একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-১৬০

 

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা একজন ছেলের

সুস্থ অবস্থায় সন্ধান লাভ

সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে অনুপলব্ধির কারণে সাদামাটা প্রকৃতির মানুষ মুহম্মদ আব্দুর রশীদকে দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই। আমরা পূর্বেই বলেছি, সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি স্বার্থান্ধ ও অজ্ঞ মানুষ এবং তথাকথিত বিদ্বান-বিদুষীরাও মাহবূব ওলীআল্লাহ উনাদেরকে অব্যর্থ কবিরাজ এবং বাকসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব ভাবতে অভ্যস্ত। নাউযুবিল্লাহ! হারানো ছেলেকে ফিরে পাবার ব্যাকুলতা মুহম্মদ আব্দুর রশীদের স্বার্থপরতা নয়। এটি পিতৃসুলভ সহজাত আগ্রহ, উৎকণ্ঠা ও আকুতি। সময়ের অতিবাহন কষ্টের হলেও মুহম্মদ আব্দুর রশীদের প্রত্যয়ী আশাবাদ যে, ছেলে মুহম্মদ ইউসুফ আলী সহসাই ফিরে আসবে।

মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং উনার প্রিয়তম হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা উনাদের উদ্দিষ্ট ব্যবস্থায় মনোনীত মাহবূব ওলীগণ উনাদের মুবারক উছীলায় কত যে কাজ সম্পাদন করেন! আর কত যে অতুলনীয় মর্যাদা, সম্মান, বুযুর্গী ও ক্ষমতা উনাদেরকে দান করেছেন! এ মর্মে প্রসিদ্ধ উক্তি রয়েছে।

তা হলো :

اولیاءرا ہست قدرت از الہ + تیر جستہ باز  گرداند زراہ

অর্থ : “সূক্ষ্মদর্শী ওলীআল্লাহগণ উনার নিক্ষিপ্ত তীর নিশানায় বিদ্ধ হওয়ার পূর্বেই আপন নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।” সুবহানাল্লাহ! শুধুই উক্তির জন্য এ উক্তি নয়। মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু তায়ালা এবং নূরে মুজাসসাম, মাশুকে মাওলা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুবারক বখশিশে মাহবূব ওলীআল্লাহ উনাদের মান, শান, মর্যদা ও অতুলনীয় ক্ষমতার এটি এক বাস্তব উদাহরণ। প্রেক্ষিত কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল সম্মান ও কারামতসমৃদ্ধ মুবারক ইচ্ছায় মুহম্মদ ইউসুফ আলী’র ফিরে আসাও অবধারিত এবং তার আসার সময়ও সমাগত।

রাতের গভীরে মুহম্মদ আব্দুর রশীদের মনে হয়েছে, তার ছেলে আজই আসবে। রাত শেষে দিনেও ছেলের কথাই মনে হচ্ছে বারবার। মুহম্মদ আব্দুর রশীদ রাজারবাগ পাক দরবার শরীফ-এ উদ্দিষ্ট কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ তিনি পেছন ফিরে দেখেন মুহম্মদ ইউসুফ আলী তার একান্ত কাছে দাঁড়িয়ে। কিছুক্ষণ অপলক তাকিয়ে থেকে বাঁধভাঙ্গা মমতায় ছেলেকে তিনি বুকে জড়িয়ে ধরেন। পিতা-পুত্রের বুকের নিবিড় আলিঙ্গনে এখন উভয়ের মুখের কথার মৃত্যু ঘটেছে। দুজনেই নির্বাক। মনের মধ্যে বেদনা-বিমুগ্ধ আবেগের উথাল-পাথাল ঢেউ। পিতার দুচোখে আনন্দ ও ইতমিনানের মহাপ্লাবন। এ প্লাবন সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে উপলব্ধিজনিত কারণে নয়। বুকের গভীরে হারানো ছেলে মুহম্মদ ইউসুফ আলী’র উষ্ণ সান্নিধ্যের কারণে। মুহম্মদ ইউসুফ আলী’র দুচোখেও পানি। কারণ অনেক দিন পর সে আপন ঠিকানায় প্রত্যাবর্তন করেছে।

সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পূর্বেই বলেছেন, মুহম্মদ ইউসুফ আলী থাকা খাওয়ার বিনিময়ে কোনো এক দোকানে কাজ করছে এবং সে ভাল আছে। ছেলের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তার কাছে সে কথাই জানতে পেলেন মুহম্মদ আব্দুর রশীদ। ছেলের কাছে আরো জানা গেলো, গত ক’দিন ধরেই বাড়ি আসার জন্য সে অন্তরে ব্যাকুল ইচ্ছে অনুভব করছিল। অশ্রুভেজা চোখে ছেলেকে নিয়ে তিনি গেলেন সূক্ষ্মদর্শী ও মাহবূব ওলীআল্লাহ, ওলীয়ে মাদারজাদ, ছাহিবে কাশফ ওয়া কারামত, আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদুনা দাদা হুযূর ক্বিবলা হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার ক্বদম মুবারক-এ। ক্বদমবুছী করলেন। নিবেদন করলেন : “হে দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! এই তো আমার ছেলে। এইমাত্র সে এসেছে। আপনার মুবারক উছীলায় ছেলেকে আমি ফিরে পেয়েছি।” ছেলে মুহম্মদ ইউসুফ আলীও সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে ক্বদমবুছী করে।

সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মুহম্মদ আব্দুর রশীদকে বলেন : “মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শুকরিয়া আদায় কর। ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাও। ছেলের মা এবং অন্যান্য আত্মীয়-পরিজনের মনের ব্যথা উপশম কর। তাদেরকে ইতমিনান দান কর।” এ মুবারক নির্দেশের অনতিপরেই মুহম্মদ আব্দুর রশীদ তার প্রাণপ্রিয় ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি অভিমুখে রওয়ানা হন। দীর্ঘদিন পর পিতা-পুত্রের একসঙ্গে বাড়ি যাওয়া। এ যে কী অতুলনীয় আনন্দের, তা প্রকাশের ভাষা আছে কী? নেই। শুধু সাদাসিধে মানুষ মুহম্মদ আব্দুর রশীদ কেন! এ ক্ষেত্রে নানা কারণে প্রকাশ রীতি ও অনুভবের গভীরতার ভিন্নতা থাকলেও অজ্ঞ-প্রাজ্ঞ, মুর্খ-পণ্ডিত, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, বিদ্বান-বিদুষী, ধনী-নির্ধন সকল পিতারই আপন সন্তানের প্রতি প্রেম, ভালোবাসা ও স্নেহবাৎসল্যের প্রকৃতি, পরিধি, ব্যাপ্তি ও স্থিতি অভিন্ন।  (অসমাপ্ত)

আবা-২২০

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-১৫৯

 

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা একজন ছেলের

সুস্থ অবস্থায় সন্ধান লাভ

সহজ-সরল মানুষের আন্তরিক বিশ্বাসে কোন খাদ থাকেনা। যাপিত জীবনের অকৃত্রিমতায় অন্যের দেয়া আশ্বাসে তারা বিশ্বাসী থাকে। নিরুদ্বিগ্ন থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিন্তা-চেতনার কোন গভীরতা না থাকলেও জটিলতা ও কুটিলতা তাদের জীবনকে কলুষিত করে না। সাধারণত অল্পে তাদের তুষ্টি এবং অকপটতায় তাদের প্রশান্তি। তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে তেমন ফারাক নেই। অনুভব ও বিশ্বাসে যখন তখন তাদের ভাঙ্গন ধরে না। তাই পরম হিতৈষী মুনিব ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদুর রসূল, মুসতাজাবুদ দাওয়াত, সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার যবান মুবারক-এ ছেলের ফিরে আসার কথা শুনে পুত্র শোকে এতদিনের যন্ত্রণাকাতর মুহম্মদ আব্দুর রশীদ এখন অনেকাংশেই দুর্ভাবনা ও ব্যথাভার মুক্ত। কাজে-কর্মে, দায়িত্ব পালনে, আচার-আচরণে উৎফুল্লতা যোগ হয়েছে। বিমর্ষতা দূর হয়েছে।

সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মুহম্মদ আব্দুর রশীদকে বলেছেন: “তোমার ছেলে বেশ কিছুদিন ধরে থাকা-খাওয়ার বিনিময়ে এক দোকানে কাজ করছে। ভালো আছে। নিরাপদে আছে। চিন্তার কোন কারণ নেই। অল্প ক’দিনের মধ্যেই ছেলে তোমার কাছে ফিরে আসবে।” ছেলে কোন এক দোকানে কাজ করছে, ভালো আছে এবং অচিরেই সে ফিরে আসবে, এসব বিষয় সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি কিভাবে জানেন কিংবা আদৌ জানেন কিনা, মুহম্মদ আব্দুর রশীদের তা’ একবারও মনে হয়নি।

