মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-১২

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-১২

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ হচ্ছেন সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আমল মুবারক। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যবধি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ পালন করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার চেয়ে বড় এবং ফযীলতপূর্ণ আর কোনো আমল নেই। সুবহানাল্লাহ! বান্দার তরফ থেকে সর্বশেষ মাক্বাম হচ্ছে আবদিয়াতের মাক্বাম আর মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ মাক্বাম মুবারক হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাহলে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করলে বান্দা-বান্দী, উম্মত, জিন-ইনসান কত বড় নিয়ামত লাভ করবে এবং তা পালন করার কত বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! নি¤েœ মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক সম্পর্কে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কিছু ক্বওল শরীফ এবং একখানা বিশেষ ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হলো- 

সম্মানিত জান্নাত মুবারক লাভ:

قَالَ حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ الشَّافِعِىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مَنْ جَـمَعَ لِمَوْلِدِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِخْوَانًا وَهَيَّاَ طَعَامًا وَاَخْلـٰى مَكَانًا وَعَمِلَ اِحْسَانًا وَصَارَ سَبَبًا لِّقِرَائَتِهٖ بَعَثَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الصِّدِّيْقِيْـنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِـحِيْـنَ وَيَكُوْنُ فِـىْ جَنَّاتِ النَّعِيْمِ

অর্থ: “হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ১৫০ হিজরী শরীফ : বিছাল শরীফ ২০৪ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন, মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে যিনি খুশি মুবারক প্রকাশ করে লোকজন একত্রিত করবেন, খাদ্য প্রস্তুত করবেন, জায়গা নির্দিষ্ট করবেন এবং উত্তম আমল করবেন অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করবেন, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সেই ব্যক্তি উনাকে হাশরের দিন ছিদ্দীক্ব, শহীদ, ছালেহ্ উনাদের সাথে উঠাবেন এবং উনার সম্মানিত ঠিকানা মুবারক হবেন সম্মানিত জান্নাতুন না‘ঈম মুবারক উনার মধ্যে।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা)

আল্লামা হযরত ইমাম জাযরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

لَعُمْرِىْ اِنَّـمَا يَكُوْنُ جَزَاؤُهٗ مِنَ اللهِ الْكَرِيْـمِ اَنْ يَّدْخُلَهٗ بِفَضْلِهِ الْعَمِيْمِ جَنَّاتِ النَّعِيْمَ

অর্থ: “আমার জিন্দেগীর ক্বসম! অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সে ব্যক্তির প্রতিদান হচ্ছেন- মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার বিশেষ অনুগ্রহে ঐ ব্যক্তি উনাকে সম্মানিত জান্নাতুন নাঈম উনার মধ্যে প্রবেশ করাবেন।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুয যারক্বানী, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, তারীখুল খ¦মীস ইত্যাদি)

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন-

مَنْ عَظَّمَ لَيْلَةَ مَوْلِدِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِـمَا اَمْكَنَهٗ مِنَ التَّعْظِيْمِ وَالْاِكْرَامِ كَانَ مِنَ الْفَائِزِيْنَ بِدَارِ السَّلَامِ

অর্থ: “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের রাত্রি (এবং দিবস) মুবারক উনাকে অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে সর্বোচ্চ সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তা’যীম-তাকরীম মুবারক করবেন, সম্মান করবেন, তিনি চির শান্তিময় সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার অধিকারী হয়ে কামিয়াবী লাভ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (খুৎবাতু ইবনে নুবাতাহ্)

মূলত, যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করবেন, উনারা বিনা হিসেবে জান্নাতী তো অবশ্যই; শুধু তাই নয়, উনারা সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ জান্নাতী। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনকারী উনাদের জন্য আলাদাভাবে বিশেষ জান্নাত মুবারক রয়েছেন। সেখানে শুধু যাঁরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেন উনারাই প্রবেশ করবেন। অন্য কেউ সেই বিশেষ জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ! উনারা সেই সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদিম হিসেবে উনার সাথেই অবস্থান করবেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ঈমান মুবারক লাভ করার মাধ্যমে সফলতা অর্জন:

قَالَ حَضْرَتْ سَيِّدُ الطَّائِفَةِ جُنَيْدُ ۣ الْبَغْدَادِىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مَنْ حَضَرَ مَوْلِدَ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَظَّمَ قَدْرَهٗ فَقَدْ فَازَ بِالْاِيْـمَانِ

অর্থ: “সাইয়্যিদুত ত্বয়িফাহ্ হযরত জুনায়িদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ২১৫ হিজরী শরীফ : বিছাল শরীফ ২৯৮ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন, মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে যিনি খুশি মুবারক প্রকাশ করার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাহফিল মুবারক-এ উপস্থিত হবেন এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবেন অর্থাৎ মাল-সম্পদ খরচ করবেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করবেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তা’যীম-তাকরীম মুবারক করবেন, তিনি সম্মানিত ঈমান মুবারক লাভ করার মাধ্যমে সফলতা অর্জন করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা, ইয়ানাতুত্ ত্বালিবীন ৩/৪১৪, কিতাবু ফাদ্বায়িলি মাওলিদিন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২ নং পৃষ্ঠা, রিসালাতু মাওলিদিন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৩ নং পৃষ্ঠা)

অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাক্বীক্বী মুহব্বত মুবারক লাভ করবেন, হাক্বীক্বী মু’মিন হিসেবে সাব্যস্ত হবেন এবং তিনি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ!

সর্বদিক থেকে সর্বপ্রকার খায়ের-বরকত লাভ:

আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে জাওযী হাম্বলী ছিদ্দীক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ৫১০ হিজরী শরীফ : বিছাল শরীফ ৫৯৭ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,

لَا زَالَ اَهْلُ الْـحَرَمَيْـنِ الشَّرِيْفَيْـنِ وَالْمِصْرِ وَالْيَمَنِ وَالشَّامِ وَسَائِرِ بِلَادِ الْعَرَبِ مِنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ يَـحْتَفِلُوْنَ بِـمَجْلِسِ مَوْلِدِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَفْرَحُوْنَ بِقُدُوْمِ هِلَالِ رَبِيْعِ الْاَوَّلِ وَيَغْتَسِلُوْنَ وَيَلْبَسُوْنَ بِالثِّيَابِ الْفَاخِرَةِ وَتَزَيَّنُوْنَ بِاَنْوَاعِ الزِّيْنَةِ وَيَتَطَيَّبُوْنَ وَيَكْتَحِلُوْنَ وَيَاْتُوْنَ بِالسُّرُوْرِ فِـىْ هٰذِهِ الْاَيَّامِ وَيَبْتَذِلُوْنَ عَلَى النَّاسِ بِمَا كَانَ عِنْدَهُمْ مِنَ الْمَضْرُوْبِ وَالْاَجْنَاسِ وَيَهْتَمُّوْنَ اِهْتِمَامًا بَلِيْغًا عَلَى السَّمَاعِ وَالْقِرَاءَةِ لِمَوْلِدِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَنَالُوْنَ بِذٰلِكَ اَجْرًا جَزِيْلًا وَفَوْزًا عَظِيْمًا وَمِـمَّا جُرِّبَ عَنْ ذٰلِكَ اِنَّهٗ وُجِدَ فِـىْ ذٰلِكَ الْعَامِ كَثْرَةُ الْـخَيْـرِ وَالْبَـرَكَةِ مَعَ السَّلَامَةِ وَالْعَافِيَةِ وَسَعَةُ الرِّزْقِ وَاِزْدِيَادُ الْمَالِ وَالْاَوْلَادِ وَالْاَحْفَادِ وَدَوَامُ الْاَمْنِ فِـى الْبِلَادِ وَالْاَمْصَارِ وَالسُّكُوْنُ وَالْقَرَارُ فِـى الْبُيُوْتِ وَالدَّارِ بِبَـرَكَةِ مَوْلِدِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের অধিবাসীগণ এবং মিশর, ইয়ামেন, সিরিয়া ও পূর্ব-পশ্চিমের আরব দেশগুলোতে লোকজন সব সময় মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাহফিল মুবারক করে আসছেন। উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) মাস উনার চাঁদ উদিত হলে খুশি মুবারক প্রকাশ করেন, ঈদ পালন করেন। উনারা খুশি মুবারক প্রকাশ করে (১) গোসল করেন, (২) উত্তম পোষাক পরিধান করেন, (৩) বিভিন্ন সাজে সুসজ্জিত হন, (৪) আতর ব্যবহার করেন এবং (৫) চোখে সুরমা লাগান। আর ঐ দিনসমূহে উনারা অত্যন্ত আনন্দচিত্তে (মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ) উপস্থিত হন। উনারা নিজেদের কাছে নির্দিষ্ট (টাকা-পয়সা) এবং বিভিন্ন প্রকার যা কিছু থাকত, তা গরীব-মিসকীনদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। আর উনারা সম্মানিত সামা’ শরীফ এবং মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার আলোচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আমল মুবারক উনার কারণে উনারা অনেক নেকী এবং বিরাট সফলতা লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর এটা পরিক্ষিত বিষয় যে, (যেই বছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাহফিল মুবারক করা হয়,) মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বরকত মুবারক-এ সেই বছর প্রচুর পরিমাণে খায়ের-বরকত, শান্তি-নিরাপত্তা, সুস্থতা ও রিযিক্বের প্রাচুর্যতা লাভ হয় এবং ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনীর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। আর দেশে দেশে ও শহরে শহরে দায়িমী (স্থায়ী) নিরাপত্তা ও শান্তি এবং বাড়ি-ঘরে স্থিরতা ও প্রশান্তি বিরাজমান থাকে।” সুবহানাল্লাহ! (বায়ানুল মীলাদিন নাবাওঈ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আদ্ র্দুরুল মুনায্যাম ১০০-১০১ নং পৃ.)

সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে বিশেষ মেহমানদারী মুবারক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাহফিল মুবারক তদারকী করা:

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৬ই ছফর শরীফ লাইলাতুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার রাতে) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “গতকাল (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৫ই ছফর শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ অর্থাৎ লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার রাতে) একখানা ঘটনা মুবারক ঘটেছেন। ঘটনা মুবারকখানা হলেন- ৫ই ছফর শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। এখন আগে কি হয়েছে জানি না; তবে মনে হলো যেনো উনি আমাকে উনার অনুষ্ঠানে সবসময় দাওয়াত দেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) কালকে তিনি আমাকে দাওয়াত মুবারক দিয়েছেন। আমি উনার ওখানে গেলাম। উনি আমাকে ‘হাইস্’ (খেজুর, মাখন/ঘি ও পনির দ্বারা তৈরী এক প্রকার খাবার) খাওয়ালেন আর একটা ঝাল ঝাল কি যেন খাওয়ালেন। মনে হলো, উনি যেনো সবসময় আমাকে দাওয়াত দেন। খাওয়া-দাওয়া শেষ হওয়ার পর উনি আমাকে বললেন যে, ‘আমাদের আলোচনা মুবারক যখন করা হয়, তখন আমাদের আলোচনা মুবারক এবং আমাদের সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের আলোচনা মুবারকও যেন করা হয়। অন্য আলোচনা যেন না করা হয়।’ দুই জনের অর্থাৎ প্রথম আর শেষে যেই দুইজন আলোচনা করেছে, তাদেরটা ঠিকই ছিলো। আর মাঝখানে যে আলোচনা করেছে, সে কিছু আনুষাঙ্গিক আলোচনা করেছে। সে প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনি বলেছেন যে, ‘আমাদের আলোচনা করার মধ্যে অন্য আলোচনা যেন না আসে।’ এটা উনি আমাকে বললেন। আমি শুনলাম। ঠিক আছে। বুঝতে পারলে? মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে দাওয়াত মুবারক দিয়েছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

আরজী: কোথায় দাওয়াত দেয়া হয়েছে? 

জওয়াব মুবারক: উনার বাড়িতে। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাড়িতে, যেখানে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ। যেখানে উনারা থাকতেন, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ-এ।

আরজী: আর কেউ ছিলেন? 

জওয়াব মুবারক: আর কেউ ছিলেন না। উনাকেই আমি দেখেছি, আর কাউকে দেখিনি। মনে হলো যেন উনি সবসময়ই উনার অনুষ্ঠান মুবারক-এ আমাকে সম্মানিত দাওয়াত মুবারক দেন। এই বারও দাওয়াত মুবারক দিয়েছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

আরজী: তাহলে উনারা খুব ভালোভাবেই বিষয়গুলি খেয়াল করেন।

জওয়াব মুবারক: নিশ্চয়ই। তা না হলে উনি এটা বললেন কেন্? 

আরজী: সবই শুনেন।

জওয়াব মুবারক: না শুনার তো কিছু নেই। হাযির-নাযির হলে তো শুনা যায়ই। হাযির-নাযিরের ব্যাপার আছে, আবার অনেকগুলি বিষয় আছে মহান আল্লাহ পাক উনি কুদরতীভাবে শুনিয়ে দেন। অনেক রকম আছে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) 

আরজী: রাতে, না দিনে? 

