৩৫০ নং- সুওয়াল - কোন কোন আলেম রুমাল পরতে নিষেধ করেন। কারণস্বরূপ তারা বলেন এটা মেয়েদের পোশাক। আবার কেউ কেউ বলেন রুমাল পরা জায়েজ বা সুন্নত তবে এটা পাগড়ীর সাথে পরা উচিত নয় বা মাকরূহ তাহ্রীমী। এটার সঠিক ফয়সালা জানালে বাধিত হবো?
সুওয়াল - কোন কোন আলেম রুমাল পরতে নিষেধ করেন। কারণস্বরূপ তারা বলেন এটা মেয়েদের পোশাক। আবার কেউ কেউ বলেন রুমাল পরা জায়েজ বা সুন্নত তবে এটা পাগড়ীর সাথে পরা উচিত নয় বা মাকরূহ তাহ্রীমী। এটার সঠিক ফয়সালা জানালে বাধিত হবো?
জাওয়াব - ‘কিল্লতে ইল্ম ও কিল্লতে ফাহম’ অর্থাৎ কম জ্ঞান ও কম বুঝই ফেতনার মূল। আর এই কম জ্ঞান ও কম বুঝের কারণেই বিভিন্নজন ভুল ফতওয়া দিয়ে থাকেন। মূলতঃ রুমাল পরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত। এটা আমরা বিভিন্ন সীরাতগ্রন্থে দেখতে পাই। এটাছাড়া পাগড়ীর সাথে রুমালের ব্যবহারও আমরা কিতাবে দেখতে পাই। কাজেই বিনা তাহ্ক্বীকে কোন কথা বলা ঠিক নয়। মেয়েদের জন্য ছেলেদের পোশাক এবং ছেলেদের জন্য মেয়েদের পোশাক পরা জায়েয নেই। এবং যদি বলা হয় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেয়েদের পোশাক পরেছেন, তাহলে এটা কুফরী হবে। এবং এটার থেকে খালেছ তওবা করা উচিত।
কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “জাহান্নামীদের জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা কেন জাহান্নামে গেলে?” তারা বলবে- আমরা  নামায পড়িনি, গরীব মিসকিনকে খাদ্য খাওয়াইনি, আর যারা  কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে আমরা তাদের সাথে কুরআন- হাদীছ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছি এবং পরকাল অস্বীকার করেছি মৃত্যু আসা পর্যন্ত। 
উপরোক্ত আয়াত শরীফ এবং আরও অন্যান্য আয়াত শরীফে আল্লাহ্ পাক, যারা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে তাদের সম্পর্কে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ‘সুরা হুজরাত’-এ বলেন যে, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কাছে যদি কোন সংবাদ আসে তবে তাহ্ক্বীক্ব করে গ্রহণ করো। আর হাদীছ শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হবার জন্য এতটুকুই যথেষ্ঠ যে, সে যা শুনে তাই বলে। সুতরাং আমাদের তাহ্ক্বীক্ব না করে কোন কথা বলা উচিত নয় এবং যারা তাহ্ক্বীক্ব না করে কথা বলে তাদের কথাও গ্রহণ করা উচিত নয় (বুখারী শরীফ, আরবাঈন, আল মুর্শিদুল আমীন)
আবা-২৩
৩৪৯ নং- সুওয়াল - বর্তমান সময়ে কোন ব্যক্তি যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে ছাগল, বকরী, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি কুরবানী দেয় অথবা গরু, মহিষ, উটের সাত নামের মধ্যে যদি এক নাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মোবারকে দেয়, তবে উক্ত নামের গোশ্তের হুকুম কি? এটা কি সকলে খেতে পারবে? অথবা এ গোশ্ত অছিয়তকৃত গোশ্তের হুকুমের অন্তর্ভূক্ত হবে কি না?
সুওয়াল - বর্তমান সময়ে কোন ব্যক্তি যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে ছাগল, বকরী, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি কুরবানী দেয় অথবা গরু, মহিষ, উটের সাত নামের মধ্যে যদি এক নাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মোবারকে দেয়, তবে উক্ত নামের গোশ্তের হুকুম কি? এটা কি সকলে খেতে পারবে? অথবা এ গোশ্ত অছিয়তকৃত গোশ্তের হুকুমের অন্তর্ভূক্ত হবে কি না?
