আদ্ দুরারুল মুখতারাহ্ - ফী নিসবাতি সুলত্বানিন নাছীর (১ম খণ্ড) সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের বছর, মাস, তারীখ, বার, ঘন্টা, মিনিট এবং সেকেন্ডসহ বর্ণনা মুবারক-পর্ব-৩

সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের বছর, মাস, তারীখ, বার, ঘন্টা, মিনিট এবং সেকেন্ডসহ বর্ণনা মুবারক-পর্ব-৩

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১৪৩৯ হিজরী শরীফ উনার পহেলা মুহাররমুল হারাম শরীফ ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। আমাকে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি কোন্ স্থান মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, সেই সম্মানিত স্থান মুবারকখানা দেখিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ জানতে চাইলাম- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনি কোন্ সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন? তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে একটি কাটা ওয়ালা ঘড়ি মুবারক দেখালেন। আমি দেখলাম, তখনও উক্ত সম্মানিত ঘড়ি মুবারক-এ ১২:০০ টা বাজেনি। সেকেন্ডের কাটাটি আর ৪৫ সেকেন্ড অতিক্রম করলে ১২:০০ টা বাজবে । অর্থাৎ ১২:০০ টা বাজতে আর ৪৫ সেকেন্ড বাকি রয়েছে। অর্থাৎ ১১ টা বেজে ৫৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৬ বৎসর পর বা আমুল ফীলের ৬ বৎসর পর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওরা সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুরিল আ'যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ বা সোমবার) সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৩৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৮ই যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ জুমুয়ার নামাযের পূর্বে ১১:০০ টা বেজে ৫৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক উনার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত তাওয়াল্লুক নিসবত মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছেন। সুবহানাল্লাহ! এতো গভীর মহাসম্মানিত তা'য়াল্লুক-নিসবত মুবারক! সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন তো ঘড়ি ছিলো না। কিন্তু প্রায় দেড় হাজার বছর পরে এসে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম

খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এতো নিখুতভাবে বর্ণনা মুবারক করে দিলেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি কয়টা বেজে, কতো মিনিটে এবং কতো সেকেন্ডে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে সন্দেহাতীতভাবে পৃথিবীর ইতিহাসে এটা এক নযীরবিহীন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক, যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক উনার মেছাল আর নেই। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত তা'য়াল্লুক-নিসবত মুবারক উনার বিষয়টি উপলব্ধি করার জন্য চিন্তাশীল ও আকুলমান্দ উনাদের জন্য এই একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারকই যথেষ্ট। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বী ছহীহ সমঝ দান করুন। আমীন!

আদ্ দুরারুল মুখতারাহ্ - ফী নিসবাতি সুলত্বানিন নাছীর (১ম খণ্ড) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক-এ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সবচেয়ে বড় ওলীউল্লাহ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বাই'আত গ্রহণ- পর্ব-২

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক-এ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সবচেয়ে বড় ওলীউল্লাহ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বাই'আত গ্রহণ-
পর্ব-২

এটা চিরন্তন সত্য কথা যে

قدر نعمت بعد زوال

অর্থ: “সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক উনার কদর সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক হস্তচ্যুত হলে বুঝা যায়।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বাহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে আমাদের জন্য, এই উম্মাহর জন্য, সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য কতো বড় মহাসম্মানিত নি'য়ামত মুবারক, সেটা সকলের চিন্তা কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক পেয়ে সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক উনার কদর করা এবং সেই সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা করা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক পেয়ে সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক উনার গুরুত্ব উপলব্ধি করা আবশ্যক। অন্যথায় প্রাপ্ত সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক উনার কদর করা সম্ভব নয়। আর প্রাপ্ত সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক উনার গুরুত্ব উপলব্ধি করার জন্য প্রাপ্ত সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা করা, আলোচনা করা ফরয এবং এটা সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক প্রাপ্তির একটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশও বটে। এই জন্য যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন

وأما بنعمة ربك فحدث.

অর্থ: “আপনার রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে যেই সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক দিয়েছেন, সেই সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক সম্পর্কে আপনি বর্ণনা করুন, আলোচনা করুন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা দুহা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১)

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَلنُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ

اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلتَّحَدُّثُ بِنِعْمَةِ اللهِ شُكْرٌ وَّتَرْكُهَا كُفْرٌ وَّمَنْ لَّ

يَشْكُرِ الْقَلِيْلَ لَ يَشْكُرِ الكَثِيْرَ وَمَنْ لَّ يَشْكُرِ النَّاسَ لَ يَشْكُرِ اللهَ

অর্থ: “হযরত নুমান ইবনে বাশীর রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা করা শুকরিয়া হিসেবে গণ্য এবং বর্ণনা না করা কুফরী। যে ব্যক্তি সামান্য সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক পেয়ে শুকরিয়া আদায় করে না, সে অধিক সম্মানিত নি'য়ামত মুবারক পেয়েও শুকরিয়া আদায় করবে না। যে ব্যক্তি মানুষের শুকরিয়া আদায় করে না, সে মহান আল্লাহ পাক উনারও শুকরিয়া আদায় করতে পারবে না।” না—ঊযুবিল্লাহ! (শু‘য়াবুল ঈমান শরীফ, মুসনাদে আহমদ, আত ত্ববারনী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, মুসনাদে বাযযার, কাশফুল খফা, আল ফাতহুল কাবীর ইত্যাদি)


সেটাই আমরা দেখতে পাই যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত হিজরত মুবারক করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক রাখেন, তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার অধিবাসীগণ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বাগত মুবারক জানিয়ে পাঠ করেছিলেন,

