একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৮৯

 


ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে ইসমে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুয যামান উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-

কারামত মুবারক

 বর্তমান আলোচনার শুরুতেই বলা হয়েছে, আল্লাহ পাক-উনার মাহবুব ওলীগণের সকলেই ‘কারামত’ দ্বারা সমৃদ্ধ। ওলীআল্লাহগণের মান, শান, প্রভাব, প্রতিপত্তি, সম্মান ইত্যাদি সব নিয়ামতই আল্লাহ পাক-উনার দান। ওলীগণের সব কারামতই তাৎপর্যপূর্ণ। নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের কারামতের মাধ্যমে আল্লাহ পাক-উনার ‘কুদরত’ প্রকাশিত হয়। কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছেঃ

ان الله على كل شئ قدير.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক সর্বোপরি ক্ষমতাবান।” (সূরা বাক্বারা-১০৯)।

আরো ইরশাদ হয়েছেঃ

يخلق ما يشاء وهو العليم القدير.

অর্থঃ- “আল্লাহ পাক যা’ ইচ্ছে তাই সৃষ্টি করেন এবং তিনি মহাজ্ঞানী ও কুদরতওয়ালা (অসীম ক্ষমতাবান।)” (সূরা রূম-৫৪) প্রয়োজন এবং পরিমাণ অনুপাতে সাধারণের অলক্ষ্যে (অনুপলব্ধিতে) আল্লাহ পাক-উনার কুদরত প্রকাশ ও বিকাশের নামই ‘মু’জিযা’ ও ‘কারামত’। ওলীআল্লাহগণের মাধ্যমে সংঘটিত কারামতের মধ্যে আল্লাহ পাক-উনার আহকাম পালনে মানুষকে অভ্যস্ত করে তোলায় প্রকাশিত কারামতই সর্বাধিক গুরুত্ববহ। আল্লাহ পাক-উনার মাহবুব ওলীগণের কারামতে আমরা উনার প্রমাণ খুঁজে পাই।

 দৃষ্টান্তস্বরূপ গাউছুছ্ ছাক্বালাইন, ইমামে রব্বানী, মাহবুবে সুবহানী, কুতুবুল আকতাব, গাউছুল আ’যম, মুহিউদ্দীন, সাইয়্যিদুল আউলিয়ায়িল ইযাম, ইমামত্ ত্বরীক্বত, মুহ্ইস্ সুন্নাহ, কামিউল বিদ্য়াত, নূরে রহমানী, জামিউল কামালত, নায়িবে রসূল, দস্তগীর, হযরত বড় পীর, আব্দুল ক্বাদির জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার একটি বিশেষ কারামত এখানে উল্লেখযোগ্য। উনার জন্ম ৪৭১ হিজরী সালের পহেলা রমাদ্বান সুবহে সাদিকের পূর্বে। ঊনত্রিশ শা’বান আকাশ ছিলো মেঘাচ্ছন্ন। প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়েছিলো সেদিন। তাই পরের দিন ত্রিশ শা’বান, নাকি পহেলা রমাদ্বান হবে, তা জানা সম্ভব হয়নি।  ঐদিন রোযা রাখা বা না রাখা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জটিল পরিস্থিতিতে জানা গেলো, গাউছুল আ’যম, শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি সুবহে সাদিকের পর থেকে পানাহার করেননি।

 এমন মুবারক সংবাদে পেরেশান মানুষ ঐদিন পহেলা রমাদ্বান সম্পর্কে প্রত্যয়ী হলেন এবং সবাই রোযা রাখলেন। পহেলা রমাদ্বান শনাক্ত করণে আল্লাহ পাক-উনার মাহবুব ওলী, ইমামে আযাল ওয়া আকরাম, শায়খুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুল আফরাদ, গাউছুল আ’যম, হযরত বড় পীর আব্দুল ক্বাদির জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার জন্মের অব্যবহিত পরে সংঘটিত এ কারামতে হক্বপন্থী ঐতিহাসিকগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আল্লাহ পাক-উনার আহকাম প্রকাশ এবং তা প্রতিপালনে মানুষকে প্রত্যয়ী ও অভ্যস্ত করে তোলার ক্ষেত্রে এ কারামত অতুলনীয়। সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক ইচ্ছে মতো মনোনীত ব্যক্তি বা বস্তু থেকে উনার ‘কুদরত’ জাহির করে থাকেন। হযরত মুসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস্ সালাম-উনার মুবারক লাঠি ফিরআউনের মনোনীত বিপুল সংখ্যক যাদুকরের বানানো অলীক সাপ, রশি এবং অন্যান্য যাবতীয় বস্তু নিমিষে গিলে ফেললো। কিন্তু এতে লাঠির আকার ও প্রকারে কোন পরিবর্তন দেখা গেলো না।

