এক নজরে সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক


 এক নজরে সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক-

সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আছ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিব্তুন (নাতী) আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! আর উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে কাট্টা কুফরী। না‘ঊযুবিল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার এক নজরে মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!

নিম্নে এক নজরে উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো-

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক: সাইয়্যিদুনা হযরত আলী আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক: সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ ইত্যাদি ইত্যাদি। সুবহানাল্লাহ!

যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক দ্বারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন: সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আছ ছানী আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান আলাইহিস সালাম: আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ ইবনে রবী’ আলাইহিস সালাম) তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম: সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফদ্বালু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম) তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানীজান আলাইহাস সালাম: আফযালুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মহাসম্মানিত ও মহাপবত্রি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মামাজান আলাইহিমুস সালাম: 

(১) ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম) তিনি, 

(২) ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুছ ছানী আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত ত্বইয়্যিব আলাইহিস সালাম) তিনি, 

(৩) ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম) তিনি এবং 

(৪) ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম) তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খালাজান আলাইহিন্নাস সালাম: 

(১) বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বইয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম) তিনি, 

(২) বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ্ আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম) তিনি এবং 

(৩) বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আন নূরুর রাবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম) তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করার ১৩ মাস ১৬ দিন পূর্বে অর্থাৎ ১ বছর ১ মাস ১৬ দিন পূর্বে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৬শে মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফ (বৃহস্পতিবার)। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত স্থান মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ভাই-বোন আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র এক বোন আলাইহাস সালাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দুই ভাই আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ: ১৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১০ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল আহাদ শরীফ (রবিবার)। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক: ইয়ারমুকের সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার ময়দান। সুবহানাল্লাহ!

দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক: ১৫ বছর ৫ মাস ১৪ দিন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ: ইয়ারমূক প্রান্তরে। সুবহানাল্লাহ!


সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইবনু খইরি বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে হযরত যুন নূর আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক 

হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-

সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সিবতুন (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিতা সিবত্বাতুন (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা মোট ৮ জন। উনাদের মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনা’ (ছেলে) আলাইহিমুস সালাম উনারা ৪ জন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ৪ জন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনা’ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই দুনিয়াবী দৃষ্টিতে অল্প বয়স মুবারক-এ তথা সম্মানিত দুধ মুবারক পানরত অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার যুগ পেয়েছেন, সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করেছেন এবং উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফও হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মধ্যে একমাত্র বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্যান্য যাঁরা রয়েছেন অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং আন নূরুর রাবি‘য়াহ সাইয়্যদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের প্রত্যেকেরই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! উনারাই হচ্ছেন হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সিবতুন (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিতা সিবত্বাতুন (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! 

হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিবতুন (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিবত্বাতুন (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কত জন এই নিয়ে অনেক ইখতিলাফ রয়েছে। আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত ইখতিলাফকে মিটিয়ে দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন যে, “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিবতুন (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিবত্বাতুন (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সর্বমোট ১০ জন। সুবহানাল্লাহ! উনারা হচ্ছেন,

১. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতে যিন নূর আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম) অনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হওয়ার পরের দিন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৮শে রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ৫০তম বছর মুবারক পার হয়ে ৫১তম বছর মুবারক চলাকালীন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৪৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৭শে ছফর শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইওয়ামুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ তথা সোমবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ৪৫ বছর ৬ মাস ২৯ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

২. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী ইবনে আবুল আছ ইবনে রবী’ আলাইহিস সালাম)  তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করার ১৩ মাস ১৬ দিন পূর্বে তথা ১ বছর ১ মাস ১৬ দিন পূর্বে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৬শে মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফ (বৃহস্পতিবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ১৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১০ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল আহাদ শরীফ সম্মানিত ইয়ারমূক জিহাদ মুবারক উনার ময়দানে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ১৫ বছর ৫ মাস ১৪ দিন দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! 

৩. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আছ ছানী আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে আবুল আছ ইবনে রবী’ আলাইহিস সালাম) তিনি ২য় হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৮ই শাওওয়াল শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! 

এই ৩ জন উনারা আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফযালু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

৪. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ১১ তম বছর মুবারক পার হয়ে ১২ তম বছর মুবারক উনার শুরুতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৫ই রবী‘ঊছ ছানী শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ) সম্মানিত ও পবিত্র হাবশায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ৫১ তম বছর মুবারক পার হয়ে ৫২ তম বছর মুবারক চলাকালীন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৪র্থ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ ইয়াওমুল আরবিয়া’ শরীফ (বুধবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ৬ বছর ১ মাস ১৭ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

৫. সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম) তিনি ৩য় হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৫ই রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল আরবিয়া শরীফ (বুধবার) বা’দ আছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৪৯ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৮শে সফর শরীফ জুমুয়াহ শরীফ ভোর রাত্রে ফজরের আগে তাহাজ্জুদের শেষ সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ৪৫ বছর ৫ মাস ১৩ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

৬. সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম) তিনি ৪র্থ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৫ই শা’বান শরীফ ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ শরীফ বা’দ আছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৬১ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১০ই মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ শরীফ যোহরের সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ৫৬ বছর ৫ মাস ৫ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

৭. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে যুন নূর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ (হযরত আলী) আলাইহাস সালাম। তিনি ৫ম হিজরী শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

৮. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বইয়্যাহ বিনতে যুন নূর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ (হযরত আলী) আলাইহাস সালাম। তিনি ৬ষ্ঠ হিজরী শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

৯. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে যুন নূর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ (হযরত আলী) আলাইহাস সালাম। তিনি ৭ম হিজরী শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

১০. আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহসিন আলাইহিস সালাম। তিনি ৯ম হিজরী শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

উনারা ৬ জন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, ইবনু খইরি বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী ইবনে হযরত যুন নূর (আবুল আছ) আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিবতুন (নাতি) আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে একজন বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! কাজেই উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের মালিক হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। তাই উনাকে মুহব্বত করা, উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা করা এবং উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক জানা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীসকলের জন্য ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ!

সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

শি’ব আবী ত্বালিব থেকে প্রত্যাবর্তন করার পর দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক যখন ৪৯ বছর ৬ মাস ৫ দিন তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করার ১৩ মাস ১৬ দিন পূর্বে তথা ১ বছর ১ মাস ১৬ দিন পূর্বে ২৬শে মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফ (বৃহস্পতিবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! 

সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া এবং সম্মানিত নাম মুবারক রাখা:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৭ম দিনে উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া হয় এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখা হয় ‘সাইয়্যিদুনা হযরত আলী আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! 

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মুহব্বত, আদর, স্নেহ মুবারক-

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার ছোট ভাই। সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনার ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মুহব্বত, আদর, স্নেহ মুবারক পেয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার সম্মানিত নানাজান সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত তত্ত্বাবধান মুবারক-এ বেড়ে উঠেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম তিনি যখন বণী গদ্বিরাহ গোত্রে দুধ মুবারক পানরত ছিলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনাকে দেখতে সেখানে যেতেন। একবার তিনি সেখানে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত কোল মুবারক-এ নিয়ে বুকে জড়িয়ে নেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন,

مَنْ شَارَكَنِـىْ فِـىْ شَىْءٍ فَاَنَا اَحَقُّ بِهٖ

অর্থ: “অন্য সবার থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ আলাইহিস সালাম উনার উপর আমার অধিকতর হক্ব রয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! 

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক-

দুনিয়াবী দৃষ্টিতে যখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ৫৩ বছর, তখন তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন। এ সময় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক প্রায় সোয়া এক বছর। সুবহানাল্লাহ! 

মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক:

মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত ওহী মুবারক প্রাপ্ত হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক করেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান উম্মু আবীহা, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর যখন উম্মু আবীহা, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ২য় হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত ও পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাসে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক করেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনিও উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ মহা মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! 

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ-

সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি প্রকাশ্যে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাইরু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রায় দেড় বছর দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ রয়েছেন, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাইরু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যাওয়ার জন্য রওয়ানা হন। পথিমধ্যে উনার উপর হামলা চালালে তিনি উটের পিঠ থেকে পাথরের উপর সম্মানিত তাশরীফ মুবরক নেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি তখন হামেলা শান মুবারক-এ ছিলেন। আঘাতের কারণে উনার একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং উনার অনেক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘নূরুন নাজাত মুবারক’ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রক্ত মুবারক) প্রবাহিত হন। এর ফলে তিনি দীর্ঘ দিন মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং এই মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় ৮ম হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৮ই মুহররমুল হারাম শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ তথা সোমবার) ইশরাকের ওয়াক্তে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ৩০ বছর ৬ মাস ১৭ দিন দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে তিনিই সর্বাধিক সময় দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক প্রায় ৮ বছর। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ-এ সম্মানিত অবস্থান মুবারক-

উম্মু আবীহা, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফযালু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর উনার মহাসম্মানিত যাওজুম মুকাররাম সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর (আবুল আছ) ইবনে রবী’ আলাইহিস সালাম তিনি কোন শাদী মুবারক করেননি। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনারই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ-এ সম্মানিত অবস্থান মুবারক করতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আযহার মুবারক-এ  নিয়ে সম্মানিত ছলাত মুবারক আদায়-

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُـصَـلِّـىْ وَهُوَ حَامِلٌ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا وَاِذَا قَامَ حَـمَلَهَا.

 অর্থ: “হযরত আবূ ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা বানাত আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে) সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাঁধ মুবারক-এ নিয়ে সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করতেন। যখন তিনি সম্মানিত সিজদা মুবারক করতেন, তখন উনাকে পাশে রেখে দিতেন। আবার যখন সম্মানিত ক্বিয়াম মুবারক করতেন, তখন পুনরায় উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আযহার মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোল মুবারক-এ) তুলে নিতেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মুসনাদে আহমদ, মুয়াত্তা ইত্যাদি) 

অপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ بَيْنَا نَـحْنُ فِى الْمَسْجِدِ جُلُوْسٌ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـحْمِلُ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَامَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِنْتَ اَبِـى الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيْعِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَاُمُّهَا سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِىَ صَبِيَّةٌ يَّـحْمِلُهَا عَلـٰى عَاتِقِهٖ فَصَلّٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِىَ عَلـٰى عَاتِقِهٖ يَضَعُهَا اِذَا رَكَعَ وَيُعِيْدُهَا اِذَا قَامَ حَتّٰى قَضٰى صَلَاتَهٗ يَفْعَلُ ذٰلِكَ بـِهَا

অর্থ:“হযরত আবূ ক্বাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ-এ উপস্থিত থাকাকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ বিনতে আবিল আছ ইবনে রবী’ আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে আমাদের নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন, উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম ছিলেন আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাইরু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! এ সময় (দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম) উনার সম্মানিত বয়স মুবারক অল্প ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাঁধ মুবারক-এ নিয়ে আসেন এবং উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাঁধ মুবারক-এ নিয়েই সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি যখন সম্মানিত রুকু মুবারক করতেন, তখন উনাকে পাশে রাখতেন। আর যখন সম্মানিত ক্বিয়াম মুবারক করতেন (দাঁড়াতেন), তখন কোল মুবারক-এ তুলে নিতেন। এভাবেই তিনি উনার সম্মানিত নামায মুবারক শেষ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, নাসাঈ শরীফ, মুসনাদে আহমদ, ইবনে হিব্বান, শু‘য়াবুল ঈমান ইত্যাদি)

উপরোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ উনাদের মাধ্যমে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ আলাইহাস সালাম উনাকে কতো বেমেছাল মুহব্বত মুবারক করতেন, আদর-¯েœহ মুবারক করতেন। যার কারণে তিনি সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করা অবস্থায়ও উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আযহার মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোল মুবারক-এ) নিতেন। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনাকেও বেমেছাল মুহব্বত মুবারক করতেন এবং উনাকে নিয়েও তিনি সম্মানিত সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করতেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়-

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত বাহন মুবারক তথা সম্মানিত উট মুবারক উনার পিছনে আরোহণ মুবারক করিয়েছিলেন। এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন যে,

وَلَمَّا دَخَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ يَوْمَ الْفَتْحِ اَرْدَفَ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلَامُ خَلْفَهٗ

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ প্রবেশ করেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত বাহন মুবারক উনার পিছনে আরোহণ করিয়েছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! 

অপর বর্ণনায় রয়েছেন,

وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرْدَفَهٗ عَلـٰى رَاحِلَتِهٖ وَفِىْ رِوَايَةٍ اُخْرٰى نَاقَتِهٖ يَوْمَ الْفَتْحِ

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত বাহন মুবারক উনার পিছনে অপর বর্ণনায় রয়েছেন উনার সম্মানিত উট মুবারক উনার পিছনে আরোহণ করিয়েছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববারনী, মা’রেফাতুছ ছাহাবাহ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, উসদুল গবাহ ইত্যাদি)

তাহলে এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনাকে কতোটুকু সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করতেন এবং উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ! যেটা সমস্ত জিন-ইনসান ও তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ-

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান উম্মু আবীহা, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফযালু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের ৩ বছর ২ মাস ৪ দিন পর ১১ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরির আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ) উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক প্রায় সোয়া ১১ বছর। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ-

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি ১২ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফ (বৃহস্পতিবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ইয়ারমুকের জিহাদ মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক-

১৫ হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত ৫ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ ইয়ারমূকের সম্মানিত জিহাদ মুবারক শুরু হয়। এই সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ সম্মানিত মুসলমান উনাদের সৈন্যসংখ্যা ছিলেন ৩৫ হাজার। আর খ্রিষ্টানদের সৈন্যসংখ্যা ছিলো ২ লাখেরও বেশি। তবে সরাসরি ময়দানে উপস্থিত ছিলো ২ লাখ। সম্মানিত ৫ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার) থেকে সম্মানিত ১০ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পর্যন্ত একাধারে ৬ দিন সম্মানিত জিহাদ মুবারক হয় এবং সম্মানিত ১০ই রজবুল হারাম শরীফ সম্মানিত মুসলমান উনাদের চূড়ান্ত বিজয়ী শান মুবারক প্রকাশ পায় অর্থাৎ উনারা চুড়ান্ত বিজয় লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ! এ সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! যদিও দুনিয়াবী দৃষ্টিতে তখন উনার সম্মানিত বয়স মুবারক প্রায় সাড়ে ১৫ বছর। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু তিনি ছিলেন লম্বা, স্বাস্থ্যবান এবং অনেক শক্তিশালী। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ-

সম্মানিত মুসলমানগণ উনারা ইয়ারমুকের জিহাদ মুবারক-এ ১লাখেরও অধিক খ্রিষ্টানদেরকে হত্যা করেন। আর সম্মানিত মুসলমান উনাদের মধ্যে ৩ হাজার সৈন্য সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি এই সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ প্রচ- লড়াই করে অনেক কাফেরকে হত্যা করে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন। অতঃপর তিনি এই সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার শেষ দিন তথা ১০ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল আহাদ শরীফ সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার ময়দানেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,

وَسَيِّدُنَا حَضْرَتْ عَلِىُّ بْنُ اَبِـى الْعَاصِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قُتِلَ يَوْمَ الْيَرْمُوْكِ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূর আলাইহিস সালাম তিনি ইয়ারমূকের সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! 

সম্মানিত জানাযা উনার নামায মুবারক পড়া এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখা:

ইয়ারমূক প্রান্তরেই উনার সম্মানিত জানাযা উনার নামায মুবারক পড়া হয় এবং সেখানেই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ অবস্থিত। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ১৫ বছর ৫ মাস ১৪ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে হযরত যুন নূর আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক-

 ছহিবু ইলমিল আউওওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছেন, একজন নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করলে, এর কাফফারা বাবদ সত্তর হাজার লোককে ধ্বংস করে দেয়া হয়। আর একজন খলীফা উনাকে শহীদ করা হলে, এর কাফফারা বাবদ পঁয়ত্রিশ হাজার লোককে ধ্বংস করে দেয়া হয়। আর ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে যারা জড়িত, তাদের কমপক্ষে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে, ধ্বংস করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন- 

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ مَا قُتِلَ نَبِـىٌّ قَطُّ اِلَّا قُتِلَ بِهٖ سَبْعُوْنَ اَلْفًا مِّنْ اُمَّتِهٖ وَلَا قُتِلَ خَلِيْفَةٌ قَطُّ اِلَّا قُتِلَ بِهٖ خَـمْسَةٌ وَّثَلَاثُوْنَ اَلْفًا.

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন কোনো নবী আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করা হয়নি যে, উনার কাফফারা বাবদ উনার উম্মতের সত্তর হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়নি। সুবহানাল্লাহ! আর এমন কোনো খলীফা উনাকে শহীদ করা হয়নি যে, উনার কাফফারা বাবদ পঁয়ত্রিশ হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়নি।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফে আবী শায়বাহ ১৫/২২৩, মুছান্নাফে ইবনে আব্দির রাজ্জাক্ব ১১/৪৪৫, আল মাত্বালিবুল আলিয়াহ ১৮/৫২, আছ ছওয়াইকুল মুহ্রিক্বহ ১/৩২৯, ত্ববাক্বতে ইবনে সা’দ ৩/৮৩, ইযালাতুল খফা’ ৬/৩১৯, তাফসীরে রূহুল বয়ান ৮/১৪৬, খাযিন ৩/৩০৩, বাগভী ৬/৫৯, আত তামহীদ ওয়াল বায়ান ১/১৮১, তারীখুল খুলাফা ১/১২৮, আর রিয়াদুন নাদ্বরাহ ফী মানাক্বিবে আশারাহ ১/২২৮, আখবারুল মদীনা ২/২২৫, আল মুহাদ্বারাত ওয়াল মুহাওয়ারাত ১/৭১, ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا قَالَ اَوْحَى اللهُ تَعَالـٰى اِلـٰى سَيِّدِنَا حَبِيْبِنَا شَفِيْعِنَا مَوْلَانَا مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنِّـىْ قَتَلْتُ بِيَحْيَـى بْنِ زَكَرِيَّا عَلَيْهِمَا السَّلَامُ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّاِنِّـىْ قَاتِلٌ ۢبِابْنِ ابْنَتِكَ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّسَبْعِيْنَ اَلْفًا.

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক করেন যে, নিশ্চয়ই আমি হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিমাস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সত্তর হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি, ধ্বংস করে দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! আর নিশ্চয়ই আমি আপনার লখতে জিগার, মহাসম্মানিতা আওলাদ, আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট যারা থাকবে, তাদের সত্তর হাজার এবং সত্তর হাজার তথা এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিবো, ধ্বংস করে দিবো।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফ ৩/১৯৫, খছায়িছুল কুবরা শরীফ ২/২১৪, ইমতা‘উল আসমা’ ১২/২৩৭, শরহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব ১০/১৫২ ইত্যাদি)

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা আরো বিভিন্ন কিতাবে বিভিন্নভাবে বর্ণিত রয়েছেন। তবে মূল অর্থ মুবারক এক। নিম্নে আরো কয়েকখানা বর্ণনা মুবারক উল্লেখ করা হলো-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِـىْ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ اِنِّـىْ قَتَلْتُ بِدَمِ حَضْرَتْ يَـحْيَـى بْنِ زَكَرِيَّا عَلَيْهِمَا السَّلَامُ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّاِنِّـىْ قَاتِلٌ ۢ بِدَمِ ابْنِكَ حَضْرَتْ اَلْـحُسَيْنِ بْنِ عَلِـىٍّ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّسَبْعِيْنَ اَلْفًا.

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে বলেছেন, যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, নিশ্চয়ই আমি (মহান আল্লাহ পাক) হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিমাস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সত্তর হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি, ধ্বংস করে দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! আর নিশ্চয়ই আমি আপনার লখতে জিগার, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট থাকবে, তাদের সত্তর হাজার এবং সত্তর হাজার তথা এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিবো, ধ্বংস করে দিবো।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ ৩/১৮৭)

অপর বর্ণনায় এসেছেন-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ لِـىْ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اِنَّ اللهَ قَتَلَ بِدَمِ حَضْرَتْ يَـحْيَـى بْنِ زَكَرِيَّا عَلَيْهِمَا السَّلَامُ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّهُوَ قَاتِلٌ بِدَمِ ابْنِ ابْنَتِكَ حَضْرَتْ اَلْـحُسَيْنِ بْنِ عَلِـىٍّ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّسَبْعِيْنَ اَلْفًا.

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে বলেছেন, নিশ্চয়ই যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিমাস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সত্তর হাজার লোককে কাফ্ফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন, ধ্বংস করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর নিশ্চয়ই তিনি আপনার লখতে জিগার, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ, আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যিনি মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট থাকবে, তাদের সত্তর হাজার এবং সত্তর হাজার তথা এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিবেন, ধ্বংস করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ)

অন্য বর্ণনায় এসেছেন-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ حَضْرَتْ جِبْرِيْلَ عَلَيْهِ الصَّلـٰوةُ وَالسَّلَامُ اَخْبَرَنِـىْ اَنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَتَلَ بِدَمِ حَضْرَتْ يَـحْيَـى بْنِ زَكَرِيَّا عَلَيْهِمَا السَّلَامُ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّهُوَ قَاتِلٌ ۢ بِدَمِ حَضْرَتْ اَلْـحُسَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّسَبْعِيْنَ اَلْفًا.

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, নিশ্চয়ই হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে সংবাদ মুবারক দিয়েছেন, নিশ্চয়ই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিমাস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সত্তর হাজার লোককে কাফ্ফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন, ধ্বংস করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর নিশ্চয়ই তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট যারা থাকবে, তাদের সত্তর হাজার এবং সত্তর হাজার তথা এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিবেন, ধ্বংস করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ ১১/৮১)

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত ওহী মুবারক করে জানিয়ে দিয়েছেন যে-

اِنِّـىْ قَتَلْتُ بِيَحْيَـى بْنِ زَكَرِيَّا عَلَيْهِمَا السَّلَامُ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّاِنِّـىْ قَاتِلٌ ۢبِابْنِ ابْنَتِكَ سَبْعِيْنَ اَلْفًا وَّسَبْعِيْنَ اَلْفًا.

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিমাস সালাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সত্তর হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি, ধ্বংস করে দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! আর নিশ্চয়ই আমি আপনার লখতে জিগার, মহাসম্মানিতা আওলাদ, আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যিনি মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট থাকবে, তাদের সত্তর হাজার এবং সত্তর হাজার তথা এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফ্ফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দিবো, ধ্বংস করে দিবো।” সুবহানাল্লাহ!

আর এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মূলত, এক লক্ষ চল্লিশ হাজার কাফির-মুনাফিকদেরকে তো নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছেই। শুধু তাই নয়, এই জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোটি কোটি কাফির, মুনাফিক্ব ও উলামায়ে সূ’দেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে, ধ্বংস করে দেয়া হবে, তাদের অস্থিত্ব বিলীন করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ!