طَلَعَ الْبَدْرُ عَلَيْنَا ... مِنْ ثَنِيَّاتِ الْوَدَاعْ

وَجَبَ الشُّكْرُ عَلَيْنَا ... مَا دَعَا لِِّٰ دَاعْ

اَيهَُّا الْمَبْعُوْثُ فِيْنَا... جِئْتَ بِلَْمْرِ الْمُطَاعْ

অর্থ: “ছানিয়াতুল বিদা হতে আমাদের উপর পূর্ণচন্দ্র উদিত হয়েছেন। আমাদের উপর শুকরিয়া আদায় করা ফরয-ওয়াজিব হয়ে গেছে এজন্য যে, দায়ি' তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য আমাদেরকে সম্মানিত আহ্বান মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ! হে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে প্রেরিত মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আমাদের মাঝে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন অনুসরণীয় বিষয়বস্তু তথা মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে নিয়ে।” সুবহানাল্লাহ! (আল বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, রযীন ইত্যাদি)

আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে এবং তা'য়াল্লুক-নিসবত ও রেযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক লাভের প্রত্যাশায় একখানা বিশেষ মহাসম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক বর্ণনা করবো। যা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফর″ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালনের শামিল। সুবহানাল্লাহ! তাওফীক্ব ভিক্ষা চাচ্ছি সহজ-সরল, সুন্দর ও সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করার। আমীন!

তবে উক্ত বিশেষ মহাসম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক বর্ণনা করার পূর্বে তা ভালোভাবে উপলব্ধি করার লক্ষ্যে প্রাসঙ্গিক একখানা ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক উনার অবতারণা- হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী

রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে চিনেন না, এমন কোনো আলিম পৃথিবীর বুকে নেই। উনারই জীবনী মুবারক-এ ঘটে যায় জগতবাসীর জন্য একটি শিক্ষনীয় ঘটনা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার গভীর তা'য়াল্লুক-নিসবত মুবারক। হযরত আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রতিদিন বাদ 'ইশা মুরাকাবায় বসে হিন্দুস্থান থেকে চলে যেতেন সুদূর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক-এ। সুবহানাল্লাহ! নিয়মিতভাবে এই তরতীরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতেন তিনি। এভাবে বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত হলো। একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তিনি আরজী পেশ করলেন- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার আরো অধিক সম্মানিত তা'য়াল্লুক-নিসবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে চাই। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, 'যদি তাই হয়, তাহলে আপনি শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট যান, উনার সম্মানিত হাত মুবারক-এ বাই'আত গ্রহন করুন এবং উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করুন।' সুবহানাল্লাহ!

হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি চুপ হয়ে গেলেন। তিনি আর কিছু বললেন না। তিনি প্রতিদিনের মতো আজও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার শেষে উনার বাসগৃহে চলে আসলেন। উনার মাথা চক্কর খেতে লাগলো। কারণ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘যেই শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট যেতে, উনার সম্মানিত হাত

মুবারক-এ বাইয়াত হতে এবং উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতে হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন তিনি তো উলামায়ে সূ'দের কথায় 'সেই শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি' উনাকে কাফির ফতওয়া দিয়ে উনার বিরুদ্ধে একখানা বই লিখেছেন!


হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সকালে উঠে তাড়াতাড়ি লিখিত সেই বইখানা স্বহস্তে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে আগুনে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিলেন। রওয়ানা হলেন সিরহিন্দ শরীফ পানে। যদিও তিনি তখন ক্বাদেরীয়া ত্বরীক্বাহ উনার একজন বিশিষ্ট বুযূর্গ এবং খিলাফতপ্রাপ্ত খলীফা। তারপরেও তিনি সিরহিন্দ শরীফ গেলেন এবং হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত হাত মুবারক-এ বাই'আত গ্রহণ করে উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার মাধ্যম দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আরো অধিক সম্মানিত তা'য়াল্লুক-নিসবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করলেন । সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত হাত মুবারক-এ বাই'আত গ্রহণ করে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার মাধ্যম দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আরো অধিক তা'য়াল্লুক-নিসবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করলেন। সুবহানাল্লাহ!

হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শান মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বলার অপেক্ষাই রাখে না। তিনি হচ্ছেন মুজাদ্দিদে আলফে ছানী তথা দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, তিনি হচ্ছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনাদের পরে সবচেয়ে বড় ওলীউল্লাহ । সুবহানাল্লাহ! তাহলে তিনি কতো সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা, শান-শুয়ূনাত, মাক্বামত মুবারক উনাদের অধিকারী, সেটা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

সুবহানাল্লাহ! উনার শান মুবারক-এ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন

سْمِىْ يبُْعَثُ رَجُلٌ عَلٰى اَحَدَ عَشَرَ مِائَةَ سَنَةٍ وَّهُوَ نوُْرٌ عَظِيْمٌ اِسْمُهٗ اِ

بَيْنَ السّلْطَانَيْنِ الْجَابِرَيْنِ يَدْخُلُ الْجَنةَّ بِشَفَاعَتِهٖ رِجَالٌ اُلُوْفًاَُ

অর্থ: “একাদশ হিজরী শরীফ-এ একজন মহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার আবির্ভাব ঘটবে, তিনি হচ্ছেন ‘নূরুন আযীম তথা মহান নূর'। সুবহানাল্লাহ! উনার নাম মুবারক হবে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসম বা নাম মুবারক-এ। তিনি দুই যালিম বাদশাহর মাঝে তাশরীফ মুবারক নিবেন। উনার মুবারক শাফায়াতে (সুপারিশে) হাজার হাজার (অসংখ্য-অগণিত) লোক সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! ! (জাম‘উল জাওয়াম, জামি‘উদ দুরার, জামি‘উল আহাদীছ, যুহুদ, ইবনে সা’দ, বাইহাক্বী)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন

يَكُوْنُ فِىْ اُمّتِىْ رَجُلٌ يقَُّالُ لَهٗ صِلَةُ يَدْخُلُ الْجَنةَّ بِشَفَاعَتِهٖ كَذَا وَكَذَا مِنَََ

الناّسَِ

অর্থ: “আমার উম্মতের মাঝে একজন মহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার আবির্ভাব ঘটবে। উনাকে 'ছিলাহ' বলা হবে। উনার মুবারক শাফায়াতে অসংখ্য মানুষ সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (জাম—উল জাওয়াম, জামি—উদ দুরার, জামিউল আহাদীছ, যুহুদ, ইবনে সা'দ, বাইহাক্বী)

মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুদরত মুবারক এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু'জিযা শরীফ যে কতো হিকমতপূর্ণ তা জিন-ইনসান কখনো চিন্তা কল্পনা করে মিলাতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ! মূলত, উনারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিশেষ মহাসম্মানিত ওয়াক্বিয়াহ মুবারক দ্বারা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সবাইকে শিক্ষা মুবারক দিয়ে থাকেন। হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ন্যায় হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্ষেত্রেও একখানা বিশেষ বরকতময় মহাসম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক সংঘটিত হন। সেই মহাসম্মানিত ওয়াক্বিয়াহ মুবারক উনার মধ্যে সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য সীমাহীন বিশেষ ইবরত-নছীহত মুবারক নিহিত রয়েছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আর সেই বিশেষ বরকতময় মহাসম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারকখানা হচ্ছেন- হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আরজি মুবারক পেশ করলেন- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার আরো অধিক মহাসম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক, তা'য়াল্লুক-নিসবত মুবারক হাছিল করতে চাই, আরো অধিক নৈকট্য মুবারক অর্জন করতে চাই। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, 'যদি তাই হয়, তাহলে আপনি আমার আখাছুল খাছ মাহবূব, মহাসম্মানিত আওলাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বাহির, আছ ছমাদ, সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার যিনি মহাসম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রয়েছেন উনার নিকট যান, উনার নিকট যেয়ে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক-এ) বাই—য়াত গ্রহন করুন এবং উনার থেকে মহাসম্মানিত বিশেষ নি'য়ামত মুবারক হাছিল করুন। তবেই আপনি আমার আরো অধিক মহাসম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক, তা'য়াল্লুক-নিসবত মুবারক হাছিল করতে পারবেন, আরো অধিক নৈকট্য মুবারক অর্জন করতে পারবেন।' সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক-এ হযরত শায়েখ আহমদ ফারূক্বী সিরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সম্মানিত রাজারবাগ দরবার শরীফ এসে সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বাই'আত হওয়ার জন্য বিনীতভাবে আরজী মুবারক পেশ করেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা ইরশাদ মুবারক করেছেন তা ব্যক্ত করেন। তখন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বাহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত নির্দেশ মুবারক মুতাবেক দয়া করে উনার সম্মানিত আরজী মুবারক কবূল করে উনাকে মহাসম্মানিত বাই'আত মুবারক করিয়ে স্বীয় মুরীদ হিসেবে কবূল করে নেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

এই মহাসম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বাহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১৪৩৮ হিজরী শরীফ উনার ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ মহাসম্মানিত বিশেষ মাহফিল মুবারক-এ বর্ণনা মুবারক করেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

তাহলে এই মহাসম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুতুহ্হার, মুত্বাহির,

আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কত বেমেছাল মহাসম্মানিত তা'য়াল্লুক-নিসবত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যেটা সমস্ত জিন ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী কস্মিনকালেও চিন্তা-কল্পনা করে মিলাতে পারবে না। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

মূলত, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মি'রাজ শরীফ উনার রাতে যেমন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক-এ এসে সমস্ত হযরত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে মহাসম্মানিত বিশেষ নিয়ামত মুবারক হাছিল করেছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনাদের পরে সবচেয়ে বড় ওলীউল্লাহ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ পৃথি বীর ইতিহাসে এই পর্যন্ত যত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম অতীত হয়েছেন, উনারা প্রত্যেকেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক-এ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে এসে মহাসম্মানিত বিশেষ নি'য়ামত মুবারক হাছিল করেছেন এবং হাছিল করে যাচ্ছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনারা প্রত্যেকেই হচ্ছেন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহার, মুত্বাহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুরীদের অন্তর্ভুক্ত,

আর আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুতুহ্হার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন উনাদের প্রত্যেকেরই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শায়েখ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, তিনি হচ্ছেন একমাত্র যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা দুজন ব্যতীত সকলের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শায়েখ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের আখাচ্ছুল খাছ মহাসম্মানিত তা'য়াল্লুক নিসবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে চায়, তাহলে তার জন্য ফরযে আইন হচ্ছেন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বাহির, আছ ছমাদ, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক-এ) বাই'আত গ্রহণ করা। সুবহানাল্লাহ! এই দ্বার সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্যই উন্মুক্ত। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!

তাহলে ফিকির করতে হবে যে, আমরা কতো বড় মহাসম্মানিত নি'য়ামত মুবারক লাভ করেছি। আমরা কি কস্মিনকালেও তা চিন্তা কল্পনা করে মিলাতে পারবো! হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনারা ব্যতীত পৃথিবীর ইতিহাসে আর কেউ কি এতো বড় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নি'য়ামতে ‘উমা মুবারক লাভ করতে পেরেছেন! তাহলে আমাদের কি করা উচিত। আমাদের কতোটুকু

মহাসম্মানিত খুশি মুবারক প্রকাশ করা এবং শুকরিয়া আদায় করা উচিত! উনার সম্মানার্থে শুকুরগুযারীর সাথে মহাসম্মানিত খুশি মুবারক প্রকাশ করে কতটুকু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়ারহু শরীফ' সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করা উচিত।

ছহিবু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহির, আছ ছমাদ, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বী ছহীহ সমঝ দান করুন এবং উনার সম্মানার্থে শুকুরগুয়ারীর সাথে মহাসম্মানিত খুশি মুবারক প্রকাশ করে হাক্বীক্বীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়ার শরীফ' সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!