মনে না হওয়ার কারণ হলো ওলীআল্লাহ কাকে বলে তা’ তিনি জানেন না। কারামত বুঝেন না। তথাকথিত আলিম ও বিদ্বানরাই তো মাহবুব ওলীআল্লাহ উনাদেরকে চিনেনা, মানেনা। একান্ত সহজ ও সরল মানুষ মুহম্মদ আব্দুর রশীদ তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে চিনতে যাবেন কেন? চিনতে পারবেনই বা কেন? দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি শুধু জানেন, সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যখন যা বলেন, তা-ই হয়। কোন অন্যথা হয় না। এ কারণে হারানো ছেলেকে ফিরে পাবার আশ্বাসে তিনি পরম ইতমিনান।

ওলীআল্লাহ উনাদের উপর তথাকথিত বিজ্ঞজন ও ধর্মব্যবসায়ী নিকৃষ্ট দুনিয়াদার আলিমদের অবিশ্বাস এবং মুহম্মদ আব্দুর রশীদ-এর আক্বীদা ও সরল বিশ্বাসে কত দুস্তর ব্যবধান! ইতোমধ্যে ক’দিন পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে বাক সংযমী মুহম্মদ আব্দুর রশীদ একবারও এ বিষয়ে আর কিছু বলেননি। কিছু জানতেও চাননি। বিশ্বাসেও কোন ভাঙ্গন ধরেনি। কারণ তিনি জানেন, সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যখন বলেছেন, ছেলে ফিরে আসবেই ইনশাআল্লাহ। যন্ত্রণাদগ্ধ পিতা হারানো পুত্রকে ফিরে পাবার উন্মুখ প্রত্যাশায় এখন কেবল কষ্টের প্রহর গুণছেন।

মুসতাজাবুদ দা’ওয়াত, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদুর রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা এবং উনার প্রিয়তম হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মত মুবারক ও পথ মুবারক উনার সঙ্গে আপন মত ও পথ পরিপূর্ণরূপে মিলিয়ে দিয়েছেন। উনারা যা চান, তিনিও তাই চান। কাজেই উনার দুআ’ নির্ঘাত কবুল হয়। উনার দুআ’ ও চাওয়ার প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তা’য়ালা এবং উনার প্রিয়তম হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অপার রহমত ও ইহসানে সহসাই হারানো পুত্র মুহম্মদ ইউসুফ আলীকে ফিরে পাবেন মুহম্মদ আব্দুর রশীদ।

মহা-মিলনজনিত পরম আনন্দে সকল দুঃখ ভুলে যাবেন পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-পরিজনেরা। কিন্তু সূক্ষ্মদর্শী ও মাহবুব ওলীআল্লাহ, ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ দা’ওয়াত, আফদ্বালুল আওলিয়া, ছাহিবে ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছাহিবে ইসমে আ’যম, খাজিনাতুর রহমাহ, ছূফীয়ে বাতিন, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা দাদা হুযূর ক্বিবলা হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার বুযুর্গী, মান, শান, ইজ্জত, ঐতিহ্য, কারামত, মাক্বামত ইত্যাদি বিষয়গুলো মুহম্মদ ইউসুফ আলী, তার পিতা-মাতা এবং আরও অনেকের কাছেই অজ্ঞাত রয়ে যাবে।

হয়তো মুহম্মদ আব্দুর রশীদ আমরণ সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি এক ধরনের কৃতজ্ঞ থেকে যাবেন। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সঙ্গে উনার পরম নৈকট্যজনিত কামিয়াবীর শীর্ষ সোপান ও সূক্ষ্মদর্শিতা হাক্বীক্বীভাবে উপলব্ধি তো দূরের কথা, সেসব সম্পর্কে মুহম্মদ আব্দুর রশীদের অন্তরে চিন্তা-ভাবনার উন্মেষও ঘটবে না কোনদিন। (চলবে)

আবা-২১৯

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-১৫৮

 

