৩৭৩ নং- সুওয়াল -জনৈক আলেমের কাছে শুনলাম, ছিদ্রওয়ালা টুপি অর্থাৎ নেট টুপি মাথায় দেওয়া মাকরূহ্। এই কথা কতটুকু সত্য?
সুওয়াল - মাসিক মদীনা, জুন/৯৫ইং সংখ্যায় নিম্নোক্ত প্রশ্নোত্তর ছাপানো হয়-
প্রশ্নঃ- জনৈক আলেমের কাছে শুনলাম, ছিদ্রওয়ালা টুপি অর্থাৎ নেট টুপি মাথায় দেওয়া মাকরূহ্। এই কথা কতটুকু সত্য?
উত্তরঃ- ছিদ্রওয়ালা (নেট-এর) টুপি ব্যবহার কেন মাকরূহ্ হবে, তার কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছিনা। মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যায় টুপির ফতওয়ায় উল্লেখ করেছিলেন যে, চার টুকরা বিশিষ্ট সুতি কাপড়ের গোল টুপি খাস সুন্নাত এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে টুপি পরিধান করেননি, তা সুন্নাতের খেলাফ। মাসিক মদীনার সম্পাদক প্রশ্নের উত্তরে ছিদ্রওয়ালা (নেটের) টুপি পরিধান মাকরূহ্ নয় বলে যে উত্তর দিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিদ্রওয়ালা নেটের টুপিও পরিধান করেছেন। তাহলে কি সত্যিই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ধরণের টুপি পরিধান করেছেন, যা পরিধান করলে সুন্নাতের খেলাফ হবেনা?

জাওয়াব - মাসিক মদীনার সম্পাদকের উত্তর অশুদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে তার অজ্ঞতা ও জিহালত চরমভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে। মূলতঃ মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় যে উল্লেখ করা হয়েছে, চার টুকরা বিশিষ্ট সুতি কাপড়ের সাদা গোল টুপি খাস সুন্নাত, এটাই সহীহ্। ছিদ্রওয়ালা (নেটের) টুপি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে কখনো পরিধান করেননি। অতএব তা সুন্নাতের খেলাফের সাথে সাথে মাকরূহে তানযিহীরও অন্তর্ভূক্ত। এছাড়াও আজকাল অনেক নামধারী মাওলানা, ওয়ায়েজ, মুফ্তী, মুহাদ্দিছ ও মুফাস্সির বলে থাকে যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব ধরণের টুপি পরিধান করেছেন। একথাটা সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়ার শামীল, যা মানুষকে জাহান্নামী করে দেয়। কেননা হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে- হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,
من كذب على متعمدا فليتبوا مقعده من النار.  অর্থঃ- “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে, সে যেন দুনিয়ায় থাকতেই তার বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।” কাজেই শরীয়তের কোন বিষয়ে বিনা তাহ্ক্বীকে অর্থাৎ মনগড়া বলা, ফতওয়া দেয়া, প্রশ্নের উত্তর দেয়া নাজায়িয, হারাম ও শক্ত গুণাহের কাজ।
আবা-২৫

টুপি ফতোয়া - 
৩৭২ নং- সুওয়াল -রমযান মাসে হাফেয ছাহেবগণ খতমে তারাবীহ পড়িয়ে শর্ত সাপেক্ষ কিংবা বিনা শর্তে কোন প্রকার টাকা-পয়সা ইত্যাদি হাদিয়া ও উপঢৌকন নামে গ্রহণ করতে পারবেন কি?
সুওয়াল - মাসিক মঈনুল ইসলাম, সফর সংখ্যা/১৪১৬ হিজরী নিম্নোক্ত জিজ্ঞাসা ও তার সমাধান ছাপানো হয়- জিজ্ঞাসা - রমযান মাসে হাফেয ছাহেবগণ খতমে তারাবীহ পড়িয়ে শর্ত সাপেক্ষ কিংবা বিনা শর্তে কোন প্রকার টাকা-পয়সা ইত্যাদি হাদিয়া ও উপঢৌকন নামে গ্রহণ করতে পারবেন কি? বিস্তারিত জানিয়ে সুখী করবেন। সমাধান - পবিত্র রমযান মাসে শর্ত সাপেক্ষ টাকার বিণিময়ে কুরআন শরীফ খতম সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়িয। দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই গোনাহ্গার হবে। ইমাম, মুক্তাদী কেউ সাওয়াব পাবেনা। পক্ষান্তরে হাদীয়ার নামে শর্ত ব্যতীত যা আদান-প্রদান করা হয়, তাও আল মা’রুফ কাল মাশরুত (প্রচলিত রেওয়াজ শর্তেরই নামান্তর) নীতিবাক্য অনুযায়ী নিষিদ্ধ। টাকা ব্যতীত কোন হাফেয পাওয়া না গেলে খতমে তারাবীহ্ না পড়ে সুরা তারাবীহ্ পড়তে হবে। (শামী-৫/৪৬, যাওয়ালুস্ সুন্নাহ্-১৩, মাসায়েলে রমাযান-২৭) উপরোক্ত সংখ্যা ছাড়াও ইতিপূর্বে উক্ত পত্রিকার একাধিক সংখ্যায় খতমে তারাবীহ্ পড়ে এবং কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা নাজায়িয ও হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে। অথচ মাসিক আল বাইয়্যিনাতের ২৩ ও ২৪তম সংখ্যায় অগণিত দলীল-আদিল্লার ভিত্তিতে উজরত গ্রহণ জায়িয বলা হয়েছে। আমরা এখন কোন পত্রিকার উত্তরটি সঠিক বলে জানবো?