এখন বলার বিষয় হচ্ছে একজন সম্মানিত খলীফা উনাকে শহীদ করার কারণে, কাফফারা বাবদ পঁয়ত্রিশ হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়। হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিমাস সালাম তিনি হচ্ছেন একজন বিশেষ নবী-রসূল। উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে যারা জড়িত ছিলো, কাফফারা বাবদ তাদের সত্তর হাজার লোককে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে; কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার সাথে যারা জড়িত ছিলো, তাদের কমপক্ষে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোককে কাফফারা বাবদ নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোটি কোটি কাফির, মুনাফিক্ব ও উলামায়ে সূ’দেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে, ধ্বংস করে দেয়া হবে, তাদের অস্থিত্ব বিলীন করে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ! 

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যেই হুকুম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সকল হাফাদাত (নাতী-নাতনী) আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরও ঠিক একই হুকুম।” সুবহানাল্লাহ!

যদি তাই হয়, তাহলে এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে হযরত যুন নূর আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুহতাজ। এছাড়া কায়িনাতের অন্য কারো মুহতাজ নন; বরং কায়িনাতের সকলেই উনার মুহতাজ। উনার কারণেই কায়িনাতের সকলে সম্মানিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এই বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে, নিম্নোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّــبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.

অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ  اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَـلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ شَجَرَةُ النُّبُوَّةِ وَمَعْدِنُ الرِّسَالَـةِ لَيْسَ اَحَدٌ مِّـنَ الْـخَلَائِقِ يَفْضُلُ اَهْلَ بَيْـتِـىْ غَيْرِىْ.

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমরা সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক এবং সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার সম্মানিত খনি মুবারক। সুবহানাল্লাহ! সমগ্র সৃষ্টি জগতে একমাত্র আমি ব্যতীত দ্বিতীয় আর কেউই নেই, যে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টি জগতে আমার পরেই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, ফযীলত মুবারক।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানযুল উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)

মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে হযরত যুন নূর আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উপলব্ধি করার এবং সে অনুযায়ী উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার, সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক ও সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করার মাধ্যমে হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের সম্মানিত ফতওয়া মুবারক অনুযায়ী ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড-

 মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّ الَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاَعَدَّ لَـهُمْ عَذَابًا مُّهِيْنًا

অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের উপর দুনিয়া ও আখিরাতে মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, 

عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اٰذَانِـىْ فِـىْ عِتْـرَتِـىْ فَقَدْ اٰذَى اللهَ عَزَّ وَجَلَّ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দিলো, সে মূলত যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকেই কষ্ট দিলো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (দায়লামী শরীফ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৯)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, 

عَنْ  اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اٰذَانِـىْ وَعِتْرَتِـىْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমাকে এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে কষ্ট দিবে, তার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত। অর্থাৎ সে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে লা’নতগ্রস্থ।” নাঊযুবিল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৯)

আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- 

مَلْعُوْنِيْنَ اَيْنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَقْتِيْلًا

অর্থ: “লা’নতগ্রস্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই পাকড়াও করা হবে এবং অবশ্যই তাদেরকে ক্বতল করা হবে, মৃত্যুদ- দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)

মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-

وَالَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ رَسُوْلَ اللهِ لَـهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ.

অর্থ: “আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)

সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ  اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَبَّ نَبِيًّا فَاقْتُلُوْهُ وَمَنْ سَبَّ اَصْحَابِـىْ فَاضْرِبُوْهُ

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কোনো নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, আপনারা তাকে ক্বতল করুন, মৃত্যুদ- দিন। আর যে ব্যক্তি আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে গাল-মন্দ করবে, উনাদের মানহানী করবে, আপনারা তাকে প্রহার করুন।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২২১, ফাতাওয়ায়ে বায্যাযিয়্যাহ ২/২৪২, আল মু’জামুছ ছগীর লিত ত্ববারনী ১/৩৯৩)

অপর বর্ণনায় এসেছেন,

عَنْ  اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَبَّ نَبِيًّا مِّنَ الْاَنْۢبِيَاءِ فَاقْتُلُوْهُ وَمَنْ سَبَّ وَاحِدًا مِّنْ اَصْحَابِـىْ فَاجْلِدُوْهُ.

অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে যে কোনো একজন নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, আপনারা তাকে ক্বতল করুন, মৃত্যুদ- দিন। আর যে ব্যক্তি আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মধ্য থেকে যে কোনো একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, আপনারা তাকে প্রহার করুন।” সুবহানাল্লাহ! (আল ফাওয়াইদ ১/২৯৫)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, 

عَنِ اِمَامِ الثَّالِثِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْـحُسَيْنِ بْنِ عَلِىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَبَّ اَهْلَ الْبَيْتِ فَاِنَّـمَا يَسُبُّ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অর্থ: “ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন ইবনে হযরত আলী আলাইহিমাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে গাল-মন্দ করলো, মানহানী করলো, সে মূলত মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকেই গাল-মন্দ করলো, উনাদেরই মানহানী করলো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ ১১/৮)

অতএব, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত ফতওয়া মুবারক হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। এ মৃত্যুদ- থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। স্বাভাবিক অবস্থায় হোক অথবা মাতাল বা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় হোক অর্থাৎ যেকোনো অবস্থায়ই হোক না কেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। এ মৃত্যুদ- থেকে রেহাই পাওয়ার কোন সুযোগ নেই এবং এ ব্যাপারে কারো কোনো ওজর-আপত্তিও গ্রহণযোগ্য হবে না। 

‘বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফসহ’ আরো অন্যান্য কিতাবে এসেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কা’ব বিন আশরাফকে ক্বতল করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,

مَنْ لِّكَعْبِ بْنِ الْاَشْرَفِ فَاِنَّهٗ يُؤْذِى اللهَ وَرَسُوْلَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অর্থ: “আপনাদের মধ্যে কে আছেন, যিনি কা’ব বিন আশরাফকে হত্যা করতে পারবেন? কেননা, সে মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দেয়।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, শরহুস সুন্নাহ শরীফ, মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ, শিফা শরীফ, আস সাইফুল মাসলূল ইত্যাদি)

তারপর বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি কা’ব বিন আশরাফকে অত্যন্ত সুকৌশলে হত্যা করেন। তাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দাওয়াতও দেননি। কেননা সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিয়েছে। আর উনাকে যারা কষ্ট দিবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তাদের তাওবার কোনো সুযোগ নেই।

আল ইমামুল কাবীর, মাফ্খরাতুল মাগরিব হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায ইবনে মূসা আল ইয়াহ্চুবী আস সাব্তী আল মালিকী আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ৪৭৬ হিজরী শরীফ এবং বিছাল শরীফ ৫৪৪ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আশ শিফা বিতা’রীফি হুকূকিল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার ২য় খ-ের ২২১ পৃষ্ঠায় বলেন-

فَدَلَّ اَنَّ قَتْلَهٗ اِيَّاهُ لِغَيْرِ الْاِشْرَاكِ بَلْ لِلْاَذٰى وَكَذٰلِكَ قَتَلَ اَبَا رَافِعٍ قَالَ حَضْرَتْ اَلْبَرَاءُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَكَانَ يُؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِيْنُ عَلَيْهِ وَكَذٰلِكَ اَمْرُهٗ يَوْمَ الْفَتْحِ بِقَتْلِ ابْنِ خَطَلٍ وَّجَارِيَتَيْهِ اللَّتَيْنِ كَانَتَا تُغَنِّيَانِ بِسَبِّهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِـىْ حَدِيْثٍ اٰخَرَ اَنَّ رَجُلًا كَانَ يَسُبُّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَنْ يَّكْفِيْنِـىْ عَدُوِّىْ فَقَالَ حَضْرَتْ خَالِدٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَا فَبَعَثَهُ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَتَلَهٗ.

অর্থ: “উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, কা’ব বিন আশরাফকে র্শিক করার কারণে হত্যা করা হয়নি, বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়ার কারণে হত্যা করা হয়েছে। একই কারণে ইহুদী নেতা আবূ রফে’কেও হত্যা করা হয়। হযরত বারা বিন আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি তার সম্পর্কে বলেন,

وَكَانَ يُؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِيْنُ عَلَيْهِ.

“সে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিতো, এবং উনার বিরুদ্ধে উনার শত্রুদেরকে সাহায্য করতো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ!

অনুরূপভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইবনে খত্বাল ও তার দুই দাসীকে হত্যা করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেন, যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ করে কবিতা আবৃত্তি করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ!

অপর এক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন, 

اَنَّ رَجُلًا كَانَ يَسُبُّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَنْ يَّكْفِيْنِـىْ عَدُوِّىْ فَقَالَ حَضْرَتْ خَالِدٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَا فَبَعَثَهُ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَتَلَهٗ.

 ‘এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করতো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনাদের মধ্যে কে আছেন যিনি আমার দুশমনকে হত্যা করতে পারবেন? তখন সাইফুল্লাহিল মাসলূল (মহান আল্লাহ পাক উনার উন্মুক্ত তরবারী মুবারক) হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি আরয করলেন, আমি আছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে প্রেরণ করেন। অতঃপর হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি (তার নিকট গিয়ে) তাকে হত্যা করেন’।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২২১ )

আল ইমামুল কাবীর, মাফ্খরাতুল মাগরিব হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আশ শিফা বিতা’রীফি হুকূকিল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার ২য় খণ্ডের ২১৪ পৃষ্ঠায় বলেন-

اِعْلَمْ وَفَّقَنَا اللهُ وَاِيَّاكَ اَنَّ جَمِيْعَ مَنْ سَبَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَوْ عَابَهٗ اَوْ اَلْـحَقَ بِهٖ نَقْصًا فِـىْ نَفْسِهٖ اَوْ نَسَبِهٖ اَوْ دِيْنِهٖ اَوْ خَصْلَةٍ مِّنْ خِصَالِهٖ اَوْ عَرَّضَ بِهٖ اَوْ شَبَّهَهٗ بِشَىْءٍ عَلـٰى طَرِيْقِ السَّبِّ لَهٗ اَوِ الْاِزْرَاءِ عَلَيْهِ اَوِ التَّصْغِيْرِ لِشَأْنِهٖ اَوِ الْغَضِّ مِنْهُ وَالْعَيْبِ لَهٗ فَهُوَ سَابٌّ لَّهٗ وَالْـحُكْمُ فِيْهِ حُكْمُ السَّابِّ يُقْتَلُ.

অর্থ: “জেনে রাখুন! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে ও আপনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ বিশুদ্ধ আক্বীদা ও হুসনে যন মুবারক দান করুন, উনার হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক উপলব্ধি করার তাওফীক্ব দান করুন এবং উনার যথাযথ হক্ব মুবারক আদায় করার তাওফীক্ব দান করুন। (আমীন!) যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালি দেবে, নাঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত করবে, নাঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওজুদ পাক মুবারক উনার সাথে বা উনার সম্মানিত ছিফত মুবারক উনার সাথে কোনো দোষত্রুটি সংযোজিত করবে, নাঊযুবিল্লাহ! বা উনার সম্মানিত বংশ মুবারক বা সম্মানিত দ্বীন (তথা সম্মানিত শরীয়ত মুবারক বা সম্মানিত সীরত মুবারক বা হুকুমত মুবারক) বা উনার কোনো সম্মানিত স্বভাব মুবারক ও সম্মানিত অভ্যাস মুবারক উনাদের সাথে দোষ-ত্রুটি সংযোজিত করবে। নাঊযুবিল্লাহ! আর এই দোষ-ত্রুটি সংযোজনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে হোক বা ইশারা-ইঙ্গিতে হোক বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিন্দা করার জন্য উনাকে কোনো বস্তু বা ব্যক্তির সাথে উপমা দিবে বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অবজ্ঞা করবে, নাঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত শান-মান মুবারক উনাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে, হেয়জ্ঞান করবে, নাঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করবে এবং উনার কোনো সম্মানিত আদেশ-নির্দেশ মুবারক বা হুকুম-আহকাম মুবারক উনাদের ব্যাপারে দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করবে, নাঊযুবিল্লাহ! তাহলে সে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী হিসেবে, উনার মানহানীকারী হিসেবে গণ্য হবে। নাঊযুবিল্লাহ! তার ব্যাপারে এ আদেশ কার্যকর হবে, যা সরাসরি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারীর ব্যাপারে, উনার মানহানীকারীর ব্যাপারে প্রযোজ্য হয়। তাকে শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই ক্বতল করতে হবে, তাকে শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই মৃত্যুদ- দিতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ ২/২১৪)

আল ইমামুল কাবীর, মাফ্খরাতুল মাগরিব হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন- 

وَكَذٰلِكَ مَنْ لَّعَنَهٗ اَوْ دَعَا عَلَيْهِ اَوْ تَـمَنّٰى مَضَرَّةً لَّهٗ اَوْ نَسَبَ اِلَيْهِ مَا لَا يَلِيْقُ بـِمَنْصِبِهٖ عَلـٰى طَرِيْقِ الذَّمِّ اَوْ عَبَثَ فِىْ جِهَتِهِ الْعَزِيْزَةِ بِسُخْفٍ مِّنَ الْكَلَامِ وَهَجْرٍ وَّمُنْكَرٍ مِّنَ الْقَوْلِ وَزُوْرٍ اَوْ عَيَّرَهٗ بِشَىْءٍ مِّـمَّا جَرٰى مِنَ الْبَلَاءِ وَالْمِحْنَةِ عَلَيْهِ اَوْ غَمَصَهٗ بِبَعْضِ الْعَوَارِضِ الْبَشَرِيَّةِ الْـجَائِزَةِ وَالْمَعْهُوْدَةِ لَدَيْهِ وَهٰذَا كُلُّهٗ اِجْمَاعٌ مِّنَ الْعُلَمَاءِ وَاَئِمَّةِ الْفَتْوٰى مِنْ لَّدُنِ الصَّحَابَةِ رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ اِلـٰى هَلُمَّ جَرًّا.

অর্থ:“অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর অভিসম্পাত করবে (নাঊযুবিল্লাহ!) বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য বদ দো‘আ করবে (নাঊযুবিল্লাহ!) বা উনার ক্ষতি কামনা করবে (নাঊযুবিল্লাহ!) বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিন্দা করা, অপবাদ দেয়া, দোষী সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে উনার সাথে এরূপ বস্তু সম্পর্কিত করবে, যা উনার সম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ, নাঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ, সম্মানিত ত্ববীয়ত বা সুমহান চরিত্র মুবারক-এ নির্বুদ্ধিতামূলক বাক্য, অশ্লীল কথা, অপছন্দনীয় কথা এবং মিথ্যাকে সম্পৃক্ত করবে, নাঊযুবিল্লাহ! বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মু’জিযা শরীফ স্বরূপ যে সমস্ত শান মুবারক গ্রহণ করেছেন, তা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাবাস্সুমী শান মুবারক হোক অথবা মারীদ্বী শান মুবারক হোক অথবা তাকলীফী শান মুবারক হোক না কেন, সে বিষয়ে উনাকে তিরস্কার করবে, নাঊযুবিল্লাহ! অর্থাৎ, মানবীয় স্বভাবসুলভ কারণে স্বাভাবিকভাবে সাধারণ মানুষকে যেসব বিষয় স্পর্শ করে থাকে যেমন রোগব্যাধি, ক্ষুধা, পিপাসা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জিন-ইনসানকে মর্যাদা দানের লক্ষ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এই সকল বিষয়ে যে পবিত্র শান মুবারক গ্রহণ করেছেন, সে পবিত্র শান মুবারক উনাকে অবজ্ঞা করবে, তুচ্ছ জ্ঞান করবে, নাঊযুবিল্লাহ! তাহলে সেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী হিসেবে গণ্য হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তার ব্যাপারেও এ আদেশ কার্যকর হবে, যা সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারীর ব্যাপারে প্রযোজ্য হয়। তাকেও শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই ক্বতল করতে হবে, তাকে শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই মৃত্যুদ- দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! এ ব্যাপারে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের থেকে অদ্যবধি যত হক্কানী-রব্বানী আলিম-উলামা, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা অতীত হয়েছেন উনারা সবাই ইজমা’ তথা ঐকমত্য পোষণ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ ২/২১৪)

মূল কথা হলো, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার ফতওয়া মুবারক হচ্ছেন, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে অথবা উনার সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয় মুবারক নিয়ে বিন্দু থেকে বিন্দুতমও চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে, অর্থাৎ উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো বক্তব্য পেশ করবে, কোনো কাজ করবে, যে কোনোভাবে উনার মানহানী করার চেষ্টা করবে, সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী হিসেবে, উনার মানহানীকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। নাঊযুবিল্লাহ! তার ব্যাপারে এ আদেশ কার্যকর হবে, যা সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারীর ব্যাপারে, উনার মানহানীকারীর ব্যাপারে প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ তার একমাত্র শাস্তি হলো মৃত্যুদ-। সে নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তার তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। এ মৃত্যুদ- থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরাসরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আকরামুল আউয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী বা মানহানীকারীর উপর যে শাস্তি কার্যকর হবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনাকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে গাল-মন্দকারী বা মানহানীকারীর উপরও একই শাস্তি কার্যকর হবে। অর্থাৎ তারও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। সে নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তার তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। এ মৃত্যুদ- থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেননা উনাদেরকে গাল-মন্দ করার বা উনাদের মানহানী করার অর্থই হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করা বা উনার মানহানী করা। না‘ঊযুবিল্লাহ! 

এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানযুল উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)

আলোচ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে-

نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ 

(আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম) বলেÑ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে উনার নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, 

عَنِ الْاِمَامِ الثَّالِثِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْـحُسَيْنِ بْنِ عَلِىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَبَّ اَهْلَ الْبَيْتِ فَاِنَّـمَا يَسُبُّ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অর্থ: “ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন ইবনে হযরত আলী আলাইহিমাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে গাল-মন্দ করলো, উনাদের মানহানী করলো, সে মূলত মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকেই গাল-মন্দ করলো, উনাদেরই মানহানী করলো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ ১১/৮)

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনাকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে গাল-মন্দ করা বা উনাদের মানহানী করার অর্থই হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করা বা উনার মানহানী করা। না‘ঊযুবিল্লাহ!

আল ইমামুল কাবীর, মুজতাহিদে মত্বলক্ব, হাফিয, শাইখুল ইসলাম হযরত আবূ বকর মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুনযির নীশাপূরী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ: ২৪২ হিজরী শরীফ; বিছাল শরীফ: ৩১৯ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন-

اَجْمَعَ عَوَامُّ اَهْلِ الْعِلْمِ عَلـٰى اَنَّ مَنْ سَبَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقْتَلُ وَمِـمَّنْ قَال ذٰلِكَ مَالِكُ بْنُ اَنَسٍ وَّاللَّيْثُ وَاَحْمَدُ وَاِسْحَاقُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ وَهُوَ مَذْهَبُ الشَّافِعِـىِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ.

অর্থ: “সকল আহলে ইলম তথা হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ইজমা’ তথা ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালি দিবে, উনার মানহানী করবে, তাকে শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই ক্বতল করতে হবে, শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই মৃত্যুদ- দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! মালিকী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম হযরত ইমাম মালিক বিন আনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত ইমাম লাইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হাম্বলী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত ইসহাক ইবনে রাওয়াহাইহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা সকলেই এই মত পোষণ করেছেন এবং এটা হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযহাব।” সুবহানাল্লাহ! (আল ইশরাফ ‘আলা মাযাহিবে আহলিল ‘ইলম ৩/১৬, আল ইক্বনা’ ২/৫৮৪, আল ইজমা’ ৮৭ পৃ., শিফা শরীফ ২/২১৫, আস সাইফুল মাসলূল ‘আলা মান সাব্বার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১১৯-১২০পৃ., সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১২/২৩, আল মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ ২/৩৮৪, শরহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব ৭/৩৩৭, তাফসীরে কুরতুবী ৮/৮২, আল বাহরুর রায়িক্ব ১৩/৪৯৬, রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার ৪/২৩২ ইত্যাদি) 

হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ: ৪৭৬ হিজরী শরীফ এবং বিছাল শরীফ: ৫৪৪ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আশ শিফা বিতা’রীফি হুকূকিল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার মধ্যে বলেন- 

قَالَ اَبُوْ بَكْرِ بْنُ الْمُنْذِرِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَجْمَعَ عَوَامُّ اَهْلِ الْعِلْمِ عَلـٰى اَنَّ مَنْ سَبَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقْتَلُ وَمِـمَّنْ قَالَ ذٰلِكَ مَالِكُ بْنُ اَنَسٍ وَّاللَّيْثُ وَاَحْمَدُ وَاِسْحَاقُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ وَهُوَ مَذْهَبُ الشَّافِعِـىِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ الْقَاضِىْ اَبُو الْفَضْلِ وَهُوَ مُقْتَضٰى قَوْلِ اَبِـىْ بَكْرِ ۣ الصِّدِّيْقِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَلَا تُقْبَلُ تَوْبَتُهٗ عِنْدَ هٰؤُلَاءِ.

অর্থ: “আল ইমামুল কাবীর, মুজতাহিদে মত্বলক্ব, হাফিয, শাইখুল ইসলাম হযরত আবূ বকর মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুনযির নীশাপূরী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সকল আহলে ইলম তথা হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ইজমা’ তথা ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, তাকে শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই ক্বতল করতে হবে, শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই মৃত্যুদ- দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! মালিকী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম হযরত ইমাম মালিক বিন আনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত ইমাম লাইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হাম্বলী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত ইসহাক ইবনে রাওয়াহাইহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা সকলেই এই মত পোষণ করেছেন এবং এটা হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযহাব। সুবহানাল্লাহ! কাযী আবুল ফযল আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এটাই সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার অভিমত। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনিসহ উপরোক্ত সমস্ত হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ইজমা’ তথা ঐকমত্যে (যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে,) তার তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা বিতা’রীফি হুকূকিল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২/২১৫, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ ১২/২৩, আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ ২/৩৮৪)

শায়েখ আল্লামা হযরত ইমাম মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে শিহাব ইবনে ইঊসুফ আল বায্যাযী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ: ৮২৭ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল ফাতাওউল বায্যাযিয়্যাহ আওইল জামি‘উল ওয়াজীয শরীফ’ উনার মধ্যে বলেন-

اِذَا سَبَّ الرَّسُوْلَ عَلَيْهِ الصَّلـٰوةُ وَالسَّلَامُ اَوْ وَاحِدًا مِّنَ الْاَنْۢبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلـٰوةُ وَالسَّلَامُ فَاِنَّهٗ يُقْتَلُ حَدًّا وَّلَا تَوْبَةَ لَهٗ اَصْلًا سَوَاءٌ بَعْدَ الْقُدْرَةِ عَلَيْهِ وَالشَّهَادَةِ اَوْ جَاءَ تَائِبًا مِّنْ قِبَلِ نَفْسِهٖ كَالزِّنْدِيْقِ لِاَنَّهٗ حَدٌّ وَّجَبَ فَلَا يَسْقُطُ بِالتَّوْبَةِ كَسَائِرِ حُقُوْقِ الْاٰدَمِيِّيْنَ وَكَحَدِّ الْقَذْفِ لَا يَسْقُطُ بِالتَّوْبَةِ.

