হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক । (পর্ব- ১৬৭৭-১৬৮০)
পিডিএফ লিংক- https://drive.google.com/open?id=1umo8c6MnYMfK07E3v5CvZ7RMmdfA3FIF


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি শাহিদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি মুত্ত্বলা’ আলাল গইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত জীবনী মুবারক (১৬৭৭)
২৭শে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুর তথা মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ উম্মুল মু’মিনীন আল খমিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
 খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
 النَّبِيُّ أَوْلَىٰ بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ ۖ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ ۗ
 অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মু’মিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়ে অধিক প্রিয়, উনাদের মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার মহাসম্মানিতা ‘আযওয়াজুম মুত্বহহারাত’ (হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম) উনারা হচ্ছেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
 স্মরণীয় যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট ১৩ জন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার মুবারক ধারাবাহিকক্রম অনুযায়ী উম্মুল মু’মিনীন আল খমিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আল খ¦মিসাহ তথা পঞ্চম’। এ জন্য উনাকে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল খমিসাহ্ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। তিনি সকলের মাঝে ‘উম্মুল মু’মিনীন আল খমিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’ হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি আইয়্যামে জাহিলিয়াতের যুগেই সকলের মাঝে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তবে উনার মূল মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসম মুবারক হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম’সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! উনাকে সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করা, উনার সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ! তাই উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক জানাও সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি শাহিদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি মুত্ত্বলা’ আলাল গইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত জীবনী মুবারক (১৬৭৮)
 ২৭ শে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুর তথা মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ উম্মুল মু’মিনীন আল খমিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
উম্মুল মু’মিনীন আল খমিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক: উম্মুল মু’মিনীন আল খমিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারক কোন কিতাবাদীতে উল্লেখ নেই। এটা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত আফসোসের বিষয় যে, মুসলমানরা উম্মুল মু’মিনীন আল খমিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারক সংরক্ষণ করতে পারেনি। না‘ঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ ও ইমাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আখাছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, ইমামুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন একমাত্র যিনি খলিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে উনার রয়েছেন বেমেছাল হাক্বীক্বী দায়িমী তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত এবং যিয়ারত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ ও ইমাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আখাছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, ইমামুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
 أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ قَالَ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ.
অর্থ: “আমাকে ইহসান সম্পর্কে সংবাদ দিন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তুমি এমনভাবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ইবাদাত মুবারক করো, যেন তুমি উনাকে দেখতে পাচ্ছো। আর যদি তুমি উনাকে দেখতে না পাও, তবে (ধারণা করো যে) তিনি তোমাকে দেখছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, সুনানে নাসায়ী শরীফ, মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি শাহিদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি মুত্ত্বলা’ আলাল গইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত জীবনী মুবারক (১৬৭৯)
২৭শে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুর তথা মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ উম্মুল মু’মিনীন আল খমিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
 অর্থাৎ ইহ্সানের দুইটি দরজা- ১. যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখে দেখে ইবাদাত-বন্দেগী করতে হবে। ২. যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে ধারণা করতে হবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে দেখছেন। দায়িমীভাবে এই দুইটি অবস্থার যে কোনো একটি অবস্থা থাকতেই হবে। সুবহানাল্লহ!
আর দায়িমী হুযূরী বলতে যেটা বুঝায়- সেটা হচ্ছে, সবসময় যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখে দেখে ইবাদত-বন্দেগী করা। সুবহানাল্লাহ! আর ২৪ ঘন্টা দায়িমীভাবে তো হুযূরী থাকবেই, তবে নামায উনার মধ্যে বিশেষ হুযূরী থাকবে। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সাথে সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে দায়িমীভাবে দেখে দেখে সমস্ত ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে হুযূরী পূর্ণতায় পৌঁছবে, অন্যথায় কস্মিনকালেও হুযূরী পূর্ণতায় পৌঁছবে না।” সুবহানাল্লাহ!
 সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ ও ইমাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আখাছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, ইমামুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৩৯ হিজরী শরীফ উনার ২৩শে রমাদ্বান শরীফ লাইলাতুস সাব্ত শরীফ সম্মানিত তারাবীহ নামায এবং মক্ববূল মুনাজাত শরীফ শেষে ইরশাদ মুবারক করেন, “আজ আমি যখন সম্মানিত ‘ঈশার নামায উনার সম্মানিত নিয়ত মুবারক করলাম, তখন দেখলাম যিনি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার বিশেষ যিয়ারত মুবারক করালেন। সুবহানাল্লাহ! সবসময় তো উনাদের সম্মানিত যিয়ারত মুবারক রয়েছে, তবে এটা বিশেষ যিয়ারত মুবারক। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত রুকু ও সম্মানিত সিজদাহ মুবারক উনার তাসবীহ্ মুবারকগুলো নিয়ন্ত্রণ মুবারক করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি শাহিদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি মুত্ত্বলা’ আলাল গইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত জীবনী মুবারক (১৬৮০)
২৭শে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুর তথা মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ উম্মুল মু’মিনীন আল খমিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
স্বাভাবিকভাবে যদি ধরা হয়, তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পুরো বিষয়টা নিয়ন্ত্রণ করেন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি। এরপরে হচ্ছেন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ!
তাহলে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে, আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে , সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ ও ইমাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আখাছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, ইমামুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কতো বেমেছাল তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক, তা এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! তিনি দায়িমীভাবেই উনাদের হাক্বীক্বী দায়িমী দীদার মুবারক, তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক-এ মশগূল রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে একমাত্র উনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারকসমূহ প্রকাশ করা। সুবহানাল্লাহ! তিনি ১৪৩৯ হিজরী শরীফ উনার ৪ঠা শাওওয়াল শরীফ লাইলাতুছ ছুলাছা’ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রত্যেকের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারকসমূহ ঘোষণা মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