জাওয়াব - মাসিক মঈনুল ইসলাম পত্রিকার সমাধান অশুদ্ধ ও ভুল হয়েছে এবং সেটা আমলের অযোগ্য। কারণ আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাতের ২৩তম সংখ্যায় উল্লেখ করেছি ওলামায়ে দেওবন্দের প্রায় সকলেই তাদের কিতাবসমূহে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করাকে হারাম ও নাজায়িয বলেছে। আর এ ব্যাপারে তারা দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন- আল্লামা শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত রমলী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে। অথচ আমরা আমাদের উক্ত পত্রিকায় অকাট্য দলীল দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণ করেছি যে, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে উজরত গ্রহণ করার ব্যাপারে আল্লামা শামী ও আল্লামা রমলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল। অতএব আমাদের আল বাইয়্যিনাত ২৩ ও ২৪তম সংখ্যা সংগ্রহ করে সঠিক জাওয়াবটি জেনে নিন। যাতে উজরত গ্রহণ করা জায়িয হওয়ার ব্যাপারে ৫৩টি দলীল দেয়া হয়েছে।  সুতরাং ৫৩টি দলীলের মোকাবিলায় মাত্র দু’তিনটি দলীল, তাও আবার নির্ভরযোগ্য নয়, তা কিভাবে গ্রহণীয় হতে পারে? মূলতঃ মাসিক আল বাইয়্যিনাতের ফতওয়াই গ্রহণযোগ্য এবং এ ফতওয়া অনুযায়ীই আমল করতে হবে।
আবা-২৫

উজরত ফতোয়া - লিংক
৩৭১ নং- সুওয়ালঃ- ওযু সমাপ্ত করার পর কারো মনে হলো যে, কোন অঙ্গ ধৌত করা বাকী আছে, এখন তাকে পুণরায় ওযু করতে হবে কি?

সুওয়ালঃ- ওযু সমাপ্ত করার পর কারো মনে হলো যে, কোন অঙ্গ ধৌত করা বাকী আছে, এখন তাকে পুণরায় ওযু করতে হবে কি?

জাওয়াবঃ- যে অঙ্গ বাকী আছে, ওটা ধৌত করলেই চলবে। পুণরায় ওযু করার জরুরত নেই।

আবা-২৪
৩৭০ নং- সুওয়াল - ‘যার পীর নেই, তার পীর শয়তান’- এ উক্তিটি কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর কোথায়ও আছে কি? জানতে ইচ্ছুক।
সুওয়াল - ‘যার পীর নেই, তার পীর শয়তান’- এ উক্তিটি কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর কোথায়ও আছে কি? জানতে ইচ্ছুক। 