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা একজন ছেলের

সুস্থ অবস্থায় সন্ধান লাভ

সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মুহম্মদ আব্দুর রশীদকে বলেন : “তোমার ছেলে হারিয়ে যাওয়ায় তুমি নিদারুণ কষ্ট পাচ্ছো। বিষয়টি তুমি আগে বলোনি কেন?” এর কোন জবাব দিতে পারেন না তিনি। কারণ বিষয়টি তো এতদিন সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে অবহিত করার কথা তার মনেই হয়নি। মূল কথা, দীর্ঘকাল মুবারক সান্নিধ্যে থেকেও তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে চিনতে পারেননি, বুঝতে পারেননি। মাহবূব ওলীআল্লাহ উনাদের একান্ত কাছে থেকেও উনাদের বুযুর্গী, কারামত, মর্যাদা, মর্তবা, মাক্বাম বুঝতে না পারার অসংখ্য-অগণিত দৃষ্টান্ত রয়েছে পৃথিবীতে। এমন ঘটনা বুযুর্গ পিতা-মাতা-সন্তানের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।

ইমামে আ’যম, ইমামুল মুসলিমীন, ইমামুল আইম্মাহ, সাইয়্যিদুল উলামা, হাকীমুল হাদীছ হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিতা আম্মা রহমতুল্লাহি আলাইহা তিনি একদিন হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলেন : “বাবা! আমার এই মাসয়ালাটির জবাব অমুক বিজ্ঞ আলিম উনার নিকট থেকে জেনে এসে আমাকে জানাবেন।” ইমামে আ’যম হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট জানতে না চেয়ে অন্য আলিম (যিনি হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছাত্র) উনার নিকট মাসয়ালার জবাব জানতে চাওয়ার দুটি কারণ থাকতে পারে- ১. আম্মা তিনি হয়তো আপন সন্তানের ইলিম-এর পরিধি ও বুযুর্গী সম্পর্কে পুরোপুরি জানতেন না, অথবা ২. জানলেও কোন কোন বিষয়ে সন্তানের চেয়ে সংশ্লিষ্ট আলিম উনার প্রতি আস্থা বেশি ছিল।

ইমামে আ’যম হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি মাসয়ালাটির জবাব আদ্যোপান্ত জানা সত্ত্বেও তিনি উনার আম্মা রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার আদেশমতে বিনা বাক্য ব্যয়ে উদ্দিষ্ট আলিম উনার নিকট গিয়ে মাসয়ালাটি সম্পর্কে জানতে চান। তিনি বলেন : “হে ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি! এ মাসয়ালার জবাব তো আমার জানা নেই।” তখন তিনি বলেন : “মাসয়ালার জবাব আমি আপনাকে বলে দিই। আমার কাছ থেকে জেনে অতঃপর আপনি আমাকে বলুন। তাতেই হবে। আমি আমার আম্মাজান উনাকে গিয়ে বলবো, এ মাসয়ালার জবাব আপনিই বলেছেন।” তিনি ফিরে এসে মূল ঘটনা না জানিয়ে উদ্দিষ্ট আলিম উনার বলে দেয়া জবাব উনার আম্মাকে জানালেন। সুবহানাল্লাহ!

এতে বুঝা গেলো, একান্ত কাছে থেকেও একজন অন্যজনের অবস্থা জানতে পারে না। বিশেষ করে, মাহবূব ওলীআল্লাহ উনাদের কামিয়াবীর স্তর উপলব্ধি করা সাধারণ মানুষের পক্ষে তো বটেই, সমঝদারদের পক্ষেও অত্যন্ত দুরূহ। এ প্রেক্ষিতে অত্যন্ত সাদাসিধে স্বভাবের মানুষ মুহম্মদ আব্দুর রশীদ তিনি ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে থেকেও যে সূক্ষ্মদর্শী ওলীআল্লাহ, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে আদৌ বুঝতে পারবেনা, এটিই স্বাভাবিক ও সঙ্গত।