সালাফীরা ২০ রাকাত তারাবিহ নামাজ নিয়ে প্রতারণা













সালাফীরা ২০ রাকাত তারাবিহ নামাজ নিয়ে প্রতারণা 
চুরি বাটপারী করতে করতে তারা এতই নিচে নেমেছে যেটা বলার ভাষা নাই। তারাবীহর নামাযকে তারা কোন ভাবেই ২০ রাকাত মানতে পারছে না। কিন্তু তারা না চাইলে কি হবে ২০ রাকাততো সহীহ সনদে প্রমানিত। সালাফীদের যেহেতু একটা মুখস্ত অভ্যাস শিখিয়ে দেয়া হয়েছে তাদের মতের খিলাফ হলেই সেটা জাল, এবং সেই সনদের সবাই মিথ্যাবাদী হয়ে যায়।

তারাবীর নামাজকে অস্বীকার করতে গিয়ে এমনই একটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে সালাফীরা । কিন্তু ভুল জায়গায় হাত পড়ে গেছে, স্বয়ং বুখারী শরীফের প্রথম হাদীস শরীফে। মুছান্নাফে ইবনে আবি শায়বার একটা হাদীস যেখানে ২০ রাকাত তারাবীহর পক্ষে মুরসাল সনদ বর্ণিত আছে। এই হাদীস শরীফের একজন রাবী হচ্ছেন হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। যাকে তাওহীদ পাবলিকেশনস এর প্রকাশিত বুখারীর টিকায় এক সালাফী মিথ্যাবাদী বলেছে। এবং বলেছে তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত, অর্থাৎ উনার কোন বর্ণনা গ্রহন করা যাবে না। (তাওহীদ প্রকাশনির সম্পাদনায় বুখারী শরীফের ২য় খন্ড ৩৪৩ পৃষ্ঠা)

