পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীনদার বাদশাহ পালনের ব্যবস্থা করেন উনাকে যারা মূর্খ ও যিন্দীক অভিহিত করে ফতওয়া মুতাবিক তারাই উলামায়ে ছূ’ ১২৩
পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীনদার বাদশাহ পালনের ব্যবস্থা করেন উনাকে যারা মূর্খ ও যিন্দীক অভিহিত করে ফতওয়া মুতাবিক তারাই উলামায়ে ছূ’
=================================================
পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীনদার, পরহেযগার ন্যায়পরায়ণ ও আশিকে রসূল বাদশাহ তরতীব মুতাবিক পালনের ব্যবস্থা করেন উনাকে মূর্খ ও যিন্দীক অভিহিত করে শরীয়তের ফতওয়া মুতাবিক উলামায়ে ছূ’রা নিজেরাই মূর্খ ও যিন্দীক হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
কারণ, কেউ যদি কাউকে কোন অপবাদ দেয়, সে যদি তার উপযুক্ত না হয় তাহলে যে অপবাদ দিয়েছে সেটা তার উপরই বর্তাবে এবং উক্ত অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েই সে মৃত্যুমুখে পতিত হবে। নাঊযুবিল্লাহ! যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
عن ابى الدرداء رضى الله تعالى عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان العبد اذا لعن شيأ صعدت اللعنة الى السماء فتغلق ابواب السماء دونها ثم تهبط الى الارض فتغلق ابوابها دونها ثم تأخذ يمينا وشمالا فاذا لم تجد مساغا رجعت الى الذى لعن فاذا كان لذالك اهلا والا رجعت الى قائلها
অর্থ: “হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, যখন কোন বান্দা কোন বস্তুকে অভিসম্পাত করে তখন সেই অভিসম্পাত আকাশে উঠে, তখন আকাশের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়, তখন সেই অভিসম্পাত যমীনের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তখন যমীনের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। অতঃপর তা ডান দিকে ও বাম দিকে যায় এবং যখন সেখানেও কোন রাস্তা না পায়, শেষ পর্যন্ত সেই ব্যক্তি বা বস্তুর দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যার উপর অভিসম্পাত করা হয়েছে। যদি সে অভিসম্পাতের উপযুক্ত হয়, তবে তার উপর পতিত হয়; অন্যথায় অভিসম্পাতকারীর দিকেই ফিরে আসে।।” (আবূ দাউদ শরীফ)
পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীনদার, পরহেযগার ন্যায়পরায়ণ ও আশিকে রসূল বাদশাহ তরতীব মুতাবিক পালনের ব্যবস্থা করেন ১২২
পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীনদার, পরহেযগার ন্যায়পরায়ণ ও আশিকে রসূল বাদশাহ তরতীব মুতাবিক পালনের ব্যবস্থা করেন
=================================================
পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীনদার, পরহেযগার ন্যায়পরায়ণ ও আশিকে রসূল বাদশাহ তরতীব মুতাবিক পালনের ব্যবস্থা করেন
=================================================

পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ বিরোধী বিদয়াতীরা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিদয়াত প্রমাণ করতে গিয়ে আরেকটি মিথ্যা তথ্য সংযুক্ত করে থাকে। তারা বলে, “সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার এরূপ তরতীব প্রচলন করেন ছয়শত হিজরীতে একজন ফাসিক বাদশাহ।” নাঊযুবিল্লাহ!
