رجلا عصى الله مائتي سنة يتمرد ويجترئ عليه فيها كلها فلما مات أخذ بنو إسرائيل برجله والقوه على مزبلة فأوحى الله إلى حضرت موسى عليه الصلوة والسلام أن غسله وكفنه وصلى عليه في جمع بني إسرائيل ففعل ما أمره الله تعالى به فتعجب بنو إسرائيل من ذلك فأخبروه انه لم يكن في بني إسرائيل أغنى منه ولا أكثر معاصي منه فقال قد علمت ولكن الله أمرني بذلك فقالوا سل ربك فسال حضرت موسى عليه السلام ربه عز وجل فقال يا رب قد علمت ما قالوا فأوحى الله إليه أن صدقوا ما


قالوا إنه عصاني مائتي سنة إلا أن يوما من الأيام فتح التوراة فنظر إلى اسم سيدنا مؤلنا محمد صلى الله عليه وسلم مكتوبا فقبله ووضعه بين عينيه وفي رواية أخرى وصلى

عليه فشكرت له ذلك فغفرت له ذنوب مائتي سنة وزوجته سبعين حوراء অর্থ: “নিশ্চয়ই (বনী ইসরাঈলে) এক ব্যক্তি (যে দুই শত বছর হায়াত পেয়েছিলো এবং) দুই শত বছর মহান আল্লাহ পাক উনার নাফরমানী করেছিলো। সে তার সম্পূর্ণ হায়াতে মহান আল্লাহ পাক উনার চরম অবাধ্য ও নাফরমানীতে মশগূল ছিলো, বেপরওয়া ছিলো। (যার কারণে কেউ তাকে পছন্দ করতো না এবং সকলে চরম ঘৃণা করতো।) ফলে সে যখন ইন্তেকাল করল, তখন বনী ইসরাঈলরা তার পায়ে ধরে তাকে টেনে হেঁচড়ে গোবর পূর্ণ স্থানে, গোবরের স্তূপে নিক্ষেপ করল। তারপর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি জলীলুল ক্বদর নবী এবং রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত ওহী মুবারক করেন যে, তিনি যেন বণী ইসরাঈলের সমস্ত লোকজন নিয়ে ঐ ব্যক্তির গোসল, কাফন ও দাফনের ব্যবস্থা করেন এবং তার জানাযার নামায পড়েন। মহান আল্লাহ পাক তিনি যা নির্দেশ মুবারক করলেন, হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি তাই করলেন। এই কারণে বনী ইসরাঈলরা আশ্চর্য হলো। তারা বললো, সে এমন এক ব্যক্তি- যার মতো অত্যধিক সীমালঙ্গনকারী, চরম অবাধ্য, অত্যন্ত কঠিন হৃদয়ের অধিকারী, চরম বেপরওয়া, কর্কশভাষী, বড় যালিম, চরম বেআদব, সেরকাশী (অবাধ্য ) এবং অত্যধিক পাপীষ্ঠ, গুণাহগার আর কেউ ছিলো না। হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, নি:সন্দেহে আমি তা জানি। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এরূপ করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তখন তারা সবাই বললো, আপনি (দয়া করে) আপনার রব তা'য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনাকে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করুন (যে, এর হাক্বীক্বত কী?)। তারপর হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার রব তা'য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনাকে সুওয়াল করলেন। তিনি বললেন, আয় বারে এলাহী! বনী ইসরাঈলরা যা বলেছে আপনি অবশ্যই তা জানেন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত ওহী মুবারক করলেন যে, বনী ইসরাঈলরা যা বলেছে তা সত্যই বলেছে। নিশ্চয়ই সে দুই শত বছর আমার নাফরমাণী করেছে। তবে সে একদিন সম্মানিত ও পবিত্র তাওরাত শরীফ খুলে দেখতে পেলো যে, সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিখিত রয়েছেন।