কিন্তু বাংলায় প্রবাদ আছে চোরের দশ দিন আর গৃহের মালিকের একদিন। সূতরাং চোর ধরা পরে গেলো। এবং গনধোলাইয়ের দায়িত্ব জনগনের হাতে ন্যাস্ত করা হলো। সেই তাওহীদ প্রকাশনির সম্পাদনায় বুখারী শরীফের ১ম খন্ড ২য় পৃষ্ঠা ১ নং হাদীস শরীফ এর সনদটা একটু পড়ুন। যারা আরবী পড়তে পারেন না তারা কাউকে দিয়ে পড়িয়ে নিন। আমি লাল কালিতে আন্ডারলাইন করে দিয়েছি। বুখারী শরীফের ১ম হাদীস “ইন্নামা আ’মালু বিন্নিয়াত” এই মশহুর হাদীস শরীফের রাবী হচ্ছেন হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। 

সালাফীরা তারাবীহকে অস্বীকার করতে নফসের দ্বারা প্রতারিত হয়ে হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে মিথ্যাবাদী বলতেও কুন্ঠাবোধ করে নাই। অথচ ১ নং হাদীস শরীফে কিন্তু হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহি সালাফীদের কাছে চরম সত্যবাদীই আছেন। যেই তিনি অন্য কিতাবে তারাবীর নামাজ ২০ রাকাত বলে ফেললেন সাথে সাথে মিথ্যাবাদী হয়ে গেলেন। আল্লাহ পাক ক্ষমা করুন।
এখন বলুন ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কি জাল হাদীস বর্ণনা করতেন?

ভয়ানক বিষয় হচ্ছে এই অপবাদ দিতে গিয়ে সালাফী তাহকীক কারী হযরত ইবনে হাতীম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতিও মিথ্যারোপ করেছে। কারন হযরত ইবনে হাতীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কিতাব জরাহ ওয়াত তাদীল কিতাবে হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল আনছারী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে মিথ্যাবাদী বলেন নাই, বরং সিক্বাহ ও চরম সত্যাবাদী হাদীস শরীফের শায়েখ বলেছেন। যা আমি পরবর্তীতে স্ক্যান করে দেখাবো ইনশা আল্লাহ।

এখন আপনারাই বিচার করেন । এই হলো নামাজ চোর সালাফীদের হাক্বীকত। এরা হাদীস শরীফ নিয়েও মিথ্যাচার করতে পিছুপা হয় না। হাদীস শরীফে আছে, যে আমার নামে মিথ্যাচার করলো সে যেন দুনিয়া থাকতেই তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারন করে নিল। (বুখারী শরীফ ১১০)

আল্লাহ পাক এই মিথ্যাবাদীদের হাত থেকে সহজ সরল মুসলমানদের হিফাজত করুন। আর এদের লাঞ্ছিত করে সঠিক বিষয় দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।

তাওহীদ পাবলিকেশন থেকে সম্পাদিত বুখারী শরীফের ডাউনলোড লিংক (http://bit.ly/1X4bZvv)
অনাগত সন্তান ছেলে না মেয়ে জানুন শরীয়তসম্মত পন্থায়

অনাগত সন্তান ছেলে না মেয়ে জানুন শরীয়তসম্মত পন্থায়

****************************
ছেলে মেয়ে তথা সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এটার ক্ষেত্রে নারী পুরুষের কারো এখতিয়ার নেই। অনেকে অনাগত সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে সেটা পরীক্ষা করার জন্য আল্ট্রাস্নোগ্রাম, টেস্ট ও পরীক্ষা করে থাকে। 

কিন্তু এটা শরীয়ত পরীপন্থী না হলেও কাছাকাছি। কারন অনেকে ছেলে না চাইলে বা মেয়ে না চাইলে বীপরিত হলে দুনিয়ায় আসার আগেই মেরে ফেলে। এটা হারাম। 

তবে পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সময় বেপর্দা হতে হয়। এসব কারনে পরীক্ষা করার চেয়ে শরীয়তসম্বমত পদ্ধতি বুজুর্গগন বর্ণনা করেছেন।
তাফসীরে উল্লেখ রয়েছে


-قال الجاحظ :وإذا أردت أن تعلم هل المرأة حامل بذكر أو أنثى فخذ قملة واحلب عليها من لبنها في كف إنسان فإن خرجت من اللبن فهي جارية وإن لم تخرج فهو ذكر-বিশিষ্ট মুফাসসির হযরত জাহিয রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- আর তা হলো- যদি তোমাদের জানার ইচ্ছা জাগে যে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তাহলে নিন্মের কাজ করতে হবে-