মূলত, তাদের উক্ত বক্তব্য মোটেও সত্য নয়; বরং সম্পূর্ণই মিথ্যা ও জিহালতপূর্ণ। কারণ নির্ভরযোগ্য সীরাত গ্রন্থসমূহ ও সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য সমস্ত কিতাবেই উক্ত বাদশাহকে নেক্কার, পরহেযগার, ছালেহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেমন এ প্রসঙ্গে হাফিযে হাদীছ হযরত ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্বীয় বিশ্বখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ “সিয়ারু আলাম আন নুবালা”-উনার ২২তম জিঃ ৩৩৬ পৃষ্ঠায় লিখেন,
ﻛﺎﻥ ﻣﺘﻮﺍﺿﻌﺎ ﺧﻴﺮﺍ ﺳﻨﻴﺎ ﻳﺤﺐ ﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ ﻭﺍﻟﻤﺤﺪﺛﻴﻦ
অর্থ: “বাদশাহ হযরত মালিক মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও উত্তম স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আক্বীদায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি ফক্বীহ ও মুহাদ্দিছগণকে অত্যন্ত ভাল বাসতেন।”
এ মহান বাদশাহর প্রশংসায় উনার সমকালীন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আল্লামা ক্বাযী ইবনে হযরত খাল্লিক্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেন
ﻭﻛﺮﻡ ﺍﻻﺧﻼﻕ ﻛﺜﻴﺮ ﺍﻟﺘﻮﺍﺿﻊ ﺣﺴﻦ ﺍﻟﻌﻘﻴﺪﺓ ﺳﺎﻟﻢ ﺍﻟﻄﺎﻗﺔ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻤﻴﻞ ﺍﻟﻲ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻻ ﻳﻨﻔﻖ ﻋﻨﺪ ﻣﻦ ﺍﺭﺑﺎﺏ ﺍﻟﻌﻠﻮﻡ ﺳﻮﻱ ﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ ﻭﺍﻟﻤﺤﺪﺛﻴﻦ ﻭﻣﻦ ﻋﺪﺍﻫﻤﺎ ﻻ ﻳﻌﻄﻴﻪ ﺷﻴﺎ ﺍﻻ ﺗﻜﻠﻔﺎ
অর্থ: “বাদশাহ হযরত মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রশংসনীয় বা উত্তম চরিত্রের অধিকারী, অত্যধিক বিনয়ী ছিলেন। উনার আক্বীদা ও বিশ্বাস ছিল সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন।” (“ওয়াফইয়াতুল আ’ইয়ান” গ্রন্থের ৪র্থ জিঃ ১১৯ পৃষ্ঠা)
মহান বাদশা বিশুদ্ধ আক্বীদা এবং উত্তম আমলের অধিকারী ছিলেন বলেই সে জামানার সকল আলিম উলামা, মাশায়েখ, সূফী দরবেশ সবাই সে সময় উনার আয়োজিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার মধ্যে উপস্থিত হতেন। এ প্রসঙ্গে আল্লামা ক্বাযী ইবনে খল্লিক্বান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
ﻭﺍﻣﺎ ﺍﺣﺘﻔﺎﻝ ﺑﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺎﻥ ﺍﻟﻮﺻﻒ ﻳﻘﺼﺮ ﻋﻦ ﺍﻻﺣﺎﻃﺔ ﺑﻬﺎ ﻭﻟﻜﻦ ﻧﺬﻛﺮ ﻃﺮﻗﺎ ﻣﻨﻪ ﻭﻫﻮ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺒﻼﺩ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻗﺪ ﺳﻤﻌﻮﺍ ﺑﺤﺴﻦ ﺍﻋﺘﻘﺎﺩ ﻓﻴﻪ ﻓﻜﺎﻥ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺳﻨﺔ ﻳﺼﻞ ﺍﻟﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﻼﺩ ﺍﻟﻌﺮﺑﻴﺔ ﻣﻦ ﺍﺭﺑﻞ ﻣﺜﻞ ﺑﻐﺪﺍﺩ ﻭﺍﻟﻤﻮﺻﻞ ﻭﺍﻟﺠﺰﻳﺮﺓ ﻭ ﺳﻨﺠﺎﺭ ﻭﻧﺼﺒﻴﻦ ﻭﺑﻼﺩﺍ ﺍﻟﻌﺠﻢ ﻭﺗﻠﻚ ﺍﻟﻨﻮﺍﺣﻲ ﺣﻠﻖ ﻛﺜﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ ﻭﺍﻟﺼﻮﻓﻴﺔ ﻭﺍﻟﻮﻋﺎﺀﻅ ﻭﺍﻟﻘﺮﺍﺀ ﻭﺍﻟﺸﻌﺮﺍﺀ
অর্থ: বাদশা হযরত মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি কতৃক আয়োজিত মীলাদ মাহফিলের গুরুত্ব-মাহাত্ব বলে শেষ করার মত নয়। এতদসত্বেও একটি কথা না বললেই নয়। তাহলো দেশবাসী আক্বীদা ও বিশ্বাসে উনাকে উত্তম লোক বলেই জানতেন। আর তাই প্রতি বছর আরবলের নিকটবর্তী সকল দেশে যেমন-বাগদাদ, মাওয়াছিল, জাযীরাহ, সানজার, নাছীবাইন, আরব-অনারব ও আশ পাশের অসংখ্য আলীম উলামা, ফক্বীহ, ছালিহ, ওয়ায়িজ, ক্বারী ও শায়িরগন উক্ত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাহফিলে উপস্থিত হতেন।”
[সূত্রঃ- ওয়াফইয়াতুল আ’ইয়ান, ৪র্থ খন্ড, ১১৭ পৃষ্ঠা]