জওয়াব মুবারক: রাতে।

আরজী: ছোহবত মুবারক উনার পরে?

জওয়াব মুবারক: না, না, না। প্রথম জনের আলোচনা শেষ হয়ে, ২য় জন যখন আলোচনা শুরু করলো, তার একটু পরে। অর্থাৎ সোয়া ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে।

আরজী: ৮-১০ বছর আগে। প্রতিযোগীতা শরীফ মাহফিল শেষ হওয়ার পর যখন ওয়াজ শরীফ মাহফিল শুরু হলেন, সেই ওয়াজ শরীফ মাহফিল উনার ১ম দিন। মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন যে, ‘আজকে আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নিয়ে যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মিম্বার শরীফ-এ বসলাম, তখন দেখলাম- স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ঘুরে ঘুরে দেখতেছেন, কে কে মাহফিল মুবারক-এ উপস্থিত হয়েছেন।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

জওয়াব মুবারক: দেখেনই তো। এটা অস্বাভাবিক কিছুই না, স্বাভাবিক। সবসময়ই দেখেন। উনি তো সব জায়গায় হাযির-নাযির। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এটা তো স্বাভাবিক। 

মুহাব্বতটা কি এভাবেই পাওয়া যায়? উনারা কি এমনে দাওয়াত দেন? মোফতে দাওয়াত দেন? মোফতে না। হ্যাঁ; তবে সব কথা বলা যাবে না। যতটুকু বলা যায়, এতোটুকু বলি শুধু। কোথায় আসমান! কোথায় যমীন! উনি তো আসমানে; বরং আরো উপরে। উনি দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যাবেন কেন? উনার কি কোনো প্রয়োজন পড়েছে দাওয়াত দেয়ার? না; বরং মুহব্বত-নিছবত মুবারক উনার কারণে দাওয়াত দেন।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কতো বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ মাল-জান, সময় সমস্ত কিছু দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-১১

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-১১

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ হচ্ছেন সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আমল মুবারক। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যবধি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ পালন করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার চেয়ে বড় এবং ফযীলতপূর্ণ আর কোনো আমল নেই। সুবহানাল্লাহ! বান্দার তরফ থেকে সর্বশেষ মাক্বাম হচ্ছে আবদিয়াতের মাক্বাম আর মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ মাক্বাম মুবারক হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাহলে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করলে বান্দা-বান্দী, উম্মত, জিন-ইনসান কত বড় নিয়ামত লাভ করবে এবং তা পালন করার কত বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! নি¤েœ মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক সম্পর্কে হযরত তাবিয়ী, তাবে তাবিয়ী এবং ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কিছু ক্বওল শরীফ এবং একখানা বিশেষ ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হলো-

(১) উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ খরচ করার প্রত্যাশা:

قَالَ حَضْرَتْ اَلْحَسَنُ الْبَصْرِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَدِدْتُّ لَوْ كَانَ لِـىْ مِثْلُ جَبَلِ اُحُدٍ ذَهَبًا لَاَنْفَقْتُهٗ عَلٰى قِرَاءَةِ مَوْلِدِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “বিশিষ্ট তাবিয়ী, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ২১ হিজরী শরীফ : বিছাল শরীফ ১১০ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন, আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকতো, তাহলে অবশ্যই আমি তা মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে খরচ করতাম।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা, ইয়ানাতুত্ ত্বালিবীন ৩/৪১৪, কিতাবু ফাদ্বায়িলি মাওলিদিন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২ নং পৃষ্ঠা, রিসালাতু মাওলিদিন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৩ নং পৃষ্ঠা)

অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ আমল মুবারক। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যবধি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ পালন করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন এবং সমস্ত কায়িনাতবাসী সবাইকে রিযিক্ব দিচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়; যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করবেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তা’যীম-তাকরীম মুবারক করবেন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবেন অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক দান করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করবে না, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তা’যীম-তাকরীম মুবারক করবে না এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবে না অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করবে না, তারা চরম নাফরমান, চরম বেআদব ও কাট্টা কাফির হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে জাহান্নামের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করবেন। কাজেই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে যত খরচ করা যায়, বান্দা-বান্দী, উম্মতের জন্য ততোই রহমত, বরকত এবং কামিয়াবী লাভের কারণ। সুবহানাল্লাহ!

(২) হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম দলের সাথে হাশর-নশর এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান মুবারক:

قَالَ حَضْرَتْ مَعْرُوْفُ  الْكَرْخِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مَنْ هَيَّاَ طَعَامًا لِّاَجْلِ قِرَائَةِ مَوْلِدِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَـمَعَ اِخْوَانًا وَاَوْقَدَ سِرَاجًا وَلَبِسَ جَدِيْدًا وَتَبَخَّرَ وَتَعَطَّرَ تَعْظِيْمًا لِّـمَوْلِدِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَشَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْفِرْقَةِ الْاُوْلـٰى مِنَ النَّبِـيِّـيْـنَ وَكَانَ فِـىْ اَعْلـٰى عِلِّـيِّـيْـنَ

অর্থ: “ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত হযরত ইমাম মারূফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ২০০ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন, মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে যিনি খাদ্য প্রস্তুত করবেন এবং সম্মানিত মুসলমান ভাই উনাদেরকে একত্রিত করবেন, বাতি জ্বালাবেন, নতুন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন (সুন্নতী) পোশাক পরিধান করবেন, ধূপ জ্বালাবেন এবং আতর-গোলাপ মাখবেন, ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তি উনার হাশর-নশর করাবেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম দলের সাথে এবং তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা, ইয়ানাতুত্ ত্বালিবীন ৩/৪১৫, রিসালাতু মাওলিদিন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪ নং পৃষ্ঠা)

অপর বর্ণনায় রয়েছেন,

وَتَعَطَّرَ وَتَجَمَّلَ

অর্থ: “যিনি আতর-গোলাপ মাখবেন এবং সুসজ্জিত হবেন, (ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ ব্যক্তি উনার হাশর-নশর করাবেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম দলের সাথে এবং তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করবেন।)” সুবহানাল্লাহ! (ইয়ানাতুত্ ত্বালিবীন ৩/৪১৫)

কাজেই, যাঁরা হাক্বীক্বীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করবেন, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের হাশর-নশর করাবেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম দলের সাথে এবং উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ!

(৩) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক:

قَالَ حَضْرَتْ اَبُو الْحَسَنِ السَّرِّىُّ السَّقَطِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مَنْ قَصَدَ مَوْضِعًا يُقْرَاُ فِيْهِ مَوْلِدُ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ قَصَدَ رَوْضَةً مِّنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ لِاَنَّهٗ مَا قَصَدَ ذٰلِكَ الْمَوْضِعَ اِلَّا لِمَحَبَّةِ النَّبِىِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ قَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اَحَبَّنِـىْ كَانَ مَعِىَ فِى الْجَنَّةِ 

অর্থ: “হযরত আবুল হাসান সাররী সাক্বত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ১৬০ হিজরী শরীফ : বিছাল শরীফ ২৫৩ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার জন্য কোনো স্থান নির্দিষ্ট করার নিয়ত করলেন, তিনি যেন উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার বাগানের মধ্য থেকে একটি বাগান নির্দিষ্ট করলেন। কেননা তিনি তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত মুবারকেই করার নিয়ত করেছেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত করবে, সে আমার সাথেই সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা, ইয়ানাতুত্ ত্বালিবীন ৩/৪১৫, কিতাবু ফাদ্বায়িলি মাওলিদিন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৩ নং পৃষ্ঠা, তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

শুধু তাই নয়; মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনকারী, সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদিম হিসেবে উনার সাথেই অবস্থান করবেন। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,

مَنْ فَرِحَ بِنَا فَرِحْنَا بِهٖ فَالْمُحِبُّ مَعَ اَحْبَابِهٖ

‘যে ব্যক্তি আমাদের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে, আমরা তার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করি। মুহব্বতকারী ব্যক্তি যাঁকে মুহব্বত করে, উনার সাথেই সে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! (তাযকিরাতুল ওয়ায়িযীন ১২৫ নং পৃষ্ঠা)

৫ম খণ্ডে এই বিষয়ে একখানা ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হয়েছে।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনে খুশি হয়ে একখানা অনেক বড় মাক্বাম মুবারক হাদিয়া, যা পৃথিবীর ইতিহাসে আর কাউকে দেওয়া হয়নি:

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার  মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১লা রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল খমীস (বৃহস্পতিবার) চতুর্থ তলা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খানকাহ্ শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি মুবারক নিচ্ছিলেন, তখন উনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, আপনার কাছে আমি ৬/৭ দিরহাম রেখেছিলাম দান করে দেওয়ার  জন্য- আপনি সেটা কি দান করে দিয়েছেন? তিনি বললেন, আমি ব্যস্ততার কারণে দান করতে পারিনি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তাড়াতাড়ী দান করে দিন। তিনি দান করে দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমি চাই না যিনি খ¦ালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সাক্ষাৎ করি, আর আমার কাছে দুনিয়ার কিছু সম্পদ থাকুক। এটা আমার পছন্দ না। কাজেই আপনি দান করে দিন। তিনি দান করে দিলেন।

এখন উম্মতের দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে- দুনিয়ার কোনো বস্তু ধন-দৌলত, টাকা-পয়সা, গাড়ী-বাড়ী যেন তাকে হাক্বীক্বী নিসবত-কুরবত ও যিয়ারতে বাধা সৃষ্টি না করে। এখন কে কি করেছে আর কে কি করবে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমাদের দেখার বিষয় হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। 

কাজেই সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। আর এই লক্ষ্যেই কিন্তু আমরা বলেছি যে, আমরা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে আমাদের সব কিছু দিয়ে দিয়েছি। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমরা সকলেই সব দিয়ে দিয়েছি। আমি যেমন দিয়েছি, তোমাদের আম্মা হুযূর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনিও দিয়েছেন, সকলেই দিয়েছেন। আমরা ঠিক ওইভাবে সাক্ষাৎ করতে চাই, যেভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন।

সেইজন্য প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ-এ খরচ করার জন্য বলা হয়েছে। আর এখন যে যতো করবে, সে ততো পাবে। 

যেমন- আরেকটা বিষয়, মাক্বামের কোনো অভাব নেই। তোমাদেরকে বলা হয়, তোমাদের বুঝার জন্য। তোমরা তোমাদের আক্বল-বুদ্ধি, সমঝ অনুযায়ী বুঝে থাকো। যেমন- আরেকটা বড় মাক্বাম। মানুষ তো মাক্বাম সম্পর্কে জানে না। আর কিতাবাদীতে সব মাক্বামের বর্ণনাও নেই। একটা বিশেষ মাক্বাম আছে। এটা গত ২৮শে জুমাদাল ঊখরা শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার) আমাকে জানানো হলো, উনাদের  তরফ থেকে একখানা সম্মানিত মাক্বাম মুবারক উনারা আমাকে হাদিয়া মুবারক করেছেন। এটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং যিনি খ¦ালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে তলব করার কারণে, উনাদেরকে হাছিলের কোশেশে মশগুল থাকার কারণে, আসল হচ্ছে উনারা খুশি হওয়ার কারণে, উনারা বললেন, একটা অনেক বড় মাক্বাম মুবারক আপনাকে হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে। এই মাক্বাম মুবারক পৃথিবীর ইতিহাসে আর কাউকে দেওয়া হয়নি। সেটা হচ্ছে- ‘আমি যদি সুপারিশ করি, তাহলে যে কোনো লোককে, পুরুষ হোক মহিলা হোক তাকে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ সমগ্র পৃথিবীতে কেউ আহলু বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত হতে হলে আমার অনুমোদন প্রয়োজন অর্থাৎ আমার অনুমোদন ব্যতিত কেউ আহলু বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) কেন? উনারা সন্তুষ্ট হলেই তো উনারা দিবেন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!  