কোন মহিলা হামেলা অবস্থায় তার স্তনের থেকে কয়েক ফোটা দুধ নিয়ে হাতের তালুতে নিয়ে সেই দুধের মধ্যে একটা উকুন ছেড়ে দিতে হবে। যদি উকুনটি বের হয়ে তাহলে কন্যা সন্তান হবে আর বের হতে না পারলে বুঝে নিতে হবে ছেলে সন্তান। বর্ননাটি রয়েছে- (তাফসীরে রুহুল বায়ান/সুরা আরাফ/২৩৪, তাফসীরে হাক্কী, হায়াতুল হাইওয়ান- ইবনে সিনা)


কাজেই বর্তমান শরীয়তবহির্ভুত নামে ডিজিটাল বেপর্দা পন্থায় পরীক্ষা না করে শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে পরীক্ষা করুন। আর ছেলে বা মেয়ে সন্তান হলে শুকরিয়া আদায় করুন।
সুওয়াল:  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বাক্য মুবারক বড় মাপের কোন আউলিয়া কিরাম উনাদের শানে ব্যবহারের দলীল কি শরীয়তে রয়েছে? জানতে বাসনা রাখি-

সুওয়াল: ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বাক্য মুবারক বড় মাপের কোন আউলিয়া কিরাম উনাদের শানে ব্যবহারের দলীল কি শরীয়তে রয়েছে? জানতে বাসনা রাখি-
জাওয়াব: #ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম " বাক্য মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীস শরীফ দ্বারাই " উম্মতের মাঝে উচু স্তরের ওলীআল্লাহ উনাদের শানে ব্যাবহার জায়েজ প্রমানিত হয়েছে। কাজেই যারা নাজায়েজ বলবে তারা অসংখ্য আয়াত শরীফ ও হাদীস শরীফ অস্বীকারকারী হিসাবে কাফির হবে।
#ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যবহার করা জায়িয এর দলীল পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফেই রয়েছে৷ এমনকি যারা 'বিরোধীতায়' কিছু কিতাবের দলীল দিতে চায়, তাদের জবাবও রয়েছে৷কুখ্যাত বদমায়েশরা, দুঃশ্চরিত্ররা যতই রাজারবাগ শরীফের বিরুদ্ধাচারন করবে, ততই রাজারবাগ শরীফের শান মান বুলন্দ হবে প্রচার প্রসার হবে৷
স্বাভাবিকভাবে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বাক্য মুবারকখানা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু সকলের ঐকমত্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের ক্ষেত্রেও ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয ও মুস্তাহাবের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কে আল্লামা হযরত ইমাম আবূ যাকারিয়া মুহিউদ্দীন ইয়াহ্ইয়া ইবনে শারফুন নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ৬৭৬ হিজরী শরীফ) তিনি এবং আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে মুলক্বিন রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ৮০৪ হিজরী শরীফ) তিনি অর্থাৎ উনারাসহ আরো অনেকেই স্বীয় কিতাবে ইজমা’ বর্ণনা করেছেন। উনারা বলেছেন,
اَجْـمَعُوْا عَلَى الصَّلـٰوةِ عَلـٰى نَبِيِّنَا مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَذٰلِكَ اَجْـمَعَ مَنْ يُّعْتَدُّ بِهٖ عَلـٰى جَوَازِهَا وَاسْتِحْبَابِـهَا عَلـٰى سَائِرِ الْاَنْبِيَاءِ وَالْـمَلَائِكَةِ اِسْتِقْلَالًا.
অর্থ: “আমাদের নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত পাঠের ব্যাপারে অর্থাৎ উনাকে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলার বিষয়ে সকলে ইজমা করেছেন। অনুরূপভাবে এ বিষয়েও ইজমা করেছেন যে, সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে ছলাত পাঠ করা অর্থাৎ উনাদের সকলের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয ও মুস্তাহাব।” সুবহানাল্লাহ! (আল আযকার লিন নববী ১/১১৮, আল ই’লাম বিফাওয়াইদি উমদাতিল আহ্কাম ৩/৪৭৭, আল হাবাইক ফী আখবারিল মালাইক লিস সুয়ূত্বী ১/৮৪, বাহ্জাতুল মাহাফিল ২/৪১৬ ইত্যাদি)
আল্লামা হযরত ইমাম ত্বীবী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ৭৪৩ হিজরী শরীফ) তিনি উল্লেখ করেন,
اَجْـمَعُوْا عَلَى الصَّلـٰوةِ عَلـٰى نَبِيِّنَا وَعَلـٰى سَائِرِ الْاَنْبِيَاءِ وَالْـمَلَائِكَةِ اِسْتِقْلَالًا.
অর্থ: “আমাদের নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এবং সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম ও সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি স্বতন্ত্রভাবে ছলাত পাঠ করা অর্থাৎ উনাদের সকলের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করার বিষয়ে সকলে ইজমা’ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফুতূহুল গইব ফিল কাশফি ‘আন ক্বিনাইর রইব লিত ত্বীবী ১২/৪৭৫)