 অর্থাৎ এতো কিছু গ্রাস করেও লাঠির পেট ফুলে উঠলো না। আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল হযরত মুসা আলাইহিস্ সালাম-উনার মু’জিযায় ফিরআউন, তার সভাসদ, যাদুকর ও অন্যান্য সবাইকে বুঝিয়ে দিলেন এটি কোন প্রতারণা, যাদু অথবা কূট-কৌশল নয়, এটি “কুদরত।” ঐতিহাসিক বর্ণনায় রয়েছে, কম-বেশী তিন লক্ষ যাদুকর সেদিন সমবেত হয়েছিলো। তাদের বিপুল পরিমাণ লাঠি, রশি ও অন্যান্য সামগ্রী তিনশত উটের পিঠে বোঝাই করে আনা হয়েছিলো। ফিরআউনের সুবিধাভোগী যাদুকরদের কৌশল ছিলো চোখ ধাঁধানো চাতুরী। ছিলো এমন এক সম্মোহনী, যা’র প্রভাব মানুষের কল্পনা ও দৃষ্টিকে সাময়িক আচ্ছন্ন করে দেয়। পক্ষান্তরে হযরত মুসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস্ সালাম-উনার মুবারক লাঠির মাধ্যমে অনায়াসে সংঘটিত মু’জিযায় যা’ প্রকাশিত হয়েছিলো, তা’ যাদুকরদের কৌশল ভঙ্গকারী আল্লাহ পাক-উনার ‘কুদরত’। (অসমাপ্ত)

আবা-১৪৯

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৮৮

 


ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে ইসমে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নওেয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুয্ যামান-উনার দিদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-

কারামত মুবারক

  পরিপূর্ণ কামিয়াবী হাছিলের পরই প্রকৃত কারামত (বুযুর্গী) নিরূপিত হয়। কারামত কখনোই দাবী করার বিষয় নয়। এটি মহান আল্লাহ পাক-উনার এক অতুলনীয় বখশিশ, যা কামালতের অনুষঙ্গ। যে কারামতের দাবী করে, সে বন্ধুর (আল্লাহ পাক) নিকট অবন্ধুসুলভ প্রত্যাশা করে।

এরূপ গর্হিত প্রত্যাশা বেলায়েতের ভিত্কে উৎখাত করে দেয়। বেলায়েত খাছ হলে কামালতও খাছ হয়। প্রথম শ্রেণীর বেলায়েত (আম বেলায়েত) কেবল ঈমান গ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই সকল মুসলমানই আমভাবে আল্লাহ পাক-উনার ওলী (বন্ধু)। যেমন আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ

الله ولى الذين امنوا يخرجهم من الظلمت الى النور.

অর্থঃ “আল্লাহ পাক মু’মিনদের অভিভাবক। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোয়, অর্থাৎ গোমরাহী থেকে হিদায়েতের পথে নিয়ে আসেন।” (সূরা বাক্বারা-২৫৭)

