সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল জিন্নি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর, আহলু বাইতি রসূল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমামুল মুত্তাক্বীন, ইমামুছ ছাক্বালাইন, আবূ যাবীহিল্লাহ আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক

 
সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল জিন্নি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর, আহলু বাইতি রসূল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমামুল মুত্তাক্বীন, ইমামুছ ছাক্বালাইন, আবূ যাবীহিল্লাহ আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক

 সম্মানিত পরিচিতি মুবারক: মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টিজগতে যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার দিক থেকে সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত উনাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় মুবারক হচ্ছেন- তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত দাদাজান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তাই মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ফতওয়া মুবারক দিয়েছেন যে, “সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল ‘আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল জিন্নি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক জানা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য ফরযে আইন।” সুবহানাল্লাহ! 

মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে আমারা এখানে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক আলোচনা করার নিয়াত করেছি। মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক-এ) চুমু খেয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে হাক্বীক্বী তাওয়াল্লুক্ব-নিছবত মুবারক, ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ, ইলম, ইখলাছ, ইছলাহী ও দয়া, দান, ইহসান মুবারক ভিক্ষা চেয়ে শুরু করছি। 

সম্মানিত বংশীয় পবিত্রতা মুবারক:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَتَقَلُّبَكَ فِـى السّٰجِدِيْنَ.

অর্থ: “আর (আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টিও ছিল মহাসম্মানিত সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২১৯)

‘তাফসীরে কবীর শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, 

فَالْاٰيَةُ دَالَّـةٌ عَلـٰى اَنَّ جَمِيْعَ اٰبَاءِ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ كَانُوْا مُسْلِمِيْنَ.

অর্থ: “এই সম্মানিত আয়াত শরীফ থেকে প্রমাণিত হয় যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই মুসলমান ছিলেন, ঈমানদার ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর শরীফ ১৩/৩২) 

اِنَّهٗ كَانَ يَنْقُلُ نُوْرُهٗ مِنْ سَاجِدٍ اِلـٰى سَاجِدٍ

অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর শরীফ ১৩/৩২, মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ শরীফ ১/১০৪, শারহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব ১/৩২৬, তারীখুল খমীস ১/২৩৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لَـمْ اَزَلْ اُنْقَلُ مِنْ اَصْلَابِ الطَّاهِرِيْنَ اِلـٰى اَرْحَامِ الطَّاهِرَاتِ.

অর্থ: “আমি সবসময় পূত-পবিত্র পুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে পূত-পবিত্রা মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত ও পবিত্র রেহেম শরীফ-এ স্থানান্তরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!

এখান থেকেই সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বংশীয় পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! 

সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম: সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা ছিলেন সাইয়্যিদুল ‘আরব ওয়াল আজম, সাইয়্যিদু কুরাইশ, মাহবূবে এলাহী, আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনারা ছিলেন চার ভাই-

১. সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম,

২. সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুশ শামস ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম,

৩. সাইয়্যিদুনা হযরত মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম,

৪. সাইয়্যিদুনা হযরত নাওফিল ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম।

কেউ কেউ বলেছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন উনার ভাই উনাদের মধ্যে সকলের বড়। আবার কেউ কেউ ভিন্ন মতও পোষণ করেছেন।

আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন উনার মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার এবং সম্মানিত পরিবার উনাদের সকলের নিকট সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি আল জাদ্দাতুছ ছালিছাহ লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আতিকাহ বিনতে মুররাহ আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

তিনি কুরাইশ বংশের বনু হাশিম শাখার মহাসম্মানিত প্রথম পুরুষ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত আমর আলাইহিস সালাম। উনার সীমাহীন সম্মান ও মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার কারণে উনাকে ‘আমরু ‘উলা বা আমরুল ‘আলী’ বলে সম্বোধন করা হতো। সুবহানাল্লাহ! তিনি সকলের মাঝে সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেন। এর কারণ হিসেবে সীরাতগ্রন্থসমূহে অনেক বর্ণনা রয়েছে। অনেকের মতে তিনি সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ-এ দুর্ভিক্ষের সময় রুটি টুকরা টুকরা করে ছারীদ তৈরি করে সবাইকে খাওয়ান, যার কারণে তিনি সকলের মাঝে সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা ‘হাশমুন’ শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন, চূর্ণ করা, গুঁড়ো করা, টুকরো করা ইত্যাদি। আর সেখান থেকে ‘হাশিম’। অর্থ- টুকরাকারী, গুঁড়োকারী, চূর্ণকারী।

তিনি ছিলেন বেমেছাল দানশীল। উনার বদান্যতার বিষয়টি আরব এবং অনারব তথা সারা পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ ছিলো। সুবহানাল্লাহ!

তিনিই সর্বপ্রথম কুরাইশদের জন্য শীত ও গ্রীষ্মকালীন দুটি বাণিজ্য সফর প্রচলন করেন। সুবহানাল্লাহ! যে বিষয়টি স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ‘সম্মানিত ও পবিত্র সূরা কুরাইশ শরীফ’ উনার মধ্যে আলোচনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আবার তিনিই সর্বপ্রথম সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ-এ হাজীদেরকে ছারীদ দ্বারা আপ্যায়ন করেন। সুবহানাল্লাহ!

আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত পিতা আল জাদ্দুছ ছালিছ লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আবদু মানাফ ইবনে কুছাই আলাইহিস সালাম উনার পর রিফাদাহ ও সিক্বায়াহ তথা হাজীদের খাদ্য খাওয়ানো ও পানি পান করানোর দায়িত্ব মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী। এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, 

وكان من أحسن الناس وأجملهم،

অর্থ: “তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বোত্তম ও সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ ১/২৭০)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

كان النور يرى على وجهه كالهلال يتوقّد، لا يراه أحد إلا أحبّه وأقبل نحوه.

অর্থ: “চাঁদ যেরূপ প্রজ্বলিত হয়, তদ্রুপ সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত চেহেরা মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রজ্বলিত অবস্থায় দেখা যেতেন। সুবহানাল্লাহ! যে কেউ সেই সম্মানিত নূর মুবারক দেখতো, সে উনাকে মুহব্বত না করে পারতো না এবং সে উনার নিকট চলে আসতো।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ ১/২৭০)

আবূ সা’দ আব্দুল মালিক ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম নীশাপুরী খরকূশী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ: ৪০৭ হিজরী) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘শরফুল মুস্তফা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,

وكان النور على وجهه كالهلال يتوقد شعاعه، لا يمر بشيء إلا سجد له، ولا يراه أحد إلا أقبل نحوه

অর্থ: ‘চাঁদ যেমন তার আলোক রশ্মি প্রজ্বলিত করে থাকে, ঠিক তেমনিভাবে আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক ঝলমল করতেন। অর্থাৎ আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ চাঁদের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখা যেতেন এবং চাঁদের আলোর ন্যায় সেখান থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক উনার রশ্মি মুবারক বিচ্ছূরিত হতেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি কোনো কিছু (যেমন পশু-পাখি, গাছ-পালা, তরুলতা ইত্যাদির) পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে সেগুলো উনাকে সিজদা করতো আর জিন-ইনসান উনাকে সম্মান করতো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তিই সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক দেখতো, সে মুহব্বতের সাথে উনার নিকট অগ্রসর হতো। সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্তফা শরীফ ১/৩৩১)

সুতরাং এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, যেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

আল জাদ্দুছ ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার আলোচনা মুবারক পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে এবং রোম ও পারস্য কথিত সম্রাটদের নিজ মেয়েদেরকে উনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দেয়ার জন্য দূত প্রেরণ:

আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আলোচনা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক পূর্ববর্তী সম্মানিত আসমানী কিতাব মুবারকেও ছিলো। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে যারা সম্মানিত আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের ইলম মুবারক রাখতেন, উনারা উনাকে দেখেই চিনে ফেলতেন যে, তিনিই সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যিনি আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক ধারণ করে আছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উনার মাঝে এখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবস্থান মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই আরব-অনারবের সকল সম্ভ্রান্তশীলা মহিলাগণ উনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ হওয়ার জন্য বেকারার ছিলো। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “স্বয়ং রোম ও পারস্য কথিত সম্রাটরা তাদের নিজ মেয়েদেরকে আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দেয়ার জন্য দূত প্রেরণ করেছিলো। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।” সুবহানাল্লাহ! 

এ সম্পর্কে ইমামুল মুহাদ্দিছীন হযরত ইমাম মুহম্মদ ইবনে ইঊসুফ ছালিহী শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ: ৯৪২ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,

وبعث إليه قيصر رسولا ليتزوج ابنته لما وجد في الإنجيل من صفته فأبى.

অর্থ: “রোমের কথিত সম্রাট সম্মানিত ও পবিত্র ইনজিল শরীফ-এ আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার ছিফত তথা গুণাবলী মুবারক পেয়ে, উনার নিকট দূত প্রেরণ করেছিলো, তার কন্যাকে উনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দেয়ার জন্য। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত প্রস্তাব অস্বীকার করেন। অর্থাৎ তিনি রোমের কথিত সম্রাটের প্রস্তাব ফিরেয়ে দেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ ১/২৭০)

আবূ সা’দ আব্দুল মালিক ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম নীশাপুরী খরকূশী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ: ৪০৭ হিজরী) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘শরফুল মুস্তফা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,

وبعث إليه قيصر حفيد هرقل ملك الروم، وطلب إليه أن يزوج ابنته منه لما وجد في الإنجيل من قصته، وهو أن النور كان في وجهه ظاهرا فأبى

অর্থ: “আর তৎকালীন রোম শাসক বা কথিত সম্রাট আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ দূত প্রেরণ করে উনার নিকট এই আরজী পেশ করে যে, সে তার স্বীয় কন্যাকে উনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিতে চায়। সুবহানাল্লাহ! আর এই ঘটনাটি ঘটেছিলো, যখন রোমের কথিম সম্রাট সম্মানিত ও পবিত্র ইনজীল শরীফ-এ সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম উনার আলোচনা মুবারক পেয়েছিলো তখন। সুবহানাল্লাহ! আর নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যে, উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সুস্পষ্টভাবে দেখা যেতেন। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি (রোমের কথি সম্রাটের) উক্ত প্রস্তাব অস্বীকার করেন, ফিরেয়ে দেন।” সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্তফা শরীফ ১/৩৩১)

 অনুরূপ বর্ণনা পারস্যের কথিত সম্রাটের ক্ষেত্রেও রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল ছিলো এবং তিনি আরব-অনারব তথা সারা পৃথিবীতে কত বেমেছাল সম্মান মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন যে, স্বয়ং তৎকালীন কথিত পরাশক্তি রোম ও পারস্যের কথিত সম্রাটরা তাদের কন্যাদেরকে উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ (শাদী মুবারক) দেয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলো; কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং তিনি সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে সকলের নিকট কতটুকু সম্মানিত ছিলেন, সেটা চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ:

আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি যখন রোম ও পারস্যের কথিত সম্রাটের রাজকন্যাদের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন, তখন এক রাতে এক অপূর্ব স্বপ্ন মুবারক দেখতে থাকেনÑ “স্বয়ং যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বনী আদী ইবনে নাজ্জার গোত্রের সম্ভ্রান্তশীলা, বিস্ময়কর সৌন্দর্য মুবারক এবং পূত-পবিত্র চরিত্র মুবারক মুবারক উনার অধিকারিণী আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে ‘আমর আলাইহাস সালাম উনাকে দেখিয়ে বলতেছেন যে, আপনি উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ (শাদী মুবারক) করুন।” সুবানাল্লাহ!