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২রা রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল জুমু’আহ্ শরীফ চতুর্থ তলা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খানকাহ্ শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “আমরা তো গত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের পর ঘোষণা দিয়েছি। আসলে এটাতো অনন্তকালের জন্য জারী করেছি। তার মধ্যে বিশেষ মাহফিল ছিলো ৬৩ দিন। সেটা আমরা করেছি ৯০ দিন। যেটা আমি আগেও ঘোষণা দিয়েছি, গতকালও বলেছি। আমার, তোমাদের আম্মা হুযূর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ আমরা সকলেই আমাদের সমস্ত সময়, সমস্ত মাল, জান সবই আমরা হাদিয়া দিয়ে দিয়েছি। এতে যিনি খ¦ালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি, যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমি সেটা বলেছি, এই বৎসর ৮ই জুমাদাল ঊলা শরীফ (১৪৪৩ হিজরী শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ) আমি উনাদের প্রত্যেককেই অত্যন্ত সন্তুষ্টচিত্ত মুবারক, অত্যন্ত খুশি মুবারক অবস্থায় দেখতে পেয়েছি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

যিনি খ¦ালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে আমি বলেছিলাম, আপনারা আমাদেরকে কিছু নিয়ামত দান করুন। তখন উনাদের তরফ থেকে বলা হয়েছিলো- নিয়ামত তো দেওয়া হচ্ছে, দেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে বড় নিয়ামত মুবারক আমাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক সেটা তো দেওয়া হচ্ছে। আমি আর কিছু বললাম না, চুপ থাকলাম। এখানে আরো কিছু ঘটেছে, যেটা আমি ভাষা দিয়ে প্রকাশ করতে পারবো না, সেজন্য বলতে পারবো না।

 তার পরবর্তী সময় যেটা ঘটলো, যেটা গতকাল আমি বলেছি, ২৮শে জুমাদাল ঊখরা শরীফ (১৪৪৩ হিজরী শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ অর্থাৎ মঙ্গলবার) উনারা সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে আরো একটা বিশেষ মাক্বাম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। মাক্বামের তো কোনো শেষ নেই, নিয়ামতেরও কোনো শেষ নেই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

মহান আল্লাহ পাক উনি দেওয়ার জন্য কোনো শর্ত খুঁজেন না। উনি দিলেই উপযুক্ত হয়ে যায়। কাউকে উপযুক্ত হিসাবে উনি দেন না, আবার উনি দিলেই উপযুুক্ত হয়ে যায়। উনারা যে মাক্বাম মুবারক আমাকে হাদিয়া মুবারক করেছেন, সেটা অনেক বড় একটা মাক্বাম মুবারক। আমার ইখতিয়ার দিয়েছেন, আমি ইচ্ছা করলে যে কোনো লোককে সুপারিশ করলে, সে যেই হোক তাকে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) অর্থাৎ একজন লোক হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হলে তার যতো ফযীলত, সবটাই সে লাভ করবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)  

গতকাল এই ঘটনা মুবারক বলেছি। বলার পর উনারা আরো সন্তুষ্ট হয়েছেন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!  

তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কতো বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার মধ্যে মাল-জান, সময় সমস্ত কিছু দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-১০

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-১০

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ হচ্ছেন সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আমল মুবারক। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যবধি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ পালন করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার চেয়ে বড় ও ফযীলতপূর্ণ আর কোনো আমল নেই। সুবহানাল্লাহ! বান্দার তরফ থেকে সর্বশেষ মাক্বাম হচ্ছে আবদিয়াতের মাক্বাম আর মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ মাক্বাম মুবারক হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাহলে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করলে বান্দা-বান্দী, উম্মত, জিন-ইনসান কত বড় নিয়ামত লাভ করবে এবং তা পালন করার কত বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক সম্পর্কে বাস্তবেও অসংখ্য ঘটনা মুবারক বর্ণিত রয়েছেন। নিম্নে দুইখানা ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হলো-

(১) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা পাওয়া এবং অসংখ্য লোকের ঈমান গ্রহণ:

فِىْ عَامٍ ১৯৫৩ م وَفِىْ مَدِيْنَةِ صَيْدًا جُنُوْبِ لِبْنَانَ كَالْعَادَةِ فِىْ يَوْمِ مِيْلَادِ الرَّسُوْلِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْتَفِلُ الْمُسْلِمُوْنَ وَمِنْ شَعَائِرِ الْاِحْتِفَالَاتِ فِىْ لِبْنَانَ اِطْلَاقُ النَّارِ فِى الْهَوَاءِ وَهِىَ عَادَةٌ مُتَعَارَفَةٌ وَقَدِيْمَةٌ فِىْ ذٰلِكَ الْوَقْتِ سَقَطَتْ رُصَاصَةٌ طَائِشَةٌ عَلٰى رَأْسِ فَتَاةٍ نَّصْرَانِيَّةٍ مِنْ عَائِلَةِ غِطَاسٍ وَهِىَ عَائِلَةٌ مَّعْرُوْفَةٌ فِىْ تِلْكَ الْمَدِيْنَةِ سَارَعَ اَهَالِى الْمِنْطَقَةِ بِاَخْذِ الْفَتَاةِ اِلٰى مَشْفَى الدُّكْتُوْرِ غَسَّانَ حَمُّوْدٍ وَلٰكِنَّ الْاَطِبَّاءَ عَجَزُوْا عَنْ شِفَاءِ هٰذِهِ الْفَتَاةِ وَقَالُوْا لِاَهْلِهَا اُنْقُلُوْهَا فَوْرًا اِلٰى مُسْتَشْفَى الْجَامِعَةِ الْاَمْرِيْكِيَّةِ بِبَيْرُوْتَ نَظْرًا لِخُطُوْرَةِ حَالَتِهَا وَعَلَى الْفَوْرِ تَمَّ نَقْلُ الْفَتَاةِ اِلٰى مُسْتَشْفَى الْجَامِعَةِ الْاَمْرِيْكِيَّةِ بِبَيْرُوْتَ وَاجْتَمَعَ اَشْهَرُ اَطِبَّاءِ لِبْنَانَ مَعَ طَاقِمٍ طِبِّىٍّ اَمْرِيْكِىٍّ لِمُعَالَجَةِ الْفَتَاةِ وَلٰكِنَّ الثَّقْبَ فِى الرَّأْسِ كَانَ اَقْوٰى مِنْهُمْ وَالنَّزِيْفُ بَدَاَ بِالتَّزَايَدِ حَتّٰى عَجَزَ الْاَطِبَّاءُ وَاَصَابَتْ خَيْبَةُ الْاَمَلِ الْاُسْرَةَ فَهَرِعَتِ الْاُمُّ بِالنِّدَاءِ وَهِىَ نَصْرَانِيَّةٌ اَيْنَ اَنْتَ يَا سَيِّدَنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَيْنَ اَنْتَ يَا مَنْ يُّسَمُّوْكَ رَسُوْلَ الْمُسْلِمِيْنَ تَعَالَ وَشَاهِدْ مَاذَا فَعَلَتْ اُمَّتُكَ بِاِبْنَتِىْ وَهِىَ تَنْهَمِرُ دُمُوْعُهَا دُوْنَ تَوَقُّفٍ وَتَقُوْلُ لَقَدْ قَتَلُوا الْمُسْلِمُوْنَ اِبْنَتِىْ لِيَحْتَفِلُوْا بِوِلَادَتِكَ وَفِىْ نَفْسِ اللَّحْظَةِ كَانَ الْاَطِبَّاءُ دَاخِلَ الْغُرْفَةِ مَعَ الْفَتَاةِ يُرَشِّحُوْنَ اَحَدَ الْاَطِبَّاءِ يَخْرُجُ اِلَى الْاُمِّ وَيَقُوْلُ لَهَا اُدْخُلِىْ وَوَدَّعِىْ اِبْنَتَكَ بِاٰخِرِ نَظْرَةٍ فَاِبْنَتُكِ مُفَارِقَةٌ لِلْحَيَاةِ لَا مَحَالَةَ بَدَاَتِ الرَّعْشَةُ فِىْ جَسَدِ الْاُمِّ اَلْاَقْدَامُ مَا عَادَتْ تَتَحَمَّلُ الْجَسَدَ تَتَقَدَّمُ بِبَطِيْءٍ شَدِيْدٍ فَالْاَمْرُ شَدِيْدٌ عَلَى الْاُمِّ وَاللَّحْظَاتُ الْاَخِيْرَةُ فَتَحَتِ الْاُمُّ بَابَ الْغُرْفَةِ وَكَانَتِ الْمُفَاجَاَةَ اَلْبِنْتُ تَصْرَخُ وَهِىَ جَالِسَةٌ عَلٰى سَرِيْرِهَا فِى الْغُرْفَةِ اَغْلِقِى الْبَابَ يَا اُمِّىْ اَسْرِعِىْ يَا اُمِّىْ لَا تَدْعِيْهِ يَخْرُجُ يَا اُمِّىْ اَسْرِعِىْ اَمْسِكِيْهِ لَا تَدْعِيْهِ يَخْرُجُ اَلْاُمُّ تَقِفُ عَنِ الْكَلَامِ مَصْدُوْمَةً مِّنَ الْمَوْقِفِ فَمَا هٰذَا مَنِ الْمَقْصُوْدُ كَيْفَ صَحَّتِ الْبِنْتُ مِنْ غَيْبُوْبَتِهَا وَنَطَقَتْ اَسْئِلَةٌ كَثِيْرَةٌ دَارَتْ فِىْ مُخَيِّلَةِ الْاُمِّ فِىْ ثَوَانِىْ وَلَحْظَاتٍ قَلِيْلَةٍ قَالَتِ الْاُمُّ يَا بِنْتِىْ مَنْ بُدِىَ اَمْسِكُ عَنْ مَّنْ بِتَحْكِىْ يَا اِبْنَتِىْ وَكَانَ الْجَوَابُ الَّذِىْ صَدَمَ الْاُمَّ وَجَمِيْعَ الْمَوْجُوْدِيْنَ اِنَّهٗ سَيِّدُنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِﷺ يَا اُمِّىْ دَخَلَ سَيِّدُنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِﷺ اِلٰى غُرْفَتِىْ وَوَضَعَ يَدَهٗ عَلٰى رَأْسِىْ فَذَهَبَ الْجُرْحُ وَذَهَبَ الدَّمُ وَعِنْدَمَا فَتَحْتِ الْبَابَ خَرَجَ يَا اُمِّىْ فَنَطَقَتِ الْاُمُّ الشَّهَادَةَ وَنَطَقَهَا جَمِيْعُ الْمَوْجُوْدِيْنَ فِىْ لَحْظَتِهَا وَاَسْلَمَتْ عَائِلَةُ غِطَاسٍ فِىْ صَيْدًا بِاَجْمَعِهَا وَاَسْلَمَ طَاقِمٌ كَامِلٌ مِّنَ الْاَطِبَّاءِ الْاَمْرِيْكَانِ  وَمُعْظَمُ اَهْلِ لِبْنَانَ يَعْلَمُوْنَ بِـهٰذِهِ الْحَادِثَةِ

অর্থ: “১৯৫৩ সালে দক্ষিণ লেবাননের সিডন শহরে সম্মানিত মুসলমান উনারা (প্রতি বছরের ন্যায় উনাদের) আদত বা অভ্যাস অনুযায়ী ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে সম্মানিত মাহফিল মুবারক করছিলেন। এই সম্মানিত মাহফিল মুবারক উপলক্ষে লেবাননের ঐতিহ্য ছিলো- উপরের দিকে গোলাবর্ষণ করা। আর (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খুশি মুবারক প্রকাশ করে উপরের দিকে গোলাবর্ষণ করা) এটা ছিলো ঐ সময়ের সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহ্য। (হঠাৎ) উদ্দেশ্যহীন একটি গুলি খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত পরিবারের একজন খ্রীষ্টান মেয়ের মাথায় পড়ে। আর ঐ পরিবারটা ছিলো সেই শহরের মধ্যে সুপরিচিত। তখন এলাকাবাসী মেয়েটিকে দ্রুত ‘ডাক্তার গাস্সান হাম্মূদ হাসপাতালে’ নিয়ে যায়। কিন্তু ডাক্তাররা মেয়েটির অবস্থার ভয়াবহতা দেখে চিকিৎসার ব্যাপারে অপারগ হয়ে তার পরিবারকে বললো- ‘তোমরা অবিলম্বে তাকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করো।’ তাৎক্ষণিকভাবে মেয়েটিকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলো। মেয়েটির চিকিৎসার জন্য আমেরিকান চিকিৎসা সংক্রান্ত স্টাফের সাথে লেবাননের প্রসিদ্ধ চিকিৎসকরা একত্রিত হলো। কিন্তু মাথার জখম ছিলো তাদের ধারণার থেকেও অধিকতর গুরুতর। (মাথায় গুলি লাগার কারণে, মেয়েটির মাথার মগজ এলোমেলো হয়ে গেছে। ফলে) রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার পর থেকেই রক্তক্ষরণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। (কোনো ক্রমেই তা কমানো সম্ভব হচ্ছিলো না।) শেষ পর্যন্ত সমস্ত চিকৎসকরা অপারগ হয়ে যায়। (তারা বলে যে, মেয়েটি নিশ্চিত মারা যাবে। কারণ তার মাথার জখম কখনও সাড়ানো সম্ভব নয় এবং তার রক্তক্ষরণও বন্ধ করা সম্ভব নয়।) পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনরাও হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়। মেয়েটির মা ছিলো খ্রীষ্টান, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করে সে কেঁদে কেঁদে বলছিলো- ‘আপনি কোথায়? আপনাকে সম্মানিত মুসলমান উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে অভিহিত করা হয়- আপনি কোথায়? (দয়া করে) আসুন এবং প্রত্যক্ষ করুন, দেখুন- আপনার সম্মানিত উম্মত উনারা আমার মেয়ের সাথে কি আচরণ করেছেন।’ আর তার অবস্থা এরূপ ছিলো যে, তার দুচোখ বেয়ে অবিরতধারায় অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিলো এবং সে বলছিলো- ‘আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক উনার সম্মানার্থে সম্মানিত মাহফিল মুবারক করার জন্য অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে সম্মানিত মাহফিল মুবারক করার জন্য সম্মানিত মুসলমান উনারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছেন।’ (না‘ঊযুবিল্লাহ!) একই মুহূর্তে চিকিৎসকরা কক্ষের ভিতরে মেয়েটির চিকিৎসা করছিলো। তাদের সকলের পরামর্শক্রমে একজন চিকিৎসক বাইরে গিয়ে মেয়েটির মাকে বললো- ‘তুমি প্রবেশ করে তোমার মেয়েকে শেষ দেখা দেখে বিদায় জানাও। কোনো উপায় নেই; তোমার মেয়ে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে।’ (এটা শুনে) মায়ের শরীরে কাঁপুনি শুরু হলো। তার পা শরীরের ভার বহন করে (মেয়ের কাছে) ফিরে যেতে সক্ষম হচ্ছিলো না। সে অত্যন্ত ধীর গতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলো। একজন মায়ের জন্য মেয়ের শেষ মুহূর্তের অবস্থা অত্যন্ত কঠিন। (মেয়েটির) মা কক্ষের দরজা খুলে বিস্মিত হলো (এ জন্য যে,) মেয়েটি কক্ষে তার খাটের উপর বসে চিৎকার করে বলছে- ‘মা! দরজা বন্ধ করুন। মা! দ্রুত আসুন। তিনি চলে যাচ্ছেন, উনাকে যেতে দিয়েন না। মা! তাড়াতাড়ি করুন। উনাকে ধরে রাখুন। তিনি চলে যাচ্ছেন, উনাকে যেতে দিয়েন না।’ পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে মা কথা বলা বন্ধ করে দিলো। (আর মনে মনে বলতে লাগলো-) এটা কি? কাকে উদ্দেশ্য করা হচ্ছে? মৃত্যুশয্যা থেকে সে কিভাবে সুস্থ হলো? আর সে কথাও বলছে? কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে, সামান্য মুহূর্তের মধ্যে মায়ের মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো। মা বললো- ‘আমার মেয়ে! কে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন? আমি কাকে ধরে রাখবো? হে আমার মেয়ে! তুমি কার কথা বলছো?’ মেয়েটির জবাব এমন ছিলো, যা তার মা এবং উপস্থিত সবাইকে প্রভাবিত করে। (মেয়েটি বললো-)