জাওয়াব  - হ্যাঁ, উক্ত কুরবানীকৃত গোশ্ত সকলে খেতে পারবে। আর এটা অছিয়তকৃত গোশ্তের হুকুমের অন্তর্ভূক্ত হবে না। কেননা হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী  আলাইহিস সালাম উনাকে বিশেষভাবে কুরবানী করার জন্যে যে নির্দেশ দিয়েছেন এটা উনার জন্যই খাছ।
বর্তমান সময়ে কোন ব্যক্তি যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে কুরবানী দেয়, তবে এটা তার ফযীলত তথা বারাকাত, ফুয়ুজাত, নিয়ামত, রহ্মত, মাগফিরাত, নাজাত সর্বোপরি মহান আল্লাহ্ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি লাভ করা ও তার কুরবানী কবুল হওয়ার একটি উসীলা।
কাজেই মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে যদি কেউ কোরবানী দেয়, তবে উক্ত কুরবানীকৃত গোশ্ত সকলেই খেতে পারবে।
আবা-২৩
৩৪৮ নং- সুওয়াল - নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে কুরবানী করলে, কুরবানী দাতা উক্ত গোশ্ত খেতে পারবে কিনা?
সুওয়াল - নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে কুরবানী করলে, কুরবানী দাতা উক্ত গোশ্ত খেতে পারবে কিনা?
জাওয়াব - হ্যাঁ পারবে। তবে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত যদি তার সামর্থ থাকে, তবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম, হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম হযরত হাজেরা আলাইহিস সালাম এবং অন্যান্য আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালাম, ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ ও আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ উনাদের নামে কুরবানী দেয়া। 
অতএব, যারা শরীকীভাবে গরু মহিষ ইত্যাদি কুরবানী দেয়, তাদের অন্ততপক্ষে উচিত- ৭ জন শরীক না হয়ে ৬ জন শরীক হয়ে ৭ নামে কুরবানী দেয়া, তার মধ্যে ১ নাম থাকবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম॥এর। আর যারা বিনা শরীকে কুরবানী দেয় তাদের উচিৎ তাদের প্রাণীর মধ্যে এক নাম যেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য রাখে। অথবা আলাদাভাবে যেন একটি খাসী বা মেষ ইত্যাদি কুরবানী দেয়। কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমস্ত উম্মতের তরফ থেকে কুরবানী করেছেন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে কুরবানী দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন,বিশেষভাবে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তিনি যেন প্রতি বছর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে কুরবানী দেন। (মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, আশআতুল লুমআত ইত্যাদি)
আবা-২৩
৩৪৭ নং- সুওয়াল - একটি গরুতে ৫ জন শরীক হলো, বাকী দুইটি নাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম উনার নামে দেয়া হলো। এখন উক্ত কুরবানীর গোস্তকে কয় ভাগ করতে হবে?
সুওয়াল - একটি গরুতে ৫ জন শরীক হলো, বাকী দুইটি নাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম উনার নামে দেয়া হলো। এখন উক্ত কুরবানীর গোস্তকে কয় ভাগ করতে হবে?
জাওয়াব - গরুটির যদিও সাত নামের মধ্যে ২ নাম দেয়া হয়েছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত ইসমাঈল  আলাইহিস সালাম উনার নামে কিন্তু কুরবানী দিয়েছে ৫ শরীকে। কাজেই গরুটির গোশ্ত ৫ ভাগ করে ৫ জন নিয়ে নিবে। (সমূহ ফিক্বাহের কিতাব)
আবা-২৩
৩৪৬ নং- সুওয়াল - মৃত ব্যক্তির গোসল করানোর পূর্বে তার নিকটে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা জায়েয কিনা?
সুওয়াল - মৃত ব্যক্তির গোসল করানোর পূর্বে তার নিকটে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা জায়েয কিনা?
