একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৫৯
ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দাওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশ্ফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে  ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদুর রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম-উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুজ্জামান-উনার দিদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-

হজ্ব সমাপন এবং মসজিদে নববীতে

বিশেষ নিয়ামত লাভ

চাওয়া-পাওয়া, আনন্দ-বিষাদ, স্বস্তি-শঙ্কা ও মিলন-বিরহের উদ্বেগে এক যন্তনাকাতর মানসিকতায় ওলীয়ে মাদারজাদ, আশিকে নবী, আওলাদুর রসূল, হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান  আলাইহিস সালাম পবিত্র মদীনা শরীফে উপস্থিত হলেন। আশৈশব মন ও মননে লালিত মধুরতম স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরম মুহূর্তে তিনি বাকরুদ্ধ। এটি এমন এক চাওয়া, যা’ না পেলে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে এবং যা’ প্রাপ্তির পূর্ণতায় আনন্দ-বেদনার মিশ্রধারায় চোখের পাতা ভিজে যায়। তাইতো ইহকাল ও পরকালের পবিত্র কেন্দ্রভূমি মদীনা শরীফের মুবারক মাটিতে কদম রেখে কেবলই উনার মন বলে, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দূর থেকে ছলাত-সালাম পাঠিয়ে তৃষ্ণা মিটেনি। আপনার সদয় আহবানে প্রাণ জুড়াবার পরম প্রত্যাশায় আমি আপনার পাক দরবারে হাজির হয়েছি। স্বশরীরে আপনার মুবারক সান্নিধ্যে এসে বাকরুদ্ধ আমি বেকারার হয়ে পড়েছি। এখন কিভাবে নিজেকে আপনার কাছে সমর্পন করবো দয়া করে বলে দিন।”           মেহেরবান আল্লাহ্ পাক উনার মাহবুব ওলীগণকে এমন কিছু খাছ নিয়ামত দান করেন, যা’ আয়াসসাধ্য নিপুন আয়োজনে আমৃত্যু আমল ও কোশেশ করেও লাভ করা যায়না। এই অতুলনীয় নিয়ামত আল্লাহ্ পাক-উনার সদয় বখ্শিশ। ছহিবু লাওলাক, শাফিউল মুজনেবিন, আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, মাশুকে মাওলা, তাজেদারে মদীনা, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার মূল নিয়ামত। এ নিয়ামত হাছিল হলে পাবার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকেনা। এই পরম নিয়ামত হাছিলকারী আল্লাহ্ পাককে স্মরণের পূর্বেই আল্লাহ্ পাক উনাকে স্মরণ করে থাকেন। তখন দুনিয়া ও আখিরাত একাকার হয়ে যায়। ছ‘হিবে নিয়ামত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মরূপে অনুসরণ ও অনুকরণ, পরিপূর্ণভাবে সুন্নতের ইতায়াত, উনার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপন, মুবারক দিদার ও নিগূঢ় সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমেই আলোচ্য নিয়ামত হাছিল হয়। আশিক উম্মত জানেইনা বর্তমান, পরবর্তী ও পরিণত ধাপে তার প্রাপ্তিযোগ ও কামিয়াবীর সোপান কোনটি। আল্লাহ্ পাক-উনার মাহবুব ওলী হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহিও এখন জানেননা কতো মধুর নিয়ামত উনার জন্য অপেক্ষা করছে! শুধু জানেন নিজেকে নিঃশেষে বিলীন করার প্রত্যাশিত পরম মুহূর্ত সমাগত।