বিখ্যাত তাফসীরকারক ও ইতিহাসবেত্তা আল্লামা হযরত ইমাদুদ্দীন ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত গ্রন্থ “আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া”-উনার ১৩তম জিঃ ১৭৪ পৃষ্ঠায় লিখেন-
أحد الاجواد والسادات الكبراء والملوك الامجاد له آثار حسنة وقد عمر الجامع المظفري بسفح قاسيون وكان قدهم بسياقه الماء إليه من ماء بذيرة فمنعه المعظم من ذلك واعتل بأنه قد يمر على مقابر المسلمين بالسفوح وكان يعمل المولد الشريف في ربيع الاول ويحتفل به احتفالا هائلا وكان مع ذلك شهما شجاعا فاتكا بطلا عاقلا عالما عادلا رحمه الله وأكرم مثواه وقد صنف الشيخ أبو الخطاب ابن دحية له مجلدا في المولد النبوي سماه التنوير في مولد البشير النذير فأجازه على ذلك بألف دينار وقد طالت مدته في الملك في زمان الدولة الصلاحية وقد كان محاصر عكا وإلى هذه السنة محمودالسيرة والسريرة قال السبط حكى بعض من حضر سماط المظفر في بعض الموالد كان يمد في ذلك السماط خمسة آلاف راس مشوى وعشرة آلاف دجاجة ومائة ألف زبدية وثلاثين ألف صحن حلوى
র্অথঃ “(মুযাফফর শাহ) ছলিনে একজন উদার/সহৃদয় ও প্রতাপশালী এবং মহমিান্বতি শাসক, যাঁর সকল কাজ ছলি অতি উত্তম। তিনি কাসইিউন-উনার কাছে জামযে়া আল-মুযাফফরী নর্মিাণ করনেৃ..(প্রত) রবীউল আউয়াল মাসে তিনি জাঁকজমকরে সাথে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ (মীলাদুন্নবী) উদযাপন করতনে। উপরন্তু, তিনি ছলিনে দয়ালু, সাহসী, জ্ঞানী, বদ্বিান ও ন্যায়পরায়ণ শাসক – রাহমিুহুল্লাহ ওয়া একরাম – শায়খ আবুল খাত্তাব রহমতুল্লাহি আলাইহি সুলতানরে জন্যে মওলদিুন্ নববী সর্ম্পকে একখানি বই লখিনে এবং নাম দনে ‘আত্ তানভরি ফী মওলদি আল-বাশরি আন্ নাযীর’। এ কাজরে পুরস্কারস্বরূপ সুলতান তাঁকে ১০০০ দিনার দান করনে। সালাহিয়া আমল র্পযন্ত তাঁর শাসন স্থায়ী হয় এবং তিনি ’আকা’ জয় করনে। তিনি সবার শ্রদ্ধার পাত্র থেকে যান।” আস সাবত এক ব্যক্তির কথা উদ্ধৃত করেন-যিনি সুলতানের আয়োাজত মওলুদ অনুষ্ঠানে যোগ দেন; ওই ব্যক্তি বলেন:
‘অনুষ্ঠানে সুলতান ভালভাবে রান্নাকৃত ৫০০০ ছাগল, ১০,০০০ মোরগ, ১ লক্ষ বৌল-র্ভতি দুধ এবং ৩০,০০০ ট্রে মষ্টিরি আয়োজন করতেন।”
এ মহান বাদশাহ বিশুদ্ধ আক্বীদা ও উত্তম আমলের অধিকারী ছিলেন এবং তিনি যে তরতীবে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ-উনার মাহফিল উদযাপন করতেন তা শরীয়তসম্মত ছিল বলেই সে যামানার প্রায় সকল আলিম-উলামা পীর-মাশায়িখ, ছূফী-দরবেশ, ক্বারী, ওয়ায়িজ উক্ত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ-উনার মাহফিলে উপস্থিত হতেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি আরো উল্লেখ করেন,
ﺍﻟﻤﻠﻚ ﺍﻟﻤﻈﻔﺮ ﺍﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ ﻛﻮﻛﺒﺮﻱ ﺍﺣﺪ
ﻟﻼﺟﻮﺍﺩ ﺍﻟﺴﺎﺩﺍﺕ ﺍﻟﻜﺒﺮﺍﺀ ﻭﺍﻟﻤﻠﻮﻙ
ﺍﻻﻣﺠﺎﺩﻟﺔ ﺍﺛﺮ ﺣﺴﻨﺔ
অর্থ: বাদশা হযরত মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন আবু সাঈদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি দানশীল ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন। সাথে সাথে তিনি সম্মানিত বাদশাও ছিলেন। উনার বহু পূন্যময় কাজের আলামত এখনও বিদ্যমান রয়েছে।” [ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৩ তম, খন্ড ১৩৬ পৃষ্ঠা]
আল্লামা হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উক্ত বাদশাহ সম্বন্ধে উনার‘হুসনুল মাক্বাছীদ ফী আমালিল মাওয়ালিদ’ কিতাবে সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ও মুহাদ্দিছ আল্লামা হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেন যে-