জাওয়াব - মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পূর্বে তার নিকট  কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা জায়েয নেই। যদি কোন ব্যক্তি তিলাওয়াত করতে চায়, তাহলে লাশ যে ঘরে বা যে রুমে রাখা হয়েছে, তার নিকটবর্তী অন্য কোন রুমে তিলাওয়াত করতে পারবে। অথবা লাশ যদি এমন কোন রুমে রাখা হয় এবং সে রুম যদি অনেক বড় হয়, তবে রুমের এক পার্শ্বে লাশ রাখবে এবং অন্য পার্শ্বে  কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতে পারবে। আর লাশ গোসল করানোর পর নিকটবর্তী বা দূরবর্তী যেকোন স্থানে  কুরআন শরীফ তিলাওয়াত জায়েয আছে। (সমূহ ফিক্বাহর কিতাব)
আবা-২৩
৩৪৫ নং- সুওয়াল - আজকাল হাটে-বাজারে দোকান-পাটে বাজানো কিছু ওয়াজের কেসেটে শুনতে পাওয়া যায় যে, ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি কোন পীর ছাহেব উনার নিকট বাইয়াত হননি। সত্যিই কি উনি কোন পীর ছাহেব উনার নিকট বাইয়াত হননি? দলীলসহ জানতে বাসনা রাখি।
সুওয়াল - আজকাল হাটে-বাজারে দোকান-পাটে বাজানো কিছু ওয়াজের কেসেটে শুনতে পাওয়া যায় যে, ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি কোন পীর ছাহেব উনার নিকট বাইয়াত হননি। সত্যিই কি উনি কোন পীর ছাহেব উনার নিকট বাইয়াত হননি? দলীলসহ জানতে বাসনা রাখি।
জাওয়াব - হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা  রহমতুল্লাহি আলাইহি দু’জন পীর ছাহেব উনার নিকট বাইয়াত হয়েছিলেন। তিনি প্রথমে হযরত ইমাম বাকের রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে বাইয়াত হন। হযরত ইমাম বাকের রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইন্তিকালের পর উনার ছেলে ইমাম জাফর সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বাইয়াত হন। হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর ছাহেব সম্পর্কে ‘ইছনা আশারিয়া’ ও ‘সাইফুল মোকাল্লেদীন’ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইমাম আ’যম আবূ হানীফা  রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সিলসিলা সম্পর্কে ‘ গায়াতুল আওতার ফি শরহে দোররিল মোখতার’ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবা-২৩
৩৪৪ নং- সুওয়াল - কুরবানী কার উপর ওয়াজিব?
সুওয়াল - কুরবানী কার উপর ওয়াজিব?
জাওয়াব - জিলহজ্ব মাসের দশ, এগার, বার অর্থাৎ দশ তারিখের সুবহে সাদিক হতে বার তারিখের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ মালিকে নেসাব হয় অর্থাৎ হাওয়ায়েজে আসলিয়াহ্ (নিত্য প্রয়োজনীয় ধন-সম্পদ) বাদ দিয়ে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা বা তার সমপরিমাণ মূল্যের মালিক হয়, তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। উল্লেখ্য যে, যদি কারো নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকে এবং তা যদি নেসাব পরিমাণ হয়, যেমন- কারো পাঁচটি ঘর আছে, একটির মধ্যে সে থাকে আর তিনটির ভাড়া দিয়ে সে সংসার চালায় আর একটি অতিরিক্ত, যার মূল্য নেসাব পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে তার উপরে কুরবানী ওয়াজিব হবে।
আবা-২৩
৩৪৩ নং- সুওয়াল - যে ব্যক্তি সিনেমা, টেলিভিশন দেখা এবং কাগজের উপরে অঙ্কিত প্রাণীর ছবি ঘরে রাখা জায়েয বলে, সেই ব্যক্তিকে শরীক নিয়ে কুরবানী করলে কুরবানী জায়েয হবে কি?
সুওয়াল - যে ব্যক্তি সিনেমা, টেলিভিশন দেখা এবং কাগজের উপরে অঙ্কিত প্রাণীর ছবি ঘরে রাখা জায়েয বলে, সেই ব্যক্তিকে শরীক নিয়ে কুরবানী করলে কুরবানী জায়েয হবে কি?
জাওয়াব - সিনেমা, টেলিভিশন দেখা এবং যে কোন প্রাণীর অঙ্কিত ছবি ঘরে রাখা সবগুলিই হারাম এবং নাজায়েয। অতএব, কোন ব্যক্তি যদি হারাম বা নাজায়েযকে হালাল বা জায়েয বলে, শরীয়ত মোতাবেক তার স্ত্রী তালাক হবে, যদি হজ্ব করে থাকে, তবে তা বাতীল বলে গণ্য হবে, তার জীবনের সমস্ত নেক আমল বরবাদ হয়ে যাবে এবং সে মুরতাদে পরিণত হবে। অতএব সে ব্যক্তি খালেস তওবা না করা পর্যন্ত তাকে শরীক করে কুরবানী করলে তা আদায় হবে না।
আবা-২৩
৩৪২ নং- সুওয়াল - কুরবানীর পশুর কোন কোন জিনিস খাওয়া হারাম ও মাকরূহ?