এই স্বপ্ন মুবারক দেখার পর আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি শাম দেশে সফরকালে সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ-এ কিছু দিনের জন্য সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। অতঃপর সেখানে কুরাইশ বংশীয় বিশেষ শাখা বনী আদী ইবনে নাজ্জার গোত্রের সবচেয়ে সম্ভ্রান্তশীলা, সীমাহীন ইলম মুবারক উনার মালিকাহ, ত্বাহিরাহ, পূত-পবিত্রা ব্যক্তিত্বা মুবারক আল জাদ্দুছ ছানিয়াহ লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনাকে দেখতে পান। তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ে সমগ্র কুরাইশ, আবর এবং আজম তথা সারা পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে পবিত্রতা, সম্মানিতা এবং সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ!

আল জাদ্দুছ ছানীলিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহলিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনাকে দেখার সাথে সাথেই চিনে ফেলেন যে, তিনিই স্বপ্ন মুবারক-এ দেখা সেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবাহানাল্লাহ! আর উনাকেই সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করার জন্য স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন। এ সম্পর্কে ‘শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, 

فأري في المنام أن تزوج بنت زيد بن عمرو فتزوج بها

অর্থ: “অতঃপর উনাকে স্বপ্ন মুবারক দেখানো হয় যে, তিনি যেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর বিনতে যায়েদ ইবনে আমর আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন। অতঃপর তিনি উনাকে নিসবতে আযীম শরীফ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্তফা শরীফ ১/৩৩১)

আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার মাঝে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশরীফ মুবারক নেয়া:

আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সাথে আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয় সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি বেশ কিছু দিন সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ অবস্থান মুবারক করেন। তখনই উনার সম্মানিত ও পবিত্র কপাল মুবারক থেকে ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক’ আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ (সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ) কুদরতীভাবে মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন। সুবহানাল্লাহ! সে রাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে অফুরন্ত রহমত-বরকত সাকীনাহ মুবারক নাযিল করেন এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনাকে অপরূপ সাজে সুসজ্জিত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

আল জাদ্দুছ ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার এবং আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মাঝে আযীমুশ শান মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বাড়িতে অর্থাৎ সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফেই অবস্থান মুবারক করতে থাকনে। সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ে অনেক বর্ণনা রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, আযীমুশ শান মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই বলা হয়েছে যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফেই অবস্থান মুবারক করবেন এবং সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফেই উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন। সুবহানাল্লাহ! আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন এবং সম্মানিত অবস্থান মুবারকও করেছেন। কিতাবে এরূপ আরো অনেক মত উল্লেখ রয়েছে। তবে এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত নানাজান সাইয়্যিদুনা হযরত আমর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বাড়িতে তথা সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক থেকে বিশেষ সম্মানিত মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন উনারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, আপনার যিনি মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি এখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন, তিনি হবেন যিনি সমস্ত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দাদাজান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তাই উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে আপনার নিকট প্রেরণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুদরতীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার মাঝে তখন ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি’ সম্মানিত অবস্থান মুবারক করছিলেন। সুবহানাল্লাহ! ফলে সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র হুজরা শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ এবং উনার আশপাশ সমস্ত কিছু আলোকিত হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক রাখা এবং সম্মানিত আক্বীক্বাহ মুবারক দেয়া:

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিনে উনার সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া হয় এবং উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক রাখা হয়। উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক কি এ বিষয়ে সীরাতগ্রন্থগুলোতে অনেক বর্ণনা রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক ‘সাইয়্যিদুনা হযরত আমির আলাইহিস সালাম।’ আবার কেউ কেউ বলেছেন, উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম।’ আবার কেউ কেউ বলেছেন, উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাতুল হামদ আলাইহিস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ!

এ বিষয়ে মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বোত্তম ফায়ছালা মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “প্রকৃপক্ষে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র মূল ইসম বা নাম মুবারক ছিলেন, ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ! তবে একজন মানুষের যেমন একাধিক নাম মুবারক থাকে সেই হিসেবে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আরো একখানা সম্মানিত নাম মুবারক ছিলেন, ‘সাইয়্যিদুনা হযরত আমির আলাইহিস সালাম’। আর ‘শায়বাতুল হামদ’ হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা সম্মানিত বিশেষ লক্বব মুবারক।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক কেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম’ রাখা হয়েছে, এ বিষয়ে সীরাতবিশারদগণ উনারা বিভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত ওছীয়ত মুবারক করেন যে, তিনি যেন উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক রাখেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ! তাই উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক রাখা হয় ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ! যেমন কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, 

لأن أباه وصّى أمه بذلك.

অর্থ: “কেননা উনার মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে এ বিষয়ে সম্মানিত ওছীয়ত মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ শরীফ ১/২৬২)

আর এটা এই জন্য যে, সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শুভ পরিণাম সম্পর্কে, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে অবহিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি জানতেন যে, ‘উনার যেই মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করতে যাচ্ছেন, তিনি ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনাকে বহন করবেন এবং তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত দাদাজান হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি কায়িনাতের মাঝে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যবান হবেন। সবহানাল্লাহ! অল্প বয়স মুবারক থেকেই উনার বেমেছাল ইলম, হিকমত ও সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি প্রকাশিত হতে থাকবে। সুবহানাল্লাহ! তাই তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র নাম মুবারক ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম’ রাখার জন্য সম্মানিত ওছীয়ত মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা, আরবরা স্বীয় সন্তানদের বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তাতার কামনা করে উনাদের সন্তানদের নাম রাখতেন শায়বাহ। সুবহানাল্লাহ!

মূল কথা হলো, আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি এবং আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা’ মুবারক এবং সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক-এ আদিষ্ট হয়ে উনাদের মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক রেখেছেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ! আর উনাদের সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক এবং সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক ছিলেন সম্মানিত ওহী মুবারক উনার ন্যায় অকাট্য। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক: আবূ হারিছ আলাইহিস সালাম, আবূ আব্দিল্লাহ আলাইহিস সালাম, আবূ বাত্বহা’ আলাইহিস সালাম।

জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: 

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ (রেহেম শরীফ-এ) অবস্থান মুবারক করেন, তখন উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান, আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে শাম দেশে রওয়ানা হন। অতঃপর ফিলিস্তিনের গাযা শহরে মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! সেখানে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ অবস্থিত, যা সকলের নিকট সুপরিচিত। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক অনুযায়ী গাযা শহরে ‘মসজিদুস সাইয়্যিদি হাশিম’ নামে একখানা মসজিদও রয়েছে। উনার কারণে গাযা শহরকে ‘গাযায়ে হাশিম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! 

 শৈশবকালে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত লালন-পালন মুবারক:

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ-এ উনার মহাসম্মানিত নানাজান আলাইহিস সালাম উনার বাড়িতে উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল আদর-যত্ম মুবারক-এ লালিত-পালিত হন। সুবহানাল্লাহ! সেখানে তিনি ৬, ৭ বা ৮ বছর সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন।

 সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকলের মাঝে ‘সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম’ হিসেবে মশহূর হওয়ার কারণ:

এ বিষয়েও সীরাতগ্রন্থগুলোতে অনেক মত পরিলক্ষিত হয়। তবে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর থেকে সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ-এ উনার মহাসম্মানিত নানাজান আলাইহিস সালাম উনার বাড়ীতে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করতে থাকেন। যখন উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ৬, ৭ বা ৮ বছর, তখন উনার সম্মানিত চাচা সাইয়্যিদুনা হযরত মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ আনার জন্য সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ যান। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার অনুমতিক্রমে সাইয়্যিদুনা হযরত মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ নিয়ে আসেন। তারপর তিনি উনাকে অত্যন্ত আদর-যত্ম ও মায়া-মুহব্বত মুবারক করে লালন-পালন মুবারক করতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত চাচা সাইয়্যিদুনা হযরত মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার নিকট সর্বাধিক প্রিয় ও মুহব্বতের পাত্র ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর আরবীতে ‘আবদ’ শব্দ মুবারক উনার একখানা অর্থ মুবারক হচ্ছেন, ‘হাবীব, মাহবূব, প্রিয়’। যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করতেন, তাই সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘আব্দুল মুত্ত্বালিব’ তথা মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার প্রিয়পাত্র বলে সম্বোধন করা হতো। সুবহানাল্লাহ! সেখান থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকলের মাঝে ‘আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম’ হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক:

মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল বাশার ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সময় পর্যন্ত যেই সুমহান ব্যক্তিত্ব এবং ব্যক্তিত্বা মুবারক উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ধারণ মুবারক করেছেন উনারা প্রত্যেকেই হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত।” সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যত খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক রয়েছে, সমস্ত খূছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্রতা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيْرًا.

অর্থ: “হে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

فَاَنَا وَاَهْلُ بَيْتِىْ مُطَهَّرُوْنَ مِنَ الذُّنُوْبِ.

অর্থ: “আমি এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম আমরা সকলেই যুনূব তথা সমস্ত প্রকার ছগীরা-কবীরা এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পূত-পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ! (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বায়হাক্বী, শিফা ১/৩২৫, সীরাতে হালবিয়্যাহ ১/৪২, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ১/৪৯৮, খছাইছুল কুবরা ১/৬৬, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৩৫, তাফসীরে দুররে মানছূর লিস সুয়ূত্বী ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩ ইত্যাদি) 

সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نَـحْنُاَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.

অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)

এ সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনার সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক কতো বেমেছাল, তা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’:

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দৃষ্টিকাড়া বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত ও পবিত্র চেহারা মুবারক-এ সবসময় মহাসম্মানিত এবং মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঝলমল করতেন। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, 

ونور رسول الله صلى الله عليه وسلم يضيء في غرته،

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ ‘নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ঝলমল করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ শরীফ)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

"وكان نور رسول الله صلى الله عليه وسلم يضيء في غرته" أي: جبهته بينًا واضحًا،

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ ‘নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ অত্যন্ত সমুজ্জ্বলভাবে ঝলমল করতেন।” (শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

على شيبة الحمد الذي كان وجهه ...