এমনকি ওহাবীদের গুরু ইবনে ক্বইয়্যুম বলেছে,
وَقَدْ حَكٰى غَيْرُ وَاحِدِ ۣ الْاِجْـمَاعَ عَلـٰى اَنَّ الصَّلـٰوةَ عَلـٰى جَـمِيْعِ النَّبِيِّيْـنَ مَشْرُوْعَةٌ مِّنْهُمُ الشَّيْخُ مُـحْيِـىُ الدِّيْنِ النَّوَوِىُّ رَحِـمَهُ اللهُ وَغَيْرُهٗ.
অর্থ: “নিঃসন্দেহে এ বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি ইজমা’ বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি ছলাত পাঠ করা তথা উনাদের ক্ষেত্রে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা শরীয়ত সম্মত। সুবহানাল্লাহ! (যারা ইজমা’ বর্ণনা করেছেন,) উনাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন হযরত শায়েখ মুহিউদ্দীন নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং আরো অনেকে।” সুবহানাল্লাহ! (জালাউল আফহাম ২৫৮)
যদি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয ও মুস্তাহাব হয়ে থাকে, তাহলে পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ক্ষেত্রে যে, স্বতন্ত্রভাবে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে জায়েয ও মুস্তাহাব তো অবশ্যই; এমনকি বিশেষ ফযীলত লাভের কারণ, এটা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। সুবহানাল্লাহ! কেননা স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে উনার নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন এবং ইরশাদ মুবারক করেছেন, “আমাদের সাথে কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ!
অবশ্য যারা গোমরাহ্, পথভ্রষ্ট, মুনাফিক্ব ও উলামায়ে সূ’ তাদের পক্ষে এ বিষয়টি উপলব্ধি করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। না‘ঊযুবিল্লাহ!
বিশুদ্ধ ফতওয়া মতে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রেও ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয রয়েছে। এটা পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত। কেউ যদি এটাকে নাজায়েয প্রমাণ করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে দলীল পেশ করতে হবে।
‘তাফসীরে ইবনে কাছীর’ থেকে নিম্নোক্ত ইবারতখানা
وأما الصلاة على غير الأنبياء، فإن كانت على سبيل التبعية كما تقدم في الحديث: "اللهم، صل على محمد وآله وأزواجه وذريته"، فهذا جائز بالإجماع، وإنما وقع النزاع فيما إذا أفرد غير الأنبياء بالصلاة عليهم:
অর্র্থ: “(হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে ছলাত পাঠ তথা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যবহার করা যায় কি না- এ বিষয়ে হযরত ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বক্তব্য হচ্ছে-) যদি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনুগামী করে অন্যদের ক্ষেত্রে ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যবহার করা হয়, যেমন- পবিত্র হাদীছ শরীফখানা পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে,
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ
‘আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি ছলাত পাঠ করুন! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি, উনার পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি, পবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রতি এবং উনার সম্মানিত বংশধর উনাদের প্রতি।’
তাহলে তা সকলের ইজমা’ মতে জায়েয। আর হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহারের বিষয়ে ইখতিলাফ রয়েছে।” (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৬/৪৭৭)
আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহ তিনি যেই মত গ্রহণ করেছেন এবং যেই মতের স্বপক্ষে দলীল পেশ করেছেন, আর তা হচ্ছে-
فقال قائلون: يجوز ذلك، واحتجوا بقوله: { هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلائِكَتُهُ } ، وبقوله { أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ } [البقرة: ১৫৭]، وبقوله تعالى { خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا (১) وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ } [التوبة: ১০৩]، وبحديث عبد الله بن أبي أوْفَى قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أتاه قوم بصدقتهم قال: "اللهم صل عليهم". وأتاه أبي بصدقته فقال: "اللهم صل على آل أبي أوفى". أخرجاه في الصحيحين. وبحديث جابر: أن امرأته قالت: يا رسول الله، صل عَلَيَّ وعلى زوجي. فقال: "صلى الله عليكِ وعلى زوجك" (২) .