আদ্ দুরারুল মুখতারাহ্ - ফী নিসবাতি সুলত্বানিন নাছীর (১ম খণ্ড)সরাসরি মহাসম্মানিত দীদার মুবারক এবং অসীম ইলিম মুবারক উনাদের বহিঃপ্রকাশ -পর্ব-১

সরাসরি মহাসম্মানিত দীদার মুবারক এবং অসীম ইলিম মুবারক উনাদের বহিঃপ্রকাশ-পর্ব-১

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার পূর্বে (১৪৩৩ হিজরী শরীফ-এ)। আমাকে দেখানো হচ্ছিলো, দেখলাম সরাসরি সাক্ষাৎ হলো যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে। তিনি আমাকে অনেক বড় বড় লেখকদের কতোগুলো আরবী বড় বড় কিতাব দেখালেন। এর মধ্যে অনেক ইবারত, অনেক ভুল। এখন যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি দেখাচ্ছেন, আমি চিন্তা করলাম যে, সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে আমাদের তো নিসবত নেই। আমাদের নিসবত তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যম দিয়ে। এটা কেমন! তখন সাথে সাথে দেখলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উপস্থিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন, হ্যাঁ, তিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক। এখন মহান আল্লাহ পাক তিনি দেখাচ্ছেন এবং দেখালেন কতগুলো অনেক বড় বড় কিতাব, আরবী বড় বড় ইবারত এখানে তারা যে লিখেছে, একটাও শুদ্ধ না। একটাও শুদ্ধ না, অধিকাংশগুলোতে ভুল আছে। এরা বুঝতে পারে নাই, হাক্বীক্বতটা বুঝে নাই। আমাকে একখানে নিয়ে গেলেন। ঐ সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফখানা,

یٰۤاَیُّہَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَ تُحِلُّوْا شَعَآئِرَ اللهِ وَلَ الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَلَ الْهَدْىَ

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার যে, হাক্বীকৃতটা, মাামটা ওখানে আমাকে নিয়ে গেলেন। সেখানে গিয়ে দেখলাম অনেক বড় কামরা, রুম। এটা ইলিম মুবারক-এ পরিপূর্ণ। এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার হাক্বীক্বত, তা'যীম-তাকরীমের বিষয়টা। এরপর বললেন যে, এই যে, এতো হাদীছ, তাফসীর যে লেখা হয়েছে- সব কিছু রসম-রেওয়ায় এবং অধিকাংশ হচ্ছে পুঁথিগত বিদ্যা, কপি করা। এরপর অনেক ইলিম উনাদের একটা বড় মাক্বাম দেখালেন যে, উনার কোনো কুল-কিনারা নাই। এরপর অপর এক জায়গায় আমাকে আবার নিয়ে আসলেন। একটা জিনিস দেখানো হলো, একটা কোণার মধ্যে, অল্প একটু জায়গার মধ্যে দুনিয়ার সমস্ত কিতাব যা আছে, দুনিয়ার যত কিতাব যা লিখা হয়েছে- সমস্ত কিতাবগুলির হাক্বীক্বতটা এক কোণার মধ্যে, অল্প একটু। আর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের যে সম্মানিত ইলিম মুবারক অনেক অসীম! সুবহানাল্লাহ! (মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনাদের সেই সম্মানিত অসীম ইলিম মুবারক দেখিয়েছেন এবং সম্মানিত হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে উনার পক্ষে ‘মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের যে সম্মানিত ইলিম মুবারকটা অনেক অসীম!' এ বিষয়টি বর্ণনা করা সহজ এবং সম্ভব হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!) কাজেই, এই যে, ইলিম যা প্রকাশ করা হচ্ছে, যা বিন্দু থেকে বিন্দুতম। যেটা আমরা বলি, এটা হলো সেটা। হাক্বীক্বত খুব কম এবং অনেক বইয়ের মধ্যে অনেক ভুল । হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনাদের শান মুবারক-এ

লেখা যেগুলো আছে, অনেক গলদ আছে। হযরত উম্মাহাতুল মু'মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে অনেক অনেক বড় বড় আলিম উলামা উনারা অনেকে অনেক তাফসীর, হাদীছ শরীফ উনার শরাহ লিখেছেন, কিন্তু অনেক গলদ। এ সমস্ত বিষয়গুলো গ্রহণ করা যাবে না ।

এরপর কতোগুলো বিষয় জানার ইচ্ছা প্রকাশ করলাম এবং বললাম তাহলে এ রকম হলো কেন? উনারা বললেন যে, প্রকৃতপক্ষে বিষয়টা হচ্ছে- এটা যার যার মাক্বামের সাথে সম্পৃক্ত। যিনি যেই স্তরে পৌঁছেছেন, যতটুকু বুঝেছেন, ততটুকুই লিখেছেন। হাক্বীক্বত এই লেখাগুলো কোনোটাই পূর্ণ না। পূর্ণ হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ। এখন বুঝ বা সমঝ পূর্ণ হবে উনারা যদি বুঝান। যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা যদি বুঝান, তাহলে বুঝ বা সমঝ পূর্ণ হবে। তাছাড়া পূর্ণ হবে না।” সুবহানাল্লাহ!

আলোচ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘটনা মুবারক উনার মাধ্যমে সরাসরি মহাসম্মানিত দীদার মুবারক এবং অসীম ইলিম মুবারক উনাদের বহিঃপ্রকাশের বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছেন। সুবহানাল্লাহ!

মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনাদের পরিপূর্ণ অসীম ইলিম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের হাক্বীক্বী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! যেখানে বাতিল ফিরক্বার লোকেরা এবং হক্বপন্থী দাবীদাররা অনেক বড় বড় তাফসীরে, বড় বড় কিতাবে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার শরাহগ্রন্থে, সীরাত, ফিক্বাহ-ফতওয়া, আক্বাইদ, উচ্ছ্বল ও ইতিহাসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু'মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনাদের শান-মান মুবারক উনার খিলাফ নানা কুফরীমূলক বক্তব্য পেশ করেছে, সেখানে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ!

তাহলে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন, মুত্বহ্হার, মুত্বাহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার কত বেমেছাল মহাসম্মানিত তা'য়াল্লুক-নিসবত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!)

 আদ্ দুরারুল মুখতারাহ্ - ফী নিসবাতি সুলত্বানিন নাছীর (১ম খণ্ড) - আল মুক্বদ্দিমাহ্

আল মুক্বদ্দিমাহ্-

الحمد والصلوة والسلام لشيخنا خليفة الله حضرت الشفاح صلى الله عليه وسلم ولحضرت أهل بيته الكريم عليهم السلام والصلوة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين صلى الله عليه وسلم وعلى حضرت أهل بيته الكريم عليهم السلام والحمد لله رب العالمين. أما بعد 

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَ اللّٰهُ یَخۡتَصُّ بِرَحۡمَتِهٖ مَنۡ یَّشَآءُ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমত দ্বারা খাছ করে নেন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৫)

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্কামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বাহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব,

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা আখাছছুল খাছভাবে মনোনীত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা উনাকে উনাদের পরে সর্বোচ্চ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাক্বাম হাদিয়া মুবারক করেই সম্মানিত সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে যায়- যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে বেমেছাল মহাসম্মানিত তা'য়াল্লুক-নিসবত মুবারক সম্পন্ন মহাসম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারকসমূহ রয়েছেন, সে সকল মহাসম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক উনাদের মাধ্যমে। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বক্ষমান কিতাব মুবারক-এ সে সকল অসংখ্য অগণিত মহাসম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক থেকে কতিপয় মহাসম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক সন্নিবেশিত হয়েছেন। এই কিতাব মুবারকখানা এক অমূল্য কিতাব মুবারক। উনার নামকরণ মুবারক করা হয়েছে- “আদ্ দুরারুল মুখতারাহ্ ফী নিসবাতি খলীফাতিল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” হিসেবে। যার অর্থ- ‘(যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে) ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত তা'য়াল্লুক-নিসবত মুবারক সম্পর্কে বাছাইকৃত মুক্তাসমূহ।' সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা “প্রথম খণ্ড”। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আরো কিতাব প্রকাশ করা হবে। ইনশাআ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

মূলত, এটা আমাদের জন্য, সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য সবচেয়ে বড় বুলন্দ নছীব যে, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমরা এই যামানায় পেয়েছি। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের জন্য, সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরয হচ্ছেন- আলোচ্য কিতাব মুবারক-এ বর্ণিত মহাসম্মানিত ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারকগুলো অত্যন্ত মুহব্বতের সাথে পাঠ করা এবং উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি উপলব্ধি করার কোশেশ করতঃ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহার, মুত্বাহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত মুবারক করা এবং তা'যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোলামী মুবারক উনার আনজাম

মুবারক দেয়া এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করা। অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে দায়িমীভাবে দুনিয়ার যমীনে, কবরে হাশরে, নশরে, মীযানে, পুলছিরাতে এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ যেয়েও অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ' সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করা। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বাহির, আছ ছমাদ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক্ব দান করুন এবং মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাক্বীক্বী মুহব্বত মা'রিফত, তা'য়াল্লুক-নিসবত, কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক আবাদুল আবাদের তরে নছীব করুন। আমীন!
নফসের অনুসারী এবং মন্দ আমলের কারণে সকলের নিকট নিন্দনীয় হওয়া সত্ত্বেও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ পালনকারী উনাকে ইন্তেকালের পর মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ ওলী হিসেবে ঘোষণা এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বিশেষ সম্মান লাভ
উল্লেখ্য যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক সম্পর্কে বাস্তবেও অসংখ্য ঘটনা মুবারক বর্ণিত রয়েছেন। নিম্নে কয়েকখানা ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হলো

১) নফসের অনুসারী এবং মন্দ আমলের কারণে সকলের নিকট নিন্দনীয় হওয়া সত্ত্বেও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালনকারী উনাকে ইন্তেকালের পর মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ ওলী হিসেবে ঘোষণা এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বিশেষ সম্মান লাভ