اَنَّهٗ سَيِّدُنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِﷺ يَا اُمِّىْ دَخَلَ سَيِّدُنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِﷺ اِلٰى غُرْفَتِىْ وَوَضَعَ يَدَهٗ عَلٰى رَأْسِىْ فَذَهَبَ الْجَرْحُ وَذَهَبَ الدَّمُ وَعِنْدَمَا فَتَحْتِى الْبَابَ خَرَجَ يَا اُمِّىْ 

‘মা! নিশ্চয়ই তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার কক্ষে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নিয়ে আমার মাথায় উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) রাখলেন বা বুলিয়ে দিলেন, তৎক্ষণাৎ (আমার) ক্ষত সেরে গেলো এবং রক্ত বন্ধ হয়ে গেলো। মা! যখনই আপনি দরজা খুললেন, তখনই তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন।’ (তখন মেয়েটির মা ও ডাক্তারসহ সকলে মিলে দেখলো যে, মেয়েটির মাথায় ক্ষতের কোনো চিহ্নই নেই এবং রক্তক্ষরণেরও কোনো চিহ্ন নেই। সুবহানাল্লাহ!) সাথে সাথেই মেয়েটির মা এবং ঐ সময় সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন সকলেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করে মুসলমান হয়ে যান। আর সিডন শহরের খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত সমস্ত পরিবার এবং আমেরিকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ডাক্তারদের সমস্ত স্টাফ সকলেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ!

লেবাননের অধিকাংশ মানুষ এই ওয়াক্বেয়া সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ!

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

فَاللهُ خَيْرٌ حٰفِظًا وَّهُوَ اَرْحَمُ الرّٰحِمِيْنَ

‘মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বোত্তম হিফাযতকারী এবং তিনি হচ্ছেন ‘আরহামুর রহিমীন’ অর্থাৎ সবচেয়ে বড় দয়ালু।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইঊসুফ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৪) 

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর মুবারক হচ্ছেন,

فَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرٌ حٰفِظًا وَّهُوَ رَحْمَةٌ لِّلْعٰلَمِيْنَ

‘মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বোত্তম হিফাযতকারী এবং তিনি হচ্ছেন ‘রহমাতুল্লিল আলামীন’ অর্থাৎ সমস্ত আলমের জন্য রহমত মুবারক স্বরূপ।’ সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

এই ঘটনাসহ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঘটনা মুবারকগুলো থেকে সেই বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে যায়।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা সমস্ত সৃষ্টির জন্য কতো সীমাহীন বেমেছাল রহমত-বরকত, সাকীনাহ্, নেয়ামত, মাগফিরাত, নাজাত ও গাইবী মদদ মুবারক লাভের কারণ, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

(২) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের তরফ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ মাক্বাম মুবারক হাদিয়া

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২রা রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল জুমু‘আহ্ শরীফ চতুর্থ তলা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খানকাহ্ শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “গত রাত্রে অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১লা রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল খমীস শরীফ (বৃহস্পতিবার রাত) উনার ঘটনা। আমি  রাত ৩টা সোয়া ৩টার দিকে মোরাকাবা অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ আমি দেখতেছি- সারা দুনিয়ায় অনেক হৈ চৈ এবং সবাই অস্থির। আমার আত্মীয় স্বজন আছেন, অন্যান্য সারা দুনিয়ায় পৃথিবীর দূর-দূরান্তে, দেশ-বিদেশে, অনেক লোক। হৈ চৈ। কি ব্যাপার? উনারা সবাই এসেছেন যে, আমাদেরকে কিছু দেন। আমি বললাম, ‘আমি কি দিবো?’ উনারা বললেন, কেন? আপনাকে তো যিনি খ¦ালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনি এবং যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি অর্থাৎ উনারা ‘রহমাতুল্লিল আলামীন’ মাক্বাম মুবারক উনার পূর্ণ হিস্সা হাদিয়া মুবারক করেছেন। সেখান থেকে রহমত মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমি বললাম কোথায়? সবাই বললেন, আপনি উপরের দিকে দৃষ্টি করেন। আমি উপরের দিকে দৃষ্টি করলাম। দেখলাম, সেখান থেকে অঝোর ধারায় সম্মানিত রহমত মুবারক বর্ষিত হচ্ছেন। নূরের মতো। সকলে বললেন, আমাদেরকে দেন? আমি বললাম, ঠিক আছে; আপনারা এখান থেকে নেন। আমি সেখান থেকে সবাইকে দিতে থাকলাম। 

অনেক দেওয়ার পর যিনি খ¦ালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের তরফ থেকে বলা হলো- এভাবে কিভাবে হবে? এটা একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা কি? উনারা উনাদের তরফ থেকে একখানা সম্মানিত লিবাস মুবারক আমাকে হাদিয়া মুবারক করলেন। আর বললেন, এটা আপনি পরিধান করে আপনি হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বাম হন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এটা উনারা দিলেন। এটা হচ্ছে- ইযারের মতো অর্থাৎ লুঙ্গির মতো আবার লুঙ্গি না। শরীরে পরে বেধে রাখা যায়। সাদা রংয়ের। সেটা সাদা রং, তার মধ্যে তুলা দিয়ে ফুলানো, ফোমের মতো। সুন্দর একটা কাপড়। পরলাম। উনারা বললেন, এখন থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যম দিয়ে যে সম্মানিত রহমত মুবারক বান্দা-বান্দী, জিন-ইনসান লাভ করতো, সেটা আপনার থেকে লাভ করবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আরো যতো লোক আসলো সারা দুনিয়াব্যাপী জিন-ইনসান যারা যা আরজী করতে থাকে, তারা সে অনুযায়ী লাভ করতে থাকে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

এটা আমি আগে বলেছিলাম। যে, যাত্রাবাড়ীর পীর ছাহেব আলাইহিস সালাম তিনি যে এসে আমার মধ্যে ফানা হয়ে বাক্বা হয়ে গেলেন, নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে দিলেন। এভাবেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে ফানা হয়ে বাক্বা হয়ে যেতে হবে। উনার জন্য সব বিলীন করে দিতে হবে। তখন তার জন্য কামিয়াবী হাছিল করা, যতো নিয়ামত রয়েছেন তা হাছিল করা সহজ এবং সম্ভব হবে।” সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৬ই রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার রাতে) এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১১ই রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল আহাদ শরীফ (রোববার রাতে) ৪র্থ তলা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খানকাহ্ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “এই ‘সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ’ উনার সম্মানার্থেই মহান আল্লাহ পাক উনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি অর্থাৎ উনারা আমাকে ‘রহমাতুল্লিল আলামীন’ এই সম্মানিত মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া মুবারক করেছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) দেখলাম যে, সবাই এসে আমাকে বলতেছে, আমাদেরকে কিছু সম্মানিত রহমত মুবারক দেন। আমি বললাম কোথা থেকে? সবাই বললেন, আপনি উপরের দিকে দৃষ্টি করেন। আমি উপরের দিক দৃষ্টি মুবারক দিয়ে দেখলাম, সেখান থেকে অঝোর ধারায় সম্মানিত রহমত মুবারক বর্ষিত হচ্ছেন। সকলে বললো, আমাদেরকে দেন? আমি সেখান থেকে সবাইকে দিতে থাকলাম। যিনি খ¦ালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের তরফ থেকে বলা হলো- এভাবে কিভাবে হবে? এটা একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর উনারা উনাদের তরফ থেকে একখানা সম্মানিত লিবাস মুবারক আমাকে হাদিয়া মুবারক করলেন এবং আমাকে তা পরিয়ে দিলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) অর্থাৎ ‘রহমাতুল্লিল আলামীন’ মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া মুবারক করে দেয়া হয়ে গেলো। লেবাস মুবারকখানা শরীরে পরে বেঁধে রাখা যায়। সাদা রংয়ের এবং তার মধ্যে তুলা দিয়ে ফুলানো, ফোমের মতো। অনেক সুন্দর। উনারা বললেন, এই লিবাস মুবারক পরলে এখান থেকে কুদরতীভাবে সম্মানিত রহমত মুবারক বের হতে থাকবেন। দেখলাম যে, কুদরতীভাবে সম্মানিত রহমত মুবারক বের হচ্ছেন আর সমস্ত কায়িনাতের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছেন এবং সবাই সম্মানিত রহমত মুবারক গ্রহণ করছে।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কতো বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ মাল-জান সমস্ত কিছু দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-৯

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-৯

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ হচ্ছেন সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আমল মুবারক। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যবধি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ পালন করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার চেয়ে বড় ও ফযীলতপূর্ণ আর কোনো আমল নেই। সুবহানাল্লাহ! বান্দার তরফ থেকে সর্বশেষ মাক্বাম হচ্ছে আবদিয়াতের মাক্বাম আর মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ মাক্বাম মুবারক হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাহলে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করলে বান্দা-বান্দী, উম্মত, জিন-ইনসান কত বড় নেয়ামত মুবারক লাভ করবে এবং তা পালন করার কত বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক সম্পর্কে বাস্তবে অসংখ্য ঘটনা মুবারক বর্ণিত রয়েছেন। নিম্নে দুইখানা ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হলো-

১. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ মাত্র এক দিরহাম খরচ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় ফক্বীর-মিসকীনদেরকে এক পাহাড় পরিমাণ লাল স্বর্ণ দান করার সমপরিমাণ ফযীলত মুবারক লাভ:

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,

وَقَالَ بَعْضُ الصَّالِـحِـيْـنَ كَانَ شَيْخِىْ لَهٗ عَادَةً كُلَّ عَامٍ يَـقْـرَاُ قِصَّةَ الْـمَوْلِدِ الشَّرِيْفِ وَيـَحْـتَـفِـلُ فِـيْـهِ اِحْـتِـفَالًا عَظِـيْمًا فَجَاءَتْ سَنَةُ اِحْدٰى وَسِتِّـيْـنَ وَثَـلَاثـِـمِائَةٍ وَّاَلْفٍ بَـلَغَ فِـيْهَا شُـنْـبُـلُ الْـحِـنْطَةِ سَبْعِـيْـنَ لِـيْـرَةً سُوْرِيَّـةً وَحَصَلَ فِـيْهَا كَـرْبٌ عَظِـيْـمٌ لِـبَعْضِ النَّاسِ فَلَمَّا جَاءَ وَقْتُ اِقَامَةِ حَفْلَةِ الْـمَوْلِدِ الشَّرِيْفِ صَارَ شَيْخِـىْ يَسْتَعِدُّ لَـهَا فَقَالَ بَعْضُ النَّاسِ لَـيْتَ الشَّـيْخَ هٰذِهِ الدَّرَاهِمَ الَّذِىْ يُرِيْدُ اَنْ يُّـنْفِقَهَا عَلـٰى قِرَاءَةِ الْـمَوْلِدِ الشَّرِيْفِ يُـنْفِقُهَا عَلَى الْفُقَرَاءِ وَالْـمَسَاكِـيْـنَ كَانَ اَفْضَلُ فَبَلَغَ شَيْخِىْ هٰذِهِ الْـمَقَالَةُ وَكُـنْتُ فِـىْ حَالَةٍ لَا يَـغِـيْبُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَـيْـنِـىْ طَـرْفَةَ عَـيْـنٍ فَقَالَ شَيْخِىْ اُرِيْـدُ اَنْ اَسْاَلَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذٰلِكَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْاِنْفَاقُ عَلـٰى قِرَاءَةِ مَوْلِدِكَ اَفْضَلُ اَوْ عَلَى الْفُقَرَاءِ وَالْـمَسَاكِـيْـنَ فَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنْفَاقُ كُـلِّ دِرْهَمٍ عَلـٰى قِرَاءَةِ الْـمَوْلِدِ اَفْضَلُ مِنْ اِنْفَاقِ مِائَةِ دِرْهَمٍ عَلَى الْفُقَرَاءِ وَالْـمَسَاكِـيْـنِ