وكان شهما شجاعا بطلا عالما عادلا رحمه الله واكرم مثواه.
অর্থ: ‘তিনি তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, সাহসী, বীর্যবান, আলিম ও ন্যায় বিচারক ছিলেন। আল্লাহ পাক উনার উপর রহম করুন এবং উনাকে সম্মানিত বাসস্থান দান করুন।’ 
৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে হিন্দুয়ানী পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নয়, বরং ‘১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উপলক্ষে বোনাস’ দিতে হবে। ১২১
৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে হিন্দুয়ানী পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নয়, বরং ‘১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উপলক্ষে বোনাস’ দিতে হবে।
=================================================
৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে হিন্দুয়ানী পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নয়, বরং ‘১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উপলক্ষে বোনাস’ দিতে হবে। পহেলা বৈশাখ উৎসব উপলক্ষে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বোনাস পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে- সারা বছরে এত উৎসব থাকার পরেও পহেলা বৈশাখে কেন এই বোনাস দেয়া হচ্ছে? বলা হচ্ছে, পহেলা বৈশাখ সার্বজনীন উৎসব। নাউযুবিল্লাহ! তাই সবার মাঝেই এই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতেই এই বোনাস দেয়া হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! বাদশাহ আকবর যেমন করে তার রাজত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য পৃথক একটি ধর্ম চালু করেছিল। সেই ধর্মের নাম দিয়েছিল দ্বীন-ই-এলাহী। দেখা যাচ্ছে, বর্তমান সরকারও ক্ষমতায় থাকার জন্য কথিত সার্বজনীন উৎসবের নাম করে পহেলা বৈশাখে বোনাস দিচ্ছে। অথচ পহেলা বৈশাখে মুসলমানগণ উনাদের কোনো উৎসব নেই; বরং হিন্দু ও উপজাতিদের ১৪ রকম পূজা রয়েছে।
তাহলে এখানে পরিষ্কার করে দেখা যাচ্ছে যে, পহেলা বৈশাখে মুশরিকদের অনেক পূজা থাকলেও মুসলমানগণ উনাদের কোনো উৎসবই নেই। তাহলে কি করে এখানে মুসলমানদেরকে জড়ানো যেতে পারে? মূলত, কাফির-মুশরিকরা মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিয়ে ঈমানহারা করার জন্যই মুসলমানদেরকে কাফির-মুশরিকদের বিভিন্ন উৎসবে যেতে উৎসাহিত করে। নাউযুবিল্লাহ! তাছাড়া মুসলমানগণ একটা ঘটনা ফিকির করলে সহজেই বুঝতে পারবে। ঘটনাটি হলো- এক এলাকায় এক বুজুর্গ ইন্তেকাল করলেন। কয়েকদিন পর তার এক বন্ধু স্বপ্নে উনাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কেমন আছেন? তিনি তখন বললেন, আমি এখন ভালো আছি, তবে আমি এর আগে কঠিন পেরেশানিতে ছিলাম। তিনি বললেন, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ উনারা যখন আমাকে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে নিয়ে গেলেন, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, তুমি তো পূজারী, তোমার জাহান্নামে যাওয়া উচিত। আমি তখন ভয়ে কাঁপতে লাগলাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, সেদিনের কথা কি তোমার মনে পড়ে না- যেদিন হিন্দুদের হোলিপূজা চলছিল আর তোমার পাশ দিয়ে একটি গাধা যাচ্ছিল, যার গায়ে কোনো রং ছিলো না। তুমি তখন পান খাচ্ছিলে। মুখ থেকে সেই পানের চিপটি গাধাকে লাগিয়ে বলেছিলে- তোমাকে তো কেউ রং লাগিয়ে দেয়নি, আমি লাগিয়ে দিলাম। এটা কি পূজা হয়নি? তখন আমি ভীষণ লজ্জিত হয়ে বললাম, হে বারে ইলাহী! আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি বিষয়টা ফিকির করিনি। কেউ আমাকে বিষয়টা ধরিয়েও দেয়নি। আমাকে ক্ষমা করে দিন। মহান আল্লাহ পাক অন্যান্য নেক আমলের জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তবে সেই ভুলের জন্য আমি এখনো খুবই লজ্জিত আছি।