খাজিনাতুর রহমত, রহমতে আলম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপনকারী এবং মুবারক দিদারলাভে ধন্য আশিকে রসূল, হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান  আলাইহিস সালামপাক রওজা মুবারকে হাজির হয়ে সালাম পেশ করলেন। স্বভাব-সম্পৃক্ত বিনয় ও অন্তরের সবটুকু মমতায় নিবেদন জানালেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! অনুগ্রহ করে আমাকে ধন্য করুন, আমাকে পরিপূর্ণ করুন।” পবিত্র মদীনা শরীফের মুবারক মাটিতে হাঁটতে উনার পা মুবারক কাঁপছেন, পা মুবারক জড়িয়ে যাচ্ছেন। কেবলই মনে হচ্ছে, সাইয়্যিদুল খলায়িক্ব, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা শরীফের এই পাক মাটিতে কদম মুবারক রেখে হেঁটেছেন। জগৎ-সংসার, ইহকাল-পরকাল, এমনকি মনের গভীরে সত্নে গুছিয়ে রাখা নিজের কোন কথাই এখন আর মনে নেই। আপন অস্তিত্ব প্রায় বিলোপের এমন নাজুক অবস্থায় মন ও মননের সবটুকু জুড়ে আছেন কেবল মাশুক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।    নামাযের সময় হয়েছে। মসজিদে নববীতে নামায শেষে ছহিবু কাবা কাওসাইন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাক্ষাৎ লাভ এবং উনাকে কদমবুছি করার পরম প্রত্যাশায় বসে আছেন উনার মাহবুব আওলাদ, ওলীয়ে মাদারজাদ, কুতুবুয্ যামান, ফখরুল আউলিয়া, আফযালুল ইবাদ, লিসানুল হক্ব, হযরতুল আল্লামা, শাহ্ ছূফী, সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম। ভাবনায় বিভোর আশিক আওলাদ এক পর্যায়ে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন। তন্দ্রাচ্ছন্ন নিবিড় পরিবেশের পরম মুহূর্তে আফযালুল ক্বায়িনাত, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার দিদার নছীব হলো। কিছুক্ষণের মধ্যে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার দু’জন প্রিয় সহচর সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি পরিচয় করিয়ে দিলেন, একজন আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং অপরজন ফারুকে আ’যম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।

আবা-১১৮


একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৫৮

 


ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দাওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশ্ফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদুর রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম-উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুজ্জামান-উনার দিদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-

হজ্ব সমাপন এবং মসজিদে নববীতে  বিশেষ নিয়ামত মুবারক লাভ

ইল্মে জাহির ও ইল্মে বাতিন, অর্থাৎ ইলমে ফিক্বাহ ও ইল্মে তাছাউফে অপরিমেয় ব্যুৎপত্তি হাছিলকারী, সূক্ষ্মদর্শী আত্মজ্ঞ ওলী আল্লাহ্, হক্ব প্রকাশে নিবেদিত প্রাণ, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলার্দু রসূল, হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি পরিপূর্ণরূপে সুন্নতের পাবন্দ ছিলেন। তিনি ছিলেন আশিকে রসূল। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, রোগ-শোক, আহার-অনাহার, আমল-আখলাক, রীতি-নীতি, নিদ্রা-জাগরণ ও শয়নে-স্বপনে তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ধ্যানে-খেয়ালে মশগুল থাকতেন। জীবদ্দশায় নিমিষের তরেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার যোগাযোগ-বিচ্ছেদ ঘটেনি। সম্পর্কের গভীরতা এমন পর্যায়ের ছিল যে, সাক্ষাতের জন্য নিদ্রার প্রয়োজন হয়নি। নিদ্রা ও জাগরণ উভয় অবস্থায় অনুক্ষণ দিদার সংঘটিত হয়েছে।

 বুঝতে কষ্ট হয়না যে, ইমামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার কতো নিগূঢ় সম্পর্ক স্থাপিত ছিল। আর অতি সহজে একথাও বোঝা যায় যে, এই মধুর সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তিনি কতো উঁচু স্তরের ওলী ছিলেন। এমন অবধারিত সম্পর্ক স্থাপন ও যোগাযোগের মাধ্যমেই আল্লাহ্ পাক-উনার তরফ থেকে ওলীগণের মাহবুবিয়াত হাছিল হয় এবং তাঁরা শীর্ষ মাকাম অর্জনকারী ওলী আল্লাহ্ অভিধায় অভিষিক্ত হয়ে থাকেন। আল্লাহ্ পাক-উনার সদয় ইচ্ছা এবং উনার প্রিয়তম হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সদয় অনুমতি ও আগ্রহ ছাড়া কারো পক্ষেই এ সৌভাগ্য অর্জন করা সম্ভব হয়না।