ফিরাউন দুনিয়ায় চারশ’ বছর বেঁচে ছিলো। এ দীর্ঘ সময়ে সে কোন দিন একটু অসুস্থও হয়নি। পানির উচুঁ ঢেউ তার পেছনে পেছনে চলতো। চলার পথে তার পেছনে ধাবমান পানির উচুঁ স্তরও অবিরাম চলতে থাকতো। সে থামলে চলমান পানিও থেমে যেতো। কিন্তু এসবে কোন প্রজ্ঞাবান মানুষের মন সন্দেহপ্রবণ হয় না। কেউ বিভ্রান্তও হয় না। কারণ, সে খোদায়ী দাবী করেছিলো, একথা সকলেরই জানা। কাজেই তার এ কাজ কারামত ছিলো না। ধোঁকাবাজ ও প্রতারকদের ভেল্কিবাজীতে আল্লাহ পাক অবকাশ দিতে থাকেন। পরিণতিতে সমূলে তাদের বিনাশ সাধিত হয়। ফিরাউনের অবস্থাও তাই হয়েছিলো। হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “আখিরী যামানায় দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং সে খোদায়ী দাবী করবে। তার ডানে ও বামে দু’টি আয়নার পাহাড় থাকবে। ডান দিকের পাহাড় হবে নিয়ামতে পরিপূর্ণ এবং বাম দিকেরটি হবে শাস্তির স্থান। সে ডান দিকের পাহাড়কে বলবে এটি বেহেশ্ত এবং বাম দিকেরটি দোযখ। সে বলবে, যে আমার উপর ঈমান আনবে আমি তাকে বেহেশ্তে স্থান দেব। আর যে ঈমান আনবে না আমি তাকে দোযখে নিক্ষেপ করবো। আল্লাহ পাক তাকে (দাজ্জালকে) এমন শক্তিও দান করবেন যে, সে তার ইচ্ছেমতো মানুষকে জীবিত করতে এবং তাদের প্রাণ হরণ করতে সক্ষম হবে।” দাজ্জালের এ অলৌকিক কাজগুলোও কারামত নয়। কারণ, সেও খোদায়ী দাবী করবে। সুলতানুল আরিফীন হযরত বায়েজীদ বোস্তামী আলাইহিস সালামএকদিন নদী পার হতে গিয়ে দেখলেন, ঘাটে নৌকা নেই। এ বিষয়ে তিনি তীরে বসে ভাবছিলেন। এমন সময় দেখা গেলো, নদীর পানি দু’ভাগ হয়ে প্রশস্ত রাস্তা বের হয়েছে। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকলেন, “ধোঁকা, ধোঁকা, সবই ধোঁকা।” অথৈ নদী পার হওয়ার প্রশস্ত পথ প্রস্তুত পেয়েও তিনি ফিরে এলেন। কারণ, এমন নিম্ন মানের বিষয়কে তিনি উনার কামিয়াবীর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ “কারামত” বলে গণ্য করতে পারেননি। না পারাটাই স্বাভাবিক ও সঙ্গত। তা এজন্য যে, কারামততো হলো আল্লাহ পাক এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য নৈকট্য-সংযোগ, সুন্নতের ইত্তিবায় অধিষ্টিত হওয়া এবং তাতে ইস্তিক্বামাত থাকা। সাধারণ মানুষ কারামতকে কামালতের অনুষঙ্গ না ভেবে অলৌকিক বিষয় হিসাবে একে মূল কামালত হিসাবে ভাবতে অভ্যস্ত। কামিয়াবীর স্তর ভেদে কারামতও শতধা বিভক্ত। আম মানুষ এসবে বেখবর।  প্রকৃত প্রস্তাবে কামালতই (পরিপূর্ণতা) যে কারামত (প্রকৃত সম্মান) সে সম্পর্কে তারা অজ্ঞ। এমন সূক্ষ্ম কারামত এবং উনার তাৎপর্য তাদের উপলব্ধির কাছাকাছি নয়। মূল কথা হলো, বন্ধুকে (আল্লাহ পাককে) অবজ্ঞা করে অন্য কিছুর প্রতি মনোযোগী হলে বেলায়েত স্থির থাকে না। এ সম্পর্কে বলা  হয়েছেঃ

ولا بقاء للولاية مع الاعراض عن الجيب والاقبال الى غير الجيب

আর বেলায়েতের অবস্থানে নড়চড় হলে কারামতের প্রশ্ন অবান্তর হয়ে দাঁড়ায়। যে ব্যক্তি কারামতের উপর নির্ভরশীল হয়, আল্লাহ পাক থেকে সে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সমঝদারদেরতো অজানা নয় যে, মুহব্বতের প্রথমে কারামত, মধ্য সোপানে অনুসন্ধিৎসা, পূর্ণতায় লজ্জা এবং পরিণতিতে নির্বাক হয়ে যাওয়া। এ নির্বাকের অর্থ অবধারিতভাবে কথা না বলা নয়। উনার তাৎপর্য হলো খোদায়ী দান- উনার কোন বিষয়েই চু-চেরা ও আপত্তি-বিপত্তি উত্থাপনে বিমুখ বেদনা-বিমুগ্ধ মানসিকতা অর্জন।