তাহলে ফিকিরের বিষয়, হিন্দুদের পূজার সাথে মিল করার কারণে যদি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে যারা সরাসরি মুশরিকদের পূজায় অংশগ্রহণ করবে তাদের কি অবস্থা হবে? কঠিন আযাব-গযবে মহান আল্লাহ পাক তাদের গ্রেফতার করবেন। তাই ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে সবাই যেন বেশি বেশি করে খুশি প্রকাশ করে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন তথা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার সম্মানার্থে খুশি মুবারক পালন করতে পারে সেজন্য ‘১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উপলক্ষে বোনাস’ প্রদান করতে হবে- মুশরিকদের পহেলা বৈশাখে নয়!
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন! - শেখ মুজিব সাহেবের বাস্তবায়নকৃত ঈদে মিলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ভাতা বোনাস চালু করুন। ১২০
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন! - শেখ মুজিব সাহেবের বাস্তবায়নকৃত ঈদে মিলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ভাতা বোনাস চালু করুন।
=================================================
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে আপনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ সাহেব সর্বপ্রথম বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ঢাকায় ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে পবিত্র রবিউল আউওয়াল শরীফ মাসে স্বাধীন বাংলাদেশে সর্ব প্রথম বৃহত্তর আঙ্গিকে পবিত্র ‌ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাহফিল উদযাপনের কর্মসূচী গ্রহন করেন। সরকার প্রধান হিসেবে আপনার পিতা বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ চত্বরে মাহফিলের শুভ উদ্বোধন করেন । একজন সরকার প্রধান হিসেবে জাতীয়ভাবে পবিত্র ‌ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাহফিলের উদ্বোধন উপমহাদেশের ইতিহাসে প্রথম এবং বিরল দৃষ্টান্ত ।
পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের উদ্দেশ্যে আপনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সাহেব ই সর্বপ্রথম বাংলাদেশে ঈদে মিলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে সরকারী ছুটি ঘোষনা করেন। দিবসের পবিত্রতা রক্ষার জন্য তিনি সিনেমা হলে চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন ।
সুত্রঃ
১. সৈয়দ আবীর  “ইসলামী মুল্যবোধ ও বঙ্গবন্ধু” , জাগৃতি প্রকাশনী,পঞ্চবিংশ অধ্যায়-ইসলামের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদান,পৃষ্ঠা ২০৮
২.আবু তাহের মুহাম্মদ মানজুর “ইসলামী চেতনা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান” ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা(ঢাকা:ই.ফা.বা.)জানুয়ারী-মার্চ-২০০৯ পৃ-৪১,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী –
১৪৬৩ খ্রিষ্টাব্দে হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন চট্টগ্রামে স্থায়ী হন তখন উনার সঙ্গী ছিলেন আপনার পুর্বপুরুষ শেখ আউয়াল রহমতুল্লাহি আলাইহি। দরবেশ শেখ আউয়াল রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রিয় মুরিদ এবং বিশ্বাসীজন। সে হিসেবে আপনার পুর্বপুরুষেরা দ্বীনের তালিম তালকিন দিয়েছেন। বাংলার জমিনে ইসলামের আবাদ করেছেন। আপনি সেই ধার্মিক পুর্বপুরুষেরই বংশধর।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী –
ইসলামের প্রতি আপনার পিতার যে অনুভূতি আর দরদ কি রকম গভীর ছিল তা ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে তার প্রমাণ দিয়ে গেছেন। আপনার পিতা আপনাদের বাড়িতে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের অনুষ্ঠান করতেন। আপনিও আপনার পিতার আদর্শ অনুসরণ করে নির্বাচনী ওয়াদায় কুরআন – সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাশ হবেনা বলে ঘোষণা দিয়েছেন যা ৯৮ ভাগ মুসলমানের হৃদয়কে আন্দোলিত করেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী –
আপনি সেই পিতার সন্তান।যার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পথে তড়িৎ গতিতে এগুচ্ছে। যিনি পরপর দু’বার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে সবসময় বঙ্গবন্ধু শেখ সাহেবের স্বপ্ন পুরনের কথা বলেন। বাস্তবায়িত করার কথা বলেন। সেই আপনার পিতা-ই নুরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এতই মুহব্বত করতেন যে স্বয়ং ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বাংলার জমিনে সরকারীভাবে জাঁকজমকের সাথে পালন করেছেন।
আপনিও সে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী –
আপনার পিতার আদর্শই আপনার জীবনের পথচলার পাথেয়। আপনার পিতার আদর্শকে বাস্তবায়ন করা এবং বাস্তবায়নকৃত বিষয়কে আর বেগবান করা কন্যা হিসেবে আপনার দায়িত্ব এবং কর্তব্য।সে হিসেবে আপনার পিতার বাস্তবায়নকৃত পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ভাতা-বোনাস দিবেন যা ৯৮ ভাগ মুসলিম এই দেশে মুসলমানদের প্রানের দাবী।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী –
আপনি যদি সর্বোত্তম আমল পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ভাতা-বোনাস চালু করতে পারেন তাহলে আপনার পিতার রুহের মাগফেরাত কত অসীম হবে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। একজন মৃত ব্যক্তি জীবিত তার বংশধরদের কাছে তা-ই আশা করেন। শুধু তাই নয় আপনি যদি ভাতা বোনাস চালু করতে পারেন আপনি নিজেও বিশাল নিয়ামত লাভ করবেন এবং মহিলা ওলিদের মত আপনার অবদান ও যুগ যুগ ধরে স্বরন করা হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী –
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে কে কি বলেছে আপনি তা আমলে নেননি। নিজের ইচ্ছার উপর দৃঢ় থেকে , অন্যায়ের সাথে আপোষ না করে আপনি এই বাংলার জমিনকে কলংকমুক্ত করেছেন। ঠিক তেমনি পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ভাতা বোনাস চালু করতে কে কি বলেছে তার পাত্তা দেওয়া যাবেনা। কারন এ দিবস খোদ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী –
যদি আপনি তা-ই করতে পারেন তাহলেই কেবল আপনার পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়া এবং ইহকাল-পরকাল উভয়কালেই কামিয়াবি অর্জন করা সম্ভব।
মহান আল্লাহ পাক আপনাকে সেই ঈমানী কুওওয়ত দান করুন। আমীন।
হিন্দুরা মুসলমানদের উৎসবে বোনাস নেয় না, মুসলমানরা হিন্দুর উৎসবে বোনাস নেবে কেন ? ১১৯
হিন্দুরা মুসলমানদের উৎসবে বোনাস নেয় না, মুসলমানরা হিন্দুর উৎসবে বোনাস নেবে কেন ?
=================================================
হিন্দুরা মুসলমানদের উৎসবে বোনাস নেয় না, মুসলমানরা হিন্দুর উৎসবে বোনাস নেবে কেন ?