জাওয়াব - হ্যাঁ, কথাটা সরাসরি কুরআন শরীফের আয়াত বা হাদীছ শরীফ নয়, তবে অবশ্যই এটা অনুসরণীয় বুযুর্গানে দ্বীনের কথা। মূল আরবীতে হলো-
من ليس له شيخ فشيخه شيطان.
অর্থঃ- যার শায়খ (পীর) নেই, তার শায়খ (পীর) শয়তান। হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত জোনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখ বুযুর্গানে দ্বীন একথা বলেছেন, যা ওনাদের সীরত গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।
উপরোক্ত কাওলের ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়, যদি কোন ব্যক্তি, কোন হাক্কানী আল্লাহ্ ওয়ালা পীর ছাহেব (শায়খ) উনার (তথাকথিত নয়) মুরীদ হয়, তাহলে তার পক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনার মতে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  পথে কায়েম থাকা সম্ভব। কারণ মহান আল্লাহ্ পাক  কুরআন শরীফে বলেন,
وما ينطق عن الهواء ان هوالا وحى يوحي.
অর্থঃ- “তিনি (হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি ওহী ব্যতীত নিজ থেকে কোন কথা বলেন না।”
এ আয়াত শরীফের তফসীরে হাদীছে কুদসীতে উল্লেখ করা হয়,
لايزال العبد يشقرب الى بالنوافل حتى احبه فاذا احببت كنت كنت سمعه الذى يسمع به كنت بصره الذى يبصربه- كنتلسائه الذى ينطق به- كنت يده الذى يبطش بها كنت رجله الذى يمشى بها- فاذا سئلنى اعطيته.
অর্থঃ- “বান্দা অতিরিক্ত আমল (সুন্নতে যায়েদা, মোস্তাহাব, নফল, মোবাহ্ ইত্যাদি) করতে করতে আমার এতটুকু নৈকট্য লাভ করে যে, আমি তাকে মহব্বত করি। আমি যখন তাকে মহব্বত করি, তখন আমি তার কান হই, সে আমার কানে শুনে। আমি তার চক্ষু হই, সে আমার চোখে দেখে। আমি তার জবান হই, সে আমার জবানে কথা বলে। আমি তার হাত হই, সে আমার হাতে ধরে। আমি তার পা হই, সে আমার পায়ে চলে। যখন সে আমার কাছে কিছু চায়, তা অবশ্যই আমি তাকে দান করি এবং তখন অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দান করি।”
অর্থাৎ বান্দা কখনও মহান আল্লাহ্ পাক হয় না, আবার মহান আল্লাহ্ পাকও কখনও বান্দা হন না। মূল কথা হলো- বান্দা মহান আল্লাহ্ পাক উনার আনুগত্যতা করতে করতে এতটুকু অনুগত হয় যে, তখন তার কান, চোখ, যবান, হাত, পা ইত্যাদি সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং সে নিজেও মহান আল্লাহ্ পাক উনার হুকুমের খেলাফ কোন কাজ করে না। কাজেই কোন ব্যক্তি যদি কোন হক্কানী পীর সাহেব (শায়খ) উনার নিকট বাইয়াত (মুরীদ) হয়, তাহলে সে তার পীর ছাহেবের কথামত চলবে এবং এর কারণেই আল্লাহ্ পাক উনার মত এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  পথের উপর কায়েম থাকবে। আর যদি কোন পীর সাহেবের কাছে বাইয়াত না হয়, তাহলে সে অবশ্যই নফসের তথা শয়তানের পায়রবী করবে এবং শয়তানই তার একমাত্র উপদেষ্টা হবে। কারণ, তার নফস এছলাহ্ বা সংশোধন হয়নি। কাজেই “যার পীর নেই, তার পীর হচ্ছে শয়তান” কথাটা শুদ্ধ এবং যারা এটাকে অসুদ্ধ বলে তাদের কথাই মুলতঃ অশুদ্ধ।
আবা-২৪
৩৬৯ নং- সুওয়াল - আমরা কেন শ্রেষ্ঠ উম্মত হয়েছি? অনেকে বলে থাকে যে, “একমাত্র হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  উম্মতগণই দাওয়াতী কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন এবং এই দাওয়াতী কাজ করার দরুনই আমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত হয়েছি, অন্য কোন কারণে নয়।” এটা সঠিক কিনা তা জানালে বাধিত হবো।
সুওয়াল - আমরা কেন শ্রেষ্ঠ উম্মত হয়েছি? অনেকে বলে থাকে যে, “একমাত্র হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  উম্মতগণই দাওয়াতী কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন এবং এই দাওয়াতী কাজ করার দরুনই আমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত হয়েছি, অন্য কোন কারণে নয়।” এটা সঠিক কিনা তা জানালে বাধিত হবো।
জাওয়াব - একমাত্র সাইয়্যিদুল মুরছালীন, ইমামুল মুরছালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হওয়ার কারণেই আমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত হয়েছি। অনেকে বলে থাকেন যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  উম্মতই শুধুমাত্র দাওয়াতী কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন এবং এ কারণেই আমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত হয়েছি, এ কথাটা শুদ্ধ নয়।  