 يضيء ظلام الليل كالقمر البدري

অর্থ: “পূর্ণ চাঁদের মতো শায়বাতুল হামদ সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র চেহারা মুবারক অন্ধকার রাতকে আলোকিত করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুয যারক্বানী)

সম্মানিত বিশেষ শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ:

عن كعب الأحبار: أن نور رسول الله صلى الله عليه وسلم- لما صار إلى عبد المطلب وأدرك، نام يوما فى الحجر فانتبه مكحولا مدهونا، قد كسى حلة البهاء والجمال، فبقى متحيرا لا يدرى من فعل به ذلك، فأخذه أبوه بيده ثم انطلق به إلى كهنة قريش فأخبرهم بذلك، فقالوا له: اعلم أن إله السماوات قد أذن لهذا الغلام أن يتزوج، فزوجه قيلة فولدت له الحارث

অর্থ: “হযরত কা’ব ইবনে আহবার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু হতে বর্ণিত রয়েছে, ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ যখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে স্থান্তরিত হলেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পরিণত বয়স মুবারক-এ উপনীত হলেন, তখন তিনি একদিন সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার হাতিম-এ ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখলেন যে, উনার সম্মানিত চোখ মুবারক-এ সুরমা লাগানো, সম্মানিত মাথা মুবারক উনার চুল মুবারক তৈল লাগানো এবং এক সেট অতি উজ্জ্বল ও সুন্দর মূল্যবান কাপড় পরিহিত। সুবহানাল্লাহ! সমস্ত লোক উনার সৌন্দর্য মুবারক ও মাহাত্ম্য দেখে অবাক হয়ে গেলো যে, তিনি এটা কিভাবে পেলেন, কে উনাকে এই উচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করলেন। এই ঘটনার পর উনার সম্মানিত চাচা উনাকে কুরায়শদের কয়েকজন বিশেষ ব্যক্তি যারা আসমানী কিতাবসমূহের ইলম রাখতেন উনাদের নিকট নিয়ে গেলেন এবং উনাদেরকে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন। উনারা বললেন, আপনি জেনে রাখুন, আকাশের রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ’ করার ইযাযত মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তখন উনার চাচা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ক্বায়লা আলাইহাস সালাম উনার সাথে উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! (তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বড় আওলাদ।) (‘মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ শরীফ)

আযওয়াজুম মুত্বহ্হারাতগণ-

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আযওয়াজুম মুত্বহ্হারাত আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন ৬ জন। উনারা হচ্ছেন,

১. সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমা বিনতে আমার ইবনে ‘আয়িয আলাইহাস সালাম। উনার মাধ্যমেই আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

২. সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছফিয়্যাহ বিনতে জুনদুব আলাইহাস সালাম। উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত ক্বায়লা আলাইহাস সালাম,

৩. সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালাহ বিনতে ওয়াহাইব আলাইহাস সালাম। তিনি ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আপন চাচাতো বোন।

৪. সাইয়্যিদাতুনা হযরত নুতাইলাহ্ বিনতে জানাব আলাইহাস সালাম,

৫. সাইয়্যিদাতুনা হযরত লুব্না বিনতে হাজার আলাইহাস সালাম,

৬. সাইয়্যিদাতুনা হযরত মুমান্না‘আহ্ বিনতে ‘আমর আলাইহাস সালাম। 

 সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত চাচা সাইয়্যিদুনা হযরত মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:

هَلَكَ الْمُطَّلِبُ بِرَدْمَانَ مِنْ أَرْضِ الْيَمَنِ،

 অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি ইয়ামেনের রাদমান এলাকায় মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” (ইবনে হিশাম)

তখন জনৈক এক আরব্য কবি উনার উদ্দেশ্যে শোক প্রকাশ করে বলেন, 

قَدْ ظَمِئَ الْحَجِيجُ بَعْدَ الْمُطَّلِبِ ...

 بَعْدَ الْجِفَانِ وَالشَّرَابِ المُنْثَعِبْ

لَيْتَ قُرَيْشًا بَعْدَهُ عَلَى نَصَبْ

অর্থ: “হাজীগণ কানায় কানায় পূর্ণ পেয়ালায় যমযমের পানি পান করেও সাইয়্যিদুনা হযরত মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের কারণে পিপাসার্ত রয়ে গেলো।

 হায়! যদি কুরায়শগণ উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর এক পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতো।” (ইবনে হিশাম)

সিকায়া ও রিফাদা:

‘সীরাতে ইবনে হিশাম শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,

ثُـمَّ وَلِيَ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ بْنُ هَاشِمِ السِّقَايَةَ وَالرِّفَادَةَ بَعْدَ عَمِّهِ الْمُطَّلِبِ، فَأَقَامَهَا لِلنَّاسِ وَأَقَامَ لِقَوْمِهٖ مَا كَانَ اٰبَاؤُهُ يُقِيْمُوْنَ قَبْلَهٗ لِقَوْمِهِمْ مِنْ اَمْرِهِمْ، وَشَرُفَ فِـىْ قَوْمِهٖ شَرَفًا لَـمْ يَبْلُغْهُ اَحَدٌ مِنْ اٰبَائِهِ.

অর্থ: “চাচা সাইয়্যিদুনা হযরত মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘সিকায়া ও রিফাদা’ তথা হাজীদের পানি পান করানো ও খাদ্য খাওয়ানোর দায়িত্ব মুবারক গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি উনার পূর্বপুরুষ উনাদের ন্যায় ক্বাওমের যাবতীয় দায়িত্ব সুচারুরূপে আনজাম দেন এবং সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি ও মর্যাদায় তিনি উনার পূর্বসূরীদের ছাড়িয়ে যান।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে হিশাম)

সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুন নাস, মালিকু আহলি বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার প্রায় ৮৭ বছর পূর্বে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২০শে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবী‘উল আউওয়াল শরীফ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক যখন ৮ বছর ২ মাস ১০ দিন, তখন ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার) মালিকুল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন অর্থাৎ পবিত্র দীদার মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ৯৫ বছর ২ মাস ২ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। 

মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাওয়ানেহ্ ‘উমরী মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক জানার, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করার, উনাকে সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করার এবং দায়িমীভাবে অনন্তকাল যাবৎ উনার সম্মানিত গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন! আমীন! আমীন!  

 সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক

 

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক

 সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা ছিলেন ওই যামানায় মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ লক্ষ্যস্থল, উনার সর্বাধিক মাহবূব ও মাহবূবাহ। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ যামানায় সমস্ত মানুষকে রিযিক দিয়েছেন, বৃষ্টি দিয়েছেন, সাহায্য করেছেন, যাবতীয় নিয়ামতরাজি দ্বারা ধন্য করেছেন এবং জিন-ইনসান ও তামাম কায়িনাতবাসীকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছেন। সারা পৃথিবী, সারা কায়িনাত সেই সময় উনাদের সম্মানার্থে টিকে ছিলো। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَن حضرت ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه قَالَ مَا خَلَتِ الْأَرْضُ مِنْ بَعْدِ نُوحٍ مِنْ سَبْعَةٍ يَدْفَعُ اللَّهُ بِهِمْ عَنْ أَهْلِ الْأَرْضِ

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার পর থেকে সবসময়ই দুনিয়ার যমীনে মহান আল্লাহ পাক উনার সাতজন খাছ মাহবূব ব্যক্তিত্ব মুবারক ছিলেন। উনাদের উছীলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি তামাম পৃথিবীবাসী, সমগ্র কায়িনাতবাসীকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছেন।” (মাসালিকুল হুনাফা, আল হাওই)

আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, 

قَالَ سيدنا حضرت امام الاول عليه السلام (سيدنا حضرت عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام) لَمْ يَزَلْ عَلَى وَجْهِ الدَّهْرِ فِي الْأَرْضِ سَبْعَةٌ مُسْلِمُونَ فَصَاعِدًا فَلَوْلَا ذَلِكَ هَلَكَتِ الْأَرْضُ وَمَنْ عَلَيْهَا

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সবসময়ে দুনিয়ার যমীনে সাতজন বা তার চেয়েও বেশি মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ অনুগত মাহবূব ব্যক্তিত্ব মুবারক ছিলেন। যদি তা না হতো সারা পৃথিবী ও তার মাঝে যা কিছু আছে সমস্ত কিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো।” (মাসালিকুল হুনাফা, আল হাওই)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে, 

لَمْ يَزَلْ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ سَبْعَةٌ مُسْلِمُونَ فَصَاعِدًا لَوْلَا ذَلِكَ لَأُهْلِكَتِ الْأَرْضُ وَمَنْ عَلَيْهَا.

অর্থ: “দুনিয়ার যমীন কখনই সাতজন বা তার চেয়ে অধিক মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ মুসলিম তথা অনুগত মাহবূব ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের থেকে খালি ছিলো না। যদি থাকতো তাহলে সারা পৃথিবী, সারা কায়িনাতসহ সকল সৃষ্টি জীব নিশ্চহ্ন হয়ে যেতো।” সুবহানাল্লাহ! (মাসালিকুল হুনাফা, আল হাওই)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

مَا خَلَتِ الْأَرْضُ بَعْدَ نُوحٍ مِنَ اثْنَيْ عَشَرَ فَصَاعِدًا يَدْفَعُ اللَّهُ بِهِمْ عَنْ أَهْلِ الْأَرْضِ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার পর থেকে কখনই দুনিয়ার যমীন ১২ জন বা তার চেয়ে বেশি আখাচ্ছুল খাছ বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের থেকে খালি ছিলো না। মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই সকল ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের মাধ্যমে পৃথিবীবাসীকে, কায়িনাতবাসীকে রক্ষা করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মাসালিকুল হুনাফা, আল হাওই)

আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

لَا يَزَالُ فِيْكُمْ سَبْعَةٌ بِـهِمْ تُنْصَرُوْنَ وَبـِهِمْ تُـمْطَرُوْنَ وَبِـهِمْ تُرْزَقُوْنَ حَتَّى يَأْتِـىَ اَمْرُ اللهِ.

অর্থ: “সব সময় তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ সাতজন মাহবূব ব্যক্তিত্ব মুবারক উনারা অবস্থান মুবারক করবেন। তোমরা উনাদের উসীলায় সাহায্য পাবে, বৃষ্টি পাবে এবং রিযিক্ব পাবে। আর তা ক্বিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে।”সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে কাছীর ১/৬৭০, মু’জাম ইবনে মুক্বরি ১/১৬২, মুছান্নাফে আব্দির রাজ্জাক্ব )

সুতরাংসাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ যামানায় মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ লক্ষ্যস্থল ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, তিনি হচ্ছেন সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! কেননা তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহাসম্মানিত দাদাজন আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!


 মুজাবুদ দা’ওয়াহ, শায়খুল বাত্বহা’, আবূ যাবীহিল্লাহ আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বদদোআ মুবারক উনার কারণে আবরাহা তার দলবলসহ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া

মুজাবুদ দা’ওয়াহ, শায়খুল বাত্বহা’, আবূ যাবীহিল্লাহ আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বদদোআ মুবারক উনার কারণে আবরাহা তার দলবলসহ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া

 কাট্টা কাফির নাক কাটা আবরাহা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ ধ্বংস করতে এসে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বদদোআ মুবারক উনার বদৌলতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার দ্বারাও বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত তাওল্লুক-নিসবত মুবারক কত বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ। এই সম্পর্কে কিতাব-এ বর্ণিত রয়েছেন, তিনি আবরাহার বিরুদ্ধে এইভাবে সম্মানিত মুনাজাত মুবারক করেছিলেন-

اللهم ان المرء يمنع + رحله فامنع رحالك

وانصر على ال الصليب + وعابديه اليوم لك

لا يغلبن صليبهم + ومحالهم ابدا محالك

جروا جميع بلادهم + والفيل كى يسبوا عيالك

عمدوا حمال بليدهم + جهلا وما رقبوا جلالك

অর্থ: “আয় বারে এলাহী! নিশ্চয়ই বান্দা তার জায়গার হিফাযত করে, আর আপনি আপনার ঘর মুবারক হিফাযত করুন। ক্রুশের অধিকারী এবং ক্রুশের উপসনাকারীদের মুকাবিলায় আপনার অনুসারীদের সাহায্য করুন। ওদের ক্রুশ এবং ওদের প্রচেষ্টা আপনার ইচ্ছার উপর কখনো বিজয়ী হতে পারে না। সুবহানাল্লাহ! সৈন্য-সামন্ত ও হাতি নিয়ে আবরাহা এসেছে আপনার প্রতিবেশীদের গ্রেফতার করতে। না‘ঊযুবিল্লাহ! আপনার সম্মানিত ঘর মুবারক ধ্বংস করার উদ্দেশ্য নিয়ে জিহালতীর কারণে তারা এ সংকল্প করেছে, না‘ঊযুবিল্লাহ! তারা আপনার বড়ত্ব ও শক্তির প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করছে না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (দালাইলিনু নুুবুওওয়াহ, মাদারিযুন নবুওওয়াত, সীরাতুল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইত্যাদি)

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার সম্মানিত গিলাফ মুবারক ধরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত উসীলা মুবারক দিয়ে সম্মানিত বদদোয়া মুবারক করলেন, আয় বারে ইলাহী! আমি তো সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার মালিক না, আপনি মালিক। আমাকে দেখা শুনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, আমি দেখাশুনা করে রাখতে ছিলাম। এখন হঠাৎ করে আবরাহা এসেছে তার সৈন্য সামন্ত নিয়ে, হাতি-ঘোড়া নিয়ে, অস্ত্রপাতি নিয়ে। আয় বারে এলাহী! আমাদের সেই প্রস্তুতি নেই তার মোকাবেলা করার। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বললেন, আমাদের প্রস্তুতি নেই আয় বারে এলাহী! কাজেই, আপনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার মালিক, আপনিই উনার হিফাযতকারী। আপনিই হিফাযত করুন। (আমীন) (আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত মুকবুল মুনাজাত শরীফ থেকে সংগৃহিত)

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বদদোয়া মুবারক উনার বদৌলতে আবরাহা তার দলবলসহ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! 