আনুগত্যের এমন শীর্ষ সোপানে পাওয়ার আনন্দ ও না পাওয়ার বেদনা অবলীলায় অন্তর্লীন হওয়ার মধ্যে “কারামত”-উনার পৃথক কোন অর্থ তালাশের প্রয়োজন আর থাকেনা। (অসমাপ্ত)

আবা-১৪৮

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৮৭

 


ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে ইসমে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুয যামান উনার দিদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান

কারামত মুবারক-

তাওহীদ প্রকাশের প্রয়োজনে রিসালতের সঙ্গে সংশ্লেষিত যে সব অলৌকিক ঘটনা (خرق عادت) মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে, তাই মু’জিযা। কোন অবস্থায়ই নুবুওওয়াত ও রিসালতের রূপান্তর ঘটেনি। তাই মুবারক মর্যাদা ও মর্তবার মানদ- বিবেচনায় তায়িফ ও উহুদ ময়দানে কাফিরদের আক্রমণ এবং মক্কা শরীফ বিজয় ও মি’রাজ শরীফ গমনের মধ্যে কোন পার্থক্য সূচিত হয়না। কারণ, আযীমুশ্শান সকল বিষয় ও অবস্থায়ই তিনি আল্লাহ পাক-উনার মাশুক এবং হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। পাক কুরআন শরীফে মু’জিযাকে বলা হয়েছে ايات (নিদর্শন) এবং برهان (দলীল) হিসেবে। কালামুল্লাহ শরীফে বিধৃত ঘটনাসমূহের মধ্যে রূহানী হালত (আত্মিক অবস্থা)-উনার প্রসঙ্গ সর্বাপেক্ষা গভীর প্রজ্ঞা ও উপদেশে পরিপূর্ণ। নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ, বিশেষত: ফখরে দু’জাঁহা, সুলতানুন্ নাছীর, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতুলনীয় মুবারক শক্তির প্রভাবেই সকল ক্ষেত্রে কামিয়াবী লাভ করেছেন, জিহাদ-অস্ত্র-সস্ত্র অথবা অন্য কোন বিষয়ের প্রভাবেই নয়। এই মুবারক রূহানী শক্তিরই এক নাম মু’জিযা। আল্লাহ পাক বলেন:

انا فتحنا لك فتحا مبينا.

অর্থঃ- “(হে প্রিয়তম হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।” (সূরা ফাতহ্-০১) আল্লাহ পাক-উনার প্রিয়তম হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই মু’জিযা। কুরআন শরীফকে বলা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ মু’জিযা। নুবুওওয়াত ও রিসালতের সঙ্গে মু’জিযা ও স্বপ্নের নিগূঢ় সংশ্লেষ রয়েছে। মু’জিযা, রিসালতের অত্যাবশ্যক অনুষঙ্গ। মু’জিযা দেখে ভ্রান্ত মানুষ ভীত-বিহ্বল হয়ে ঈমান গ্রহণ করেছে। প্রত্যেক নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম-উনার সঙ্গেই মু’জিযা’র সম্বন্ধ যেমন, ঠিক তেমনই ওলী আল্লাহগণের সঙ্গে কারামতের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাওহীদ প্রকাশের প্রয়োজনে মু’জিযা তাওহীদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের মাধ্যমে মু’জিযা প্রকাশ পাওয়া আল্লাহ পাক অত্যাবশ্যক করেছেন। কিন্তু ওলীআল্লাহগণের কারামত থাকা জরুরী নয় এবং তা’ প্রকাশিত হওয়াও অবধারিত নয়। কারামত, কামালতের (কামিয়াবী) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কখনোই কামালত-কারামতের উপর নির্ভরশীল নয়। ওলীআল্লাহগণের উচ্চতর মাকামে উত্তরণের সোপান নিরূপণের জন্য কারামত আদৌ কোন মানদ- নয়। তবে আল্লাহ পাক-উনার মাহবুব ওলীগণের কারামত প্রত্যক্ষ করে বিদিশা মানুষ সিরাতুল মুস্তাকীম খুঁজে পায়। মানুষের হিদায়েত লাভের পথ সুগম হয়। এতে মানুষের ঈমান ও আক্বীদা নবায়ন হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিধর্মীরাও ঈমান গ্রহণ করে আল্লাহওয়ালা হয়ে যায়। কারামতের প্রকৃত অর্থ বুযূর্গী, অর্থাৎ সম্মান। হাদীছে কুদসীতে আল্লাহ পাক বলেন:

من عاد لى وليا فقد اذنته بالحرب

অর্থঃ- “আমার মাহবুব ওলীগণের সঙ্গে যারা বিরোধিতা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে থাকি।” এমন মাহাত্ম্যপূর্ণ ও মর্যাদাবান ওলীগণের অন্তর্গূঢ় যা রহস্য, তা’ হলো আল্লাহ পাক এবং তাঁর প্রিয়তম হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, মাশুকে মাওলা, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য নৈকট্য সংযোগ।  হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম আলাইহিস সালামমগণের মূল কারামত হলো, আল্লাহ পাক-উনার মতে একমত হয়ে তাঁর প্রিয়তম হাবীব, মাশুকে মাওলা, খাজিনার্তু রহমত, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পথে পরিপূর্ণরূপে অধিষ্ঠিত হওয়া এবং সূক্ষ্মতিসূক্ষ্মভাবে সুন্নতের ইত্তিবায় দায়িমীভাবে অভ্যস্ত হওয়া ও তাতে ইস্তিকামত (অবিচল) থাকা। মাকামতের প্রবৃদ্ধি এবং লব্ধ কামালত অটুট থাকায় ইস্তিকামতই হলো মূল কারামত। ওলীআল্লাহগণের অতল-গভীর এই কারামতের প্রকৃতি সাধারণ মানুষের কারো কাছে দুর্বোধ্য এবং কারো কাছে অবোধ্য। (অসমাপ্ত)

আবা-১৪৭

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৮৬

 


ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে ইসমে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুয্ যামান-উনার দিদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-

কারামত  মুবারক-

আলোচ্য ‘কারামত’ শব্দটির সঙ্গে কেবল মুসলমানই নয়, অন্য সব ধর্মের মানুষও পরিচিত। প্রায় সকলকেই কথাটি বলতে শোনা যায়। তাদের আনাড়ি বিবেচনায় অলৌকিক/লোকাতীত (خرق عادت) বিষয়ের নামই কারামত। সাধারণ অর্থে তাদের ধারণা মিথ্যে নয়। তবে সূক্ষ্ম ও তাত্ত্বিক বিবেচনায় তাদের প্রচলিত এ উপলদ্ধি সঠিক নয়। কারামত-উনার সাধারণ অর্থ শক্তি, ক্ষমতা, প্রতাপ, প্রভাব ইত্যাদি। উনার প্রকৃত অর্থ হলো, আল্লাহ পাক প্রদত্ত অতুলনীয় সম্মান। এ সম্মান আল্লাহ পাক-উনার মাহবুব ওলীগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় উনার মাধ্যমে উনাদের অপরিমেয় বুযূর্গী নির্ধারিত হয়। হিদায়েতের প্রয়োজনে আল্লাহ পাক মাখলুকের কাছে উনার মনোনীত ওলীগণের মান, শান, প্রভাব, প্রতিপত্তি ও সম্মানের প্রকাশ ও বিস্তার ঘটিয়ে থাকেন। অর্থাৎ, ওলীগণ অপরিচিত থাকেন না। কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে:

ان رحمت الله قريب من المحسنين.

অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক-উনার রহমত উনার মুহসিন বান্দাগণের (ওলীআল্লাহ) নিকটে।” (সূরা আ’রাফ-৫৬) আরো ইরশাদ হয়েছে:

الله يجتبى اليه من يشاء ويهدى اليه من ينيب.