তখন সে খুশি মুবারক প্রকাশ করে অত্যন্ত মুহব্বতে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবুব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম মুবারক 'সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে (একবার মাত্র) বুছা দিয়েছিলো এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করে অত্যন্ত মুহব্বতে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম মুবারক তার দুই চোখে লাগিয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! অপর বর্ণনায় রয়েছেন, এবং সে উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করেছিলো অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করেছিলো। সুবহানাল্লাহ! এই কারণে আমি তাকে উত্তম প্রতিদান দান করেছি। সুবহানাল্লাহ! তার দুই শত বছরের (জীবনের) সমস্ত গুণাহ-খতাগুলো ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তার সাথে সত্তর জন হুরের বিবাহ দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ তার উপর জাহান্নাম হারাম করে সম্মানিত জান্নাত মুবারক ওয়াজিব করে দিয়েছি এবং আপনার মতো একজন জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল উনার জন্য তার গোসল, কাফন ও দাফনের ব্যবস্থা করা এবং তার জানাযার নামায পড়া ফরয করে দিয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (খছায়িছল কুবরা ১/২৯, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/৪১২, সীরাতে হালবিয়্যাহ ১/১৩৬, তাফসীরে দুররে মানছুর ৩/৫৭৯, শরহুল বুখারী ২/১১৯ ইত্যাদি)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক মাত্র একবার বুছা দিলে, চোখে স্পর্শ মুবারক করলে অথবা উনার প্রতি একবার সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করলে অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে সামান্য সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করলে যদি দুইশত বছরের সমস্ত গুনাহ্-খতা মাফ করে দেয়া হয়, ঐ ব্যক্তি উনার উপর জহান্নাম হারাম করে দিয়ে সম্মানিত জান্নাত মুবারক ওয়াজিব করে দেয়া হয়, ৭০ জন হুরের সাথে বিবাহ দেওয়া হয় এবং ঐ ব্যক্তি উনার গোসল, কাফন ও দাফনের ব্যবস্থা করা এবং তার জানাযার নামায পড়া জলীলুল ক্বদর নবী এবং রসূল হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর ফরয করে দেয়া হয়, তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করার ফযীলত মুবারক কতো বেমেছাল এটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! আর এই উম্মত যদি খালিছ নিয়তে দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করে, তাহলে কতো বেমেছাল নিয়ামত মুবারক লাভ করবে, সেটা বলার অপেক্ষাই রাখেনা। সুবহানাল্লাহ!


সম্মানিত মুসলমান উনাদেরকে এই সীমাহীন নিয়ামত ও ফযীলত মুবারক থেকে মাহরূম করার জন্য বাতিল ৭২ ফিরক্বার লোকেরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকে, নানা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! সারা দুনিয়ার সমস্ত সম্মানিত মুসলমান উনাদের জন্য ফরয হচ্ছেন বাতিল ৭২ ফিরক্বার লোকদের সর্বপ্রকার বিভ্রান্তি ও চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বালের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া এবং যথাযথ তা'যীম-তাকরীম এবং সীমাহীন আদব-শরাফত ও মুহব্বতের সাথে, সাখাওয়াতির সাথে, অত্যন্ত জাকযমকের সাথে দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করা। সুবহানাল্লাহ!

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে, উনারই জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে ইতিহাসে নযীরবিহীন অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক জারী করেছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! এরপরেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাস মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুরিল আ'যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) মাস উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'দাদ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ) উনার সম্মানার্থে ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উপলক্ষে বিশেষভাবে ৯০ দিনব্যাপী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার ইন্তেজাম মুবারক করেছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! তাই সকলের জন্য ফরয হচ্ছেন- জান-মাল সমস্ত কিছু দিয়ে হাক্বীক্বীভাবে উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মুতুহ্হার, মুত্বাহির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করার নিয়ত করার কারণে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তিলাভ


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করার নিয়ত করার কারণে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তিলাভ