কিতাবে উল্লেখ রয়েছেন-
إنه كان في زمان أمير المؤمنين هارون الرشيد شاب في البصرة مشرف على نفسه وكان أهل البلد ينظرون إليه بعين التخفير لأجل أفعاله الخبيثة غير أنه كان إذا قدم شهر ربيع الأول غسل ثيابه وتعطر وتجمل وعمل وليمة واستقرا فيها مولد النبي صلى الله عليه وسلم ودام على هذا الحال زمانا طويلا ثم لما مات شمع أهل البلد هاتفا يقول أحضروا يا أهل البصرة واشهدوا جنازة ولي من أولياء الله فإنه عزيز عندي فحضر أهل البلد جنازته ودفنوه فراوة في المنام وهو يرفل في خلل سندس واستبرق فقيل له يم يلت هذه الفضيلة قال بتعظيم مولد النبي صلى الله عليه وسلم অর্থ: “কথিত খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় বছরা শহরে নফসের অনুসারী এক যুবক ছিলো। শহরের লোকেরা তার মন্দ কাজের জন্য তাকে ঘৃণার চোখে, অবজ্ঞার চোখে দেখতো। তবে যখনই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুরিল আ'যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) মাস আগমন করতেন, তখনই এই যুবক উত্তমরূপে উনার কাপড় ধৌত করে সুগন্ধি ব্যবহার করে সুসজ্জিত হয়ে ওলীমা বা খাবারের মজলিস অর্থাৎ মেহমানদারীর ব্যবস্থা করতেন এবং সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু'জিযাহ্ শরীফসমূহ, ঘটনা মুবারকসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করতেন, বিশ্লেষণ করতেন। আর তিনি এই সম্মানিত আমল মুবারক উনার মধ্যে দীর্ঘসময় লেগে থাকেন অর্থাৎ প্রতি বছর সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুরিল আ'যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) মাস আগমন করলেই তিনি এরূপ করতেন । সুবহানাল্লাহ! তারপর যখন তিনি ইন্তিকাল করেন, তখন শহরবাসীগণ গায়েবী আওয়াজ শুনতে পান যে, একজন ঘোষণাকারী বলছেন- “হে বছরার অধিবাসীগণ! আপনারা একত্রিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনাদের মধ্য থেকে একজন বিশেষ ওলীআল্লাহ উনার জানাযায় উপস্থিত হোন । কেননা তিনি আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তিত্ব মুবারক।' তখন শহরবাসীগণ উনার জানাযায় উপস্থিত হন এবং উনার দাফন সম্পন্ন করেন। তারপর শহরবাসীগণ স্বপ্নে দেখেন যে, সেই যুবক তিনি পাতলা এবং পুরু কারুকার্যপূর্ণ জান্নাতী রেশমী পোশাক পরে অত্যন্ত শান-শওকতের সাথে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বিচরণ করছেন। সুবহানাল্লাহ! তখন উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো ‘এই শ্রেষ্ঠত্ব-মর্যাদা আপনি কিভাবে লাভ করলেন?' তিনি বললেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনাকেতা'যীম-তাকরীম, সম্মান প্রদর্শন করার মাধ্যমে।” সুবহানাল্লাহ! (ইয়ানাতুত ত্বালিবীন ৩/৪১৫, আশ্ শারফুল আমজাদ ২৫৬ নং পৃষ্ঠা)
#7RobiulAwalShareef
#12RobiulAwalShareef
#90DaysMahfil 
#RajarbagDorberShareef
sunnat.info
Sm40.com
ঈমানের সাথে ইন্তেকাল এবং বিনা  হিসেবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ
ঈমানের সাথে ইন্তেকাল এবং বিনা  হিসেবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ

এ সম্পর্কে ইমামুল আউয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,
من عظم مولد النبي صلى الله عليه وسلم وكان سببا لقرائته لا يخرج من الدنيا إلا

بالإيمان ويدخل الجنة بغير حساب

অর্থ: “যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনাকে সম্মান করবেন, মর্যাদা দিবেন এবং এই উদ্দেশ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মীলাদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজাম মুবারক করবেন, তিনি অবশ্যই সম্মানিত ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন এবং বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ৬ নং পৃষ্ঠা, নাফহাতুল আম্বরিয়া ৮ নং পৃষ্ঠা, মাদারিজুস সউদ, তালহীনুছ ছাননাজ ইত্যাদি)
#7RobiulAwalShareef
#12RobiulAwalShareef
#90DaysMahfil 
#RajarbagDorberShareef
sunnat.info
Sm40.com
সত্য স্বপ্নকে বিশ্বাস না করা কুফুরি

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ  حضرت أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رضى الله تعالى عنه سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ رَآنِي فَقَدْ رَأَى الحَقَّ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَتَكَوَّنُنِي

অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্ন দেখলো, অবশ্যই সে সঠিকই দেখলো। কেননা নিশ্চয়ই শয়তান আমার আকৃতি মুবারক ধারণ করতে পারেনা।” (বুখারী শরীফ, আল আহকামুশ শরইয়্যাহ ৪/২৬১, আল মুখতাছারুন নাছীহ ৩/৩৫৮)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

 عن حضرت عبد الرحمن بن عائذ رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من لم يؤمن بالرؤيا الصادقة فإنه لم يؤمن بالله ورسوله. 

  অর্থ: “হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আয়িয রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি সত্য স্বপ্নকে বিশ্বাস করে না, নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকেও বিশ্বাস করে না অর্থাৎ সে অমুসলিম বা কাফির।” (জামিউল আহাদীছ, কিরমানী, কানযুল উম্মাল, দায়লামী শরীফ ইত্যাদি)

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন-
 শাযালী ত্বরীক্বার সম্মানিত ইমাম, আওলাদে রসূল হযরত শায়খ আবুল মাওয়াহেব শাযালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ৫৭১ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন, “আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রায়ই স্বপ্নে দেখি এবং উনার নিকট থেকে সরাসরি নির্দেশপ্রাপ্ত হই। এ ব্যাপারে কেউ কেউ সন্দেহ পোষণ করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! এমন কি আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করারও চেষ্ঠা করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! এ সম্পর্কেই একবার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, আমি আমার উম্মতের মধ্য থেকে প্রিয়জনদের সাক্ষাৎ দান করে থাকি এবং তারা আমার নিকট থেকে বিভিন্ন বিষয়ে ইলিমও অর্জন করে থাকে। এ সত্য যে ব্যক্তি অস্বীকার করে, সে ইহুদী বা নাসারাদের ন্যায় মৃত্যু বরণ করবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (নে’মাতে উয্মা)

এ বিষয়ে আরো অসংখ্য দলীল-প্রমান মওজুদ রয়েছেন। অতিসত্ত্বর এ বিষয়ে বিস্তারিত দলীল-আদিল্লাহসহ রেসালা শরীফ প্রকাশিত হবেন। ইনশাআল্লাহ!
افضل العبادة والاعمال سيد سيد الاعياد شريف (1)
افضل العبادة والاعمال سيد سيد الاعياد شريف (1) 