অর্থঃ- “আল্লাহ পাক যাকে ইচ্ছা তাকে আপন ওলী (বন্ধু) মনোনীত করেন।” (সূরা আশ্ শুরা-১৩) ওলীগণের জন্য আল্লাহ পাক-উনার তরফ থেকে বন্ধুত্ব ও বেলায়েতের দরজা অনুক্ষণ অবারিত। ‘কারামত’-উনার এক অর্থ ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি। ওলীআল্লাহ নন্ এমন মানুষ, এমনকি বিধর্মীরাও মন্দ অর্থে এই ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির অধিকারী হয়ে থাকে। সকলেরই জানা যে, সব ভালো বিষয়ের বিপরীতেই মন্দ প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকে। মানুষের ধারণা ও উপলব্ধতিতে যা’ নেই, তা’ তার কাছে অবোধ্য এবং অস্পষ্ট ধারণার বিষয় তার কাছে দুর্বোধ্য। প্রেক্ষিত কারণে মানুষ যা’ জানে না, বোঝেনা, তা-ই অসাধারণ, তা-ই অলৌকিক। প্রচলিত ও বোধগম্য রীতির বিপরীতে নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সাল্লামগণের মুবারক জীবনাচরণে প্রকাশিত এমন সব বিষয়ের নাম ‘মু’জিযা।’ ওলীআল্লাহগণের ক্ষেত্রে তার নাম ‘কারামত।’ ভিন্ন অর্থ ও তাৎপর্যে শিশু, অবোধ, বদ্ধপাগল ও মজ্যুব মানুষের ক্ষেত্রে তার নাম ‘আওন।’ শরীয়ত গর্হিত যাদুকরদের অস্বাভাবিক ও চোখ ধাঁধানো কাজ প্রকাশের ক্ষেত্রে তার নাম ‘ইস্তিদ্রাজ (ভেল্কিবাজী)।’ নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ শক্তি ও ক্ষমতা উনাদের মুবারক স্বভাব-সঞ্জাত আচরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই সম্পৃক্ততা এতো গভীর, সূক্ষ্ম ও প্রজ্ঞা-সমৃদ্ধ যে, মানুষের পক্ষে তা’ অনুধাবন করা সম্ভব হয়নি। তাই নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের সহজাত শক্তি ও ক্ষমতাকে মানুষ ‘মু’জিযা’ নামে অভিহিত করেছে। নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের যে বিষয়গুলো মানুষের অবোধ্য, তাই মু’জিযা। নুবুওওয়াত ও রিসালত প্রমাণের একটি প্রধান উপায় মু’জিযা। সমঝ্দার ও সমঝ্হীন মানুষের মাঝামাঝি স্তরের অসচ্ছ দৃষ্টির মানুষ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মুবারক মু’জিযা দেখে ঈমান এনেছেন। জলীলুল ক্বদর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ-উনার কেউই মু’জিযা দেখে ঈমান আনেননি। কারণ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুন্ নাবিয়্যীন, শাফিউল উমাম, মাশুকে মাওলা, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আযীমুশ্শান মাহাত্ম্য ও রিসালতের গুণ-বৈশিষ্ট্য উনারা আপন দৃষ্টির গভীরতায় পরিপূর্ণরূপে উপলব্ধি করে প্রত্যয়ী হয়ে উঠেছিলেন। উনাদের ঈমান গ্রহণে মু’জিযা’র সহায়ক ভূমিকার কোন প্রয়োজন ছিলনা। আকরামুল আউয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুস্ সাক্বালাইন, সাইয়্যিদুল আনাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সবকিছুই উনার মুবারক স্বাভাবিক স্বভাব ও আচরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। (অসমাপ্ত)

আবা-১৪৬

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৮৫

 


ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে ইসমে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুয্ যামান-উনার দিদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-

কারামত

আল্লাহ পাক-উনার মাহবুব ওলীগণের সকলেই ‘কারামত’ দ্বারা সমৃদ্ধ। উনাদের অধিকারে থাকে কম-বেশী-অনেক কারামত। আফযালুল ইবাদ, ফখরুল আউলিয়া, লিসানুল হক্ব, ছাহিবে কাশ্ফ ওয়া কারামত, মাদারজাদ ওলী, আওলাদে রসূল, হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহিও অসংখ্য কারামতের অধিকারী ছিলেন। আলোচনার কলেবর বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমরা উনার অগণিত কারামতের কয়েকটি সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ আলোকপাত করার প্রয়াস পাব। বর্ণনা শুরুর আগে ‘কারামত’ শব্দটির অর্থ দ্যোতনা, তাৎপর্য ও বৈশিষ্ট্য এবং উনার প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি জেনে নেয়া জরুরী বলে আমরা মনি করি। আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে:

كرامات الاولياء حق.

অর্থঃ- “ওলীআল্লাহগণের কারামত সত্য (অভ্রান্ত)।” অর্থাৎ, আল্লাহ পাক-উনার মাহবুব ওলীগণ হক্ব কারামতের অধিকারী। আল্লাহ পাক বলেন:

وهزى اليك بجذع النخلة تسقط عليك رطبا جنيا فكلى واشربى وقرى عينا.