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন

إنه كان في زمان الخليفة عبد الملك بن مروان شاب حسن الصورة في الشام وكان يلهو بركوب الخيل فبينما هو ذات يوم على ظهر حضانه إذ أجمل الحصان وحمله في سكك الشام ولم يكن له قدرة على منعه فوقع طريقه على باب الخليفة فصادف ولده ولم يقدر الولد على رد الحصان فصدمة بالفرس وقتله فوصل الخبر إلى الخليفة فأمر بإحضاره فلما أن أشرف إليه خطر على باله أن قال إن خلصنى الله تعالى من هذه الواقعة أعمل وليمة عظيمة واستقرى فيها مولد النبي صلى الله عليه وسلم فلما حضر قدامه ونظر إليه ضحك بعد ما كان يخلفه الغضب فقال يا لهذا أتحسن السخر قال لا والله يا أمير المؤمنين فقال عفوت عنك ولكن قل لي ماذا قلت قال قلت إن خلصنى الله تعالى من هذه الواقعة الجسيمة أعمل له وليمة لأجل مولد النبي صلى الله عليه وسلم فقال الخليفة قد عفوت عنك وهذه ألف دينار لأجل مولد النبي صلى الله عليه وسلم وأنت في حل من دم ولدي فخرج الشاب وغفى عن القصاص وأخذ ألف دينار ببركة مولد النبي صلى الله عليه وسلم

অর্থ: “কথিত উমাইয়্যা খলীফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান (ইবনে হাকাম ইবনে আবুল আছ আমর ইবনে উমাইয়্যাহ্) এর শাসনামলে শামদেশে একজন সুদর্শন যুবক ছিলেন। তিনি অশ্বারোহন খুব পছন্দ করতেন। একদিনের কথা যখন তিনি উনার একটি উন্নত জাতের ঘোড়ার পিঠে আরোহন করেন, তখন হঠাৎ ঘোড়াটি ভয় পেয়ে উনাকে নিয়ে শামদেশের রাস্তাসমূহে চলতে থাকে। কিন্তু ঘোড়াটিকে নিয়ন্ত্রণ করার উনার কোনো ক্ষমতা ছিলো না। ফলে ঘোড়াটি কথিত খলীফা আব্দুল মালিকের (রাজপ্রাসাদের) দরজায় গিয়ে উপনীত হয় । তখন কথিত খলীফা আব্দুল মালিকের এক ছেলে আকস্মিকভাবে ঘোড়ার সামনে এসে পড়ে, আর সেও ঘোড়াটিকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হলো না। তখন ঘোড়াটি কথিত


খলীফার ছেলেকে আঘাত করে হত্যা করে ফেলে। এই সংবাদ কথিত খলীফার নিকট পৌঁছলে সে যুবক ছেলেটিকে তার সামনে উপস্থিত করার জন্য আদেশ করে। অতঃপর যখন কথিত খলীফা (রাজপ্রাসাদের) উপর থেকে উনার দিকে দৃষ্টি দেয়, তখন উনার অন্তরে এই কথার উদয় হয় যে, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাকে এই কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে আমি একটি বড় ওলীমা বা খাবারের মজলিসের ব্যবস্থা করে সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু'জিযাহ্ শরীফসমূহ, ঘটনা মুবারকসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করবো, বিশ্লেষণ করবো। অতঃপর যখন সেই যুবক কথিত খলীফার সামনে উপস্থিত হন, তখন কথিত খলীফার সেই যুবক উনাকে গলা টিপে হত্যা করার মত গোস্বা থাকা সত্ত্বেও উনাকে দেখে হেসে দিয়ে বললো- 'হে যুবক! আপনি কি নিখুঁত জাদু করেন?' জবাবে যুবক বললেন- 'হে আমীরুল মু'মিনীন! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি জাদু করিনা।' অতঃপর কথিত খলীফা বললো, “আমি আপনার অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম; কিন্তু আপনি কি বলেছেন, তা আমাকে বলুন।' যুবক ছেলেটি বললেন, 'আমি বলেছিলাম- 'মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাকে এই কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে আমি একটি বড় ওলীমা বা খাবারের মজলিসের ব্যবস্থা করবো।' তখন কথিত খলীফা বললো, 'আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আর এই নিন ১ হাজার দীনার (স্বর্ণমুদ্রা), মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে আপনাকে আমি এটা হাদিয়া করলাম এবং আপনি আমার ছেলের হত্যার অপরাধ থেকেও মুক্ত।' অতঃপর যুবক ছেলেটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি থেকে ক্ষমা পেয়ে এবং এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা গ্রহণ করে বের হয়ে গেলেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইয়ানাতুত ত্বালিবীন ৩/৪১৫)

অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করা এবং উনার সম্মানার্থে খরচ করার নিয়ত করলেই মৃত্যুদণ্ডসহ ইহকালীন-পরকালীন সমস্ত প্রকার বিপদ-আপদ, বালা-মুসীবত থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। সুবহানাল্লাহ!

উপরোক্ত ঘটনা মুবারক বর্ণনা করার পর ‘ইয়ানাতুত ত্বালিবীন' কিতাবের



লেখক আল্লামা সাইয়্যিদ আবূ বকর মক্কী দিমইয়াতী শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

وإنما أطلت الكلام في ذلك لأجل أن يعتني ويرغب جميع الإخوان في قراءة مولد سيد ولد عدنان صلى الله عليه وسلم لأن من لأجله خلقت الأرواح والأجسام بحق أن يهدي له الروح والمال والطعام وفقنا الله وإياكم لقراءة مولد نبيه الكريم صلى الله عليه وسلم على الدوام وإنفاق المال لأجله في سائر الأوقات والأيام. أمين

অর্থ: “প্রকৃতপক্ষে আমি এই বিষয়ে কথা দীর্ঘায়িত করেছি এই কারণে যে, যাতে সমস্ত মুসলমান উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালনে মনযোগী এবং আগ্রহী হন। কেননা তিনিই সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওজুদ পাক মুবারক যে, উনার সম্মানার্থেই সমস্ত রূহ এবং জিসিম সৃষ্টি করা হয়েছে অর্থাৎ সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টি করা হয়েছে। উনার সম্মানার্থেই জান, মাল, খাদ্য-দ্রব্য সমস্ত কিছু হাদিয়া পেশ করা সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য অর্থাৎ ফরয। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করার এবং উনার সম্মানার্থে, উনার জন্যই সর্বকালে এবং সবসময় সমস্ত ধন-সম্পদ ব্যয় করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!” (ই—য়ানাতুত ত্বালিবীন ৩/৪১৫)
নফসের অনুসারী এবং মন্দ আমলের কারণে সকলের নিকট নিন্দনীয় হওয়া সত্ত্বেও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ পালনকারী উনাকে ইন্তেকালের পর মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ ওলী হিসেবে ঘোষণা এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বিশেষ সম্মান লাভ
উল্লেখ্য যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক সম্পর্কে বাস্তবেও অসংখ্য ঘটনা মুবারক বর্ণিত রয়েছেন। নিম্নে কয়েকখানা ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হলো

১) নফসের অনুসারী এবং মন্দ আমলের কারণে সকলের নিকট নিন্দনীয় হওয়া সত্ত্বেও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালনকারী উনাকে ইন্তেকালের পর মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ ওলী হিসেবে ঘোষণা এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বিশেষ সম্মান লাভ

