ইমামু আহলি বাইত আলাইহিমুস সালাম

 

ইমামু আহলি বাইত আলাইহিমুস সালাম

 উনাদের প্রতি সালাম অনন্ত অসীম

পাঠ করছেন স্বয়ং রব্বুল আলামীন,

স্বয়ং রসূল পাক কহিছেন ঘোষণা

আহলে বাইত উনাদের খিদমতে হও ফানা।

‘ তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না’

খোদ ইলাহী তায়ালা উনার কালাম,

আহলে বাইত উনাদের খিদমত-মুহব্বতই

আল্লাহ পাক ও নবীজি উনাদের মুহব্বত তামাম।


তাই সবে পড়ি সকাল সাঁঝে মুবারক নাম

আহলে বাইত উনাদের বারোজন ইমাম;

উনাদের উসীলায় যেন পাই রেযা

হতে চাই মক্ববুল মাহবুব গোলাম।


আসাদুল্লাহ, বাবুল ইলম, সাইয়্যিদুনা খলীফাতুল মুসলিমীন

হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম

তিনি প্রথম ইমামে আহলে বাইত, আমিরুল মু’মিনীন।

দ্বিতীয় ইমাম, উলা ইমামুল হুমাম,

হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ তিনি

পঞ্চম খলীফায়ে ইসলাম।


তৃতীয় ইমাম, ছানী ইমামুল হুমাম,

হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম

জান্নাতের সাইয়্যিদ তিনি কারবালায় শহীদ

সুউঁচ্চে রাখেন ইসলাম।

চতুর্থ ইমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম

যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম

আবিদগণের সৌন্দর্য ইমাম আলী ইবনু

হুসাইন সাজ্জাদ উনার মুবারক নাম।


পঞ্চম ইমাম, শাকির, হাদী, হযরত ইমাম

মুহম্মদ বাকির আলাইহিস সালাম

শরীয়ত, তরীক্বত, ইলমের খনি উনাদের

ক্বদমে জানাই সালাম।

ষষ্ঠ ইমাম, ইমামুস সাদিস হযরত ইমাম

জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম

আবু আব্দিল্লাহ আ’লামুন নাস, কায়িনাতে বিলালেন ইলম তামাম।

সপ্তম ইমাম, ইমামুস সাবি’,

হযরত ইমাম মুসা কাজিম আলাইহিস সালাম

সামি, সাব্বির, ছলিহ, আমীন, আবুল হাসান, আবু ইবরাহীম উপনাম।

অষ্টম ইমাম, ইমামুছ ছামিন, হযরত ইমাম আলি রিযা আলাইহিস সালাম

যিনি ছিলেন আতক্বান নাস, সাইয়্যিদুনা বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম।


নবম ইমাম, ইমামুত তাসি’ হযরত ইমাম মুহম্মদ তকী আলাইহিস সালাম

ইমাম আল জাওয়াদ তিনি সব থেকে অল্প বয়সে ত্যাগ করেন ইহধাম।

দশম ইমাম, ইমামুল আশির হযরত ইমাম আলী নক্বী আলাইহিস সালাম

যিনি ছিলেন আবুল হাসান, ইমামুল হাদি, সবাই ছিল উনার গোলাম।


একাদশ ইমামে আহলে বাইত হযরত ইমাম মুহম্মদ হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম

কখনো গ্রহণ করেননি দুনিয়া যদিও হাতের মুঠোয় সব নাজ-নিয়াম।

এই এগারো জন সকলেই করেছেন পর্দা হয়েছেন সবাই শহীদ

বাতিলের সাথে কখনো করেননি আপোস উনারা আহলে নবী সাইয়্যিদ।


হায়! ইতিহাস কেঁদে ফিরে আজ কেমনে হলেন শহীদ

যাঁহাদের তরে সৃষ্টি জগৎ উনারা কায়িনাতের সাইয়্যিদ।

রাজা-বাদশাহ আমীর উমরা ক্ষমতাসীনের প্রলোভন

কখনো করেননি গ্রহণ তাই বেদ্বীন মুনাফিক হয়েছে দুশমন।


দ্বাদশ ইমাম ইমামুল হাদী ওয়াল মাহদী হযরত ইমাম মুহম্মদ খলীফাতুল্লাহ আলাইহিস সালাম

যামানার শেষে বিলাদত শরীফ লাভ করে ইনছাফ করিবেন কায়িম।

হাল যামানার শ্রেষ্ঠ হাদী মোদের মামদূহ মুজাদ্দিদ আ’যম

যিনি সাইয়্যিদুল আসইয়াদ আহলে বাইত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম।