অর্থঃ- “(হে মারইয়াম আলাইহাস্ সালাম!) ঐ খেজুর গাছের শাখা নিজের দিকে অবনমিত করুন, আপনার জন্য তা’ থেকে পড়বে সদ্যপক্ক খেজুর। অতএব, তা থেকে আপনি আহার করুন, পান করুন এবং নয়ন পরিতৃপ্ত করুন।” (সূরা মারইয়াম-২৫, ২৬)

এ আয়াত শরীফের যোগসূত্রে আল্লাহ পাক আরো বলেন:

فتقلها ربها بقبول حسن وانبتها نباتا حسنا وكفلها زكريا كلما دخل عليها زكريا المحراب وجد عندها رزقا قال يمريم انى لك هذا قالت هو من عند الله ان الله يرزق من يشاء بغير حساب.

অর্থঃ- “যখনই হযরত যাকারিয়া আলাইহিস্ সালাম মেহরাবের মধ্যে (ইবাদতখানা) উনার কাছে আসতেন, তখনই দেখতে পেতেন কিছু খাদ্য সম্ভার। জানতে চাইতেন: হে মারইয়াম আলাইহাস্ সালাম! এসব কোথা থেকে পেলেন? হযরত মারইয়াম আলাইহাস্ সালাম জবাব দিতেন: এসব আল্লাহ পাক-উনার কাছ থেকে আসে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক যাকে ইচ্ছা অপরিমেয় রিযিক দান করে থাকেন।” (সূরা আলে ইমরান-৩৭)

হযরত মারইয়াম আলাইহাস্ সালাম নবী-রসূল ছিলেন না। উপরোক্ত আয়াত শরীফে বিধৃত অলৌকিক পন্থায় উনার খাদ্য সম্ভার প্রাপ্তি এবং উনার কারণ জানতে হযরত যাকারিয়া আলাইহিস্ সালাম-উনার ঔৎসুক্য, হযরত মারইয়াম আলাইহাস্ সালাম-উনার কারামত (সম্মান) নির্দেশ করে।

হযরত সুলাইমান আলাইহিস্ সালাম-উনার আদেশের প্রেক্ষিতে উনার উযীরে আ’যম, হযরত আসিফ বিন বরখিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্রাজ্ঞী বিলকিসের আশি হাত দীর্ঘ, চল্লিশ হাত প্রশস্ত এবং তিরিশ হাত উঁচু বিরাট এক সিংহাসন নিমিষেই অর্থাৎ, এক পলক সময়ের পূর্বেই ইয়েমেনের রাজধানী সাবা থেকে তুলে এনে হযরত সুলাইমান আলাইহিস্ সালাম সমীপে হাজির করেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

قال الذى عنده علم من الكتب انا اتيك به قبل ان يرتد اليك طرفك فلما راه مستقرا عنده قال هذا من فضل ربى.

অর্থঃ- “কিতাবের জ্ঞান যার ছিলো তিনি বললেন, (হে হযরত সুলাইমান আলাইহিস্ সালাম!), আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব। অত:পর হযরত সুলাইমান আলাইহিস্ সালাম যখন তা’ সামনে রক্ষিত দেখলেন, তখন বললেন, এটি আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ।” (সূরা আন্ নমল-৪০)

হযরত আসিফ বিন বলখিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহিও নবী-রসূল ছিলেন না। সুদূর ইয়েমেনের রাজধানী সাবা থেকে রাণী বিলকিসের বিশাল সিংহাসন নিমিষেই হযরত সুলাইমান আলাইহিস্ সালাম সমীপে হাযির করার পারঙ্গমতা নিঃসন্দেহে হযরত আসিফ বিন বরখিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার কারামত নির্দেশ করে, যা’ মহান আল্লাহ পাক-উনার দান। (অসমাপ্ত)

আবা-১৪৫

একজন কুতুবুজ্জামান- উনার দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান- সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযুর ক্বিবলা সাইয়্যিদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক-পর্ব-৮৪

 


ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছহিবে কাশফ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছহিবে ইসমে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে-

একজন কুতুবুয্ যামান-উনার দিদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান- ৮৫

