মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে এসেছেন একজন স্নেহময়ী মা

 

মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে এসেছেন একজন স্নেহময়ী মা

 খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের নিকট প্রেরিত হয়েছেন একজন পয়গম্বর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার নিকট তোমাদের কোনো দুঃখের বিষয় কষ্টের কারণ, ক্ষতির বিষয় উনার নিকট অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি তোমাদের সর্বোত্তম ভালাই চান।”

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফখানা উনার হাক্বীক্বী মেছাদক হচ্ছেন, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান আওলাদে পাক, শাফিয়ে মাহশার, সুলত্বানিন নাছিরা, উম্মুল খায়ের, উম্মুল উমাম আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, উম্মু আবীহা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার একান্ত মুবারক প্রচেষ্টায় অনেক, অগণিত, অসংখ্য মহিলারা গুমরাহ থেকে হিদায়েত, বেপর্দা থেকে পর্দা, হারাম, নাজায়িয, কুফরী, শিরকী, বেদয়াতী আক্বীদা, আমল থেকে পবিত্র আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদা, আমল নবায়ন করতে পেরেছেন। সুবহানাল্লাহ!

প্রত্যেক মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষদের ফিকিরযোগ্য বিষয় হলো: তাদের অধীনস্থ মা-বোন-আহলিয়া-মেয়ে উনাদেরকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নেক ছায়াতল মুবারকে নিয়ে আসা। কেননা একথা এমন স্বতঃসিদ্ধ যে, তিনি সর্বকালের, সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াময় স্নেহময়ী মা, যিনি নববী সুন্নাহ শরীফ উনার হুবহু নকশা তথা ধারক ও বাহক।


 মাশুকায়ে মাওলা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনিই হক্ব-না-হক্বের পার্থক্যকারী





 
মাশুকায়ে মাওলা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনিই হক্ব-না-হক্বের পার্থক্যকারী

 মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি উনার কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে মানুষেরা! তোমাদের জন্য তোমাদের রব তায়ালা তিনি উনার পক্ষ থেকে নিয়ামত, রহমত, অন্তরের শেফা, ও হিদায়েত পাঠিয়েছেন। সেজন্য তোমরা খুশি প্রকাশ করো নিশ্চয়ই এটা তোমাদের অন্যান্য সব আমল থেকে সর্বাপেক্ষা উত্তম।” বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, যিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা, বাহরুল আলীমা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক এই আখিরী যামানায় কত বড় নিয়ামত হিসেবে পাঠিয়েছেন হিদায়েতের আলোকবর্তিকা হিসেবে কুফরী শিরকীর মূল উৎপাটনকারিণী। উলামায়ে ‘সূ’ তথা নারীবাদীদের মুখোশ উন্মোচনকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। যেই কারণে আজকে আমরা নারী জাতি থেকে শুরু করে সমস্ত কায়িনাত, কুফরী, শিরকী বিদয়াত, বেশরার কালো থাবা থেকে বাঁচতে পারছি। নিজেদের পবিত্র ঈমান-আমল রক্ষা করতে পারছি। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “সত্য এসেছে, মিথ্যা দূরীভূত হয়েছে, মিথ্যা দূরীভূত হওয়ারই যোগ্য।” 

সত্যের জোয়ার বহিয়ে নিয়ে এলেন যিনি, মিথ্যার প্রাসাদ ভেঙে চুরমার করলেন যিনি। যিনি বেহায়াপনার শৃঙ্খল থেকে টেনে আনলেন মহিলাদের এবং পরিণত করছেন পর্দানশীন নারী। যাঁর বিজয় ধ্বনি গুঞ্জরিত হচ্ছে আজ। সারা কায়িনাতে সেই মহান ব্যক্তিত্ব তাশরীফ আনলেন পবিত্র থেকে পবিত্রতম মাস সাইয়্যিদুল আসইয়াদ, সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার ৭ তারিখে। (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী)!

যেখানে হযরত ঈসা রূহীল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সেই খাদ্যসহ খাঞ্চা নাযিলের দিনটিতে খুশি প্রকাশ করা ফরয সেখানে যিনি হাবীবাতুল্লাহ, মাশুকায়ে রসুলিল্লাহ হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করা ফরযের উপর ফরয, ইয়া বারে ইলাহী! হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছায়া তলে সকল নারীদের সমবেত হওয়ার তাওফীক দান করুন। প্রত্যেকটি নারীকে হাক্বীক্বী মুসলিমা হওয়ার তাওফীক দান করুন। হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের আদর্শ মুবারকে আদর্শবান হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমিন!


“হক্ব নাহক্ব একাকার

বন্ধ আজ সত্যের দ্বার

বহালেন হক্বের জোয়ার

আম্মাজী মাহবুবা খোদা তায়ালা উনার”


 সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক তাশরীফ কুল-কায়িনাতের জন্য সত্যিই এক মহা নিয়ামত

 

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক তাশরীফ কুল-কায়িনাতের জন্য সত্যিই এক মহা নিয়ামত

তামাম আলম যখন অশান্তির চরম দুঃসময় অতিক্রম করছিল, জিন-ইনসান অধীর আগ্রহে চাতকের মতো অপেক্ষমান ছিল একজন মুক্তিকামী আলোর দিশারীর জন্য। যিনি পৃথিবীর অবয়বটা পাল্টে দিয়ে নতুন করে ঢেলে সাজাবেন। অফুরন্ত আলোর ছটায় উদ্ভাসিত করে দিবেন বিশ্বের প্রতিটি জনপদ। জিন-ইনসানের ব্যাকুলতার অবসান ঘটলো। মানবতার সামগ্রিক জীবনে শান্তির সৌরভ ছড়িয়ে দিতে, মুক্তির চিরন্তন সওগাত, অফুরন্ত রহমতের প্রদীপ্ত প্রতিশ্রুতি নিয়ে পৃথিবীতে তাশরীফ নিলেন, রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনি ছিলেন কুল-কায়িনাতের জন্য একমাত্র উত্তম ও অনুসরণীয় আদর্শ। জিন-ইনসানের জন্য তিনিই একমাত্র অনুসরণীয়-অনুকরণীয়। জিন-ইনসান উনাকেই অনুসরণ করবে।

বলাবাহুল্য, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক সংস্পর্শে আসার কারণে, উনার সাথে নিসবত থাকার কারণে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারও পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! 