সুওয়াল - কুরবানীর পশুর কোন কোন জিনিস খাওয়া হারাম ও মাকরূহ?

জাওয়াব - কুরবানীর পশুর আটটি জিনিস খাওয়া হারাম ও মাকরূহের অন্তর্ভূক্ত- (১) দমে মাছফূহা বা প্রবাহিত রক্ত, (২) গুটলী, (৩) পিত্ত, (৪) শির দাড়ার ভিতরের মগজ, (৫) অন্ডকোষ, (৬) মুত্রথলি, (৭) লিঙ্গ বা যোনীদ্বার ও (৮) গুহ্যদ্বার।
আবা-২৩
৩৪১ নং- সুওয়াল - কুরবানী করার সুন্নতী পদ্ধতি এবং নিয়ত জানালে খুশি হবো।
সুওয়াল - কুরবানী করার সুন্নতী পদ্ধতি এবং নিয়ত জানালে খুশি হবো।
জাওয়াব - কুরবানীর পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে অর্থাৎ ক্বিবলামুখী করে শোয়ায়ে পূর্ব দিক থেকে চেপে ধরতে হবে, তারপর কুরবানী করতে হবে। আর কুরবানী করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, সীনার উপরিভাগ এবং কক্তনালীর মাঝামাঝি স্থানে যেন জবেহ করা হয়। আরো উল্লেখ্য যে, গলাতে চারটি রগ রয়েছে, তন্মধ্যে গলার সম্মূখভাগে দু’টি- খাদ্যনালী এবং শ্বাসনালী এবং দু’পার্শ্বে দু’টি রক্তনালী। এ চারটির মধ্যে খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং দু’টি রক্তনালীর মধ্যে একটি অবশ্যই কাটতে হবে। অর্থাৎ চারটি রগ বা নালীর মধ্যে তিনটি অবশ্যই কাটতে হবে, অন্যথায় কুরবানী হবেনা। যদি সম্ভব হয়, তবে ছুরি চালানোর সময় বেজোড় সংখ্যার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
কুরবানীর নিয়ত ঃ- (জবেহ করার পূর্বে)
انى وجهت وجهى للذى فطر السماوات والارض حنيفا وما انا من المشركين. ان صلاتى ويشكى ومحياى ومماتى لله رب العالمين. لا شريك له وبذا لك امرت وانا من المسلمين- اللهم منك  ولك.
উচ্চারণঃ- ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাহি ফাত্বরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না ছলাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহ্ইয়া ইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। লা শারীকালাহু ওয়া বি যালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ও লাকা। এ  দোয়া  পড়ে
بسم الله الله اكبر
 বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলে জবেহ করতে হবে। জবেহ করার পর এ দোয়া পড়বে-
اللهم تقبله منى كما تقبلت من حبيبك سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم وخليلك ابراهيم عليه السلام.
উচ্চারণঃ- আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বালহু মিন্নী কামা তাক্বাব্বালতা মিন হাবীবিকা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও খালিলিকা ইব্রাহীমা আলাইহিস সালাম।
যদি নিজের কুরবানী হয়, তবে منى (মিন্নী) বলতে হবে। আর যদি অন্যের কুরবানী হয়, তবে من (মিন) শব্দের পর যার বা যাদের কুরবানী, তার বা তাদের নাম উল্লেখ করতে হবে। আর যদি অন্যের সাথে শরীক হয়, তাহলে منى (মিন্নী)ও বলবে, অতঃপর من (মিন) বলে অন্যদের নাম বলতে হবে। কেউ যদি উপরোক্ত নিয়ত না জানে, তাহলে জবেহ করার সময় শুধু বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলে কোরবানী করলেও শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ নিয়ত অন্তরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তবে অবশ্যই প্রত্যেক জবেহকারীর উচিৎ উপরোক্ত নিয়ত শিক্ষা করা। কেননা উপরোক্ত নিয়ত পাঠ করে কুরবানী করা সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত।
আবা-২৩
৩৪০ নং- সুওয়াল - মুসাফিরের উপর কি কুরবানী করা ওয়াজিব?