অর্থ: “একদল ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয় রয়েছে। আর উনারা উনাদের মতের স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে নিম্নোক্ত দলীলসমূহ পেশ করেছেন-
(১)
هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلائِكَتُهُ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তোমাদের প্রতি ছলাত পাঠ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহ্যাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৩)
(২)
وَبِقَوْلِهِ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ
অর্থ: “(মু’মিন ব্যক্তি) উনাদের প্রতি উনাদের রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ছলাত এবং রহমত।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৭)
(৩)
خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ
অর্থ: “আপনি তাদের মাল-সম্পদ থেকে ছদ্ক্বাহ্ গ্রহণ করুন। আর এর মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র করুন এবং তাযকিয়াহ্ করুন। আর তাদের প্রতি ছলাত পাঠ করুন অর্থাৎ তাদের মাগফিরাত কামনা করুন, তাদের জন্য দো‘আ করুন। নিশ্চয়ই আপনার ছলাত পাঠ তাদের জন্য ইতমিনানের কারণ।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাওবাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)
(৪)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা দলীল পেশ করেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন,
: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أتاه قوم بصدقتهم قال: "اللهم صل عليهم". وأتاه أبي بصدقته فقال: "اللهم صل على آل أبي أوفى
অর্থ: “যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কোনো গোত্র উনাদের ছদ্ক্বাহ নিয়ে আসতেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করতেন, اللهم صل عليهم “আয় আল্লাহ পাক! আপনি উনাদের উপর ছলাত পেশ করুন।’ একবার আমার সম্মানিত পিতা তিনি ছদক্বাহ্ নিয়ে আসলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, اللهم صل على آل أبي أوفى ‘আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি হযরত আবূ আওফা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং উনার পরিবারের উপর ছলাত পেশ করুন।’ অর্থাৎ উনাদের জন্য তিনি দো‘আ মুবারক করলেন। সুবহানাল্লাহ! এই পবিত্র হাদীছ শরীফখানা বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
(৫)
তারপর হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা দলীল পেশ করেন-
أن امرأته قالت: يا رسول الله، صل عَلَيَّ وعلى زوجي. فقال: "صلى الله عليكِ وعلى زوجك
অর্থ: ‘একবার হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার আহলিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আরজী পেশ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দয়া করে আপনি আমার প্রতি এবং আমার সম্মানিত আহাল উনার প্রতি অর্থাৎ আমাদের উভয়ের প্রতি ছলাত পাঠ করুন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার প্রতি এবং আপনার আহাল উনার প্রতি অর্থাৎ আপনাদের উভয়ের প্রতি ছলাত পেশ করুন। অর্থাৎ তিনি উনাদের উভয়ের জন্য সম্মানিত দো‘আ মুবারক করলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৬/৪৭৮)
দেখুন! এখানে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ করা তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার জায়েয হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে দলীল-আদিল্লাহ মুবারক দ্বারা ছাবিত করে দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে আরো বহু অকাট্য দলীল-আদিল্লাহ্ মওজূদ রয়েছে। আমরা পরবর্তীতে তা উল্লেখ করবো। ইনশাআল্লাহ!
এ মতটাই আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গ্রহণ করেছেন এবং তিনি বলেছেন,
وهذا مسلك حسن.
অর্থ: “এটা একটি উত্তম পন্থা।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৬/৪৭৮)
আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যেই মতের পক্ষে, সেই মতটি বাদ দিয়ে জুমহূর উলামায়ে কিরামের মতটি তুলে ধরেছে এবং তিনি যে স্পষ্টভাবে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহারের পক্ষ অবলম্বন করেছেন,