শুধু কি তাই? এমনকি উনারও কায়িনাতের সকল মহিলাদের জন্য অনুসরণীয়-অনুকরণীয়, গ্রহণীয় আদর্শ হিসাবে পরিগণিত হয়েছেন। পুরুষরা যেমন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করবে; ঠিক তেমনি মহিলারা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে অনুসরণ করবে। কেননা মহিলাদের ইবাদত-বন্দেগী, মুয়ামালাত-মুয়াশারাত উঠা-বসা, পোশাক-পরিচ্ছেদ পুরুষদের সম্পূর্ণ বিপরীত। পুরুষরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করবে। আর মহিলারা উনাকে অনুসরণ করার সাথে সাথে উনার যাওজাতুম মুকাররমাহ আলাইহিন্নাস সালাম তথা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকেও অনুসরণ করবে।

এখন কথা হলো- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম আযমাঈন রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারাতো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং হযরত মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনারা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে সরাসরি দেখে দেখে আমল করেছেন। আর বর্তমান বিশ্বের জিন-ইনসানতো উনাদেরকে দেখতে পান না। কেননা উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে চলে গিয়েছেন। তাহলে বর্তমান বিশ্বের জিন-ইনসান কাকে দেখে আমল করবেন? ইবাদত-বন্দেগী, মুয়ামালাত, মুয়াশারাত, তাছাউফ ইত্যাদি কোথা থেকে শিখবেন? এর জাওয়াবে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও উলিল-আমর তথা হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের অনুসরণ করো।” এখানে হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহগণ উনাদেরকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের পরিচয় হচ্ছে উনারা সর্বক্ষেত্রে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক মতে মত এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক পথে পথ থাকবেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিভাষায় উনাদেরকেই বলা হয় নায়েবে নবী। উনাদের সম্পর্কেই পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘তোমরা ওই ব্যক্তির অনুসরণ করো যিনি আমার দিকে রুজু হয়েছেন।’ (পবিত্র সূরা লুকমান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-১৫)

উনাদের সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “শায়েখ বা মুর্শিদ-মুরীদের মাঝে সেরূপ সম্মানিত ও মর্যাদাবান; যেরূপ উম্মতের মাঝে নবী আলাইহিমুস সালাম সম্মানিত ও মর্যাদাবান।” সুবহানাল্লাহ!

অত্যন্ত খুশি ও আনন্দের বিষয় হচ্ছে কায়িনাত যখন পথভ্রষ্টতার অন্ধকারে আচ্ছন্ন, যুলুম-অত্যাচার, চুরি-ডাকাতি, অবিচার-অনাচার, গান-বাদ্য করা ও শুনা, টিভি, সিনেমা, ডিস দেখা, ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, বেপর্দা, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, নগ্নতা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার; কলহ-দ্বন্দ, হত্যাকা- মানুষের সাথী; মানবতা ভুলুণ্ঠিত; যালিমের দৌরাত্ম্য সর্বত্র; মাযলুমের ফরিয়াদ শ্রবণের ব্যক্তির অভাব; সাংস্কৃতির মাঝে অপসাংস্কৃতির সয়লাব; নামে বেনামে উলামায়ে ‘সূ’ তথা ধর্মব্যবসায়ীদের রমরমা ব্যবসা; অলিগলিতে প্রবাহমান ভ--ফকির ও ভন্ড পীরদের কারিশমা; পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে বাদ দিয়ে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নামে ও বেনামে ইহুদী-নাছারা কর্তৃক উদ্ভাবিত গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র বিশ্বময় ছড়ানো; ছহীহ আক্বীদার বিপরীতে কুফরী আক্বীদায় ভরপুর মানুষের মন-মগজ হতে শুরু করে বই-পুস্তক, পত্রিকাসহ গোটা কায়িনাত; হক্ব-নাহক বলার মহান ব্যক্তিত্বের চরম সঙ্কট।

ঠিক সেই মুহূর্তে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি দয়া-মায়া করে এবং উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহসান করে কুল-কায়িনাতকে হাদিয়া প্রদান করেছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম, গাউছুল আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে। আলহামদুলিল্লাহ! যিনি কায়িনাতকে দিচ্ছেন কল্যাণময় পথের সুদিক নির্দেশনা, তাওহীদ ও রিসালাতের শিক্ষা, সত্য-মিথ্যা-পার্থক্য নিরূপণের ক্ষমতা, মানবতার আকাশচুম্বী উৎকর্ষ ও মর্যাদাবোধের চেতনা, যিনি দিচ্ছেন ব্যক্তিত্বের অনুভূতি, সচ্চরিত্র, মাধুর্যতা, সততা, ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ ও কর্মপন্থা, উত্তম আদর্শ; খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি পরম আস্থা ও নির্ভরতার যোগ্যতা, মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও মমত্ববোধ, সুদৃঢ় মনোবল ইত্যাদি। অর্থাৎ তিনিই হচ্ছেন নায়েবী নবী।

ইতঃপূর্বে আলোচিত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার তিনিই হচ্ছেন হাক্বীক্বী মিছদাক। আর উনার সাথে গভীর নিসবত থাকার কারণে, উনার সম্মানিতা যাওজাতুম মুকাররমাহ হওয়ার কারণে, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আলীমাহ, ফক্বীহাহ, ফাছীহাহ, বালীগাহ, তাযকীয়্যাহ, তাওসীয়াহ হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনার মর্যাদা লাভ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

পুরুষরা যেভাবে যামানার ইমাম ও মুজাদ্দিদ ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছিরত, ছুরত, মুবারক আমল আখলাক দেখে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ছিরত-ছুরত, আমল-আখলাক শিখবেন। ঠিক তেমনিই সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন আফদ্বালুন নিসা, ফদ্বিলাতুন নিসা, ছহীবাতু মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে দেখে দেখে কায়িনাতের মহিলাগণ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক ছিরত ছুরত, মুবারক আমল আখলাক শিখবেন। সুবহানাল্লাহ! ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যেমন ২৪ ঘণ্টা মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ও হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দীদার মুবারকে মশগুল থাকেন। ঠিক তেমনি হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনিও ২৪ ঘণ্টা উনাদের দীদার মুবারকে মশগুল থাকেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে উনাদের মুবারক আমল, মুবারক আখলাক, মুবারক ছিরত-ছূরত, মুবারক মুয়ামালাত-মুয়াশারাত, তাছাউফ সবই হচ্ছে পবিত্র সুন্নত মুবারক মুতাবিক। আর ওই পবিত্র সুন্নত মুবারক দেখে দেখে আজ কোটি কোটি পুরুষ-মহিলা হাক্বীক্বী সুন্নত শিখছেন। পথহারা, দিশেহারা পুরুষের সাথে সাথে মহিলারাও পথের দিশা পাচ্ছেন। বেপর্দা পুরুষ মহিলারা আজ পর্দা করা শিখছেন। ঈমানহারা পুরুষ-মহিলা আজ পবিত্র ঈমান পাচ্ছেন। কুফরী, শিরক, বিদয়াত-বেশরায় নিমজ্জিত, জিন-ইনসান আজ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করে সমস্ত অনৈসলামিক কার্যক্রম পরিত্যাগ করছেন। মোটকথা হচ্ছে ইতঃপূর্বে পুরুষ কোনো ওলীআল্লাহ উনার সাথে সাথে মহিলা ওলীআল্লাহ তাশরীফ নেননি। তাশরীফ নিলেও উনাদের তাজদীদী কাজ তেমন ব্যাপক ছিলো না। কিন্তু রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি ধরার মাঝে এক বেমেছাল ও বিরল মহিলা ওলীআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ! একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে পৃথিবীতে উনার তাশরীফ সত্যিই বিস্ময় কর। হাক্বীক্বতে তিনি জিন-ইনসানের জন্য নিয়মাতুল কুবরা তথা মহান নিয়ামত। যার শুকরিয়া জিন-ইনসান অনন্তকাল ধরে করেও শেষ করতে পারবে না।