হাদীছ  শরীফে উল্লেখ আছে যে, “সমস্ত হযরত নবী আলাহিস সালামগণ উনারা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  উম্মত হবার জন্য মহান আল্লাহ্ পাক উনার নিকট আরজু করেছেন। সমস্ত নবী আলাহিস সালাম উনার দোয়াই মহান মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেছেন, তবে সরাসরি কবুল করেছেন হযরত ঈসা আলাহিস সালাম উনার দোয়া। অনেকে মনে করে থাকে বা বলে থাকে, একমাত্র হযরত ঈসা আলাহিস সালাম  ব্যতীত আর কোন নবী আলাহিস সালাম উনার দোয়াই কবুল হয়নি, এটা সঠিক নয়। কেননা দোয়া কবুল হয় তিন প্রকারে। প্রথম প্রকার- বান্দা যা চায়, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি সরাসরি তা দিয়ে দেন। দ্বিতীয় প্রকার- বান্দা যা চায়, তার চেয়ে যা বেশী জরুরী, সেটাই মহান আল্লাহ্ পাক দিয়ে থাকেন, যে জরুরত সম্বন্ধে বান্দা নিজেই জানে না। তৃতীয় প্রকার- বান্দা যা চায়, মহান আল্লাহ্ পাক সেটা তাকে না দিয়ে তা কবুল করে তার সওয়াবটুকু পরকালের জন্য জমা করে রাখেন। বান্দা যখন হাশরের ময়দানে উপস্থিত হয়ে তার নেকী কম দেখবে, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলবেন, “হে বান্দা! তোমার জন্য অমুক স্থানে নেকী রাখা হয়েছে,” তখন সেই বান্দা গিয়ে দেখবে যে, তার জন্য পাহাড় পাহাড় নেকী রাখা হয়েছে। সে বলবে, আয় আল্লাহ পাক! আমি তো এত নেক কাজ করিনি, আমার এত নেকী আসলো কোথা থেকে? তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলবেন, “তুমি যে সকল দোয়া দুনিয়াতে করেছিলে, যার বদলা দুনিয়াতে দেয়া হয়নি, সে কারণে তুমি মনে করেছিলে যে, তোমার দোয়া কবুল করা হয়নি, অথচ আমি তা কবুল করেছিলাম এবং তাই পাহাড় পাহাড় নেকী আকারে জমা হয়েছে।” তখন বান্দা বলবে, মহান আল্লাহ্ পাক! দুনিয়াতে আমার সমস্ত দোয়াগুলিরই বদলা না দিয়ে যদি পরকালের জন্য জমা রাখা হতো, তাহলে তা আমার জন্য ফায়দার কারণ হতো।
উপরোক্ত হাদীছ  শরীফ-এর মাধ্যমে এটাই সাবেত হয়, শুধুমাত্র দাওয়াতের কারণেই যদি উম্মতে মুহম্মদীর শ্রেষ্ঠত্ব হতো, তাহলে অন্যান্য নবী আলাহিস সালাম তিনি দাওয়াতের দায়িত্ব পাওয়া সত্ত্বেও হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  উম্মত হবার জন্য দোয়া করতেন না। বরং উম্মতে হাবীবী উনার শ্রেষ্ঠত্ব দাওয়াতের কারণে নয় বরং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হবার কারণে। আরও  কুরআন শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে,
وكذالك جعلناكم امة وسطا لتكونوا شهداء على الناس ويكون الرسول عليكم شهيدا.
অর্থঃ- “এরূপেই আমি তোমাদেরকে উম্মতে ওয়াসাত (শ্রেষ্ঠ উম্মত) করেছি। যেন তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও, সমস্ত মানুষের জন্য এবং যাতে রসূল আলাহিস সালামগণ উনারা সাক্ষ্যদাতা হন, তোমাদের জন্য।” (সূরা বাক্বারা-১৪৩)
এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়, হাশরের ময়দানে যখন সমস্ত নবী আলাহিস সালামগণ উনাদের গুণাহ্গার উম্মতগণকে জিজ্ঞেস করা হবে, “তোমরা কেন নেক কাজ করনি?” তখন তারা বলবে, দুনিয়াতে আমাদের কাছে কোন আসমানী কিতাবও আসেনি এবং কোন হযরত নবী আলাহিস সালাম উনারা আগমন করেনি। তখন আল্লাহ্ পাক তিনি নবী আলাহিমুস সালামগণ উনাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, “আপনারা কি তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছাননি?” তাঁরা বলবেন, “হ্যাঁ, পৌঁছিয়েছি।” তখনও অন্য নবী আলাহিমুস সালাম উনার উম্মতগণ তা অস্বীকার করবে। তখন মহান আল্লাহ্ পাক তিনি বলবেন, “হে নবী আলাহিমুস সালামগণ! আপনাদের সাক্ষী কোথায়?” তখন উনারা বলবেন, উম্মতে হাবীবীগণই আমাদের সাক্ষী। তখন উম্মতে হাবীবীগণকে ডেকে জিজ্ঞেস করা হলে উনারা বলবেন, “হ্যাঁ, সমস্ত নবী আলাহিমুস সালামগণ উনারা দাওয়াত পৌঁছিয়েছেন এবং দায়িত্ব পালন করেছেন।” একথা শুনে অন্যান্য নবী আলাহিমুস সালামগণ উনাদের উম্মতগণ বলবেন, উম্মতে হাবীবীগণ উনারা তো আমাদের থেকে অনেক পরে এসেছে, তারা কিভাবে আমাদের সাক্ষী হয়? তখন মহান আল্লাহ্ পাক উম্মতে হাবীবীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলবেন, “হ্যাঁ, আমরা তাদের থেকে অনেক পরে এসেছি, তবে আমাদের নিকট এসেছিলেন সাইয়্যিদুল মুরছালীন, ইমামুল মুরছালীন  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তিনি আমাদেরকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। আমরা উনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং উনাকে সত্য বলে জেনেছি, তাই আমাদের সাক্ষ্য সত্য। অতঃপর মহান আল্লাহ্ পাক  তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন এবং তখন উম্মতে হাবীবীকে সমর্থন করে সাক্ষী দেবেন, হ্যাঁ, তারা যা বলেছে সবই সত্য এবং আমিই তাদেরকে এ তথ্য জানিয়েছি, যা আমি মহান আল্লাহ্ পাক উনার তরফ থেকে জেনেছি। (সিহাহ সিত্তাহ্ দ্রষ্টব্য)