অর্থ: “যখন কোনো ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অথবা অন্য সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে যে কোনো একজন নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, অবশ্যই তাকে হদ্দ বা শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করতে হবে, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দিতে হবে। প্রকৃতপক্ষে তার কোন তাওবা নেই। চাই তাকে বন্দি করার পর তার উপর সাক্ষী পেশ করা হোক অথবা সে স্বেচ্ছায় তাওবাকারীরূপে আসুক সমান কথা। তার হুকুম জিন্দিকের হুকুমের অনুরূপ। কেননা তার উপর হদ্দ তথা শাস্তি ওয়াজিব হয়ে গেছে। কাজেই তার তাওবার দ্বারা তার হদ্দ তথা শাস্তি রহিত হবে না। যেমনিভাবে মানুষের যাবতীয় হক্বসমূহ এবং অপবাদের হদ্দ তথা শাস্তি তাওবার দ্বারা রহিত হয় না।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতাওয়ায়ে বায্যাযিয়্যাহ ২/৪৪২)। 

শায়েখ আল্লামা হযরত ইমাম মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে শিহাব ইবনে ইঊসুফ আল বায্যাযী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন- 

قُلْنَا اِذَا شَتَمَهٗ عَلَيْهِ الصَّلـٰوةُ وَالسَّلَامُ سَكْرَانُ لَا يُعْفٰى وَيُقْتَلُ اَيْضًا حَدًّا وَّهٰذَا مَذْهَبُ اَبِىْ بَكْرِ ۣ الصِّدِّيْقِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَالْاِمَامِ الْاَعْظَمِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَالثَّوْرِىِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَاَهْلِ الْكُوْفَةِ وَالْمَشْهُوْرُ مِنْ مَذْهَبِ مَالِكٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَاَصْحَابِهٖ قَالَ الْـخَطَّابِـىُّ لَا اَعْلَمُ اَحَدًا مِّنَ الْمُسْلِمِيْنَ اخْتَلَفَ فِـىْ وُجُوْبِ قَتْلِهٖ اِذَا كَانَ مُسْلِمًا وَّقَالَ ابْنُ سَحْنُوْنَ الْمَالِكِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ اَنَّ شَاتِـمَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَافِرٌ وَّحُكْمُهُ الْقَتْلُ وَمَنْ شَكَّ فِىْ عَذَابِهٖ وَكُفْرِهٖ كَفَرَ قَالَ اللهُ تَعَالـٰى فِيْهِ ﴿مَلْعُوْنِيْنَ اَيْنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَقْتِيْلًا﴾ وَرَوٰى حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ بْنُ مُوْسَى بْنِ جَعْفَرٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ عَلِىِّ بْنِ مُوْسٰى رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اَبِيْهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَنْ جَدِّهٖ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِىِّ بْنِ حُسَيْنٍ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ عَنْ اَبِيْهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَنِ الْـحُسَيْنِ بْنِ عَلِىٍّ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ عَنْ اَبِيْهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَبَّ نَبِيًّا فَاقْتُلُوْهُ وَمَنْ سَبَّ اَصْحَابِـىْ فَاضْرِبُوْهُ وَاَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَتْلِ كَعْبِ بْنِ الْاَشْرَفِ بِلَا اِنْذَارٍ وَّكَانَ يُؤْذِيْهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَذَا اَمَرَ بِقَتْلِ اَبِىْ رَافِعِ ۣ الْيَهُوْدِىِّ وَكَذَا اَمَرَ بِقَتْلِ ابْنِ خَطَلٍ لِّـهٰذَا وَاِنْ كَانَ مُتَعَلِّقًا بِاَسْتَارِ الْكَعْبَةِ.

অর্থ: “আমরা বলি যখন কোনো ব্যক্তি মাতাল বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায়ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! তাকেও ক্ষমা করা যাবে না। তাকেও হদ্দ তথা শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই ক্বতল করতে হবে, শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই মৃত্যুদ- দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! এটাই খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার, হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার, হযরত ইমাম সুফ্ইয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং কূফাবাসী (আলিম) উনাদের অভিমত। এবং তা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লহি আলাইহি উনার ও উনার অনুসারীদের অভিমত হিসেবে প্রসিদ্ধ। হযরত ইমাম খত্তাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

لَا اَعْلَمُ اَحَدًا مِّنَ الْمُسْلِمِيْنَ اخْتَلَفَ فِـىْ وُجُوْبِ قَتْلِهٖ اِذَا كَانَ مُسْلِمًا.

 ‘আমি এমন কোনো মুসলমান পাইনি, যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারীর ক্বতল তথা মৃত্যুদ- আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে মতবিরোধ করেছেন, যদি সে মুসলমান হয়ে থাকে।’ সুবহানাল্লাহ!

হযরত ইমাম ইবনে সাহ্নূন মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

 اَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ اَنَّ شَاتِـمَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَافِرٌ وَّحُكْمُهُ الْقَتْلُ وَمَنْ شَكَّ فِىْ عَذَابِهٖ وَكُفْرِهٖ كَفَرَ.

‘সমস্ত ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এ বিষয়ে ইজমা’ তথা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী, উনার মানহানীকারী কাফির। তার হুকুম হলো, তাকে ক্বতল করতে হবে, মৃত্যুদ- দিতে হবে। আর যে ব্যক্তি এ ধরনের লোকদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে এবং শাস্তিযোগ্য হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ করবে, সে নিজেও কাফির হবে (এবং তাকেও ক্বতল করতে হবে, মৃত্যুদ- দিতে হবে)।’ সুবহানাল্লাহ!

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- 

مَلْعُوْنِيْنَ اَيْنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَقْتِيْلًا.

‘লা’নতগ্রস্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই পাকড়াও করা হবে এবং অবশ্যই তাদেরকে ক্বতল করা হবে, মৃত্যুদ- দেয়া হবে।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মূসা ইবনে জা’ফর আলাইহিমুস সালাম তিনি হযরত আলী ইবনে মূসা আলাইহিমাস সালাম উনার থেকে, তিনি উনার মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার থেকে, উনার মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত দাদা আলাইহিস সালাম উনার থেকে, তিনি মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন আলাইহিমুস সালাম উনার থেকে, তিনি উনার মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার থেকে, তিনি ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন ইবনে আলী আলাইহিমাস সালাম উনার থেকে, তিনি উনার মহাসম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন- নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- 

مَنْ سَبَّ نَبِيًّا فَاقْتُلُوْهُ وَمَنْ سَبَّ اَصْحَابِـىْ فَاضْرِبُوْهُ.

‘যে ব্যক্তি কোনো নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, আপনারা তাকে ক্বতল করুন, মৃত্যুদ- দিন। আর যে ব্যক্তি আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে গাল-মন্দ করবে, উনাদের মানহানী করবে, আপনারা তাকে প্রহার করুন।’ সুবহানাল্লাহ! 

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়ার কারণে তিনি কোনো সতর্কীকরণ ছাড়াই কা’ব ইবনে আশরাফকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! একই কারণে তিনি আবূ রফে’ নামক ইহুদীকেও শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে একই কারণে তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ মুবারক উনার সাথে ঝুলন্ত থাকা সত্ত্বেও ইবনে খত্বালকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করার, মৃত্যুদ- দেয়ার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতাওয়ায়ে বায্যাযিয়্যাহ ২/২৪২-২৪৩)

‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ ‘মুত্বহ্হার’ (পূত-পবিত্র) এবং ‘মুত্বহ্হির’ (পূত-পবিত্রতাদানকারী) বলতে হবে’

  আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক অনন্য বেমেছাল বিস্ময়কর মহাসম্মানিত ফায়ছালা    মুবারক হচ্ছেন, “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ ‘মুত্বহ্হার’ (পূত-পবিত্র) এবং ‘মুত্বহ্হির’ (পূত-পবিত্রতাদানকারী) বলতে হবে”। সুবহানাল্লাহ! তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি একটি বিষয় ফিকির করতে থাকলাম যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ বলা হয় ‘মা’ছূম’ তথা নিস্পাপ। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ বলা হয় ‘মাহ্ফূয’ তথা সংরক্ষিত। তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ কী বলা হবে? আমি বিষয়টি যখন ফিকির করতে থাকলাম, তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, 

فَاَنَا وَاَهْلُ بَيْتِىْ مُطَهَّرُوْنَ مِنَ الذُّنُوْبِ.

অর্থ: ‘আমি এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম আমরা সকলে যুনূব তথা সমস্ত প্রকার ছগীরা-কবীরা এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পূত-পবিত্র।’ সুবহানাল্লাহ!

আমার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ مُطَهَّرٌ (মুত্বহ্হার) তথা পূত-পবিত্র এবং مُطَهِّرٌ (মুত্বহ্হির) তথা পূত-পবিত্রতাদানকারী বলতে হবে। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করলেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ স্বয়ং যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ত্বহারাত তথা পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টি সম্পৃক্ত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! 

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, 

اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُـمْ تَطْهِيْرًا.

অর্থ: ‘হে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সম্মানিত সৃষ্টি মুবারক করেছেন।’ সুবহানাল্লাহ!

আমি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে আমার নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! তাই আমার এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ مُطَهَّرٌ (মুত্বহ্হার) তথা পূত-পবিত্র এবং مُطَهِّرٌ (মুত্বহ্হির) তথা পূত-পবিত্রতাদানকারী বলতে হবে।” সুবহানাল্লাহ!

এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন। আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)

অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুহতাজ এবং উনাদের সম্মানার্থে উনারা সম্মানিত এবং উনাদের প্রতিই উনারা দায়েমীভাবে রুজু। সুবহানাল্লাহ! ফলে উনারা সমস্ত কিছু থেকেই পবিত্র, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! কাজেই সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক ইত্যাদি বরকতময় নিয়ামত মুবারক উনাদের প্রতি রুজু হওয়ার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন সুযোগ নেই। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কারণেই সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, সমস্ত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, 

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে কারো কোনো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানজুল উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)

কাজেই সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ফায়ছালা মুবারক অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ ‘মুত্বহ্হার’ (পূত-পবিত্র) এবং ‘মুত্বহ্হির’ (পূত-পবিত্রতাদানকারী) বলা, এই পরিভাষা মুবারক ব্যবহার করা। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ফায়ছালা মুবারক অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত,বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উপলব্ধি করে ইহকাল ও পরকালে হাকীক্বী কামিয়াবী হাছিল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ ব্যবহৃত ‘মুত্বহ্হার এবং মুত্বহ্হির’ সম্মানিত লফয মুবারক উনাদের সম্মানিত অর্থ এবং তাৎপর্য মুবারক-

 আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক অনন্য বেমেছাল অত্যন্ত বিস্ময়কর মহাসম্মানিত ফায়ছালা মুবারক হচ্ছেন, “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ مُطَهَّرٌ (মুত্বহ্হার) তথা পূত-পবিত্র এবং مُطَهِّرٌ (মুত্বহ্হির) তথা পূত-পবিত্রতাদানকারী বলতে হবে”। সুবহানাল্লাহ! তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি একটি বিষয় ফিকির করতে থাকলাম যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ বলা হয় ‘মা’ছূম’ তথা নিস্পাপ। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ বলা হয় ‘মাহ্ফূয’ তথা সংরক্ষিত। তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ কী বলা হবে? আমি বিষয়টি যখন ফিকির করতে থাকলাম, তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, 

فَاَنَا وَاَهْلُ بَيْتِىْ مُطَهَّرُوْنَ مِنَ الذُّنُوْبِ.

অর্থ: ‘আমি এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম আমরা সকলে যুনূব তথা সমস্ত প্রকার ছগীরা-কবীরা এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পূত-পবিত্র।’ সুবহানাল্লাহ!

আমার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ مُطَهَّرٌ (মুত্বহ্হার) তথা পূত-পবিত্র এবং مُطَهِّرٌ (মুত্বহ্হির) তথা পূত-পবিত্রতাদানকারী বলতে হবে। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ স্বয়ং যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ত্বহারাত তথা পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টি সম্পৃক্ত করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের শান মুবারক-এ বলা হয় ‘মাহ্ফূয’। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ বলা হয় ‘মা’ছূম’। আর স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ফায়ছালা মুবারক হচ্ছেন উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ ‘মুত্বহ্হার ও মুত্বহ্হির’ বলা। সুবহানাল্লাহ! 

 مَحْفُوْظٌ(মাহ্ফূয) শব্দ মুবারকখানা আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী اسم مفعول (ইসমে মাফ‘ঊল) উনার ছীগাহ। যা حِفْظٌ (হিফ্যুন) ক্রিয়ামূল হতে এসেছেন। অর্থ: সংরক্ষিত। যেহেতু হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের কর্তৃক সংরক্ষিত, তাই উনাদের শান মুবারক-এ ‘মাহ্ফূয’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! 

অনুরূপভাবে مَعْصُوْمٌ (মা’ছূম) শব্দ মুবারকখানা আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী اسم مفعول (ইসমে মাফ‘ঊল) উনার ছীগাহ। যাعَصْمٌ (‘আছমুন) ক্রিয়ামূল থেকে এসেছেন।عَصْمٌ (‘আছমুন) অর্থ- রক্ষা করা, বিরত রাখা। আর مَعْصُوْمٌ (মা’ছূম) অর্থ- নিষ্পাপ। 

 যেহেতু সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ছগীরাহ-কবীরাহ (ছোট-বড়), কুফরী-শিরকী এবং যাবতীয় অপছন্দীয় কাজ থেকে পবিত্র, তাই উনাদেরকে ‘মা’ছূম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! 

এ সম্পর্কে আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,

اَلْاَنْبِيَاءُ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ كُلُّهُمْ مَعْصُوْمُوْنَ

অর্থ: “সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মা’ছূম তথা নিষ্পাপ।” সুবহানাল্লাহ!

আক্বাইদের কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

اَلْاَنْبِيَاءُ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ كُلُّهُمْ مُنَزَّهُوْنَ عَنِ الصَّغَائِرِ وَالْكَبَائِرِ وَالْكُفْرِ وَالْقَبَائِحِ. 

অর্থ: “সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ছগীরাহ-কবীরাহ (ছোট-বড়), কুফরী এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ!

 এটা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক। সুবহানাল্লাহ! আর উনারা এই সম্মানিত খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক লাভ করেছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে। সুবহানাল্লাহ! কেননা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাউকে সম্মানিত নুবুওওয়াত-রিসালাত মুবারক দেয়া হয়নি যতক্ষণ পর্যন্ত উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান না এনেছেন, উনার সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করার, সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার এবং সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করার প্রতিশ্রুতি মুবারক না দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! 

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَاِذْ اَخَذَ اللهُ مِيْثَاقَ النَّبِـيّٖنَ لَمَاۤ اٰتَيْتُكُمْ مِّنْ كِتٰبٍ وَّحِكْمَةٍ ثُـمَّ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدِّقٌ لِّـمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهٖ وَلَتَنْصُرُنَّهٗ قَالَ ءَاَقْرَرْتُـمْ وَاَخَذْتُـمْ عَلـٰى ذٰلِكُمْ اِصْرِىْ قَالُوْاۤ اَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوْا وَاَنَا مَعَكُمْ مِّنَ الشّٰهِدِيْنَ فَمَنْ تَوَلّٰى بَعْدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓـئِكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ.

অর্থ: “আর (আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি স্মরণ করুন ঐ সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে অঙ্গীকার মুবারক গ্রহণ করলেন যে, আপনাদেরকে সম্মানিত কিতাব মুবারক ও হিকমত মুবারক দেয়া হবে। অতঃপর আপনাদের নিকট একজন মহাসম্মানিত রসূল তথা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করবেন এবং তিনি আপনাদেরকে ও আপনাদের কাছে যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুর তাছদীক্ব বা সত্যায়ন মুবারক করবেন। আপনারা অবশ্যই অবশ্যই উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনবেন এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনারা কি তা স্বীকার করে নিলেন এবং এই মর্মে আমার সম্মানিত ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করলেন? উনারা বললেন, আমরা স্বীকার করে নিলাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, তাহলে আপনারা সকলে সাক্ষী থাকুন এবং আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী রইলাম। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর যে এই সম্মানিত ওয়াদা মুবারক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে অর্থাৎ ওয়াদা মুবারক উনার খিলাফ করবে, তারাই হচ্ছে ফাসিক্ব তথা চরম নাফরমান, কাট্টা কাফির।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১-৮২) 

আর مُطَهَّرٌ (মুত্বহ্হার) শব্দ মুবারকখানা আরবী ক্বাওয়াইদ অনুযায়ী اسم مفعول (ইসমে মাফ‘ঊল) উনার ছীগাহ। অর্থ- পূত-পবিত্র। আর مُطَهِّرٌ (মুত্বহ্হির) শব্দ মুবারকখানা আরবী ক্বাওয়াইদ অনুযায়ী اسم فاعل (ইসমে ফা‘য়িল) উনার ছীগাহ। অর্থ- পূত-পবিত্রতাদানকারী। সুবহানাল্লাহ! এই সম্মানিত লফ্য বা শব্দ মুবারকদ্বয় উনাদের উৎপত্তি হচ্ছেন طُهْرٌ (তুহ্রুন) মূল ধাতু থেকে। অর্থ- পবিত্রতা। যেহেতু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সৃষ্টিগত বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওজূদ মুবারকগত দিক থেকেই পূত-পবিত্র, পূত-পবিত্রতাদানকারী এবং উনাদের সম্মানার্থেই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত কায়িনাতবাসী সকলেই পবিত্রতা হাছিল করেছেন, করছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত পবিত্রতা হাছিল করবেন। সুবহানাল্লাহ! তাই স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ مُطَهَّرٌ (মুত্বহ্হার) তথা পূত-পবিত্র এবং مُطَهِّرٌ (মুত্বহ্হির) তথা পূত-পবিত্রতাদানকারী বলার জন্য সম্মানিত ফায়সালা মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক উনার একখানা অংশ মুবারক থেকে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সৃষ্টি। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা একই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মূল নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

فَخَلَقْتُكَ وَخَلَقْتُ اَهْلَ بَيْتِكَ مِنَ النُّوْرِ الْاَوَّلِ

অর্থ: “আমি আপনাকে এবং আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র প্রথম ভাগ নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র একই নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি মুবারক করেছি।” সুবহানাল্লাহ! 

অপর বর্ণনায় রয়েছেন,

فَخَلَقْتُكَ وَاَهْلَ بَيْتِكَ مِنَ الْقِسْمِ الْاَوَّلِ

অর্থ: “আমি আপনাকে এবং আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র প্রথম ভাগ নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র একই নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি মুবারক করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (নুয্হাতুল মাজালিস, আল বারাহীন)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَلْـمِسْوَرِ بْنِ مَـخْرَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ    اَلنُّوْرُ الرَّابِعَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَلزَّهْرَاءُ عَلَيْهَا السَّلَامُ (حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ) بِضْعَةٌ مِّنِّىْ فَمَنْ اَغْضَبَهَا اَغْضَبَنِـىْ.

অর্থ: “হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরমাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, উম্মু আবীহা আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীর মুবারক) উনার মহাসম্মানিত নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোশত মুবারক উনার একখানা সম্মানিত টুকরো মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাই যে ব্যক্তি উনাকে অসন্তুষ্ট করলো, সে মূলত আমাকেই অসন্তুষ্ট করলো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ শরীফ)

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা বিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই। সমস্ত ইমাম মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা একবাক্যে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা উনাকে বিশুদ্ধ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্পষ্টভাবে ইরশাদ মুবারক করেছেন যে,

 اَلنُّوْرُ الرَّابِعَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَلزَّهْرَاءُ عَلَيْهَا السَّلَامُ )سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ( بِضْعَةٌ مِّنِّىْ

অর্থ: “সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, উম্মু আবীহা আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক) উনার মহাসম্মানিত নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোশত মুবারক উনার একখানা সম্মানিত টুকরো মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ শরীফ)

সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা একই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মূল নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি। সুবহানাল্লাহ! তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক উনার যেই হুকুম মুবারক, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক উনাদেরও ঠিক একই হুকুম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন,

فَاَنَا وَاَهْلُ بَيْتِىْ مُطَهَّرُوْنَ مِنَ الذُّنُوْبِ.

অর্থ: “আমি এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম আমরা সকলে যুনূব তথা সমস্ত প্রকার ছগীরা-কবীরা এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পূত-পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ!

এখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নিজের এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টি একই হুকুমের আওতাভুক্ত করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

জলীলুল ক্বদর নবী এবং রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যখন তূর পাহাড়ে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিবেন, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেছিলেন, 

فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ اِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى.

অর্থ: “আপনি আপনার সম্মানিত না’লাইন শরীফ খুলুন। কেননা আপনি সম্মানিত (তূর পাহাড়ের) পবিত্র তুয়া উপত্যকায় তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ত্বহা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)

 তূর পাহাড়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ও পবিত্র ‘আরশে ‘আযীম মুবারক থেকে ৭০ হাজার ভাগের এক ভাগ সম্মানিত নূর মুবারক বর্ষিত হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে সেই স্থানটি সম্মানিত ও পবিত্র হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে তূর পাহাড়ে উনার সম্মানিত না’লাইন শরীফ খুলে তাশরীফ মুবারক নেয়ার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফখর মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র না’লাইন শরীফ) উনাদের স্পর্শকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শরাফাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ধূলি-বালি মুবারক) উনাদের পবিত্রতা, মর্যাদা সম্মানিত মূল আরশে আযীম মুবারক উনার থেকেও লক্ষ কোটি গুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফখর মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র না’লাইন শরীফ) উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শরাফাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ধূলি-বালি মুবারক) পেয়ে সম্মানিত মূল আরশে আযীম মুবারক আরো পবিত্রতা হাছিল করেছেন, মর্যাদাবান হয়েছেন এবং অন্য সকলের উপর ফখর করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

সেটাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছিলেন, 

يَا حَضْرَتْ مُـحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَـخْلَعْ نَعْلَيْكَ فَاِنَّ الْعَرْشَ يَتَشَرَّفُ بِقُدُوْمِكَ مُتَنَعِّـلًا وَّيَفْتَخِرُ عَلـٰى غَيْرِهٖ مُتَـبَـرِّكًـا.