 নাজাতের মালিকা, হিদায়েতের দিশারী, বাঁচার উপলক্ষ্য সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামীন হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম

 

নাজাতের মালিকা, হিদায়েতের দিশারী, বাঁচার উপলক্ষ্য সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামীন হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম 

যুগে যুগে অসংখ্য ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা তাশরীফ আনলেও মহিলাদের মাঝে হক্কানী-রব্বানী আলিমা ও ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিমা উনাদের সংখ্যা একান্তই অপ্রতুল। যার কারণে মহিলাদের হিদায়েত ও দ্বীনি জযবা অর্জন অনেকাংশেই বাঞ্ছনীয় মাত্রায় হয়নি। 

পবিত্র দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে জানা ও মানার ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় মহিলার ক্ষেত্র ও পরিসর কিছুটা সীমিত। কারণ ইলম ও হিদায়েত লাভের ক্ষেত্রে পুরুষের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারিত। তারা অবাধে মসজিদে যেতে পারে, ওয়াজ মাহফিলে যেতে পারে, আলিম-উলামাগণের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারে। কিন্তু সমাজে হক্কানী-রব্বানী আলিমা ও ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিমা উনাদের উপস্থিতি কম হওয়ায় ইলম ও হিদায়েত লাভে মহিলাদের সুযোগ-সুবিধা একান্তই সীমিত। সাধারণ নিয়মে তাই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে জানার ও মানার ক্ষেত্রে মহিলারা অগ্রণী নয়। 

চিরন্তন সত্য যে, সংসর্গ (ছোহবত) প্রভাব বিস্তার করে অর্থাৎ নেককার লোকের ছোহবতে নেককার হয়, আর বদকার লোকের ছোহবতে বদকার হয়। একজন মহিলা বা বান্দীকে আল্লাহওয়ালী হতে হলে অবশ্যই একজন নেককার বুযূর্গ মহিলা ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার ছোহবত ইখতিয়ার করতে হবে। ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার এবং নির্দেশনা মান্য করা ব্যতীত কস্মিনকালেও হিদায়েতের উপর কোনো মহিলা-মেয়ে ইস্তিকামত থাকতে পারবে না।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল ইজ্জত তিনি এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা রহমত করে সারা দুনিয়ায় পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালনের এ প্রতিকূল দুর্দিনে অন্ধকারাচ্ছন্ন হিদায়েতশূন্য মহিলা জাতিকে বাঁচানোর লক্ষ্যে এ হিজরী শতকে যমীনে প্রেরণ করেছেন উনাদের মাহবুবা লক্ষ্যস্থল, বেমেছাল বুযূর্গী হুরমত ইজ্জতসম্পন্না একজন সুমহান মহিলা ওলীআল্লাহ আলাইহাস সালাম উনাকে। যিনি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক তথা খাছ আওলাদ। তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আওলাদুর রসূল, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম। উনার শান-মান, বুযূর্গী, সম্মান, হুরমত, ইজ্জত অতুলনীয়া। বর্তমান যুগে হিদায়েত প্রত্যাশিনী সকলের ফরয দায়িত্ব উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা, উনার তা’লিম-তালকিন গ্রহণ করা, আদেশ-নিষেধ মুবারক মান্য করা। 

যে সব মহিলা সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামীন, আওলাদুর রসূল, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে না, তারা মুসলমান পরিচয়ধারী হলেও, মুসলমান সমাজে বসবাস করলেও ছবি তোলা, টিভি দেখা, নামায না পড়া, বেপর্দা হওয়া, গান-বাজনা করা, খেলাধুলা করা ইত্যাদি হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারে না। 

বিশেষত বর্তমান সমাজে ছবি তোলা ব্যাপকতা লাভ করার এবং পর্দা পালনে অনীহার কারণে স্বামী স্ত্রীতে দেখা দিচ্ছে মনোমালিন্য ও পারস্পরিক বিরোধ। এতে ভাঙন ধরছে মুসলমান পরিবারে। এর মন্দ প্রভাবই মুসলমান পরিবারগুলোর সন্তান-সন্ততিদের সুস্থ স্বাভাবিক নেক মানসিকতা ধারণ ও বহন এবং উত্তম অনুগত স্বভাব-চরিত্র গঠনে অন্তরায় সৃষ্টি করছে। যার কারণে মুসলমান সন্তানরা অনিবার্যভাবে কাফির-মুশরিকদের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ছে।

তাই মহিলাজাতির বর্তমানে প্রধান ও প্রথম দায়িত্ব সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামীন, আওলাদুর রসূল, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার অনুসরণ অনুকরণ করা ও নিয়মিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা। উনাকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীম করা। কারণ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর্যন্ত পৌঁছে দিবেন, উনাদের মুবারক মুহব্বত সন্তুষ্টি মুবারকদান করবেন, খালিছ আল্লাহওয়ালী বানাবেন উনিইতো নাজাতের মালিকা, হিদায়েতের দিশারী, বাঁচার উপলক্ষ। 


 সমস্ত শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ক্বদম মুবারকে

 সমস্ত শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ক্বদম মুবারকে 

সম্মানিত এক মহান জাতির নাম মুসলমান। যে জাতির অর্ধাংশ মুসলিম মহিলাজাতি। মুসলিম মহিলাজাতির বিশ্বাসের দৃঢ়তা, সমর্পিত ত্যাগী মানসিকতা, বীরত্বপূর্ণ লহু, সীমাহীন শরাফত, বেমেছাল লাজুকতা, জ্ঞান-প্রজ্ঞার চমৎকার লালন সর্বোপরি, মমতাপূর্ণ আচরণ, ব্যক্তিত্ব, আভিজাত্য, আত্মমর্যাদা, আত্মগৌরব সত্যিই অতুলনীয়। কিন্তু আফসুস! আজ সেই মহান মুসলিম মহিলাজাতির একি অবস্থা?