 পরোপকার ও দানশীলতা-

উপরোক্ত আয়াত শরীফের মিছদাক্ব হয়ে সাইয়্যিদুল মুয়াল্লিমীন, ছাহিবে শাফায়াতে কুবরা, সিরাজুম মুনীরা, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সুন্নত মুতাবিক এবং শরীয়তের অনুশাসনে মানুষকে হিকমত শিক্ষাদান এবং তাদের অন্তর পরিশুদ্ধ করে প্রকৃত হিদায়েতের পথে নিয়ে আসাই আল্লাহ পাক-উনার মাহবুব ওলীগণের মূল কাজ। মানব কল্যাণ ও পরোপকার সাধনে দুনিয়ায় যতো প্রকার বিষয়-কর্ম ও দান-খয়রাতের প্রক্রিয়া বিদ্যমান রয়েছে, সে সবের মধ্যে দুনিয়ার প্রতি আসক্ত মানুষের অন্তর ইছলাহ করে তাদেরকে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহওয়ালা করে তোলাই সর্বোত্তম।

 সুন্নত অনুসরণে এবং পূর্বের ওলীআল্লাহগণের অনুসৃত পন্থায় হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম মানুষের মন ও মননকে পরিশুদ্ধ করে অন্যায় ও গর্হিত ঈমান, আক্বীদা, আমল ও আখলাক্ব থেকে ফিরিয়ে তাদেরকে হক্ব মত ও পথে দায়িম-ক্বায়িম করেছেন। অকাতরে তিনি যতো প্রকার দান-খয়রাত করেছেন এবং জনকল্যাণে মুবারক জীবনব্যাপী যতো কাজ করেছেন, তার মধ্যে অবুঝ, বিপন্ন ও বিপথগামী মানুষের অন্তর হিদায়েতের আলোয় উদ্ভাসিত করাই সর্বোৎকৃষ্ট।

আসাদুল্লাহিল গালিব, হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে হিদায়েতের কাজে ইয়েমেন প্রেরণকালে সাইয়্যিদুল কাওনাইন, রউফুর রহীম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “হে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ইয়েমেন গিয়ে একজন মানুষকেও যদি আপনি হিদায়েতের পথে আনতে পারেন, তবে আসমান ও যমীনের সবকিছু দান করার বিনিময়ে যে ছাওয়াব হাছিল হতো, তার চেয়ে বেশী ছাওয়াব হবে।”

এ হাদীছ শরীফের মর্মবাণী হলো, প্রকৃত হিদায়েত দানের মাধ্যমে মানুষকে বিশুদ্ধ ঈমান, আক্বীদা ও আমলে দায়িমীভাবে অভ্যস্ত করে তোলাই সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট কাজ এবং এই উৎকৃষ্ট কাজটি আল্লাহ পাক এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার কাছে সর্বোত্তম আমল হিসেবে গণ্য।

প্রত্যেক মানুষই প্রকৃত হিদায়েতের মুখাপেক্ষী, যদিও সাধারণ মানুষ (মূর্খ এবং বিদ্যা অর্জন করেও যারা অজ্ঞ) হিদায়েতের অবধারিত প্রয়োজন এবং উনার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সম্পর্কে ওয়াকিফহাল নয়। হিদায়েতের জন্য অবুঝ মানুষের এই অজানা মুখাপেক্ষিতার প্রয়োজন পূরণে কুতুবুয্ যামান, আওলাদে রসূল, লিসানুল হক্ব, হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান আলাইহিস সালাম অনুক্ষণ ব্যাপৃত থেকেছেন। হিদায়েতপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে ইন্তিকাল অবধি অবিরাম প্রয়াসের জন্য তিনি চরম পর্যায়ের দানশীল হিসাবে গণ্য। মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণকামিতায় হিদায়েতরূপ মহোত্তম দান-উনার সঙ্গে সঙ্গে স্বভাব-সহজতায় তিনি অঢেল অর্থ-বিত্তও দান করেছেন। মন্দ আখলাক্ব দূর করে মানুষের মাঝে তিনি অনুপম চারিত্রিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটিয়েছেন। সৎ স্বভাব গঠনসহ মানুষের অন্তরের সুস্থতা দানে তিনি আল্লাহ পাক-উনার মনোনীত হাদী-উনার দায়িত্ব পালন করেছেন আজীবন। মানুষের প্রয়োজন পূরণ ও কল্যাণ সাধনে আপন প্রয়োজনকে তিনি তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন। আল্লাহ পাক-উনার এমন মাহবুব ওলী ছাড়া অন্য কারো পক্ষেই প্রকৃত দানশীলতার এরূপ শীর্ষ মাক্বামে অধিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়।

অসমাপ্ত

আবা-১৪৪