অর্থ: “আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দয়া করে আপনি আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফখর মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র না’লাইন শরীফ) খুলবেন না। অর্থাৎ আপনি আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফখর মুবারকসহ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র না’লাইন শরীফসহ) আমার সম্মানিত ও পবিত্র আরশে আযীম মুবারক উনার মধ্যে মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করুন। কেননা আমার সম্মানিত ও পবিত্র আরশে আযীম মুবারক আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফখর মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র না’লাইন শরীফ) উনাদের পরশ মুবারক পেয়ে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফখর মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র না’লাইন শরীফ) উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শরাফাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ধূলি-বালি মুবারক) উনাদের স্পর্শ মুবারক লাভ করে ধন্য হবেন, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাছিল করবেন। সুবহানাল্লাহ! (শুধু তাই নয়,) আমার সম্মানিত ও পবিত্র আরশে আযীম মুবারক আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফখর মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র না’লাইন শরীফ) উনাদের স্পর্শ মুবারক পাওয়ার কারণে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফখর মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র না’লাইন শরীফ) উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শরাফাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ধূলি-বালি মুবারক) লাভ করে বরকতময় হয়ে আরো পবিত্রতা হাছিল করবেন এবং অন্য সবার উপর ফখর করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল মুত‘য়াল ফী মাদহি খইরিন নি‘য়াল শরীফ)

আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা যেহেতু একই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মূল নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি এবং স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টি একই সম্মানিত হুকুম মুবারক উনার আওতাভুক্ত করে দিয়েছেন, তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফখর মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র না’লাইন শরীফ) উনাদের স্পর্শকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শরাফাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ধূলি-বালি মুবারক)উনাদের পবিত্রতা, মর্যাদা মুবারকও সম্মানিত ও পবিত্র মূল ‘আরশে ‘আযীম মুবারক থেকে লক্ষ কোটি গুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফখর মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র না’লাইন শরীফ) উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শরাফাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ধূলি-বালি মুবারক) পেলেও সম্মানিত ও পবিত্র মূল ‘আরশে ‘আযীম মুবারক আরো পবিত্রতা হাছিল করবেন, মর্যাদাবান হবেন এবং অন্য সকলের উপর ফখর করবেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টি কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান ও তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা এবং কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! উনারা হলেন- مُطَهَّرٌ (মুত্বহ্হার) তথা পূত-পবিত্র এবং مُطَهِّرٌ (মুত্বহ্হির) তথা পূত-পবিত্রতাদানকারী। সুবহানাল্লাহ!

আর এ কারণেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন। আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)

অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুহতাজ এবং উনাদের সম্মানার্থে উনারা সম্মানিত এবং উনাদের প্রতিই উনারা দায়েমীভাবে রুজু। সুবহানাল্লাহ! ফলে উনারা সমস্ত কিছু থেকেই পবিত্র, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! কাজেই সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, বিভিন্ন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক ইত্যাদি বরকতময় নি‘য়ামত মুবারক উনাদের প্রতি রুজু হওয়ার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোন সুযোগ নেই। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কারণেই সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক বর্তমান সময় পর্যন্ত যেভাবে জারী রয়েছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত যেভাবে জারী থাকবেন-

 মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ  سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلنُّوْرِ الرَّابِعَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةَ الْكُبْرَى عَلَيْهَا السَّلَامُ) قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّ بَنِـىْ اُمٍّ يَنْتَمُوْنَ اِلَـى عَصَبَةٍ اِلَّا وَلَدَ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلنُّوْرِ الرَّابِعَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) فَاَنَا وَلِـيُّهُمْ وَاَنَا عَصَبَتُهُمْ.

অর্থ: “উম্মু আবীহা আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক মায়ের সন্তান স্বীয় পিতার দিকে সম্পর্কিত হয় কিন্তু উম্মু আবীহা আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমাস সালাম উনারা ব্যতীত। আমিই উনাদের মহাসম্মানিত অবিভাবক এবং আমিই উনাদের মহাসম্মানিত পিতৃপুরুষ।” সুবহানাল্লাহ!(আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ৩/৭৪, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ১২/১০৯, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৯/৯৯, আল ফাতহুল কাবীর ৩/২২ ইত্যাদী)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, 

عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقِ الْاَعْظَمِ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ) قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ كُلُّ بَنِـىْ اُنْثَى فَاِنَّ عَصَبَتَهُمْ لِاَبِيْهِمْ مَا خَلَا وَلَدَ  سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلنُّوْرِ الرَّابِعَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) فَاِنِّـىْ اَنَا عَصَبَتُهُمْ وَاَنَا اَبُوْهُمْ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ কথা মুবারক ইরশাদ মুুবারক করতে শুনেছি যে, প্রত্যেক মহিলার সন্তানদের সম্পর্ক স্বীয় পিতার দিকে হয়ে থাকে; কিন্তু উম্মু আবীহা আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমাস সালাম উনারা ব্যতীত। আমিই উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিতৃপুরুষ এবং আমিই উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অভিভাবক।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর ৩/৭৩, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৪/২৬০, আল জামি‘উছ ছগীর ২/১৫৯, আল ফাতহুল কাবীর ২/৩০৪, জামি‘উল আহাদীছ ১৫/৩২৫, কানযুল ‘উম্মাল ১২/১৬ ইত্যাদি)

সুতরাং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বংশ মুবারক উনার মহাসম্মানিত লখতে জিগার মুবারক, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার দুইজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মাধ্যমে ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারী থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মাধ্যমে ক্বিয়ামত পর্যন্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইতি শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিবেন। সুবহানাল্লাহ! 

আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে সম্মানিত ইমামত মুবারক উনার বিষয়টি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হস্তান্তর মুবারক করেন। কিন্তু উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার বিষয়টি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান মুছান্না আলাইহিস সালাম উনার নিকট হস্তান্তরিত হন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান মুছান্না আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার বিষয়টি জরী থাকেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক জারী থাকেন। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক ও সম্মানিত ইমামত মুবারক উনার বিষয়টি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার নিকট সম্মানিত হস্তান্তর মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! যিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে সকলের মাঝে মশহূর। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক ও সম্মানিত ইমামত মুবারক উনাদের বিষয়টি জারী থাকেন তথা সম্মানিত ইমামত মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক জারী থাকেন। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক ও সম্মানিত ইমামত মুবারক উনাদের বিষয়টি হস্তান্তরিত হন উনার মহাসম্মানিত আওলাদ ইমামুল খামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ বাক্বির আলাইহিস সালাম উনার নিকট। উনার পর হস্তান্তরিত হন উনার মহাসম্মানিত আওলাদ ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার নিকট। উনার পর হস্তান্তরিত হন উনার মহাসম্মানিত আওলাদ ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মূসা কাযিম আলাইহিস সালাম উনার নিকট। উনার পর হস্তান্তরিত হন উনার মহাসম্মানিত আওলাদ ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী রেযা আলাইহিস সালাম উনার নিকট। উনার পর হস্তান্তরিত হন উনার মহাসম্মানিত আওলাদ ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ ত্বক্বী আলাইহিস সালাম উনার নিকট। উনার পর হস্তান্তরিত হন উনার মহাসম্মানিত আওলাদ ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী নক্বী আলাইহিস সালাম উনার নিকট। উনার পর হস্তান্তরিত হন উনার মহাসম্মানিত আওলাদ ইমামুল হাদী ‘আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম উনার নিকট। অতঃপর সম্মানিত ইমামত মুবারক নয়; শুধু সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার বিষয়টি হস্তান্তরিত হন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট। উনার পর উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট, উনার পর উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট, উনার পর উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট। এভাবে সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার বিষয়টি বংশানুক্রমে হস্তান্তরিত হতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার বিষয়টিও হস্তান্তরিত হতে থাকেন উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান মুছান্না আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান মুছান্না আলাইহিস সালাম উনার পর উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট, উনার পর উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট, উনার পর উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট। এভাবে ১১তম ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম উনার পর এসে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান মুছান্না আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে জারিকৃত সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার বিষয়টি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবেদীন আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে জারিকৃত সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার বিষয়টি একত্রিত হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ ১১তম ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম উনার পর এসে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনাদের বিষয়টি একত্রিত হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে ১১তম ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম উনার পর থেকে শুধু একটি মাত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক উনার মাধ্যমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক হস্তান্তর মুবারক হতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনাদের বিষয়টি ১১তম ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম উনার পর যেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার নিকট এসে একত্রিত হয়েছেন, তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক উনার পূর্বে উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট তা হস্তান্তর মুবারক করেন। তিনি আবার উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট হস্তান্তর মুবারক করেন, তিনি আবার উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট হস্তান্তর মুবারক করেন। এভাবে বংশানুক্রমে একটি মাত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক উনার মাধ্যমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক হস্তান্তরিত হতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! এভাবে বংশানুক্রমে হস্তান্তরিত হতে হতে ৬০০ হিজরীর দিকে সেই সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনাদের বিষয়টি হস্তান্তরিত হন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ বকর মুজাদ্দিদী আলাইহিস সালাম উনার নিকট। সুবহানাল্লাহ! যিনি সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! 

মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুবারক ইচ্ছা ভারতীয় উপমহাদেশকে বিশেষ করে বাংলাদেশকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত পরশ মুবারক উনার মাধ্যমে ধন্য করা। তাই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ বকর মুজাদ্দিদী আলাইহিস সালাম উনাকে হিন্দুস্তানের আজমীর শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখার জন্য বলেন। সুবহানাল্লাহ! আর এদিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত খাজা মু‘ঈনুদ্দীন চিশতী আজমিরী সানজিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রচারের জন্য হিন্দুস্তানের আজমীর শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক রাখার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন। তখন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ বকর মুজাদ্দিদী আলাইহিস সালাম তিনি এবং হযরত খাজা মু‘ঈনুদ্দীন চিশতী আজমিরী সানজিরী রহমতুল্লাহ আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা উভয়ে অনেক সফর সঙ্গীসহ আজমীর শরীফ উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা মুবারক দেন। তারপর সমরকন্দ, লাহোর, মুলতান হয়ে দিল্লী পৌঁছেন। পরবর্তীতে উনারা দীল্লি থেকে আজমীর শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ বকর মুজাদ্দিদী আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুবারক ইচ্ছা অনুযায়ী আজমীর শরীফ-এ থেকে যান এবং সেখানেই তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! আজমীর শরীফ-এ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! উনারই অধস্তন মহাসম্মানিত আওলাদ হচ্ছেন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দীন আলাইহিস সালাম তিনি এবং আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ সালাহুদ্দীন আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা। সুবহানাল্লাহ! উনারা ১১ হিজরী শতকের শেষার্ধে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুবারক ইচ্ছা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও তার অধিবাসীদেরকে সম্মানিত রহমত-বরকত মুবারক, সম্মানিত নিয়ামত মুবারক এবং সম্মানিত হিদায়েত মুবারক দানে ধন্য করার জন্য বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! কিছুদিন চট্টগ্রামে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করার পর উনারা দুই ভাই সম্মানিত রহমত-বরকত মুবারক, সম্মানিত নিয়ামত মুবারক এবং সম্মানিত হিদায়েত মুবারক দানে সকলকে ধন্য করার জন্য নূরানীগঞ্জের (নারায়নগঞ্জের) সোনারগাঁও-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা পাথরে ভেসে এখানে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! সেই সম্মানিত নিদর্শন মুবারক এখনও অক্ষতভাবে বিদ্যমান রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ সালাহুদ্দীন আলাইহিস সালাম তিনি সোনারগাঁও এলাকায় সম্মানিত হিদায়েত মুবারক উনার কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং সেখানেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! সেখানেই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দীন আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সোনারগাঁও-এ কিছু দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করার পর সম্মানিত ও পবিত্র সোনারগাঁও উনার অদূরে যে স্থানে সম্মানিত হিদায়েত মুবারক উনার কেন্দ্র গড়ে তুলেন উনার বর্তমান নাম মুবারক “সম্মানিত ও পবিত্র প্রভাকরদী শরীফ”। এই সম্মানিত ও পবিত্র প্রভাকরদী শরীফ উনার মাঝে রয়েছেন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে কয়েকজন মহাসম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপাবিত্র রওযা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দীন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ মালাউদ্দীন আলাইহিস সালাম তিনি, উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ এলাহী বখস আলাইহিস সালাম তিনি, উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ ওয়ালী বখস আলাইহিস সালাম তিনি, উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম তিনি, যিনি আমাদের মহাসম্মানিত হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! আর উনারই মহাসম্মানিত কোল মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক আনেন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

এভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সাইয়্যিদুন হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক বংশানুক্রমে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হস্তান্তর মুবারক হন। সুবহানাল্লাহ! 

 সুতরাং আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লঅহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং উনার মহাসম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক ও খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক রয়েছেন, সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক ও খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একক ও অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ! আর উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন আমাদের মহাসম্মানিতা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন, মহাসম্মানিতা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ! নাক্বীবাতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি এবং নিবরাসাতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা হচ্ছেন, মহাসম্মানিত হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ! খলীফাতুল উমাম আল মানছূর সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন, মহাসম্মানিত হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিবতুন ও সিবত্বতুন আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিবতুন ও সিবত্বতুন (নাতী-নাতনী) আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ! এবং উনার মহাসম্মানিত দামাদ আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত দামাদ (জামাতা) আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ!

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, যেহেতু ১১তম ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম উনার পর এসে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান মুছান্না আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে জারিকৃত সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার বিষয়টি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে জারিকৃত সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার বিষয়টি একত্রিত হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ ১১তম ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম উনার পর এসে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনাদের বিষয়টি একত্রিত হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে ১১তম ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম উনার পর থেকে শুধু একটি মাত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক উনার মাধ্যমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক হস্তান্তর মুবারক হতে হতে বর্তমানে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হস্তান্তরিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক ব্যতীত অন্য কোনো সিলসিলায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক আনেননি এবং ভবিষ্যতেও এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক ব্যতীত অন্য কোনো সিলসিলায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক আইবনে না। সুতরাং এ বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, যেহেতু এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক ব্যতীত অন্য কোনো সিলসিলার মাধ্যমে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক আনেনি এবং ভবিষ্যতেও এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক ব্যতীত অন্য কোনো সিলসিলায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক আইবনে না, তাই এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক উনার মধ্যেই হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন। সুবহানাল্লাহ! 

আর সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই মুবারক বংশধর আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভূক্ত হবেন হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি উনার যামানার নির্যাতিত-নিপীড়িত মানব জাতির জন্য সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে বিশেষ হাদিয়া বা উপহার মুবারক হিসেবে প্রদত্ত। তাই ‘আস সাফফাহ’ সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার একখানা সম্মানিত অর্থ মুবারক হচ্ছেন, ‘সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা’ আর ‘মাহদী’ শব্দ মুবারক উনার একটি অর্থ হচ্ছে, ‘হাদিয়া বা উপহার হিসেবে প্রদত্ত’। সুবহানাল্লাহ! 

এভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক বর্তমান সময় পর্যন্ত জারী রয়েছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারী থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সিলসিলা মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে যে সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন এবং সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিবেন উনাদের প্রত্যেক্যের মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং মহাসম্মানিতা যাওজাতুম মুকররমাহ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট রাত মুবারক উনাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক লক্ষ কোটি শবে বরাত, শবে ক্বদরের চেয়েও লক্ষ কোটি গুণ বেশি-

 একমাত্র যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, উনাদের সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে স্বয়ং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, 

قُلْ لَّاۤاَسْاَلُكُمْ عَلَيْهِ اَجْرًا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِى الْقُرْبـٰى وَمَنْ يَّقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهٗ فِيْهَا حُسْنًا اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ شَكُوْرٌ.

অর্থ: “(আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত বান্দা-বান্দীদের, উম্মতদের, তামাম কায়িনাতবাসী সবাইকে) বলে দিন যে, তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাওয়া হচ্ছে না, প্রতিদান চাওয়া হচ্ছে না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। বরং তোমাদের জন্য এটা চিন্তা করাটাও কাট্টা কুফরী হবে। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও, যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করতে চাও, তাহলে তোমাদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, ফরয হচ্ছে, আমার নিকটাত্মীয় তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করা, সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, উনাদের সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজ করে আমি তার সেই নেকী উনাকে দ্বিগুণ-বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিয়ে থাকি। নিশ্চিয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল এবং সর্বোত্তম প্রতিদান দানকারী।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শূরা শরীফ:  সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-

عَنْ  اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَـلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلنُّجُوْمُ اَمَانٌ لِّاَهْلِ السَّمَاءِ اِذَا ذَهَبَتِ النُّجُوْمُ ذَهَبَ اَهْلُ السَّمَاءِ وَاَهْلُ بَيْتِـىْ اَمَانٌ لِّاَهْلِ الْاَرْضِ فَاِذَا ذَهَبَ اَهْلُ بَيْـتِـىْ ذَهَبَ اَهْلُ الْاَرْضِ.

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তারকারাজী হচ্ছে আসমানবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। যখন তারকারাজী বিদায় নিবে, তখন আসমানবাসীরাও ধ্বংস হয়ে যাবে। আর আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন যমীনবাসীর জন্য, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। যখন আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বিদায় ইিবনে, সাথে সাথে সমস্ত যমীনবাসী, সমস্ত কায়িনাতবাসী সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। অর্থাৎ ক্বিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবাহ ২/৬৭১, আছ ছওয়ায়িকুল মুহরিক্বহ ২/৬৭৫, আল মু’জাম ১/৪০৪, মিরক্বাত শরীফ ৯/৩৯৮৮, যাখায়িরুল ‘উক্ববাহ ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭)

অপর বর্ণায় এসেছেন-

عَنْ حَضْرَتْ سَلَمَةَ بْنِ الْاَكْوَعِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلنُّجُوْمُ اَمَانٌ لِّاَهْلِ السَّمَاءِ وَاَهْلُ بَيْتِـىْ اَمَانٌ لِّاُمَّتِـىْ.

অর্থ: “হযরত সালামাহ ইবনে আকওয়া’ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তারকারাজী হচ্ছে আসমানবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। আর আমার মহাসম্মানিত   ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন আমার সমস্ত উম্মতের জন্য নিরাপত্তাদানকারী।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, মুসাদ্দাদ, আবূ ইয়া’লা, হাকিম, তিরমিযী, ত্ববারনী, ইবনে ‘আসাকির, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৬, যাখায়িরুল ‘উক্ববাহ ১/১৭)

অপর বর্ণনায় রয়েছেন,

اَلنُّجُوْمُ اَمَانٌ لِّاَهْلِ السَّمَاءِ وَاَهْلُ بَيْتِـىْ اَمَانٌ لِّاَهْلِ الْاَرْضِ فَاِذَا ذَهَبَ اَهْلُ بَيْـتِـىْ ذَهَبَ اَهْلُ الْاَرْضِ.

অর্থ: “তারকারাজী আসমানবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। আর আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন যমীনবাসীর জন্য, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। যখন আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বিদায় নিবেন, সাথে সাথে সমস্ত যমীনবাসী, তামাম কায়িনাতবাসী সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। অর্থাৎ ক্বিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ!

মূলত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত কায়িনাতের মূল এবং মালিক। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মুবারক সম্মানার্থেই সমস্ত কায়িনাত টিকে রয়েছে এবং অনন্তকাল টিকে থাকবে। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের উপর ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সম্মানার্থে সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলে সর্বপ্রকার সম্মানিত নিয়ামত মুবারক হাছিল করেছে, হাছিল করছে এবং অনন্তকাল হাছিল করতেই থাকবে। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সম্মানার্থেই এই উম্মত পবিত্র শবে বরাত, শবে ক্বদরসহ সমস্ত প্রকার বিশেষ রাত মুবারক লাভ করতে পেরেছে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট যে সকল মহাসম্মানিত বিশেষ রাত্রি মুবারক রয়েছেন, সেই সকল মহাসম্মানিত বিশেষ রাত্রি মুবারক উনাদের ফযীলত মুবারক কতটুকু? মূলত, সেই সকল মহাসম্মানিত বিশেষ রাত্রি মুবারক উনাদের মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক লক্ষ কোটি শবে বরাত, শবে ক্বদরের চেয়েও লক্ষ কোটি গুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন, পবিত্র শবে বরাত ও শবে ক্বদরের রাতে খাছ রহমত বর্ষিত হয়। উক্ত খাছ রহমত মুবারক হরিণের উপর পরলে মৃগনাভী পয়দা হয়, মাছের উপর পরলে আম্বর পয়দা হয়, ঝিনুকের উপর পরলে মুক্তা পয়দা হয়, সাপের উপর পরলে মণি পয়দা হয় অর্থাৎ যেই প্রাণীর উপর উক্ত বিশেষ দিনে রহমত মুবারক বর্ষিত হয়, সেই প্রাণীটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য ম-িত হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! আর জীন-ইনসানের উপর পরলে জীন-ইনসান ওলীআল্লাহ হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট মহাসম্মানিত বিশেষ রাত্রি মুবারক-এ যদি কারো উপর সম্মানিত খাছ রহমত মুবারক বর্ষিত হয়, তাহলে সে কী নিয়ামত মুবারক লাভ করবে? মূলত, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট মহাসম্মানিত বিশেষ রাত্রি মুবারক-এ কারো উপর যদি খাছ রহমত মুবারক বর্ষিত হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে সে তো সর্বোচ্চ শ্রেণীর ওলীআল্লাহ হবেই, শুধু তাই নয়, সে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের আখাছ্ছুল খাছ তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক হাছিল করবে, উনাদের খাছ নিয়ামত মুবারক লাভে ধন্য হবে। সুবহানাল্লাহ! আর একজন বান্দা-বান্দী, উম্মত, জিন-ইনসানের জন্য এর চেয়ে বড় আর দ্বিতীয় কোন নিয়ামত মুবারক নেই। সুবহানাল্লাহ!

তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংশ্লিষ্ট রাত্রি মুবারক উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! 

মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট মহাসম্মানিত বিশেষ বিশেষ রাত্রি মুবারক-এ সারা রাত জেগে উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার, উনাদের সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করার এবং উনাদের সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করার মাধ্যমে আখাছ্ছুল খাছ রহমত মুবারক লাভ করে উনাদের হাক্বীক্বী মুহব্বত-মা‘রিফত, নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার, উনাদের বিশেষ নিয়ামত মুবারক হাছিল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!


 সাইয়্যিদু সুলত্বানিল আউলিয়া, ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আস সাজ্জাদ, আবূ আব্দুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংক্ষিপ্ত পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক

সাইয়্যিদু সুলত্বানিল আউলিয়া, ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আস সাজ্জাদ, আবূ আব্দুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংক্ষিপ্ত পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক-

 হযরত আহালু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে জানা, উনাদের মুহব্বত করা, উনাদের খিদমত মুবারক করা, উনাদের তা’যীম-তাকরীম করা এবং উনাদের মুবারক ছানা-ছিফত করা সমস্ত মুসলমান তথা জিন-ইনসান সমস্ত কায়িনাতের জন্য ফরয। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, 

قل لا أسألكم عليه أجرأ الا المودة  في القربى. ومن يقترف حسنة نزد له فيها حسنا. ان الله غفورشكور.