ওলীআল্লাহগণ উনাদের ছোহবত থেকে দূরে থাকার কারণে অশুদ্ধ আক্বীদা, বিদয়াতী আমল, নৈতিক অধঃপতন, চারিত্রিক পদস্খলন, লাজহীন চলাফেরা, হীনম্মন্যতা সম্মানিত মুসলিম মহিলাজাতিকে কঠিন এক প্রতিকূল অবস্থায় পতিত করেছে। মুসলিম মহিলারা তাদের চিন্তা-ফিকিরের উৎকর্ষতা, কর্মতৎপরতা, অনুসন্ধিৎসু চেতনা হারিয়ে ফেলেছে। ভুলে গেছে তাদের ইজ্জত, সম্মান, হুরমত ও ঐতিহ্য। তাদের হৃদয়পট থেকে মিটে গেছে হযরত মহিলা আনছার-মুহাজির ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনাদের অমলিন বিজয়ের ইতিহাস। 

এ দুর্গতির অমানিশা থেকে হীনম্মন্য লক্ষ্যহীন মুসলিম মহিলা জাতির নিস্তার ঘটাচ্ছেন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতকে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার আগমন না ঘটলে হীনম্মন্য ও আত্মমর্যাদাবোধহীন নিরীহ মুসলিম মহিলাজাতির দুর্বলতার সুযোগে কাফির-মুশরিক ও তাদের পদলেহনকারী উলামায়ে ‘সূ’রা তাদেরকে অস্তীত্বহীন করে ফেলত। 

 উনার আগমন না ঘটলে ইবলিসের বাক্স, অর্থাৎ হারাম টেলিভিশনকে মুসলিম মহিলারা তাদের পূজার মন্ডপ বানিয়ে ফেলতো। নাউযুবিল্লাহ! পাশাপাশি বেপর্দার পক্ষে, ছবি তোলার পক্ষে, নাচ-গান খেলাধুলার পক্ষে গলাবাজি করতো। এছাড়াও বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের নামে শর্ট পোশাক পরে, চাল-চলন ও ব্যবহারে বিজাতীয়দের পুরোপুরি অনুসরণ ও অনুকরণ করতো। 

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল রূহানী কুওওয়ত, বিস্ময়কর রোব এবং চমৎকার নছীহতে সারা বিশ্বব্যাপী মুসলিম মহিলাজাতির হীনম্মনত্যা ক্রমান্বয়ে অপসারিত হচ্ছে। তারা হুরমত-ইজ্জত আত্মমর্যাদায় উজ্জীবিত হচ্ছে, তাদের পবিত্র ঈমান-আক্বীদা নবায়ন হচ্ছে। মুসলিম মহিলা জাতি আজ বিদয়াত ত্যাগ করে পবিত্র সুন্নত পালনে অভ্যস্ত হচ্ছে। 

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক নছীহত মুসলিম মহিলাজাতির মাঝে জাগরণী তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে। 

তাই কৃতজ্ঞ হৃদয়ে অনন্তর দুরূদ ও সালাম পেশ করি আমাদের দোজাহানের মাতা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার প্রতি যিনি মুসলিম মহিলাজাতিসহ আমাদের সকলকে হিফাযত করছেন।


 সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক মজলিস হচ্ছে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তা’লীমী মজলিসের হাক্বীক্বী মিছদাক


 
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক মজলিস হচ্ছে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তা’লীমী মজলিসের হাক্বীক্বী মিছদাক

যিকির-ফিকির, রিয়াযত-মাশাক্কাত করে কখনো মুজাদ্দিদে আ’যম হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা যাওজাহ হওয়া সম্ভব নয়। এই বিষয়টি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক মনোনীত। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন নাস সালাম উনাদেরকে যত নিয়ামত ও রহমত হাদিয়া করেছেন ক্বায়িম-মাক্বাম হিসেবে উনারা রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকেও অনুরূপ হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে দায়েমী মুবারক তায়াল্লুক নিসবত, দায়িমী দীদারে সর্বোপরি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দায়েমী মুহব্বত ও মা’রিফতে কাটে হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার। সুবহানাল্লাহ!

হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মুসলিম উম্মাহর জন্য সুমহান আদর্শ। উনার মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করে মুসলিম মহিলা জাতি পাচ্ছে মুক্তির আলোক দিশা। উনার মুবারক ছোহবতে পাচ্ছে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন নাস সালাম ও উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাদের মুবারক ছোহবতের নূর ও খাছ তায়াল্লুক নিসবত। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুন নিসা, ইমামুছ ছিদ্দীক্বা, খোদায়ী হুসনে দাদ, হাবীবাতুল্লাহ হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার জাহির বাতিন ইত্তেহাদী তাওয়াজ্জুহ-ফয়েজ হাছিল করে দোজাহানে কামিয়াবী হাছিল করা মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।

মহিলাদের উচিত হবে রাজারবাগ দরবার শরীফ-এ এসে খোদায়ী হুসনে দাদ, হাবীবাতুল্লাহ, ত্বাহিরা ওয়াত ত্বইয়িবা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করে, উনার তা’লীমী মজলিসে হাজির হয়ে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ মুবারক রেযামন্দি ও মুবারক সন্তুষ্টি হাছিল করা। পাশাপাশি মহিলাদের কিভাবে শরীয়তসম্মতভাবে চলতে হবে তা জেনে নেয়া। সাইয়্যিদাতুন নিসা, ইমামুছ ছিদ্দীক্বা, খোদায়ী হুসনে দাদ, হাবীবাতুল্লাহ হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উসীলায় খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সকল মহিলাকে সেই তাওফীক দান করুন। (আমীন)


 সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবতের মাধ্যমেই নারী জাতির মুক্তি

 সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবতের মাধ্যমেই নারী জাতির মুক্তি

মুসলমান মহিলাগণ তাদের নিজেদের ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বোরকা পরে বের হবে। কেননা ইহা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মহান বিধান; যা মহিলাদের চরিত্র অটুট রাখতে এবং সমাজে মহিলার সম্মান বজায় রাখতে অতীব জরুরী।

কিন্তু পত্রিকায় দেখলাম- হিজাব সংহতি দিবস যারা উদযাপন করেছে, বক্তব্য দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই মুখ হাত-পা খোলা। অর্থাৎ হাতে-পায়ে মোজা নেই এবং মুখম-লেও কোনো কাপড় নেই। আর তাদের গোলটেবিল বৈঠকে অনেক পুরুষ ব্যক্তিও ছিলেন। অথচ পর্দা সম্পর্কে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ এবং দৈনিক আল ইহসান শরীফ উনার থেকে আমরা জানতে পারলাম- হিজাব বলতে শুধু মাথায় নেকাব পরা বুঝায় না। হিজাব হলো- ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় হাত মোজা, পা মোজা পরাসহ এমন বোরকা পরিধান করবে, যাতে করে অন্য পুরুষরা মহিলাদের একটি পশম পর্যন্ত না দেখতে পারে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি একজন মহিলার জন্য যে কয়জন পুরুষের সাথে দেখা করতে অনুমতি দিয়েছেন, তাদের ছাড়া অন্য কারো সাথে সাক্ষাৎ না করা। 

আর পর্দা এবং হিজাব সম্পর্কে হাক্বীক্বী উপলব্ধি পেলাম যামানার মহিলাদের যিনি নাজাতের কা-ারী, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত উম্মুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে গিয়ে। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার হিজাবসহ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রত্যেকটি বিষয় এমনভাবে তা’লীম দেন যাতে মহিলাদের মধ্যে জাগরিত হয় পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালনের প্রেরণা এবং তাতে মহিলারা পায় মহিলাত্বের সম্মান এবং ফিরে পায় তাদের হারানো মর্যাদা। তাই আমি কথিত হিজাব দিবস পালনকারী “দি উইটনেস” এর বক্তাবৃন্দসহ সকল মুক্তি প্রত্যাশী মহিলাদের আহ্বান জানাচ্ছি যে, আপনারা আপনাদের সম্মান-মর্যাদা ফিরে পেতে এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও হিজাব সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভের জন্য রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিতা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে আসুন এবং উনার সুমহান দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গঠন করুন।