          অনুক্ষণ দেখা সাক্ষাৎ হচ্ছে। দিদার সংঘটিত হচ্ছে। যোগাযোগ হচ্ছে অবিরাম। পাক রওযা মুবারকে হাজির হয়ে সালাম পেশ করার অদম্য আগ্রহ তিনি শৈশবকাল থেকেই অন্তরে লালন করছেন। সাক্বিয়ে কাওছার, দলীলে কা’বায়ে মাকছূদ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার স্মরণ হৃদয়কে ব্যথিত করে তোলে। উনার প্রতি মুহব্বত সকল আনন্দ ও প্রশান্তিকে যাতনাবহুল করে দেয়। দূর থেকে নিরন্তর সালাত ও সালাম পেশ এবং সাক্ষাৎ লাভ করে প্রত্যাশা পূরণের অবশিষ্ট কিছু নেই। তবু আশিকের মনতো মানেনা।

জীবনের সব আয়োজন ও ইচ্ছেগুলোতো হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কেন্দ্র করেই পল্লবিত হয়েছে। তাই রওযা মুবারকের নিকট সান্নিধ্যে গিয়ে অন্তর উজাড় করে সালাম পেশ এবং বুকের অভ্যন্তরে জমে থাকা সকল দুঃখ-বেদনা-যাতনা ও মিনতি জানাবার মাধ্যমে একান্ত অনুগত আশিক হিসেবে পুনর্বার স্বীকৃতিলাভে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের জন্য এতো ব্যাকুল আগ্রহ। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সদয় আহবানে মদীনা শরীফ উপস্থিত হয়ে একাজটি সমাধা হতে পারে। আল্লাহ্ পাক উনার মাহবুব, মাদারজাদ ওলী, হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার প্রার্থনা কবুল করেন।

১৯৬৭ ঈসায়ী সালে তিনি পবিত্র হজ্ব সম্পন্ন করেন। এ লক্ষ্যে প্রথমে তিনি মদীনা শরীফের দিকে রওয়ানা হন। মদীনা শরীফ অভিমুখে নির্বাক আশিক পথিকের লালিত ভাবনাগুলো বিন্যস্ত। কিন্তু অন্তর দুরু দুরু। প্রত্যাশা পূরণের অগ্রযাত্রায় দ্বন্দ্ব-সংকট ও আনন্দ-বেদনায় মানসিক অবস্থা নাজুক। চাওয়া-পাওয়ার অজানা শষ্কায় হৃদয় ভারাক্রান্ত। কেবল মনে হয় বিরহের যাতনার চেয়ে মিলনের আনন্দের কষ্টও একটু কম নয়। না জানি কোন ত্রুটি হয়ে যায়। মাশুক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে উনার কতো নিগূঢ় নৈকট্যের সম্পর্ক, কতো জানাজানি, কতো সাক্ষাৎ, কতো মধুর আলাপন। তবু কাঙ্খিত মিলনের দ্বারপ্রান্তে সংকটের আবর্তে কেন এতো কষ্ট! সম্ভবতঃ এমন বেদনায় দগ্ধ হয়েই কারো কারো উক্তিঃ “মিলন ভালো। বিচ্ছেদ আরো ভালো।” মূলতঃ শীর্ষ স্থানীয় ওলীগণের সকলেই প্রাপ্তির প্রাক্কালে এবং প্রত্যাশা পূরণের মুহূর্তে বেদনা-বিমুগ্ধ ভাবনার আবর্তে এমন মধুর যাতনায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এই কষ্ট থেকে আল্লাহ্ পাক-উনার মাহবুব ওলীগণের নিস্তার নেই। পরম নিয়ামত লাভের মাধ্যমে শীর্ষ মাকামাত হাছিলের ক্ষেত্রে ওলীগণের এই প্রেক্ষিত বেদনাকাতরতা অবধারিত শর্ত হিসেবে আরোপিত।

আবা-১১৭

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৫৭

 


ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দাওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশ্ফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদুর রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম-উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুজ্জামান-উনার দিদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-