অনেকগুলো বছর ধরে মুহম্মদ আব্দুর রশীদ খাদিম হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। তার আন্তরিকতা প্রশ্নাতীত। আন্তরিক খিদমতের যে আঞ্জাম তিনি দিয়ে এসেছেন, তার তুলনা নেই। অবশ্য এজন্য সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আর্থিক সহায়তা, থাকা-খাওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে যে আনুকূল্য এবং স্নেহ মমতা ও দয়া, দান, ইহসানে তাকে সিক্ত করেছেন, তা বর্ণনার ভাষা সৃষ্টি হয়নি। বিশ্বস্ত মুহম্মদ আব্দুর রশীদের প্রতি সবসময় তিনি অত্যন্ত দয়া-মায়া-স্নেহপ্রবণ। উনার অপরিসীম আদর, সোহাগ, সাহায্য, সহযোগিতায় মুহম্মদ আব্দুর রশীদের এতগুলো বছর অনাবিল আনন্দে কেটে যাচ্ছে। আজ সেই বিশ্বস্ত খাদিমের ছেলে নিখোঁজ হওয়ার কথা শুনে সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি কষ্ট পেয়েছেন, দুঃখ পেয়েছেন।

মমতাময় কণ্ঠে তিনি মুহম্মদ আব্দুর রশীদকে কাছে ডাকেন। একান্ত কাছে টেনে নেন। আবার বলেন : “তোমার ছেলে হারিয়েছে আমাকে আগে বলোনি কেন?” এবারেও মুহম্মদ আব্দুর রশীদ নিরুত্তর। তিনি বলতে থাকেন : “আব্দুর রশীদ তুমি চিন্তা কর না। আল্লাহ পাক উনার রহমতে তোমার ছেলে তোমার কাছে ফিরে আসবে। অচিরেই ফিরে আসবে।” একথা শুনে মুহম্মদ আব্দুর রশীদ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। এত দিন ধরে কাছে থাকেন। কোনদিনও তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে চিনতে পারেননি। চেনার চেষ্টা করেননি। সে যোগ্যতাও তার নেই। আজ এই প্রথম তিনি নিজের মতো করে উনাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করলেন। মানুষের অনুভব ও বিশ্বাস কখন কোন্ বিষয়ে যে পোক্ত হয়, তা কে জানে! মুহম্মদ আব্দুর রশীদের আজ প্রত্যয়ী বিশ্বাস যে, সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ওসীলায় ছেলেকে তিনি সহসাই ফিরে পাবেন। (চলবে)

আবা-২১৮

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-১৫৭

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা একজন ছেলের

সুস্থ অবস্থায় সন্ধান লাভ

মুহম্মদ আব্দুর রশীদ। অত্যন্ত সাদাসিধে মানুষ। বাক সংযমী। প্রয়োজন না হলে কথা বলেন না। এখন বয়ঃবৃদ্ধ। গ্রামের বাড়ী গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানায়। প্রায় সবারই প্রিয়পাত্র। নিদেন পক্ষে আজ অনেক বছর যাবৎ তিনি ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদুর রসূল, মুসতাজাবুদ দাওয়াত সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ৫ নম্বর আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ দরবার শরীফস্থ বাড়ীতে থাকেন। সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বিছাল শরীফ অবধি মুহম্মদ আব্দুর রশীদ তিনি উনার মুবারক খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি এখনো এ বাড়ীতেই থাকেন। এতো একাত্ম হয়েছেন যে, এ বাড়ীকেই তিনি নিজের বাড়ী বলে মনে করেন। মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়ী গাজীপুরে যান। আর্থিক অবস্থা খুব সচ্ছল নয়।

বিদেশে ছেলে পাঠালে আর্থিক দুরবস্থা দূর হবে ভেবে মুহম্মদ আব্দুর রশীদ তার ছেলে মুহম্মদ ইউসুফ আলীকে বিশ বছর আগে দু’লক্ষ টাকা ব্যয়ে দালালের মাধ্যমে সউদী আরব পাঠান। দালাল কর্তৃক টাকা আত্মসাতের কারণে যাওয়ার কিছুদিন পরেই মুহম্মদ ইউসুফ আলী সউদী আরব থেকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। ধার-দেনা করা দু’লক্ষ টাকা লোকসানে মুহম্মদ আব্দুর রশীদ প্রকট মনোবেদনায় আক্রান্ত হন। প্রায় বিশ বছর বয়সী পুত্র মুহম্মদ ইউসুফ আলীও নিজেকে ধিকৃত মনে করতে থাকে। শোকে-দুঃখে পিতা-পুত্র মুহ্যমান। এক পর্যায়ে মুহম্মদ ইউসুফ আলী বাড়ী থেকে হারিয়ে যায়। নিঁখাজ হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়না। পুত্র শোকে পিতা-মাতার অন্তরে নিদারুণ কষ্ট। আত্মীয়-পরিজনেরও দুর্ভাবনার অন্ত নেই। দুঃখ ভারাক্রান্ত পিতা ছেলেকে ফিরে পেতে বিভিন্ন কবিরাজসহ অনেকের কাছেই গিয়েছেন। ছেলের বর্ণনা দিয়েছেন। অর্থ খরচ করেছেন। কবিরাজরা অনেক চেষ্টা করেছে, অনেক কথা বলেছে, ব্যবস্থাপত্র দিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ  নিতে বলেছে। কবিরাজের নির্দেশ মুহম্মদ আব্দুর রশীদ সঠিকভাবে পালন করেছেন। কতো যে কান্নাকাটি করেছেন, সাধ্যমতো দান খয়রাত করেছেন তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ছেলে ফেরত আসেনি। পিতার ধারণা, ছেলে নিহত হয়েছে অথবা তার ইন্তিকাল হয়েছে। সে আর কোনদিনও ফিরে আসবে না। তাই মুহম্মদ আব্দুর রশীদ নিরাশ।