 মুসলিমা মহিলাদের একমাত্র রাহগীর আলিমাতুল আলম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার তাজদীদ মুবারকের দাপটে বাতিলপন্থীরা শঙ্কিত

 

মুসলিমা মহিলাদের একমাত্র রাহগীর আলিমাতুল আলম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার তাজদীদ মুবারকের দাপটে বাতিলপন্থীরা শঙ্কিত 

বর্তমান মুসলিমারা যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক তাজদীদী কাফিলায় দাখিল হচ্ছে, উনার পবিত্র ছোহবতে তেজোদ্দীপ্ত কণ্ঠে নূরানী মুবারক বয়ান শুনে বদ আক্বীদাসম্পন্নদের আক্বীদা শুদ্ধ হচ্ছে, বেনামাযী নামাযী হচ্ছে, বেপর্দা পর্দানশীন হচ্ছে, বেহায়া হায়া পাচ্ছে, বেআমল আমলদার হচ্ছে, একজন সাধারণ শিক্ষিতা মহিলাও আলিমাতে পরিণত হচ্ছে, এক কথায় উনার মুবারক ছোহবতে মহিলারা যখন হাক্বীক্বী আল্লাহওয়ালীতে পরিণত হচ্ছে, সাথে সাথে উনার তাজদীদী কাজে শরীক হয়ে সমস্ত মুসলিমা মা-বোনদের হক্বের দাওয়াত দিচ্ছে; আমাদের তথা মুসলিমাদের রাহগীর, মুসলিমাদের হাদী হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে মা-বোনদের অবহিত করছে, বাতিলপন্থী তথা ইবলিসের অনুসারীদেরকে চিহ্নিত করে দিচ্ছে। তখন ইবলিশ ও ইবলিসের অনুসারী উলামায়ে ‘সূ’ তথা বাতিলপন্থীদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সর্বনাশ! পুরুষের সাথে সাথে আজ মহিলারাও বুঝি ইবলিসের শয়তানী জাল থেকে ছুটে যাচ্ছে। মহিলারাও আজ ওলীআল্লাহ হয়ে যাচ্ছে, ইবলিস ও তার অনুসারীদের এতদিনের পরিশ্রম যেন প-শ্রম হতে যাচ্ছে। তাই কিভাবে উনার অনিষ্ট সাধন করা যায়, কিভাবে মহিলাদের কাছে উনার কুৎসা রটনা করে উনার কাছ থেকে হটানো যায়, সেই কুচিন্তা-ফিকিরে ইবলিসেরও বড় ইবলিস দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী তথা উলামায়ে ‘সূ’দের আর ঘুম হচ্ছে না। দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী তথা উলামায়ে ‘সূ’দের কার্যকলাপ দেখে হঠাৎ একটি প্রবাদ মনে পড়লো। প্রবাদটি হচ্ছে, 

‘পেঁচা রাষ্ট্র করে দেয় পেলে কোনো ছুতা,

জানে না আমার সাথে সূর্যের শত্রুতা।’

দিবসের প্রখর সূর্যালোক কোঁরবাসী পেঁচার কাছে অসহ্য। তাই সে দিবালোকে কোঁরের অন্ধকার গুহায় আত্মগোপন করার জন্য সে সোচ্চার কণ্ঠে প্রচার করে যে, সূর্যের সঙ্গে তার চিরশত্রুতা। মূলত, এই সমস্ত পেঁচুক স্বভাবের উলামায়ে ‘সূ’রা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার এমন আলীশান মুবারক তাজদীদ, উনার এই শ্রেষ্ঠত্ব সহ্য করতে পারে না। সেজন্য উনার সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠছে। উনার কুৎসা রটনায় মেতে উঠছে। হিংসাকাতর এই সমস্ত নাদান-আহমকের দল নিজেদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অচেতন। ইহুদীদের পাচাঁটা গোলাম এই সমস্ত উলামায়ে ‘সূ’রা জানে তারা কোনোদিনই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন মর্যাদার লেশমাত্রও কমাতে পারবে না। এরপরেও তারা উনার মর্যাদা তথা শ্রেষ্ঠত্ব ভূলুণ্ঠিত করতে চায়। তবে এই সমস্ত নিন্দুকের দল, গুমরাহর দল, ভ-ের দল উলামায়ে ‘সূ’দের জেনে রাখা দরকার, তারা তাদের এ ব্যর্থ লম্ফ-ঝম্প আর হুঙ্কার দিয়ে কোনোদিনই উনার সুমহান শান-মান, মর্যাদা আর মুবারক তাজদীদ মুবারকের জ্যোতিকে ম্লান করতে পারবে না। তাদের এই ব্যর্থ প্রচেষ্টায় তারা কস্মিনকালেও সফল হতে পারবে না। বরং তারা নিজেরাই কলঙ্কিত হবে। এই সমস্ত পেঁচুক স্বভাবের উলামায়ে ‘সূ’রা চিরকালই অন্ধকারে তথা কুফরী-শিরকীতে লিপ্ত থাকবে। চিরকালই এরা হবে লা’নতগ্রস্ত, লাঞ্ছিত, অপমানিত, ধিকৃত। কেননা স্বয়ং মহান রব্বুল ইজ্জত মহান রব্বুল আলামীন, মহাপরাক্রমশালী মহান আল্লাহ পাক জাল্লা শানূহু তিনি এবং উনার রসূল, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, দো’জাহানের সর্দার, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে শ্রেষ্ঠ মাক্বামিয়াতে উপনীত করে লব্ধ নিয়ামতে ভরপুর করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রিয় হাবীবা করে, দো’জাহানের সুলত্বানা করে, বর্তমান মুসলিমা মহিলাদের রাহগীর তথা হাদী হিসেবে এবং হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পরম পবিত্রা যাওাতু মুকাররমাহ তথা সঙ্গিনী হিসেবে মনোনীত করেছেন। বর্তমানে তিনি-ই হচ্ছেন উম্মুল মু’মিনীন আল উলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম এবং উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী ক্বায়িম-মাক্বাম তথা উত্তরসূরী।

অতএব, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের উত্তরসূরী হয়ে তিনি উনার তাজদীদী কাজ বহাল তবিয়তে করে যাচ্ছেন এবং করেই যাবেন। তিনিই মহিলা জাতির মর্যাদার প্রতীক।