মুর্শিদ ক্বিবলার ইন্তিকালে বিরহকাতরতা

          ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ দাওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশ্ফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, কুতুবুজ্জামান, আওলার্দু রসূল, আলহাজ্ব, হযরতুল আল্লামা শাহ্ ছূফী সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী আলাইহিস সালাম-উনার বয়স মুবারক এখন নব্বই-এ এসে দাঁড়িয়েছে। লব্ধ নিয়ামতরাজির অজস্র ধারায় যে বিপুল অর্জন, তা অভিজ্ঞতার ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। ফেলে আসা জীবনের ঘটনা প্রবাহ এখন কেবলই স্মৃতি। আনন্দ-বেদনা মাখা স্মৃতি সম্ভারে প্রায় জীবন সায়াহ্নে প্রাপ্তির পূর্ণতায় এসেও আল্লাহ্ পাক-উনার মাহবুব ওলীগণের মতো অভিন্ন প্রত্যাশায় মন বলে আরো পাবার বাকী আছে। সব কিছু পেয়েও ওলীগণের আরো পাবার প্রত্যাশা এবং না পাবার দুঃখ কোনদিনো শেষ হয়না। কামিয়াবীর পরিণত সোপানে উপনীত হয়েও অতলান্ত মনোবেদনায় হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার অবিরাম অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। প্রাণের আঁকা মুর্শিদ ক্বিবলার ইন্তিকালে বিরহ বিধুর তিনি এখন অন্তর্দহনে আক্রান্ত। একে একে চারজন মুর্শিদ ক্বিবলা বিদায় নিয়েছেন। প্রথমোক্ত তিনজন মুর্শিদ ক্বিবলার নিকট থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাহিরী ও বাতিনী খিলাফত লাভ করেছেন। সকল মুর্শিদ ক্বিবলার মুবারক ছোহ্বতে জীবন ও জগৎ এবং সৃষ্টি ও স্রষ্টার যে গূঢ় রহস্য অবারিত হয়েছে, তা’ বর্ণনাতীত। সে সবের স্মরণে তাঁদের প্রতি বিনীত শ্রদ্ধায় মন নিশিদিন রুজু থাকে।

অন্য যে সব ওলী আল্লাহ্গণের

সান্নিধ্যলাভ করেছেন-      

উল্লিখিত চারজন মুর্শিদ ক্বিবলার ছোহ্বত ছাড়াও অন্তরের অদম্য আগ্রহে বিভিন্ন সময়ে তিনি অনেক দেশী ও বিদেশী আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের ছোহ্বত ইখতিয়ার করেছেন। এছাড়া, তিনি হাদীয়ে যামান, ইমামুল মুসলিমীন, ইমামুল হুদা, কুতুবে রব্বানী, আমীরুশ্ শরীয়ত, ইমামুত্ তরীক্বত, সিরাজুস্ সালিক্বীন, কুতুবুল আকতাব, মুযাদ্দিদুয্ যামান, হযরতুল আল্লামা আবূ বকর ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার বিশিষ্ট খলীফা পীরে কামিলে মুকাম্মিল, শাইখুল ইসলাম, মাহিউল বিদ্য়াত, মুহ্ইস্ সুন্নাতিন্ নুবুবিয়া, হাদিয়ে যামান, মাহবুবে সুবহানী, ইমামুল হুদা, কুতুবুল আলম, আলহাজ্ব, হযরতুল আল্লামা মুহম্মদ নেছার উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার মুবারক সান্নিধ্যও লাভ করেছেন। যদিও তিনি অনেক আগেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।

সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনায় অবিচলতা

মাহবুবে সুবহানী, ফখরুল আউলিয়া, মুসতাজাবুদ্ দাওয়াত, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলার্দু রসূল, হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি কাঙ্খিত মনজিলে পৌঁছার মহান লক্ষ্যে মুবারক জীবনব্যাপী যে অবর্ণনীয় ত্যাগ-তিতিক্ষা, মুরাকাবা-মুশাহাদা, রিয়াযত-মোশাক্কাত করেছেন, তা অতুলনীয়। প্রশান্ত মানসিকতায় ধৈর্যের সঙ্গে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদে তিনি যে অবিচল ও দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলেন, তার তুলনা মেলাও ভার। প্রতিকুল পরিবেশ-প্রতিবেশে দুঃখ-বেদনা সহিষ্ণু এই মাদারজাদ ওলী উনার অন্তরের সহজাত প্রেরণায় শৈশব ও কৈশোরকাল থেকেই দুনিয়ার প্রতি একান্তভাবে অনাসক্ত হয়ে নিরন্তর আল্লাহ্ পাক এবং উনার প্রিয়তম হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিগূঢ় নৈকট্যের দিকে ধাবিত হয়েছেন এবং পরিপূর্ণ কামিয়াবীর অবিচ্ছেদ্য সোপানে উপনীত হয়েছেন। হাক্বীক্বত বিশারদ, সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন এবং অগণিত কারামত সমৃদ্ধ ওলীআল্লাহ্ হিসেবে মুবারক জীবনের বিপুল কর্মসম্ভার এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ জাহিরী ও বাতিনী হিদায়েত ও নছীহতে তিনি সমাজ-মানুষকে আলোকিত করেছেন। (অসমাপ্ত)