অর্থ: “একজন বুযূর্গ ব্যক্তি তিনি বলেন, আমার সম্মানিত শায়খ উনার আদত বা অভ্যাস মুবারক ছিলো, তিনি প্রতি বছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়ার শরীফ) উনার দিন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ঘটনা মুবারক পাঠ করতেন এবং সেদিন তিনি (প্রচুর টাকা-পয়সা খরচ করে) অনেক বিশাল বড় মাহফিল মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! যখন ১৩৬১ হিজরী শরীফ আসলো, তখন গমের দাম এমন হয় যে, এক শুম্বুল গমের মূল্য সুরিয়ান ৭০ লীরায় পৌঁছে অর্থাৎ তখন কঠিন দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ঐ বছর কিছু মানুষ কঠিন দুঃখ-কষ্টে আপতিত হয়। তারপর যখন মাওলিদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক পালনের সময় আসলেন, তখন আমার সম্মানিত শায়খ তিনি মাহফিল মুবারক উনার ইন্তেজাম করার জন্য উদ্যত হন। তখন (বাতিল ফিরক্বা, বদ মাযহাব ও বদ আক্বীদার) কিছু লোক বললো, ‘হায়! সম্মানিত শায়খ তিনি যেই দিরহামগুলি মাওলিদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের জন্য খরচ করার ইচ্ছা করেছেন, সেগুলো যদি ফকীর-ফুকারা, গরীব-মিসকীন, অসহায়দের জন্য খরচ করতেন, তাহলে কতই না উত্তম হতো! না‘ঊযুবিল্লাহ! এই কথাগুলো সম্মানিত শায়খ উনার নিকট পৌঁছলো। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি এমন একটা অবস্থায় ছিলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চোখের পলকের তরেও আমার দৃষ্টির বাইরে থাকতেন না অর্থাৎ আমি সবসময় উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক-এ থাকতাম। সুবহানাল্লাহ! (আর আমার সম্মানিত শায়খ তিনি তো সবসময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক-এ থাকতেনই, সেটা তো আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ খরচ করার বিষয়ে বাতিল ফিরক্বা, বদ মাযহাব ও বদ আক্বীদার লোকদের এ সমস্ত এলোমেলো কথা শুনে,) আমার সম্মানিত শায়খ তিনি বললেন, ‘আমি ঐ বিষয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করতে চাচ্ছি। তারপর তিনি বললেন,

 يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْاِنْفَاقُ عَلـٰى قِرَاءَةِ مَوْلِدِكَ اَفْضَلُ اَوْ عَلَى الْفُقَرَاءِ وَالْـمَسَاكِـيْـنَ فَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنْفَاقُ كُـلِّ دِرْهَمٍ عَلـٰى قِرَاءَةِ الْـمَوْلِدِ اَفْضَلُ مِنْ اِنْفَاقِ مِائَةِ دِرْهَمٍ عَلَى الْفُقَرَاءِ وَالْـمَسَاكِـيْـنِ

 ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার মাওলিদ শরীফ পাঠ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার জন্য খরচ করা উত্তম, নাকি ফকীর-ফুকারা, গরীব-মিসকীন, অসহায়দের জন্য খরচ করা উত্তম?’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘মাওলিদ শরীফ পাঠের জন্য অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার সম্মানার্থে খরচ করা প্রত্যেক দিরহামের ফযীলত, ফকীর-ফুকারা, গরীব-মিসকীন, অসহায়দের জন্য ১০০ দিরহাম খরচ করার চেয়েও বেশি ফযীলতপূর্ণ অর্থাৎ কোটি কোটি গুণ বেশি ফযীলতপূর্ণ, শ্রেষ্ঠ এবং উত্তম।” সুবহানাল্লাহ! (আশ্ শারফুল আমজাদ ২৫৫ পৃ.)

 সেটাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ وَهُوَ لَيْلَةُ اثْنَـىْ عَشَرَ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعِ الْاَوَّلِ بِاتِّـخَاذِهٖ فِـيْهَا طَـعَامًا كُـنْتُ لَهٗ شَفِيْعًا يَّوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ اَنْفَقَ دِرْهَـمًا فِـىْ مَوْلِدِىْ اِكْـرَامًا فَكَاَنَّـمَا اَنْفَقَ جَـبَـلًا مِّنْ ذَهَبٍ اَحْـمَرَ فِـى الْـيَـتَـامٰى فِـىْ سَبِـيْـلِ اللهِ

অর্থ: “যে ব্যক্তি খাদ্য খাওয়ানোর মাধ্যমে, মেহমানদারী করার মাধ্যমে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ) রাত্র মুবারক (এবং দিবস মুবারক) উনাকে সম্মান করবেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন অর্থাৎ দায়িমীভাবে সবসময় উনার জন্য সুপারিশ করবো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানার্থে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে অত্যন্ত মুহব্বতে আদবের সাথে এক দিরহাম (চার আনা রূপা অথবা সমপরিমাণ অর্থ-সম্পদ) খরচ করবেন, ঐ ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় ইয়াতীমদেরকে এক পাহাড় পরিমাণ লাল স্বর্ণ দান করার ফযীলত মুবারক লাভ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (কিতাবু ফাদ্বায়িলে মাওলিদিন্নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১ নং পৃষ্ঠা, রিসালাতু মাওলিদিন্নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১ নং পৃষ্ঠা)

এখানে এক পাহাড় লাল স্বর্ণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের পরিমাণটা বলা হয়নি যে, এটা কত বড়। এটা আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত হতে পারে, ১ দুনিয়া, ১০ দুনিয়া, ২০ দুনিয়ার সমান হতে পারে অথবা তার চেয়েও কোটি কোটি গুণ বড় হতে পারে। এটা মানুষের চিন্তা-কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কতো বেমেছাল ফযীলত মুবারক এটা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। সুবহানাল্লাহ!

২.যাঁরা খালিছভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আই’য়াদ শরীফ পালন করবেন, উনাদের কোনো হিসাব নিকাশ হবে না। উনারা বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবেন:

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৭ই মুহররমুল হারাম শরীফ লাইলাতুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার) ইরশাদ মুবারক করেন- “মালিক তো নূরে মুজাসাসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। তাহলে মালিক উনার আলোচনা করতে বাধা দিবে কে? কারো ক্ষমতা আছে? ক্ষমতা আছে কারো কোনো? কারো কোনো ক্ষমতা নেই। কবরে, হাশরে-নশরে, মীযানে-পুলসিরাতে এবং জান্নাতে যেয়েও অনন্তকালব্যাপী সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতে হবে। সুবহানাল্লাহ!

 কেউ যদি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে, তাহলে তাকে তা’যীম করে বেহেস্তে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হবে। কিসের হিসাব-নিকাশ? সুবহানাল্লাহ! যারা সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আই’য়াদ শরীফ পালন করবে, এদের হিসাব-নিকাশ হবে কেন? হিসাব-নিকাশ হবে তো যারা ফাসিক-ফুজ্জার তাদের। যারা খালিছভাবে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আই’য়াদ শরীফ পালন করতে পারবে, এদের হিসাব-নিকাশ হবে কেন? এদের বিনা হিসাবে বেহেস্তে যেতে হবে। এরা হিসাব-নিকাশ ছাড়াই বেহেস্তে যাবে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এখন খালিছভাবে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আই’য়াদ শরীফ পালন করতে হবে। এজন্য যিকির-ফিকির করুক। তখন ফায়দা পাবে। নাহলে ফায়দা পাবে কোথা থেকে? ‘সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আই’য়াদ শরীফ’ উনার মালিক হচ্ছেন নূরে মুজাসাসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। মালিক উনার কাজ করলে বাধা দিতে পারে কে? কেউ বাধা দিতে পারবে না। তাহলে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আই’য়াদ শরীফ পালন করলে কোনো সমস্যা থাকার কথা না। এখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ববূল করার মালিক। কোশেশ করতে হবে। কোশেশ না করলে কিভাবে হবে? আমি বলেছিলাম, আমি একদিন দেখলাম- নূরে মুজাসাসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে। অনেক লম্বা ঘটনা মুবারক। আমি সংক্ষিপ্তভাবে বলবো- “নূরে মুজাসাসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমি। উনি আসলেন। আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি দাঁড়িয়ে থাকবেন, এটা কেমন দেখা যায়? একটি আসন মুবারক দরকার।’ একটি কুদরতী আসন মুবারক এসে পড়লো। আমি বললাম, ‘আপনি এখানে দয়া করে তাশরীফ মুবারক রাখেন।’ উনি বসলেন। আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! অনেক লোক তো আসতেছে দেখা করার জন্য। তারা আপনার সাথে দেখা করবে।’ উনি বললেন, ‘ঠিক আছে আসুক।’ উনি খুব খুশি। আসলো। আমাদের অনেক লোক। চিনি অনেককে। হাজার হাজার লোক লাইন ধরে আসতেছে। আসার পর আমি বললাম, ‘কদম বুুছি করো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুদ দারাজাত মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক উনার তল দিয়ে।’ সবাই ক্বদমবুছি করতেছে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুরুদ দারাজাত মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক উনার তল দিয়ে। কদমবুছি মুবারক করার পর তারা কোথায় যাবে? আমি বললাম, ‘এই যে ডান দিক দিয়ে যাও। এই যে উঁচু জায়গাটা দেখো, ডান দিক দিয়ে গেলেই সামনে বেহেস্ত। কোন হিসাব-নিকাশ কিছুই নেই। এমনেই বেহেস্তে প্রবেশ করো।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) নূরে মুজাসাসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বললেন, ‘হ্যাঁ; ঠিক আছে।’ সবাই লাইন ধরে গিয়ে বেহেস্তে প্রবেশ করলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এই যে বিষয়টা। মালিক যিনি উনি যদি অনুমতি দেন, তাহলে এখানে চূ-চেরা করবে কে? কার ক্ষমতা আছে? (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) ক্ষমতা তো কারো নেই। আমি বললাম, ‘লাইন ধরে সবাই বেহেস্তে প্রবেশ করো।’ সবাই বেহেস্তে প্রবেশ করলো। এরকম ভাগে ভাগে কয়েকবার দেখলাম। এখন যিকির-ফিকির তো করতে হবে এবং জারীও করতে হবে। সাথে সাথে পাছ আনফাছও জারী করতে হবে। তাহলে ফয়ছালা হয়ে যাবে। এজন্য বললাম, যারা সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আই’য়াদ শরীফ পালন করবে, এদের কোনো হিসাব-নিকাশ হবে না। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) খালিছ নিয়তে করুক, বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। ইনশাআল্লাহ।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কতো বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ মাল-জান সমস্ত কিছু দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-৮

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-৮

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ হচ্ছেন সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আমল মুবারক। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যবধি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ পালন করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার চেয়ে বড় ও ফযীলতপূর্ণ আর কোনো আমল নেই। সুবহানাল্লাহ! বান্দার তরফ থেকে সর্বশেষ মাক্বাম হচ্ছে আবদিয়াতের মাক্বাম আর মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ মাক্বাম মুবারক হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাহলে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করলে বান্দা-বান্দী, উম্মত, জিন-ইনসান কত বড় নেয়ামত লাভ করবে এবং তা পালন করার কত বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক সম্পর্কে বাস্তবে অসংখ্য ঘটনা মুবারক বর্ণিত রয়েছেন। নিম্নে কয়েকখানা ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হলো-

১.মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ সম্মানিত বিশেষ নূর মুবারক এবং রহমত মুবারক বর্ষণ:

দ্বাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত শাহ ওলীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,