কিতাবে উল্লেখ রয়েছেন-
إنه كان في زمان أمير المؤمنين هارون الرشيد شاب في البصرة مشرف على نفسه وكان أهل البلد ينظرون إليه بعين التخفير لأجل أفعاله الخبيثة غير أنه كان إذا قدم شهر ربيع الأول غسل ثيابه وتعطر وتجمل وعمل وليمة واستقرا فيها مولد النبي صلى الله عليه وسلم ودام على هذا الحال زمانا طويلا ثم لما مات شمع أهل البلد هاتفا يقول أحضروا يا أهل البصرة واشهدوا جنازة ولي من أولياء الله فإنه عزيز عندي فحضر أهل البلد جنازته ودفنوه فراوة في المنام وهو يرفل في خلل سندس واستبرق فقيل له يم يلت هذه الفضيلة قال بتعظيم مولد النبي صلى الله عليه وسلم অর্থ: “কথিত খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় বছরা শহরে নফসের অনুসারী এক যুবক ছিলো। শহরের লোকেরা তার মন্দ কাজের জন্য তাকে ঘৃণার চোখে, অবজ্ঞার চোখে দেখতো। তবে যখনই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুরিল আ'যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) মাস আগমন করতেন, তখনই এই যুবক উত্তমরূপে উনার কাপড় ধৌত করে সুগন্ধি ব্যবহার করে সুসজ্জিত হয়ে ওলীমা বা খাবারের মজলিস অর্থাৎ মেহমানদারীর ব্যবস্থা করতেন এবং সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু'জিযাহ্ শরীফসমূহ, ঘটনা মুবারকসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করতেন, বিশ্লেষণ করতেন। আর তিনি এই সম্মানিত আমল মুবারক উনার মধ্যে দীর্ঘসময় লেগে থাকেন অর্থাৎ প্রতি বছর সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুরিল আ'যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) মাস আগমন করলেই তিনি এরূপ করতেন । সুবহানাল্লাহ! তারপর যখন তিনি ইন্তিকাল করেন, তখন শহরবাসীগণ গায়েবী আওয়াজ শুনতে পান যে, একজন ঘোষণাকারী বলছেন- “হে বছরার অধিবাসীগণ! আপনারা একত্রিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনাদের মধ্য থেকে একজন বিশেষ ওলীআল্লাহ উনার জানাযায় উপস্থিত হোন । কেননা তিনি আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তিত্ব মুবারক।' তখন শহরবাসীগণ উনার জানাযায় উপস্থিত হন এবং উনার দাফন সম্পন্ন করেন। তারপর শহরবাসীগণ স্বপ্নে দেখেন যে, সেই যুবক তিনি পাতলা এবং পুরু কারুকার্যপূর্ণ জান্নাতী রেশমী পোশাক পরে অত্যন্ত শান-শওকতের সাথে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বিচরণ করছেন। সুবহানাল্লাহ! তখন উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো ‘এই শ্রেষ্ঠত্ব-মর্যাদা আপনি কিভাবে লাভ করলেন?' তিনি বললেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনাকেতা'যীম-তাকরীম, সম্মান প্রদর্শন করার মাধ্যমে।” সুবহানাল্লাহ! (ইয়ানাতুত ত্বালিবীন ৩/৪১৫, আশ্ শারফুল আমজাদ ২৫৬ নং পৃষ্ঠা)
#7RobiulAwalShareef
#12RobiulAwalShareef
#90DaysMahfil 
#RajarbagDorberShareef
sunnat.info
Sm40.com
ঈমানের সাথে ইন্তেকাল এবং বিনা  হিসেবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ
ঈমানের সাথে ইন্তেকাল এবং বিনা  হিসেবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ

এ সম্পর্কে ইমামুল আউয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,
من عظم مولد النبي صلى الله عليه وسلم وكان سببا لقرائته لا يخرج من الدنيا إلا

بالإيمان ويدخل الجنة بغير حساب

অর্থ: “যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনাকে সম্মান করবেন, মর্যাদা দিবেন এবং এই উদ্দেশ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মীলাদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজাম মুবারক করবেন, তিনি অবশ্যই সম্মানিত ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন এবং বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ৬ নং পৃষ্ঠা, নাফহাতুল আম্বরিয়া ৮ নং পৃষ্ঠা, মাদারিজুস সউদ, তালহীনুছ ছাননাজ ইত্যাদি)
#7RobiulAwalShareef
#12RobiulAwalShareef
#90DaysMahfil 
#RajarbagDorberShareef
sunnat.info
Sm40.com