উল্লেখ্য, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আফযালুন নিসা, আলিমাতুল আলম, দোজাহানের সুলত্বানা, মুসলিমাদের রাহগীর, মহিলাকুলের আলোকবর্তিকা, বীর মুজাহিদা, হাবীবাতুল্লাহ, আওলাদে রসূল, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর আলাইহাস সালাম তিনি প্রতি ইয়াওমুল জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার ও ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার মহিলাদের তালীম-তালক্বীন দিয়ে থাকেন। জুমুয়াবার বাদ- জুমুয়াহ থেকে মাগরিব পর্যন্ত এবং সোমবার সকাল বাদ- যোহর থেকে আছর পর্যন্ত তালীমী মজলিশ চলতে থাকে। এতে পবিত্র কুরআন শরীফ ছহীহ শুদ্ধভাবে শিক্ষা দেয়া হয়, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার তাফসীর ব্যাখ্যা করা হয়, পবিত্র কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফভিত্তিক ওয়াজ-নছীহত এবং বিভিন্ন মাসায়ালা-মাসায়িল আলোচনা করা হয়। সর্বোপরি মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মা’রিফাত, মুহব্বত হাছিলের তর্জ-তরীক্বা শিক্ষা দেয়া হয়। যামানার হক্ব তালাশী মা-বোনদের প্রতি রইল আমন্ত্রণ।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মুসলিমাদেরকে বর্তমান যামানার মুসলিমাদের রাহগীর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক সান্নিধ্যে এসে হাক্বীক্বী ইছলাহ হাছিল করে খালিছ মু’মিনা হওয়ার এবং হক্বের উপর ইস্তিকামত থাকার তাওফীক ইনায়েত করুন। (আমীন) (ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ) 


 বেমেছাল মর্যাদা-মর্তবা, বুযুর্গী, রোব, কামালতের অধিকারিণী সাইয়্যিদাতুন নিসা, আফদ্বালুন নিসা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম


 বেমেছাল মর্যাদা-মর্তবা, বুযুর্গী, রোব, কামালতের অধিকারিণী সাইয়্যিদাতুন নিসা, আফদ্বালুন নিসা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম

সাইয়্যিদাতুন নিসা, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদাতুনা মুহতারামা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক মর্যাদা-মর্তবা যামানায় অতুলনীয়। উনার মুবারক চরিত্র, আমল ও ইখলাছ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমান ফিতনায় জর্জরিত মুসলিম দুনিয়ায় মুসলিম মহিলাকুল অবহেলিতা, লাঞ্ছিতা, ধিকৃতা। কথিত প্রগতির জোয়ারে ভাসমান মহিলারা যখন তার অস্তিত্বকে খড়-কুটার ন্যায় উপলব্ধি করছে। যখন সে নিজকে পণ্যদ্রব্য ভাবছে। সর্বোপরি মহিলাদের চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে;

সেই মুহূর্তেই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত স্বরূপ আবির্ভূত হন যামানার ছিদ্দীক্বা, মহিলাকুলের মুক্তির দিশারী, মহিলাকুলের সাইয়্যিদা, নারী মূল্যায়নের আলোকবর্তিকা, নূরে জাহান, আওলাদে রসূল, হাদিয়ে যামান, সাইয়্যিদাতুনা মুহতারামা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম। বাতিলের একচেটিয়া প্রভাবে যখন মহিলাকুল পুরোপুরি অসহায়, বাতিলের প্রবল শক্তির বিপরীতে মহিলাকুল অস্তিত্বহীন। সেই মুহূর্তেই খোদায়ী শক্তিতে বলীয়ান হয়ে বাতিলের বিরোধিতায় সহজেই জয়ী হচ্ছেন বীরাঙ্গনার দীপ্ত প্রতীক সাইয়্যিদাতুনা মুহতারামা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম। বাতিলের শোচনীয় পরাজয়ের শত শত ঘটনা ধ্রুব তারার ন্যায় স্পষ্ট। সেখান থেকে একটি উল্লেখ করছি মাত্র। একবার মহান মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ ছফর ছিল দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। উক্ত অঞ্চলের বান্দরবান জেলা শহরে দুদিন তাজদীদী ছফর হয়। উক্ত তাজদীদী তা’লীমের জন্য দুটি খানকা শরীফ নির্ধারণ করা হতো। পুরুষদের জন্য একটি অপরটি নারীদের জন্য। পুরুষদের তা’লীম দিতেন মহান মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং মহিলাদের তা’লীম দিতেন উনারই মুবারক আহলিয়া নূরে জাহান, মুহতারামা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম। অনুরূপ পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক বান্দরবানেও আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দর্শনার্থী পুরুষদের পাশাপাশি হাজার হাজার মহিলারা বোরকা পরে চাদর মুড়ি দিয়ে খাছ পর্দার সাথে তা’লীমী মজলিসে উপস্থিত হন। মহিলারা মুহতারামা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক মধু মিশ্রিত আকর্ষণীয় বাণী বা নছীহত শুনে, উনার মুবারক চেহারা দর্শন করে অনায়াসেই আকৃষ্ট হয়ে যায়। বেনামাযী নারী নামাযী হয়, বেপর্দা মহিলা পর্দানশীন হয়। মুত্তাক্বী পরহেযগার মুসলিমা হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, বান্দরবানের এক পাহাড়ি, নাম তার মুহম্মদ শামসুদ্দীন। সে তার আহলিয়ার (স্ত্রীর) হিদায়েতের ঘটনা বর্ণনা করলেন যে, তার আহলিয়া (স্ত্রী) ছিল এক নম্বর দুনিয়াদার, নামায পড়তো না, পর্দা করতো না, সারাক্ষণ ঝগড়া করতো, আহালের (স্বামীর) প্রতি যুলুম করত, অপচয়কারিণী ছিলো। অধিকাংশ সময় টেলিভিশন দেখতো। বহু চেষ্টা করেও তাকে ভালো করা যায়নি। একবার ঘর থেকে টেলিভিশন বের করতে চাইলে, হুমকি দেয় আমাকে তালাক দিয়ে ঘর থেকে টেলিভিশন বের করতে পারবে; এর আগে নয়। আমি খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। এমন সময় শুনলাম যে, বান্দরবানের একটি আবাসিক হোটেলে এক বুযুর্গ ওলী এসেছেন। সাথে উনার সম্মানিতা আহলিয়াও এসেছেন। তিনি খাছ পর্দার সাথে মহিলাদের তা’লীম দিচ্ছেন। 

হাজার হাজার মহিলারা সেখানে যাচ্ছে। এসব শুনে ঘরে এসে আহলিয়াকে (স্ত্রীকে) বললাম। অগত্যা সে রাজি হয়ে গেল। আমি আর দেরি না করে ঝটপট তাকে নিয়ে চলে আসি উক্ত তা’লীমী মজলিসে। আহলিয়াকে (স্ত্রীকে) স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেই মহিলাঙ্গনে। আমি চলে আসি পুরুষাঙ্গনে। মুজাদ্দিদ আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কাছে তওবা করে বাইয়াত হই। উনার সাথে মুনাজাত করি। ঝরঝর করে দু’চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আহলিয়ার (স্ত্রীর) হিদায়েতের জন্য দোয়া করি। পরিশেষে ফেরার সময় হলো। যথাসময়ে আহলিয়াকে (স্ত্রীকে) নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। আহলিয়া (স্ত্রী) বলে উঠলো- ঘর থেকে টেলিভিশন সরিয়ে ফেলুন, টেলিভিশন দেখা হারাম, তা ঘরে রাখাও হারাম। এতদিন বুঝিনি, হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে, নছীহতে এখন ভালো করেই হক্বকে হক্ব হিসেবে বুঝতেছি, আর না হক্বকে নাহক্ব রূপে জানছি। সুবহানাল্লাহ!