জুমহূর উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ করা তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয নেই। উনাদের যুক্তি হচ্ছে-
لِأَنَّ هَذَا قَدْ صَارَ شِعَارًا لِلْأَنْبِيَاءِ إِذَا ذُكِرُوا فَلَا يَلْحَقُ بِهِمْ غَيْرُهُمْ
অর্থ: “কেননা এটা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শি‘য়ারে পরিণত হয়ে যায়। কাজেই উনাদের সাথে অন্য কারো সংযুক্ত করা যাবে না।” (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৬/৪৭৮)

আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জুমহূর উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মতটি এভাবে খ-ন করে দিয়েছেন যে,
وَحَمَلُوا مَا وَرَدَ فِي ذَلِكَ مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ عَلَى الدُّعَاءِ لَهُمْ؛ وَلِهَذَا لَمْ يَثْبُتْ شِعَارًا لِآلِ أَبِي أَوْفَى، وَلَا لِجَابِرٍ وَامْرَأَتِهِ. وَهَذَا مَسْلَكٌ حَسَنٌ.
‘(যে সকল ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ করা তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয বলেছেন,) উনারা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ করা তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয হওয়ার স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে যে সকল দলীলসমূহ বর্ণিত হয়েছে, সেখানে ছলাত দ্বারা দো‘আ অর্থ নিয়েছেন। আর (এ কারণে তা শিয়ার ছাবিত হয় না) এ কারণে হযরত আবূ আওফা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার জন্য এবং হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং উনার আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার জন্য অর্থাৎ উনাদের জন্য যে ছলাত পাঠ করা হয়েছে, সেটি শি‘য়ার ছাবিত হয়নি। (অর্থাৎ ছলাত উনার অর্থ দো‘আ গ্রহণ করলে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদেরকে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বললে, এটা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শি‘য়ারে পরিণত হয় না। কাজেই এটা জায়েয রয়েছে।) সুবহানাল্লাহ! وَهَذَا مَسْلَكٌ حَسَنٌ. আর এটা একটি উত্তম পন্থা।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৬/৪৭৮)
জুমহূর উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ করা তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয নেই। উনাদের যুক্তি হচ্ছে- ‘কেননা এটা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শি‘য়ারে পরিণত হয়ে যায়। কাজেই উনাদের সাথে অন্য কারো সংযুক্ত করা যাবে না।’
এখানে আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত জুমহূর উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মতকে স্পষ্টভাবে খ-ন করে দিয়েছেন এভাবে যে, ‘হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ করা তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয হওয়ার’ বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে যে দলীলসমূহ পেশ করা হয়েছে, সেখানে ছলাত দ্বারা দো‘আ অর্থ নেয়া হয়েছে। আর এ কারণে এটা শি‘য়ার ছাবিত হয় না অর্থাৎ অন্যদেরকে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বললে, এটা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শি‘য়ারে পরিণত হয় না। তাহলে জুমহূর উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আপত্তি এখানে শেষ হয়ে গেলো। কাজেই হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ করা তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয। তারপর আল্লামা হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, وَهَذَا مَسْلَكٌ حَسَنٌ. আর এটা একটি উত্তম পন্থা। সুবহানাল্লাহ!
পাঠক! দেখুন, আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজেই হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ করা তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয হওয়ার পক্ষ নিয়েছেন।