ﻛُـﻨْﺖُ ﻗَﺒْﻞَ ذٰﻟِﻚَ ﺑِـﻤَﻜَّﺔَ ﺍﻟْـﻤُﻌَﻈَّﻤَﺔِ ﻓِـىْ ﻣَﻮْﻟِﺪِ ﺍﻟﻨَّﺒِـﻰِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ وَﺳَﻠَّﻢَ ﻓِـﻰْ ﻳَﻮْمِ وِﻻَدَﺗِﻪٖ وَﺍﻟﻨَّﺎسُ ﻳُﺼَﻠُّﻮْنَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِـﻰِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ وَﺳَﻠَّﻢَ وَﻳَﺬْﻛُـﺮُوْنَ اِرْﻫَﺎﺻَﺎتِهِ ﺍﻟَّﺘِـىْ ﻇَﻬَﺮَتْ ﻓِـىْ وِﻻَدَتِهٖ وَمَشَاهِدَهٗ ﻗَـﺒْﻞَ ﺑَﻌْﺜَـﺘِﻪٖ ﻓَﺮَاَﻳْﺖُ اَﻧْﻮَﺍرًا ﺳَﻄَـﻌَﺖْ دُﻓْﻌَﺔً وَﺍﺣِﺪَةً لَا اَقُوْلُ اِنِّـىْ اَدْرَكْـتُهَا ﺑِـﺒَﺼَﺮِ الْـجَسَدِ وَلَا اَﻗُﻮْلُ اَدْرَكْـتُهَا ﺑِـﺒَﺼَﺮِ ﺍﻟﺮُّوْحِ ﻓَﻘَﻂْ اَﻟﻠﻪُ اَعْلَمُ ﻛَـﻴْﻒَ كَانَ ﺍلْاَﻣْﺮُ ﺑَـﻴْـﻦَ ﻫٰﺬَﺍ وَذٰﻟِﻚَ فَتَاَﻣَّﻠْﺖُ ﺗِﻠْﻚَ الْاَﻧْﻮَارَ ﻓَﻮَﺟَﺪْﺗُّـﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﻗِـﺒَﻞِ ﺍﻟْـﻤَﻼَﺋِﻜَـﺔِ الْـمُوَﻛَّﻠِـﻴْـﻦَ ﺑِﺎَﻣْﺜَﺎلِ ﻫٰﺬِﻩِ ﺍﻟْـﻤَﺸَﺎﻫِﺪِ وَﺑِﺎَﻣْﺜَﺎلِ هٰذِهِ ﺍﻟْـﻤَﺠَﺎﻟِﺲِ فَرَاَيْتُ ﻳُـﺨَﺎﻟِﻄُ اَنْوَارُ ﺍﻟْـﻤَﻼَﺋِﻜَـﺔِ اَنْوَارَ ﺍﻟﺮَّﺣْـﻤَﺔِ

অর্থ: “একবার আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ) ‘মাওলিদুন্নবী’ অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক-এ উপস্থিত ছিলাম। লোকজন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করতেছিলেন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময় এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রিসালতী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে যে সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিদর্শন বা মু’জিযা শরীফসমূহ প্রকাশিত হয়েছিলেন, সেগুলো আলোচনা করতেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি দেখতে পেলাম, সেখানে এক সাথে অনেক নূর মুবারক বিচ্ছুরিত হচ্ছেন। আমি বলি না যে, এটা আমি জিসমানী চোখে দেখেছি আর এটাও বলি না যে, তা আমি রূহানী চোখে দেখেছি। একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনিই ভালো জানেন, বিষয়টি ছিলো এ দুটির মাঝামাঝি কেমন যেন একটি অবস্থা! তখন আমি ঐ নূর মুবারকসমূহ নিয়ে গভীরভাবে ফিকির করলাম। অবশেষে আমি বুঝতে পারলাম- এগুলো হচ্ছেন ঐ সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নূর মুবারক, যে সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা এ ধরণের মাহফিল মুবারক এবং মজলিস মুবারক উনাদের খিদমত মুবারক-এ নিয়োজিত দায়িত্বশীল হিসেবে উপস্থিত হন। সুবহানাল্লাহ! তারপর আমি দেখলাম- ‘সম্মানিত রহমত মুবারক উনার নূর মুবারক’ এবং ‘হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নূর মুবারক’ মিশে একাকার হয়ে গিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফুয়ূযুল হারামাইন ৮০-৮১ নং পৃষ্ঠা)

২.মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক পালনকারীর প্রতি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ :

দ্বাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত শাহ ওলীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন,

اَخْـبَـرَنِـىْ سَيِّدِىَ الْوَالِدُ قَالَ كُـنْتُ اَصْنَعُ فِـىْ اَيَّامِ الْـمَوْلِدِ طَعَامًا صِلَةً بِالنَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَفْتَحْ لِـىْ سَنَةً مِّنَ السِّنِـيْـنَ شَىْءٌ اَصْنَعُ بِهٖ طَعَامًا فَلَمْ اَجِدْ اِلَّا حِـمَّصًا مَقْلِـيًّا فَقَسَمْتُهٗ بَـيْـنَ النَّاسِ فَرَاَيْـتُـهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وبَـيْـنَ يَدَيْهِ هٰذِهِ الْـحِمَّصُ مُـبْـتَهِجًا بَشَّاشًا

অর্থ: “আমার সম্মানিত পিতা (হযরত আব্দুর রহীম মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি) আমাকে বলেছেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত নিসবত মুবারক হাছিল করার লক্ষ্যে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন অর্থাৎ প্রতি বছর সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ-এ) মাহফিলের ইন্তিজাম করে বিশেষ তাবারুকের ব্যবস্থা করতাম। এক বছর আমার আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় আমি ছোলা ভাজা ব্যতীত আর অন্য কোনো তাবারুকের ব্যবস্থা করতে পারলাম না। (নিরুপায় হয়ে) আমি সেই ছোলা ভাজাগুলোই লোকজনের মধ্যে বিতরণ করে দিলাম। (আমি খুব চিন্তিত হলাম এবং আফসোস করতে থাকলাম যে, বিষয়টা কেমন হলো; এই সামান্য ছোলা ভাজা ব্যতীত বিশেষ কোনো তাবারুকের ব্যবস্থা করা গেলো না!) অতঃপর আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত সন্তুষ্ট, হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখলাম। আর উনার সামনে ছোলা ভাজাগুলো রাখা।” সুবহানাল্লাহ! (আদ্ র্দুরুছ ছামীন ৯ নং পৃষ্ঠা, আল ইন্তিবাহ ফী সালাসিলি আওলিয়ায়িল্লাহ্)

৩.সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ মাক্বাম হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম মুবারক

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “لِــيَـعْـبُـدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِــيُـصَلُّـوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক রয়েছেন। সেগুলো হচ্ছেন-

১. لِــيَــعْـبُـدُوْنِ - (লিইয়া’বুদূন) ইবাদতের মাক্বাম। তারপর

২. لِــيُـحْسِنُــوْنِ - (লিইউহ্সিনূন) ইহ্সানের মাক্বাম। তারপর

৩. لِــيَــقْـرَبُــوْنِ - (লিইয়াক্ব্রবূন) কুরবতের মাক্বাম। তারপর

৪. لِــيَــعْرِفُــوْنِ - (লিইয়া’রিফূন) মা’রেফতের মাক্বাম। তারপর

৫. لِــيُـحِـبُّــوْنِ - (লিইউহিব্বূন) মুহব্বতের মাক্বাম। তারপর

৬. لِــيَشْرَحُـوْنِ - (লিইয়াশ্রহূন) শরহে ছুদূরের মাক্বাম। তারপর

৭. لِــيَــفْرَحُـوْنِ - (লিইয়াফ্রহূন) ফালইয়াফরহূ শরীফ উনার মাক্বাম। তারপর

৮. لِــيُـصَلُّـوْنِ - (লিইউছল্লূন) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

ইবাদত বন্দেগী করতে করতে ইহ্সানের দরজায় পৌঁছবে, ইহ্সানের দরজা থেকে কুরবত হাছিল করবে, কুরবতের থেকে মা’রেফাত হাছিল করবে, মা’রেফাত থেকে মুহব্বত হাছিল করবে, মুহব্বত থেকে তার শরহে ছুদূর হবে, শরহে ছুদূরের কারণে সে খুশি প্রকাশ করবে এবং তখনই তার পক্ষে لِــيُـصَلُّـوْنِ (লিইউছল্লূন) এর মাক্বাম অর্জন করা সম্ভব হবে।” সুবহানা মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! (আদ্ দুরারুল মুখতারাহ্ শরীফ ১/২৫৫)

পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনিই এই ৮টি মাক্বাম মুবারক প্রকাশ করেন। ইতিপূর্বে কেউ এই ৮টি মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে জানতো না’; হাছিল করার তো প্রশ্নই উঠে না। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ মাক্বাম হচ্ছেন সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম, যা সর্বশেষ মাক্বাম মুবারক।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

৪.সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাক্বাম মুবারক হাদিয়া:

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৬ই জুমাদাল ঊলা শরীফ লাইলাতুস সাব্ত শরীফ (শনিবার রাত) ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত করার জন্য কোশেশ করতে হবে এবং প্রত্যেক সুন্নাত মুবারক ইত্তেবা করতে হবে যতটুক সম্ভব। তখন তার জন্য কামিয়াবী। এছাড়া কামিয়াবী হবে কোথা থেকে? এই জন্য তো আমরা বলি- এই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ যে পালন করবে, কার জন্য করবে? এটা করতে পারলে সে চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছলো। এরপরে আর কোনো মাক্বাম নেই। এটাই শেষ মাক্বাম। ‘ফালইয়াফরাহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ শেষ মাক্বাম। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) মহান আল্লাহ পাক উনার মাক্বাম উনার উপরে আর কোনো মাক্বাম আছে? না। তাহলে আর কি? তাহলে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতে থাকুক। সেটাই আমরা বলতেছি। তাহলে এখানে গাফলতী কেন? এখানে কেন গাফলতী থাকবে? তাহলে তুমি কি করতে চাও? এরপরে তো আর কোনো মাক্বাম নেই। 

এখন মানুষ যিকির করে না, ফিকির করে না, তাছাউফ বুঝে না। যার জন্য তারা এগুলি বুঝে না। বান্দার তরফ থেকে ‘আবদিয়াতের মাক্বাম’ শেষ মাক্বাম। আর মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ‘সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম মুবারক’ হচ্ছেন শেষ মাক্বাম। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

মহান আল্লাহ পাক উনি তো অসীম। ঐ যে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে আমাকে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম মুবারক-এ বসালেন- একবারে শেষ সীমানা। এরপর আর কিছুই নেই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) একবারে শেষ প্রান্তে। এই প্রান্তটা শেষ এখানে। আর এখানে আসন মুবারকগুলি। এরপরে আর কিছুই নেই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ মাক্বাম হচ্ছেন সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম, যা সর্বশেষ মাক্বাম মুবারক।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৮ই জুমাদাল ঊলা শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (সোমবার রাতে) ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি তো অসীম। মহান আল্লাহ পাক উনার কি কোনো শেষ আছে? তারপরও দেখা গেলো এটা একটা শেষ প্রান্ত। এরকম। শেষ প্রান্ত- শেষ প্রান্তের মধ্যে দুই পাশে দুইটা বড় আসন। (বাম দিকে) এই আসন মুবারকখানা হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার, (ডান দিকে) এই আসন মুবারকখানা হচ্ছেন নূরে মুজাসাসম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার। দুইখানা আসন মুবারক সমান। একখানা আসন মুবারক ছিলেন পিছনে। মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজে উনার কুদরতী হাত মুবারক-এ ঐ আসন মুবারকখানা এনে দুই আসন মুবারক উনাদের মাঝামাঝি স্থানে বসালেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) বসিয়ে আমাকে বললেন যে, আমি যে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করি, এজন্য আমাকে এই মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) পরে আমাকে এনে বসিয়ে দিলেন। আসন মুবারকখানা মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজে এনেছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এনে আসন মুবারকখানা বসিয়েছেন। আসন মুবারকখানা বসায়ে আমাকে সে আসন মুবারকে বসিয়েছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আসন মুবারকখানা উপর দিয়ে এনে মধ্যখানে বসিয়েছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

এটা দেখা গেলো- এখানে সীমানা শেষ। এখন উচ্চতায় অনেক উঁচুতে, এর উপরে আর কিছু নেই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আর এটা হলো মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে। এই ‘সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ’ হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সবচেয়ে সর্বোচ্চ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মাক্বাম মুবারক। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) 

আমি দেখলাম- স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনি আসন মুবারকখানা পিছন থেকে এনে মধ্যে বসালেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) বসায়ে বললেন যে, আমি যে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করি, এজন্য আমাকে এই মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া মুবারক করা হলো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমাকে বসালেন, বসলাম। এইভাবে, এইভাবে সামনে মুখ। এই দিকে (ডানে) এই দিকে (বামে) দুইজন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি এখানে (ডানে), এখানে (বামে) মহান আল্লাহ পাক উনি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

ঐ যে পরে যে আবার ওই আসন মুবারক- সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ যেটা যাহির হয়েছিলো। ওই আসন মুবারকই। বিরাট বড় বড় আসন মুবারক এগুলি। অনেক বড়।

আরজী: আসন মুবারকখানা কি রকম? পিছনে কিছু আছে?