সুতরাং উপরোক্ত আয়াত শরীফে আমাদেরকে যে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলা হয়েছে, তা দাওয়াতী কাজ করার জন্য নয় বরং তা  হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  প্রকৃত উম্মত হবার কারণে।
কুরআন শরীফের আয়াত এবং সহীহ্  হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, আগেকার উম্মতগণের উপরও দাওয়াতের দায়িত্ব ছিল। যেমন ‘সূরা ইয়াসীন’ উল্লেখ করা হয়েছে, “কোন এক জনপদে রসূল আলাহিস সালামগণ আগমন করলে সেখানকার অধিবাসীগণ উনাদের রিসালতকে অস্বীকার করে হত্যা করার জন্য উদ্যত হলো। তখন শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি, যিনি ঈমান গ্রহণ করেছিলেন, তিনি দৌড়ে এলেন এবং তার সম্প্রদায়কে রসূল আলাহিস সালামগণকে হত্যা করতে নিষেধ করলেন এবং তাঁদের অনুসরণ করার উপদেশ দিলেন।”
এটা ছাড়া হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “মহান আল্লাহ্ পাক হযরত জিবরাঈল আলাহিস সালাম উনার নিকট ওহী পাঠালেন, অমুক অমুক শহরের সমগ্র বাসিন্দাসহ উল্টাইয়া দাও।” তখন হযরত জিবরাঈল আলাহিস সালাম আরজ করলেন, “হে পরওয়ারদেগার! এ শহরে আপনার অমুক বান্দা রয়েছে, যে মুহূর্তকালও আপনার নাফরমানীতে লিপ্ত হয়নি।” তখন মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ করলেন, “শহরটিকে ঐ ব্যক্তি এবং সমগ্র বাসিন্দাসহ তাদের উপর উল্টাইয়া দাও, কারণ আমার জন্য ঐ ব্যক্তির চেহারায় এক মুহূর্তের জন্য পরিবর্তন আসেনি, অর্থাৎ সে আফসোস করেনি।”
বণী ইসরাঈল আমলের অনুরূপ আরো একটি ওয়াকেয়া তাফসীরে উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ পাক হযরত ইউশা বিন নুন আলাহিস সালাম উনার উপর ওহী নাযিল করলেন, “হে আমার নবী! আপনার উম্মতের মধ্যে এক লক্ষ লোককে ধ্বংস করে দেয়া হবে, যার মধ্যে ৬০ হাজার লোক সরাসরি গুণাহে লিপ্ত (গুমরাহ)।” তখন হযরত ইউশা বিন নুন আলাহিস সালাম তিনি বললেন, “আয় আল্লাহ পাক! ৬০ হাজার লোক সরাসরি গুণাহে লিপ্ত, তাই তাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে। কিন্তু বাকী ৪০ হাজার লোককে ধ্বংস করা হবে কেন?” তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, “যেহেতু তারা তাদের সাথে মিলা-মিশা, ওঠা-বসা করে এবং সম্পর্ক রাখে। আর গুণাহের কাজে বাধা প্রদান করেনা, তাই তাদেরকেসহ ধ্বংস করে দেয়া হবে।”
পূর্ববর্তী উম্মতগণের উপরও দাওয়াতের দায়িত্ব ছিল, কেননা দায়িত্ব থাকার কারণেই তা পালন না করার জন্য ‘বনী ঈসরাইলের’ উল্লেখিত ব্যক্তি ও সম্প্রদায়কে শাস্তি পেতে হয়েছে।
সুতরাং উপরোক্ত আয়াত শরীফ,  হাদীছ  শরীফ এবং তার আনুষাঙ্গিক ঘটনা ব্যতীত আরও অনেক আয়াত শরীফ,  হাদীছ  শরীফ এবং ঘটনার মাধ্যমে জানা যায় যে, পূর্ববর্তী উম্মতগণ যে দাওয়াতের কাজ করেছেন, তা তাফসীরে রূহুল মায়ানী, তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে আমিনিয়া, তাফসীরে খাযেন, তাফসীরে মা’আরেফুল  কুরআনইত্যাদি এবং এটা ব্যতীত বিশুদ্ধ  হাদীছ  শরীফের কিতাব দ্বারাও প্রমাণিত।
মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ-এ বলেন,
كنتم خيرامة اخرجت للناس تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر وتؤمنون بالله.
অর্থঃ- “তোমরা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছ। তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে ও বদ কাজের নিষেধ করবে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান আনবে।”
অনেকে ‘সূরা ইমরান’-এর উপরোল্লিখিত আয়াত শরীফ উল্লেখ করে বলে থাকে যে, আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলা হয়েছে, কারণ আমরা সৎ কাজের আদেশ করি এবং অসৎ কাজের নিষেধ করি। মূলতঃ তাদের এ ব্যাখ্যা ঠিক নয়, কেননা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হওয়াটাই হলো আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ। আর এ ছাড়া আমাদের যতগুলো গুণ দেয়া হয়েছে, তাও একমাত্র  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  কারণে। 
অন্যান্য নবী আলাহিমুস সালামগণ, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হবার জন্য আরজু করেছেন, তাই বলে কেউ যেন এটা মনে না করে যে, উম্মতে হাবীবীর শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য নবী আলাহিমুস সালামগণ হতে বেশী। বরং শুধুমাত্র হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কারণে যে উম্মতে হাবীবীর শ্রেষ্ঠত্ব, তা বুঝানোর জন্যই সমস্ত নবী আলাহিমুস সালামগণ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হবার জন্য আরজু করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
আবা-২৪