অর্থ: “(হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, “তোমাদের কাছে কোনো কিছু চাওয়া হচ্ছে না (আর তোমাদের পক্ষে কোনো বিনিময় দেয়াও সম্ভব নয়, বরং বিনিময় দেয়ার চিন্তা করাও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত); তবে তোমরা আমার ক্বরীব তথা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সদাচরণ (তা’যীম-তাকরীম, ছানা-ছিফত ও খিদমত মুবারক) করবে। যে কেউ এই মহান নেক কাজ (আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের তা’যীম-তাকরীম, ছানা-ছিফত, খিদমত মুবারক) করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে আরো উত্তম প্রতিদান হাদিয়া করবেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল এবং আমলে উত্তম প্রতিদান দানকারী।” সুবহানাল্লাহ!

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার মুহব্বতে।” সুবহানাল্লাহ! 

বারো ইমাম:

হযরত আহালু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ইমাম বারো (১২) জন। এই ১২ জন ইমাম উনারা হলেন- 

১. ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আসাদুল্লাহিল গালিব, বাবু মদীনাতিল ইলম, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, 

২. ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম,

 ৩. ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, শহীদে কারবালা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম, 

৪. ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু সুলত্বানুল আউলিয়া, ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আস সাজ্জাদ, আবূ আব্দুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম, 

৫. ইমামুল খামীস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ বাকির আলাইহিস সালাম, 

৬. ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম, 

৭. ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুসা কাযিম আলাইহিস সালাম, 

৮. ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী রিযা আলাইহিস সালাম, 

৯. ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ তকী আলাইহিস সালাম, 

১০. ইমামুল আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ নকী আলাইহিস সালাম, 

১১. ইমামুল হাদি আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম এবং 

১২. ইমামুছ ছানী আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ মাহদী আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

প্রথম ১১ জন ইমাম উনারা পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। আর ১২তম ইমাম তিনি আখিরী যামানায় তাশরীফ আনবেন। উনাদের জীবনী মুবারক জানা সকলের জন্যই ফরয। এখানে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী তথা জীবনী মুবারক আলোচনা করার কোশেশ করবো। ইনশাআল্লাহ! 

পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন- ৪৭ হিজরী সন উনার ৫ই শা’বান শরীফ ইয়াওমুল খমীস বা বৃহস্পতিবার।

পবিত্র নাম ও নসব মুবারক:

ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, সুলত্বানুল আউলিয়া, যীনাতুল আরিফীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের চতুর্থ ইমাম। উনার মূল নাম মুবারক ‘আলী আওসাত’ আলাইহিস সালাম। ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন যাওজাতুম মুকাররমাহ ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত লাইলা বিনতে মুররা আলাইহাস সালাম। (তারিখুত তাবারী- ৩/৩৩০)

উনার পবিত্র রেহেম শরীফে যিনি তাশরীফ এনেছিলেন উনারও নাম মুবারক ছিল সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আলী’ আলাইহিস সালাম। পরবর্তী সময়ে তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আলী আকবর’ আলাইহিস সালাম হিসেবে মাশহুর হন। 

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার আরো একজন পুত্র আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারকও ছিল সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আলী’ আলাইহিস সালাম। উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আলী আছগর’ আলাইহিস সালাম বলা হয়। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকের সাথে ‘আওসাত’ সংযুক্ত করে বলা হয় ‘আলী আওসাত’ আলাইহিস সালাম। কারবালার প্রান্তরে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আকবর আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আছগর আলাইহিস সালাম উনারা শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। হযরত আলে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্য থেকে শুধুমাত্র একজন আওলাদ কারবালার ময়দান থেকে ফিরে আসেন। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনার মাধ্যম দিয়েই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নসব মুবারক জারি রয়েছে। ইহুদীদের মদদপুষ্ট, কাট্টা কাফির, চির লা’নতগ্রস্ত, মালউন ইয়াযীদ কাফির এবং তার শয়তান সাঙ্গপাঙ্গরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বংশধারা মিটিয়ে দিতে চাইলেও তারা তা পারেনি। 

 কুনিয়াত মুবারক:

উনার কুনিয়াত মুবারক বা উপনাম মুবারক আবুল হাসান ও আবূ মুহম্মদ। উনাকে আবূ আব্দুল্লাহ মাদানীও বলা হয়। (তাহযীবুত তাহযীব-৭/২৬০) 

সম্মানিতা মাতা:

সম্মানিতা মাতা ছিলেন পারস্য শাসকের কন্যা সাইয়্যিদাতুনা হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম। ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে নিসবতে আযীম মুবারক হওয়ার পর উনাকে “সালমা” আলাইহাস সালাম এই মুবারক নামে নামকরণ করা হয়। কেউ কেউ “গাযালা” আলাইহাস সালামও বলেছেন। (তাহযীবুল কামাল- ১৩/২৩৭, সুয়ারুল মিন হায়াতিত তাবিয়ীন/৩৩৭)

পবিত্র লক্বব মুবারক:

ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, সুলত্বানুল আউলিয়া, যীনাতুল আরিফীন আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধুমাত্র “আল্লাহ পাক” এবং “রসূল পাক” ব্যতীত যত লক্বব মুবারক রয়েছে তিনি সমস্ত লক্বব মুবারকেরই অধিকারী তথা মালিক ও বণ্টনকারী। উনার বিশেষ লক্বব মুবারক হচ্ছেন ‘যাইনুল আবিদীন’। এই লক্বব মুবারকেই তিনি সারা দুনিয়ায় পরিচিত। এখানে উনার কিছু লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হলো। 

ইয়াদগারে নবুওয়াত (নুবুওয়াত উনার স্মারক),

যাইনুল আবিদীন (ইবাদতকারীগণের সৌন্দর্য),

 পেশওয়ায়ে দ্বীন (পবিত্র দ্বীন উনার ধারক-বাহক),

যাক্বী (অত্যন্ত বুদ্ধিমান), 

আমীন (চরম বিশ্বাসী),

যীনাতুল আরিফীন (নৈকট্যপ্রাপ্তদের সৌন্দর্য),

সাইয়্যিদুল মুতাওয়াককিলীন (তাওয়াককুলকারীগণের সাইয়্যিদ),

ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন (মুহাক্বক্বিক্বীনগণের ইমাম),

আফদ্বালুল উম্মাহ (সর্বশেষ্ঠ উম্মত),

ফকীহুদ দ্বীন (দ্বীনের ফকীহ), 

আফকাহুন্ নাস (মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সমঝদার)। (তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৮, তাহযীবুত তাহযীব-৭/২৬০) 

ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুসলিম জাহানের চতুর্থ খলীফা, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি যেদিন পবিত্র শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন তার প্রায় ৭ বৎসর পর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে আগমন করেন। কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় তিনি প্রায় ১৪ বছর বয়স মুবারকের অধিকারী ছিলেন।

 তা’লীম তরবিয়ত মুবারক:

সুলত্বানুল আরিফীন, পেশওয়ায়ে দ্বীন, ইয়াদগারে নুবুওয়াত, যীনাতুল আরিফীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি ইমামে আহলে বাইত, আওলাদে রসূল। আর হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সমস্ত ইলমের মালিক। উনাদের প্রতি পবিত্র ওহী নাযিল হয়নি, তবে উনারা কুদরতীভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং উনাদেরকে সমস্ত ইলমই হাদিয়া করা হয়েছে। উনাদের জিসিম মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুন নাজাত মুবারক প্রবাহিত। তাই উনারা অন্যান্য মানুষের মতো নন এবং উনাদের ইলম হাছিলের বিষয়টিও সাধারণ মানুষের মতো নয়।

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সৃষ্টিজগৎ রক্ষাকারী ও পবিত্রকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।             সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি যেদিন কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন, সে সময় উনার বয়স মুবারক ছিল প্রায় ১৪ বছর। এর পূর্ব পর্যন্ত উনার সম্মানিত পিতা উনার খাছ ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ পেয়ে ছিলেন। নবী পরিবার উনার পূর্ণ হিসসা তিনি পেয়েছেন। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি ইলমের শহর আর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সেই শহরের দরজা।” সেই ইলম ও হিকমাহ সাইয়্যিদুশ শুহাদা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীনা মুবারক হয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীনা মুবারকে স্থান পায়। খোদ সাইয়্যিদুশ শুহাদা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরবিয়ত দাতা; তাহলে তিনি কিরূপ ইলম, আকল, সমঝ, প্রাপ্ত তা সহজেই অনুমেয়। 

একবার হযরত মুহম্মদ হানাফিয়া ইবনে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত ইমামত উনার ব্যাপারে মুসলিম উম্মতকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে সুলত্বানুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আরজ করলে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ইহা উত্তম হবে যে, আমরা উভয়ে লোকজনসহ পবিত্র কা’বা শরীফ প্রাঙ্গণে হাজরে আসওয়াদ উনার নিকট যাই। উনাকে জিজ্ঞাসা করি- বর্তমান সময়ের ইমাম কে? তাতে প্রকৃত সত্য সকলের নিকট প্রকাশিত হবে। 

অতঃপর উনারা হাজরে আসওয়াদ উনার নিকট গেলেন। হাজরে আসওয়াদ উনাকে (কালো পাথর) জিজ্ঞাসা করলে উনার জবান খুলে গেল। হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) স্পষ্টভাবে বলে দিলেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে ‘সম্মানিত ইমামত’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছেছে। তিনিই বর্তমান সময়ের ইমাম।” সুবহানাল্লাহ!

মূলত, এভাবে আনুষ্ঠানিকতা দ্বারা হযরত মুহম্মদ হানাফিয়া ইবনে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার ইমামত জগদ্বাসীর সামনে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই কারামত দেখে উপস্থিত সকলেই অন্তর থেকে উনাকে ইমামুর রবি’ হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং উনার খিমতে নিজদের উৎসর্গ করলেন। সুবহানাল্লাহ!

একদিন জনৈক ব্যক্তি সুলত্বানুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন- হে আওলাদে রসূল! দুনিয়া ও আখিরাতে সবচেয়ে নেককার ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি সচ্ছল ও সুখী থাকা সত্ত্বেও অন্যায় পথ অবলম্বন না করে। আর রাগের সময় ইনছাফের সীমা অতিক্রম না করে, সে ব্যক্তিই হচ্ছে নেককার।” (কাশফুল মাহযুব/৮৫)

তিনি উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিকট থেকে ইলম ও হিকমত মুবারক শিক্ষা করেন। এছাড়া উনার সম্মানিত পিতা, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সম্মানিত চাচা সাইয়্যিদু শাবাবি আহলি জান্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রঈসুল মুহাদ্দিছীন হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ছাহিবে রসূলিল্লাহ হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং ফকীহুল আছর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুসহ অনেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের নিকট ইলম ও হিকমত শিক্ষা করেন। সুবহানাল্লাহ! (তায্কিরাতুল হুফফায-১/৭৮, তাযীবুল কামাল ১৩/২৩৭, তাহযীবুত্ তাহযীব-৭/২৬০, সিয়ারু আলা মিন নুবালা-৪/৩৮৭)

উনার পবিত্রতম ছোহবতে থেকে যে সকল মহান ব্যক্তিত্বগণ উনারা তা’লীম ও তরবিয়ত হাছিল করেন উনাদের মধ্যে উনার আওলাদগণ হযরত আবু জা’ফর আলাইহিস সালাম, হযরত মুহম্মদ আলাইহিস সালাম, হযরত যায়িদ আলাইহিস সালাম, হযরত উমর আলাইহিস সালাম উনারা ব্যতীত হযরত যায়িদ ইবনে আসলাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আসিম ইবনে উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইয়াহহিয়া ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আব যিনাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি অন্যতম। (তায্কিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৭, তাহযীবুত্ তাহযীব-৭/২৬০, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৭)

হযরত ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- আমি ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ফকীহ আর দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি। অথচ তিনি খুব কম পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। (তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮)

মূলত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই তো ফক্বীহ পয়দা করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার পরবর্তী বংশধর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম উনার দয়া-দান-ইহসান মুবারকে তো ইমামে আয’ম হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এত সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ মাযহাব হাদিয়া পেয়েছেন। বর্ণিত রয়েছে আখিরী যামানায় হযরত রূহুল্লাহ ইবনে মরিয়ম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হিসেবে দুনিয়ায় আসবেন ১২তম ইমাম হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনাকে সহযোগিতা করার জন্য। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ হযরত  রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত-খিদমত করবেন। কারণ সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত। আর উম্মতের জন্য ফরয হচ্ছে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, উনাদের খিদমত মুবারক করা। হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যেহেতু জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল, অথচ উম্মত হিসেবে এসেছেন, তাই তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে ইজতিহাদ করে চলবেন। কিন্তু মানুষ উনাকে হানাফী মাযহাব উনার অনুসারী মনে করবেন। কারণ উনার ইজতিহাদগুলো ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মিলে যাবে। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা খাছ ইলম মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!

ইবাদত-বন্দেগী:

হযরত ইমাম আবু হাজিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- বনি হাশিমগণের সমসাময়িকদের মধ্যে উনাকেই আমি শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন দেখেছি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুসাইয়িব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, আমি উনার মতো পরহিযগার আর কাউকে দেখিনি। সুবহানাল্লাহ!

মালিকী মাযহাবের ইমাম, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- “আমার নিকট এই মর্মে খবর পৌঁছেছে যে, হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দিন-রাতে এক হাজার রাকাত নামায আদায় করতেন। আর এটা উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ পর্যন্ত জারি ছিল। এ কারণে উনাকে হযরত ‘যাইনুল আবিদীন’ তথা ইবাদতকারীগণের সৌন্দর্য লক্বব মুবারকে অভিহিত করা হয়। তিনি ছিলেন সেই যামানার সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত গুজার। সুবহানাল্লাহ! 

(তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৮, তাহযীবুত্ তাহযীব-৭/২৬০, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৯, হিলয়াতুল আউলিয়া-৩/১৬৫, সুয়ারুম মিল হায়াতিত্ তাবিয়ীন/৩৪২) 

আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হিকমতপূর্ণ বাক্য জ্ঞানীর হারানো সম্পদ। কাজেই যেখানে বা যার নিকট উহা পাবে সেখান থেকে বা উনার নিকট থেকেই তা সংগ্রহ করবে।” সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবন মুবারকে উহার পূর্ণ বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হয়। ইলমের প্রতি ছিল উনার অদম্য আগ্রহ। তিনি যেখানে ইলমের সন্ধান পেতেন সেখানেই ছুটে যেতেন। ধনী-গরিব উঁচু-নিচু কারো ভেদাভেদ করতেন না। 

একদিন হযরত ইমাম নাফে রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করুন। আপনি সমস্ত মানুষের সাইয়্যিদ। সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর আপনি একজন গোলামের মজলিসে বসেন। উল্লেখ্য যে, তিনি হযরত যায়িদ ইবনে আসলাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমের মজলিসে বসতেন। আর তিনি ছিলেন গোলাম। 

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “ইলম হাছিলের ক্ষেত্রে এরূপ মনোভাব থাকা সমীচীন নয়। বরং যেখানে ইলমের সন্ধান যাওয়া যাবে সেখান থেকে তা হাছিল করা উচিত।” সুবহানাল্লাহ!

 (হিলয়াতুল আউলিয়া-৩/১৬২, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৯, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৮)

হযরত ইমাম নাফে ইবনে যুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, আপনি এমন লোকদের ছোহবত মুবারকে যান- যারা আপনার সমতুল্য নয়। এর হিকমত কি? তিনি বললেন, আমার দ্বীনের ফায়দার জন্য উনাদের ছোহবত মুবারকে গিয়ে থাকি। (সিয়ারু নুবালা-৪/৩৮৮)

মুলত, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মানুষকে ফায়দা দেয়ার জন্যই এমন হিকমত করতেন। তিনি ছিলেন দ্বীনের গৌরব। বিনয়-নম্রতার শাহী মুকুট।

মূলত, সুলত্বানুল আউলিয়া, ইয়াদগারে নুবুওয়াত, পেশওয়ায়ে দ্বীন, যীনাতুল আরিফীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সালিক বা শিক্ষার্থীদের জন্য এমন আদর্শ রেখে গেছেন, যা অনাগত ভবিষ্যতে সবার জন্য অনুসরণীয়-অনুকরণীয় কামিয়াবী লাভের সোপান। 

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বাণী, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বিনীত হয়, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।” তারই বাস্তব প্রতিফলন।

পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:

ইমামুল মুত্তাক্বীন, সুলত্বানুল আউলিয়া, পেশওয়ায়ে দ্বীন, যীনাতুল আরিফীন আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৯৪ হিজরী ২৫ মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ৪৭ বছর বয়স মুবারকে। মুনাফিক ও কাফিরেরা উনাকে বিষ পান করিয়েছিল। নাউযুবিল্লাহ! উনার পবিত্র রওযা শরীফ পবিত্র জান্নাতুল বাক্বী শরীফে অবস্থিত।

মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি আমাদের সকলকে হযরত আহালু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করার, তা’যীম-তাকরীম করার, উনাদের ছানা-ছিফাত ও খিদমত মুবারক করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কিছু ছিফাত মুবারক-

 আলে রসূল, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র শা’বান শরীফ উনার ৫ তারিখ ইয়াওমুল খামীস (বৃহস্পতিবার) হিজরী ৪৭ সনে যমীনে মুবারক তাশরীফ গ্রহণ করেন। উনার পিতা সম্মানিত বেহেশ্ত উনার যুবক উনাদের সাইয়্যিদ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, শহীদে কারবালা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম এবং মাতা ছিলেন পারস্য সম্রাট ইয়াজদ্গির্দ-এর কনিষ্ঠা কন্যা হযরত শাহারবানু ওরফে গাযালা আলাইহাস সালাম। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কথা বলার বয়স হতেই পরিবারের অন্যান্য শিশুগণের সাথে পবিত্র মসজিদে নববী শরীফে যাতায়াত শুরু করেন এবং অতি অল্প বয়স মুবারকেই পবিত্র কুরআন শরীফ হিফ্য করেন। সুবহানাল্লাহ!

তখনকার যুগে পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ ছিল দুনিয়ার সেরা শিক্ষাকেন্দ্র। বিজ্ঞ ছাহাবীগণ পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ-এ বসে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, তাফসীর শরীফ, ফিক্বাহ্, ক্বিরায়াত প্রভৃতি দ্বীনী ইলমের বিভিন্ন শাখার উপর শিক্ষা দান করতেন। শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীগণ অনেক সময় দল বেঁধে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের খিদমতে গিয়ে হাজির হতেন এবং উনাদের যবান মুবারকে বিভিন্ন ঘটনা শ্রবণ করে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কেমন ছিলেন, উনার আদত-অভ্যাস মুবারক কেমন ছিল, উনার দিন-রাত কিভাবে কাটতো- এ সমস্ত বর্ণনা শ্রবণ করে তরুণ তাবিয়ীগণ নিজ নিজ জীবনে সেই আদর্শ মুবারক বাস্তবায়িত করার সাধনা করতেন। সুবহানাল্লাহ!

এ সমস্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে অতি অল্প বয়সেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম তিনি সকলের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অস্বাভাবিক মেধা ও সুতীক্ষè ধীশক্তিবলে মাত্র আট/নয় বছর বয়সেই তিনি বড় বড় জ্ঞানী-গুণীগণের মজলিসে সমাদর পেতে লাগলেন। উনারা শিশু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে পর্যন্ত খোলাখুলি আলোচনা করে মুগ্ধ হতেন। সুবহানাল্লাহ!

ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে মুবারক ইলম উনার খাছ উত্তরাধিকার ইমাম খান্দানে প্রবেশ লাভ করেছিল; যা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রক্ষা করার জন্য কঠোর সাধনা করে গেছেন। যদিও তিনি খাছ ইলমে লাদুন্নি উনার পূর্ণ অধিকারী। ইল্মের সন্ধান তিনি যেখানেই পেতেন বিনা দ্বিধায় সেখানে হাযির হওয়াই ছিল উনার সাধারণ অভ্যাস মুবারক। তিনি সমগ্র মুসলিম জাহানে ইলমের ক্ষেত্রে অনন্য মর্যাদা এবং উম্মতের সম্মানিত ইমাম ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

সমকালীন মুসলিম জাহানে ইলমে হাদীছ শরীফ এবং ইলমে ফিক্বাহ উনাদের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সকলের ইমাম, সর্বাপেক্ষা বিচক্ষণ আলিম। 

ইল্মে তরীক্বতে তিনি ছিলেন ছূফীগণের মাথার মুকুট। ইলমে তরীক্বতের যত শাজরা শরীফ আছে তার প্রায় প্রত্যেকটির শীর্ষদেশে ইমাম হিসেবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক চোখে পড়ে। সুবহানাল্লাহ!