জওয়াব মুবারক: হ্যাঁ; সবই আছে। হ্যান্ডেলসহ সব আছে। এখন সংক্ষিপ্তভাবে বললে- সম্মানিত আরশে আযীম উনার মতো। হ্যান্ডেলসহ সবই আছে। কি রকম বলবো এটা? এটা ছোফা চেয়ার বা গদীর মতো। খুব শান-শওকত মুবারক সম্পন্ন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) অনেক চওড়া, মোটামুটি অনেক বড়। খুব আরামে বসা যায়। ছূরতে এটা অনেক বড়। মোটামোটি যথেষ্ঠ বড়। এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি একপাশে আছেন। মহান আল্লাহ পাক উনি নিজেই ব্যবস্থা করালেন এটা। উনি নিজেই করালেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) 

এজন্য সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ বেশি বেশি পালন করা উচিত। এখন সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার যে কোনো মাক্বাম আছে, এটাই তো কেউ জানাতো না। মাক্বামের এই হাল মুবারক, এই অবস্থা মুবারক। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) এখন যতো করা যায়, যতো বেশি করা যায়। মহান আল্লাহ পাক তিনি তো ২৪ ঘন্টাই করে যাচ্ছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

 এই জন্য বললাম যে, মুহাব্বতে করা উচিত। মুহব্বতের কোনো বদলা নেই। অন্য কিছুর বদলা আছে। যতটুক করা যায়।”

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪১ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৮শে যিলক্বদ শরীফ ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বামটা কঠিন একটা বিষয়। এই মাক্বামটা তো মানুষ হাছিল করতে পারেনি। এটা অনেক বড় মাক্বাম। এটা আমাকে দেখানো হয়েছে এবং হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে অর্থাৎ দান করা হয়েছে এবং এই আসনের উপর উপবেশন করানো হয়েছে অর্থাৎ বসানো হয়েছে অর্থাৎ দেয়া হয়েছে। এটা অনেক বড় মাক্বাম। এটা ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা যাবে না। এটা সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মধ্যে মাক্বামটা। আসন মুবারকগুলো কাছাকাছি। আমি আদবের জন্য (বিনয় মুবারক প্রকাশার্থে) আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারকখানা (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাথা মুবারকখানা) নুইয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু কাছাকাছি সমান। মানুষ তো এগুলো বুঝবে না। বিরাট মাক্বাম এটা। এটা তো মানুষের আক্বল-বুদ্ধি, সমঝের বাইরে।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! (আদ্ দুরারুল মুখতারাহ্ শরীফ ১/১৯০)

তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার কতো বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ মাল-জান সমস্ত কিছু দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-৭

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক-পর্ব-৭

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ হচ্ছেন সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আমল মুবারক। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যবধি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ পালন করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার চেয়ে বড় ও ফযীলতপূর্ণ আর কোনো আমল নেই। সুবহানাল্লাহ! বান্দার তরফ থেকে সর্বশেষ মাক্বাম হচ্ছে আবদিয়াতের মাক্বাম আর মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ মাক্বাম মুবারক হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মাক্বাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাহলে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করলে বান্দা-বান্দী, উম্মত, জিন-ইনসান কত বড় নেয়ামত লাভ করবে এবং তা পালন করার কত বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক সম্পর্কে বাস্তবে অসংখ্য ঘটনা মুবারক বর্ণিত রয়েছেন। নিম্নে কয়েকখানা ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হলো-

১. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে আয়োজিত মাহফিল মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক:

বিশিষ্ট বুযূর্গ, আরিফ বিল্লাহ, মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবূব ওলী হযরত শায়েখ ঈসা ইবনে হাসান ইবনে বাকরী ইবনে আহমদ বায়ানূনী শাফিয়ী নকশাবন্দী মুহম্মদী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ১২৯০ হিজরী শরীফ : বিছাল শরীফ ১৩৬২ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,

وَكُـنْتُ مُعْتَادًا اَنْ اَجْـمَعَ النَّاسَ عَلـٰى قِرَاءَةِ الْـمَوْلِدِ فِـىْ بَـيْـتِـىْ لَيْلَةَ الثَّانِـىْ عَشَرَ مِنْ رَّبِيْعِ الْاَوَّلِ وَعَلـٰى قِرَاءَةِ الْمِعْرَاجِ فِـىْ لَيْلَةِ السَّابِعِ وَالْعِشْرِيْنَ مِنْ رَّجَبَ مِنْ كُلِّ سَنَةٍ زِيَادَةً عَلـٰى لَيْلَةِ الْاِثْنَـيْـنِ الْـمُسْتَمِرَّةِ وَكُـنْتُ اَصْنَعُ فِـىْ هَاتَـيْـنِ اللَّـيْلَـتَـيْـنِ ضِيَافَةً فَجَاءَتْ لَيْلَةُ الثَّانِـىْ عَشَرَ مِنْ رَّبِيْعِ الْاَوَّلِ وَاَنَا ضَيِّقُ ذَاتِ الْيَدِ فَاغْتَمَمْتُ لِذٰلِكَ وَجِئْتُ اِلَـى الْـبَيْتِ ضَحْوَةَ الْـيَوْمِ الْـحَادِىْ عَشَرَ مِنْ رَّبِيْعِ الْاَوَّلِ فَوَجَدْتُّ فِـيْهِ سَـمْنًا وَاَرُزًّا وَاَنْوَاعًا اُخَرَ مِنَ الطَّعَامِ فَسَاَلْتُ اَهْلِـىْ مِنْ اَيْنَ هٰذَا قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللهِ جَاءَ بِهٖ فُلَانٌ تَعْنِـىْ ذٰلِكَ الرَّجُلَ الصَّالِحَ الَّذِىْ رَاَى النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـى الْـمَنَامِ يَقُوْلُ لَهٗ اَهْلُ جَـمْعِـيَّةِ الْـمَوْلِدِ تَـحْتَ حِـمَايَــتِـىْ فَعَجِبْتُ مِنْ ذٰلِكَ لِاَنَّهٗ مُعْسِرٌ فَلَمَّا رَاَيْـتُهٗ عَاتَـبْـتُـهٗ عَلـٰى مَا فَعَلَ فَقَالَ مَا اَرْسَلْتُ شَـيْـئًا مِنْ تِـلْقَاءِ نَفْسِىْ وَاِنَّـمَا رَاَيْتُ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـى النَّوْمِ فَقَالَ اَخُوْكَ الشَّيْخُ حَضْرَتْ عِيْسٰى رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يُرِيْدُ اَنْ يَّعْمَلَ الْـمَوْلِدَ وَمَا عِنْدَهٗ شَىْءٌ فَعَاوِنْهُ فَامْتَثَلْتُ اَمْرَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِـمَا اسْتَطَعْتُ

অর্থ: “আমার আদত বা অভ্যাস মুবারক ছিলো যে, আমি প্রতি বছর সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ-এ) মাওলিদ শরীফ পাঠের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৭শে রজবুল হারাম শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার ঘটনা মুবারকসমূহ পাঠের উদ্দেশ্যে আমার বাড়িতে লোকজন একত্রিত করে সম্মানিত মাহফিল মুবারক উনার ইন্তিজাম করা। এই ২টি মাহফিল মুবারক ছিলেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইছনাইনিল আ’যীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার) যেই ধারাবাহিক মজলিস মুবারক অনুষ্ঠিত হতেন, তার বাইরে, আমি এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দুই রাত্র মুবারক-এ বিশেষভাবে মেহমানদারীর ব্যবস্থা করতাম। সুবহানাল্লাহ! একবার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ) আসলেন, তখন আমি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলাম না। যার কারণে আমি বিষণ্ব হলাম, আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১১ই রবীউল আউওয়াল শরীফ সকালে চাশতের সময় বাড়িতে আসলাম। তখন আমি বাড়িতে এসে ঘি, রুটি এবং বিভিন্ন রকমের খাদ্য-দ্রব্য দেখতে পেলাম। আমি আমার সম্মানিতা আহলিয়া উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘এগুলো কোথা থেকে আসলো?’ তখন তিনি বললেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে। সুবহানাল্লাহ! অমুক ব্যক্তি এগুলো নিয়ে এসেছেন।’ তিনি ঐ নেককার ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করেছেন- যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ ব্যক্তিকে বলেছেন, 

اَهْلُ جَـمْعِـيَّـةِ الْـمَوْلِدِ تَـحْتَ حِـمَايَــتِـىْ

‘জামইয়্যাতুল মাওলিদ’ মজলিসের সদস্যগণ আমার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন, আমার নযর-করম, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি, রহমত মুবারক উনার মধ্যে রয়েছেন।’ সুবহানাল্লাহ! তখন আমি এতে আশ্চর্য হলাম। কারণ তিনি একজন দরিদ্র ব্যক্তি। এরপর আমি যখন উনাকে দেখলাম, তখন তিনি যা করেছেন সেজন্য আমি উনাকে কিছু কথা বললাম অর্থাৎ আমি উনাকে বললাম যে, আপনি নিজেই একজন দরিদ্র বা অস্বচ্ছল লোক, আপনি এ কাজ করতে গেলেন কেন্? জবাবে তিনি বললেন, আমি নিজের পক্ষ থেকে কোনো কিছু পাঠাইনি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি স্বপ্নে দেখেছি, সরাসরি তিনিই আমাকে বলেছেন,

اَخُوْكَ الشَّيْخُ حَضْرَتْ عِيْسٰى رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يُرِيْدُ اَنْ يَّعْمَلَ الْـمَوْلِدَ وَمَا عِنْدَهٗ شَىْءٌ فَعَاوِنْهُ

 ‘আপনার সম্মানিত ভাই হযরত শায়খ ঈসা বায়ানূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাওলিদ শরীফ বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন; কিন্তু উনার নিকট কোনো কিছুই নেই। কাজেই আপনি উনাকে সহযোগিতা করুন।’ সুবহানাল্লাহ! তাই আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারক পালন করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল মুজীব ফী মাদহিল হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৪২ পৃ.)

২. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ খাদ্য-সামগ্রী অর্থাৎ টাকা-পয়সা দিয়ে আর্থিকভাবে শরীক থাকার জন্য স্বপ্নযোগে সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক:

বিশিষ্ট বুযূর্গ, আরিফ বিল্লাহ, মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবূব ওলী হযরত শায়েখ ঈসা ইবনে হাসান ইবনে বাকরী ইবনে আহমদ বায়ানূনী শাফিয়ী নকশাবন্দী মুহম্মদী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ১২৯০ হিজরী শরীফ : বিছাল শরীফ ১৩৬২ হিজরী শরীফ) উনার সম্পর্কে উনার নাতী মুহম্মদ আবুল ফাত্হ বায়ানূনী তিনি বলেন,