৩৬৮ নং- সুওয়াল - আমাদের এলাকায় এক মৃত বৃক্তির জানাযার নামাজ দু’বার পড়ানো হয়েছে। দু’বারই ওলি নিজে নামায পড়েছে এবং পড়ার এযাযতও দিয়েছে। প্রথমবার ওলির এযাযতে এক মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল নামায পড়ায়েছেন এবং তার সাথে ওলি নিজেও নামায পড়েছে। দ্বিতীয়বার ওলির এযাযতে অন্যত্র জানাযার নামায পড়ানো হয়েছে। সেখানেও ওলি নিজে নামায পড়েছে। এ ঘটনা ঘটার পর ঐ ভাইস প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ওলির এযাযতে মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায একবার পড়ানোর পর আবার ঐ মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পাড়ানো জায়েয হয়েছে কি? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, জায়েয হয়েছে। এ জবাব কি সঠিক হয়েছে? তা জানায়ে বাধিত করবেন।

৩৬৮ নং- সুওয়াল - আমাদের এলাকায় এক মৃত বৃক্তির জানাযার নামাজ দু’বার পড়ানো হয়েছে। দু’বারই ওলি নিজে নামায পড়েছে এবং পড়ার এযাযতও দিয়েছে। প্রথমবার ওলির এযাযতে এক মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল নামায পড়ায়েছেন এবং তার সাথে ওলি নিজেও নামায পড়েছে। দ্বিতীয়বার ওলির এযাযতে অন্যত্র জানাযার নামায পড়ানো হয়েছে। সেখানেও ওলি নিজে নামায পড়েছে। এ ঘটনা ঘটার পর ঐ ভাইস প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ওলির এযাযতে মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায একবার পড়ানোর পর আবার ঐ মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পাড়ানো জায়েয হয়েছে কি? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, জায়েয হয়েছে। এ জবাব কি সঠিক হয়েছে? তা জানায়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল - আমাদের এলাকায় এক মৃত বৃক্তির জানাযার নামাজ দু’বার পড়ানো হয়েছে। দু’বারই ওলি নিজে নামায পড়েছে এবং পড়ার এযাযতও দিয়েছে। প্রথমবার ওলির এযাযতে এক মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল নামায পড়ায়েছেন এবং তার সাথে ওলি নিজেও নামায পড়েছে। দ্বিতীয়বার ওলির এযাযতে অন্যত্র জানাযার নামায পড়ানো হয়েছে। সেখানেও ওলি নিজে নামায পড়েছে। এ ঘটনা ঘটার পর ঐ ভাইস প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ওলির এযাযতে মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায একবার পড়ানোর পর আবার ঐ মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পাড়ানো জায়েয হয়েছে কি? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, জায়েয হয়েছে। এ জবাব কি সঠিক হয়েছে? তা জানায়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব - উক্ত ভাইস প্রিন্সিপাল ছাহেবের জবাব অশুদ্ধ ও ভুল হয়েছে। কেননা আমাদের হানাফী মায্হাব মোতাবেক ওলির এযাযতে কোন মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায একবার পড়ানোর পর দ্বিতীয়বার পড়ানো জায়েয নেই। হ্যাঁ তবে যদি ওলির এযাযত ব্যতীত অথবা ওলির নামায পড়ার পূর্বে ঐ মৃত ব্যক্তির যদি একাধিকবারও জানাযার নামায পড়ানো হয়, তবে তা জায়েয রয়েছে। (দুররুল মুখতার, শামী, কাঞ্জ, ফতওয়ায়ে দেওবন্দ)
আবা-২৪ 
৩৬৭ নং- সুওয়াল - টাখনুর নীচে কাপড় পরা জায়েয আছে কিনা, জানায়ে বাধিত করবেন?
সুওয়াল - টাখনুর নীচে কাপড় পরা জায়েয আছে কিনা, জানায়ে বাধিত করবেন?