তাছাড়া সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ত্যাগ, অপূর্ব ধৈর্য ও রূহানিয়ত মুবারক উনার মহিমার দ্বারাই ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা কঠিন বিপর্যয়ের হাত হতে উদ্ধারপ্রাপ্ত হয়ে মুসলিম সমাজ পবিত্র কুরআন শরীফ- পবিত্র সুন্নাহ শরীফ ভিত্তিক খিলাফতে রাশিদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছিলেন। 

ভোগ-বিলাসের ক্রোড়ে লালিত উমাইয়া খান্দানের সর্বাপেক্ষা সৌখিন যুবক হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শিক্ষা, ছোহবত ও নীরব সাধনা মুবারক উনার গুণেই আদর্শ খলীফা ও দ্বিতীয় উমরে পরিণত হয়েছিলেন।

আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক দোয়ায় মুষলধারে বৃষ্টি-

 একবার পবিত্র হজ্জের সময় মক্কা শরীফ উনার মাঝে ভয়ানক খরা (অনাবৃষ্টি) দেখা দিলো। পানির অভাবে লোকজনের মধ্যে হাহাকার পড়ে গেল। বিদেশ হতে আগত পবিত্র হজ্জযাত্রীগণের সাথে সাথে খোদ মক্কাবাসীগণের মধ্যেও পানির এমন সঙ্কট দেখা দিলো যে, লোকজন হয়রান-পেরেশান হয়ে চারিদিকে পানির তালাশে ছুটাছুটি করতে লাগলো। পবিত্র কা’বা শরীফ উনার মাঝে পর্যায়ক্রমে লোকেরা দোয়া-ইস্তিসকা করছেন, কিন্তু এক ফোটা বৃষ্টির চিহ্ন কোথাও দেখা গেল না। 

বসরা হতে একদল দরবেশ পবিত্র হজ্জে আসলেন। লোকজন উনাদের নিকট গিয়ে দোয়ার জন্য আবেদন-নিবেদন করলেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। গরম উত্তরোত্তর বাড়তে লাগলো। শেষ পর্যন্ত নিরাশ জনতার দৃষ্টি অপূর্ব দেহসৌষ্ঠব বিশিষ্ট এক যুবকের উপর নিবদ্ধ হলো। তিনি নিবিষ্ট মনে তাওয়াফ করছেন। উনার চেহারা মুবারক হতে যেন অপূর্ব নূরের আভা ফুটে বাহির হচ্ছিল। সম্মানিত যুবক তিনি তাওয়াফ হতে অবসর হওয়ার পর লোকজন গিয়ে উনার চতুর্দিকে সমবেত হলেন। কিছু সংখ্যক লোক উনাকে চিনে ফেললেন। 

বলতে লাগলেন, হে আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মাঝে আজ লাখ লাখ লোক পিপাসায় কাতর হয়ে ছুটাছুটি করছে। আপনি দোয়া মুবারক করুন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন বৃষ্টি বর্ষণ করেন। 

লোকজনের অস্থিরতা লক্ষ্য করে সুলত্বানুল আউলিয়া, ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় পবিত্র কা’বা শরীফ উনার সন্নিকটে ফিরে গেলেন। দুই রাকাত নামায পড়ে সিজদারত অবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে পানির জন্য দোয়া মুবারক করতে লাগলেন। 

দেখা গেল, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিজদারত অবস্থাতেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে প্রবল বর্ষণ শুরু হলো। 

এমন বর্ষণ হলো যে, পবিত্র কা’বা শরীফ উনার প্রাঙ্গণে রীতিমত পানির স্রোত প্রবাহিত হতে লাগল। পিপাসার্ত মক্কাবাসীগণ শান্ত হলো। হজ্জে আগত লাখ লাখ লোকের মধ্যেও সুলত্বানুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যথার্থ পরিচয় মুবারক আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লো।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনার পর আর কখনো হাসেননি -

কারবালার ঘটনার পর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখনই পানি দেখতেন, তখনই কারবালায় আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পিপাসার কথা মনে পড়তো ও তিনি এতে অত্যন্ত ব্যথিত হতেন।

তিনি কোনো ভেড়া বা দুম্বা জবাই করার দৃশ্য দেখলেও কেঁদে আকুল হতেন। তিনি প্রশ্ন করতেন- এদেরকে জবাইর আগে পানি পান করানো হয়েছে কিনা। পানি দেয়া হয়েছে একথা শোনার পর তিনি বলতেন, কিন্তু আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পানি না দিয়েই শহীদ করেছিল ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির সৈন্যরা।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় রোযা রাখতেন। ইফতারির সময় তিনি অত্যন্ত বেদনাতুর হয়ে বলতেন, হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শহীদ করা হয়েছে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থায়।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার এই দুনিয়াবী জিন্দেগীর পুরো সময়ই সম্মানিত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য অশ্রু ঝরিয়েছেন, উনাদের ব্যথায় বেদনাতুর সময় কাটিয়েছেন। যে কারণে উনাকে কারাবালার মর্মান্তিক ঘটনার পর কেউ কখনো হাসতে দেখেনি।

কখনো কখনো কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণ হলেই উনার এত বেশি কান্না আসতো যে- অশ্রুতে খাবার মুবারক ভিজে যেত এবং খাবার মুবারকের পানিতেও অশ্রু মুবারক মিশে যেত। একদিন উনার খাদিম উনার এমন অবস্থা দেখে বললো, আপনার ব্যথা-বেদনা এখনো রয়ে গেলো? উত্তরে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমার জন্য আফসুস! মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তিনি উনার ১২ জন আওলাদ উনাদের একজন আওলাদ হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনাকে কয়েক বছর না দেখে উনার ব্যথা-বেদনায় উনার চক্ষু মুবারক উনাদের দৃষ্টি মুবারক হারিয়েছেন, উনার চুল মুবারক সাদা হয়ে যায়, উনি দ্রুত বৃদ্ধ হয়ে যান। আর আমি আমার সম্মানিত পিতা, ভাই এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সবাইকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় অত্যন্ত নির্মমভাবে শহীদ হতে দেখেছি, তাহলে কিভাবে আমার ব্যথা-বেদনা থামতে পারে?

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইল্ম ও তাক্বওয়া মুবারক-

 হযরত ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ফকীহ আর দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি। অথচ তিনি খুব কম সংখ্যক পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। (তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮) 

হযরত ইমাম আবু হাজিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- বনি হাশিমগণের সমসাময়িকদের মধ্যে উনাকেই আমি শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন দেখেছি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুসাইয়িব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, আমি উনার মতো পরহেযগার আর কাউকে দেখিনি। 

মালিকী মাযহাবের ইমাম, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন- “আমার নিকট এই মর্মে খবর পৌঁছেছে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দিন-রাতে এক হাজার রাকায়াত নামায আদায় করতেন। সুবহানাল্লাহ! আর এটা উনার পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ পর্যন্ত জারি ছিল। সুবহানাল্লাহ! এ কারণে উনাকে ‘যাইনুল আবিদীন’ তথা ইবাদতকারীগণের সৌন্দর্য লক্বব মুবারকে অভিহিত করা হয়। তিনি ছিলেন সেই যামানার সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত গুজার। (তাযকিরাতুল হুফফাজ-১/৭৮, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৮, তাহযীবুত্ তাহযীব-৭/২৬০, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৯, হিলয়াতুল আউলিয়া-৩/১৬৫, সুয়ারুম মিল হায়াতিত্ তাবিয়ীন/৩৪২) 

আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “হিকমতপূর্ণ বাক্য জ্ঞানীর হারানো সম্পদ। কাজেই যেখানে বা যার নিকট উহা পাবে সেখান থেকে বা উনার নিকট থেকেই তা সংগ্রহ করবে।” 

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবন মুবারকে এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পূর্ণ বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হয়। ইলমের প্রতি ছিল উনার অদম্য আগ্রহ। যেখানে পবিত্র ইলম উনার সন্ধান পেতেন সেখানেই ছুটে যেতেন। ধনী-গরিব উঁচু-নিচু কারো ভেদাভেদ করতেন না। সুবহানাল্লাহ!

একদিন হযরত ইমাম নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন- “মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করুন। আপনি সমস্ত মানুষের ‘সাইয়্যিদ’ এবং সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর আপনি একজন গোলামের মজলিসে বসেন। উল্লেখ্য যে, তিনি যায়িদ ইবনে আসলাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমী মজলিসে বসতেন। আর তিনি ছিলেন গোলাম। 

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন- “ইলম হাছিলের ক্ষেত্রে এরূপ মনোভাব থাকা সমীচীন নয়। বরং যেখানে ইলমের সন্ধান পাওয়া যাবে সেখান থেকে তা হাছিল করা উচিত।” (হিলয়াতুল আওলিয়া-৩/১৬২, তাহযীবুল কামাল-১৩/২৩৯, সিয়ারু আলামিন নুবালা-৪/৩৮৮)

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতিপয় মহামূল্যবান নছীহত মুবারক-

 পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস উনার সুমহান ও বরকতময় ২৫ তারিখ মুবারকে শাহদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, যিনি পূত-পবিত্র হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের চতুর্থ ইমাম- সুলত্বানুল আউলিয়া, ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। উনার সুমহান পবিত্র শানে শুকরিয়া  প্রকাশস্বরূপ উনার পবিত্র যবান মুবারক থেকে নিসৃত কতিপয় মহামূল্যবান নছীহত মুবারক উল্লেখ করছি-

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, 

* আমি তায়াজ্জুব (আশ্চর্য) হই ওই ব্যক্তি সম্পর্কে- যে ফখর ও অহঙ্কার করে। কারণ গতকাল যে সামান্য পানি ছিল এবং আগামীকাল যে মৃত্যুবরণ করে আবার মাটিতে মিশে যাবে, তার অহঙ্কার দেখলে বড়ই আশ্চর্য হই।

* আর ওই ব্যক্তির জন্যও আশ্চর্য হতে হয়- যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার আযমত সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনিই তাকে সৃষ্টি করেছেন। 

* ওই ব্যক্তি সম্পর্কেও আশ্চর্য হই- যে পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে; অথচ প্রথমবার মহান আল্লাহ পাক তিনিই তাকে পয়দা করেছেন। 

 * আর ওই ব্যক্তি সম্পর্কেও আশ্চর্য হই- যে ক্ষণস্থায়ী জিন্দেগী অর্থাৎ দুনিয়ার জন্য সবসময় আমল করে; কিন্তু চিরস্থায়ী জিন্দেগী অর্থাৎ পরকালের জন্য আমল করে না। হে ব্যক্তিগণ! তোমরা লক্ষ্য করো, দুনিয়া হচ্ছে মুসাফিরখানা। আমি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ওই আমল থেকে পানাহ তলব করছি- যা লোকদের নিকট জাহিরীভাবে (বাহ্যিকভাবে) ভালো মনে হয়। কিন্তু হাক্বীক্বতে তা অত্যন্ত খারাপ। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বলেন, কিছু লোক আছেন, যাঁহারা মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে ইবাদত করেন। মূলত ইহাই বান্দা বা গোলামদের ইবাদত। কিছু লোক আছে যারা জান্নাত উনার আশায় ইবাদত করে ইহা ব্যবসায়ীদের ইবাদত। আর কিছু লোক রয়েছে যারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায়ের লক্ষ্যে ইবাদত করে মূলত ইহা হচ্ছে আযাদ বা স্বাধীন ব্যক্তির ইবাদত। (সফওযাতুছ্ ছাফওয়া, সিয়ারুছ্ ছাহাবা)

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে একদিন উনার সুযোগ্য আওলাদ সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- যিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ৫ম ইমাম, উনাকে ডেকে কিছু মহামূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ নছীহত মুবারক করেন। মুয়ামিলাত-মুয়াশিরাত তথা সংসার জীবনযাপন করার ব্যাপারে। তিনি বললেন, হে আমার প্রিয় আওলাদ! 

* পাঁচ ধরনের লোকদের সাথে কখনো বন্ধুত্ব করবেন না। এমনকি তাদের সাথে দুশমনিও করতে যাবেন না।

প্রথমত, ফাসিক বা পাপীদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন না। তাদের সহচার্য হতে সবসময় দূরে সরে থাকবেন। ওই সমস্ত লোক আপনাকে প্রবৃত্তির গোলামে পরিণত করতে চাইবে এবং যে বিষয়ের কোনো প্রয়োজন নেই- এমন সব বিষয়ে আত্মনিয়োজিত হতে প্ররোচিত করবে। 

দ্বিতীয়ত, কৃপণের সাথে বন্ধুত্ব করবেন না। কেননা যদি কখনো আপনার আর্থিক সমস্যা দেখা দেয়, তখন সে-ই ব্যক্তি বখিলীর কারণে আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে পালিয়ে যাবে। 

তৃতীয়ত, মিথ্যাবাদীর সাথে কখনো বন্ধুত্ব করবেন না। কেননা এমন লোক মরীচিকার মতো; সে তার অভ্যাসবশতই আপনার আপনজনদেরকে আপনার থেকে দূরে সরিয়ে দিবে।

 চতুর্থত, আহমক/বোকা লোকের সাথে বন্ধুত্ব করবেন না। কারণ এ ধরনের লোক উপকার করতে গিয়েও এমন ভয়ানক ক্ষতি করে ফেলবে, যার প্রতিকার করা অনেক সময় সম্ভবপর হবে না। 

পঞ্চমত, রক্তের সম্পর্ক ছিন্নকারী লোকদের সাথে সম্পর্ক রাখবেন না। কারণ আমি যে সমস্ত আসমানী কিতাব পাঠ করেছি, প্রত্যেক আসমানী কিতাবে এ ধরনের লোকদেরকে অভিশপ্ত হিসেবে উল্লেখ দেখেছি। (হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন/৭৫)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গুরুত্বপূর্ণ এবং মহামূল্য নছীহত মুবারক অনুযায়ী আমল করার তাওফীক ইনায়েত করুন। আমীন!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ ও হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারাই হচ্ছেন উনার ঘনিষ্ঠ বা আপনজনের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

 মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক  করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।”

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা থেকে দূরে রাখতে চান এবং আপনাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান।” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সর্বপ্রকার অপবিত্রতা থেকে দূরে রেখে পরিপূর্ণরূপে পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেমন উনার শ্রেষ্ঠতম নবী, শ্রেষ্ঠতম রসূল এবং উনার হাবীব হিসেবে মনোনীত করেছেন, তদ্রƒপ উনার যারা পবিত্র আহলে বাইত শরীফ ও হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকেও তিনি মনোনীত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, রসূল ও হাবীব যেরূপ রিয়াজত-মাশাক্কাত শিক্ষা-দীক্ষা, আমল-আখলাকের দ্বারা হওয়া যায় না, তদ্রƒপ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত শরীফ ও হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালামও রিয়াজত-মাশাক্কাত দ্বারা হওয়া যায় না।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো, কেননা তিনি তোমাদেরকে নিয়ামত দানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর আমাকে মুহব্বত করো মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত লাভ করার জন্য। আর আমার সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ, হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার মুহব্বত পাওয়ার জন্য।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, যদি তারা (বান্দা-বান্দী, উম্মত) মু’মিন হয়ে থাকে তাহলে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, মহান আল্লাহ পাক উনাকে ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট মুবারক করা। উনারাই সন্তুষ্টি মুবারক পাওয়ার ক্ষেত্রে সমধিক হক্বদার।

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করতে হলে হযরত আহলে বাইত শরীফ ও হযরত আওলাদে আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করা সকলের জন্যই দায়িত্ব-কর্তব্য।

সুলত্বানুল আউলিয়া, ইমামুল মুহাক্কিকীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংক্ষিপ্ত সম্মানিত পরিচিতি মুবারক-

 ইয়াদগারে নুবুওওয়াত, পেশওয়ায়ে দ্বীন, সুলত্বানুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার মুবারক নাম আলী। তবে তিনি ‘আলী আওসাত’ নাম মুবারকে ভূষিত হন। উনার মুবারক কুনিয়াত আবুল হাসান ও আবু মুহম্মদ আলাইহিস সালাম। আবু আব্দিল্লাহ মাদানী আলাইহিস সালামও বলা হয়।

‘যাইনুল আবিদীন’ উনার অসংখ্য অগণিত লক্বব মুবারকের মধ্যে একখানা বিশেষ লক্বব মুবারক। সারাবিশ্বে তিনি এই মহান লক্বব মুবারকে পরিচিত বা মশহুর রয়েছেন।

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি হচ্ছেন উনার সম্মানিত পিতা।

উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার অপর যাওজাতুল মুকাররমাহ ছিলেন হযরত লাইলা বিনতে মুররা আলাইহাস সালাম। উনার পবিত্র রেহেম শরীফে যিনি তাশরীফ এনেছিলেন উনারও মুবারক নাম ছিল হযরত আলী আলাইহিস সালাম। সঙ্গতকারণে তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আলী আকবর নাম মুবারকে ভূষিত হয়েছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার অপর একজন আওলাদ আলাইহিস সালাম উনারও মুবারক নাম ছিল আলী। যিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আলী আসগর আলাইহিস সালাম নামে মশহুর বা পরিচিত ছিলেন। তিনি কারবালার প্রান্তরে শান শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত আলী আকবর এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আছগর আলাইহিমাস সালাম উনারা দু’জনই কারবালার প্রান্তরে পবিত্র শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।

উনার সম্মানিতা মাতা: পারস্য শাসক-এর কন্যা শহরবানু আলাইহাস সালাম। ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক খিদমতে আসার পর উনার নাম মুবারক হয় হযরত সালমা আলাইহাস সালাম। কেউ কেউ হযরত গাযালা আলাইহাস সালাম বলেও উল্লেখ করেছেন।

সে সময় ছিল আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকাল। সারাবিশ্বে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পতাকা পত পত করে উড়তেছিল। অনেক এলাকা বিজিত হয়। রোম ও পারস্যের মতো দুই পরাশক্তিও ইতোমধ্যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার পতাকাতলে ঠাঁই পায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিম সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে সারা পৃথিবীর খলীফা বলা হয়। কারণ রোম ও পারস্যের মতো পরাশক্তিকে পরাভূত করতঃ সম্মানিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার অর্থই হচ্ছে সারা দুনিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা। সুবহানাল্লাহ!

পারস্য শাসক রাজধানী মাদায়েন হতে কাবুলের নিকট এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনার সেনাপতি উনাকে বললেন, “যদি পারস্য শাসক বাড়াবাড়ি না করে তাহলে আর তাড়া করার দরকার নেই। বিজিত এলাকার জনগণের কল্যাণের দিকে মনোযোগ দিন। কিন্তু পারস্য শাসক নিজের হাতে তার শেষ পরিণতি ডেকে আনলো। সে বিপুল সম্পদ ব্যয় করে শাহী ফৌজকে পুনর্গঠিত করলো এবং পার্শ্ববর্তী চীন শাসক খাকানের দরবারে হাজির হয়ে সাহায্য প্রার্থনা করলো। চীন শাসক খাকানও আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করতো। কারণ পারস্যের পরেই চীন সীমান্ত। কাজেই আগেভাগে মুসলমানগণের গতিরোধ করা বুদ্ধিমানের কাজ মনে করে এগিয়ে আসলো। কিন্তু সেই স্বপ্ন খড়কুটোর মতো ভেসে গেলো। পারস্য ও চীন শাসকের সম্মিলিত বাহিনীও মুসলিম সেনাপতি উনার গতিরোধ করতে পারলো না। তিন দিন যুদ্ধের পর চীন শাসক খাকান তার বাহিনীসহ পিছটান দিলো। আর পারস্য শাসক নিহত হলো। পারস্য শাসকের পরিবার-পরিজনসহ অনেক লোক মুসলমানগণের পবিত্র হাতে বন্দি হলো। পারস্য শাসক পরিবারের কয়েক শতাব্দীর সঞ্চিত রতœভা-ার খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র দরবার শরীফে হাজির করা হলো। বন্দিদের মধ্যে ছিলেন পারস্য শাসকের তিন কুমারী কন্যা। যারা ছিলেন রূপে গুণে অনন্যা। (মিরয়াতুল আছরার-২০৭, ইমাম যাইনুল আবিদীন-২)

পারস্য শাসকের মেয়েদের জন্য মজলিসে শুরা (পরামর্শ মজলিস) ডাকানো হলো। অনেক আলোচনা হলো। এক পর্যায়ে আসাদুল্লাহিল গালিব, ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ইয়া আমীরুল মু’মিনীন! তারা খান্দানী মেয়ে। তাদের সাথে সাধারণ বন্দিদের মতো আচরণ করা ঠিক হবে না। কাজেই তাদের জন্য একটা মুক্তিপণ ধার্য করা হোক। আর আমিই সেই মুক্তিপণ বাইতুল মালে জমা দিবো ইনশাআল্লাহ। তারপর তাদেরকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দিকে আহবান করা হবে। যদি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার তিনজন যুবককে যাওজ হিসেবে গ্রহণ করার ইখতিয়ার দেয়া হোক। তাতে যদি সম্মত না হয়, তাহলে অন্য কোনো স্থানে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবে।

এই প্রস্তাব সকলেরই মনঃপুত হলো। সবাই এই প্রস্তাব মেনে নিলেন। আর পারস্য শাসকের মেয়েগণও অত্যন্ত খুশি হলেন। তারা সবাই সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র হাত মুবারকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম কবুল করলেন।

স্মর্তব্য যে, উনারা পূর্বেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে নতুন করে তওবা করলেন উনার হাত মুবারকে। অতঃপর বড় মেয়ে তিনি যাওজুল মুকাররম হিসেবে গ্রহণ করলেন খোদ সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে। মধ্যমা আওলাদ তিনি পছন্দ করলেন খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আফযালুন নাছ বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ হযরত মুহম্মদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে। আর ছোট্ট মেয়ে হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম তিনি পুলক কম্পিত চিত্তে আঙ্গুলী মুবারক নির্দেশ করলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররমাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার পাশে বসা সম্মানিত জান্নাতী যুবকদের সাইয়্যিদ হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি রাইতি রসূলিল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দিকে। সাথে সাথে নিসবাতুল আযীম মুবারক সুসম্পন্ন হলো।

আসাদুল্লাহিল গালিব, ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনাদেরকে মুবারকবাদ জানালেন এবং প্রাণ খুলে দোয়া করলেন। বললেন আরব আ’যমের দুইটি শ্রেষ্ঠ রক্তধারার মহামিলন হওয়ার ফলে আপনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়ার সেরা প্রতিভাবান সন্তান দান করবেন। মহান আল্লাহ পাক উনার অন্তর নিংড়ানো দোয়া কবুল করেছেন। সেই সৌভাগ্যবর্তী মেয়ে উনাদের রেহেম শরীফে তাশরীফ আনেন ইমামুল মুহাক্কিকীন, সুলত্বানুল আউলিয়া, ইয়াদগারে নবুওওয়াত, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমাম কাসিম ইবনে মুহম্মদ ইবনে  আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং ইলমে ফিক্বাহ উনার যুগ শ্রেষ্ঠ ইমাম হযরত সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আলাইহিস সালাম।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুযুর্গী, সম্মান ও ফযীলত মুবারক-

 আলে রসূল, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র শা’বান শরীফ উনার ৫ তারিখ ইয়াওমুল খামীস (বৃহস্পতিবার) হিজরী ৪৭ সনে তিনি যমীনে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন।

উনার পিতা সম্মানিত বেহেশ্ত উনার যুবক উনাদের সাইয়্যিদ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, শহীদে কারবালা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম এবং মাতা ছিলেন পারস্য শাসক-এর কনিষ্ঠা কন্যা হযরত শাহারবানু ওরফে গাযালা বা হযরত সালমা আলাইহাস সালাম। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কথা বলার বয়স হতেই পরিবারের অন্যান্য শিশুগণের সাথে পবিত্র মসজিদে নববী শরীফে যাতায়াত শুরু করেন এবং অতি অল্প বয়স মুবারকেই পবিত্র কুরআন শরীফ হিফ্য করেন।

তখনকার যুগে পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ ছিল দুনিয়ার সেরা শিক্ষাকেন্দ্র। বিজ্ঞ ছাহাবীগণ পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ-এ বসে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, তাফসীর শরীফ, ফিক্বাহ্, ক্বিরায়াত প্রভৃতি দ্বীনি ইলমের বিভিন্ন শাখার উপর শিক্ষা দান করতেন। শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীগণ অনেক সময় দল বেঁধে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের খিদমতে গিয়ে হাজির হতেন এবং উনাদের যবান মুবারকে বিভিন্ন ঘটনা শ্রবণ করে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কেমন ছিলেন, উনার আদত-অভ্যাস মুবারক কেমন ছিল, উনার দিন-রাত কিভাবে কাটতো এ সমস্ত বর্ণনা শ্রবণ করে তরুণ তাবিয়ীগণ নিজ নিজ জীবনে সেই আদর্শ মুবারক বাস্তবায়িত করার সাধনা করতেন। 

এ সমস্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে অতি অল্প বয়সেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি সকলের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অস্বাভাবিক মেধা ও সুতীক্ষè ধীশক্তিবলে মাত্র আট/নয় বছর বয়সেই তিনি বড় বড় জ্ঞানী-গুণীগণের মজলিসে সমাদর পেতে লাগলেন। উনারা শিশু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সূক্ষ্মতিসূক্ষ্ম বিষয়ে পর্যন্ত খোলাখুলি আলোচনা করে মুগ্ধ হতেন।