উম্মুল উমাম আম্মাজী ক্বিবলা; সাথে মুবারক আহালী ছামান

উনাদের তরে হই সবে ফানা করি মাল-জান কুরবান।

উনাদের রেযাতেই রেযায়ে নবী, রেযায়ে রব্বুল আলামীন

কামিয়াব হবে জিন-ইনছান যদি উনাদের তরে হয় বিলীন।

 শানে ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম

শানে ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম

জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ

 আহলে বাইত- জিন্দাবাদ

আওলাদে রসূল- জিন্দাবাদ

আলে রসূল- জিন্দাবাদ

মক্ববুল ইমাম- জিন্দাবাদ

ছিদ্দীক্ব, ছাদিক্ব- জিন্দাবাদ।


বেমেছাল শানে শানদার ইমামুস সাদিস

খোদার রাহে জীবন চালনায় হলেন নির্ভিক।

১২ ইমাম উনাদের অন্যতম স্মৃতির সোনালি খাতায়

হলেন তিনি আহলে বাইত রসূলী আওলাদ।


জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ

 আহলে বাইত- জিন্দাবাদ

আওলাদে রসূল- জিন্দাবাদ

আলে রসূল- জিন্দাবাদ

মক্ববুল ইমাম- জিন্দাবাদ

ছিদ্দীক্ব, ছাদিক্ব- জিন্দাবাদ।


ইলিম আমল ইখলাছে হলেন তিনি বেমেছাল

অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন এ ধরায় চিরকাল।

ছদিক্ব লক্ববে তিনি ভূষিত হন জাহানে

আউলিয়াদের গগনে হলেন জ্যোৎস্নার চাঁদ।


জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ

 আহলে বাইত- জিন্দাবাদ

আওলাদে রসূল- জিন্দাবাদ

আলে রসূল- জিন্দাবাদ

মক্ববুল ইমাম- জিন্দাবাদ

ছিদ্দীক্ব, ছাদিক্ব- জিন্দাবাদ।


ওলীয়ে কামিল হন, হন ইমাম উনাদের ইমাম

নূরে হলো মুখরিত এই ধরার তামাম।

যাহির আর বাতিনে হন সবার সেরা

সুনাম খ্যাতিতে তিনি হলেন আসাদ।



জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ

 আহলে বাইত- জিন্দাবাদ

আওলাদে রসূল- জিন্দাবাদ

আলে রসূল- জিন্দাবাদ

মক্ববুল ইমাম- জিন্দাবাদ

ছিদ্দীক্ব, ছাদিক্ব- জিন্দাবাদ।


ইমামে আ’যম উনার হন যে মুর্শিদ

সুলত্বানুল আরিফীনও হন না তা থেকে বায়ীদ।

ইমাম মালিক হলেন উনার একান্ত শিষ্য

সমকালীন আলিমদের হন হৃদী ফুয়াদ।


জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ

 আহলে বাইত- জিন্দাবাদ

আওলাদে রসূল- জিন্দাবাদ

আলে রসূল- জিন্দাবাদ

মক্ববুল ইমাম- জিন্দাবাদ

ছিদ্দীক্ব, ছাদিক্ব- জিন্দাবাদ।


উনার মুহব্বত হলো রসূল উনার মুহব্বত 

উনার বিরোধিতায় ফাটল রসূল উনার নিসবত।

আলে রসূল হলেন জাহানের সেরা নিয়ামত

ক্বদর না করিলে হবে ঈমান আমল বরবাদ।


জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ

 আহলে বাইত- জিন্দাবাদ

আওলাদে রসূল- জিন্দাবাদ

আলে রসূল- জিন্দাবাদ

মক্ববুল ইমাম- জিন্দাবাদ

ছিদ্দীক্ব, ছাদিক্ব- জিন্দাবাদ।

 বিখ্যাত মুহাদ্দিছ, অতি সম্মানিত মুহাক্কিক, হযরতুল আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কিতাবে এক আজীম দুয়া করে লিখেন.


 বিখ্যাত মুহাদ্দিছ, অতি সম্মানিত মুহাক্কিক, হযরতুল আল্লামা শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কিতাবে এক আজীম দুয়া করে লিখেন...


আয় আল্লাহ পাক!
আমার এমন কোন আমল নেই,
যা আমি আপনার মুবারক দরবারে পেশ করার উপযুক্ত মনে করি।
আমার সব আমলেই নিয়তের ত্রুটি রয়ে গেছে।
তবে... তবে একটিমাত্র আমল আছে,
যেটা আমি আপনার পবিত্র জাতের দয়ায়
অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাবান মনে করি।
আর সেটি হলো
আমি পবিত্র মীলাদ শরীফের মজলিসে,
ক্বিয়ামের সময় দাঁড়িয়ে,
মুহব্বতে পূর্ণ হৃদয়ে, ইখলাছ সহকারে,
আপনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবারে
ছলাত ও সালাম পেশ করি!
হে আল্লাহ পাক!
এই পৃথিবীতে কি এমন কোনো স্থান আছে
যেখানে মীলাদ মুবারক-এর চেয়ে
বেশি খায়ের বরকত নাযিল হয়?
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস এই যে
এই আমল কখনোই বৃথা যেতে পারে না!
না! বরং নিশ্চয়ই,
আপনার পবিত্র দরবারে কবুল হবেই।
আর যে কেউ ছলাত-সালাম পেশ করবে,
এবং উহাকে ওসীলা বানিয়ে দুয়া করবে,
সে কখনোই মাহরূম হতে পারে না!
সে অবশ্যই কবুলযোগ্য।

সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
 কাঁদায় শুধু অন্তরে


 কাঁদায় শুধু অন্তরে

অন্তরে অন্তরে 

কাঁদায় শুধু অন্তরে


ইমামুছ ছালিছ শহীদ হলেন

ঐ কারবালার প্রান্তরে

এই হৃদয় বিদারক ইতিহাস

কাঁদায় শুধু অন্তরে


দেখ বে’ঈমান কুফাবাসী

করলো সব সর্বনাশী

ইমামজীকে আহবান করে

রইলো না ইমামজীর দ্বারে।


নবীজীর নছব করতে উজাড়

চায় ইয়াজিদ সৈন্য বারবার

ইয়াজিদের হুকুমে তারা

আহলে নবীদের শহীদ করে।


পানি পান করতে দেয় বাধা

ওদের কতো স্পর্ধা

চিনলো ওরা সাইয়্যিদজাদা

শিশু আছগর কাঁদেন অঝোরে।


আহলে নবী পানি পিপাসায়

কাতরান আহা কারবালায়

কে পানি দিবে কাফেলায়

কাফেররা রেখেছে ঘিরে।


বিরহ বেদনা সহ্য করে

রইলেন ফোরাতের তীরে

নানাজানের ইসলামী ঝা-া

রাখলেন উচুঁতে ধরে।


তরবারি হাতে ঘোড়ায় চড়ে

যুদ্ধে যান শির উচু করে

খতম করতে কাফিরদেরে

ইমামজী রসূলী নূরে।


ইমামজীকে কাফেররা ঘিরে

বৃষ্টির মত তীর মারে

কারবালা রক্তে রঞ্জিত

আহলে বাইত বন্দী শিবিরে।


আহলে নবী জান্নাতী ফুল

শহীদ হতে হন ব্যাকুল

ইলাহী করলেন কবুল

গেলেন দুনিয়া ছেড়ে।


-মুহম্মদ নূরুজ্জামান।

বেমেছাল স্মৃতিময় শানে কারবালা

বেমেছাল স্মৃতিময় শানে কারবালা

মু’মিনী দিল রয় বিলকুল উজালা

বেমেছাল স্মৃতিময় শানে কারবালা।


ত্যাগী মহিমায় উঠে ফুটে হাক্বীক্বত

খোদায়ী খায়ের হেথা হুরমত

ইনফাক্ব ফি ছাবীলিল্লাহ কেবল

আউওয়াল আখিরে শানে কারবালা।


মাল ছামান ফের জান ও কুরবান

উজার রহে হরদম সম্মান

লিল্লাহিয়াতেই চাহে ইহা কেবল

নূরী রুহু কামিয়াব শানে কারবালা।


ইমামুছ ছালিছ কামালে কামাল

যুগ যুগান্তরে তিনিই উজাল

যবিহুল্লাহ হয়ে রন তিনি কেবল

চমকেন হরদম শানে কারবালা।


ইমামী আহাল ছোহবতে উজার

ইলাহী ইশকে সবেই বেক্বারার

মাক্ববুলুল্লাহ উনারা কেবল

কায়িনাত জুড়ে শানে কারবালা।


হাবীবী লখতে জিগারী দেহেতে

চুমুতে ভরেন সোহাগী মুহব্বতে

মরু লালে লাল রহে যে কেবল

বিজয়ী বেশে শানে কারবালা।


ইমামুছ ছালিছী ক্বায়িম-মাক্বাম

মুজাদ্দিদ আ’যম মামদূহ আকরাম

জুলফিকারী হস্তে খলীফাতুল উমাম

তাগুত পরাস্ত শানে কারবালা।


-বিশ্বকবী মুহম্মদ মুফাজ্জলুর রহমান।



 মুসলিমদের জাগাতে এলেন শহীদে কারবালা বারেবার


 
মুসলিমদের জাগাতে এলেন শহীদে কারবালা বারেবার


মুসলিমদের জাগাতে এলেন, শহীদে কারবালা বারেবার

দশই মুহররম জানায় মোদের 

সত্য পথেই রহিবার ॥


ভয়-ভীতি সব দূর করে, হুসাইনী জজবা বুকে ধরে

কাফির ইয়াজিদদের ধ্বংস করতে

আজীবন যে লড়িবার।ঐ


আহলে বাইতি খুনের বদলা, বলছেন এসে কারবালা

আহলে কারবালা মু’মিনের ঈমান

অবশ্যই করবো উদ্ধার।ঐ


দেখি ইয়াজিদের উত্তরসুরি, ওলামায় ছ’ু রা রাখছে ঘিরি

ইহুদী নাছারা তাদেরে দিয়ে

চাহে মুসলিমদের মারিবার।ঐ


ইমামুছ ছালিছী আওলাদ পেয়েছি, উনার ফায়েজে জজবা নিচ্ছি

তিনি মুজাদ্দিদ মাহদী

মুসলিম এসো লভিবার।ঐ


আহলে বাইতি ছোহবতে, আমরা আছি ঐক্যতে

ভাটা নেই মোদের হিম্মতে

মিটাই জালিমের অত্যাচার।ঐ


সাবধান সাবধান ইয়াজিদী পোষ্যরা, সাইয়্যিদী বীর রহেন খাড়া

কারবালার মুজাহিদ মোরা

ধারিনা তুগুতের ধার।ঐ


জামানার ইমাম মুজাদ্দিদ আ’যম পেয়ে উনারই করম

রাজারবাগ এসে লইছি জনম

কুখ্যাত ইয়াজিদরে মারিবার।ঐ


-বিশ্বকবি মুহম্মদ মুফাজ্জলুর রহমান