আল্লামা হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেছেন,
وَقَالَ آخَرُونَ لَا يَجُوزُ ذَلِكَ؛ لِأَنَّ الصَّلَاةَ عَلَى غَيْرِ الْأَنْبِيَاءِ قَدْ صَارَتْ مِنْ شِعَارِ أَهْلِ الْأَهْوَاءِ، يُصَلُّونَ عَلَى مَنْ يَعْتَقِدُونَ فِيهِمْ، فَلَا يُقْتَدَى بِهِمْ فِي ذَلِكَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
অর্থ: “অপর একদল বলেছে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ করা তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয নেই। কারণ এটা কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের নিদর্শনে পরিণত হয়। তারা তাদের শ্রদ্ধাভাজনদের প্রতি ছলাত পাঠ করে থাকে। তাই তাদেরকে অনুসরণ করা যাবে না। (এ বিষয়ে আল্লামা হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন,) এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি অধিক ভালো জানেন।” (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৬/৪৭৮)
এখানে আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি وَاللَّهُ أَعْلَمُ ‘এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি অধিক ভালো জানেন।’ এ কথা বলে, এটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তারা যে মত পেশ করেছে- ‘হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয নেই। কারণ এটা কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের নিদর্শনে পরিণত হয়। তারা তাদের শ্রদ্ধাভাজনদের প্রতি ছলাত পাঠ করে থাকে। তাই তাদেরকে অনুসরণ করা যাবে না।’এই মতটা আল্লামা হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গ্রহণ করেননি।
মূল কথা হলো, ‘তাফসীরে ইবনে কাছীরে ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪৭৭ থেকে ৪৭৮ নং পৃষ্ঠায়’ আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যবহার করা জায়েয কিনা- এ বিষয়ে ৩টি মত উল্লেখ করেছেন-
(১) প্রথমে তিনি যে সকল ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ‘হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যবহার করা জায়েয বলেছেন’ উনাদের মত উল্লেখ করেছেন এবং উনাদের মতের স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে উনারা যে সকল দলীল-আদিল্লাহসমূহ পেশ করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। মূলত, আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজেই এই মত গ্রহণ করেছেন।

(২) তারপর তিনি জুমহূর উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মত উল্লেখ করেছেন। উনারা বলেছেন যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয নেই। উনাদের যুক্তি হচ্ছে- ‘কেননা এটা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শি‘য়ারে পরিণত হয়ে যায়। কাজেই উনাদের সাথে অন্য কারো সংযুক্ত করা যাবে না।’ আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জুমহূর উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের এই যুক্তি দলীল দ্বারা খ-ন করে দিয়েছেন এবং বলেছেন ‘যে সকল ইমাম-মুজতাহিদ উনারা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয বলেছেন,) উনারা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ছলাত পাঠ তথা ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয হওয়ার স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে যে সকল দলীলসমূহ বর্ণিত হয়েছে, সেখানে ছলাত দ্বারা দো‘আ অর্থ নিয়েছেন। যার কারণে এটা শিয়ার ছাবিত হয় না। আর এ কারণে হযরত আবূ আওফা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং উনার আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার জন্য অর্থাৎ উনাদের জন্য যে ছলাত পাঠ করা হয়েছে, সেটি শি‘য়ার ছাবিত হয়নি। অর্থাৎ ছলাত উনার অর্থ দোআ গ্রহণ করলে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতিত অন্যদেরকে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বললে, এটা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শি‘য়ারে পরিণত হয় না। (কাজেই এটা জায়েয রয়েছে।) সুবহানাল্লাহ!
আর এটা হচ্ছে- উত্তম একটি পন্থা। সুবানাল্লাহ!
(৩) তৃতীয়ত তিনি অপর একটি দলের মত উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি বলেছেন, ‘এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি ভালো জানেন।’

সুতরাং এখান থেকে দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়ে গেলো যে, আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার জায়েয হওয়ার পক্ষ নিয়েছেন। তিনি ‘হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা নাজায়েয বলেননি।
কাজেই, এই কিতাব দ্বারাই প্রমাণিত হলো যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ব্যবহার করা জায়েয। সুবহানাল্লাহ!