জাওয়াব - টাখনুর নীচে কাপড় পরা হারাম। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “লুঙ্গি, সেলওয়ার, পায়জামা ইত্যাদি জাতীয় কাপড় দ্বারা টাখনুর নীচের অংশ আবৃত থাকলে, তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে অর্থাৎ ঐ ব্যক্তিই জাহান্নামে যাবে। কারণ শরীরের এক অংশ জাহান্নামে যাবে, আরেক অংশ জান্নাতে যাবে, তা সম্ভব নয়। কাজেই পুরুষের জন্য টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করা হারাম এবং কবীরা গুণাহ্। (বুখারী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, ফতহুল বারী, ওমদাতুল ক্বারী মিরকাত শরীফ  ইত্যাদি)
আবা-২৪
৩৬৬ নং- সুওয়াল - সফর মাস নাকি অশুভ, এটা বলা শরীয়তে ঠিক হবে কি?

সুওয়াল - সফর মাস নাকি অশুভ, এটা বলা শরীয়তে ঠিক হবে কি?

জাওয়াব - বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ ইত্যাদি আরো হাদীছ শরীফের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে-  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “ছোঁয়াচে, অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। আর পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণ নেই এবং সফর মাসে অশুভ বলতে কিছু নেই।”
অতএব সফর মাসকে অশুভ বলা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও গুণাহের কাজ।

আবা-২৪
৩৬৫ নং- সুওয়াল - পুকুরের মাছ পানির নীচে থাকা অবস্থায় বেচা-কেনা করা জায়েয কি?
সুওয়াল - পুকুরের মাছ পানির নীচে থাকা অবস্থায় বেচা-কেনা করা জায়েয কি?

জাওয়াব - পানির নীচের মাছ বেচা-কেনা করা জায়েয নেই। কারণ শরীয়তে অনির্দিষ্ট অর্থাৎ যার পরিমাণ নির্ধারিত করা হয়নি আর অদৃশ্য যা দেখানো বা দেখা হয়নি, এরূপ মাল বেচা-কেনা জায়েয নেই। (আলমগীরী, আইনুল হেদায়া, শামী ইত্যাদি ফিক্বাহ্র কিতাবসমূহ)
আবা-২৪
৩৬৪ নং- সুওয়াল - মহিলাদের জন্য পুরুষ পীর ছাহেব ধরা কি জায়েয আছে? পুরুষ পীর সাহেব কি মহিলা মুরীদের দ্বারা খিদমত গ্রহণ করতে পারেন? যেমন- হাত-পা, শরীর মালিশ করা, কিম্বা মেসেজ করা, কিম্বা বাতাস করা ইত্যাদি? সঠিক জবাবদানে বাধিত করবেন।
সুওয়াল - মহিলাদের জন্য পুরুষ পীর ছাহেব ধরা কি জায়েয আছে? পুরুষ পীর সাহেব কি মহিলা মুরীদের দ্বারা খিদমত গ্রহণ করতে পারেন? যেমন- হাত-পা, শরীর মালিশ করা, কিম্বা মেসেজ করা, কিম্বা বাতাস করা ইত্যাদি? সঠিক জবাবদানে বাধিত করবেন।