আবা-১১৬

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৫৬

 


ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দাওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশ্ফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদুর রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম-উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুজ্জামান-উনার দিদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-

মুর্শিদ ক্বিবলার ইন্তিকাল 

দ্বীন ইসলাম প্রচার, হিদায়েত ও সংস্কার কাজ, ইসলাম বিরোধী কুসংস্কার অপসারণ, শিক্ষা বিস্তার এবং ইল্মে শরীয়ত ও ইলমে তাছাউফে আপামর মানুষকে অভ্যস্ত করে তোলার মহান দায়িত্ব তিনি আমৃত্যু পালন করেন ভারতের ফুরফুরা শরীফ, ফুরফুরা শরীফের নিকটবর্তী গ্রাম, কলিকাতা, অন্যান্য অনেক স্থান এবং বাংলাদেশে। উনার ব্যাপ্তি, প্রভাব ও অনুশীলন সময়ের গন্ডি পেরিয়ে পাক-ভারত-বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ জনপদে, দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫০ ঈসায়ী সালের এপ্রিল মাসে তিনি সপরিবারে ঢাকায় তাশরীফ আনেন। ফুরফুরা শরীফ থেকে তিনিই প্রথম তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) আসেন। ঢাকায় এসে প্রথমে তিনি সিদ্বেশ্বরীর একটি বাড়ীতে উঠেন। প্রায় সাত মাস তিনি ঐ বাড়ীতে অবস্থান করেন। অতঃপর ঢাকাস্থ গেন্ডারিয়ায় তাশরীফ আনেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। সেখানে তিনি খানকা শরীফ স্থাপন করেন। ১৯৫০ হতে ১৯৭১ ঈসায়ী সাল পর্যন্ত ঐ খানকা শরীফে তিনি পরিপূর্ণরূপে হিদায়েতের কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

১৯৭১ ঈসায়ী সালের মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি শেষ বারের মতো ফুরফুরা শরীফ থেকে বাংলাদেশে আসেন এবং এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ফুরফুরা শরীফ চলে যান। উনারপর উনার আর বাংলাদেশে আসা সম্ভব হয়নি। দ্বীন ইসলাম বিস্মৃত সমাজকে জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকাস্থ গেন্ডারিয়া খানকা শরীফে তিনি অগণিত মানুষকে ছহীহ্ দ্বীনি শিক্ষা ও দীক্ষা দান করেছেন।

 অবিরাম কর্মব্যস্ততায় শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জিলায়, এমনকি দেশব্যাপী প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে তিনি ওয়াজ-নছীহত করেছেন, মানুষকে তা’লীম দিয়েছেন। উনার মাধুর্যপূর্ণ ওয়াজ-নছীহত অবলীলায় সকল স্তরের মানুষের অন্তর স্পর্শ করতো। বিগলিত অন্তরে তন্ময় হয়ে মানুষ উনার কথা শুনতো। উনার মুবারক ছোহ্বতে কতো মানুষ যে হিদায়েত লাভ করেছে, উনার হিসাব মেলা ভার। ভারতের পশ্চিম বাংলা, আসাম ও বাংলাদেশে তিনি অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব ও খানকা শরীফ স্থাপন করেছেন। বাংলাদেশ থেকে মাঝে মাঝে তিনি ফুরফুরা শরীফ ও কলিকাতার বাড়ীতে চলে যেতেন। আবার ফিরে আসতেন।

অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৯৭১ ঈসায়ী সাল থেকে উনার শরীর অসুস্থ হতে থাকে। ১৯৭১-উনার ১৭ এপ্রিল উনার ‘ষ্ট্রোক’ হয়। এতে তিনি খুব আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি আর কোথাও ছফরে যেতে পারেননি। ইন্তিকাল অবধি প্রায় এগার বছর তিনি ফুরফুরা শরীফেই ছিলেন। বিশেষ প্রয়োজনে কলিকাতা ছাড়া তিনি কোথাও যাননি। একান্ত অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি খানকা শরীফে উপস্থিত আপন খলিফা, মুরীদ ও অগণিত মানুষের সমস্যার কথা শুনতেন, সমাধান দিতেন। উনাদেরকে ইল্মে জাহির ও ইল্মে বাতিন শিক্ষা দিতেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ‘আমল-আখলাক, আচার-ব্যবহার, রীতি-নীতি, দান-ধ্যান, নিষ্ঠা-ইখলাছ, ইবাদত-রিয়াজত, চাল-চলন, বলা-শোনা,. শোয়া-বসা, খাওয়া-দাওয়া, এমনকি রোগ-শোকে ফানাফিশ্ শায়খ, ফানার্ফি রসূল ও ফানাফিল্লায় তিনি পরিপূর্ণরূপে ইস্তিকামাত (অবিচল) ছিলেন।

অবশেষে খলীফা ও মুরীদ-মু’তাকিদসহ দেশ-দেশান্তরের অগণিত মানুষকে শোকসাগরে ভাসিয়ে ইল্মে জাহির ও ইল্মে তাছাউফের উজ্জ্বল নক্ষত্র, ওলীয়ে মাদারজাদ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, শাইখুত্ তরীক্বত, গাউছে যামান, ন’হুযূর ক্বিবলা, হযরতুল আল্লামা, শাহ্ ছূফী, আবূ নজম মুহম্মদ নাজমুস্ সায়াদাত ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১২ রবিউল আউয়াল ১৪০২ হিজরী, ২২ পৌষ ১৩৮৮ বঙ্গাব্দ, ০৭ জানুয়ারী ১৯৮২ ঈসায়ী রাতে চির নিদ্রায় শায়িত হন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মুজাদ্দিদ পিতা হযরত আবু বকর ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার কবরের পূর্ব পার্শ্বে ফুরফুরা শরীফের একই মাযার শরীফ প্রাঙ্গণে উনাকে দাফন করা হয়। (অসমাপ্ত)

আবা-১১৫

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৫৫

 


ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দাওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশ্ফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে  ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদুর রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম-উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুজ্জামান-উনার দিদারে মাওলা উানার দিকে প্রস্থান-

মুর্শিদ ক্বিবলার সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা

          কুতুবুজ্জামান, আওলার্দু রসূল, হযরতুল আল্লামা, শাহ্ ছূফী, সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান  আলাইহিস সালামছিলেন মাদারজাদ ওলী, হাক্বীক্বত বিশারদ এবং সূক্ষ্মদর্শী আত্মজ্ঞ ওলীআল্লাহ্। কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, হযরত মাওলানা, শাহ্ ছূফী, আবু নজম মুহম্মদ নাজমুস্ সায়াদাত ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহিও ছিলেন মাদারজাদ ওলী এবং সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন। কাজেই অভিন্ন ধারায় কামিয়াবীর শীর্ষ পর্যায়ে উভয়ের মাঝে সংগত কারণেই গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমন সুগভীর জানাজানি এবং অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কারণেই হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান  আলাইহিস সালাম উনার প্রাণের আঁকা মুর্শিদ ক্বিবলার খানকা শরীফের দরজায় হাজির হওয়া মাত্রই তিনি (মুর্শিদ ক্বিবলা) খানকা শরীফ থেকে বেরিয়ে এসে অন্তরঙ্গ মুরীদকে পরম মমতায় আলিঙ্গন করতেন এবং ভেতরে আপন সান্নিধ্যে নিয়ে যেতেন। মুর্শিদ ও মুরীদের ক্রমবর্ধিষ্ণু অগ্রযাত্রায় এমন মধুর সম্মিলন এবং অন্তরজাত সংস্পর্শ আল্লাহ্ পাক-উনার মাহবুব ওলীগণের জীবন আচরণে বিরল নয়। এ বিষয়ে পূর্বেও কিঞ্চিত আলোকপাত করা হয়েছে।