জনাব শামসুদ্দীন বলতেছেন, আমার আহলিয়া (স্ত্রী) এখন পর্দা করে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযসহ আওয়াবীন, তাহাজ্জুদ নামায পড়ে। রোযা রাখে, আমার সাথে বেয়াদবি করে না, ঝগড়া করে না, সে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে গেছে। ভালো হয়ে গেছে। বলতে বলতে তার দু’চোখ বেয়ে আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুন নিসা, নূরে জাহান, ছিদ্দীক্বায়ে আযীমা মুহতারামা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কত উচ্চঁ বেমেছাল মর্যাদা-মর্তবা, বুযুর্গী, রোব, কামালত, যা বলার অপেক্ষাই রাখে না। উনার মুবারক ছোহবত, নছীহত গ্রহণ করতে বিশ্ব মহিলা মহলকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।


 সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহিলাকুলের তরে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ

 সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহিলাকুলের তরে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ 

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের জন্য খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে সর্বোত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)

মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা আমার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পর উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিকট থেকে পবিত্র দ্বীন শিখবে।” অর্থাৎ তিনি পবিত্র ইলহাম ও পবিত্র ইলক্বা উনাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পবিত্র দ্বীন শিক্ষা দিবেন। তিনি সমস্ত প্রকার ইলমের অধিকারিনী এবং সর্বপ্রকার আদর্শ উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মধ্যে নিহিত রয়েছে। বর্তমানে তো হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা নেই, তাহলে মহিলাজাতি কার কাছ থেকে উত্তম আদর্শ মুবারক গ্রহণ করবে? সাইয়্যিদাতুন নিসা, আফযালুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন অর্থাৎ তিনি উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের উত্তরাধিকারী হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের আদর্শ পরিপূর্ণরূপে আমাদের উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মধ্যে নিহিত। তিনি পরিপূর্ণ পবিত্র সুন্নত উনার পাবন্দ। উনার দ্বারা পবিত্র সুন্নত উনার পরিপন্থী কোনো আমল সংঘটিত হয় না। মহান আল্লাহ পাক উনাকে ইলম-আমল-ইখলাসের সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করেছেন। সম্মানিত শরীয়ত ও তরীক্বত উভয় ইলমের দিক থেকেই তিনি পরিপূর্ণতার চরম-পরম সীমায় পৌঁছিছেন। একজন উম্মত হিসেবে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব উনার পক্ষ থেকে যতটুকু মর্যাদা-মর্তবা লাভ করা সম্ভব ততটুকুই লাভ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! 

সাইয়্যিদাতুন নিসা, আফযালুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মতো মুক্তাক্বী-পরহেযগার মহিলার উপস্থিতি জাহানের মাঝে বিরল। তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মতো মহিলাকুলকে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুবারক মা’রিফাত-মুহব্বত দানে ধন্য করছেন। উনার মুবারক ছোহবতে মহিলাকুল বেহায়া থেকে হায়া লাভ করছে, বেশরা ছেড়ে পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার দিকে ধাবিত হচ্ছে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার গর্হিত হারাম, নাজায়িয কাজ ছেড়ে দিয়ে পবিত্র সুন্নত পালনে ধাবিত হচ্ছে। তাই সাইয়্যিদাতুন নিসা, আফযালুন নিসা, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহিলাকুলের জন্য সবশ্রেষ্ঠ আদর্শ।


 হাবীবাতুল্লাহ্, আফযালুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি তামাম মহিলাকুলের সাইয়্যিদাহ


 
হাবীবাতুল্লাহ্, আফযালুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি তামাম মহিলাকুলের সাইয়্যিদাহ 

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক সম্মানিত, যিনি তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী।”

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রকৃত তাক্বওয়া কী? প্রকৃত তাক্বওয়া হচ্ছে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করা। এ প্রসঙ্গে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলে দিন তোমরা যদি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত (ভালোবাসা, মর্যাদা, মর্তবা) চাও তাহলে আমাকে (মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব উনাকে) অনুসরণ কর।”

প্রকৃতপক্ষে যিনি যতটুকু পবিত্র সুন্নত উনার ইত্তেবা করবেন তিনি ততটুকু মর্যাদা মর্তবা লাভ করতে পারবেন। হাক্বীক্বত পবিত্র সুন্নত উনার মধ্যেই সমস্ত মর্যাদা-মর্তবা নিহিত। হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে শ্রেষ্ঠ মানুষ হয়ে ছিলেন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম-পূঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ অনুকরণ করে।

আফযালুন নিসা, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ইহসানে পরিপূর্ণরূপে পবিত্র সুন্নত উনার অনুসরণ অনুকরণ করে থাকেন। তিনি পবিত্র সুন্নত উনার খিলাফ কোনো কাজ কর্ম বা কোনো কিছুই করেন না। উনার মতো পবিত্র সুন্নত উনার অনুসরণকারিণী মহিলা জাহানে খুঁজে পাওয়া বাস্তবিকই অসম্ভব। সুবহানাল্লাহ! 

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা আমার পরে দ্বীন শিক্ষা করবে উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে।” বর্তমান যামানায় হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ক্বায়িম-মাক্বাম। উনার মুবারক তা’লীম শুনে মহিলারা তাদের আক্বীদা বিশুদ্ধ করছে। নিজেদেরকে তারা পবিত্র সুন্নত উনার রঙে রঞ্জিত করছে হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সুন্নত উনার আমল দেখে। বেপর্দা মহিলা উনার নূরী বয়ানের ফায়েজে নিজেকে আবৃত করছে পর্দায়। সর্বোপরি মহিলারা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক পরশে হাক্বীক্বী আল্লাহওয়ালীতে পরিণত হচ্ছে। সুবহানাল্লাহ!

অন্যদিকে হাবীবাতুল্লাহ, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন নিসা, হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন- মুজাদ্দিদুল আ’যম, জামিউল আউলিয়া, মুহ্ইউস সুন্নাহ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রা যাওজাতুম মুকাররমাহ। তাহলে উনার মর্যাদা-মর্তবা কতটুকু তা সহজেই অনুমেয়। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র পুরুষের জন্য পবিত্র মহিলা”। অর্থাৎ পুরুষ যে রকম মর্যাদাবান হয়ে থাকেন, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য ততটুকু মর্যাদাবান মহিলা নির্ধারণ করে থাকেন।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব যেমন ‘অন্য কারো মতো নন, অনুরূপ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা ও পবিত্রা নিসা আলাইহিন্নাস সালাম হওয়ার কারণে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে যত মহিলা রয়েছেন তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা করেছেন। উনারা কারো মতো নন। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রা নিসা আলাইহিন্নাস সালাম হওয়ার কারণে আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মতো নন।” সুবহানাল্লাহ! 