জাওয়াব - হ্যাঁ, মহিলারা পুরুষ পীর ছাহেবের নিকট বাইয়্যাত (মুরীদ) হওয়া জায়েয তো বটেই বরং দিল ইসলাহের জন্য মুরীদ হওয়া ফরজ-ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত। হ্যাঁ তবে যদি উপযুক্ত মহিলা পীর সাহেবা থাকেন, তবে উনার কাছে বাইয়্যাত গ্রহণ করতে পারে। গাউসুল আ’যম বড় পীর সাহেব  রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুলতানুল হিন্দ খাজা মঈনুদ্দীন চিশ্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট অনেক মহিলা বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন, যা উনাদের সীরাত গ্রন্থে উল্লেখ আছে। যেমন- হযরত রাবেয়া বসরী  রহমতুল্লাহি আলাইহি  হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে বাইয়্যাত হয়েছিলেন, যেটা উনার সীরাত গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছে। তবে অবশ্যই মহিলারা পুরুষ পীর ছাহেবের নিকট বাইয়্যাত হলে পর্দা রক্ষা করবে। কারণ পর্দা রক্ষা করা ফরজ।
যেহেতু পর্দা রক্ষা করা ফরজ, সেহেতু মহিলারা পুরুষ পীর ছাহেবের হাত-পা, শরীর মালিশ করা, মেসেজ করা তো দূরের কথা তার সামনে যাওয়াটাই নাজায়েয ও হারাম। আর আড়ালে থেকে খিদমত করতে পারবে। যেমন- খানা পাক করে খাওয়ানো, গরম পানি করে দেয়া, ঘর-বাড়ী ঝাড়ু দেয়া ইত্যাদি।
আবা-২৪
৩৬৩ নং- সুওয়াল - কেউ যদি বিত্র নামাযে দোয়া কুনুত পাঠ করতে ভুলে যায় এবং নামায শেষ করার পূর্বেই স্মরণ হয়, তখন সে কি করবে?
সুওয়াল - কেউ যদি বিত্র নামাযে দোয়া কুনুত পাঠ করতে ভুলে যায় এবং নামায শেষ করার পূর্বেই স্মরণ হয়, তখন সে কি করবে?
জাওয়াব - এমতাবস্থায় উক্ত নামাযী সিজ্দায়ে সাহু দিয়ে নামায শেষ করবে। কেননা বিত্র নামাযে দোয়া কুনুত পাঠ করা ওয়াজিব ছিল। সাহু ওয়াজিব হয় তরকে ওয়াজিবের কারণে। আর এ ওয়াজিব উক্ত নামাযী থেকে ভুলে ছুটে যায়। শরীয়তের মাসয়ালা হলো- ওয়াজিব ভুলে ছুটে গেলে সিজ্দায়ে সাহু দিলে নামায বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। আর ইচ্ছাকৃত ওয়াজিব ছেড়ে দিলে নামায দোহ্রায়ে পড়া ওয়াজিব। 
আবা-২৪
৩৬২ নং- সুওয়াল - চার রাকায়াত বিশিষ্ট নফল বা সুন্নাতে জায়েদা নামাযে প্রথম বৈঠকে নাকি তাশাহুদ, দুরুদ শরীফ এবং দোয়া মা’ছূরা পড়ে দাঁড়িয়ে বাকী দু’রাকায়াত পড়ে নামায শেষ করতে হয়? তা জানতে বাসনা রাখি।
সুওয়াল - চার রাকায়াত বিশিষ্ট নফল বা সুন্নাতে জায়েদা নামাযে প্রথম বৈঠকে নাকি তাশাহুদ, দুরুদ শরীফ এবং দোয়া মা’ছূরা পড়ে দাঁড়িয়ে বাকী দু’রাকায়াত পড়ে নামায শেষ করতে হয়? তা জানতে বাসনা রাখি।
জাওয়াব - চার রাকায়াত বিশিষ্ট নফল ও সুন্নাতে যায়েদা নামাজ দু’নিয়মেই পড়া যায়। অর্থাৎ কেউ যদি ইচ্ছা করে, তবে প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ শরীফ এবং দোয়া মাছূরা পড়ে দাঁড়িয়ে তৃতীয় রাকায়াতের শুরুতে ছানা পড়ে অবশিষ্ট দু’রাকায়াত নামাজ যথারীতি শেষ করতে পারে। অন্যথায় প্রথম বৈঠকে শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়ে দাঁড়িয়ে বাকী দু’রাকায়াত নামায যথারীতি শেষ করতে পারে।
আবা-২৪