সুওয়াল - মুসাফিরের উপর কি কুরবানী করা ওয়াজিব?
জাওয়াব - কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে- (১) মুসলমান হওয়া, (২) স্বাধীন হওয়া, (৩) মুক্বীম হওয়া, (৪) বালেগ হওয়া, (৫) মালিকে নেছাব হওয়া। কাজেই মুসাফিরের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, যদিও সে মালিকে নেছাব হোক না কেন। কিন্তু যদি সে কুরবানী করে, তবে আদায় হয়ে যাবে।
আবা-২৩
৩৩৯ নং- সুওয়াল - নামায পড়াকালে কি ধরণের মন-মানসিকতা হওয়া দরকার? নামাযে দাড়ালে বিভিন্ন ধরণের চিন্তা-ভাবনার উদ্রেক হয়, তা নিরসনের কোন উপায় আছে কি? জানায়ে উপকৃত করবেন।
সুওয়াল - নামায পড়াকালে কি ধরণের মন-মানসিকতা হওয়া দরকার? নামাযে দাড়ালে বিভিন্ন ধরণের চিন্তা-ভাবনার উদ্রেক হয়, তা নিরসনের কোন উপায় আছে কি? জানায়ে উপকৃত করবেন।


জাওয়াব  -  হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,
لا صلوة الا بحضور القلب.
অর্থঃ- হুযূরী ক্বালব (খুশু খুজু) ব্যতীত নামায সুরতান আদায় হবে, যার কারণে সে শরীয়তের শাস্তি থেকে বাঁচতে পারবে কিন্তু হাক্বীক্বতান তার  নামায হবেনা। অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার কাছে তার  নামায মকবুল হবেনা।
নামায পড়াকালে প্রত্যেক  নামাযীর দু’টি অবস্থার একটি অবশ্যই হওয়া দরকার। যেটা  হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহসানের সংজ্ঞায় বলেছেন যে,
ان تعبد الله كانك تراة فان لم تكن تراه فاته يراك.
অর্থঃ- “তুমি এভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত কর, যেন তুমি উনাকে দেখতে পাচ্ছ। আর যদি দেখতে না পাও, তবে এ ধারণা কর যে, তিনি তোমাকে দেখছেন।”
যে অন্তর দুনিয়ার মহব্বতে গরক্ব, সে অন্তর নিে  নামায পড়লে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় বিভিন্ন ধরণের চিন্তা-ভাবনার উদ্রেক হওয়াটাই স্বাভাবিক। কেননা  হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,
حب الدنيا راس كل خطيئة.
অর্থঃ- “দুনিয়ার মুহব্বত সকল গুণাহের মূল।”
কাজেই অন্তর থেকে দুনিয়ার মহব্বত দূর করে দিয়ে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত পয়দা করতে হবে। আর মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত অর্জন করতে হলে, মহান আল্লাহ্ ওয়ালাগণ উনাদের ছোহবত এখতিয়ার করে ক্বালব ইসলাহ্ করতে হবে। কারণ হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে,
الشيطن جاثم على قلب بنى ادم اذا ذكر خنس واذا غفل وسوس.
অর্থঃ- “শয়তান আদম সন্তানের ক্বাল্বের উপর বসে। যখন সে যিকির করে, তখন শয়তান পালিয়ে যায়। আর যখন সে যিকির থেকে গাফিল থাকে, তখন শয়তান ওয়াসওয়াসা দিতে থাকে।”
অতএব, শায়খ বা পীর ছাহেবের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে ইলমে তাসাউফ হাসিলের মাধ্যমে দীল ইসলাহ্ করতে হবে। দীল ইসলাহ্ হলেই  হুযূরী বা খুশু-খুজুর সাথে নামায আদায় করা সম্ভব এবং তখনই দুনিয়ার কোন খেয়াল তার অন্তরে উদিত হবেনা। এ অবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার ধ্যানে, খেয়ালে উনার জন্য নামায আদায় করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন,
الصلوة معراج المؤمنين.
অর্থঃ- “নামায হলো মু’মিনদের জন্য মি’রাজ স্বরূপ।”
আবা-২৩