كَانَ مِنْ عَادَةِ الْـجَدِّ حَضْرَتْ اَلشَّيْخِ عِـيْسَى الْـبَيَانُوْنِـىِّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنْ يَّـحْتَفِلَ بِـمُنَاسَبَةِ الْمَوْلِدِ النَّبَوِىِّ الشَّرِيْفِ سَنَوِيًّا بِاِقَامَةِ وَلِـيْمَةِ طَعَامٍ مَفْتُوْحَةٍ لِلْمُحِبِّـيْـنَ عَامَّةً يَـحْضُرُهَا الْفُقَرَاءُ وَالْاَغْنِيَاءُ يُـنْـفِقُ فِـيْهَا تَـقْرِيْبًا كُلَّ مَا يَـمْلِكُ مِنْ مَّالٍ فِـىْ تِلْكَ الْاَيَّامِ ثُـمَّ مَرَّتْ عَلَيْهِ سَنَةٌ ﻻَ يَـمْلِكُ فِـيْهَا شَـيْـئًا يُـنْفِقُهٗ فِـىْ هٰذِهِ السَّبِيْلِ فَرَكِـبَهُ الْـهَمُّ الْكَـبِـيْـرُ وَالْـحُزْنُ الشَّدِيْدُ عَلـٰى اِضْطِرَارِهٖ اِلـٰى تَغْيِـيْـرِ عَادَتِهٖ وَفَرْحَتِهٖ وَاَخَذَ يَـبْكِـىْ بُكَاءَ الْاَطْفَالِ كُلَّمَا قَرَبَتِ الْمُنَاسَبَةُ حَتّٰـى اَثَرَ ذٰلِكَ عَلـٰى صِحَّتِهِ الْعَامَّةِكَمَا ذَكَرَ لِـىَ الْوَالِدُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَلَـمْ يَكُنْ بِـاِمْكَانَاتِـهِمُ الْمَادِّيَّةِ مُسَاعَدَتُهٗ فَعَمَّ الْـحُزْنُ جَـمِيْعَ مَنْ حَوْلَهٗ وَقَبْلَ الْمَوْعِدِ الْمُعْتَادِ لِلْحَفْلَةِ بِـيَوْمَـيْـنِ اَوْ ثَلَاثَةِ قُرِعَ بَابُ الْـبَيْتِ الَّذِىْ كَانَ يَسْكُـنُهٗ دَاخِلَ مَسْجِدِ اَبِـىْ ذَرٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ فِـى الْـجُبَيْلَةِ فِـىْ سَاعَةٍ مُتَاَخِّرَةٍ مِّنَ اللَّيْلِ فَخَرَجَ اَحَدُ اَبْنَائِهٖ يَفْتَحُ الْبَابَ فَفُوْجِئَ بِرَجُلٍ مَعَهٗ دَابَّةٌ مُـحَمَّلَـةٌ بِاَلْوَانِ الطَّـعَامِ وَاَخَذَ يُفْرِغُ الْـحَمُوْلَةَ قَائِلًا هٰذَا لِسَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلشَّيْخِ عِيْسٰى رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَـتَعَجَّبَ الْـجَدُّ مِـمَّا يُـحَدِّثُ وَاَلْقٰى عَلَيْهِ لِبَاسَهٗ وَخَرَجَ مُسْرِعًا مُسْتَفْسِرًا عَمَّا يَـجْرِىْ وَلَـحِقَ بِالشَّخْصِ وَقَدْ عَادَ وَتَعَرَّفَ عَلَيْهِ وَعَرَّفَهٗ تَاجِرًا مَعْرُوْفًا مِنْ تُـجَّارِ حَلَبَ وَسَاَلَهٗ عَمَّا فَعَلَ مُتَعَجِّبًا فَقَالَ لَهٗ يَا شَيْخُ وَاللهِ اِنِّــىْ لَـمْ اَرَى النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنَامًا فِـىْ عُمْرِىْ كُلِّهٖ اِﻻَّ هٰذِهِ اللَّيْلَةِ فَرَاَيْتُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَخَذَ يُعَاتِـبُنِـىْ عِتَابًا شَدِيْدًا قَائِلًا لِـىْ يَا فُلَانُ كَـيْفَ تَسْتَطِـيْعُ النَّوْمَ فِـىْ بَيْتِكَ وَالشَّيْخُ عِيْسَى الْبَيَانُوْنِـىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَبْكِـىْ ﻻَ يَنَامُ لِاَنَّهٗ ﻻَ يَـجِدُ مَا يُنْفِقُهٗ كَعَادَتِهٖ عَلـٰى حَفْلِ رَبِيْعِ الْاَوَّلِ قَالَ فَاسْتَيْقَظْتُ سَعِيْدًا بِرُؤْيَتِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَـمْ اَعِدْ اَسْتَطِيْعُ النَّوْمَ وَاَيْقَظْتُ جَارًا لِـىْ عِنْدَهٗ دَابَّةٌ حَـمُوْلَةٌ وَاَخَذْتُهٗ اِلـٰى مَتْجَرِىْ وَاَحْضَرْتُ لَكَ مَا اَحْضَرْتُ فَتَاَثَّرَ الْـجَدُّ بِـهٰذِهِ الرُّؤْيَا الْكَرِيْـمَةِ الَّتِـىْ فَرَجَتْ عَنْهُ هَـمًّا وَغَمًّا رَكِـبَهٗ مُنْذُ مُدَّةٍ وَاسْتَبْشَرَ بِـهَا خَـيْـرًا وَعَمِلَ طَعَامًا عَلـٰى عَادَتِهٖ فِـىْ لَيْلَةِ الْمَوْلِدِ الشَّرِيْفِ وَاسْتَمَرَّ عَلَيْهَا حَتّٰـى وَفَاتِهٖ فِـى الْمَدِيْنَةِ الْمُنَوَّرَةِ وَتَـمَّ دَفَنُهٗ فِـىْ رَوْضَةِ الْبَقِيْعِ

অর্থ: “সম্মানিত দাদা হযরত শায়েখ ঈসা বায়ানূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আদত বা অভ্যাস মুবারক ছিলো, প্রতি বছর মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে বিশেষভাবে খাবারের ব্যবস্থা করে মেহমানদারী করার মাধ্যমে মাহফিল মুবারক করা। সুবহানাল্লাহ! এই মাহফিল মুবারক মুহাব্বতকারী সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিলেন। সেখানে ধনী-গরীব সকলেই উপস্থিত হতেন। বিগত দিনসমূহে তিনি যতো সম্পদ উপার্জন করতেন, তার প্রায় সবই মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খরচ করে ফেলতেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর উনার এমন একটি বছর আসলো যে, এই রাস্তায় অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খরচ করার মতো উনার নিকট কোনো কিছুই ছিলোনা। ‘উনার আদত প্রতি বছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে বিশেষভাবে খাবারের ব্যবস্থা করে মুহিব্বীন-আশিকীন, ধনি-গরীব সবাইকে মেহমানদারী করার মাধ্যমে মাহফিল মুবারক করা এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করা’ উনার অনীচ্ছা সত্ত্বেও উনার এই আদত মুবারক এবং খুশি মুবারক প্রকাশের বিষয়টি এ বছর পরিবর্তন হতে যাচ্ছে অর্থাৎ এ বছর তা করা যাচ্ছে না বিধায়, অনেক বড় চিন্তা এবং কঠিন দুঃখ, কষ্ট, বিষণœতা উনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। উপলক্ষ অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার সময় যতোই নিকটবর্তী হচ্ছিলেন, ততোই তিনি বাচ্চা শিশুর মতো কান্না করছিলেন। এমনকি উনার শরীরে (চেহারায়) চিন্তার ছাপ ব্যাপকভাবে প্রকাশ পাচ্ছিলেন; যেমনটি আমার সম্মানিত পিতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। কিন্তু (জাময়্যিাতুল মাওলিদ সংগঠনের সদস্যগণ) উনারাও উনাকে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করতে সক্ষম ছিলেন না। দুঃখ, কষ্ট, বিষণœতা উনার চারপাশের সবাইকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। মাহফিল মুবারক উনার নির্দিষ্ট সময়ের দুই অথবা তিন দিন পূর্বে গভীর রাতে জুবাইলার ‘মসজিদে আবী যর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু’ উনার যেই বাড়িতে তিনি থাকতেন সেই বাড়ির দরজার কড়ায় নাড়া পড়লো। দরজা খোলার জন্য উনার একজন ছেলে বের হলেন। তখন উনাকে এক ব্যক্তি অবাক করলেন, যাঁর সাথে বিভিন্ন ধরণের খাদ্য-দ্রব্যসহ একটি পশু ছিলো। ঐ ব্যক্তি খাদ্য-দ্রব্য নামাতে নামাতে বলছিলেন, এটা হযরত শায়খ ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জন্য। (মুহম্মদ আবুল ফাত্হ বায়ানূনী তিনি বলেন,) দাদা ঐ ব্যক্তির কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে পোশাক পরিধান করে সংঘটিত বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য দ্রুত বের হয়ে ঐ ব্যক্তির নিকট আসলেন এবং (উনাকে নিয়ে ঘরে) ফিরে এসে উনার পরিচয় জানতে চাইলেন। ঐ ব্যক্তি পরিচয় দিলেন যে, তিনি হালবের একজন বিখ্যাত ব্যবসায়ী। (দাদা) আশ্চর্য হয়ে ঐ ব্যক্তি যা করেছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন ঐ ব্যক্তি দাদাকে বললেন, ‘হে শায়খ! মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! এই রাত্র ব্যতীত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি আমার জীবনে কখনো স্বপ্নে দেখিনি। আমি (আজ রাতে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখেছি যে, তিনি আমাকে অত্যন্ত কঠিনভাবে তিরস্কার করে বলছেন, ‘হে ব্যক্তি! তুমি কিভাবে তোমার বাড়িতে ঘুমাতে পারো? অথচ শায়খ ঈসা বায়ানূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কান্না করছেন, ঘুমাতে পারছেন না। কেননা উনার অভ্যাস অনুযায়ী তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) মাসে যে মাহফিল মুবারক করতেন তাতে খরচ করার জন্য কোনো কিছু পাচ্ছেন না।’ ঐ ব্যক্তি বলেন, অতঃপর আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখে সৌভাগ্যবান হিসেবে ঘুম থেকে জাগ্রত হই। আমি পুনরায় ঘুমাতে সক্ষম হইনি। এরপর আমি আমার এক প্রতিবেশীকে জাগ্রত করলাম যার নিকট ভারবাহী পশু ছিলো। আমি তাকে নিয়ে আমার ব্যবসাকেন্দ্রে গিয়ে যা প্রস্তুত করতে পেরেছি, তা আপনার জন্য নিয়ে এসেছি। এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দ্বারা দাদা প্রভাবিত হলেন। এই স্বপ্ন মুবারক উনার দীর্ঘ দিন ধরে বহন করা দুঃখ-কষ্টকে দূর করে দিলো। সুবহানাল্লাহ! এই স্বপ্ন মুবারক উনার কারণে তিনি অত্যন্ত খুশি হলেন। আর তিনি উনার অভ্যাস অনুযায়ী মাওলিদ শরীফ উনার রাতে অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ উনার রাতে খাদ্য প্রস্তুত করে বিশেষ মাহফিল মুবারক উনার ইন্তিজাম করেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ উনার বিছাল শরীফ পর্যন্ত তিনি মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার রাতে ওলীমাহ্ বা মেহমানদারির ব্যবস্থা করার বিষয়ে ইস্তিকামত থাকেন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জান্নাতুল বাক্বী শরীফ-এ উনার দাফন সম্পন্ন করা হয়।” সুবহানাল্লাহ!

৩. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের বিশেষ সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ:

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৯শে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ লাইলাতুল আরবিয়া শরীফ (বুধবার রাতে) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “আজকে একটা ঘটনা ঘটেছে। বলি তোমাদের ঈমান-আক্বীদার জন্য সুবিধা হবে। দেখলাম-  একটা জিহাদের মতো। মহান আল্লাহ পাক উনি হযরত ইসরাফীল আলাইহিস সালাম উনাকে দায়িত্ব দিলেন যাতে আমাদের কামিয়াবী হাছিল হয়। তারপর দেখলাম- হযরত ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম উনারা সামনের বাহনে করে যাচ্ছেন আমাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া ও জিহাদে কামিয়াবী লাভের লক্ষ্যে। আমরা দ্বিতীয় বাহনে রয়েছি। তখন দেখতে পেলাম, আমাদের বাহনের মাঝামাঝি স্থানে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি আছেন। তিনি আস্তে আস্তে পিছন দিক থেকে বাম দিক দিয়ে এসে আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেছেন। দেখা গেলো, খুব বিনয় প্রকাশ করছেন। আমি বললাম, ‘আপনি এটা করেন কী?’ উনি আমাকে বললেন, ‘আমার জন্য দোয়া করবেন।’ আমি বললাম, ‘আরে আমি আপনার জন্য দোয়া করবো; না আপনি আমার জন্য দোয়া করবেন?’ উনি খুব জড়িয়ে ধরেছেন। উনার মূল বক্তব্য হলো, আমরা উনার ভাষায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য অনেক কিছু করতেছি (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতেছি)। এজন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আমাদের প্রতি অনেক খুশি হয়েছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি খুব খুশি হওয়ার কারণে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনি এসে আমার কাছে দোয়া চাচ্ছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) মানে (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি এবং মহান আল্লাহ পাক উনি অর্থাৎ উনারা খুব খুশি। দোয়া করবেন আমার জন্য। উনি পিছন দিয়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন। আমি বললাম, ‘আপনি করেন কি এটা? আপনি আমার জন্য দোয়া করবেন। আপনি একজন জলীলুল কদর রসূল।’ উনি বললেন, হ্যাঁ; তবে আপনি আমার জন্য দোয়া করবেন।’ আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এতো কিছু করতেছি, এ জন্য মহান আল্লাহ পাক উনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি অর্থাৎ উনারা খুব সন্তষ্ট। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) সেটাই বললাম, প্রকৃতপক্ষে উনারা সব জানেন, দেখেন, শুনেন। খুশি হবেন না কেন? আমরা করি; খুশি হবেন। যে বাহনে আমরা জিহাদ করার জন্য যাচ্ছিলাম, ওই বাহনে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনিও ছিলেন। পিছন দিয়ে উনি এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমি উনাকে বললাম, ‘ছেড়ে দেন আমাকে।’ উনি খুব বিনয় প্রকাশ করছেন। দোয়া চাচ্ছেন। আমি বললাম- এভাবে আমার কাছে দোয়া চান কেন? উনার বক্তব্য হলো, আমরা যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এতো কিছু করতেছি, এজন্য মহান আল্লাহ পাক উনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি অর্থাৎ উনারা অনেক খুশি। সেই মুহাব্বতে এসে উনি আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) 

সেটাই বললাম যে, আমরা তো কিছুই করিনি। (সামনে আরো কত সুন্দরভাবে ও ব্যাপক আকারে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ পালন করা যায়) শুধু (সেই বিষয়ে) আলোচনা করতেছি। আলোচনা করতেছি, তাতেই খুশি হয়েছেন। তাহলে করলে আরো কতো খুশি হবেন।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কতো বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত সৃষ্টির চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ মাল-জান সমস্ত কিছু দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!