বাংলাদেশর মুসলমানরা ধর্মীয় উৎসবে বোনাস পায় দুটি। একটি রোজার ঈদে, অন্যটি কোরবানীর ঈদে। অপরদিকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানরা রোজার ঈদ বা কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে কোন বোনাস পায় না। পায় দূর্গা পূজা, বৌদ্ধ পূর্নিমা কিংবা ক্রিসমাস উপলক্ষে। তবে বোনাসের অর্থে সমতা আনার ক্ষেত্রে দূর্গা পূজা, বৌদ্ধ পূর্নিমা কিংবা ক্রিসমাসে মুসলমানদের ভাতা দ্বিগুন করে বোনাস প্রদান করা হয়।
এই বিষয়টি দ্বারা বোঝা যায়, অমুসলিমরা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য কোন বোনাস নেয় না, নেয় তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে উপলক্ষ করে।
বর্তমানে  পহেলা বৈশাখ উৎসব উপলক্ষে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বোনাস পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা । যদিও পহেলা বৈশাখ মুসলমানদের কোন অনুষ্ঠান নয়, হিন্দু-বৌদ্ধ-মজুসিদের ধর্মীয় উৎসব। তাই পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মুসলমানদের বোনাস না দিয়ে অন্য কোন ইসলামী উপলক্ষকে কেন্দ্র করে ভাতা দেয়া উচিত।
আর মুসলমানদের সেই বিশেষ দিবসটি হচ্ছে পবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এদিনটি ঈদ বা খুশির দিন যা রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা উচিত, অথচ সরকারের কোন পৃষ্ঠপোষকতা সেখানে চোখে পড়ে না। সরকারের উচিত পবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে বোনাস ভাতা প্রদান করে, মুসলমানদের আরো শান-শওকত ও জজবার সাথে দিবসটি পালনের সুযোগ করে দেয়া।
পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে বোনাস ও ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে। ১১৮
পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে বোনাস ও ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে।
=================================================
দুই ঈদের জন্য বোনাস ও ছুটি থাকলে, দুই ঈদের চেযেও শ্রেষ্ঠ তম ঈদে তথা  ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য বোনাস ও ছুটি নেই কেন?
পবিত্র জুমুয়ার দিন মুসলমানগন উনাদের জন্য ঈদের দিন। পবিত্র সহীহ হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنِ ابْنِ السَّبَّاقِ , أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جُمُعَةٍ مِنَ الْجُمَعِ قَالَ : ” يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ , إِنَّ هَذَا يَومٌ جَعَلَهُ اللَّهُ عِيدًا لِلْمُسْلِمِينَ
“হযরত ওবায়িদ বিন সাব্বাক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক জুমুয়ার দিনে বলেন, হে মুসলমান সম্প্রদায়! এটি এমন একটি দিন যাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈদ স্বরূপ নির্ধারণ করেছেন। (ইবনে মাজাহ : হাদীস নম্বর ১১৯৮, মুয়াত্তা মালিক- কিতাবুত ত্বহারাত: হাদীস নম্বর ১৪৪, বায়হাক্বী : হাদীস ১৩০৩, মা’য়ারিফুল সুনান ওয়াল আছার বায়হাক্বী: হাদীস ১৮০২, মুসনাদে শাফেয়ী: হাদীস ২৬৮, মুজামুল আওসাত তাবরানী ৩৪৩৩, মিশকাত শরীফ)
এ পবিত্র হাদীস শরীফ উনার থেকে আমরা জানতে পারলাম, জুমুয়ার দিনকে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈদের দিন হিসাবে ঘোষনা করেছেন।
কতবড় ঈদের দিন ও শ্রেষ্ঠ দিন জানেন কি ? দেখুন পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে কি বলা হয়েছে-
قال النبى صلى الله عليه وسلم ان يوم الـجمعة سيد الايام واعظمها عند الله وهو اعظم عند الله من يوم الاضحى ويوم الفطر
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, জুমুআর দিন সকল দিনের সর্দার এবং সকল দিন অপেক্ষা আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত। এটি ঈদুল আযহার দিন ও ঈদুল ফিতরের দিন অপেক্ষাও মহান আল্লাহ পাক-উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত। (ইবনে মাজাহ : হাদীস নম্বর ১১৩৭, মুজামুল কবীর তাবরানী ৪৫১১, শুয়াইবুল ঈমান বায়হাকী : হাদীস ২৯৭৩, মিশকাত শরীফ)