মুবারক ইলম উনার খাছ উত্তরাধিকারী সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনিই আর উনার মাধ্যমেই ইমাম খান্দানে প্রবেশ লাভ করেছিল। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি তা রক্ষা করার জন্য কঠোর সাধনা করে গেছেন। যদিও তিনি খাছ ইলমে লাদুন্নি উনার পূর্ণ অধিকারী। ইল্মের সন্ধান তিনি যেখানেই পেতেন বিনা দ্বিধায় সেখানে হাযির হওয়াই ছিল উনার সাধারণ অভ্যাস মুবারক। ফলে সমগ্র মুসলিম জাহানে ইলমের ক্ষেত্রে তিনি অনন্য মর্যাদা এবং উম্মতের সম্মানিত ইমাম হওয়ার দুর্লভ সম্মান লাভ করেছিলেন।

সমকালীন মুসলিম জাহানে ইলমে হাদীছ শরীফ এবং ইলমে ফিক্বাহ উনাদের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সকলের ইমাম, সর্বাপেক্ষা বিচক্ষণ আলিম। 

ইল্মে তরীক্বতে তিনি ছিলেন সাধককুলের মাথার মুকুট। ইলমে তরীক্বতের যত শাজরা আছে তার প্রায় প্রত্যেকটির শীর্ষদেশে ইমাম হিসেবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক চোখে পড়ে।

তাছাড়া সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ত্যাগ, অপূর্ব ধৈর্য ও রূহানিয়ত মুবারক উনার মহিমার দ্বারাই ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা কঠিন বিপর্যয়ের হাত হতে উদ্ধারপ্রাপ্ত হয়ে মুসলিম সমাজ পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ শরীফ ভিত্তিক খিলাফতে রাশিদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছিলেন। ভোগ-বিলাসের ক্রোড়ে লালিত উমাইয়া খান্দানের সর্বাপেক্ষা সৌখিন যুবক হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার শিক্ষা, ছোহবত ও নীরব সাধনা মুবারক উনার গুণেই আদর্শ খলীফা দ্বিতীয় উমরে পরিণত হয়েছিলেন। 

কারবালার বিভীষিকাময় সন্ধিক্ষণে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অসুস্থ ছিলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে কুদরতীভাবে হিফাযত করতঃ উনার মাধ্যমেই দুনিয়ার সর্বাপেক্ষা পবিত্র বংশধারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ধারাবাহিকতা জারি করেছেন।

ইল্ম ও আধ্যাত্মিকতার সাধনা ছিল হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রধান উত্তরাধিকার। জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে অকল্পনীয় প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও এই মহান নিয়ামতের উত্তরাধিকারীগণ দুনিয়ার বুকে আদর্শের গৌরবময় নূরটি সবসময় নূরান্বিত করে রেখেছেন।

যুগ পরম্পরায় উনাদের সাধনার ধারাবাহিকতা সমগ্র জগৎ প্লাবিত করেছে। গাওছূল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি, আশিকে রসূল হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ কবীর রিফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি, মুজাদ্দিদে মিল্লাত, মুজাদ্দিদে যামান, হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি আরিফবিল্লাহ হযরত খাজা নকশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, এবং মুজাদ্দিদে যামান, শহীদে আ’যম, হযরত শায়েখ শহীদ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের ন্যায় দুনিয়ার শীর্ষস্থানীয় ওলী-আউলিয়াগণ সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ উনাদেরই পবিত্র বংশধারার উত্তরাধিকারী। এ পবিত্র বংশধারায় এত মহান ওলীআল্লাহ উনাদের আবির্ভাব হয়েছেন যে, সাধারণভাবে তার বর্ণনা দেয়া সম্ভব নয়। 

ইমামুল মুত্তাক্বীন, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইমামত সম্পর্কে হাজরে আসওয়াদ উনার সাক্ষী-

 ইমামুল মুত্তাক্বীন, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি শহীদী শান মুবারক প্রকাশ করার পর উনার ক্বায়িম-মক্বাম বা গদ্দিনসীন হন। উনার ইমামতের মাক্বামটি তিনিই অলংকৃত করেন। 

আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি ইলমের শহর আর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সেই শহরের দরজা।” সেই ইলম ও হিকমাহ সাইয়্যিদুশ শুহাদা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সীনা মুবারক হয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীনা মুবারকে স্থান পায়। খোদ সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার তরবিয়ত দাতা; তাহলে তিনি কিরূপ ইলম, আকল, সমঝ প্রাপ্ত তা সহজেই অনুমেয়। 

একবার হযরত মুহম্মদ হানাফিয়া ইবনে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত ইমামত সম্পর্কে মুসলিম উম্মতকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে। সুলত্বানুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আরজ করলে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ইহা উত্তম হবে যে, আমরা উভয়ে লোকজনসহ পবিত্র কা’বা শরীফ প্রাঙ্গণে হাজরে আসওয়াদ উনার নিকট যাই। উনাকে জিজ্ঞাসা করি- বর্তমান সময়ের ইমাম কে? তাতে প্রকৃত সত্য সকলের নিকট প্রকাশিত হবে। 

অতঃপর উনারা সম্মানিত হাজরে আসওয়াদ উনার নিকট গেলেন। সম্মানিত হাজরে আসওয়াদ উনাকে (কালো পাথর) জিজ্ঞাসা করলে উনার জবান খুলে গেল। সম্মানিত হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) স্পষ্টভাবে বলে দিলেন, “ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে ইমামত সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছেছে। তিনিই বর্তমান সময়ের ইমাম। সুবহানাল্লাহ!

মূলত, এভাবে আনুষ্ঠানিকতা দ্বারা হযরত মুহম্মদ হানাফিয়া ইবনে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার ইমামত জগদ্বাসীর সামনে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই কারামত দেখে উপস্থিত সকলেই অন্তর থেকে উনাকে ইমামুর রবি’ হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং উনার খিমতে নিজদের উৎসর্গ করলেন। সুবহানাল্লাহ!

ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, আওলাদু রসূলিল্লাহ, ইয়াদগারে নুবুওওয়াহ, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আস সাজ্জাদ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রাবি’ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক উসীলায় নিয়ামতে পরিপূর্ণ হয়েছে মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, মুহিউদ্দিন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মক্ববূল মাশহূর ক্বাদিরিয়া তরীক্বা -

 একথা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিকট ইলমসহ সমস্ত নিয়ামতরাজি পুঞ্জীভূত। যা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়েছে। হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উসীলা ব্যতিত কোনো কিছুই পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে না। যার বাস্তব নমুনা ইলমে তাছাউফ উনার তরীক্বাসমূহ।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার অসীম রহমত বরকত সাকীনা মুবারক উনার বদৌলতে এবং সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ইহসান উনার উসীলায় আজো বিশ্বব্যাপী জারি রয়েছে মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গউছুল আ’যম, দস্তগীর, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মক্ববূল মাশহূর পবিত্র ক্বাদিরিয়া তরীক্বা। সুবহানাল্লাহ! ইনশাআল্লাহ ক্বিয়ামত পর্যন্ত তা ছহীহ তরতীবে জারি থাকবে সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে এ তরীক্বা নিয়ামতে পরিপূর্ণ হয়েছে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক উসীলায়। যা এ মহান ত্বরীক্বা উনার পবিত্র শাজরা শরীফ পর্যালোচনা করলেই দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হবে। বিশ্বব্যাপী সুমহান শান মুবারক-এ জারি থাকা মুবারক ক্বাদিরিয়া তরীক্বা উনার সুমহান শাজরা শরীফ এখানে উল্লেখ করা হলো:-

১। ইলাহী বহুরমতে কুল-মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল, হায়াতুন নবী, ছাহিবে ইলমে গইব, ছাহিবে মুত্তালা’ ‘আলাল গইব, জামিউল ইলম, ছাহিবে মাফাতীহুল ইলম, আল্হাদ্বির, আন্নাযির, ছাহিবে লাওলাক, ছাহিবে ক্বাবা ক্বওসাইনি আও আদনা, ছাহিবে কাওছার, ছাহিবে মাক্বামে মাহমূদ, ছাহিবে লিওয়ায়িল হামদ্, ছাহিবে শাফা‘আতে কুবরা, ছাহিবে লাসতু কাআহাদিকুম, ছাহিবে মি’রাজ, ছাহিবে কুন ফাইয়াকুন, ছাহিবে ওয়াহ্য়ি, ছাহিবে শারীআহ, আলগনিইয়্যূ, রঊফুর রহীম, আত্ত্বাহির, আত্তইয়িব, শাফিউল উম্মাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছাহিবে জামিউল আসমা ওয়াছ ছিফাত, ফাদ্বলুল্লাহ, আকরামুল আওওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, ফখরুল আম্বিয়া, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

২। ইলাহী বহুরমতে সাইয়্যিদুল আরব, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকমাহ, আমীনু আহলি আরদ্ব, কুদওয়াতুল মুত্তাক্বীনা, যীনাতুল আরিফীন, নূরুল মুত্বীয়ীন, ইমামুল আদিলীন, আহলু বাইতিন নাবিইয়ি, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, আসাদুল্লাহিল গালিব, আল ইমামুল আউওয়াল মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম।

৩। ইলাহী বহুরমতে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ, আলু রসূলিল্লাহ, আল ইমামুস সাইয়্যিদ, আল ইমামুল হুমাম, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, আল ইমামুছ ছানী মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৪। ইলাহী বহুরমতে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ, আলু রসূলিল্লাহ, আল ইমামুস সাইয়্যিদ, আল ইমামুল হুমাম, কাবীরুশ শা’ন, শহীদে কারবালা, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, আল ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৫। ইলাহী বহুরমতে ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, আওলাদু রসূলিল্লাহ, ইয়াদগারে নুবুওওয়াহ, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আস সাজ্জাদ, আল ইমামুর রাবি’ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৬। ইলাহী বহুরমতে ইমামুল হুদা, ইমামু আহলিল ইয়াক্বীন, সুলালাতুন নুবুওওয়াহ, সিরাজুল মিল্লাহ, আল ইমামুল খামিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৭। ইলাহী বহুরমতে ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, আওলাদু রসূলিল্লাহ, ইয়াদগারে নুবুওওয়াহ, ইমামুস সাদিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৮। ইলাহী বহুরমতে ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, আওলাদু রসূলিল্লাহ, ইয়াদগারে নুবুওওয়াহ, ইমামুস সাবি’ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৯। ইলাহী বহুরমতে ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, আওলাদু রসূলিল্লাহ, ইয়াদগারে নুবুওওয়াহ, ইমামুছ ছামিন মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

১০। ইলাহী বহুরমতে ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত শায়েখ মা’রূফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১১। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আবূল হাসান সাররী সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১২। ইলাহী বহুরমতে হযরত খাজা সাইয়্যিদুত ত্বায়িফা জুনায়িদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৩। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আবূ বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৪। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আব্দুল আযীয বিন হারিছ তামিমী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৫। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৬। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আবূল ফাররাহ মুহম্মদ তারতুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৭। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আবূল হাসান হাককারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৮। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আবূ সাঈদ মুবারক মখদুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৯। ইলাহী বহুরমতে ইমামে রব্বানী, মাহবূবে সুবহানী, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, গাউছে সামদানী, মাশায়েখে আকবর মাশরিক ওয়াল মাগরিব, কুতুবুল আলম, ফরদুল আহবাব, গউছুল আ’যম, শায়খে শুইয়খিল আলম, গাউসে সাক্বালাইন, শাইখুল ইসলাম, ইমামুল আইম্মা, সাইয়্যিদুনা হযরত মুহিউদ্দীন বড়পীর ছাহিব আল হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

* তিনিই পবিত্র ক্বাদিরিয়া তরীক্বা উনার সম্মানিত ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি। সকলের নিকট তিনি বড়পীর ছাহিব গাউছুল আ’যম, দস্তগীর লক্বব মুবারক-এ মশহূর।

২০। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আব্দুর রাযযাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২১। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ শরফুদ্দীন কাত্তাল রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২২। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আব্দুল ওয়াহহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৩। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ বাহাউদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৪। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আক্বীল রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৫। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ শামসুদ্দীন সাহরায়ি রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৬। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ গাদায়ে রহমান আউয়াল রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৭। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ শামসুদ্দীন আরিফ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৮। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ গাদায়ে রহমান ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৯। ইলাহী বহুরমতে হযরত শাহ ফাযিল রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩০। ইলাহী বহুরমতে হযরত শাহ কামাল কায়থালী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩১। ইলাহী বহুরমতে হযরত শাহ সিকান্দার কায়থালী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩২। ইলাহী বহুরমতে আফযালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী, কাইয়্যুমে আউওয়াল, আজিমুল বারাকাত, গউছুছ ছাক্বালাইন, খাযীনাতুর রহমাহ, মাখদূমে যামান, আল মুনাওওয়ার, খাজায়ে খাঁজেগা, আবূল বারাকাত বদরুদ্দীন হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী সিরহিন্দী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি। 

* তিনি একাদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ।

* তিনি মহান মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা উনার ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনিই হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খেরকা মুবারক হযরত শাহ সিকান্দার কায়থালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুবারক মারফত প্রাপ্ত হয়েছেন।

৩৩। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আদম বিন নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩৪। ইলাহী বহুরমতে হযরত সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ আকবরাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩৫। ইলাহী বহুরমতে হযরত শায়েখ আব্দুর রহীম মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩৬। ইলাহী বহুরমতে রঈসুল মুহাদ্দিছীন, মুজাদ্দিদে যামান ও মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

* তিনি দ্বাদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ।

৩৭। ইলাহী বহুরমতে হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩৮। ইলাহী বহুরমতে আমীরুল মু’মিনীন, মুজাদ্দিদে যামান, হযরত শাহ সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী আলাইহিস সালাম।

* তিনিই ত্রয়োদশ হিজরী শতাব্দীর মহান মুজাদ্দিদ এবং সুপ্রসিদ্ধ ‘মুহম্মদিয়া তরীক্বা’ উনার সম্মানিত ইমাম।

৩৯। ইলাহী বহুরমতে কুতুবুল আকতাব হযরত মাওলানা শাহ ছূফী নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৪০। ইলাহী বহুরমতে ওয়াসিল বিল্লাহ, আশিক্বে রসূলিল্লাহ, কুতুবুল ইরশাদ হযরত মাওলানা শাহ ছূফী ফতেহ আলী বর্ধমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

* উনাকে রসূলে নোমা বলা হয়। কারণ তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত করিয়ে দিতে পারতেন।

৪১। ইলাহী বহুরমতে আমীরুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুজাদ্দিদে যামান, কুতুবুল আলম শাহ ছূফী আলহাজ্জ হযরত মাওলানা আব্দুল্লাহিল মা’রূফ মুহম্মদ আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

* তিনি চতুর্দশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ।

৪২। (ক) ইলাহী বহুরমতে ওলীয়ে মাদারযাদ, কুতুবুল আলম, সুলত্বানুল আরিফীন, হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবূ নজম মুহম্মদ নাজমুস সায়াদাত ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

(খ) ইলাহী বহুরমতে, কুতুবুল আলম, কাইয়্যুমে যামান, শায়েখুল মাশায়িখ, হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবূ নছর মুহম্মদ আব্দুল হাই ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৪৩। ইলাহী বহুরমতে কুতুবুল আলম, আমীরুশ শরীয়ত, মাহতাবে তরীক্বত, সুলত্বানুল আরিফীন, মাহিয়ে বিদয়াত, মুহইয়ে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে যামান, হুজ্জাতুল ইসলাম, তাজুল মুফাসসিরীন, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, ফখরুল ফুক্বাহা আলহাজ্জ হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবূল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

তিনি উপরোক্ত উনাদের দু’জন থেকেই খিলাফত প্রাপ্ত হন। তবে উনার প্রধান শায়েখ হচ্ছেন হযরত নাজমুস সায়াদাত ছিদ্দীক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৪৪। ইলাহী বহুরমতে, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, হুজ্জাতুল ইসলাম, সুলত্বানুল আরিফীন, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম।

* তিনিই সারা বিশ্বে সমাদৃত, প্রশংসিত, গ্রহণযোগ্য ও হক্ব সিলসিলা “রাজারবাগ শরীফ”-উনার মহা সম্মানিত হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। তিনিই হিজরী পঞ্চদশ শতাব্দীর ‘মহান মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম।’

 এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, উনার সুমহান তরীক্বা শরীফ উনার সুযোগ্য আকাবির খলীফা আজমাঈন উনাদের মাধ্যমে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে সম্প্রসারিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! তবে বর্তমানে খুব কম খানকায়, কম সিলসিলায়, কম দরবারে গদ্দীনশীন ব্যক্তিবর্গ মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গউছুল আ’যম, দস্তগীর, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তর্জ-তরীক্বা মুতাবিক আমল-আক্বীদা ইত্যাদি হুবহু নকশায় জারি রেখেছেন। বরং প্রায় সকলেই বিভিন্নভাবে উনার তরীক্বা মুবারক উনার সবক, আমল-আখলাক আদর্শ ইত্যাদিকে বিকৃত করেছে, অনেক কিছু ছেড়ে দিয়েছে কেউবা কমবেশি করেছে। নাউযুবিল্লাহ!

কিন্তু বর্তমান যামানায় একমাত্র ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ কিবলা কা’বা মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমেই বর্তমান যামানা পর্যন্ত জারি রয়েছে মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গউছুল আ’যম, দস্তগীর, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মক্ববূল মাশহূর পবিত্র ক্বাদিরিয়া তরীক্বা। সুবহানাল্লাহ! 

আয় বারে ইলাহী! উনাদের উসীলায় আমাদের উপর আপনার খাছ রহমত, মুহব্বত ও মা’রিফাত এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ তাওয়াজ্জুহ, ফায়িয, যিয়ারত, মুহব্বত ও মা’রিফাত দান করুন। সুন্নতের পূর্ণ পায়রবী করার তাওফীক দিন। যাহিরী ও বাতিনী দৃঢ়তা আর ইহকাল ও পরকালের সুস্থতা দান করুন। এই সকল বুযুর্গানে দ্বীন উনাদের ফুয়ূজাত, বারাকাত ও কামালাতের পূর্ণ হিসসা নছীব করুন। আমীন!

মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত ঈমানের মূল।

তাই উনাদের ছানা ছিফত ও ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা মুসলমান উনাদের ঈমানী দাবি।

 মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- 

قُل لَّا اَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ اَجْرً‌ا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْ‌بٰـى ۗ وَمَن يَقْتَرِ‌فْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهٗ فِيْهَا حُسْنًا ۚ اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ‌ شَكُوْرٌ.

অর্থ: “(হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) উম্মাহকে বলে দিন যে, তোমাদেরকে ঈমান-হিদায়েত দেয়ার কারণে তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় চাওয়া হচ্ছে না। বিনিময় দেয়া তোমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বিনিময় দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করাও তোমাদের জন্য কুফরী। তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে আমার ক্বুরবা বা নিকটাত্মীয় আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে তোমরা সদাচরণ করো। যে ব্যক্তি নেকী হাছিল করে, আমি তা বৃদ্ধি করে দেই। অর্থাৎ যে ব্যক্তি উনাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে তার জন্য রয়েছে সর্বোত্তম প্রতিদান। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল এবং প্রতিদান প্রদানকারী।” (পবিত্র সূরা শু‘য়ারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি সদাচরণ তথা সর্বোচ্চ হুসনে যন বা সুধারণা পোষণ করতে হবে, উনাদের ছানা-ছিফত করতে হবে, উনাদের সাওয়ানেহ উমরী মুবারক বা জীবনী মুবারক বেশি বেশি আলোচনা-পর্যালোচনা করতে হবে। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়া-আখিরাতে উত্তম প্রতিদান প্রদান করবেন। মহান আল্লাহ পাক উনাকে ক্ষমাশীল হিসেবে লাভ করা যাবে। জিন্দেগীর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে। খাছ খায়ের, বরকত, রহমত, সাকীনাহ নাযিল হবে। সমস্ত নেক মক্বছূদ পূরণ হবে। সর্বোপরি মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে বিশেষ নিসবত মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উনাদের আখাছছুল খাছ সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিল হবে। সুবহানাল্লাহ! আর এ বিষয়টিই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়- 

عَنْ حضرت جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْبَجَلِىِّ رضى الله تعالى عنه قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ مَاتَ عَلـٰى حُبّ اٰلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَاتَ شَهِيْدا. أَلا وَمن مَاتَ عَلـٰى حُبّ اٰلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم مَاتَ مغفورا لَهُ. أَلا وَمن مَاتَ عَلـٰى حُبّ اٰلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَاتَ تَائِبًا. أَلا وَمن مَاتَ عَلـٰى حُبّ اٰلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم مَاتَ مُؤمنا مُسْتَكْمل الْإِيمَان. الا وَمن مَاتَ عَلـٰى حُبّ اٰلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بشره ملك الْمَوْت بِالْجنَّةِ ثمَّ مُنكر وَنَكِير. أَلا وَمن مَاتَ عَلـٰى حُبِّ اٰلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يزف إِلَى الْجنَّة كَمَا تزف الْعَرُوس إِلَى بَيت زَوجهَا. أَلا وَمن مَاتَ عَلـٰى حُبِّ اٰلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فتح الله لَهُ فِي قَبره بَابَيْنِ إِلَى الْجنَّة. أَلا وَمن مَاتَ عَلـٰى حُبِّ اٰلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم جعل الله قَبره مَزَار مَلَائِكَة الرَّحْمَة. أَلا وَمن مَاتَ عَلـٰى حُبِّ اٰلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم مَاتَ عَلَى السّنة وَالْجَمَاعَة. 

অর্থ: “হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, তিনি শহীদ হিসাবে ইন্তিকাল করবেন। সুবহানাল্লাহ। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ইন্তেকাল করবেন। সুবহানাল্লাহ। সাবধান! যিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, তিনি তওবাকারী হিসেবে ইন্তেকাল করবেন। সুবহানাল্লাহ। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, তিনি পরিপূর্ণ ঈমানদার মু’মিন হিসেবে ইন্তেকাল করবেন। সুবহানাল্লাহ। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, উনাকে মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম, হযরত মুনকার ও নকীর আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত বেহেশত মুবারক উনার সুসংবাদ মুবারক দিবেন। সুবহানাল্লাহ। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, উনাকে এমনভাবে সুসজ্জিত করে জান্নাতে নেয়া হবে, যেমনভাবে  নববধূকে সাজিয়ে তার স্বামীর ঘরে নেয়া হয়। সুবহানাল্লাহ। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, উনার কবরে সম্মানিত জান্নাত উনার দিকে দুটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারক ইন্তেকাল করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত কবরকে সম্মানিত রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিয়ারতের স্থান বানাবেন। সুবহানাল্লাহ। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, তিনি আহলু সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার আকাইদের উপর ইন্তেকাল করবেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!! সুবহানাল্লাহ!!! (তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে কবীর, তাফসীরে রূহুল বয়ান,  নুজহাতুল মাজালিস)  

অর্থাৎ যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, (১) তিনি শহীদী মৃত্যু পাবেন। (২) তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ইন্তেকাল করবেন। (৩) তিনি তওবাকারী হিসেবে ইন্তেকাল করবেন। (৪) তিনি পরিপূর্ণ ঈমানদার মু’মিন হিসেবে ইন্তেকাল করবেন। (৫) উনাকে মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম, হযরত মুনকার ও নকীর আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত বেহেশত মুবারক উনার সুসংবাদ মুবারক দিবেন। (৬) উনাকে নববধূর ন্যায় সুসজ্জিত করে জান্নাতে নেয়া হবে (৭) উনার কবরে সম্মানিত জান্নাত উনার দিকে দুটি দরজা খুলে দেয়া হবে। (৮)  মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কবরকে সম্মানিত রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিয়ারতের স্থান বানাবেন। (৯)  তিনি সম্মানিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার আকাইদের উপরই ইন্তেকাল করবেন।” সুবহানাল্লাহ! 

হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করলে উপরোক্ত নিয়ামতসমূহ লাভ করা যায়, কেউ যদি জীবিত অবস্থায় হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত না করে, উনাদের খিদমতের আঞ্জাম না দেয়, তাহলে সে কি ইন্তিকালের সময় উনাদের মুহব্বত অন্তরে রাখতে পারবে? কখনোই নয়। হ্যাঁ, যদি জীবিত অবস্থায় হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত করে, উনাদের খিদমতের আঞ্জাম দেয়, তাহলে তার জন্য উভয়কালেই কামিয়াবী। যা অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন-

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اربعة انا لـهم شفيع يوم القيامة الـمكرم لذريتى والقاضى لـهم حوائجهم والساعى لهم فى امورهم عند اضطرارهم اليه والمحب لهم بقلبه ولسانه- 

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ক্বিয়ামতের দিন আমি নিজেই চার শ্রেণীর লোককে খাছভাবে সুপারিশ করবো- ১. যে ব্যক্তি আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মান করবে। ২. যে ব্যক্তি অর্থ-সম্পদ দ্বারা আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খিদমত করবে। ৩. যে ব্যক্তি শারীরিক শক্তি দিয়ে, শ্রম দিয়ে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খিদমত করবে। ৪. যে ব্যক্তি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মনে প্রাণে, জবানে গভীরভাবে মুহব্বত করবে।” সুবহানাল্লাহ! (আল বুরহানু ফী তাফসীরিল কুরআন লিল বাহরানী- ১/২৩, তাফসীরু নূরিছ ছাক্বালাইন লিল হুয়াইযী ২/৫০৪)  

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ سَلمَةَ بْنِ الأَكْوَع رَضِىَ الله تَعَالى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النجوم أمان لأهل السماء ، وأهل بيتي أمان لأهل الأرض، فإذا ذهبت النجوم ذهب أهل السماء، وإذا ذهب أهل بيتي ذهب أهل الأرض ..

অর্থ: “হযরত সালমা ইবনে আকওয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- আকাশের তারকারাজি আসমানবাসীদের জন্য নিরাপত্তা দানকারী। আর আমার পবিত্র আহলু বাইত শরীফ তথা আওলাদুর রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা আমার উম্মত তথা  গোটা কায়িনাতবাসীর একমাত্র নিরাপত্তা দানকারী তথা নাজাত দানকারী। সুবহানাল্লাহ! তারকারাজি যখন বিদায় নিবে, তখন আসমানবাসীগণও বিদায় নিবেন। আর আমার পবিত্র আহলু বাইত শরীফ তথা আওলাদুর রসূল আলাইহিমুস সালাম যখন বিদায় নিবেন, তখন জমীন ধ্বংস হয়ে যাবে।”  (কানযুল উম্মাল) 

অর্থাৎ যমীনে দায়িমীভাবে সবসময় খাছ পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কেউ না কেউ অবস্থান মুবারক করবেন। উনাদের উসিলায় এই জমীন টিকে থাকবে। কিয়ামতের আগে এই জমীন পবিত্র আহলু বাইত শরীফ তথা আওলাদুর রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে খালি হবে না। তাহলে বর্তমান সময়ে পবিত্র আহলু বাইত শরীফ তথা আওলাদুর রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কারা? সে বিষয়টিই বলা হয়েছে-

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার যবান মুবারক-এ আমরা শুনেছি। তিনি বলেন: “আমি মুবারক স্বপ্নে দেখলাম- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অতি সুন্দর জায়গায় সুন্দর একটি আসন মুবারকে বসে রয়েছেন। উনার মুবারক সামনে ঘেরাও করা মনোরম জায়গা মুবারক রয়েছে। তিনি আমাকে এবং আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে ডেকে নিয়ে ওই মুবারক জায়গায় বসালেন এবং বললেন: ‘আপনারা সবাই আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত।’ সুবহানাল্লাহ! 

মূল কথা হচ্ছে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে যারা দুনিয়া হতে পর্দা করেছেন এবং যারা দুনিয়াতে অবস্থান মুবারক করছেন, উনাদের সকলকে সর্বাধিক মুহব্বত করতে হবে, সার্বিকভাবে উনাদের খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দিতে হবে এবং উনাদের মুবারক শানে সর্বোচ্চ হুসনে যন পোষণ করতে হবে। যা পবিত্র ঈমান পূর্ণতার পূর্বশর্ত। আর এ জন্যই মুসলিম সন্তাদেরকে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে অবগত করতে সিলেবাসে উনাদের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করা অতীব জরুরী। অর্থাৎ এদেশের ৯৮ ভাগ মুসলমান উনাদের একান্ত দাবি।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল শান মুবারক কারবালার প্রান্তরে এবং পরবর্তী সময়ে-

কারবালার ঘটনার সময়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক প্রায় চৌদ্দ বছর। সে সময়ে তিনি মারিদ্বী শান মুবারকে ছিলেন। যার কারণে উনাকে ইয়াযিদ লা’নতুল্লাহির বাহিনীর মুকাবিলা করতে দেয়া হয়নি।

কিতাবে উল্লেখ করা হয়, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে তাঁবুর অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। তখন উনার চৌদ্দ বছর বয়স্ক সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি মারাত্মক রোগ ও জ্বরে ভুগছিলেন। তিনি কষ্ট করে কোন রকমে উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার সামনে এসে আরয করলেন, “আব্বাজান! আমাকেও বিদায় দিন, আমিও শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করতে চাই।” সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের আপন আওলাদ উনাকে সান্ত¡না দিলেন এবং সম্মানিত বুক মুবারক উনার মধ্যে জড়িয়ে ধরে বললেন, “হে হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনাকেও যদি বিদায় দিই, তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান ‘সিলসিলা’ কার থেকে জারি হবে? বাবা শুনুন! আপনার থেকেই আমার পবিত্র বংশের সুমহান ‘সিলসিলা’ জারি হবে। আমি দোয়া করছি, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে জীবিত রাখুন এবং আপনার থেকে আমার পবিত্র বংশধর উনার সুমহান ‘সিলসিলা’ জারি রাখুন।” তিনি উনাকে বাতিনী খিলাফত ও ইমামত প্রদান করলেন। উনাকে সম্মানিত বুক মুবারক উনার সঙ্গে জড়িয়ে বাতিনী নিয়ামত প্রদান করলেন এবং কিছু পবিত্র ওছীয়ত মুবারক করার পর ফরমালেন, “প্রিয় বৎস! আমি চলে যাওয়ার পর পবিত্র মদীনাতুল মুনাওওয়ারা শরীফ উনার মধ্যে পৌঁছার যদি সৌভাগ্য হয় তাহলে সবার আগে আপনার মহাসম্মানিত নানাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ গিয়ে সর্বপ্রথম আমার সালাম মুবারক জানাবেন এবং কারবালায় আপনার দেখা সমস্ত ঘটনা উনার মুবারক খিদমতে পেশ করবেন।”

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের পর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বারবার হাত মুবারক তুলে দুআ মুবারক করেন-

يا رحـمة للعالـمين- ادركنى زين العابدين

“ইয়া রহমাতাল্লিল আলামীন! আদরিকনী যাইনাল আবিদীন”

অর্থাৎ “হে রহমাতুল্লিল আলামীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার উপর রহম করুন।”

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যখন কাফেলার সাথে কুফা নেয়া হলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ইবনে যিয়াদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির চোখ পড়লো। সে জিজ্ঞাসা করলো, ইনি কে? ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি বাহিনীরা বললো, ইনি হলেন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। ইবনে যিয়াদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি বললো, তোমরা উনাকে কেন রেখে দিয়েছ? উনাকে শহীদ করনি কেন? ওরা বললো, উনি অসুস্থ ছিলেন এবং আমাদের সাথে মোকাবেলা করতে আসেননি। এজন্য আমরা উনাকে শহীদ করিনি। ইবনে যিয়াদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি বললো, উনাকেও শহীদ করে দাও। আমি চাই না যে, উনাদের একজনও বেঁচে থাকুক। নাঊযুবিল্লাহি মিন যালিক! নাঊযুবিল্লাহি মিন যালিক!! নাঊযুবিল্লাহি মিন যালিক!!!

পাপিষ্ঠ ইবনে যিয়াদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি এ কথাগুলো বলার সাথে সাথে জল্লাদ তলোয়ার নিয়ে এগিয়ে আসলো। তখন হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জড়িয়ে নিলেন এবং বললেন, “ওহে যালিমেরা! আমাদের সাথে কোন পুরুষ মাহরাম (আপনজন) নেই। উনি একমাত্র আমাদের মাহরাম। যদি তোমরা উনাকেও শহীদ করো, তাহলে আমাদের সাথে কোন মাহরাম থাকবে না। তাই তোমরা এটা জেনে রেখো, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আমাকে শহীদ না করবে, এর আগে তোমরা উনার কাছেও পৌঁছতে পারবে না। যদি উনাকে শহীদ করতে চাও তাহলে প্রথমে আমাকে শহীদ করো। ওহে যালিমেরা! তোমরা যুলূম করা থেকে বিরত থাকো। তিনি যদি পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তাহলে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সুমহান ‘সিলসিলা’ কিভাবে জারি থাকবে?” এ কথাগুলো বলার পর মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইবনে যিয়াদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির অন্তরে এমন এক ভীতি সৃষ্টি করে দিলেন, শেষ পর্যন্ত সে তার এ ঘৃণিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রইলো।

হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যখন মদীনা শরীফে পৌছানো হলো। মযলূম কাফেলা উনাদের সকলেই তখন কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তখন কাফেলার একমাত্র জীবিত পুরুষ সদস্য সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শোকে পাথর হয়ে এক কিনারে দাঁড়িয়েছিলেন। সবাই যখন উনাকে হুজরা শরীফ যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন, তিনি বললেন, আমার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে ওছীয়ত মুবারক করেছেন যে, পবিত্র মদীনা শরীফ পৌঁছে যেন সর্বপ্রথম মহাসম্মানিত নানাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক নেই। তাই আমি পবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক নেওয়ার আগে কোথাও তাশরীফ মুবারক নিব না।

অতঃপর তিনি পবিত্র রওযা শরীফ তাশরীফ মুবারক নিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি এতক্ষণ পর্যন্ত ছবর ও ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে নিশ্চুপ ছিলেন, তিনি পবিত্র রওযা শরীফ উনার সামনে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। শুধু এতটুকু বলতে পারছিলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার কলিজার টুকরা, নয়নের মনি সম্মানিত নাতী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সালাম মুবারক গ্রহণ করুন।”

এরপর উনার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলো এবং অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে উনার চোখ মুবারকে দেখা কারবালার সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করতে লাগলেন। আর উনার কান্নার সাথে সাথে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার সমস্ত দেয়াল থেকে কান্নার রোল বের হচ্ছিল এবং পবিত্র রওযা মুবারক তিনিও থরথর করে কাঁপছিল। হঠাৎ পবিত্র রওযা শরীফ থেকে আওয়াজ বের হলো, “হে হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম! আপনি আমাকে যা শুনাচ্ছেন আমি তা সবকিছু স্বচক্ষু মুবারকে দেখেছি।”

উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসা হযরত উম্মু সালামা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, “পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে একবার সেই দিন ক্বিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেই দিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সান্নিধ্যে গমন করেছিলেন। আর একদিন ক্বিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হলো, যেদিন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কারবালা থেকে ফিরে এসেছেন।” তিনি আরো বর্ণনা করেন, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিন অদৃশ্য থেকে যেভাবে ক্রন্দনের আওয়াজ শুনা গিয়েছিল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের সময় একইভাবে অদৃশ্য থেকে কান্নার আওয়াজ শুনা গিয়েছিল।” 

পবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক নিয়ে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করার পর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হুজরা শরীফ উনার মধ্যে ফিরে গেলেন এবং একান্ত ছবর ও ধৈর্য সহকারে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করতে লাগলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এমন অবস্থা হয়েছিল যে, যখন তিনি পানি দেখতেন তখন তিনি সীমাহীন কান্নাকাটি করতেন এবং বলতেন, এই সেই পানি, যা হযরত ইমাম আলী আছগর আলাইহিস সালাম উনাকে পান করতে দেয়া হয়নি, হযরত ইমাম আলী আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে পান করতে দেয়া হয়নি, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পান করতে বাঁধা দেয়া হয়েছিলো। উনার সামনে যখন খাবার আনা হতো তিনি দু এক লোকমা গ্রহণ করে অবশিষ্টগুলো সামনে থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে বলতেন। সবসময় একাকী থাকতে পছন্দ করতেন। সাধারণ লোকদের সাথে মেলামেশা করতেন না এবং যতদিন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন, এ সময়ের মধ্যে কোনদিন হাসেননি।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আওলাদ ইমামুল খ¦ামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ বাকির আলাইহিস সালাম তিনি একদিন উনাকে সুওয়াল মুবারক করলেন, সম্মানিত আব্বাজান! কী ব্যাপার? আমি আপনাকে কোনদিন হাসতে দেখিনি।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, বৎস! আমার চোখের সামনে কারবালার যে দৃশ্য ফুটে রয়েছে, তা দেখলে আপনার মুখ থেকেও চিরদিনের জন্য হাসি বন্ধ হয়ে যেত! আপনিও সারা জীবনে কোনদিন হাসতেন না। বৎস! আমি পূত-পবিত্র জিসিম মুবারক উনাদেরকে মাটিতে অবস্থান মুবারক করতে দেখেছি, প্রিয় নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নকশা মুবারক উনাদেরকে দাফন-কাফন মুবারক বিহীন অবস্থায় কারবালার প্রান্তরে পড়ে থাকতে দেখেছি। আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রিয় সম্মানিত নাতী উনাকে আঘাতে জর্জরিত হয়ে কারবালার তপ্ত বালিরাশির উপর দাফন-কাফন মুবারক বিহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি।

হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা লিখেছেন, এই পৃথিবীতে পাঁচজন ব্যক্তি খুব বেশি কান্নাকাটি করেছেন। উনারা হলেন-

 এক. আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম। তিনি জান্নাত থেকে যমীনে তাশরীফ আনার পর দুইশত হতে তিনশত বছর কান্নাকাটি করেছেন।

দুই. হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম। তিনি হযরত ইঊসুফ আলাইহিস সালাম উনার বিচ্ছেদের কারণে ৪০ বৎসর কেঁদেছিলেন এবং অজস্র ধারায় চোখের পানি ফেলেছিলেন।

তিন. হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম। তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ভয়ে প্রায় ২৫ বৎসর কেঁদেছিলেন। তিনি এত বেশি কান্নাকাটি করেছিলেন যে, দু’গ- মুবারক বেয়ে চোখের পানি পড়তে পড়তে চেহারা মুবারক উনার মধ্যে দাগ পড়ে গিয়েছিল।

 চার. সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর সুদীর্ঘ ছয় মাস যাবত কেঁদেছিলেন।

পাঁচ. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি কারবালার ঘটনার পর সুদীর্ঘ ৩৩ বছর কেঁদেছিলেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক হতে ইবরত হাছিল করে তা আমলে বাস্তবায়ন করা সকলের জন্য ফরয। মহান আল্লাহ পাক উম্মাহর সকলকে তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।



ফুরফুরা শরীফের মুজাদ্দিদে যামান আমীরুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত মুহইস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ ছুফী মুহম্মদ আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক

 

ফুরফুরা শরীফের মুজাদ্দিদে যামান আমীরুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত মুহইস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ ছুফী মুহম্মদ আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক


পবিত্র বিলাদত শরীফ:

  ফুরফুরা শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হিজরী ১২৬৩ সনে হুগলী জিলার ফুরফরা শরীফে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।


পবিত্র নসব মুবারক:

  ফুরফুরা শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খলীফাতু রসূলিল্লাহ হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার বংশধর এবং হযরত মাওলানা মনছুর বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ১৫তম নিম্নপুরুষ। সুবহানাল্লাহ! 

হযরত মনছুর বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সেনাপতি হুসাইন বুখারী উনার সাথে বঙ্গদেশে আগমন পূর্বক ফুরফুরা ও উনার পার্শ্ববর্তী স্থানসমূহে এসে বাগদী রাজার সহিত জিহাদ করত: সেখানে বসতি কায়েম করেন। এই যুদ্ধে ৪ জন অতি বুযুর্গ ব্যক্তি শহীদ হন। অদ্যাবধি উনাদের পবিত্র মাজার শরীফ ফুরফুরা শরীফে বিদ্যমান আছে। সুবহানাল্লাহ!

হযরত মাওলানা মনছুর বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে শুরু করে ফুরফুরা শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পর্যন্ত অনেকেই বিখ্যাত কামিল ও কারামত বিশিষ্ট ওলীআল্লাহ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!


স্বপ্নে পূর্বাভাস:

ফুরফুরা শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ৬ষ্ঠতম ও উর্দ্ধতন পুরুষ, হযরত মোস্তফা মাদানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন বিখ্যাত ওলীআল্লাহ ছিলেন। তিনি কাশফ যোগে জানতে  পেরেছিলেন যে, উনার ৬ষ্ঠতম নিম্ন বংশধরগণের মধ্যে একজন অতি বিখ্যাত কামিল ওলীআল্লাহ আগমন করবেন। উনার দ্বারা বঙ্গদেশের শিরক বিদয়াত দূরিভূত হবে, এমনকি হিন্দুস্থান ও আরব পর্যন্ত উনার ফায়িজ জারি হবে। বলা বাহুল্য, ফুরফুরা শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিই যে, সেই মহাপুরুষ তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। সুবহানাল্লাহ! 

                                              

জাহিরী ইলিম অর্জন: 

ফুরফুরা শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সিতাপুর, হুগলি ও কলিকাতা প্রভৃতি মাদরাসা হতে ফারেগ হয়ে হিজরী ১৩ শতকের মুজাদ্দিদ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত খলীফা মুজাহিদ, হাফেজ জামালুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র তাফসীর শরীফ অধ্যায়ন সমাপ্ত করেন। অতঃপর মাওলানা বেলায়েত উনার নিকট মান্তেক, হিকমত ইতাদি ইলিম অর্জন করেন। ২৩ থেকে ২৪ বৎসর বয়সে তিনি জাহিরী ইলিম শিক্ষা সমাপ্ত করেন। অতঃপর পবিত্র মদীনা শরীফে কিছুদিন অবস্থান করে ৪০ খানা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ লাভ করেন। এর পরে তিনি বহু দুর্লভ কিতাব সংগ্রহ করে ধারাবাহিক ১৮ বৎসর যাবত অধ্যায়ন করেন। সুবহানাল্লাহ!



বাতিনী ইলিম অর্জন: 

ফুরফুরা শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মাদারযাদ’ ওলীআল্লাহ ছিলেন। তিনি কুতুবুল ইরশাদ রসূলে নুমা হযরত মাওলানা শাহ ছুফী ফতেহ আলী বর্ধমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করত: বাতিনী ইলম ও ফায়েযের উচ্চ কামালাত হাছিল করেন। তিনি স্বপ্নযোগে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ও হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম উনাদের নিকট থেকে বাতিনী ফায়েয লাভ করেন। এছাড়া তিনি আরো অনেক বুযুর্গ ব্যক্তি থেকে বাতিনী ফায়েয লাভ করে উচ্চ বিলায়েত হাছিল করেন। সুবহানাল্লাহ!


মুজাদ্দিদে যামান: 

ফুরফুরা শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গত চৌদ্দ শত হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন।  উনার কামালত, কারামত, ফুয়ুজাত ও তাবলীগ সারা বিশ্বের সর্বত্র ঝরণা ধারার ন্যায় অতি প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়েছে। উনার জাহিরী ও বাতিনী ফায়েযে যমীন থেকে শিরক-বিদয়াত দুর হয়ে ইলমে শরীয়ত ও মারিফত প্রভুত পরিমাণে বিস্তার লাভ করেছে। এক বা একাধিক অতি উচ্চ শ্রেণীর কামিল ওলী ও পীর উনার জাহিরী ও বাতিনী ফায়েয লাভ করেন। সর্বত্র সম্মানিত দ্বীন ইসলাম জারি করেন। এছাড়া অগণিত লোক উনার ফায়িয লাভ করে কামিল হয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে হিন্দুস্থান ও আরব পর্যন্ত উনার ফায়েয বিস্তার লাভ করেছে। বহু দ্বীনী মাদরাসা, তরীক্বার তালীম, সুন্নতের প্রচার, উনার অলৌকিক দ্বীনী প্রতিভার প্রমান। সুবহানাল্লাহ!


তাছনীফাত: 

ফুরফুরা শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আদেশ, অনুমোদন ও অর্থব্যয়ে বহু হাজার হাজার দ্বীনী কিতাব উনার সুযোগ্য খলীফা উনাদের কর্তৃক সমগ্র দেশে প্রচারিত হয়েছে। যাবতীয় বাতিল মতের খ-ন, খাঁটি মাজহাব উদ্ধার, শিরক-বিদয়াত বিনাশ, জাহিরী, বাতিনী ইলমের প্রচার ইত্যাদি যাবতীয় প্রকারের অসংখ্য কিতাবাদি ও সংবাদ পত্র দ্বারা ছহীহ আক্বীদা ও আমলের জোর শোর তাবলীগ করেন। এছাড়াও তিনি বহু জনকল্যাণ মূলক কাজ করেছেন। উনার জীবনী মুবারক বিস্তারিতভাবে পাঠ করলে, উনার বুযুর্গী, কামালত, ফুয়ুজাত, তাবলীগ ও এশায়াতের কিঞ্চিৎ জ্ঞাত হওয়া যায় মাত্র। সুবহানাল্লাহ!


মাযহাব:

প্রকৃত প্রস্তাবে উনার যামানায় বিশ্বে পবিত্র দ্বীন ইসলাম জাগরণের সত্যিকার যুগ আরম্ভ হয়েছে। ইতঃপূর্বে এত ব্যাপক, এত বিরাটভাবে ইলিম প্রচারের ও সংস্কারের কাজ আর হয়নি। যাঁকে কেন্দ্র করে দ্বীনী জগতের এত সংস্কার সাধিত হলো তিনি একজন খাঁটি হানাফী মাযহাবভুক্ত মুকাল্লিদ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

 

পবিত্র বিছাল শরীফ:

ফুরফুরা শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে যামান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ২৫শে মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়া বা জুমুয়াবার ছুবহে ছাদিক্বের সময় পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। ভারতের ফুরফুরা শরীফে উনার পবিত্র মাযার শরীফ অবস্থিত। সুবহানাল্লাহ!