এই সকল বিষয় দ্বারা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত ও বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

স্বয়ং উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, 

وَإِن ابِىْ ذُو الْمَجْدِ وَالسُّؤْدَدِ الَّذِىْ . 

يُشَارُ بِهِ مَا بَيْنَ نَشْزٍ إِلَى خَفْضِ

অর্থ: “আর নিশ্চয়ই আমার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক ও সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত ইশারা-ইঙ্গিত মুবারক-এ, নির্দেশ মুবারক-এ পরিচালিত হয় উঁচু থেকে নিচু (সম্মানিত আরশে আযীম থেকে তাহ্তাছছারা পর্যন্ত) এতোদুভয়ের মাঝে (সারা কায়িনাতে) যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছু। সুবহানাল্লাহ! (‘আল হাওই শরীফ ২/২২১, মাসালিকুল হুনাফা ফী হুকমি ঈমানি ওয়ালিদাইল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২৫ পৃষ্ঠা, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ শরীফ ১/২৪৭, সুমতুন নুজূম ১/২৯৮ ইত্যাদি)

 সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক ও সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক ও সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন

 সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত কুরাইশ বংশ উনার সাইয়্যিদ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন সমস্ত প্রকার উত্তম গুণাবলী মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! আরো ছিলেন বেমেছাল খুছূছিয়াত ও বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে ছিলো বেমেছাল তাওয়াল্লুক্ব ও নিসবত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রেই মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা পরিচালিত হতেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে মহান আল্লাহ পাক উনার কতটুকু মাহবূব ছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার কত বেমেছাল-তাওয়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক ছিলো তা ‘সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক’ পুনরুদ্ধারের ঘটনা মুবারক দ্বারাই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! মূলত সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক ও সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে সেই কঠিন সময়ে উনার পক্ষে সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক পুনরুদ্ধার করা সহজ এবং সম্ভব হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক ও সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন তা নিম্নোক্ত বর্ণনা মুবারক দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। যেমন এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন, 

عَبْدُ الْمُطَّلِبِ (عليه السلام) يَدْعُو اللهَ وَيَقُولُ:

اللهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ الْمَحْمُودْ . رَبِّي وَأَنْتَ الْمُبْدِئُ الْمُعِيدْ

وَمُمْسِكُ الرَّاسِيَةِ الْجُلْمُودْ ... مِنْ عِنْدِكَ الطَّارِفُ وَالتَّلِيدْ

إِنْ شِئْتَ أَلْهَمْتَ لِمَا تُرِيدْ ... لِمَوْضِعِ الْحِلْيَةِ وَالْحَدِيدْ

فَبَيِّنِ الْيَوْمَ لِمَا تُرِيدْ ... إِنِّي نَذَرْتُ عَاهِدَ الْعُهُودْ

اجْعَلْهُ رَبِّ لِي وَلَا أَعُودْ

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া মুবারক করেন, আয় আল্লাহ পাক, আপনি চরম প্রশংসিত এবং সমস্ত কায়িনাতের মালিক। আপনি আমার প্রতিপালক, রব, আপনি সমগ্র সৃষ্টির সূচনাকারী এবং ফেরত দানকারী। আপনি পাথুরে পাহাড়কে সুদৃঢ় করে রেখেছেন। আপনার নিকট থেকে আসে নতুন অর্থ-সম্পদ ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ। আপনি ইচ্ছা মুবারক করলে আমার মনে সম্মানিত ইলহাম মুবারক করবেন (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার) ওই স্থান মুবারক সম্পর্কে যেখানে (সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের) স্বর্ণালঙ্কার ও অস্ত্রশস্ত্র মুবারক প্রোথিত রয়েছে। আজ আপনি আমাকে অবহিত করেন আপনার ইচ্ছা যদি আপনার মর্জি হয়। আমি শপথ করছি, আপনি আমাকে তা দিয়ে দিন। আমি আর চাইবো না।” (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিলবাইহাক্বী ১/৯৩, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াহ ২/৩০৪, ইবনে ইসহাক্ব ১/২৭ ইত্যাদি)

 সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা সম্মানিত বিশেষ স্বপ্ন মুবারক এবং উক্ত সম্মানিত বিশেষ স্বপ্ন মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা সম্মানিত বিশেষ স্বপ্ন মুবারক এবং উক্ত সম্মানিত বিশেষ স্বপ্ন মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক

 কিতাবে বর্ণিত আছেন,

عَنْ سَيِّدِنَـا حضرت جد رسول الله صلى الله عليه وسلم (سيدنا حَضْرَتْ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) قَالَ بَيْنَا اَنَا نَائِمٌ فِـى الْـحِجْرِ اِذْ رَاَيْتُ رُؤْيَا هَالَـتْنِـىْ فَفَزِعْتُ مِنْهَا فَزَعًا شَدِيْدًا فَاَتَيْتُ كَاهِنَةَ قُرَيْشٍ وَعَلَىَّ مُطْرَفُ خَزٍّ وَّجُـمَّتِـىْ تَضْرِبُ مَنْكِـبَـىَّ فَلَمَّا نَظَرَتْ اِلَـىَّ عَرَفَتْ فِـىْ وَجْهِىَ التَّغَـيُّرَ وَاَنَا يَوْمَئِذٍ سَيِّدُ قَوْمِىْ فَقَالَتْ مَا بَالُ سَيِّدِنَـا قَدْ اَتَانَا مُـتَـغَـيِّـرَ اللَّوْنِ هَلْ رَاَيْتَ مِنْ حِدْثَانِ الدَّهْرِ شَيْئًا فَقُلْتُ لَـهَا بَلـٰى وَكَانَ لَا يُكَـلِّـمُـهَا اَحَدٌ مِّنَ النَّاسِ حَتّٰى يُـقَـبِّـلَ يَدَهَا الْيُمْنٰى ثُـمَّ يَضَعُ يَدَهٗ عَلـٰى اُمِّ رَاْسِهَا ثُـمَّ يَذْكُرُ حَاجَتَهٗ وَلَـمْ اَفْعَلْ لِاَنِّـىْ كُنْتُ كَبِيْرَ قَوْمِـىْ. فَجَلَسْتُ فَقُلْتُ اِنّـِــىْ رَاَيْتُ اللَّيْلَةَ وَاَنَا نَائِمٌ فِـى الْـحِجْرِ كَاَنَّ شَجَرَةً تَـنْۢـبُتُ قَدْ نَالَ رَاْسُهَا السَّمَاءَ وَضَرَبَتْ بِاَغْصَانِـهَا الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَمَا رَاَيْتُ نُوْرًا اَزْهَرَ مِنْهَا اَعْظَمَ مِنْ نُّوْرِ الشَّمْسِ سَبْعِيْنَ ضِعْفًا. وَرَاَيْتُ الْعَرَبَ وَالْعَجَمَ سَاجِدِيْنَ لَـهَا وَهِىَ تَزْدَادُ كُلَّ سَاعَةٍ عِظَمًا وَّنُوْرًا وَّارْتـِفَاعًا سَاعَةً تَـخْفٰى وَسَاعَةً تَزْهَرُ وَرَاَيْتُ رَهْطًا مِّنْ قُرَيْشٍ قَدْ تَعَلَّقُوْا بِاَغْصَانِـهَا وَرَاَيْتُ قَوْمًا مِّنْ قُرَيْشٍ يُرِيْدُوْنَ قَطْعَهَا فَاِذَا دَنَوْا مِنْهَا اَخَّرَهُمْ شَابٌّ لَّـمْ اَرَ قَطُّ اَحْسَنَ مِنْهُ وَجْهًا وَّلَا اَطْيَبَ مِنْهُ رِيْـحًا فَيَكْسِرُ اَظْهَرَهُمْ وَيَقْلَعُ اَعْيُنَهُمْ فَرَفَعْتُ يَدِىْ لِاَتَنَاوَلَ مِنْهَا نَصِيْـبًا فَمَنَعَنِـىَ الشَّابُّ فَقُلْتُ لِمَنِ النَّصِيْبُ فَقَالَ النَّصِيْبُ لِـهٰؤُلَاءِ الَّذِيْنَ تَعَلَّـقُوْا بِـهَا وَسَبَقُوْكَ اِلَيْهَا فَانْتَـبَهْتُ مَذْعُوْرًا فَزِعًا فَرَاَيْتُ وَجْهَ الْكَاهِنَةِ قَدْ تَغَـيَّرَ ثُـمَّ قَالَتْ لَئِنْ صَدَقَتْ رُؤْيَاكَ لَيَخْرُجَنَّ مِنْ صُلْبِكَ رَجُلٌ يَّـمْلِكُ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَيَدِيْنُ لَهُ النَّاسُ 

অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, একদা আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার হাতিম-এ ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন আমি একখানা বরকতময় স্বপ্ন মুবারক দেখি, যা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলো। আমি তা দেখে খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আমি সম্মানিত কুরাইশ বংশীয় একজন মহিলা তা’বীরবিদ উনার নিকট গেলাম। আমার গায়ে ছিলো নকশাওয়ালা রেশমী চাদর মুবারক এবং আমার লম্বা চুল মুবারক (বাবড়ি চুল মুবারক) ঘাড় মুবারক-এ ঝুলছিলেন। আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করে তিনি আমার চেহারায় পরিবর্তন টের পেয়ে যান। আমি তখন আমার সম্মানিত ক্বওম তথা সম্প্রদায়ের সাইয়্যিদ। তিনি বললেন, আমাদের মহাসম্মানিত সরদার উনার কী হলো যে, তিনি এমন বিবর্ণ চেহারা মুবারক নিয়ে আমার নিকট সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রেখেছেন? আপনি কী ব্যতিক্রম কোনো স্বপ্ন মুবারক দেখেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তার নিয়ম ছিলো, কেউ তার নিকট আসলে প্রথমে আগন্তুককে তার ডান হাত চুম্বন করতে হতো এবং তার মাথার তালুতে হাত রাখতে হতো। এরপর তার সাথে কথা বলার ও সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ পাওয়া যেত। আমি এসব করলাম না। অতঃপর আমি বসে বললাম, গত রাতে আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার হাতিমে ঘুমিয়ে ছিলাম। তারপর আমি (স্বপ্ন মুবারক) দেখি, একটি সম্মানিত গাছ মুবারক মাটি থেকে অঙ্কুরিত হলো। দেখতে দেখতে উক্ত মুবারক বৃক্ষ উনার শাখা-প্রশাখা আকাশচুম্বী হয়ে গেলো এবং পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা কায়িনাতে ছড়িয়ে পড়লো। আর এই সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক থেকে একখানা নূর মুবারক নির্গত হলেন। যাঁর আলো সূর্য থেকে সত্তরগুণ তথা কোটি কোটি গুণ বেশি ছিলো। আরব-অনারব সকলেই সেই সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক উনার সামনে সিজদাবনত ছিলো। প্রতিমুহূর্তে উক্ত সম্মানিত গাছ মুবারক উনার পরিধি, নূর মুবারক ও উচ্চতা মুবারক বেড়েই চলছিলেন। সেই সম্মানিত গাছ মুবারক উনার নূর মুবারক কখনো ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেতেন এবং কখনো গোপন হয়ে যেতেন। আমি আরো দেখলাম, একদল কুরাইশ এই সম্মানিত বৃক্ষ উনার ডাল মুবারক ধরে ঝুলে আছেন। কুরাইশদের অপর একটি দল গাছটি কেটে ফেলার চেষ্টা করছে। তারা কাটার উদ্দেশ্যে সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক উনার নিকটবর্তী হলে একজন সুদর্শন যুবক তাদেরকে হটিয়ে দিতেন। সেই সম্মানিত যুবক উনার মতো এতো অধিক সুন্দর ও সৌরভময় যুবক আমি আর কখনো দেখিনি। এই সম্মানিত যুবক তিনি পিটিয়ে তাদের হাড়-গোড় ভেঙ্গে দিচ্ছিলেন এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেলছিলেন। আমি দু’হাত মুবারক বাড়িয়ে উক্ত সম্মানিত গাছ মুবারক থেকে কিছু নিতে চাইলাম। কিন্তু সম্মানিত যুবক তিনি আমাকে বারণ করলেন। আমি বললাম, তাহলে এই সম্মানিত গাছ মুবারক কাদের জন্য? তিনি বলেনন, যাঁরা এই সম্মানিত গাছ মুবারক ধরে ঝুলে আছেন এবং যাঁরা আপনার সামনে আসবেন অর্থাৎ পরবর্তীতে যাঁরা আসবেন। অর্থাৎ ভবিষ্যত বংশধরগণ উনাদের জন্য এই সম্মানিত গাছ মুবারক। এই স্বপ্ন মুবারক দেখে আমি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় জেগে উঠলাম।

আমি দেখতে পেলাম এই স্বপ্ন মুবারক শুনে ওই মহিলা তা’বীরবিদ উনার মুখমন্ডল বিবর্ণ হয়ে গেলো। তিনি বললেন, আপনার স্বপ্ন মুবারক যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে

لَيَخْرُجَنَّ مِنْ صُلْبِكَ رَجُلٌ يَّـمْلِكُ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَيَدِيْنُ لَهُ النَّاسُ 

“অবশ্য অবশ্যই আপনার মহাসম্মানিত বংশ মুবারক থেকে অর্থাৎ আপনার মহাসম্মানিত  ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে এমন একজন মহাসম্মানিত সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি আগমন করবেন, যিনি পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা কায়িনাতের মালিক হবেন তথা নবী-রসূল হবেন এবং সমস্ত মানুষ উনার সম্মানিত দ্বীন গ্রহণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ নাঈম, বিদায়া-নিহায়াহ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ইত্যাদি)

এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছেন, 

لَيَخْرُجَنَّ مِنْ صُلْبِكَ رَجُلٌ يـَّمْلِكُ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَيَدِيْنُ لَهُ النَّاسُ. 

অর্থ: “অবশ্য অবশ্যই আপনার মহাসম্মানিত বংশ মুবারক থেকে অর্থাৎ আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে এমন একজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি আগমন করবেন, যিনি পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা কায়িনাতের মালিক হবেন অর্থাৎ নবী-রসূল হবেন এবং সমস্ত মানুষ উনার সম্মানিত দ্বীন গ্রহণ করবেন। অর্থাৎ আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবীয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

এই সম্মানিত বিশেষ স্বপ্ন মুবারক উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

 আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইরি, সাইয়্যিদুছ ছাক্বালাইন, মালিকুল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক পূণরুদ্ধার

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইরি, সাইয়্যিদুছ ছাক্বালাইন, মালিকুল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক পূণরুদ্ধার

 জুরহুম গোত্র সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময়কাল পর্যন্ত সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক উনার কোনো চিহ্ন বিদ্যমান ছিলো না। কেউ কেউ এর সময়কাল ৫০০ বছর বলে উল্লেখ করেছেন। 

একদা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজরে তথা হাতিমে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই হিজরে ঘুমন্ত অবস্থায় আমি স্বপ্ন মুবারক দেখলাম যে, এক সম্মানিত বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি তাশরীফ নিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, احفر طيبة ‘আপনি ‘ত্বইয়্যিবাহ’ খনন করুন।’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ত্বইবাহ’ কী? তারপর আমার প্রশ্ন মুবারক উনার জবাব না দিয়েই তিনি চলে গেলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, পরদিন রাতে আমি যখন বিছানা মুবারক-এ গেলাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম, সেই সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি এসে পুনরায় আমাকে বললেন, احْفِرْ بَرَّةَ. আপনি ‘বাররাহ’ খনন করুন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘বাররাহ’ কী? তারপর কোনো জবাব না দিয়েই তিনি চলে গেলেন। এরপর পরবর্তী রাতে আমি যখন বিছানা মুবারক-এ গেলাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম, সেই সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি এসে আমাকে বললেন, احْفِرِ الْمَضْنُونَةَ আপনি ‘মাদ্বনূনাহ’ খনন করুন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘মাদ্বনূনাহ’ কী? তিনি কিছু না বলেই আমার কাছ থেকে চলে গেলেন। 

অতঃপর এর পরবর্তী রাতে যখন আমি বিছানা মুবারক-এ গেলাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম, লোকটি আবারো আসলেন এবং আমাকে বললেন, 

احْفِرْ زَمْزَمَ.قَالَ قُلْتُ وَمَا زَمْزَمُ؟ قَالَ لَا تنزف أبداً ولا تزم، تَسْقِي الْحَجِيجَ الْأَعْظَمَ وَهِيَ بَيْنَ الْفَرْثِ وَالدَّمِ عِنْدَ نُقْرَةِ الْغُرَابِ الْأَعْصَمِ عِنْدَ قَرْيَةِ النَّمْلِ.

অর্থ: ‘আপনি ‘যমযম’ খনন করুন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘যমযম’ কী? তিনি বললেন, যা কখনো শুকাবে না, নষ্ট হবে না এবং মহান হাজীগণ উনারা যার পানি মুবারক পান করবেন। আর উনার অবস্থান মুবারক হচ্ছে গোবর ও রক্তের মধ্যখানে। সাদা পা বিশিষ্ট কাকের নিকটে, পিঁপড়ার বসতির কাছে।’ 

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক’ উনার পরিচয় ও জায়গার নির্দেশনা মুবারক পেয়ে কোদাল মুবারক নিয়ে সেখানে গেলেন।

وَمَعَهُ ابْنُهُ الْحَارِثُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَلَيْسَ لَهُ يَوْمئِذٍ وَلَدٌ غَيْرُه

অর্থ: ‘আর উনার সাথে ছিলেন উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্য কোনো আওলাদ (পুত্র) আলাইহিস সালাম ছিলেন না।’

অপর বর্ণনায় রয়েছেন, মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বারবার স্বপ্নে দেখানো এবং নিদর্শন দেখানোর ফলে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরাইশদের সাথে পরামর্শ করলেন এবং তাদেরকে স্বপ্ন মুবারক উনার কথা বললেন যে, তিনি এই স্থান খুঁড়তে চান। কুরাইশদের অনেকেই বিরোধিতা করে। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই বিরোধিতার পরওয়া করলেন না, বরং কোদালসহ আরো ইত্যাদি সরঞ্জাম নিয়ে নিজ পুত্র হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম উনাকেসহ ওই স্থানে পৌঁছলেন এবং চিহ্নিত স্থান খুঁড়তে শুরু করলেন। তিনি নিজে খুঁড়ছিলেন এবং উনার সম্মানিত আওলাদ (ছেলে) হারিছ আলাইহিস সালাম তিনি মাটি তুলে ফেলছিলেন। তিনদিন খুঁড়ার পর এর চিহ্ন দেখা গেলো। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুশিতে তাকবীর ধ্বনি দিলেন এবং বললেন, 

هذا طوى اسماعيل عليه السلام.

অর্থ: এটি হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম উনার কূপ মুবারক।”

অপর বর্ণনায় রয়েছেন, খনন কাজ শুরু হয়ে এক সময় তা শেষ হলো। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পানি দেখতে পেয়ে উচ্চস্বর মুবারক-এ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে উঠলেন। তাকবীর ধ্বনি মুবারক শুনে কুরাইশরা বুঝলো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত উদ্দেশ্য হাছিল হয়ে গেছেন। ফলে তারা উনার নিকট গিয়ে বললো, হে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যে সম্মানিত কূপ মুবারক উনার সন্ধান মুবারক পেয়েছেন, তা আমাদের পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম উনার কূপ মুবারক এবং নিঃসন্দেহে তাতে আমাদের অধিকার আছে। অতএব, আমাদেরকে উনার ভাগ দিতে হবে। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, না, তা হবে না। এ সম্মানিত কূপ মুবারক শুধু আমাকেই দেয়া হয়েছে, উনার মধ্যে তোমাদের কোনো অংশ নেই। কুরাইশরা বললো, 

فَإِنَّا غَيْرُ تَارِكِيكَ حَتَّى نُخَاصِمَكَ فِيهَا.قَالَ فَاجْعَلُوا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ مَنْ شِئْتُمْ أُحَاكِمْكُمْ إِلَيْهِ قَالُوا كَاهِنَةُ بَنِي سَعْدِ بْنِ هُذَيْمٍ قَالَ: نَعَمْ 

অর্থ: “আমরা এর দাবি ছাড়বো না। প্রয়োজনে আপনার সাথে লড়াই করে হলেও আমরা আমাদের অধিকার আদায় করে ছাড়বো। না‘ঊযুবিল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ঠিক আছে, তা-ই যদি করো, তাহলে একজন লোক ঠিক করো, আমরা তার উপর এর বিচারের ভার অর্পণ করবো। কুরাইশরা বললো, বনূ সা’দ ইবনে হুযাইমের মহিলা পাদ্রীর কাছে চলুন। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ঠিক আছে।”

এই মহিলা পাদ্রীর আবাসস্থল ছিলো সিরিয়ায়। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সাথে বনূ উমাইয়ার একদল এবং কুরাইশ বংশের প্রত্যেক গোত্র থেকে একদল করে লোক নিয়ে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেলেন। তখনকার দিনে তা ছিলো এক বিরান মরু প্রান্তর। পথিমধ্যে এক জায়গায় এসে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও উনার সঙ্গী-সাথীদের পানি শেষ হয়ে গেলো। উনারা অত্যন্ত কঠিনভাবে পিপাসার্ত হলেন। এমনকি ইন্তিকাল করার উপক্রম হলেন। ফলে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথীরা অন্যদের নিকট পানি চাইলেন। কিন্তু তারা পানি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বললো, আমরা নিজেরাও এই মরু প্রান্তরে আপনাদের মতো কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছি। অর্থাৎ আমরাও একই অবস্থার সম্মুখীন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সঙ্গীদেরকে বললেন, গায়ে কিছুটা শক্তি-সামর্থ্য থাকতেই তোমরা নিজেদের জন্য কবর খনন করে রাখো, যাতে কেউ ইন্তিকাল করলে সঙ্গীরা তাকে সেই কবরে দাফন করতে পারে। এভাবে সর্বশেষ একজন দাফন থেকে বঞ্চিত হবেন। তা হয় হোক। গোটা কাফেলা বিনা দাফনে থাকা অপেক্ষা একজন থাকাই ভালো। সঙ্গীরা বললো, আপনার এই আদেশ অতি উত্তম। আমরা তা-ই করবো। প্রত্যেকেই নিজের জন্য কবর খনন করলো এবং বসে মৃত্যুর অপেক্ষা করতে লাগলো।

অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমরাতো নিজেদেরকে মৃত্যুর হাতে সোপর্দ করেছি। এই অবস্থায় আমরা পানির খোঁজে বের হই না কেন? ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের জন্য পানির ব্যবস্থা করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ! 