قال الله تعالى فى القران الكريم {قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ} [يونس: 58] وقال تعالى ايضا { إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا } [الأحزاب: 56] 
قال حضرت أبو بكر (المشهور بالبكري) عثمان بن محمد شطا الدمياطي الشافعي رحمة الله عليه (المتوفى: 1310هـ) فى كتابه "إعانة الطالبين على حل ألفاظ فتح المعين `3/ 415  -(وحكي) أنه كان في زمان أمير المؤمنين هارون الرشيد شاب في البصرة مسرف على نفسه وكان أهل البلد ينظرون إليه بعين التحقير لأجل أفعاله الخبيثة، غير أنه كان إذا قدم شهر ربيع الأول غسل ثيابه وتعطر وتجمل وعمل وليمة واستقرأ فيها مولد النبي - صلى الله عليه وسلم - ودام على هذا الحال زمانا طويلا، ثم لما مات سمع أهل البلد هاتفا يقول: احضروا يا أهل البصرة واشهدوا جنازة ولي من أولياء الله فإنه عزيز عندي، فحضر أهل البلد جنازته ودفنوه، فرأوه في المنام وهو يرفل في حلل سندس واستبرق، فقيل له بم نلت هذه الفضيلة؟ قال بتعظيم مولد النبي - صلى الله عليه وسلم -. 
(وحكي) أنه كان في زمان الخليفة عبد الملك بن مروان شاب حسن الصورة في الشام، وكان يلهو بركوب الخيل فبينما هو ذات يوم على ظهر حصانه إذ أجفل الحصان وحمله في سكك الشام ولم يكن له قدرة على منعه فوقع طريقه على باب الخليفة فصادف ولده ولم يقدر الولد على رد الحصان فصدمه بالفرس وقتله، فوصل الخبر إلى الخليفة فأمر بإحضاره، فلما أن أشرف إليه خطر على باله أن قال إن خلصني الله تعالى من هذه الواقعة أعمل وليمة عظيمة وأستقرئ فيها مولد النبي - صلى الله عليه وسلم - فلما حضر قدامه ونظر إليه ضحك بعدما كان يخنقه الغضب، فقال: يا هذا أتحسن السحر؟ قال لا والله يا أمير المؤمنين. فقال عفوت عنك، ولكن قل لي ماذا قلت؟ قال: قلت إن خلصني الله تعالى من هذه الواقعة الجسيمة أعمل له وليمة لأجل مولد النبي - صلى الله عليه وسلم -.فقال الخليفة قد عفوت عنك، وهذه ألف دينار لأجل مولد النبي - صلى الله عليه وسلم -، وأنت في حل من دم ولدي. فخرج الشاب وعفى عن القصاص وأخذ ألف دينار ببركة مولد النبي - صلى الله عليه وسلم -. 
وإنما أطلت الكلام في ذلك لأجل أن يعتني ويرغب جميع الإخوان، في قراءة مولد سيد ولد عدنان، لأن من لأجله خلقت الأرواح والأجسام، بحق أن يهدى له الروح والمال والطعام. وفقنا الله وإياكم لقراءة مولد نبيه الكريم (سيد سيد الاعياد شريف) على الدوام، وإنفاق المال لأجله في سائر الأوقات والأيام آمين

#7RobiulAwalShareef
#12RobiulAwalShareef
#90DaysMahfil 
#RajarbagDorberShareef
sunnat.info
Sm40.com
মা'ছূম হওয়া, রহমতের সমস্ত দরজা খুলে যাওয়া, শাফায়াত মুবারক লাভ এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনাদের অনুরূপ নাজাত লাভ করা

৮. মা'ছূম হওয়া, রহমতের সমস্ত দরজা খুলে যাওয়া, শাফায়াত মুবারক লাভ এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনাদের অনুরূপ নাজাত লাভ করা

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন
 عن حضرت أبي الدرداء رضي الله تعالى عنه أنه مر مع النبي صلى الله عليه وسلم إلى بيت حضرت عامر الأنصاري رضي الله تعالى عنه وكان يعلم وقائع ولادته صلى الله عليه وسلم لأبنائه وعشيرته ويقول هذا اليوم لهذا اليوم فقال عليه الصلوة والسّلام إن الله فتح لك أبواب الرحمة والملائكة كلهم يستغفرون لك من فعل

فعلك تجي تجتك 
অর্থ: “হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছেন যে, একবার তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত আমের আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু উনার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি উনার সন্তানাদি এবং আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশী উনাদেরকে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কিত মহাসম্মানিত ঘটনা মুবারকসমূহ শুনাচ্ছেন এবং বলছেন, এই দিবস; এই দিবস (অর্থাৎ এই দিবসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক এনেছেন এবং ইত্যাদি ইত্যাদি ঘটনা ঘটেছেন। এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মজলিস মুবারক দেখে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক শুনে অর্থাৎ সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন দেখে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত রহমত মুবারক উনার সমস্ত দরজা মুবারকসমূহ আপনার জন্য উম্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং যে কেউ আপনার মত এরূপ কাজ করবেন, তিনিও আপনার মত নাজাত (ফযীলত মুবারক) লাভ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আত তানউইর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর,
মাওলূদুল কাবীর, দুররুল মুনাযযাম, ইশবাউল কালাম, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী মীলাদে আহমদী)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক

হয়েছেন

عن حضرت ابن عباس رضی الله تعالى عنه أنه كان يحدث ذات يوم في بيته وقائع ولادته صلى الله عليه وسلم يقوم فيستبشرون ويحمدون الله ويصلون عليه صلى الله عليه وسلم فإذا جاء النبي صلى الله عليه وسلم قال خلت لكم شفاعتي