          ওলীয়ে মাদারজাদ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, শায়খুত্ তরীক্বত, গাউসে জামান, হযরতুল আল্লামা, শাহ্ ছূফী আবু নজম মুহম্মদ নাজমুস্ সায়াদাত ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১৯১৩ ঈসায়ী/ ১৩৩৩ হিজরী সালের রবিউল আউয়াল মাসের এক পূর্ণ চন্দ্র রজনীর সুবহে সাদিকের সময় জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মকালে উনার অনেক কারামত প্রকাশিত হয় মর্মে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। ছোটকাল থেকেই তিনি খুব ভাবনাশীল ও চিন্তামগ্ন ছিলেন। উনার স্মরণশক্তি ছিল প্রখর। তিনি ছিলেন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। অতি অল্প বয়সেই তিনি অতুলনীয় বুযূর্গী, সুগভীর ইল্মে যাহির ও ইল্মে বাতিন হাছিল করেন। তা এতো গভীর, সূক্ষ্ম ও শাণিত ছিল যে, তিনি মুজাদ্দিদ পিতা হযরতুল আল্লামা আবু বকর ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার দরবার শরীফের নিগূঢ় তাছাউফ তত্ত্ববিদ এবং সমকালীন ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন অন্যান্য আলিমগণের ঈর্ষার পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। উনার জীবন যাপন পদ্ধতি ছিল সহজ-সরল এবং অতি সাদাসিধে ধরণের। বুযূর্গ পিতার সমুদয় গুণাবলীর মাত্রানুপাত সমাবেশে উনার যাহির ও বাতিন ছিল পরিপূর্ণ নিয়ামতে ভরপুর। উনার মুবারক জীবন পুরোপুরি জানা গেলে মুযাদ্দিদুয্যামান, কুতুবুল আলম, ইমামুল মিল্লাত ওয়াদ্ দ্বীন, কাইউমুয্যামান, হযরতুল আল্লামা আবু বকর ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার বুযূর্গী, কামিয়াবীর শীর্ষ সোপান এবং মুসলিম উম্মাহ-উনার প্রতি উনার অপরিসীম অবদানের মাত্রা উপলব্ধি করা সহজ ও সম্ভব হয়।

          মাদারজাদ ওলী, হযরতুল আল্লামা শাহ ছূফী আবু নজম মুহম্মদ নাজমুস্ সায়াদাত ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার ছোহবতে এসে উনার মধুর আচরণ ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বে কেউই মুগ্ধ না হয়ে পারতোনা। ১৯৩২ ঈসায়ী সালে উনার শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়স মুবারকে তিনি পিতৃহারা হন। মুজাদ্দিদ পিতার অতুলনীয় স্নেহ, বর্ণনাতীত মুহব্বত, সোপর্দিত নিয়ামতরাজি ও ফয়েজ উনার কামিয়াবীর অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করে। মুজাদ্দিদুয্যামান হযরতুল আল্লামা আবু বকর ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি একবার হযরত মুুজাদ্দিদে আলফেছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার মাজার শরীফ জিয়ারতে ভারতের সিরহিন্দ শরীফে যান। দরবার শরীফের এক খাদিম স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হয়ে হযরত মুজাদ্দিদে আলফেছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার একটি টুপি মুবারক উনাকে হাদিয়া প্রদান করেন। ঐ টুপি মুবারক তিনি উনার পাঁচ বুযূর্গ পুত্র সন্তানের মধ্যে ওলীয়ে মাদারজাদ, হযরতুল আল্লামা, শাহ্ ছূফী, আবু নজম মুহম্মদ নাজমুস্ সায়াদাত ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে আগ্রহভরে দান করেন। এতে উনার মর্যাদা এবং উনার প্রতি পিতার মুহব্বতের আধিক্য উপলব্ধি করা যায়।    (অসমাপ্ত)

আবা-১১৪

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৫৪

 


ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দাওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশ্ফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদুর রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম-উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুজ্জামান-উনার দিদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান

মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা-

 

আমীরুশ্ শরীয়ত ওয়াত্ ত্বরীকত, কুতুবুল আলম, ইমামুল মিল্লাত ওয়াদ্দ্বীন, মাহবুবে সুবহানী, কাইয়্যূমুয্যামান, ইমামুল মুসলিমীন, শাইখুল মুহাক্বিক্বীন, মুজাদ্দিদুয্ যামান, আলহাজ্ব, হযরতুল আল্লামা আবূ বকর ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার পুত্র সন্তান পাঁচজনঃ

(১) নায়িবে মুজাদ্দিদ, আলহাজ্ব, হযরতুল আল্লামা আবু নছর মুহম্মদ আবদুল হাই ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি,

(২) মুফতীয়ে আ’যম, আলহাজ্ব, হযরতুল আল্লামা আবু জাফর মুহম্মদ অজিহুদ্দীন মুস্তফা ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি,