এই পবিত্র হাদীস শরীফ উনার থেকে আমরা জানতে পারলাম, জুমুয়ার দিন অন্য দিন সমূহের সর্দার, এমনকি পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহা থেকেও বেশি সম্মানিত।
এবার দেখূন কেন পবিত্র জুমুয়ার দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহার চাইতে বেশি শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত:
ان من افضل ايامكم يوم الـجمعة فيه خلق ادم وفيه قبض
অর্থ: ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পয়দা হয়েছেন এবং এ দিনেই তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেছেন।’ (নাসায়ী শরীফ- কিতাবুল জুমুয়া: হাদীস ১৩৮৫, মুসলিম শরীফ- কিতাবুল জুমুয়া: হাদীস ৮৫৫, তিরমিযী :হাদীস ৪৯১, মুসনাদে আহমদ : ৮৯৫৪, হাদীস নম্বর ৮৯ ইবনে মাজাহ : হাদীস ১৭০৫, সুনানে আবু দাউদ – কিতাবুস সালাত: হাদীস ১০৪৭, ইবনে খুযায়মা: হাদীস ১৬৩২)
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টি, দুনিয়ায় আগমন, বিছাল শরীফ এর জন্য পবিত্র জুমুয়ার দিন এত শ্রেষ্ঠ। এতটাই শ্রেষ্ঠ যে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহার চাইতেও বেশি শ্রেষ্ঠ।
শুধু তাই নয় নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ ও পবিত্র বিছাল শরীফ সবই ঈদের ও শান্তির দিন। যেমন, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে পবিত্র কুরআন শরীফ ‍উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وسلم عليه يوم ولد ويوم يـموت ويوم يبعث حيا .
অর্থ: ‘উনার প্রতি সালাম (শান্তি), যেদিন তিনি পবিত্র বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন এবং যেদিন তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ লাভ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন।’ (সূরা মারইয়াম শরীফ, আয়াত শরীফ: ১৫)
তাহলে সমস্ত নবীদের নবী, সমস্ত রসূলদের রসূল হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে মহনি আল্লাহ পাক তিনি কিছুই সৃষ্টি মুবারক করতেন না। এমনকি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার আগমন ও বিছাল শরীফের কারনে যে জুমুয়ার দিন ঈদের দিন, সেই আদম আলাইহিস সালাম উনিও সৃষ্টি হতেন না হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি সৃষ্টি না হলে। যেমন পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
قال الله تعالـى ولو لا مـحمد رسول الله صلى الله عليه وسلم ما خلقتك. هذا حديث صحيح الاسناد.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন , যদি আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম না হতেন, তাহলে আমি আপনাকেও (হযরত আদম আলাইহিস সালাম) সৃষ্টি করতাম না।” সুবহানাল্লাহ! এ পবিত্র হাদীছ শরীফ খানার সনদ ছহীহ তথা বিশুদ্ধ। (আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৪র্থ খ- ১৫৮৩ পৃষ্ঠা, আছ ছহীহাহ ১ম খ- ৮৮ পৃষ্ঠা, মুখতাছারুল মুস্তাদরাক ২য় খ- ১০৬৯ পৃষ্ঠা, আত তাওয়াসসুল ১১৫ পৃষ্ঠা, তাফসীরুদ দুররিল মানছূর লিস সুয়ূত্বী ১ম খ- ৫৮ পৃষ্ঠা, কানযুল উম্মাল ১১ খ- ৪৫৫ পৃষ্ঠা)
তাহলে এখন প্রশ্ন,
জুমুয়ার দিন ঈদের দিন হওয়ার কারনে যদি সরকারি ভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হয়..
ঈদুল ফিতর ঈদুল আযহা ঈদের দিন হওয়ার কারনে বাৎসরিক ছুটির দিন হয় ও সরকারী বোনাস দেয়া হয়…
তাহলে যে তারিখে, যে বারে হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন বা বিলাদত শরীফ, সে দিনে সরকারী ও বেসরকারী বোনাস কোথায়????
কেন শুধুমাত্র একদিন দায়সারা ছুটি ??
কেন পবিত্র রবিউল আউয়াল সারা মাস ব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না??