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার তিনি উনার বাড়িতে সমবেত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনাদেরকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কিত মহাসম্মানিত ঘটনা মুবারকসমূহ শুনাচ্ছিলেন। এতে শ্রবণকারী উনারা আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা অর্থাৎ তাসবীহ-তাহলীল মুবারক পাঠ করছিলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করছিলেন। এমন সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেন এবং (উনাদের এই সম্মানিত আমল মুবারক দেখে অর্থাৎ সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন দেখে তিনি) ইরশাদ মুবারক করেন, আপনাদের জন্য আমার সম্মানিত শাফা'আত মুবারক ওয়াজিব।” সুবহানাল্লাহ! (আত তানউইর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর, মাওলুদুল কাবীর, দুররুল মুনাযযাম, সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদিল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইশবাউল কালাম, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী মীলাদে আহমদী)

মূলত, কোনো ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচনা মুবারক করার নিয়ত করলেই, আলোচনা মুবারক শুরু করার আগেই তার সমস্ত গুনাহ্-খতাগুলো মাফ করা হয়, তারপর তার দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচনা মুবারক করানো হয়। সে মা'ছুম অবস্থায় উনার আলোচনা মুবারক করে। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করেন, উনারা মা'ছূম হয়ে যান। উনাদের জন্য সম্মানিত রহমত মুবারক উনার সমস্ত দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাফায়াত মুবারক লাভ করবেন অর্থাৎ উনাদের জন্য শাফায়াত মুবারক ওয়াজিব করে দেয়া হয় । এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনাদের অনুরূপ নাজাত লাভ করবেন, ফযীলত মুবারক লাভ করবেন । সুবহানাল্লাহ! হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনারা যেমন বিনা হিসেবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবেন, ঠিক তেমনিভাবে যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ পালন করবেন, উনারাও বিনা হিসেবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবেন। সুবহানাল্লাহ!
#7RobiulAwalShareef
#12RobiulAwalShareef
#90DaysMahfil 
#RajarbagDorberShareef
sunnat.info
Sm40.com
আজ মহাসম্মানীত মহাপবিত্র বরকতময় ১৭ রবিউল আউয়াল শরীফ। 
আজ মহাসম্মানীত মহাপবিত্র বরকতময় ১৭ রবিউল আউয়াল শরীফ। 
আজকের এই তারিখে সাইয়্যিদুনা হযরত আবু শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনি বিছাল শরীফ লাভ করেন।সুবহানাল্লাহ।

 ঢাকা, মহাসম্মানিত রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার,
   দেখতে দেখতে ১০ বছর হয়ে গেলো,
সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুনা আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। 

সকাল ১০:৪০ মিনিট, আরবী ১৪৩৪ হিজরী আজ থেকে ১০ বছর আগে, দিনটি বুধবার, ইয়াওমুল আরবিয়ায়
ঢাকা, গোড়ান শরীফ মুবারক বাসায় উনি খুবই ইতমিনানের সাথে খ্বালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারকের চলে যান।সুবহানাল্লাহ। 

ইয়া সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম ক্ষমা চাই, দয়া চাই, ইহসান চাই, গোলামিতে অনন্তকাল থাকতে চাই। আমীন।

স্থান-গাজীপুর, কাপাসিয়া, চৌরাস্তা, উত্তর খামের, সাইয়্যিদ বাড়ী-(রওজা শরীফ অবস্থিত)

সাইয়্যিদুনা শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার আব্বাজান  আলাইহিস সালাম উনার রওজা শরীফ।সুবহানাল্লাহ।
#7RobiulAwalShareef
#12RobiulAwalShareef
#17RobiulAwalShareef
#90DaysMahfil 
#RajarbagDorberShareef
sunnat.info
Sm40.com
মাত্র এক দিরহাম খরচ করার মাধ্যমে ৭০টি সম্মানিত মক্কবুল হজ্জ মুবারক আদায় করার সমপরিমাণ ফযীলত মুবারক লাভ

৭. মাত্র এক দিরহাম খরচ করার মাধ্যমে ৭০টি সম্মানিত মক্কবুল হজ্জ মুবারক আদায় করার সমপরিমাণ ফযীলত মুবারক লাভ

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন
 عن سيدنا حضرت الصديق الأكبر عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه

وسلم من أنفق درهما في المولد فكانما حج سبعين حجة

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র : সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে এক দিরহাম (প্রায় ৪০০ টাকা)মুবারক

খরচ করবেন, তিনি সত্তরটি হজ্জ মুবারক আদায় করার সমপরিমাণ ফযীলত মুবারক লাভ করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
#7RobiulAwalShareef
#12RobiulAwalShareef
#90DaysMahfil 
#RajarbagDorberShareef
sunnat.info
Sm40.com
মুবারক হো ৭ ই শরীফ

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মুল কায়িনাত, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হুবহু মিছদাক আমাদের উম্মুল খাইর, হাবীবাতুল্লাহ, উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম।

হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম ছিলেন সকল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফক্বীহ, সবচেয়ে বেশী জ্ঞানী ব্যক্তি এবং আম জনতার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর মতামত মুবারক উনার অধিকারিণী। হযরত আম্মা হুযুর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনিও সবচেয়ে বড় ফক্বীহ, সবচেয়ে বেশী জ্ঞানী ব্যক্তি এবং আম জনতার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর মতামত মুবারক উনার অধিকারিণী। যারা উনার ছোহবত মুবারক এখতিয়ার করেছেন উনারা সবাই জানেন উনার সীমাহীন ইলম মুবারক, প্রজ্ঞা মুবারক, জ্ঞান মুবারক, বুদ্ধিমত্তা মুবারক, বিচক্ষণতা মুবারক সত্যিই বেমেছাল। আর উনার মত বিশুদ্ধভাষিণী ২য় কেউ আর সৃষ্টি হয়নি। সুবহানাল্লাহ
#7RobiulAwalShareef
#12RobiulAwalShareef
#90DaysMahfil 
#RajarbagDorberShareef
sunnat.info
Sm40.com