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ দাওয়াত, আফদ্বালুল আওলিয়া, ছাহিবে ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, খাজিনাতুর রহমাহ, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, ছাহিবে ইসমে আ’যম, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, ফখরুল আওলিয়া, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন ছূফীয়ে বাতিন। তিনি ছিলেন প্রকাশ ও প্রচার বিমুখ। গভীর সমঝ এবং একান্ত সূক্ষ্মদর্শিতা ছাড়া উনার সম্পর্কে ধারণা লাভের কোন উপায়ই কারো ছিলোনা। এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একান্ত কাছে থেকেও আমরা অনেকেই উনার মান, শান, বুযুর্গী, ইযযত, ঐতিহ্য, মাক্বাম উপলব্ধি করতে পারিনি। আর উনার মান, শান, বুযুর্গী ও মাক্বাম এতো উচ্চতায় এবং এতো অতল গভীর ছিলো যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বুঝা সম্ভব হবে কী করে? প্রেক্ষিত কারণে দীর্ঘ অনেকগুলো বছর একাদিক্রমে মুবারক খিদমতে নিয়োজিত থেকেও খাদিম মুহম্মদ আব্দুর রশীদ যে ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরতুল আল্লামা দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে আদৌ চিনতে পারবেন না এবং উনার কারামত, বুযুর্গী ও মাক্বাম সম্পর্কে অনবহিত থাকবেন, এটিই অতি স্বাভাবিক। অনবহিতির কারণে নিখোঁজ ছেলেকে ফেরত পাবার জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ক্বদম মুবারকে তিনি যে কোন আরজি পেশ করবেন না, এটিও সঙ্গত ও স্বাভাবিক।

মুহম্মদ আব্দুর রশীদ প্রতিক্ষণ বিমর্ষ। কাজকর্মে, দায়িত্ব পালনে, খিদমতে ইচ্ছে সত্ত্বেও অনীহ, উদাসীন, আনমনা। খাওয়া-দাওয়ায় নিষ্পৃহ। জীবনের প্রাত্যহিকতায় একান্তই অনিয়ম। ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি একদিন জানতে চান: “তোমার কী হয়েছে আব্দুর রশীদ? তুমি এতো বিমর্ষ কেন? আমাকে বলো।” স্বল্পভাষী মুহম্মদ আব্দুর রশীদ অবনত দৃষ্টিতে শুধু দাঁড়িয়ে থাকেন। কোন কথা বলেন না, বলতে পারেন না। কেবল চোখ দিয়ে টপ টপ পানি পড়তে থাকে। সাইয়্যিদুনা দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আবার প্রশ্ন করেন: “কী হয়েছে তোমার? আমাকে খুলে বলো।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুহম্মদ আব্দুর রশীদ তিনি বলেন: “হুযূর বেয়াদবী ক্ষমা চাই। আমার এক ছেলেকে সউদী আরব পাঠিয়েছিলাম। দালালরা টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ কারণে সেখান থেকে সে ফেরত এসেছে। ফেরত এসে হারিয়ে গেছে। নিখোঁজ হয়েছে। অনেকদিন হয় তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খোঁজ করেছি। কিন্তু ছেলেকে পাইনি হুযূর! দয়া করে আমার ছেলেকে আমার কাছে ফেরত এনে দিন হুযূর।” (চলবে)

 (চলবে)

আবা-২১৭