বর্তমানে এই কথা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট যে বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ, আল মুজাদ্দিদুল আ’যম, জামিউল আউলিয়া, আওলাদে রসুল তিনি হচ্ছেন আমাদের প্রাণপ্রিয় রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। আমাদের নয়নের মণি, আল মুজাদ্দিদুল আ’যম হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যেমন আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদ (সর্বশ্রেষ্ঠ), তেমনিভাবে আমাদের মামদূহ হযরত মুর্শিদ আলাইহিস সালাম উনার যাওজাতুম মুকাররমাহ হাবীবাতুল্লাহ হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি তামাম মহিলাকুলের মধ্যে সাইয়্যিদা তথা সাইয়্যিদাতুন নিসা (মহিলাকুলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা) 


 সাইয়্যিদাতুন নিসা, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবতেই নারী জাতির মুক্তি


 
সাইয়্যিদাতুন নিসা, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবতেই নারী জাতির মুক্তি

বর্তমান নারীদের অবস্থা অবলোকন করলে আফসুস করতে হয় যে, তারা শুধু নামেই ‘মুসলিম মহিলা’। কিন্তু তাদের হাল-হাক্বীক্বত, সীরত-ছূরত অন্যান্য বাতিল ধর্মাবলম্বীদের মতো। প্রগতিশীল নারীবাদীদের দ্বারা উন্মুক্ত ‘মহিলা স্বাধীনতা’র বিষয় আজ ব্যাপক আলোচিত। ‘মহিলা স্বাধীনতা’র নামে ঘর থেকে মহিলাদের বের করতে উদ্বুদ্ধ করা, বেপর্দা হওয়া, ছেলে-মেয়ে একত্রে বাজারে বাজারে ঘুরে বেড়ানোর প্রচলন, মহিলা-পুরুষ একত্রে স্ব স্ব সহশিক্ষার স্থানে কর্মে নিয়োজিত ইত্যাদি কর্মকা-ের দাপটে আজ মহিলা সমাজ ডুকরে কাঁদছে। নিজেরাই বিসর্জন দিচ্ছে নিজ নিজ মান-সম্ভ্রম। বিচ্যুত হচ্ছে আহালের (স্বামীর) সংসার, পরিবার, সমাজ থেকে। নিক্ষিপ্ত এসিডে ঝলসে যাচ্ছে, খুন হচ্ছে পরকীয়া প্রেমের কারণে। যৌতুকের কারণে একজন মহিলা ঘাতক আহালের (স্বামী), শ্বশুরবাড়ির মানুষের কাছে হচ্ছে অত্যাচারিত। পাশাপাশি এক মুঠো ভাতের আশায় নিজের সমস্ত পবিত্র ঈমান ও আমল নিঃশেষ করে একজন মহিলা বিকিয়ে দিচ্ছে তার মান-সম্মান, ইজ্জত। অথচ এই তথাকথিত মহিলাবাদীরা মহিলাত্ব প্রকাশে এতোই ব্যাকুল যে, তারা ‘মনের পর্দা’কে বড় বলে মনে করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! বোরকার আড়ালে নিজেকে গুটিয়ে রাখাকে ‘মূর্খ, গেঁয়ো’ মনে করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! 

কথিত শিক্ষিত আধুনিক সমাজের জাঁকজমক সাজ-সজ্জাতে তারা বেসামাল। ঘর-সংসার ফেলে এ নাচ-গান, মদ পানে বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকা, টিভি এবং মঞ্চ নাটক, সিনেমায় মত্ত থেকে জীবনটাকে উপভোগ করা, রাজনীতির নামে বেহায়াপনা, বেলেল্লাপনায় মত্ত থেকে নিজস্ব স্বকীয়তাকে বিসর্জন দিয়ে বড় বড় নেত্রী হওয়া এবং রাজপথে মিছিল মিটিং করে অপর দলের নেতা কর্মী, পুলিশ বাহিনীর হাতে নিজেদের মান-সম্মান হারানো, নির্যাতিত হওয়া এসব হচ্ছে মহিলা স্বাধীনতার প্রাপ্তি। সমাজের এসব মহিলারাই আবার ‘মহিলা মুক্তি’র নামে অগ্রণী ভূমিকা পালনে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এরাই মহিলা মুক্তির পুরোধা বলে নিজেদের প্রকাশ করে। 

আফসুস! কোন সমাজে, কোন দেশে, কোন যুগে আমরা বাস করছি? আমাদের মুসলমানিত্ব কোথায়? আমরা মহিলা। মহিলাদের সেই চিরাচরিত ‘লজ্জা’ আজ কোথায়? আমরা ‘আইয়্যামে জাহিলিয়াতের’ সেই যুগে এসে পড়েছি। ‘আইয়্যামে জাহিলিয়াতে’ মেয়েরা বেপর্দা হয়ে চলতো, বেশরা-বিদয়াতে লিপ্ত থাকতো, বাজারে বাজারে ঘুরতো, যা বর্তমানে দেখা যায়। ‘নারী স্বাধীনতা’র নামে, ‘নারী মুক্তি’র দিশারী নামে কলুষিত করে রেখেছে গোটা সমাজকে। অথচ কি অপমান! কি লজ্জা! মহিলাত্বের এই অবমাননা মহিলাদের দ্বারাই সংঘটিত হচ্ছে। এটা তাদেরই কর্মফল। নিজের জাত, সত্তা, বিসর্জনকারিণী অপয়ারা কিভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন, অসহায় মহিলাদের উদ্ধার করবে? নিজেদের মূর্খতা, স্বেচ্ছাচারিতা, জাহেলীপনা আজ সত্যিই ইবলিস শয়তানের খাছ অনুচর হিসেবেই তাদের যথার্থ পাওনা বুঝিয়ে দিয়েছে, দিচ্ছে এবং দিবে। নাঊযুবিল্লাহ!

 এরা সত্যিই চরম লাঞ্ছিত এবং অপমানিত হচ্ছে। নিজেদের অপর্কমের ফলে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আদেশ নিষেধ মুবারক না মানার কারণেই, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব উনাদেরকে না মানার কারণেই, যুগের ইমাম উনার ছোহবতে না আসার কারণেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে প্রগতিবাদী মহিলা মুক্তির মিথ্যা দাবীদারদের ধোঁকা থেকে হিফাজত করে যুগের রাহবার প্রকৃত মহিলা মুক্তির অগ্রদূত, মহিলা জাতির মর্যাদার প্রতীক রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদাতুন নিসা হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার খাছ ছোহবত মুবারকের মাধ্যমে মহিলা জাতির প্রকৃত মুক্তি ও কল্যাণ নসীব করুন। (আমীন)