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সঙ্গী-সাথীদের বললেন, বসে না থেকে তোমরা সামনে অগ্রসর হয়ে দেখ। তারা রওয়ানা হলো। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার কি কুদরত সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার উষ্ট্রীর পিঠে বসতেই উষ্ট্রী হোঁচট খেলো এবং তার পায়ের নিচ থেকে সুমিষ্ট পানির ফোয়ারা বইতে শুরু করলো। সুবহানাল্লাহ! 

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত তাকবীর ধ্বনি মুবারক দিলেন এবং উনার সাথে সাথে সঙ্গীরাও সম্মানিত তাকবীর মুবারক দিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাহন মুবারক থেকে নেমে পানি পান করলেন। সঙ্গীরাও পানি পান করে পিপাসা নিবারণ করলো এবং আপন আপন মশক ভরে নিলো। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত কুরাইশ গোত্রসমূহের প্রতিনিধিদেরকে আহ্বান করলেন। এতক্ষণ তারা তাকিয়ে এসব অবস্থা দেখছিলো। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, 

هَلُمُّوا إلى الماء فقد سقانا الله فجاؤوا فشربوا واستقواكلهم ثم قالوا قَدْ وَاللَّهِ قُضِيَ لَكَ عَلَيْنَا وَاللَّهِ مَا نُخَاصِمُكَ فِي زَمْزَمَ أَبَدًا إِنَّ الَّذِي سَقَاكَ هذا الماء بهذه الفلاة هو الَّذِي سَقَاكَ زَمْزَمَ فَارْجِعْ إِلَى سِقَايَتِكَ رَاشِدًا فَرَجَعَ وَرَجَعُوا مَعَهُ.

অর্থ: “এসো এসো এই যে পানি! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের পিপাসা নিবারণ করেছেন। অতঃপর তারা প্রত্যেকেই এসে সেই পানি পান করলো এবং পরিতৃপ্ত হলো। অতঃপর বললো, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে আমাদের উপর বিজয়ী করেছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ, সম্মানিত যমযম কূপ উনার ব্যাপারে আমরা আপনার সাথে আর কখনো বিবাদ করবো না। এই মরু অঞ্চলে যিনি আপনাকে এই পানি হাদিয়া করেছেন, তিনিই আপনাকে সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতএব, নিরাপদে আপনি আপনার (সম্মানিত যমযম) কূপ মুবারক উনার নিকট ফিরে যান। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যাবর্তন মুবারক করলেন এবং উনার সাথে কাফেলার সকলে প্রত্যাবর্তন করলো।”

 সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক সম্পর্কিত বিবাদের মীমাংসা কুদরতীভাবেই হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ! মহিলা পাদ্রীর কাছে আর যাওয়ার প্রয়োজন হলো না। তারা সকলে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাত মুবারকেই সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক উনার অধিকার ছেড়ে দিলো। সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত যমযম কূপ উনার নিকটে কিছু হাউজ মুবারক নির্মাণ করলেন, যেগুলোতে হাজীদের পানি পান করানোর জন্য পানি ভরে রাখা হতো। কিছু দুষ্টলোক অপকীর্তি শুরু করলো। তারা রাতে এসে হাউজগুলোতে ময়লা ফেলে যেতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর সকালে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেগুলো পরিষ্কার করতেন। অবশেষে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক উনার পানি ও হাউস নোংরাকারীদের বিরুদ্ধে বদদোয়া মুবারক করলেন। তখন স্বপ্ন মুবারক উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলা হলো যে, আপনি দোয়া করুন, 

اللهم انى لا احلها المغتسل ولكن هى لشارب حل.

অর্থ: “আয় মহান আল্লাহ পাক, আমি সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক উনার পানিতে লোকদের গোসল করার অনুমতি দেইনি; শুধু পান করার অনুমতি দিয়েছি।”

সকালে উঠে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এটা ঘোষণা মুবারক করে দেন। অতঃপর যে এই হাউজ নষ্ট করার ইচ্ছা করতো, সেই কঠিন অসুখে পতিত হতো। যখন বারবার এ ঘটনা ঘটতে থাকলো, তখন দুষ্টলোকগুলো সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাউজ মুবারক উনার বিরোধিতা করা ছেড়ে দিলো। 

আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’ উনার মধ্যে বলেন,

قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَكَانَ سيدنا حضرت جد رسول الله صلى الله عليه وسلم (سيدنا حَضْرَتْ عَبْدُ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) فِيْمَا يَزْعُمُونَ نَذَرَ حِينَ لَقِيَ مِنْ قُرَيْشٍ مَا لَقِيَ عِنْدَ حَفْرِ زَمْزَمَ لَئِنْ وُلِدَ لَهُ عَشَرَةُ نَفَرٍ ثم بلغوا معه حتى يمنعوه ليذبحن أَحَدَهُمْ للَّه عِنْد الْكَعْبَةِ

অর্থ: “হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক খনন করার সময় কুরাইশদের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে বিবাদ হয়েছিলো, তার প্রেক্ষিতে তিনি সম্মানিত মানত মুবারক করেছিলেন যে, যদি উনার দশ জন আওলাদ (পুত্র সন্তান) আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং প্রাপ্ত বয়স মুবারক-এ উপনীত হয়ে উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার উপযুক্ত হন, তাহলে উনাদের একজনকে মহান আল্লাহ পাক উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার নিকটে সম্মানিত যবেহ মুবারক বা কুরবানী মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

এইভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সম্মানিত যমযম কুপ মুবারক ফিরে পেলো। সুবহানাল্লাহ! ক্বিয়ামত পর্যন্ত সকলে এই সম্মানিত যমযম কুপ মুবারক উনার সম্মানিত পানি মুবারক দ্বারা উপকৃত হতেই থাকবে। সুবহানাল্লাহ!

তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য কতো বড় নিয়ামত মুবারক এবং উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

 ‘মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার লক্ষ্যে নিজ সন্তান কুরবানী করার মানত করা এবং স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হয়ে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার সমস্ত কাজ সম্পন্ন করা’ সাইয়্যিদুন নাস, শায়খুল বাত্বহা’ সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক অনন্য বেমেছাল বৈশিষ্ট্য মুবারক

 ‘মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার লক্ষ্যে নিজ সন্তান কুরবানী করার মানত করা এবং স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হয়ে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার সমস্ত কাজ সম্পন্ন করা’ সাইয়্যিদুন নাস, শায়খুল বাত্বহা’ সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক অনন্য বেমেছাল বৈশিষ্ট্য মুবারক 

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন যে, ‘সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক খনন করার সময় কুরাইশদের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে বিবাদ হয়েছিলো, তার প্রেক্ষিতে তিনি সম্মানিত মানত মুবারক করেছিলেন যে, যদি উনার দশ জন সম্মানিত আওলাদ (পুত্র সন্তান) আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং প্রাপ্ত বয়স মুবারক-এ উপনীত হয়ে উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার উপযুক্ত হন, তাহলে উনাদের একজনকে মহান আল্লাহ পাক উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার নিকটে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ! 

 সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পুত্র সন্তান আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংখ্যা যখন দশ জন পূর্ণ হলেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত চোখ মুবারক উনাকে শিতল করলেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক রজনী মুবারক-এ সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার নিকটে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি স্বপ্ন মুবারক-এ দেখলেন যে, 

قَائِلًا يَّـقُوْلُ يَا حَضْرَتْ عَبْدَ الْـمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَوْفِ بِنَذْرِكَ لِرَبِّ هٰذَا الْبَيْتِ فَاسْتَيْقَظَ فَزِعًا مَّرْعُوْبًا وَّاَمَرَ بِذَبْحِ كَبْشٍ وَّاَطْعَمَهٗ لِلْفُقَرَاءِ وَالْـمَسَاكِيْنَ ثُـمَّ نَامَ فَرَاٰى اَنْ قَـرِّبْ مَا هُوَ اَكْبَرُ مِنْ ذٰلِكَ فَاسْتَيْقَظَ مِنْ نَوْمِهٖ وَقَــرَّبَ ثَوْرًا ثُـمَّ نَامَ فَرَاٰى اَنْ قَـرِّبْ مَا هُوَ اَكْبَرُ مِنْ ذٰلِكَ فَانْتَبَهَ وَقَــرَّبَ جَـمَلًا وَّاَطْعَمَهٗ لِلْمَسَاكِيْنَ ثُـمَّ نَامَ فَنُوْدِىَ اَنْ قَـرِّبْ مَا هُوَ اَكْبَرُ مِنْ ذٰلِكَ فَقَالَ مَا اَكْبَرُ مِنْ ذٰلِكَ فَقَالَ قَـرِّبْ اَحَدَ اَوْلَادِكَ الَّذِىْ نَذَرْتَهٗ.

অর্থ: “উনাকে একজন বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে আপনার সম্মানিত মানত মুবারক পূর্ণ করুন। এই স্বপ্ন মুবারক দেখে তিনি চিন্তিত ও শঙ্কিত অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং তিনি একটি দুম্বা মুবারক যবেহ করে ফক্বীর ও মিসকীনদেরকে খাওয়ালেন। তারপর তিনি পরবর্তী রাতে ঘুমিয়ে স্বপ্ন মুবারক-এ দেখলেন যে, উনাকে বলা হচ্ছে আপনি এর চেয়ে বড় কিছু কোরবানী করুন। তিনি ঘুম থেকে উঠে একটি ষাড় (গরু) কুরবানী মুবারক করেন। পরবর্তী রাতে তিনি ঘুমালেন। পুনরায় উনাকে স্বপ্ন মুবারক-এ বলা হলো, আপনি এর চেয়ে বড় কিছু কুরবানী করুন। তারপর তিনি ঘুম থেকে উঠে একটি উট কুরবানী মুবারক করে মিসকীনদেরকে খাওয়ালেন। এর পরবর্তী রাত্রিতে তিনি ঘুমালেন, তখন উনাকে নিদা মুবারক করা হলো, আপনি এর চেয়ে বড় কিছু কুরবানী মুবারক করুন। তিনি বললেন, এর চেয়ে বড় কী? তখন উনাকে বলা হলো, আপনি আপনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে একজনকে কুরবানী মুবারক করুন, যেটা আপনি সম্মানিত মানত মুবারক করেছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (নিহায়াতুল ইজায ১/৪০, মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ ১/৬৬, শারহুয যারক্বানী আলা মাওয়াহিব ১/১৭৬)

তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলকে একত্রিত করে উনার সম্মানিত মানত মুবারক সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং উনাদেরকে উনার সম্মানিত ওয়াদা মুবারক পূরণ করার ব্যাপারে আহ্বান মুবারক করলেন। তখন উনারা সকলে বললেন, 

اِنَّـا نُطِيْعُكَ فَمَنْ تَذْبَحُ مِنَّا

অর্থ: “হে আমাদের মহাসম্মানিত হযরত আব্বাজান আলাইহিস সালাম, নিশ্চয়ই আমরা প্রত্যেকেই আপনার অনুগত। আপনি আমাদের মধ্য থেকে কাকে কুরবানী মুবারক করতে চান?”

তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার দশ জন সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাঝে লটারী মুবারক করলেন। লটারী মুবারক-এ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক উঠলেন। তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী মুবারক করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি মুবারক গ্রহণ করেন এবং উনাকে নিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বা’বা শরীফ উনার সামনে উপস্থিত হন। অতঃপর যখন তিনি উনাকে শুয়ায়ে ছুরি মুবারক দিয়ে কুরবানী মুবারক করবেন, তখন তা দেখে কুরাইশরা তাদের মজলিশ থেকে দৌড়ে এসে বললো, আপনি কি করছেন? তিনি বললেন, আমি উনাকে যবেহ করবো। কুরাইশ এবং উনার সম্মানিত আওলাদগণ যাঁরা ছিলেন উনারা সকলেই বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! কোনো নিশ্চিত বিকল্প ধারা না হওয়া পর্যন্ত আপনি উনাকে যবেহ করতে পারবেন না। যদি করেন তাহলে পুত্র কুরবানী দেয়ার ধারা চালু হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় মানুষের নিরাপত্তা কিভাবে রক্ষা হবে?

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ সাজাহ নামে একজন বিশেষ ব্যক্তি বসবাস করতেন। যিনি আসমানী কিতাব সম্পর্কে ইলিম রাখতেন। কুরাইশরা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ওই ব্যক্তি উনার নিকট যেয়ে এই বিষয়টি বলার জন্য অনুরোধ করলো।

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লোকজন নিয়ে সাজাহ নামীয় ওই বিশেষ ব্যক্তির নিকট যেয়ে সবকিছু খুলে বললেন। সব শুনে ওই ব্যক্তি বললেন, আপনাদের সমাজে মুক্তিপণের পরিমাণ কত? সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, দশটি উট। ওই ব্যক্তি বললেন, আপনারা দেশে ফিরে যান। গিয়ে দশটি উট ও আপনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে লটারী করুন। লটারী মুবারক-এ যদি আপনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক আসে, তাহলে আরো দশটি উট নিয়ে আবারো লটারী করুন। এভাবে দশটি করে উট বাড়িয়ে লটারী করতে থাকুন। অতঃপর যখন উটের নাম আসবে, তখন আপনি আপনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার পরিবর্তে উটগুলো কুরবানী করুন। এতে মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন বলে প্রমাণিত হবে। সুবহানাল্লাহ! আর আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার জীবন মুবারকও বেঁচে যাবেন। অর্থাৎ উনার সম্মানিত যাবীহুল্লাহ শান মুবারক উনার সম্মানিত বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটবে। সুবহানাল্লাহ! 

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবাইকে নিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ আসলেন। অতঃপর সকলের উপস্থিতে লটারী শুরু হলো। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সম্মানিত দোয়া মুবারক করতে লাগলেন। প্রথমে দশটি উট ও সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে লটারী করা হলো। সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নাম আসলো। এবার আরো দশটি উট বাড়িয়ে লটারী দেয়া হলো। এভাবে দশটি করে উট বাড়িয়ে লটারী করা হলো। কিন্তু প্রতিবারই সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক উঠতে লাগলেন। অবশেষে একশত উট আর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে লটারী দেয়া হলে উটের নাম উঠলো। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার সম্মুখে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সম্মানিত দোয়া মুবারক করছিলেন। কুরাইশরা উনাকে জানালেন যে, সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। সুবহানাল্লহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, না এতে আমি সন্তুষ্ট না। আরো তিনবার লটারী না করা পর্যন্ত আমি নিশ্চিত হতে পারছি না। সুবহানাল্লাহ! তারপর উনার কথা মুবারক অনুযায়ী আরো তিনবার লটারী করা হলো। প্রতিবারই উটের নাম আসলো। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিশ্চিত হলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া মুবারক আদায় করলেন। সুবহানাল্লাহ!

তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একশ উট মুবারক যবেহ করে বিশেষ ও সাধারণ সকল লোককে; এমন কি অন্যান্য মাখলূকাতকেও আহার করালেন। সুবহানাল্লাহ!

 এভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত যাবীহুল্লাহী শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটে। সুবহানাল্লাহ! এরপর থেকেই আরব দেশে এক ব্যক্তির রক্তপণ নির্ধারিত হলো একশত উট। যদিও ইতঃপূর্বে রক্তপণের জন্য নির্ধারিত ছিলো দশ উট। পরবর্তীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একশত উটই রক্তপণরূপে নির্ধারণ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (মাদারিজুন নুবুওওয়াহ, মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ, শারহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব, আর রওদুল উনফ, আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ইত্যাদি)

মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার লক্ষ্যে নিজ সন্তান কুরবানী করার মানত করা এবং স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হয়ে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার সমস্ত কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যম দিয়েও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কতটুকু মাহবূব ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে উনার পক্ষে সম্ভব হয়েছে নিজ সন্তান উনাকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার মানত মুবারক করা এবং সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার জন্য যাবতীয় কাজ সম্পন্ন মুবারক করা। সুবহানাল্লাহ! 

 কিতাবে বর্ণিত সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতিপয় সম্মানিত মশহূর লক্বব মুবারক এবং এই সম্পর্কে কিছু আলোচনা
 কিতাবে বর্ণিত সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতিপয় সম্মানিত মশহূর লক্বব মুবারক এবং এই সম্পর্কে কিছু আলোচনা

شيبة الحمد (শায়বাতুল হামদ) চরম প্রশংসাকারী ও চরম প্রশংসিত শায়বাহ আলাইহিস সালাম: হযরত শাহ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘মাদারেজুন নুবুওওয়াহ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শায়বাতুল হামদও বলা হতো। কারণ উনার প্রতিটি কাজকর্ম মুবারক খুবই পছন্দনীয় হতো। ফলে সকলেই উনার প্রশংসা মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!

আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ আরো অনেকেই বলেন- 

ويقال له شيبة الحمد لجوده

অর্থ: “আর উনার বেমেছাল দানশীলতার কারণে উনাকে ‘শায়বাতুল হামদ’ বলা হতো।”

‘সীরাতে হালবিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন- 

ويدعى شيبة الحمد لكثرة حمد الناس له

 অর্থ: “লোকেরা উনার সীমাহীন প্রশংসা মুবারক করতো, তাই উনাকে ‘শায়বাতুল হামদ’ বলে ডাকা হতো।” সুবহানাল্লাহ!

এই প্রসঙ্গে মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুইখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক ‘সাইয়্যিদুনা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ চরম প্রশংসাকারী এবং ‘সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’- চরম প্রশংসিত। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ধারণ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেই সম্মানিত খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ তিনি ছিলেন চরম প্রশংসাকারী এবং চরম প্রশংসিত। সুবহানাল্লাহ! তিনি নিজে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের চরম প্রশংসা মুবারক করেছেন। আর উনারাও উনার চরম প্রশংসা মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! ফলে সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীও উনার অত্যধিক প্রশংসা মুবারক করতো। সুবহানাল্লাহ! আর এই কারণেই উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক হচ্ছেন, ‘শায়বাতুল হামদ’ তথা চরম প্রশংসাকারী ও চরম প্রশংসিত শায়বাহ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

سَيّدُ قُرَيْشٍ (সাইয়্যিদু কুরাইশ) সমস্ত কুরাইশ উনাদের সাইয়্যিদ, সর্দার: যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত কুরাইশ উনাদের সাইয়্যিদ অর্থাৎ সর্দার ছিলেন, তাই উনাকে এই সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ আহ্বান করা হতো। সুবহানাল্লাহ!

شَيْخُ الْبَطْحَاءِ (শায়খুল বাত্বহা’)- সম্মানিত বাত্বহা’ তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার শায়েখ: বাত্বহা’ হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার একখানা সম্মানিত নাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফবাসী উনাদের সকলের শায়েখ তথা সাইয়্যিদ ছিলেন। সকলেই উনার আদেশ-নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী চলতেন। সুবহানাল্লাহ! তাই তিনি আরব-অনারবের তথা সারা পৃথিবীতে ‘শায়খুল বাত্বহা’ লক্বব মুবারক-এ সুপরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

مُجَابُ الدعوة (মুজাবুদ দা’ওয়াহ বা মুস্তাজাবাদ দা’ওয়াত) এমন সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক, যিনি দোয়া মুবারক করার সাথে সাথে, উনার দোয়া মুবারক কবূল করা হয়: এই সম্পর্কে ‘সীরাতে হালবিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন- 

وكَانَ مُجَاب الدعوة 

অর্থ: “আর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন, মুজাবুদ দা’ওয়াহ তথা মুস্তাজাবুদ দা’ওয়াত।” সুবহানাল্লাহ!

কুরাইশরা বা যে কোনো ব্যক্তি যখন কোন বালা-মুছীবতে পতিত হতো, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসতো এবং এসে উনার নিকট দোয়া চাইতো। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া মুবারক করতেন আর সাথে সাথে তাদের বালা- মুছীবত দূর হয়ে যেতো। সুবহানাল্লাহ! এই জন্য সবাই উনাকে ‘মুজাবুদ দা’ওয়াহ বা মুস্তাজাবাদ দা’ওয়াত’ বলে সম্বোধন করতো। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে অনেক ঘটনা বর্ণিত রয়েছেন। যেমন কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন-

وكانت قريش اذا اصابها قحط شديد تاتى سيدنا حضرت جد رسول الله صلى الله عليه وسلم (سيدنا حضرت عبد الـمطلب عليه السلام) فتستسقى به فيسقون 

অর্থ: “আর কুরাইশরা যখন অনাবৃষ্টির কারণে কঠিন দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতো, তখন তারা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসতো। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন এবং সাথে সাথে বৃষ্টি বর্ষিত হতো।” সুবহানাল্লাহ!

ফলে কুরাইশরা কঠিন দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি পেতো। সুবহানাল্লাহ!

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার সম্মানিত গিলাফ মুবারক ধরে আবরাহার ও তার হস্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে বদদোয়া করা এবং বদদোয়া মুবারক উনার বদৌলতে আবরাহা ও তার হস্তিবাহিনী পরিপূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা মুবারকখানা সমস্ত সীরাতগ্রন্থেই উল্লেখ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, এই ঘটনা মুবারক উনাকে কেন্দ্র করে, স্বয়ং যিনি খালিক্ব রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ‘সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফীল শরীফ’ নামে আলাদাভাবে একখানা সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শরীফ নাযিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীমাহীন শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, তা সমস্ত জিন-ইনসান ও তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

اَلْفَيَّاضُ (আল ফাইয়্যায)- সীমাহীন দাতা: যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবাইকে বেহিসাব দান করতেন, তাই সবাই উনাকে ‘আল ফাইয়্যায’ লক্বব মুবারক দ্বারা সম্বোধন করতো। সুবহানাল্লাহ!

এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন-

وكان يقال له الفياض لجوده

অর্থ: “উনার সীমাহীন দানশীলতার কারণে উনাকে আল ফাইয়্যায বলা হতো।” (সীরাতে হালবিয়্যাহ শরীফ ১/৯)

مُطْعِمُ الْاِنْسِ والجن وَالْوَحْشِ وَالطَّيْرِ (মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল জিন্নি ওয়াল ওয়াহশি ওয়াত ত্বইর) মানুষ, বন্যপশু ও পাখিদেরকে খাদ্যদানকারী: সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মানুষ, জিন; এমনকি বন্যপশু ও পাখিদেরকেও খাদ্য খাওয়াতেন। সুবহানাল্লাহ! এই কারণে সকলে উনাকে ‘মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল জিন্নি ওয়াল ওয়াহশি ওয়াত ত্বইর’ লক্বব মুবারক দ্বারা সম্বোধন করতো। সুবহানাল্লাহ! যেমন, এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন-

يرفع من مائدة عبد الـمطلب للوحوش والطير فى رؤوس الجبال

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বন্যপশু ও পাখীদের জন্য পাহাড়ের চূড়াসমূহে দস্তরখানা ভর্তি খাবার উঠিয়ে রাখতেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস ১/১৫৯)

তিনি ধনী, গরীব, মুসাফির সবাইকে বেহিসাব খাদ্য খাওয়াতেন। সুবহানাল্লাহ!

পৃথিবীর ইতিহাসে এরূপ দৃষ্টান্ত আর নেই যে, কোন মানুষ বন্যপশু ও পাখিদেরকেও খাদ্য খাওয়াতেন এবং বন্যপশু ও পাখীদের জন্য পাহাড়ের চূড়াসমূহে দস্তরখানা ভর্তি খাবার উঠিয়ে রাখতেন। এটা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একক খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাহলে এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, যেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

سَيّدُ النَّاسِ সাইয়্যিদুন নাস: তিনি ছিলেন সমস্ত মানুষের সাইয়্যিদ। তাই উনার একখানা বিশেষ লক্বব মুবারক হচ্ছেন সাইয়্যিদুন নাস। সুবহানাল্লাহ!

ذُو الْمَجْدِ وَالسُّؤْدَدِ (যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ) সম্মানিত মর্যাদা-মর্তবা ও কর্তৃত্ব মুবারক উনার মালিক: এই সম্পর্কে আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- 

وَإِنَّ أَبِىْ ذُو الْمَجْدِ وَالسُّؤْدَدِ الَّذِىْ ...

يُشَارُ بِهِ مَا بَيْنَ نَشْزٍ إِلَى خَفْضِ

অর্থ: “আর নিশ্চয়ই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক ও সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক উনার অধিকারী। উনার সম্মানিত ইশারা-ইঙ্গিত মুবারক-এ, নির্দেশ মুবারক-এ পরিচালিত হয় উঁচু থেকে নিচু (সম্মানিত আরশে আযীম থেকে তাহ্তাছ ছারা পর্যন্ত) এতোদুভয়ের মাঝে (সারা কায়িনাতে) যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছু।” সুবহানাল্লাহ!

তাই সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা বিশেষ লক্বব মুবারক হচ্ছেন ‘যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ’। সুবহানাল্লাহ! 

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যত খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক রয়েছেন, সমস্ত কিছুর অধিকারী হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত লক্বব মুবারক হচ্ছেন ‘জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। অর্থাৎ তিনি হচ্ছেন স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত দাদাজান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উপলব্ধি করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

 এক নজরে সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল জিন্নি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর, আহলু বাইতি রসূল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবূ যাবীহিল্লাহ আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক

এক নজরে সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল জিন্নি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর, আহলু বাইতি রসূল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবূ যাবীহিল্লাহ আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক

 সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল জিন্নি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর, সাইয়্যিদুল বাত্বহা’, ইমামুছ ছাক্বালাইন, আহলু বাইতি রসূল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবূ যাবীহিল্লাহ আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় মুবারক হচ্ছেন, তিনি হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দাদাজান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল মায়া-মুহব্বত, স্নেহ ও সম্মান মুবারক করতেন। তিনি ছিলেন সমস্ত কুরাইশ উনাদের সাইয়্যিদ। সুবহানাল্লাহ! সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের প্রতি উনার অবদান অপরিসীম। তিনি সম্মানিত জমজম কূপ মুবারক পুনঃখনন, আবরাহার বাহিনীদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করে তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী মুবারক করার জন্য সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত লালন-পালন মুবারক ও সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে এক বেমেছাল শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার সাক্ষর রেখেছেন। যেখানে কায়িনাতের বুকে আর কারো পৌঁছা আদৌ সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। নিম্নে এক নজরে উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো,

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক: তিনি সকলের মাঝে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে উনার মূল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম।’

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক: সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল জিন্নি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর, সাইয়্যিদুল বাত্বহা’, ইমামুছ ছাক্বালাইন, আহলু বাইতি রসূল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবূ যাবীহিল্লাহ আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এছাড়াও উনার আরো অসংখ্য অগণিত লক্বব মুবারক রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন: সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুনিয়াত মুবারক: সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ আব্দিল্লাহ আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল হারিছ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান আলাইহিস সালাম: সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, সাইয়্যিদু কুরাইশ, মাহবূবে এলাহী সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম: আত্ব ত্বাহিরাহ, আত্ব ত্বইয়িবাহ, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দাদাজান আলাইহিস সালাম: সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, সাইয়্যিদু কুরাইশ, মাহবূবে এলাহী সাইয়্যিদুনা হযরত আবদে মানাফ ইবনে কুছাই আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দাদীজান আলাইহাস সালাম:  আত্ব ত্বাহিরাহ, আত্ব ত্বইয়্যিবাহ, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আতিকাহ বিনতে মুররাহ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার প্রায় ৮৭ বছর পূর্বে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২০শে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আওয়াল শরীফ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার)। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন: দ্বীনে হানীফ। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যাওজাতুম মুক্কাররমাহ আলাইহিন্নাস সালাম: ৬ জন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম: আবনা’ (ছেলে) ১৩ জন এবং বানাত (মেয়ে) ৬ জন। উনার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে প্রিয় আওলাদ হচ্ছেন সাইয়্যিদুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুছ ছাক্বালাইন, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াতী এবং রিসালতী শান মুবারক প্রকাশ উনার প্রায় ৩২ বছর পূর্বে ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার)। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন ৮ বছর ২ মাস ১০ দিন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

 সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীমাহীন খুশি মুবারক প্রকাশ করে সম্মানিত না’ত শরীফ পাঠ এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিনে উনার সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখা

 
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীমাহীন খুশি মুবারক প্রকাশ করে সম্মানিত না’ত শরীফ পাঠ এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিনে উনার সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখা

 ‘সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে সীমাহীন খুশি মুবারক প্রকাশ করে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত না’ত শরীফ পাঠ করেন’ এই বিষয়টি বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন সীরাতগ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছেন। বিশেষ করে ইমামুল মুহাদ্দিছীন হযরত ইমাম মুহম্মদ ইবনে ইঊসুফ ছালিহী শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ: ৯৪২ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ উনার ১ম খ-ের ৩৬০ পৃষ্ঠায়’এই বিষয়ে একটি পৃথক অধ্যায় রচনা করেছেন-

الباب الثاني عشر في فرح جده عبد المطلب به صلى الله عليه وسلّم وتسميته له محمدا صلى الله عليه وسلّم

“১২তম অধ্যায়: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীমাহীন খুশি মুবারক প্রকাশ এবং উনার সম্মানিত নাম মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ‘মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাখা।” সুবহানাল্লাহ! 

সীরাতগ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে অত্যন্ত বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করেন এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত কোল মুবারক-এ নিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার সামনে যেয়ে পাঠ করতে থাকেন,

اَلْـحَمْدُ للهِ الَّذِىْ اَعْطَانِـىْ ... 

هٰذَا الْغُلَامَ الطَّيّـِبَ الْاَرْدَانِ

قَدْ سَادَ فِـى الْـمَهْدِ عَلَى الْغِلْمَانِ ...

اُعِيْذُهٗ بِالْبَيْتِ ذِى الْأَرْكَانِ

حَتّٰى يَكُوْنَ بُلْغَةَ الْفِتْيَانِ ...

اُعِيْذُهٗ مِنْ كُلِّ ذِىْ شَنَاٰنِ

مِنْ حَاسِدٍ مُّضْطَرِبِ الْعيان ...

 ذِىْ هِمّةٍ لَيْسَ لَهٗ عَيْنَانِ

حَتّٰى اَرَاهُ رَافِعًا لِّلشَّانِ ...

اَنْتَ الَّذِىْ سُـمِّيْتَ فِى الْفُرْقَانِ

فِىْ كُتُبِ ثَابِتَةِ الْـمَثَانِـىْ ...

اَحْمَد مَكْتُوْبًا عَلَى اللِّسَانِ

অর্থ: “যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য যিনি আমাকে সম্মানিত কল্যাণ মুবারক উনার মালিক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র এই আওলাদ, শিশু উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দোলনা (উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত কোল) মুবারক-এ থেকেই সমস্ত শিশু উনাদের উপর কর্তৃত্ব মুবারক করছেন। আমি উনার জন্য রুকন বিশিষ্ট সম্মানিত ঘর অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার মালিক মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এমনকি তিনি পরিণত বয়স মুবারক-এ যুবকদের তথা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের আদর্শরূপে, সাইয়্যিদরূপে প্রকাশিত হবেন। সুবহানাল্লাহ! সকল অনিষ্ট ও হিংসুকের বিদ্বেষ থেকে উনার জন্য আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি উদ্ধত ফণাবিশিষ্ট চক্ষুবিহীন সর্প থেকে। আমি উনার সুউচ্চ শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক অবলোকন করছি। সুবহানাল্লাহ! আপনিই (হে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র প্রিয় নাতি!) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে- মহান গ্রন্থসমূহে সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আহমদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাম মুবারক-এ আখ্যায়িত এবং সকলের মুখে মুখে আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম বা নাম মুবারকখানা লিপিবদ্ধ রয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, বিদায়াহ-নিহায়াহ, ইবনে ইসহাক ইত্যাদি) 

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আক্বীক্বাহ মুবারক দেয়া এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক রাখা সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,

فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ السَّابِعُ ذَبَحَ عَنْهُ وَدَعَا لَهُ قُرَيْشًا، فَلَمَّا أَكَلُوا قَالُوا يَا عَبْدَ الْمُطَّلِبِ، أَرَأَيْتَ ابْنَكَ هَذَا الَّذِي أَكْرَمْتَنَا عَلَى وَجْهِهِ، مَا سَمَّيْتَهُ؟ قَالَ سَمَّيْتُهُ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিনে উনার সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক করেন এবং কুরাইশদেরকে দাওয়াত মুবারক করেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে মেহমানরা বললেন হে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যেই মহাসম্মানিত সন্তান উনার সম্মানার্থে আজকের এই সম্মানিত মেহমানদারী মুবারক উনার আয়োজন, আপনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক কী রেখেছেন? সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমি উনার নাম মুবারক রেখেছি সাইয়্যিদুনা হযরত ‘মুহম্মদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” (খছাইছুল কুবরা শরীফ ১/৮৫, দালাইলুন নুবুওওয়াহ শরীফ লিলবাইহাক্বী ১/১১৩, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২/৩২৫, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ইত্যাদি)