(৩) হযরতুল আল্লামা আবদুল কাদির ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি,

(৪) কুতুবুল আলম, হযরতুল আল্লামা আবু নজম মুহম্মদ নাজমুস্ সায়াদাত ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং

(৫) হযরতুল আল্লামা, শাহ্ ছূফী, জুলফিক্বার আলী ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁরা প্রত্যেকেই বুলন্দ মর্যাদার অধিকারী। সকলেই জন্মগত ওলী। পিতার নিকট অতি শৈশবকালেই তাঁরা ইল্মে জাহির ও ইল্মে বাতিন সম্পর্কে অবহিত হন এবং ক্রমান্বয়ে গভীর ব্যুৎপত্তি হাছিল করেন।

          উল্লিখিত পাঁচজন বুযুর্গ সন্তানের মধ্যে খাছ দু’জন হলেনঃ

(১) কুতুবুল আলম, হযরতুল আল্লামা আবু নছর মুহম্মদ আবদুল হাই ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং

(২) ওলীয়ে মাদারজাদ, আবু নজম মুহম্মদ নাজমুস্ সায়াদাত ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি। হযরতুল আল্লামা আবদুল কাদির ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমুতল্লাহি আলাইহি বলেন, “পীর ছাহেব ক্বিবলা (মুজাদ্দিদুয্ যামান, হযরতুল আল্লামা আবু বকর ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি) ইন্তিকালের অব্যবহিত পূর্বে আমাদের পাঁচ ভাই-উনার হাত ধরেছিলেন।

 আমার ধারণা, শেষ সময়ে তিনি আমাদের উপর সমস্ত বাতিনী নিয়ামতের ফয়েজ নিক্ষেপ করে গেছেন।”

          ভারত ও বাংলাদেশের মুসলিম উম্মাহ-উনার প্রতি ওলীয়ে মাদারজাদ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, হযরতুল আল্লামা, শাহ্ ছূফী, আবু নজম মুহম্মদ নাজমুস্ সায়াদাত ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার অবদান অপরিসীম। মুসলমান হয়েও দ্বীন ইসলামের অনুশাসনে জীবন যাপনে গাফলতি ও অনীহা, ঈমান ও আমলের দৈন্য দশা, বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণের স্বেচ্ছাচারিতায় মানসিক বৈকল্য এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি ও দর্শনের প্রতি মানুষের আসক্তির মূলোৎপাটনে পিতা ও বড় ভাইগণের আদর্শে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দ্বীনের ছহীহ্ সমঝ প্রদানে ইসলাম ধর্মের প্রতি উদ্বুদ্ধ করণ এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সুন্নত পালনে মানুষকে অভ্যস্ত করে তোলায় তিনি মুবারক জীবনব্যাপী নিয়োজিত থাকেন।

          তিনি ছিলেন হাক্বীক্বত বিশারদ, সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এবং সমকালীন আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অগ্রনায়ক। জাহিরী ও বাতিনী প্রজ্ঞায় তিনি ছিলেন অগাধ সমুদ্রতুল্য। ইল্ম ও মারিফাতের অমিয় প্রভায় পাক-ভারত-বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ জনপদ যে সব ওলী আল্লাহ্গণ আলোকিত করেছেন, আপন যুগে তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। মুজাদ্দিদ পিতার নিকট তিনি ইল্মে তাছাউফের অপরিমেয় ব্যুৎপত্তি হাছিলের মাধ্যমে কামিয়াবীর শীর্ষধাপে উপনীত হন এবং পর্যায়ক্রমে ক্বাদিরীয়া, চিশতীয়া, নক্শবন্দীয়া ও মুজাদ্দিদিয়া ত্বরীকার খিলাফত লাভ করেন। তিনি ন’হুযূর ক্বিবলা নামে সকলের নিকট সমধিক পরিচিত ছিলেন। বিশুদ্ধ ঈমান, আক্বীদা ও আমলে সে সময়ে মুসলমান সমাজের দুরাবস্থায় বেদনাবোধ, নিজ ধমনীতে মুজাদ্দিদ পিতার মুবারক রক্তধারার তেজোদ্দীপ্ত প্রভাব এবং কামিয়াবীর সহজাত প্রেরণায় তিনি অবলীলায় নায়িবে মুজাদ্দিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। (অসমাপ্ত)

আবা-১১৩